Articles published in this site are copyright protected.

দেশটিকে উপনিবেশ করতে সবকটি ধারালো অস্ত্রেই অবৈধ সরকার শান দিচ্ছে। 

যদিও দেশবাসী কোন অবস্থায়ই বাধ্য নয় এ মিথ্যাচারী সরকারের সীমাহীন বালখিল্যতা মেনে নিতে। কুরাইশের লাত, উজ্জাহ, মানাত, হিন্দুর কালী, স্বরস্মতী, দূর্গা, গ্রীকদের হেকাটি, মিনার্ভা, ভেনাস এরা ইতিহাসের জমা। সম্প্রতি সংযোজিত গ্রীক মূর্তি সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক দেবী থেমিসের নারী মূর্তির গায়ে কেন এই শাড়ী দিয়ে শঠতা! চৌর্য্যবৃত্তির নামে এটি ডিজিটাল ইসলাম বিরোধীতা। মুসলিমদেরে শান দিতে কি বিভৎস মধ্যযুগীয় অনাচার, ন্যায়দন্ডের নামে সরকারী প্রতিশোধ ! অনাচার আজ জাতির ঘাড়ের রসদ। ওলি নেয়ামতউল্লাহর কাসিদায় (১১৫৮ রচনাকাল, হিজরি সন ৫৪৮, http://markajomar.com/?p=1769) এসেছে কিভাবে এক দেশ জাতী নামেমুসলিম ও কাজে হিন্দুত্ববাদী নেতৃত্বের কারণে বিপর্যস্ত হবে।  আগে এসেছে কিভাবে একটি মুসলিম দেশ দুভাগে বিভক্ত হবে সেটিও এসেছে ওলির বাণীতে। ষড়যন্ত্রীর নামের প্রথম অক্ষর হবে আরবীতে শিন আর শেষ অক্ষর হবে আরবী নুন। আর এসব এক বিতর্কীত মুসলিম নামধারীর কুটিল স্বার্থে হাত মিলাবে হিন্দুত্বের সাথে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বইটি বাংলাতে অনুবাদ করেছে। ওলির ঐ ছন্দবদ্ধ কাসিদার ৩৮ লাইনে আছে ভারত মুসলিমদের একটি জনপদ দখল করবে, হত্যাকান্ড চালাবে, ধনসম্পদ লুটে নিবে, দেশ কারবালা হবে। বিশ্লেষকরা আন্দাজ করছেন দেশটি হবে বাংলাদেশ, গোপন চুক্তির নামে একে পাপ চুক্তিও বলা হয়েছে। অতপর এসব সামাল দিতে ভারতও লন্ডভন্ড হবে। মনে হচ্ছে ওলির এসব হতাশার কথামালাকে একটি অবৈধ সরকার খুব সহজ করে দিচ্ছে।

কুরআনে বলা হয়েছে “তোমাদের মধ্যে এমন একটি লোকদল হওয়া চাই যারা আহবান করবে কল্যাণের প্রতি আর নির্দেশ দেবে ন্যায়পথের আর নিষেধ করবে অন্যায় থেকে। আর এরা নিজেরাই হচ্ছে সফলকাম” (সুরা আল ইমরানের ১০৩ আয়াত)। এরা ছলবাজের হাতে নাটকের জঙ্গি নয়। সরকার ঐ জঙ্গিদেরে পঁচিয়ে দিয়েছে নিজেদের স্বার্থে, এরা কখনোই ইসলামের সৈনিক নয়। সরকারের নিজের মত করে সাজানো নষ্ট ধর্মের সদস্য তারা, মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেনটুর গ্রন্থ সূত্রে পাওয়া এরা জাফর দেলোয়ারের মতই আওয়ামী লাশের জমা, অবৈধ সরকারের অবৈধ গুটি মাত্র। কুরআনে উপরের আয়াতে ওরাই সফলকাম, প্রাক ইসলামের মুসলিমদের মতই বিজয়ের মুকুট তাদের পাওনা। আর একটি গবেষনা লব্ধ অর্জন যেখানে কুরআন বলে, “আর তাদের মধ্য থেকে অন্যান্যদের যারা এখনো তাদের সঙ্গে যোগ দেয়নি। তিনি মহাশক্তিশালী পরম জ্ঞানী” (সুরা সুরা জুমুআহএর ৩ আয়াত)। এটি স্পষ্ট করে যে, একদল জনতা ভবিষ্যতে জাগবে, যারা তখনও জাগে নাই। এটি যথেষ্ট বড় ও শক্ত ম্যাসেজ। খন্ডভাবে মানুষ জাগলেও সার্বিকভাবে কোন সম্প্রদায় বড় হয়ে জেগেছে এমন কোন নজির আমাদের সামনে নেই। অনেকে জেগেছে আবার চুপসে গেছে। এরা হবে সত্যিকারের সফলকাম। এর সূত্রে অতি অবশ্যই একটি বিশাল জাগরণ অপেক্ষাতে আছে। আর সেটি এই হত দরিদ্র দুস্থ দেশকে ঘিরে ঘটবে না, ওটি বলার অবকাশ নেই। সুরা নিসার ৭৬আয়াত বলছে, “শয়তানের কৌশল অবশ্যই দুর্বল।” আবার “যতক্ষণ তাদের সৃষ্ট জটিলতা দূরিভূত না হবে ততক্ষন যুদ্ধ চালিয়ে যাও, এটি মুসলিমদের উপর নির্দেশ (সুরা আনফাল এর ৩৯ আয়াত)।  অতীতে ইসরাইলী আলেমদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে “যাদের তওরাতের ভার দেয়া হয়েছিল, তারপর তারা তা অনুসরণ করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে গাধার মত। যে গ্রন্থরাজির বোঝা বইছে। কত নিকৃষ্ট সে জাতির দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে। আর আল্লাহ অন্যায়াচারী জাতিকে সৎ পথে চালান না” (সুরা জুমুআহএর ৫ আয়াত)। সে গালি আমাদের ঘাড়েও বর্তাতে পারে, যদি আমরা সঠিকভাবে এ ধর্মের বিশ্লেষণ করতে না পারি। গবেষনায় এটি ধরা পড়ে ঐ দুর্নামকে এড়িয়ে চলতে হবে প্রকৃত মুসলিমকে, ইহুদীদের মত মূল গ্রন্থকে অবহেলা করে শুধু গাধার মত একগাঁদা বোঝা বয়ে বেড়ালেই হবে না। তাদের ঐ অতীত অপরাধের জন্যই তাদের কাছ থেকে সেটি সরিয়ে নেয়া হয় এবং সঙ্গতভাবে পরে সেটি নবী মোহাম্মদ (সঃ)এর মাধ্যমে ভিন্ন ভ্রাতৃগোষ্ঠী আরবের মুসলিমের ভান্ডারে জমে।

সত্য প্রচারে সংগ্রাম মুখর থাকা: 

ব্লগের একজন ভাইএর ধৈর্য্য ধরার নামে মুসলিমদের কঠোর কষ্টে গড়ে জীবনের উপর একটি আক্ষেপ লক্ষ্য করি। তিনি জানতে চাইছেন ইসলাম কি এরকম প্রাপ্তিহীন ধৈর্য্যর ইঙ্গিত দেয়, যেখানে শুধুই হতাশা। ধৈর্যের উপদেশই কি শুধু ইসলাম সমর্থণ করে (৩ এপ্রিল, ২০১৭)? আমার স্বল্প জ্ঞানে যতটুকু বুঝেছি সেটি হচ্ছে কর্মহীন এবাদতের মূল্য ইসলামে খুব কম। কর্মময় ইবাদতই মূল্য পাবার দাবীদার। “জুম্মার দিনে যখন নামাজ শেষ হবে তখন তোমরা দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর করুণা ভান্ডার থেকে অন্বেষণ করবে আর আল্লাহকে প্রচুরভাবে স্মরণ করো। যাতে তোমাদের সফলতা প্রদান করা হয়” (সুরা জুমুআহ এর ১০ আয়াত)। সেখানে বলা নেই যে মসজিদে বসে জিকির করো। কেউ এর উল্টোটি করলে সে আল্লাহর বিরোধীতাই করলো। আল্লাহর ইঙ্গিত আদেশ যদি মুসলিমরা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে সংকট বাড়বে বৈ কমবে না। আত্মায় অন্তরে আল্লাহর বানীকে গভীর ভাবে ধরে রাখতে হবে। আর সেটি করতে পারে একমাত্র মুসলিম, তারা অদেখা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ সততায় ভর করে সারা জীবন পার করে দেয়। অংশীবাদীদের ইন্ধনে সময় পার করা ও মোনাফিকিতে আচ্ছন্ন সরকার নাটকের পর নাটক করে চলেছে ছলের মিথ্যাকে সচল রাখতে। সরকার নামে মুসলিম কিন্তু কাজে কর্মে শিরকধারী অংশীবাদী। সংবিধান থেকে ইসলাম মুছে দিতে গোপন তৎপরতা জারি আছে। দু দিন পর পরই ওটি মাথা চাড়া দেয়, সময় বুঝে। ইত্যবসরে সংবিধান থেকে খুব সন্তর্পণে বিসমিল্লাহ মুছে দিয়েছে। ঈমানের প্রশ্নে এসব ধর্মহীনতাই নয়, ৯৫% মুসলিম দেশে ধর্ম বিরোধীতা । টকশোতে শ্যামল দত্তরা ইসলামের বিরুদ্ধে টক কথায় তুখোড়, কথার বন্যা ছড়াতে ওস্তাদ কিন্তু এ ধর্মের গভীরতা উপলব্ধি করতে হয়তো আরো বহু শতাব্দী তাদের অপেক্ষা করতে হবে। তারা হিন্দু হয়েও চান মসজিদকে তাদের কন্ট্রোলে নিয়ে নিতে, এমন কি ইমামের অধিকারটুকুও, এটি মাত্রাতিরিক্ত আস্ফালন নয়কি? দেশের সব সেক্টরে তারা প্রহরায় ভারতীয় শঠতায়!  এবার হামলে পড়ছে মসজিদেও। মসজিদ হচ্ছে মুসলিমের ড্রিলের ময়দানওটি তাদের শারীরিক মানসিক বিকাশের সূতিকাগার। যদিও প্রাক ইসলামের মত আজকাল মানুষ সচেতন নয় বলে তারা ঐ মূল থেকে অনেক সরে এসেছে। তাতেও শ্যামল বাবুরা তৃপ্ত নন। তারা চান এদেরে নপুংশক প্রতিবন্দী বানিয়ে দিতে, ময়দান থেকে সরিয়ে দিতে। মসজিদই ইসলামের প্রথম সংসদ। গোটা দেশে প্রতিটি সমস্যার কথাই সেখানে আলোচিত হবে, তার জন্যই মসজিদ। মসজিদ শুধু এবাদতগাহ নয়। ক্রমে মুসলিমরা তাদের মূল থেকে সরে গেছে বলেই তাদের এত বিপর্যয়। এ ধর্মটি গাজাখুঁরি ধর্ম নয়। বলা আছে নবী অনাচার করলে তারও শাস্তি দ্বিগুণ হতো (বনি ইসরাইল এর ৭৫ আয়াত)। যদিও অবৈধ সরকার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা কোন শাস্তির তোয়াক্কা করছে না! অপকর্মীর শাস্তি অবধারিত।

 মূর্তিপূজকরা প্রাগৈতিহাসিক আচরণে বিশ^সী:

বৈশাখী পূজার নামে রংঢ়ং ইসলামে সমর্থণীয় নয়। খালার বাসাতে সিলেটে সুনারুপা চা বাগানে বেড়াতে গেলে দেখতাম বাগানের কুলিরা নানান কসরতে নানা রংএ সেজেগোজে তাদের ধর্মীয় বাহারী নর্তন কুর্দন করে বেড়াতো এবং প্রতিটি বাসাতে ঘুরে ঘুরে ওসব প্রদর্শন করতো। কখনো রাস্তাতে মিছিল করতো, তাদের রং তামাশায় ঢোল কর্তালও বাজতো। আমরা ধরেই নিতাম এরা উপজাতী, জ্ঞানে গরিমায় অনেক নীচে তাদের অবস্থান। ধর্ম ও জ্ঞানে তারা অপরিপক্ষ। তাই আদ্যিকালের নর্তন কুর্দনেই তারা অভ্যস্ত। মূর্তিপূজার আদলে নানান বিকৃত রুপ তাদের আচরণে স্পষ্ট ছিল । একবিংশ শতকেও এসে হতভাগ্য মানুষরা মূর্তিতে প্রাণ খুঁজে পেলে করার কিছু নেই! যা শুনে উন্নত খেলনা হাতে পাওয়া অনেক বাচ্চাও হাসি চেপে রাখতে পারে না।  তাই বলে বাকীদেরে কেন সেখানে টেনে আনার কসরত। এসব সবহারা দেউলিয়াত্বের নিদর্শণ ছাড়া আর কিছু নয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা, মঙ্গল প্রদীপ, এসব আচারধর্মীদের মনগড়া অনাচার, অদেখা সত্যকে স্বীকার করবে না বলে পশুর আদলে সব দেবরুপী কুত্তা বিলাই বাঘ ভালুক সিংহ দিয়ে মঙ্গল প্রদর্শণের সৃষ্টি। বাংলাদেশ কি প্রাকঐতিহাসিক দিকে ফিরে যাচ্ছে? শোনা যায় তাফসির মাহফিলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, অন্যদিকে পুলিশ প্রহরায় সরকারী অনুদানে পূজাকে জাতীয় উৎসব করার কসরত চলছে। যে দেশ একদিন ইসলামের শুরুর সময়েই সত্য আলোতে ধন্য হতে পেরেছে, সেখানে কি চানক্য কৌশলে বিরুদ্ধবাদীরা চাচ্ছে ঐ সত্যের তেজে বিকশিত আলোকে নিভিয়ে দিতে? বাদশাহ আকবর অনেক অলীক স্বপ্নে রাজসিক প্রভাবে মুসলিমের কবর রচনা করে হিন্দু পূজার সব দায় সেরেছিলেন, তারপরও কি ভারতবাসী হিন্দু তৃপ্ত হতে পেরেছে? সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে অযৌক্তিকভাবে আকবরের দাদার মাথা বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে দিতে তারা কার্পণ্য করে নি! বিধাতার জবাব হিসাবে যে বালবীর সিংয়ের হাতে ঐ মসজিদের প্রথম বিনাশের যাত্রা শুরু হয়, ইতমধ্যে সে বালবীর সিং অনুশোচনায় বিদগ্ধ হয়ে সঠিক সত্যে ফিরে এসেছে; যদিও ভারত ও তার আদিত্যনাথরা মুসলিম বিরোধীতায় মনে হচ্ছে শেষ জনমের খুরে ধার দিচ্ছেন। “তারা তো আহবান করে আল্লাহর পরিবর্তে শুধু নারী মূর্তিদের আর তারা আহবান করে শুধু বিদ্রোহী শয়তানকে” (সুরা আন-নিসার ১১৭ আয়াত)।

 

শিক্ষকরা কুশিক্ষার দিকে ডাকছেন:

সুশিক্ষাই প্রকৃত আলো বিলায়, কুশিক্ষা নয়।  মুসলিমরা কেন কঠিন সময় পার করছে, সংখ্যাগুরু হয়েও অবৈধ সরকার দ্বারা, চারপাশে বহুগুণ বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি তাদের দুর্ভাগ্য! তবে এটি ঠিক জনতারা সিলেবাস থেকে সঠিক অর্জন জমা করতে পারছে কম। যার উত্তম উদাহরণ একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী। সিলেবাসের মূল সত্যের ধারে কাছেও নেই। যে গ্রন্থটি চৌদ্দশত বছর আগেই হাতে এসেছে তাকে অবহেলা করে দূরে ঠেলে রাখার অপরাধই মুসলিমদের প্রথম ও প্রধান অপরাধ। সবাই ব্যস্ত ছেলেকে ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার বানাতে, মা বাবা নিজেও গাফেল ঐ ম্যাসেজ সম্বন্ধে যার কারণে ঐ সত্য শিক্ষাটি তাদের মাঝে বিকশিত হয় কম এর মাঝে সরকার ঐ গ্রন্থকে করেছে বিতর্কীত, নাম দিয়েছে জিহাদী বই। খুব কৌশলে বলতে চাচ্ছে এটি নিষিদ্ধ বই, ভাড়া করা হুমায়ুন আজাদ দিয়ে বলাতে চাচ্ছে “ও বই তুমি পড়বে না, ও বই তোমায় অন্ধ করে ও বই তুমি ধরবে না।” আল্লাহ বলে “কে তার চাইতে বেশী অন্যায়কারী যে আল্লাহর সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে ও তার আয়াত প্রত্যাখ্যান করে। নিঃসন্দেহ অন্যায়কারীরা সফলকাম হবে না” (সুরা মায়েদার ২১ আয়াত)। হুমায়ুন আজাদ পন্ডিত হতে পারেন কিন্তু সুশিক্ষায় তিনি শিক্ষিত নন, সেটি স্পষ্ট। তার নিজের লেখা “আমার অবিশ^াস” বইয়ে তিনি বলেছেন গ্রামের অতি ভৌতিকতার মাঝে তার জন্ম, বাঁচা ও বেড়ে উঠা। ভৌতিকতায় ডুবে থাকা তার পরিবার তাকে পথ দেখাতে পারে নাই। আলোর দেশের সব বাবা মাকেই কেন তার ঐ ভৌতিকতাকেই অনুসরণ করতে হবে? তার জীবনের সব অশ্লীলতাকে গোটা দেশবাসীর জীবনের সাথে লেপ্টে দিতে হবে? সিগার মুখে প্রচ্ছদকে যারা আদর্শ মনে করে, পাইপকে যারা জীবনের প্রধান উপস্থাপনা ভাবে, এটি বুঝা যায় তারা ধর্মটি জানে না বা কম নেড়েছে। এ ধর্মে নেশা নিষিদ্ধ, তাই ওটি কখনোই আদর্শ হতে পারে না। বিশ^বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকরা অশ্লীল প্রেম শেখাতে প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। আমি নিজেও বহু বছর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় পাড়ার সদস্য হয়ে একই পাড়াতে সময় পার করেছি। আমি কাছে পাওয়া ছাত্রীদের বলতাম তোমরা কি এখানে পড়তে আস না হানিমুনে আস, কোনটা সত্যি? তোমাদের ভাবসাবে মনে হয় তোমরা সব হানিমুন করতে এসেছ, পড়াশুনার গরজ কম। কিছু মেয়েরা লজ্জা পেত। সুযোগ পেলে একটি বইএর প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিতাম। তোমরা কি এ বইটি পরখ করে দেখেছো? এত এত বড় বড় বই পড়ছো, আর এটি একটি ব্যতিক্রমী অর্জনধারী বই, সেটি পড়ো নাই কেন? উত্তরে বলতো, জীবনেও কেউ আপনার মত আমাদেরে বলে নাই, মা বাবাও নয়, টিচারও নয় তবে অনেকেই কথা দিত,  মনে হতো একটি নাড়া তারা অনুভব করতো, তাই বলতো ঐ কাজটি অবশ্যই করবো, এটি মনে থাকবে। জবাব শুনে ভালো লাগতো, নিজেকে ধন্য মনে করতাম। চারুকলার একজন টিচারকেও আমি একই কথা বলেছিলাম, আমি শুনেছি তিনি ইসলামের প্রকৃত সত্যকে এর পর থেকে নিজের মত করে আপন করেছেন। এতেও আমি আপলুত হয়েছি। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূরের অনেক বিতর্কীত অর্জন শুনেছি, মনের মাঝে এদের জন্য একটি জায়গা ছিল। তবে কেউ যদি জনগণের জমা আমানতের খেয়ানত করেন সেটি অনেক বড় পাপ। মনে হচ্ছে তার অপূর্ণ জ্ঞান ও সত্য বিবর্জিত আবেগ পুরো জাতিকে পথভ্রষ্ট করতে উদ্যত হয়েছে।  আল্লাহ বলে, “যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না” (সুরা বনি ইসরাইলের ৩৬ আয়াত)।

পাঠ্যবইএ ধর্মনাশ:

কিছু দিন আগে একটি পাঠ্যসূচিতে দেখলাম “নিজেকে জানো” নামে কিভাবে ছেলে ও মেয়ে বন্ধু এক অন্যের হাতে হাত ধরবে কাছে যাবে আরো কাছে, উৎসাহ দেয়া হচ্ছে এসব করাতে কোন অপরাধ নেই। কে বলে এসবে অপরাধ নেই? ঐ সব বিতর্কীত মানুষগুলো দেশটিকে ধ্বসিয়ে দিতে চাইছে। হতে পারে দিদির ধর্মে এসব আদিখ্যেতা ধর্মবিলাস,  কিন্তু নীতির ধর্মে এসব অপরাধ! এর জবাব না দিলে প্রতিটি মুসলিম বাপ মা শিক্ষক এর দায় বহন করবে।  গত সপ্তাহে এক মেয়ে টেলিফোনে জানতে চাইছে কিভাবে ঢাকাতে তার বোনের বাচ্চাদের গাইড দিবে? কি করতে হবে, কারণ বাবা মা নিজেরাও সচেতন নয় ধর্ম বিষয়ে, এখন ধর্ম কিভাবে শেখাবেন বাচ্চাদেরে নিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন। অবশ্যই আগে মা বাবাকে প্রকৃত সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে। অনেক আগে এক মাকে হতাশ দেখে আমি বলেছিলাম, নবী যদি বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করতেন তবে কুরআন শরিফ বাংলাতেই নাজেল হতো। তখন সুবিধা হতো আমরা খুব সহজে এটি বেশী ভালোভাবে বুঝতে পারতাম। সবচেয়ে বড় গুরুত্বের কথাটি হচ্ছে আল্লাহর পাঠানো মূল ম্যাসেজটি পৌছে দিতে হবে প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রতিটি কর্ণকুহরে সেটি বাংলা, ইংরেজী, আরবী কুরআন যে মাধ্যমেই হোক। তবে এটি ঠিক আরবী কুরআনের তুলনা নেই, মনে হয় সেজন্য আল্লাহর ওটি পছন্দ, তার ছন্দবদ্ধ রুপ, ঝংকার, সুললিত মাধুর্য্যময়তা ওটিকে শ্রুতিমধুর করে দিয়েছে। আপনি কোন গদ্যই মুখস্ত করতে পারবেন না, কক্ষনোই না, কিন্তু কত সহজে সমস্ত কুরআন চাইলেই রপ্ত করতে পারেন, এটি একটি বড় মিরাকল নামের কুরআনীয় মোজেজা। অনেকে ভাষা না জানার দোহাই দিয়ে ধর্মকেই দূরে সরিয়ে রাখেন, এটি ঠিক নয়। তাহলে আপনি প্রকৃত সত্য থেকে চোখ থাকতেও অন্ধ থাকবেন।

অশ্লীলতার নির্ধারিত সীমারেখা: 

কুরআন স্পষ্ট করেছে অশ্লীলতার সীমারেখা। প্রতিটি স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীকে সেটি স্পষ্ট করুন প্রতিটি মা বাবা, এটি সময়ের দাবী। কারণ অনেক টিচার বৈরী পার্ট প্লে করছে, এতে আপনার ধন ধ্বসে যেতে পারে। “আর ব্যভিচারের ধারেকাছেও যেয়ো না নিঃসন্দেহ তা একটি অশ্লীলতা; এটি এক পাপের পথ” (সুরা বনি-ইসরাইল ৩২ আয়াত)। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনই বনি ইসরাইল সুরাটির শিক্ষা। ঐ সময় ইহুদীরা ধ্বসে গিয়েছিল অপরাধের সব অপকর্মে গোলা ভরে রেখেছিল। মুসলিমরাও যেন তাদের মত ধ্বসে না যায় সেটি সুরাতে ষ্পষ্ট করা হয়েছে। হুমায়ুন আজাদের শিক্ষা থেকে চরিত্র গঠনে এটি বহুগুণ উচ্চমার্গে আছে। তিনি বলেছেন ধর্ম নাকি মানুষকে পঞ্চম শ্রেণীর জ্ঞানও দিতে পারে না। মাইকেল এইচ হার্টের “দি হান্ডড্রেড” তার জ্ঞানের পরিসীমাতে থাকলে তিনি এমন মিথ্যাচার করতেন না। এসব ব্যক্তিদের বাচ্চাদের পাঠ্যবই সাজাতে দিলে জাতির বারোটা কেন চৌদ্দটা বাজতেও দেরী হবে না। কারণ যে শিক্ষা তারা অর্জন করেছে সেখানে সুশিক্ষার ঘাটতি প্রকট! দেখা যায় অনেক গুণিজন মা বাবার ধার্মিকতার প্রচার করেন মিডিয়াতে, কিন্তু নিজেরা ঐ অর্জনে ঘোড়ার ডিম! প্রজন্মকে তারা বিভ্রান্ত করছে নানান কসরতে, আবার মা বাবার ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজেদের ঘাটতি কি পোষায়? দৃশ্যতঃ এরা সুশিক্ষা না নিয়ে কুশিক্ষা দ্বারা বড় মাত্রায় প্রভাবিত। ধর্মের নামেও সমাজে অনেক অনাচার চালু আছে, এর মূল কারণ মানুষ সুক্ষ্ম গবেষনাতে নেই বলে। অতীতে একদল অনভিজ্ঞ পন্ডিতেরা ওটি জোর করে ইজতেহাদের বা গবেষনার দরজাটি বন্ধ করে সেটে দিয়েছিল যার জন্য গবেষণাহীন থেকে ধর্মটি অনেক আবর্জনা জড়িয়ে নিয়েছে তার চারপাশ থেকে। বড় আলখেল্লার নিচে মিথ্যা প্রচারককে মনে হতে পারে বড়হুজুর। কিন্তু সে ধর্মটিকে ধ্বসিয়ে দিতে নানান কৌশলে তার মিথ্যাচার দু নাম্বার তিন নাম্বর সেফটি ট্যাংকএ ঢুকিয়ে রেখেছে। কিন্তু প্রধান সেফটি ট্যাংকটি সর্বাবস্থায় নিরাপদ থাকবে সেখানে আল্লাহর কড়া প্রহরা, কেউ ওটি ঘোলা করতে পারবেন না। সালমান রুশদি তসলিমা গংরা সবাই ওখানে ফুটুস, তাদের হাজার বছরের শ্রমেও কিছু হবার নয়। দু নাম্বার তিন নাম্বার সব ট্যাংকই নিরাপদ, যদি এর জনতারা সজাগ থাকে, গবেষণাতে দক্ষতা রাখতে পারে। তবে সর্বাগ্রে সর্বোচ্চ মর্যাদা হবে প্রথম সিলেবাসের। সেটি দ্বারা ময়লা এঁটো খুব সহজে পরিষ্কার করা সম্ভব। পরিষ্কার করার কুরআন গ্রন্থ দিয়েই সব আবর্জনা স্পষ্ট করতে হবে, এটি আল্লাহর নির্দেশ। “নিঃসন্দেহ আমরা নিজেই স্মারকগ্রন্থ (কুরআন) অবতারণ করেছি, আর আমরাই এর সংরক্ষণকারী” (সুরা আল-হিজরএর ৯আয়াত)।

 

ধর্মের নামে রাজ প্রতারণা: 

আল্লাহর বাণী “আমার বানী সমূহের জন্য সল্পমূল্য কামাতে যেয়ো না, যারা এসব বিচার করে না তারা নিজেরাই অবিশ^াসী” (সুরা আল-মাইদাহ এর ৪৪ আয়াত)। সাবধান বাণীতে নজর কম থাকায় বাংলাদেশের সরকার প্রধান একটি বড় অপকর্ম করেন প্রায়ই, ধর্মটির খুটিনাটি না জেনেই তিনি অপকর্মকে ধর্ম বলে প্রচার করে ধর্মকেই বিতর্কীত করেন। যেমন কথায় কথায় মদীনার সনদে দেশ চালাচ্ছেন বলে প্রকারান্তরে তিনি মিথ্যাচার করেন। তিনি জানেন না মদীনার সনদ কি ছিল? জানলে তিনি অনাচারকে মদীনার সনদ বলতে অন্তত বিবেকের কাছে লজ্জিত হতেন। একইভাবে নূহের নৌকা বলে নবীর নৌকাকে মর্যাদাহীন করেন। তার নৌকাতে শুধু সন্ত্রাসী গড ফাদারদের সঙ্গ দেয়া হয় যেখানে নবীর ছেলে অবাধ্য হওয়াতে সেদিন তাকে ডুবে মরতে হয়, আল্লাহ কোন অনুকম্পা দেখান নাই। আল্লাহ বলেন, “হে নূহ! নিঃসন্দেহ সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়। সে তোমার পরিবারের মহৎ ঐতিহ্য পরিত্যাগ করেছে” (সুরা হুদ এর ৩১ আয়াত)। আর একটি ম্যাসেজ সবার ষ্পষ্ট ধারণা থাকা ভালো সেটি হচ্ছে মানুষ নবীর পরিচয়। সেটি বার বার নবী স্পষ্ট করেছেন তারপরও বেওকুফরা বলে নবী ও ওলি দরবেশরা নাকি জিন্দাপীর। এসব পৌত্তলিকতা থেকে আগত অনাচার অতিভৌতিকতা কালে ভিড় করেছে ইসলামের পবিত্র অঙ্গনে। “আর আমি তোমাদের বলি না আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে। আর আমি অদৃশ্য সন্বন্ধে জানি না। আর আমি বলি না যে আমি একজন ফেরেশতা” (হুদএর ১১:৩১ আয়াত)। এটি একজন মানুষের জন্য খুবই ইতিবাচক একটি জমা। তার মানে তিনি মানুষ ছাড়া আর কিছু নন, আপনি চাইলেই তাকে অনুসরণ করে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে যেতে পারেন। তার জন্য আপনাকে কুরআন গ্রন্থটি অনুসরণ করতে হবে। অনেকে কুরআনকে অবহেলা করে মানব রচিত অন্যান্য গ্রন্থের উপর জোর দেন, সেটি ঠিক নয়। জোর দিবেন প্রথমটিতে। একজন মুসলিম যদি এর উপর বিশেষজ্ঞ হতে পারে তবে সে অতি অল্পে যে কোন মানব রচিত অনাচার ধরতে পারবে। কারণ তখন কুরআন কম্পিউটারের কাজ করে। আল্লাহ বলেন, “উৎপীড়ন হত্যার চেয়ে গুরুতর” (সুরা বাক্কারাহএর ২১৭ আয়াত)। বস্তুত এ গুরুতর অপরাধটি বাংলাদেশ সরকার সারা বছর ধরে র‌্যাব, পুলিশ, তার পেটোয়া বাহিনী দ্বারা পরম উৎসাহে করে চলেছে। ঐ সব করতেই সে অনাচারের উপর হাটছে, জনতায় তার ভরসা নেই, ভরসা শুধু ভারতে, অন্যের ঝুলিতে।

কুরআনের আলোকে মোট ১৫টি আয়াতের মাধ্যমে লেখাটি সাজানো হলো, বিতর্কীত জমাগুলো আল্লাহ প্রদত্ত জবাব হিসাবে কুরআন থেকেই আয়াতগুলি দেয়া হলো। আল্লাহ হাফিজ।

নাজমা মোস্তফা ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: