Articles published in this site are copyright protected.

বিগত সময়ের ছাপা হওয়া রোহিঙ্গাদের কথা নিয়ে সাজিয়েছিলাম বেশ ক বছর আগে। বেশ ক বছর আগে লেখাটি সোনার বাংলা সাইটে অন্য অনেক সুজনদের লেখার সাথে অবস্থান করছিল। অগত্যা সরকারী ধড় পাকড়ের বদৌলতে সেটির অপমৃত্যু ঘটে। আজ সেই লেখাটিই এখানে আবার সংযোজন করছি। সবাই জানে বৌদ্ধরা শান্তিবাদী, যদিও ওম শান্তি থেকে তারা আজ অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছে। এদের অপকর্ম এত নেতিবাচক আচরণঘেরা যে জগতের অনেক বড় অশান্তির সৃষ্টিকর্তাই যেন তারা, এমন উদাহরণ সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। রোহিঙ্গা নামটি বহু বছর থেকেই শুনছি কোন দায় মনে জাগেনি, তবে সে বছর নির্যাতীত মানুষগুলো বর্ডার পার হয়ে এলে প্রথম ওদের সন্ধানে নামি। সাধু নামধারী মায়ানমারের বৌদ্ধরা বলছে এরা বাংলাদেশী, তাই সে বছর তারা এদেরে ঠেলে দিচ্ছিল বাংলাদেশের বর্ডার বরাবর। মনে হচ্ছিল তারা যেন দুনিয়ার আবর্জনা হয়ে গেছে।

ruhingya

মন্দির পুড়লে হাসিনার চেতনা জাগ্রত হয় আর রোহিঙ্গা মুসলিমদের পুড়িলে মারলে তিনি চুপ থাকেন কেন?

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ইতিহাস ঘেঁটে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য ! (এক্সকুসিভ) 

মনে পড়ে আমরা শিশুকালে ছেলে ভুলানো ছড়া শুনতাম সব মায়েরা সেটি শুনিয়ে ভয় দেখিয়ে বাচ্চাদেরে ঘুম পাড়াতেন। এটি আমাদের মন ও মগজের মাঝে আজো সেটে আছে।

Rohingya Moslims – Getto in Myanmar – Burma (killed by BUDDHIST MONKS)

“ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গি এলো দেশে, বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কিসে?” ষাটের দশকের সে গানে দুরন্ত বাচ্চারা ঘুমাতে না চাইলে মায়েরা সুর করে ছন্দের তালে বর্গীর ভয়ের কথা শুনাতেন, এতে বাচ্চারা ঘুমিয়ে যেত অতি অল্পে। সেদিন ছন্দের সাথে সাথে আমাদের মগজেও একটি ম্যাসেজ চলে যেত যে ভয়ঙ্কর সব বর্গীদের কথা! খাজনা দেবারও উপায় নেই, তার উপর বর্গীদের উপদ্রব অন্যদিতে খতরনাক বুলবুলি আসতো ঐ গলি দিয়েই। এরা দুইই আসন্ন বিপদের জন্যই দায়ী। যদিও প্রতাপী জমিদারবাবুরা খাজনার জন্য খড়গহাতে এক পায়ে দাঁড়া, ছন্দের কবিতাটিতে ঐ সত্যই ফুটে উঠে। এবার আসামী ধরতে গিয়ে যা গবেষকদের কাছে ও আমার কাছে ধরা পড়ছে তা এখানে সংক্ষেপে পয়েন্ট হিসাবে আনছি।

Stop killing muslims in Burma Must Watch,

বার্মা বা মায়ানমার রাজ্যটি উত্তর আরাকান ও দক্ষিণ আরাকান অঞ্চল নিয়ে গঠিত।

(১) দশম শতাব্দীর আগে কোন বার্মিজ আরাকানে বসতি স্থাপন করেনি। শতাব্দীর শেষভাগে এরা আরাকানে আসে।

(২) রাখাইনরা আরাকানে সব শেষ উল্লেখযোগ্য আগন্তুক।

(৩) অনেক পুরানো ইতিহাসে রাখাইন নামটি পাওয়া যায় দাসের নামে এবং সেটি ১২শ শতাব্দীতে প্রথম ধরা পড়ে এ নামটি।

(৪) নৃতাত্তিকভাবে তারা সেই ধন্যওয়াদী ই ওয়াথালী গোষ্ঠীরও নয়।

(৫) ডঃ এস বি কনোঙ্গ বলেন, রাখাইন নামটি বার্মাদের দেয়া নামটি ১২ থেকে ১৫ সেঞ্চুরীতে পাথরে খোদাই হিসাবে এ নামের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর আগে আর কোন রাখাইন ভাষার প্রমাণ পাওয়া যায় না। আর আগের সব প্রমাণ বাংলায় পাওয়া যায়।

(৬) এর আগের সব রাজত্বে ভারতীয় শাসকদের যেভাবে তারা বাংলা শাসন করে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

(৭) মধ্যযুগে আরাকানের পূর্বাঞ্চলে পেগানরা (মূর্তিপূজকরা) শাসন করতো। আরাকানের জনতারা বার্মিজ কথা বলতো যা তারা আজও বলে।

(৮) আরবরাই সবার প্রথম আগত বাসিন্দা, যারা সাগরে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এতদঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এমন কি তাদের সে ব্যবসা বানিজ্য প্রাক ইসলামেই শুরু হয়েছিল।

(৯) আরাকানীরা প্রথম ইসলামের খবর পায় ৭৮৮ খৃষ্টাব্দে যখন বারে বারে জাহাজ বিধ্বস্ত হয়। এসব ঘটনা ঘটে চিটাগাং ও আরাকানের সাগর সোপানেই। দশম শতাব্দীতে চিটাগাং এ আরবদের উপস্থিতি এতই বেড়ে যায় যে মুসলমানদের একটি ছোটখাট রাজত্ব সেখানে প্রতিষ্ঠা পায়। সেখানের রাজাকে “সুলতান” উপাধি দেয়া হয়। ধারণা করা হয় এর পরিধি মেঘনার উপকূল থেকে নাফ নদী বিসতৃত ছিল।

(১০) ইসলাম খুব ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে কিন্তু খুব স্বাভাবিকভাবে, জোর জবরদস্তি করে নয়। ১২০৩ সালে বাংলাতে মুসলমান শাসন শুরু হলে আরাকানের মুসলমানের সংখ্যাও বেড়ে চলে। এর একটি বিরাট কারণ বৌদ্ধদের ধর্মান্তর প্রক্রিয়া। ১৫ শতাব্দী থেকে ১৮ শতাব্দী পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলে। বৌদ্ধদের ধর্মান্তরের প্রধান কারণ ইসলামের মহাত্ম্য উদারতাতে তারা উৎসাহিত হয়। ঐ সময়টিতে বৌদ্ধরা খুব সহজে ইসলামের সাথে নিজেকে মেলাতে সক্ষম হয়। রাজা যখন ডাচ শিল্প মালিকদের আরাকান ছাড়তে আদেশ দেন তখন মালিকেরা ভয়ে কাতর ছিল কারণ তাদের মুসলমান বংশধারার স্ত্রী পুত্র পরিজন নিয়ে শংকিত হয়ে পড়ে যা তারা এর মাঝে সেখানে স্থানীয়দের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। বাটাভিয়ার রিপোর্টে এরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে এসব বাচ্চারা মুসলিম হিসাবে বেড়ে উঠেছিল। যার জন্যই পরিবার নিয়ে ছিল তাদের অতিরিক্ত শংকা।

(১১) আরাকানী আর চিটাগাং এর জনতার মাঝে একটি ঐতিহাসিক ভূ- রাজনৈতিক নৃতাত্ত্বিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। সে সময় ষষ্ঠম ও অষ্টম শতাব্দীতে চিটাগাং ছিল ভেসালী রাজার অধীনে। আরাকানের ম্রাউক ঊ রাজত্ব ১৬ ও ১৭ শতাব্দী অবদি ছিল।

(১২) এসব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের জন্য আরাকানীদের চিটাগাং এর বর্ধিত অংশ নামেই চিহ্নিত করা হতো।

(১৩) ১৫ শতাব্দী ছিল আরাকানীদের ইতিহাসে এক বিরাট মোড়। এ সময় বাংলার একটি বড় মুসলিম গোষ্ঠী আরাকানে প্রবেশ করে এবং তারা সেখানের   শাসক কর্তৃক আমন্ত্রীত হয়ে আসে। এসব আমন্ত্রণও ছিল রাজনৈতিক কারণে।

(১৪) এভাবে আরাকানের ইতিহাস ভারত ও বাংলার সাথে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত হয়। আরাকানদের ইতিহাসে মুসলমানদের অবদান একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে আছে। সেখানের শাসক ও তার শাসন ক্ষমতা, রাজ্য পরিচালনার সব কিছুতেই মুসলমানদের প্রভাব ছিল আর সেটি বহাল ছিল ৩৫০ বছর অবদি।

(১৫) দেখা যায় ১৪৩০ খৃষ্টাব্দে প্রায় তিন দশক বাংলার উল্লেখযোগ্য নগরী গৌড়ে নির্বাসনে থাকার পর রাজা নারামেইখলা যিনি মিন সো মুন নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি আফগান সহযোগিতায় আরাকানে ফিরে আসেন আর ১৪০৪-১৪৩৪ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত দেশ শাসন করেন। তিনি সব বিরোধী স্থানীয় বার্মাদেরে বিতাড়িত করেন। তখন থেকেই এ দেশে নতুন এক যুগের সূচনা হয়। উন্নত ও শক্তিশালী বৌদ্ধ রাজ্য হিসাবে তা বিসতৃত হতে থাকে। সেখানে বাংলার সভাকবিরাও সভাসদ অলংকৃত করতেন। ডঃ আব্দুল করিম রোহিঙ্গা জনগণের উপর অনেক কাজ করে যান। “রোহিঙ্গা: একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও সংস্কৃতি নামে” আরাকান হিষ্ট্রিকাল (ঐতিহাসিক) সোসাইটি (এ এইচ এস) চিটাগাং, বাংলাদেশ ২০০০, পৃষ্ঠা ১৪-১৫ ছাপা হয়। কবি দৌলত কাজী, বাংলার রোমান্টিক লেখক শাহ আলাওল যিনি সতেরো শতকের বাংলার বিখ্যাত কবি হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন করে আরাকানের সভা অলংকৃত করে রাখেন। ম্রাউক রাজারা মুসলমান নাম ধারণ করতে তাদের পোষাক ধারণ করতে উৎসাহ বোধ করতেন। তাদের মুদ্রাতে মুসলমানদের “কলিমা” আরবীতে ফারসিতে খোদাই করা হতো। তারা সেখানে ওসব ভাষাতেও কথা বলতো। বাংলার গৌড়ের সুলতান জালালুদ্দিন (১৪১৫-১৪৩৩ খৃষ্টাব্দ) একজন হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত মুসলিম যিনি রাখাইন রাজা নারামেইখলাকে আরাকান রাজ্য পুনর্দখলে তার মুসলিম সৈন্য দিয়ে সাহায্য করেন। সেখানে মুসলিম সৈন্য সাহায্যের প্রধান কারণ ছিল সেদিন তেমন পর্যাপ্ত রাখাইন সৈন্য ছিল না। সুতরাং এটি অনায়াসে বলা যায় মুসলিমরা ছিল আরাকানের মেরুদন্ড। দেখা যায় রাজা নারামেইখলা একাধারে পারসিয়ান, হিন্দি, বাংলা ভাষাতে দক্ষ ছিলেন।

(১৬) আরাকানের সব গুরুত্বপূর্ণ পদই মুসলিম দ্বারা অলংকৃত ছিল। কারণ সে সময় তারাই ছিল একমাত্র দক্ষ জনতা। বুরহানুদ্দিন আশরাফখান, শ্রী বড় ঠাকুর ছিলেন খুব সম্মানী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়াজির, মাগান ঠাকুর, সৈয়দ মুসা, নবরায় মজলিস ছিলেন একজন দক্ষ প্রধানমন্ত্রী, সৈয়দ মোহাম্মদ খান, শ্রীমন্তা সোলায়মান আরাকানের মন্ত্রী, এরকম আরো অনেক মুসলিম মন্ত্রীরা উচ্চ সিভিল ও মিলিটারী অফিসার আরাকানের সভাতে ছিলেন। ১৪৩০ থেকে ১৬৪৫ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দুইশত বছরেরও বেশী সময় ধরে মুদ্রাতে মুসলিম পরিচিতি বিদ্যমান ছিল। ঘরে তারা মুসলমানি কায়দা কানুন পরিচর্যা করতো। কর্নেল বা-সিন বার্মার ঐতিহাসিক কমিশনার চেয়ারম্যান বলেন, আরাকান প্রধানত মুসলমান দ্বারা শাসিত হয় ১৪৩০ থেকে ১৫৩১ পর্যন্ত। ঐ সময়কার অঙ্কিত হিস্ট্রি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ম্যাপে এসব প্রমাণ পাওয়া যায়। গৌড় ও দিল্লীর অনুকরণে রাজ্য সাজানো হতো এবং এ রাজ্যের প্রধান কর্মকর্তাকে “কাজী” উপাধীতে ভূষিত করা হতো। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হচ্ছে দৌলত কাজী, সালা কাজী, গাওয়া কাজী, সুজা কাজী, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ হোসাইন,  ওসমান, আব্দুল জব্বার, আব্দুল গফুর, মোহাম্মদ ইউসুফ, রওয়ান আলী ও নূর মোহাম্মদ প্রমুখ। ঐ রাজসভা একদল মুসলমান কর্তৃক পরিবেষ্টিত ছিল।

ডিভাইড এন্ড রুলের কুটিল প্যাঁচে মায়ানমারের বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা ও রাখাইনের বর্তমান ছলবাজ সরকার রোহিঙ্গা ও রাখাইনের মাঝে এক জ¦লন্ত আগুনসম সাপে নেউলে সম্পর্ক গড়ে তুলতে দক্ষ ভূমিকা অর্জন করে যাচ্ছে। অতীতের ত্রাণকর্তা রোহিঙ্গারা হয়ে গেছে রাখাইনদের যুগ জনমের শত্রু। আজ তারা নাগরিকত্বহারা, ঘরহারা, বাংলাদেশের অবৈধ অধিবাসী নামের নতুন সিলগালা পাওয়া জনতা তারা। এরা বহুদিন থেকে তাদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদিআরব, ইউএই, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডে ছড়িয়ে আছে। এদেরে জোর করে ধর্মান্তর করার প্রচেষ্ঠা চালানো হয়। তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানে বাধ্য করা হয়। তাদের ধরে জোর করে বৌদ্ধ ধর্মীয় ফিজ আদায় করা হয়। বর্তমানে রুটিনমাফিক তারা মুসলিমদের কবরগাহে লাশ দাফনের ক্ষমতার অগ্রাধিকার রাখে, যদিও তার ফি বহন করে রোহিঙ্গারা।

এদের এমন দুর্যোগের সময়টিতে কি এমন কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা নেই যে এর সঠিক দেখভাল করবে? তারা রোহিঙ্গারা এসব অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তেমন যেতে পারে না কারণ তাদের কোন বৈধ অনুমোদন নেই। তা তারা দেখাতে পারে না। তাদের কোন প্রয়োজনীয় পরিচিতি নেই। তারা তাদের জন্য কোন কাজ করার পারমিট পায় না। বাঁচার জন্য থাইল্যান্ডেও তারা আপত্তিকর বেআইনী কাজ করতে বাধ্য হয়। তারা ও তাদের প্রজন্মরা ন্যুনতম অধিকার থেকেও বঞ্চিত। বিয়ে করতেও তাদের সরকারী অনুমোদন লাগে। দুটোর বেশী সন্তানের অধিকার নেই তাদের। যদিও আর কোন সম্প্রদায়ের জন্য এ বিধান প্রচলিত নয়।

ইতিহাস বলে এতদঅঞ্চলের মুসলিমরা ষোল সতেরো শতাব্দীতে জলদস্যু কর্তৃক আক্রান্ত হয়। মোগল সম্রাট শাহ সুজাও তার দলবল নিয়ে ১৬৬০ খৃষ্টাব্দে আরাকানে প্রবেশ করেন পুনর্দখল করা রাজা মিন সো মুনের রাজত্বে। সতেরো শতকে মুসলিমরা সেখানে অনেক ভীড় জমায় এবং এর প্রমান রাজ্যের সর্বত্র এমনি কি কোর্ট বরাবরও ছড়িয়ে ছিল। সভাকবি শাহ আলাওলের লেখার যুক্তিতে আরাকানের জনতারা বাঙ্গালী, ইন্ডিয়ান, আফ্রো এশিয়ান, আর আদিবাসী ঘেরা ছিল কিন্তু সংখ্যার দিকে মুসলিমরাই ছিল প্রধান। তাই আজ যারা রোহিঙ্গাদের কোন শিকড় খুঁজে পাচ্ছেন না তারা ইতিহাস পড়েন। এদের রোহিঙ্গাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে খুব শক্ত ঐতিহাসিক শিকড়সূত্র। বহু শতাব্দী অবদি উজ্জ্বল স্বাক্ষরতায় ছড়িয়ে আছে তাদের বাস্তবতা। সেটি  মূলত মুসলিমদের দ্বারা লালিত এক সভ্যতা সেখানে বিকাশ লাভ করেছিল যেটি অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এখানের প্রতিটি কথারই ঐতিহাসিক স্বীকৃত সূত্র বর্তমান।

এরা সেখানের সম্ভ্রান্ত সদস্যরা এরা বর্গীর দলের লোক নয়। এরা অন্য সবার থেকে বেশী আদিমতার দাবী রাখে। এরা গর্বিত জাতির উত্তরাধিকার নিয়েও আজ লাওয়ারিশ হয়ে নাফ নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে। মনে হচ্ছিল এরা এতই শিকড়হারা, এদের প্রকৃত শিকড়হারা করেছে তাদের ছলবাজ মিডিয়া, সেখানের চলমান রাজনীতির কুটিল হাত আর কিছু কৌশল। এরা বর্তমান রাখাইনরা গৌতম বুদ্ধের আদর্শের বিপক্ষে যাওয়া একদল সন্ত্রাসী যোদ্ধা। বৌদ্ধ ধর্মের জার্সি পরে ঘোরার অধিকার তারা হারিয়েছে বহু আগেই। এরা লজ্জাস্করভাবে ঐ সাধকের নাম নিয়ে আছে শুধু পরণে গেরুয়া বসন আর কৃতকর্মে দুর্বৃত্তপরায়নতা, মূলের সাথে সঙ্গতিহারা একদল সন্ত্রাসী এরা, এরা মূলে নেই। হিউমেন রাইটস ওয়াচের ও আন্তর্জাতিক সব সাহায্য সংস্থাকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। এটি একবিংশ শতকের সময়ের শক্ত দাবী। বৌদ্ধ নামধারী বর্তমান রাখাইনরা খুব নীচ মানসিকতার কাজ করে চলেছে, তাদের কৃত এসব অপরাধ ইতিহাসের কলঙ্ক হয়ে থাকবে। ওখানের কোন শক্ত বিবেক যদি অবশিষ্ট থাকে তবে আশা করি এমন কঠিন সময়েও ঐ অবচেতন বিবেক জাগ্রত হয়ে অনেক বড় এক সাধকের শিকড়সূত্র তথা সিদ্ধার্থ গৌতম  বুদ্ধের আদর্শের মর্যাদা রক্ষা করতে সক্ষম হবে।

০৩ জানুয়ারী ২০১৭ সাল।

নাজমা মোস্তফা

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: দুঃখিত, দালালরা যাদের গায়ে ঘা লাগছে তারা এসব ভিডিও সরিয়ে দিচ্ছে। এখন আর মূলে নেই। কিন্তু প্রমান হিসাবে দাগটা জ¦ল জ¦ল করে জ¦লছে। (৮ জানুয়ারী, ২০১৭ সাল)

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: