Articles published in this site are copyright protected.

Archive for January, 2017

হাওর গিলছে ভারত পানি মাঙ্গা লালপানি মিলা

সুনামগঞ্জের শনির হাওর টাংগুয়ার হাওর বিপর্যস্ত। জানা যায় বাংলাদেশ সীমানা থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে উন্মুক্ত খনি থেকে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করে ভারতের মেঘালয় রাজ্য। সেখান থেকেই পানি এসে হাওরের পানি দুষিত করেছে। পরিণামে মাছ হাঁস মরছে, গরু মহিষসহ জীব বৈচিত্রের উপর প্রভাব পড়ছে। এর ক্ষতিকর প্রভার মানুষের উপর পড়বে না সে নিশ্চয়তা কি সরকার ও তার বিচারকর্তারা দিতে পারবেন? তড়িঘড়ি আনবিকশক্তি কমিশনের দীলিপ কুমার সাহা (?) ও দেবাশীষ পাল (?) পরীক্ষা সেরে দাবী করেছেন হাওরের পানিতে তেজষ্ক্রিয়তা নেই। অবৈধ সরকারের প্রকৃত বিরোধীদলহীন সংসদ হচ্ছে রং তামাশার কারখানা। জাতির যেখানে জীবন মরণের প্রশ্ন সেখানে তারা রসরংএ কপট কমেন্ট করছেন আর সময় পার করছেন। বলছেন এরকম হলে নাকি খুব ভালো পানিতে আসা মূল্যবান ইউরেনিয়ামে লাভ দেখছেন। হাওরের দুর্যোগ মানতে অপারগ তারা। উল্টো দেখি প্রধানমন্ত্রী বেজায় নারাজ গোসসা এসব খবর মিডিয়াতে আসাতে। যেখানে ভুক্তভোগীরা বলছে একটি মাছও বেঁচে নেই সেখানে তিনি পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সরকার সাহায্য দিবে তবে দুর্যোগ পূর্ণ এলাকা ঘোষনা করবে না। সাহায্যও রাজনীতির রং দেখে নিশ্চিত হয়ে দেয়া হয়, আওয়ামী না হলে কারো ভাগ্যে সাহায্যও মিলে না, সেটি বেশ দিন থেকেই জাতি জানে। সরকারী পরিদর্শকের মন্তব্য শুনলাম ওখানের এক প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগীর কাছ থেকে যে তারা বলেছেন মানুষ যখন মরছে না সেটি আবার কেমন ধারার দুর্গত এলাকা? এটি হচ্ছে মানুষ খেকো সরকার, লাশ ছাড়া কিছু বুঝে কম! সরকারের মাঝে সচেতনতা আনতে মানুষকে মানববন্ধন করতে হচ্ছে, তারপরও রসিকতা চলছে। সরকারের স্বভাবই হচ্ছে ছলবাজি করা।

একটা সামলাতে আরটা এনে হাজির করে। এবার বলছে ওহ ওটি হচ্ছে সার প্রয়োগের বিরুপ প্রভাব। আবার বলছে কঠোর বিচার করবো। এসব হচ্ছে হাওরে কিছু দুর্নীতিবাজদের কারণে, ওসব অঞ্চল আজ ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছে!  তারপরও চালবাজ মিথ্যাচারী সরকার মূল জটিলতা উন্মোচনে নেই। বরং কিভাবে ঢেকে রাখবে সে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ইত্যবসরে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতিও বসে নেই, ভারতকে উদ্ধার করতে তিনিও একপায়ে খাড়া। হাওরের এই বিশাল ক্ষতি কি ভাবে পুষানো যাবে তার সমাধান বিলি করছেন যে কারো কাছে আমরা হাত পাতবো না, আমরা স্বয়ং সম্পূর্ণ। সব মোকাবেলা করবো নিজেরাই। ভারতের সব দায় যেন হাসিমুখে তিনি বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে উৎসাহী। যাতে কস্মিনকালেও ভারত ইউরেনিয়াম জটিলতায় না পড়ে, সেদিকে তার অতিরিক্ত নজর! এপ্রিলের ২৫ তারিখে আমাদের সময় বরাতে “কেন মরছে মাছ কিংবা হাঁস? সৈয়দ হাফিজুর রহমান জাবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক। তার গবেষনাতে শুধু কীটনাশক ও ফার্টিলাইজার ব্যবহারের সতর্কতার উপর কথা এসেছে। কিন্তু কেন জানি মূল আতঙ্ক ভয়ঙ্কর ইউরেনিয়াম ইস্যুটি আসেনি। বাংলাদেশের প্রায় তিনকোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট। দেখা যায় মেঘালয় রাজ্যে উন্মুক্ত খনিতে ইউরেনিয়াম জটিলতাতে ২০১১ ও ২০১২ সালে তাদের মাছের মড়ক হয় এবং ওখানের স্থানীয় খাসিয়া ছাত্র সংগঠন আন্দোলন করে। ফেসবুকে একজন কৃষকের জবানবন্দি থেকে উৎকট গন্ধ ও লাল ইট রং পানির খবর জানি, সে পানি দিন কয় ছিল। এটি জানার পর পরই আমার এক বোনের সাথে কথা হয় সে সুনামগঞ্জ নিবাসি। তার কাছ থেকে জেনে নিয়েই আমি কলামটি লিখতে বসি।

সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ ও মন্ত্রীদের মানুষ না মরার টিটকারীসহ বিস্তারিত জানলাম। একটি উৎকট গন্ধের কথা জিজ্ঞেস করাতে সে বললো প্রচন্ড রকমের একটি উৎকট গন্ধে সারা অঞ্চল সয়লাব ছিল একনাগাড়ে ১৪/১৫দিন। ১৪/১৫ দিন কথাটি আমি বার বার জিজ্ঞেস করে জেনে নেই। সেটি এতই ভয়ঙ্কর ও উৎকট ছিল যে তারা দরজা জানালা সেটেও নিস্তার পাচ্ছিল না। ঘরেও টিকে থাকা দায় ছিল। সব ফুটো ফাটা বন্ধ করেও এ তীব্র গন্ধ কেন, সেটি এখনো তারা আঁচ করতে পারছে না। সরকার আর মিডিয়া ভারতের দুর্গন্ধ ঢাকতে ব্যস্ত সারাক্ষণ আর ওদিকে দেশের জনতারা গিনিপিগ। প্রধানমন্ত্রীর সফর সেটি মুসলিম পাড়াতে নয়, ওটি হয়েছে হিন্দু পাড়াতে, সহায় সাহায্য সবই ওখানে। এটিও বললো অনেকে বলছে ধানপঁচা গন্ধ এটি সবৈব মিথ্যা কথা কারণ ধান এখনো ধরে নাই পঁচবে কেমনে, তবে সব ভেসে গেছে। অনেক সময় ধান পঁচে তাই বলে ওতে মাছ হাঁস মরে না, এটি সে স্পষ্ট করে। এটি নির্ঘাৎ ইউরেনিয়াম ঘটিত জটিলতা এটি আর রাখঢাক করে লুকানোর কোন যুক্তি দেখি না। শত শত বছর থেকে লোকজন বলছে এমন ধারা বিপর্যয় কোনদিন তারা দেখেনি। বন্যা আসে বন্যা যায়। লোকসানের পরও মানুষ ফের উঠে দাঁড়ায়। এবার বিষ যদি প্রয়োগ করা হয় তবে মানুষ উঠবে কেমনে? রসিক রানীকে তারা পানি দিয়েছে, পানি মাঙ্গা পানি মিলা, রক্তরাঙ্গা পানি, বিষযুক্ত পানি খাও মর, স্বাধীনতার স্বাদ নয় বরং বিস্বাদ ভোগ কর। মমতাময় প্রতিবেশীর ঈমানদারী পানি এটি। জাতির সাথে বেঈমানী না করেই এবার মোদির সরকার ঈমানদারী পানি পাঠিয়েছে হাওরবাসীর জন্য।

০৫ এপ্রিল, ২০১৭। নাজমা মোস্তফা

Advertisements

মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা।

বিশাল গন্ডির ইসলামকে ওরা সংকীর্ণ গন্ডিতে বাধতে গিয়ে বাস্তবের নাবিলার দাদীরা মরছে, ঠিক তারই পাশাপাশি সোরগোল উঠেছে নাটকের গুলি খাওয়া, মালালার বাঁচা, নোবেল পর্যন্ত পৌছে যাওয়া। যদিও নাবিলার কথা নাবলা কষ্টে ভরা, মানবতার প্রকৃত জমা। বিশ^ কম জানলেও সচেতন মুসলিমরা জানে নবীকে নিয়ে বিকৃত মিথ্যার সব কার্টুন আঁকা, নবীর প্রতিটি কাজের তীর্যক ছবি আঁকছে বিরুদ্ধবাদীরা। সপ্তম শতাব্দী থেকে এ সত্য ময়দানে, সেদিন থেকে বিরোধীরা এ ছলবাজ কাজে সচল আছে। বলা হচ্ছে পাকিস্তানের সোয়াতের এক স্কুল ছাত্রী মেয়ে মালালার উপর হামলা করে তালেবান মুসলিমরা। মিডিয়ার চাতুর্যতায় গোটা বিশে^র সামনে বিশাল প্রমাণ নিয়ে দাঁড়ায় একটি ম্যাসেজ “তালেবানী ইসলাম নারী শিক্ষা বিরোধী”। কুরআন নির্ভর ইসলামের রুপ এক, এর কোন তালেবানী, আলকায়দা আইএসআইএস বা যেকোন নামের খন্ডিত সংস্করণ হতেই পারে না। মূল সত্যকে অবহেলা করে এ ধারার রাজনৈতিক মিথ্যাচার ধর্মটির শুরুর ইতিহাসের সাথেই জড়িত। এর মূল কারণ বিরোধী সূত্রতা ও শত্রুতা।

‘মালালার ওপর হামলার ঘটনাটি আগেই লেখা’ (২৩ মে ২০১৭, প্রথম আলো) মালালা সম্বন্ধে পাকিস্তানেরই এক নারী সাংসদ মুসারাত আহমাদজেবের কথা শিরোনামটি দখল করেছে। তার মতে বিবিসির জন্য এটি আগে সাজানো হয়, পরে ঘটানো হয়। উম্মাহ পত্রিকার সাক্ষাৎকারে তার দাবী মালালার বাড়ীতে যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক তিনমাস থেকে তাকে প্রশিক্ষণ দেন। মাথার গুলি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন এবং সোয়াতে সিটি স্কেনে তার কোন চিহ্ন পাওয়া যায় নি, এটিও স্পষ্ট করেন। তবে পেশোয়ারের সামরিক হাসপাতালে ওটি ধরা পড়ে। অভিযোগ উঠেছে আরো তার চিকিৎসকদেরে পাকিস্তান সরকার বাড়ীর জমি দেয় । যখন ছদ্মনামে বিবিসিতে মালালা লিখতেন তখনও তিনি ওসব লিখতে জানতেন না। উল্লেখ্য ২০১২ সালে তালেবান কর্তৃক তার উপর হামলা হয়, তিনি তখন থেকে নারী শিক্ষার উপর কাজ করছেন এবং ঐ সব কারণে ২০১৪ তে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

অপরপক্ষে ওয়াজিরাস্তানের মেয়ে নাবিলার ক্ষতির পরিমাপ মনে হচ্ছে কম তো নয়ই বরং বহু বেশী। কিন্তু সেখানে নাটকহীন বাস্তবতার প্রতিবাদ প্রতিরোধ খুব অল্প। জীবন থমকে যায়, আহত বিধ্বস্ত মেয়েটি মুষড়ে পড়ে। আশ্চর্য্য, বরঞ্চ মানবতা যেন তাকে চোখ রাঙ্গায়! মালালা প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সাংসদের মন্তব্য যেন ফের পুরোনো ঘটনাকে উসকে দিল। লেখাটি অনেকটা যেমনটি রামের জন্মের আগেই রামায়ন লেখা হয়। যার জন্য বাস্তবের রামের সাথে রামায়নের রামের বৈপরিত্য স্বাভাবিক। নাদিম এফ পারাচা নামের একজন অভিজ্ঞ জার্নালিস্ট এর ১১অক্টোবর ২০১৩ সালের কলামটি বিশে^র সামনে যেন ঐ ঘটনাটির পোস্টমোর্টেম রিপোর্ট বলা যেতে পারে। লেখাতে https://www.dawn.com/news/1048776  Malala: The real story (with evidence)  একাধিক ছবিসহ প্রামাণ্যতার দলিল এসেছে, সব শেষে একটি ফিকশন নাটকের আশ্রয়ও নেয়া হয়েছে। অসংখ্য মানুষ তাতে বিস্ময় প্রকাশ করা সহ মন্তব্য করছেন, ৭২ হাজারের মত লাইক পড়েছে। আজ এটি চারদিকে সারা বিশে^ ছড়িয়ে পড়েছে এমনকি তাদের ডিফেন্স অনলাইনেও এর স্বপক্ষে লেখা বর্তমান। এখানে প্রচেষ্ঠা হয়েছে যে নারী শিক্ষা বিরোধী তালেবানরা সোয়াতের এ স্কুল যাওয়া মেয়ের মুখে ও মাথাতে গুলি করে। যার প্রেক্ষিতে তাকে প্রথমে পাকিস্তানে ও পরে ইংল্যান্ডে একাধিক সার্জারীর মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়। বর্তমানে মালালা ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন আর নারীর স্বপক্ষে কাজ করছেন। এটি হচ্ছে গল্পের একদিক, যা পশ্চিমা বিশে^র মিডিয়া লুফে নিয়েছে।

এ গল্পের অন্যদিকও ঐ সোয়াত ভূমি থেকেই উত্থিত হয়েছে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে Dawn.com (ডাওন ডট কম) থেকে পাঁচ মাস মেয়াদে একটি ইনভেস্টিগেশন দল পাঠানো হয় ঐ উত্থিত গল্পের পরবর্তী কিছু যৌক্তিক কারণে। তাদের ঐ গবেষণাতে বেশ কিছু প্রমান চ্যালেঞ্জের আদলে দাঁড়িয়েছে ঐ ঘটনাটির বিপক্ষে। মূল সন্ধানী প্রাপ্তিগুলি হচ্ছে।

(১) প্রথমত মালালা সোয়াতের মেয়ে বা পুস্তন মেয়ে নয়। সোয়াতের একজন সম্মানী ডাক্তার ইমতিয়াজ আলী খানজাই যিনি একটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক চালান। তিনি রিপোর্টারদের জানান যে ঘটনাক্রমে মালালার ডিএনএ রিপোর্ট তার কাছে আছে, ওতে প্রমাণিত হয় যে, সে পুস্তন মেয়ে নয়। তিনি তাদের রিপোর্টও দেখান। মেয়েটি যখন আরো ছোট অবস্থায় তার অভিভাবকদের সাথে ডাক্তারের চ্যাম্বারে আসে তার কানের সমস্যা নিয়ে, ওটি ঐসূত্রে তখনকার পাওয়া। ইত্যবসরে যখন সেই মেয়েই ফের গুলিতে বিদ্ধ হয় তখন তিনি স্মরণ করেন যে তার কাছে ওর কিছু সেম্পল আছে কোন বোতলে। যা অনেকটা সখের মতই তিনি রোগীদের এসব সংগ্রহ করেন।  সে হিসাবে তিনি বলেন এ মেয়ে পস্তু নয়, বরং ককেসাস, সম্ভবত পোলান্ডের মেয়ে।

(২) এ ঘটনার পর তিনি তার বাবাকে ডেকে বলেন যে আমি জানি তোমার মেয়ে কে? এ কথা শুনে তার বাবা চিৎকার চেঁচামেচি করলে ডাক্তার জানতে চান, ঠিক আছে আমি সবাইকে না জানালেও অবশ্যই আপনাকে আসল সত্য ঘটনাটি প্রকাশ করতে হবে।

(৩) ঠিক তখনই তার বাবা ধরা খেয়ে রাজি হন এবং প্রকাশ করেন যে তার আসল নাম জেইন এবং সে হাঙ্গেরীতে ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করে। তার মূল জন্মগত বাপ মা হচ্ছে খৃষ্টান মিশনারীজ যারা সোয়াত ভ্রমনের পর মালালাকে গিফট হিসাবে দান করে। সাথে সাথে সে লেখাতে খানজাইএর সেসব সংগৃহীত ডিএনএর নমুনা ছবিও প্রদর্শিত হয়।

(৪) এবার তাকে প্রশ্ন করা হয় তিনি কেন এখন এসব বলছেন উত্তরে তিনি বলেন তার বিশ^াস এসব করা হচ্ছে পাকিস্তান বিরোধীতার স্বার্থে, মালালাকে ঐ ইস্যুতে উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই তিনি শংকা প্রকাশ করেন।

(৫) তিনি আরো বলেন তিনি প্রমাণ দিতে পারবেন, যে তরুণ তাকে গুলি করেছে সেও পুস্তন নয়। তার কাছে ঐ মানুষটিরও কানের খইল সেম্পল জমা আছে। ঐ শ্যুটারের পরীক্ষার পর তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে সে সম্ভবত ইটালীয়। তিনি তখন তাদেরে ঐ সেম্পলটি মাইক্রোসকোপের নীচে নিয়ে দেখান। জানুয়ারী ২০১২ তে ডাক্তার এসব পাওয়া যুক্তি কিছু সিনিয়র পাকিস্তানী ইনটেলিজেন্সকে ও আইএসআইকে ইমেইল করেন।

(৬) এর কিছু দিন পরই তার ক্লিনিকটি রেইড হয়। তখন তিনি সৌদি ছিলেন, সেদিনও তিনি সৌদি রয়েল পরিবারের কিছু জনের এয়ারওয়াক্স সংগ্রহের জন্য ওখানে ছিলেন। এর সুবাদে তার ক্লিনিকে তার কর্মচারীদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় এবং রেইডাররা  জানতে চায় কোথায় রাখা আছে ঐসব গবেষনালব্ধ সেম্পলগুলো?

(৭) ঐ বছরের জুনে একজন তরুণ আইএসআই এই ডাক্তারের সাথে দেখা করেন এবং পুলিশ রেইডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এবং তাকে এটিও অবগত করান যে আইএসআই মালালার প্রকৃত পরিচিতি সম্বন্ধে অবগত। অনেক আলাপ আলোচনার পর ডাক্তার ঐ আইএসআই এর টেলিফোন নাম্বারটি রিপোর্টারকে দেন। ঐ অফিসারটি কথা বলতে নারাজ ছিলেন যদিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানা যায়।

(৮) ঐ মিস্টার এক্স একজন রিপোর্টারের কাছে লোয়ার সোয়াতের একটি গার্লস স্কুলের কিছু ইনফরমেশন দেন। তার মুখ ঢাকতে তিনি একটি স্পাইডার মাস্ক ব্যবহার করেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন এসব একদিন প্রকাশ হবে। আমি চাই না এরকম একটি স্পর্শকাতর গোপন খোলাসা করে দিতে। আমি একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তিনি তার বাবার কথা “বিশাল ক্ষমতার সাথে দায়িত্বও জড়িত থাকে” কথাটি স্মরণ করেন ।

(৯) মালালার এ দুর্ঘটনা প্রদর্শিত হয় ইনটেলিজেন্স এজেন্সীর কারসাজিতে। ঐ অফিসার রিপোর্টারকে বলেন, সমস্ত নাটকটি পরিবেশিত হয় পাকিস্তান ও ইউএস এজেন্সীর যৌথ উদ্যোগে। যাতে পাকিস্তানী সৈন্য নর্থ ওয়াজিরিস্তান আক্রমন করতে পারে  এবং নর্থ ওয়াজিস্তান দখলে নিতে একটা ওজুহাত পায়।

(১০) যখন তাদেরে পাল্টা প্রশ্ন করা হয় নর্থ ওয়াজিরিস্তান যদি পাকিস্তানের অংশই হয় তবে আবার দখল কেন? অফিসারের জবাব ছিল, কয়েক শতাব্দী থেকে নর্থ ওয়াজিরিস্তান একটি স্বাধীন মুসলিম আমিরাতের অংশ। কিন্তু আমাদের ইতিহাসের বইতে বাচ্চাদেরে শেখানো হয় এটি পাকিস্তানের অংশ। ওটি ধারণার চেয়েও বেশী তেল, সোনা, দস্তা, রুপা কয়লা, হিরা, গ্যাস এবং দুর্লভ ডাইনোসরের ফসিল সমৃদ্ধ এলাকা, যার জন্য আমেরিকাও এসেছে। তখন রিপোর্টার প্রশ্ন করেন এসবের পক্ষে কি কোন দলিল আছে? তাকে কিছু ডাইনোসেরের হাড়ের ছবি দেখানো হলো যার ব্যাখ্যা তিনি দেন। তিনি আরো বলেন এসব তালেবানের ভূতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে ধরা পড়ে।

(১১) এবার প্রশ্ন হচ্ছে এটিতে আমেরিকা ও পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ কি? তখন ঐ অফিসার একটি কাগজ বের করে দেখান যে এটি তার প্রমাণ। এটি তালেবানদের কোয়ান্টাম ফিজিক্স নামে পরিচিত। সেখানে পাওয়া যায় দুজন মানুষের মাঝে টুইট আদান প্রদান হয়েছে। একজনের নাম ‘Lib Fish’ (CIA operator in Qatar)  আর একজনের নাম ‘Oil Gul (ISI in Lahore)’ দুজনভার মাঝে কথা চলে আকারে ইঙ্গিতে। আর একজন পাওয়া যায় @Tsunami_Mommy Agents d! যিনি বাধা দেন তিনি পাকিস্তানের খাইবার পুস্তুন প্রদেশের একজন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি এটি আবিষ্কার করেন যে ওরা দুই মিলে একটি নকল শুটিংএর প্ল্যান করছে যেখানে কোন গুলি থাকবে না। অতপর সুনামী মামী, ডাক্তার, অফিসার ও একজন মুসতানসার হুসাইন তাতারের বিষয় জানার পর একটি লেখা যার নাম হচ্ছে “এ ফেইক শুটিং অব এ ফেইক লিবারেল বাই এ ফেইক লিবারেল, ইউ বাসটাস।” ঐ লেখার পানডুলিপিতে থাকবে তারিখসহ কিছু ধারাবাহিক ঘটনা।

(১)      অক্টোবরের ১, ১৯৯৭: মালালার জন্ম হাঙ্গেরীয় বাপ মায়ের ঘরে, বুদাপেস্টে, তার নাম জেইন।

(২)     অক্টোবর ৪, ২০০২ : অভিভাবকরা CIA দ্বারা গৃহীত হন এবং তাদের একটি ক্রাশ কোর্স করানো হয় এভানজেলিক্যাল ক্রিশ্চিয়ানিটি, হিপনোটিজম আর কারাতের উপর।

(৩)     অক্টোবর ৭, ২০০৩ তারা পাকিস্তানের সোয়াতে থাকবেন এবং সেখানের এনজিও কাজে স্বক্রিয় থাকবেন। একজন আইএসআই এজেন্টের সংস্পর্শে থাকবেন, এবং পরিবারকে খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। জেইনকে তাদের মাঝে রাখা হবে। তার নাম বদলে মালালা রাখা হয়।

(৪)     অক্টোবর ৩০, ২০০৭, মালালা একটি ব্লগ লিখতে শুরু করে এবং সেখানের ধর্মধারী গোষ্ঠীকে তাদের অস্ত্র নামাতে বলে এবং বাইবেল হাতে নিয়ে এনজয় করতে বলে।

(৫)     অক্টোবর ২১, ২০১১, ধর্মধারীরা তাকে তার এভানজেলিক্যাল ব্লগ লেখা বন্ধ করতে বরং এর মাঝে তার হুমওয়ার্ক শেষ করতে বলে।

(৬)    অক্টোবর ১, ২০১২, সিআইএ একজন পস্তু বলতে পারা ইাাঁলিয়ান আমেরিকানকে নেয়  যার নাম রবার্ট। নিউইয়র্কে বসবাস করতেন এবং তাকেও একটি ক্রাশ কোর্স দেয়া হয় গুলি করার প্রশিক্ষণের উপর।

(৭)     অক্টোবর ৭, ২০১২ সিআইএ আইএসআই এর সাথে শেয়ার করে ঐ ফেইক শুটিংএর প্ল্যান করে। আইএসআই এতে সম্মত হয় এবং মালালা ও তার অভিভাবককে এর উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

(৮)     অক্টোবর ১১, ২০১২: এ তারিখে একজন ইটালিয়ান আমেরিকান সোয়াত ভ্যালিতে পৌছান একজন উজবেক হোমিওপ্যাথ হিসাবে। ঐ ফেইক গানম্যানের একটি ছবিও সাটা ছিল ঐখানে।

(৯)     অক্টোবর ১২, ২০১২, রবার্টকে একটি বন্দুক দেয়া হয় যাতে কোন গুলি ছিল না। সে মালালার স্কুলের ভ্যানকে থামায় এবং তার দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সে আঘাতের ভনিতা করে এবং হাতে গোপন করে রাখা টমেটো সসএর একটি প্যাককে সারা মুখে ছড়িয়ে দেয়। একটি নকল এমবুলেন্স তাৎক্ষণাৎ সেখানে এসে হাজির হয় এবং মালালাকে তুলে নেয়। সারা বিশে^ শোরগোল উঠে যে মালালাকে চরমপন্থী তালেবানরা গুলি করেছে। মিডিয়াতে আসে মালালার বন্ধুরা বলছিল যে গানম্যান মালালাকে খুঁজছিল এবং তার পর তাকে গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারে একটি মানুষ ভ্যান থামায় এবং পস্তু ভাষাতে চিৎকার করে ‘হু ইজ জেইন।’ মেয়েরা দ্বিধায় পড়ে পরস্পরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ী করছিল। — তখন একটি মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে “তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছো? ঠিক তখনই মালালা তার দিকে স্কুল বেগটি ছুড়ে মারে এবং ইটালি ভাষাতে চিৎকার করতে থাকে “নো, ইউ ইডিওট, আইএম লুকিং এট ইউ। মালালা মালালা, রিমেম্বার? বোকা” জবাবে বলে, ওহ! তারপর সে তাকে গুলি করে তার গুলিবিহীন বন্দুক দিয়ে।

(১০)   আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হচ্ছে যে মেয়েটিকে হসপিটালে দেখা যায় সে কিন্তু মালালা নয়। ঐ অফিসার কিছু ছবি দেখায় ওর প্রমাণ হিসাবে। সে প্রথমে আমাদের একটি ভিডিও দেখায় যেখানে দেখা গেছে মালালা হাসিখুশীভাবে বাঙ্গি জাম্পিং করছিল রিভার সোয়াত নদীর পাশের হিলী উপত্যকাতে। একটি ছবিও সেখানে সাটা হয়। এসব গেল একটি গল্পের দুটি দিক।

এবার আর একটি গল্প আসবে নাবিলার না বলা কথা।  একজন টরেন্টো বেইসড কলাম লেখক মর্তুজা হোসেইন যিনি মিডিল ইস্টার্ন পলিটিক্সএর অনেক কাজের সাথে সম্পৃক্ত। নমুনা তুলে ধরেছেন। তিনি দুজনাতে তুলনা করে দেখিয়েছেন নাবিলা রেহমান ওয়াশিংটন ডিসিতে কেন আবেদন ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হলেন? নয় বছরের নাবিলা তার মৃত দাদীর কথা উল্লেখ করে জানতে চেয়েছিল কি দোষ ছিল তার দাদীর? ২৪ অক্টোবর, ২০১২ একটি মরণঘাতি ড্রোন নর্থ ওয়াজিরিস্তানের ৮ বছরের মেয়ে নাবিলা রহমানের মাথার উপর উড়ছিল। ভাইবোনসহ তার দাদী মমিনা বিবি বাড়ীর পাশের মাঠে কাজ করছিলেন। তিনি বাচ্চাদেরে শিখাচ্ছিলেন কিভাবে ঢেড়শ, গাছ থেকে তুলতে হয়। সামনে ঈদ, তারা ভাবে নাই তাদের জীবন অতি অল্প সময়ের মাঝে ছিহ্নভিন্ন হয়ে যাবে। সিআইএর কৃত ড্রোনের ঐ বিভৎস আওয়াজ তাদের পিছু নেয় এবং মনুষ্যবিহীন সে ড্রোনের আক্রমণে বিপর্যয় নেমে আসে ঐ রেহমান পরিবারের উপর। মুহূর্তের মাঝে ৭টি বাচ্চা আহত বিধ্বস্ত হয় এবং তাদের দাদী তখনই মারা যান। নাবিলা এত কষ্ট ধারণ করেই বেঁচে আছে। গত সপ্তাহে নাবিলা তার স্কুল শিক্ষক বাবা এবং ধারালো ড্রোনের আঘাতে আহত ১৩ বছরের ভাইটিও ওয়াশিংটন ডিসিতে আসে তাদের সে করুণ গল্পটি শোনাতে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় দূর থেকে আগত গ্রামের পরিবারটিকে কোন গুরুত্বই দেয়া হয়নি। কংগ্রেশনাল হিয়ারিংএর ৪৩০ সদস্যের মাঝে মাত্র পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন। নয় বছরের নাবিলার প্রশ্ন ছিল উপস্থিত দর্শকের কাছে কি অপরাধ ছিল তার দাদীর?

নাবিলার বাবা রফিক রেহমান বলেন আমেরিকার একটি ডকুমেন্টারী প্রডাকশন থেকে তাদের আসতে বলাতে তারা এখানে এসেছেন। তার ধারণা একজন শিক্ষক হিসাবে তিনি মনে করেন আমেরিকার জনগণেরও জানতে হবে তাদের কৃতকর্মে কিভাবে মানুষরা বিধ্বস্ত হচ্ছে এবং তার সন্তানেরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তার মেয়ে টেররিস্ট নয়, মাও নয়। তিনি এফপির সাক্ষাৎকারে এসব প্রশ্ন তুলে ধরেন। এমন না যে তার পরিবার এসব কোন সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত বা ইউএস বিরোধী কোন চরমপন্থী দলের সাথে জড়িত বা কিছু তারপরও এসব কেন, এর জবাব কি হতে পারে? মিডিয়ার বাহাদুরী যুক্তি কাটিয়ে তিনি বলেন সেখানে কোন বাড়ীতে বা গাড়ীতেও নয়, তারা বলেন এসব মিসাইল নামে খোলা ময়দানে যেখানে তারা শস্য ক্ষেতে কাজ করছেন এবং সেখানে বিকট আওয়াজে বোমা ফোটে, দুটি উজ্জল আলো তার দিকে ছুটে আসে আর হাতে আঘাত করে যার ফলে রক্ত ক্ষরণ বন্ধ না হওয়াতে হাসপাতালে নিলেও মমিনা বিবির মৃত্যু ঘটে। একই অবস্থা তার ভাই জোবায়ের ঐ ধারালো ক্ষতের শিকার, যাকে দুটি অপারেশন করতে হয়। যার জন্য তারা আহতই নয় শুধু ঋণগ্রস্তও হচ্ছে। এর পর থেকে তারা ঘুমাতে পারছে না, স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। জোবায়েরের ভাষাতে তার জীবনটাই যেন ওলটপালট করে দিয়েছে আকাশ থেকে নামা বৃষ্টির মত ঐ ড্রোন হামলা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে জানা যায় ২০১৬ তে আমেরিকা আইএসআইএসকে ওবামার সময়েও ১ বিলিয়ন অস্ত্র দিয়েছে (২৫মে ২০১৭)। এতে প্রমাণিত হয় ইরাককে দুর্যোগে যেমনি একহাতে সাহায্য করেছে অন্যহাতে শত্রুপক্ষ ধরে আইএসআইসকেও অস্ত্র দিয়ে ইন্ধন দিয়ে গেছে। এরা যেন “যেমনি নাচাও তেমনি নাচে পুতুলের কি দোষ?” ওবামা আমার প্রিয় শাসক। তারপরও তার সময়ে কৃত কষ্টকে উপেক্ষা করি কিভাবে? ব্যক্তি ওবামা শুধু একটি ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। তারা স্বীকার করেছে এভাবে বহুমুখী আক্রমনে ইরাক বিধ্বস্ত হচ্ছে যদিও তারাই স্বীকার করেছে এটি ইসলামিক স্টেট। কংগ্রেস সদস্য ডেমোক্রেটিক ইউএস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ড সিরিয়া থেকে ফেরত এসে আইএসআইএস ও আল কায়দাকে সাহায্য করা অপকর্মের সত্য প্রমান নিয়ে ফিরেন। আসাদের ক্যামিক্যাল অস্ত্র কিভাবে ডজন ডজন সাধারণকে আহত বিধ্বস্ত করছে এ তার বস্তুনিষ্ট প্রমান। গ্যাবার্ডের মুখে শুনি, আলেপ্পো আর দামাসকাসের মাঠে একজন আমেরিকানকে দেখে সিরিয়ার জনতারা উৎফুল্ল হয় এবং সাথে সাথে জানতে চায় কি কারণে তোমরা আমাদের বন্ধু হয়ে আমাদের শত্রুকে হত্যা, ধ্বংস, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতনে সিরিয়ানদের মারতে সাহায্য করছো? এ প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করেন ২০০৩এ ইরাক আক্রমণের নামে কিভাবে সাদ্দাম হোসনেকে “ওয়েপনস অব মাস ডেসট্রাকশন” এর কথা বলে একটি মিথ্যা যুদ্ধ দিয়ে সমগ্র ইরাককে ধ্বংস করা হল। ঐ সময় সবই ছিল বুশের মিথ্যা অজুহাত ও সর্বৈব মিথ্যাচার। আজ আর কোনভাবেই এটি লুকানো নেই ৯/১১ কাদের সৃষ্টি। এটি মালালার মতই আর একটি ছলবাজ নাটকের নাম। সব কিছুর মূলেই ঐ সাধারণ আম নয়, ফজলি আমকে কবজা করতেই এতসব নাটক হচ্ছে গোটা বিশ^ পাড়াতে। ইসলাম কি কোন মানুষের সৃষ্ট ধর্ম? এর পেছনে মহাশক্তি বিদ্যমান বলেই মুসলিমরা জানে ও মানে। তবে ইবলিসীয় কিছু অপরিণামদর্শীতার কারণেই আজ ঐ ধর্মের গোড়া ধরে ভূমিধ্বস নামছে।

সচেতন বিশ্লেষকর জার্নালিস্টরা আবিষ্কার করেছেন পশ্চিমা প্রোপাগান্ডার দুমুখো নীতি। ইসলাম নামের একটি বস্তুনিষ্ট ধর্ম তাদের এতসব প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ঐ ধর্মের মহানুভবতাকে তারা তাদের নিজেদের আক্কেল দিয়ে সাজাতে চায়। তাই সৃষ্টি হয় আল কায়দা, আইএসআইএস, ধর্মের দ্বন্ধ বেড়ে চলে বহুগুণিত হয়ে। ইরাক, আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, ফিলিস্তিন, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভারত (বিহার, গুজরাট, আসাম, কর্ণাটক, আলীগড়, আহমেদাবাদ) শত শত লক্ষ লক্ষ মানুষ নিধন যজ্ঞ চলছে, একটিতেও মুসলিমরা অপরাধী নয়। তারপরও মুসলিমরা কেমন করে হয় টেররিস্ট আর বাকীরা সব সাধু! অস্ত্র বিক্রি, তেল বানিজ্য ঠিক রাখতেই নির্দোষ মুসলিমরা আজ কপটের কাছে ময়দানের অপরাধী। এটি মাথায় থাকুক সবদিনই কিছু ধর্মধারী দালালকে অল্প দামে কিনতে পেরেছে বিরুদ্ধাবাদীরা কারণ তারা মানুষ নয় ইবলিসের দোসর নামে এরা নিজেকে অল্প দামে বিক্রি হতে দিতে কখনোই কার্পণ্য করে নি। সারা বিশে^ই সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের সাথে ইসলামকে এক করে দেখানো হচ্ছে যদিও ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে এসবকে কখনোই সমর্থণ করা হয় না। একটি শক্ত সামর্থ ধর্ম ভেঙ্গে খান খান হয় আস্ত দুখন্ড, প্রতিষ্ঠায় তারা ব্যয় করে চলেছে যুগ যুগ বিভাজন খেলা।  শিয়া সুন্নী বিভেদকে তারাই তৃতীয় পক্ষ জিইয়ে রাখছে যুগ যুগ ধরে এসব লুকানো নেই। কিন্তু মুসলিমকে মাথামোটা ভাব থেকে মুক্ত হতে হবে। চিকন মাথার সত্যনিষ্ট বাস্তবতা অর্জন করতে হবে, প্রকৃত সত্যের সৈনিক হতে হবে। নকল ছলবাজকে দিয়ে এ সত্যসাধন সম্ভব নয়। মনুষ্য পরিচয়ে বাঁচতে হলে প্রতিটি মুসলিমকে প্রাথমিক যুগের সত্যনিষ্ট নিবেদিত সত্য সাধক হতে হবে। পরিশুদ্ধ চিত্তে যুক্তির মাঝে প্রতিটি সত্যের সঠিক বিশ্লেষন করতে হবে।

নাজমা মোস্তফা, ২৯ মে ২০১৭।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: গল্পটি যদি শত ফিকশন নাটকের একটি হয়, সেটি আমি উল্লেখ করেছি। মালালা যদি পারাচার মিথ্যাচার হয়, সে দায় পারাচার, আমার নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে ডুব সিনেমা নিয়ে গ্যাঞ্জাম হচ্ছে। হুমায়ুন আহমদের চালচিত্র নাকি ঐ ছবিতে এসেছে যা নিয়ে চলছে বিতন্ডা। তার দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলছেন এটি হুমায়ুন আহমদের জীবন চিত্র আর চিত্র পরিচালক ফারুকী বলছেন এটি তার জীবনের সাথে কোন মিল নেই। তারপরও মানুষের আগ্রহ হয়তো এর কারণে আরো বেড়ে গিয়েছে ছবিটি দেখার জন্য। সত্য মিথ্যা দর্শকেরা দেখার পরই বিচার করতে পারবেন। সাক্ষাৎকারে শুনলাম ফারুকী এটিও বলেছেন এখানে যদি কোন মিল ছবিতে ধরা পড়ে তাকে বলা হয় শিল্পের আড়াল। তার মানে এখানেও একটি কৌশল সম্ভবত নেয়া হয়েছে শিল্পের আড়ালেই, কিছু সত্য প্রকাশের কসরত হয়তো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, আর এটি করার ক্ষমতা হয়তো একজন নির্মাতা শিল্পের স্বার্থেই  রাখেন।

প্রতিরক্ষা চুক্তির ফাঁদে লেজেগোবরে জঙ্গিবাংলাদেশ

আমরা স্বাধীন হয়েছি কারো তাঁবেদারি করার জন্য নয় — শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

নির্যাতীত মানুষকে বাঁচতে উদ্যোগ নিন, গর্জে উঠুন সামনে কোন পথ নেই। আগে উপরের ভিডিওটি দেখুন।

আমরা স্বাধীন হয়েছি কারো তাবেদারী করার জন্য নয়, এটিই ছিল জিয়ার কথা। নির্যাতীত মানুষকে বাঁচতে এসব সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সিলেটের উস্তার আলীর বিশাল বহুতল ভবনটি পুলিশ কমিশনারের হিসাবে ঝাঝরা করে দিয়েছে জঙ্গি নাটক। তিনি সরকারী দলের সদস্য নন, তাই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সরকারী ইন্ধনেই এসব হচ্ছে। এবার চোখ পড়েছে মৌলভী বাজারে বড়হাট ও ফতেহপুরের দুটি বাড়ীতে। কুমিল্লার কোটবাড়ি উপজেলার গন্ধমতির “আরমানী” নামের তিলতলা ভবনে ঘিরে রেখে একই তালে (২৯ মার্চ)। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিক ডাক দিয়ে জনগণের রাজপথে নেমে আসা উচিত। জনতারা হাজারে হাজারে নেমে আসলে তারা পালাবার পথ পাবে না। এসব জটিল স্পষ্ট করণে প্রমাণাদি তুলে দিন রাষ্ট্রদূতদের হাতে। মানবাধিকার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত ও হস্তক্ষেপ চান। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করুন। পুলিশ কর্তৃক সৃষ্ট জঙ্গিনাটক ও মানবাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিভাগে দলিল পত্র সহযোগে অভিযোগ দিন। অবশ্যই বাঁচতে হলে সঠিক উদ্যোগের বিকল্প নেই। জনমনে প্রশ্ন এসেছে এবং আসছে যে এসবের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর মদদ আছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এ সরকার। গুলশান হলি আর্টিজনে যা দিয়ে (জাকের নায়েককে ছোবল দেয়া হয়), অতপর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা জঙ্গি দমনে সক্ষম হয়েছি। তারপরও প্রতি ইস্যুর আগেই কেমন করে আবার জঙ্গিরা নতুন করে জন্মায়? কিয়ামত পর্যন্তই কি এরা আওয়ামী লীগের চারপাশে ঘুরবে? এতে এটি স্পষ্ট যে, এ ক্ষমতাধর দুর্বৃত্তদেরে দূরে সরাতে পারলেই দেশটি সমূহ বিপদ থেকে বাঁচতে পারবে। বহু অধ্যুষিত দেশে যা অসম্ভব , মানুষ কোন সূত্রও বলতে পারে না বরং তাদেরে চারপাশ থেকে কৌশলে ১৪৪ ধারা দিয়ে সরিয়ে নেয়া হয়। দেখুন একই কারসাজি। এখানেও প্রবাসীর বাড়ী চয়েস করা হয়েছে, বেছে বেছে বাড়ীগুলো নিচ্ছে সরকার।

LIVE নিউজ সরাসরি : মৌলভীবাজারে  অভিযান হিট ব্যাক প্রচুর গোলাগুলি হচ্ছে ৪ জঙ্গি আটক।

 

জঙ্গি হামলার সাথে সাথে অনেকগুলি লেখা লিখেছি। 1(গুলশান জঙ্গি) একই নাটক দেখে দেখে 2 (শেখ হাসিনা ও জয়ের কারণে Zongi) একঘেয়ে নাটকে অরুচি ধরে উৎসাহ কমে গেছে,  3 (কল্যানপুরের জঙ্গি) মনে হয় সবই সরকারের চাতুরী নিজের অপকর্ম ঢাকার মিথ্যে প্রয়াস মাত্র। সম্প্রতি  ঢাকা পায়রা রেলপথ নির্মাণ ২৪০ কিলোমিটার, খরচ ধরা হয় ৬০,০০০ কোটি টাকা। দেয়া হয় ডিপি রেলের নামে এক ভুঁইফোড় কোম্পানীকে স্বাভাবিকের ১০গুণেরও বেশী খরচ দেখানো হয়। দেয়া হয়েছে বৃটেনে এক অখ্যাত কোম্পানীকে যাতে রক্তচোষা প্রজন্ম বাঁচে। মনে হয় সত্য যুগ চলছে, কিছুই লুকানো যায় না। শুনছি র‌্যাবের সাতখুনের নটরাজ জিয়াকে প্রমোশন দেয়া হয়েছে, জনতার জবাব হাসিনা সরকার গন্ডা গন্ডা খুন দেখে উৎফুল্ল, তাই পুরষ্কার। জঙ্গি, সেটিও রক্তচোষা প্রজন্মের সৃষ্টি। প্রতিটি জঙ্গি নাটক পরখ করে চশমা ছাড়াই পথচারীরা মন্তব্য করছে র‌্যাব পুলিশ মনিরুল বেনজির মনির ছাড়া বাংলাদেশে কোন জঙ্গি নেই। ৯৫% মুসলিমের দেশে এসব জঙ্গিতে জড়িত র‌্যাব পুলিশ ঈমানের সব পরীক্ষায় ফেইল। দেশে জঙ্গি নয়, বরং অমানুষে ভরে গেছে। নাটোরে আ’লীগ সভাপতির অনুমতি না নেয়ায় বৃদ্ধার লাশ কবর দেয়া গেল না, এটি ছিল খবরের শিরোনাম। সিলেটের আতিয়া মহেলর জঙ্গিতেও আওয়ামী ক্যাডার, অন্যেরা ধরা পড়লে রক্ষা ছিল না। সরকারসহ তার মন্ত্রীরা গোটা জাতিকে কুমড়া মোরব্বা করে দিত!!!

হামলা চালাতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা মনির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, অন্য হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী অহিদুল ইসলাম অপু (২৫) কে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরা আরো বড় কিছু করতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন। কারণ এসব করা হচ্ছে মূলত ভারতীয় তালিতে “র” এর নির্দেশে এসব পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনাই অতিরিক্ত। কারণ হচ্ছে সামনের প্রতিরক্ষা চুক্তিটি বাংলাদেশের গলা দিয়ে গেলানো। উল্লেখ্য কঠোর নিরাপত্তার মাঝেই এসব বিস্ফোরকের ঘটনা সব ঘটছে। জনগণ ধারে কাছেও নেই, শুধু শয়তান আর জঙ্গীরা ময়দানে। তারপরও ৭৮জন নাগরিককে বিল্ডিং থেকে সরকারী তান্ডবে বের করে আনা হয় কিন্তু জঙ্গিরা কি কারণে একটি গুলি বা বোমা বিস্ফোরক কিছুই ছুড়লো না, তার জবাব কি হতে পারে? বেগম মর্জিনা কি ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন যারা আগে “সোয়াত আয় সোয়াত আয়” বলে ডাকাডাকি করলো?! কি তার মর্তবা? এত বড় নাটক সামাল দিতে কিছু লাশ জরুরী! তাই নিদেন পক্ষে দুই পুলিশ ইন্সপেক্টরসহ ৪ লাশ আর বাদবাকী ১৫/২০ আহত (শনিবার, ২৫ মার্চ ২০১৭)! অতীতে হাসিনা বলতেন লাশ ফেলো নিজের দলের হলেও, ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুশিয়ে দিব! তিনি অর্ডারে লাশ ফেলাতেন, ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হয়ে লাশ পড়তো, তিনি গ্লিসারিন রুমালে মেখে কান্নার নকল ভান করে ময়দানে হাজির হতেন। রুমালের আড়ালে মুচকি হাসতেন। যে বই প্রমান হয়ে ছেপেছিল সে সত্য প্রকাশ হয়ে পড়াতেই তিনি সত্য ধামাচাপা দিতেই বইটি বাতিল ঘোষণা করেন। নয়তো ঐ সাহসী বীর পুরুষ বইটি অপকর্মীর সামনেই প্রকাশ্যে ছাপার সাহস রেখেছেন কারণ তিনি বক্তব্যে অকপট ছিলেন, আল্লাহর স্বপক্ষের কাজ করেছেন। “আর সত্যকে তোমরা মিথ্যার পোষাক পরিয়ো না বা সত্যকে গোপন করো না” সুরা বাক্কারাহএর ৪২ আয়াত। এখানে লেখক মতিউর রহমান রেনটু অতি শক্ত মানের ঈমানদারএর কাজ করেছেন। ধারণা হয় এর পুরষ্কার তার পাওনা হয়ে আছে, তিনি পাবেন।

জঙ্গি হামলা করে সরকার হটানো যাবে না বলেন সেতুমন্ত্রী কাদের (৩০ মার্চ) এটি বলার জন্যই তারা নকল নাটক সাজাচ্ছে এবং স্পষ্ট করছে ক্ষমতা ছাড়বো না। বিবেকতে সচল রেখে চিন্তাকে কাজে লাগান। কত সহজে আসামীকে সনাক্ত করা যায় দেখুন। সাম্প্রতিক সিলেটের জঙ্গি খবরের দ্রষ্টব্য হচ্ছে ঢাকা থেকে ভিকটিমদেরে এখানে এনে বাড়ীর ভিতরে আগেই রাত ১০টার দিকে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা দিয়ে এই জঙ্গি নাটক সাজানো হয়। পুলিশ বলছে আগে থেকেই সেখানে বিস্ফোরক রাখা ছিল। পুলিশ বাহিনী স্পষ্ট করে দেশে গোয়েন্দা থাকার পরও শেষ মূহূর্ত ছাড়া তারা কখনোই কিছু টের পায় না। যখন কোন নষ্ট চুক্তির সময় ঘনিয়ে আসে তখনই এসব জরুরী ভিত্তিতে দরকারী হয়ে পড়ে। দূরে থাকা আতিয়া মহলের বাড়ীওয়ালার বক্তব্য হচ্ছে যে কাউকে পুলিশ বন্দুক ও হয়রানির ভয় দিয়ে ভাড়াটিয়ার ফরম পূরণ থেকে সবই করানো সহজ। সব সময়ই দেখা গেছে তারা কয় মাস আগে নিজেরা একটি বাসা ভাড়া নেয় এবং নাটক সাজায়, ক্রস ফায়ারের নামে কিছু মানুষ মারা হয়। গাজীপুরে গত বছরের ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর শনিবার পুলিশী মঞ্চনাটক। ১ মাস আগে প্রশাসনই ভাড়া নিয়েছিল হাড়িনালের ঐ বাড়ি। এভাবে সেদিন উন্মোচন হলো গাজীপুরে জঙ্গি নাটকের রহস্য।শেখ মুজিবের সময় কালিন জহির রায়হান হত্যা থেকেই এসব মিথ্যাচার সমাজে চালু হয়ে গেছে। তবে স্মরণযোগ্য! আসল আদালত থেকে কেউই ছাড়া পাবেন না। জঙ্গি হতে যে কেউ আল্লাহু আকবর বললেই প্রমাণ হয় জঙ্গি মর্জিনা লাফাচ্ছে। এরকম অর্জন দিয়ে তারা আল্লাহকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। উল্লেখ্য মদিনার সনদ, নূহের নৌকা, আল্লাহু আকবর, সাদা কালো আল্লাহ মোহাম্মদ ফলক ব্যবহার, ধর্ম যার যার উৎসব সবার, এসবই ছলবাজ মুনাফিকির যুদ্ধাস্ত্র, এসব ঈমানদারীর লক্ষণ নয়। ঈমান চোখে দেখা যায় না, এসব মিথ্যা ধর্মধারীদের হাতিয়ার, কুরআনের মত একটি ব্যতিক্রমী  ঐশীগ্রন্থে এদেরে মুনাফেক বলা হয়েছে। এর উপর একটি সুরাও নাজেল হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কখনোই বলে না মুসলিমরা জঙ্গির নামে আল্লাহকে ব্যবসার পসরা সাজিয়েছে। কখনো অল্পশিক্ষিত আবার ইদানিং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তুখোড় ছাত্রও ছাটে পড়ছে। যুক্তিটি হতে পারে প্রতিপক্ষের পথের কাঁটা এরা। নর্থ সাউথ শিক্ষার্থীরাও ধরা খাচ্ছে সম্ভবত সংস্থাটির ক্রেডিটে ভারতের অনীহা, ভারত চায় না এদেশের বাচ্চারা দেশে পড়–ক, কেন ভারত নয়, ভারত তার দেশটির স্বার্থে ভাল বেঁচে থাকার জন্য আজ বাংলাদেশের কলিজাতে এমন কামড়ের পড় কামড় বসাচ্ছে, এ হচ্ছে সোনা বন্ধুর মরণ কামড়।

শয়তানের অতি তৎপরতার কারণে মৃত জুয়েল রানা ২০১৭ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে মৃত্যু থেকে জীবন নিয়ে স্বজ্ঞানে পত্রিকা অফিস পর্যন্ত ছুটে যায় এটি প্রমাণ করতে যে সে মরে নাই। জানা মতে এটি বর্তমান পৃথিবীর একমাত্র সদস্য যে মৃতকে বাতিল প্রমাণিত করতে পেরেছে। তাদের সাজানো নাটক ষড়যন্ত্র আজ আল্লাহর আরশ স্পর্শ করছে। তবে মনে হচ্ছে মরেছে সরকার ও পুলিশ। সাক্ষাৎ জীবন্ত লাশ দেখে বেকায়দায়, জুড়ে দেয় গল্প, আইডি কার্ড হারার কারণে ছবি, বায়োডাটা সব বদলে যায়। এসব জটিল সময়ে পুলিশ কিন্তু উৎকন্ঠিত সাংবাদিকদের ঢুকতেও দেয় না কারো সাথে কোন কথাও বলে না। ডাল মে কুছ কালা নয়, বরং পুরো ডাল মে আলকাতরা ঢাল দিয়া। 

সিলেটের শিব বাড়ীর জঙ্গি আস্তানায় বার বার ধরা খাওয়ার পর এবার কিছু লাশ না ফেললেই নয়, পুলিশের ইজ্জত নিয়ে বাঁচা দায়।  ১০টা থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়, এরপরে গভীর রাতে ৫ তলা ভবনের ঐ বাড়ী থেকে বিস্ফোরকের শব্দ পাওয়া যায়। গোটা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা। পুলিশ ঘিরে রাখে জঙ্গি মহল। এর (৩০ ঘন্টা পর) পরদিন শনিবার সকাল ৮.২৮ মিনিটে তারা অভিযান চালায়। ঐদিন রাত পৌনে ৮টার দিকে আসে সেনা কামান্ডো দল। সাধারণ চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয়। শুক্রবার পড়ন্ত দুপুরে উচ্চস্বরে ফ্লাটের জানালা দিয়ে পুলিশকে জঙ্গি মর্জিনাসহ (নারী পুরুষ)  চিৎকার দিয়ে দ্রুত সোয়াত ফোর্স পাঠাতে বলে। দেরী যেন তাদের তর সইছে না, বলে দেরী কেন? দ্রুত সোয়াত ফোর্স পাঠাও! সবকিছুতেই অতি নাটকীয়তা দেখা যায়! ফেসবুকে কিছু ছবিতে দেখলাম তারা নাকি রেকি করছে কিন্তু অনেকের হেমলেট পরা নেই, অগোছালো প্রস্তুতি, মনে হচ্ছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে দু একটা লাশ পড়েছে পুলিশের, একটি লাশ সুনামগঞ্জের এক ভাইএর। ধারণা হয় তিনিও নীতি ধর্মে ধরা খাওয়া গোষ্ঠীর কেউ হবেন হয়তো বা। হাসিনা সরকার খুব ভালো করে জানে লাশ ছাড়া রাজনীতি নড়ে কম। তাই তার লাশ চাই সব কিছুর একটি বড় দাবী ছিল বিগত শতকেও। আশা করি ভুলে যান নাই বিএনপির সময়ের দিনাজপুরের ইয়াসমিনের লাশও ছিল হাসিনার ফরমাইশী লাশ। উপরে তার প্রমাণ দিয়েছি। বিশেষজ্ঞ মনিরুলদের ভাষ্য অনুযায়ী প্রতিটি ফ্লোরে বোমা ও আইসিইউ পেতে রাখা। মিডিয়া সূত্রে কথা ছিল পুলিশ র‌্যাব ও সিটিটিসির প্রধান মনিরুল যাবেন বীরত্ব প্রদর্শনে। কিন্তু আসল মহড়াতে জানা যায় তিনি জান বাঁচানো পালিয়ে বাঁচা নাটের গুরু। ধারণা হয় সুবোধ ভালো মানসিকতার মানুষকে খুব কৌশলে ময়দান থেকে স্প্রিন্টার মেরে মারা হয়। স্বান্তনা পুরষ্কার হিসাবে সবশেষে গো টু সিঙ্গাপুর। অনেকে জানেন তিনি ছিলেন ৩৪ লং কোর্সের সদস্য। বিডিআরের ষড়যন্ত্রী ঘটনার পর হেলিকপ্টারে একজনকে আকাশে হত্যা করা হয়, বলা হয় দুর্ঘটনা, কারণ এটি করে তার মুখটি সিল করা হয়। এসব হচ্ছে একবিংশ শতকের নব উদ্ভাবিত ডিজিটাল কৌশল। 

আলীবাবা নাটকের মর্জিনাকে এখানে জঙ্গী মহিলা হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন উর্বর মস্তিষ্কের পুলিশ প্রধানরা। গলা ছেড়ে নাম ধরে ডাকছেন মর্জিনা আত্মসমর্পণ করো। এবার শুনছি না, এরা মানসিকভাবে খুব সবল, অপেক্ষা করা হচ্ছে এরা দূর্বল হয়ে আসুক, ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারা আত্মসমর্পণ না করলে হামলা করা হবে। সবকিছুর একটি সীমা থাকে, এদের এসব ভাড়ামির যেন কোন সীমা পরিসীমা নেই। জাতি মরছে আর তারা সাজাচ্ছেন রকমারী নাম “স্প্রিং রেইন” বদলে “অপারেশন টুইট লাইট”। ২৪মার্চে সেখানে এক বোনের সাথে আমার কথা হয়, সে জানায় ঘোর অন্ধকার হয়ে ঝড় আসছে, ওমন ঝড় সে জীবনেও দেখেনি। পরদিন পেপারে দেখি ঠিকই ঐ সময় পুলিশ আশপাশের বাড়ীতে টর্চ লাইট খুঁজতে যায়।  এদিকে নাসিম বলছেন, বিএনপি জামায়াত সারাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়ে হামলা চালাচ্ছে। এসব যদি নাই হয় তবে কিভাবে বিএনপি জামায়াতের ঘাড় মটকানো যায়? মন্ত্রী নাসিমের কুকীর্তি দেখি ইউটিউবে, পাবনায় কিভাবে একজন সৎ মানুষকে বের করা হয় বাকী সমস্ত প্রশাসন চোখের জলে তাকে বিদায় করে। হাজার হাজার মানুষ এসব দেখছে। দেখেছি কিভাবে হাসপাতালের কোটি কোটি টাকা মিথ্যা অপ্রয়োজনীয় ক্রয়ে নিজেদের সমঝোতার মাধ্যমে বাজেট লোপাট করছেন তিনি ও তার সাগরেদরা আর এরপরও এরাই গলা বড় করে চেঁচোয় আর সাধুতার ভন্ডামী করে!

শনিবার সকাল থেকে অপারেশন টুইটলাইট চলছে। জঙ্গি মুসা রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের বজ্রকোলার সন্তান। খবরে প্রকাশ নব্য জেএমবি প্রধান জঙ্গি মুসা মাদ্রাসার বা কওমী মাদ্রাসার ছাত্র বা শিক্ষকও নয় বরং  আওয়ামী লীগ সেক্রেটরির মেয়ের যামাই (২৭ মার্চ ছবিতে চোখ বাধা কেন? এ বুঝি প্রকাশ পড়ার লজ্জা!)। ওদিকে চ্যানেল আইএর রিপোর্টে জানা যায় ২৫ মার্চ আহত ফারুক এত নিরাপত্তার মাঝেও হাসপাতাল থেকে গায়েব হচ্ছে ২৭ মার্চ। নাম এসেছে ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহমি ও অহিদুল ইসলাম অপুর। মৃত চারজনের মাঝে দুজনের লাশ ফেরত দেয়া হয়নি। ওরা ডেকরেটার্সএ কাজ করতেন তারা হচ্ছেন কাদিম শাহ ও শহীদুল ইসলাম, এছাড়া ৪৫জন আহত হয়েছেন। সেদিন একটি নিউজে পড়েছি তাদের পরিবার থেকে আহাজারি করছে যে এরা ঐ দিন কোথাও স্বাধীনতার দিনের অনুষ্ঠানের জন্য ডেকোরেশনের কাজ করছিল, এসব সরকারী ড্রামা ছাড়া আর কিছু কি? ওদিকে ভারতের হুমকি আসছে, বর্ডার সিল করে দেব। এটি তারা সব সময় বলে কিন্তু সিল করবে কি বরং বিশাল গরুসহ সবকিছু, ইয়াবা ফেনসিডিলসহ সবই ঐ ফাঁক দিয়ে সুর সুর করে দেশে ঢুকে। এসব জঙ্গি তালে ভারত জড়িত থাকার অনেক যুক্তি প্রমান দৃশ্যত সবার সামনে, এসব লাগাতার একই তালে সাজানো বাড়তি অনুসঙ্গ। ক্লোরোফর্ম স্প্রে,  ১৪৪ ধারা বহাল থাকা অবস্থায়, সাধারণকে দূরে সরিয়ে রেখে সব চোখকে ফাঁকি দিয়ে সাজানো হচ্ছে এসব নাটক। বাংলাদেশের অকর্মা পুলিশ সেনারা পারছে কম, এবার কর্মা ভারতের সহযোগিতা না হলে কেমনে চলবে ??

আবার একই দিনের খবরে প্রকাশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের বাসভবনে নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশ দিয়েছে। যে দেশের মানুষের বেঁচে থাকার কোন নিরাপত্তা নেই সে দেশে বিচারকরাই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে একতরফাভাবে উদ্বিগ্ন!  বলা হচ্ছে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দেখে প্রধান বিচারপতি উদ্বিগ্ন! যারা ময়দানে নিরাপত্তা দেয় না, বরং বিপত্তি ঘটায় তারাই যদি উদ্বিগ্ন হয়,  তাতে এ জাতির সামনে কি পরিমাণ অন্ধকার সেটি স্পষ্ট হয়! সোমবার ২৭ তারিখের বরাতে নারীরা আজ শুধু ক্ষমতায় নয়, জঙ্গিতেও জড়িত প্রমান করতে সরকার বদ্ধপরিকর! সবশেষে নারীসহ ৪ জঙ্গি নিহত সেনাবাহিনীর বরাতে এসেছে। চাঁদপুরে বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ ছাত্রলীগ নেতা আটক (২৬ মার্চ), ২০১৭ সালে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী জঙ্গী কারা তারপরও কেন এসব স্পষ্ট হয় না? র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লেঃ কর্নেল আজাদের চোখে এবং মাথার ভিতরে বোমার স্প্রিন্টার ঢুকে যায়, ফলে বাঁচার সম্ভাবনা কম কিন্তু আর্মিকে স্বান্তনা দিতে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। জানা যায় সেখানে তাকে ক্লিনিক্যালি মৃত পাওয়া যায়। বর্তমানে তাকে আর্টিফিসিয়াল রেসপিরেটরিতে রাখা হয়েছে। (অতপর ৩১ মার্চ মৃত ঘোষনা করা হয়)| বৃহষ্পতিবার রাত থেকে মিডিয়াতে প্রচারিত হয় পুলিশ র‌্যাব ও সিটিটিসির প্রধান মনিরুল গিয়ে সব পরিচালনা করার কথা থাকলেও কোন অজ্ঞাত কারণে তারা যায় নি। এটি একই বিডিআরের হাসিনা নাটকের মতই ঘটনা থেকে দূরে সটকে থাকা যাকে বলে। এরকম ঘটনা আরো প্রশ্ন বাড়িয়ে দিচ্ছে। ৩০ মার্চের ফতেপুরে ‘জঙ্গি আস্তানার খবরে প্রকাশ মৌলভী বাজার সদর উপজেলার হাসপাতালে ৭ জঙ্গির লাশ রেখে যায় আইনশৃংখলা বাহিনী (উৎস এনটিভি)। ৪টি শিশু বাচ্চা যাদের বয়স ১-১২ বছর, ২ নারী ৩৫, ৫৫ ও এক যুবক ৩৫, ক্ষতবিক্ষত মরদেহগুলি দুটি বস্তায় ভরে রেখে যাওয়া হয় হাসপাতালের মর্গে।  রাজধানীর কাফরুলে জঙ্গি সন্দেহে ২২ ও ২৫ বছরের দুই ছেলেকে পুলিশে দিলেন বাবা, (প্রথম আলো, ২৭ মার্চ ১৭)। এটি উদ্দেশ্যমূলক নয় বলতে পারছি না। কারণ যদি সত্যিই জঙ্গিতে বাবা অতিষ্ঠ হতেন ১৫ আসনের সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের উপস্থিতিতে (?) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। জঙ্গি প্রচারে এ নটিকীয়তাও নাটকের অংশ নয় কিভাবে বলি?

আপনারা জানেন এসব হলিআর্টিজেনের সাথে কিভাবে জাকের নায়েকও কৌশলে লেপ্টে যান। একই মঞ্চ নাটকে এসব সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রতিপক্ষের সব পথ সহজ ও সরল হয়। একই হাতে করা সবকটি অংক, এসব হচ্ছে মতলববাজের কারসাজি। যারা ইসলামকে খাঁচাতে পুরতে চায়, এসব কার কাজ সেটি কি বুঝতে কষ্ট হচ্ছে? কারণ গোটা বিশে^ শোরগোল পড়ে গেছে, জানা হয়ে গেছে এ ধর্মটিকে সামলে রাখা যাবে না। এটি মানবের ধর্ম হয়ে বেঁচে রইবে। এতদিন অনেক মানুষ তাবিজ কবজে, ঝাড়ফোঁকেই সন্তুষ্ট থাকতো, দেখা যেত হিন্দুরাও মাজারে বাতি দিতে ছুটে যেত, পূজার গন্ধ পেত যদিও মুসলিমরা অচ্ছুৎ, শুদ্রের মত। এবার আসল সৈনকিরা জেগে উঠছে, এটি মানুষ বুঝতে পারছে বলেই এত হাক ডাক সারা বিশ^ জোড়ে জোয়ার বইছে। সারা বিশে^  জয়ের আন মাস্কিং ছড়িয়ে গেছে। ভারতের এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, পাকিস্তানের ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিলেটের জঙ্গী আস্তানার কমান্ডো অভিযান ও আস্তানার পাশের বিষ্ফোরন, হতাহতের খবর বিশ^ মজলিসে হট কেকের মত বিকাচ্ছে। বিএনপি জঙ্গীদের রক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্য চায় বলেন হানিফ এমপি (৩১ মার্চ ২০১৭)। সত্য কথাটি হচ্ছে দেশ ধ্বংসের নামে হানিফ নির্দোষ মানুষদেরে লাশ বানিয়ে ভারতীয় ঐক্যের নামে স্বাধীন বাংলাদেশকে সিকিমের আদলে অঙ্গরাজ্য বানাতে চান।  তাই জাকির নায়েক আজ আর নায়েক নন, নায়ক হয়ে গেছেন। এভাবে জঙ্গি নাটক হচ্ছে প্রতিরক্ষা চুক্তির কুইনাইন ডোজ, শক্তির দাপটে জাতিকে এ তেতো গেলানোর মহা কসরত চলছে। তারা ৭১এর যুদ্ধের মতই আচরণ করছে দেশবাসীর সাথে। দেখুন।

31 March 2017 | ৭১ এর পাক-হানাদার বাহিনীর মত আচরণ করছে শেখ হাসিনার বাহিনী।

নাজমা মোস্তফা , ২৮ মার্চ ২০১৭।

 

 

ভাসুরের নাম মুছতে ব্যাংকে আগুন সাথে জঙ্গি হামলা

ভাসুরের নাম নিতে আপত্তি থাকার পরও টকশোতে আরাফাতগংরা  মিথ্যাচার করলেও জাতি জানে কারা পেট্রোল বোমাসহ ধরা পড়েছে ও খবরের শিরোনাম হয়েছে। এত ধড়পাকড়ের পরও তারা ডাবল ট্রিপল মিথ্যাচারের পক্ষে সাফাই গেয়ে ডাবল ট্রিপল মাপে পাপ জমাচ্ছে। আজ ২৭ মার্চে দেখি বিএনপি নেতা ফখরুলসহ ৩৬জন নেতাসহ  মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয়েছে, শুনানী ১ জুন। তারা নাকি ২০১২ তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরন ও আগুন দিয়েছেন, তাই মামলা দিয়ে আগাম নির্বাচণী প্রচারে বাধা হতে ঠিক সময়ে আদালত সেটি উচ্চে তুলে ধরছে। মনে হচ্ছে সরকার আর আদালত এক সমঝোতায় হাটছে, এসব তার প্রমাণ নয়, বলার অবকাশ কম। মামলার বাদী তেজগাঁ থানার উপ পরিদর্শক, সবই এক সুরে গাঁথা। এখানে নির্যাতীত জনগনের পক্ষে দাঁড়াবার কোন এজেন্ট ময়দানে অপেক্ষায় নেই, এটিই ২০১৭এর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা।

আপনারা সবাই কম বেশী জানেন ব্যাংকের টাকা কোন পথে কার পকেটে গেল। এমন সংকটে ব্যাংকে আগুন না দিলেই নয়। কারণ বলা তো যায় না যদি আবার কেঁচো খুড়তে কখনো আসল ধামাচাপা দেয়া বিষধর মাথা বের করে?  সে আগুন থেকেও মানুষকে সরিয়ে দিতে হবে। কত দিক সামলাতে হয় সরকার নামের প্রতারককে! দুরন্ত ছেলেপেলের মায়েরা কি শান্তিতে থাকতে পারে? যদিও খবরের হেডিং শিরোনাম রিজার্ভ চুরির হোতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে আছে, কিন্তু ওটি উন্মোচন করার কোন দায় সরকারের যেমন নেই প্রশাসনও চুপ আদালতও চুপ, রাবিশ অর্থমন্ত্রীও ধমকের চোটে নির্বাক, দম ধরে বলেন সামান্য দুর্ঘটনা। এটি ঠিক কেউ উদ্যোগ নিলেও কিছু করতে পারবে না বরং উল্টো নিজের মরণ ত্বরান্বিত করবে। হয়তো বিধাতার বিচারে সত্য যুগ হলেও সরকারী হিসাবে চরম অন্ধকার যুগ চলছে ডিজিটাল বাংলাদেশে। কোন সত্য প্রকাশ করা যাবে না। কেউ সামান্য নড়লেই হবে পদের রদবদল, ওএসডি, হুমকি ধমকি, গুম লাশ কিছুই বাদ যাবে না। চিহ্নিত যে বা যারা এসব মিথ্যে অপারেশন নামের যুদ্ধে মারা যাচ্ছেন এরা প্রকৃত জঙ্গিযুদ্ধে মারা যাচ্ছেন এটি বলার সুযোগ খুউবই কম। কারণ এখানের সাজানো কোন অংকই সেটি স্পষ্ট করে না।  ধারণায় এরাও ষড়যন্ত্রের শিকার, কৌশলের কাছে লাশ হয়ে এদেরে সাফ করা হচ্ছে। সে হিসাবে জোর গলাতে বলা যায় এরা সত্যিকারের সৈনিক ছিলেন, জনগণের প্রকৃত সেবক ছিলেন। এ সম্ভাবনাই সব গবেষণাতে অনেকের কাছেই এটি প্রকটভাবে স্পষ্ট হচ্ছে।

২১ আগষ্ট ২০০৪এর  সব জঙ্গি নাটকও ছিল হাসিনা নামের তখনকার বিরোধী পক্ষের ষড়যন্ত্রী কারসাজি। খোদ আগষ্টের বোমা হামলায় যেখানে কোন বোমাই হাসিনার দিকে ছোড়া হয়নি, বরং ছোড়া হয় মাটিতে যারা ছিলেন, সেদিন তারই ষড়যন্ত্রে মরেন আওয়ামী স্বজন আইভি, প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী। সেটিও সবাই জেনেছে প্রধানমন্ত্রী বার বার তাকে ডেকেছেন মঞ্চে চলে যেতে তিনি যান নাই, তাই মরতে হলো তাকে। এসব অনেক তার নিজেদের লোকেরাই দলিলে স্পষ্ট করেছেন সেদিন। ঐ সময় বিএনপি সরকারই এসব বিরোধীকে কঠোর হাতে দমন করে এবং আজকের জঙ্গি হামলার মতই আওয়ামী নেতার আত্মীয়রা ধরা পড়েন যার খেসারতে বিডিআরএর প্রধান প্রকৃত দেশপ্রেমিক ডিজি মেজর জেনারেল শাকিলকে খুব কৌশলে দুনিয়া থেকে মুছে দেয়া হয়। দেখা গেছে পরবর্তীতে হাসিনা সরকারে আসলেও এসব দ্বিগুণ তেজে মহানন্দে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আজ পুনরায় দেখা যাচ্ছে ঐ ভাইরাস আবার মহানন্দে ময়দানে সচল। এর জলজ্যান্ত প্রমাণ ইতিহাস ও তার চারপাশের অসংখ্য দাগ। সিলেটের প্যারা কমান্ডোদের এসব কর্মকান্ডে মুখর প্রশংসায় ভারতীয় সাবেক সেনাকর্মকর্তারা (২৮ মার্চ ১৭, আমাদের সময়) বস্তুত এসব প্রশংসা “র” এর পাওনা, স্পষ্ট করলেই পারতো তারা। শের-ই বাংলা একে ফজলুল হক বলতেন, “যখনই দেখবে কলকাতার দাদারা আমার প্রশংসা করছে তখনই বুঝবে যে আমি আমার দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছি” কথাটি জাতির জন্য স্মরণীয় বাণী। এসব চালাবে সেনাবাহিনী পুলিশ থাকতে সবকিছুতেই কেন প্রধানমন্ত্রী? প্রশ্নটি জমা রাখুন! “অপারেশন টোয়াইলাইট: শুরু থেকে শেষ” (আমাদের সময়, ২৮ মার্চ, ১৭) সেখানে স্পষ্ট হয় এসব প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার আলোকে সেনাবাহিনী অপারেশন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। রাষ্ট্রীয় মদদেই বাংলাদেশে ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে বলেছে, এফবিআই (বুধবার ২৯ মার্চ, ২০১৭)। প্রতিটি বিতর্কীত কর্মে এটি স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের এজেন্ট নন, দাদাদের এজেন্ট। 

এরকম সময়ে লন্ডন থেকে এক সংবাদ কর্মী বিশ্লেষক ভাই আখতার মাহমুদ ডজন খানেক যুক্তি এনেছেন, অবশ্যই তা চিন্তাশীলদের চিন্তা জড়ো করে। তিনি বলেছেন এটি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। বিডিআরে ৫৭ সহ ৭৪ মেধার মরণ তার নির্দেশে, বাইরে আর্মি প্রস্তুত থাকলেও প্রধানমন্ত্রী হাসিনার হুকুমের অভাবে এরা মারা যায়। একই ভাবে হলি আর্টিজানে কমান্ডো সময়মত পাঠানো হয়নি, সেদিন শেষ সময়ে মাত্র ১০ মিনিটে মরেন ২৬ জন। সম্প্রতি সিলেটে সেরা মেধাবী কমান্ডোরা এক জেনারেলের নেতৃত্বে তিন দিনে মারলো ২ জঙ্গি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, হামলা নয়, ধাক্কাধাক্কি বিস্ফোরনে ৩ পুলিশসহ ৬ মৃত্যু! স্মরণীয় এখানের একজন পুলিশ ইউএসএ তে বোমার উপর এক বছর ট্রেনিং প্রাপ্ত, নিহতদের একজন ছাত্রলীগ নেতা। সংক্ষেপে যারা (১) ১০ মিনিটে ২৬ লাশ ফেলতে পারে তারা কেন চার দিন নেয় চার জন মারতে। যদিও দৃশ্যত ভয়ঙ্কর কিছুই ছিল না। (২) সেনা ও পুলিশের এত নিরাপত্তার মাঝে ছাত্রলীগ নেতা বোম্ব ডিসপোজেবল ইউনিটের সাথে কি কাজ ছিল এখানে? ছাত্রলীগকে কেন পুলিশ ও সেনাদের মাঝে প্রায়ই দেখা যায় (৩) এসব প্রশিক্ষিত বাহিনী কি বাস্তবিকই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য, না আর কোন অপকর্মের জন্য, সে প্রশ্নও স্পষ্ট হচ্ছে। (৪) কেন বিবিসি বলছে বাংলাদেশে আইএস আছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছে, না নেই। (৫) কেন বাংলাদেশ রিজার্ভ চোর ঘুরে বেড়াচ্ছে বিবিসির রিপোর্ট বের হওয়ার ৩ ঘন্টার মাঝেই ব্যাংকের ১৩ বা ১৪ তলাতে ফরেন এক্সচেঞ্জের অফিসে আগুন লাগে? (৬) কেন আগুন লাগার খবরের পরে পরেই জঙ্গি হামলা হলো? (৭) ২১ দিন আগে পুলিশী হেফাজতে থাকা নিহত জঙ্গী বিমানবন্দরে কিভাবে আত্মঘাতি বোমা হামলা চালায়? (৮) কথিত জঙ্গীর পরিবার থেকে চেকের মাধ্যমে নেয়া ঘুষের সাত লাখ টাকা কার একাউন্টে জমা হয়? (৯) কেন ভারতীয় হিন্দী সিনেমার আদলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের আগেই এরকম একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়? (আমরা জানি ভারত কাশ্মীরের আফজাল গুরুর ফাঁসিতে সাজানো নাটকই বড় ভূমিকা পালন করে) (১০) ৭১ পরবর্তীকৃত সকল অপকর্মের আসামী সম্ভাব্য শত্রু রাষ্ট্র ভারতের সাথে কেন প্রতিরক্ষা চুক্তি করা? (১১)  কেনই বা ভারত থেকে নিচুমানের অস্ত্র কিনতে হবে, কার স্বার্থে? আখতার মাহমুদ জানতে চেয়েছেন প্রায় ডজনখানেক প্রশ্নের জবাবেই লুকিয়ে আছে জঙ্গী নাটকের মূল সুর। পাঠক খোলা মন দিয়ে বিবেক দিয়ে আপনারাও খুঁজুন, জবাবটি নির্ঘাত পেয়ে যাবেন। সত্য প্রকাশ হওয়াই সত্যের নীতি, কিছুদিন চাপা দেয়া যায় হয়তো বা। সংকট প্রকট কারণ মিডিয়াও অথর্ব, পারছে না প্রকাশ করতে নানা জটিলতাতে। নেতা কর্মী গুম সরকারী রুটিন ওয়ার্কের আওতায় হচ্ছে, প্রতিটি সচেতন আঁচ করছেন। তাই আকাশ, বিকাশ, বাধন, ডন টাইপের নাম দিয়ে কিছু আগে এদেরে হত্যা করা হয়েছে। অস্ত্র হিসাবে আছে একে-২২ রাইফেল আর নাইন এমএম পিস্তল। কাউন্টার টেররিজম মনিরুলের দাবী অনুযায়ী এটি ভারতে তৈরী। দেখুন কিভাবে বন্ধু রাষ্ট্র এসব যোগান দিচ্ছে সন্ত্রাসীদেরে যাদেরে তারা লালন করছে আর মশলাও দিচ্ছে। বিনা অপরাধে এসব স্বাধীন দেশের নির্দোষ মানুষ মারছে সরকার সবার নাকের ডগা দিয়ে। আর কাজটি করছে তারাই যাদের হাতে দায়িত্ব মানুষের জান মালের নিরাপত্তা দেয়া। বেড়াতে ধান গিলে খাচ্ছে। বেড়া জানে না যতই গিলুক যেদিন এর ফেরত হবে তখন কি কোন আদালত এত মৃতের ভার বইতে পারবে? তারপরও ঐ বন্ধুর কাছ থেকে কেন অস্ত্র কেনা বা প্রতিরক্ষা চুক্তি করা? এ জাতির সামনে কি আর কোন পথ খোলা নেই। তার চেয়ে বঙ্গপোসাগরে গিয়ে ঝাপ দিয়ে মরে গেলেই কি ভালো নয়? দেশবাসী এমন সংকট থেকে বাঁচতে ঝাপ দিন নয়তো প্রতিরোধে মাঠে নামেন!! নীচের ভিডিওতে জানুন কিছু ঐতিহাসিক সত্য তথ্য, দরকারে গবেষনা করুন। রিজার্ভ ফান্ডের দলিল প্রমান বিনষ্টে চলছে নানা রকম ষড়যন্ত্র। ভিডিওটি দেখতে পারেন। 

Andolon News | 24 Mar 2017 | রিজার্ভ ফন্ডের টাকা লোপাটের দলিল প্রমাণ বিনষ্টে চলছে নানা রকম ষড়যন্ত্র।

 

অতীতে দেখেছি আমরা আওয়ামী লীগের নায়করাই জঙ্গির মূল যোগানদাতা, অতপর বাতাসে মিলিয়ে যান। মনে কি পড়ে সিলেটের আতিয়া মহলের আদলে গাজীপুরে গত বছরের ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর শনিবার পুলিশী মঞ্চনাটক। ১ মাস আগে প্রশাসনই ভাড়া নিয়েছিল হাড়িনালের ঐ বাড়ি। এভাবে সেদিন উন্মোচন হলো গাজীপুরে জঙ্গি নাটকের রহস্য। গত ৮ অক্টোবরের সে মঞ্চনাটকের নাম ছিল অপারেশন শরতের তুফান, এতে সাতজন নিহত হয়। হাড়িনালে ২ জন, টাঙ্গাইলের কাগমারায় ২ জন এবং সাভারের আশুলিয়াতে ১ জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকদের কাছ থেকে এসব ভয়ঙ্কর তথ্য জানা যায়। অভিযানের আগের রাতেই বাড়ীটি ঘেরাও করা হয় পুরো পশ্চিম হাড়িনাল এলাকায়। একদিনে ১১ কথিত জঙ্গি হত্যার এই পুরো নাটক নির্মিত হয় আওয়ামী পুলিশের সংগঠন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুরের এসপি হারুনের নেতৃত্বে। যিনি ইতিপূর্বে প্রকাশ্য রাজপথে বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুককে অন্যায়ভাবে পিটিয়ে আহত করেছিলেন। অতপর আল্লাহর বিচার একটু দূরে হলেও আসবে না সেটি, বলা ঠিক না। সময় হলে ঠিকই আসে, যদিও আমরা বুঝি না মনে করি দুনিয়া বুঝি হাতের মুঠোয় নেয়া যায়। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো হাতেই দুনিয়া নেই, সেটি বুঝতে পারলে ভালো হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের আগুন কাকতালীয় না পরিকল্পিত? জনকন্ঠ ছেপেছে, আমাদের সময়ও ওটি ছেপেছে। এসব হচ্ছে সরকারের জটিলতাকে হালাল করার নির্দেশিত সাজানো কলাম। প্রমান দেখুন, ঐ কলামে এসেছে ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক (ঢাকা) সমরেন্দ্রনাথ বিশ^াস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, এসব সামান্য ঘটনা, এসব শুধু শুধু বড় করে দেখা হচ্ছে, চায়ের কিটলী থেকে এসব হতে পারে? তার দৃষ্টিতে চেয়ারের টাওয়েলটিও পুড়ে নাই। কিন্তু এদিকে চায়ের কেটলীতে যে সারা দেশ পুড়ে যাচ্ছে সেটি সমরেন্ত্রনাথরা কোন সময়ই দেখবেন না। কিন্তু দিনের আলোতে পরিদর্শকরা দেখেন সেখানে মুদ্রানীতি বিভাগের মহা ব্যবস্থাপকের পুরো কক্ষই পুড়ে যায়। কম্পিউটার আসবাবপত্রসহ কিছুই বাকী নেই, সব পুড়ে ছারখার। তার কক্ষেও কম্পিউটার আসবাবপত্রসহ পুড়ে ছারখার। তার ব্যক্তিগত সহকারীর কক্ষের সবকিছুই পুড়ে গেছে। এসব কক্ষগুলি হলুদ ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখা, সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।  ওদিকে মন্ত্রী নাসিম বলছেন বিএনপি জামায়াত সারা দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটিয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতিও বলছেন আমরা অনিরাপদ। যদিও জনতার পক্ষে বলা যায় কুচাই এলাকার নিরপরাধ ফাহিমের পরিবারের মত নিরপরাধদের মৃত্যু কান্নাতে এদের কারো চোখ ভিজে না। এসব দুর্নীতি নির্মূলে সরকার দ্বিধান্বিত, বলেছে টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ)। একটি অংশ এসব দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতে চায়, এটি স্পষ্টভাবে এসেছে। হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের অর্থ আত্মসাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এছাড়াও আছে ঋণ নেয়া ও ঐ টাকা আত্মসাতের ঘটনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ব্যাংক নাজুক অবস্থানে, খেলাপি ঋণের পরিমান ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। টাকা আত্মসাতের দু মাস পর জনগণ জানতে পারে অন্য দেশের বরাতে। দেশের মুখ চাপা, গণ মাধ্যম সত্য প্রকাশ করতে পারে না। প্রকাশিত দেশ ফিলিপাইনই স্পষ্ট করে বাংলাদেশের ভিতরের লোকজনই এতে জড়িত। এর স্বপক্ষে সব প্রমান। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকও একই কথা বলছে। এর জন্য তদন্ত প্রকাশিত হচ্ছে না, মাঝে মাঝে মুখ ফসকে সত্য বলা অর্থমন্ত্রী আবুল মালও এটি প্রকাশ করেছেন যে এসব প্রকাশ করা যাবে না। ডাল মে কুচ কালা থাকার কারণে এসব জটিলতা! যদিও সাধারণের জন্য ভাসুরের নাম নিতে মানা, তবে চিরন্তন সত্য হচ্ছে আজরাইল কিন্তু ভাসুর মানে না!

নাজমা মোস্তফা

২৮ মার্চ, ২০১৭।

 

ষড়যন্ত্রের ভূমিকম্প : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন

সিকিম একটি বহুজাতিক অধিবাসী অঞ্চল। মূলত সেখানে প্রধান তিনটি জনগোষ্ঠীর বাস—লেপচা, ভুটিয়া ও সেরপা। লেপচারাই এখানের মূল বাসিন্দা, যার জন্য দেখা যায়, লেপচারা অন্যদের তুলনায় তাদের মৌলিক আচার ধরে রাখতে বেশি উৎসাহী । জানা যায়, লেপচা ও ভুটিয়ার বড় অংশ ৭০ শতাংশেরও বেশি জনতা নেপালি। এরাই সেখানের বড় গোষ্ঠীর জনতা। সিকিম হিমালয়ের পূর্বে অবস্থিত একটি অঞ্চল। পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গের নিচে প্রাকৃতিক লীলাভূমি হিসেবে ছড়িয়ে থাকা একটি অঞ্চল। নেপাল, ভুটান ও ভারতের কাছ ঘেঁষে খনিজ সম্পদে ভরপুর প্রাণিবিদ্যা ও জীববিদ্যার উপকরণে সমৃদ্ধ অঞ্চলটি ১৯৫৮-৬০ সিকিম গেজেটের হিসাবে ৭২৯৯ স্কয়ার কিলোমিটার বিস্তৃত। সামপ্রতিক ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরে একটি ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল সেটি। সে কারণেও সিকিম চিন্তার দুয়ারে নাড়া দেয় নতুন করে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। পুরো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পন্ন হতে এমনিতেই কিছু সময় লাগে এবং দেখা যায়, যতই সময় যায় ততই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে। বাংলাদেশও এ কম্পনে দুলে উঠে উল্লেখযোগ্য একটি সময়, যা এ যাবত্কালীন সব ভূমিকম্পনের সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। এ একটি আগাম সতর্ক সংকেত দেশবাসীর জন্য। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সঙ্কটের সম্মুখীন হলে সবাইকে মনে মনে প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি এমন হয় তখন কী কী করতে হবে। তাছাড়া বাংলাদেশ মানচিত্রের দেশটিও এরকম সিকিমীয় মানচিত্রিক ভূকম্পনের শিকার হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। পার্শ্ববর্তী বন্ধু রাষ্ট্রের বর্ডার ইস্যুর সঙ্গে আরও নানান আচারে একের পর এক বিদ্ধ হচ্ছে দেশটি।

mapofindiaবহুদিন থেকে মনের গোপন কোণে সিকিম চিন্তার রাজ্যে সুপ্ত হয়েছিল, ভূকম্পন যেন সে মনের নাড়াকে সামনে নিয়ে আসে। অতীত থেকে, ইতিহাস থেকে মানুষ শেখে। এটি খুব সহজ শিক্ষা, অন্যের দুর্যোগ দেখে ঠেকেও মানুষ শেখে। সিকিমের মানচিত্রের কিছু জমা ইতিহাসের পাতায় জমে আছে, সচেতনরা সেখান থেকে খোরাক জমা করতে পারেন, রিখটার স্কেল ছাড়াও অনেক ভূকম্পনের মাত্রাও আঁচ করতে পারেন। বাংলার পলাশীর প্রান্তর তার অধিবাসীদের জন্য অনেক বেদনার উপাচার সংগ্রহ হিসেবে জমিয়ে রেখেছে। কেমন করে এককালে স্বাধীন এ অঞ্চলের মানুষ পরাধীনতার শিকল পরেছিল। তার সবক’টি সূত্রকথা ছলনা, মীর জাফরি প্রক্রিয়া। সেটি কী ছিল, কেমন ছিল তা জানার জন্য আছে ইতিহাস। ইতিহাস নিয়ে অনেক ধামাচাপা হয়েছে যুগে যুগে, আজও হচ্ছে। তবে প্রকৃতই ধামাচাপা দেয়ার যুগ মনে হচ্ছে আজ বাসি হয়েছে। ইন্টারনেটের বদৌলতে সাজানো সত্য-মিথ্যা সবই গবেষণা করলে মূল সত্য ধরা পড়বেই। মনে হয় একে এড়িয়ে যাওয়ার ফুরসত খুব কম। সে হিসেবে বলা চলে, এ বুঝি সত্য যুগের নমুনা।

৬ এপ্রিল ১৯৭৫, সকালবেলা। রাজা পালডেন থনযুপ নামগয়াল সবে নাশতা শেষ করেছেন, তখনই শুনলেন রাজপ্রাসাদ অঙ্গনে গোলাগুলির আওয়াজ। দৌড়ে গেলেন জানালার ধারে। যা দেখলেন তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ভারতীয় সেনারা তার প্রাসাদ রক্ষীদের আক্রমণ করেছে। চোখের সামনে মাত্র ৩০ মিনিটের নাটকীয় অপারেশনে তার এক উনিশ বছরের রক্ষীর জীবনের বিনিময়ে রাজা পালডেন সিংহাসন হারালেন। সেই সঙ্গে অবসান হলো ৪০০ বছরের রাজতন্ত্র এবং হারিয়ে গেল পৃথিবীর বুক থেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। আর তা পরিণত হলো প্রতিবেশী ভারতের একটি প্রদেশে। জাতিসংঘে একটু গুঞ্জন হলো। বিশ্বের কেউ টুঁ শব্দও করল না। কারণ হিসাবে বলা হলো, দেশটি গণতন্ত্র পেয়েছে, যদিও তা আর একটি দেশের অঙ্গ হিসেবে। তা ছাড়া আরও যুক্তি দেখানো হলো দেশটির জনগণই স্বাধীনতা চায়নি, চেয়েছে ভারতের সঙ্গে মিশে যেতে। কিন্তু জানা যায়, লেপচা ও ভুটিয়ারা জনতার বড় অংশ, তারা চ্যাগল সাম্রাজ্যে সুখী ছিল।

উল্লেখ্য, চীন আজও ইন্ডিয়ার এ আগ্রাসনকে মেনে নিতে পারেনি, তারা স্বীকৃতি দেয়নি। কোনো রাষ্ট্র প্রশ্ন না তুললেও বিশ্লেষক, গবেষক ও বিদগ্ধজনরা তখন এবং এখনও অনেক প্রশ্ন তুলেছেন, যার সঠিক জবাব কখনও মেলেনি। এসব বিশ্লেষকের মধ্যে রয়েছেন এক ভারতীয় সাংবাদিক সুধীর শর্মা। একটি জাতির হারিয়ে যাওয়ার বেদনা (পেইন অব লুজিং এ নেশন) শিরোনামে এক চমৎকার প্রতিবেদনে সিকিমের ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ও হটকারিতার ইতিহাস বর্ণনা করে সিকিমের বিদায়ের কাহিনী লিখেছেন তিনি। মন্তব্য করেছেন, এমনটি যে হবে তার চেষ্টা শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিদায়ের লগ্ন থেকেই। এমনকি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরু এক কথোপকথনে সাংবাদিক ও কূটনীতিবিদ কুলদীপ নায়ারকে এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মিলেছিল নেপথ্যে ইন্ধনকারী একজন মীর জাফররুপী কাজী লেন্দুপ দরজি। ভারতের নেতারা ক্লাইভের ভূমিকায় ছিলেন। তবে এখানে স্লোগান ছিল গণতন্ত্রায়ণ, সংখ্যালঘুর ক্ষমতায়ন এবং রাজতন্ত্রের অবসান। তবে ফলাফল সেই একই। প্রভুর পরিবর্তন! গণতন্ত্র, ক্ষমতায়ন সবই হলো। শুধু জনগণ তার স্বাদ অনুভব করতে পারল না। আসলে সব কর্মকাণ্ডের মূলে ছিল নিয়ন্ত্রণ ও দখল। গদিচ্যুত হওয়ার তিন দিন পর রাজা পালডেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন।

‘আমি বাকরুদ্ধ হয়েছি তখনই যখন ভারতীয় বাহিনী সিকিম আক্রমণ করল। (প্রাসাদের) ৩০০ এর কম গার্ডের ওপর আক্রমণ চালানো হলো। অথচ এরা ভারতীয় দ্বারা শিক্ষাপ্রাপ্ত এবং তারা ভারতীয় অস্ত্রে সজ্জিত ও ভারতীয় অফিসার দ্বারা পরিচালিত। সিকিমরা ভারতীয়দের কমরেড ভাবে। এ আক্রমণ গণতান্ত্রিক ভারতের সবচেয়ে ন্যক্কারজনক দিন’ কথাটি তিনি বড় দুঃখে লিখলেন। রাজা পালডেন হয়তো এমন করুণ পরিণতিকে অন্যদিকে মোড় দেয়াতে পারতেন, যদি তিনি আর একটু স্মার্ট হতেন। লিখেছেন বি এস দাশ। তার সিকিম সাগা বইতে মি. দাশ লিখেছেন, যদি রাজা আর একটু বুদ্ধির সাহায্যে তার কার্ডটি খেলতেন তাহলে অবস্থা অন্যরকম হতো। দাশ সিকিমে ভারতীয় পলিটিক্যাল অফিসার ছিলেন যখন গ্যাংটকের পতন ঘটে। ভারতীয় পলিটিক্যাল অফিসার অর্থে তিনিই প্রকৃত ক্ষমতাধারি ব্যক্তি ছিলেন ১৯৫০ সালের সিকিম ভারত চুক্তি অনুযায়ী। দাশ লিখেছেন, ‘সিকিমকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন ভারতের প্রতিরক্ষার খাতিরে, আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছিলাম।’

অথচ রাজা পালডেন বুঝতেই পারেননি ভারতীয় উদ্দেশ্য। তিনি ভাবতেন, জওয়াহেরলাল নেহরু ও এম কে গান্ধীসহ সব বড় নেতা তার পরম শুভানুধ্যায়ী।

পালডেনের সেক্রেটারি ক্যাপ্টেন সোনম ইয়ংডো লিখেছেন, রাজা তার ভয়ঙ্কর স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি যে, ভারত কখনও তার ছোট রাজ্যকে দখল করে নেবে। অথচ এমনটি হবে এবং এর জন্য একটি মাস্টার প্লান প্রস্তুত। সে কথা চীন ও নেপাল সিকিমের রাজাকে জানিয়েছিল। ১৯৭৪ সালে নেপালের রাজার অভিষেকের সময় রাজা পালডেন কাঠমান্ডুতে যান। সেখানে নেপাল, চীন ও পাকিস্তানের নেতারা রাজা পালডেনকে তিনটি হিমালয়ান রাজ্যকে নিয়ে ভারতের মাস্টার প্ল্যানের কথা বলেছিলেন। নেপাল সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের সম্পাদক সুধীর শর্মা লিখেছেন, চীনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী রাজা পালডেনকে গ্যাংটকে না ফেরার পরামর্শ দেন এ জন্য যে, এ মাস্টার প্ল্যানের প্রথম শিকার হবে সিকিম। অন্য দুটির জন্য রয়েছে আরও জটিল পরিকল্পনা। পালডেন এ কথা বিশ্বাস করতে পারেননি। শর্মা লিখেছেন, রাজা পালডেন ভারতকে তার সবচেয়ে বড় সুহৃদ মনে করতেন। কেননা তার সেনাবাহিনী প্রাসাদরক্ষী এবং তার শাসনতন্ত্র নির্মাণ ও পরিচালনা ভারতই করত। তিনি তাদের বললেন, আমার সেনাবাহিনী কেমন করে আমার বিরুদ্ধে লড়বে? তাছাড়া রাজা পালডেনকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনারারি মেজর জেনারেলের পদমর্যাদা দেয়া হতো। নেহরুও বলেছিলেন, এমন ছোট দেশ দখল করার প্রয়োজন নেই (১৯৬০ সালে কুলদীপকে নেহরু বলেছিলেন, টেকিং এ স্মল কান্ট্রি লাইক সিকিম বাই ফোর্স উড বি লাইক শুটিং এ ফ্লাই উইথ এ রাইফেল)। অথচ তার কন্যা মাত্র ১৫ বছর পর ‘জাতীয়’ স্বার্থের কথা বলে সত্যিই সেই মাছিকে হত্যা করলেন। তবে দখলের বীজ নেহরুই বুনেছিলেন। সিকিমের রাজতন্ত্রের পতনের লক্ষ্যে সিকিম ন্যাশনেল কংগ্রেস (এসএনসি) গঠনে তিনিই উৎসাহ জুগিয়েছিলেন।

এসএনসির নেতা লেন্দুপ দরজির গণতন্ত্রের সংগ্রামকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যায় প্রথমত নামগয়াল পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য। আসলে কাজী ও নামগয়াল ছিল একে অন্যের শত্রু। এই বিভেদকে ভারত কাজে লাগায় তার মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে। ক্যাপ্টেন ইয়ংজু লিখেছেন—‘ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক পোশাকে রাজার বিরুদ্ধে গ্যাংটেকের রাস্তায় মিছিল, আন্দোলন ও সন্ত্রাস করত।’ এমনকি লেন্দুপ দরজি নিজেই শর্মাকে বলেছেন, ‘ভারতের ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর লোকেরা বছরে দু-তিনবার আমার সঙ্গে দেখা করত কীভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা যাবে—সেসব বিষয় জানার জন্য। তাদের একজন এজেন্ট তেজপাল সেন ব্যক্তিগতভাবে আমাকে অর্থ দিয়ে যেত এ আন্দোলন পরিচালনার জন্য। এ অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাস পরিচালিত হতো। শর্মা লিখেছেন, এই সিকিম মিশনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ভারতের ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (সংক্ষেপের)। এর ডাইরেক্টর অশোক রায়না, তার বই ইনসাইড র : দ্য স্টোরি অব ইন্ডিয়ান সিক্রেট সার্ভিস—এ বাংলাদেশ অধ্যায়সহ সিকিমের বিষয় বিস্তারিত জানিয়েছেন। রায়না লিখেছেন, ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১৯৭১ সালেই সিকিম দখল করে নেয়া হবে। সে লক্ষ্যে সিকিমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন, হত্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ইত্যাদি করা হচ্ছিল। এখানে হিন্দু নেপালি ইস্যুকে বড় করে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টায় সফলতা আসে। দরজির সঙ্গে এসব সাক্ষাত্কার রেকর্ড হয়ে আছে। ভারতের ‘র’ নামের এই সংস্থাই মূলত মিশন সিকিমের মূল হোতা। এটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা পায় এবং মাত্র তিন বছরে পাকিস্তান নামের একটি দেশকে ভেঙ্গে টুকরো করে দেয় এবং একটি নতুন দেশ বাংলাদেশের সৃষ্টি করে। আগ্রাসনের মাঝে সিকিম দখল করা তাদের এরকম আর একটি সার্থক প্রচেষ্টা ছিল। প্রতিবেশী দুটি দেশে এ রকম চাল চেলে দুটি ক্ষেত্রেই তারা চরমভাবে সফল হয়েছে।

গ্যাংটক পোস্টের সম্পাদক সিডি রাই বলেছেন, ‘সিকিমের নেপালি বংশোদ্ভূত সমপ্রদায়ের মধ্যে দৃঢ়ভাবে ছড়ানো গেল যে, সিকিমের বৌদ্ধ রাজা তাদের নির্যাতন, নিষ্পেষণ করছেন। সুশীল ও এলিটরা এক হয়ে ভাবতে শুরু করল, বৌদ্ধ রাজার নির্যাতনের চেয়ে আমাদের ভারতীয় হয়ে যাওয়াই ভালো।’ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা অনেকে ধারণা রাখেন, এরা মানবতাবাদী। অহিংসা পরম ধর্ম। কিন্তু তারপরও সেখানে তিনি বৌদ্ধ হলেও ছিলেন রাজা এবং সে রাজত্ব থেকে তাকে মুছে দেয়ার ভালো যুক্তি হয়ে ভারতের চাণক্যনীতি এখানে কাজ করেছিল। ক্যাপ্টেন সেনাম ইয়ংডো দাবি করেছেন, সিকিমে রাজার বিরুদ্ধে লেন্দুপের আন্দোলন ছোট ছিল এবং তা হয়েছে সম্পূর্ণভাবে ভারতের অর্থানুকূল্যে। তার মতে, ভারত ‘ডাবল গেম’ খেলছিল। একদিকে রাজাকে আশ্বস্ত করছিল যে তার সিংহাসন নিরাপদ এবং তিনি সঠিক পথে আছেন। অন্যদিকে লেন্দুপকে অর্থ ও লোকবল দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলা হয়, যাতে দেশের অধিকাংশ লোককে রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে এক সারিতে আনা যায়। এর ফলে ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে লেন্দুপের এসএনসি পার্টি ৩২ সিটের ৩১টিই লাভ করেছিল। এর আগে দিল্লির চাপে রাজা ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় একটি সমঝোতায় আসতে বাধ্য হন। ৮ মে ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত এ মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব কেওয়াল সিংহ এবং ভারত সমর্থিত তিনটি পার্টি সিকিম ন্যাশনাল পার্টি, সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস ও জনতা কংগ্রেস। রাজা এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এর আগের মাসে এক নাগাড়ে ১০ দিন আন্দোলন চলে গণতন্ত্রের সপক্ষে।

মজার কথা, এই হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে গ্যাংটকের পালজোর স্টেডিয়ামে আটকে রেখে ইন্দিরা গান্ধী জিন্দাবাদ স্লোগান উঠাতে বাধ্য করা হয়। এ আন্দোলনের শেষ দিন ভারত বি এস দাশকে পলিটিক্যাল অফিসার হিসেবে নিযুক্তি দিলে সিকিমের তিন পার্টি আন্দোলন উঠিয়ে নেয়। এর কয়েক দিন আগে রাজার কাছে খবর এসেছিল এ তিন পার্টির জয়েন্ট অ্যাকশন (জেএসি) কমিটি ১৫ হাজার মানুষের এক কর্মী বাহিনী নিয়ে সংখোলা থেকে গ্যাংটকের দিকে এগোচ্ছে। ভীত রাজা ভারতের সাহায্য চাইলেও এদিকে জেএসিও ইন্দিরা গান্ধীর কাছে টেলিগ্রাম পাঠাল তাদের কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দিয়ে এবং এর সঙ্গে সিকিমে হস্তক্ষেপের আবেদন জানালো। এরপর ভারতের জন্য সিকিমে হস্তক্ষেপ করার বিরুদ্ধে আর কোনো বাধাই রইল না। অর্থাত্ ভারতের তিন দশকের পরিকল্পনা, অর্থ ব্যয় এবং আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড সার্থক হলো। বিশ্লেষকরা তাদের লেখনীতে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন।

নির্বাচনে জিতে ২৭ মার্চ, ১৯৭৫ প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী লেন্দুপ দরজি রাজতন্ত্র বিলোপের এবং রেফারেন্ডামের সিদ্ধান্ত নিলেন। চারদিন পর সারা দেশের ৫৭টি স্থান থেকে ফলাফল এলো। জনগণ রাজতন্ত্র বিলোপের পক্ষে। কৃষিমন্ত্রী কেসি প্রধান অবশ্য বলেছেন, পুরো ব্যাপারটাই সাজানো। ভারতীয় সেনাবাহিনী বন্দুকের মুখে ভোটারদের `হ্যাঁ ভোট দিতে বাধ্য করেছিল। অনেক লেখক বলেছেন, রাজা পালডেন তার রাজত্বের প্রথমদিকে নেহরুর নির্দেশে রাজতন্ত্র বিলোপের লক্ষ্যে তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধাক্কা দিল্লির সহায়তায় উের গেলেন। তখন দিল্লিকে পরম সুহৃদ ভাবতে থাকলেন। তাই চীন বলল, ‘যদি ভারতীয় বাহিনী তাকে আক্রমণ করে, তাদের সাহায্য চাইলে ভারত সীমান্তে চীন ও পাকিস্তানের সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ করা যাবে। সুধীর শর্মা লিখেছেন, রাজা পালডেন যখন বুঝতে পারলেন তখন আর কিছুই করার ছিল না। অবশ্য অনেকেই সিকিমের এ বিপর্যয়ের জন্য রানী এবং লেন্দুপের স্ত্রীকে খানিকাংশে দায়ী করে থাকে। তবে বিশ্লেষকরা এ মতকে আমলে নেননি।

হিমালয়ের পাদদেশের তিনটি রাজ্যের ‘প্রটেক্টরেট’ অবস্থানকে সে দেশের ক্ষমতাবানরা মেনে নিয়েছিল। তবে ভারতের ক্রমবর্ধমান চাপ তিনটি দেশকে ক্রমেই একে অন্যের কাছে নিয়ে আসতে থাকলে ইন্দিরা গান্ধী প্রমাদ গোনেন। তাই পরিকল্পনাকে একটু পরিবর্তন করেন। কাঠমান্ডু পোস্টে ৩ জুন ১৯৯৭ ‘ভুটানিজ সিন্ড্রোম’ নামে এক নিবন্ধে প্রচলিত ধারণা যে, সিকিমে নেপালি ভারতীয়রা সব ঘটনার জন্য দায়ী। তা সত্য নয় বলতে গিয়ে দাবি করা হয়, তিনটি দেশের অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এবং তাদের অর্থ ও তাদের কিছু বশংবদ দায়ী। কাজী লেন্দুপ দরজির নেতৃত্বে এ বশংবদরা পরবর্তীকালে ঘটনা বিপরীতমুখী করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। লেন্দুপ দরজি ও তার বিদেশি স্ত্রীকে কালিমপং—এ অবশিষ্ট জীবনের তিন দশক দেশবাসীর নিন্দা, ঘৃণা এবং ভারতের অবহেলার বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়। কাজী লেন্দুপ এক সাক্ষাত্কারে সুধীর শর্মাকে বলেন, আমি ভারতের জন্য এত করলাম, এমনকি দেশটিও দিয়ে দিলাম। তার প্রতিদানে তারা আমায় এত অবহেলা করল। কাজ হয়ে গেলে পর ভারত কীভাবে তাকে ছুড়ে দেয়, সে বেদনার কথা লেন্দুপ শর্মাকে জানান। প্রথমে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হতো। কিন্তু কাজ ফুরালে দেখা যায় লেন্দুপকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো একটি সাক্ষাত্কারের জন্য, যেন দ্বিতীয় শ্রেণীর নেতা। এ যেন কাজের সময় কাজি আর কাজ ফুরালে পাঁজি।

অনেকেই বলেছেন, সিকিমের ব্যাপারে ভারত ১৯৭১ সালের লক্ষ্য পরিবর্তনের কারণ বিশ্বপরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী দেশের চলমান ঘটনাবলী। তাই এ সময় সিকিমে আন্দোলনের ধারাকে বেগবান রাখতে হয়েছে শুধু। সুধীর শর্মার মতে, বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের অভ্যুদয় এবং ১৯৭৪ সালে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সাফল্যের কারণে দিল্লিকে আর তার ইমেজের ব্যাপার নিয়ে ভাবতে হয়নি। সে সিকিম দখল করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। বিশেষ করে ভুটানের জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রাপ্তি এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। ভুটানের জাতিসংঘের সদস্য প্রাপ্তিকে ভারতের সহজভাবে না নিয়ে উপায় ছিল না। স্বাধীন বিশ্বে বিশেষ করে নিরপেক্ষ বলয়ের নেতৃত্বে এমনকি তার গণতান্ত্রিকতার দাবিতে চিড় ধরত। বাংলাদেশকেও তাকে সাহায্য করতে হয় স্বাধীনতাকামী হিসেবে। তার একটিই ভয় ছিল, বাংলাদেশ ও ভুটানকে অনুসরণ করে যদি সিকিম জাতিসংঘের সদস্যপদ দাবি করে। ইন্ডিয়ার এ আগ্রাসনকে চীন মেনে নেয়নি। তবে দেখা যায়, বিবিসির বরাতে একটি শর্তে তারা তা মেনে নেয়ার অঙ্গীকার করে। ২৪ জুন ২০০৩ বিবিসি নিউজে বলা হয়, ইন্ডিয়া যদি তিব্বতের ওপর চীনের কর্তৃত্ব স্বীকার করে, তবে তারা সিকিমকে মানতে পারে। নয়তো কোনো অবস্থাতে এ আগ্রাসনকে তারা মেনে নেবে না।

মালয় কৃষ্ণধর ছিলেন ভারতের সাবেক ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর একজন জয়েন্ট ডাইরেক্টর। তার একটি সুস্পষ্ট অভিমত ছিল সে (লেন্দুপ দরজি) না থাকলে সিকিম কখনোই ভারতের অংশ হতে পারত না|কাজি লেন্দুপ ছিলেন একজন নেপালি বংশোদ্ভূত। কৃষ্ণধর দিল্লির চাতুর্যের প্রামাণ্যতা বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, তার যুবক বয়স থেকেই তিনি লক্ষ্য করে আসছেন বলে মন্তব্য করেন। ১৯৭৫ সালে অন্যায়ভাবে কংগ্রেস বিশেষ করে সঞ্জয় গান্ধী দরজিকে বাধ্য করে তার পার্টিকে ইন্ডিয়ার জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে। কাজী প্রথমে কিছু ইতস্তত করলেও সরকার ও তার সহযোগীরা তাকে এ কাজে বাধ্য করে, যার জন্য জনতা পার্টির সঙ্গে তাকে মিশে যেতে হয়। খুব অল্প সময়ের মাঝে তার আধিপত্য শূন্যতে নেমে আসে। ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধীর ক্ষমতা দখলের পর তিনি আক্ষেপ করছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্কারের। কিন্তু তাকে একটি ডাস্টবিনের ময়লা কাগজের মতো ছুড়ে ফেলা হয়। ওই সময়ের চিত্র মালয় কৃষ্ণধর তার লেখনীতে তুলে ধরেন। তার কথাতে এই সেই লেন্দুপ দরজি যিনি কাঞ্চনজঙ্ঘার মতো এরকম একটি মূল্যবান রত্ন তার পরবর্তী পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে ওদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য ছিলেন। মালয় কৃষ্ণধর দরজিকে ওপরে তুলে ধরতে চেয়েছেন এবং ভারত সরকারকে তার মর্যাদা দিতে উৎসাহ দিয়ে গেছেন তার লেখনীতে।

এদিকে নেপালেও রাজতন্ত্রের অবসান ঘটেছে ঠিক একই পদ্ধতিতে। যদিও দেশটি টেকনিক্যালি এখনও স্বাধীন। তবে এখানে সাত পার্টির জোট ও মাওবাদীরা সর্বতোভাবে দিল্লির ওপর নির্ভরশীল। ইংরেজি আদ্যাক্ষর হিসেবে অনেকে এর নাম দিয়েছে ‘স্প্যাম’ (সেভেন পার্টি অ্যালায়েন্স অ্যান্ড মাওইন্ট) গত নির্বাচনের আগে গিরিজা প্রসাদ কৈরালার নেপাল কংগ্রেস ও সিপিএম ইউএমএল দিল্লিতে গিয়ে তাদের কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করলে বিশ্লেষকরা বলেন, এটা আর একটি সিকিম সিনড্রোম, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মপদ্ধতির সিদ্ধান্ত নিতে স্বদেশ ভূমিকে ব্যবহার করে না। তারা বলেন, এই ‘স্প্যাম’ পলিটিক্যাল অলিগার্কি বা রাজনৈতিক অভিজাততন্ত্র পছন্দ করে, জনগণের গণতন্ত্র নয়। ঠিক একই লক্ষ্য দিল্লিরও। তারা জনগণ নয়, রাজনৈতিক দলের আনুগত্য কামনা করে। তারা প্রতিটি রাজনৈতিক দলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় লাইন অব ইনহেরিটেন্স রাখে। একটির পতন হলে অন্যটি সে স্থান পূরণ করে। একজন ভুটানি বিশ্লেষক কাঠমনডু পোস্টে সমপ্রতি এক নিবন্ধে সতর্ক করেছেন এই বলে যে, বর্তমানের ভুটান নেপালের রাজনৈতিক গোলযোগ যদি ঠাণ্ডা মাথায় সমাধানের চেষ্টা না করে, তাহলে এটি ভুটানিজ সিনড্রোম হবে এবং এর পরিণতি হবে সিকিমের মতো। লেখক আরও বলেছেন, গত ছয় দশকের নানা কর্মপন্থায় আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক, দেশীয় ষড়যন্ত্র ও হটকারিতায় যে কর্মকাণ্ড চলছে, তা বিরতিহীন। এসব কর্মকাণ্ড সমগ্র অঞ্চলকেই এক কাতারে আনবে, যদি এখনই এসব কর্মপন্থায় সংযুক্ত নটনটীরা সতর্ক না হয়। পরিণামে সবাই হবে কাজী লেন্দুপ দরজি, যার পার্টি ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে একটি সিটও পায়নি। যদিও মাত্র ৫ বছর আগে তারা পার্লামেন্টে ৩২ সিটের ৩১টি সিট দখল করেছিল। ইতিহাস তাকে আঁস্তাকুড়ে ফেলে দিলে, ভুটানিজ সিনড্রোমের লেখক সতর্ক করে দিলেন। ৪০০ বছরের পুরনো একটি ইতিহাসের সমাপ্তি এভাবেই ঘটে। এভাবেই লেন্দুপ দরজি তার মাতৃভূমিকে ভারতের কাছে তুলে দেন।

বিশাল মানচিত্রের দেশ ভারত প্রতিবেশীর প্রতি কী করছে বা করতে পারছে, এ তার উত্তম উদাহরণ মাত্র।
সামন্ততন্ত্র থেকে বেরিয়ে এসে গণতন্ত্রের ছায়াতলে ঢুকতে পারলে সেটি প্রগতির কথাই বলত। লেন্দুপ সেটি করতে পারতেন। কিন্তু যখন ব্যক্তির লোভ, পদের লোভ বড় হয়ে দেখা দেয়, তখন আর কোনো ফয়সালাই মুক্তির পথ বাতলে দিতে পারে না। ‘দি ইল্লিগ্যাল অকুপেশন অব সিকিম বাই ইন্ডিয়া—থার্টিফাইভ ইয়ার্স অব অপ্রেশন’ অর্থাৎ ‘সিকিমে ভারতের অন্যায় আগ্রাসন—৩৫ বছরের নির্যাতন’ কলামটি ছাপে ২০০৯ সালের অক্টোবরের ১৭ তারিখে মইন আনসারী। ৩৪ বছর আগে যখন ভারতীয় সেনারা সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে তাদের কর্তৃত্ব চালায় তখন গোটা বিশ্বের সচেতন অংশ ঘুমিয়ে ছিল এবং সে দিন থেকে সবাই ঘুমিয়ে আছে। যেখানে তিব্বতের কারণে দেখা যায় পশ্চিমের অনেক বিবেচনা কাজ করে, সেখানে এই নিরীহ জাতি গোষ্ঠীর মানুষের জন্য কারও কোনো চেতনা নেই, কোনো বিতণ্ডা নেই, যার ফলাফল ভারত তার উদরে ঢুকিয়ে নিল। ব্যারিস্টার মুনশি তার বইয়ে এ বিষয়টি অনেক আগেই আলোচনা করে সুস্পষ্ট করে বলেছেন যে, এটি ‘র’ এর কাণ্ড। গোটা বিশ্ব ভুলে গেছে সিকিমের কথা। দক্ষিণ তিব্বতের কিছু অংশ কেমন করে দিল্লি দখল করে নিল তার ব্যাপারেও বিশ্বের কারও দায় নেই। ভুটানের ভাগ্যেও হয়তো তাই অপেক্ষা করছে। ভারতের এ ক্ষুধার যেন নিবৃত্তি নেই। প্রতিবেশীর প্রতি ভারতের এরকম নীতির একটি ফয়সালা হওয়া উচিত। দিল্লির এটা শেখা উচিত যে আগ্রাসনের কোনো শোধ নেই। একটি নিরীহ শান্তিপ্রিয় জাতিকে এভাবে তারা কুক্ষিগত করে রেখেছে। ভারত তার ৪৫০ মিলিয়ন দলিতকে এবং নিম্ন বংশোদ্ভূত মানুষকে অস্পৃশ্য বলে দূরে ঠেলে রেখেছে। বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক বন্ধনে তাদের বেঁধে রাখা হয়েছে। সিকিম তার মূল পরিচিতি ও তার স্বকীয় স্বাধীনতা হারিয়েছে। কঠোর ব্রাহ্মণ্যবাদের যাঁতাকলে বৌদ্ধ অনুসারীরা আজ বেয়নেটের মুখে নির্বাক।

ভারত সরকার অবশ্য সিকিম দিয়ে দেয়ার ২৭ বছর পর লেন্দুপ দরজিকে ‘পদ্মভূষণ’ পদবি দেয় এক অনাড়ম্বর পরিবেশে সান্ত্বনা হিসেবে ২০০২ সালে এবং ১৯৭৪ সালে সিকিম সরকার তাকে ‘সিকিম রত্ন’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এরকম প্রাপ্তির পরও লেন্দুপ ও তার স্ত্রী এলিসা কালিংপনে তাদের জীবনের শেষ সময় কাটান চরম গ্লানিময় অনুতাপের মাঝে। ১৯৯০ সালে তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর লেন্দুপ একাকী বসবাস করতে বাধ্য হন। তার কোনো ছেলেপেলে বা কোনো আত্মীয়স্বজন তার দায়-দায়িত্ব নেয়নি। জনতার ঘৃণা, ক্ষোভ ও বেদনার ঘোর কাটাতে তিনি তার নিজেকে লজ্জাজনক মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দেন। অতঃপর পরিপূর্ণ ১০৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। বলা হয়ে থাকে এ মূল নাটক মঞ্চস্থ করতে লেন্দুপের দুই স্ত্রী কম-বেশি জড়িত ছিলেন। ফার্স্ট লেডি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর এ নারীরা ক্ষমতাকেই বড় করে দেখেছেন। এ লড়াইয়ে চ্যাগল রাজা ও কাজী লেন্দুপের লড়াইই মুখ্য ছিল না। এর মাঝে ইতিহাসের আরেক উল্লেখযোগ্য নারী এসে হাজির হন তিনি হলেন ভারতের ইন্দিরা গান্ধী। এই তিন নারীর কোপে পড়ে সিকিম আজ এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ইতিহাসের সাক্ষী গোপাল হয়ে আছে। এ ইতিহাস থেকে শেখার অনেক কিছুই আছে, তবে যদি সচেতন জাতিরা বাঁচতে চায় এবং মিথ্যা ছলনার সাজানো ভেড়ার ঘরে ঢুকতে না চায়, চোখ-কান খোলা রেখে পর্যালোচনা করলে সিকিমের ভূমিকম্পসহ ‘পেইন অব লুজিং এ নেশন’ মানচিত্রের অনেক লুকানো বেদনা উন্মোচন করতে সক্ষম হবেন। এতে সত্যও উন্মোচিত হবে এবং নিজের অস্তিত্বও বিপন্ন-দশা থেকে মুক্তি পাবে।

 

নাজমা মোস্তফা,  Published in Amar Desh, September 25, 2011 (Re post)

(1) মাদ্রাসার বই ও হিন্দু লেখক (2) ভুল শুধরে ফের ভুল

 

স্যাকুলার নাম নিয়ে হেফাজতির উপর যে অদভুত ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে তার উপর পিনাকি ভট্টাচার্য্য বলে একজন ফেসবুকে স্টেটাস দিয়েছেন। যা এমন সংকটে জাতির চিন্তাকে প্রসারিত করবে। তারা একটি টার্ম ব্যবহার করে বলছেন পাঠ্যবইএ সম্প্রতি হেফাজতিকরণ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ ছিল হেফাজত হিন্দুদের বাদ দেয়ার দাবী তুলেছে। এবার পিনাকি ভট্টাচার্য্যরে বক্তব্য হচ্ছে তারা তাদের বই নিজেরাই সাজায় এবং বেফাক সেগুলি ছাপায়। কওমীর আলেমরাই এ কাজটি করেন। তিনি বেফাক থেকে কওমী মাদ্রাসার ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত বাংলার তালিকা সংগ্রহ করেন এবং তাদের পাঠ্য সংযোজনের প্রশংসা করেন। প্রথম শ্রেণীতে রবীন্দ্রনাথের “ছুটি” দ্বিতীয় কবিতা কাজী নজরুলের “ভোর হলো” তৃতীয় কবিতা জসিম উদ্দিনের “মামার বাড়ী”। দ্বিতীয় শ্রেণীতে অনেক কবিতা তারা পড়ে এর মাঝে আছে মদনমোহন তর্কালংকারের “আমার পণ” রবীন্দ্রনাথের  “আমাদের ছোট নদী” রজনীকান্ত সেনের “স্বাধীনতার সুখ” নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের “কাজের লোক” চতুর্থ শ্রেণীতে কালিদাস রায়ের “কাজলা দিদি”। পঞ্চম শ্রেণীতে সুনির্মল বসুর “সবার আমি ছাত্র” জগদীশ্চন্দ্র বসুর “গাছের জীবন কথা”, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুদিত “উত্তম মধ্যম”। স্যাকুলার নাম নিয়ে যারা এসব দাবী করছেন তারা যে কিভাবে পাঠ্য বই নিয়ে রাজনীতি করছেন এটি অনেকটাই স্পষ্ট। দেখা যায় হেফাজতিদের নিজেদের সংযোজন সরকার ঘোষিত পাঠ্য সংকলকদের থেকে অনেক উন্নত রুচির ও বিবেচনার দাবীদার।

ইত্যবসরে এনসিটিবি হিন্দু ধর্মের বইয়ের ভুল সংশোধন করলেও ইসলাম ধর্মের বইএ এখনো ভুল বর্তমান। ভুলে ভরা পাঠ্য বই সংশোধন করার খবর প্রকাশিত হয়েছে ২৭ এপ্রিল ২০১৬। ভুলে ভরা ‘ইসলাম শিক্ষা’! ফাইয়াজ আহমেদ, বাংলা মেইল ২৪ ডটকম। দেখা যায় বাংলাদেশে শিক্ষকদের ভুল ধরিয়ে দিতে হচ্ছে সাধারণকে। এখনো দেখা যায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ের ৫৮টি ভুল শুধরে নতুন করে করা হলো আরো ২৩টি বানানের ভুল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহামেলার মাঝে গণহারে পাশের সবকিছুই বিতর্কীত জমা। শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয় গণহারে পাশ করিয়ে দেয়ার, এটি শিক্ষকদের থেকেই শুনেছি। নীতিহীন সব কিছুই জাতির জন্য ভয়ঙ্কর।

নাজমা মোস্তফা, ১৮ই মে ২০১৭।

সত্য বলা ছাড়া আর কোন বিকল্প দেখছি না

বিষয় ভিত্তিক পয়েন্ট: (লেখাটি বেশ বড়, তাই সংক্ষেপে পয়েন্ট) “র” বাংলাদেশের মগজে / দুই ডজনের বেশী চুক্তি / আত্মবিক্রিত প্রধানমন্ত্রী / অমিত শাহর হুমকি/ মতিয়ারও শিক্ষক!/ টাকা পাচারের হিড়িক /গরুর উচ্চতায় / বাংলাদেশে দাঙ্গার নজির নেই/ তারা চরমপন্থী নয় / বিচারবিভাগের প্রশিক্ষক ভারত?!/স্টেপ ডাউন!/ ভারতীয় প্রশ্নবিদ্ধ বিচার / ভোট বানিজ্য, লেন্দুপীয় কসরত/ এ রাজনীতি পৃথিবীতে বিরল / পেশাদার খুনীতে লাশ পড়তো / আন্ধা সাংবাদিক/ জাতি শ্মশান যাত্রার অপেক্ষায় / রবীন্দ্রনাথও সংকীর্ণ ছিলেন/ ভারতে গরু ও মুসলিম/

“র” বাংলাদেশের মগজে: বিচারপতি সিনহা ভারতের ইশারাতে মসনদে, এখানেও “র” বাজিমাত। তাকে বার বার ছুটে যেতে দেখা যায় ভারতে। মসজিদ ধ্বংসে বাড়াবাড়ি রকমের উৎসাহ সারা দেশে খোদ রাজধানীতে,  মসজিদের উপর মড়ক চলছে। দেখা যায় রাজধানীর লালবাগের ঢাকেশ^রী মন্দির রোডে ১৬৭৩ খৃষ্টাব্দে, হিজরী ১১০৩ সন, বাংলা ১০৮৯ সালে স্থাপিত ৩৩৩ বছরের হাজীবাগ মসজিদও হুমকির মুখোমুখি (প্রথম আলো, ০৫, ২০১৭)। ইসলামী ব্যাংক একই মড়ক যাতনার শিকার। ইকনোমিষ্টের চাঞ্জল্যকর তথ্য হচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে জোর করে ইসলামী ব্যাংক দখল করা হয়েছে বাংলাদেশে। এসব সত্য প্রকাশে কিছু দালাল সাংবাদিকরা বাঁকাচোখে পরখ করছেন। বর্তমান সরকারের হিনমন্য যোগসাজসে জনগণ অন্ধকারে। ভারতের সাথে বিগত ১০ সালের চুক্তির খবরও দেশ বাসীর অজানা,  এবার আরো দুই ডজন বেশী চুক্তি, ঢেকে রাখা। যেন ছেলের হাতের মোয়া দেশবাচ্চারা দেখে ফেললে বিপদ! প্রধান মন্ত্রী বলেছেন তার উপর বিশ^াস রাখতে! যদিও তিনি বিশ^াস রাখার অর্জন জমা না করে কত কি করছেন। বেশী দামে ভারতীয় বিদ্যুত আমদানীতে সরকারের লুকোচুরিও ঢাকা নেই। এ লজ্জাও জাতির অস্তিত্বের লজ্জা।  পাশের দেশ নেপাল ভুটান থেকেও  কোন পন্য কিনলে ভারতকে এর ভাগ দিতে হবে, নইলে পন্য নড়বে না। বাংলাদেশের করিডোর পাবে ভারত কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ শুধু আঙ্গুল চুষবে। চিহ্ন দেখে আঁচ করুন এরা কে বা কারা? শত্রু বন্ধু চেনা সময়ের বড় দাবী। এ হচ্ছে আওয়ামী সরকারের আমলে দেশ বিক্রির নমুনা। তিস্তা শুধু মমতার প্রাণ। ভিন জাতির সাথে প্রতারণা করতে মমতাদের কোন কষ্ট নেই। স্বজাতির মমতা আর পরজাতির বৈরিতা যাদের নীতি তারা সীমাহীন সংকীর্ণতার শিকার। হয়তো দেবতার ধর্মে এসব নীতির কথা অভিধানেও নেই, চানক্যরা এড়িয়ে গেছে, এটিই সার কথা!

বাংলাদেশের একজন আত্মবিক্রিত প্রধানমন্ত্রী কেমন করে সব বিচারিক জ্ঞান হারিয়ে বসেন একজন আঞ্চলিক মূখ্যমন্ত্রীর কাছে ! কি কারণে তিনি মমতার দ্বারস্থ হবেন যে কিনা সাধারণ ভদ্রতা জ্ঞানও রাখে না, তার মুড়ি মুড়কির প্রতারণা ঠিক পানি প্রতারণার সাথে তুলনীয় ! নিজ দেশে বাচনিক জটিলতা প্রধানমন্ত্রীর, জাতি এ নিয়ে বিরক্ত ও লজ্জিত কিন্তু মমতার আঘাতেও করুণায় কেন বিগলিত “মুঝে কুছ পাতা নেহি দিদিমনি কেয়া করেগি।” তারপরও স্বান্তনা, “পানি মাঙ্গা, বিদ্যুৎ মিলা, কুছ তো মিলা!” অবৈধ পথে আসায় নিজের মাত্রাজ্ঞানও শূণ্যে ঝুলছে। ওদিকে অমিত শাহ হুমকি দিচ্ছেন ক্ষমতায় গেলে বর্ডার সিল করবেন। যদিও ভারতের সিলিকনইন্ডিয়া ২১ মে ২০১৩তে লিখেছে ৫ লক্ষ ভারতীয় বেআইনীভাবে বাংলাদেশে বাস করে এবং ভারতের ৫ম বৃহত্তম রেমিটেন্স আয় আসে বাংলাদেশ থেকে। বর্ডার খোলা রেখে কি লাভ করছেন অমিত শাহ, সেটি আঁচ করতে পারলেও সত্য স্বীকার করার সাহস কম। ৫৪ নদীর পানি বেআইনী ভাবে অপসারন ও উজানে কয়েকশ (৫শ) বাঁধ নির্মান, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সামরিক হস্তক্ষেপসহ বেআইনী সীমান্ত হত্যা, গুম খুনে তাদের লম্বা হাত আছেই। এত করেও হুমকিতে আগুয়ান, তার মানে কি ঠাকুর ঘরে কেরে? বলার আগেই জবাব রেডি আমি কলা খাই না, আমি নির্মল নির্ঝঞ্জাট।

অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয়া মতিয়াররা হচ্ছে এককালের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক! সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হুশিয়ার সংকেত পার্টি ক্ষমতায় না থাকলে টাকা পয়সা নিয়ে পালাতে হবে! “হঠাৎ দুর্নীতির টাকা বিদেশে পাচারের হিড়িক পড়েছে”(যুগান্তর আমাদের সময়, ০৭ মে, ২০১৭)। এরা দুর্নীতিপরায়ন রাজনীতিবিদ আমলা ও ব্যবসায়ী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) সম্প্রতি টাকা পাচারের উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করাতে এটি আলোচিত হয়। অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, “বড় প্রকল্প মানে বড় দাও মারা।” কানাডার বেগমপাড়া, বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের নির্লিপ্ততা সবই ভয়ংকর। সুইস ব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়,দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশীদের আমানত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা (!) বলেন তথ্য পেলে ফেরত আনার চেষ্টা করা হবে। এতই যদি পারেন তবে কেন রিজার্ভের টাকা আনছেন না? প্রনব মুখার্জির ছেলে প্রতিমাসে বাংলাদেশে কি করতে আসে, প্রশ্নটি করেন মেজর আখতার।

ভারত রাজত্ব করছে গরুর উচ্চতায়। গরুর জন্য দেশ, মানুষ থেকে গরু উচ্চতায়, অ্যাম্বুলেন্স সাথে পশু চিকিৎসক ও সহকারী, গরু বনাম বিনা শুল্কের টেলিফোন, পরিচয় পত্র ঠিক হচ্ছে, পাশাপাশি মানুষেরা সেরা হাসপাতালেও নানান বর্ণবাদের শিকার। পাশাপাশি সেরা হাসপাতালেও গরীবকে নিজের স্ত্রীর মরদেহ কাঁধে করে ১২ কিলোমিটার দূরের বাড়ীতে ফিরতে দেখা যায়। এটি শুধু এক রাজ্যের খবর নয়, অনেক রাজ্যেই এটি হচ্ছে। মেয়ে শিশুরা অনার কিলিংসহ ন্যুনতম মৌলিক চিকিৎসাও পায় না। বছরে ৫এর কম বয়সের শিশু ২.১ মিলিয়ন মারা যায় (দ্যা ইন্ডিয়া টাইমস ১৮ এপ্রিল)। (WHO) বলছে প্রতি দশ শিশুর এক শিশু অপুষ্টির শিকার। অচিরেই বিশে^র ক্ষুধার্থ দেশ সমূহের নেতৃত্ব দিবে ভারত। বিজেপির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক আধিপত্য হিন্দুত্ববাদের অতিভৌতিক উত্থান জমা করছে। স্বাধীনতার এত পরও সংখ্যালঘুর উন্নতি প্রশ্নবিদ্ধ করে রাখা, আর পাশর্^বর্তী দেশে কারণে অকারণে নাক গলানোর আদিখ্যেতায় ভরা। স্কুল কলেজ, সরকারী চাকরী কোথাও মুসলিমের দুর্দশা ছাড়া কোন সংরক্ষণ নেই। কেন ধর্মনিরপেক্ষতার মিথ্যা পুরিয়া গেলার পরও এই দুর্দশা ভারতের ? মুসলিমদের জন্য সব দরজাতে খিল দিয়ে রাখা! যদিও ভারত টিকে আছে ঐ মুসলিম সাহিত্য, চিত্রকলা, সংগীত, আইন, পোশাক পরিচ্ছদ, চাল চলন আচার বিচার সব শিল্পেই ভারত মুসলিম সভ্যতার কাছে আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে ঋণভারে জর্জরিত কিন্তু প্রকাশ্যে স্বীকার করতে অপারগ। বরং তারা ব্যস্ত কিভাবে মুসলিম কৃতিত্বের ভার বাজেয়াপ্ত করবে চেপে রাখবে মাটির সাথে মিটিয়ে দেবে।

যেখানে গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশে দাঙ্গার নজির নেই, বলেছেন হিন্দু প্রধান বিচারপতি সিনহা। এরকম এক গোষ্ঠী অসাম্প্রদায়িক মানুষের উপর তিনি খুব কৌশলে চাপিয়ে দেন সাম্প্রদায়িক মূর্তি ঠিক সুপ্রিম কোর্টের সামনে, ন্যায়দন্ডের প্রতিক দাঁড়িপাল্লা সরিয়ে এটি স্থাপন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের মুসলিমদের কষ্ট দিয়েছে বহু বেশী, মূর্তি আগলে দিয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র ও পতাকা। আজ মূর্তি এমন উচ্চতায় পৌচেছে যে একটি জাতির মানচিত্র ও পতাকা থেকেও সে শিখরে, সব আড়াল করে দাঁড়িয়েছে! অতীতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মোজেনাও এটি অকপটে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। রাহুল গান্ধী বাংলাদেশ সফরে আসেন প্রফেসর ইউনুসের গ্রামীন ব্যাংক ও ব্রাক সেন্টারের আমন্ত্রণে। তাকে ধারণা দেয়া হয় এটি একটি চরম মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক দেশ, জনগণ গরীব। তিনি প্রকাশ করেন তাকে যে ধারনা দেয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিনি পেয়েছেন মানুষ সহজ সরল উদার প্রকৃতির, কখনোই চরমপন্থী নয়। ভারতের গরীব থেকেও এখানকার দরিদ্রদের অবস্থা ভালো। ভারতে ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ হাজার করে কৃষক আত্মহত্যা করছে।

একটি খবর “বাংলাদেশের বিচারবিভাগকে প্রশিক্ষণ দেবে ভারত!”

একই দিনে মিডিয়াতে দুটি খবর। ভারতের বিচার বিভাগ নজিরবিহীন সংকটে প্রধান বিচারপতিসহ সাত বিচারকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা। দেড় হাজার বিচারক ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী। এটিও তার সদ্য কৃতকর্মের একটি অপকর্ম হবে। দেশটির প্রধানবিচারপতিসহ ৭ জন বিচারপতির মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আরেক বিচারপতি। বাংলাদেশ সরকার বাকস্বাধীনতার কন্ঠরোধ করছে। লন্ডনের মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি এটি প্রকাশ করেছে। ভারতে একজন ঘোষকের “স্টেপ ডাউন” কথাটি যেন ছিল দৈবের একটি নির্দেশ, হাসির খোরাক নয় বরং একটি চরম বাস্তব ওয়ার্নিং বাণী মুখ ফসকে বের হয়। যেখানে দেশের স্বার্থে অভিন্ন নদীর পানি নেই, সীমান্ত হত্যা বন্ধ নিয়ে কথা নেই, বানিজ্য অসমতা, তীস্তার পানির কোন পাওনা নেই। যাদের অর্জন এরকম অশ^ডিম্বে ভরা তাদের জন্য স্টেপ ডাউন কথাটি সময়ের দাবী।

ভারতীয় প্রশ্নবিদ্ধ বিচার: বাবরী মসজিদের ন্যায় দাবীর বিরুদ্ধে চিফ জাস্টিস বলেছিলেন এটি উত্তম হবে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনায় এটি সেরে ফেললে। উভয় পক্ষ নেবে ছাড়বে। এ মামলার কষ্টকর দিক হচ্ছে সংখ্যালঘুর পক্ষে সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার ক্রমাগত পদদলিত হয়ে থাকে। আর অপর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্টরা আধিপত্য লাভ করে। এটি আজ নতুন নয়। যখন ১৯৪৯ সালের ২২ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে দৈবমূর্তি এসে মসজিদ দখল করে বসে। তখন যদি সরকার ও প্রশাসন সত্যসন্ধানী হতো তবে সঠিক বিচার করতে পারতো। কিন্তু সরকারের ও বিচারবিভাগের কপটতা এখানেও দৃষ্টিগোচর হওয়ার মতন স্পষ্ট। অপরপক্ষে ১৯৮৬ সালের ১ ফেব্রƒয়ারীতে বাবরী মসজিদের তালা খুলে গণপূজা পাঠের অনুমতি দেয়া হয় কিসের ভিত্তিতে? এটিই শেষ নয়, ১৯৮৯ সালের মার্চে মসজিদের সামনে রামমন্দিরের শিলান্যাস দৃশ্যপটে আনা হয়, যার নকশায় বাবরী মসজিদও যুক্ত ছিল। অতপর মহাহুঙ্কারে জুলুমের চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে। ধারণা হয়, ভারতের মুসলিম প্রতিষ্ঠাতার ধ্বংসের মাধ্যমে অনাগত ভারতের ধ্বংসের আগাম ইংগিত বপন করা হয় সেদিনই। আজ অবদি তাদের উদ্দেশ্য একটাই মুসলিমরা তাদের দাবী ছেড়ে দিক। শুধু নেবে ছাড়বে নয় এক পক্ষ সরে যাবে কারণ তারা সংখ্যালঘু, এটাই বিচারিক কথা। ইত্যবসরে হুমকিও বিলি করা হচ্ছে যে, যদি মুসলিমরা দাবী না ছাড়ে, তবে আগামী বছর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেই বিজিপি আইন করে রাম মন্দির স্বপ্ন পুরণ করবে। সুব্রানিয়াম স্বামী বলেই দিয়েছেন যে, অযোধ্যা, মথুরা ও কাশি এ তিনকে মুক্ত করা হবে। কি ভয়ঙ্কর কথা ! এরা নাকি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ আর কথায় কথায় বাংলাদেশের মানুষকে মনুষ্যত্ব শেখাতে আসে। উল্লেখ্য মথুরা বা কাশী নিয়ে কোন বিরোধই নেই। কিন্তু সংখ্যালঘু মুসলিমকে শাসানি দিতে তিনি ভারতের স্বামীজি এমনটাই করে যাচ্ছেন এটি বলা যায় এক ধরণের আদালতের কাজে হস্তক্ষেপ ও দুর্বল মনে করে সংখ্যালঘুকে হুমকির উপর রাখা। মুম্বাই থেকে প্রকাশিত উর্দু টাইমসএর আলোকে সংগৃহীত তথ্যাবলী এটিই জানান দিচ্ছে। যেখানে এই হচ্ছে ভারতের বিচার ব্যবস্থা সেখানে বাংলাদেশ কেন ওটিই রপ্ত করবে? যে দেশে আফজাল গুরুরা কোন বিচারিক মর্যাদা পায় না। অবিচারের পর্যায় পার হয়, এটি সারা বিশ^ জানে। তারপরও কেন ভারত থেকে বিচার শেখা ! তাদের বিচারিক রায় এমনই যাকে পাঞ্চয়েতী বিচার ফরমা বলে অভিহিত করা হয়। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষণৌ বেঞ্চ বাবরী মসজিদ ইস্যুর উপর যে বিস্ময়কর রায় প্রদান করে সেটি হচ্ছে তিন পক্ষকে সমবন্টন করে দেয়া হোক। এরা তিন পক্ষ হচ্ছে সুন্নী সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহি আখড়া আর রামলীলা। বাবরী মসজিদের রায় এর মূল ধ্বংসকারী কর্মকর্তা বালবীর সিংএর জীবনাচারই বলে দেয় বাবরী মসজিদের প্রকৃত বিচার কি হতে পারে? এটি বিচারের জায়গা নয়, বরং অবিচারের লীলাভূমি ভারত। ঢিলের বদলে পাটকেল আসে কখনও খোদায়ি কখনও মানবিক   (বালবীরকে জানতে চাইলে পড়তে পারেন, কেমন ছিল আল্লাহর ফেরত পাটকেল!)

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত এক আদালত অবমাননার মামলায় সম্প্রতি বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়। ঐ আদেশে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পুলিশকে বলা হয়, কলকাতার কোনো সরকারী হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ড করে বিচারপতি কারনানের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।

ভারতের সব আবর্জনা কেন বাংলাদেশকে বইতে হবে? নরওয়ের কালো তালিকায় রামপালের ভারতীয় কোম্পানী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিতর্কীত নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারত লজ্জাস্করভাবে অন্যের আভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। সব সময় ভোট বানিজ্যে লেন্দুপীয় কসরত যে করে চলেছে, এটি দেশটির হীনমন্যতার পরিচয় সুস্পষ্ট করছে ! যার জন্য অল্প দামে কেনার যে কসরত করছে ভারত সেটি কখনোই বাংলাদেশের মানুষ সহজভাবে নিচ্ছে না, নিবে না, নিতে পারে না। তাই ৯৫% বাংলাদেশের মানুষ আজ ভারত বিরোধী, এটি ভারতের বড় অর্জন। বারে বারে একজন মূখ্যমন্ত্রীকে ধরিয়ে দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিপক্ষ করে? শঠতার কপটতার সীমায় এসব কি বিচার? ভারতের আদালত কি বলবে? ওটিও কি ভারত থেকে শিখতে হবে? এ জাতি কারো প্রভুত্ব মেনে নেবে না, কথাটি খালেদা জিয়া উল্লেখ করেছেন বারে বারে।

আজ মে মাসের ৬ তারিখ। মানবজমিনে একটি লেখা দেখলাম। “রাজনীতিতে বিরল” ক্যাপশানে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার প্রসঙ্গ এসেছে। এবং তার মহতী প্রাণের আকুল আবেদন ফুটে উঠেছে লেখাটিতে। ৯০এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথাই ধরা যাক। সে সময় রাজপথে জীবন্ত পোস্টার নূর হোসেনকে স্বৈরাচারের বুলেট কেড়ে নেয়। তার পরিবার হয়ে পড়ে অসহায়। এ পরিবারের পাশেও গিয়ে দাঁড়ান শেখ হাসিনা। নূর হোসেনের ভাই আলী হোসনেকে ড্রাইভিংএর কাজ শিখিয়ে নিজের গাড়ীর চালক নিয়োগ করেন। অপর ভাইকে কুয়েত যাওয়ার সমস্ত ব্যয় বহন করেন। জাতিকে অনেক হুমওয়ার্ক করতে হবে। জাতির গোজামিল কাটাতে কিছু তথ্য আনবো। যদিও এরশাদের সময় মানুষ পুলিশের গুলিতে মরেছে কিন্তু তাকে হঠানোর পর কি ঘটেছে বাংলাদেশে ১৭৩ দিন হরতালসহ বহু বছর অবদি সেটি জানুন সচেতনরা। যা জানি বলেই কষ্টও বহু বেশী। “৯২-৯৬ পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায় নি” শুধু লাশ চাই। মানুষের লাশ। ১৯৯০ সামরিক স্বৈরাচার নিপাত করে শহীদ নূর হোসেনের রক্তে ভেজা  ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ আন্দোলনে এরশাদের পুলিশের গুলিতে এদেশের অনেক তাজা প্রাণ নিহত হয়েছে। ১৯৯১ এর পর থেকে খালেদা সরকারের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা শহরে মোট ১০০ লোক নিহত হয়েছে। তখনও একজন লোকও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়নি। কখনো ভ্যাট প্রত্যাহার, কখনো সচিবালয় ঘেরাও, কখনো সংসদ ভবন ঘেরাও, কখনো নির্বাচন কমিশন ঘেরাও, কখনো বাজেট বাতিলের দাবী, কখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও, নানা ইস্যুতে ৯২ থেকে ৯৬ সালের ২৬শে মার্চ তত্ত্বাবধায়ক বিল পাশ করা পর্যন্ত এসব প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে ২জন, ৩জন, ৪জন করে মানুষ গুলিতে নিহত হয়েছে। এরা কেউই পুলিশ, বিডিআর বা সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়নি। এরা নিহত হওয়া সকলেই ১০৩ জনই নামগোত্রহীন, পরিচয়হীন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। এসময় একজনও আওয়ামী লীগের কর্মী নিহত হননি। কিন্তু প্রতিটি লাশকেই শেখ হাসিনা আওয়ামী বলে প্রচার করেন। যদিও খালেদা জিয়ার সরকার বলেছে এরা নিরীহ পথচারী। এবার কথা হচ্ছে এসব লাশকে টাকাতে কেনা হতো। কর্মসূচীর দুইতিনদিন আগে ঢাকা শহরের সকল পেশাদারী খুনীদের কাছে অগ্রিম টাকা পৌছে দেয়া হতো। খুনীদের বলা হতো আমাদের আগামী কর্মসূচীর নির্দিষ্ট দিনে লাশ চাই। মানুষের লাশ হোক সে যে কোন মানুষের লাশ। লাশের খবর না আসা পর্যন্ত শেখ হাসিনার পানাহার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকতো। ততক্ষণ তিনি চা বা ফেনসিডিল খেতেন, আর লাশের অপেক্ষায় উৎকন্ঠার মাঝে সময় পার করতেন। লাশের খবর শুনলেই বলতেন, আমার ক্ষুধা লেগেছে খাবার লাগাও। অতপর খাওয়া শেষে ও সুখের নিদ্রা দিয়ে তৈরী হয়ে হাতে রুমালে গ্লিসারিন মাখিয়ে যেতেন ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে মর্গে লাশ দেখতে। মর্গে লাশ দেখে রুমাল চেপে ধরতেন আর ফটো সাংবাদিকরা ছবি তুলতো। “লাশ দেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অশ্রু সংবরণ করতে পারলেন না” এই ক্যাপশন দিয়ে সে ছবি পত্রিকায় ছাপা হতো।” (মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেনটুর আমার ফাঁসি চাই, পৃষ্ঠা ১২০-১২১)। এই আমাদের বাংলাদেশ আর এই জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা। ঐসব লাশ ছিল এ নেত্রীর জমা, বহু আকাঙ্খার ফসল।

মনিবজমিনের কলামটি দেখে আৎকে উঠি আর ভাবি কতটুকু অন্ধকারে থাকলে এরকম মিথ্যা প্রচার চলছে মিডিয়াতে। এসবের নিরব দর্শক আল্লাহ কিভাবে যে এত অনাচার সয়ে যাচ্ছেন এক আল্লাহই বলতে পারবেন। আমরা যারা এটি জানছি সেদিন থেকেই এর চাপা কান্নাতে মরছি। মানবজমিনের কলামে ছিল আসলেই শেখ হাসিনা একজন মমতাময়ী মা। একজন মমতাময়ী বোন। একজন সফল মানুষ! তাই কি? এরাই একবিংশ শতকের সফল কিন্তু বিধাতার কাছে এরা নির্ঘাৎ হবে আগুণের খোরাক। এই প্রধানমন্ত্রীই সারাক্ষণ আইনের কথা বলে নীতির কথা বলে। বিচার করবো, নানান হাঙ্কিপাঙ্কি তার আচারে আচরণে। কিন্তু তার বিচার যে কিভাবে হবে এক আল্লাহই জানে ভালো। সম্প্রতি শুনছি আইন হচেচ্ছ যারা ইতিহাস বিকৃত করবে তাদের আইনের আওয়ায় আনা হবে। সেটি মানে ইতিহাসের স্ট্যান্ডার্ডটি কি হবে? তাদের মনমত মিথ্যাচার দিয়ে সাজানো ইতিহাস হতে হবে, অন্যথায় এসব গ্রহণযোগ্য হবে না। যেমন তিনি অবৈধ পথে আসলেও তাকে মেনে নিতে হবে। এর অন্যথা যারা করবে তাদের আইন দিয়ে কাবু করা হবে। স্বাধীনতার পর থেকেই চলছে বড় মাপের ইতিহাস বিকৃতির ইতিহাস আর এটি বড়মাপে করে চলেছে বর্তমান আওয়ামী অনুগতরা। এরা নষ্ট হয় বলেই মানুষ নতুন পথ খুঁজে নেয় আর বিএনপির জন্ম হয়। শেখ মুজিব নিহত হওয়া পর্যন্ত বিএনপির কোন অস্তিত্ব ছিল না। বিএনপি অনেক পরের সৃষ্টি। কারণ আমরা নিজেরাই দেখেছি স্কুল কলেজে পড়া আমাদের ছেলেপেলেরা সব সময় ভুল ইতিহাস নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। যে ইতিহাস আমরা নিজেরা চোখে দেখে বড় হয়েছি তারা ভিন্ন ইতিহাস বলতো যা বিশে^স করতে যে কোন সচেতনেরই কষ্ট হবে, আমাদেরও হয়েছে। এই প্রধানমন্ত্রীই হচ্ছেন ভুল ইতিহাসের মাতা। তার চোখে জিয়াউর রহমান রাজাকার, ভাসানী অচেনা, কর্ণেল ওসমানীর কথা জাতি ভুলে গেছে। সত্যিই রাজনীতিতে এমন অপকর্মের রানী পৃথিবীর ইতিহাসে সত্যিই বিরল।

আন্ধা সাংবাদিক: কিছু সাংবাদিক আছেন এরা মগজ বিক্রি করা দালাল প্রজাতির বললে ভুল হবে না। এরা এদেশের নয়, পড়শির ভাড়া করা দালাল, ঠিক সরকারের মতই। এদের চাল চলন বলন শুনলে দেখলেই চেনা যায়। এত বিপর্যয়েও তারা মহাখুশী, মহাভারতসম গদ্য রচনা করে চলেছেন। এত উঁচু মানের ষড়যন্ত্রী সরকারের প্রশংসায় এরা পঞ্চমুখ। যে বা যারা দুকথা সত্য বলবে তাদের মুখে সাটার লাগিয়ে দিতে চায়। যথেষ্ঠ সংখ্যক হিন্দু সাংবাদিকরা এ অর্জনে আগুয়ান, তারা খুব কম নিরপেক্ষ চিন্তা করতে পারে। তাদের পছন্দ আওয়ামী লীগ, তারা মনে করে এটি তাদের জীবন মরণের দলিল। এরকম একজন ভক্ত সাংবাদিক স্বদেশ রায় তিনি এক নেত্রীকে আকাশে তুলতে গিয়ে মিথ্যাচার করতেও পিছপা হচ্ছেন না। বিডিনিউজ ২৪ ডট কমে “দুই নেত্রী কথাটি ষড়যন্ত্রের ফসল” ৩০ মে ২০১৭ কলামে  প্রচার করেন যে তার মহান নেত্রী নাকি ছিলেন বাংলাদেশের সব থেকে বড় মহিলা কলেজের নির্বাচিত ভিপি। তার এটি জানা উচিত ছিল যে এটি তার নেত্রীর হাজার মিথ্যাচারের এক মিথ্যাচার। “শেখ হাসিনা কখনোই রাজনীতির ধারে কাছেও ঘেষেনি। যদিও সাম্প্রতিককালে এক সময়ে শেখ হাসিনা ইডেন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভিপি ছিলেন বলে প্রচার চালানো হলেও কবে কখন বা কোন সালে তা প্রচার হয়না। বরং শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন না, এটি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের প্রায় অনুষ্ঠানেই  তিনি বলেন” (রাজনীতিতে শেখ হাসিনা, আমার ফাঁসি চাই মতিয়ুর রহমান রেন্ট,ু ৩৯ পৃষ্ঠা)। তা ছাড়া এর উপর অনেক লেখা তথ্য ফেসবুক কমেন্ট পড়েছি জেনেছি এটি শুধু স্বদেশ রায়ের সাংবাদিকতার দীনতাই নয় বরং চাটুকারিতার মাত্রাজ্ঞানহীনতা বলেই মনে করছি। এভাবে তারা ও তাদের নেত্রী বহুভাবে মিথ্যাচারের স্মৃতিসৌধ নির্মান করে চলেছেন তা তাদের স্মৃতিতে আটকা পড়ে না। নেত্রীকে অধিষ্ঠিত করতে নিজের দৈন্যতা ছাপিয়ে কৌশলে ইকোনমিষ্ট পত্রিকার সাংবাদিকতার উপরও ছোবল মারেন। আগডুম বাগডুম ঘোড়ারডুম বলে বলেন আজ আর নানা কারণে পুরোপুৃরি সত্য লিখতে পারছি না, তবে শেখ হাসিনা আকারে ইঙ্গিতে তা বলেছেন। “এদের কাজ হচ্ছে মানসিকভাবে বাংলাদেশীদের ভারতীয়করণ করা। এদের হাতে রাখার জন্য ভারত প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪০ মিলিয়ন টাকা ব্যয় করে থাকে। ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন টাকা সাংস্কৃতিক সংস্থাকে এগিয়ে নিতে। অর্থাৎ ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন টাকা এভাবে তাদের রাজনৈতিক প্লাটফর্মে আসে” এটি প্রকাশিত হয় দ্যা নিউ ন্যাশন পত্রিকায় ১৯ ডিসেম্বর ১৯৯৬ সংখ্যায়। ইনকিলাবের ৩০ এপ্রিল ৯২ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় “র”এর মাধ্যমে প্রায় চার কোটি ৫০ লাখ রুপী পাঠানো হয় এবং দেয়া হয় এমন একটি দলকে যারা ঐ সময় (১৯৯১ সালে) পরাজিত হয়।” বস্তুত ইনকিলাবের এ উপস্থাপনা ছিল ঐ সময় দিল্লীর ডেট লাইনের খবরের শিরোনাম ছিল “গোপন অভিযানের অজুহাতে “র” কর্মকর্তারা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান চালু করেছে। আর আপনারা নিশ্চয় জানেন “জনকন্ঠ” নামের পত্রিকাটিও ছিল তাদের বড় মুখপাত্র। এরা এভাবে এদেশে গড়ে তুলে বৃটিশের আদলে আরেক কাসিম বাজার কুঠি, বঙ্গভূমি নামে চিত্তরঞ্জন সুতার থাকেন এর নেতৃত্বে। উপরে যে লাশগুলি পড়তো, টাকার অভাব হতো না, ভুতে যোগাতো দেশটিকে অস্থিতিশীল করতে। এদের বলা হয় দেশপ্রেমিক এরা হচ্ছে দেশের প্রধান শত্রু, দেশদ্রোহী।

শেখ হাসিনা ক্রমাগত কথা বলে চলেছেন তার কয়টি কথা সত্য তিনি বলেন? তাকে ১৯বার মারার চেষ্ঠা করা হয়েছে। এ কথা বলে তিনি নিজেকে মূল্যবান দেখাতে চান। তিনি বুঝাতে চান তার মত মূল্যবান আর কোন জাতি প্রজাতি এ দেশে জন্মায় নি। যদিও সারাদেশে মানুষ মেরে তিনি লাশের বানিজ্য চালাচ্ছেন আর নিজের ওজন বাড়াতে নিজেকে এসব কথা বলে নিলামে তুলছেন। এসব চেপে রাখা ইতিহাস প্রকাশ করা সময়ের দাবী। “শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলি” শিরোনামে “১৯৯৪ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর শনিবার ট্রেনে বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি গুলি করা হয়েছে বলে জাতীয় পত্র পত্রিকায় সংবাদ বের হলে, বগুড়া সরকারী সার্কিট হাউসের ভি আই পি রুমে বসে জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সফর সঙ্গিরা (যারা প্রকৃত ঘটনা জানে) হাসাহাসি করতে থাকে এবং হাসাহাসির এক পর্যায়ে গুলির এই ঘটনা নিয়ে পরদিন হরতাল ডাকার সিদ্ধান্ত হয়” (একটানা ১৬ বছর হাসিনার প্রাইভেট সেক্রেটারী হিসাবে নিয়োজিত মতিয়ুর রহমান রেনটুর ‘আমার ফাঁসি চাই’ গ্রন্থের ৭৫ পৃষ্ঠা থেকে)। এভাবে এসব প্রমান, মিথ্যাচারী চাটুকারদের লেখা থাকে সম্পূর্ণ একগাদা মিথ্যাচারে ভরা।

যে জিয়াউর রহমান মৃত আওয়ামী লীগসহ জাতির সব মৃত পার্টিকেই পুনর্জীবিত করেন সেটি তারা স্বীকার করতে অপারগ। এখানেও মিথ্যাচার খালেদা জিয়া কিভাবে গাজিপুরে লুকিয়ে ছিলেন এসব গাজীর গীত তিনি শুনান, জানি না এত রসদ কোথা থেকে যোগাচ্ছেন এ সাংবাদিক। বড় কসরতে তিনি প্রণান্তর চেষ্ঠা করছেন যে হাসিনা নন, খালেদা হচ্ছেন এরশাদের দোসর। এসব লাওয়ারিশ কথার কোন জবাব হয়না। এরা জাতিকে ঘোলের জল খাওয়াতে খাওয়াতে একদম মৃতবৎ করে তুলেছে। এরা জাতির শ্মশান যাত্রার অপেক্ষায় প্রহর গুণছে।  জাতির সতর্ক সন্তানরা টানা সাইরেন ধ্বনি বাজিয়ে গেছেন ক্ষনে ক্ষনে সব ধরণের ধড় পাকড়কে এড়িয়ে গিয়েও। নষ্ট চেতনার নামে আপনারা ঘোরে সময় পার করেছেন, ঐ চেতনা হচ্ছে ভারতীয় চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয়। অতি অসাম্প্রদায়িকতার কারণে বাংলাদেশীরা আজ ধ্বংসের শেষ সোপানে এসে পৌচেছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য শুধু সাংবাদিকদের বেলায়ই নয়, সবদিন সাহিত্যিকদের মাঝেও হিন্দুরা সংকীর্ণ ও একপেশে, রবীন্দ্রনাথও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। এরা সবদিনই বেশীর ভাগই এক পক্ষের জন্য বরাদ্দ। এর প্রধাণ কারণ মহৎ ধর্মের বানী সেখানে বাতিল। গরুরা যেখানে পূজ্য সেখানে মানবতা পৌছতে পারে কম।  ভারতে মানুষ হত্যা সেখানে সাধারণ ঘটনা কিন্তু গো হত্যা রোধে সম্প্রতি গরুর পরিচয়পত্র বিলি হচ্ছে। দৃশ্যত হিন্দুরা গরু খাননা। কিন্তু গবেষনা বলছে অনেক হিন্দুও গরু বা মহিষের মাংস খান, এবং মহিষ বেশী খান। ভারতের দ্য ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিস (এনএসএসও) জরিপ তথ্যে পাওয়া এ তথ্য। বাংলাদেশে আমার এক হিন্দু ফ্রেন্ড বলতো তার বাবা কখনো হিন্দু মুসলিম হোটেল পাশাপাশি থাকলে মুসলিমটাতেই ঢোকেন, তার পছন্দ মুসলিম হোটেল। তার এটি বলার কারণ যেদিন ব্যতিক্রমী কিছু রান্না হতো, সেও হোষ্টেলে আমাদের মাঝে এসে চুপিসারে ঢুকে পড়তো যাতে আমাদের সাথে সে শরিক হতে পারে। তার ভয় একটাই ছিল যেন বাকীরা তাকে না দেখে। না দেখলেই হলো, অন্য হিন্দুরা না দেখলেই ঠিক আছে।

ভারতে গরু ও মুসলিম: তবে মুসলিম প্রধান অঞ্চলেই গরুর জন্য যত আইন। দেখা যায় অনেক সময় অন্য ধর্মাবলম্বীরা গরুর মংস খেলেও ক্ষতি নেই। গরুর জন্য অ্যাম্বুলেন্স হচ্ছে কিন্তু দরিদ্র মানুষের জন্য মানবেতর জীবন দৃশ্যমান। অসংখ্য উদাহরণ ভাইরাল হচ্ছে স্বজনদের কাঁধে নিয়ে ফিরছেন স্বামী, কেউ সাইকেলে, কেউ হেটে। গরুর দুধ বিক্রেতাকে হত্যা করা হচ্ছে হত্যার অভিযোগ এনে, সম্ভবত তারা মনে করে জ্যান্ত মুসলিম মারলে মাটির দেবতার কীর্তন হয়। এত কষ্ট ধারণ করে এক মুসলিম তার সন্তানের বিয়েতে গনেশের মূর্তি দিয়ে পত্র ছাপিয়ে হিন্দু বন্ধুকে নেমন্তন্ন করেছে। এসব থেকে কি হিন্দুরা কিছু শিখবে? শিখবে বলে মনে হয় না, কারণ শিখলে তারা কম সুযোগ পায় নাই তাদের দেশে মুসলিমরা কয়েকশ বছর ধরেই শাসক ছিল, মহৎ ধর্মের বানীকে উপরে তুলে ধরাতে তারা তৎপর ছিল, তার প্রমাণ ইতিহাস। যদিও তাদের মুখে ও তাদের ইতিহাসে এর স্বীকৃতি কম। কারণ তারা মহৎ ধর্মে বিচরণ করেছে কম। তাই সংকীর্ণতা কাটাতে পেরেছে কম, যে গুরুদেব নামধারী উচ্চ পদে অধিষ্ঠিতদের এটি কাটাবার কথা ছিল তারাই পারে নাই। এটি তাদের চিরজনমের লজ্জা! অসাম্প্রদায়িক মুসলিমরা অতি অসাম্প্রদায়িকতা দেখাতে গিয়ে সবদিন তাদের দুর্নাম ঢেকে রেখেছে। তাই আমার কলামের নাম হয়েছে “সত্য বলা ছাড়া বিকল্প দেখছি না।” এসব স্পষ্ট করা সময়ের দাবী। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন যথেষ্ট অত্যাচারী জমিদার। তার পিতা গুন্ডা নিয়োগ করেন স্বজাতির একজন উদারবাদী হিন্দুকে হত্যা করতে কারণটি ছিল তিনি ছিলেন উদারবাদী কাঙ্গাল হরিনাথ। মিথ্যা যুক্তি সবাই প্রচার করেন রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। কোন মুসলিম তাদের পুকুরও মাড়াতে পারতো না। শান্তিনিকেতনে মুসলিমরা পড়তে পারতো না। কিন্তু মুসলিমদের সাহায্য সহযোগিতা সেখানে গ্রহণ করা হতো। তখন ভারতের নিজাম বাহাদুর শান্তিনিকেতনে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন, যার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠেকায় পড়ে হাতেগুণা কয়জন মুসলিমকে ভর্তির সুযোগ দেন। এদের মাঝে একজন সিলেটের সৈয়দ মুজতবা আলী। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তার জমিদারিতে কোন স্কুল স্থাপন করেন নি, এ অভিযোগ আহমদ শরীফসহ অনেকেরই। প্রসঙ্গ রবীন্দ্র: কবি জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিতে শান্তিনিকেতন , কবি জসিম উদ্দিনের সাথে তারা কি আচরণ করেছিল যার প্রেক্ষিতে তাকে শান্তিনিকেতন ছাড়তে হয়। 

নাজমা মোস্তফা ০৬ মে, ২০১৭ সাল।

২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা

না জ মা মো স্ত ফা

3

প্রতি বছর একটি দিনকে বিশ্ব তামাক-মুক্ত দিবস হিসাবে পালন করা হচ্ছে। দেখা যায় ১৯৮৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক গ্লোবালী সমস্ত বিশ্বে সাড়া জাগানোর জন্য ৩১শে মে দিবসটিকে পালন করা হচ্ছে। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে যখন বিশ্বের কোথাও তেমন সাড়া ছিল না সে সময়টিতে বাংলাদেশ নামের একটি দেশ থেকে “তামাক বিরোধী আন্দোলন” বনাম “এন্টি টোবাকো মুভমেন্ট” নামের যে আন্দোলনটি এই গোটা অঞ্চলকে নাড়িয়ে দেয়াসহ সমস্ত বিশ্বকে নাড়িয়ে দেবার কথা ছিল, সেটি বিগত শতকেই বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল নানান জট জটিলতায়। স্বাধীনতার শুরুর সময় থেকেই ৭২ সালে তার প্রথম অন্দোলনের স্বরুপে আত্মপ্রকাশ| এরকম একজন সত্য সাধক যিনি বিগত শতকের শেষ সময়টিতে তার রোগীদেরকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করে এরকম একটি আন্দোলন শুরু করেছিলেন কিন্তু এর অগ্রগতি কিভাবে আজও স্তব্ধ হয়ে আছে আর জাতি এর কাল যাতনার মাঝে আকন্ঠ ডুবে আছে। এ বেদনার ভারে ভারী হয়ে উক্ত লেখক তার পরবর্তী গ্রন্থ “সেতুবন্ধন”এ এ-ব্যাপারেও বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করে গেছেন।

একবিংশ শতাব্দীর দোয়ার মাড়াচ্ছি আমরা। সমাজ সভ্যতা ইতিমধ্যে সিগারেট পেরিয়ে আরো বহুদূর এগিয়ে চলেছে। ২০১০এ বাংলাদেশে গেলে আমি খেয়াল করছিলাম জনতারা এখনো বেশী হারে এটি খাচ্ছে নাকি কিছুটা কমেছে। আমার কাছে মনে হলো মনে হয় কিছুটা কমেছে। কিন্তু অনেকের ধারণা মতে কমে নি। কারো কারো মতে আগে জনতার তাগাদা ছিল সিগারেটের রসদ জোগানো এখন এর বদলে নতুন যোগ হয়েছে “মোবাইল ফোন বা সেলফোন” নামক খরচের উপাদানটি। এখন খোদ বাংলাদেশেও সবার হাতে হাতে টেলিফোন নামের সেই হ্যালো বলার যন্ত্রটি অপেক্ষায় আছে। অনেক বিপদে এটি বন্ধুর ভূমিকা রাখছে আবার অনেক বাড়তি বিপদ ডেকেও আনছে। বিগত শতাব্দীর বিপদটি ছিল একটি আগুণের কাঠি সচেতন জনতাদের মুখের সামনে জ্বলতো নিরবধি। যখন বিশ্বের কোথাও ধুমপান নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় নি সে সময় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে একজন চিকিৎসককে এর উপর একটি আন্দোলন শুরু করতে দেখা গেছে। সভ্যতার উপাদানের সাথে সুযোগ সুবিধা যেমন বাড়ছে তেমনি অনেক ক্ষেত্রে বিড়ম্বনাও বাড়ছে। সে সময়টিতে ইংল্যান্ড আমেরিকা ভ্রমণ কালে তামাক বিরোধী আন্দোলনের সভাপতি ডঃ এম এ শুকুর ভয়েস অব আমেরিকা ও বিবিসির বাংলা চ্যানেলে এ ব্যাপারে তার সুচিন্তিত বক্তব্য রেখেছিলেন, সেটি সম্ভবত ১৯৮৮ সালের কথা।

কৃষিনির্ভর দেশ বাংলাদেশ। চালের মূল্য সেখানের জীবনের সাথে জড়িত এক উল্লেখযোগ্য বিষয়। ভোটের সময় রাজনেতারা চালের মূল্য সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিলি করলেও ভোট পরবর্তী সেটি এডিয়ে যাবার উল্টোনীতি জনগণকে ক্লান্ত ও বিপদগ্রস্থ করে তুলেছে বলেই লক্ষ্য করা গেছে। এরকম একটি খবরের শিরোনাম হয়েছে “খাদ্য উৎপাদনের বদলে তামাক চাষ: কৃষিমন্ত্রীর নজর নেই”। সীমিত ভূমির দেশ বাংলাদেশ, সেখানের কৃষির ভূমি কমে যদি হৃদয় পুড়ানোর রসদ তৈরীতে সেটি লাগানো হয়, সেটি জাতির জন্য দুঃখজনক অধ্যায়। অতীতে শোনা যেত বর্ডারে দেশের মূল্যবান জিনিস চলে যেত বর্ডার পেরিয়ে, বিনিময়ে আসতো ফেনসিডিল বা পাতার বিড়ি। আজও অবস্থান নিশ্চয় বদলে যায় নি, বরং ধারণা হচ্ছে এসব আরো বেড়েছে।

ব্যবসার মুনাফা লাভে ব্যস্ত দেশী বিদেশী কোম্পানীগুলি কৃষকদেরে নানাভাবে সাহায্যের প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের কার্য হাসিলের প্রচেষ্ঠায় এযাবত রত থেকেছে। এমনকি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও তামাক উৎপাদনে সহযোগিতা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ জমেছে। খবরও শিরোনাম হচ্ছে যে, খাদ্য শস্যের বদলে তামাক চাষ হচ্ছে, এরকম নরক যাতনা থেকে আজকের দিনেও জনতারা বেরিয়ে আসতে পারছে না। কেন এমনটি হচ্ছে? ইতিহাস বলে এই ভূমিতে এককালে জনতারা নিজেদের শস্য চাষের বদলে নীলকুঠির সাহেবদের তত্ত্বাবধানে নীল চাষের আস্তানা গড়ে তুলেছিল। উপরের বর্ণিত আনুসাঙ্গিক খবরের উপদেশটি ছিল কৃষিমন্ত্রী যেন রাজনৈতিক বকতৃতার বদলে কৃষির দিকে নজর দেন। জানা যায় ২০১০ এ উত্তরাঞ্চলে প্রায় এক হাজার একরেরও বেশী জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে।

বস্তুত তামাক এক ধরণের নেশাদ্রব্য, এমন কোন কৃষি উপাদান নয় যা দিয়ে জীবন ধারণ করা হয়। বরং বলা চলে এর দ্বারা মরণের সবকটি দরজাতে টোকা দেয়া হয়। বলা চলে জেনে শুনে বিষ পান করার এ এক অদভুত প্রক্রিয়া। সে হিসাবে যারা সেখানে ব্যবসা করছে তাদের উপর সে দেশে হাসপাতালে উপস্থিত সব রোগীদের তামাক জনিত রোগের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায় দেয়া জরুর। কারণ লাভের গোলা শুধু এক জনের খাতায়ই উঠবে, এ কেমন কথা? নয়তো খুব সহজে এসব অমানবিক উৎপাদন মরণ নেশার উপাদান হিরোইনসম আপদ থেকে জাতি নিরাপদ দূরত্বে থাকুক, এ ব্যবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষের চিন্তা করা উচিত।

এসব খবর শোনার সাথে সাথে মনে পড়ে সেই সচেতন চিকিৎসকের কথা যিনি বিগত শতাব্দীতে গ্রাম থেকে বলতে গেলে তার একক প্রচেষ্ঠাতে এ কাজটি শুরু করেছিলেন। সেখানের জনতাদের হাতে সেদিন যদি আজকের এই হ্যালো বলার যন্ত্রটি হাতের কাছে থাকতো হয়তো সেদিন অতি অল্প পরিশ্রমে প্রতিটি দুয়ারে তড়িৎ খবরটি পৌছে যেত। বস্তুত সেদিন ঐ চিকিৎসকের প্রতিটি প্রেসক্রিপশনের নীচে লেখাই ছিল “সর্বরোগে এবং সর্বাবস্থায় বিড়ি, সিগারেট, তামাক, তামাকের পাতা ও জর্দা নিষেধ”। পরবর্তীতে বাংলাদেশের সিগারেটের প্যাকেটে সতর্ক সংকেত সম্পর্কীত নির্দেশ এর অনেক পরের ঘটনা।

তিনি একজন ডাক্তার তার রোগীর রোগ যাতনার মাঝে প্রত্যক্ষভাবে একজন গবেষক হিসাবে এর শিকড় সূত্রটি খূঁজে পান। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তী ধাপ হিসাবে তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন এক ব্যতিক্রমধর্মী আন্দোলনে। সিলেটের সীমান্ত অঞ্চলের ধার ঘেষে বড়লেখার “মিশন হাউস” থেকেই শুরু হয় তার সেই প্রচার। প্রথমে সেটি ছিল ঘরোয়া পরিবেশে আত্মীয় পরিজন, পাড়া পড়শি এবং সর্বোপরি তার নিজের রোগীদের নিয়ে পরিচালিত শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার এক নিরলস প্রচেষ্ঠা হিসাবে। এতে পাড়া পড়শিসহ অনেক আত্মীয় পরিজন ও এর বাস্তব প্রয়োগে উপকৃত হন। সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি জাতির সেই সূচনা লগ্নেই এভাবে একজন ডাক্তার তার নিজস্ব রোগীদের মাঝেই এ কর্মকান্ড চালিয়ে যান প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে।

তার কাজের মাঝে ধূমপানের এসব নেতিবাচক ভূমিকা ও সম্মুখ ময়দানে তার অগণিত রোগীদের দূর্ভোগ, তা ছাড়াও ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকেও গবেষকমনা এই চিকিৎসক তার গবেষণার, চিন্তার, ব্যাপ্তিকে প্রসারিত করেন। তার গবেষনাতে তিনি নিজেই চলমান জীবনের সাথে যাচাই করে এর সূত্র সম্বন্ধে বহুগুণ বেশী আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠেন। এটা তার কাছে অত্যন্ত জীবন্ত হয়ে উঠে যে, ভয়ানক বিপর্যয়কর এ জটিল জিনিসটা সম্বন্ধে নিশ্চয়ই পবিত্র গ্রন্থ আলকোরআনে ইঙ্গিত থাকতে পারে। এখানে দেখা যায় এই চিকিৎসক মরণের বিষাক্ত রাস্তা থেকে তার প্রাণপ্রিয় রোগীদেরে বাঁচানোর জন্য, জনতাকে জুলুমের পথ থেকে উদ্ধারের জন্য আপ্রাণ সাধনা করে গেছেন। বড়লেখা অঞ্চলে এ নিয়ে গত শতাব্দীর শেষ লগ্নে বলতে গেলে শেষ দুটি দশকে এ নিয়ে অনেক, সভা সমিতি, আলাপ, আলোচনাসহ খোদ রাজধানী পর্যন্ত এ আন্দোলনের ঢেউ খেলে যায়।

তার এ ভূমিকার মূল কারণ একদিকে ছিল চোখের সামনে রোগীদের ভোগান্তি পর্যবেক্ষণ আবার পাশাপাশি তিনি ধর্মের গবেষনাতে বহুদিন থেকে একটি গাছের পরিচিতিও খুঁজছিলেন। তার মতে যেটি এ যাবত ধর্মের অনুসন্ধানেরও কোন ব্যক্তি সঠিক ভাবে চিহ্নিত করতে পারেন নাই। সেটি একটি গাছকে আল্লাহ কুরআনে নিষিদ্ধ করেছে যা মানব জাতীর ধ্বংসের সমূহ কারণসূত্র হবে। এটি তার বহুদিনের চিন্তার ও গবেষনার আলোতে পাওয়া একটি ব্যতিক্রমী আবিষ্কার ছিল। তিনি বলতেন এ গাছই সেই গাছ যা খেয়ে আমরা আল্লাহর আইন অমান্য করে চলেছি। আমি কথাগুলো আমার নিজের ভাষাতে বলছি এসব লেখা স্বাধীনতাউত্তর দেশে বিদেশে বিভিন্ন পত্রিকার কলামে ছাপা হয়েছে। আশা করি তার নিজের লেখা কলাম “নিষিদ্ধ বৃক্ষ” লেখাটি আমি পরবতীতে আনবো পাঠকের জন্য।

মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মত একটি খবর আমাকে আকৃষ্ট করে। খবরটি গুরুত্বপূর্ণ বলে এখানে সংযোজন করছি। আজ ২০১০ সালের ৩০ মার্চে পাওয়া একটি ইনফরমেশন নিউজ ডট কম ডট এ ইউ সাইটে খুঁজে পাই যা এই সিগারেট সম্বন্ধীয় সংবাদের সাথে জড়িত। খবরে প্রকাশ সেখানে সিগারেটের ফিল্টারে শুকরের রক্ত ব্যবহারের আলামত খুঁজে পাওয়া গেছে কিছু গবেষনাতে। অষ্ট্রেলিয়ান একজন বিশেষজ্ঞ ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সতর্ক করে দিয়ে তার ভেতরের জটিল বাস্তবতাকে তলিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। সিডনী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিষয়ের প্রফেসর সিমন চ্যাপম্যান সম্প্রতি ডাচ্ রিসার্চে পাওয়া এ তথ্যটি দেন যে, ১৮৫ টি প্রতিষ্ঠান শুকরকে ব্যবহার করছে, তারা সিগারেটের ফিল্টারে শুকরের ঐ হিমোগ্লোবিন ব্যবহার করছে। প্রফেসর চ্যাপম্যান বলেন এ ধরণের গবেষনা বিশ্বের সিগারেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ভিতরের চিত্র তুলে ধরছে। গোটা বিশ্বের সচেতন মুসলমান, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সবজিভোজী সদস্য ও ইহুদীরা শুকর সম্বন্ধে অনেক সতর্কতা মেনে চলেন। সমস্যা হচ্ছে তামাক কোম্পানীগুলো তাদের উৎপাদিত সিগারেটের সব উপাদান ব্যাখ্যা করে না, উপরন্তু তারা দেখায় এটি তাদের ব্যবসায়ীক গোপনীয়তার একটি রক্ষাকবচ। ডাচ্ গবেষনায় সেখানে একটি হিমোগ্লোবিন ধরা পড়ে যা ঐ সিগারেটের ফিল্টার তৈরীতে রক্তের প্রোটিন হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে । আরো বেশ কিছু ক্যামিক্যালও ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্ততঃ গ্রীসে একটি সিগারেট ব্রেন্ড নিশ্চিত বিক্রি হচ্ছে যেটাতে সিগারেটে হিমোগ্লোবিন ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রফেসরের বক্তব্য হচ্ছে তুমি যদি ইসলাম বা ইহুদী ধর্মধারী হয়ে থাক এটি জানার অধিকার তোমার আছে যদিও এখানে কিছুই সুস্পষ্ট নয়। “সিগারেট মে কনটেইন পিগ ব্লাড” খবরের শিরোনামে উল্লেখ্য তিনটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। (১) গবেষনাতে পাওয়া সিগারেটে রক্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। (২) গোটা বিশ্বের সিগারেট তৈরীর ভিতরের তথ্য (৩) বিষয়টি মুসলিম ও ইহুদীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

লেখাটির নীচে পাঠক মন্তব্য অনেক ছিল। ভালো মন্দ অনেক, তার কিছু আমি এখানেও আনছি। যেমন সিগারেট থেকে ৪০০০ এরও বেশী ক্যামিক্যালস তৈরী হয়। একটি সিগারেট পুড়াতে ৬৯ ধরণের ক্যামিক্যালস ক্যানসারের জন্য দায়ী। এবার আমরা শুকরের রক্তে শ্বাস নিচ্ছি। বিষের উপর বিষক্রিয়া। এবার কি এর বদলে অপিয়াম ও হাসিস ধরতে হবে। সিগারেটখোরদের জন্য এটি হোক শেষ অস্ত্র। সিডনী পোষ্টে ৩০ মার্চ ২০১০ এ এক পাঠকের মন্তব্য ছিল এক বিলিয়ন কাষ্টমার সিগারেট গ্রহণ ছেড়ে দিয়েছে। এভাবে অনেক অনেক খাবারে তারা শুকরের রক্ত জুড়ে দিচ্ছে, এবং তা হচ্ছে আইসক্রিম, চিউইং গাম, ডেনচার গ্লু, ও রাইস ক্রেকারে। সিগারেট একটি খারাপ অভ্যাস এবার এটি আরো নষ্টের অধঃপাতে যাচ্ছে। একজন হিন্দু মন্তব্য করেন এবার কি বিকল্প হিসাবে গরুর রক্ত দিয়ে পরিবর্তন আনা হবে? তার উদ্বেগের কারণ সে পাঠক গরু খান না। সিগারেটখোরদের জন্য এটি অবশ্যই ভয়ের কারণ তারা আরো অনেক ক্যামিক্যালই এভাবে গলাধঃকরণ করছে। এটি তাদের জন্য একটি দূর মেয়াদী আত্মহত্মা “সুইসাইড ইন দ্যা লং রান”।

সবার শেষে উপরের লেখক একজন সমাজকর্মী, ডাক্তার যিনি বিগত শতাব্দীতে এই জটিল বিষয়টির উপর ভিত্তি করে তার ভোক্তভোগী রোগীদের বাস্তবতা উপলব্ধি করেন। তাই তিনি এই আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন বাংলাদেশে মত একটি উন্নয়নশীল দেশের সিলেট অঞ্চলের একটি গ্রামীন পরিবেশ থেকে। তার আন্দোলনটি শুধুমাত্র একটি ধূমপান বিরোধী কার্যক্রমই ছিল না। এটি ছিল আরো ব্যাপক কারণ এটি ছিল তামাক বিরোধী আন্দোলন, তার মানে এতে শুধু সিগারেটই নয় তামাক সম্পর্কীত প্রতিটি বিতর্কীত জিনিস যেমন গুল, বিড়ি, দোকতা, জর্দার মত প্রতিটি তামাকজাত দ্রব্যের বিরুদ্ধে সেদিন তিনি উচ্চকন্ঠ ছিলেন। সেটি ছিল ঐ সময়ে এক ব্যতিক্রমধর্মী কঠিন সংগ্রামের সূচনা। তার গবেষনার বিষয়টি আজো আমার চিন্তাকে দারুণভাবে নাড়া দেয় সেটি হচ্ছে সে সময়টির থেকে বেশ দূর চলে যাওয়ার পর, আমিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একজন গবেষক ছাত্রী হিসাবে ২০০০ সালের দিকে গবেষণার কাজের বিষয়ে এক পর্যায়ে কথা প্রসঙ্গে আমার এমফিলের গাইড ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের ঐ বিভাগীয় শিক্ষিকা হাবিবা আপার কাছে এ তামাক গাছটি সম্বন্ধে ও এখানে উল্লেখিত বক্তা ও তার গবেষনায় পাওয়া বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম। তখন তিনি আমাকে চমকে দিয়ে একটি দারুণ মন্তব্য করলেন। বললেন লন্ডনের এলবার্ট মিউজিয়ামে তিনি নিজে একটি গাছের ছবি দেখেছেন এবং গাছটির নীচে পরিচিতি হিসাবে লেখা ছিল “গনদুমের গাছ”। গনদুমের গাছ দেখে তিনি নিখুতভাবে সেটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পারেন, সেটি দেখতে একদম তামাকের গাছ। তিনি সেদিন জোর গলায় বলছিলেন নির্ঘাৎ মনে হয় এটি ঠিক তাই, হয়তো ঐ ছবিটি এ কথাটিই বলেছে। সেদিন আমার শিক্ষিকার এ মন্তব্যটি যেন ছিল নির্ঘাৎ আরো একটি চমক লাগানো স্বীকৃতি। কথাটি শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি এবং এ গবেষনার আবিষ্কারটির কথা স্মরণ করে রোমন্থিত হয়েছিলাম। সকল প্রশংসা আল্লাহরই। ভবিষ্যত হয়তো এর সঠিকতা সত্যতা একে আরো জীবন্ত ও আরো সুস্পষ্ট করে দিবে।

কিন্তু এই আন্দোলনের সভাপতির স্বপ্ন, সাধনা সবই তার মুত্যুর সাথে সাথে বা তার কিছু আগে থেকেই নানান ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পড়ে। সমাজ এরকম একটি আন্দোলনের সমূহ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হোক এটি ভাবতেও কষ্ট লাগে। এই আন্দোলন নিছক একটি আন্দোলনই ছিল না, এটি ছিল একটি জাতি গঠনের অঙ্গিকারও। পরবর্তী কলাম ঐ আন্দোলনের সভাপতির লেখা বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন, ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব?, নিষিদ্ধ বৃক্ষ , পড়তে পারেন।

২৭ মে ২০১৩ সাল তারিখে এ লেখাটি `আমার দেশ ‘অনলাইনে ছাপা হয়।

মাওলানা সাঈদীর বিচারে “গভমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়”

লেখাটি বড় হলেও ধৈর্য্য ধরে পড়বেন প্লিজ! “একজন মানুষকে অন্যায় হত্যা করা মানে সমস্ত মানব জাতিকে হত্যা করার সামিল, আবার একজন নির্দোষকে বাঁচানো পুরো মানব জাতিকে বাঁচানোর সামিল” (সুরা মায়েদার ৩২ আয়াত)।  হে গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকেরা! তোমাদের ধর্মমতে বাড়াবাড়ি করো না সত্য ছাড়া (মায়েদার ৭৭ আয়াত)। “আল্লাহর বৈধ জিনিস অবৈধ করো না, বাড়াবাড়ি করো না, আল্লাহ ভালোবাসেন না সীমালংঘনকারীদের” (সুরা মায়েদার ৮৭ আয়াত)। শুরুতে তিনটি কুরআনের বাণীর উদাহরণ টানলাম। ব্যারিষ্টার তুহিন মালিক কিছু প্রসঙ্গ টেনেছেন।  নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি স্পষ্ট করেন যে তিনি সাঈদী সাহেবের দালাল নন, তবে আমরা জানি তিনি সত্যের দালাল। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ২০ টি মামলায় ১২টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন ৮টির মাঝে মাত্র দুটিতে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। এ দুটো কেইসে  ইব্রাহিম কুট্টির মামলায় বলা হচ্ছে তিনি তাকে হত্যা করেছেন। যার সার্টিফাইড কপিতে দেখা যায় ১৭ জুলাই ১৯৭২ সালে বাদীপক্ষের স্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছিল যাদের বিরুদ্ধে সেখানেও কিন্তু সাঈদীর নাম নেই। আর একটি মামলায় বালী নামের একজনকে হত্যা করা হয়েছে তার ভাই সুখরঞ্জন বালী বারে বারে ইউটিউবে স্পষ্ট তিনি নিজে  বক্তব্য রাখছেন  যে এ হত্যাকান্ডের সাথে কোন সময়ই সাঈদী সাহেব জড়িত নন। পরবর্তীতে আসামীর স্বপক্ষে সাক্ষী দিতে আদালতে আসলে তাকে হাইকোর্টের সামনে থেকে সরকারী হুকুমে কে বা কারা পুলিশ কিংবা র‌্যাব শক্তির দাপটে ধরে নিয়ে যায়। এর জন্য তারা হাইকোর্ট পর্যন্ত গিয়েছে এবং তারা বলছে তাকে পাওয়া যায় নি। পরে সংবাদ মাধ্যমে জানা গেল সে আছে ভারতের কারাগারে। ঠিক যে তালে বিএনপির সালাহউদ্দিন নাটক, শিলং নাটক সাজানো হয়েছিল এটিও ঐ তালে সাজে।

স্বাধীন একটি দেশের জনগণের প্রতিরক্ষায় জড়িত এসব নিরাপত্তা সংকট কিন্তু জমা আছেই, তারপরও ভারতের প্রতিরক্ষার নামে নতুন নতুন আবদারের কমতি নেই। তুহিন মালিক এটি স্পষ্ট করেন যখন আইনকে রাজনীতির গোলাম বানিয়ে দেয়া হয় তখন আর বিচার হয় না হয় রাজনীতি যেটি অতীতে শাহবাগে হয়েছিল। খুব কৌশলে সরকার সেদিন জনতার ইচ্ছাকৃত আন্দোলনকে ছিনিয়ে নিয়ে তার সংকীর্ণ কপটতা দিয়ে অপকর্মে ঠাসা অবৈধকে বিরিয়ানীর প্যাকেটে ঘুষ লুটের খয়রাতে প্রকাশ্যে দিবালোকে ছিনিয়ে নেয়। ভারতও সেদিন ঐ দাগে যোগ দিয়েছে, প্রমান পাওয়া গেছে। মামলায় রায়ের আগে দেখা যায় প্রধান থেকে অধস্তনরা কি রায় হবে সেটি তর্জনী উঠিয়ে ডিরেকশন দেন, রায় এটি হতে হবে, ওটি হলে চলবে না। দেখা যায় মন্ত্রীদের কঠোর অপরাধেও তাদের মন্ত্রীত্ব যায় না। কিন্তু নির্বাচিত মেয়রের বিরুদ্ধে কোন মামলা হলেই তাকে বরখাস্তের নির্দেশ পাঠিয়ে দেয়া হয়। কি মজার দেশ, এক আওয়ামী লীগ একটি মামলা ঠুকে দিলেই হলো, বাকীদের সব প্রাপ্তি শূণ্যে যাবে। প্রথমত ভোটে তিনি যেতেই পারবেন না আর কোন কুক্ষণে বা সুক্ষণে চলে গেলেই কি? তিনি কি সেখানে বহাল থাকতে পারবেন? না, তাকে মূহূর্তে সেখান থেকে বন্দীত্ব শিবিরে পাঠিয়ে দেবার সব অংক আগে থেকেই রেডি করে রাখা, মামলা আর বরখাস্ত হচ্ছে অবৈধ সরকারের বেঁচে থাকার রুপরেখা। যে ইমরান সরকার শাহবাগী নাচে ছিলেন, সরকার খুব দ্রুত গতিতে তাদেরে সরকার মুখো করে উল্টো করে ঘুরিয়ে দিতেও পেরেছে। সেই ইমরানই দুদিন পর স্পষ্ট করেন যে, ব্লগার হত্যা হয়েছে সরকারের মদদে। অনেক অংকেই এরকম যুক্তি এসেছে, সঠিক বিচার হয় না, চেষ্টা হয় জামায়াত বিএনপির দিকে বিচারকে ঘুরিয়ে দেয়ার, সঠিক বিচার কখনোই উদ্দেশ্য নয়।  একই অংক সরকারী সব তৎপরতাতে লক্ষণীয়। এসব মঞ্চনাটকে আগুয়ান অনেকেই চিহ্নিত রাজাকার, যদিও তাদের বিচার বরাদ্দ নয়। এদের নাম সারা জাতি অনেক জানেন।

শাহরিয়ার কবির, প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই আওয়ামী এলজিআরডি মন্ত্রী , তার বাবা  নুরা রাজাকার; দেশের রাষ্ট্রপতিও চরম সংকটে দুর্যোগে দুর্ভোগে দৃষ্টিহীন বোবা। এসব পক্ষপাতিত্ব দেখে ব্যারিষ্টার কামাল বলেছেন অ্যাম্পায়ার নিরপেক্ষ না হলে খেলা যেমন জমে না, ভোটের খেলাও জমবে না। মনুষ্য বিহীন কুকুর পাহারার নির্বাচনকে অনেকেই বলেছেন কুত্তামার্কা নির্বাচন। “গভমেন্ট গেছে পাগল হইয়া, তারা একটা রায় চায়”, “আমি খাড়ায়া যামু আপনি বসায়ে দেবেন। জনগণ দেখুক যে আমাদের মাঝে কোন বোঝাপড়া নাই।” শ্লোকগুলিই উদাহরণ হিসাবে যথেষ্ট। বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে সাবধান বানীটি বারে বারে কুরআনে এসেছে এ কারণে যে আল্লাহ সীমা লংঘনকারীদের ভালোবাসেন না। আর মানুষ এটি বেশী বেশী করে, তাই বার বার এটি সাবধান বাণী হয়ে এসেছে গ্রন্থটির বহু জায়গাতে। এটি সবাই জানেন সাধারণত দলিতরা কোন সময়ই পূজার সুযোগ পায়না। ভারতে তামিল নাড়–র ২৫০ টি দলিত পরিবার মন্দিরে পূজা করতে বাধা গ্রস্ত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে। এতে বোঝা যায় “অতি বাড় বেড়ো না ঝড়ে পড়ে যাবে আতি ছোট হয়ো না ছাগলে মুড়াবে” কথাটি হেলাফেলার নয়। মাওলানা সাঈদীর উপর দেখা বেশ কটি ইউটিউব ছিল যা সরকারের ও বিচার বিভাগের অপকর্ম দেখে বহুগুণ বিস্মিত হয়েছি। কিন্তু এর মাঝে খুব কৌশলে দেখি ওসব সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঐ ইউটিউবগুলোতে প্রমাণগুলি স্পষ্ট ছিল যে আল্লামা সাঈদী ও দেলু শিকদার কখনোই এক ব্যক্তি নন। সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী মামলার বাদী হিসাবে মিথ্যাবাদী সাক্ষ্যদাতা মাহবুবের মুখোশ উন্মোচন নামেও খুউবই সুষ্পষ্ট প্রমানসহ একটি ইউটিউব ছিল সেটিও ইত্যবসরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। মনে হতো ওসব দেখলে পরে আর বিচারের দরকার নেই, যে কোন বিবেকবানই রায়টি স্পষ্ট করে দিতে পারতেন, এত স্পষ্ট ও জীবন্ত ছিল।

দেলোয়ার হোসেন সাঈদী নির্দোষ দেখুনi

তার আরেক সাক্ষী সেলিম এটি স্পষ্ট করেই বলেন যে তিনি কখনোই রাজাকার ছিলেন না। এবং দেলু শিকদারের ভাই লালু শিকদারও স্পষ্ট করেই বলেন যে তিনি যুদ্ধাপরাধী নন। এখানের সবকটি লিংক আমি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং এটি নিশ্চিত হয়েছি যে তিনি কোনভাবেই দোষী নন। বিবিসি বাংলা থেকে প্রকাশিত খবরে জানা যায় বাংলাদেশের ইংরেজী পত্রিকা নিউ এইজের রিপোর্টে প্রকাশ ঢাকাতে তাকে আদালতের সামনে থেকে ধরে নিয়ে ভারতে ঠেলে দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। কলকাতার সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালীকে জিজ্ঞেস করলে জানা যায় সামান্য নামের হেরফের ছাড়া বাকী সবটুকু খবরই সত্য। তারা জেনেছেন সুখরঞ্জন বালা নামে একজন ধরা পড়েছেন। তিনি বলেন হিন্দি ভাষার তালে পড়ে ওটি বালী বালা হতে পারে মাত্র। খবরে বাকী সবকিছুরই সত্যতা ধরা পড়ে। পাঠক নজর দিবেন ঘটনার মূলের দিকে। ১৯৭১ সালে পিরোজপুরের নিহতদের একজন দেলোয়ার শিকদার অরফে রাজাকার দেলু শিকদার। তার ভাই লালু শিকদারের বরাতে জানা যায় ঐ সময় তার ভাইএর অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে মানুষ তার ভাইকে হত্যা করে। এ কথাটি এলাকার লোকজনসহ, তৎকালীন পিরোজপুরের জিয়া নগরের মুক্তিযোদ্ধার নিজ মুখে স্পষ্ট ছিল তারা তাদের ইচ্ছামত তাকে শাস্তি দিতে পারে নাই। এক মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্যে প্রকাশ তখনকার বৃটিশ পিরিয়ডের একজন হাবিলদার কমান্ডার শফিউদ্দিন আহমদ, গোলাম সরওয়ার (উনি যুদ্ধে মারা গেছেন), সাহেব আলী, আবেদ হাবিলদার সবাই সেদিন উপস্থিত ছিলেন। তারা ব্যবস্থা নেয়ার আগেই  বিক্ষুব্ধ জনতারা তার অত্যাচারে এতই অতিষ্ঠ ছিল যে, তাকে পিটিয়ে শেষ করে দেয়। তিনি বলছিলেন, তাদের ইচ্ছে ছিল তাকে ছিলে লবন লাগিয়ে দেয়া। আর অপরপক্ষে দেলায়ার হোসেন সাঈদী নামের মানুষটি এমনই একজন নির্দোষ প্রকৃতির লোক ছিলেন যে মুক্তিযোদ্ধারাই তার সাফাই গাইতে আজো শোনা যায় ইউটিউবে। তাদের মুখে তিনি ছিলেন পিরোজপুরের নয়নের মনি। এটিও স্পষ্ট করেন যে রাজনৈতিক কারণে ঐ কুখ্যাত রাজাকারের স্বপক্ষ শক্তি হয়ে সরকার দেলোয়ার শিকদার নামের এক প্রকৃত রাজাকারকে আড়াল করে নিরপরাধ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে উদ্ধত হয়েছে। আজো নিহত দেলোয়ার শিকদারের পরিবারের সবাই বর্তমান এবং তারা সবাই একবাক্যে সত্য কথাটি বলতে উদগ্রীব কিন্তু সরকারপক্ষ সেটি স্পষ্ট করতে নারাজ। যেভাবে সুখরঞ্জনকে ময়দান থেকে তুলে নিয়ে গেছে একইভাবে তাদেরেও হুমকি ধমকি দিয়ে রেখেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন মুক্তিযোদ্ধারাই রাজাকার দেলোয়ার  শিকদার অরফে দেলু শিকদারকে মেরে শেষ করেছে জনগণের সামনে জনগণের সহযোগিতায় প্রকাশ্য ময়দানে। এতসব জানার পর এটি আমার বিশ^াস করতে কষ্ট হয় নি যে কেন ২০০ মানুষ এ লোকের জন্য মরলো। তারা সম্ভবত কেউই আমার মত কোন ইউটিউব দেখেনি, খবর ম্যাসেজ পড়ে নি। তারা তাকে শুধু কাছে থেকে দেখেছে, মনের মত করে অন্তরে গেঁথে রেখেছে। আমি তাকে দেখিনি দূর থেকে জানছি, পড়ছি, ঘাটছি, সত্য উদঘাটনের চেষ্ট করছি।

তারা আওয়ামীরা শত শঠতার মতই ইত্যবসরে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে ছলে বলে কলে কৌশলে হ-য-ব-র-ল করে দেলু শিকদার বানিয়ে দিল। আর এসব হাউকাউএর মাঝে মিথ্যে মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে দিল। ন্যায়ের স্বার্থে বলতে হয় উল্টো এ অপরাধে সরকার পক্ষকে ও বিচার বিভাগকে আদালতের বিচারে দাঁড় করানো দরকার। ইউটিউবে তারা বলছে এটি একটি ঘৃণ্য ঘটনা সরকার সাজিয়েছে। মৃত রাজাকার দেলোয়ার  শিকদার অরফে দেলু শিকদার বাবার নাম ছিল রসুল শিকদার, গ্রাম- চিলা শিকদার বাড়ী, উপজেলা- পিরোজপুর সদর, জেলা- পিরোজপুর। অন্যদিকে জীবিত নির্দোষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বাবার নাম ছিল মাওলানা ইউসুফ সাঈদী, গ্রাম-সাঈদখালী, উপজেলা- জিয়ানগর, জেলা- পিরোজপুর। সম্পূর্ন দুটি মানুষ দুটি পরিচয়। জন্ম সন তারিখ সবই ভিন্ন। ১৯৭২ থেকে আজ অবদি সাঈদী সাহেবের হজ¦ গমন সহ সব সময়েরই দলিলাদি বর্তমান। তিনি এমন না যে সরকার তাকে চিনে না, চিনবে না, চিনতো না। বরং একজন দুই বারের সফল পার্লামেন্টারিয়ান হিসাবে তার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ও কর্মকান্ড আজো চারপাশে ছড়িয়ে আছে, খুঁজলেই পাওয়া যায়। ঐ পার্লামেন্টে থাকা অবস্থায় তিনি এসব অপবাদের কঠোর প্রতিবাদ করে গেছেন একমাত্র সততার ভরসায়। যুদ্ধে জড়িত অনেক অনেক মুক্তিযোদ্ধাসহ বরিশাল অঞ্চলের মেজর জিয়াউদ্দিন, শাহজাহান ওমর বিরোত্তম , মুক্তিযোদ্ধা বাতেন, পাথরঘাটার মেয়র আব্দুল মল্লিক, মুক্তিযোদ্ধা বিএনপির খোকা, মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফর উল্লাহ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ আরো অনেকেই অকপটে বলেন তিনি রাজাকার ছিলেন না। এ নাম আগে কখনোই শোনা যায় নি। এটি আওয়ামীদের শত ছলের এক পরবর্তী সংযোজন।

আশ্চর্য্য ব্যাপার হচ্ছে কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমানের হত্যাকারী হিসাবেও সাঈদীকে অঙ্গুলী নির্দেশ করা হয় ঘটনাকে আরো জটিল ও বস্তুনিষ্ট করতে। কিন্তু তার ছেলে প্রফেসর জাফর ইকবাল বা তাদের পরিবার থেকে এ ব্যাপারে কখনোই কোন অঙ্গুলী নির্দেশ করা হয়নি। এমন কি তাদের মায়ের লিখিত বইয়েও সাঈদী সাহেবের প্রতি সামান্যতম ইঙ্গিতও নেই। আবার এব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত নিরবতা পালন করা এক ধরণের শঠতা ছাড়া আর কিছু নয়। এ ব্যাপারে জাফর ইকবালকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমাকে ডাকা হয়নি। তার মানে তারা বিবেকের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ হন না! একটি নির্দোষ মানুষ ফেঁসে যাচ্ছে, তারা কি এভাবে দায় এড়াতে পারবেন? সততার মর্যাদা রক্ষার্থে দুটি পথ হতে পারে, হয় বলতে হবে এ ব্যক্তি আসামী নয়তো স্পষ্ট করতে হবে যে এতে তার কোন সম্পৃক্ততা ছিল না,  তিনি নির্দোষ। যেটি অনেক অনেক মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেকেই স্পষ্ট করে সততায় দাগ রেখে একজন নিরপরাধের স্বপক্ষে উদারতার স্পষ্ট প্রমাণ রেখেছেন। এটি করতে না পারা জাতির সাথে অনেক বড় প্রতারণা করার সামিল অপরাধ।

গুম হওয়া কাঠমিস্ত্রী সুখরঞ্জন বালী কিছু লোকের কথা প্রকাশ করেন, তিনি যাদের কথা প্রকাশ করেন সেখানে কখনোই সাঈদী ছিলেন না। তাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে নানাভাবে উত্যক্ত করা হয়। কিন্তু তিনি মিথ্যা সাক্ষী দিতে নারাজ। তিনি রাজী না হওয়াতেই ডিবি পুলিশ প্রকাশ্য দিবালোকে আদালতের সামনে থেকে তাকে তুলে নেয়। তার বাড়ীতে তার স্ত্রী বোনেরা কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, সেদিন সত্য সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আর সে ফিরে আসে নাই। দেশ ও বিদেশে দ্যা ইকোনমিস্ট, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বিএইচআরসি (BHRC) এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাইবুনেলের প্রথম গেটে যেখানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা বসানো আছে সেখান থেকে একজন জ¦লজ্যান্ত মানুষ গায়েব হলেও সরকার কোন ইতিবাচক অবদান রাখে না, বিচারবিভাগও না। ওদিকে আর এক অভিযোগ তিনি মুক্তিযোদ্ধা শহীদুুল ইসলাম সেলিমদের বাড়ীতে আগুন দিয়েছেন, পরিবারকে নির্যাতন করেছেন। ভুক্তভোগী সেলিমের ভাষ্যে জানা যায় তারা সেদিন আগে থেকেই পালিয়ে যান। পরে বাড়ীতে আগুন দেয়া হয় কে দিয়েছে, তারা বলতেও পারবে না। সন্ধ্যের পর ফেরত আসে। তবে আদালতে যা জানে তাই প্রকাশ করেছে এর বাইরে কিছু প্রকাশ করে নাই, কোন মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় নাই। তারা সবাই সমাজের গ্রামের ব্যক্তির ভাষ্যে এটি স্পষ্ট যা ঘটে নাই, যেটি আমাদের কারো মন ও মগজেও নেই, সেটি কেমন করে আমরা বলবো। এমন কি ইব্রাহিম কুট্টির শ্যালকের স্বীকারোক্তিও জানা যায়। তিনি তখন ৭/৮ বছরের ছিলেন তার দুলাভাইকে খুন করা হয় তবে তিনিও বলেন ঐ নাম তারা কেউই ঐ সময় শোনেন নাই। অনেক পরে নির্বাচনের সময় প্রথম শুনতে পান এ নামের একজনের কথা। অতপর অনেকে তার মহফিলের সাথেও পরিচিত হয়, অনেক হিন্দুও তার মহফিলে উপস্থিত থাকতেন। সরকার পক্ষ থেকে মানুষকে টাকা খেয়ে সাক্ষী দেয়ার অনেক কসরত হয়েছে তবে এ ক্ষেত্রে কেউই মিথ্যা সাক্ষীতে আগায় নি, ঐ সাহস করে নাই। অনেক আগে একটি ইউটিউবে দেখেছিলাম মাহবুব নামের একজন প্রচন্ড অপরাধ প্রবণ মানুষ কিভাবে বড় মাপের ঘুষ খেয়ে উল্টাপাল্টা সত্য বিবর্জিত সাক্ষী দিচ্ছিল আর তার গ্রামের লোকেরা তার কৃত নানান অপকর্মের জন্য তাকে ধিক্কার দিচ্ছিল তারা বিবৃত করছিল তার সামগ্রিক চরিত্রহীনতা। আর সেটি ভিডিওতে অত্যন্ত স্পষ্টই ছিল। কে বা কারা ইত্যবসরে সেটি মুছে দিয়েছে।

কাদের মোল্লাও ছিলেন জুডিসিয়াল কিলিংএর বড় শিকার। ধারণা হয় এদের প্রতিটি বিচারই প্রচন্ড বিতর্কীত ও উদ্দেশ্যমূলক। ভারত চায় ইসলামকে কবজা করতে মুসলিমকে শৃংখলিত করতে তাই যেখানেই মুসলিম সেখানেই প্রতিরোধ এটি ভারতের বড় নীতি। মুসলিমদেরে কবজা করতেই মনে হয় তারা মিথ্যে একটি ধর্মনিরপেক্ষতার ঢাল সংযোজন করেছে বাংলাদেশের অনেক পরে, আগে বাংলাদেশে এটি সংযোজন করার নাটক সম্পন্ন করে তার পর নিজেরা সংযোজন করে। কিন্তু মুসলিম নিধনে তারা কোন সময়ই পিছিয়ে নেই। সবদিনই আগুয়ান। এখানে যে জামায়াত ধ্বংসী খেলা চলছে এর পেছনেও ভারত। ভারতই বর্তমান সরকারকে এসব করতে বাধ্য করছে ও উৎসাহ দিচ্ছে। তারা মনে করে জামায়াত এক বড় ফ্যাক্টর। লক্ষ্য করবেন সব সময় প্রতিটি দালাল চরিত্রের আওয়ামী লীগের মুখে একমাত্র কথা বিএনপি কেন জামায়াত ছাড়ে না। এখানে কেন তাদের এত মর্ম বেদনা! জামায়াত যদি যন্ত্রণাই হয় সেটি বিএনপি বুঝবে তোমরা তো ভালো জামায়াতমুক্ত আছ, তো অসুবিধা কি? আসলে সেটি তাদের বড় এজেন্ডা। চোরের মনে পুলিশ পুলিশ জামায়াত হচ্ছে ভারতের ও আওয়ামী লীগের পুলিশ পুলিশ। এর প্রধান কারণ ইসলামী মূল্যবোধে তারা অন্যদের থেকে বেশ আগুয়ান, এটি অস্বীকার করার জো নেই। আওয়ামী নেতা সাবেক মন্ত্রী আবু সাঈদের কথাতেও এটি স্পষ্ট যে জামায়াত একটি আদর্শিক দল। অন্যের কথা না বলে সরকারের নিজ সদস্য আবু সাঈদের উদাহরণই টানলাম। কারণ ফেনসিডিল, ইয়াবা ব্যবসা চালু রাখতে হলে দেশ ধ্বংস করতে হলে জামায়াত দিয়ে ওসব অবর্জনা গেলানো কষ্টকর। তারা মানুষকে পশু না বানিয়ে মানুষ বানানোর যথেষ্ট কসরত করে। মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীই কি কম উদাহরণ রেখেছেন, মানুষের জন্য কম করেছেন? তার গ্রামে দেখে আসুন সারা গ্রামের মানুষ পাগল হয়ে তার সুকীর্তি গাইছে। কারো সুকীর্তি থাকলে সেটি স্বীকার করতেই হবে। যুদ্ধে মাওলানা নামধারী খারাপ কেউ কিছু করে নাই, সেটিও ঠিক নয়। এসব ইউটিউবেই দেখা যায় দু একজন অপরাধী আজো বেঁচে আছে কিন্তু তারা তো ধরা ছোয়ায় নেই। কারণ ফাঁসি বেড়ি পরাতে হবে তাকেই যাকে শেষ করা দরকার ভারতের আর সরকারের। উনি টার্গেট ছলে বলে কলে কৌশলে রায় চায় শেষ রায়, তাই বারে বারেই বিচার হয় প্রশ্নবিদ্ধ! 

বলা হয় বিসাবালী ও ইব্রাহিম কুট্টি হত্যায় তিনি জড়িত। তার পক্ষের ডিফেন্স আইনজীবি এডভোকেট তাজুল ইসলাম এসব বিস্তারিত আলোচনায় আনেন। তার দাবী প্রকৃত তদন্তের স্বার্থে আওয়ামী বিচারিকপক্ষ সঠিক তদন্তের পথ মাড়ায় না। এদিকে ঐ সব সত্যনিষ্ঠ তদন্ত করার সাহস সরকারের যেমন নেই জনগণের ভোট মোকাবেলা করার সাহসও তেমনি নেই । কারণ সরকার জানে দুটি ক্ষেত্রেই তারা চরম মার খাবে। দেশবাসী জানেন ইত্যবসরে একজন মৃত জঙ্গি যাকে সরকার থেকে প্রচার করা হয়েছে, পরে জীবিত হয়ে তিনি পত্রিকা অফিস পর্যন্ত ছুটে গিয়ে প্রমান করেন তিনি মরেন নাই। মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। একই ভাবে মৃত রাজাকারের এ লাশ নিয়ে রাজনীতি করে জীবিত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে ধ্বংস করে দেয়ার প্রজেক্ট নিয়েছে হাসিনা সরকার। আল্লাহর দুনিয়াতে এটিও একটি অবিশ^াস্য নজির। মৃত অত্যাচারী রাজাকারের ভাই লালু শিকদার নিজের দায়, সত্য প্রকাশের দায় ও বিবেকের দায় থেকে ক্রমাগত জনতার কাছে এটি স্পষ্ট করে চলেছেন যে সরকার সাঈদী সাহেবের সাথে চরম অবিচার করছে । এটি প্রচার করাতে তিনি মৃত্যুর ভয়ও করছেন আর মানুষকে এর স্বপক্ষে দাঁড়াতে আবদার রেখে চলেছেন। ভিডিওটি দেখতে পারেন। একইভাবে অতীতে নির্দোষ উন্নত চরিত্রের অধিকারী সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ কাদের মোল্লাকে কসাই কাদের বানিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয় এ সরকার। তার উপর অসাধারণ সব ডকুমেন্টারী আছে, যে কেউ দেখতে পারেন ইন্টারনেটে। সত্য কথা বললে এদেশে কেউ টাকা পায় না। মিথ্যে বললেই টাকা পাওয়া যায়, আয় রোজগার হয়। আর অনেকে আছে যারা টাকা নিয়ে মিথ্যে বলতে নারাজ, এরা তারাই যারা ঈমানের কাছে দুর্বল।  ইউটিউবে এক মুরব্বীর ভিডিও দেখি তিনি নিজেও একজন বয়ষ্ক লোক তিনি তার মুরব্বিদের কাছেও এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন, বলতে বলতে মানুষ কাঁদতে শুরু করে এমন বহু নির্দশণ আজো খুঁজে পাবেন। তিনি ছিলেন জনদরদী একজন মানুষ নামের উদাহরণ, তাকে দেখে শিখবার অনেক ছিল জাতির সামনে। দরকারে ভারত ও গরুর নামে মানুষ হত্যাকারীরা চাইলে মানুষ হবার শিক্ষা নিতে পারতো তার কাছ থেকে। সারা দেশে অপকর্মীদের বাড়তি নিরাপত্তা দিয়ে সরকার কেন যে চাইছে সব ভালো মানুষকে ময়দান থেকে শেষ করে দিতে। কিসের লোভে ২০০ মানুষ নিজের জান দিয়ে দিল এরকম একটি মানুষের জন্য, সেটি কেন চিন্তার মাঝে আসে না? পিরোজপুরের উন্নয়নে এই সাঈদী সাহেবের বিজয়ের ধ্বনি সারা গ্রামবাসীর মুখে মুখে আকাশ বাতাস  জুড়ে তার বিজয়ের জয়ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। প্রমাণ পেতে নীচে ক্লিক করুন।

এবার দেলু শিকদারের ভাই লালু শিকদারও বললেন সাঈদী যুদ্ধাপরাধী নয় l

 

ইসলাম ও মুসলিমরা ভারতের আধিপত্যবাদ হতে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে তৎপর এটি দিল্লীর কাছে পরিষ্কার। তাদের অনেকের অনেক কলামে এসব স্পষ্ট ধরা পড়ে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারক যিনি ছিলেন একজন স্বঘোষিত যুদ্ধাপরাধী, এরকম বিচারপতি কিভাবে কেমন করে নিরপরাধ জনতার বিচার করবেন সেটি বোধগম্য নয়। এটি গুরুতর অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে। একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল “রাজকাহন” টকশোতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে রাজাকার বলাতে আইনজীবি এখলাস উদ্দিন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে লিগেল নোটিশ পাঠান আর তার বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য ৭২ ঘন্টার সময় দেন, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া  হবে বলে উল্লেখ করেন। পরদিন ১৬ মার্চ ১৭ সালে শামসুদ্দিন মানিকও তার আইনজীবি মিজানুর রহমানের বরাতে জবাব পাঠান।  এরা দুজনাই অতীতে ঐ শিরোনামের স্কাইপি খেলাতে এক মাত্রায় জড়িত ছিলেন। যদিও আজ উভয়েই পাল্টাপাল্টি নোটিশ ও জবাব দিচ্ছেন। মিজানুর রহমান বলেন তার মক্কেল ১৫ই মার্চ নেটিশটি পান এবং তিনি স্বীকার করেন যে প্রধান বিচারপদি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৯৭১ সালে কুখ্যাত শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এটি তার মতামত নয় বরং এটি সিনহার নিজস্ব মতামত। ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তার মক্কেল যুদ্ধপরাধীর বিচারকালে যখন মুহুম্মদ কামরুজ্জামানের আপিল শুনছিলেন তখন প্রকাশ্যে জনাকীর্ণ আদালতে বিপুল সাংবাদিক আইনজীবি ও বিচারপ্রার্থীর উপস্থিতিতে বিচারপতি এস কে সিনহা প্রকাশ্যে সুস্পষ্ট ও জোরালোভাবে এটি স্বীকার করেন যে তিনি ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি আরো বলেন, “আমি নিজেও পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জন্য কাজ করেছি”। এসব শুনে উপস্থিত সবাই হতবাক ও বিহ্বল হয়ে পড়েন। আদালতে চাপা গুঞ্জন শুরু হলে তিনি কথাকে অপ্রাসঙ্গিক ভাবে অন্যদিকে ঘুরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্ঠা করেন। পরদিন বিভিন্ন সংবাদপত্রে সেটি আসে বিশেষ করে ডেইলি ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকায় ২য় শীর্ষ সংবাদ হিসাবে প্রকাশিত হয়। লেখাটির শিরোনাম ছিল “Justice Sinha discloses his role in 1971”. এর কিছুদিন পর দৈনিক জনকন্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় তার উপসম্পাদকীয়তে লেখেন যে, বিচারপতি এস কে সিনহা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। এ মর্মে স্বীকারোক্তির পর বাংলাদেশের কোন আদালতে তিনি বিচারক হিসাবে থাকতে পারেন না। বিচারপতি এস কে সিনহার এই স্বীকারোক্তি দেশ বিদেশের কোটি কোটি দর্শক দেখেছেন, সেদিন টকশোতে আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি জেড আই খান পান্না, মাসুদ আহমেদ তালুকদার। বক্তব্য অনুযায়ী একটি সাংবিধানিক পদে যদি বাংলাদেশের এরকম একটি পদের বিচারক রাজাকার হয়ে থাকেন তাহলে এই বিজয়ের মাসে এটি শহীদদের সাথে বিশ^াসঘাতকতা বলে বিবেচিত হবে। এমতাবস্তায় রাজাকারের অধীনে বিচার ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে (পি এন এস ডেস্ক)।

শনিবার ২৬ মার্চ ২০১৬ কলকাতা, আনন্দবাজার ছাপে ২০১৫এর ১৭ জানুয়ারী, বাংলাদেশে হিন্দু আইনজীবি সুরেন্দ্রকুমার সিনহাকে সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রধান বিচারপতির অবস্থান রাষ্ট্রপতির ঠিক একধাপ নীচেই। এতে প্রধানের সুবিধা দুটি,  প্রথমত দেখানো নিরপেক্ষতা আর দ্বিতীয়ত হাতের কাছে একজন বিচারপতিকে অভিভাবক হিসাবে পাওয়া। বাবার মতই বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগের পথেই তিনি হাটছেন। তার আগ্রহেই ২০ তম রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। মাত্র ৯ মাস পর নির্বাচনে জিতে (?) হাসিনা গদিতে বসেন (মিথ্যা) কথাটি আনন্দবাজার উল্লেখ করে। ২০১৯এ ততক্ষণে আব্দুল হামিদের মেয়াদ ফুরিয়ে আসবে। সে শূণ্য স্থানে বসাবেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে। এমন সুবর্ণ সুযোগ তিনি ছাড়বেন কেন? সে ইঙ্গিতেই সুরেন্দ্র কুমার হাটছেন আর তার গুণ গরিমা প্রকাশ করছেন। পাঠক আশাকরি আনন্দবাজারের এ খবরে অনেক কিছুই আঁচ করতে পারবেন ভারতের খায়েশ কিভাবে দেশটির মজ্জা চুষে খাচ্ছে। তারপরও এক বিশ^¯্রষ্টার আদালতই সত্যনিষ্টদের জন্য একমাত্র ভরসা হওয়া উচিত।  ইত্যবসরে সুইডিশ রেডিওতে র‌্যাবের গুপ্তহত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা ফাঁস হয়েছে। সুইডেনের সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত “সভারিজেস রেডিও” গোপন ধারণকৃত একটি অডিও প্রকাশ করেছে। র‌্যাবের উচ্চপদস্থ কিভাবে মানুষ হত্যা করে নাটক সাজায় তা বর্ণনাতে উঠে এসেছে। অবশ্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বুঝতে পারেন নি তার কথা রেকর্ড হচ্ছে। সেখানে উঠে এসেছে যদি তুমি টার্গেট করা মানুষটিকে খুঁজে পাও তাহলে সে যেই হোক না কেন তাকে গুলি কর ও হত্যা কর, অতপর তার পাশে একটি অস্ত্র রেখে দাও।” যাতে তার ঘাড়েই দোষটি চাপানো যায়। সেখানে তিনটি কৌশলের কথা এসেছে (১) টার্গেটকরা লোকটিকে ধরা (২) হত্যা করা (৩) লাশ লুকিয়ে ফেলা। মরদেহ নদীতে ফেলার আগে কংক্রিটের ব্লক দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। তারা যাতে কোনভাবে বিপদে না পড়ে সেজন্য তাদের গ্লাবস পড়ে কাজ করতে হয়, জুতার নীচে কাপড় লাগাতে হয় যাতে কোন পরিচয় না পাওয়া যায়, সিগারটে খাওয়া এসময় নিষেধ, সব দিকে সতর্ক দৃষ্টি যাতে কেউ কোন সূত্র খুঁজে না পায়।

একজন যুদ্ধাপরাধীর জন্য এত মানুষ পাগল কেন_??

 

এ অপরাধের দায় শুধু একা সরকারের ঘাড়ে চাপে না, সাথে ভারতও জড়িত এসব অপকর্মের দিকদর্শক হিসাবে। এ দেশ থেকে ধর্ম মুছে দেয়াসহ, প্রতিটি সমাজ বিনির্মাতাকে সরিয়ে দেয়াসহ গণতন্ত্র, সহনশীলতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায় বিচার, সবকিছুকেই কঠোর হস্তে দমনের স্বার্থে ভারত সরকারী প্ররোচনাতে দেশটির বিরুদ্ধে মরণ কামড় বহাল রেখেছে। শায়খ আব্দুর রহমানসহ প্রতিটি সদস্যই দেখা যায় আওয়ামী ঘর থেকেই উত্থিত হয়। কেউ ঘোরা পথে বাঁচে কেউ আটকায়, কেউ হয়তো টাকা বাগায়। বাংলাদেশের মানুষ অন্তহীন মরণের বিভৎস সময় পার করছে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী কেমন করে এসব যন্ত্র দানবের হাত থেকে রক্ষা পাবেন? যুদ্ধপরাধের বিচার সারা জাতিই সব দিন চেয়েছে, আজও সঠিক বিচার হলে কেউ অখুশী হতো না। কিন্তু আজ সঠিক বিচার সম্ভব নয়। আমি নিজেও ছিলাম স্বাধীনতার সময়ে আওয়ামী নেতার সন্তান। পাকিস্তানের সময়ে আমার পূর্ব পুরুষ পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করে মুসলিমদের জন্য সংগ্রাম করেছেন কারণ ভারতের মুসলিম নির্যাতন সব আমরা শিকড় থেকে জানি। তারপরও সেদিনের ঐ লড়াই ছিল বন্টন জনিত বিভেদের লড়াই। দৃশ্যত ওটি ছিল না দেশ ভাঙ্গার লড়াই। কিন্তু মুজিবের অপরিণামদর্শিতার জন্যই একমুখীতার জন্যই, স্বার্থপরতার কারণে জাতির সাথে না থেকে অন্যদের মতামতের সামান্যতম গুরুত্ব না দিয়ে তোয়াক্কা না করে নিজের মনমত নিজে চলার নীতি নিয়ে দেশকে বিপন্ন দশাতে ফেলে দেন। যার স্বাভাবিক পরিণতিতে দেশ ময়দান থেকে উৎসাহ অর্জন করে স্বাধীনতা যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়। সেদিন যদি ঐসব চাটুকারদের সত্যিকারের বিচার হতো তবে অবশ্যই প্রতিটি নির্যাতীত মানুষ স্বস্থি খুঁজে পেতো। সে দুঃখ হাসিনা জানেন না, বরং জানবেন খালেদা। তিনি হাসিনা পাকিস্তানী রসদে পরিজন নিয়ে নিরাপত্তা ঘেরে থেকেছেন পাকিস্তানী হেফাজতে। অপর দিকে দেশবাসী বিচারের জন্য কেউ চল্লিশ বছর অপেক্ষায় থাকে না। আজ বেশীর ভাগ বাদী আসামী উভয়ে একযোগে মৃত। সরকার যা করছে সেটি বিরোধীর সাথে মঞ্চনাটক করছে, রাজনীতি করছে। সাড়ে সাত কোটি জনতার সাথে যে পূর্ব পুরুষ তখন থেকেই প্রতারণার খেলা খেলছেন, তার পরজন্মও আজ অবদি সে খেলা বহাল রাখছে। যে কাজটিকে মহা উৎসাহে অনুসরণ করছেন তার কন্যা, চাটুকারদের ভাষাতে জাতিকে না জানিয়ে তিনি নাকি বিজয়ীনির বেশে ভারত দেশে চুক্তি করতে যাচ্ছেন! ধারণা করি সব মানুষেরই দোষ গুণ থাকে, কারো বেশী কারো কম। কেন জানি বাবার গুনের দিকে না হেটে বাবার দোষের দিকেই তিনি বেশী ভি সাইন দেখিয়ে ক্রমাগত দৌড়াচ্ছেন, হাফাচ্ছেন, লাফাচ্ছেন আর জাতি ক্রমাগত ডুবছে, ডুবছে, অতল গহবরের দিকে ঢুকছে! এমন সংকট সময়ে আল্লাহর সাহায্যই একান্ত কাম্য। 

নাজমা মোস্তফা, এপ্রিলের ৬ তারিখ ২০১৭।

মধ্যযুগীয় উপনিবেশ: রুখে দাও বাংলাদেশ

দেশটিকে উপনিবেশ করতে সবকটি ধারালো অস্ত্রেই অবৈধ সরকার শান দিচ্ছে। 

যদিও দেশবাসী কোন অবস্থায়ই বাধ্য নয় এ মিথ্যাচারী সরকারের সীমাহীন বালখিল্যতা মেনে নিতে। কুরাইশের লাত, উজ্জাহ, মানাত, হিন্দুর কালী, স্বরস্মতী, দূর্গা, গ্রীকদের হেকাটি, মিনার্ভা, ভেনাস এরা ইতিহাসের জমা। সম্প্রতি সংযোজিত গ্রীক মূর্তি সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক দেবী থেমিসের নারী মূর্তির গায়ে কেন এই শাড়ী দিয়ে শঠতা! চৌর্য্যবৃত্তির নামে এটি ডিজিটাল ইসলাম বিরোধীতা। মুসলিমদেরে শান দিতে কি বিভৎস মধ্যযুগীয় অনাচার, ন্যায়দন্ডের নামে সরকারী প্রতিশোধ ! অনাচার আজ জাতির ঘাড়ের রসদ। ওলি নেয়ামতউল্লাহর কাসিদায় (১১৫৮ রচনাকাল, হিজরি সন ৫৪৮, http://markajomar.com/?p=1769) এসেছে কিভাবে এক দেশ জাতী নামেমুসলিম ও কাজে হিন্দুত্ববাদী নেতৃত্বের কারণে বিপর্যস্ত হবে।  আগে এসেছে কিভাবে একটি মুসলিম দেশ দুভাগে বিভক্ত হবে সেটিও এসেছে ওলির বাণীতে। ষড়যন্ত্রীর নামের প্রথম অক্ষর হবে আরবীতে শিন আর শেষ অক্ষর হবে আরবী নুন। আর এসব এক বিতর্কীত মুসলিম নামধারীর কুটিল স্বার্থে হাত মিলাবে হিন্দুত্বের সাথে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বইটি বাংলাতে অনুবাদ করেছে। ওলির ঐ ছন্দবদ্ধ কাসিদার ৩৮ লাইনে আছে ভারত মুসলিমদের একটি জনপদ দখল করবে, হত্যাকান্ড চালাবে, ধনসম্পদ লুটে নিবে, দেশ কারবালা হবে। বিশ্লেষকরা আন্দাজ করছেন দেশটি হবে বাংলাদেশ, গোপন চুক্তির নামে একে পাপ চুক্তিও বলা হয়েছে। অতপর এসব সামাল দিতে ভারতও লন্ডভন্ড হবে। মনে হচ্ছে ওলির এসব হতাশার কথামালাকে একটি অবৈধ সরকার খুব সহজ করে দিচ্ছে।

কুরআনে বলা হয়েছে “তোমাদের মধ্যে এমন একটি লোকদল হওয়া চাই যারা আহবান করবে কল্যাণের প্রতি আর নির্দেশ দেবে ন্যায়পথের আর নিষেধ করবে অন্যায় থেকে। আর এরা নিজেরাই হচ্ছে সফলকাম” (সুরা আল ইমরানের ১০৩ আয়াত)। এরা ছলবাজের হাতে নাটকের জঙ্গি নয়। সরকার ঐ জঙ্গিদেরে পঁচিয়ে দিয়েছে নিজেদের স্বার্থে, এরা কখনোই ইসলামের সৈনিক নয়। সরকারের নিজের মত করে সাজানো নষ্ট ধর্মের সদস্য তারা, মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেনটুর গ্রন্থ সূত্রে পাওয়া এরা জাফর দেলোয়ারের মতই আওয়ামী লাশের জমা, অবৈধ সরকারের অবৈধ গুটি মাত্র। কুরআনে উপরের আয়াতে ওরাই সফলকাম, প্রাক ইসলামের মুসলিমদের মতই বিজয়ের মুকুট তাদের পাওনা। আর একটি গবেষনা লব্ধ অর্জন যেখানে কুরআন বলে, “আর তাদের মধ্য থেকে অন্যান্যদের যারা এখনো তাদের সঙ্গে যোগ দেয়নি। তিনি মহাশক্তিশালী পরম জ্ঞানী” (সুরা সুরা জুমুআহএর ৩ আয়াত)। এটি স্পষ্ট করে যে, একদল জনতা ভবিষ্যতে জাগবে, যারা তখনও জাগে নাই। এটি যথেষ্ট বড় ও শক্ত ম্যাসেজ। খন্ডভাবে মানুষ জাগলেও সার্বিকভাবে কোন সম্প্রদায় বড় হয়ে জেগেছে এমন কোন নজির আমাদের সামনে নেই। অনেকে জেগেছে আবার চুপসে গেছে। এরা হবে সত্যিকারের সফলকাম। এর সূত্রে অতি অবশ্যই একটি বিশাল জাগরণ অপেক্ষাতে আছে। আর সেটি এই হত দরিদ্র দুস্থ দেশকে ঘিরে ঘটবে না, ওটি বলার অবকাশ নেই। সুরা নিসার ৭৬আয়াত বলছে, “শয়তানের কৌশল অবশ্যই দুর্বল।” আবার “যতক্ষণ তাদের সৃষ্ট জটিলতা দূরিভূত না হবে ততক্ষন যুদ্ধ চালিয়ে যাও, এটি মুসলিমদের উপর নির্দেশ (সুরা আনফাল এর ৩৯ আয়াত)।  অতীতে ইসরাইলী আলেমদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে “যাদের তওরাতের ভার দেয়া হয়েছিল, তারপর তারা তা অনুসরণ করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে গাধার মত। যে গ্রন্থরাজির বোঝা বইছে। কত নিকৃষ্ট সে জাতির দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে। আর আল্লাহ অন্যায়াচারী জাতিকে সৎ পথে চালান না” (সুরা জুমুআহএর ৫ আয়াত)। সে গালি আমাদের ঘাড়েও বর্তাতে পারে, যদি আমরা সঠিকভাবে এ ধর্মের বিশ্লেষণ করতে না পারি। গবেষনায় এটি ধরা পড়ে ঐ দুর্নামকে এড়িয়ে চলতে হবে প্রকৃত মুসলিমকে, ইহুদীদের মত মূল গ্রন্থকে অবহেলা করে শুধু গাধার মত একগাঁদা বোঝা বয়ে বেড়ালেই হবে না। তাদের ঐ অতীত অপরাধের জন্যই তাদের কাছ থেকে সেটি সরিয়ে নেয়া হয় এবং সঙ্গতভাবে পরে সেটি নবী মোহাম্মদ (সঃ)এর মাধ্যমে ভিন্ন ভ্রাতৃগোষ্ঠী আরবের মুসলিমের ভান্ডারে জমে।

সত্য প্রচারে সংগ্রাম মুখর থাকা: 

ব্লগের একজন ভাইএর ধৈর্য্য ধরার নামে মুসলিমদের কঠোর কষ্টে গড়ে জীবনের উপর একটি আক্ষেপ লক্ষ্য করি। তিনি জানতে চাইছেন ইসলাম কি এরকম প্রাপ্তিহীন ধৈর্য্যর ইঙ্গিত দেয়, যেখানে শুধুই হতাশা। ধৈর্যের উপদেশই কি শুধু ইসলাম সমর্থণ করে (৩ এপ্রিল, ২০১৭)? আমার স্বল্প জ্ঞানে যতটুকু বুঝেছি সেটি হচ্ছে কর্মহীন এবাদতের মূল্য ইসলামে খুব কম। কর্মময় ইবাদতই মূল্য পাবার দাবীদার। “জুম্মার দিনে যখন নামাজ শেষ হবে তখন তোমরা দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর করুণা ভান্ডার থেকে অন্বেষণ করবে আর আল্লাহকে প্রচুরভাবে স্মরণ করো। যাতে তোমাদের সফলতা প্রদান করা হয়” (সুরা জুমুআহ এর ১০ আয়াত)। সেখানে বলা নেই যে মসজিদে বসে জিকির করো। কেউ এর উল্টোটি করলে সে আল্লাহর বিরোধীতাই করলো। আল্লাহর ইঙ্গিত আদেশ যদি মুসলিমরা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে সংকট বাড়বে বৈ কমবে না। আত্মায় অন্তরে আল্লাহর বানীকে গভীর ভাবে ধরে রাখতে হবে। আর সেটি করতে পারে একমাত্র মুসলিম, তারা অদেখা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ সততায় ভর করে সারা জীবন পার করে দেয়। অংশীবাদীদের ইন্ধনে সময় পার করা ও মোনাফিকিতে আচ্ছন্ন সরকার নাটকের পর নাটক করে চলেছে ছলের মিথ্যাকে সচল রাখতে। সরকার নামে মুসলিম কিন্তু কাজে কর্মে শিরকধারী অংশীবাদী। সংবিধান থেকে ইসলাম মুছে দিতে গোপন তৎপরতা জারি আছে। দু দিন পর পরই ওটি মাথা চাড়া দেয়, সময় বুঝে। ইত্যবসরে সংবিধান থেকে খুব সন্তর্পণে বিসমিল্লাহ মুছে দিয়েছে। ঈমানের প্রশ্নে এসব ধর্মহীনতাই নয়, ৯৫% মুসলিম দেশে ধর্ম বিরোধীতা । টকশোতে শ্যামল দত্তরা ইসলামের বিরুদ্ধে টক কথায় তুখোড়, কথার বন্যা ছড়াতে ওস্তাদ কিন্তু এ ধর্মের গভীরতা উপলব্ধি করতে হয়তো আরো বহু শতাব্দী তাদের অপেক্ষা করতে হবে। তারা হিন্দু হয়েও চান মসজিদকে তাদের কন্ট্রোলে নিয়ে নিতে, এমন কি ইমামের অধিকারটুকুও, এটি মাত্রাতিরিক্ত আস্ফালন নয়কি? দেশের সব সেক্টরে তারা প্রহরায় ভারতীয় শঠতায়!  এবার হামলে পড়ছে মসজিদেও। মসজিদ হচ্ছে মুসলিমের ড্রিলের ময়দানওটি তাদের শারীরিক মানসিক বিকাশের সূতিকাগার। যদিও প্রাক ইসলামের মত আজকাল মানুষ সচেতন নয় বলে তারা ঐ মূল থেকে অনেক সরে এসেছে। তাতেও শ্যামল বাবুরা তৃপ্ত নন। তারা চান এদেরে নপুংশক প্রতিবন্দী বানিয়ে দিতে, ময়দান থেকে সরিয়ে দিতে। মসজিদই ইসলামের প্রথম সংসদ। গোটা দেশে প্রতিটি সমস্যার কথাই সেখানে আলোচিত হবে, তার জন্যই মসজিদ। মসজিদ শুধু এবাদতগাহ নয়। ক্রমে মুসলিমরা তাদের মূল থেকে সরে গেছে বলেই তাদের এত বিপর্যয়। এ ধর্মটি গাজাখুঁরি ধর্ম নয়। বলা আছে নবী অনাচার করলে তারও শাস্তি দ্বিগুণ হতো (বনি ইসরাইল এর ৭৫ আয়াত)। যদিও অবৈধ সরকার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা কোন শাস্তির তোয়াক্কা করছে না! অপকর্মীর শাস্তি অবধারিত।

 মূর্তিপূজকরা প্রাগৈতিহাসিক আচরণে বিশ^সী:

বৈশাখী পূজার নামে রংঢ়ং ইসলামে সমর্থণীয় নয়। খালার বাসাতে সিলেটে সুনারুপা চা বাগানে বেড়াতে গেলে দেখতাম বাগানের কুলিরা নানান কসরতে নানা রংএ সেজেগোজে তাদের ধর্মীয় বাহারী নর্তন কুর্দন করে বেড়াতো এবং প্রতিটি বাসাতে ঘুরে ঘুরে ওসব প্রদর্শন করতো। কখনো রাস্তাতে মিছিল করতো, তাদের রং তামাশায় ঢোল কর্তালও বাজতো। আমরা ধরেই নিতাম এরা উপজাতী, জ্ঞানে গরিমায় অনেক নীচে তাদের অবস্থান। ধর্ম ও জ্ঞানে তারা অপরিপক্ষ। তাই আদ্যিকালের নর্তন কুর্দনেই তারা অভ্যস্ত। মূর্তিপূজার আদলে নানান বিকৃত রুপ তাদের আচরণে স্পষ্ট ছিল । একবিংশ শতকেও এসে হতভাগ্য মানুষরা মূর্তিতে প্রাণ খুঁজে পেলে করার কিছু নেই! যা শুনে উন্নত খেলনা হাতে পাওয়া অনেক বাচ্চাও হাসি চেপে রাখতে পারে না।  তাই বলে বাকীদেরে কেন সেখানে টেনে আনার কসরত। এসব সবহারা দেউলিয়াত্বের নিদর্শণ ছাড়া আর কিছু নয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা, মঙ্গল প্রদীপ, এসব আচারধর্মীদের মনগড়া অনাচার, অদেখা সত্যকে স্বীকার করবে না বলে পশুর আদলে সব দেবরুপী কুত্তা বিলাই বাঘ ভালুক সিংহ দিয়ে মঙ্গল প্রদর্শণের সৃষ্টি। বাংলাদেশ কি প্রাকঐতিহাসিক দিকে ফিরে যাচ্ছে? শোনা যায় তাফসির মাহফিলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, অন্যদিকে পুলিশ প্রহরায় সরকারী অনুদানে পূজাকে জাতীয় উৎসব করার কসরত চলছে। যে দেশ একদিন ইসলামের শুরুর সময়েই সত্য আলোতে ধন্য হতে পেরেছে, সেখানে কি চানক্য কৌশলে বিরুদ্ধবাদীরা চাচ্ছে ঐ সত্যের তেজে বিকশিত আলোকে নিভিয়ে দিতে? বাদশাহ আকবর অনেক অলীক স্বপ্নে রাজসিক প্রভাবে মুসলিমের কবর রচনা করে হিন্দু পূজার সব দায় সেরেছিলেন, তারপরও কি ভারতবাসী হিন্দু তৃপ্ত হতে পেরেছে? সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে অযৌক্তিকভাবে আকবরের দাদার মাথা বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে দিতে তারা কার্পণ্য করে নি! বিধাতার জবাব হিসাবে যে বালবীর সিংয়ের হাতে ঐ মসজিদের প্রথম বিনাশের যাত্রা শুরু হয়, ইতমধ্যে সে বালবীর সিং অনুশোচনায় বিদগ্ধ হয়ে সঠিক সত্যে ফিরে এসেছে; যদিও ভারত ও তার আদিত্যনাথরা মুসলিম বিরোধীতায় মনে হচ্ছে শেষ জনমের খুরে ধার দিচ্ছেন। “তারা তো আহবান করে আল্লাহর পরিবর্তে শুধু নারী মূর্তিদের আর তারা আহবান করে শুধু বিদ্রোহী শয়তানকে” (সুরা আন-নিসার ১১৭ আয়াত)।

 

শিক্ষকরা কুশিক্ষার দিকে ডাকছেন:

সুশিক্ষাই প্রকৃত আলো বিলায়, কুশিক্ষা নয়।  মুসলিমরা কেন কঠিন সময় পার করছে, সংখ্যাগুরু হয়েও অবৈধ সরকার দ্বারা, চারপাশে বহুগুণ বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি তাদের দুর্ভাগ্য! তবে এটি ঠিক জনতারা সিলেবাস থেকে সঠিক অর্জন জমা করতে পারছে কম। যার উত্তম উদাহরণ একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী। সিলেবাসের মূল সত্যের ধারে কাছেও নেই। যে গ্রন্থটি চৌদ্দশত বছর আগেই হাতে এসেছে তাকে অবহেলা করে দূরে ঠেলে রাখার অপরাধই মুসলিমদের প্রথম ও প্রধান অপরাধ। সবাই ব্যস্ত ছেলেকে ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার বানাতে, মা বাবা নিজেও গাফেল ঐ ম্যাসেজ সম্বন্ধে যার কারণে ঐ সত্য শিক্ষাটি তাদের মাঝে বিকশিত হয় কম এর মাঝে সরকার ঐ গ্রন্থকে করেছে বিতর্কীত, নাম দিয়েছে জিহাদী বই। খুব কৌশলে বলতে চাচ্ছে এটি নিষিদ্ধ বই, ভাড়া করা হুমায়ুন আজাদ দিয়ে বলাতে চাচ্ছে “ও বই তুমি পড়বে না, ও বই তোমায় অন্ধ করে ও বই তুমি ধরবে না।” আল্লাহ বলে “কে তার চাইতে বেশী অন্যায়কারী যে আল্লাহর সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে ও তার আয়াত প্রত্যাখ্যান করে। নিঃসন্দেহ অন্যায়কারীরা সফলকাম হবে না” (সুরা মায়েদার ২১ আয়াত)। হুমায়ুন আজাদ পন্ডিত হতে পারেন কিন্তু সুশিক্ষায় তিনি শিক্ষিত নন, সেটি স্পষ্ট। তার নিজের লেখা “আমার অবিশ^াস” বইয়ে তিনি বলেছেন গ্রামের অতি ভৌতিকতার মাঝে তার জন্ম, বাঁচা ও বেড়ে উঠা। ভৌতিকতায় ডুবে থাকা তার পরিবার তাকে পথ দেখাতে পারে নাই। আলোর দেশের সব বাবা মাকেই কেন তার ঐ ভৌতিকতাকেই অনুসরণ করতে হবে? তার জীবনের সব অশ্লীলতাকে গোটা দেশবাসীর জীবনের সাথে লেপ্টে দিতে হবে? সিগার মুখে প্রচ্ছদকে যারা আদর্শ মনে করে, পাইপকে যারা জীবনের প্রধান উপস্থাপনা ভাবে, এটি বুঝা যায় তারা ধর্মটি জানে না বা কম নেড়েছে। এ ধর্মে নেশা নিষিদ্ধ, তাই ওটি কখনোই আদর্শ হতে পারে না। বিশ^বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকরা অশ্লীল প্রেম শেখাতে প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। আমি নিজেও বহু বছর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় পাড়ার সদস্য হয়ে একই পাড়াতে সময় পার করেছি। আমি কাছে পাওয়া ছাত্রীদের বলতাম তোমরা কি এখানে পড়তে আস না হানিমুনে আস, কোনটা সত্যি? তোমাদের ভাবসাবে মনে হয় তোমরা সব হানিমুন করতে এসেছ, পড়াশুনার গরজ কম। কিছু মেয়েরা লজ্জা পেত। সুযোগ পেলে একটি বইএর প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিতাম। তোমরা কি এ বইটি পরখ করে দেখেছো? এত এত বড় বড় বই পড়ছো, আর এটি একটি ব্যতিক্রমী অর্জনধারী বই, সেটি পড়ো নাই কেন? উত্তরে বলতো, জীবনেও কেউ আপনার মত আমাদেরে বলে নাই, মা বাবাও নয়, টিচারও নয় তবে অনেকেই কথা দিত,  মনে হতো একটি নাড়া তারা অনুভব করতো, তাই বলতো ঐ কাজটি অবশ্যই করবো, এটি মনে থাকবে। জবাব শুনে ভালো লাগতো, নিজেকে ধন্য মনে করতাম। চারুকলার একজন টিচারকেও আমি একই কথা বলেছিলাম, আমি শুনেছি তিনি ইসলামের প্রকৃত সত্যকে এর পর থেকে নিজের মত করে আপন করেছেন। এতেও আমি আপলুত হয়েছি। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূরের অনেক বিতর্কীত অর্জন শুনেছি, মনের মাঝে এদের জন্য একটি জায়গা ছিল। তবে কেউ যদি জনগণের জমা আমানতের খেয়ানত করেন সেটি অনেক বড় পাপ। মনে হচ্ছে তার অপূর্ণ জ্ঞান ও সত্য বিবর্জিত আবেগ পুরো জাতিকে পথভ্রষ্ট করতে উদ্যত হয়েছে।  আল্লাহ বলে, “যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না” (সুরা বনি ইসরাইলের ৩৬ আয়াত)।

পাঠ্যবইএ ধর্মনাশ:

কিছু দিন আগে একটি পাঠ্যসূচিতে দেখলাম “নিজেকে জানো” নামে কিভাবে ছেলে ও মেয়ে বন্ধু এক অন্যের হাতে হাত ধরবে কাছে যাবে আরো কাছে, উৎসাহ দেয়া হচ্ছে এসব করাতে কোন অপরাধ নেই। কে বলে এসবে অপরাধ নেই? ঐ সব বিতর্কীত মানুষগুলো দেশটিকে ধ্বসিয়ে দিতে চাইছে। হতে পারে দিদির ধর্মে এসব আদিখ্যেতা ধর্মবিলাস,  কিন্তু নীতির ধর্মে এসব অপরাধ! এর জবাব না দিলে প্রতিটি মুসলিম বাপ মা শিক্ষক এর দায় বহন করবে।  গত সপ্তাহে এক মেয়ে টেলিফোনে জানতে চাইছে কিভাবে ঢাকাতে তার বোনের বাচ্চাদের গাইড দিবে? কি করতে হবে, কারণ বাবা মা নিজেরাও সচেতন নয় ধর্ম বিষয়ে, এখন ধর্ম কিভাবে শেখাবেন বাচ্চাদেরে নিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন। অবশ্যই আগে মা বাবাকে প্রকৃত সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে। অনেক আগে এক মাকে হতাশ দেখে আমি বলেছিলাম, নবী যদি বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করতেন তবে কুরআন শরিফ বাংলাতেই নাজেল হতো। তখন সুবিধা হতো আমরা খুব সহজে এটি বেশী ভালোভাবে বুঝতে পারতাম। সবচেয়ে বড় গুরুত্বের কথাটি হচ্ছে আল্লাহর পাঠানো মূল ম্যাসেজটি পৌছে দিতে হবে প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রতিটি কর্ণকুহরে সেটি বাংলা, ইংরেজী, আরবী কুরআন যে মাধ্যমেই হোক। তবে এটি ঠিক আরবী কুরআনের তুলনা নেই, মনে হয় সেজন্য আল্লাহর ওটি পছন্দ, তার ছন্দবদ্ধ রুপ, ঝংকার, সুললিত মাধুর্য্যময়তা ওটিকে শ্রুতিমধুর করে দিয়েছে। আপনি কোন গদ্যই মুখস্ত করতে পারবেন না, কক্ষনোই না, কিন্তু কত সহজে সমস্ত কুরআন চাইলেই রপ্ত করতে পারেন, এটি একটি বড় মিরাকল নামের কুরআনীয় মোজেজা। অনেকে ভাষা না জানার দোহাই দিয়ে ধর্মকেই দূরে সরিয়ে রাখেন, এটি ঠিক নয়। তাহলে আপনি প্রকৃত সত্য থেকে চোখ থাকতেও অন্ধ থাকবেন।

অশ্লীলতার নির্ধারিত সীমারেখা: 

কুরআন স্পষ্ট করেছে অশ্লীলতার সীমারেখা। প্রতিটি স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীকে সেটি স্পষ্ট করুন প্রতিটি মা বাবা, এটি সময়ের দাবী। কারণ অনেক টিচার বৈরী পার্ট প্লে করছে, এতে আপনার ধন ধ্বসে যেতে পারে। “আর ব্যভিচারের ধারেকাছেও যেয়ো না নিঃসন্দেহ তা একটি অশ্লীলতা; এটি এক পাপের পথ” (সুরা বনি-ইসরাইল ৩২ আয়াত)। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনই বনি ইসরাইল সুরাটির শিক্ষা। ঐ সময় ইহুদীরা ধ্বসে গিয়েছিল অপরাধের সব অপকর্মে গোলা ভরে রেখেছিল। মুসলিমরাও যেন তাদের মত ধ্বসে না যায় সেটি সুরাতে ষ্পষ্ট করা হয়েছে। হুমায়ুন আজাদের শিক্ষা থেকে চরিত্র গঠনে এটি বহুগুণ উচ্চমার্গে আছে। তিনি বলেছেন ধর্ম নাকি মানুষকে পঞ্চম শ্রেণীর জ্ঞানও দিতে পারে না। মাইকেল এইচ হার্টের “দি হান্ডড্রেড” তার জ্ঞানের পরিসীমাতে থাকলে তিনি এমন মিথ্যাচার করতেন না। এসব ব্যক্তিদের বাচ্চাদের পাঠ্যবই সাজাতে দিলে জাতির বারোটা কেন চৌদ্দটা বাজতেও দেরী হবে না। কারণ যে শিক্ষা তারা অর্জন করেছে সেখানে সুশিক্ষার ঘাটতি প্রকট! দেখা যায় অনেক গুণিজন মা বাবার ধার্মিকতার প্রচার করেন মিডিয়াতে, কিন্তু নিজেরা ঐ অর্জনে ঘোড়ার ডিম! প্রজন্মকে তারা বিভ্রান্ত করছে নানান কসরতে, আবার মা বাবার ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজেদের ঘাটতি কি পোষায়? দৃশ্যতঃ এরা সুশিক্ষা না নিয়ে কুশিক্ষা দ্বারা বড় মাত্রায় প্রভাবিত। ধর্মের নামেও সমাজে অনেক অনাচার চালু আছে, এর মূল কারণ মানুষ সুক্ষ্ম গবেষনাতে নেই বলে। অতীতে একদল অনভিজ্ঞ পন্ডিতেরা ওটি জোর করে ইজতেহাদের বা গবেষনার দরজাটি বন্ধ করে সেটে দিয়েছিল যার জন্য গবেষণাহীন থেকে ধর্মটি অনেক আবর্জনা জড়িয়ে নিয়েছে তার চারপাশ থেকে। বড় আলখেল্লার নিচে মিথ্যা প্রচারককে মনে হতে পারে বড়হুজুর। কিন্তু সে ধর্মটিকে ধ্বসিয়ে দিতে নানান কৌশলে তার মিথ্যাচার দু নাম্বার তিন নাম্বর সেফটি ট্যাংকএ ঢুকিয়ে রেখেছে। কিন্তু প্রধান সেফটি ট্যাংকটি সর্বাবস্থায় নিরাপদ থাকবে সেখানে আল্লাহর কড়া প্রহরা, কেউ ওটি ঘোলা করতে পারবেন না। সালমান রুশদি তসলিমা গংরা সবাই ওখানে ফুটুস, তাদের হাজার বছরের শ্রমেও কিছু হবার নয়। দু নাম্বার তিন নাম্বার সব ট্যাংকই নিরাপদ, যদি এর জনতারা সজাগ থাকে, গবেষণাতে দক্ষতা রাখতে পারে। তবে সর্বাগ্রে সর্বোচ্চ মর্যাদা হবে প্রথম সিলেবাসের। সেটি দ্বারা ময়লা এঁটো খুব সহজে পরিষ্কার করা সম্ভব। পরিষ্কার করার কুরআন গ্রন্থ দিয়েই সব আবর্জনা স্পষ্ট করতে হবে, এটি আল্লাহর নির্দেশ। “নিঃসন্দেহ আমরা নিজেই স্মারকগ্রন্থ (কুরআন) অবতারণ করেছি, আর আমরাই এর সংরক্ষণকারী” (সুরা আল-হিজরএর ৯আয়াত)।

 

ধর্মের নামে রাজ প্রতারণা: 

আল্লাহর বাণী “আমার বানী সমূহের জন্য সল্পমূল্য কামাতে যেয়ো না, যারা এসব বিচার করে না তারা নিজেরাই অবিশ^াসী” (সুরা আল-মাইদাহ এর ৪৪ আয়াত)। সাবধান বাণীতে নজর কম থাকায় বাংলাদেশের সরকার প্রধান একটি বড় অপকর্ম করেন প্রায়ই, ধর্মটির খুটিনাটি না জেনেই তিনি অপকর্মকে ধর্ম বলে প্রচার করে ধর্মকেই বিতর্কীত করেন। যেমন কথায় কথায় মদীনার সনদে দেশ চালাচ্ছেন বলে প্রকারান্তরে তিনি মিথ্যাচার করেন। তিনি জানেন না মদীনার সনদ কি ছিল? জানলে তিনি অনাচারকে মদীনার সনদ বলতে অন্তত বিবেকের কাছে লজ্জিত হতেন। একইভাবে নূহের নৌকা বলে নবীর নৌকাকে মর্যাদাহীন করেন। তার নৌকাতে শুধু সন্ত্রাসী গড ফাদারদের সঙ্গ দেয়া হয় যেখানে নবীর ছেলে অবাধ্য হওয়াতে সেদিন তাকে ডুবে মরতে হয়, আল্লাহ কোন অনুকম্পা দেখান নাই। আল্লাহ বলেন, “হে নূহ! নিঃসন্দেহ সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়। সে তোমার পরিবারের মহৎ ঐতিহ্য পরিত্যাগ করেছে” (সুরা হুদ এর ৩১ আয়াত)। আর একটি ম্যাসেজ সবার ষ্পষ্ট ধারণা থাকা ভালো সেটি হচ্ছে মানুষ নবীর পরিচয়। সেটি বার বার নবী স্পষ্ট করেছেন তারপরও বেওকুফরা বলে নবী ও ওলি দরবেশরা নাকি জিন্দাপীর। এসব পৌত্তলিকতা থেকে আগত অনাচার অতিভৌতিকতা কালে ভিড় করেছে ইসলামের পবিত্র অঙ্গনে। “আর আমি তোমাদের বলি না আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে। আর আমি অদৃশ্য সন্বন্ধে জানি না। আর আমি বলি না যে আমি একজন ফেরেশতা” (হুদএর ১১:৩১ আয়াত)। এটি একজন মানুষের জন্য খুবই ইতিবাচক একটি জমা। তার মানে তিনি মানুষ ছাড়া আর কিছু নন, আপনি চাইলেই তাকে অনুসরণ করে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে যেতে পারেন। তার জন্য আপনাকে কুরআন গ্রন্থটি অনুসরণ করতে হবে। অনেকে কুরআনকে অবহেলা করে মানব রচিত অন্যান্য গ্রন্থের উপর জোর দেন, সেটি ঠিক নয়। জোর দিবেন প্রথমটিতে। একজন মুসলিম যদি এর উপর বিশেষজ্ঞ হতে পারে তবে সে অতি অল্পে যে কোন মানব রচিত অনাচার ধরতে পারবে। কারণ তখন কুরআন কম্পিউটারের কাজ করে। আল্লাহ বলেন, “উৎপীড়ন হত্যার চেয়ে গুরুতর” (সুরা বাক্কারাহএর ২১৭ আয়াত)। বস্তুত এ গুরুতর অপরাধটি বাংলাদেশ সরকার সারা বছর ধরে র‌্যাব, পুলিশ, তার পেটোয়া বাহিনী দ্বারা পরম উৎসাহে করে চলেছে। ঐ সব করতেই সে অনাচারের উপর হাটছে, জনতায় তার ভরসা নেই, ভরসা শুধু ভারতে, অন্যের ঝুলিতে।

কুরআনের আলোকে মোট ১৫টি আয়াতের মাধ্যমে লেখাটি সাজানো হলো, বিতর্কীত জমাগুলো আল্লাহ প্রদত্ত জবাব হিসাবে কুরআন থেকেই আয়াতগুলি দেয়া হলো। আল্লাহ হাফিজ।

নাজমা মোস্তফা ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

ওড়না বিতর্ক:

ওড়না বিতর্ক: ক্লাস ওয়ানের পাঠ্যসূচিতে ওড়না বিরোধী পক্ষরা খুব ক্ষেপেছে ও- তে কেন ওড়না হবে, কেন ও-তে অন্য কিছু নয়? তাদের কথাতে মেয়েটিকে এ দিয়ে নারী নির্যাতন করা হয়। তবে ওড়না শব্দটি শুধু মেয়ে নয়, ছেলেও শিখবে। এদেশের ছেলেপেলে ওটি বই এ না পড়লেও জানে ও চিনে। একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ও – তে ওড়নাই তো হতে হবে। এটি নারী জাতির উপর আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ। এটি শালীন থাকার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ, সে যে একটি শালীন মেয়ে এটি তার প্রথম চিহ্ন। এখন বাংলাদেশের শিক্ষাবিদরা যদি বলেন এটি হেফাজতের কারসাজি। তাহলে কি বলবেন আল্লাহ হেফাজতের নির্দেশে কুরআন সাজিয়েছেন! জাতির নব্য মেধাবীদের দ্বারা ছাগল গাছে চড়লেও (কথা কম) ওড়না নিয়েই যত টানাটানি করতে দেখি ছলবাজদেরকে। মুক্তির ধ্বজাধারী বিজাতীয় ভাবধারাতে উদ্ভাসিত নারীরা ওড়নাকে নারী ধ্বংসের হাতিয়ার ধরে নিয়ে কলাম লিখছেন। কারণ সাম্প্রতিক ২০১৭ সালে পাঠ্যবইএ অনেক অবান্তর সংযোজন হয়েছে যা যে কোন সচেতনকে শংকিত করে তুলবে। এসব অনাচারকে যারা ধরেছেন তারা শুধু ধর্মের প্রশ্নে নয়, নীতির প্রশ্নেই ধরেছেন। যার প্রেক্ষিতে সরকার তা পুনমুদ্রণ করার উদ্যোগও নেয়, নয়তো চারপাশে হাজার অনাচারে দক্ষ সরকার কখনোই পুনমুদ্রন করতো না। অনেকে ওড়নাকে দেখছেন নারীর গলার ফাঁস হিসাবে, শারমিন শামস, কাওসার আলম নামধারী মুসলিমদের কলামেও বিষোদগার এসেছে। কেউ লিখছেন “ও-তে আড়াই গজি ওড়না মানে বাঙ্গালীর যৌনবস্তু নারীর মুক্তির স্বপ্ন” / কেউ লিখছেন “হঠাও ওড়না বাঁচাও দেশ”, বিক্ষুব্ধ তারা কারণ ওড়না দিয়ে নারীরা তাদের যৌবন ঢেকে রাখার প্রাথমিক সবক পায়। শারমিন লিখেছেন কলকাতার রাজপথে বহু রাত অবদি মেয়েদের অবাধ স্বাধীনতা দেখে তিনি মোহিত ও উৎফুল্ল হয়েছেন।

তার অতি উৎসাহ দেখে আমিও মনে করতে পারছি ৮৪ সালে ভারত ভ্রমনের এক ঘটনা। আমাদের গাড়ীটি সকাল ৯/১০টার দিকে একটি স্কুলের সামনে গিয়ে থামে। আমি গাড়ীতে বসা ছিলাম আমার দু বাচ্চাসহ, দেখছিলাম স্কুলের মেয়েরা সারিবেধে যাচ্ছে। অনেকেই পরেছে সবুজ পেড়ে সাদা শাড়ী ও ব্লাউজ, আর অনেক প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েরা একই সাথে ফ্রক ও হাফপেন্ট পরেছে। যা আমার চোখে শেলের মতই বিঁধে, অর্থাৎ খারাপ লাগে। দেশে ফিরে আসলে আমার এক হিন্দু সহকর্মী খুব উৎসাহ নিয়ে প্রশ্ন রাখেন কেমন দেখলেন ভারত। তার জবাবে আমার খারাপ লাগা বিয়ষটিই তাকে বললাম যা আমাকে বিচলিত করেছিল কারণ যারা শাড়ী পড়েছিল তাদের উপর দিক ছাড়াও পেটপিঠ প্রায় আধহাত বরাবর সবই উদোম খোলা, আর বাকীরা যারা ফ্রক পরেছে তারাও হাফ নেকেড। উপর নীচ সবই খোলা, মাঝখানের কিছু অংশে সভ্যতার দাগ ছিল। সবচেয়ে উৎকট লেগেছিল যে এরা প্রায় সবাই ছিল কালো মেম, সেদিন মন্তব্য করেছিলাম হয়তো সাদা মেম হলে কিছুটা ভালোই লাগতো কিন্তু কালো মেমদেরে আমার চোখে মোটেও ভালো লাগে নাই। মেম হওয়ার কথাটি এ জন্য বলা, মনে হচ্ছিল উদোম হয়ে এখানে বিলেতি মেম হওয়ার একটি প্রয়াস ছিল হয়তো বা। সেদিন একটি ওড়না থাকলেও তাদেরে দেখতে অনেক শোভন লাগতো। এসব হচ্ছে সভ্যতার দাগচিহ্ন, মানুষের বিশাল অর্জন এসব, মানুষ পোশাকহীন হয়েই জন্মায় কালে শালীনতা, সভ্যতা, মানবতা ও পরিশিলিত ধর্মের বদৌলতে মানুষ পশু থেকে উন্নত প্রজাতির রুপ পায়। বাংলাদেশ থেকে আসা আমার অনভ্যস্ত চোখে তা বেখাপ্পাই লাগছিল, বন্যতা মনে হচ্ছিল। এরা ৯৫% মুসলিম দেশে এভাবে অনাচারের লালন করতে চাচ্ছে। ওড়না বিতর্ক যা দেশে তোলা হয়েছে তা কিছু অতি উৎসাহী হিন্দুবাদী জনতাসহ মুক্তমনের নামে কিছু মুসলিম নামধারী বিরোধীরাও ঐ বিতর্কে যোগ দিয়েছে।

হিন্দুধর্ম ও স্তনকর:  আজকে নারীরা ওড়না দিয়ে তাদের শালীনতাকে ঢাকতে পারছেন মার্জিতভাবে। ওড়না বিতর্কের কলাম লেখকদের জানাতে চাই তারা কি জানেন একদিন এই উপমহাদেশে কয়েক শত বছর আগে মেয়েরা উর্ধাংশে কোন কাপড় পরিধান করতে পারতেন না। ভারতের কেরালা অঙ্গরাজ্যে হিন্দুদের “স্তনকর” দিতে হতো। এর প্রধান কারণ “জাতিগত বিভাজন” যা ইসলাম স্বীকার করে না। এটি ছিল হিন্দুদের অনেক বড় দাঙ্গার রসদ, এবং সেটি আজো সচল আছে। সেখানে শুধু ব্রাহ্মণরা ঢেকে রাখার অধিকার পেত। তাও এক টুকরা সাদা কাপড়ে ঢেকে রাখতো মাত্র। বাকী হিন্দুরা ওটি উন্মুক্ত রেখেই চলাফেরা করতো। আর যদি কোন নাদান নীচ বর্ণের হিন্দু ওটি ঢেকে রাখতে চাইতো তবে তার স্তনের সাইজের উপর একটি টেক্স জমা দিতে হতো টাকশালে। ১৮০৩ সালে এক প্রতিবাদী মহিলা ওটি ঢেকে রাখে। যখন টাকশালের লোক টেক্স চাইতে আসে, তিনি ওটি দিতে অস্বীকার করেন। বিনিময়ে অগ্নিমূর্তি সে মেয়ে সেদিন তার স্তনদুটি কেটে পাতায় মুড়ে তাদেরে লাভেমূলে টেক্সসূত্র উপড়ে ফেলে বুঝিয়ে দেয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মহিলার মৃত্যু হয়। এর সূত্রে অনেক অনেক দাঙ্গা হয় ভারতে, ১৮৫৯ সালের দাঙ্গা “কাপড়ের দাঙ্গা” নামেও পরিচিতি পায়। হিন্দু শাস্ত্রকারদের কথা ছিল নীচবর্ণের হিন্দুদের বুক ঢেকে রাখা ধর্ম বিরোধী। এ ঘটনার তীব্র কষাঘাতের সূত্রে তারা কিছুটা পথ পায় ও ক্রমে ওটি রহিত হয়। দেখা যায় উনবিংশ শতকের বিশাল সময় জুড়ে (১৮০৩-১৮৫৯) এর প্রচন্ডতা ছিল তার মানে এ অপকর্ম ওখানের বহু শতাব্দী পূর্ব জিইয়ে রাখা অনাচার। কিন্তু ইসলামের কোন মেয়েকে প্রায় দেড় হাজার বছর থেকে কোন দিনই এসব মোকাবেলা করতে হয়নি। যখন মোগলরা ভারতে আসে তাদের মহানুভবতায় অনেক হিন্দুরা বাঁচার পথ খুঁজে পায়। সাথে সাথে হিংসার বশবর্তী হয়ে বর্ণবাদী হিন্দুরা প্রচার করে এরা  ধর্মান্তর করে মুসলিম করে ফেলছে। যার কৌশলী দায় থেকে আজো জাকের নায়েকরা নিস্তার পাচ্ছেন না। বস্তুত ভারতবর্ষ মুসলিম মানসের ঋণ স্বীকার করে না, কিন্তু ঐ ধর্মই তাদের মানব অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে, এটি বলা কোন অতি রঞ্জন নয়।

মনে রাখার  বিষয়, কুরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশ ছাড়া কোন অবান্তর কথা নেই। কুরআন বলে, “হে প্রিয় নবী! তারা যেন তাদের বহির্বাস থেকে তাদের উপরে টেনে রাখে। এটিই বেশী ভাল হয় যেনো তাদের চেনা যায় তাহলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ পরিত্রাণকারী অসীম কৃপানিধান। যদি মোনাফেকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা আর শহরে গুজব রটনাকারীরা না থামে তাহলে আমরা নিশ্চয়ই তোমাকে তাদের উপরে ক্ষমতা দেব, তখন তারা সেখানে তোমার প্রতিবেশী হয়ে থাকবে না অল্পকাল ছাড়া” (সুরা আল আহযাবএর ৫৯/৬০ আয়াত)। বস্তুত এভাবে ৯৫% মুসলিম অধ্যুষিত দেশে শারমিন শামস, কাওসার আলমরা বাস্তবে নারীর সাথে নয়, আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। সৃষ্টিকর্তার চেয়েও বড় নারী দরদী তারা। অতএব যে কেউ ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তাদের উপরে থাকবে না কোন ভয়ভীতি, আর তারা করবে না অনুতাপ। আর যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে মিথ্যারোপ করেছে, শাস্তি তাদের পাকড়াও করবে যেহেতু তারা দুষ্কৃতি করে যাচ্ছিল” (সুরা আল-আনআমএর ৪৮/৪৯)। আল্লাহর বাণীতেই ওড়না বিতর্কের এখানেই শেষ টানছি।

 

নাজমা মোস্তফা

জানুয়ারী ০৭, ২০১৭।

 

ইমাম যখন ঈমান হারান

নাজমা মোস্তফা

দেখা যায় একজন ইমাম কিভাবে বিভ্রান্ত থেকে নাস্তিক হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে নবীর বিরুদ্ধে খড়গ তুলে সম্ভবত দেশ ত্যাগ করেছেন। তবে ইসলামের ড্রেস, দাড়ি, টুপি কিছুই ত্যাগ করেন নাই। কিছু ভিডিওতে দেখা যায় তিনি বারে বারে টুপি ঠিক করছিলেন। কি কষ্ট কি বেদনায় তিনি সত্যকে ছুঁড়ে দিলেন? তার খোঁজ করতে আমি তার সবকটি কথা মন দিয়ে শুনি। অতপর যা খুঁজে পেলাম তা স্পষ্ট করা সচেতন দায়িত্বের মাঝেই পড়ে। অতীতে আমি একজন ইমামকে পেয়েছি যিনি খৃষ্টান হয়ে যান এবং সার্বিক বিচারে তার মনে হয়েছে ধর্মের মাঝে খৃষ্টধর্মই সেরা, তাই তিনি ঐ ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রে আমার চোখে মনে হয়েছে এরা ইমাম হয়েছেন, সে হিসাবে এর উপর সুক্ষ গবেষনা করলে অনেক সত্য তারা উন্মোচন করতে পারতেন। তারা ধর্মের জটিলতাকে স্পষ্ট করতে পারতেন কিন্তু গবেষনার প্রকৃত রাস্তাতে তারা নেই। কারণ ছোটকাল থেকে তার মনে কিছু ধ্যান ধারণা সাটা ছিল যেটি তসলিমাগংদের মত জনরা তার মনে পুতে দিতে পেরেছিলেন, গোটা বিশে^ জঙ্গির তকমা শুনে সোমত্ত বয়সে এসে এ পাটে মনোযোগী হলেন। তিনি এমনই একজন ইমাম, যাকে কুরআনের উপর ভুল ব্যাখ্যাসহ আগে পরের বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে হুবহু নাস্তিকদের মতই আয়াতকে কোট করতে দেখে শুরুতেই এটি বুঝতে অসুবিধা হয় নি যে, তিনি হচ্ছেন নাস্তিকতায় বিশ^াসী। যে ভদ্রলোক তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন আরিফ রহমান, প্রায় একঘন্টার একটি সাক্ষাৎকার। তার বাচনভঙ্গি উপস্থাপনাও ছিল বেশ সুন্দর ও সাবলীল, এটিও স্পষ্ট হলো যে তিনি নিজেও নাস্তিক। উপস্থাপক তার ব্যাখ্যাতে স্পষ্ট করেন যে, নাস্তিকরা বিশ^াস করে যে ধর্মের গোড়া ধরে নাড়া দিতে পারলে ধর্মটি ভেঙ্গে যাবে এবং কালে এটি ধ্বংস হয়ে যাবে।

ইমামের নাম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, তার কথামত তিনি মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ১০ বছর বিভিন্ন মসজিদে ইমামতিসহ অনেক গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। তার নতুন নাম বিশ^াস মন্ডল। তিনি প্রথমে বেশ গোড়া মুসলিম ছিলেন, পরে তিনি ধীরে ধীরে বদলান। ধর্মের গোজামেলে ব্যাখ্যা তিনি মানতে পারেন নাই। যে কারণে হিন্দু খৃষ্টানরা অনেকেই ধর্মান্তরিত হয়, একই রকম যুক্তিতে তিনিও ধর্ম ত্যাগ করেন। প্রথম দিকে এসব প্রশ্ন মনে আসলে তিনি কারো সাথে শেয়ার করতেও পারতেন না, মানুষ তাকে সন্দেহের চোখে দেখতো এবং খারাপ মন্তব্য করতো। এতে তার অবস্থা ছিল দম বন্ধ হয়ে আসার মতই অবস্থা। তার যুক্তি হচ্ছে কুরআনের নির্দেশ ধর্ম ত্যাগ করলে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়। একজন ইমাম হিসাবে তার জানার কথা ছিল যে একজন নির্দোষ মানুষ হত্যারও কোন অনুমোদন কুরআনে নেই। কিন্তু তাতে নাস্তিক বিতর্ক জমবে কেন? প্রথমদিকে নাস্তিক বিরোধী হলেও সকল বিরোধীর লেখা তিনি পড়তেন আর নাস্তিকদের অনেক যুক্তি তার চিন্তার সাথে মিলে যেত। বাংলাদেশে যখন নাস্তিকরা জনতার হাত থেকে গনজাগরণ মঞ্চ দখল করে নেয়, তিনি ঐ থাবা বাবার বইসহ ওয়াশিকুর রহমান বাবুর লেখা পড়তেন। তিনি একটি কথা ব্যক্ত করেন তারা ভুল বলে নাই, তাদের কথার সাথে হাদিসের মিল পেয়েছেন। গর্ব করেই বলেন অর্থসহ কুরআন জানেন, পড়েছেন এবং হজম করেছেন। মাদ্রাসাতে অত্যাচার করিয়ে বাচ্চাদেরে কুরআন পড়ানো হয়, এবং এটি প্রচার করা হয় যেসব স্থানে তাদের বেত্রঘাতের শাস্তি দেয়া হয় ঐসব স্থান আগে বেহেশতে যাবে। তার ব্যাখ্যাতে আসে মাওলানা মানে আরবী উর্দু মাসায়ালা সব জানে। মুফতিরা ইসলামিক আইনও জানবে। একবার তিনি বলেন সংস্কারপন্থী ইসলামকে রিফর্ম করার চেষ্টা করেছি, কিছু ক্ষেত্রে ঢাকাতে হেফাজতের সাথেও যুক্ত ছিলেন। নূর হোসেন কাসেমী হেফাজতীর কাছে বা এরকম কিছু জনের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করলে তার আদর্শিক দ্বন্ধ হয় ওদের সাথে। অভিজিত, আশিকুর রহমান হত্যাকে অন্যায় বললে তারা সেটি মানতে নারাজ। সুন্নী হিসাবে তাদের যুক্তি হচ্ছে এর নাম ‘হেকমত’ মানে কৌশল। এসব ভুল হলেও ইসলামকে বাঁচাতে এটি করতে হবে। তার যুক্তিতে সুন্নী মতে নাস্তিক হত্যা, নবীর সুন্নত। আর শিয়ারা এ কৌশলকে বলে ‘তাকিয়া’ এবং ইসলামকে বাঁচাতে এটি বলতে হবে যে এটি ইহুদী খৃষ্টানের চক্রান্ত। মাদ্রাসাতে তারা এসব অপরাধে জড়িত না থাকলেও মনে করতো নাস্তিক নিধন সওয়াবের কাজ। এভাবে দ্বিচারিতা দেখে তিনি কালে নাস্তিকতার দিকে বেশী করে ঝোঁকে পড়েন। টুইন টাওয়ার হামলা হলে তারা লাদেনের পক্ষে ছিল, মিছিলও হয়েছে। এরপর দেখলাম তিনি ইতিহাস ধর্মের নামে অনেক কিছুই বলছেন তা সত্য ইতিহাস নয়।

তার যুক্তিতে বলছি কিছু ইতিহাস বা হাদিস গ্রন্থে বিভ্রান্তি থাকলে, সঠিক গবেষনাতে এসব স্পষ্ট হতো নকল হলে অবশ্যই ঝরে পড়তো। প্রতিটি গল্পকে তিনি ইসলাম বিরোধী হিসাবে তুলে ধরেন। নবী মুহাম্মদ নাকি সম্পদ লুট করার জন্য সিরিয়া থেকে বানিজ্য রসদ লুট করার নামে ৩১৩ জন সাহাবীকে প্রেরণ করেন। এই কথাটি কখনোই কুরআনে বলা নেই যে এরা লুটের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন। সবাই জানে ১,০০০ কুরাইশের বিরুদ্ধে ৩১৩ জনকে লড়তে হয় বদর যুদ্ধে এবং তারা জিতে। এই ইমামের উচিত ছিল ঐসব ধর্মীয় গোজামিলের জবাব দেয়া যা ইত্যবসরে ময়দানে জমা হয়েছে। মূল ঘটনাটি ছিল হিজরতের এক বৎসর পর মক্কার এক প্রধান ব্যক্তি কুর্জ ইবন জাবের বহু সৈন্য নিয়ে মদীনার উপকূলস্থ কৃষিক্ষেত্রগুলির উপর আক্রমণ করে মুসলিমদের পশুপালগুলি নিয়ে যায় (এছাবা ৭৩৮৮নং)। অপ্রস্তুত অবস্থাতে থাকায় তারা মুসলিমদের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। মদীনায় হিজরত করার এক বছরের মধ্যেই মক্কার কুরাইশদের সাজ সাজ রবের খবর মদীনায় পৌছায়। এদিকে তাদের যুদ্ধ সরঞ্জামের আগাম সংবাদ অবগত হয়ে নবী মুহাম্মদ কিছু গুপ্তচর নিয়োগ করেন সঠিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য। হযরত আব্দুল্লাহ ইবন জাহশ নামে জনৈক মুসলিমের নেতৃত্বে একটি গুপ্তচর দল গঠন করে তাদেরে মক্কার পথে যাত্রা করতে বলেন। উল্লেখ্য, এ দলের সম্ভারের মাঝে ছিল ৪টি উট, আর আটজন মুসলিম (একাধিক সূত্র: এবন খাল্লেদুন ২-৩-৭১, এবন হেশাম ২-৭, কাবীর ২-৩৩১৭)। উল্লেখ্য পথিমধ্যে এদের একটি উট হারিয়ে গেলে তারা দুই জন ঐ উটের খোঁজে পথিমধ্যে থেকে যান আর বাকী থাকেন মাত্র ছয়জন। এই ইমাম তার কমন সেন্স ব্যবহারেরও দরকার মনে করেন নাই। কারণ একটি ক্ষুদ্র কাফেলার সংবাদ সংগ্রহের জন্য কি কখনোই ৩১৩জন সৈন্য প্রেরণ করা কোন বুদ্ধিমানের কাজ? তাদের যদি লুটের জন্যও প্রেরণ করেন ৩১৩ জনকে লাগবে কেন? অন্য যে কোন সূত্রে এসব গোজামেলে খবর আসলে এসব চরম মিথ্যাচারকে প্রতিরোধ না করে এই নাস্তিক ইমাম বাড়তি মিথ্যাচার সংযোজন করে চলেছেন। মুসলিমদের উপর নির্দেশ ছিল সব মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকা। উল্লেখ্য এসব মিথ্যাচারের গল্প বহু যুগ থেকে ইউরোপীয় পন্ডিতেরা মূর্তিপূজক কুরাইশ, ইহুদী খৃষ্টান চক্র এর উপর সমানেই প্রচার প্রতিষ্ঠা করে চলেছে এসবের অনেক প্রমাণ ইতিহাসে বর্তমান। গবেষক মোহাম্মদ আকরম খাঁও এর উপর কাজ করে মন্তব্য করেন “বোখারী মুসলেম হাদিস গ্রন্থ সমূহে এই ঘটনার কোন আভাসই দেয়া হয় নাই। এতেও কিছু সন্দেহ আসে এর সত্যতা সম্বন্ধে। এটিও তারা প্রচার করে ঐ মুসলিমরা (মাত্র ৬ জন) দেখা যায় কুরাইশদেরে বিধ্বস্ত করে দেয়। বলা হয় তারা এই মুসলিমরা ওদের সন্ধান পায় মদীনা থেকে বেশ দূরে মক্কার একদম নিকটে, এ অপকর্ম করলো আর যুদ্ধবাজ কুরাইশরা আত্মরক্ষার সামান্যতম চেষ্টাও করে নাই! একটি তীরও নিক্ষেপ করে নাই! অতপর নওফেল ও তার সঙ্গিরা পলায়ন করে মক্কায় ফিরে যায়। (গবেষক তফসিরকারক মোহাম্মদ আকরম খাঁ তার মোস্তফা চরিত, পৃষ্ঠা ৩৯১ এ এর উপর বিসতৃত আলোচনা করেছেন)। ইমামের কথামত এর সুবাদে যুদ্ধ হয় কুরাইশরা ১,০০০ সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ করে। কিন্তু যুদ্ধ হয় বদরে, মক্কার প্রান্তে নয়। ইমাম সাহেবের মিথ্যাচার সবচেয়ে বেশী খাটে বহুদিন থেকে সাজানো ইতিহাস থেকে, বেশীর ভাগ কথা তিনি হাদিস সূত্র থেকে সংগ্রহ করেছেন, কুরআন থেকে নয়। প্রকৃত গবেষণা করলে প্রকৃত সত্যই তিনি খুঁজে পেতেন। সবচেয়ে বড় কথা তারপর তিনি প্রায়শই কুরআন নিয়ে যা প্রচার করেছেন, তাও কাটায় কাটায় সত্য নয়, শংকার সৃষ্টি করে। এসব অন্য সাধারণের জন্য মানা গেলেও একজন ইমাম হিসাবে তাকে মানা যায় না। এসব বিস্ফোরণের আগে তার আরো ভিতরে ঢুকার প্রয়োজন ছিল। এমন সব যুক্তি এখনো রয়েছে যা তার মোটেও জানা নেই, যার জন্য তিনি এত সহজে ধর্ম ত্যাগ করতে পেরেছেন। একবার শুনেছি তিনি চেয়েছিলেন ধর্মের সংস্কার। সংস্কার কি এমনভাবে করা যায় তিনি আল্লাহকে বলছেন মানুষ আল্লাহ। আবার করছেন আল্লাহর কুলখানি। যুবক আল্লাহ বৃদ্ধ আল্লাহ তার বিষয়বস্তু। সুরা ইখলাসের মত একটি ছোট্ট সূরার মর্মও যে ইমাম অর্জন আহরণ ও গ্রহণ করতে পারেন নাই, তার কাছে এর বেশী আশা করাও ঠিক নয়।

বোখারী সাহেবের একটি হাদিসে উটের মূত্র ও দুধ পান করাসহ তিনি পান মুহাম্মদ কর্তৃক মানুষ হত্যার ঘটনাতে উরাইনা গোত্রের লোকরা যখন রাখাল হত্যা করে পালিয়ে যায় তখন মুহাম্মদ তাদের হাত কাটলো, পা কাটলো, তারপর চোখে গরম লোহা ঢুকিয়ে তুলে ফেলে, মরুভূমিতে শুইয়ে রাখে। তারা পানি চাইলে তাদেরে পানি দিতে নিষেধ করেন। তখন থেকেই তার মনে হয়েছে এ তো নবী নয়, এ মানুষের পর্যায়েও পড়ে না। এসব তো কুরআনে নেই। বোখারী যদি কোন ভুল করেন তার দায় কেন নবীর উপর বর্তাবে বা আল্লাহর কুরআনের উপরই বা কেন পড়বে? ২০১৩ সালে তিনি বুঝলেন বিদ্রোহ করতেই হবে। টিভিতে অনেকে প্রোগ্রাম করতে আসা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেও দেখেছেন, তারাও এসব হাদিস বিশ^াস করতেন না। তবে সবার অন্তরেই ভয় ছিল ওসবের প্রতিবাদ করলে রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাবে, নিজের জীবন বিপন্ন হবে এবং সর্বোপরি পরিবার বিপদের ঝুকিতে পড়বে। এ তিন কারণে সবাই চুপ থাকে। তার উপর দুষ্ট মুহাম্মদ এসবের প্রতিরোধে ব্যবস্থাও করে গেছে সেটিও তিনি ব্যক্ত করেন। “মুনাফিকুন” নামে একটি সুরা আছে, কুরআনে বলা হয়েছে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না, বলা হলে তাৎক্ষনিক কল্লা কাটা হতো। এ কথাটিই প্রমান করে তিনি কুরআন ভালো করে বুঝে পড়েন নাই, যদিও তিনি ইমাম। শুধু ধর্মের বুকে ছুরি বসাবার নিমিত্তে তিনি কিছু সার সংগ্রহ করেছেন মাত্র। তার কথামত হত্যার এ ধারাবাহিকতা চৌদ্দশত বছর থেকে চলে আসছে। তাই যারা এটি স্পষ্ট করতে আসবে তারা নিরাপত্তাহীন হবেই। মুহাম্মদ এটিও সাজায় যে এভাবে যারা নাস্তিক খুন করবে তারা ৭২টি হুর পাবে আর বাকীরা পাবে মাত্র ২টি। কুরআনে কোথাও এসব কথা বলা নাই। এরা মুসলিমরা মুখে এক কথা বলে বাস্তবে অন্য কাজ করে। উপস্থাপক তার কথা থেকেই এটি স্পষ্ট করেন যে তার মানে এখানে যারা ঢুকবে তাদের বের হওয়ার কোন রাস্তা নেই। এটিও স্পষ্ট হয় যে, ইসলাম এ যাবত টিকে আছে শুধু তাদের কঠিন নষ্ট আচরণের উপর নির্ভর করেই। উভয়ের বক্তব্যেও এটি স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে ইসলামের কারণে গোটা জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এরা যে দেশের প্রকৃত অবস্থান থেকে কত দূরে অবস্থান করছে এসব তার উত্তম নিদর্শণ। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে সততার সংকট, ইয়াবা সংকট, ড্রাগের সংকট, ইভটিজিংএর সংকট, রাজনীতির সংকট, ভোটহীন সরকারের সংকট, সব ক্ষেত্রে লুটের সংস্কৃতি দেশটির ধ্বসকে সহজ করে দিচ্ছে। এসব কিছুই ঐ ইমামকে আকৃষ্ট করতে পারে নাই। অনুষ্ঠানে বক্তা ও উপস্থাপক উভয়ের যুক্তি ছিল এসব ব্যাপারে সবার কথা বলা উচিত। পরবর্তীতে তারা এসবের উপর অনেক সিরিজ সাজাবে, সবাই যেন তা দেখে সেটি বার বার অনুরোধ করা হচ্ছিল এবং উপস্থিত দর্শক জনতার সংখ্যাও চারশ কখনো ছয়শ বলে প্রকাশ করা হয়। এটি ভালো লক্ষণ যে, অনেকেই উৎসাহ ভরে এসব জানতে সেখানে ভিড় করছে।

হাদিসের উৎপত্তি হয়েছে রাজনীতির জটিল প্রেক্ষাপটে। অন্য সাধারণেরা যেভাবে মনে করেন এটি ধর্ম বিকাশের জন্য সাজানো হয় এটি ঠিক এভাবে রচিত হয়নি। আজকের যুগে সুক্ষ্ম দৃষ্টির গবেষকরা এটি একবাক্যে মানছেন। ধর্মের নামে হাদিসে যদি কিছু মিথ্যা ঢুকে যায় সেটি স্পষ্ট করার বদলে এ ইমাম আরো কয়েকগুণ বেশী মিথ্যার মাত্রা বাড়িয়ে দিলেন। মানুষকে আল্লাহ সবচেয়ে সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করেছেন কিন্তু তারপরও কিছু মানুষ এতই হীন পর্যায়ে থাকবে যে সে হবে পশুরও অধম। ক্ষুব্ধ ইমামকে ভাবতে হবে কথাটি কি ভুল? মানুষরা কি পশুর মতই কাজ করছে না? যদি না করতো তবে গোটা বিশ^ শান্তিতে ভরে থাকতো। কুরআনের কোন আয়াতেই ধর্মত্যাগের অপরাধে হত্যার  কোন নির্দেশ নেই। একই কথা অতীতে শুনেছিলাম ইসলাম থেকে ধর্ম ত্যাগী আয়ান হিরসী আলীর মুখে। সম্ভবত এরা এসব শুনে শুনে একে থেকে অন্যে রপ্ত করেছে তাই ইমাম হয়েও, আসল ম্যাসেজ সংগ্রহ করতে পারেন নাই। এসব কুরআনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট মিথ্যাচার। আল্লাহর আয়াতে তার বিশ^াস শূন্যের কোঠাতে, তাই আল্লাহর বাণীকে নবীর কৌশল বলে চালিয়ে দেন। সুরা আবাসা, সুরা আনফাল, সুরা আহজাবে মুহাম্মদের কৌশল, এভাবে সুরার নাম ধরে তিনি তার যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করেন। দেখা যায় তিনি বলতে চেয়েছেন ছলবাজ নবীর অনাচার রোধে আল্লাহ তার কথামতই সুরা সাজান। তিনি চাইলে কুরআন থেকে অমৃত খুঁজে বের করতে পারতেন। তা তিনি করেন নাই বরং কুরআন নিয়ে টিটকারী করতেই ব্যস্ত থেকেছেন আর মিথ্যা সংগ্রহ করতে পেরেছেন। আমি এর জবাবে মাত্র চারটি কুরআনের আয়াত আনছি পাঠকের দৃষ্টিকে স্বচ্ছ করতে “নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রেষ্ঠ সুন্দর আকৃতিতে। তারপর আমরা তাকে পরিণত করি হীনদের মধ্যে হীনতম; তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য তবে রয়েছে বাধা বিরতিহীন প্রতিদান” (সুরা তীনের ৪/৫ আয়াত)। “দুনিয়াতে ফ্যাসাদ বাধাতে চেয়ো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ ফ্যাসাদে লোকদের ভালবাসেন না” (সুরা আল-ক্বাসাসএর ৭৭ আয়াত)।  বলো “হে গ্রন্থধারীগণ! কেন তোমরা যারা ঈমান এনেছে তাদের আল্লাহর পথ থেকে প্রতিরোধ করো, তোমরা তার বক্রতা খোঁজ অথচ তোমরা সাক্ষী রয়েছ?” আর আল্লাহ গাফিল নন তোমরা যা করো সে সম্বন্ধে” (সুরা আল ইমরানের ৯৮ আয়াত)। “সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয় তোমাকে (মুহাম্মদ) দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম ইহজীবনে এবং দ্বিগুণ মৃত্যুকালে। তখন আমাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য কোন সাহায্যকারী পাবে না” (সুরা বনি-ইসরাইলএর ৭৫ আয়াত)। শেষের আয়াতে নবী অপরাধ করলে তার জন্যও কঠিন শাস্তির হুমকি রাখা হয়েছে।

মনে হচ্ছে ইমাম সাহেব মাওলানা, মুফতি ও হাফেজ হিসাবে নিজেকে প্রচার করছেন। কিন্তু সব কথার সার কথা হচ্ছে তিনি প্রকৃত ধর্ম সম্বেন্ধে স্বচ্ছ ধারণা অর্জন করতে পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছেন। ধর্ম সম্বন্ধে তার জ্ঞানের অপূর্ণতা তাই দুর্বল অবস্থানের পরিচয় বিলি করছে। “আর সীমালংঘনকারীদের ক্ষেত্রে তারা তো জাহান্নামেরই ইন্ধন হয়েছে” (সুরা জিনের ১৫ আয়াত)। জেনেও না জানার ভান করছেন নাকি ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন, আল্লাহই মালুম।  আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ মন্তানী করছেন। যাক বড় কথা হচ্ছে ময়দানে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করার অনেক ক্ষেত্রই ছিল যা তিনি করতে পারতেন। এসব সঠিকভাবে করতে পারলে ধর্মটি আরো জটিলতা থেকে মুক্ত হতে পারতো, সুন্দর পথ খুঁজে পেত। “রসুলের উপরে কোনো দ্বায়িত্ব নেই সুস্পষ্টভাবে পৌছানো ছাড়া” (সুরা আন-নূরএর ৫৪ আয়াত)। নবীর দায়িত্ব তিনি অবশ্যই সঠিকভাবে সমাপ্ত করেছেন। এ ধর্মের দায় শুধু নবীর একার নয়, এর দায় বাকীদের উপরও কমবেশী বর্তায়। যারা চৌদ্দশত বছর থেকে এখানে অবস্থান করছেন যা তাদের উপরও কাজ করার কথা ছিল। ইমাম আবু হানিফা কাজ করতে পারলে আপনাদের কি হলো, প্রকৃত কাজ না করে সত্য ধর্মে এঁটো মিশিয়ে দিচ্ছেন! তারা সত্যের জন্য জেলে গেছেন, কারাগারে জীবনপাত করেছেন তার খোঁজ করেছেন কখনো? নাস্তিকদের সাজানো পথে হেটেছেন অল্প পরিশ্রম দেখে ওটিকে সহজ মনে করে ও পথেই সেরা হবার স্বপ্ন দেখেছেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল পথ। এ ধর্মে এ নাস্তিক ইমাম অনেক গলদের সন্ধান পেলেন কিন্তু সাগর সেচে মনিমুক্তা আহরণ করতে পারলেন না, এটি দুঃখজনক। নবী তার দায়িত্ব ঠিকই পুঙ্গানুপুঙ্গরুপে পালন করে গেছেন। কিন্তু পরবর্তীরা কেন ঐ কর্ম করতে চৌদ্দশত বছর থেকেও ব্যর্থ হয়ে আছেন, সেটি চিন্তা করার সময় বয়ে যাচ্ছে। আর কতকাল প্রহর গুণবেন আর অপকর্ম করে ময়দান গরম করবেন। বস্তুনিষ্ঠ কাজ করুন, সঠিক ধর্মের সত্যে সবাই ফিরুন। ভিন্ন ধর্ম থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসছে আর আপনি আপনার সমৃদ্ধ ময়দান ছেড়ে কেন দুর্ভোগের রাস্তায় যাবেন। সকল ব্যর্থতার বিপক্ষে আপনি সঠিক সত্যের সাধক হোন। সঠিক সত্যের সাধনা করুন, জিতুন। অল্প বিদ্যা ভয়ংকর কথাটি মনে রাখা খুব দরকার, আপনার বাহারি বক্তব্য শুনে এ কথাটি মনে হলো। ধর্মের গোড়ায় আছেন মনে করে এমন একটি নাড়া দিলেন তাতে মনে হচ্ছে ধর্ম আরো শক্ত হবে, ধ্বসে পড়বে না। হয়তো বাকীরা আরো সাবলীল  হয়ে চিন্তায় চলার পথ খুঁজে পাবে। যারা টুইন টাওয়ার ধ্বসিয়েছে, মুসলিমদের নকল আসামী বানিয়েছে, এর পর ইসলাম আরো তেজী ঘোড়ার মতই ছুটে চলেছে। এটি ঠিক মুসলিমরা শীত নিদ্রার কাল কাটাচ্ছে, সময় পার হচ্ছে আড়মোড় ভেঙ্গে জেগে উঠার। ইনশাআল্লাহ, গোটা বিশে^ ইসলামসহ বাকী বিশ^ই ঐ জাগরণে পথ খুঁজে নিবে। অতীতে ইসলামই রেঁনেসার মূল কলকাঠি ছিল। সেটি আপনি না মানলেও বিশ^ ইতিহাস অবশ্যই মানে। চোখ কান খোলা রেখে কান পেতে শুনুন, এর আওয়াজ পাবেন।

উনাকে প্রশ্ন করা হয় ইসলামের গোড়ার কথা, আরব দেশ, জাহেলিয়াতি আচার, ঈশ^র কথন, মুহাম্মদ কি মানুষ এসব। শেষের কথাটি শুনেই তিনি মুচকি হাসি দিয়ে বলেন, কোনভাবেই তাকে মানুষ বলা যায় না। মুহাম্মদ নিজেই এটি প্রচার করে, সুরা আনআমে বলা হয় মানুষ পশুরও অধম। তার চাচা লাহাবকে সে খারাপ বলে নাজিল করিয়েছে, গালাগালি করা সারা জীবন তার সাধনা ছিল। তার অনেক চাচা ছিলেন বাকী চাচাদের কথাও বলুন । তার দৃষ্টিতে জাহেলিয়াতি আচারের প্রচার সবই মিথ্যাচার। এসব প্রচারের উদ্দেশ্য হচ্ছে তার স্বরচিত ধর্ম প্রচারের বাহানা মাত্র। আর মুহাম্মদকে মানুষ তো দূরের কথা একে পশুও বলা যায় না। তারপর তিনি বলেন তর্কের খাতিরে মানলাম তিনি নবী তবে তার সমালোচনা করলেই সে কেন ঘাতক পাঠাতো। বলতো, যাও ওকে হত্যা করে আস। এসব বোখারীর হাদিসে সব আছে, এসব মাদ্রাসার পাঠ্যসূচীর অংশ। সে সরাসরি গুপ্তহত্যা করতো, ভন্ডামী নিজে শিখাতো, গুপ্ত হত্যার অনুমতি দিত, যারা সমালোচনা করতো তাদেরে সমালোচনার সুযোগ দিত না। কাব বিন অশরাফ, আবু রাফি, আসমা, আবু সাফফাত ১২০ বছরের এক বৃদ্ধকে হত্যার জন্য সে ঘাতক পাঠায়। সব সময় আল্লাহর নাম নিয়ে এসব অপরাধ করতো। বিশেষ করে বোখারীতে এসব আছে, এখানের প্রথম দুজন ধনী মানুষ এরা দূর্গে বসবাস করতো। তারপর তার অনুমতি নিয়ে দূতেরা সেখানে গিয়ে মিথ্যাচার করে ঘুমন্ত অবস্থায় ওদেরে হত্যা করে। ভন্ডামী ও মোনাফেকী শিখিয়েছে মুহাম্মদ নিজে, সুরা আনফালে কাফেরদের হত্যা করতে, ঘাড়ে ও জোড়ায় জোড়ায় আঘাত করতে বলেছে।

ওদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে আল্লাহ ওরকম রায় দিলেন। তিনি আল্লাহকে ফাঁসি দিতে চাচ্ছেন, থাবা বাবাদের মত তার কুলখানি করছেন। এর দায় নবীর ঘাড়ে বর্তায় না। তিনি আরো বলেন হাদিস বলেছে মাথায় আঘাত করতে। তার বক্তব্যে এটি বুঝা যায় মুহাম্মদ ও আল্লাহ, এ দুটি এক জিনিস। তার ভাষাতে সুরা আবাসায় সে কিছু কৌশল নিয়েছে, আল্লাহকে দিয়ে নিজেকে ধমক খাওয়ালো, সুরা আহজাবেও তাকে আল্লাহ দিয়ে ধমক খাওয়ালো। সে যখনই ভুল করে তখনই সাহাবীরা অসন্তুষ্ট হয়, ওটি সামাল দিতে ওসব সাজায়। হাফসার গৃহে গিয়ে সে মারিয়া কিবতিয়া নামে এক দাসীর সাথে শুয়ে থাকে। তাহরিম সুরা ও বোখারীতে এসব আছে। ধরা খেয়ে হাফসার কাছে দোষ স্বীকার করলো, সে অনুরোধ করে আয়েশার কাছে এসব বলবে না, হাফসা গিয়ে আয়েশাকে বলে দিল। ঠিক তখনই আল্লাহকে দিয়ে দাসীর সাথে হালাল করার আয়াত নাজেল করালো। প্রশ্নকর্তা বলেন মুহাম্মদের চরিত্রের অংশগুলোর যে অন্ধকার ও স্বেচ্ছাচারিতা ও যৌনতার বিষয় পাওয়া যায়, তাও কি পড়ানো হয়? উত্তরে বক্তা বলেন, আগে পরে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হতো এসব প্রয়োজনে করতে হয়। আরবে তখন ইহুদী খৃষ্টান ও প্যাগানরা সে দেশে বসবাস করতো কি কারণে তাকে সেখানে পাঠানো হয় প্রশ্নটি করা হয়। তার জবাব ছিল কিছু সূত্রে জানা যায় খাদিজা ইহুদী ও কিছু সূত্রে খৃষ্টান ছিলেন, সে সময় আরবের বিশৃংখল দশা থেকে বাঁচাতে সে কৌশলে খাদিজার কাছ থেকে ওদের অনুসরণ করে অন্য নবীদের এখানে টেনে এনে তাকে শেষ নবী হিসাবে অন্যদেরও মূল্যায়ন করে কুরআন সাজায়। প্রথম দিকে মানুষ তাকে ভালো মনে করলেও সে পরে ক্ষমতা লাভের পর খারাপ মানসিকতার প্রয়োগ করে। রোমানদের পক্ষে চাটুকারীতা করে যার কারণে রুমানরা তাকে একটু সুযোগ দেয়, নয়তো ঐ সময়ই তাকে খৃষ্টানরা ধ্বংস করে দিত। সুরা হাদিদে বলে খৃষ্টানরা ভালো, ইহুদীদের সাথে তার দ্বন্ধ ছিল, তাই সে ৮০০ ইহুদীতে জবাই করে। খাইবারে ইহুদীদেরে বহিষ্কার করলো। সে খুব কৌশলী ছিল। প্রকৃত কুসেডের ইতিহাস ইমামের জানা নেই এসব তার প্রমাণ। তখন উপস্থাপক বলেন এটাকে বলে স্ট্রেটেজিক এলায়্যান্স। তাই খৃষ্টানরাও এসব বুঝতে পেরে তার বিরুদ্ধে পরে ক্রসেড এ যায়, এটি স্পষ্ট করেন উপস্থাপক।

এবারের প্রশ্ন ছিল আইয়ামে জাহেলিয়া কি খারাপ ছিল? নাচগান, কবিতা, এসবকে খারাপের দিকে নিয়ে একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা কতটুকু সত্য? এর জবাব ছিল এটি ছিল তার আর একটি কৌশল, যার উদ্দেশ্য ছিল ঐ ধর্মটি প্রতিষ্ঠা করা। ঐ সমাজ ছিল গোত্রবদ্ধ ব্যবস্থা, নানারকম দ্বন্ধও ছিল, যুদ্ধও ছিল যা মুহাম্মদ দেখেছে কিন্তু কোন না কোনভাবে সে নতুন ধর্ম দাঁড় করায়। প্রথম নিয়ত ভালো ছিল পরে ক্ষমতা লোভী ও ভয়ংকর হয়ে পড়ে। মুহাম্মদ নিজেই ছিল আইয়ামে জাহেলিয়ার চেয়েও ভয়ংকর। খাদিজা ছিলেন শীর্ষ ব্যবসায়ী। ইসলামের আমলে কি কোন মেয়ে ব্যবসায়ী পাওয়া যাবে? ইমরুল কায়েস ছিলেন সেরা কবি। পরে কেউ এরকম জাগে নাই কারণ মুহাম্মদ সবকিছু ধ্বংস করেছে। সংস্কৃতি, শিক্ষা, বিজ্ঞান, চর্চা এখানে এসব শূণ্য। মুসলিমদের দান বিশাল তারা এটি অনেক সময় বলে আবার পিছলে পড়ে, জবাব দিতে পারে না। প্রশ্ন আসে বিজ্ঞান কখন তাদের হাতছাড়া হয়? মনে হলো উপস্থাপক এটি অবগত প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের বেশ কিছু অবদানের খবর জ্ঞাত, লন্ডন মিউজিয়ামে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন যা স্বীকার করেন। বক্তার জবাব ছিল কুরআন থেকে যদি বিজ্ঞান আসে তাহলে বিজ্ঞানীরা কি হাফেজ আর হাফেজরা কি বিজ্ঞানী? এটি ছিল তার জবাব। তার যুক্তিতে পরবর্তী চার খলিফারা খালি জেহাদ করেছে। খলিফা মামুন, হারুনুর রশিদের সময় গ্রীক দর্শন মুসলিম বিশে^ প্রভাব ফেলে। বাগদাদে গ্রীক দর্শন চলতো আব্বাসীয় আমলে।

এবার আল-জেবরা, আলকেমী, ইবনে সীনা, ইবনে জারির, এস্ট্রনমীতে মুসলিমদের অসাধারণ অবদান হিসাবে উপস্থাপক জানতে চান এগারো শ বছর আগে কেন তাদের পতন হলো? যদিও আমরা জানি তাদের পতন আজো হয়নি। তারাই জগতকে আজো এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। পতন হয়েছে মুসলিমদের, এর প্রমান এসব ইমামরা। ইমামের জবাব ছিল এরা কেউই ধর্মীয় মুসলিম নন। এখনও মুসলিমরা বিজ্ঞানীদের স্বীকার করে না। ওমর খৈয়াম ছিল খাটি নাস্তিক। তাদের হত্যার ফতোয়া দেয়া হয়। এসব তারা বলে না। ইসলাম অবশ্য টিকবে না। তখন দেখা যাবে বর্তমানের নাস্তিকদেরে তারাই গবেষক সাধক বলে মানবে। ঠিক তখনই উৎফুল্ল এক হিন্দু দর্শক গৌরব দে প্রশ্ন রাখেন। তার প্রশ্ন ছিল এসব মানুষ কিছুই জানে না, কিভাবে এসব মানুষকে জানানো যায়? জবাবে বক্তা মুসলিমদের মিথ্যাচারের নমুনা হিসাবে বলেন, বুড়ির পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখার মিথ্যা গল্প তারা মুসলিমরা শুনায়। তারা মানুষকে এ মিথ্যাচার দিয়ে ধর্মের ভিত গাড়ে। কেউ যদি এটি প্রমাণ করতে পারে, তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। এটি একটি বানোয়াট হাদিস। মুহাম্মদের বর্বর চরিত্রের সাথে এ গল্প মিলে না। তিনি অনুরোধ করেন সবাই কুরআন ও বোখারীর হাদিস পড়বেন। কে এসব গল্পের উদগাতা, হরিণ একটি বাধা ছিল গাছের তলায়, এসবের উৎস কি? তার যুক্তি হচ্ছে নৃশংস ও যৌনতা পরায়ণ, নোংরা কথাই নবীর বিষয়ে আসে। এরকম একজন খারাপকে কেন মানুষ অনুসরণ করছে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এর কারণ অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। সৌদির হজের কারণ রোজগার করা ধর্মীয় অর্জন, এরা লাভবান হচ্ছে। মুহাম্মদ ছিল দেশপ্রেমিক ও ধর্মের প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে গেছে। সৌদির কারণে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লতিফ সিদ্দিকীর হজ বিরোধী প্রসঙ্গও আসে এবং তার প্রশংসা করা হয়। ধর্মের কারণেই বাংলাদেশটি শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাদের দৃষ্টিতে এটি ছিল অসম্ভব সফল একটি আলোচনা, উভয়েই খুব খুশী তুষ্ট ও তৃপ্তিতে ভরা। জনতাদের বোখারী ও হাদিস পড়তে বলা হয়। পরবর্তী এপিসোডেও সবাইকে আসতে বলা হয়। মুসলিমরা শুধু কুরআন জপে এটিও তাদের একটি কৌশল ধরা হয় কারণ মানুষ অর্থ বুঝে পড়লে এ সত্য থেকে দূরে চলে যাবে তাই বলা হয় অর্থের দরকার নেই, শুধু জপো। কারণ ঠিক মত পড়লে কেউ মুসলিম থাকবে না।

এরপর দুটি ইউটিউব লিংক দেখলাম এসব মিথ্যাচারের জবাব হিসাবে মনজুর ইবনে আহমেদের কুরআনের বস্তুনিষ্ট উপস্থাপনা, খুবই ঝরঝরে ও স্পষ্ট সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। আর একটি এপিসোডে জাকির মাহদিন ও আরিফুর রহমান আর একটি এপিসোড সাজান। নানা প্রতিবন্ধকতায় জাকির মাহদিন কোন বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন নাই। তবে তিনি একজন স্বশিক্ষিত যুবক গবেষক, ধর্ম দর্শন যুক্তিবিজ্ঞানে পারদর্শী। তার আলোচনাটিও চিন্তা জমা করার জন্য উদাহরণীয় মনে হয়েছে আমার কাছে, নাস্তিক আস্তিক বিষয়ে তিনি খুবই খোলামেলা ও ঝরঝরে বক্তব্য রাখেন। তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে, এসব মাদ্রাসার দিকে সুনজর দেয়া হয় না, সঠিক গবেষনার সুযোগ তাদের জন্য বরাদ্দ নেই। যার জন্য তারা কিছু জটিলতাতে ভোগলেও তাদের উন্নয়ন কল্পে সরকার পক্ষ থেকে তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না। যার প্রেক্ষিতে এরা নানান জটিলতায় ভোগলেও, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। সমাজের সুযোগ সন্ধানীরা সব সময়ই এদেরে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখেন।

ইসলাম ধ্বংসের স্বপ্নে বিভোর হয়ে নাস্তিকরা সেই সুদূর সপ্তম শতাব্দী থেকেই লড়ে চলেছে এবং কয় কদম এগিয়েছে সেটি তারাই বিবেচনা করলে পাবে। তবে গবেষনা ব্যতিরেকে উত্তরণ অসম্ভব। এটি ছিল ইসলামের মত সত্য ধর্মের একটি উদাহরনীয় উৎস যেটি চালু রাখার উপর মৌল ইসলামে সব সময় জোর দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে খুব কৌশলে একটি বেশ বড় সময় থেকেই গবেষনাকে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। উপরের আলোচনাটি থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ঐ ইমাম ইসলামকে অন্তর থেকে ধারণ করতে পারেন নাই। এমন কি মূল গ্রন্থ কুরআন থেকেও তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন। এর কারণটি কি হতে পারে? দেখা যায় তিনি বারে বারে তার এই অনাচারের জন্য কখনো কুরআনকে আবার কখনো বোখারীর হাদিসকে এনে উপস্থাপন করেন। তার মানে ঐ বোখারী থেকেই তিনি ভুল পথের রাস্তায় উঠে গেছেন। এ কথাটি তার মতে আরো অনেক সাথের ইমামদের থেকেও তিনি প্রাপ্ত হয়েছেন। বোখারীর হাদিস এসব সাজানো হয়েছে কুরআনকে বোঝার জন্য। এটি প্রমাণ করে ও এটি বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ঐ বোখারীর হাদিসই তাকে সবচেয়ে বেশী বিভ্রান্ত করে ভুল পথে নিয়ে গেছে। এমন কি যে কুরআন গোটা বিশ^কে পথ দেখাতে সক্ষম তার বস্তুনিষ্ঠ উদাহরনীয় অবদানকেও তিনি ভুল ব্যাখ্যায় চিত্রিত করেছেন, হয়তো বোখারীর যুক্তিকে গ্রাহ্য করে। তার উচিত ছিল কুরআনকে গ্রাহ্য করার, বোখারীকে নয়। বোখারী একজন মানুষ, তিনি আল্লাহ নন। তার রচিত গ্রন্থ আল্লাহর গ্রন্থের সমকক্ষ নয়। কুরআন গ্রন্থের মর্যাদা অনেক উপরে। বোখারীর গ্রন্থ মানুষের রচিত সেখানে অনেক বিভ্রান্তি আসতেই পারে। তাকে আল্লাহর গ্রন্থের সমান করাটা ধর্মের নামে বড় অপরাধ। নবী ও আল্লাহ দুজন কখনোই সমান নয়। একজন  সৃষ্টিকর্তা একজন তার সৃষ্ট, সেটি বুঝতে ঐ ইমাম ভুল করেছেন। তার উত্থিত প্রশ্নের জবাব তার ধারে কাছেই ছিল কিন্তু তার সন্ধানে সঠিক গবেষণার উপাত্ত কম ছিল বিধায় তিনি পথ হারান, এটি তার দুর্ভাগ্য। চৌদ্দশত বছর আগেই ধর্মটি এসেছিল সমাজের সব অনাচার নির্মূল করতে কিন্তু দেখা যায় কালে যুগে যুগে বরং আরো বেশী অনাচার জমে গেছে এর ডালপালা ধরে। এসব স্পষ্ট করা সময়ের দাবী আর গবেষনা ব্যতীত তা সম্ভব নয়। উপরে ধর্মান্তরিত ইমামের কিছু প্রশ্ন বস্তুনিষ্ঠ অর্জন হতে পারে, তবে যেভাবে তিনি এর সমাধান রচনা করেছেন মিথ্যাচারেরও আশ্রয় নিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। সবকিছুই অর্জন নয়, অন্যের গলগ্রহ হয়ে তিনি কিছু পথহারাকে অনুসরণ করেছেন, সঠিক পথে হাটলে ধারণা হয় তিনি অনেক বড় অর্জন জমা করতে পারতেন।

তিনি আঁচই করতে পারেন নাই ঐশী গ্রন্থ কি কেন ও কার কাছে আসে। তিনি মনে করেছেন যে কেউ চাইলেই এরকম একটি গ্রন্থ রচনা করতে পারবে। তার জানা নেই উনিশ সংখ্যাটির অসাধারণ বিন্যাস সারা কুরআন জুড়ে। তিনি সুরা রচনা করছেন কিন্তু ঐ সংখ্যার বিন্যাস কি দেখাতে পারবেন?  নবী মুহাম্মদ যে কি ছিলেন, সেটির নির্বাচন যে আল্লাহ কর্তৃক ছিল সে বোধই এ লোকের মগজে নেই। এমন কি পূর্ববর্তী ধর্মগুলিও আল্লাহর সহযোগিতাতে এসেছে ও স্থান করে নিয়েছে। এসব ছিল অদেখা ¯আল্লাহর সাজানো, কোন মানুষের সাজানো নয়। নবীর জীবন সম্বন্ধে তার তেমন কোন ধারণা নেই। নবীর প্রথমা স্ত্রী কিভাবে একই সাথে খৃষ্টান ও ইহুদী ধর্মে শিক্ষিত হয়ে যান। আর হলেই বা তিনি কিভাবে ঐ বিদ্যে দিয়ে স্বামীকে সহযোগিতা দিয়ে এমন একজন বিশারদ তৈরী করে গেলেন যে, কুরআনের মত একটি গ্রন্থ রচনা করলেন যার একটি কথায়ও গোজামিল পায় না বর্তমানের বিজ্ঞান। নবীর প্রথমা স্ত্রী তার থেকে বয়সে ১৫ বছরের বড় ছিলেন, সবকটি বাচ্চাই ঐ নারীর পক্ষের। এবং তার জীবিতকালে তিনি কোন দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করেন নাই। শেষ বয়সের বাকী বিয়েগুলো তার বিরোধীদের জন্য মজার খোরাক হয়েছে এমনকি ইমামের মত একজনও এখানে এসে ধর্ণা দেন। একজন সাধুকে বারে বারে নিরাপত্তা দিয়েছে আল্লাহ তার বাণীতে, এটাকে তারা প্রচার করছে এসব নবী নিজে সাজিয়েছেন। ঐ বিতর্কীত ইমাম মনে করে থাকেন যে কুরআন একটি খারাপ মানুষের কৌশলে নিজ হাতে রচিত গ্রন্থ। এটিও কম না, এরকম একটি গ্রন্থও যদি নবী রচনা করেন যাকে কেউ হেলা করতে পারছে না। তার জয়গান কি এসব অল্প কথায় আটকানো যাবে?

তিনি নবীকে যুদ্ধবাজ খারাপ চরিত্রের লোক ধরে এগিয়েছেন। কিন্তু তার এটি জানা নেই নবীর সততার উদাহরণের কারণেই নবী আল্লাহর দৃষ্টি অর্জন করেছেন। দুনিয়াতে কেউ সাধ করে নবী হতে পারে না। হলে তার কঠিন শাস্তি হতো এটি কুরআন দ্বারাই স্বীকৃত। ইতিহাস বলে ইহুদীরা কয় পুরুষ থেকে অপেক্ষাতে ছিল একজন নবীর আগাম সংবাদ তাদের শাস্ত্রেও জমা ছিল। যার জন্য তারা খোদ মদীনাতেই এসে বসতি করতে থাকে। কিন্তু যখন দেখে এ নবী তাদের ঘর থেকে আসেন নাই, তখনই তারা ক্ষ্যাপে যায়। ধনী ইহুদীরা দূর্গে বাস করতো সেটি ঠিক নয়। কুরআইশের সাথে ষড়যন্ত্র করে ইহুদীরা মুসলিমদের বিরোধীতায় বারে বারেই মিথ্যাচারে ধরা খায়, তখন তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দুর্গে বসবাস করতো। অপকর্মী ইহুদীরা মদীনা থেকে নির্বাসিত হয়ে খাইবারের দূর্গে সমবেত হয় এবং সেখানে ইহুদী রাজ্য গঠনের স্বপ্নে সাজ সাজ রবে নিয়োজিত ছিল এবং সাথে মক্কার পৌত্তলিকদের নিয়ে দল পাকাতে থাকে। ইহুদী প্রধানরা বহু অর্থব্যয়ে আরবের পৌত্তলিকদেরে প্রস্তুত করেছিল (বোখারী, ফৎহুল বারী ৭-২৪০ পৃষ্ঠা)। এছির ইবন রাজেম মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য গৎফান ও তার পাশের পৌত্তলিকদের সমবেত প্রচেষ্ঠাতে মুসলিমদেরে উত্যক্ত করা হয় (এবন হেশাম ৩-৮২প্রভৃতি)। খাইবারে ইহুদী ও খৃষ্টানগণ মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। গৎফানীয় পৌত্তলিকগণ ইহুদীদের সাথে মিলিত হয়ে সম্মিলিতভাবে মদীনা আক্রমণ করবে এবং ইহুদীগণ তার বিনিময়ে খাইবারের অর্ধেক খেজুর তাদেরে দান করে দিবে, এটিও স্থির হয়ে যায় (এই ঘটনাগুলি হালবী, খামিছ ও তাবকাত হতে সংকলিত হয়েছে)। প্রতিবারই তারা মুসলিমদের সাথে করা সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে। প্রকৃত গবেষণাতে ধরা পড়ে নবী তখনও তাদের সাথে পুনরায় সন্ধি স্থাপনের চেষ্টা করেন কিন্তু ইহুদীরা যুদ্ধের প্রস্তুতিকেই স্বাগত জানায়। যার প্রেক্ষিতে তিনি যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন (তাবরী, খামিছ দ্রষ্টব্য)। ইহুদীরা দূর্গে বসবাস করে মুসলিমদের ক্রমাগত তীর নিক্ষেপ করে তাদেরে আহত করাসহ সমানেই আক্রমণ চালাতে থাকে। এতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, এরকম পরিস্থিতিতে আক্রমণের আদেশ দেয়া হয়।

ইহুদীরা চেয়েছিল পৌত্তলিকদের সহযোগিতায় মদীনার শিশু ইসলামকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে।  এবং ক্রমে মুসলিমরা দুর্গ চূড়াতে উঠে ইসলামের বিজয় কেতন উড়ায় এবং এভাবে সব দূর্গ মুসলিমদের কুক্ষিগত হয়। অগত্যা বাধ্য হয়ে ইহুদীরা তখন মুসলিমদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ইতিহাস তথ্যে প্রকাশ ঐ যুদ্ধে ৯৩ ইহুদী যুদ্ধে মারা যায় এবং ১৫জন মুসলিম সেনা শাহাদত বরণ করেন। ইমাম ছাখাভী, ইমাম জাহরী প্রভৃতি মোহাদ্দিসগণ ঐ সব মিথাচারী নষ্ট গল্পকে মিথ্যা বাজেকথা ও অগ্রাহ্য বলে মত প্রকাশ করেছেন। সুক্ষ্মদর্শী ও ন্যায়নিষ্ঠ পন্ডিতগণ কখনোই এসব রেওয়াতকে গণনার মধ্যে আনেন নাই। দুঃখের বিষয় খৃষ্টান লেখকগণ এসব কুরআন হাদিসের বিশ^স্ততম ঘটনাকে বাদ দিয়া বাজে কথার উল্লেখ করতঃ মুসলিমদের উপর ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতে কুন্ঠিত ও লজ্জিত হন নাই। ইহুদীরা সংবাদ পাঠায় যে কোন বিচারে তারা মুহাম্মদকে মানবে না। তারা মুহাম্মদকে চিনে না। তারা খন্দক যুদ্ধে আহত ছাআদের বিচার মানবে। অতপর ছাআদের উপর বিচারের ভার পড়ে। যে ৪০০ ইহুদী কে আসামী ধরা হয় এটিও তাদের বার বার বিশ^াসঘাতকতার ফল হিসাবে তাদের নির্বাচিত একজনের বিচারের মাধ্যমে এ রায় নির্ধারিত হয়। বাস্তবে যদিও মিথাচারীদের মত ঘটনাটি ওরকম ছিল না। উৎসাহী হলে ওটি জানতেও পড়তে পারেন। ইসলামে যুদ্ধ: ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা

উপরের এ লেখা থেকে প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন, তাই লিংক দেয়া হল। দেখা গেছে প্রকৃত ইহুদীর সংখ্যা ৪০০ নয় বরং এদের থেকে শুধু অপরাধীদের হত্যা করা হয় আর বাকীদের ছেড়ে দেয়া হয়। কুরআনের আয়াতেও সেটি স্পষ্ট হয়। এ রায় কখনোই নবীর নয়। ৮০০/৯০০ বলাটাও ছিল উপরের ৩১৩ জন লুটের জন্য প্রেরিত বলার মতই আরেক মিথ্যাচার ও অতিরঞ্জন, এসবও পূর্ববর্তী গবেষকরা পরিষ্কার করে গেছেন কিন্তু ঐ ইমামের এসব জানার ভাগ্য হয়নি। নবী রায় দিলে হয়তো পূর্বেকার মতই এবারও ক্ষমাই করে দিতেন। এতে মুসলিমরা আরো বেশী ক্ষতিগ্রন্ত হতো। এসব ক্ষেত্রে ইমাম চরম মিথ্যাচারীতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি তাকে মিথ্যাচারী না বলে অজ্ঞ বলতে পারি তিনি অনাচারীদের শুনা কথায় বিশ^াস করে ‘চিলে কান নিয়ে চলে গেছে’ বলে দৌড়ে সামিল হয়েছেন। ধর্মের প্রকৃত পড়া তার নেই বলতেই হবে। তিনি সুপথের সন্ধান কম পেয়েছেন। সঠিক গবেষণার ধারে কাছে তিনি যেতে পারেন নাই। কুরআনের আয়াতই তার প্রতিটি বিতর্কের জবাব হতে পারে। কুরআনের নির্দেশ ছিল কুরআনকে কুরআন দিয়ে বিশ্লেষন করার, সেটি ইমামের জানার কথা ছিল কিন্তু তিনি তার ধারেকাছেও পৌছতে পারেন নাই। এসব তার অজ্ঞতার পরিচয় স্পষ্ট করছে। সর্বোপরি পূর্ববর্তী যুগের মাদ্রাসার মত শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত ক্ষেত্র ও গবেষণাতে ভরপুর করে তুলতে পারলে এসব জটিলতা অতি অল্পেই কেটে যেত। আজকের মুসলিমরা প্রকৃত ধর্মের সুমহান বাণীতে উজ্জ্বল হতে পারতো। যে গবেষনাহীনতার রেওয়াজ আনা হয়েছে তা ভেঙ্গে দিয়ে প্রকৃত গবেষণার দোয়ার খোলে দিলে নির্মল বাতাসে গোটা মুসলিম বিশ^ নির্ঘাৎ আলোকিত হতে বাধ্য।  

(রচনা কাল ৫ জানুয়ারী ২০১৮ সাল)।

Video

শিকড়হারা (?) রোহিঙ্গাদের ইতিহাস

বিগত সময়ের ছাপা হওয়া রোহিঙ্গাদের কথা নিয়ে সাজিয়েছিলাম বেশ ক বছর আগে। বেশ ক বছর আগে লেখাটি সোনার বাংলা সাইটে অন্য অনেক সুজনদের লেখার সাথে অবস্থান করছিল। অগত্যা সরকারী ধড় পাকড়ের বদৌলতে সেটির অপমৃত্যু ঘটে। আজ সেই লেখাটিই এখানে আবার সংযোজন করছি। সবাই জানে বৌদ্ধরা শান্তিবাদী, যদিও ওম শান্তি থেকে তারা আজ অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছে। এদের অপকর্ম এত নেতিবাচক আচরণঘেরা যে জগতের অনেক বড় অশান্তির সৃষ্টিকর্তাই যেন তারা, এমন উদাহরণ সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। রোহিঙ্গা নামটি বহু বছর থেকেই শুনছি কোন দায় মনে জাগেনি, তবে সে বছর নির্যাতীত মানুষগুলো বর্ডার পার হয়ে এলে প্রথম ওদের সন্ধানে নামি। সাধু নামধারী মায়ানমারের বৌদ্ধরা বলছে এরা বাংলাদেশী, তাই সে বছর তারা এদেরে ঠেলে দিচ্ছিল বাংলাদেশের বর্ডার বরাবর। মনে হচ্ছিল তারা যেন দুনিয়ার আবর্জনা হয়ে গেছে।

ruhingya

মন্দির পুড়লে হাসিনার চেতনা জাগ্রত হয় আর রোহিঙ্গা মুসলিমদের পুড়িলে মারলে তিনি চুপ থাকেন কেন?

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ইতিহাস ঘেঁটে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য ! (এক্সকুসিভ) 

মনে পড়ে আমরা শিশুকালে ছেলে ভুলানো ছড়া শুনতাম সব মায়েরা সেটি শুনিয়ে ভয় দেখিয়ে বাচ্চাদেরে ঘুম পাড়াতেন। এটি আমাদের মন ও মগজের মাঝে আজো সেটে আছে।

Rohingya Moslims – Getto in Myanmar – Burma (killed by BUDDHIST MONKS)

“ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গি এলো দেশে, বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কিসে?” ষাটের দশকের সে গানে দুরন্ত বাচ্চারা ঘুমাতে না চাইলে মায়েরা সুর করে ছন্দের তালে বর্গীর ভয়ের কথা শুনাতেন, এতে বাচ্চারা ঘুমিয়ে যেত অতি অল্পে। সেদিন ছন্দের সাথে সাথে আমাদের মগজেও একটি ম্যাসেজ চলে যেত যে ভয়ঙ্কর সব বর্গীদের কথা! খাজনা দেবারও উপায় নেই, তার উপর বর্গীদের উপদ্রব অন্যদিতে খতরনাক বুলবুলি আসতো ঐ গলি দিয়েই। এরা দুইই আসন্ন বিপদের জন্যই দায়ী। যদিও প্রতাপী জমিদারবাবুরা খাজনার জন্য খড়গহাতে এক পায়ে দাঁড়া, ছন্দের কবিতাটিতে ঐ সত্যই ফুটে উঠে। এবার আসামী ধরতে গিয়ে যা গবেষকদের কাছে ও আমার কাছে ধরা পড়ছে তা এখানে সংক্ষেপে পয়েন্ট হিসাবে আনছি।

Stop killing muslims in Burma Must Watch,

বার্মা বা মায়ানমার রাজ্যটি উত্তর আরাকান ও দক্ষিণ আরাকান অঞ্চল নিয়ে গঠিত।

(১) দশম শতাব্দীর আগে কোন বার্মিজ আরাকানে বসতি স্থাপন করেনি। শতাব্দীর শেষভাগে এরা আরাকানে আসে।

(২) রাখাইনরা আরাকানে সব শেষ উল্লেখযোগ্য আগন্তুক।

(৩) অনেক পুরানো ইতিহাসে রাখাইন নামটি পাওয়া যায় দাসের নামে এবং সেটি ১২শ শতাব্দীতে প্রথম ধরা পড়ে এ নামটি।

(৪) নৃতাত্তিকভাবে তারা সেই ধন্যওয়াদী ই ওয়াথালী গোষ্ঠীরও নয়।

(৫) ডঃ এস বি কনোঙ্গ বলেন, রাখাইন নামটি বার্মাদের দেয়া নামটি ১২ থেকে ১৫ সেঞ্চুরীতে পাথরে খোদাই হিসাবে এ নামের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর আগে আর কোন রাখাইন ভাষার প্রমাণ পাওয়া যায় না। আর আগের সব প্রমাণ বাংলায় পাওয়া যায়।

(৬) এর আগের সব রাজত্বে ভারতীয় শাসকদের যেভাবে তারা বাংলা শাসন করে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

(৭) মধ্যযুগে আরাকানের পূর্বাঞ্চলে পেগানরা (মূর্তিপূজকরা) শাসন করতো। আরাকানের জনতারা বার্মিজ কথা বলতো যা তারা আজও বলে।

(৮) আরবরাই সবার প্রথম আগত বাসিন্দা, যারা সাগরে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এতদঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এমন কি তাদের সে ব্যবসা বানিজ্য প্রাক ইসলামেই শুরু হয়েছিল।

(৯) আরাকানীরা প্রথম ইসলামের খবর পায় ৭৮৮ খৃষ্টাব্দে যখন বারে বারে জাহাজ বিধ্বস্ত হয়। এসব ঘটনা ঘটে চিটাগাং ও আরাকানের সাগর সোপানেই। দশম শতাব্দীতে চিটাগাং এ আরবদের উপস্থিতি এতই বেড়ে যায় যে মুসলমানদের একটি ছোটখাট রাজত্ব সেখানে প্রতিষ্ঠা পায়। সেখানের রাজাকে “সুলতান” উপাধি দেয়া হয়। ধারণা করা হয় এর পরিধি মেঘনার উপকূল থেকে নাফ নদী বিসতৃত ছিল।

(১০) ইসলাম খুব ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে কিন্তু খুব স্বাভাবিকভাবে, জোর জবরদস্তি করে নয়। ১২০৩ সালে বাংলাতে মুসলমান শাসন শুরু হলে আরাকানের মুসলমানের সংখ্যাও বেড়ে চলে। এর একটি বিরাট কারণ বৌদ্ধদের ধর্মান্তর প্রক্রিয়া। ১৫ শতাব্দী থেকে ১৮ শতাব্দী পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলে। বৌদ্ধদের ধর্মান্তরের প্রধান কারণ ইসলামের মহাত্ম্য উদারতাতে তারা উৎসাহিত হয়। ঐ সময়টিতে বৌদ্ধরা খুব সহজে ইসলামের সাথে নিজেকে মেলাতে সক্ষম হয়। রাজা যখন ডাচ শিল্প মালিকদের আরাকান ছাড়তে আদেশ দেন তখন মালিকেরা ভয়ে কাতর ছিল কারণ তাদের মুসলমান বংশধারার স্ত্রী পুত্র পরিজন নিয়ে শংকিত হয়ে পড়ে যা তারা এর মাঝে সেখানে স্থানীয়দের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। বাটাভিয়ার রিপোর্টে এরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে এসব বাচ্চারা মুসলিম হিসাবে বেড়ে উঠেছিল। যার জন্যই পরিবার নিয়ে ছিল তাদের অতিরিক্ত শংকা।

(১১) আরাকানী আর চিটাগাং এর জনতার মাঝে একটি ঐতিহাসিক ভূ- রাজনৈতিক নৃতাত্ত্বিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। সে সময় ষষ্ঠম ও অষ্টম শতাব্দীতে চিটাগাং ছিল ভেসালী রাজার অধীনে। আরাকানের ম্রাউক ঊ রাজত্ব ১৬ ও ১৭ শতাব্দী অবদি ছিল।

(১২) এসব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের জন্য আরাকানীদের চিটাগাং এর বর্ধিত অংশ নামেই চিহ্নিত করা হতো।

(১৩) ১৫ শতাব্দী ছিল আরাকানীদের ইতিহাসে এক বিরাট মোড়। এ সময় বাংলার একটি বড় মুসলিম গোষ্ঠী আরাকানে প্রবেশ করে এবং তারা সেখানের   শাসক কর্তৃক আমন্ত্রীত হয়ে আসে। এসব আমন্ত্রণও ছিল রাজনৈতিক কারণে।

(১৪) এভাবে আরাকানের ইতিহাস ভারত ও বাংলার সাথে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত হয়। আরাকানদের ইতিহাসে মুসলমানদের অবদান একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে আছে। সেখানের শাসক ও তার শাসন ক্ষমতা, রাজ্য পরিচালনার সব কিছুতেই মুসলমানদের প্রভাব ছিল আর সেটি বহাল ছিল ৩৫০ বছর অবদি।

(১৫) দেখা যায় ১৪৩০ খৃষ্টাব্দে প্রায় তিন দশক বাংলার উল্লেখযোগ্য নগরী গৌড়ে নির্বাসনে থাকার পর রাজা নারামেইখলা যিনি মিন সো মুন নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি আফগান সহযোগিতায় আরাকানে ফিরে আসেন আর ১৪০৪-১৪৩৪ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত দেশ শাসন করেন। তিনি সব বিরোধী স্থানীয় বার্মাদেরে বিতাড়িত করেন। তখন থেকেই এ দেশে নতুন এক যুগের সূচনা হয়। উন্নত ও শক্তিশালী বৌদ্ধ রাজ্য হিসাবে তা বিসতৃত হতে থাকে। সেখানে বাংলার সভাকবিরাও সভাসদ অলংকৃত করতেন। ডঃ আব্দুল করিম রোহিঙ্গা জনগণের উপর অনেক কাজ করে যান। “রোহিঙ্গা: একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও সংস্কৃতি নামে” আরাকান হিষ্ট্রিকাল (ঐতিহাসিক) সোসাইটি (এ এইচ এস) চিটাগাং, বাংলাদেশ ২০০০, পৃষ্ঠা ১৪-১৫ ছাপা হয়। কবি দৌলত কাজী, বাংলার রোমান্টিক লেখক শাহ আলাওল যিনি সতেরো শতকের বাংলার বিখ্যাত কবি হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন করে আরাকানের সভা অলংকৃত করে রাখেন। ম্রাউক রাজারা মুসলমান নাম ধারণ করতে তাদের পোষাক ধারণ করতে উৎসাহ বোধ করতেন। তাদের মুদ্রাতে মুসলমানদের “কলিমা” আরবীতে ফারসিতে খোদাই করা হতো। তারা সেখানে ওসব ভাষাতেও কথা বলতো। বাংলার গৌড়ের সুলতান জালালুদ্দিন (১৪১৫-১৪৩৩ খৃষ্টাব্দ) একজন হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত মুসলিম যিনি রাখাইন রাজা নারামেইখলাকে আরাকান রাজ্য পুনর্দখলে তার মুসলিম সৈন্য দিয়ে সাহায্য করেন। সেখানে মুসলিম সৈন্য সাহায্যের প্রধান কারণ ছিল সেদিন তেমন পর্যাপ্ত রাখাইন সৈন্য ছিল না। সুতরাং এটি অনায়াসে বলা যায় মুসলিমরা ছিল আরাকানের মেরুদন্ড। দেখা যায় রাজা নারামেইখলা একাধারে পারসিয়ান, হিন্দি, বাংলা ভাষাতে দক্ষ ছিলেন।

(১৬) আরাকানের সব গুরুত্বপূর্ণ পদই মুসলিম দ্বারা অলংকৃত ছিল। কারণ সে সময় তারাই ছিল একমাত্র দক্ষ জনতা। বুরহানুদ্দিন আশরাফখান, শ্রী বড় ঠাকুর ছিলেন খুব সম্মানী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়াজির, মাগান ঠাকুর, সৈয়দ মুসা, নবরায় মজলিস ছিলেন একজন দক্ষ প্রধানমন্ত্রী, সৈয়দ মোহাম্মদ খান, শ্রীমন্তা সোলায়মান আরাকানের মন্ত্রী, এরকম আরো অনেক মুসলিম মন্ত্রীরা উচ্চ সিভিল ও মিলিটারী অফিসার আরাকানের সভাতে ছিলেন। ১৪৩০ থেকে ১৬৪৫ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দুইশত বছরেরও বেশী সময় ধরে মুদ্রাতে মুসলিম পরিচিতি বিদ্যমান ছিল। ঘরে তারা মুসলমানি কায়দা কানুন পরিচর্যা করতো। কর্নেল বা-সিন বার্মার ঐতিহাসিক কমিশনার চেয়ারম্যান বলেন, আরাকান প্রধানত মুসলমান দ্বারা শাসিত হয় ১৪৩০ থেকে ১৫৩১ পর্যন্ত। ঐ সময়কার অঙ্কিত হিস্ট্রি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ম্যাপে এসব প্রমাণ পাওয়া যায়। গৌড় ও দিল্লীর অনুকরণে রাজ্য সাজানো হতো এবং এ রাজ্যের প্রধান কর্মকর্তাকে “কাজী” উপাধীতে ভূষিত করা হতো। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হচ্ছে দৌলত কাজী, সালা কাজী, গাওয়া কাজী, সুজা কাজী, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ হোসাইন,  ওসমান, আব্দুল জব্বার, আব্দুল গফুর, মোহাম্মদ ইউসুফ, রওয়ান আলী ও নূর মোহাম্মদ প্রমুখ। ঐ রাজসভা একদল মুসলমান কর্তৃক পরিবেষ্টিত ছিল।

ডিভাইড এন্ড রুলের কুটিল প্যাঁচে মায়ানমারের বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা ও রাখাইনের বর্তমান ছলবাজ সরকার রোহিঙ্গা ও রাখাইনের মাঝে এক জ¦লন্ত আগুনসম সাপে নেউলে সম্পর্ক গড়ে তুলতে দক্ষ ভূমিকা অর্জন করে যাচ্ছে। অতীতের ত্রাণকর্তা রোহিঙ্গারা হয়ে গেছে রাখাইনদের যুগ জনমের শত্রু। আজ তারা নাগরিকত্বহারা, ঘরহারা, বাংলাদেশের অবৈধ অধিবাসী নামের নতুন সিলগালা পাওয়া জনতা তারা। এরা বহুদিন থেকে তাদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদিআরব, ইউএই, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডে ছড়িয়ে আছে। এদেরে জোর করে ধর্মান্তর করার প্রচেষ্ঠা চালানো হয়। তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানে বাধ্য করা হয়। তাদের ধরে জোর করে বৌদ্ধ ধর্মীয় ফিজ আদায় করা হয়। বর্তমানে রুটিনমাফিক তারা মুসলিমদের কবরগাহে লাশ দাফনের ক্ষমতার অগ্রাধিকার রাখে, যদিও তার ফি বহন করে রোহিঙ্গারা।

এদের এমন দুর্যোগের সময়টিতে কি এমন কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা নেই যে এর সঠিক দেখভাল করবে? তারা রোহিঙ্গারা এসব অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তেমন যেতে পারে না কারণ তাদের কোন বৈধ অনুমোদন নেই। তা তারা দেখাতে পারে না। তাদের কোন প্রয়োজনীয় পরিচিতি নেই। তারা তাদের জন্য কোন কাজ করার পারমিট পায় না। বাঁচার জন্য থাইল্যান্ডেও তারা আপত্তিকর বেআইনী কাজ করতে বাধ্য হয়। তারা ও তাদের প্রজন্মরা ন্যুনতম অধিকার থেকেও বঞ্চিত। বিয়ে করতেও তাদের সরকারী অনুমোদন লাগে। দুটোর বেশী সন্তানের অধিকার নেই তাদের। যদিও আর কোন সম্প্রদায়ের জন্য এ বিধান প্রচলিত নয়।

ইতিহাস বলে এতদঅঞ্চলের মুসলিমরা ষোল সতেরো শতাব্দীতে জলদস্যু কর্তৃক আক্রান্ত হয়। মোগল সম্রাট শাহ সুজাও তার দলবল নিয়ে ১৬৬০ খৃষ্টাব্দে আরাকানে প্রবেশ করেন পুনর্দখল করা রাজা মিন সো মুনের রাজত্বে। সতেরো শতকে মুসলিমরা সেখানে অনেক ভীড় জমায় এবং এর প্রমান রাজ্যের সর্বত্র এমনি কি কোর্ট বরাবরও ছড়িয়ে ছিল। সভাকবি শাহ আলাওলের লেখার যুক্তিতে আরাকানের জনতারা বাঙ্গালী, ইন্ডিয়ান, আফ্রো এশিয়ান, আর আদিবাসী ঘেরা ছিল কিন্তু সংখ্যার দিকে মুসলিমরাই ছিল প্রধান। তাই আজ যারা রোহিঙ্গাদের কোন শিকড় খুঁজে পাচ্ছেন না তারা ইতিহাস পড়েন। এদের রোহিঙ্গাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে খুব শক্ত ঐতিহাসিক শিকড়সূত্র। বহু শতাব্দী অবদি উজ্জ্বল স্বাক্ষরতায় ছড়িয়ে আছে তাদের বাস্তবতা। সেটি  মূলত মুসলিমদের দ্বারা লালিত এক সভ্যতা সেখানে বিকাশ লাভ করেছিল যেটি অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এখানের প্রতিটি কথারই ঐতিহাসিক স্বীকৃত সূত্র বর্তমান।

এরা সেখানের সম্ভ্রান্ত সদস্যরা এরা বর্গীর দলের লোক নয়। এরা অন্য সবার থেকে বেশী আদিমতার দাবী রাখে। এরা গর্বিত জাতির উত্তরাধিকার নিয়েও আজ লাওয়ারিশ হয়ে নাফ নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে। মনে হচ্ছিল এরা এতই শিকড়হারা, এদের প্রকৃত শিকড়হারা করেছে তাদের ছলবাজ মিডিয়া, সেখানের চলমান রাজনীতির কুটিল হাত আর কিছু কৌশল। এরা বর্তমান রাখাইনরা গৌতম বুদ্ধের আদর্শের বিপক্ষে যাওয়া একদল সন্ত্রাসী যোদ্ধা। বৌদ্ধ ধর্মের জার্সি পরে ঘোরার অধিকার তারা হারিয়েছে বহু আগেই। এরা লজ্জাস্করভাবে ঐ সাধকের নাম নিয়ে আছে শুধু পরণে গেরুয়া বসন আর কৃতকর্মে দুর্বৃত্তপরায়নতা, মূলের সাথে সঙ্গতিহারা একদল সন্ত্রাসী এরা, এরা মূলে নেই। হিউমেন রাইটস ওয়াচের ও আন্তর্জাতিক সব সাহায্য সংস্থাকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। এটি একবিংশ শতকের সময়ের শক্ত দাবী। বৌদ্ধ নামধারী বর্তমান রাখাইনরা খুব নীচ মানসিকতার কাজ করে চলেছে, তাদের কৃত এসব অপরাধ ইতিহাসের কলঙ্ক হয়ে থাকবে। ওখানের কোন শক্ত বিবেক যদি অবশিষ্ট থাকে তবে আশা করি এমন কঠিন সময়েও ঐ অবচেতন বিবেক জাগ্রত হয়ে অনেক বড় এক সাধকের শিকড়সূত্র তথা সিদ্ধার্থ গৌতম  বুদ্ধের আদর্শের মর্যাদা রক্ষা করতে সক্ষম হবে।

০৩ জানুয়ারী ২০১৭ সাল।

নাজমা মোস্তফা

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: দুঃখিত, দালালরা যাদের গায়ে ঘা লাগছে তারা এসব ভিডিও সরিয়ে দিচ্ছে। এখন আর মূলে নেই। কিন্তু প্রমান হিসাবে দাগটা জ¦ল জ¦ল করে জ¦লছে। (৮ জানুয়ারী, ২০১৭ সাল)

Tag Cloud