Articles published in this site are copyright protected.

আযান ছিল বিপদের সাইরেন ধ্বনি: তুরষ্কে কামাল আতাতূর্কএর শাসন এককালে দেশটি তার বহু যুগ সঞ্চিত সততা, মানবিকতা, স্বজাত্যবোধ থেকে সরে ভয়ঙ্কর অবস্থানে দাঁড়ায়। কামাল আতাতূর্ক নামটি শুনতে মুসলিম হলেও তার আচরণ ছিল ইসলাম বিরোধী। ঐ প্রতারণাকে উসকে দিতে কৌশলে বলা হয় এটি ধর্মনিরপেক্ষতা, যার সহজ অর্থ ছিল ধর্মহীনতা, এটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা। ঐ সব প্রেতাত্মারা আজও দম ছাড়ছে বলেই তুরষ্কে আজও সংঘাত সংগ্রাম হচ্ছে। তাই নাম মুসলিম হলেই সে মুসলিম আদর্শের কবরও রচনা করতে পারে, তার আচরণে তাকে চিনতে হবে। সুক্ষ্মদৃষ্টিতে দেখলে এদের খুব সহজেই চেনা যায়।

নিকট অতীতে ১৯৯৭ সালের সেনা অভ্যুত্থানে সরকারী ঘোষনায় ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। মুসলিম অধ্যুষিত তুরষ্ক সেদিনও ফুঁসে উঠে। প্রতিবাদ বিক্ষোভের অংশ হিসাবে একটি কবিতা পাঠের অপরাধে সেদিন এরদোয়ানকে কারাগারে পাঠায়। ৪ বছরের কারাদন্ড পাওয়া এরদোয়ানকে ১০ মাস কারাভোগ করতেও হয়। এবার ২০১৬ এর ১৫ই জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান রাত থাকতেই মানুষকে রাস্তায় নামার নির্দেশ দেন। প্রতিটি মসজিদ থেকে ক্রমাগত আজান হতে থাকে, যার প্রেক্ষিতে অসময়ের আজান ধ্বনিকে সাইরেন জ্ঞানে জনতারা ময়দানে নেমে আসে। তাদের প্রতিরোধের মুখে অভ্যুত্থানকারীরা পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য হয়। একেই বলে সততা ন্যায়পরায়নতা, গনতন্ত্র ও মানবতার শক্তি। নানা কারণে বর্তমান মুসলিম বিশে^ সংকট প্রকট। এর কারণ অনুসন্ধানে সত্যনিষ্ট মন নিয়ে চারপাশ খানাখন্দক চষে বেড়ালে খুব সহজে আসামীকে পাজাকোলা করে ধরতে না পারলেও অন্তত চেনা সম্ভব। মুনাফিক মুসলিমরা নিজেরাও ঐ সংকটে ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে। মোগল সমরাট আকবর নামটি মুসলিম হলেও কাজে ধর্মহীন অপকর্মের এক নষ্ট উদাহরণ। প্রতিকূল পরিবেশে আদর্শের প্রকট সংকট ছিল তার জীবনে, তাই বাকী মোগল শাসকদের মত তিনি নীতির ধর্মের সুশিক্ষা অর্জনের সুযোগ কম পান। শত্রুকে চিনতে পারা সংকটের অর্ধেক পার হওয়ার সমান। তুরষ্ক ও তার ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পিছনে কিছু কথা জমে। এসব স্পষ্ট করা সময়ের দাবী। আতাতুর্ক উপাধীতের ভূষিত মোস্তফা কামাল পাশার নামেই সনাক্ত করা হয় তিনি মুসলিম, আমাদের কবি নজরুল কবিতা লিখেন, যুদ্ধেও যান। কিন্তু বাস্তব তার চেয়েও বহুগুণ কঠিন ও নির্মম।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে অটোমান শাসকরা ইহুদী ব্যাংকে ঋণগ্রস্ত হয়ে সুদের অভিশাপে জড়িয়ে পড়াতে সংকটে পড়ে। তখন শেষ অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদকে প্রস্তাব দেয়া হয় যে, ঋণের বদলে যেন প্যালেস্টাইনকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। সুলতান সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ডয়েনমেহ ও ফ্রিমেশন হচ্ছে ইহুদী লবির একটি ধারা। ১৬৮৬ সালের ডিসেম্বর মাস। তিন শ’য়েরও বেশী ইহুদীরা ইসলামে ধর্মান্তরিত হলেও গোপনে তারা ইহুদী ধর্মকে আকড়ে থাকে। যার জন্য এদেরে তুরষ্কের মুসলিমরা ডয়েনমেহ নামে ডাকে, এককথায় বিট্রেয়ার। সেলোনিকা নামের এরা ছিল অটোমানের ইহুদী। ইতিহাস বলে উনবিংশ শতাব্দীতে এরা ২০,০০০ সদস্যে পৌছায়। গ্রীক শাসনের অধীনে ১৯১৩ পর্যন্ত থেকে তারা কন্সটেনটিনোপল স্থানান্তরিত হয়। এদের মাঝ থেকেই এই কামাল পাশার আবির্ভাব ঘটে। অনেক সূত্রমতে এরা ইহুদী ফ্রিম্যানরা পরবর্তীতে ‘নক্সাবন্দী’ নামে ইসলামের এক বিভ্রান্ত অনুসারী নামে এখনো পরিচিত। অরফি পাশা নামের একজন ছিল ঐ সুলতান আব্দুল হামিদের বিরোধী পক্ষ। এই প্রতারকেরা কুরআনের আয়াতের পরিবর্তন করে তা ধারণ করতেও কুন্ঠিত হয়নি। এভাবেই আসে ইহুদী মানসিকতার চাঁদোয়ার তলে তুরষ্কের বিগত শতকের অতীত অভ্যুত্থান। সুলতান আব্দুল হামিদ অনেক ব্যতিক্রমী প্রশাসনী পদক্ষেপে ঋণের মাত্রা কমিয়ে আনলেও তরুণ প্রজন্মের জোয়ারের নামে তাকে উচ্ছেদ করা হয়। বাস্তবের  মোস্তফা কামাল ইস্যুটি ছিল ইসলামের নাম নিশানা মিটিয়ে দেয়া এক ভয়ঙ্কর অপশক্তির নাম। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হচ্ছে শেষ অটোমান সুলতানাত ধ্বসে যাবার আগ পর্যন্ত তার ছলবাজ ভূমিকা ছিল চাঁদোয়ার তলানীতে ইসলামের বৈরীতা করা। ইসলামের নাম নেয়া এ প্রতারক নেতা ইসলামের ঝান্ডার তলেই ইসলাম ধ্বংস করে।  যুগে যুগে এরাই ইসলাম ধ্বসের জন্য দায়ী। ঐ সময় যারাই চিৎকার করেছে তারাই বলি হয়েছে। শুধু নাম রাখলেই তাকে মুসলিম মনে করার কোন অবকাশ নেই। বরং এদের স্বরুপ প্রকাশ পায় তাদের আচরণে। এটি পৃথিবীর ইতিহাসের বড় শিক্ষা। ইসলাম বা মুসলিম পরিচিতি নিয়ে গোটা বিশে^ অনেকেই অনেক অনাচার করেছে, করছে, করবে। কুরআনে বর্ণিত শুরুতেই আদমের সময়কার বকধার্মিক ইবলিস কিন্তু আল্লাহ অস্বীকারকারী ছিল না। আল্লাহর নির্দেশ মত তার শয়তানি কর্মকান্ড থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলা হয়েছে। এরা হচ্ছে জাহান্নামের সর্দার, পথ প্রদর্শক। তবে সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখলে এদেরে চেনা যায়। এরা স্বরুপ লুকাতে পারে না। মুসলিম ছদ্মাবরণে ছলনার স্বরুপ ধরেন কামাল আতাতুর্ক, তিনি ছিলেন শুধু নামেই মুসলিম আর বাকী তার কিছুই ইসলামের ছিল না।

কামালের ধর্মনিরপেক্ষবাদ ইসলাম ধ্বংসের হাতিয়ার ছিল: ইহুদী বংশদ্ভুত মোস্তফা কামাল ছিলেন রিপাবলিকান টার্কির প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় বীর। তিনি শিশুকালে হিব্রুতে ইহুদী ধর্মজ্ঞান লাভ করে বেড়ে উঠেন। কালে ইহুদী বাবার তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা কামাল হয়ে দাঁড়ান ধর্মনিরপেক্ষতার গড ফাদার। তার আচার আচরণ বিতর্কীত কর্মকান্ড, মিলিটারী প্রশিক্ষণে দক্ষতায় বীর হলেও সন্তর্পণে ঢাকা ছিল তার কপট চরিত্রটি। দেশটির কলিজাতে আহত করার মত সীমাহীন অপকর্ম তিনি করেন। তিনি নিজেকে গুটিয়ে মিথ্যাচারে লুকিয়ে রাখেন, তাই সুক্ষ্ম গবেষনায় তার ঢেকে রাখা পাটের উন্মোচন ঘটে। স্বাভাবিকভাবে তিনি ৯৯% মুসলিম তুরষ্কের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আড়ালে লুক্কায়িত একটি ইহুদী সাব্বাতিয়ান গোত্রের সদস্য, তিনি ছিলেন একজন মিথ্যাচারী ইহুদী মাসিহ সাব্বাতি সেভীর উত্তর পুরুষ। ১৭শতাব্দীর একজন মিথ্যা দাবীদার মাসিহর অনুসারী। ইসলামি শিক্ষায় তিনি শিক্ষিতও নন। তার বাবা ইহুদী, মা মুসলিম হলেও তিনি মায়ের অনুগত ছিলেন না। তার ধুর্ততার নজির হচ্ছে দেশবাসীকে আড়ালে রাখার জন্য তিনি তার মূল পরিচিতি আড়াল করে রাখেন এবং মুসলিম নামকেই হাই লাইট করে মুসলিম পরিচিতির আড়ালে কাজ সারেন। তিনি ছিলেন উসমানিয়া খেলাফতের ধ্বংসের উপর মূল ইসলাম ধ্বংসের রুপকার। চেইন স্মোকার মদ্যপানে আসক্ত এ ব্যক্তিটির প্রতিটি কর্মকান্ডই ইসলামের সাথে বেমানান।

মোস্তফা কামালের ইসলাম বিধ্বংসী ভূমিকা: ইসলামকে মুছে দিতে তার ভূমিকা ছিল জটিল। তার যুক্তি ছিল আমরা আমাদের দেশের আইন আকাশ থেকে পাই নাই, মানে ওহি নির্ভর নয়। তিনি শক্তির দাপটে সরকারী আদেশবলে মসজিদের নামাজের কার্পেট উঠিয়ে দেন। সেখানে কাঠের পাটাতন ব্যবহার করতে বাধ্য করেন। Turks had been ordered by their stern dictator, Mustafa Kemal Pasha who made them drop the veil and the fez (TIME, Feb. 15, 1926 et. seq.), that beginning with Ramadan they must no longer call their god by his Arabic name, Allah (Time January 9, 1933, p.64). যুগান্তরকারী পদক্ষেপ হিসাবে কৌশলে ট্রাডিশনাল ঐতিহ্যবাহী তূর্কী টুপির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়, মহিলাদের মাথা না ঢাকার নির্দেশ দেয়া হয়। মসজিদের ইমামদেরকে তার ইচ্ছামাফিক বিশেষ প্রদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। মসজিদে জুতা নিয়ে প্রবেশাধিকার করার রেওয়াজ চালু করা হয়। মসজিদে ঢোকার আগে জুতা খোলার আগের রেওয়াজ বাতিল ঘোষিত হয়। মসজিদে স্থানে স্থানে বাদ্যযন্ত্রসহ গান বাজনার অনুমোদন রাখা হয়। মুসলমানের মূল বাণী আজানের সুললিত বাণী “আল্লাহু আকবার” নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। “Islam, this theology of an immoral Arab, is a dead thing.” Possibly it might have suited tribes of nomads in the desert. It was no good for a modern progressive State (Grey Wolf, Mustafa Kemal: An Intimate Study of a Dictator, H.C. Armstrong, 1934). প্রচার করা হয় অনৈতিক আরবের ধর্ম একটি মৃত বিষয়। এটি মরুভূমির  শাসন হতে পারে, সভ্য মানুষের নয়। Kemal cared nothing about Allah; he was interested in himself and in Turkey. He hated Allah and made him responsible for Turkey’s misfortune. It was Allah’s tyrannical rule that paralyzed the hands of the Turk. But he knew that Allah was real to the Turkish peasant ….. Then, after Allah had served Kemal’s purpose, he could discard him. (Emil Lengyel, 1941, p.134). এখানের বক্তব্য স্পষ্ট করছে কামাল আল্লাহকে পরোয়া করেন না। তিনি তার নিজের ও তুরষ্কের দিকে নজর দিয়েছেন। আল্লাহকে তুরষ্কের দুর্যোগের কারণ মনে করেন। তবে এটি তিনি জানতেন যে তুরস্কবাসীর কাছে আল্লাহ কি? — তাই ছলনার আড়ালে মুসলিম খোলসের দরকার ছিল তার। তিনি এটিও জানতেন যে তার উদ্দেশ্য সিদ্ধি হয়ে গেলে তিনি ঐ আল্লাহকে দূরে ছুড়ে দেবেন। It was not to be the reformed Islamic state for which the Faithful were waiting: it was to be a strictly lay state, with a centralized Government as strong as the Sultan’s, backed by the army and run by his own intellectual bureaucracy (Ataturk, The rebirth of a Nation, Lord Kinross, 1965, p 437). এটি সংস্কারিত ইসলাম ছিল না, যা বিশ^াসী মুসলিমরা ভেবেছিল। সুলতানি শাসনের কেন্দ্রীয় কাঠামোর উপর ভর করে হলেও এর পেছনে ছিল সেনাশাসন এবং তার মনগড়া ধ্যাণধারণাই ছিল ঐ শাসনের ভিত্তিমূল (আতাতূর্ক, দ্যা রিবার্থ অব এ ন্যাশন, লর্ড কিনরস, ১৯৬৫, পৃষ্ঠা ৪৩৭)।  ঐ গ্যাড়াকলে পড়েই দিনের পর দিন তুরস্ক হামাগুড়ি দিচ্ছে, মূল ইসলামের সত্যের সাথে ছলবাজের লড়াই চলছে যুগের পর যুগ।

ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। তুরষ্কের জনতারা জানে অভ্যুত্থানের অর্থ কি? ধর্ম হারানোর ক্ষতি কত গভীর ছোঁয়। সেকুলার নাটকের মূল অর্থ কি হতে পারে? সেনা ক্যুএর উর্দির নিচে কত বিভৎস রুপ থাকতে পারে। সরকারী দল বিরোধী দল সবারই কম বেশী জানা। যে “আল্লাহু আকবর” ধ্বনিতে আজকে এরদোয়ান জাতিকে এক মন্ত্রে উদবুদ্ধ  করে যে একতার ডাক দেন, সে ব্যতিক্রমী আযান ধ্বনিটি নিষিদ্ধ ছিল মোস্তফা কামালের রাজত্বে। তার বদলে জনতাকে বলতে বাধ্য করা হয় তূর্কীতে “তানরী উলুদুর” আরবীর বদলে তূর্কীতে ঐ নামেই মানুষকে মসজিদের আজান দিতে বাধ্য করে এক রমজানে। এর মূল কারণ ছিল বিশ^মুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরানো। সবচেয়ে বড় কথা একটি মুসলিম জাতিকে এভাবে নষ্ট শৃংখলে বেধে দিতে সমস্ত জাতিকে যে কি পরিমাণ নির্যাতন পোহাতে হয়, তা একমাত্র ভোক্তভোগীরাই জানে। ইহুদী মসিহ সাব্বাতি সেভীর অনুসারী থাকার স্বীকৃতি কামাল নিজেই স্বীকার করেছেন।

“The Biggest Crises in the History of the “Secular” Republic”  English newspaper the Daily Telegraph wrote about Mustafa Kemal the 11. of November 1983: Mustafa Kemal’s death was a great death to our country. He as the only dictator with his instinct was a true English ally. It was this triangle which abolished the Khilafah – the English, the Jews and Mustafa Kemal who was both a Jew and an English agent. They made and worked on a clever plan, hiding their innermost motives to abolish the Khilafah and remove Islam to the last. কামালের মৃত্যুতে ইংরেজী দৈনিক টেলিগ্রাফের বরাতে ১৯৮৩ সালের ১১ই নভেম্বর কলাম ছাপে। তুরষ্কের সেকুলার রিপাবলিককে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধরণের বিপর্যয়ই ধরা হয় শিরোনামে।  মোস্তফা কামালের মৃত্যু আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি। তিনিই একমাত্র স্বৈরশাসক যিনি ছিলেন আমাদের অবিস্মরনীয় বনধু।ইংরেজ, ইহুদী মোস্তফা কামালের এই ত্রিমুখী চক্র তুরষ্কের খেলাফতকে ধ্বংস করে। মোস্তফা কামাল ইহুদী এবং ইংরেজের বনধু, দুটোই। তারা এ কপট ষড়যন্ত্র করে, নিজেদের উদ্দেশ্যকে ঢেকে রেখে খেলাফতকে ধ্বংস করে সর্বোপরি ইসলামকেই ধ্বংস করে। এসব লেখাতে স্পষ্ট হয় যে মোস্তফা কামাল ছিলেন একজন ছদ্মবেশী ইহুদী। তার পূর্ব পুরুষরা স্পেনিশ বিতন্ডাতে ওসমানী সাম্রাজ্যে আশ্রিত ছিল। ঐ আশ্রিত ইহুদীরাই খেলাফতের মরণ কামড়ের জন্য দাগী আসামী। যখন সুলতান আব্দুল হামিদ ঋণের ভুর্তকী হিসাবে ইহুদীদের প্যালেস্টাইন দিতে অস্বীকার করেন। এটি ছিল অকৃতজ্ঞ ইহুদী জাতির পক্ষ থেকে আশ্রিতের প্রতিদান। আজও প্যালেস্টাইনের মুসলিমরা নির্যাতনের পাটাতনে দাঁড়িয়ে সময় পার করছে।

টাইমে ছাপা হওয়া কলামে আসে (টাইম জানুয়ারী ৯,১৯৩৩, পৃষ্ঠা ৬৪)।  “Jewish Dictator Ataturk rules in Muslim Turkey!” TIME, January 9, 1933, page 64: Turkey since 1923. The changes: ……… For a hundred years Christian missionaries have struggled hopelessly to capture the hearts of the Caliph-awed Turks- ( TIME, February 15, 1926, page 15-16) “When a venerable member of the Cabinet suggested that it was unseemly for Turkish ladies to dance in public, he threw a Koran at him and chased him out of his office with a stick. – (Grey Wolf, Mustafa Kemal: An Intimate Study of a Dictator, H.C. Armstrong, 1934) (Joachim Prinz’s “The Secret Jews”, page 122). “ইহুদী স্বৈরশাসক আতাতুর্ক মুসলিম তুরষ্ক শাসন করছে!” কলামটির শিরোনাম। তুরষ্ক ১৯২৩ থেকেই শত বছর যাবত খৃষ্টানরা অনেক হতাশজনকভাবে সংকটে ছিল খলিফা নির্ভর তুরষ্ককে কবজায় নেয়ার জন্য। (টাইম, ফেব্রুয়ারী ১৫, ১৯২৬, পৃষ্ঠা ১৫-১৬ ) “যখন পার্লামেন্টের একজন সম্মানিত সদস্য প্রস্তাব রাখেন যে, এটি তুরষ্কের মহিলাদের জন্য বেমানান যে তারা প্রকাশ্য ময়দানে সাধারণের সামনে নাচবে। তখন কামাল তার দিকে কুরআন ছূঁড়ে মারেন এবং তাকে অফিস থেকে লাঠি দ্বারা বিতাড়িত করেন (গ্রে উলফ, মোস্তফা কামাল, “এর ইনটিমেট স্টাডি অব এ ডিকটেটর” এইচ সি আর্মষ্ট্রং, ১৯৩৪)  জোয়াচিম প্রিনজেস “দি সিক্রেট জুজ, পৃষ্ঠা ১২২)।

মোস্তফা কামালের বিশ^াস ছিল মুসলিমরা যখন ঐ ধর্মের শিকল থেকে বের হতে পারবে, একমাত্র তখনই তারা উন্নতির শিখরে পৌছতে পারবে। ধর্ম হচ্ছে দূর্বলের হাতিয়ার, এটি ছিল তার কথা। তুরষ্কের পিতা নামধারী ব্যক্তিত্বই ইসলামকে সম্পূর্ণভাবে শিকড় থেকে ধ্বংস করে। ১৯২৪ সালের ৩ মার্চ মোস্তফা কামাল এসেম্বলিতে একটি বিল পাশ করান যেখানে স্থায়ীভাবে তুরষ্ক হবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক থাকবে না। কিন্তু ইতিহাস বলে ধর্ম বলে ইসলামের সংসদ ভবনই ছিল মসজিদ। মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয়, একটি সমাজের সব সমস্যার সমাধানে মসজিদের অগ্রণী ভূমিকা থাকার কথা ছিল কিন্তু, সমাজে সেটি ওভাবে গড়ে উঠেনি। মসজিদকে শক্তির তলানীতে কবজা করা মানে ইসলামকে শৃংখলিত করা। অজ্ঞরা কখনোই ইসলামের কান্ডারী হওয়ার কথা নয়, সমাজের সব চেয়ে সম্মানিত মুসলিম ব্যক্তিত্বই বিচারিক পর্যায় পার হয়ে ইমামতির দায়িত্ব দেয়া উচিত যাতে তিনি উপযুক্ত কান্ডারীর ভূমিকা রাখতে পারেন। আব্দুল মালেক যখন খলিফা নিয়োজিত হন তখন মোস্তফা কামাল পাশা তার পেছনে আনুষ্ঠানিক ব্যয়ে রাজি ছিলেন না। তার যুক্তি খলিফার কোন শক্তি থাকবে না। খলিফা একজন নামমাত্র হিসাবে থাকবেন। যখন তার ভাতা বৃদ্ধির আবেদন করেন তখন তার যুক্তি ছিল এটি তার অফিসটি হবে একটি পড়ো বাড়ীর উদাহরণ মাত্র। এর টিকে থাকার কোন অধিকার নেই। তার কথায় এ আবেদন পত্র আমার সেক্রেটারীদের কাছে একটি অসম্মানপত্র মাত্র।

Scientific Miracles Of The Quran║Mind-Blowing Facts║All parts 1-17 English [Full Documentary]

 

কপট কৌশলে কামাল রাজনৈতিক ইসলামের যুক্তি উড়িয়ে দেন। তার দৃষ্টিতে সব দোষ ইসলামের, ওকে রূখতেই হবে মনে করে তিনি ঐ কাজে মনোনিবেশ করেন। ধর্মশিক্ষাকে সব সেক্টর থেকে বিদায় দেন। পশ্চিমের আরাধ্য সাধনায় মনোনিবেশ করে সকল অতীত ঐতিহ্য ভুলে নব্য পাশ্চাত্যের প্রবক্তা হয়ে উঠেন। মসজিদ, মাদ্রাসা, ইসলামী ওয়াকফ সম্পদ বাতিল করাসহ, সব মুছে দেন। ফেজ টুপি, পাগড়ি  নিষিদ্ধ করে হেট পরার প্রচলন করেন। হিজাবকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশা শুরু করে প্রকাশ্যে সেটি পরা নিষিদ্ধ করেন। হিজরী ক্যালেন্ডার বাতিল করে খৃষ্টমাস ক্যালেন্ডার চালু করেন। সাপ্তাহিক শুক্রবারের ছুটি বাতিল করেন। বলা হলো এসব স্যাকুলার দর্শন “ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ” । তার দৃষ্টিতে নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর অনুকরণে তূর্কী জাতির অনুসরণ করার কোন যুক্তি নেই, তার লিখিত Medidni Bilgiler (সভ্যতার কথা, মোস্তফা কামাল) এসব প্রমাণ। তূর্কী ভাষাটি ছিল আরবী ফার্সি মেশানো ভাষা। খুব সহজে তারা এটি রপ্ত করতে পারতো। তারা সুক্ষ্মভাবে খুঁজে খুঁজে এসব শব্দকে ভাগাড়ে ফেলে দিয়ে ল্যাটিন হরফের সমাদরে ভরে তোলে সবকিছু। ৯৯% মুসলিমের দেশটি তূর্কী রিপাবলিকান ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না, আইনের শর্তে থাকলেও কামালের কৌশলী (?) চালে সব উল্টে যায়। খলিফা আব্দুল মজিদ হালকা ধাক্কাতে উৎখাত হন। ঐ সময় ভারত বর্ষেও নাড়া পড়ে, খেলাফত আন্দোলনের ডাকে পাগল করে তুলে মুসলিম কবি নজরুলকেও। যুদ্ধের ডাকে তিনি ছুটে যান, ঐ সূত্রের গানও তার কবিতায় জমে। ইহুদী বাবার ছেলে কামাল কৌশলে সব দায় চাপিয়ে দেন রাজনৈতিক ইসলামের ঘাড়ে। ওকে রূখতেই চল্লিশ পঞ্চশ ষাটের দশকে তুর্কী ছেলেপেলে ধর্মকে পুরোপুরি ভুলতে বসে। মনের গোপন কষ্ট জমা করে প্রকৃত মুসলিমরা প্রহর কাটাতে থাকেন। যার সহজ পরিণতিতে প্রতিটি দশকেই ঐ সময় ক্যু হতে থাকে।

তুরষ্কের প্রেক্ষাপট বুঝার জন্য কিছু ভূমিকার দরকার ছিল, তাই পাঠকের অবগতির জন্য কিছু অতীত দেখা। যখন ওসমানিয়া সাম্রাজ্য হেলে পড়ে তখন ঐ আনাতোলিয়ান নামের একটি অংশের হাল কষে ধরেন কামাল। উৎফুল্ল জনতা ধরে নেয় তিনিই “কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই ”।  কিন্তু ইতিহাস অপর পিঠে গবেষনা তথ্যে পাওয়া যায় তিনি ছিলেন ইহুদী প্রজন্ম (নিউইয়র্কের ইহুদী পত্রিকায় হিলেল হালকিনের প্রকাশিত কলাম, জানুয়ারী ২৮,১৯৯৪)। ইসলাম ধ্বংসে হাত দাগানো শক্ত ব্যক্তিত্ব। মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশে এ কাজ কোন সময়ই সহজ নয়। তাই তাকে কিছু কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়। আর সে কৌশলটি ছিল ধর্মনিরপেক্ষ এজেন্ডাকে সামনে তোলে ধরা। সাব্বাতি সেভি নামের এক ব্যক্তি ১৬৬৬ সালে মসিহএর দাবী নিয়ে আবির্ভুত হন।   গবেষনাতে দেখা যায় তিনি শুধু অমুসলিমই ছিলেন না, তিনি প্রকৃত মুসার অনুসারীও নন, ইহুদীদের এক পথহারা মসিহএর অনুসারী ও বংশধর ছিলেন। এসব শুধু তার পারিবারিক সূত্রেই নয়, তার বক্তব্যেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়। ইহুদীরা মনে করতো তুরষ্ক ইসরাইলের একটি প্রদেশ। ১৮৮১ সালে তার জন্ম এবং ১৯৩৮ খৃষ্টাব্দে তার মৃত্যু।

তুরষ্কে ইসলামের নতুন জন্মে এরদোয়ান: রেসিপ তায়িপ এরদোয়ান ১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারীতে জন্মগ্রহণ করেন,  যিনি ২০০৩ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ছিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসাবে আছেন। হাইস্কুলে পড়া অবস্থায় তিনি ইসলামের একজন তুখোড় বক্তা ছিলেন, পরে তিনি পেশাদার ফুটবল খেলাতেও পারদর্শী ছিলেন। তার বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার সময় সেখানে বিভিন্ন ইসলামিক ব্যক্তিত্ব দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত হন। এদের একজন নেকমেতিন এরবাকান (আরবাকান), একজন যুদ্ধফেরত ইসলামিক রাজনীতিবিদ। তার প্রচারিত পার্টিতেও এরদোয়ান খুবই সোচ্চার ছিলেন। এরকম সময়ে তুরষ্কে এরবাকান ১৯৯৭ সালে আবার ধর্মে রাজনীতি নিষিদ্ধের আওতায় আসেন। ১৯৯৪ সালে এরদোয়ান ওয়েলফেয়ার পার্টির ছত্রচ্ছায়ায় ইস্তাম্বুলের নির্বাচিত মেয়র পদ অধিকার করেন। এতে বিরোধীরা ক্ষুদ্ধ হলেও এরদোয়ান তার দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি  নগরে মসজিদ নির্মানের প্রতিবন্ধকতারোধে ও নগরীতে এলকোহল বিক্রি বন্ধের উপর জোর দেন। আত্মবিশ্শাসী এরদোয়ান শত্রু পক্ষের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য এক বিরাট প্রতিরোধ প্রতিবন্ধক। ১৯৯০ সালে যুবক এরদোগান ইস্তাম্বুলের রাজনৈতিক ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ও সফল মেয়র হিসাবে সেনিটেশন, পানি সমস্যা, ট্রাফিক সমস্যায় জাতির জন্য ব্যতিক্রমী সফলতা নিয়ে আসেন। তিনি তখন ছিলেন একজন তরুণ মুসলিম পার্টি সদস্য। ১৯৯৮ সালে এক মিলিটারী ধর্ম নিরপেক্ষবাদী ষড়যন্ত্রে ইসলামিক আন্দোলন থেকে উচ্ছেদ হন। এ সময় ইসলামের উপর তার লিখিত একটি কবিতার জন্য তাকে শাস্তি স্বরুপ ১০ মাস জেলের ঘানি টানতে হয়। যুগে যুগে সত্য সাধকদের সুযোগ সন্ধানীরা কৌশলে তাদের আক্রমন করেছে। বিভিন্ন এথনিক গোষ্ঠীর ৯৯% মুসলিম অধ্যুষিত তুরষ্কের বাসিন্দারা মুসলিম নামেই পরিচিত, বাকীরা খৃষ্টান। অল্প সময় বাদে বলা চলে ১৯২৩-২০০২ পর্যন্ত চলে ঐ মোস্তফা কামালের যুগ। যেখানে বিকৃত ইসলামকে স্থানান্তর করা হয় ইসলামের আড়ালে ধর্মনিরপেক্ষ অবয়বে। মাঝের সময়ে তুরষ্কের মুসলিমরা হয়ে পড়ে ভিন্ন রকম এক যাতনার মুখোমুখি। আমরা ইদানিং এরদোয়ান বিরোধীও দেখছি, এটি ঐ বাতিল খোড়ারোগের পুনরাবির্ভাব ছাড়া আর কিছু নয়। আমাদের কিছু বিভ্রান্ত লেখকরাও ঐ কামালের স্বগোষ্ঠীর তালিতে তালি দিয়ে যাচ্ছেন, যারা বহুদিন থেকে সরব আছেন বাংলাদেশটিকেও ঐ কামালীয় অবয়বে মুড়ে দিতে।  তুরষ্কে বিগত শতকের খোড়ারোগে আবারো আক্রান্ত করার সুযোগ থাকার সম্ভাবনাকে মোটেও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই অতি অবশ্যই এরদোয়ানকে কঠিন ও বাস্তবধর্মী হতেই হবে। কৌশলীরা কিয়ামত পর্যন্তই প্রবল হওয়ার চেষ্ঠা চালিয়ে যাবে।

উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের পার্টি একেপার্টি ২০০২এ ক্ষমতায় আসে। মুছে যাওয়া ইসলামকে মানুষ ময়দানে দেখে। ইসলামের এ নব আবিষ্কারের কৃতিত্ব এরদোয়ানকে দিতে জাতি কুন্ঠিত হয়নি, আধুনিক তুরষ্কের মুসলিমরা ঘরে ফেরার স্বাদ পায় নতুন করে। এরদোয়ানই প্রথম ইসলামিস্ট নেতা যিনি জাতিকে একদিকে যেমন সমৃদ্ধি এনে দিয়েছেন, ঠিক তেমনি জাতিকে তার বহুদিনের আত্মার খোরাক অস্তিত্বের সংকট থেকে নৈতিকতার মানদন্ডে ধর্মের পরিবেশ ফিরিয়ে দিয়ে জাতির জন্য প্রকৃত মুক্তির দিশা সহজ করে দিয়েছেন। ফাউন্ডিং ফাদার কামাল আতাতূর্ককেও মানুষ মুসলিম ধরেই আগায়, যদিও তাদের সে বিশ্শাসে বিষ ঢেলে দিয়েছিলেন কামাল। তাদের মনের অজান্তেই সেটি ইহুদী ছলনার সাথে মিশে যায় বলেই তুরষ্কের জনগণকে বেশ বড় সময় থেকেই কঠিন সময় পার করতে হয়।

নতুন প্রেসিডেন্টের নতুন প্যালেস: এ নিয়েও কিছু বিতর্ক জমছে। বিরোধীরা বসে নেই, প্রতিটি সুযোগের ব্যবহার তারা করবে। এরদোয়ান তার পুরোনো প্রাসাদের জটিলতা কাটাতে এটিও তার প্রশাসনের এক সংযোজন বলা চলে। এরদোয়ানের এ বিরাট প্যালেস বিরুদ্ধবাদীদের এক ব্যতিক্রমী রসদ হিসাবে কি প্রচার পাচ্ছে? তবে বিরুদ্ধবাদীরা কটু মন্তব্যে পিছিয়ে নেই। এটি ঐ রাষ্ট্রের সম্পদ, তার শক্ত ভিত্তির পরিচিতি প্রকাশ করছে। যদি ঐ প্যালেসে জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, বহাল থাকে তাতে লুটপাটের চেয়ে এটি নিশ্চয়ই একটি স্থায়ী বিনিয়োগ, স্থায়ী ইনভেস্টমেন্ট। ইস্তাম্বুল গ্যাজেটের এডিটর ডঃ কেন এরিমটান তার কলামে কুরআনের সুরা বাক্কারাহএর ২৫৪ নাম্বার আয়াত দিয়ে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। “ওহে যারা ঈমান এনেছ! আমরা তোমাদের যে রিযেক দিয়েছি তা থেকে তোমরা খরচ করো সেই দিন আসার আগে যেদিন দরদস্তুর করা চলবে না, বা বন্ধুত্ব থাকবে না, বা সুপারিশ থাকবে না।  আর অবিশ্শাসীরা, তারাই অন্যায়কারী।” এরদোয়ান এক বকতৃতাতে বলেন, ১১৭৮ খৃঃ কলাম্বাসের আগমনের ৩১৪ বছর আগেই মুসলিম নাবিকেরা আমেরিকা পৌছায়। খৃষ্টপার কলাম্বাস তার স্মরণিকাতে স্বীকার করেন যে, কিউবার উপকন্ঠে পাহাড়ের চূড়াতে একটি মসজিদের উপস্থিতি ইসলামের সাক্ষ্য হয়ে ছিল। আমেরিকা আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত ডঃ ইউসুফ মরুহ বলেন, দশম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মুসলিমরা আমেরিকা আবিষ্কার করে। ঐ অতীতকে মনে করে ভবিষ্যতে ঐ স্থানে একটি মসজিদ তৈরীর ইচ্ছাও এরদোয়ান প্রকাশ করেন। তুরষ্কের অটোমান সুলতানদের ও একেপার্টির ঐতিহাসিক ভূমিকা তাকে ঐ কাজটি করার ইচ্ছায় উদ্বুদ্ধ করছে।

অভ্যুত্থানের পর পরই এরদোয়ানের প্যালেসকে হাই লাইট করে প্রচার করলো নিউইয়র্ক টাইমস। অনেকে দেখছেন মন্তব্য করছেন উল্টাসিধা। এ কৃতিত্ব এরদোয়ান সরকারেরই, এরদোয়ান অন্য লুটেরার মত এসব বগলদাবা করে সুইস ব্যাঙ্কে জমা করছেন নাা। এরদোয়ান বা তুরষ্ক হচ্ছে ওসমানিয়া সামাজ্যের নব আবিষ্কার, যা দেখে প্রতিটি ষড়যন্ত্রী মনই শংকিত হবে, যারা অন্যের ভালো চায় না। সৌদির স্বৈরতন্ত্রে যাদের অরুচি নেই কিন্তু তুরষ্কের গণতন্ত্রে কেন বিচলিত? গোটা জাতির অভ্যুত্থান এরদোয়ানের স্বপক্ষে স্পষ্ট ম্যাসেজ বিলি করছে, তারপরও পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম কিছু ক্ষেত্রে কেন প্রশ্নবিদ্ধ?  দোয়া করি বাকী বিশ্শের মনের মতই মডারেট, যুক্তিনির্ভর রেডিক্যাল, টলারেন্ট অসংখ্য গুণাবলিতে ভরা শতধাবিভক্ত নয়, এক জাতি গোষ্ঠী তুরষ্কে নতুন উদ্যমে বেড়ে উঠুক। নাজিমুদ্দীন আরবাকান ছিলেন আগেকার সংগ্রামী জনতার অংশ। ঐ সময়ের আরবাকানের অনুগত অনুসারী ছিলেন আজকের এরদোয়ান, গুলেন।  ১৯৯৭ সালে ৮ মাসের মাথাতে আরবাকানকে উৎখাত করা হয়। এভাবে বারে বারে মার খেতে খেতে আজকের একেপার্টি। ২০০২ থেকে আজ পর্যন্ত স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নিরংকুশ বিজয়ই এরদোয়ানের অবস্থানকে এতদূর এনেছে। ইসলামের আলো আল্লাহর আলো হলে এটি নিভে যেতে পারে না। এটি শত অনাচারের পরও জ¦লবেই।

ময়দানে ষড়যন্ত্র করা ছিল ইবলিসের ধর্মীয়  ঐতিহাসিক শর্ত: কামালের কৌশল ছিল ইসলামকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল। বস্তুত ইসলাম রাজনীতি নিয়েই বেড়ে উঠে। একে আলাদা করলে সেটি আর ইসলাম থাকে না। প্রাক ইসলামের মসজিদ হচ্ছে ইসলামের সংসদ, সেটি ভুলে গেলে চলবে না। প্রতিটি নির্যাতনের প্রতিটি সমস্যার সমাধান, প্রতিটি রাজনৈতিক সমাধানও ইসলামিক উপায়েই সারতে হবে,  তাই মুসলিমদের উপর কুরআনের নির্দেশ। একে খন্ডিত করলে আর ইসলাম থাকে না। ইসলাম থেকে অন্য সব ধর্ম আলাদা হতে পারে,  কিন্তু ইসলাম আল্লাহর প্রদর্শিত বাণী দ্বারা পরিচালিত, কুরআনের অবজ্ঞা করা বা এর থেকে সরে আসা মানেই ধর্মকে ধ্বংস করা। ইসলামের অনুসারীদের কখনোই জুলুমকে মাথা পেতে নেয়ার কথা নয়। জালিম শাসকের প্রতি সামনা সামনি প্রতিবাদ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এর নামই জিহাদ। জুলুমের প্রতিবাদ করতে না পারলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করতে হবে,  যদিও এটি দুর্বল ঈমানের লক্ষণ। কাফের, জালেম ও দুস্কৃতিকারী হচ্ছে নষ্ট মানুষের বিশেষণ। যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে আর আল্লাহর নাজেল হওয়া জিনিসের বিচার করে না, তারাই কাফির (সুরা: ৫:৪৪), যারা আল্লাহর আইনে শাসন করে না, তারা অন্যায়কারী জালেম (সুরা: ৫: ৪৫) আর যারা আল্লাহর আইনে বিচার করে না তারা নিজেরাই দৃস্কৃতিকারী (সুরা: ৫:৪৭)। গোটা মধ্য প্রাচ্যের ইতিহাসে গণতন্ত্র দেখাতে পেরেছে তুরষ্ক, যদিও এর মাঝে পশ্চিমা তীর্যকতাও চোখে পড়ছে। মূল ইসলামে স্বৈরতন্ত্র অনুপস্থিত। যেদিন থেকে এর আমদানি হয়েছে সেদিন থেকে এর এক অংশ নষ্ট খোলসে ঢাকা পড়ে গেছে। প্রকৃত ইসলামকে মুক্ত করতে হলে স্বৈরতন্ত্রকে ঝেটিয়ে বিদেয় করতে হবে। এই স্বৈরতন্ত্রই ধর্মটিকে বিভক্ত করতে সাহায্য করেছে, সেদিন থেকেই মনগড়া আচার ময়দানে ঢুকার অবকাশ তৈরী হয়েছে। এসব কিছুই প্রকৃত গবেষনা দিয়ে ময়দান থেকে বিদায় করতে হবে। শিয়া সুন্নীর মত বিতন্ডাকে উসকে দিয়েছে ইসলামের বৈরী শক্তি, যারা এর ধ্বংস চায়। যারা প্রকৃতই ইসলামের শত্রু।

২০০৩ থেকে যে যাত্রা শুরু করেছে তুরষ্ক, সুদীর্ঘ সময়ের মার খাওয়ার পরও যেন তারা সত্যকে হজম করতে পারায় আরো দক্ষতা দেখায়। জয়েল রিচার্ডসনের কলামে ও বাকী অনেকের কলামেও একটি বহুদিনের বিতর্কীত পয়েন্ট উঠে এসেছে। মুসলিম মাসিহ হিসাবে মাহদীর আগমন। তার বইএর নাম The Islamic Antichrist: The Shocking Truth about the Real Nature of the Beast. এ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে মনগড়া কোন অভ্যুত্থান বা প্রচেষ্ঠা কি ঐশ^রিক অর্জন জমা করতে পারবে?  ঐ স্বপ্নকে বাস্তবে ময়দানে দেখতে হলে ওকে আল্লাহর  গডের বা যোহোভার গ্রন্থে স্পষ্ট দাগ থাকতে হবে। মুসলিম বিশ^কে দুভাগ করা হয়েছে ইরানী ও আরবী অবয়বে। এ বিভেদ কুরআন বা ইসলাম স্বীকার করে না। সঙ্গত কারণেই এদের এক হতে হবে। সত্য ব্যতিরেকে সব বাতিলকে ফেলে দিতে হবে। “একতাই বল” হবে ময়দানের জাগরণের বাণী। উভয়ের সৎ গুণাবলিকে একত্রিত করতে হবে। উভয় দলকে জাহান্নামের লেলিহান শিখা থেকে উদ্ধার করতে হবে, মুসলিমদেরেই এতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

শাহরিয়ার শহীদের রচিত “ইসলামে বিভ্রান্তি ও বৃটিশ স্বীকারোক্তি” গ্রন্থ থেকে কিছু ঐতিহাসিক সত্যের নজির ও কিছু তথ্যভিত্তিক উদাহরণ তুলে ধরছি। (১) মুসলমানদের দুর্বল জায়গার খোঁজ নিতে হবে। সেই দুর্বল জায়গা দিয়ে আমরা তাদের দেহে প্রবেশ করবো এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খুলে ফেলবো। বস্তুতপক্ষে শত্রুকে ঘায়েল করার এটাই পথ। (২) যে সময় তুমি এসকল দিক চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে তখন আমি যা বলেছি তা করবে। —-যখন তুমি মুসলমানদের রজ্জুহীন করতে সক্ষম হবে এবং একজনকে আরেকজনের বিরূদ্ধে বিবাদে লিপ্ত করতে সক্ষম হবে তখনই তুমি হবে সবচেয়ে সফল এজেন্ট এবং মন্ত্রনালয় থেকে অর্জন করবে একটি মেডেল”। (৫২ পৃষ্ঠা) মন্ত্রনালয়ের একজন বললেন, “আপনার কাজ হচ্ছে মতভেদ উস্কে দেয়া, মুসলমানদের একতাবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে চিন্তা করা নয়” (৫৪ পৃষ্ঠা)। আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানে উপনিবেশ সমূহের মন্ত্রী আমাকে বলেন যে, “আমরা মদ ও নারীর সাহায্যে অবিশ্বাসীদের (মুসলমানদের) হাত থেকে স্পেন দখল করে নিয়েছি। এই দুটি বিশাল শক্তি দিয়ে আমাদের হৃত সকল ভূখন্ড ফিরিয়ে আনতে হবে” আমি জানি মন্ত্রীর বক্তব্য কত সঠিক ছিল (ঐ, ৬২ পৃষ্ঠা)।

সাম্প্রতিক তুরষ্কের এ ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পেছনে কে বা কারা জড়িত,  তার নজিরসহ কিছু প্রমাণ এর মাঝে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিন যিনি বন্ধুর ভূমিকাতে ছিলেন কোন কারণে আজ তার বিচ্যুতি হয়েছে। দৃশ্যত দুজনাই ইসলামের অনুসারী কিন্তু ইসলামের মূল রাস্তা আর অপরাধীর রাস্তা কখনোই এক নয়। আদম আর ইবলিস দুজনাই আল্লাহর ভক্ত ছিলেন,  কিন্তু দু’জনাই এক পথের পথিক নন। এরা অপরাধীরা এভাবে যুগে যুগে বিভেদকে জিইয়ে রেখেছে। সময় এসেছে একতার পথে চলার, আর বিভেদের গ্যাপটিকে স্পষ্ট করে তোলারও। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের শিকড়সূত্র স্পষ্ট করেছে তুরষ্ক ভিত্তিক পত্রিকা “ইয়ানি সাফাক” সাবেক ইউএস কমান্ডার জেনারেল জন এফ ক্যাম্পবেলকে তবে যুক্তরাষ্ট্র এটি অস্বীকার করছে। ঐ বরাতে ফেতুল্লা গুলেনের সূত্রকথাই প্রকাশিত হয়েছে যিনি আমেরিকা সরকারের নিরাপত্তায় পেনসিলভেনিয়াতে আছেন। শুরু থেকেই এরদোয়ান তাকে সন্দেহ করছিলেন আর এর জবাবে তিনি নির্দোষ জানিয়ে উল্টো মন্তব্য করেন যে, এসব এরদোয়ান সরকারের সাজানো নকল অভ্যুত্থান। যদি তাই হয়, তবে ২৪০-২৪৬ জনের হত্যা ও ২,০০০-২১০০ জনেরও বেশী আহতের উপর দিয়ে এরকম একটি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গুলেন জাতি বিরোধী, ধর্ম বিরোধী, নীতি বিরোধী, ইসলাম বিরোধী কাজ করলেন। এখানে গুলেন ও তাকে সহযোগিতা গোটা বিশে^ প্রশ্ন জমা করেছে। এরপরও কিছু জনেরা গুলেন প্রেমিক হচ্ছেন হতে পারে এর মূল কারণ তারা ইসলাম প্রেমিক নন, বরং বিদ্বেষী। এটি সফল হলে অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়ানো তুরষ্ককে নর্দমায় ফেলে দেবার প্রক্রিয়া অবশ্যই সহজ হতো এবং তুরষ্ক ও এর জনগণ অতল গহবরে নিপতিত হত। অনেকের চোখে এতে এরদোয়ান গহবরে পড়তেন, কিন্তু বাস্তবে ইসলামকে গহবরে ফেলার প্রক্রিয়া এটি ছিল না, বলার সুযোগ কম। এখন অভ্যুত্থান পরবর্তী বেশ শক্ত পদক্ষেপ নেয়াতে অনেকেই মনোক্ষুন্ন হচ্ছেন, এতে তাদের স্বরুপ স্পষ্ট হয়ে পড়ছে। কিন্তু একটি জেগে উঠা সচেতন জাতি ধ্বংসের এসব কৌশল নিঃসন্দেহে মানবতার বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে!  অভ্যুত্থানে ষড়যন্ত্রকারীদের  ২ বিলিয়নেরও বেশী ডলার বিলি করা হয়। যুগে যুগে ষড়যন্ত্রীরা এ ধর্মে বিভেদের সুযোগ নিয়েছে, নিচ্ছে, ভবিষ্যতে আরো নিবে। সুফিবাদের নামে, তরিকার নামে নকশাবন্দীর নামে এসব বিভেদ আরো চাঙ্গা হচ্ছে, মুসলিম নামধারী গুলেনের নীতি এসব তরিকার অনুসারী। এসব ছলনার রাস্তা থেকে প্রকৃত মুসলিমকে বের হয়ে আসতে হবে। কুরআন বলে, যারা মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ও মতভেদ করে, স্পষ্ট বানী আসার পরও, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে শাস্তি ও কঠোর যন্ত্রণা (আল ইমরান ১০৪ আয়াত)। আল্লাহর বিচারেও এরা আসামী, রাষ্ট্রের বিচারও এদের জন্য বরাদ্দ থাকা অনৈতিক হওয়ার কথা নয় বরং উপযুক্ত।

একক ইসলামে বিভক্তি অনৈসলামিক: এক ইসলামের দুই বা শত শত বিভাগ হতে পারে না, এসব অনৈসলামিক। তারপরও শোনা যায় এশীয়, আফ্রিকান,রাশেদী, উমাইয়া, আব্বাসীয়, উসমানী, আধুনিক, আরবীয়, তূর্কী, মালয়, সুন্নী, শিয়া, জিহাদী, বিপ্লবী, রেডিক্যাল, প্রতিক্রিয়াশীল, ডানপন্থী, বামপন্থী, লিবারেল, গোঁড়া, সূফিবাদ, রাজনৈতিক, মৌলবাদী, আধ্যাত্মিক, পার্থিব, ঐশ^রিক, এখানে ২৬টি নাম করলাম যা অনেকেই অনেক বক্তব্যে প্রচার করেন। এসব প্রত্যেকটি বিভাগ ষড়যন্ত্রী পক্ষের সাজানো ভাগ। কোন মুসলিমকে ঐসব হাইলাইট করে প্রচার করা মানে কুরআনের  সুরা ইমরানের ১০৪ আয়াতের কঠিন শাস্তির মাঝে পড়ে যাওয়া। ইসলাম একক রুপে আবির্ভূত হয়েছে সব দিন সব সময়। এক আল্লাহ, এক রসুলের হাতে ও এক গ্রন্থের শক্ত নির্দেশনা নিয়ে আসা সিলেবাসের ধর্মটির দুটি রুপ হতেই পারে না। এসব আলাদা বিভাগ হিসাবে প্রচার করা অনৈসলামিক কাজ, ও পথে চললে শক্ত শাস্তির মোকাবেলা করতে হবে। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ^ যুদ্ধের পর পরই উসমানীয় খলিফার দুর্যোগ এর মূলে নিশ্চয় অসংখ্য কারণ ছিল। সেটি যুগের তাগাদায় গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন, করছেন, করবেন। শক্তিমান বৃটিশ, রুশ, গ্রীকরা দূর্বল অসুস্থ হয়ে পড়া দেশটিকে ভাগ বন্টন করে নেয়।

নিউইয়র্কে একবার এরদোয়ান বলেছিলেন,  মুসলিম বিশে^র ইরাক, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, বলকান সমস্যার উদ্ভব ঘটে উসমানী খিলাফতের অবলুপ্তির পর। এরদোয়ান মেয়েদের ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। তবে অতি স্বাধীনতার বলয়ে ঢুকে হতাশা ও ভোগবাদীর দিকে না ঝুকতেও সাবধান করেন। ধার্মিকতা মানুষকে মর্যাদাবান করে, অপমান নয়, এ বোধ জাগাতে তিনি তার জনতাকে উৎসাহিত করেছেন, মায়েদের মর্যাদা রক্ষার্থে মানবিক ও নৈতিক সব রাস্তা বাতলে দিয়েছেন। যেখানে কামাল এক দঙ্গল ধর্মহীন সেক্যুলার গড়তে ব্যস্ত থেকেছেন, সেখানে এরদোয়ান চেয়েছেন একদল মানুষ নামের নৈতিকতায় পোক্ত আল্লাহভক্ত  নির্মল মানুষ গড়তে। মদের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হয়েছে এবং গভীর রাত্রে এসব বিক্রি বন্ধ হয়েছে,  বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রবর্তিত নিয়ম কানুন রক্ষা করার প্রচেষ্ঠাও তিনি গ্রহণ করেছেন। কামালের প্রচেষ্ঠা ছিল জোর জবরদস্তি করে শক্তির তলানীতে ক্ষমতা ধরে রাখা। যেখানে তিনি তার জাতিকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে পেরেছেন, সাথে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ এনে দিয়েছেন, শুধু ধর্ম নয় বরং ঐ অর্থনৈতিক মুক্তিই মানুষকে আশ^স্ত করেছে সবচেয়ে বেশী। লুট পাটের অনৈতিক বানিজ্য এখানে দূর্বল, স্বভাবতই অর্থনীতির বিজয় ঘোষিত হবেই। আল্লাহ ভীরু জনতারা সবদিনই বিশে^র ত্রাস। বিশে^র কোন করাপ্ট শক্তিই এদের সামনে দাঁড়াতে অপারগ। এখানে চাঁদাবাজি, লুটপাটের বানিজ্য  জন্মাতে পারে না। যার জন্যই তুরষ্ক আজ সানৈ সানৈ গতিতে এগিয়ে যেতে পেরেছে। ২০০৫ এ যে মাথাপিছু আয় ছিল ৬ হাজার মার্কিন ডলার, সেটি ২০১৩ সালে বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার মার্কিন ডলার, খোদ বিশ^ ব্যাঙ্কের হিসাবে। বহু যুগের নিষ্পেষনে থাকা তুরষ্ক জাতি আজ মুক্তির স্বাদ পেয়েছে যদিও চারপাশে নাগিনীরা ফেলছে বিষাক্ত নিঃশ^াস। সাক্ষরতার হার প্রায় ৯৯%, একদল সুশিক্ষিত জনতা গোটা বিশ^কেই পথ প্রদর্শন করতে সক্ষম। অনেক সমাজে দেখা যায় মানুষ শিক্ষিত থাকে বটে তবে সেটি সবার সুশিক্ষা নাও হতে পারে, অনেকেই কুশিক্ষিত থাকে।

প্রতিষ্ঠিত ইসলামকে শিয়া ও সুন্নীতে দুভাগ করা এ ধর্মের প্রথম বড় অপরাধ। তারপর হয়েছে শত শত তরিকার নামে সুফিবাদের তলানীতে এমন সব বিতর্কীত আচরণ এখানে এনে ঢুকানো হয়েছে, এসব প্রকৃত কুরআনিক ইসলামের সাথে সবদিন সাংঘর্ষিক।  জানা যায় অভ্যুত্থানের সন্দেহভাজন ফেতুল্লাহ গুলেন ঐ শিরকধারী বিতর্কীত সুফিবাদের অনুসারী যারা প্রকারান্তরে মূল ইসলামের অপশক্তি। যারা এসব অনুসরণে আছে এরা বেশীরভাগই বিতর্কীত অবস্থানে টিকে আছে। এরা একমুখে তাকওয়ার কথা বলে আবার পরক্ষণেই আল্লাহর তাকওয়া ছেড়ে মানুষের কাছে মাথা বিকিয়ে দেয়। অনেকের যুক্তি মওলানা রুমি, মনসুর হাল্লাজ এরা সুফিবাদের  প্রবক্তা, কিন্তু তারা কেউ নবী নন, প্রবক্তা হওয়ার স্বরচিত পথ এভাবে হতে পারে না। ইসলামে এসব নিষিদ্ধ। ধর্মটি আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ ব্যতীত হালকাভাবে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া অনেক বিতর্কীত অনুসারীদের কর্মকান্ড কুরআন দ্বারা স্বীকৃত নয়, বরং প্রচন্ডভাবে সাংঘর্ষিক। কুরআনে বলা হয়েছে এরা ধর্মের নামে মরিচিকার পিছে ঘুরছে (সুরা নূরের ৩৯ আয়াত)। এদের উপার্জন কোন কাজে আসবে না (সুরা ইব্রাহিম ১৮ আয়াত)। এরাই মিথ্যাবাদী, এদের অনুসরণ করতে বারে বারে নিষেধ করা হয়েছে (সুরা আনকাবুতের ১২,১৩,৪১ ও আন’আমের ৭০ আয়াত)।

জীবনে নীতি নৈতিকতা সবদিন আপদ ঠেকে কামাল গংদের কাছে। কুরআনে এসব দৃষ্টিহীনকে বলা হয়েছে অন্ধ, পথহারার দল। বলা হয়েছে এরা মোহর মারা দলের মানুষ, চোখ থাকতেও এরা অন্ধ।  কৌশলী মোস্তফা কামাল পাঠ্যবইকে সম্পূর্ণ নিজের মত করে পালটে দিয়েছিলেন, একই খেলা চলছে বাংলাদেশে সিলেবাস পরিবর্তন করে প্রতি সেক্টরকে প্রতিবন্দী বানিয়ে দেয়া হয়েছে এর মাঝেই। বাংলাদেশেও নৈতিক ধ্বসের মড়ক চলছে শিক্ষা সেক্টরসহ সর্বত্র, মানুষ নয়, দেশ গড়ছে অমানুষ ডাকাত। ইসলাম একক রুপে আবির্ভূত হয়েছে সব দিন সব সময়। এমন কি যখন আগের নবীদের কাছে ওটি আসে, তখনও এটি ঠিকই ছিল ঐ এক শক্তির উপর দাঁড়ানো।  পরবর্তীরা গ্রন্থে সংযোজন বিয়োজন করেছেন বলেই পরবর্তী সংস্করণের দরকার জরুরী হয়। “আমরাই এর অবতরণকারী ও এর সংরক্ষণকারী / এ হচ্ছে সম্মানিত কুরআন, আছে সুরক্ষিত ফলকে” (সুরা আল-হিজরএর ৯/৮, আল-বুরুজ ২১/২২ আয়াত)।  আল্লাহ গ্যারান্টির প্রমাণ্যতা হিসাবে আজ চৌদ্দশত বছরেরও বেশ পরেও এটি অপরিবর্তীত। এ অপরিবর্তন ধর্মটির সবচেয়ে বড় বিস্ময়। হাজার হাজার কোটি কোটি মানুষ তা ঠোটস্থ কন্ঠস্থ মুখস্থ করে রেখেছে। সর্বক্ষেত্রে প্রতিটি অন্তস্থলে এটি হৃদয়ঙ্গম করাই সময়ের বড় দাবী। তুরষ্ক যেন আজকের হতাশার পৃথিবীর রোলমডেল, আলোকবর্তিকা। আল্লাহ মানব জাতির সহায় হোক ও সুমতি দিক।

নাজমা মোস্তফা, ২ আগষ্ট, ২০১৬ সাল।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: