Articles published in this site are copyright protected.

১৫,০০০ বন্দী: সাধু আর শয়তানের স্বরুপ দেখে জেনেও আমরা বিবেক সচেতন মানুষ হয়েও ফারাক বুঝি নি। দুইকে এক পাল্লায় মাপাটাই আমাদের শ্রেষ্ঠ অপরাধ, বড় পাপ। রমজানে একটি মুসলিম দেশে ১৫ হাজার সরকারের বন্দী। সরকার নামেদাগে অসৎ, দেশসহ সবাই গোটা বিশ^ স্বীকার করেছে জানছে। সহজ জবাব হবে ১৫০০০ সাধুকে আসামী সরকার বন্দী করেছে রমজানের মাসে। বন্দুক যুদ্ধে ক্রস ফায়ার দিয়ে পুলিশ দিয়ে ক্রসফায়ারে মারছে তাদেরে, যারা থাকলে সরকারের বিপদ হয় বাড়ন্ত। পরিচয় যাই থাকুক টেগ লাগানো হয় এ প্রাকটিসিং মুসলিম। সরকার ও মিডিয়া বুঝাতে চায় প্রাকটিসিং মুসলিম সমাজের বিপদ। সরকার ও পুলিশ (নামধারী মুসলিম) বিচারের আগেই টেগ লাগায় নিজ সুবিধামতন। বেশ কবছর থেকে আনসারুল্লা বাংলা টিম, হিজবুল্লাহ এসব সাজানো কাকতাড়উয়ার নাম। সচেতন সাংবাদিকেরা ভাতে মরছেন, অর্থে মরছেন, বিবেকে মরছেন। দুই একজনা কষ্টের জমায় দেশ হারিয়ে ফেলার কষ্টের কথা প্রকাশ করছেন দীর্ঘশাস ছেড়ে। ট্রানজিটের নামে ভারত আসে যায়, তাদের হোমরা চোমরারা কথায় কথায় সমানেই বেদনাদায়ক তাালিয়া বাজায়। একটি স্বাধীন দেশকে তারা এভাবে শাসানি দিতে চায়, কারণ মেরুদন্ডহীন এক প্রাণীর দখলে দেশ। সারা দেশ হিন্দুরা তালিকা হাতে চাকরি নিয়েছে ঐ প্রাণীর উর্বর মস্তিস্কের দেউলিয়াত্বে। মুসলিমরা কারাগারে সময় পার করছে। তারপরও ভারত হুমকি ধমকিতে কোমরে হাত রেখে তর্জনী তোলে বক্তব্য দেয়। শক্তিহীন সরকার নীরব। ভারতের মুসলিমরা বিপন্ন দশাতে সব সময়। ওখানেও হিন্দুরা মুসলিমের নামে মিড়িয়াকে কবজা করে হুমকি ধমকি চালাচ্ছে, এ ষ্টিম রুলার তাদের স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই প্রকটভাবে বেগবান। গুজরাট, বাবরী মসজিদ, মোজাফফর নগর মাইল ফলক হয়ে ইতিহাসের অসংখ্য সাক্ষর আছেই। তাদের খাগড়াগড়কান্ডের অমিয় সরকার, মুজাফফরনগরে মন্দিরের সামনে গরূর মাংস রেখে ভিএইচপির কর্মী দেশরাজ সিং, রাজস্থানে সুশীল চৌধুরী, বাঙ্গালোরে আবুল খান নাম নিয়ে হিন্দু যুবকের কারসাজি ধরা পড়লেও বলা হয় এরা চার রাজ্যের চার মানসিক বিকার গ্রস্ত হিন্দু যুবক। তারা হিন্দু যুবকেরা বোরখা পরে মন্দিরের সামনে মাংস রেখে মুসলিম নির্যাতনের দলিল সাজায়। দৈবাত কালে ভদ্রে কেউ ধরা পড়ে, তারপর তারা মানসিক বিকারগ্রস্ত সেজে ছাড়া পায় সহজেই। তারা মনে করে ওখানে ভারতে আল্লাহ নেই, ভগবানের শাসন। পক্ষান্তরে মিথ্যা অভিযোগে মুসলিম ধরা পড়লেও তাদের জামিনও হয় না, এ হচ্ছে ভারত। পাঠক ভুলে যাবেন না, রিজার্ভ চুরির মূল হোতারা থাকেন ভারতে, বৃটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইলের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পেট্রোল বোমা কারা মারে – আসিফ নজরুল

 

প্রধাণের নিরাপত্তা: এবারের রমজানে ইফতারের জন্য সন্ধ্যায় সেনানিবাসের সেনামালঞ্চে অবৈধ পথে আসা প্রধানমন্ত্রী হাসিনা হাজির হলে সেনানিবাসের সকল মসজিদের মাইকে মাগরিবের আজান বন্ধ করে দেয়া হয়। তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, যাতে গুলাগুলি হলে শোনা যায়। এজন্য এই বিতর্কীত নজিরবিহীন কাজটি খুব সহজভাবে করা হয় অপকর্মীর সার্থে। এতে সাধারণ মানুষরা বিস্মিত হন কারণ ৯০% মুসলিমের দেশে এসব অতীতে কখনো হয়নি। এদেশ কি ইসরাইলী আদলে বাড়ছে? অনেকের মনে প্রশ্ন সেদেশেও আজান নিষিদ্ধ। দেশের বেশীর ভাগ সংবাদ মাধ্যম হয়রানি এড়াতে এসব সংবাদ প্রচার থেকেও বিরত থাকে। সম্প্রতি আজ ২১ তারিখের খবরের শিরোনাম “বিদেশী ওয়েবসাইটে (অনলাইন সূত্রে বিদেশটি ইন্ডিয়া) সেনাবাহিনী নিয়োগ বিজ্ঞাপন উদ্দেশ্য প্রণোদিত: আইএসপিআর”। বলা হয় তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোন মহল করে থাকতে পারে, তা ভিত্তিহীন। কিন্তু এসব অপকর্মে কোন শক্ত প্রতিবাদ করার সাহস নেই কেন বাংলাদেশের? জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেছেন, ভারতকে ট্রানজিট দিয়ে শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা ১৯২ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি আরো বলেন, ট্রানজিটের নামে সরকার অন্যায়ভাবে স্বাধীনতার হৃদপিন্ড ছিঁড়ে দিল্লীর হাতে তুলে দিয়েছে। সবদিকে বাংলাদেশ শোষিত হচ্ছে। ব্যারিষ্টার হায়দার আলী বলেন, সব হচ্ছে ভারতের নির্দেশে। এই রমজানের সংযমের মাসেও দেশে চলছে শক্তির তলানিতে চরম মতলববাজি কান্ডকারখানা। সরকারের তালিতে গুম খুন হচ্ছে, সরকার নিজেই আসামীকে বিরোধী সাইনবোর্ড সেটে দিচ্ছে বারে বারে। অতি উৎসাহী সরকার নিজের নিরাপত্তা দিতে এটি করছে। সংখ্যালঘুরা অল্প হলেও তারাও নির্যাতীত হচ্ছে, এটিও শক্তিমানের ভিন্ন খেলার অংশমাত্র। শোনা যায় কখনো তারা নিজেরাই তাদের ভাঙ্গা চোরা মন্দির পুড়িয়ে মোটা অংকের টাকা বাগিয়ে নিচ্ছে, এসবের প্রামান্য দলিলও ময়দানে আসছে।

সেনা চাকুরী বিজ্ঞপ্তি ও অস্ত্র নাটক ভারতের প্রচার বিজ্ঞাপনে ভারত ও “র” জড়িয়ে আছে। উত্তরার বৌদ্ধ মন্দিরের পাশে (?) এক নম্বরবিহীন গাড়িতে এক গাড়ী বোঝাই অস্ত্রশস্ত্র ফেলে যায়। প্রথমে কিছু হৈচৈ হয় তারপর চুপ। এসবের সাথে “র” ও বাংলাদেশ গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে নম্বরবিহীন গাড়ী একমাত্র ডিজিএফআই ব্যবহার করে। তাই ঘটনা দুর্ঘটনা কমার কোন ভরসা নেই। যেকোন মুহূর্তে যে কোন কিছু ঘটতে পারে, তারা ঘটাতে পারে। একই মঞ্চনাটকের অংশ যেমনটি সাজানো হয়েছিল পিলখানার হত্যাকান্ড, জিয়াহত্যাকান্ড, এমনকি মুজিব হত্যাকান্ডও ভারতীয় চাল জড়িত থাকার সন্দেহ অমূলক নয়। অনেক প্রমাণে তাই দৃশ্যত মনে হয়। জিয়ার ব্যতিক্রমী দেশাত্ববোধের কারণে ভারত অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার চক্রান্ত বাস্তবায়নে বাধার সম্মুখীন হয়। যার স্বাভাবিক পরিণতি তার মৃত্যু, পথ পরিষ্কার করা। তারপর থেকেই কয়েকশ অফিসারকে গোপনে লাখ লাখ টাকা (ইসলামে এসব হারাম অর্জন) মাসোহারা দেয়া হয়। ফলে ১/১১ সাজানো সহজ হয়। যার সহজ পরিণতিতে সব নাটক হয়, হাসিনা দৃশ্যপটে পুনরায় আবির্ভূত হন। এর সহজ পরিণতিতে পিলখানাতে সেনা বিদ্রোহ সহজ গতি পায়, বহু অফিসার চাকরি হারান, কঠোর নিরাপত্তায় দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। বর্তমানে যারা বহাল আছেন তারা বেশীর ভাগ ঐ মাসোহারার কিস্তির সদস্য তারা। যার জন্য স্মরণ আছে নিশ্চয় একবার জয় বলেছেন এখন আর সেনাবাহিনীর এমন কেউ নেই যে নড়বে চড়বে বিপ্লব প্রতিবাদ করবে। ২০১০ সালে হাসিনার ভারতের সাথে যে গোপন ৩০টি চুক্তি হয়েছে যার কিছুই জানে না দেশবাসী বা সংসদও। সিরাজুর রহমান, আতাউস সামাদরা ঐ সময় অনেক চেচামেচি করেছেন এখন তারা মৃত; ময়দান খালি, মুমূর্ষু অনেকেই কারাগারে।  যার সহজ পরিণতি এত এত গুম খুন হত্যা ধ্বংস স্বাধীনতা হারানোর মত ভয়ঙ্কর অবস্থান দেশে চলমান। ভারতীয় এজেন্ডাতে সেনাবাহিনীর বিজ্ঞাপনও তার অংশ মনে হয়। অতি সম্প্রতি পুলিশে সেনাবাহিনীতে বাইরের লোক নিয়োজিত হয়েছে তার প্রামাণ্যতা ভিডিও ফুটেজে এসেছে, এরা বাংলাভাষী নয় । ভারতীয় পোর্টালে এরকম খবরও আসে যে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন ভারতীয়রা। জানা যায় এসবে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয় বলেছেন, বাঙ্গালীদের উচ্চতা কম, তাই পাঞ্জাবী উচ্চতার যুবকদের সেনা হিসাবে চাই। আরো কোন ভয়ঙ্কর খেল হচ্ছে না, বলা যাবে না। যেভাবে সুষমারা ভারতীয়রা হিন্দু নাটকের মহড়া সাজাচ্ছে তাদের নিজেদের স্বার্থে। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক দেশ সাজানোর পেছনে ভারত নেই, বলার উপায় নেই।

 রমজানে দৈবের জঙ্গি নাটক ফাঁস : এসব সাজাতে উদ্দেশ্যমূলক হিন্দু, খৃষ্টান, ব্লগার, নিধন হচ্ছে দেদারসে। নির্যাতীত নির্দোষ জনতার ভালো ছেলেরাও রমজানের লাশ হচ্ছে। দৈবের খেলা হিসাবে কিছু চাঞ্চল্যকর খেল ফাঁস হয়ে গেছে। এবারের কাকতাড়য়া ছিল ফাইজুল্লাহ ফাহিম নামের এইচএসসির এক ছাত্র ১৮ বছরের ছেলে যাকে শিবির হিসাবে সাজায় পুলিশ। ঘটনার বিভিন্ন রকম যোগসূত্র আসছে। কেউ বলছে জনতারা তাকে ময়দানে ধরেছে। কেউ বলছে ভিন্ন কথা। দুর্ঘটনা ঘটানোর ৪দিন আগে তাকে আটক করা হয়। বেকায়দার সরকারকে উদ্ধার করতে জঙ্গি নাটকে বিরোধীর সম্পৃক্ততাকে কোনভাবে প্রমাণ করতে খুব চাপের মাঝে সরকার ও তার লাঠিয়াল বাহিনী পুলিশ ও র‌্যাব। রিমান্ড মারধর পরে পুলিশ জানতে পারে ফাহিম একজন নামাজি ছেলে, তবে সে শিবির বা তাবলিগ পছন্দ করে না। তার বাপ মায়ের বক্তব্যেও তা স্পষ্ট হয়। অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামের নির্দেশে এ নাটক সাজানোর সিদ্ধান্ত হয়। এবার কোপানোর জন্য নির্ধারিত একজন হিন্দুর উপর এ সহজ নাটকের মহড়া চলে। পুলিশ ফাহিমকে তার বাবার মোবাইলে এসএমএস করিয়ে খবর পাঠাতে বাধ্য করে যে সে বিদেশে চলে যাচ্ছে, এ ছাড়া উপায় নেই। বেঁচে থাকলে দেখা হবে। বাবা গোলাম ফারুক ইত্যবসরে থানাতে ডিজি করেন। ফাহিমসহ আরো দুজনকে গাড়ীতে করে প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ভাড়া বাসায় নেয়া হয় ও তাদের কোপাতে নির্দেশ দেয়া হয়। কোপানোর পরই তাকে পরিকল্পনা মাফিক আটক দেখিয়ে থানায় নিয়ে সেখান থেকে সড়ক পথে ঢাকায় নেয়া হয়। আর প্রচার করা হয় বাকীরা পালিয়ে গেছে। এরপর তার উপর ট্রেনিং চলে এসব শিবিরের কাজ, রেটিনা কোচিং সেন্টার জড়িত, বরিশালে আরো হামলা হবে, মীর কাসেম আলীর আইনজীবি বান্নাকে ফাঁসাতে হবে, উত্তরার অস্ত্র উদ্ধারের সব আগাম স্বীকারোক্তির প্রশিক্ষণ তার উপর দিয়ে চলে। তার আশা অনেক কিছুই তাদের কথামত শর্ত সাপেক্ষে কাজ করাতে যদি সে ছাড়া পায়, বার বার ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানায়। এর মাঝে চলে ১০ দিনের রিমান্ড। সে জানায় তার মামা বড় অফিসার, দরকারে তিনি ছাড়িয়ে নিয়ে যাবেন। রিস্ক দেখে মনিরুল ও তার উর্ধ্বতনরা তাকে ময়দান থেকে সাফ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অতপর নিয়ে যাওয়া হয় মাদারীপুরের মিয়ারচরে। পুলিশের একাধিক আসামী সামনে থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করে, মুজিবের আমলে সিরাজ শিকদারতে যেভাবে হত্যা করা হয় ঠিক ওভাবে, হাতে হাতকড়া, গুলি বুকের বাঁ পাশে হৃদপিন্ড ঝাঝরা করে। জনতার হাতে তার ধরা পড়ার সব গল্প মিথ্যা, সাজানো। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এক পুলিশ অফিসারই সাংবাদিকদেরকে বলেছে, অনেক পুলিশ গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। মুখরা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ফাহিম শিবির করতো আর পুলিশ বলেছে ফাহিম হিজবুত তাহরিরের লোক। শিবির, আনসারউল্লাহ বাংলা টিম, হিজবুত তাহরির এসব হচ্ছে নষ্ট সমাজের ফসল রক্ষার তাকতাড়য়া। কিছুদিন আগে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর  মাগুরাসহ ভিন্ন জেলা উপজেলাতে পুলিশের উদ্যোগে বাঁশের লাঠি তুলে দেয়া হয় সংখ্যালঘু পুরুষ মহিলাদের হাতে, আমরা প্রকাশ্যে উচ্ছস্বিত লাঠিয়াল নারী পুরুষদেরে দেখি। নিজেদেকে ধোয়া তুলসি পাতা দেখাতে এসবও শক্তিমানের নাটকের অংশ মাত্র, পুলিশ র‌্যাব তাদের সহযোগী মাত্র।

প্রধান মন্ত্রীর নীল নকশা পাঁশ করলেন – ডঃ তুহিন মালিক

 

চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর মেয়ে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করেও ময়না তদন্তের নামে অসভ্য নাটক চলছে। দেখলাম তার বাবাকে মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকৃত আসামী না ধরে বরং তনুর সব দাগচিহ্ন ডায়রি, অ্যালবাম পুলিশ কবজায় নিতে ব্যস্ত। সব সময়ই আসামীরা সরকারী লোক না হলে কেন সরকার বারে বারে ওদের রক্ষায়ই তৎপর দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেশটি ভারত নিয়ন্ত্রিত ভোটহীন একটি দেশ। এ হচ্ছে ৭১এর স্বাধীন বাংলাদেশ। পেট্রল বোমা, পেপার স্প্রে সরকারের উদ্ভাবিত নাটকের অংশমাত্র। বিরোধী নিধনের জন্য সেটি বারে বারে আন্দোলনের সময় ধরা পড়েছে মিডিয়ার খবরে, পরক্ষণেই প্রতিটি ক্ষেত্রেই এদেরে ছেড়ে দেয়া হয়। ঐ ভারতীয়রা যেভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে আসামী ছেড়ে দেয় সরকারও তার আসামীদের ধরা পড়লেও ছেড়ে দেয়। আজ দেখি শিরোনাম, পেট্রোল বোমার থেকেও  পুলিশের র‌্যাবের হাতে কয়গুণ বেশী মানুষ মরছে। কি সুন্দর স্বাধীনতার পুলিশী দেশ এক বাংলাদেশ! এসব সরকারী উল্লম্ফনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সরকারের  (অনুর্বর ) মস্তকের প্রশংসা করেন। এই সেই দেশ গায়ে বুলেটপ্রুফ থাকলেও (ফাহিম) গুলিতে নিহত হয় বন্দী আসামী। সবাই বুঝে সরকারের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে পড়ার ভয়ে এভাবে একের পর এক ক্রসফায়ার হয় রমজানেই।  অনাচার ও অনৈতিক দেশে রাজধানীর খাল থেকে বেরিয়ে পড়ে ৯৭টি পিস্তলবোমাসহ বিপুল অস্ত্র গুলি। তুরাগ থানার পঞ্চবটি এলাকায় বৌদ্ধমন্দিরের পেছনে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা এসব উদ্ধার করে। পরের দিনের খবরে প্রকাশ উত্তরার খালে আরো ৩২ ম্যাগাজিন উদ্ধার। এ মাসের ৭ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত আইনশৃংখলা বাহিণীর হাতে নিহত হয়েছে ১৭ জন। এরা সরকারদলীয়দেরে বাঁচাতে সব করছে। প্রয়োজনে ফাঁসি মওকুফ করে জেল থেকে মুক্ত করছে। ঠিক একইভাবে তারা মূল আসামী না ধরে সব সময় মঞ্চনাটক করে চলেছে। তাদের কাজ হচ্ছে অপরাধীকে বাঁচানো, সব অপরাধের প্রমাণকে আগলে রাখাই তাদের নিয়োগবানিজ্য। কারণ অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে এসবের কোন বিকল্প নেই। সরকার নিজেই হত্যা গুমের বানিজ্যে প্রত্যক্ষ জড়িত, এটি সব আলামতেই প্রমাণিত।

এটি এমন একটি দেশ একের পর এক নাটক সেখানে চলমান। ভয়ানক রিজার্ভ চুরি এর মাঝে তলিয়ে গেছে। সাবেক গভর্ণর ফরাস উদ্দিনের হিসাবে ব্যাঙ্ক থেকে  তিনটি পদ্মাসেতু নির্মাণের সম পরিমান টাকা মেরে শক্তির তলানীরা বাড়তি শানে ধার দিচ্ছে। গত সাত বছরে ব্যাংক থেকে ৩০,০০০ কোটি টাকা চুরি গেছে। শেয়ারবাজার লুটপাট করে, সরকারী বেসরকারী সব ব্যাংক লুটে এবার ইসলামী ব্যাংক লুটের প্রক্রিয়ায় চুড়ান্ত প্রক্রিয়া চলছে। যার জন্য নতুন পরিচালকদেরে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিতর্কীত মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের নামও এসেছে। এবার একচিলতে মাপের বাংলাদেশ ভারতকে ট্রানজিট চালুর মহড়া সেরেছে শফিক রেহমানদেরে কারাগারে ভরেই। বলা যায় না যদি এ মুখবাজরা মুখ ফসকে দুকথা বলে দেয়। মনে হয় তার মৌচাকের ঢিল সইবার ক্ষমতাও এ সরকার হারিয়েছিল! বোঝা যায় মাঝে মাঝে দুএক কলামের ধকল সইতে সরকারের বেগ পেতে হতো। যার সফল পরিণতি ধড়পাকড় নাটক। এত অপরাধ হচ্ছে এই মুসলিম দেশের রমজানের মাসেই। পাঠক বলুন সরকার কি সংযমী? অস্তিত্বে আল্লাহ ভীতি রমজানের বড়জমা। শুধু উপোশ করলেই রোজা হয়না, লোক দেখানো তসবিহ টিপলেই রোজা হয়না, মাথায় গিলাফ দিয়ে ঢেকে ওমরাহও করলেও নিশ্চয়তা ক্ষীন থেকে ক্ষীনতর হতে বাধ্য, যদি মানব আত্মায় রমজানের মহাত্ম্য প্রবেশ না করে। মুসলিম প্রধান সারা জাতির নেতৃত্বও আইন শৃংখলা বিচার বিভাগ সবাই কি রমজানের মাসেও ঈমান হারিয়ে দেউলিয়াত্ব বরণ করবে? আল্লাহর আদালতে এর বস্তুনিষ্ট বিচার জনতার পক্ষের আবদার ও সময়ের বড় জমা !

নাজমা মোস্তফা,    ২১শে জুন ২০১৬ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য পুনশ্চ: আজকের ২১ জুনের পত্রিকার বরাতে প্রকাশ ঝিনাইদহের পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি হত্যায় ইসলামী ছাত্র শিবির জড়িত বলে দাবী পুলিশের। গত সোমবার গাবতলি থেকে ধৃত এনামুল হক (২৪) পুরোহিত হত্যার দায় স্বীকার করে, জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন। গ্রেপ্তারকৃত এনামুল ঝিনাইদহ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী। তিনি আরো বলেন এ হত্যাকান্ডে ছাত্রশিবিরের অরো সাতজন জড়িত। একই নাটকের পুনরাবৃত্তি। সবচেয়ে বড় কথা কোন সাধারণ মুসলিমও এরকম কাজ রমজানে করবে বলে মনে হয় না। আলতাফ হোসেনরা মুসলিম সম্বন্ধে কি ধারণা রাখেন জানি না। তারা খেলতে খেলতে বেশি বিজ্ঞান করে ফেলছেন। অলক্ষ্যের বিচারকর্তাই এসবের জন্য উত্তম বিচারক।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: