Articles published in this site are copyright protected.

 

প্রসঙ্গ অনেক, এক দুইটি নয়, উপরে মোট নয়টি টপিক, সংক্ষেপে টাচ করতে চাই। মানুষ মরছে, খুন হচ্ছে বুলেটে নয়, চাপাতির কোপে, প্রাসঙ্গিক এ নাটকে শ্লোগানের বাণী ‘আল্লাহু আকবর’। একদিকে ইসলাম অন্যদিকে নাস্তিক বনাম ভিনধর্ম, সংখ্যালঘু, মুক্তমনা, সমকামী, ব্লগার, চাঁদোয়ার তলানীতে লুকানো প্রতিপক্ষ। এখানে মূলত দুটি পক্ষ এক পক্ষ ইসলাম আর বাকীরা ভিন প্রতিপক্ষ। ইসলামকে বলা হয় মহামানবের ধর্ম, সেখানে কোন নাস্তিককে বিধর্মীকে খুন করার কোন বিধান নেই। সেখানের বিধান সূত্রে যার যার মাতানুসারে ধর্ম পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিকট বা অতীতের কোন বস্তুনিষ্ট ইতিহাসও এর স্বপক্ষে কোন তথ্য বিলি করে না। যারা এসব শক্তির তলে সাজাচ্ছে তারা কর্মকালে “আল্লাহ মহান” শ্লোগান দিতে ভুল করছে না এটি প্রচারে আসছে। তার মানে ম্যাসেজ দেয়া হচ্ছে আল্লাহর দলই এসব খুণের অপকর্ম করছে। যে বা যারাই এটি সাজাক, পরোক্ষে এটি আল্লাহর উপরই দোষ চাপাচ্ছে। সরকারী পক্ষ থেকে একসুরে বলা হচ্ছে এ হত্যা করছে তারা যারা দেশকে অস্থিতিশীল, অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ, সরকারকে ব্যর্থ করতে চায়, এরা উগ্র মৌলবাদী উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী। সরকার এ যাবত বছরের পর বছর থেকেই গণতন্ত্র মুছে দিয়ে স্বৈরশাসকের ভূমিকায় নিজেরাই ব্যর্থতার পাট প্লে করে চলেছে। শক্তির দাপটে চাঁদাবাজি, হত্যা, গুম খুনসহ সন্ত্রাসী ভূমিকার কোন কমতি নেই। জঙ্গির পার্ট, পেট্রোলবোমা, লগি বৈঠা, ইয়াবা বানিজ্যসহ ভোট ছিনতাই, অস্ত্রের মহড়াতে পাড়া মহল্লার চারপাশ মুখরিত। এত করেও সরকার বা তার দলবল পরিবার কেউই জঙ্গি নয়। মিডিয়াতে ব্যবহৃত একটি জিহাদী ছবিতে দেখি আরবীতে লেখা রয়েছে আল্লাহ, রসুল ও মুহাম্মদ। সাতটি মাথা লাল কালো চেক কাপড়ের আরবী গামছা মোড়া। হাতগুলি দেখলে মনে হবে মেয়েলি হাত। যে হাত হয়তো রান্ধতেও জানে চুল বান্ধতেও জানে! যে বা যারাই এটি মিডিয়াতে ছাড়উক, কেমন জানি খটকা লাগলো তাই দিলাম। এসব ঢাকনাধারীরা কেমন করে দেশ উল্টে দিবে, যাদের মুষ্টিবদ্ধ হাতে একটু মাসলও নেই। এরা কোন মন্ত্রবলে নিজের জীবনকে বিপন্ন করছে? বিচিত্র কি হয়তো এরা কেউই মুসলিমও নয়। মূলত প্রকৃত মুসলিমরা এভাবে এটি করতে পারে না। ভিডিওতে যুক্তিরা কথা বলে। শেখ হাসিনা ও জয়ের কারণে বাংলাদেশ সারা দুনিয়াতে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিতি পায়।  

শেখ হাসিনা এবং জয়ের কারণে বিশ্বে বাংলাদেশ জঙ্গি রাষ্ট্র হিসাবে চিহ্নিত

জিহাদ জঙ্গি কথাটির অপব্যবহার রোধে মুসলিমদেরেই এগিয়ে আসতে হবে। ইতিহাসে প্রমান পাওয়া যায় মানবতাবাদি মুসলিমরা সুকর্ম করেও কপটদের থেকে নিন্দার জমা সংগ্রহ করেছে বহুবেশী। যখন প্রতিপক্ষ এর অমোঘ সত্যের মোকাবেলা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় তখন নিন্দার মহামেলা নিয়ে হাজির হয় ময়দানে, যা আজো চলছে। যবন, ম্লেচ্ছ, পাতকী, পাষন্ড, পাপাত্মা, দুরাত্মা, দুরাশা, নরাধম, নরপিশাচ, বানর, নেড়ে, দেড়ে, ধেড়ে, এঁড়ে, অজ্ঞান, অকৃতজ্ঞ এসব মুসলিমদের প্রতি ভারতবর্ষে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশ^ধর্ম দাবীদার ধর্মের মহৎ বানীতে প্রচলিত ও প্রচারিত জিহাদের অপব্যাখ্যা স্পষ্ট করা জরুরী, সময়ের দাবী। মাত্র ২০ বছরের মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর মৃত্যুর পর পরই সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, মিসর ও ইরানে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পূর্ব দিকে ব্যবসার সুবাদে ভারতের উপকুলেও মুসলিম কর্তৃক প্রথম (৬৩৬-৬৩৭ খৃঃ) হযরত ওমরের খেলাফতকালেই ভারতে প্রথম অভিযান হয়েছিল। ইতিহাসের অনবদ্য গ্রন্থ “ফাতহুল বুলদান” থেকে জানা যায় যে, খলিফা হযরত ওমরের সময় ওসমান নামের একজন ভারত সীমান্তে আগমন করেন, অতপর দেবল বা করাচিও অধিকৃত হয়।

নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর ৮০ বৎসর পর পরই আরবরা ভারতের পশ্চিম সীমান্তে সিনধু অধিকার করে। বালাজুরীর বর্ণনা মতে, উমাইয়া বংশের খলিফা আল ওয়ালিদ আফ্রিকায় ঐ সময় ইসলামের বানী পৌছান। স্পেন বিজয় হয় তারিকের নিতৃত্বে। ডঃ ঈশশরী প্রসাদের মতেও হিন্দুস্থানের প্রথম বিজয়ী তুর্কী নয়, বরং আরব জাতি। এভাবে মুসলিমদের জীবন ধারণ করে বাঁচার জন্য ছিল ব্যবসা আর মানবতার বানী ছড়িয়ে দিতে বিশ^ধর্ম ইসলাম ছিল অন্তরের সুপ্ত প্রেরণা। আল্লাহর বাণী প্রচারে জঙ্গি বা জীবন হত্যা করার কোন আবেদন, বানী, আয়োজন সেখানে ছিল না, ওসব ছিল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। ওটি প্রয়োগ করলে তারা ১০০% ব্যর্থ হতেন। মানবতার বাণীর মহামেলা দেখে তখনকার মধ্যযুগীয় অবয়বে গড়ে উঠা তথাকথিত নির্যাতীত বিশ^ নতুন ইসলাম ধর্মটি পরম আদরে লুফে নিজের মাঝে জায়গা করে দেয়। এ উদারতা মানবতা, ভাতৃত্ববোধই ইসলাম বিজয়ের মূলমন্ত্র। বলা যায় নবী মোহাম্মদের হাতে আসা এ ধর্মের বিস্তার এত দ্রুত সংগঠিত হয়। ইতিহাস প্রমাণ যার জন্ম সব নবীর শেষ প্রচারক তিনি। বর্তমানে ভুল প্রচারে জঙ্গির আদলে জিহাদের আদলে এটি প্রচারিত হয়নি বলেই এরা এত বিজয় জমা করতে পেরেছিলেন এত অল্প দিনের মাঝে। আজন্ম মুসলিমরা অনুক্ষণ জিহাদ করেছে তাদের নিজের নফসের সাথে, অসততার সাথে, মিথ্যার সাথে, ছলনার সাথে। খুন হত্যা ধর্ষন নয়, কঠিন মনোবলে সততার মানদন্ডে চলাই ছিল তাদের শ্রেষ্ঠ জিহাদ। গোটা বিশ^ আজ মূল ইসলাম থেকে বহু  দূরে মিথ্যার মাঝে বিচরণ করছে, যা ভয়াবহ মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়, যার জন্য গোটা বিশ^ আজও পথহারা। এ কৌশলে কোন দিনও মুসলিম নিধন সম্ভব হবে না, বরং এরা জাগবেই, এটি ঐশ^রিক সত্য কথা!

ভারতবর্ষে বৃটিশ ও হিন্দুদের মিলিত প্রয়াসে মূল সত্যকে পাশ কাটিয়ে বিকৃতভাবে মুসলমানকে ভিন্ন দৃষ্টিতে নকল আদলে সৃষ্টি করা হয়, যার ফলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ভুল ইতিহাস সৃষ্টির প্রমান অসংখ্য। এর ফাঁক গলিয়েও সময়ে সময়ে সত্য উন্মোচিত হয়েছে, ইতিহাস সাহিত্যে মিথ্যার সিলমোহর লেপে দেয়া হয়েছে প্রতিটি মন থেকে মননে, আজও তা চলমান আছে। ইতিহাসে মুসলিমদের পরিচিতি সুষ্পষ্ট। সংক্ষেপে “এরা অধ্যবসায়ী, কর্মক্ষম, বর্ধিষ্ণু, দেখতে এরা অবয়বে সুগঠিত ও বলিষ্ঠ, এদের ন্যায় পরিশ্রমী জাতি ভারতবর্ষে আর দ্বিতীয়টি দৃষ্ট হয় না, সাহসিকতায় প্রসিদ্ধ, আরবীয় ধর্ম মতে দীক্ষা এদের প্রধান কর্ম। এরা শ্মশ্রু (গোঁফ দাঁড়ি) ধারণ করে, কেটে ছেটে রাখে, মাথায় টুপি দেয়। স্বভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন (বিশ^কোষ ১৪:৬১৭ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)। বাংলাদেশের মুসলিমরা ঐ ধারারই উত্তরসুরি। মুসলিমকে ভিন্ন রুপ দিতে আজকাল অদ্ভুত সব কৌশলী নাটক সাজানো হচ্ছে যার অংশ হিসাবে শক্তির তলানীতে এসব করা হচ্ছে। এসব কোন প্রকৃত ধর্মধারীর কাজ নয়, এসব হচ্ছে নষ্ট কৌশলীর কাজ, যারা চায় দেশটির জনতাকে কপট স্বার্থে কোপাতে বলি দিতে।

 

ব্যংক লুটে দেশ বিপন্ন, তার চেয়েও বিপন্ন সরকার প্রধানের পুত্র জয়, যার জন্য দুই স্বনামধন্য সাংবাদিক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমান চলমান রিমান্ডে, তারাও বিপদের চূঁড়ামনিতে। শুনেছি রাজবন্দীকে সম্মানের সাথে রাখার কথা, তারা তো চোর ডাকাত নন। কিন্তু সরকার কি তা পালন করছে, মনে হয় না? ওয়াশিংটন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সম্প্রতি  বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে কিছু মন্তব্য করেন যা তার বিরুদ্ধে যায়। উল্লেখ্য সরকারের গণতন্ত্রহীনতা, সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়া, পুলিশী রাজনীতিকরণ ও বিচার ব্যবহারের নামে অপব্যবহার হচ্ছে। তাদের পরামর্শ হচ্ছে এ ক্ষেত্রে সংকট মোকাবেলাতে বিরোধী দলকে এগিয়ে আসতে হবে। অতীতে প্রমাণ পাওয়া যায় এখানের বিচারে “ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স”রেখেও ২০১০সালে মাহমুদুর রহমানকে ৭ মাসের জেল দেয়া হয়। এভাবে বিচারের আগেই বছরের পর বছর তিনি কারাভোগে আছেন বছরের পর বছর থেকে। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পরের আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের লেখা ও সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সম্পাদনাতে গত ১৩ আগষ্ট বিচারক রায়টি পাঠ করেন। আজকে ৪ মেতে দেখি ফের রিমান্ডে, অসুস্থ মাহমুদুর রহমানের শরীরে ভাংগনের ছাপ স্পষ্ট। আদালতের স্পষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও হাইকোর্টের নির্দেশণা মানা হয়নি। তিনি গুরুতর অসুস্থ, ডাক্তার তাকে পরীক্ষা করে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ আদালত ভয়ংকর স্বরুপে নেমেছে, মনে হয় পণ করেছে মরন না হওয়া পর্যন্ত দেশের মানুষকে এভাবে কষ্ট দিবে। অনেক আসামী কারাগারে নিহত হচ্ছেন এদের মৃত্যুবার্ষিকীও পালিত হচ্ছে, সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুলও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওদিকে পুলিশ বলছে অভিজিত (প্রচারে কখনো মুক্তমনা কখনো নাস্তিক) এর খুনীরা পালিয়ে গেছে বিদেশে। খুণীর পরিবার থেকে বলা হচ্ছে যারা প্রকৃত দোষী তাদের ৫ জনের ছবি ও ভিডিও ফুটেজও ছিল কিন্তু তারা গ্রেফতার হয়নি। তাদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, কিছু নির্দোষকে ধরে নাটক চলছে, যা করা হচ্ছে তা দুঃখজনক ও হাস্যকর। কোপাকোপিতে প্রায়ই সরকার দলীয়রা নিজেদের মাঝেও হামলাতে জড়িয়ে খবরের শিরোনাম হচ্ছে। কিন্তু তারা কখনোই জঙ্গি বা জিহাদের লিস্টে নেই, বরং বিরোধীরাই সব সময়ই পুলিশী হামলার এ কোটা দখল করে আছেন। বাংলাদেশের পুলিশ সাজানো লিস্ট ধরে আসামী ধরে।

সব কিছু ছাপিয়ে জয় এখন বাংলাদেশের হিরো, আসামী বয়োবৃদ্ধ সম্মানিতজনরা। একটি প্রতিবেদনে দেখি ২০০৭এর ১৭ই জুনে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত “আমাদের সময়” পত্রিকায় এই হিরোর উপর কিছু খবর এসেছিল। জয়ের নামে মাতাল হয়ে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ী চালানো, অবৈধ অস্ত্র রাখার অপরাধ, মামলা, রাডার ডিটেকশন ডিভাইসের অবৈধ ব্যবহার, এসব অপকর্মে জরিমানাসহ কারাবরণের খবর এসেছে। ১৯৯৮ সালের ১৪ জুন টেক্সাসের টারান্ট কাউন্টিতে গ্রেফতার ও উপরোক্ত অপরাধে ১২০ দিনের কারাবাস, ২৪ মাসের প্রোবেশন এবং ৫০০ ডলার জরিমানার আদেশ হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারীর ০৬, ২০০৬ ভার্জিনিয়ার হ্যানোভার কাউন্টিতে জয় গ্রেফতার হন। ঐবার একদিনের হাজতবাস ও জরিমানা হয়। তারো আগে মার্চ ১৯, ২০০০ সালে ভার্জিনিয়ার ফেয়ারপ্যাক্স কাউন্টিতে জয় গ্রেফতার হোন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ৩০ দিনের সাসপেন্ডেড কারাবাস সঙ্গে ১২ মাসের প্রোবেশন ও ৪০০ ডলার জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া এপ্রিল ২৯, ২০০১ ভার্জিনিয়া রাপাহ্যানোক কাউন্টিতে এবং মে ২০, ২০০৪ আরলিংটন কাউন্টিতে বেপোরোয়াভাবে গাড়ী চালানোর দায়ে অভিযুক্ত হন। তার মা সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই তার ব্যবসা শুরু হয়। জয়ের ব্যবসার খবর হিসাবে আসছে টেক্সাস ভিত্তিক ইনফোলিংক ইন্টারন্যাশনাল (নভেম্বর ৯৮ থেকে আগষ্ট ২০০১) এবং নোভা বিডি ইন্টারন্যাশনাল এলএলসি (মে ৯৮ থেকে আগষ্ট ২০০১)এর সঙ্গে। সমুদ্রতল দিয়ে ক্যাবল প্রজেক্টে নোভা বিডি ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল SEAMEWE – 8  এর সঙ্গেও। মাহবুব রহমান নামের একজনের সাথে জয় টাইকো কম্যুনিকেশনের (ইউএসএ) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০০৫এর মার্চে ওয়াজেদ কনসাল্টিং ও সিম গ্লোবাল সার্ভিস নামের আরো দুটো কোম্পানীর প্রতিষ্ঠা হয় তখনকার সরকারের ক্ষমতা চলে যাবার পর। এভাবে তার একাধিক বাড়ী ও বিরাট অংকের হিসাব এসেছে।

 

একই অবস্থা তার বোনের হিসাবেও পাওয়া যায়। সায়মা ওয়াজেদ হোসেন (পুতুল) এর স্বামী খন্দকার এম হোসেনও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা শুরু করেন। কয়েক বছরের মাঝে ব্যবসা গুটিয়েও ফেলেন। উল্লেখযোগ্য ব্যবসা ছিল বাংলাদেশ মেটাল এন্ড পাইপস ট্রেডিং কর্পোরেশন, সোনালী ইনকর্পোরেশন, ডগস হোলসেল ইনক, আফসানা ইনক এবং জাম্পি কর্পোরেশন। যুক্তরাষ্ট্রে পুতুল ও তার স্বামীর যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে তিনটি বিলাসবহুল বাড়ী। এসব বাড়ীর বাজার মূল্য দেড়লাখ থেকে তিনলাখ ডলার মূল্যের (নিউজবিডিসেভেনডটকমে) বিস্তারিত এসেছে। নিকট সময়ে জয় কন্সট্রাকশনের নামে দেশেও এসব ঘাপলাবাজির খবর শিরোনামে এসেছে। একই ওয়েভ এড্রেসে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিষ্টার রফিকুল হক এর বরাতে বলেন (বুধবার ০৪ মে, ২০১৬) যে, “জয়ের যে পরিমাণ টাকা আছে তা দিয়ে ২০টা পদ্মাসেতু হবে। তিনি আরো বলেন, আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সম্প্রতি সজিব ওয়াজেদ জয়ের ১০টি একাউন্টের খোঁজ পেয়েছে, সেখানে যে পরিমাণ টাকা আছে তা আমেরিকার বড় মাপের ব্যবসায়ীদেরও নেই, জয় তো আমেরিকায় কোন ব্যবসা করে না, এত টাকা এল কোথা থেকে? চারপাশের পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্যগুলি কোনটাই হেলাফেলার মত নয়। স্পষ্টভাষী দ্য নিউএজএর সম্পাদক নূরুল কবির যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, বর্তমানের হত্যাকান্ডের পেছনে সরকারের হাত রয়েছে।

ইতিমধ্যে খুন হওয়া অভিজিত ও দিপনের বাবা এর সপক্ষে র‌্যাব পুলিশে ঘেরা সরকারের অনেক বিতর্কীত অর্জনও স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা এটি প্রচারও করেছেন যে সরকারকে তারা টিকিয়ে রেখেছে। তিনি বর্তমানের সরকারকে আইয়ুব খানের সরকারের সাথে একাত্ম হওয়ার নজিরও উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন। মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল বলেছেন, সরকার এমন জুলুম শুরু করেছে যে মানুষ কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে। সরকারের পক্ষশক্তি ভারতের আনন্দবাজারও সম্প্রতি বলছে, বাংলাদেশের পুলিশের কন্ঠে রাজনৈতিক নেতার সুর। ব্যাংক লুটের এত বড় ক্ষতির পরও প্রধানমন্ত্রী বলছেন, অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে না, যেন ও কিছু না, মশার কামড়, সাধু সাংবাদিক শফিক মাহমুদুরদের কথা বলে তাদের কারাগারে নিয়ে আসল অপরাধ অপকর্মের সব লুটের ক্ষত ভুলে যাও। প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীরা প্রচার করছেন, সারাদেশে গুপ্তহত্যা খালেদাই করছেন। তবে মুখ ফসকে হলেও অজান্তে সত্য বেরিয়ে পড়াই প্রকৃত সত্যের নীতি,লক্ষ্য করুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যারা পেট্রোল বোমা ছুঁড়েছে, তারাই এসব গুপ্ত হত্যা ঘটাচ্ছে। কথাটি যদি তাই হয় তবে বিভিন্ন নিউজের বরাতে অসংখ্য প্রমাণ বর্তমান যে সরকারের ছাঁ পোষা বাহিনী প্রেট্রোল বোমা মেরে মানুষকে ঝাঝরা করেছে, যার কষ্টে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তোয়াক্কা না করেই ফুঁসে উঠেন সেদিন হাসপাতালে ভুক্তভোগী গীতা রাণী। উপজেলা নির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থীর প্রচারণায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে, সাদা পাঞ্জাবী ছবি পেছনে অস্ত্রসহ (০৪ মে, ২০১৬, আমারদেশ)। লিখিত অভিযোগে আসে দুইদিন থেকে মাইক্রোবাসে ও মোটরসাইকেলে নির্বাচনী অস্ত্রের মহড়া চলছে। তারা বলছে এসব লাইসেন্সধারী অস্ত্র, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। সরকার ও তার দলের লোকেরা এত অনিরাপদ হয়ে গেছে বাংলাদেশে, যদিও এত করেও ভোটে বাক্স ভরছে। বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটি ময়দান থেকে সম্পূর্ণ মুছে গেছে সরকারের স্বরচিত কর্মকান্ডে। বিচারকদের অপসারণ করার সংসদীয় ক্ষমতাও কবজা করতে চাচ্ছে সরকার। যার ধারাবাহিতায় ০৫ মেতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী রায় দেয় হাইকোর্ট। সরকার পক্ষ এতে ক্ষুদ্ধ, তারা আপিল করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক হুমকি দিচ্ছেন গণতন্ত্রহীনতা সহ্য করা হবে না। জানি না আইনমন্ত্রী কি গণতন্ত্রের কোন নতুন ডিজিটাল সূত্র আবিষ্কার করেছেন কি না? এভাবে সারা দেশকে মৃত্যুপুরি বানিয়ে রাজতন্ত্রের পাটাতনে দাঁড়িয়ে তারা গণতন্ত্রের অতিভৌতিক স্বপ্ন রচনা করে চলেছেন।

নারায়ণগঞ্জে এখন উসমানী সম্রাজ্যের শাসন চলছে …ডক্টর তুহিন মালিক

নাজমা মোস্তফা,  ৫ এপ্রিল ২০১৬সাল।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: