Articles published in this site are copyright protected.

উপরে বর্ণিত ব্যক্তি চারজনা, এদের দুজন বয়জৈষ্ঠ সম্পাদক কারাগারে রিমান্ডে যদিও এখনো চুরির খুনের লুটের কোন প্রমাণ নেই। উপরের সদস্যদের ঘিরে চক্রাকারে চলছে নীতি অনীতির লড়াই, সত্য আর মিথ্যার লড়াই, কর্ম আর অপকর্মের লড়াই, কেউ সুকর্ম করেও আসামী, কেউ অপকর্ম করেও ঢোলের বাড়ি বাজিমাতে মশগুল। চারজন কৃত জট জটিলতাতে কিছু কথা না বললেই নয়। দলীয় বিচারপতিদের দিয়ে নাইকোসহ শেখ হাসিনার ১৫ মামলা বাতিল

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই উপরে।

রাজনীতির শুরুতে লন্ডনে প্রয়াত  সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের সাক্ষাতে শেখ হাসিনা বক্তব্য রেখেছিলেন যে বাপের রক্তের শোধ নিতে তিনি রাজনীতি করছেন! একজন দেশনেত্রীর মুখে এমন কপট কথা উল্লেখিত হতে দেখে স্তম্ভিত সিরাজুর রহমান তৎক্ষণাৎ মাইক্রফোনের লাইনটি বন্ধ করে দেন, যাতে এটি মিডিয়াতে না যায়। অবস্থার প্রতিফলন হতে দেখে পরে এসব কথা তার জীবদ্দশাতে তিনি তার লেখনীতে প্রকাশ করেও গেছেন। সম্প্রতি কিছু পত্রিকাতে দেখলাম জয়কে হত্যা অপহরণ সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অংশে জড়িত শফিক রেহমান সব অপরাধ স্বীকার করেছেন। নেত্রীর প্রচারে, জয়ের স্ট্যাটাসে ও কিছু চিহ্নিত সাংবাদিকের কলামেও তাই আসছে। দ্বিতীয় দফাতে শফিক রেহমান রিমান্ডে। সচেতনের মনে প্রশ্ন জাগছে জয়কে মারলে কি জাতির মহাগভীর ক্ষত শুকাবে? বিডিআরের ক্ষত শুকাবে? এর সহজ জবাব হতে পারে জাতির মেধাবীরা ধারণা করছেন জয়ই জাতির এত ক্ষতির ও অধঃপাতের মূল বা একমাত্র কারণ!

ওবায়দুল কাদেরই বলছেন, এফবিআই’র তথ্য প্রমাণ করে শফিক রেহমান ষড়যন্ত্রে জড়িত যার সাথে আজকের যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত টেলিগ্রাফের মিল নেই (২১ এপ্রিল ২০১৬)। জয়কে অপহরণ ও হত্যা চক্রান্তের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। তারপরও প্রচারে আসছে তিনি আসামী। প্রধানমন্ত্রী আইন করেছেন তার পরিবার বিশেষ নিরাপত্তায় আছে। অন্যত্র বেশ আগে আওয়ামী মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ইউটিউবে এ কথাটি স্পষ্টই উল্লেখ করেছেন যে তারেকের চুরির জন্য তাদের নেত্রী এত উৎফুল্ল কিন্তু তার নিজের পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের ইনভেস্টিগেশন হয় নি কেন? সে নির্দোষ হলে ওটি করলেই সব জটিলতা স্পষ্ট হয়ে যেত। প্রশ্ন হচ্ছে এতবড় যুক্তির কথাটি কোন সময়ই তাদের মগজে কেন খেলে না? তার ছেলের বিরুদ্ধে এত পাহাড় সমান অভিযোগ একবার নয়, বার বার ওৎ পেতে আছে তিনি এর কোন বিহিত করেন না, ইন্টারপোলের চিন্তাও করেন না। প্রধানমন্ত্রী কোন সময়েই এসব জাতির জমা প্রশ্নের জবাব দেন নি। সমানেই অভিন্ন নব নব বেদবাক্য বুলি ছাড়ছেন আর সংকটে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। আতিয়ুরের চোখের জলে বিদায়, লতিফ সিদ্দিকীর সৌজন্যে কোন রাখঢাক ছাড়াই জয়ের নামে বিরাট ওজনের গরীব দেশের সম্পদ পাচার মন্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইমরান সরকারের কপট মন্তব্য, ওবায়দুল কাদের, শেখ সেলিমরা যথেষ্ট প্রকাশ করেছেন, এরা সবাই তাদের নিজেদের লোক, প্রাণের দোসর। এরা সবাই প্রধানের একমাত্র গুনধর পুত্র নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন সময়ে সময়ে ইউটিউবে, খবরে, মিডিয়াতে গোটা বিশ^ দেখেছে শুনেছে। অতীতে আদালত কর্তৃক রং হেডেড টাইটেল প্রাপ্ত হাসিনার প্রাইভেট সেক্রেটারী মতিয়ুর রহমান রেনটু দীর্ঘ ১৯বছর কাছ থেকে দেখা অসংখ্য জমার পরও নীরব থাকা অপরাধের স্বাক্ষর আমার ফাঁসি চাইবই লিখে ব্যতিক্রমী প্রমাণ রাখেন। কলামের পর কলাম লিখে স্পষ্ট করেছেন ইতিহাসের অতীত বর্তমান আশংকিত ভবিষ্যত ক্ষত, যা এক ব্যতিক্রমী মাইল ফলক হয়ে জলছে সন্দেহ নেইএ তথ্যটি দেশ বিদেশের প্রতিটি সচেতন দেশবাসীর একবাক্যে জানা!

মাহমুদুর রহমান সংক্রান্ত জয়ের ঘুষ গ্রহণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাতে প্রধানের ব্যর্থতার দাগ বহু আগে থেকেই স্পষ্ট। ওটি পুরানো গত হলেও হালকা করে দেখার অবকাশ নেই। গভর্ণর আতিউর রহমান নিজের প্রাণ বাঁচাতে কিছু সত্যকে উন্মোচন করেই দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সম্মান বাঁচাতে তিনি পদ ছেড়ে দেন, যার প্রেক্ষিতে স্বাভাবিক গতিতে প্রধাণের চোখে জল ঝরে। তার উপর সাম্প্রতিক সময়ে জয়ের নাম একবার নয়, কেন বারে বারেই অপরাধের লিস্টে আসে, সে শংকা থেকে দেশবাসীকে মুক্ত না করে কেন প্রধানমন্ত্রী তার ছেলের অপরাধকে আরো বেশী প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছেন? দেখা যায় সময়ে সময়ে এসব প্রচার করেছেন তার নিজ দলের সদস্যরাই। ওবায়দুল কাদের, মতিয়ুর রহমান রেন্টু, ইমরান সরকার, লতিফ সিদ্দিকী, এরা সবাই তার নিজ দলের মানুষ। এদের প্রশ্নের জবাব তারই দেবার কথা। যেখানে ফিলিপাইনে এত উৎকন্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিন্তু যে দেশের টাকা গেছে তাদের শুধু প্রধানমন্ত্রীর নিজের ও পুত্রের জীবনের শংকা ছাড়া আর কোন শংকায় চিন্তার বলিরেখা কপালে ফুটে উঠে না, সেটিও সময়ের বিরাট প্রশ্ন বৈকি? তার গুণধর পুত্রের হত্যা পরিকল্পনায় কিডন্যাপের প্রমাণ শুধু ফেইসবুক স্ট্যাটাসে নয়, হাসিনা ও জয় ও দালালদের প্রচারের অংশ কিন্তু দলীল সূত্রে ভিন্ন খবর আসছে। এটিও সমকালীন সময়ের বাংলাদেশের গুম হত্যা নির্বাচনের মতই আর এক গোজামিল নয় তা বলা যাবে না। সরকারের নির্বাচনী গোজামিল প্রমান ২২ এপ্রিল ২০১৬এর মানবজমিনের খবরে এসেছে জিন পেতনী ভুতের নামে ভোট দিয়ে হলেও সরকার পক্ষকে নির্বাচিত হতে হবে। যুক্তরাজ্য টেলিগ্রাফ ইউকে রিপোর্টে বলা হয়েছে জয়কে অপহরণ ও হত্যা চক্রান্তের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট (২১ এপ্রিল ২০১৬)। এতে প্রমাণিত মা ছেলে একই পাঠশালার দাগী ছাত্র। সাথে আদালতও বার বার রিমান্ড নিতে বাড়ন্ত উৎসাহী যদিও, অপহরণ বা কিলিংএর কোন সূত্র মূল মামলাতেও পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রধানও মিথ্যাচারে ঐ সুরে একহাত বাড়া। অসত দাগেভরা পুলিশ আদালত ও একটি পরিবারের কাছে কেমন করে একটি জাতি নিরাপদ থাকে!

তারা বলছে সম্প্রতি জয়কে হত্যা পরকিল্পনায় শফিক মাহমুদুরের নাম এসেছে, যেখানে বিদেশেও কোন হত্যা মামলার বা গুমের অপহরণের কোন কথাই নেই, তা সিজার ও তার বাবার মুখের বক্তব্যে শুনি ইউটিউবে। বড় কথা এটি ২০১৫ এর পুরোনো চুরি, সিজারের নামটি এসেছে, শফিক রেহমান একজন সাংবাদিক এটি জানতেই পারেন। ঠিক দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার মতই বর্তমানে তারচেয়েও বড় মাপের চুরির অপকর্ম ঢাকতে এটাকে আবার নতুন করে চাঙ্গা করা হলো! কারণ এর চেয়ে বড় চুরি এখন দোয়ারে সামাল দেবার দায় থেকেই দেশবাসী ধারণা করছে প্রধানমন্ত্রী ও তার গুণধর পুত্র গ্যালো বছরের জমাটি এনে সংকটে ঢাল হিসাবে ধরেছে বরাবরের মতই। প্রধানের গোলামীর পথে চলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছেন শফিক রেহমানকে সাংবাদিক পরিচয়ে গ্রেফতার ছিল ব্যতিক্রমী কৌশল। যে দেশের পুলিশ তার নিজ দেশের নির্দোষ মেধাবীকে বাঁচাতে কোন কৌশল ব্যবহার করতে জানে না বরং হত্যা করে, তাদের এমন ধারার কৌশলের বাহাদুরি গল্প শুনে লজ্জায় মাথা কাটা যায়! মিথ্যাচার যাদের কৌশল হয় তারা মানুষ জাতির মর্যাদা দিবে কেমন করে? যেন এ কৌশল না করলে শফিক সাহেব পালিয়ে যেতেন নয়তো সুইসাইড করতেন! সিজার নামের এক ব্যক্তি ২০১৫ তে সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন তার দোষ ছিল তিনি এফবিআইকে ঘুষ দিয়েছিলেন জয়ের কিছু অনাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে, তারপরও মা ছেলে বলছেন আমেরিকার বিচারে এরা ধরা খেয়েছেন, তাদের কাছে তথ্য এসেছে। মানবাধিকার নেত্রী তালেয়া রহমান জাতিকে জাগতে বলছেন, নয়তো সামনে অপেক্ষা করছে আরো বড় মরণ।

রিজার্ভ চুরি এখন পিছনের পলাতক আসামী, ময়দানের আসামী শফিক সাহেব এখন জয় হাসিনার সামনের জলজ্যান্ত ইস্যু। জাতি আজো জানলো না, কোটি টাকার তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের কাজটি কি? ওদিকে ফিলিপাইনের এএমএলসি পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে জানিয়ে দিয়েছে, অর্থ নিতে হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ দিতে হবে বাংলাদেশকে।  সংবাদ শুনেই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এর সুবাদে আইনজীবীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, এখন পর্যন্ত তথ্য প্রমাণ আছে তা আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য যথেষ্ট কিনা? ২২ তারিখের খবরে দেখি মামলা করার ধান্ধায় নেই সরকার, নানা কারণে মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় নাই। গরীবদের লোপাটের টাকা ফেরতের চেয়েও যাওয়া ঠিক না বেঠিক সে প্রশ্ন কেন বড় হয়? সরকার ব্যস্ত দেশবাসীর মামলা নিয়ে, রিজার্ভ লুট মামলার গুরুত্ব অল্প।  এসব শত প্রশ্নের জবাব কে দিবে! এসব কৃতকর্মের জবাবে মুমিনদের জন্য ময়দানে মোকাবেলার ডাক দিয়ে আল্লাহ বলেন, “অনুমতি দেয়া গেল তাদের জন্য যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, কেননা তারা অত্যাচারিত হয়েছে। আর অবশ্যই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে তো সক্ষম” (সুরা হজ এর ৩৯ আয়াত)। মোকাবেলার তাগিদে যুদ্ধের ডাক এভাবে ধর্মের ইতিহাসে জরুরি প্রয়োজনের জমা।

 

 নাজমা মোস্তফা, ২২ এপ্রিল ২০১৬।

বি দ্র: সবাই নিশ্চিন্ত থাকুন আজ ২৭ এপ্রিল ২০১৬ তারিখের মিডিয়াতে খবর প্রচারিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, “রিজার্ভ চুরির ঘটনায় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে না” মনে হচ্ছে এতে হতভাগা দেশের অর্থনীতি আরো নতুন গতি পাবে।

জনতার কথা ০১ ১১ ১৩(আওয়ামী লীগের একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষ কি মনে করেন?)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: