Articles published in this site are copyright protected.

ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে সময়ে সময়ে ভারতে চলে মানুষ নিধনের মহামেলা। সেটি বাংলাদেশেও আমদানী করার সে বিজ আমদানী চলছে স্বাধীনতার পর থেকে। এর চাঁদোয়ার তলানিতে ভারতে কি চলছে? তা দেখে বাংলাদেশের শেখার কি কিছুই নেই? ধর্ম নিরপেক্ষতার নাম নিয়েই তারা অন্যায় ভাবে বাবরী মসজিদ ধ্বংস করে দিতে পারে। অন্যায় হিন্দুত্ববাদের জোরসে তালিয়ার মাঝে মুসলিমের সব আবেদন চাপা পড়ে যায়।

Asaduddin Owaisi Jabardasht Speech in Hunkaar Rally of AIMIM warning_BJP_and_Congress

আজ কাল নানান ধারার ফরমাইশী ওয়াজ করতে দেখি কিছু কলামিস্ট নামধারীকেও, যেমন ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।” “পূজা যার যার উৎসব সবার।” উনারা এসব কথা বলে নিষিদ্ধ ঘোষিত হারাম মদকে হালাল করার এক অভিন্ন কসরত করে চলেছেন। ইসলাম ধর্মটি সবদিনই ধর্ম যার যার রেখেই রাষ্ট্র সবার করেছে, তাই ইসলামের যেসব বোকারা এসব বিলি করছেন বলা যায় তারা নির্দ্ধিধায় মূল ধর্মের শিক্ষা পায়নি। জানেও না, তবে ভুল তথ্যে ওয়াজের কসরতে পিছিয়ে নেই, অনেক বেশী আগুয়ান। জনতাকে বিভ্রান্ত করতে এ তাদের প্রাণান্ত প্রচেষ্ঠা ! ধর্ম নিরপেক্ষতার ভুল ব্যাখ্যা এক শ্রেণীর জনতারা বেশ দিন থেকে মানুষকে গেলানোর কসরত করে চলেছে। বাংলাদেশের সংখ্যা গরিষ্ট জনতার ধর্ম ইসলাম, বিগত শতকে ভাগ বন্টনের হেরফেরে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে দ্বন্দ্বের জন্ম লাভ করে। আর এ সুযোগে ভারত উৎফুল্ল হয়, তার চিরদিনের শত্রু পাকিস্তানকে কবজা করতে পারবে ঐ স্বপ্নে !  জোর করে ধর্ম নিরপেক্ষ অনুষঙ্গ প্রচারে ব্যস্ত হয়ে কৌশলে চাপিয়ে দেয় কিছু অবাস্তব ভাইরাস নতুন জন্ম নেয়া দেশটির ঘাড়ে ! ভাইরাসের একটি হচ্ছে জাতীয় সঙ্গিতের উদ্ভট অপ্রাসঙ্গিক অবাস্তব প্রয়োগ, যা আজো জনতাকে টিটকারী মারছে ! এটি ছিল রোগের উল্টো চিকিৎসা ! সেদিন তারা ষড়যন্ত্রীরা ভয়ে ছিল পাছে যদি বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়াতে দুই পাকিস্তানের মানে দুটি মুসলিম দেশের সৃষ্টি হয়ে যায় ! যে গান রচিত হয় মূর্তির জন্য, তা কেমন করে মূর্তিহীন মুসলিম জাতির ঘাড়ে চেপে বসল তা জাতি অবশ্যই জানতে চাইবে? ভারত তাদের নিজের জন্য পছন্দ করেছে বৃটিশ বন্দনার নামে গোলামীর একটি গান জাতীয় সঙ্গিত হিসাবে। ঐ সময় বৃটিশভক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঐ গান রচনা করেন বৃটিশরাজ পঞ্চম জর্জের উদ্দেশ্যে প্রশংসা ও স্তুতিপূর্ণ বন্দনায় সংকীর্ণ মানসিকতার ছাপ রেখে ! “জন গণ মন অধিনায়ক, জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা !” ওটি তারা তাদের জন্য নিয়েছে, তা নিতেই পারে। কিন্তু বাংলাদেশের মত একটি স্বাধীনচেতা জাতির ঘাড়ে কেন গোলামীর আদলে মূর্তির গান চাপিয়ে দেয়া ? ঐ একই লেখকের মূর্তি পূজারী গান ছাড়া কি বাংলাদেশের সীমানাতে আর কোন গান ছিল না ? “ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আাঁখি না ফেরে, তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে”। এখানের এ গান তাদের  জীবন মরণের, বাঁচা মরার প্রশ্ন জড়িত, জড়িত ঈমানের প্রশ্ন, ধর্মান্ধতা নয় !

dr. tuhin malik@ rokemeen

 

আওয়ামী লীগের চার রাষ্ট্রীয় নীতির উৎসমুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ’৭১ সালের ১০ এপ্রিল ও ১৭ এপ্রিলের ঘোষণায় যে চেতনা উল্লিখিত হয়েছিল, তা ছিল সাম্য, মানবতা ও ন্যায়পরায়ণতা। এ শাসনব্যবস্থা ইসলামি মূল্যবোধ ও মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।  কিন্তু একটি শোষক সম্প্রদায়ের জন্য এগুলো বেমানান। সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা মূলত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরোধী। পরে আরোপিত ও বৃহত্তর গণমানুষের মূল্যবোধের বিপরীত, কার্ল মার্কস, লেনিন এবং মাও সে তুংয়ের প্রবর্তিত সমাজতন্ত্র বিদায় নিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগ তার মূলনীতি থেকে পরিত্যক্ত সমাজতন্ত্রকে বাদ দিয়েছে।

এখানে একজন মুক্তিযোদ্ধার লেখা থেকে একটি প্যারা সংযোজন করছি। ৭০এর নির্বাচন অনুষ্টিত হল ৬ দফার ভিত্তিতে। এই ৬ দফার মধ্যে আওয়ামী লীগ গৃহীত ৪ রাষ্ট্রীয় মূলনীতির একটিরও উল্লেখ ছিল না। তাছাড়া নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ আরো উল্লেখ করেছিল যে, তারা ইসলাম ধর্ম বিরোধী কোন আইন কানুনও পাস করবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ ৭২ সনের জানুয়ারীতে ক্ষমতাসীন হওয়ার সাথে সাথেই ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে দেয় এবং গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ নামে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি নির্ধারণ করে, যা পরবর্তীতে ’৭২এর রাষ্ট্রীয় সংবিধানেও সন্নিবেশিত করা হয়। এই চার নীতির মূল উৎস কোথায় ? কেনই বা উক্ত চার নীতিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসাবে ঘোষনা করা হলো ? এ প্রশ্নগুলোর জবাব জনগণ আজো পায়নি। দেশের জনগণের কোনরুপ তোয়াক্কা না করেই রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব জনগণের উপর জবরদস্তিভাবেই চাপিয়ে দিল। যুদ্ধোত্তরকালে আওয়ামী লীগ চরম সংকীর্ণতার পরিচয় দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় রুপকে দলীয় রুপ প্রদানের জন্য বিভিন্নমুখী ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়। তাছাড়া আওয়ামী লীগের যুদ্ধকালীন দুর্নীতি এবং ব্যর্থতা এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে জনগণের উপর স্বৈরতান্ত্রিক নির্যাতন জনগণ থেকে আওয়ামী লীগকে বিচ্ছিন্ন করার উপসর্গ সৃষ্টি করে। ’৭২এ আওয়ামী লীগের এমন কোন বৈধ অধিকার ছিল না যাতে করে তারা দেশ ও জাতির উপর একটি মনগড়া সংবিধান আরোপ করতে পারে। তবুও তারা তা জবরদস্তি করেছে। দেশের জনগণের চিৎকার প্রতিবাদ কোন কাজেই আসেনি। এভাবেই যুদ্ধোত্তর বিধ্বস্ত বাংলাদেশের কোটি কোটি বুভুক্ষ মানুষের জন্য অন্নবস্ত্রের পূর্বেই রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এসে মাথায় চেপে বসে। এই মূলনীতি আরোপ করার মধ্য দিয়ে দিল্লীর কর্তারা তাদের মূল লক্ষ্যই স্থির রেখেছে কেবল। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধর্মহীনতারই লেবাস মাত্র ইসলামের বিরুদ্ধে একটি সুকৌশল ঠান্ডা যুদ্ধ।(অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা, মেজর (অবঃ) এম জলিল,  পৃষ্ঠা ৬৮৮০ )। তিনি আরো বলেন, মুসলিম প্রধান বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতার প্রকৃত রুপ হতে হবে সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, বর্ণবৈষম্যবাদ, রাজতন্ত্র এবং স্বৈরতন্ত্রমুক্ত ইসলাম। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মানুষের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ ছিল। ধর্মযুদ্ধ ছিল না। সুতরাং যুদ্ধোত্তরকালে ধর্মের প্রতি উষ্মা কিম্বা কটাক্ষ করার কোন যুক্তিই নেই, থাকতে পারে না। তবুও রয়েছে কেন? 

ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট ভাষাতে প্রত্যেক্যের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বকীয় স্বাধীনতার কথা থাকলেও মুসলিমরা বলি হয় কারণে অকারণে। গরুর মাংস না খেলেও বলি, শুধু মিথ্যে গরু এবং মাংস এ দুটি শব্দের আওয়াজ ছড়িয়ে দিতে হবে ! সংখ্যালঘুরা সে দেশে সংখ্যাগুরুর কাছে গরুরও অধম !  বিজেপির নেতা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদ অধিবেশনেই এটি স্পষ্ট করেন যে, ১৯৭৬ সালে ভারত সরকার তাদের নিজেদের সংবিধানে ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা সমাজতন্ত্র যোগ করে ! কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী তার ষড়যন্ত্রের জটিলতা বিস্তার করে বহু আগেই বাংলাদেশের ঘাড়ে এটি চাপিয়ে দেন ৭১ যুদ্ধের নামে ভারতীয় সৈন্য পাঠানোর মতই। তাই ভারতেরও বেশ কয় বছর আগেই, স্বাধীনতার নিকট সময়ে ওষধি বটিকা প্রয়োগ করা হয় বাংলাদেশের জনতার অগোচরে ও অমতে ! অতঃপর ঐ সময়ের মুজিবী ধমক না পাওয়াতে সৈন্য সরলেও ঐটি শক্ত মাপে জাতির ঘাড়ে চেপে বসে ! সম্ভবত আল্লাহর সম্মানে ধর্মের মর্যাদা রক্ষার্থে চেপে বসা ভুতকে বাংলাদেশীকেই ভুত তাড়ানোর মতই তাড়িয়ে দিতে হবে !

নাজমা মোস্তফা,  ১লা এপ্রিল ২০১৬।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: