Articles published in this site are copyright protected.

Archive for April, 2016

দুজন সম্পাদক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মা হাসিনা ও তার চমক পুত্র জয়

উপরে বর্ণিত ব্যক্তি চারজনা, এদের দুজন বয়জৈষ্ঠ সম্পাদক কারাগারে রিমান্ডে যদিও এখনো চুরির খুনের লুটের কোন প্রমাণ নেই। উপরের সদস্যদের ঘিরে চক্রাকারে চলছে নীতি অনীতির লড়াই, সত্য আর মিথ্যার লড়াই, কর্ম আর অপকর্মের লড়াই, কেউ সুকর্ম করেও আসামী, কেউ অপকর্ম করেও ঢোলের বাড়ি বাজিমাতে মশগুল। চারজন কৃত জট জটিলতাতে কিছু কথা না বললেই নয়। দলীয় বিচারপতিদের দিয়ে নাইকোসহ শেখ হাসিনার ১৫ মামলা বাতিল

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই উপরে।

রাজনীতির শুরুতে লন্ডনে প্রয়াত  সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের সাক্ষাতে শেখ হাসিনা বক্তব্য রেখেছিলেন যে বাপের রক্তের শোধ নিতে তিনি রাজনীতি করছেন! একজন দেশনেত্রীর মুখে এমন কপট কথা উল্লেখিত হতে দেখে স্তম্ভিত সিরাজুর রহমান তৎক্ষণাৎ মাইক্রফোনের লাইনটি বন্ধ করে দেন, যাতে এটি মিডিয়াতে না যায়। অবস্থার প্রতিফলন হতে দেখে পরে এসব কথা তার জীবদ্দশাতে তিনি তার লেখনীতে প্রকাশ করেও গেছেন। সম্প্রতি কিছু পত্রিকাতে দেখলাম জয়কে হত্যা অপহরণ সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অংশে জড়িত শফিক রেহমান সব অপরাধ স্বীকার করেছেন। নেত্রীর প্রচারে, জয়ের স্ট্যাটাসে ও কিছু চিহ্নিত সাংবাদিকের কলামেও তাই আসছে। দ্বিতীয় দফাতে শফিক রেহমান রিমান্ডে। সচেতনের মনে প্রশ্ন জাগছে জয়কে মারলে কি জাতির মহাগভীর ক্ষত শুকাবে? বিডিআরের ক্ষত শুকাবে? এর সহজ জবাব হতে পারে জাতির মেধাবীরা ধারণা করছেন জয়ই জাতির এত ক্ষতির ও অধঃপাতের মূল বা একমাত্র কারণ!

ওবায়দুল কাদেরই বলছেন, এফবিআই’র তথ্য প্রমাণ করে শফিক রেহমান ষড়যন্ত্রে জড়িত যার সাথে আজকের যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত টেলিগ্রাফের মিল নেই (২১ এপ্রিল ২০১৬)। জয়কে অপহরণ ও হত্যা চক্রান্তের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। তারপরও প্রচারে আসছে তিনি আসামী। প্রধানমন্ত্রী আইন করেছেন তার পরিবার বিশেষ নিরাপত্তায় আছে। অন্যত্র বেশ আগে আওয়ামী মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ইউটিউবে এ কথাটি স্পষ্টই উল্লেখ করেছেন যে তারেকের চুরির জন্য তাদের নেত্রী এত উৎফুল্ল কিন্তু তার নিজের পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের ইনভেস্টিগেশন হয় নি কেন? সে নির্দোষ হলে ওটি করলেই সব জটিলতা স্পষ্ট হয়ে যেত। প্রশ্ন হচ্ছে এতবড় যুক্তির কথাটি কোন সময়ই তাদের মগজে কেন খেলে না? তার ছেলের বিরুদ্ধে এত পাহাড় সমান অভিযোগ একবার নয়, বার বার ওৎ পেতে আছে তিনি এর কোন বিহিত করেন না, ইন্টারপোলের চিন্তাও করেন না। প্রধানমন্ত্রী কোন সময়েই এসব জাতির জমা প্রশ্নের জবাব দেন নি। সমানেই অভিন্ন নব নব বেদবাক্য বুলি ছাড়ছেন আর সংকটে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। আতিয়ুরের চোখের জলে বিদায়, লতিফ সিদ্দিকীর সৌজন্যে কোন রাখঢাক ছাড়াই জয়ের নামে বিরাট ওজনের গরীব দেশের সম্পদ পাচার মন্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইমরান সরকারের কপট মন্তব্য, ওবায়দুল কাদের, শেখ সেলিমরা যথেষ্ট প্রকাশ করেছেন, এরা সবাই তাদের নিজেদের লোক, প্রাণের দোসর। এরা সবাই প্রধানের একমাত্র গুনধর পুত্র নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন সময়ে সময়ে ইউটিউবে, খবরে, মিডিয়াতে গোটা বিশ^ দেখেছে শুনেছে। অতীতে আদালত কর্তৃক রং হেডেড টাইটেল প্রাপ্ত হাসিনার প্রাইভেট সেক্রেটারী মতিয়ুর রহমান রেনটু দীর্ঘ ১৯বছর কাছ থেকে দেখা অসংখ্য জমার পরও নীরব থাকা অপরাধের স্বাক্ষর আমার ফাঁসি চাইবই লিখে ব্যতিক্রমী প্রমাণ রাখেন। কলামের পর কলাম লিখে স্পষ্ট করেছেন ইতিহাসের অতীত বর্তমান আশংকিত ভবিষ্যত ক্ষত, যা এক ব্যতিক্রমী মাইল ফলক হয়ে জলছে সন্দেহ নেইএ তথ্যটি দেশ বিদেশের প্রতিটি সচেতন দেশবাসীর একবাক্যে জানা!

মাহমুদুর রহমান সংক্রান্ত জয়ের ঘুষ গ্রহণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাতে প্রধানের ব্যর্থতার দাগ বহু আগে থেকেই স্পষ্ট। ওটি পুরানো গত হলেও হালকা করে দেখার অবকাশ নেই। গভর্ণর আতিউর রহমান নিজের প্রাণ বাঁচাতে কিছু সত্যকে উন্মোচন করেই দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সম্মান বাঁচাতে তিনি পদ ছেড়ে দেন, যার প্রেক্ষিতে স্বাভাবিক গতিতে প্রধাণের চোখে জল ঝরে। তার উপর সাম্প্রতিক সময়ে জয়ের নাম একবার নয়, কেন বারে বারেই অপরাধের লিস্টে আসে, সে শংকা থেকে দেশবাসীকে মুক্ত না করে কেন প্রধানমন্ত্রী তার ছেলের অপরাধকে আরো বেশী প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছেন? দেখা যায় সময়ে সময়ে এসব প্রচার করেছেন তার নিজ দলের সদস্যরাই। ওবায়দুল কাদের, মতিয়ুর রহমান রেন্টু, ইমরান সরকার, লতিফ সিদ্দিকী, এরা সবাই তার নিজ দলের মানুষ। এদের প্রশ্নের জবাব তারই দেবার কথা। যেখানে ফিলিপাইনে এত উৎকন্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিন্তু যে দেশের টাকা গেছে তাদের শুধু প্রধানমন্ত্রীর নিজের ও পুত্রের জীবনের শংকা ছাড়া আর কোন শংকায় চিন্তার বলিরেখা কপালে ফুটে উঠে না, সেটিও সময়ের বিরাট প্রশ্ন বৈকি? তার গুণধর পুত্রের হত্যা পরিকল্পনায় কিডন্যাপের প্রমাণ শুধু ফেইসবুক স্ট্যাটাসে নয়, হাসিনা ও জয় ও দালালদের প্রচারের অংশ কিন্তু দলীল সূত্রে ভিন্ন খবর আসছে। এটিও সমকালীন সময়ের বাংলাদেশের গুম হত্যা নির্বাচনের মতই আর এক গোজামিল নয় তা বলা যাবে না। সরকারের নির্বাচনী গোজামিল প্রমান ২২ এপ্রিল ২০১৬এর মানবজমিনের খবরে এসেছে জিন পেতনী ভুতের নামে ভোট দিয়ে হলেও সরকার পক্ষকে নির্বাচিত হতে হবে। যুক্তরাজ্য টেলিগ্রাফ ইউকে রিপোর্টে বলা হয়েছে জয়কে অপহরণ ও হত্যা চক্রান্তের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট (২১ এপ্রিল ২০১৬)। এতে প্রমাণিত মা ছেলে একই পাঠশালার দাগী ছাত্র। সাথে আদালতও বার বার রিমান্ড নিতে বাড়ন্ত উৎসাহী যদিও, অপহরণ বা কিলিংএর কোন সূত্র মূল মামলাতেও পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রধানও মিথ্যাচারে ঐ সুরে একহাত বাড়া। অসত দাগেভরা পুলিশ আদালত ও একটি পরিবারের কাছে কেমন করে একটি জাতি নিরাপদ থাকে!

তারা বলছে সম্প্রতি জয়কে হত্যা পরকিল্পনায় শফিক মাহমুদুরের নাম এসেছে, যেখানে বিদেশেও কোন হত্যা মামলার বা গুমের অপহরণের কোন কথাই নেই, তা সিজার ও তার বাবার মুখের বক্তব্যে শুনি ইউটিউবে। বড় কথা এটি ২০১৫ এর পুরোনো চুরি, সিজারের নামটি এসেছে, শফিক রেহমান একজন সাংবাদিক এটি জানতেই পারেন। ঠিক দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার মতই বর্তমানে তারচেয়েও বড় মাপের চুরির অপকর্ম ঢাকতে এটাকে আবার নতুন করে চাঙ্গা করা হলো! কারণ এর চেয়ে বড় চুরি এখন দোয়ারে সামাল দেবার দায় থেকেই দেশবাসী ধারণা করছে প্রধানমন্ত্রী ও তার গুণধর পুত্র গ্যালো বছরের জমাটি এনে সংকটে ঢাল হিসাবে ধরেছে বরাবরের মতই। প্রধানের গোলামীর পথে চলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছেন শফিক রেহমানকে সাংবাদিক পরিচয়ে গ্রেফতার ছিল ব্যতিক্রমী কৌশল। যে দেশের পুলিশ তার নিজ দেশের নির্দোষ মেধাবীকে বাঁচাতে কোন কৌশল ব্যবহার করতে জানে না বরং হত্যা করে, তাদের এমন ধারার কৌশলের বাহাদুরি গল্প শুনে লজ্জায় মাথা কাটা যায়! মিথ্যাচার যাদের কৌশল হয় তারা মানুষ জাতির মর্যাদা দিবে কেমন করে? যেন এ কৌশল না করলে শফিক সাহেব পালিয়ে যেতেন নয়তো সুইসাইড করতেন! সিজার নামের এক ব্যক্তি ২০১৫ তে সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন তার দোষ ছিল তিনি এফবিআইকে ঘুষ দিয়েছিলেন জয়ের কিছু অনাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে, তারপরও মা ছেলে বলছেন আমেরিকার বিচারে এরা ধরা খেয়েছেন, তাদের কাছে তথ্য এসেছে। মানবাধিকার নেত্রী তালেয়া রহমান জাতিকে জাগতে বলছেন, নয়তো সামনে অপেক্ষা করছে আরো বড় মরণ।

রিজার্ভ চুরি এখন পিছনের পলাতক আসামী, ময়দানের আসামী শফিক সাহেব এখন জয় হাসিনার সামনের জলজ্যান্ত ইস্যু। জাতি আজো জানলো না, কোটি টাকার তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের কাজটি কি? ওদিকে ফিলিপাইনের এএমএলসি পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে জানিয়ে দিয়েছে, অর্থ নিতে হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ দিতে হবে বাংলাদেশকে।  সংবাদ শুনেই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এর সুবাদে আইনজীবীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, এখন পর্যন্ত তথ্য প্রমাণ আছে তা আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য যথেষ্ট কিনা? ২২ তারিখের খবরে দেখি মামলা করার ধান্ধায় নেই সরকার, নানা কারণে মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় নাই। গরীবদের লোপাটের টাকা ফেরতের চেয়েও যাওয়া ঠিক না বেঠিক সে প্রশ্ন কেন বড় হয়? সরকার ব্যস্ত দেশবাসীর মামলা নিয়ে, রিজার্ভ লুট মামলার গুরুত্ব অল্প।  এসব শত প্রশ্নের জবাব কে দিবে! এসব কৃতকর্মের জবাবে মুমিনদের জন্য ময়দানে মোকাবেলার ডাক দিয়ে আল্লাহ বলেন, “অনুমতি দেয়া গেল তাদের জন্য যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, কেননা তারা অত্যাচারিত হয়েছে। আর অবশ্যই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে তো সক্ষম” (সুরা হজ এর ৩৯ আয়াত)। মোকাবেলার তাগিদে যুদ্ধের ডাক এভাবে ধর্মের ইতিহাসে জরুরি প্রয়োজনের জমা।

 

 নাজমা মোস্তফা, ২২ এপ্রিল ২০১৬।

বি দ্র: সবাই নিশ্চিন্ত থাকুন আজ ২৭ এপ্রিল ২০১৬ তারিখের মিডিয়াতে খবর প্রচারিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, “রিজার্ভ চুরির ঘটনায় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে না” মনে হচ্ছে এতে হতভাগা দেশের অর্থনীতি আরো নতুন গতি পাবে।

জনতার কথা ০১ ১১ ১৩(আওয়ামী লীগের একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষ কি মনে করেন?)

Advertisements

পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার।

এ প্যারাটি ১২ এপ্রিল ২০১৭ সালের সংযোজন: মঙ্গল শোভাযাত্রার তর্কযুদ্ধে হাসিনা বলছেন মঙ্গলবার ও কি তাহলে হিন্দু বার? জবাবে বলছি শুধু মঙ্গলবার কেন, বৃহস্পতিবারও দেবতার নামে নাম, তবে গবেষনাতে অনেক সত্য উন্মোচিত হচ্ছে; বেদের রচয়িতা হচ্ছেন অঙ্গিরার পুত্র বৃহষ্পতি। উল্লেখ্য উক্ত অঙ্গিরা নবী ব্রহ্মার পুত্র (ব্রহ্মা মানে নবী ইব্রাহিম (ABRAHAM = BRAHAM+A) দুর্গা পূজা-Braham+a এর উৎপত্তি। লিংকটি দেখতে পারেন । আকবরের সৃষ্ট বাংলা সনে হিন্দু আধিক্য থাকা খুব স্বাভাবিক। তার স্বরচিত ধর্ম দীন-ই-এলাহী ধর্মটি হিন্দু ধর্মের একটি ভিন্নতর সংস্করণ ছাড়া আর কিছু ছিল না। দেব দেবীর নাম অনুসারেই মঙ্গল দেবতার নামানুসারে ঐ নামও এসেছে সপ্তাহের এক বার হয়ে। অজয় রায় সহ আসাদুজ্জামান নূর হাসিনা কেউই ধর্মের গোড়াতে না গিয়েই নিজেদের মনমত ফতোয়া দিয়ে বেড়াচ্ছেন। সবাই ফতোয়া বিলি করতে ওস্তাদ। এককালের অগ্নি উপাসক ইরানীদের নওরোজ উৎসব এনে ঢাল হিসাবে আনতে চাইছেন। ইতিহাসের জমায় প্রকাশ আকবরও এককালে শিয়ার অতিরিক্ত মাহদি ঘটিত ভবিষ্যত আগমনীর স্বপ্ন থেকেই নিজেকে ঐ পদের একজন ধরে নিয়ে নতুন দীন এ এলাহী ধর্মটির দিকে পা বাড়ান। কিন্তু এর মাঝে ঐশী নির্দেশ না থাকার কারণে নকল মাহদী আকবরের প্রচেষ্ঠা অঙ্কুরেই শেষ হয়। ধর্মটি না জেনেই যারা ধর্মের মস্তানী করছেন তারা ও থেকে বিরত হলেই ভালো। মুসলিমদের উপর নবীর স্পষ্ট নির্দেশ ও সাবধান বাণী হচ্ছে কখনোই যেন অন্য ধর্মের অনুকরণ করা না হয়। ঐ সময় মদীনাতে দুটি উৎসব পালিত হতো, নবী মুসলিমদের জন্যও দুটি উৎসব নির্ধারিত করে দেন, ঈদুউল ফিতর ও ঈদউল আজহা। ধর্মে কোন সংযোজন তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। এর প্রধান কারণ সমাজে প্রচলিত অন্য ধর্মের অর্জন ছিল এত বিতর্কীত ও প্রশ্নবিদ্ধ যে ওর সংস্পর্শে আসলে সত্য ধর্ম বিপন্ন, বিনষ্ট হতে বাধ্য। এ নীতি একদিনের জন্য ছিল না এটি চিরকালের জন্যই তিনি নির্ধারিত করে যান। তারপরও নানা অনাচার এখানে এসে জমা হয়েছে, শবেবরাত পড়শির ময়দান থেকে আগত এরকম একটি অনুষ্ঠান যার কোন ধর্মীয় ভিত্তি নেই। এরপর মঙ্গলশোভা যাত্রা নামে আর একটি অনাচার আজকের প্রজন্মকে উদবুদ্ধ করছে সরকার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা, এরা ধর্মটি সঠিকভাবে জানে না বলেই এ কাজে অগ্রসর হচ্ছে। সনাতন ধর্মের নামে হিন্দুরাই মুসলিমদের সব ম্লেচ্ছ অচ্ছুৎ নবী রসুলদেরে সামান্য নামে ওদল বদ করে তাদের মন্দিরে গোবর চোনা দিয়ে পরিশুদ্ধ করে নিয়েছে।

বাংলাদেশের মুসলিমরা কোন কোন বিষয়ে কিভাবে ক্রমে ক্রমে মূল সত্য থেকে সরছে, তার নিদর্শণ বহু। বিশেষ করে দেশ থেকে বের হয়ে বিদেশে এসে ধর্ম শিখেছে এর উদাহরণ শত শত। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান যা দলিলে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত স্পষ্ট নীতিমালার কারণে এতে যোগ বা বিয়োগের সুযোগ নেই বলাই বাহুল্য। কিন্তু তার পরও অজ্ঞ মানুষ ধর্মের মূলে না গিয়ে ভুলের মাঝে জড়িয়ে গেছে শুরু থেকেই। ঐ ভুল থেকে বের হয়ে মূল সত্যে আত্মসমর্পন করাও সময়ের দাবী। ভুল করেছে বলে তার আর শোধরানোর সুযোগ নেই তা বলা যাবে না। শবেবরাত এরকম একটি অনাচারের নাম যা ধর্মের নামে সমাজে চালু হয়ে গেছে। ওটিও হয়েছে হিন্দুদের পূজা অর্চনার ফাঁক গলিয়ে। হয়তো কোন ধর্মান্তরিত হিন্দুই ওটি মহাআনন্দে ঢুকিয়ে দিতে পারেন কারণ মূল ইসলামে এ ধারার কোন বিধান চালু নেই। ইসলামে কোন শনি মঙ্গল বার বা দিন, ক্ষণ, তারিখ সপ্তাহ নেই যে এটি খারাপ বা ভালো, সব দিনই সমান, এর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ নিজে।

 

তবে কুরআনে মাত্র একটি রাত আছে মহিমান্বিত রাত আর সেটি শবে কদরের রাত, সেদিন প্রথম কুরআন নাজেল হয়েছে এবং তাকে হাজার মাসেরও অধিক মর্যাদাবান বলা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামে আর কোন রাত দিনের বাড়তি হিসাব নেই। অতঃপর ক্রমে ক্রমে এ ছোঁয়ারোগের শিকারে উপমহাদেশের মুসলিমরা ‘শবেবরাত’ নামের এক বরাত বন্টনের বাড়তি সংযোজন ঘটিয়েছেন, ধারণা হয় পাশর্^বর্তী সমাজের ছাপ এতে স্পষ্ট। আমার এক গুরুজনের মুখে শুনেছিলাম তিনি বলতেন হিন্দুদের একটি পূজা আছে কোজাগরি লক্ষী পূজা। এ দিন তারা রাতেও নানান অপকর্ম করতো, চুরি তার একটি সহজাত অংশ ছিল এর কলাটা ওর মূলাটা তারা চুরি করতো। দেখা যায় সময়ে সময়ে ধর্ম পালনের অংশ হিসাবে এমন অনেক অপকর্ম সে ধর্মের অঙ্গনে মহা উৎসাহে পালিত হত।  আবার বলা হত সে রাত দেবতা উর্ধ্বাকাশ থেকে নিচআকাশে নেমে আসেন এবং বড় করে হাক ছাড়েন, কে কে জাগতি বলে। তখন যারা জেগে থাকেন তারা বড় বর পান, এ হচ্ছে কোজাগরি লক্ষিপূজার মূল বানী, স্বরুপ।

রমজানের ১৫দিন আগে ঠিক অনুরুপ একটি আচার এসে শবেবরাতের নামে সংযোজিত হয়ে যায় পাকভারতের মুসলিমদের জীবনে, যার কোন অস্তিত্ব মূল গ্রন্থ কুরআনে নেই। স্পষ্ট বলা যায় এরকম সংযোজন ধর্ম নয়, বরং বিদআত। এবার প্রশ্ন হচ্ছে বিদআত কি? বিদআত এমন একটি জিনিস যা ধর্মে নেই কিন্তু ধর্মের নামে ময়দানে এসে ঢুকে গেছে। মূলের বাইরে কোন মুসলিম কোন কিছু সংযোজন বিয়োজন করতে পারেন না, ধর্মের নিষেধ। কুরআনে বলা হয়েছে নবীর জীবদ্দশাতেই ধর্মটি পরিপূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। এখানে সংযোজন বিয়োজন করা হারাম কাজের একটি এবং যারা এসব করবে স্পষ্ট স্বচ্ছ হাদিস হচ্ছে এটি তাদেরে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তার মানে যারা ঐ শবেবরাতও পালন করবেন তারা জাহান্নামে যাবেন। এখন কথা হচ্ছে অনেকে না জেনে এটি করেছে, তবে জানার পর এসব মিথ্যা সংযোজন থেকে শত হাত দূরে থাকা উচিত। মানুষ একটু একটু করেই ধ্বসের দিকে আগায়, নষ্টের দিকে ধাবিত হয়। পয়লা বৈশাখে কেন ভাতা দেয়ার দরকার পড়লো? এ ভাতা কেন আংশিকের জন্য বরাদ্দ, কেন সারা জাতি পায় না? সরকার এত স্বচ্ছল হলে তাই করা উচিত, শুধু সরকারী কর্মচারী কেন, গোটা জাতির জন্য দরজা খুলে দেয়া হোক। এসব বাহুল্য আস্ফালন বলেই মনে হচ্ছে। হয়তো এটি করা হয়েছে যাতে এটি শক্ত ভিত্তি পেয়ে মূমুর্ষ দশা থেকে এ অবয়ব নিয়ে বেঁচে থাকে। এসবই শিকড়শুদ্ধ জাতি ধ্বংসের নানান অঙ্গভঙ্গি মাত্র। বৈশাখে সংখ্যালঘু হিন্দুরা ঘটপূজা, গনেশপূজা, সিদ্ধেশ^রী পূজা, ঘোড়ামেলা, চৈত্রসংক্রান্তি পূজা অর্চনা, চড়কপূজা বা নীল পূজা বা শিবপূজা, গম্ভীরা পূজা, কুমীরের পূজা, অগ্নিনৃত্য, উল্কিপূজা, বউমেলা, মঙ্গলযাত্রা, সূর্যপূজা, ত্রিপুরাদের বৈশুখ, মারমাদের সাংগ্রাই ও পানিউৎসব, চাকমাদের বিজু উৎসব, (তিনদলের সম্মলিত নাম বৈসাবি) (দেড় ডজন পূজা পার্বন), + অগ্নি উপাসকরা নওরোজ পালন করে থাকেন।

জাটকা নিধনের পক্ষে সরকারের উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তারা দেড়মন ওজনের ইলিশ দিয়ে ভুড়ি ভোজন করে প্রমাণ রাখলেন তারা দেশের ভালোর চেয়েও ধ্বংসের মৃদঙ্গই বেশী বাজাতে চান। প্রধানমন্ত্রী বলছেন বৈশাখী উদযাপনে ধর্মীয় বিধিনিষেধ নেই। অনেক সময় তিনি দুর্গাদেবীর পক্ষেও যুক্তি দেখিয়েছেন, যা দেশবাসীর কাছে ঈমানী সংকটের ইশারা বলেই মনে হয়েছে। কারণ অনেকে মনে করেন প্রধান যখন বলছেন তখন কি না জেনেই বলছেন। চাটুকার এক মন্ত্রী ইনু ফতোয়া দিয়েছেন, বৈশাখী পালন করা ঈমানের অংশ, জাতি ধ্বসের বড় নমুনা এসব। কিন্তু দেখা যায় এরা রাজনীতির শত অপরাধের আড়ালে ধর্ম নিয়েও এসব বলে ধর্মকে বিতর্কীত অবস্থানে ছুড়ে দিচ্ছেন। ইসলাম কুসংস্কারমুক্ত স্বাধীন একটি ধর্ম। এখানে সকল সুএর সমর্থণ একশত ভাগ আর সকল কুএর প্রতিরোধও একশতভাগ, এটিই ইসলামের নীতি। এখানে শনি মঙ্গলবারে যাত্রা যেমনি নাস্তি হয়না, ঠিক তেমনি কোন ছিঁটেফোটা অনাচার ব্যভিচার, খুন, ধর্ষণ, চুরি, জোচচুরি, সমর্থণীয় নয়, যা এসব উদযাপনের নামে নতুনভাবে সংযোজন করা হচ্ছে। বিগত সময়ে এদিনে সবার দৃষ্টির আড়ালে সমকামীদের রংধনুময় র‌্যালিও প্রচারিত হয়েছে এনজিওর ছত্রচ্ছায়ায়। মিডিয়া এসব দেখে না দেখার ভান করে থাকে বা তাদেরে থাকতে বাধ্য করা হয়। মুসলিম প্রধান জনতার একটি দেশে এসব কিসের আলামত? দেখা যায় এবারও সমকামীরা আয়োজন নিয়ে আসে রাজধানীর শাহবাগে, চারজন আটক হয়েছে (১৪ এপ্রিল ২০১৬)। এনজিওর ছত্রচ্ছায়ায় নববর্ষকে উপলক্ষ করে এবারো মিছিলের সাজ পুলিশের বাধায় পন্ড হলেও তাদের নাম প্রকাশিত হয়নি। জানি না পুলিশ ভবিষ্যতে তা প্রকাশ করবে কিনা? ক্রমাগত মার খাওয়া ৯০% – ৯৫% অধ্যুষিত মুসলিম দেশকে সমকামীরা কোন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়! মধ্যযুগকে চ্যালেঞ্জ করা সুলতানা কামালরা এসব প্রশ্নের জবাব দিবেন কি? বৈশাখের ছুটির অবদান স্বৈরাচার এরশাদের। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পালনও এরশাদের। মঙ্গলশোভাযাত্রার শুরু ১৯৮৯ থেকে। এতে দেখা যায় এসব আমদানী প্রধানত পৌত্তলিক কালচারের বাহূল্যে ভরপুর। নব নব আস্ফালনে মূল হালখাতার অস্তিত্ব বিলুপ্তির শেষ ধাপে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ইসলাম শিখতে হবে না পার্থ

 

অপর দিকে সার্বজনিন বলতে সব ধর্মের ব্যবসায়ীরাহালখাতাপালন করতো বছরের শুরুতে, এটি ছিল সমাজের দায় থেকে সৃষ্ট একটি সামাজিক বাস্তবতা। হালখাতার মিষ্টি আমরাও ছোটবেলায় খেয়েছি আজো মনে পড়ে, তবে সেদিন কোন রংখেলা দেখিনি। পঞ্চগড় প্রতিনিধির বরাতে প্রকাশ করতোয়া নদীতে রং খেলার পর নদীতে ডুবে শিক্ষার্থী সুমির মৃত্যু। এটি পয়লা বৈশাখের খেলারামের বদান্যতা! বার বার দেখা যাচ্ছে বৈশাখ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পূজার পোয়াবারো মাস। ঐ রংখেলা তাদের পূজোর অংশ মাত্র। ঢাকা মহানগরের পুলিশের (ডিএমপি)র নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে উন্মুক্ত স্থানে বৈশাখী পালনের ঘোষনা দিয়েছেন সুলতানা কামালগংরা (১২ এপ্রিল, ২০১৬)। তিনি একে মধ্যযুগীয় চিন্তা বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। মধ্যযুগ বলতে পঞ্চম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীকে মনে করা হয়। ইতিহাসে প্রমাণ ঐ সময় বিশ^ অন্ধকারে ছেয়ে যায়। অতঃপর সপ্তম শতাব্দীতে এমন এক আলোর বিস্ফোরণ ঘটে যার জের হিসাবে জাগরণের যুগ শুরু হয়ে যায় এর প্রমাণও ইতিহাস। রেঁনেসার মূল বাহক শক্তি মুসলিমরা। যে মুসলিম কালচারকে আজ সুলতানা কামালরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। উক্ত সম্মেলনের ছবিতে পাঁচজন সদস্যকে দেখা যায়। তারা হচ্ছেন শ্রমিক নেতা ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ফারাহ কবির, সেলিনা আহম্মেদ, জাহানারা নূরী, ও সুলতানা কামাল সম্ভবত সুলতানা চক্রবর্তী? টাইটেলে চক্রবর্তী অনেকের মন্তব্যে দেখলাম। এরা কাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেটিও প্রশ্নের জমা বাড়ায়। নাম দেখে মনে হচ্ছে এখানের কোন মহিলাই হিন্দু নন, কিন্তু ভিন্ন সংস্কৃতির তিলক কপালে ধারণ করে এরা কাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেটিও বিবেচনার দাবী রাখে।

এটি এমন একটি সময় যখন সারা জাতি স্বাধী

nirapottaedনতা ও সার্বেভৌমত্বের হুমকির মুখে মুমূর্ষু সময় পার করছে। কাল এক বোনের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, সম্প্রতি তার ভাই দেশ থেকে ফিরেছেন। তিনি বলেছেন দেশে বর্তমানে মানুষের সামনে মাত্র দুটি পথ আছে। এক উপায় হচ্ছে তাদের আওয়ামী লীগ করতে হবে আর দ্বিতীয় পথটি হচ্ছে ওটি করতে না পারলে তাকে মরে যেতে হবে। এ হচ্ছে ২০১৬এর বাংলাদেশ! দেশ বিধ্বংসী কাজের মহামেলা, উন্নয়নের নামে রিজার্ভ লোটপাটের সূবর্ণজয়ন্তি, লোপাটের দেশে শক্তির ছায়াতলে বিডিআর বিদ্রোহের নামে নিজ পায়ে কুড়াল মারার মহামেলায় মেধা নিধনে জাতি ধ্বংসের প্রয়াস, পাঠ্যবইএ হিন্দুকরণ, মুসলমানিত্ব মুছে দেয়ার প্রাণান্তর প্রচেষ্ঠা একের পর এক চলছেই জোর কদমে। এ সপ্তাহের রিপোর্টে প্রকাশ আওয়ামীলীগের ইট ভাটা থেকে শিশুসহ ১৩ মানুষ আকৃতির শ্রমিক উদ্ধার। এদের প্রায় অভুক্ত রেখে বিনা পয়সাতে কাজ বাগিয়ে নেয়া শক্তিমানের এ ব্যতিক্রমী অর্জন। ঠিক এরকম সময়ে যখন রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ভবন নির্মাণ করছে হাসিনা পুত্র আইটি বিশেষজ্ঞ প্রচার পাওয়া জয়ের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, চারপাশে সোরগোল উঠেছে, “হলে পরে চেতনাভক্ত, লোহার চেয়ে বাঁশ শক্ত”। ঠিক তখনই সুলতানা কামালরা বৈশাখে কি নৃত্য পরিবেশন করবেন, কোন মঞ্চ নাটক করবেন তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ইলিশ খাবেন না বালিশে মাথা রেখে ঘুম পাড়ানিয়া বৈশাখী মন্দিরা বাজাবেন, রং খেলবেন না সং সাজবেন, নাকি বাচ্চাদের অদলে বিলাই নৃত্য, মুখোশ নৃত্য, গোলামী নৃত্য পরিবেশন করবেন সংকটে দেশবাসীকে মুঢ় করে রাখতে চাইছেন! এরা টেনে আনছে ভিন সমাজের দাগভরা সব কলাকৌশল, থার্টি ফাস্ট নাইটের আদলে তারা জাতি ধ্বংসের বৈশাখী খসড়া নির্মাণ করতে চায় ! বাংলাদেশের নিরপেক্ষ মিডিয়া প্রচন্ড চাপে, মন্তব্য অ্যামনেস্টির।

মাহমুদুর রহমান ইন্টারভিউ,

উপরে বর্নিত সদস্যরা নিজেরাই মানবাধিকারের নামে মানবাধিকার ধ্বংসের খেলায় আকন্ঠ ডুবে সময় পার করছে, এসব কি তার জ¦লজ্যান্ত প্রমাণ নয়? মন্ত্রীরা অপরাধ করলেও সাজা পান না। সম্প্রতি কাকতালীয়ভাবে আদালত কর্তৃক কয়জন দন্ডপ্রাপ্ত হন, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও কলামিষ্ট ডঃ তুহিন মালিক প্রশ্ন তুলেছেন এত করেও কিন্তু তাদের মন্ত্রীত্ব যায় না। তারা ঠিকই স্বপদে বহাল থাকেন, এমন মজার বাংলাদেশ সরকারের শাসন! বাংলাদেশের মানবাধিকার কোথাও নেই, তলানীতেও নেই। তাই ‘অধিকার ও এশিয়ান মানবাধিকার কমিশন’ জাতিসংঘের প্রতি গণতন্ত্রের দিকে নজর দিতে আহবান জানিয়েছে দেশটির এমন সঙ্গিন সংকট সময়ে! কুরআনের একটি আয়াত দিয়ে লেখাটি শেষ করবো। “ওহে মানবজাতি! নিঃসন্দেহ আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি পুরূষ ও নারী থেকে আর আমরা তোমাদের বানিয়েছি নানান জাতি ও গোত্র যেন তোমরা চিনতে পার। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচাইতে সম্মানিত সেইজন যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ধর্মভীরূ। নিঃসন্দেহ আল্লাহ সর্বজ্ঞাতা, পূর্ন ওয়াকিফহাল” (সুরা আল-হুজুরাতএর ১৩ আয়াত)।

নাজমা মোস্তফা,  ১৪ই এপ্রিল ২০১৬।

যুগের সত্য মোকাবেলায় হিন্দু সংস্কৃতির প্রস্তুতি

মুজাফফরনগর মুসলিমদের হিন্দু রায়টের সংবাদ দেখুন। এরপরও তারা স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে এক করবে। কি কষ্টে যে একদিন এরা ঐ বাঘ নখর থেকে বের হয়ে এসেছিল, তা এসব ভারতীয় মুসলিমের হিন্দি ভিডিওতে একটু হলেও পরখ করুন।

TRUE INDIAN Asaduddin owaisi – Exposing ‘MASTER MINDS’ Behind MUZAFFARNAGAR RIOTS

বিজেপির রাম মাধব দিবাস্বপ্ন দেখে বক্তব্য দিচ্ছেন ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ তিন দেশ এক হবে, হবে অখন্ড ভারত। যুদ্ধ ছাড়াই জনতার মতে হবে কারণ সবার এক সংস্কৃতি এবং তা হচ্ছে হিন্দু সংস্কৃতি। তাই কি ? ঐ একতায় মিলে নাই বলেই ৪৭এর ভাগ আলাদা হওয়া। আজ এত পরে এই রঙ্গরসের কথা কেন ? মূর্তিপূজক আর আল্লাহপূজক কি কখনো এক হতে পারে ? সত্য আর মিথ্যা কি কখনো এক হয় ? মানবতা আর পাশবিকতা কি এক হয় ? আলো আর অন্ধকার কি এক হয় ? দুটির দুই রাস্তা, এ রেলপথ কোনদিনও এক হবে না। হলে দুজনের অপমৃত্যু। একটি মাত্র পথ আছে আলোর মিছিলে অন্ধকার যোগ দিতে পারে। ভুলকে ন্যায়ের পথে আনা যেতে পারে। মিথ্যা সত্যের সাথে যোগ দিতে পারে।

৩৩ কোটি দেবতার পাপে স্বর্গ যে টলমল সেটি আমরা শিশুকাল থেকে ছন্দে শুনেছি। কিন্তু তার বাস্তব যে এত ভয়ঙ্কর তা চিন্তা করিনি। কাল একটি ভিডিও দেখছিলাম একটি মেয়ের পাঁচটি ছেলের সাথে বিয়ে হচ্ছে, সাতপাঁকে বেধে। এ ছেলেগুলি মেয়েটিকে নিয়ে ঘুরছে। ‘সাতপাক’ অনুষ্ঠানটি এসব তাদের বিয়ের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান। একটি গল্প সব সময় শুনি সবার মুখে, দ্রৌপদী ছিলেন পঞ্চপান্ডবের স্ত্রী এটি মহাভারতের গল্প। শুনেছি পান্ডবরা পাঁচভাই একটি জিনিস এনে মাকে বললে মা জিনিসটি না দেখেই বলেন ‘ভাগ করে খাও’। মায়ের আদেশ বলে তারা পাঁচজনই একে স্ত্রী রুপে গ্রহন করেন। বাস্তব জীবনে এমন মা না জন্মালেও ধর্মের ময়দানে এমন মা কি ধর্মের অবমাননা আটকায় ? মায়ের এ দৃষ্টিভঙ্গি ওদের ধর্ম ও পথ উভয় হারাবার দায়ে ভরা। মহাভারতসহ বিভিন্ন পুরানে ও মনুসংহিতা নারী বিদ্বেষে পরিপূর্ণ, যেখানে নারী উপস্থাপিত হয়েছে দানবীরূপে। তবে খুঁজে খুঁজে মুসলিমদের সব খবর রাখতো আমার বান্ধবীরা বিগত শতকের ষাটের দশকেও। প্রথম হিল্লা বিয়ে নামের উদ্ভট বিয়ের খবর আমি তাদের মুখ থেকেই জানি। আমি লজ্জায় কুকড়ে একটু হয়ে যাই আর নিজের এ নষ্ট ধর্ম নিয়ে মনে মনে কাতর হয়ে পড়ি। কিন্তু মূলত এসব ইসলামের কোন বিধানই নয়, যেভাবে এ গল্পটি ছড়িয়েছে মূল ছেড়ে। এতে ধর্ম নষ্ট হওয়ার কোন অবকাশই নেই। তাদের পরিবার ঐ এত্তটুকুন বয়সে তাদের ঐ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পেরেছে, যা আমার পরিবার পারেনি। সেটি হবে আমি ক্লাস সিক্স বা সেভেনে পড়ছি।

পঞ্চ স্বামীর ঘরে থাকা বিবর্তীত পশু প্রকৃতির মেয়েটির যখন বাচ্চা হবে তখন কি করা হচ্ছে, গামলায় চুবিয়ে মেরে ফেলা হবে কারণ এটি মেয়ে। আসন্ন ডেলিভারীর মেয়েটি থাকে চাটাইএর উপর, তবে আনন্দের কথা হচ্ছে বসবাস হবে স্বয়ং মা দেবতার সাথে অর্থে গরুর সাথে। আর এর ফাঁক গলিয়ে পাঁচ ছেলে পর্যায়ক্রমে এসে নিজের পাওনা ভাগটুকু উসল করে নেয়। জানেন এসব দেখার পর কয় রাত শান্তিতে ঘুমুতে পারিনি এজন্যে যে তারপরও কেমন করে ওরা ঐ ধর্মের পক্ষ নেয়, বন্দনা গায় এবং ওটি ধারণ করে থাকে ? এসব কি মানবের ধর্ম ? সাম্প্রতিক সময়ের কন্যা হত্যা হচ্ছে এক নিরব গণহত্যার নাম। ১ কোটি পরিত্যক্ত মেয়ে সে দেশে আর দুই দশকে ২০ লাখ মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। লোহার রড দিয়ে গর্ভের সন্তানকে পিটায় স্বামী শ^শুররা। হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লী, গুজরাটে ছেলেমেয়ের রেশিও ৯০০: ১০০০, এটি বেশ কবছর আগের হিসাব। ভারত ভয়ঙ্কর রাষ্ট্র মেয়ের জন্য। রাস্তা, ডাস্টবিন বাসস্ট্যান্ড বলা যায় এ বোঝা মেয়ে আবর্জনা ফেলার নিরাপদ স্থান। পূজা পায় গরুরা, আর মানুষ পায় পশুর সম্মান। ঐ ভূমিতে শুধু নজরুলরাই বিদ্রোহ করতে জানে। অন্যরা স্বার্থকেই বড় করে দেখে। তাই সেখানে একবিংশ শতকেও গভীর নিরাশার অন্ধকার। জাকির নায়েক ছাড়া আলো নিয়ে কারা আসবে ? ওদেরে আসতে দিন মানুষগুলো অন্তত মানুষ হয়ে বাঁচুক। মোদীর মোমবাতি দমকা বাতাসে টিকবে বলে মনে হয় না। জাকের নায়েকের দুএকটি ভুল হতে পারে, তাই বলে এরকম ভুল এরা করতে শিখে নি। উজ্জ্বল প্রদীপ হাতে এরা আধারেরই যাত্রী। মনে হয় এরাই চারপাশ আলোকিত করতে পারবে।

যে মন্দিরে একরাত থাকলেই হয়ে পড়েন গর্ভবতী!

 

বেশীর ভাগ দেবী কিন্তু মেয়ে তারপরও মেয়েদের আর শুদ্রত্ব কাটে না, মানুষের মর্যাদা পায় না। ধর্মই তাদেরে দেউলিয়া করেছে। ভারতে লিঙ্গ প্রকাশ দন্ডনীয় অপরাধ। এর ফাঁক গলিয়ে চলে মোটা টাকার ব্যবসা। স্বাস্থ্যকর্মীরা মুখের ডান গালে হাত দিলে বুঝবে মেয়ে, পানি খেতে দিলেও মেয়ে। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। সেখানে মুসলমান আর মেয়ে এ দুই মনে হচ্ছে এককাতারে। সম্প্রতি এক বিস্ময়কর খবর বেরিয়েছে, পাঞ্জবের ১,০০০ বালকের বিপরীতে মাত্র ৩ শত মেয়ে। স্বভাবতই পাঁচ ভাইকে এক বউ বিয়ে করতেই হবে এবং হচ্ছেও। ধর্মতো ঐ দরজা খোলা রেখেছে। এককালে শুনেছিলাম বান্ধবী কারো মুখে মুসলিম ছেলেরা বড়ই বখাটে হয় কিন্তু হিন্দুরা হয় না এর কারণ ব্যাখ্যাতে আসে। দেবর ভাসুর সব সামাল দিতে পারেন হিন্দু কুলবধুরা যা মুসলিম কুলবধুরা মোটেও পারেন না। উত্তর ভারতের দেরাদুনে পাঁচ ভাইএর এক বউ। মেয়েটি জানায় তার মার জীবনও এরকম ছিল। কারো মেয়ে হয়েছে শুনলে মানুষ বিদ্রুপ করে উপদেশ বিলি করে ভ্রুণ টেস্ট করে জেনে নিতে পারলে না? গর্ভপাতে আইনি ঝামেলা সামাল দিতে চতুর ডাক্তার স্ত্রীর প্রজনন পথে একটি বড়ি রেখে দেন। পরের দিন সকালে কাঁপতে কাঁপতে স্ত্রী স্বামীকে সংবাদ দেয় যে প্রশ্রাবের সাথে শিশুর শরীরের অনেক অংশ বেরিয়ে গেছে। স্বামী তাকে সুসংবাদ হিসাবে গ্রহণ করে। কোন কোন অঞ্চলে ভোটাররা ভোটের বদলে বউ চায় নির্বাচনী শর্তে। “বউ দাও জিতে নাও ভোট”। এসব শুধু গরীর পরিবারেই নয়, অন্যরাও এ রোগের শিকার। এককালে আরবের কুরাইশরা এ রোগের শিকার ছিল আমরা বলি আইয়ামে জাহেলিয়া। জোর গলাতে বলা যায়, সেটি এখনো বহাল আছে ভারতে। একই সুরে বিজিপি নেতারা বলছেন, বোমার বদলে বুলেট দিয়ে পাকিস্তানকে ঠান্ডা করা হয়েছে, প্রয়োজনে বাংলাদেশকেও ঠান্ডা করা হবে। বক্তারা নিজেরাই বলছেন তাদের দিন পাল্টেছে, কারণ ময়দানে বিজিপি পশ্চিমবঙ্গের আফগানিস্তান সিরিয়া হবার সুযোগ নেই। যে অমানবিক চিত্র এখানে চিত্রিত হলো এসব কোন সভ্য মানবতার চালচিত্র হতে পারে না ! এসব হতে পারে জাহেলিয়াতি আচার। সপ্তম শতাব্দীতে একই ধারাতে হুমকি ধমকি দিয়েছিল মূর্তিপূজক কন্যাহত্যাকারী কুরাইশরা। কোথায় আজ তারা? ইতিহাসে খুঁজে দেখুন। তাই ইতিহাসের এত আস্ফালন ভয়ঙ্কর সন্দেহ নেই। এসব কি জাহেলিয়াত জাতির নতুন জন্মের আলামত? যে মহাপুরুষেরা ভূমিতে জন্মেও এসব চাপা দিয়ে শুধু মুসলিম বিদ্বেষী ম্লেচ্ছ যবন গালিতে মজে সময় পার করেন তাদের সমাজ এর বেশী আলো কি ভাবে সঞ্চয় করবে ? কলামটি লেখার তারিখ = মার্চ ২০১৬। 

নাজমা মোস্তফা,  ০৬ এপ্রিল ২০১৬

ধর্মহারা লালনের জন্য ডেরা তৈরী করে কে বা কারা?

১৮৯১ সালে থেকে পূর্ব বাংলায় বসবাস করার কারণে রবীন্দ্রনাথ এক নতুন বিশ্বকে অবলোকন করেন। বাংলাদেশের মানুষ, তার প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা, সমাজ, অর্থনীতি, নিসর্গ সবই তার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে কিঞ্চিত ভিন্ন। পূর্ববঙ্গের মানুষ, প্রকৃতি তার সঙ্গে বিপুল যোগাযোগ তার মনকে মুক্ত করেছিল ক্ষুদ্র গন্ডির বন্ধন থেকে। পূর্ববঙ্গের সুদূর দিগন্ত বিসতৃত প্রকৃতির মুক্ত অঙ্গনে পদার্পণ করে তিনি লোকসাধারণের মধ্যে শাস্ত্রীয় বিধিবহির্ভূত ধর্মের উর্ধ্বে এক সহজ সরল ভক্তিসাশ্রিত মানবিক গুণের পরিচয় পেয়েছিলেন (“রবীন্দ্র মানসে বাউল সাধনার প্রভাব”, ডঃ আব্দুল ওয়াহাব)। লালনও সেখানে প্রভাব ফেলেন সন্দেহ নেই। তাই এখানে রবীন্দ্রনাথ লালনের কাছে ঋণী। তার গানের প্রভাব পড়েছিল বরীন্দ্রনাথের সাহিত্যের পরিসরে। বস্তুত লালন নামের এই ফকিরের নিজের জীবনের ইতিহাসই এক চরম বঞ্চনার ইতিহাস। তিনি জন্মগত একটি জটিল সমাজের পাশাপাশি একটি উদারবাদী সমাজের বাতাসে লালিত হয়েছেন বলে তার জীবনচরিতে জানা যায়। বাস্তবে এক হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে হলেও বসন্ত আক্রান্ত সহযাত্রীকে তার গোত্রের তীর্থযাত্রী লোকেরা তাকে পথে ফেলে গেলে মুসলমানদের সেবায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন। মুসলমানদের ছোঁয়া লাগার কারণে তার সমাজ তাকে চিরতরে বিসর্জন দেয়। তার পরিবার বা তার মা বা তার স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের সন্তানের বা স্বামীর দাবী পেশ করতে পারেনি। যার জন্য লালন পথের ফকির। তার পরবর্তী ইতিহাস মুসলমানদের সান্ন্যিধ্যে বেড়ে উঠা এক লালন ! তার আধ্যাত্মিক গানই নির্দেশ করে তার মূল সুরটি মহামানবের ধর্মের ছোঁয়াই বয়ে বেড়ায়। অনেকে প্রচার করেন লালন মুসলমানও ছিলেন না, হিন্দুও ছিলেননা।

“আমরা জানি মাইকেল মধুসুধন ছেড়া জুতার মত তার পুরাতন জরাগ্রস্ত জীর্ণ ধর্মটি ফেলে দিয়ে খৃষ্টান ধর্মে দিক্ষা নেন। ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন মানে এটি নয় যে তিনি দুটি ধর্ম ধারণ করছিলেন। লালনের গান থেকেই আঁচ করা যায় একটি ব্যতিক্রমী অসাধারণ বিকশিত মন তার অন্তরে লুকিয়ে ছিল। যে সমাজ তাকে ছুঁড়ে দূরে ফেলে দিয়েছে তাকে তিনি আজীবন বুকে চেপে ধরে রেখেছেন, এটি যারা প্রচার করে তারা ধর্ম নামের প্রতারক দল ! এর লেজুড় ধরে আরেক দল শুরু করেছে বাউল নামের এক আলাদা সংস্কৃতি যার কতকটা হিন্দুত্ব এবং কতকটা মুসলমানি ঢংএর, সঙ্গে অনেকে জুড়ে দিয়েছেন গাজার চিলিমটিও ! বৈরী পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে লালনের ভিন্ন রকম প্রকাশ ! তিনি ছিলেন বিরুপ পরিস্থিতির শিকার এক ব্যতিক্রমী হতভাগ্য বাংলাদেশের সন্তান ! তাকে নকল করে নকল লালন তৈরীর চেষ্টা না করাই সমাজের জন্য মঙ্গল ! তারপরও উল্লেখযোগ্য কথাটি হচ্ছে, সমাজে মুসলমান নামের একটি উদারবাদী সম্প্রদায় ছিল বলে এত বিপর্যয়ের পরও তার একটি জীবন গড়ে উঠে ! ফকিরের জন্যও একটি ডেরা তৈরী হয়েছে ! যার গানে আল্লাহ, নবী মোহাম্মদ, নবী আদমের কথা আছে তাকে মুসলমান নয় বলার কোন যুক্তিই থাকতে পারেনা ! ফকিরের নিজের জীবনটাই ছিল মুমূর্ষ সংস্কারাক্রান্ত হিন্দুত্বের কঙ্কালের উপর প্রতিষ্ঠা পাওয়া মানবতার বিজয় ঘোষনা করা এক প্রচন্ড প্রতিবাদ ! তার প্রতিবাদের প্রতিরোধের বিকাশ ও বিসতৃতি ঘটিয়েছেন তিনি তার স্বরচিত গানের মাঝে, “এলাহি আল মিম গো আল্লাহ বাদশা আলমপনা তুমি”! (একই ধর্ম একই ধারা, নাজমা মোস্তফা, ১০০/১০১ পৃষ্ঠা)”।

তারপরও লালন মুসলিম সমাজে ঠাঁই পেলেও বর্তমানে তাকে নিয়ে যে এক অদভুত দর্শণের উপর কাজ চলছে তার মূল শিকড় খোঁজে পাওয়া মুশকিল। বাড়াবাড়ির অতি উৎসাহে কেউ কেউ প্রচার করছেন বাংলার নবী লালন শাহ এবং কেউ কেউ খুব কৌশলে তার বানীকে একটি ধর্মের বাণী বলে প্রচার করছেন। ঠিক এরকম কিছু অতি উৎসাহী মানুষকে অতীতে দেখা গেছে কবি রবীন্দ্রনাথকেও ঈশ^রের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। এই কিছুদিন আগেও শেখ মুজিবকে তাদের আওয়ামী লীগের নিজস্ব সাইটেও বাংলার নবী হিসাবে প্রচার করা হয়। মানুষ কতদূর অজ্ঞ হলে এসব করতে পারে, সেটি খুব সহজে অনুমেয়। এরা ধর্মজ্ঞানে চরম অজ্ঞ না হলে এটি করতে পারে না। কিছু নাস্তিক ও বিতর্কীতজনরা সবদিনই বাড়াবাড়ির পর্যায় ঘাটতে উল্টাসিধা অনেক কথাই প্রচার করতে উৎসাহী। দেখা যায় অতীতে নবী রসুলরাও যা প্রচার করেছেন তার সাথে অনেক মিথ্যাচার, অনেক সংযোজন বিয়োজনের প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু তারপরও তাদের হাতে আসা ছিল মূল ঐশী বানীসমূহ, যার প্রেক্ষিতে মূল হারাবার শংকাকে উৎরিয়েও সত্যকে খুঁজে নেয়া সম্ভব।

লালন নামের এসব মানুষকে নিয়ে পরবর্তীতে যারা গবেষনা করেছে তারা তাকে কোন পথে নিয়ে গেছে সেটিও দেখার বিষয়। একমাত্র লালন নিজেই জানেন তিনি কি বলতে চেয়েছেন, আর বাকীরা কি বুঝতে চাইছে বা কিভাবে এসব কথামালার ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তাই আমি মনি করি তাকে ভিত্তি করে নকল লালনদের সৃষ্টি সমাজকে বিকৃতই করবে। নারী, গাজা, বিকৃত যৌনাচার এসবই তাকে ধ্বসিয়ে দিতে বড় করে সমাজে জায়গা করে দিবে। যা সমাজকে ইতিবাচক না করে নেতিবাচকই করে তুলবে সন্দেহ নেই। আল্লাহ জাতিকে সুপথ দেখাক।

 

নাজমা মোস্তফা,  ০৬ এপ্রিল ২০১৬। ১৭ বছর আগের লেখা কবিতাটি এখানে নীচে সংযোজন করছি।

 

লালনের কুলিনেরা

দেয়ালের ওপাশে যার দৃষ্টি বিধে না, নিদেন পক্ষে মক্ষিকাও না
বুদ্ধির দৌড়ে জুয়েল আইচরা অনেক যায়, যদিও পিঠ দেখে না।
তবুও স্রষ্টায় সাজে তুলনায়, পিছনের পিপিলিকাও দিব্যি পালায়
পিঠে বসা মশাটাও মারতে পারে না যে মানুষ,
স্রষ্টায় একই ফিতায় মাপে, যেন কল্পলোকের যমদূত ।
শারাব পিয়ায়, ভাবে সৃষ্টি স্রষ্টা একই সত্ত্বায়
অহমের অক্টোপাস তাকে গিলে, পথহারাদের নেতা
এ পৃথিবী মানবের জীবনের, – নয় বৈরাগীর, কাল্পনিকের।
হতাশার বৈরাগী লালন ফকির,ব্যতিক্রমী বৃন্তচ্যুত ঝরাফুল
রোগাক্রান্ত ফুলেরা সুবাস ছড়াতে পারে না, মধুকর বসে না
ব্যর্থতার করূণ রাগিনী তার বীণার তারে, হৃদয় কাড়ে ঠিকই
নিত্য নুতন লালনদের রাস্তা আবর্জনার পঁচাডোবা
লালন একজনই জন্মেছে আগাছার মত কালেভদ্রে
প্রকৃতিই গড়ে নেয় দু এক লালন ব্যতিক্রমী সন্তান।
মনগড়া লালন, স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ নয় , জন্মানো জঞ্জাল
লালনকে দেখে যারা নিজেরাই লালন সাজে মহাউৎসবে
অসাধু বাবা গড়ে নকল লালনে, অবাস্তব অনাচার
সংসারে সং সাজি ভং ধরি ভাং গিলে, খুঁজে রাস্তা বাঁচার
মানুষেরে বিভ্রান্ত করে পাপের পশরা সাজায় চমৎকার,
সুযোগে শয়তান সাধু সাজে, লালনের ভেক ধরে বার বার।

১৯৯৯ সালের ১৬ই জুন। লালন এক বৃন্তচ্যুত এক মননশীল ব্যক্তিসত্ত্বা । তাকে ধরে সমাজে গড়ে উঠছে এক গোষ্ঠী মানে নকল লালনেরা।

ধর্মনিরপেক্ষতা ষড়যন্ত্রীদের ধর্ম বটিকা !

ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে সময়ে সময়ে ভারতে চলে মানুষ নিধনের মহামেলা। সেটি বাংলাদেশেও আমদানী করার সে বিজ আমদানী চলছে স্বাধীনতার পর থেকে। এর চাঁদোয়ার তলানিতে ভারতে কি চলছে? তা দেখে বাংলাদেশের শেখার কি কিছুই নেই? ধর্ম নিরপেক্ষতার নাম নিয়েই তারা অন্যায় ভাবে বাবরী মসজিদ ধ্বংস করে দিতে পারে। অন্যায় হিন্দুত্ববাদের জোরসে তালিয়ার মাঝে মুসলিমের সব আবেদন চাপা পড়ে যায়।

Asaduddin Owaisi Jabardasht Speech in Hunkaar Rally of AIMIM warning_BJP_and_Congress

আজ কাল নানান ধারার ফরমাইশী ওয়াজ করতে দেখি কিছু কলামিস্ট নামধারীকেও, যেমন ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।” “পূজা যার যার উৎসব সবার।” উনারা এসব কথা বলে নিষিদ্ধ ঘোষিত হারাম মদকে হালাল করার এক অভিন্ন কসরত করে চলেছেন। ইসলাম ধর্মটি সবদিনই ধর্ম যার যার রেখেই রাষ্ট্র সবার করেছে, তাই ইসলামের যেসব বোকারা এসব বিলি করছেন বলা যায় তারা নির্দ্ধিধায় মূল ধর্মের শিক্ষা পায়নি। জানেও না, তবে ভুল তথ্যে ওয়াজের কসরতে পিছিয়ে নেই, অনেক বেশী আগুয়ান। জনতাকে বিভ্রান্ত করতে এ তাদের প্রাণান্ত প্রচেষ্ঠা ! ধর্ম নিরপেক্ষতার ভুল ব্যাখ্যা এক শ্রেণীর জনতারা বেশ দিন থেকে মানুষকে গেলানোর কসরত করে চলেছে। বাংলাদেশের সংখ্যা গরিষ্ট জনতার ধর্ম ইসলাম, বিগত শতকে ভাগ বন্টনের হেরফেরে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে দ্বন্দ্বের জন্ম লাভ করে। আর এ সুযোগে ভারত উৎফুল্ল হয়, তার চিরদিনের শত্রু পাকিস্তানকে কবজা করতে পারবে ঐ স্বপ্নে !  জোর করে ধর্ম নিরপেক্ষ অনুষঙ্গ প্রচারে ব্যস্ত হয়ে কৌশলে চাপিয়ে দেয় কিছু অবাস্তব ভাইরাস নতুন জন্ম নেয়া দেশটির ঘাড়ে ! ভাইরাসের একটি হচ্ছে জাতীয় সঙ্গিতের উদ্ভট অপ্রাসঙ্গিক অবাস্তব প্রয়োগ, যা আজো জনতাকে টিটকারী মারছে ! এটি ছিল রোগের উল্টো চিকিৎসা ! সেদিন তারা ষড়যন্ত্রীরা ভয়ে ছিল পাছে যদি বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়াতে দুই পাকিস্তানের মানে দুটি মুসলিম দেশের সৃষ্টি হয়ে যায় ! যে গান রচিত হয় মূর্তির জন্য, তা কেমন করে মূর্তিহীন মুসলিম জাতির ঘাড়ে চেপে বসল তা জাতি অবশ্যই জানতে চাইবে? ভারত তাদের নিজের জন্য পছন্দ করেছে বৃটিশ বন্দনার নামে গোলামীর একটি গান জাতীয় সঙ্গিত হিসাবে। ঐ সময় বৃটিশভক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঐ গান রচনা করেন বৃটিশরাজ পঞ্চম জর্জের উদ্দেশ্যে প্রশংসা ও স্তুতিপূর্ণ বন্দনায় সংকীর্ণ মানসিকতার ছাপ রেখে ! “জন গণ মন অধিনায়ক, জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা !” ওটি তারা তাদের জন্য নিয়েছে, তা নিতেই পারে। কিন্তু বাংলাদেশের মত একটি স্বাধীনচেতা জাতির ঘাড়ে কেন গোলামীর আদলে মূর্তির গান চাপিয়ে দেয়া ? ঐ একই লেখকের মূর্তি পূজারী গান ছাড়া কি বাংলাদেশের সীমানাতে আর কোন গান ছিল না ? “ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আাঁখি না ফেরে, তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে”। এখানের এ গান তাদের  জীবন মরণের, বাঁচা মরার প্রশ্ন জড়িত, জড়িত ঈমানের প্রশ্ন, ধর্মান্ধতা নয় !

dr. tuhin malik@ rokemeen

 

আওয়ামী লীগের চার রাষ্ট্রীয় নীতির উৎসমুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ’৭১ সালের ১০ এপ্রিল ও ১৭ এপ্রিলের ঘোষণায় যে চেতনা উল্লিখিত হয়েছিল, তা ছিল সাম্য, মানবতা ও ন্যায়পরায়ণতা। এ শাসনব্যবস্থা ইসলামি মূল্যবোধ ও মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।  কিন্তু একটি শোষক সম্প্রদায়ের জন্য এগুলো বেমানান। সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা মূলত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরোধী। পরে আরোপিত ও বৃহত্তর গণমানুষের মূল্যবোধের বিপরীত, কার্ল মার্কস, লেনিন এবং মাও সে তুংয়ের প্রবর্তিত সমাজতন্ত্র বিদায় নিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগ তার মূলনীতি থেকে পরিত্যক্ত সমাজতন্ত্রকে বাদ দিয়েছে।

এখানে একজন মুক্তিযোদ্ধার লেখা থেকে একটি প্যারা সংযোজন করছি। ৭০এর নির্বাচন অনুষ্টিত হল ৬ দফার ভিত্তিতে। এই ৬ দফার মধ্যে আওয়ামী লীগ গৃহীত ৪ রাষ্ট্রীয় মূলনীতির একটিরও উল্লেখ ছিল না। তাছাড়া নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ আরো উল্লেখ করেছিল যে, তারা ইসলাম ধর্ম বিরোধী কোন আইন কানুনও পাস করবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ ৭২ সনের জানুয়ারীতে ক্ষমতাসীন হওয়ার সাথে সাথেই ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে দেয় এবং গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ নামে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি নির্ধারণ করে, যা পরবর্তীতে ’৭২এর রাষ্ট্রীয় সংবিধানেও সন্নিবেশিত করা হয়। এই চার নীতির মূল উৎস কোথায় ? কেনই বা উক্ত চার নীতিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসাবে ঘোষনা করা হলো ? এ প্রশ্নগুলোর জবাব জনগণ আজো পায়নি। দেশের জনগণের কোনরুপ তোয়াক্কা না করেই রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব জনগণের উপর জবরদস্তিভাবেই চাপিয়ে দিল। যুদ্ধোত্তরকালে আওয়ামী লীগ চরম সংকীর্ণতার পরিচয় দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় রুপকে দলীয় রুপ প্রদানের জন্য বিভিন্নমুখী ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়। তাছাড়া আওয়ামী লীগের যুদ্ধকালীন দুর্নীতি এবং ব্যর্থতা এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে জনগণের উপর স্বৈরতান্ত্রিক নির্যাতন জনগণ থেকে আওয়ামী লীগকে বিচ্ছিন্ন করার উপসর্গ সৃষ্টি করে। ’৭২এ আওয়ামী লীগের এমন কোন বৈধ অধিকার ছিল না যাতে করে তারা দেশ ও জাতির উপর একটি মনগড়া সংবিধান আরোপ করতে পারে। তবুও তারা তা জবরদস্তি করেছে। দেশের জনগণের চিৎকার প্রতিবাদ কোন কাজেই আসেনি। এভাবেই যুদ্ধোত্তর বিধ্বস্ত বাংলাদেশের কোটি কোটি বুভুক্ষ মানুষের জন্য অন্নবস্ত্রের পূর্বেই রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এসে মাথায় চেপে বসে। এই মূলনীতি আরোপ করার মধ্য দিয়ে দিল্লীর কর্তারা তাদের মূল লক্ষ্যই স্থির রেখেছে কেবল। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধর্মহীনতারই লেবাস মাত্র ইসলামের বিরুদ্ধে একটি সুকৌশল ঠান্ডা যুদ্ধ।(অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা, মেজর (অবঃ) এম জলিল,  পৃষ্ঠা ৬৮৮০ )। তিনি আরো বলেন, মুসলিম প্রধান বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতার প্রকৃত রুপ হতে হবে সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, বর্ণবৈষম্যবাদ, রাজতন্ত্র এবং স্বৈরতন্ত্রমুক্ত ইসলাম। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মানুষের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ ছিল। ধর্মযুদ্ধ ছিল না। সুতরাং যুদ্ধোত্তরকালে ধর্মের প্রতি উষ্মা কিম্বা কটাক্ষ করার কোন যুক্তিই নেই, থাকতে পারে না। তবুও রয়েছে কেন? 

ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট ভাষাতে প্রত্যেক্যের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বকীয় স্বাধীনতার কথা থাকলেও মুসলিমরা বলি হয় কারণে অকারণে। গরুর মাংস না খেলেও বলি, শুধু মিথ্যে গরু এবং মাংস এ দুটি শব্দের আওয়াজ ছড়িয়ে দিতে হবে ! সংখ্যালঘুরা সে দেশে সংখ্যাগুরুর কাছে গরুরও অধম !  বিজেপির নেতা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদ অধিবেশনেই এটি স্পষ্ট করেন যে, ১৯৭৬ সালে ভারত সরকার তাদের নিজেদের সংবিধানে ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা সমাজতন্ত্র যোগ করে ! কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী তার ষড়যন্ত্রের জটিলতা বিস্তার করে বহু আগেই বাংলাদেশের ঘাড়ে এটি চাপিয়ে দেন ৭১ যুদ্ধের নামে ভারতীয় সৈন্য পাঠানোর মতই। তাই ভারতেরও বেশ কয় বছর আগেই, স্বাধীনতার নিকট সময়ে ওষধি বটিকা প্রয়োগ করা হয় বাংলাদেশের জনতার অগোচরে ও অমতে ! অতঃপর ঐ সময়ের মুজিবী ধমক না পাওয়াতে সৈন্য সরলেও ঐটি শক্ত মাপে জাতির ঘাড়ে চেপে বসে ! সম্ভবত আল্লাহর সম্মানে ধর্মের মর্যাদা রক্ষার্থে চেপে বসা ভুতকে বাংলাদেশীকেই ভুত তাড়ানোর মতই তাড়িয়ে দিতে হবে !

নাজমা মোস্তফা,  ১লা এপ্রিল ২০১৬।

দেশ বড় না গোলামী বড়? 

পঞ্চগড়ে আকাশ ভেঙ্গেপড়া বিপদ, ২৩ বছরের খৃষ্টান ধর্মান্তরিত এক পুরোহিতকে গলাকেটে প্রমাণ করলো ইসলাম কত বর্বর ! কে মারলো তার প্রমাণ নেই। অনেক সময় প্রচার করা হয় আল্লাহু আকবর বলে কোপানো হয় (যদিও এ ক্ষেত্রে আল্লাহু আকবরের প্রমান নেই)। কিন্তু এদেরে ধরা হয়না। আবার কখনো বা কোন ছলবাজ আল্লাহু আকবর বললো তাকে আগেই চিহ্নিত করে রাখা হয় আনসারুল্লাহ বলে বা কিছু একটা ! এরা হচ্ছে রাজনীতির কপট লাশ। সাথে সাথে উঠে গেল বাতিল কর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ! ১৫জনের মাঝে ১০জন মরা লাশও জীবনের ময়দানে মৃদঙ্গ তালিতে দেশকে হুমকির মাঝে ছুঁড়ে দিল। সারা বিশে^ প্রচার হলো বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে বাতিল করা হচ্ছে। ওরা কারা, হিন্দুসহ নাস্তিকবেশী হাতে গুণা কিছু ষড়যন্ত্রী ! বাংলাদেশের মিডিয়া চুপ করে রইলো, কারণ বোবা কালা মিডিয়া জানে বেশী, বুঝে বেশী, প্রকাশ করে মাপ মতন।  প্রতিবন্ধী অথর্ব পঙ্গু মিডিয়া ! সেনাবাহিনীকে কবজাতে নিতে হবে, এমনিতেই সেনাবাহিনী কবজাতে, আরো বড় কবজা লাগবে, সোনাবনধুর নির্দেশ। সেনানিবাসের ভিতরে গরীব কর্মচারীর মেয়েকে নরবলি দেয়া হলো ! যদি তাই না হয় কেন সব ছল হচ্ছে? তার জায়গা থেকে অপরাধের সব দাগচিহ্ন নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে, দেয়াল ভাংগা হচ্ছে, কতকি ? বাংলাদেশের জন্য কিয়ামত মনে হয় আগেই হতে হবে ! বেশী দূর তাদের তর সইছে না ! নির্দোষ “তনু”র লাশ কিয়ামতের ময়দানে চিৎকার করে জানান দিবে সোনাবনধুসহ সব শক্তিমানের কথা ! “তনু হত্যা ঘটনা তদন্তে নয়, ধামাচাপায় অগ্রগতি” হচ্ছে খবরের শিরোনাম। আজ মিডিয়াতে জোরেসোরে মিথ্যাচার চলে। এসব লাশরা উদ্দেশ্যমূলক ফরমাইশী লাশ ! লাশ চাই লাশ চাই নাটকের অংশ মাত্র ! পড়েন সবাই রেনটুর বই ! জানেন কিভাবে ফরমাইশী লাশেরা ময়দানে ঢলে পড়তে পারে ! হতে পারে নিজ দলেরও, মরার পর তো আওয়ামী বিএনপি জামাত কারো সাথে থাকে না, সবাই লাশে রুপান্তরিত হয়, ওতেও রাজনীতি চলে !

Is it Bangladesh or indian state—.mp4

আজকাল নানান ধারার ফরমাইশী ওয়াজ করতে দেখি বিক্ষুদ্ধ লেখকদের যারা লেজুড়ধারী নাস্তিকদের সাগরেদ ! ৭১এ যে যুদ্ধ হয় মুসলিমের সাথে মুসলিমের বোঝাপড়ার বৈষম্য থেকে, সেখানে আজ কিছু কৌশলী হিন্দু কখনো নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে জাহির করে বলে এর জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। কিন্তু বাস্তবে আমরা জানি খুব কম হিন্দুই যুদ্ধে গিয়েছে। বরং তারা ভারতে পালিয়ে গেছে, যাকে তারা মনে করতো তাদের নিজ হিন্দুদেশ ! ওটিও গোপন থাকতো না, তাদের আচার আচরণে প্রকাশ হয়ে যেত ! সবদিনই তারা পাকিস্তানকে ঘৃণার চোখে ও ভয়ের চোখে দেখতো। কিন্তু শেখ মুজিবসহ কোন মুসলিমই পাকিস্তানকে ঘৃণার চোখে দেখেননি। দুই ভাইএর ভাগ বন্টনে বিভেদ হলেই অনেক ক্ষেত্রে ঘৃণার জন্ম হলেও ইসলামে তা বারণ ! শেখ মুজিবের সুস্পষ্ট ইঙ্গিতে ষড়যন্ত্রী ইন্দিরার অখন্ড ভারত বানানোর ষড়যন্ত্র ভনডুল হয়, অসহায় হয়ে তিনি তার ভাড়াটে সৈন্যদের সরাতে বাধ্য হন। কোন নির্বাচনি ইশতেহারে ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতন্ত্র দুটি কি ছিল ? ইউরোপে তারা ধর্মের ধার তেমন ধারে না, তারপরও জাতীয় পতাকাতে খৃষ্টীয় ক্রুশের প্রতিকে কুন্ঠিত নয়। ইতিহাসে ভূগোলে ৫৮টি দেশের মাঝে ৫৩টিতে খৃষ্টীয় পরিচিতি। তাদের রাষ্ট্রপ্রধান ধর্মগ্রন্থের সম্মান দিতে ভুলেন না, তাই শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে ওতে হাত রেখে তারা দেশ ও ধর্মের মর্যাদা উঁচুতে তুলে ধরে। মানুষের মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে হলে ৯০% মুসলিমের দেশে দেবী বন্দনা সরিয়ে আল্লাহর উপর আস্থাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্পিত ও দেবোত্তর সম্পত্তির নামে বাংলাদেশের হিন্দুরা ভয়ঙ্কর স্বরুপ ধরেছে, বরং মুসলিমদের ভূমি লুন্ঠন করছে, তার অসংখ্য প্রমান চারপাশে ছড়িয়ে আছে। বিজেপি নেতা সুব্রানিয়াম স্বামী সিলেট থেকে খুলনা পর্যন্ত, বাংলাদেশের তিনভাগের এক ভাগ কেটে হিন্দু ভূমি বানানোর হুমকি দিয়েছিলেন। তারপরও তারা দেখে পাকিস্তান নাকি বাংলাদেশের হুমকি, ভারত নয় !

মূল্যবোধে ইসলামের ইতিহাসে ভাতৃত্ব বন্ধনের কোন তুলনা চলে না ! যা জাতিভেদে শতধা বিভক্ত হিন্দু ধর্মে অনুপস্থিত ! দেশবাসীর অগোচরে গোপন চুক্তির মর্যাদা অনেক কম ! হাসিনা সরকার ৩০টি গোপন চুক্তি করেছে যার বদৌলতে সারা দেশটিকে ছুঁড়ে দিয়েছে গৃহযুদ্ধে, গোলামীর কাঁটা বিধে আছে তার গলাতে, গেলার চেষ্টাতে সময় পার করছে ! করিডোর থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া আজ খন্ডিত, বিধ্বস্ত। একমাত্র দেশবাসীই পারে ঐ উদ্ধত অহংকারীকে পরাস্থ করতে ! দেশ বড় না গোলামী বড়? স্বাধীন বাংলাদেশের কোন সেনাবাহিনী থাকবে না, ভারত এদেশে বাকী জীবন দাদাগিরি করবে (সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ এবং সিআইএ” গ্রন্থের লেখক মাসুদুল হক)। ঐ স্বপ্নে বাংলাদেশের দরদে উথলে উঠেছে ভারত, মহব্বত আর কোথাও নয়, পাকিস্তান ভেঙ্গে দু টুকরো করেছে। আজ ভারতীয় বিজেপির কেন্দ্রীয় দিকদর্শক তথাগত রায়রা এদেশে বেড়াতে এসে কখনো উসকে দেন হিন্দুদেরে আওয়ামী দলবাজিতে ঝাপিয়ে পড়তে, আবার কখনো ঘোষনা দেন দুদেশের পাসপোর্ট উঠিয়ে দিতে। একটি দেশের সাথে তারা আর একটি দেশের ক্ষুদ্র অংশকে এক সমতায় মাপেন ! ঐ সাহসে অতীতে প্রধানমন্ত্রীকে মূখ্যমন্ত্রী ডাকার কসরতও তারা করেছেন ! এসব কি মহব্বতের নমুনা ? না এসব ষড়যন্ত্রী টান, বাংলাদেশীরা এসব ছলের নাটক বুঝে ! Andolon News | 21 June 2015 ৫৭ জন সেনা অফিসার হত্যায় শেখ হাসিনা জড়িত : মেজর অব: সিদ্দিক

বর্ডারে মানুষ মারতে সাজিয়েছেন কাঁটাতারের বেড়া, সম্প্রতি এক বিজেপি নেতা হুমকি দিয়ে বলছেন পাখিও উড়তে দিবেন না ! সব পূজাতেই হিন্দুরা বাংলাদেশে বোনাস পায়। যেখানে ইসলামী অনুষ্ঠানে সরকার বাধার সৃষ্টি করে, কুরআন পুড়ায়। ধর্ম প্রচারে নিষেধের বেরিকেড; পর্দা, টুপি, দাঁড়ি নিয়ে মশকরা চলে ! শুনেছি ইদানিং কোন কোন বিল্ডিংএ, বাসাবাড়িতে পূজা মন্ডপ গড়ে উঠছে।  বুড়িগঙ্গায় প্রায় দুই ডজন মসজিদ ভাংলেও মন্দির কিন্তু গড়া হচ্ছে গায়ে গতরে বাড়ছে, উদাহরণ ময়দানে। সিলেবাস থেকে ইসলাম সরিয়ে মূর্তিরা দখলি সত্ত্বে আসছে। হাতির ঝিল তৈরীতে দুই মসজিদ ধ্বংস হলেও মন্দিরকে সন্তর্পণে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ! হিন্দুরা সারা দেশে ভয়ংকর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন মুসলিমদের করুণ দশা, মুসলিমের মাঝে বেকারত্ব ভারত বাংলাদেশে চলছে সমান তালে। উভয় দেশ চলছে এক নির্দেশে, এটিই প্রমাণ। মুসলিম স্থাপত্য দেখার কেউ নেই, মন্দিরের সেবাতে সরকার অতিরিক্ত তৎপর ! সারা দেশেই মুসলিমরা হিন্দুদের প্রতি সহমর্মী যদিও সংখ্যালঘুরা গরু জবাই নিষিদ্ধের আইন দাবী করছে, দাবী করছে ইসলাম ধর্ম বাতিলের ! বুঝেন তাদের দাপট কতদূর ছুতে পারে ? হিন্দুধর্ম নারী বিদ্বেষী, নারীরা তাদের কাছে শুদ্রানী কিন্তু তারা নারী পূজারী জাতি !  হয়তো সামনে বাধ্য করবে, আইন করবে দাবী তুলবে সবাইকে দেবীর বন্দনা করতে হবে !

রাষ্ট্রের আচরণ এখন শুকুনের মত …ডক্টর তুহিন মালিক

নাজমা মোস্তফা,  ১লা এপ্রিল ২০১৬।

 

 

Tag Cloud