Articles published in this site are copyright protected.

বাংলাদেশের শংকিত সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতবাধা কথাগুলি একই সীমাবদ্ধ গন্ডির মাঝেই ঘুরে ফিরে। এগুলো হচ্ছে তাকে ১৯/২০/ হয়তো ৭০ (?) বার মারার চেষ্ঠা হয়েছে, বিরোধীরা জঙ্গির যোগানদাতা, পাকিস্তান পাগল হয়ে বাংলাদেশের সর্বনাশ করছে, কথায় কথায় ভারতের অনুকরণে পাকিস্তান গীত সঙ্গিত, জামায়াত দমন বটিকা যুদ্ধাপরাধ, বিএনপি দমন বটিকা পেট্রোলবোমা ইত্যাদি। এই কথাকটি ছাড়া তার উদ্ধারের আর কোন বড় অস্ত্র হাতের কাছে নেই ! অনেক সময় অতি কথনে আদিঅন্ত বিবেচনায় গোল বাধে, খেই হারিয়ে উল্টো কথাও জমে। যেমন ইদানিং বলছেন শেখ মুজিবকে পাকিস্তানীরা আগরতলা ষড়যন্ত্রে ফাঁসায়। আবার তারাই প্রচার করে শেখ মুজিব ঐ ষড়যন্ত্র করেই স্বাধীনতার যুদ্ধকে এগিয়ে নেন ! বলতে হবে সত্যের মা চিরতরে মরেছে, জাগার আশা নেই ! বিগত ১৯ মার্চ ২০১৬ তারিখে খালেদা জিয়া কিছু ব্যতিক্রমী কথা বলেছেন দৃঢ়চিত্তে। তাই চিন্তার বলিরেখা !

Andolon News | 07 Jan 2017 | ব্যাংক ডাকাত সজীব ওয়াজেদ জয় লুট করছে সরকারী বেসরকারী দেশের সকল ব্যাংক

জাতি ধারণা করছে প্রযুক্তিবিদ জোহার পরিবার সালাউদ্দিনের পরিবারের মতই বিকট দানবের হাতে পড়েছে !  কলাবাগান, কচুক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, ভাষানটেক, কোথাও তার মামলা যায় না, তারা নিশ্চিত করেছে তিনি ভিন গ্রহের বাসিন্দা ! সততার বড়াই করা দেশে কেউ তার মামলা নিবার অনুমোদন পায় না ! মৃত্যু চিন্তায় কাতর প্রধানমন্ত্রী দেশের বাকী কারো চিন্তায় অস্থির হন না ! প্রচার করেন সততার কথা, আল্লাহর উপরও দায় ঠেলে দেন, আল্লাহ নাকি তাকে অনুমোদন করেছে, ক্ষমতা দিয়েছে ! ২১ মার্চের খবরে প্রকাশ অনুষ্ঠিত ১০টি পৌরসভার মধ্যে সাতটিতে কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মারা, বিরোধী এজেন্টদেরে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া কেন্দ্র দখলে ব্যস্ত তার কর্মকর্তারা। সুবিধাভোগী ধর্মধারী যুক্তি দেখাবেন আল্লাহ আমাকে দখল নিতে উদ্বুদ্ধ করছে ! তিনি আল্লাহকে নিয়ে মশকরা করতেও আতঙ্কিত নন ! রসিক আল্লাহ তার বান্দাদের আদিঅন্ত ভাল করেই জানে। তাই আগাম এ ধারার মানুষকে ওপেন করতে “মুনাফিকুন” নামে সুরাও নাজেল করে রেখেছে। তাই মুমিন না হওয়া পর্যন্ত মানুষ প্রকৃত ধার্মিক নয়। তিন ধারার মাঝে মুমিন ব্যতীত মুশরিক মুনাফিক অত্যাচারী মিথ্যাচারী জনতার অংশ মাত্র। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ছিল আর একটি চাতুরী নাটক, সাজানো হয় খুউব কৌশলে ! যে কোন সচেতনই এ নকল কষা অংক, গভীর পর্যবেক্ষণে ফলাফল আঁচ করতে পারবেন !!

 

মোটা বুদ্ধির জমা হিসাবে মনে করি আগষ্ট হচ্ছে চিকন মাথার সন্ত্রাসীদের অংকের মাসএকযোগে ৬৩ জেলাতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, সময়টি খেয়াল করবেন বিগত জোট সরকারের সময়ে, ২০০৫ সালের ১৭ই আগষ্ট। এর ঠিক এক বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তখনকার বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার সভাতে গ্রেনেড হামলা হয়, বিকেল টা ২২ মিনিটে ! পাঠক লক্ষ্য করবেন ঐদিন সন্ত্রাসবিরোধী সভা চলছিল ! খোলা ট্রাকে নিজেদের বানানো উনমুক্ত মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা ! বকতৃতা শেষ, মাত্র শোভা যাত্রার উদ্বোধনী ঘোষনা করবেন ! ঠিক মুহূর্তেই গ্রেনেড হামলে পড়ে (হাসিনা হত্যার উদ্দেশ্যে), তার আগেও নয়, পরেও নয়হতভাগী আইভি রহমান সেদিন গুলতির সামনে পড়েন যদিও তিনি হত্যার উদ্দেশ্য ছিলেন না, তিনিসহ ২৪ জন নিহত হন, আহত ৫০০। মোটাদাগে চিহ্নিত করার মত আইভি রহমান নিহত হলেন, সেদিনের আইভি হলেন দৈবের পরিহাস মাত্র ! বুলেট প্রুফ গাড়ীতে শেখ হাসিনা বিকেল পাঁচটার সময় সমাবেশে পৌছান ! স্মরণ করার বিষয় ঐ বকতৃতায় অতিসাবধানী হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও দেশব্যাপী বোমা হামলা বন্ধে সরকারকে হুশিয়ার করেন ! ঘটানোর আগে থেকেই  হুশিয়ারী সংকেত রেডি ছিল ! স্বাধীনতার পর থেকে সন্ত্রাসীতে কারা এগিয়ে ছিল জাতির কি এখনো জানা বাকী ? সারা জাতি জানে বিশ^বিদ্যালয় “ডাকাতের গ্রাম” নামে পরিচিতি অর্জন করে। পাঠক ঘটনাটি মেলাবেন প্লিজ ! ঠিক পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে বিরোধীর উপর দোষ ছুঁড়ে দেয়ার মতনই ! ২০ মিনিটের বকতৃতা, সব অংক করে কষা ! ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন ! গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয় ! কোন বেকুব ছাড়া কোন বুদ্ধিমান কখনোই বুলেট প্রুফ গাড়িতে এটি করে হাত দাগাতে যাবে বলে মনে হয় না ! সারা মঞ্চ জুড়ে শত শত সন্ত্রাসী ময়দানে ! বিরোধী বুদ্ধিমতী হাসিনা সরল অংকটি কষে দেখিয়েছেন ! তার ধারণা ১৫ আগষ্ট যে সাজিয়েছে, সেই ২১ ১৭ তারিখ সিলেক্ট করেছে ! সচেতন বিবেককে প্রশ্ন করুন ! আলামতে কি মনে হয়

শত শত মানুষের আর্ত চিৎকার, ছিন্ন দেহ, রক্ত, বারুদের পোড়া গন্ধ ! সরকারের বর্তমান গোলাম মিডিয়া বলবে সবই দিনের আলোর মতই ঝকঝকে পরিষ্কার ! আর সচেতনরা দেখেন গভীর রাতের মতই ঘোর অন্ধকার ! ঐ সময়কার সরকার বিদেশের সাহায্যও নিয়েছিল সন্ত্রাস উন্মোচনে। মিডিয়াতে এটিও এসেছিল, কথা ছিল ময়দানে মঞ্চসভা হবে। কিন্তু অতঃপর সেটি হয় ট্রাকের উপর ! ঐদিন বিরোধী নেত্রী আসেন বুলেট প্রুফ গাড়ীতে। ২০০৯ সালে তিনি সরকার প্রধান হিসাবে অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল, বিডিআর বিদ্রোহের খবর আগে থেকেই প্রধানের জানা ছিল, তাই তিনি সেদিন আগে ভাগেই সটকে পড়েন ! সেদিনের বোমাও সরাসরি প্রধানের উপর পড়ার কথা নয়। তবে আইভির কপালের ফের, তিনি তো আর প্রধান নন ! বর্তমান সরকার নাকি এর বিচার করছে ! বিডিআর বিদ্রোহের বিচারও সরকার করেছে ! আগুণও দিয়েছে, পানিও ঢেলেছে, দু’ কাজেই দক্ষ এ সরকার ! সে সময় সন্ত্রাস উন্মোচনে বিদেশীরা আসলে চাইছিল প্রধাণের গাড়ীটি চেক করতে, কিন্তু ওটি করতে দেয়া হয়নি। গাড়ী চেক করতে না দেয়ার কারণটি কি ছিল ? জাতির মনে কি কোনই প্রশ্ন জাগেনি ? কিবরিয়া হত্যার কোন কুল কিনারা হয় না ? কেন? ঐ সময় এটিও পত্রিকার পাতাতে এসেছিল যে ঐদিন কোন কারণে কিবরিয়া ঘটনাস্থলে যেতে চান নি, কিন্তু সরকার প্রধান খুব কৌশলে তাকে ঠেলে পাঠায় !

বর্তমান সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েই কুট কৌশলের পথ বেছে নিয়েছিল। ঐ মামলার ৫২ আসামীর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৯ জনই পলাতক দেখানো হয়। উল্লেখ্য বিএনপি জামায়াত জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার অন্যতম আসামী করা হয় তারেক রহমানকে। গ্রেনেড মামলায় অভিযুক্ত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন – ইন্টারপোল। এ ছাড়া জরুরী অবস্থার সময় দায়ের করা কয়েকটি মামলায় তারেক আসামী। ইন্টারপোলের রেকর্ড থেকে তারেককে বাদ দেয়া হয়েছে (আমাদের সময়, ২১/০৩/২০১৬)। কিন্তু শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র থেকে তিনি ইহজীবনেও বাদ পড়বেন বলে মনে হয় না। কারণ এখনো একই যন্ত্রসঙ্গিত জাতি শুনছে, শুনবে ! ঐ সময়ের কৃত অসংখ্য নিজের মামলা হাসিনা উঠিয়ে নিয়ে বিরোধী নেত্রীর সাজার অপেক্ষায় সময় পার করছেন ! তার ছেলের অপরাধ উচ্চারণেই একজন নির্দোষ সাধক বছরের পর বছর কারাগারের  আসামী !

খালেদার হুমকিতে হাসিনার কপালে চিন্তার বলিরেখা ! কিন্তু মূল বিষয় এড়িয়ে এখানেও চাতুরালী করছেন তিনি ! স্থানকালপাত্রসহ  বর্ণনা করে বলা তার পুত্র ঘুষ গ্রহণকারী আসামী, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছিলেন মাহমুদুর রহমান, তার জবাব না দিয়ে তিনি তাকে কারাগারে ঢোকান ! এসব সততার দাগ নয় ! এখন তার ছেলে কিছু করে নাই, ওটি প্রমাণ তাকেই দিতে হবে ! অতীতেও অপরাধীর লিস্টে তাকে পাওয়া গেছে, চিরাচরিত সাধু হলে তাকে সাধু বানানো সহজ হতো ! কিন্তু ঐ প্রমাণ কখনোই উপস্থাপিত হয়নি ! মানুষ খেকো বাঘ কিন্তু সাংঘাতিক, বার বার মানুষ খেতে চায় ! তাই প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন খালেদা নাকি তাকে মারার হুমকি দিয়েছেন, কিন্তু আসল কথা আজো চেপে যাচ্ছেন ! খালেদা জিয়া ওরকম মৃত্যু হুমকি দেবার মেয়ে নন, এটি সারা জাতিই জানে। বরং বেফাঁস কথা বলাতে বর্তমানের অনৈতিক প্রধানমন্ত্রীই সেরা ! যে মূলকথা খালেদা বলেছেন, ছেলেকে বাঁচাতেই গভর্ণর বলির পাঠা হয়েছেন, আজো এর কোন যুৎসই জবাব নেই তার মুখে ! একবার নয়, বার বার শতবার কৃত প্রতারককে মানুষ বিশ^াস করবে কোন যুক্তিতে ? স্বৈরাচারের সাথে সন্ধি, সেক্রেটারিয়েটের দিগম্বর কাহিনী, রেশমা নাটক, সুখরঞ্জন বালি নাটক, ইলিয়াস আলী নাটক, সাগর-রুণি নাটক, গার্মেন্টস শ্রমিক লিডার আমিনুল নাটক, চৌধুরী আলম নাটক, রানা প্লাজা নাটক, সালাহউদ্দিন নাটক, বর্তমানে চলছে জোহা নাটক, এসব শত শত নাটক ভুলে যাবার মত নয় ! কোন সচেতন ভুলতে পারে না। চারপাশে আসংখ্য উদাহরণ পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। শুধু ভরসা বিশ^প্রভু বড়দাগে সব অবলোকন করছে ! এর বাইরে জাতির সামনে আর কোন ভরসা দেখছি না। তবে এটি ঠিক, শত হতাশায়ও ঐ ভরসা অনেক বড় ভরসা !!

 

নাজমা মোস্তফা,  ২১ মার্চ ২০১৬ সাল।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: