Articles published in this site are copyright protected.

Gujarat 2002 Riots Victims Story in their own Words: After Godhara Kand

বি. দ্রষ্টব্য: “ভারতের গর্ব না কলঙ্ক, গুজরাটের রক্ত?” লেখাটি ২২ সেপ্টেম্বর ২০০২সালে যায় যায় দিন সংখ্যায় (আন্তর্জাতিক বিভাগে) ছাপে। এর পর রাজিব তরফদার নামে এক ব্যক্তি এর প্রতিবাদ করে একটি লেখা ছাপেন যার জবাব হিসাবে আমাকে আর একটি লেখা লিখতে হয় ওটি “উচ্চবর্ণের হিংস্রতা ছাপে “ ০৩ অক্টোবর ২০০২সংখ্যাতে (দ্বিতীয়মত চ্যাপ্টারে)।

রাজীব তরফদারের “ধর্ম ও ধর্মান্ধ এক নয়” লেখাটি মূলত আমার লেখা গুজরাটের দাঙ্গার জবাবে লেখা। আমার এই লেখাতে আমি গুজরাটের দাঙ্গার করূণ ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরি নি। শুধু সম্ভ্রান্ত উচ্চ বর্ণের হিংস্রত্বের উল্লেখ করে কিছু ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। লেখক তার স্বপক্ষে কিছু যুক্তি টানার চেষ্টা করেছেন।

নারীরা শুদ্রানী বলতে তার আঁতে ঘাঁ লেগেছে। শাস্ত্রে প্রাচীন শাস্ত্রকারদের নারী বিরোধী মনোভাবই অধিক প্রাধান্য পেয়েছে। এ কারণেই হিন্দু আইনের প্রধাণ উৎস বেদ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে বঞ্চিত করেছে নারীকে। মহাভারতসহ বিভিন্ন পুরানে ও মনুসংহিতা নারী বিদ্বেষে পরিপূর্ণ, যেখানে নারী উপস্থাপিত হয়েছে দানবীরূপে। (To corrupt Men 11:213) G.Buhler, the Laws of Manu 1998, Page-18)

যদিও শাস্ত্রে নারীর এই দশা তবু এই নারীরাই আবার বেশীরভাগ দেবী। তা আমরা সবাই জানি। তা আর শাস্ত্র ঘেটে জানার দরকার নেই। সতীদাহ আর বাল্যবিবাহ ও  বিধবা বিবাহকে তিনি জিহাদের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন। জিহাদ কোন অনাচারের নাম নয়। জিহাদ আক্ষরিক অর্থে একজন সত্যিকারের মুসলিমের আজীবন  তার নিজের আত্মশুদ্ধির এক প্রশিক্ষণ। আমার বিষয় ছিল গুজরাট। রাজীব সাহেবের বক্তব্য আমি কেন ভারতের দিকে তাকাই। তিনি আমাকে বাংলাদেশের দিকে তাকাতে বলেছেন। গুজরাটের দাঙ্গা বাংলাদেশে হয় নি তাই আমি ভারতের দিকে তাকাতে বাধ্য হয়েছি।

কমরেড এম এন রায় বহু আগেই অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন,“ইউরোপ মুসলমানদের থেকে শিক্ষা লাভ করে বর্তমান সভ্যতার নেতৃত্বে আসীন হয়েছে। আজো ইউরোপের উদার ও কৃতজ্ঞ প্রকৃতির চিন্তাবিদগণ অবনত মস্তকে ইহা স্বীকার করে থাকেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ভারত ইসলামী চিন্তাধারার যথাযোগ্য সমাদর না করার দরুন লাভবান হতে পারে নাই কারণ তারা অস্পৃশ্যতার বেড়াজাল ভুলতে রাজি নয়। আজো ইচ্ছা করলে জাগরণের যুগে মানবতার ইতিহাসের ঐ গৌরবময় অধ্যায় হতে উভয় সম্প্রদায়ের লোকই অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারেন”(The historical rule of Islam) ।

Dalit Muslims of India – Aljazeera Documentary

ভারতের সংবিধান রচয়িতা ভোক্তভোগী ডঃ বি আর আম্বেদকর ক্ষুব্ধ চিত্তে তার “এ্যানিহিলেশন অব কাষ্ট” বইতে লিখেছেন,“যদি তুমি জাত ব্যবস্থাকে ভাংতে চাও, তবে তোমাকে বেদ এবং শাস্ত্রগুলিকে- যা কোন যুক্তিকে স্বীকার করে না, যা নৈতিকতাকে অস্বীকার করে – ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিতে হবে। তোমাকে অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে স্মৃতি অনুসারী ধর্মকে”।

উল্লেখ্য অধুনা হিন্দু ধর্ম বলে কোন ধর্ম পৃথিবীতে নেই। হিন্দু একটি জাতির নাম। আসিন্ধোঃ সিন্ধু পর্য্যন্তং যস্য ভারত ভূমিকা পিতৃ ভূঃ পূণ্য ভূশ্চৈব সবৈ হিন্দু রিতি স্মৃতং। সিন্ধু নদ থেকে সমুদ্র তট পর্যন্ত ভারতকে যিনি পিতৃভূমি জ্ঞান করেন তিনিই হিন্দু। স্যার সৈয়দ আহমদ বলেছিলেন হিন্দুস্থানের যে কোন বাসিন্দা হিন্দু হতে পারে। অতএব আমি দুঃখিত যে আমি যদিও হিন্দুস্থানের একজন বাসিন্দা, আপনারা আমাকে হিন্দু বলে স্বীকার করেন না। (রিসালা, আসবাবে ভাগওতী হিন্দু, শেরওয়ানী কৃত ইংরেজী অনুবাদ ২১৮পৃষ্টা)

সতীদাহ প্রথা শেষপর্যন্ত মুসলমানের ঘাড়ে চাপালেন। এ প্রথার মহাত্ম্য ফুটে উঠে স্বয়ং বিশ্ব কবির ছন্দে,

“জ্বল জ্বল চিতা দ্বিগুণ দ্বিগুণ

পরাণ সপিবে বিধবা বালা

জ্বলুক জ্বলুক চিতার আগুন

জুড়াবে এখনি প্রাণের জ্বালা।”

কবির এ ছন্দ মাধুর্যে সতীদাহের গৌরব বাড়ে বৈ কমে নাই।

সবার শেষে পন্ডিত বেদ প্রকাশ একজন ব্রাক্ষ্মণ হিন্দু এবং বিখ্যাত সংস্কৃত ভাষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক। তার গবেষণার কর্ম সম্বলিত পুস্তিকাটি আটজন বিজ্ঞ হিন্দু পন্ডিতের কাছে পাঠান, তাদের কাছে যারা ভারতের বিখ্যাত গবেষক এবং ধর্মীয় গুরু হিসাবে পরিচিত। পন্ডিতগণের রায় হিসাবে তার গবেষণার তথ্য সত্য এবং প্রামান্য গবেষণা বলে স্বীকার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, “কলকি অবতার”এর এক দ্বীপে জন্ম, তার মরূভূমিতে অবস্থান, পিতা মাতার পরিচয়, জলপাই খেজুরের জীবিকা নির্বাহকারী, সত্যবাদী, মহান বংশে জন্ম গ্রহণকারী, গুহায় শিক্ষাপ্রাপ্ত, তার স্বর্গ নরক ভ্রমন, ভগবান কর্তৃক শক্তি সঞ্চয়, ঘোড়া চালনা, তীর নিক্ষেপ ও তরবারী পরিচালনায় পারদর্শীতার এ সমস্ত দক্ষতা দেখিয়ে গবেষক প্রমাণ করেছেন এ “কলকি অবতার” আরবের মোহাম্মদ সাহেব। তিনি লিখেছেন যে ভারতবাসী এখনও কল্কি অবতারের অপেক্ষায় আছে কিনতু ঘোড়া, তলোয়ার ও বর্শার যুগ অনেক আগেই অতিবাহিত হয়ে গেছে। বর্তমান হচ্ছে আধুনিক সমরাস্ত্রের যুগ। তার ভাষায় ইনিই মোহাম্মদ সাহেব যার উপর আসমানী কিতাব কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

লোম বাছতে কম্বল উজাড় করে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। আমার আহবান ছিল উদারতার, মানবতার, সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে। উপরের গবেষণা আমার নয়। একজন হিন্দু পন্ডিতের। সকল সংকীর্ণতাই উপড়ে ফেলতে পারলে কোন সত্যের মাঝে কোন সুন্দরের মাঝে কোন নোংরামি থাকতে পারে না। কোন সাম্প্রদায়িতকার ঠাঁই সেখানে নেই (প্রসঙ্গ গুজরাটের ধর্মান্ধতা: উচ্চবর্ণের হিংস্রতা,  নাজমা মোস্তফা” নামে লেখাটি ছাপে ০৩ অক্টোবর ২০০২ সংখ্যাতে, যায়যায়দিনের দ্বিতীয়মত চ্যাপ্টারে)। ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে প্রচার করে। এ হলো তার উত্তম নমুনা। তাদের এসব অপকর্মে অনেক খবরের শিরোনাম এভাবে আসে এসব দাঙ্গা নয়, পরিকল্পিত গণহত্যা।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

Compelling Evidence proves – Narendra Modi Ordered Gujarat Riots 2002

What Narendra Modi Did In Gujarat, 2002

সিলেটের শ্রী কানু দাস কেন/কীভাবে মোঃ আব্দুল আজীজ ?

নাজমা মোস্তফা,  ৬ মার্চ ২০১৬।

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: