Articles published in this site are copyright protected.

সম্প্রতি নিউইয়র্কে  সংবাদ সম্মেলন করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ। পরদিনই পত্রিকায় দেখলাম এটি না করার পক্ষে মত এসেছে। এখন দেখছি এটি ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে এক বক্তা শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছেন বেশ সাহসের সাথে যা অতীতে কখনোই করেন নাই। একই ভাবে শহীদ জিয়া বলাতে শহীদ কথাটির  অর্থ বোঝতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে, মনে হচ্ছে এর সুবাদে তারা ধর্ম বিতর্কে জড়িয়ে গেছে ! কারণ হিসাবে এক বক্তা প্রশ্ন রাখছেন জিয়া কোন ধর্মযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ? ভাল কথা ধর্মকথাটি শুনাবো, একজন মুসলিম হিসাবে এটি দায়িত্ব তাকে এর যুক্তিটি দেয়া। গরু হিন্দুর মা বা দেবতা হলেও এর দুধ মাংস মুসলমানদের হালাল খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত। ৯৫% মুসলিমের দেশে সেটি নিষিদ্ধ করার অধিকার নিয়ে দাঁড়িয়েছে এরা, এ আস্ফালনটি আমেরিকাতে দাঁড়িয়ে। সাথে ভারত তার দেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ আস্ফালন অনেক দিন থেকেই যুগ যুগ অবদি বলবৎ রেখেছে । তারপরও আমেরিকাতে কিনতু কেন এরকম একটি বায়না রাখছে না গরুর সেবকরা, সেটি বোধগম্য নয়। আমেরিকা মুসলিম প্রধান দেশ নয় বলে কি?

মুসলিমরা শুকর মদ খায় না। তারপরও যার যার মত সবাই খাচ্ছে। বাংলাদেশে মদের পাট্টাতে তার অনুসারীদের উৎপাত আমরা সারা রাত অনেক চিৎকার চোঁচামেচি শুনেছি সেই পাকিস্তান আমলেও, বাংলাদেশেও। তাছাড়া শুকর পোষেন খান, কারো কোন দায় নেই তা নিয়ে। সংখ্যালঘিষ্ট  মুসলিমরা ভারতে সব দিনই নির্যাতীত, বড় উদাহরণ ২০০২ গুজরাট, বাবরী মসজিদ। এত মুসলিম  গৌরবে ভারত সয়লাব তারপরও তাদের প্রকৃত গৌবরধারীকে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে প্রবল প্রতাপে। এবার কেন ফের বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশেও এভাবে সংখ্যালঘিষ্ট আক্রমণের শিকার তা মোটেও বোধগম্য নয়। বর্তমান সরকারই এদেরে লাই দিয়ে মাথায় চড়িয়েছে, অতীতে কোন সময়ই এ সরকারের বিরুদ্ধে কোন কথাই বলে নাই, যদিও অনাচারে দেশ সয়লাব। এর কারণ লাভের ভাগ সব সময়ই বড়ভাগে তারা পেয়ে আসছে। মাত্র হাতে গোনা পার্সেন্টেজের স্যংখালঘু হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ তাদেরে সারা দেশে প্রশাসনে এমনভাবে ঢুকিয়েছে, যার কারণে খুশীর অতিশয্যে তারা আজ চোখে আন্ধার দেখছে ! বলা হচ্ছে তাদেরে জোর পূর্বক ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে ! মিথ্যাচারের সীমা থাকাটা ভাল। কারণ একজন নিরপেক্ষ সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে অবলোকনে রত, ওখানে বালি পরিমাণও ছাড় মিলবে না। বাংলাদেশে মুসলিম সংকট দেখা দেয় নি যে তারা ধর্মান্তর করে পরিসর বাড়াবে, যা তারা জীবনেও করেনি ! ওটি করাতে লাভ কি, গরুর মাংসে ভাগ বসানো ছাড়া আর বাড়তি কতটুকু জমবে ?

বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে কোন সাম্প্রদায়িক দ্বন্ধ নেই, যা ভারতে আছে। দুটি সত্য কথা ঐ সম্মেলনে স্পষ্ট হয়েছে তা হচ্ছে, অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে সরকার অপকর্ম করছে । এমনভাবে তাদের অন্যায়ভাবে নিয়োগ দিয়েছে, এটি সর্বশ্রেষ্ঠ শত অন্যায়ের একটি বড় অন্যায় ! দ্বিতীয় কথাটি ভয়ে সম্পাদক ও সংবাদকর্মীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না ! এটি কিনতু আজই নতুন নয় ! সত্য কথা বলার অপরাধে একজন সম্পাদককে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে, কয়জন সংখ্যালঘু বা তাদের সংস্থা এর বিচার চেয়েছিলেন, জানতে ইচ্ছে করে? এদের সততার দাগ ইতিহাস রাখার অবদান বড়ই কম। ঐ রেকর্ড তারা দেখাতে পারবেন না। তারা দাবী করছেন পৃথক পৃথক বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। তার মানে ঢাকা হিন্দু বিশ^বিদ্যালয়, ঢাকা বৌদ্ধ বিশ^বিদ্যালয়, ঢাকা খৃষ্টান বিশ^বিদ্যালয় করতে হবে। একটি লাইন বলি আমরা যখন হোস্টেলে ছিলাম আমাদের কলেজ হোষ্টেলে কোন সময় গরুর মাংস আনা হতো না কারণ হিন্দুরা খায় না। মাছ, ডিম মুরগী এই ছিল আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার হিসাব, আমি সিলেট উইমেন্স কলেজে পড়েছিলাম। আমরা সবাই এক টেবিলে বসে খেয়েছি, যদিও আচার ঘটিত জটিলতাতে কম বেশী ভোগান্তি হলেও আমরা নিরীহ পক্ষ। বরং আমার রুমমেট পদ্মদি ছুড়ে ফেলে দিতেন যদিও বা মেঘলা দিনে আমার শাড়ীর আচল পদ্মদির পাশ ছোঁয়ে যেত। তার বড়ই ছুৎমার্গ জাত। আমারটা বড় শক্ত জাত, শত ছোঁয়াছুয়িতেও যায় না। বাংলাদেশ পাকিস্তান আমলেও পদ্মদিদের গরম সবদিনই একটু বেশী। আজও সে গরম বাতাস অনুভূত হচ্ছে !

২০০৩ সালের ২৭ জুন সংখ্যাঠিকানাপত্রিকার এক লেখাতে দেখি একজন সংখ্যালঘু আবদার রেখেছেন, এখনো সময় আছে সংবিধান পরিবর্তন করুন এবং ভারতের সাথে মিলেমিশে চলুন। তা না হলে পরিণাম ভালো হবে না। এসব হুমকি ধমকি চলছে বেশ দিন থেকে, এখন মনে হচ্ছে পালে বেশ বাড়তি হাওয়া লেগেছে ! সোহরাওয়ার্দি উদ্যান যেন বাবরী মসজিদ, হিন্দু মন্দির দখলের প্রতিবাদ তুলা হয়েছে সম্মেলনে, যার ভিত্তি বড় দূর্বল। ১৬১০ খৃষ্টাব্দে সুবেদার ইসলাম খাঁর মহল্লা চিশতিয়া ও মহল্লা সুজাতপুরের পুরো এলাকাই মুসলিম অধিকৃত থেকে পরবর্তীতে ফার্সি শব্দ “রমনা” নামকরণ হয় সেনাপতি ইসলাম খাঁর সুবাদে। দাবী উঠছে এমন যেন ওটি আনন্দময়ী নামের এক কর্মচারীর স্ত্রীর নিজস্ব জমি ! যদি ওখানে কোন মন্দির থেকে থাকে সেটিও মুসলিমদের বদান্যতা, নয়তো যেভাবে হিন্দুরা মুসলিম নিন্দাবাদে দক্ষ ওটির কোন নাম গন্ধও থাকার কথা নয়। জগৎশেঠ রায়দুর্লভরা এদেশের মালিক ছিল না কিনতু মিথ্যাচারে অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে একদিন মালিক হয়ে বৃটিশের হাতে সব তোলে দেয়। তারা প্রচার করে তলোয়ারের জোরে ইসলাম প্রসার লাভ করেছে, এসব আগা গোড়াই মিথ্যাচারে ভরা। প্রমাণ চাইলে অজর্স জমা করা সম্ভব। এ ধর্মে এসব কুরআন দ্বারা নিষিদ্ধ, তাই মুসলিমরা ওটি করতে পিছপা হয়, নইলে হয়তো কিছু করতো। বরং বিধর্মীরা যারা খাদে বাস করতো, তারা গভীর খাদ থেকে উঠে ছুটে আসতো পাগলের মত মুসলিম ময়দানে। কারণ এটি মানুষের ময়দান। উদাহরণ বেশী দূরে নয়, এইতো ১৯৮১ সালে ভারতে দশ হাজারেরও অধিক মিনাক্ষীরমে হরিজনের ধর্মান্তর, কেউ তাদের জোর করে ধর্মান্তর করেনি। আপনারা মাথা ঠান্ডা করুন ! মানুষের ময়দানে যোগ দেন !

সব সময়ই ভারতে এটি করা হয়েছে বহুগুণীত ভাবে, একটি সূত্র আনছি যেখানে সারা দেশে আজো ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের গৌরবকে মিটিয়ে দিতে মুর্শিদাবাদের মুসলিমদের পুরষ্কারের পরিবর্তে মিরজাফরের জাত বলে তিরস্কৃত করা হয়”(বাজেয়াপ্ত ইতিহাস, ৬৫ পৃষ্ঠা, আল্লামা গোলাম আহমাদ মর্তুজা) ডক্টর দীনেশচন্দ্রের লেখা উদধৃতি, রামায়ণ ও মহাভারতের মত মহান গ্রন্থগুলো সর্বপ্রথম অনুবাদ করেছিলেন রাজা হোসেন শাহ, পরগাল খাঁ এবং ছুটি খাঁ। সেখানে বাংলা কুরআনের অনুবাদের কথাও এসেছে, কিনতু ঐ অনুবাদের সূত্রে মুসলিমদের নাম কতটুকু শুনেছেন জেনেছেন, তবে কুরআন শরীফ অনুবাদ করেন বাবু গিরিশচন্দ্র সেন এটি মনে হয় চোখ বন্ধ করে বলা যায় সবার জানা। এর কারণ কি? এর কারণ বিপক্ষের সংকীর্ণ মানসিকতা আর পক্ষের মানুষের চেতনহীনতা। এ উভয় অপরাধে আজ বিজ্ঞ জনেরা ময়দানে মৃত। দুনিয়ার মালিক সবার অন্ধকার দূর করুক। দেশটি চারদিকে হুমকির মুখে, তারপরও একজন নিরপেক্ষ দর্শক দুনিয়ার মালিক সব অবলোকন করছে। সেই ভরসা সবারই বড় স্বান্তনা।

স্বাধীনতার যুদ্ধে সেই ফকির বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ, মুসা শাহ, চেরাগ আলী, ফেরাগুল শাহ, ফারায়েজী আন্দোলনের নায়ক হাজী শরিয়ত উল্লাহ, দুদু মিয়া, বাশের কেল্লার অমর শহীদ নিসার আলী তিতুমির সহ তার অসংখ্য সৈনিক, সিপাহী বিপ্লবের মহানায়ক বাহাদুর শাহসহ মুনসি মেহেরূল্লাহ, পাগলা টিপু, স্যার সলিমুল্লাহ, নওয়াব আলী চৌধূরী, মওলানা আকরাম খাঁ, মওলানা মনিরূজ্জামান ইসলামাবাদী, কাজী মিয়াজান, হাবিলদার রজব আলী, কাজী নজরূল প্রমুখ তাদের কীর্তি দিয়ে ইতিহাসে অবস্থান করে নিয়েছিলেন। 

সেখানে কোন সংকীর্ণতা ছিল না, অন্তরে গাঁথা ছিল সত্যের বাণী, কন্ঠে ছিল আল্লাহর অমোঘ সাহসের স্বীকৃতি, তাই ন্যায় যুদ্ধের সৈনিক তারা হয়েছিল। তাদের অবমূল্যায়ন করে যে অপরাধ করেছে এ যাবত দেশবাসী তার জন্য আফসোস করার সময় এসেছে। এরা ছিলেন সত্যের সৈনিক, সত্যের শহীদ। এদের নাম শহীদের খাতায় লিখে রেখেছে স্বয়ং দুনিয়ার মালিক আল্লাহ। এরা যে অবহেলায় অমোঘ সত্য মুমূর্ষ সময় পার করেছে আজ তাদের বজ্র কঠিন আদর্শে উজ্জীবিত হবার সময় এসেছে, অতীতের গাফেলতির জন্য তওবা করারও সময় পার হচ্ছে। সেদিনের আলোকে শহীদের পরিচিতি স্পষ্ট করতে কুরআনের কিছু অমৃত বাণী। “আর যদি তোমরা মারাই যাও বা তোমাদের কাতল করা হয়, নিঃসন্দেহ আল্লাহর কাছে তোমাদের একত্রিত করা হবে।” (আল-ই-ইমরানের ১৫৭ আয়াত ) “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের বল না মৃত বরং (তারা) জীবন্ত, যদিও তোমরা বুঝতে পারছ না” (সুরা বাক্কারাহএর ১৫৪ আয়াত)। “আর যাদের আল্লাহর পথে হত্যা করা হয়েছে তাদের মৃত ভেবো না বরং তাদের প্রভুর দরবারে (তারা) জীবন্ত, (অফুরন্ত) তাদের রিজেক। তারা আনন্দ করবে আল্লাহর কাছ থেকে অনুগ্রহের জন্য এবং করুণাভান্ডারের জন্য; নিঃসন্দেহ আল্লাহ বিশ^াসীদের প্রাপ্য বিফল করেন না” (সুরা আল ইমরানের ১৬৮/১৭০ আয়াত)। সত্য আলোতে সবাই উদ্ভাসিত হোক।

Andolon News | 18 Jan 2017 | শেখ হাসিনার ছাগল সরকারের আমলে মানুষের নয় উন্নয়ন হয়েছে ছাগলের।

নাজমা মোস্তফা,  মার্চের ২ তারিখ ২০১৬ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: কিছু বানান জটিলতার জন্য দুঃখিত।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: