Articles published in this site are copyright protected.

Archive for March, 2016

২০০১ সালের ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ জানান দেয় বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ

 

লেখাটিতে একটি যুদ্ধ অনেকগুলি কঠিন কষ্টের প্রশ্ন জমা আছে পাঠকের জন্য, মন দিয়ে পড়বেন, প্রশ্নগুলি ভুলে যাবেন না। ২০০১ সালের এপ্রিলের ১৫ তারিখে ১০০০ বাংলাদেশী সৈন্য সিলেটের তামাবিল বর্ডারের দিকে পার্দুয়া গ্রামে ভারতীয় আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেয়। বিএসএফ সচরাচরের মত অকস্মাৎ দলেবলে ৩১ সদস্যের হামলা ঘেরাও অভিযান চালায়। বাংলাদেশী সৈন্যরা অভিযোগ করে স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত জায়গা বেআইনীভাবে দখল করে রেখেছে। বিডিআর সব সময়ই দখল ত্যাগের দাবী জানিয়ে আসছে। এপ্রিলের ১৭ তারিখে বাংলাদেশ বিডিআরের ডিরেক্টর জেনারেল ফজলুর রহমান তাদের দাবীর উপর দখল পুনরুদ্ধার করেন। 

ভারতের এ ধারার অনাচার কোন সময়ই থেমে নেই। প্রতিনিয়ত বর্ডারে মানুষ মারছে , সাধারণত মিডিয়া এসব প্রচারও করে না। কারণ আমি তখনকার বাংলাদেশে একাধিক পত্রিকা ঘেটেও  এসব খবর খুঁজে পেতাম না। তার জন্য সংগ্রাম পত্রিকাটির পাওনা অনেক বেশী। তারা অকপটে দেশের স্বার্থকে সব দিন উচ্চে তুলে ধরেছে ! ইত্যবসরে ১৫-১৯ এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধের পর সংগঠিত হয় এক অবিস্মরনীয় “ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ”, এর খবর কয়জন রেখেছেন?  ঐ সময়ের একটি লেখার উদাহরণ টানবো “ভারত ও ভারতীয় তাঁবেদারদের বুঝতে হবে বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ” লেখক আবু আখতার চলমান প্রসঙ্গ, দৈনিক সংগ্রাম ছাপে ০৩ মে ২০০১ সাল। এ শতাব্দীর শুরুর এ লেখাটি যুদ্ধের একটি বড় প্রমান স্পষ্ট করে এভাবে যে কুড়ীগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ীতে এ “বাংলাদেশ ভারত যুদ্ধ” সংগঠিত হয়। খুব সচেতন ছাড়া সবার কাছ থেকে বেশ আড়াল করে রেখেছে তখনকার সরকারসহ সরকারের অনুগত মিডিয়া। ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। ঐ সময় থেকেই তারা বাংলাদেশ বিরোধী কাজে বিস্ময়করভাবে বড়দাগে অবদান রেখে চলেছে !  ঘটমান সময়ে ঐ সরকারের এ ধারার আচরণে বিস্মিত হয়েছি বহুগুণ বেশী !

১০জন বিডিআর রৌমারীতে এক ক্যাম্পে সীমান্ত তদারকি করতো। এই ক্যাম্পের দশ বিডিআর ভারতের ৩০০ বিএসএফকে শুধু রুখেই দেয়নি, আক্রমণকারীদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির মুখে ভারতে হটিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় এটি স্পষ্ট হয়ে পড়েছে এই বাংলাদেশের হাজার বছরের লালিত সংগ্রামী মনোবল দুদুটো স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রত্যক্ষ ইতিহাস অভিজ্ঞ জনতার অংশ এরা। উপরে আবু আখতারের লেখাটির সূত্র টানলাম এজন্য যে, এটি একটি দেশের পক্ষ থেকে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ করতে পেরেছিল, যা ছিল অনেক সচেতনের  কাছে অবহেলিত একটি  পত্রিকা। এই পত্রিকা সব সময় ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ করে এসেছে জোর গলাতে, দেশপ্রেমিকের উত্তম উদাহরনীয় স্বাক্ষর রেখে ! পাশাপাশি আরো অনেক পত্রিকায় এসব ঘটনা মেলাতে চাইতাম কিন্তু কোথাও ঐসব ব্যতিক্রমী সার্বভৌমত্ব সংকটের  বিষয় খুঁজে পেতাম না, যা আমাকে কেন জানি বরাবরের মতই বিস্মিত করত ! এখন বুঝি নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্যই এসব করে দেশকে দেউলিয়াত্বের দিকে ঠেলে দেয়াই ছিল এর মূল কারণ ! একটি দেশের সার্বভৌম সংকটেও যারা চুপ করে থাকে,  কপটরাই ঝাপসা চোখে দেখে, জোরে শব্দ উচ্চারণে ভয় পায়, এরা কপট সরকারের বা শক্তির দালাল হলেও সত্যের শত্রু !  ঘটনার বছর পর বিডিআর বিদ্রোহ হয় ২০০৯ সালে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতেইসরকারের সহযোগিতায় ঐটি ছিল বড়াইবাড়ীতে মার খাওয়া কাপুরুষ ভারতের জবাবএর স্বপক্ষে অসংখ্য যুক্তি স্পষ্ট হয়ে আছে।

ঐদিন আওয়ামী সরকার দেশের এমন সংকট সময়ে কি করেছিল? উল্টো ভারত তোষণে ব্যস্ত ছিল ! অতীতের পাতা উল্টে দেখুন ! সেদিন ১০ বিডিআর ভারতের আগ্রাসনের মুখে আত্মসমর্পণ করেনি বরং ৩০ বছরের উত্যক্ত করার একটি ক্ষুদ্র জবাব দিয়েছিল, ময়দানে সংগ্রামী তিন বিডিআরের কুরবানীর মাধ্যমেসবাই জেনে নিন ঐ বীরদের নাম, এরা মোটেও স্বঘোষিত বীর গভর্ণর আতিউর নন, তার চেয়ে বহু উঁচুতে তাদের অবস্থান ! অনেকে মন্তব্য করছেন আজকাল তদবির করেও পুরষ্কার আদায় হয়, তা নিয়ে আবার বীরেরা বড়াইও করেন। আজ এমন একটি সময় দেশ পার করছে যখন একজন প্রধানমন্ত্রী অবৈধ ক্ষমতা জোর করে ধরে রেখে লজ্জার মাথা খেয়ে জোর গলাতে বলেন, “বাধা অতিক্রম করেই এগিয়ে যাব”।  এরা কেমন করে প্রকৃত বীরের মর্যাদা দিবে ?  বীরেরা এসব নকলদের সাটিফিকেটের জন্য বসে নেই, কিন্তু অদেখা বিধাতা নিশ্চয়ই তাদের ঐ মর্যাদার অংশীদার করেছে, করবে !  তখনকার সরকার আজো ছলের গদিতে, অর্জিত বীরের মর্যাদা আজো অধরা ! একজনের প্রাপ্য অর্জন কেন দেয়া হয়নি, স্বীকারও করা হয়নি সে প্রশ্নটি মনের মাঝে জমা রাখবেন ! তারা হচ্ছেন ল্যান্স নায়েক মোহাম্মদ ওয়াহিদ, সিপাহী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং সিপাহী মোহাম্মদ আবদুল কাদের। ঐ সময় তাদেরে বীর শ্রেষ্ঠ খেতার দেয়ার দাবী উঠেছিল, সরকার তাতে কর্নপাত করে নি ! ওটিও মনের মাঝে জমা রাখবেন, এ দাবী জনতার দাবী, আপনারাই পূরণ করবেন !

তাদের গার্ড অব ওনার দিলে, জাতীয়ভাবে জানাজা করলে কি সরকার ভিখেরী হয়ে যেত? বলতে হবে বাস্তবে, তড়িঘড়ি তাদেরে মাটিচাপা দেয়া হয়। ওরা ছিল ৭১ পরের “ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ” ময়দানের প্রামাণ্য শহীদী লাশ !  জাতি যেন কোনদিনও তাদেরে ভুলে না যায় ! বিটিভির ক্যামেরা সবদিন দালাল হয়ে নাম করেছিল বলে সেদিনও  মৃতের ভূমিকায় ছিল ! সেদিন সীমান্তে গুন্ডামী করে যারা গ্রামে আগুন ধরিয়ে দিল তাদের  ব্যাপারে কেন সরকার চুপ ছিল ? জনগণের স্বতসফুর্ত হরতালকে শক্তির দাপটে চাপা দিয়ে রেখে প্রচার করে সব স্বাভাবিক ! যারা এই সেদিনও আজও নিজেরা কখনো পেট্রোল বোমায় মানুষ মেরে পয়সা বন্টন করে, হাসপাতালে ভিডিও সেশন করে ও নানান কসরতে সরকারী কোষাগার শূণ্য করছে। দেশবাসী কি ভুলে গেছেন সেদিনের কিছু দলীয় লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, অঙ্গসংগঠন, কলামিস্ট, নাট্যগোষ্ঠী, নাট্যকার, নট নটীরা কার এজেন্ট ছিল ? আজও তারা বিডিআর ধ্বংস করেও পুনরায় সরব, একই স্বরে তাদের গ্রামোফোন চড়া আওয়াজে আজও বেজে চলেছে ! প্লিজ এদেরে চিনে নিন, এরা কার এজেন্ট, এরা কিভাবে একটি জাতীর মজ্জা চুষে খাচ্ছে !  কিন্তু বাস্তব ঘটনা হচ্ছে সেদিন ভারতীয় বিএসএফরা  এমন অপকর্মে বাংলাদেশীদের প্রতিবাদী সাহস দেখে হতবাক হয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিল ! তারা মাপতে পারেনি মুসলিমরা ১৪০০ বছর থেকেই অমানবিক, অসত, নষ্ট ও মিথ্যার সাথে লড়াই করে চলেছে। জগতের নষ্টকে স্তব্ধ করতেই তাদের জন্ম এ ধরাতে ! নীতির সাথে সততার সাথে তাদের সবদিন বসবাস, কোলাকোলি, অস্তিত্ব নিয়ে বেঁচে থাকাই তাদের স্বপ্ন !

দেখা যায় কুড়িগ্রামের রৌমারীর সমসাময়িক সময়েই ঘটেছিল সিলেটের পার্দুয়ার পদক্ষেপ ! পড়শির বাড়ী দখল তাদের আগ্রাসী স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে, আজো সে স্বভাব বহাল। দিনে দিনে বেড়েই চলেছে, কারণ আজ ময়দানে পাকিস্তান যেমন নেই, বিডিআরও নেই। দাঁত নখ ভেঙে বিজিবি করে তাদেরে এমন আকৃতি দেয়া হয়েছে যাতে ভারতীয় বিএসএফ আগ্রাসন চালাতে পারে ! এ হচ্ছে বিএসএফের গ্রহণযোগ্যতা ! স্মরণ রাখার বিষয় বিডিআরকে মোকাবেলা করার সাহস তাদের হয়নি কোনদিনও ! আজ সেই সাহসে ভর করে প্রায়ই মানুষ মারছে হামলে পড়ছে পড়শির অঙ্গনে।  সেদিন পার্দুয়ার উপর সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে একটি মিথ্যে খবর প্রচার করা হলো ত্রিশ বছর পর সিলেটের পার্দুয়া পুনর্দখল করেছে বিডিআর। যদিও বাস্তব খবরটি হচ্ছে বহুগুণ ভয়ঙ্কর, পার্দুয়া ছেড়ে এসেছে বিডিআর ! এমন খবরে ময়দানের জনগণ কেঁদেছিল, ওটি ছিল সরকারের ঐ সময়ের একটি আইওয়াশ মাত্র ! কোনভাবেই বড়াইবাড়ীর বাড়াবাড়ির বিষয় সরকার প্রতিবাদ করেনি, নাড়েনি। কারণ এটি বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষুদ্র বিডিআর ক্যাম্প যে এত অপ্রতিরোধ্য হতে পারে এটি তাদের চিন্তার মাঝেও ছিল না। ধারণা হয় এটি সংগঠিত হয় তখনকার ছলবাজ সরকার ও ভারতীয় সমঝোতার ভিত্তিতে, উভয় পক্ষই ভাবে নাই প্রকৃত নাটক যে যুদ্ধরুপ ধারণ করবে ! তারা ভেবেছিল ৭১এর মতই এটি বনধুত্বের ছায়াতলে স্বার্থক হামলা করা সম্ভব হবে । কিন্তু তারা ভাবে নাই ৩০ বছর থেকে মার খাওয়া বাংলাদেশীরা ৭১ এ আটকে নেই। ইতমধ্যে তারা ২০০১ পার করছে, ভারতকে হাড়ে হাড়ে চিনে নেবার জ্ঞানে অভিজ্ঞ হওয়ার সুযোগ কম সৃষ্টি হয়নি ! ঐ সময়ও এ সরকার ছিল মাত্র ৫ বছর অপকর্মের দাগে ভরা আচরণ ধন্য ! এখন ক্ষমতা দন্ড ধরে রাখছে চিরকালের জন্য ! এসব অংক হেলাফেলার বিষয় নয়, এ জটিল অংক মেলানো সময়ের দাবী!

জনগণের দৃষ্টি ফেরাতে এই অপকর্মী সরকার সবদিনই এসব করেছে নিজের বুদ্ধিতে নয়, ভাড়াকরা দালালি বুদ্ধিতে। জাতিকে স্পষ্ট করে বুঝতে হবে এ লেন্দুপ কখনোই বাংলাদেশের স্বার্থ দেখে নি, দেখেছে বড় করে ভারতের স্বার্থ ! মনে রাখার বিষয় বড়াইবাড়ীর সংগ্রামী আচরণে বিহবল ভারত বসে নেই, ঐ মনের খেদ মিটাতে সমানেই বর্ডারে শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে এবং আজো চলছে লাগাতার ভাবে। ঐ সময় ২০০১ সালের ২৬ এপ্রিল বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তপন সিকদার প্রকাশ্যেই বলেন, আমাদের ১৬ জোয়ানকে বাংলাদেশের বিডিআর যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, এর ক্ষতিপূরণ না করলে বাংলাদেশের ভাগ্যে অপেক্ষা করছে এক বিরাট ব্যবস্থা (সূত্র: ২৭/০৪/২০০১, ইত্তেফাক) । প্রশ্নগুলি দেখুন, তখন কোন জবাবও চায়নি তখনকার আওয়ামী সরকার !  সেদিন কেন তারা পার্দুয়া ছেড়ে দিল ? কেন তারা একটি স্বাধীন দেশে আতর্কিত আক্রমন করে ? ইতিপূর্বে কেন ৫০জন বিডিআরকে হত্যা করা হলো ? কেনই বা বাংলাদেশের তিনজন শহীদ হলো ? কেন সীমান্তে লুট, ঘরদুয়ারে আগুণের মহড়া ? সেদিনও হিসাবের মাঝে ৫,০০  জনতা কেন বিএসএফের হাতে হত্যার শিকার ! যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার গীত গাইছে এরা মূলত পলাশীর মিরজাফরী ধান্ধাতে সময় পার করছে। এরা সর্বহারা দেউলিয়া দালাল প্রজাতি ! এরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূল্য বুঝে কম, কপট দালালরা সবদিন ব্যস্ত  থাকে নিজের নষ্ট স্বার্থ নিয়ে ! জনতারা স্মরণ রাখবেন পাকিস্তানের প্রহরায় ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান রাইফেল্স এর সীমান্ত রক্ষার গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস ছিল, কোন দিন তারা যা সাহস করেনি আজ খুব বুকের পাটা বেড়েছে !  আওয়ামী সরকার ও মুজিব কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশের ভাবমূর্তির অপূরণীয় ক্ষতির জন্য শক্তভাবে দায়ী ! জমা প্রশ্নগুলো প্রশ্ন নয়, জীবন মরণের দলিল মাত্র !

শেখ মুজিব হত্যা /Sheikh Mujib Tragedy – 15 August 1975: Part 2 (Jasod-Inu & Ershad)

 

সেদিন কেন বাংলাদেশ পর্বে পূর্ব পাকিস্তানের সীমানা পিলারগুলো সরিয়ে ফেলা হলো ? কেন বাংলাদেশে বঙ্গভূমি আন্দোলন ? কেন পার্বত্য চট্টগ্রামের একাংশকে নিয়ে স্বাধীন দেশ বানানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ ? কেন বাংলাদেশের গড়ে উঠা ব্যবসা বানিজ্য, শিল্প কারখানা শিক্ষা সংস্কৃতি ভারতীয় মিত্রদের আগ্রাসনের স্বীকার ? কেন মুসলিম প্রধান একদল মানুষের উপর ভারতীয় পুরিয়া ধর্মনিরপেক্ষতা জোর করে চাপিয়ে দেয়া ? পাকিস্তানের সময় পাওয়া ন্যায্য পাওনা ভূমি কেন বাংলাদেশ সময়ে ভারতের কাছে চাওয়া হয় নি ? নেহরু প্যাটেল, এম কে গান্ধী ও মাউন্ট ব্যাটনের সেই সুরভিসন্ধি বের করা হচ্ছে না কেন ? এসব চাপের মাঝে রাখার জন্যই কি উল্টো ভারত বাংলাদেশকে বাড়তি চাপের মাঝে রাখছে ?  কাঁটাতারের বেড়া কি বাংলাদেশ থেকে একতরফা আক্রমণের সুবিধা অর্জনের জন্য সাজানো নয় ? ১৯৪৭ সাল থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুসলিমরা কেন ভারতের পায়ের তলে মার খাচ্ছে ? শুধু মুসলিম হওয়াই কি তাদের অপরাধ ? বাংলাদেশের স্বাধীনতার পাশাপাশি কাশ্মীরের স্বাধীনতা কেন মূল্যায়ন পায় না ? আগ্রাসন কি আজকের যুগের কোন হাতিয়ার হতে পারে ? না, কোনভাবেই পারে না ! আর ভারত ঐ পথেই আছে ৪৭ থেকে ৭১ এবং ৭১ থেকে ১৬। একটি স্বাধীন অস্তিত্ব নিয়ে বেঁচে থাকা দেশের উপর এত লোভ কেন ভারতের ? যুদ্ধ করে বিডিআরের সাথে টিকতে না পারাতে তাদেরে বাধ্য করে লেন্দুপীয় কসরতে পরিবর্তিত করা হয় বিজিবি, তাদের অনুগত দাস, এসবের কি জবাব ভারতের হাতে ও ষড়যন্ত্রী আওয়ামী সরকারের হাতে ? কেন ভারতের টাকাতে প্রতিবেশীর বুকে ছোবল মারার কসরত বহাল রাখা ? ওদিকে আবার বিডিআর মোকাবেলাতে ব্যর্থ হলেও কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা জওয়ানরা মুসলিম নারীদের ধর্ষন করাতে দক্ষ। ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার এক নেতা কানাইয়া কুমার প্রকৃত সত্য প্রকাশ করলে তার জিভের দাম হাঁকা হয় ৫ লাখ রুপি আর মারতে পারলে ১১ লাখ রুপি পুরষ্কার হাঁকা হয়েছে (নয়াদিগন্ত, ০৯ মার্চ ২০১৬, খবর সূত্র ওয়ান ইন্ডিয়া)। বন্ধু নামের ভারত কে এবং কি, সেটি আজো কি বুঝার সময় আসেনি? 

ইন্ডিয়া আমাদের দেশকে কিভাবে তিলে তিলে ধংস করছে শুনুন । Dec 23, 2016.

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই উপরে।

যে দেশে গণতন্ত্র মৃত, আদালতের কোন বাছবিচার নেই, নির্বাচন কমিশনের কোন নীতি নেই, সে জাতিকে নতুনভাবে কিছু ম্যাসেজ দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি বিচারের জন্য নয়, ধারণা হয় জাতির আইওয়াশের এটি আর এক অল্প চিত্র মাত্র ! যে আসামী ঘটনার দিনে প্রমান পাওয়া যায় ওখানে যাননি, তা প্রমাণের পরও ফাঁসি বহাল রাখা কি বিচারকের সততার পরিচয় ? তখন সিনহা বাবুদের  নজর ম্যাসেজে থাকে না, চলে যায় শাহবাগী তালে বিরিয়ানীর আদলে বিচার কর্ম প্রতিষ্ঠায় ! ব্যাংক লুটের কারসাজিতে প্রধানমন্ত্রী দেখা দেননি, পদত্যাগ করতে হচ্ছে দুই মন্ত্রীকে ! এটি কি সৎ প্রধানমন্ত্রীর সততার নমুনা ? এতে দেশের লাভ কতটুকু জমা হবে? তার বদলে যদি অযৌক্তিক দন্ড ধরে থাকা প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতেন জাতি অনেক বেশী ম্যাসেজসহ উপকার জমা করতে পারতো। বড় চোর রেখে ছিচকে চোর সরালে কি শুটকির ভাগাড় নিরাপদ হয় ? মোটকথা এরা হচ্ছেন নিয়োগপ্রাপ্ত ভাড়াটে ভিলেন, থাকলেই কি আর গেলেই কি ? এরা হচ্ছেন আতিউরের আদলে গদি দখল নাটকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় নাটকীয় স্ক্রিনশট বলি ! কিন্তু মূল নায়ক দেশটির নরবলী না হওয়া পর্যন্ত থাকবেন আমরণ অভিনয়ের দৃশ্যপটে !!!  

নীচের লিংকটিতে পরবর্তীতে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিডিআর বিদ্রোহের ধারাবাহিকতা ছিল ভারতীয় থাবার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষর। বিডিআর বিদ্রোহের বাস্তবতাঃ বাংলাদেশের চোখ দিয়ে দেখলাম,  সেখানে লুকিয়ে আছে পাঠকের জন্য অনেক অজানা তথ্যভান্ডার।

নাজমা মোস্তফা,  ২৬ মার্চ ২০১৬ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: দুঃখিত, দালালরা যাদের গায়ে ঘা লাগছে তারা এসব ভিডিও সরিয়ে দিচ্ছে। এখন আর মূলে নেই। কিন্তু প্রমান হিসাবে দাগটা জ¦ল জ¦ল করে জ¦লছে। 

Advertisements

বাংলাদেশ কি আকবরের দীন-ই-এলাহীর উত্তরসুরি?

বর্তমান বাংলাদেশ আকবরের আদর্শ উদাহরণ অনুসরণ করছে কি? বেশ ক বছর আগে অমর্ত্যসেন আবদার রেখেছিলেন মুসলিমরা যেন আকবরকে অনুসরণ করে। আজ আকবরের চালচিত্র নিয়ে একটু কথা না বললে নয় ! খুব সংক্ষেপে বলবো তিনি কি করেছিলেন। হিন্দুদের তিনি খুব পূজনীয় ছিলেন কিন্তু মুসলমানের কবর তিনি রচনা করেছিলেন ! তিনি এক নতুন ধর্মের প্রবর্তন করেন তার নাম “দীন-ই-এলাহী”, এ ধর্মে করণীয় = সূর্য্যপূজা বাধ্য / আকবরকে খলীফাতুল্লাহ প্রচার বাধ্যতামূলক / পর্দাপ্রথা রহিত/খতনা নিষিদ্ধ /  কবর দিতে কাবার দিকে পা দিয়ে শায়িত করতে হবে নয়তো কবরের দরকারই নেই নয়তো গমের প্যাক বা ইট বেধে পানিতে ফেলে দিতে হবে / গরু মহিষ মেষ উট খাওয়া নিষিদ্ধ করে বাঘ ভাল্লুক, সিংহ খাওয়া চলবে /  গরু ব্যবহার কোরবানী নিষিদ্ধ / আজান, জামাত নামাজ নিষিদ্ধ / হজ্জ্ব নিষিদ্ধ / কুকুর ও শুকরকে আল্লাহর কুদরত মনে করতে হবে / কুরআন অবিশ^াস করতে হবে / পুনরুত্থান ও শেষ বিচার অস্বীকার করতে হবে / প্রজা কর্তৃক সেজদা প্রবর্তন / সালামের পরিবর্তে আল্লাহু আকবর বলা / সালামের উত্তরে জাল্লা জালালুহু / (স্মরণযোগ্য আকবরের নাম ছিল জালাল উদ্দিন আকবর) /  জুয়াকে বৈধ করা ও সরকারী সহযোগিতা দান / মদ সুদ বৈধ /  দাঁড়ি মুন্ডন বাধ্যতামূলক / মুতাহ বিবাহের নামে এক অনাচারী মেয়াদী বিয়ের প্রচলন করেন / ফরজ গোসল রহিত / ইত্যাকার অবদানে ধন্য আকবরকে সব সময় ভারত ‘মহামতি’ বলেই প্রচার করে বড় গলাতে। যদিও বাকী বহুজন মুসলিম সজ্জ্বনের গায়ে কলঙ্ক তিলক লেপে দেয়া ! অমর্ত্যসেনের মত তখনকার হিন্দুরা বেজায় খুশী আকবরের এবম্বিদ উদাহরণে ! তারা খুশীর অতিশয্যে তার নাম দেন দিল্লিশ^র ও জগদ্বীশ^র, ওনামেই তারা তাকে ডাকে। তারা অনুরোধ করেন আকবরের আগে আবার আল্লাহ কেন ?  উত্তরে তিনি বলেন, মুসলিমদের জন্য আমিই আল্লাহ। তারপরও তারা নাখোশ হওয়াতে তিনি ওদুটো বাদ দিয়ে সালামের নতুন “আদাব” শব্দ ব্যবহার করতে আদেশ দেন । এরপর হিজরী সন বাতিলের অভিযোগ উঠলে তাও করা হয়। তাদের যুক্তি হচ্ছে কোন হিন্দু ওটি করলে আপত্তি উঠতো আর এটি করা এত সহজ ছিল না ! কিন্তু আকবর করাতে সাপও মরলো লাঠিও ভাংলো না।

“জনতার কথা” Real Public Voice

 

আকবর মসজিদগুলোকে গোদামঘর ও প্রজাদের ক্লাবঘরে রুপান্তর করেন। কিছু মসজিদ হিন্দু প্রজারা ভেঙ্গে ওখানে মন্দির নির্মাণ করেন। আকবরের কাছে মুসলিমরা এর প্রতিবাদ করলে তিনি জবাবে বলেন, মুসলমানদের এর প্রয়োজন ছিল না। থাকলে ভাংগা সম্ভব হতো না। মন্দিরের প্রয়োজন, তাই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। তার যুক্তি ছিল দুটোই ধর্মস্থান। মসজিদের বদলে মন্দির অসুবিধা কোথায়, তাই নতুন মসজিদ নির্মাণ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেদিন নবী মোহাম্মদ (সঃ) ছিলেন আকবরের প্রতিদ্বন্দ্বী ! এছবাতুন নবুয়ত, রিসালায়ে তাহলীলিয়া, মুনতাখাবুত্ত ওয়ারিখ, Mujjadis Conception of Towhid, `Awn-ul-Mabud’ `Kalematul Hoque’    এসব গ্রন্থ এসব সাক্ষ্যে ভরপুর। যদিও ভারতের চলমান সাহিত্যে এসব অনুপস্থিত, মহামতির এসব সুবাস চেপে রাখা। এত উল্লম্ফন ভালো না ! আকবরের শেষ পরিণতিটা একটু পরখ করে নেই। ১৫৭৯ সালে ফতেহপুর সিক্রীর প্রধান মসজিদে আকবর তার দালাল উলামা দলকে সাজিয়ে পাঠালেন। দালাল কবি ফৈজীর রচিত আকবরবন্দনা কবিতা হাতে তিনি উচ্ছ্বসিত ! এবার কেন যেন সব আন্ধার হয়ে আসতে লাগলো ! অলক্ষ্যে হাতও বুকের উপর চলে এলো ! তারপরও আগ্রহের কমতি নেই ! প্রথমে চোখ তারপর কন্ঠ বিদ্রোহ করে উঠে ! কেন জানি কথা জড়িয়ে আসে ! মিম্বর থেকে মহামতি নামলেন। সবাই হতবাক ! অবশেষে বললেন, জোর করে নয় ইচ্ছা হলে যে কেউ এ নতুন ধর্ম দীন-ই-এলাহী গ্রহণ করতে পারেন। এক ইংরেজ ঐতিহাসিক এ ঘটনার বর্ণনা করেন। “কিন্তু এই ঘটনায় ভাবাবেগের সঞ্চার হল, তা যে দৃঢ়চিত্তে প্রবল শত্রুর মোকাবেলায় কখনো বিচলিত হয়নি, তাকে অভিভূত করেছিল; যে হৃদয় সকল বিপদেও শান্ত থাকতো এখন তা দ্রুত স্পন্দিত হতে লাগল। যে কন্ঠস্বর যুদ্ধের তুমুল হট্টনিনাদ ছাড়িয়ে উর্ধ্বে শ্রুত হত, এক্ষণে বালিকার কন্ঠের ন্যায়ই তা ভেঙ্গে পড়ল। প্রথম তিন ছত্রের উচ্চারণ সমাপ্ত করার পূর্বেই সমরাট নকল নবীকে সেই উচ্চ হতে নেমে আসতে হয় (টার্কস অব ইন্ডিয়া, পৃঃ ৬৯ দ্রষ্টব্য)। সে তিন লাইনের মূল ভাব ছিল “কোন ভাষা এমন নেই তার গুণগান করি, আল্লাহু আকবর হলেন সেই মহান আল্লাহ।” তারপরও যদি কেউ বাড়তি আকবর সম্বন্ধে আরো জানতে চান পড়তে পারেন একটি লেখা লিংক এড্রেস হচ্ছে  বাদশাহ আকবরের সম্পর্কে ঐতিহাসিক বর্ণনা

 

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই উপরে।

Mufti Fayezullah and nurul kabir ,live talk

 

সম্প্রতি বাংলাদেশের পাঠ্যবইএর কিছু পাঠ দেখে বিস্ময়ে হতবাক হচ্ছি ! সপ্তম শ্রেণীতে দূর্গাদেবীর বন্দনা, অষ্টম শ্রেণীতে যেভাবে আকবরী ধর্ম প্রচলিত হচ্ছে তা বিস্ময়কর ! যেভাবে ব্যভিচারের প্রশিক্ষণ পাঠের মাঝে দেয়া হচ্ছে তা অবাক করার বিষয়। সংক্ষেপে খুব কৌশলে নিজেকে জানুন’ কলামে বলা হচ্ছে দুজনের সম্মতিতে যৌন অনুভূতি প্রকাশ দোষের নয় ! ছেলে মেয়ের বন্ধুত্ব দোষের নয়। পাঠের মাঝে ভাল লাগা, যৌন অনুভূতি, যৌন আকর্ষণ, চিঠি লেখা, হাত ধরা, দেখা করা, কোন ক্ষেত্রে আর একটু কাছে আসা ! এসব কি? হানিমুনের প্রশিক্ষণ মধুচন্দ্রিমার উল্লম্ফন ! কোমলমতি বাচ্চাদেরে নিয়ে এসব কি নষ্টামীর খেলা একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে? ছিহ ! আপনারা সারা দেশে বাচ্চাকাচ্চাসহ রাস্তায় নেমে আসুন ! জাতি ধ্বংসের কি খেলায় সরকার মজেছে ! এসব ব্যভিচারের প্রশিক্ষণ ছাড়া আর কিছু নয় ! এর শাস্তি কি হতে পারে ! কঠোর প্রতিবাদ বাপ মায়ের প্রতিটি অভিভাবকের জরুরী হয়ে পড়েছে, কুরআনকে তাদের জরুর পাঠের অংশ করেন যেন তারা এর বাণী আহরণ করে হজম করতে পারে, অনুবাদ ধরিয়ে দিবেন, আপনারা অভিভাবকরা পিছিয়ে পড়েছেন। সুরা নূরে বর্ণিত ব্যভিচারের আয়াতটি তাদের শিখিয়ে দিবেন। কারণ শিক্ষকরা আর শিক্ষক নেই, মেরুদন্ড হারা প্রজাতি হয়ে বাধ্য হয়েছে আজ দানবের পাঠদানে ! দজ্জাল আজ দোয়ারে ! তাদেরে সতর্ক করুন, ঘরে ঘরে বাচ্চাদেরে তাদের জীবন গঠনের সুশৃংখল জীবনের সূত্র সিলেবাস কুরআন ধরিয়ে দেন। বের করে বুঝে নিজেরাও পড়েন ও প্রচার করুন। ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী দুজনের শাস্তি হচ্ছে ১০০ প্রকাশ্য বেত্রাঘাত। প্রকাশ্য এ কারণে যেন মুমিনদের একটি দল তা দেখতে পায়, ওপথ না মাড়ায়। পড়েন সুরা নূরের ২ আয়াত। ব্যভিচার হচ্ছে এক ধরণের অশ্লীলতা ! হুমায়ুন আজাদের কাছে তা মধুর হলেও ইসলামের কাছে আল্লাহর দৃষ্টিতে তা অশ্লীলতা ! ৯০%এরও বেশী জনতার দেশে কোন সাহসে কোন ব্যক্তি এসব সংযোজন করে ? পাঠ্যপুস্তকের কবি আলাউলের হামদের শুরুরবিসমিল্লাহসরিয়ে মঙ্গলকাব্যের অন্নপূর্না দেবীর তোষামোদে সিলেবাস সাজানো হয়েছে ! ময়দান থেকে গণতন্ত্র যেমন অতীত, একই তালে আজ অগণতান্ত্রিকভাবে রামায়ন, মহাভারত, রাধাকৃষ্ণলীলা, দূর্গাদেবী তাদের উপর জবর দখলি করে চাপিয়ে দেয়া কেনযে ভাবে জাতি ধ্বসের দিকে ধাবিত হচ্ছে, জাতিকেই এ থেকে কঠোর হস্তে মুক্তির পথ খুঁজে নিতে হবে !  জাতি যেন তার নিজগুণে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করতে শিখে ! কুরআনে নির্দিষ্ট করে দেয়া ব্যভিচারের শাস্তি একশ বেত্রাঘাত।

আর ব্যভিচারের ধারেকাছেও যেও না, নিঃসন্দেহ তা একটি অশ্লীলতা, আর এটি এক পাপের পথ (সুরা বনি ইসরাইলের ৩২ আয়াত)

পাঠ্যবই নিয়ে টকশোতে হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি ফয়জুল্লাহর যুক্তিপূর্ন কথা

নাজমা মোস্তফা,  ২৩ মার্চ ২০১৬ সাল।

চারপাশে ষড়যন্ত্র, গন্ধ, ইসলাম বাতিলের চাপা মর্মর ধ্বনি!

নীচে চারপাশ থেকে পাওয়া যুক্তি খবরগুলি পরখ করে নিতে অনুরোধ করছি। বহুদিন থেকে ঘটে চলা ঘটনাগুলি একটির সাথে অন্যটি এক সূত্রে গাঁথা। এসব একটি জাতি ধ্বংসের ধারাবাহিক মঞ্চনাটক ! অকস্মাৎ যাজক, খৃষ্টান, ইতালী, জাপানি, শিয়া নিধনের সহজ জবাব নীচের এসব খবরে লুকিয়ে আছে। আপনারা সচেতন হোন ও সবাইকে সচেতন করে তুলুন ! মাত্র আজই ২০১৬ সালের ২২ মার্চের কুড়িগ্রামে ৬৫ বছরের এক ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধাকে নিজ বাসার সামনে কে বা কারা মটরসাইকেলে এসে গলা কেটে হত্যা করে ! আপনাদের অজান্তে খুনীরা কলিজাতে ঢুকে আপনাদের বুকে ছুরি চালাচ্ছে ! স্মরণ করুণ ১৭ বছর আগে তিনি ধর্মান্তরিত হয়েছেন, কিন্তু আজ তাকে মারা হচ্ছে ! বিগত ১৭ বছর জাতির কোন অসুবিধা হয়নি তার ধর্মান্তরে ! আজ কার স্বার্থে তাকে হত্যা করা হলো ? দয়া করে আপনারা জাগুন, মশাল হাতে জাগুন ! নিরপরাধ বাংলাদেশী সংখ্যাগুরুকে ১০০% ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে, উপরে নীচে, সামনে পিছনে, ডানে বায়ে ! ধারণা হয়, নবী ইব্রাহিম (আঃ)কে যেভাবে আগুণের মাঝে ছুঁড়ে দেয়া হয়েছিল, আপনাদেরে গোটা দেশের ৯০% মুসলিমকে এক ভাবেই আগুণে নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা হচ্ছে ! মনে রাখবেন আল্লাহ কিন্তু তার নবীকে উদ্ধার করে, তারা ষড়যন্ত্র করেছে ঠিকই, কিন্তু আল্লাহর প্রহরায় কেউ তার ক্ষতি করতে পারেনি ! নীচে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে ঝেড়ে ফেলার প্রস্তুতি বিদেশী পত্রিকা বেশ দিন থেকে বিকট আওয়াজে জানান দিচ্ছে। হতভাগা জাতির সৎ প্রতিনিধিত্বকারী নেই, তাই জাতি দেশের মিডিয়া থেকে এসব জানতে পারে না নীচের খবরগুলিই তার বড় প্রমাণ ! কিয়ামত দোয়ারে ! দাজ্জাল আপনার ফটকে ! সঙ্গিন সময়ে একমাত্র নীতিকে সত্যকে সাথে রাখুন ! আপনারা বদর, ওহুদ, খন্দক পার হচ্ছেন, ভরসা একটাই, আল্লাহ পথ দেখাবেই ! প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারী শৃংখলিত হবেই ! আল্লাহ বলে, “নিঃসন্দেহ তারা চাল চালছে, আর আমিও পরিকল্পনা উদ্ভাবন করছি !” (সুরা আতত্বারিক ১৫/১৬ আয়াত) আল্লাহ শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারীআমরা জানি, তারপরও অবচেতনের মত ঘুমিয়ে থাকলে চলবে কেন ? হতে হবে আল্লাহর অতন্দ্র প্রহরী, সৈনিক, সত্য সাধক !

আওয়ামীলীগ একটি অভিশপ্ত দল..একি বললেন সাবেক এমপি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি

সংক্ষেপে কয়টি পয়েন্ট টাচ করবো। বাংলাদেশের মিডিয়ায় ষড়যন্ত্রের খবর পৌছে খুব কম, নয়তো প্রকাশ করতে পারে না ! গলাতে ষাড়াশি দিয়ে চেপে রাখা ! মাহমুদুর রহমানের মতই মিডিয়ার গলা বন্ধ ! ভারতে বা ভিন্ন দেশে এসব মৌজের খবর বের হয় জোরেসোরে ! বহু ঘটনার বিতর্কীত মানিক বলেন, বিচারপতি সিনহা মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী রাজাকার ছিলেন। সামিয়া রহমানের উপস্থাপনাতে দেশের বেসরকারী টেলিভিশন ৭১ চ্যানেলের টকশোতে এসব উঠে আসে গত ১৭ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে। ঐ সময় তিনি নাকি ছিলেন পিস কমিটির মেম্বার রাজাকার ! তারপরও এরা পায় বড় মসনদ ! অন্যরা তাদের হাত দিয়েই ফাঁসিতে ঝুলে ! কি ভৌতিক সব শক্তিমানের ডিগবাজী ! ওদিকে গতকালের খবরে জানলাম নতুনভাবে সেনাবাহিনীকে আইনের আওতায় নিতে চায় সরকার ! সবাই বলে এমনিতেই চোখ দাঁত নখ সব কেটে নির্বাক করে রেখেছে। এটি আরেক নতুন পায়তারা ! রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ডেইলী মেইল-ইউকে, এনডিটিভির খবর, ডেইলি মিরর-আইকে, উর্দু ডন নিউজের খবরে এসব ভরা গলাতে বিস্তারিত এসেছে। ভারতীয়রা প্রতিটি লেখার নীচে শত শত কমেন্ট করেছে, ভারতীয় খুশীর নাচন বাড়বাড়ন্ত, কারণ বাংলাদেশের মুসলিমদেরে জবাই করা যাবে অতি অল্পে ! কিন্তু বাংলাদেশের টকশো মিডিয়া চুপ, চাপা দিয়ে রাখা ! জাতি হাটু পানিতে ডুবে মরার পর জানবে, তার আগে নয় ! গোপন চুক্তি ! অবৈধ পথে আসলে কি হবে চুক্তি করতে কোন বাধা পেতে হচ্ছে না ! দিপুমনি বিগত সময়ে বিনা অর্জনে গোটা বিশে^ ঘুরে বেড়িয়ে হাওয়া খেয়ে আজো জোর গলাতে সুরঞ্জিতি ধারাতে গলাবাজি করে বলছেন, শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে, বাস্তবে যেখানে মৃত্যু আহতের কোন কমতি নেই।  রয়টারের স্পষ্ট খবরে আসে ২৮ বছর পর একটি রিট পুনর্জীবিত করে ইসলাম বাদ দেয়া হচ্ছে। সিনহা বাবু কি ৭১ সালে শান্তি কমিটির রাজাকার হয়ে স্পাই এর কাজে নিয়োজিত ছিলেন ? অংকটা মিলাতে চাই ! তার মানে আজো তিনি কোন পক্ষের স্পাই নন, বলার সুযোগ কম ! তাকেই করা হয়েছে প্রধান বিচারপতি ! ভালই মনে হয়েছিল, এবার দেখি তার গায়েও উৎকট গন্ধ !

ইসলামের নাম নেয়া কিছু সংগঠন ছলবাজদের নিজেদের সৃষ্ট দাবার গুটি। ভারতে মুসলিমদের উপর দাদরী, ঝাড়খন্ড ছাড়াও অসংখ্য উদাহরণ সমানেই এপ্লাই করা হয়। একেতো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর নির্যাতন তার উপর জঙ্গির অপবাদ সাজিয়ে রাখা ! তাদের স্বসার্থে এসব দাবার গুটি তারা সৃষ্টি করে রেখেছে। আজকের যুগে এসব ষড়যন্ত্র চাপা থাকে না ! ময়দান গরম রাখতে ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী স্বৈরাচারের এটি খুব দরকার ! ভারতে গরুর নামে মুসলিমকে ফাঁসি দেয়া সহজ দুর্ঘটনা ! তাদের পুলিশও তালিতে থেকে নির্যাতীতের ধার ধারে কম ! বিডিআর বিদ্রোহের সব দায় জঙ্গির কাঁধে চাপিয়ে দেয়ার কসরত কম করা হয়নি। দেখা গেছে জঙ্গি ছাপিয়েও সরকারী যোগসূত্র বের হয়েছে বহুবেশী ! নবী মোহাম্মদ যুদ্ধবাজ, সংঘাত প্রিয়, কুরআন জিহাদী বই এসব প্রচারে বাংলাদেশ সরকারও কম যায় না, একই ভাবে বাংলাদেশের সরকার সেক্যুলারিজমের নামে ঐ পথে হাটাই পছন্দ করে ! প্রতারকের প্রশংসা কুড়াতে কুরআনে আগুন দিতেও তারা পিছ পা হয়না !  একই ধারাবাহিকতায় আজ ১৫জনের পক্ষে ১৫ কোটি মানুষকে কবর দিতে উদ্যত হয়েছে সরকার ! তাও আবার ঐ ১৫জনের মাঝে ১০ জন মৃত। মানে মাত্র ৫ জনের জন্য ১৫ কোটির উপর খাড়ার ঘাঁ রেডি রাখা হচ্ছে, ওত পেতে আছে ! আব্দুল কাদের মোল্লা কি আসলেই যুদ্ধাপরাধী ছিলেন? শুনুন তাঁর সাক্ষী ও গ্রামবাসীদের মুখে

নাজমা মোস্তফা,  ২২ মার্চ ২০১৬।

আতঙ্কিত হাসিনার তাৎক্ষনিক চিন্তার বলিরেখা কপালে

বাংলাদেশের শংকিত সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতবাধা কথাগুলি একই সীমাবদ্ধ গন্ডির মাঝেই ঘুরে ফিরে। এগুলো হচ্ছে তাকে ১৯/২০/ হয়তো ৭০ (?) বার মারার চেষ্ঠা হয়েছে, বিরোধীরা জঙ্গির যোগানদাতা, পাকিস্তান পাগল হয়ে বাংলাদেশের সর্বনাশ করছে, কথায় কথায় ভারতের অনুকরণে পাকিস্তান গীত সঙ্গিত, জামায়াত দমন বটিকা যুদ্ধাপরাধ, বিএনপি দমন বটিকা পেট্রোলবোমা ইত্যাদি। এই কথাকটি ছাড়া তার উদ্ধারের আর কোন বড় অস্ত্র হাতের কাছে নেই ! অনেক সময় অতি কথনে আদিঅন্ত বিবেচনায় গোল বাধে, খেই হারিয়ে উল্টো কথাও জমে। যেমন ইদানিং বলছেন শেখ মুজিবকে পাকিস্তানীরা আগরতলা ষড়যন্ত্রে ফাঁসায়। আবার তারাই প্রচার করে শেখ মুজিব ঐ ষড়যন্ত্র করেই স্বাধীনতার যুদ্ধকে এগিয়ে নেন ! বলতে হবে সত্যের মা চিরতরে মরেছে, জাগার আশা নেই ! বিগত ১৯ মার্চ ২০১৬ তারিখে খালেদা জিয়া কিছু ব্যতিক্রমী কথা বলেছেন দৃঢ়চিত্তে। তাই চিন্তার বলিরেখা !

Andolon News | 07 Jan 2017 | ব্যাংক ডাকাত সজীব ওয়াজেদ জয় লুট করছে সরকারী বেসরকারী দেশের সকল ব্যাংক

জাতি ধারণা করছে প্রযুক্তিবিদ জোহার পরিবার সালাউদ্দিনের পরিবারের মতই বিকট দানবের হাতে পড়েছে !  কলাবাগান, কচুক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, ভাষানটেক, কোথাও তার মামলা যায় না, তারা নিশ্চিত করেছে তিনি ভিন গ্রহের বাসিন্দা ! সততার বড়াই করা দেশে কেউ তার মামলা নিবার অনুমোদন পায় না ! মৃত্যু চিন্তায় কাতর প্রধানমন্ত্রী দেশের বাকী কারো চিন্তায় অস্থির হন না ! প্রচার করেন সততার কথা, আল্লাহর উপরও দায় ঠেলে দেন, আল্লাহ নাকি তাকে অনুমোদন করেছে, ক্ষমতা দিয়েছে ! ২১ মার্চের খবরে প্রকাশ অনুষ্ঠিত ১০টি পৌরসভার মধ্যে সাতটিতে কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মারা, বিরোধী এজেন্টদেরে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া কেন্দ্র দখলে ব্যস্ত তার কর্মকর্তারা। সুবিধাভোগী ধর্মধারী যুক্তি দেখাবেন আল্লাহ আমাকে দখল নিতে উদ্বুদ্ধ করছে ! তিনি আল্লাহকে নিয়ে মশকরা করতেও আতঙ্কিত নন ! রসিক আল্লাহ তার বান্দাদের আদিঅন্ত ভাল করেই জানে। তাই আগাম এ ধারার মানুষকে ওপেন করতে “মুনাফিকুন” নামে সুরাও নাজেল করে রেখেছে। তাই মুমিন না হওয়া পর্যন্ত মানুষ প্রকৃত ধার্মিক নয়। তিন ধারার মাঝে মুমিন ব্যতীত মুশরিক মুনাফিক অত্যাচারী মিথ্যাচারী জনতার অংশ মাত্র। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ছিল আর একটি চাতুরী নাটক, সাজানো হয় খুউব কৌশলে ! যে কোন সচেতনই এ নকল কষা অংক, গভীর পর্যবেক্ষণে ফলাফল আঁচ করতে পারবেন !!

 

মোটা বুদ্ধির জমা হিসাবে মনে করি আগষ্ট হচ্ছে চিকন মাথার সন্ত্রাসীদের অংকের মাসএকযোগে ৬৩ জেলাতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, সময়টি খেয়াল করবেন বিগত জোট সরকারের সময়ে, ২০০৫ সালের ১৭ই আগষ্ট। এর ঠিক এক বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তখনকার বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার সভাতে গ্রেনেড হামলা হয়, বিকেল টা ২২ মিনিটে ! পাঠক লক্ষ্য করবেন ঐদিন সন্ত্রাসবিরোধী সভা চলছিল ! খোলা ট্রাকে নিজেদের বানানো উনমুক্ত মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা ! বকতৃতা শেষ, মাত্র শোভা যাত্রার উদ্বোধনী ঘোষনা করবেন ! ঠিক মুহূর্তেই গ্রেনেড হামলে পড়ে (হাসিনা হত্যার উদ্দেশ্যে), তার আগেও নয়, পরেও নয়হতভাগী আইভি রহমান সেদিন গুলতির সামনে পড়েন যদিও তিনি হত্যার উদ্দেশ্য ছিলেন না, তিনিসহ ২৪ জন নিহত হন, আহত ৫০০। মোটাদাগে চিহ্নিত করার মত আইভি রহমান নিহত হলেন, সেদিনের আইভি হলেন দৈবের পরিহাস মাত্র ! বুলেট প্রুফ গাড়ীতে শেখ হাসিনা বিকেল পাঁচটার সময় সমাবেশে পৌছান ! স্মরণ করার বিষয় ঐ বকতৃতায় অতিসাবধানী হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও দেশব্যাপী বোমা হামলা বন্ধে সরকারকে হুশিয়ার করেন ! ঘটানোর আগে থেকেই  হুশিয়ারী সংকেত রেডি ছিল ! স্বাধীনতার পর থেকে সন্ত্রাসীতে কারা এগিয়ে ছিল জাতির কি এখনো জানা বাকী ? সারা জাতি জানে বিশ^বিদ্যালয় “ডাকাতের গ্রাম” নামে পরিচিতি অর্জন করে। পাঠক ঘটনাটি মেলাবেন প্লিজ ! ঠিক পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে বিরোধীর উপর দোষ ছুঁড়ে দেয়ার মতনই ! ২০ মিনিটের বকতৃতা, সব অংক করে কষা ! ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন ! গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয় ! কোন বেকুব ছাড়া কোন বুদ্ধিমান কখনোই বুলেট প্রুফ গাড়িতে এটি করে হাত দাগাতে যাবে বলে মনে হয় না ! সারা মঞ্চ জুড়ে শত শত সন্ত্রাসী ময়দানে ! বিরোধী বুদ্ধিমতী হাসিনা সরল অংকটি কষে দেখিয়েছেন ! তার ধারণা ১৫ আগষ্ট যে সাজিয়েছে, সেই ২১ ১৭ তারিখ সিলেক্ট করেছে ! সচেতন বিবেককে প্রশ্ন করুন ! আলামতে কি মনে হয়

শত শত মানুষের আর্ত চিৎকার, ছিন্ন দেহ, রক্ত, বারুদের পোড়া গন্ধ ! সরকারের বর্তমান গোলাম মিডিয়া বলবে সবই দিনের আলোর মতই ঝকঝকে পরিষ্কার ! আর সচেতনরা দেখেন গভীর রাতের মতই ঘোর অন্ধকার ! ঐ সময়কার সরকার বিদেশের সাহায্যও নিয়েছিল সন্ত্রাস উন্মোচনে। মিডিয়াতে এটিও এসেছিল, কথা ছিল ময়দানে মঞ্চসভা হবে। কিন্তু অতঃপর সেটি হয় ট্রাকের উপর ! ঐদিন বিরোধী নেত্রী আসেন বুলেট প্রুফ গাড়ীতে। ২০০৯ সালে তিনি সরকার প্রধান হিসাবে অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল, বিডিআর বিদ্রোহের খবর আগে থেকেই প্রধানের জানা ছিল, তাই তিনি সেদিন আগে ভাগেই সটকে পড়েন ! সেদিনের বোমাও সরাসরি প্রধানের উপর পড়ার কথা নয়। তবে আইভির কপালের ফের, তিনি তো আর প্রধান নন ! বর্তমান সরকার নাকি এর বিচার করছে ! বিডিআর বিদ্রোহের বিচারও সরকার করেছে ! আগুণও দিয়েছে, পানিও ঢেলেছে, দু’ কাজেই দক্ষ এ সরকার ! সে সময় সন্ত্রাস উন্মোচনে বিদেশীরা আসলে চাইছিল প্রধাণের গাড়ীটি চেক করতে, কিন্তু ওটি করতে দেয়া হয়নি। গাড়ী চেক করতে না দেয়ার কারণটি কি ছিল ? জাতির মনে কি কোনই প্রশ্ন জাগেনি ? কিবরিয়া হত্যার কোন কুল কিনারা হয় না ? কেন? ঐ সময় এটিও পত্রিকার পাতাতে এসেছিল যে ঐদিন কোন কারণে কিবরিয়া ঘটনাস্থলে যেতে চান নি, কিন্তু সরকার প্রধান খুব কৌশলে তাকে ঠেলে পাঠায় !

বর্তমান সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েই কুট কৌশলের পথ বেছে নিয়েছিল। ঐ মামলার ৫২ আসামীর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৯ জনই পলাতক দেখানো হয়। উল্লেখ্য বিএনপি জামায়াত জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার অন্যতম আসামী করা হয় তারেক রহমানকে। গ্রেনেড মামলায় অভিযুক্ত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন – ইন্টারপোল। এ ছাড়া জরুরী অবস্থার সময় দায়ের করা কয়েকটি মামলায় তারেক আসামী। ইন্টারপোলের রেকর্ড থেকে তারেককে বাদ দেয়া হয়েছে (আমাদের সময়, ২১/০৩/২০১৬)। কিন্তু শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র থেকে তিনি ইহজীবনেও বাদ পড়বেন বলে মনে হয় না। কারণ এখনো একই যন্ত্রসঙ্গিত জাতি শুনছে, শুনবে ! ঐ সময়ের কৃত অসংখ্য নিজের মামলা হাসিনা উঠিয়ে নিয়ে বিরোধী নেত্রীর সাজার অপেক্ষায় সময় পার করছেন ! তার ছেলের অপরাধ উচ্চারণেই একজন নির্দোষ সাধক বছরের পর বছর কারাগারের  আসামী !

খালেদার হুমকিতে হাসিনার কপালে চিন্তার বলিরেখা ! কিন্তু মূল বিষয় এড়িয়ে এখানেও চাতুরালী করছেন তিনি ! স্থানকালপাত্রসহ  বর্ণনা করে বলা তার পুত্র ঘুষ গ্রহণকারী আসামী, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছিলেন মাহমুদুর রহমান, তার জবাব না দিয়ে তিনি তাকে কারাগারে ঢোকান ! এসব সততার দাগ নয় ! এখন তার ছেলে কিছু করে নাই, ওটি প্রমাণ তাকেই দিতে হবে ! অতীতেও অপরাধীর লিস্টে তাকে পাওয়া গেছে, চিরাচরিত সাধু হলে তাকে সাধু বানানো সহজ হতো ! কিন্তু ঐ প্রমাণ কখনোই উপস্থাপিত হয়নি ! মানুষ খেকো বাঘ কিন্তু সাংঘাতিক, বার বার মানুষ খেতে চায় ! তাই প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন খালেদা নাকি তাকে মারার হুমকি দিয়েছেন, কিন্তু আসল কথা আজো চেপে যাচ্ছেন ! খালেদা জিয়া ওরকম মৃত্যু হুমকি দেবার মেয়ে নন, এটি সারা জাতিই জানে। বরং বেফাঁস কথা বলাতে বর্তমানের অনৈতিক প্রধানমন্ত্রীই সেরা ! যে মূলকথা খালেদা বলেছেন, ছেলেকে বাঁচাতেই গভর্ণর বলির পাঠা হয়েছেন, আজো এর কোন যুৎসই জবাব নেই তার মুখে ! একবার নয়, বার বার শতবার কৃত প্রতারককে মানুষ বিশ^াস করবে কোন যুক্তিতে ? স্বৈরাচারের সাথে সন্ধি, সেক্রেটারিয়েটের দিগম্বর কাহিনী, রেশমা নাটক, সুখরঞ্জন বালি নাটক, ইলিয়াস আলী নাটক, সাগর-রুণি নাটক, গার্মেন্টস শ্রমিক লিডার আমিনুল নাটক, চৌধুরী আলম নাটক, রানা প্লাজা নাটক, সালাহউদ্দিন নাটক, বর্তমানে চলছে জোহা নাটক, এসব শত শত নাটক ভুলে যাবার মত নয় ! কোন সচেতন ভুলতে পারে না। চারপাশে আসংখ্য উদাহরণ পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। শুধু ভরসা বিশ^প্রভু বড়দাগে সব অবলোকন করছে ! এর বাইরে জাতির সামনে আর কোন ভরসা দেখছি না। তবে এটি ঠিক, শত হতাশায়ও ঐ ভরসা অনেক বড় ভরসা !!

 

নাজমা মোস্তফা,  ২১ মার্চ ২০১৬ সাল।

সাবধান ! জাতি জেগে উঠুন ! প্রধাণের প্রস্থান হোক প্রধান দাবী !

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই।

জাতি জেগে উঠুন ! ময়দানে নামুন ! আতিউরের পদক্ষেপ সাহসী পদক্ষেপ এটি প্রধানমন্ত্রী বুঝেন কিন্তু এমন সাহসের পরিচয় দিতে অপারগ অনৈতিক পথের উপর দাঁড়ানো প্রধানমন্ত্রী ! এ একটি জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ করুণ লজ্জার উদাহরণ ! চলছে বাড়তি ভাড়ামি অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী ! কার চোখে জল বেশী, জাতির না প্রধানমন্ত্রীর ? প্রধানমন্ত্রী বোবা ! মুখরার এত ভয়ানক নীরবতা ! সচেতনরা আঁচ করছেন প্রশাসন পাগলের মত ছুটছে ভারতের কাছে, কারণটি কি? অনেক চটকদার কথাই শোনা গেছে আতিউর এপয়েন্টমেন্ট পান নাই, তাই দেখা হয় নি ! এপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ার কারণ অভিমান, গোস্যা ! নাটকের সীমাটা একটু বেশী ! মূল চোরের কাছে কোনদিনও তথ্য পৌছায় না, পৌছাবেও না। সাধু আতিউরের  কথার মাঝে কিছু অসাধু যুক্তি জনগণকে ব্যথিত করেছে এবং তাকেও দুষ্টের সহকর্মী জ্ঞান করছে। কথার মাঝে জবাব লুকিয়ে আছে “নৈতিক দায় থেকে বীরের বেশে পদত্যাগ করেছি, আমি চাই না বঙ্গবন্ধু কন্যার ভাবমূর্তি নষ্ট হোক” ভুল পথে হাটা একজন মানুষের ভাবমূর্তির এ স্তুতিপূর্ণ কথাই তাকে একজন ভুল পথের সহকর্মী সহমর্মী স্বরুপ উপস্থাপন করার জন্য যথেষ্ট। কোন সাধু কোন দিন অপকর্মীর বাঁচার স্বপ্ন দেখে না ! বড় গলা সাধুতার প্রমান নয় ! ভারতের অল্প দামে কেনা দালালরা দেশ বিধ্বংসী কাজের পরও প্রচারে ব্যস্ত, ভারতের হাত আছে কথাটি শুনলে তারা খুব কষ্ট পান। যদিও ভারতকে নির্দোষ কতমা লাগিয়ে বাঁচানোর কোন পথই অবশিষ্ট নেই !

শেখ মুজিবের পরিবারকে ডাকাত সর্দার হিসাবে প্রমান করলেন ডঃ আতিউর রহমান।

এই সেদিনও পাকিস্তানকে যে জাতি মোকাবেলা করলো আজ তারা কেমন করে নপূংশক জাতি হয়ে গেল ! সিকিমের কথা কি শুনেছিলেন আগে ভরা দরাজ গলায় কি তারা বলেছিল কখনো ? আমাদের ভারতীয় বনধুরা  আত্মীয়রা বলে আমরা আজো জানি না, ভারত কি কৌশলে সিকিম দখল করেছে ! দালালরা আজও বাড়তি তৎপর, কথাই প্রমাণ ! অনেক বেঁচে গেছি, সব তো নেয়নি ! কিন্ত জাতির পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীসহ প্রধাণমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী উঠেছে ! চতুর চোখের জল দিয়ে পাপ ধোয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত ! প্রধানমন্ত্রী একজন আতিউর হোন, আপনি কি দৃষ্টান্ত করতে সবদিনই অপারগ থাকবেন, অন্তত আতিউরের সমকক্ষ হন ! এটি জাতি ধ্বংসের সব খেল শেষ করে আতিউরের পদত্যাগই সমাধান নয় ! সব ভিডিও ফুটেজের দাগ তো মুছে দিয়েছে ! অতীতে চুরিতে ধরা খাওয়া সুরঞ্জিত পদত্যাগ করলেও জাতির সাথে ক্রমাগত ভাড়ামি কমে নাই, লাগাতার লেগে ছিল, আজও প্রমাণ ! মন্তব্যে আসছে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট কেউ জড়িত বলেই তথ্য ফাঁস না করার জন্য এসব চলমান নাটকের ভাড়ামি !

অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন রেখেছিলেন গভর্ণর এত স্পর্ধা পেল কোথায় ? এর জবাব দিয়েছেন আতিউর। আমি মুজিব কন্যার সম্মানার্থে পদত্যাগ করছি ! তার মানে পদত্যাগ করছেন ঐ মহিলার জন্য ! নিজের দোষে নয়, দোষ অন্যের, যারা তাকে ব্যবহার করেছে তাদের কারণে তার বিদায় ! তাই অল্প দামে অপরাধীর জন্য উপহার প্রধানের একফোটা জল ! সততার দাগ নেই, উদাহরণ নেই, কান্নাই তার চাতুরীর জবাব ! এটি কি আতঙ্কের ফরমাইশী কান্না, নাকি গ্লিসারিনের কান্না ঐ গ্যারান্টি কে দিবে ?  সংসদে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে অর্থমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকেন ! বিডিআরের দাগে ভরা মুজিব কন্যাকে কি এত সহজে পবিত্র করতে পারবেন গভর্নর আতিউর ? যে দুজনকে সরানো হলো বলা যায় না, হয়তো ওরা দুই জনই দাগী নয়তো ঐ ময়দানের সবচেয়ে স্বচ্ছ ব্যক্তি। কারণ এ সরকারকে বিশ^াস করার কোন যুক্তি সামনে পিছনে নেই। বিডিআর বিদ্রোহে কারাগারে নির্দোষ গুচ্ছবন্দী মেরে ময়দানে সরকারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য উচ্চকন্ঠ স্তব্ধ করা কি হয়নি ? ব্যাংকলুটে একবাক্যে শোনা গেছে ইথারের খবর “জানানোর জায়গায় জানানো হয়েছে”, আতিউরও বলেছেন শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন, এটিই জানানোর জায়গা ! চোখ মুছে জাতির শত প্রশ্নের জবাব দিন ! দেশে কোন কিছুই আপনার অগোচরে ঘটে নাই, লুটপাট বিডিআর বিদ্রোহ সব ! আপনিই মূল নাটের গুরু ! চোখের জলে চাপাবাজির চেষ্টা না করাই ভাল ! উদাহরন হিসাবে একজন পাঠকের মন্তব্য: ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্য গভর্ণরের বলি!!! নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট কেউ জড়িত, তাই গভর্ণর যাতে তথ্য ফাঁস করে না দেন সেই জন্য স্বান্তনা দিচ্ছেন’। একটি দেশ একটি জাতি অনেক অনেক বড় ! তারপরও মানুষের মত মানুষ হলে একটি মানুষের মর্যাদাও একদম কম নয় ! কথিত শ্রেষ্ঠ ও সৎ গভর্ণরের ফিরিস্তি পড়েন। গোটা আমলনামা অসংখ্য অসৎ আচরণের দাগে ভরা ! আপনারে বড় বলে বড় হওয়া যায় না ! ময়দানে বড়ত্বের উদাহরণ থাকতে হবে !

ঘটনার দিন সিসিটিভি রহস্যজনকভাবে নষ্ট ছিল। ২৬/২৭ জানুয়ারী এটি ঠিক করেন ট্যাকনিশিয়ানরা। আবার টাকা স্থানান্তরের আগের দিন ৪ঠা ফেব্রুয়ারী নষ্ট হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা এ নষ্ট নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ! কারণ তাদের স্থির বিশ^াস নির্দিষ্ট দিনটিতে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ওটি নষ্ট করা হয়। ঐ দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে আরসিবিসি শাখার সার্ভিস প্রধান নষ্ট হওয়া ব্যাপারে রিপোর্ট করেন। তারা ঐ বিক্রেতা কোম্পানীকে রিপোর্ট করলে ৯ ফেব্রুয়ারী বিকেল ২টায় পরীক্ষা করে তারা জানায় সিসিটিভি নষ্ট নয়, কাজ করছে না ইউপিএস। অর্থ পাচার বিরোধী বিভাগ এ নষ্ট হওয়া সময়কাল নিয়ে খুউবই সন্দিহান ! তারা বলছেন এটি উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ঘটানো হয়েছে, সিসিটিভির ইউপিএসকে নষ্ট করে দেয়া হয় ব্যাংকটির ভিতর থেকে। সিসিটিভির বিষয় খুঁজতে গিয়ে এসব তথ্য ধরা পড়েছে ! ময়দানের মানুষগুলোকে মূল্যায়ন করুন ! মেজর হাফিজ যা বলেছেন তার মূল্য খুউবই স্পষ্ট ও অর্থবহ। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে না ! ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২০০ প্রার্থী নির্বাচন ছাড়াই চেয়ারম্যান হয়েছে, সংসদের এমপি হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে জিম্মিদশা কাটাতে হচ্ছে, চলছে সবক্ষেত্রে কিয়ামতের আগের ডিজিটাল লুটপাট ! গণতন্ত্র মৃত, অর্থমন্ত্রী অকেজো, জিম্মী, দলবাধা কপট কর্মকর্তারা একশনে ! বাঁচতে হলে একমাত্র রাস্তা সবাইকে ময়দানে নামতে হবে ! একটি সংগ্রামী জাতির এমন মরণ মানায় না ! এত বিপর্যয়ের পরও কেন জাতি চুপ ? আন্তর্জাতিক তদন্ত ব্যতিরেকে আদালতের মামলা করায় ঝামেলা হবে সব খবর মতলববাজের ভেতরের জমা ! ইতিহাস বিকৃতি যা এযাবৎ করা হয়েছে, তা যাতে বদলানো না যায় তাই আইন করা হচ্ছে। শাস্তি হবে ৫ বছরের সাজা আর ১ কোটি টাকা জরিমানা। যুক্তি সততা কোন বিবেচ্য বিষয় নয়,  যতবার যুক্তি দিবেন ততবার শাস্তি ভোগ করবেন ! জামায়াতের আমির ও সাবেক মন্ত্রী নিজামীকে কাদের মোল্লার মত মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা প্রদান করা হয়েছে। কারণ তার দাবী যে ঘটনায় তার শাস্তি হচ্ছে সে ঘটনাস্থলে তিনি ৮৬ সালের আগে কখনো যান নাই (১৬ মার্চ, ২০১৬, আমারদেশ)। তারপরও অসৎ দাগে ভরা সরকারের অধিনস্ত আইন এসব করে যাচ্ছে। একমাত্র পড়শির মনমত বিচারই সরকারের কাম্য !

ফিলিপাইনের পত্রিকা ইনকোয়েরার এর খবরে প্রকাশ টাকা চোরের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী ব্যাঙ্কের সাবেক কাস্টমার সার্ভিস হেড রোমুলডো আগারাডো নিজ চোখে কাচের দরজা দিয়ে বাইরে মায়া সন্তোস দিগুয়েতোর গাড়িতে টাকার বস্তা তুলতে দেখেন, যা তিনি সিনেট কমিটিকে বলেন। ১৭ মার্চের একই দিনের খবরে ভারত থেকে অস্ত্র আসছে, দেশে যুদ্ধ হবে লাশ হবে সাধারন নীরিহ মানুষ বিএনপি এবং জামায়াত, বিরুদ্ধবাদী জনতারা। যা বহুদিন থেকে চলমানভাবে বহমান ! রবীন্দ্রপ্রেম বর্তমানে সবচেয়ে সস্তা জাতি ধ্বংসের বাঁশরি আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে আছে ! এ মৃত্যু বটিকা দিয়ে বহুদিন থেকে গানে গানে দেশবাসীকে ভুলিয়ে রাখার কসরত চলছে ! বন্ধ করুন গান আর বাজনা ! মৃত্যুপথযাত্রী জাতির আবার গান বাজনা ! গান গাইবে চোরেরা ! যাদের নিজদেশে আইটি বিশেষজ্ঞরা সুস্থির জান নিয়ে বাঁচতে পারে না তাদের মুখে রংএর গান মানায় না ! গাইতে হবে বিদ্রোহের গান ! ব্যাংকের তদন্তে সংশ্লিষ্ট আইটি কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তানভির জোহা ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর (অপারেশন), কচুক্ষেত থেকে সিএনজি ঘিরে অপহৃত হয়েছেন (১৭ মার্চ) ! তিনি আশংকিত ছিলেন, কারণ তার প্রশ্নে বিরক্ত একটি মহলের নাখোশ হওয়ার হুমকি তিনি পাচ্ছিলেন ! চোর ধরতে সময় ক্ষেপন কেন ? চোর তো ময়দানেই ঘুরছে, এই অপহরণকারীরাই মনে হচ্ছে চোরের বড় সাগরেদ ! সব অপরাধিই এক সূতায় বাধা ! গভর্নরকে বীরত্বের অশ্রু যে দেয়, সে শরিক শক্তি মনে না করার কোন যুক্তি নেই !  হাসিনা সৎ মানুষদেরে রিমান্ডে নিতে তৎপর কিন্তু অসতের জন্য অশ্রু দেন ! জাতির সামনে এটিই সমাধানের বড় সূত্র ! গভর্ণরকে রিমান্ডে নিলে অনেক রাঘব বোয়াল খোলাসা হয়ে যেত ! জাতি ময়দানে নামুন, নির্দোষ মাহমুদুর রহমানের মুক্তি সময়ের দাবী। ওরা ময়দানে থাকলে অশ্রু বিনিময়ের পক্ষরা এত গোল দিতে পারতো না ! এর জন্যই কৌশলে সরকার তাকে বন্দি করে রেখেছে ! গভর্ণর আতিউর ২০০৯ থেকে অর্থনীতির ক্রমাগত ধ্বসের বড় দাগী আসামী, কৌশলে দায় এড়ানোতে বড় চোরের মাথা বাঁচানোকে স্বচ্ছতা বুঝায় না ! বরং চোর ধরাতে সহযোগিতা দিলে বুঝা যেতো তিনি স্বচ্ছ ! তিনি শুধু একজন মহিলাকে বাঁচানোর চিন্তায় সময় পার করছেন, এটিই জাতির জন্য ভয়ানক সংবাদ !

আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করছে ধান্ধাবাজ ধূর্ত ! সৎ সঠিকদের সেখানে জায়গা নেই, যারা আসতে চাইবে তাদেরে সেখানে বসতে দেয়া হবে না ! হবিগঞ্জের একবারের নয়, তিনবারের নির্বাচিত মেয়র গোলাম কিবরিয়া জি কে গউসকে খুব কৌশলে সুযোগ না দেয়ার পায়তারায় হাটছে সরকার ! দিলীপ দাসের  নামের আগে বসতে যাচ্ছে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের সিলটি ! সিলেটের বহু প্রত্যাশিত বহু দিনের অবদানধন্য রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ সরিয়ে দেয়ার নিদের্শে দাগ রেখে বড় ভূমিকায় আছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ! মাঝখানে কিছু সিনহা নাটক দেখেছেন অনেকে মনে করেছেন উনি আপনাদের মানুষ ! না, তিনি দেবীর নিয়োজিত মানুষ ! আপনাদের জন্য আল্লাহ আছেন ! পড়েন amadersylhet.com/news/14287 সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ তারাপুর চা বাগান দেবোত্তর সম্পত্তি এখানে শুধু মূর্তিদেবী থাকবেন আর কেউ নয় ! তাই দেবীমূর্তি স্থাপিত হতে যাচ্ছে ! নির্দেশ দেয়া হয়েছে এক মাসের মধ্যে ওটি স্থাপন করতে হবে !  কোথায় শাহজালালের সন্তানেরা, ওরা কি সবাই ঘুমিয়ে, নাকি মরেই আছে ! শেষ বারের মত প্রকৃত মানুষ হয়ে জেগে উঠুক সবাই ! কিভাবে ভারত বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে চুরমার করেছে আর শুধু এটিই নয়, সারা বছরই তারা ঐসব কাজ করে। এক দুই নয়, শত শত মসজিদ তারা এভাবে ভেঙ্গে চলেছে যুগে যুগে তা ঐ জমিতে প্রমাণ হয়ে আছে ! এখন এই ৯০% ৯৫% পবিত্র মুসলিম প্রধান ভূমিতে তারা হানা দিচ্ছে কারণ তাদের নিয়োজিত লেন্দুপ বসে আছে মসনদে ! সংঘবদ্ধ হোন। মূর্তিপূজকের পায়ের তলানীতে আপনারা নন ! এটি ঈমানের প্রশ্ন ! জীবন মরণের প্রশ্ন ! স্মরণ করুন আল্লাহর সাবধান বানী, যারা সত্য থেকে দূরে যায় শয়তান তার পিছু নেয়, কাজেই সে বিপথগামীদের অন্তর্ভূক্ত হয়। আর যদি আমরা ইচ্ছে করতাম তবে নিশ্চয়ই এর দ্বারা তাকে আমরা উন্নত করতাম। কিন্তু সে অধঃপাতে যাবার জন্য মাটি আঁকড়ে ধরলো। সুতরাং তার উপমা হচ্ছে কুকুরের দৃষ্টান্তের মত। ওকে যদি তুমি তাড়া কর, সে জিভ বের করে হাঁপাবে, আর যদি তুমি তাকে এড়িয়ে চলো (তথাপি) সে জিভ বের করে হাঁপাবে। হচ্ছে সেসব লোকের দৃষ্টান্ত যারা আমাদের নির্দেশ সমূহ প্রত্যাখ্যান করে। তুমি ইতিবৃত্ত বিবৃত করো, যেন তারা চিন্তা করতে পারে” (সুরা আল আরাফ ১৭৫/১৭৬ আয়াত)

এ সরকার সৎ ও বৈধ নয়। কিছু চিহ্নিত দালাল ছাড়া এটি সমস্ত বাংলাদেশীরা একবাক্যে স্বীকার করবেন। এর সূত্র ধরে ক্রমান্বয়ে দেশ বিধ্বংসী শত শত কাজ চলছে একের পর এক। এসব একটি অপকর্মেই একটি সরকারের চলে যাবার কথা। অপকর্ম ঘটার পর সরকার চিৎকার দিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সিসিটিভি বসায়। এতেও তার ফায়দা চোরেরা পকেট ভরার সুযোগ পায়। আর যখন যে পয়েন্টে ঘটনা ঘটে তখন সেটি নষ্ট থাকে আগে থেকেই কৌশলে নষ্ট করে রাখা হয়, কখনো ফুটেজ ঝাপসা আসে ! এরা অপেক্ষায় আছে আল্লাহর গজব না আসা পর্যন্ত অপেক্ষায় আছে !  সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ সরিয়েছে সংখ্যালঘুর স্বার্থে ! সংখ্যাগরিষ্টের কোন দাবী সরকার দেখে না, দেখার প্রয়োজন মনে করে না ! সংখ্যাগুরুর চিৎকারকে মূল্যায়ন না করেই সংখ্যালঘুর দালাল হয়ে দেশ চালাচ্ছে সরকার ! আজকে ১৫ মার্চের খবরে প্রকাশ “এবার তিতাসে তিন হাজার কোটি টাকার গরমিল”। যারা বিডিআর বিদ্রোহের এতগুলো লাশের মর্যাদা দেয়নি তাদের কাছে আপনারা কিসের ভরসাতে বসে আছেন ? দখলদার খুনী পার্টিই শক্তির দন্ড ধরে ঠাঁয় বসে আছে, পন করেছে কিয়ামত পর্যন্ত নামবে না ! সাবধান হোন ! জেগে উঠুন ! নির্ঘাৎ জেনে রাখুন আল্লাহ আপনাদের সহায় ! তুমি ইতিবৃত্ত বিবৃত করো, যেন তারা চিন্তা করতে পারে” (সুরা আল আরাফ ১৭৫/১৭৬ আয়াত)

পুরো বিলবোর্ড জুড়ে একটা কাল বিড়াল দিয়ে দেন, কোন আপত্তি নাইঃ মাহি বি চৌধুরী,

নাজমা মোস্তফা,  ১৭ই মার্চ ২০১৬।

ব্যাংক লুটের হোরিখেলায় বাংলাদশ ৭২ – ৭৪ অতঃপর ২০১৬

বাংলাদেশের ব্যংক জটিল দুর্যোগে আক্রান্ত ভিতরে বাইরে। ডলারে ৮০ টাকা ধরে গোপনে বাংলাদেশে ব্যংকের ৭৬০০ কোটি টাকা সরিয়ে নেয়ার অ্যাডভাইস গিয়েছিল। ৮০৮ কোটি সরিয়ে নেয়া হয় শ্রীলংকা ও ফিলিপাইনে, অর্থমন্ত্রীকে জানানো হয়নি (আমারদেশ, ০৯ মার্চ ২০১৬)। জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে মজুদ থাকা টাকা থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে লুট করতে ৩৫টি পরামর্শ বা অ্যাডভাইস পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে কার্যকর হয় মাত্র ৫টি পরামর্শ, একাধিক সূত্রে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইত্যবসরে ফিলিপাইনের পত্রিকায় খোলাসা হয়ে গেলে আর ঢেকে রাখা যায়নি, তাই প্রকাশ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ তারিখ বুধবার এটি প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। কৌশলে বলা হয় হ্যাকড হয়েছে, যার কোন ভিত্তি নেই। তবে সুইফট কর্তৃপক্ষ গতকাল এক বার্তায় বলেছে, তাদের নেটওয়ার্ক অপব্যবহার হয়েছে এমন কোন লক্ষণ এখনো পাওয়া যায়নি। দুইপক্ষের প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের বার্তা বিনিময় ছিল খুবই অথেনটিক অর্থে বিশ^াসযোগ্য। সব ধরণের যোগাযোগ শেষে সম্প্রতি ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজি হাসান, নির্বাহী পরিচালক ও কেন্দ্রীয় ব্যংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা এবং তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্তানা কথা বলছেন।  ইত্যবসরে জানা যায় শ্রীলংকা থেকে উদ্ধার হওয়া টাকাটা গিয়েছিল সে দেশের একটি নতুন খোলা এনজিওর বেসরকারী সংস্থাতে। কিন্ত অল্প হলেও বিধিবাম ছিল, নাখোশ ছিল ! শ্রী লংকার মানি লন্ডারিং এত বড় অংকের টাকাকে সন্দেহের চোখে দেখে ! তারা তাদের কেন্দ্রীয় ব্যংককে জানালে তারা আটকে দেয়, যার সুবাদে দুইকোটি মাত্র উদ্ধার হয়। ফিলিপাইনেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যংকে নিউইয়র্ক থেকে ওখানে টাকা যায় ও জমা হয়। ত্বরায় সেখান থেকেও অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। ফিলিপাইনের দূর্বল ও অসাধু ব্যংক কর্মকর্তার যোগসাজসে কয়েকটি ক্যাসিনোর (জুয়ার সংস্থা) হাত ঘুরে হংকং চলে যায়। তবে ভারতীয় সুইফটের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশের সুইফটের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে ! নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে, মনে হচ্ছে তারা বেশ নির্বিকার ! প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অন অ্যারাইভাল ভিসার কথা উল্লেখ করলেও প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না ! রাকেশ আস্তানা বলছেন তদন্তের মাঝপথে আছি। আজ ১০ তারিখেই জানলাম মাঝপথ, শেষটা কখন হয় মনে রাখা দরকার !

Bangladesh Parliament by Barrister Andaliv (Full)

কিছু প্রশ্ন জমছে। এরকম সুইফট ম্যাসেজ কোন সাধারণ অপেন করতে পারবেন না। দুপাশের দু অভিজ্ঞের কাছেই ঐ এক সফটওয়ার থাকতে হবে, হতে হবে সুইফটএর সদস্য। একমাত্র ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব। একমাস পার করা নীরবতার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন অন্য মন্ত্রীরা, অনেকে বলছেন যারে জানাবার তাকে জানানো হয়েছে, কে সে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ? তার সহজ মানে অর্থমন্ত্রীর ঘাড়ে ওটি বর্তায় না, বর্তায় অন্য কোনখানে ! ৭২ ঘন্টার নোটিশ ওদের জন্যও দরকার ! অর্থমন্ত্রী বলেছেন তাকে কেউ জানায়নি তিনি পত্রিকা থেকে জেনেছেন। পত্রিকায় এ খবরও এসেছে খুব প্রভাবশালীরা এতে জড়িত। আমরা লক্ষ্য করেছি একই রকমের খবর এসেছিল পদ্মাসেতুর সময়ও। যার সূত্রে বিশ^ব্যাংক ঐ ঋণ বন্ধ করে দেয়। এটিই কি প্রথম নাকি শেষ ! নাকি সমানেই হালকা মানের লুটপাট চলছেই সবার অলক্ষ্যে। ১০ মার্চের খবরে প্রকাশ  গভর্নর আতিউর রহমান বৃহস্পতিবার ভারত গেলেন আবার ফিরবেন ১৪ তারিখে। যারা সাড়া দেয়নি তাদেরে সাথে মিটিং করার কথাও এসেছে। প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে । বাস্তবতা এখানেই নীচে।

এবার হাসিনা, রেহানা, জয় আর পুতুলের লোভাতুর দৃষ্টি পড়েছে ইসলামী ব্যাংকে

বিশ^ব্যাংকের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি পরিচালক ভারতীয় বংশদভুত রাকেশ আস্তানা সাংবাদিকদের মাঝে ভূমিকা রাখছেন। বাংলাদেশ ব্যংক কর্মকর্তারা এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, কারণ বাংলাদেশ ব্যংকের নিয়মের  তোয়াক্কা না করেই এ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে । সূত্র জানায়, গত ৭ মার্চে ঢাকার বনানীর এক অভিজাত রেঁস্তোরায় রাকেশ আস্তানার সাথে একান্তে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ডঃ আতিউর রহমান। তারপর দিনই তাকে দেখা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকে। বলা হয় একজন বিশিষ্ট বিদেশ বিশেষজ্ঞ এর উপর কাজ করছেন। ভারতীয় নাগরিককে এ দায়িত্ব দেয়াতে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। বাংলাদেশের আইটি এক্সপার্টরা সব গোমর ফাঁক করে দিবে, তাই তারা বিশ^স্থ হন না তাদের কাছে ! এর মাঝে বাংলাদেশের সব কম্পিউটারে একটি বিশেষ সফটওয়্যার ইন্সটল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যা রাকেশ আস্তানার তৈরী, যাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। ৮ মার্চ থেকে তিনি কাজ শুরু করেই টুকে নেন প্রতিটি পয়েন্টের আইপি এড্রেস ও সিরিয়াল নাম্বার। তারচেয়েও বড় কথা বাংলাদেশ সুইফট কোডের নিয়ন্ত্রণ হয় ভারতে ! ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক দায়ী বলে উল্টো বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকৃত ঘটনা চেপে রাখার কিছু চেষ্টা করছে ! যারা এটি নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত থেকে তাদেরে আসতে বলা হলেও তারা আসছে না। ওদিকে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন হলো বেলজিয়াম ভিত্তিক আন্তব্যাংক নেটওয়ার্ক। এর মাধ্যমে আন্তব্যাংক লেনদেনের পরিচিতি সনাক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, কন্সালটেন্সি বা পরামর্শক ফি হিসাবে এ টাকা স্থানান্তরের সংকেতলিপিও গিয়েছিল বাংলাদেশে ব্যংকের সংকেতলিপি থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই পাঠানো সুইফট কোড দিয়েই এই টাকা সরানো হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষরাই এর সাথে সরাসরি জড়িত। শ্রীলংকা তৎপর থাকায় এ পর্যন্ত শুধু ঐ অল্প টাকাটা পাওয়া যায়। পুরো একমাস দুর্গন্ধ লুকিয়ে রেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রীম কোর্টের ড. ইউনুস আলী আখন্দ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, লুটেরারা এখনো শেষ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধার পেতে। পৃথিবীর সকল ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেন এই সুইফট কোডের মাধ্যমে হয়, এটি ঝুকিমুক্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নির্দিষ্ট সফটওয়ার দ্বারা সম্পাদিত। বিশিষজ্ঞরা বলছেন এটি হ্যাকড হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমন উদাহরণ আজ পর্যন্ত নেই। নির্দিষ্ট কোড, কার্ড ও সংকেতের মাধ্যমে এর কাজ চলে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিরাপদ হওয়ার কারণেই আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে সুইফট প্রক্রিয়াটি অর্থ লেনদেনে নিরাপদ বলেই বিবেচিত হয়ে আসছে। এর বাইরে একটি সাংকেতিক চিহ্নের প্রয়োজন হয়, যা একমাত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগের তিন সেকশনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরাই জানেন। টাকা লুটের ঘটনা যথাসময়েই শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন ডক্টর আতিউর রহমান

যে কান্ড ঘটায়, তার কাছেই কেন বিচারের ভার ? যে বেড়াতে ধান গিলে খায়, তার পাহারায় কেন ফসল ? শিয়ালের কাছে মুরগী রাখা কতটুকু নিরাপদ ? এত বড় ঘটনা কিনতু আইটি বিশেষজ্ঞ জয়ের কোন স্ট্যাটাস নেই। ওদিকে খবর বেরিয়েছে এ লুটে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালী মহল ও সংঘবদ্ধ চক্র (১০ মার্চ ২০১৬)। স্পষ্ট করেই বলা এটি কোন হ্যাকিংয়ের ঘটনা নয়। ব্যাংকের গোপন সুইফট কোড, কার্ড ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই পুরো লেনদেন হয়, এখন পর্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে অর্থমন্ত্রণালয়। ভবিতব্য আল্লাহর হাতে ! নীচে বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনালি রুপালি জনতা কৃষি ব্যাংকের সংখ্যালঘু বিশালদের লিস্ট ।

ভারত আর সংখ্যালঘুর হাতে গোটা দেশ তুলে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডিরেক্টর সনাত কুমার সাহা। ডেপুটি ডিরেক্টর শিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী। এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর: ১. নির্মল চন্দ্র ভক্ত। ২. শুভঙ্কর সাহা। ৩. বিষ্ণু পদ সাহা। ৪.অশোক কুমার দে। ৫. সুধীর চন্দ্র দাস। ৬. দাসগুপ্ত অসীম কুমার। ৭. গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী। ঋণ সংক্রান্ত বিভাগগুলোর মহাব্যবস্থাপক হচ্ছেন। ১. অশোক কুমার দে। ২. দেব প্রসাদ দেবনাথ। ৩. বিশ^নাথ সরকার। ৪. খগেস চন্দ্র দেবনাথ। ৫. দেবাশীষ চক্রবর্তী। ৬. সুকমল সিংহ চৌধুরী। ৭. মিহির কান্তি চক্রবর্তী। ৮. শ্যামল কুমার দাস। সোনালী ব্যাংক: এমডি ও সিইও : প্রদীপ কুমার দত্ত। বোর্ড অব ডিরেক্টর: ১. রঞ্জিত কুমার চক্রবর্তী। ২. প্রদীপ কুমার দত্ত। জিএম:  ১. নেপাল চন্দ্র সাহা। ২. পরিতোশ কুমার তারুয়া।৩. সুবাস চন্দ্র দাস। রুপালি ব্যাংক: ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান: অমলেন্দু মুখার্জী। মহা ব্যবস্থাপক: বিষ্ণু চন্দ্র সাহা। উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক: দেবাশীষ চক্রবর্তী। অগ্রনী ব্যাংক পরিচালক: বলরাম পোদ্দার। ১. জি এম: জি এম পঙ্কজ রায় চৌধুরী। ২. বাবুল কুমার সাহা। জনতা ব্যাংক: পরিচালক: মানিক চন্দ্র দে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: মহা ব্যবস্থাপক: রোহিনী কুমার পাল। উপমহাব্যবস্থাপক: ঠাকুর দাশ কুন্ডু, উপব্যবস্থাপক: গান্ধী কুমার রায়। কর্মসংস্থান ব্যাংক: মহাব্যবস্থাপক: গকুল চন্দ্র রায়।

সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলছেন যাদের জানানো দরকার তাদেরে জানিয়েছি। তবে সম্ভবত গোমর ফাঁকের ভয়ে “রাবিশ” অর্থমন্ত্রীকে কৌশলে আড়ালে রাখা হয়। তিনি এক মাস পর জানতে পারেন পত্রিকার মারফতে আম জনতার সাথে। সচেতনদের একজন ডঃ তুহিন মালিক তার ফেসবুকের দুটি কথা উল্লেখযোগ্য মনে করছি। তিনি বলেন, ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেতনের তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা থাকতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভের টাকা হ্যাকড হলো কিভাবে ? আর একটি প্রশ্ন রাখেন দেশের প্রথম ব্যংক ডাকাতরাই কি দেশের প্রথম ব্যাংক হ্যাকার ? ১৯৭২-৭৪ সালের ব্যাংক ডাকাতিতে যারা জড়িত ছিল তাদের পরবর্তী প্রজন্মের দিকেই ইঙ্গিতটি করা হয়েছে ! অনর্গল কথাবলা মন্ত্রীরা তদন্তের স্বার্থে অর্থমন্ত্রীকে বলা হয়নি বলে যুক্তি দিচ্ছেন। বারে বারে আসে গুণধর বন্ধু ভারতের নাম, শত্রু পাকিস্তানকে কেন একবারের জন্যও দেখি না এ পাড়ায় হামলে পড়তে ! প্রশ্নটি রইলো জনতার কাছে ! ভারতের নাগরিক এই আইটি ডিরেক্টর রাকেশ আস্তানাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কনসালটেন্ট হিসাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপুটি গভর্নর আবু হেনা মোঃ রাজি হাসানও জানানোর জায়গায় জানিয়েছেন কথাটি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে এর উপর মামলা হবে কি না? তিনি জবাবে বলেন, অর্থ আদান প্রদানে পদ্ধতিগত কিছু বিষয় থাকে। তা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। তা দেখে পরবর্তী করণীয় ঠিক হবে। তিনি বলতে পারলেন না যে এর বিচার হবে বা মামলা হবে ! কারণ এদের আমলনামাতে এরকম নজির স্থাপিত হয়নি। বরং এসব মামলা ময়দান থেকে মিলিয়ে যায় তাই আবু হেনার কথায় এত সন্দেহজনক শংকা ! আজ ১০ মার্চ ২০১৬ তারিখের এমন সংগীন সময়ে আমাদের শক্তিমান প্রধানমন্ত্রী ময়দানে সেনাবাহিনীকে প্রস্তত করছেন আর বলছেন, সেনাবাহিনীকে সদা প্রস্তত থাকতে হবে ! ভিত্তি স্থাপন, উদ্বোধনে আনন্দ সময় পার করছেন, আজ তার আনন্দ ও পূর্ণতার দিন ! জাতির পিতার সাফল্যের দিন ! সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার দিন ! একপাল বেওকুফ মেষপাল নিয়ে তিনি মুখে হাসির ঝিলিক হাতে ছড়ি নিয়ে ময়দানে রাখাল সাজার পাট চালিয়ে যাচ্ছেন ! আল্লাহ ঐ হতভাগা মেষপাল গুলোর হেফাজত করুক।

 

নাজমা মোস্তফা,  ১০ মার্চ ২০১৬।

বিচার হতে হবে পড়শির মনমত

ফাঁসি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বাচ্চারাও মরছে এসব অভিনয় নাটক করতে গিয়ে। উচ্চকন্ঠ গালাগালি আর এক সংস্কৃতি। আগে থেকেই মীর কাসিম আলীর ফাঁসির রায় ৮ তারিখ নির্ধারিত ছিল। রায়ে ফাঁসি না বলে বললাম “ফাঁসির রায়” বলাই মনে হয় উপযুক্ত। তাদের হিসাব মাফিক বিচার যাই হোক ওপেন হয়ে যাওয়া স্কাইপ কেলেঙ্কারী বা কিছু, কিনতু শেষের ফলাফলকে হতে হবে নির্ধারিত, পড়শির মনের মত, শূণ্যঘেরা ফাঁসির বেড়া। সেদিনে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন ভুক্তভোগী ছিলাম ময়দানে আমরা, গনজাগরণ মঞ্চের ইমরানরা জন্ম নেন অনেক পরে। দাদা রাজাকারী করলেও অন্যের গল্প শুনে শুনে তারা আজ যুদ্ধ বিচারক। তাদের দাদাদের অত্যাচারে মানুষ চক্ষে শর্ষেফুল দেখেছে ! কিন্ত কৈ দাদার বিচার কি আদালত দিয়েছে, জানি না ! এখনকার বিচার হচ্ছে বাংলাদেশীর কল্যানে নয়, পড়শির মনমত, তাই কল্যানও পড়শির, দেশবাসীর নয়। সেদিন শুনলাম প্রধানের আবদার জামাত শিবিরকে চাকরি না দিতে। কোন কু সন্তানকে কি বাংলাদেশী মা বলতে পারেন ওরে খেতে দিস না ! দেশ জুড়ে সুসন্তান খুব চোখে পড়ে না, তারাই লুটে পুটে খাচ্ছে গোটা দেশ ! ইয়াবা, ফেনসিডিল, ধর্ষন, খুন, শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতনে দেশ বিপন্ন বিধ্বস্ত, প্রতিদিনকার পত্রিকার পাতা প্রমাণ। তাদের বিরুদ্ধে সরকার যদিও নিরব, পড়শি বনধু সনতুষ্ট, প্রতিনিধিরা আত্মতৃপ্তি চেপে রাখতে না পেরে ঢেকুর তুলছে। যুদ্ধপরবর্তী বিচার ময়দানের সব জনতারা চেয়েছিল, কিনতু তখন ওটি হয়নি। তখনও পড়শির বাড়তি তৎপরতা ! বরং এখন হচ্ছে যেটি সেটি হচ্ছে একটি দলকে ধ্বংসের ফাঁসির জটিল পড়শি নাটক। ফাঁসি ফসকে যাবার ভয়ে ক্রমাগত মন্ত্রীরা চিৎকার দিতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ^স্ত করতে দাপটের সাথে ধমক দেন ! সে সব খুব ফলাও করে পড়শির পত্রিকায় প্রচারে ঠাঁই পাচ্ছে। মনে হচ্ছে সবই ভয়ানক নাটকের অংশ মাত্র !

আওয়ামী লীগের কাছে “ইসলাম” সুরক্ষিত নয়ঃ আন্দালিব রহমান পার্থ

লক্ষ্য করুন মীর কাসেম আলীর বিচারের সূত্রে এর মাঝে একজন স্বাধীন দেশের মন্ত্রী বলেছেন ব্যক্তির বিচার বিষয়টি ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে কথা বলতে হবে ! দেশের স্বার্থের থেকে ভারতের মন্ত্রী হয়েছে বাংলাদেশের মন্ত্রীদের বাপ মা গুরুজন। তথ্যটি যে কতটুকু ভয়ঙ্কর বিধ্বংসী কথা, সেটি যাচাই করতে ভুলবেন না সচেতন জনতারা ! অতীতে বিদেশের বহু দেশ ও সংস্থা সুষ্ঠ বিচারের উপর জোর দিলেও সরকার তা শোনার প্রয়োজন বোধ করে নি। কিনতু কোনভাবেই ভারতকে ভুলতে নারাজ। ফেলানীর বিচারে তারা অবিচারই করে যাচ্ছে, প্রতিদিন মানুষ মারছে, কোন ক্ষেত্রেই চারদিকে বাংলাদেশের স্বার্থ দেখার কোন নজির নেই, অদৃশ্য কারণে এত অগুণতি অনাচারের পরও সরকারের বনধুত্বে ভাটা পড়ছে না ! সরকারই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিতর্কীত করে তুলছে এভাবে ! ওর উপর কোন ধমকি দিতে সরকার কি এর মাঝে সাহস হারিয়ে ফেলেছে ? অনৈতিক পথে হাটলে কি ব্যক্তি কি সমাজ কি রাষ্ট্র সবার পরিণতি এমনই হওয়ার কথা ! তাই অতীতেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এসেছে ধমকি নয় বরং, “দিস ইজ ট্রায়াল আন্ডারটুক উইথ একটিভ সাপোর্ট এন্ড এসিসটেন্স অব নিউ দিল্লী। এর মানে হচ্ছে এ বিচার হচ্ছে মূলত নিউ দিল্লীর গরজে। বিচার যখন বাংলাদেশীর থেকে দিল্লীর গরজ বেশী হয় তখন আর দেশ বাঁচে না, মুক্তিযুদ্ধও বাঁচে না ! মনে হয় এটি যেন অলক্ষ্যে গোটা দেশের ফাঁসির রায় !

দিল্লীর আগ্রাসী কামড়ে আজ এভাবে বাংলাদেশ আহত বিধ্বস্ত। যখন বিগত সময়ে হিলারী জানতে চান ওবামা তার চাওয়া হচ্ছে মানবিক সুষ্ঠ বিচার। এর উত্তরে উপরে বর্ণিত জবাবে সরকারপ্রধানের মেরুদন্ড কতটুকু বেঁকেছে সেটি কি তিনি টের পেয়েছেন ? তাই ধমক কাকে দেবেন ? সব নাটের মূলে তো প্রধান নিজেই দাগী আসামী ! আসামী শুধু তারেক আর খালেদা, কিনতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনের দাগী আসামী হাসিনা নিজেও। অনৈতিক আচারে ধন্য হওয়ার কারণে নিজের মামলা সরিয়ে নিয়ে অন্যেরটা বহাল রেখে যে অসততার পরিচয় দিলেন তা একজন প্রধামন্ত্রীকে কতটুকু ছোট করেছে, সেটি মাপার মত বোধ সম্ভবত তিনি এর মাঝে হারিয়েছেন ! সামান্যতম ন্যায় অন্যায় বোধ জানা থাকলে তিনি হয় দু’জনার মামলা সরাতেন নয়তো দুজনারটাই রাখতেন ! শাস্তি ব্যতিরেকে নোংরামির কোন ফয়সালা নেই। এসব সীমানা হারালে মানুষ আর পশুতে ব্যবধান খুব বেশী থাকে না। তখনই মানুষ মানুষকে গরু গাধা ডাকে। এত হারানোর পরও দোয়া করি মানুষ যেন তার মূল প্রতিকৃতি ও প্রকৃতি না হারায়।

খুব সুন্দর একটি বিএনপির বাউল গান সবাই শুনুন

নাজমা মোস্তফা,  ৮ মার্চ ২০১৬।

প্রসঙ্গ গুজরাটের ধর্মান্ধতা: উচ্চবর্ণের হিংস্রতা

Gujarat 2002 Riots Victims Story in their own Words: After Godhara Kand

বি. দ্রষ্টব্য: “ভারতের গর্ব না কলঙ্ক, গুজরাটের রক্ত?” লেখাটি ২২ সেপ্টেম্বর ২০০২সালে যায় যায় দিন সংখ্যায় (আন্তর্জাতিক বিভাগে) ছাপে। এর পর রাজিব তরফদার নামে এক ব্যক্তি এর প্রতিবাদ করে একটি লেখা ছাপেন যার জবাব হিসাবে আমাকে আর একটি লেখা লিখতে হয় ওটি “উচ্চবর্ণের হিংস্রতা ছাপে “ ০৩ অক্টোবর ২০০২সংখ্যাতে (দ্বিতীয়মত চ্যাপ্টারে)।

রাজীব তরফদারের “ধর্ম ও ধর্মান্ধ এক নয়” লেখাটি মূলত আমার লেখা গুজরাটের দাঙ্গার জবাবে লেখা। আমার এই লেখাতে আমি গুজরাটের দাঙ্গার করূণ ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরি নি। শুধু সম্ভ্রান্ত উচ্চ বর্ণের হিংস্রত্বের উল্লেখ করে কিছু ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। লেখক তার স্বপক্ষে কিছু যুক্তি টানার চেষ্টা করেছেন।

নারীরা শুদ্রানী বলতে তার আঁতে ঘাঁ লেগেছে। শাস্ত্রে প্রাচীন শাস্ত্রকারদের নারী বিরোধী মনোভাবই অধিক প্রাধান্য পেয়েছে। এ কারণেই হিন্দু আইনের প্রধাণ উৎস বেদ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে বঞ্চিত করেছে নারীকে। মহাভারতসহ বিভিন্ন পুরানে ও মনুসংহিতা নারী বিদ্বেষে পরিপূর্ণ, যেখানে নারী উপস্থাপিত হয়েছে দানবীরূপে। (To corrupt Men 11:213) G.Buhler, the Laws of Manu 1998, Page-18)

যদিও শাস্ত্রে নারীর এই দশা তবু এই নারীরাই আবার বেশীরভাগ দেবী। তা আমরা সবাই জানি। তা আর শাস্ত্র ঘেটে জানার দরকার নেই। সতীদাহ আর বাল্যবিবাহ ও  বিধবা বিবাহকে তিনি জিহাদের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন। জিহাদ কোন অনাচারের নাম নয়। জিহাদ আক্ষরিক অর্থে একজন সত্যিকারের মুসলিমের আজীবন  তার নিজের আত্মশুদ্ধির এক প্রশিক্ষণ। আমার বিষয় ছিল গুজরাট। রাজীব সাহেবের বক্তব্য আমি কেন ভারতের দিকে তাকাই। তিনি আমাকে বাংলাদেশের দিকে তাকাতে বলেছেন। গুজরাটের দাঙ্গা বাংলাদেশে হয় নি তাই আমি ভারতের দিকে তাকাতে বাধ্য হয়েছি।

কমরেড এম এন রায় বহু আগেই অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন,“ইউরোপ মুসলমানদের থেকে শিক্ষা লাভ করে বর্তমান সভ্যতার নেতৃত্বে আসীন হয়েছে। আজো ইউরোপের উদার ও কৃতজ্ঞ প্রকৃতির চিন্তাবিদগণ অবনত মস্তকে ইহা স্বীকার করে থাকেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ভারত ইসলামী চিন্তাধারার যথাযোগ্য সমাদর না করার দরুন লাভবান হতে পারে নাই কারণ তারা অস্পৃশ্যতার বেড়াজাল ভুলতে রাজি নয়। আজো ইচ্ছা করলে জাগরণের যুগে মানবতার ইতিহাসের ঐ গৌরবময় অধ্যায় হতে উভয় সম্প্রদায়ের লোকই অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারেন”(The historical rule of Islam) ।

Dalit Muslims of India – Aljazeera Documentary

ভারতের সংবিধান রচয়িতা ভোক্তভোগী ডঃ বি আর আম্বেদকর ক্ষুব্ধ চিত্তে তার “এ্যানিহিলেশন অব কাষ্ট” বইতে লিখেছেন,“যদি তুমি জাত ব্যবস্থাকে ভাংতে চাও, তবে তোমাকে বেদ এবং শাস্ত্রগুলিকে- যা কোন যুক্তিকে স্বীকার করে না, যা নৈতিকতাকে অস্বীকার করে – ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিতে হবে। তোমাকে অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে স্মৃতি অনুসারী ধর্মকে”।

উল্লেখ্য অধুনা হিন্দু ধর্ম বলে কোন ধর্ম পৃথিবীতে নেই। হিন্দু একটি জাতির নাম। আসিন্ধোঃ সিন্ধু পর্য্যন্তং যস্য ভারত ভূমিকা পিতৃ ভূঃ পূণ্য ভূশ্চৈব সবৈ হিন্দু রিতি স্মৃতং। সিন্ধু নদ থেকে সমুদ্র তট পর্যন্ত ভারতকে যিনি পিতৃভূমি জ্ঞান করেন তিনিই হিন্দু। স্যার সৈয়দ আহমদ বলেছিলেন হিন্দুস্থানের যে কোন বাসিন্দা হিন্দু হতে পারে। অতএব আমি দুঃখিত যে আমি যদিও হিন্দুস্থানের একজন বাসিন্দা, আপনারা আমাকে হিন্দু বলে স্বীকার করেন না। (রিসালা, আসবাবে ভাগওতী হিন্দু, শেরওয়ানী কৃত ইংরেজী অনুবাদ ২১৮পৃষ্টা)

সতীদাহ প্রথা শেষপর্যন্ত মুসলমানের ঘাড়ে চাপালেন। এ প্রথার মহাত্ম্য ফুটে উঠে স্বয়ং বিশ্ব কবির ছন্দে,

“জ্বল জ্বল চিতা দ্বিগুণ দ্বিগুণ

পরাণ সপিবে বিধবা বালা

জ্বলুক জ্বলুক চিতার আগুন

জুড়াবে এখনি প্রাণের জ্বালা।”

কবির এ ছন্দ মাধুর্যে সতীদাহের গৌরব বাড়ে বৈ কমে নাই।

সবার শেষে পন্ডিত বেদ প্রকাশ একজন ব্রাক্ষ্মণ হিন্দু এবং বিখ্যাত সংস্কৃত ভাষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক। তার গবেষণার কর্ম সম্বলিত পুস্তিকাটি আটজন বিজ্ঞ হিন্দু পন্ডিতের কাছে পাঠান, তাদের কাছে যারা ভারতের বিখ্যাত গবেষক এবং ধর্মীয় গুরু হিসাবে পরিচিত। পন্ডিতগণের রায় হিসাবে তার গবেষণার তথ্য সত্য এবং প্রামান্য গবেষণা বলে স্বীকার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, “কলকি অবতার”এর এক দ্বীপে জন্ম, তার মরূভূমিতে অবস্থান, পিতা মাতার পরিচয়, জলপাই খেজুরের জীবিকা নির্বাহকারী, সত্যবাদী, মহান বংশে জন্ম গ্রহণকারী, গুহায় শিক্ষাপ্রাপ্ত, তার স্বর্গ নরক ভ্রমন, ভগবান কর্তৃক শক্তি সঞ্চয়, ঘোড়া চালনা, তীর নিক্ষেপ ও তরবারী পরিচালনায় পারদর্শীতার এ সমস্ত দক্ষতা দেখিয়ে গবেষক প্রমাণ করেছেন এ “কলকি অবতার” আরবের মোহাম্মদ সাহেব। তিনি লিখেছেন যে ভারতবাসী এখনও কল্কি অবতারের অপেক্ষায় আছে কিনতু ঘোড়া, তলোয়ার ও বর্শার যুগ অনেক আগেই অতিবাহিত হয়ে গেছে। বর্তমান হচ্ছে আধুনিক সমরাস্ত্রের যুগ। তার ভাষায় ইনিই মোহাম্মদ সাহেব যার উপর আসমানী কিতাব কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

লোম বাছতে কম্বল উজাড় করে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। আমার আহবান ছিল উদারতার, মানবতার, সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে। উপরের গবেষণা আমার নয়। একজন হিন্দু পন্ডিতের। সকল সংকীর্ণতাই উপড়ে ফেলতে পারলে কোন সত্যের মাঝে কোন সুন্দরের মাঝে কোন নোংরামি থাকতে পারে না। কোন সাম্প্রদায়িতকার ঠাঁই সেখানে নেই (প্রসঙ্গ গুজরাটের ধর্মান্ধতা: উচ্চবর্ণের হিংস্রতা,  নাজমা মোস্তফা” নামে লেখাটি ছাপে ০৩ অক্টোবর ২০০২ সংখ্যাতে, যায়যায়দিনের দ্বিতীয়মত চ্যাপ্টারে)। ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে প্রচার করে। এ হলো তার উত্তম নমুনা। তাদের এসব অপকর্মে অনেক খবরের শিরোনাম এভাবে আসে এসব দাঙ্গা নয়, পরিকল্পিত গণহত্যা।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

Compelling Evidence proves – Narendra Modi Ordered Gujarat Riots 2002

What Narendra Modi Did In Gujarat, 2002

সিলেটের শ্রী কানু দাস কেন/কীভাবে মোঃ আব্দুল আজীজ ?

নাজমা মোস্তফা,  ৬ মার্চ ২০১৬।

 

হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান হুমকি কিসের আলামত সৃষ্টির না ধ্বংসের?

সম্প্রতি নিউইয়র্কে  সংবাদ সম্মেলন করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ। পরদিনই পত্রিকায় দেখলাম এটি না করার পক্ষে মত এসেছে। এখন দেখছি এটি ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে এক বক্তা শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছেন বেশ সাহসের সাথে যা অতীতে কখনোই করেন নাই। একই ভাবে শহীদ জিয়া বলাতে শহীদ কথাটির  অর্থ বোঝতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে, মনে হচ্ছে এর সুবাদে তারা ধর্ম বিতর্কে জড়িয়ে গেছে ! কারণ হিসাবে এক বক্তা প্রশ্ন রাখছেন জিয়া কোন ধর্মযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ? ভাল কথা ধর্মকথাটি শুনাবো, একজন মুসলিম হিসাবে এটি দায়িত্ব তাকে এর যুক্তিটি দেয়া। গরু হিন্দুর মা বা দেবতা হলেও এর দুধ মাংস মুসলমানদের হালাল খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত। ৯৫% মুসলিমের দেশে সেটি নিষিদ্ধ করার অধিকার নিয়ে দাঁড়িয়েছে এরা, এ আস্ফালনটি আমেরিকাতে দাঁড়িয়ে। সাথে ভারত তার দেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ আস্ফালন অনেক দিন থেকেই যুগ যুগ অবদি বলবৎ রেখেছে । তারপরও আমেরিকাতে কিনতু কেন এরকম একটি বায়না রাখছে না গরুর সেবকরা, সেটি বোধগম্য নয়। আমেরিকা মুসলিম প্রধান দেশ নয় বলে কি?

মুসলিমরা শুকর মদ খায় না। তারপরও যার যার মত সবাই খাচ্ছে। বাংলাদেশে মদের পাট্টাতে তার অনুসারীদের উৎপাত আমরা সারা রাত অনেক চিৎকার চোঁচামেচি শুনেছি সেই পাকিস্তান আমলেও, বাংলাদেশেও। তাছাড়া শুকর পোষেন খান, কারো কোন দায় নেই তা নিয়ে। সংখ্যালঘিষ্ট  মুসলিমরা ভারতে সব দিনই নির্যাতীত, বড় উদাহরণ ২০০২ গুজরাট, বাবরী মসজিদ। এত মুসলিম  গৌরবে ভারত সয়লাব তারপরও তাদের প্রকৃত গৌবরধারীকে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে প্রবল প্রতাপে। এবার কেন ফের বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশেও এভাবে সংখ্যালঘিষ্ট আক্রমণের শিকার তা মোটেও বোধগম্য নয়। বর্তমান সরকারই এদেরে লাই দিয়ে মাথায় চড়িয়েছে, অতীতে কোন সময়ই এ সরকারের বিরুদ্ধে কোন কথাই বলে নাই, যদিও অনাচারে দেশ সয়লাব। এর কারণ লাভের ভাগ সব সময়ই বড়ভাগে তারা পেয়ে আসছে। মাত্র হাতে গোনা পার্সেন্টেজের স্যংখালঘু হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ তাদেরে সারা দেশে প্রশাসনে এমনভাবে ঢুকিয়েছে, যার কারণে খুশীর অতিশয্যে তারা আজ চোখে আন্ধার দেখছে ! বলা হচ্ছে তাদেরে জোর পূর্বক ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে ! মিথ্যাচারের সীমা থাকাটা ভাল। কারণ একজন নিরপেক্ষ সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে অবলোকনে রত, ওখানে বালি পরিমাণও ছাড় মিলবে না। বাংলাদেশে মুসলিম সংকট দেখা দেয় নি যে তারা ধর্মান্তর করে পরিসর বাড়াবে, যা তারা জীবনেও করেনি ! ওটি করাতে লাভ কি, গরুর মাংসে ভাগ বসানো ছাড়া আর বাড়তি কতটুকু জমবে ?

বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে কোন সাম্প্রদায়িক দ্বন্ধ নেই, যা ভারতে আছে। দুটি সত্য কথা ঐ সম্মেলনে স্পষ্ট হয়েছে তা হচ্ছে, অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে সরকার অপকর্ম করছে । এমনভাবে তাদের অন্যায়ভাবে নিয়োগ দিয়েছে, এটি সর্বশ্রেষ্ঠ শত অন্যায়ের একটি বড় অন্যায় ! দ্বিতীয় কথাটি ভয়ে সম্পাদক ও সংবাদকর্মীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না ! এটি কিনতু আজই নতুন নয় ! সত্য কথা বলার অপরাধে একজন সম্পাদককে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে, কয়জন সংখ্যালঘু বা তাদের সংস্থা এর বিচার চেয়েছিলেন, জানতে ইচ্ছে করে? এদের সততার দাগ ইতিহাস রাখার অবদান বড়ই কম। ঐ রেকর্ড তারা দেখাতে পারবেন না। তারা দাবী করছেন পৃথক পৃথক বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। তার মানে ঢাকা হিন্দু বিশ^বিদ্যালয়, ঢাকা বৌদ্ধ বিশ^বিদ্যালয়, ঢাকা খৃষ্টান বিশ^বিদ্যালয় করতে হবে। একটি লাইন বলি আমরা যখন হোস্টেলে ছিলাম আমাদের কলেজ হোষ্টেলে কোন সময় গরুর মাংস আনা হতো না কারণ হিন্দুরা খায় না। মাছ, ডিম মুরগী এই ছিল আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার হিসাব, আমি সিলেট উইমেন্স কলেজে পড়েছিলাম। আমরা সবাই এক টেবিলে বসে খেয়েছি, যদিও আচার ঘটিত জটিলতাতে কম বেশী ভোগান্তি হলেও আমরা নিরীহ পক্ষ। বরং আমার রুমমেট পদ্মদি ছুড়ে ফেলে দিতেন যদিও বা মেঘলা দিনে আমার শাড়ীর আচল পদ্মদির পাশ ছোঁয়ে যেত। তার বড়ই ছুৎমার্গ জাত। আমারটা বড় শক্ত জাত, শত ছোঁয়াছুয়িতেও যায় না। বাংলাদেশ পাকিস্তান আমলেও পদ্মদিদের গরম সবদিনই একটু বেশী। আজও সে গরম বাতাস অনুভূত হচ্ছে !

২০০৩ সালের ২৭ জুন সংখ্যাঠিকানাপত্রিকার এক লেখাতে দেখি একজন সংখ্যালঘু আবদার রেখেছেন, এখনো সময় আছে সংবিধান পরিবর্তন করুন এবং ভারতের সাথে মিলেমিশে চলুন। তা না হলে পরিণাম ভালো হবে না। এসব হুমকি ধমকি চলছে বেশ দিন থেকে, এখন মনে হচ্ছে পালে বেশ বাড়তি হাওয়া লেগেছে ! সোহরাওয়ার্দি উদ্যান যেন বাবরী মসজিদ, হিন্দু মন্দির দখলের প্রতিবাদ তুলা হয়েছে সম্মেলনে, যার ভিত্তি বড় দূর্বল। ১৬১০ খৃষ্টাব্দে সুবেদার ইসলাম খাঁর মহল্লা চিশতিয়া ও মহল্লা সুজাতপুরের পুরো এলাকাই মুসলিম অধিকৃত থেকে পরবর্তীতে ফার্সি শব্দ “রমনা” নামকরণ হয় সেনাপতি ইসলাম খাঁর সুবাদে। দাবী উঠছে এমন যেন ওটি আনন্দময়ী নামের এক কর্মচারীর স্ত্রীর নিজস্ব জমি ! যদি ওখানে কোন মন্দির থেকে থাকে সেটিও মুসলিমদের বদান্যতা, নয়তো যেভাবে হিন্দুরা মুসলিম নিন্দাবাদে দক্ষ ওটির কোন নাম গন্ধও থাকার কথা নয়। জগৎশেঠ রায়দুর্লভরা এদেশের মালিক ছিল না কিনতু মিথ্যাচারে অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে একদিন মালিক হয়ে বৃটিশের হাতে সব তোলে দেয়। তারা প্রচার করে তলোয়ারের জোরে ইসলাম প্রসার লাভ করেছে, এসব আগা গোড়াই মিথ্যাচারে ভরা। প্রমাণ চাইলে অজর্স জমা করা সম্ভব। এ ধর্মে এসব কুরআন দ্বারা নিষিদ্ধ, তাই মুসলিমরা ওটি করতে পিছপা হয়, নইলে হয়তো কিছু করতো। বরং বিধর্মীরা যারা খাদে বাস করতো, তারা গভীর খাদ থেকে উঠে ছুটে আসতো পাগলের মত মুসলিম ময়দানে। কারণ এটি মানুষের ময়দান। উদাহরণ বেশী দূরে নয়, এইতো ১৯৮১ সালে ভারতে দশ হাজারেরও অধিক মিনাক্ষীরমে হরিজনের ধর্মান্তর, কেউ তাদের জোর করে ধর্মান্তর করেনি। আপনারা মাথা ঠান্ডা করুন ! মানুষের ময়দানে যোগ দেন !

সব সময়ই ভারতে এটি করা হয়েছে বহুগুণীত ভাবে, একটি সূত্র আনছি যেখানে সারা দেশে আজো ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের গৌরবকে মিটিয়ে দিতে মুর্শিদাবাদের মুসলিমদের পুরষ্কারের পরিবর্তে মিরজাফরের জাত বলে তিরস্কৃত করা হয়”(বাজেয়াপ্ত ইতিহাস, ৬৫ পৃষ্ঠা, আল্লামা গোলাম আহমাদ মর্তুজা) ডক্টর দীনেশচন্দ্রের লেখা উদধৃতি, রামায়ণ ও মহাভারতের মত মহান গ্রন্থগুলো সর্বপ্রথম অনুবাদ করেছিলেন রাজা হোসেন শাহ, পরগাল খাঁ এবং ছুটি খাঁ। সেখানে বাংলা কুরআনের অনুবাদের কথাও এসেছে, কিনতু ঐ অনুবাদের সূত্রে মুসলিমদের নাম কতটুকু শুনেছেন জেনেছেন, তবে কুরআন শরীফ অনুবাদ করেন বাবু গিরিশচন্দ্র সেন এটি মনে হয় চোখ বন্ধ করে বলা যায় সবার জানা। এর কারণ কি? এর কারণ বিপক্ষের সংকীর্ণ মানসিকতা আর পক্ষের মানুষের চেতনহীনতা। এ উভয় অপরাধে আজ বিজ্ঞ জনেরা ময়দানে মৃত। দুনিয়ার মালিক সবার অন্ধকার দূর করুক। দেশটি চারদিকে হুমকির মুখে, তারপরও একজন নিরপেক্ষ দর্শক দুনিয়ার মালিক সব অবলোকন করছে। সেই ভরসা সবারই বড় স্বান্তনা।

স্বাধীনতার যুদ্ধে সেই ফকির বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ, মুসা শাহ, চেরাগ আলী, ফেরাগুল শাহ, ফারায়েজী আন্দোলনের নায়ক হাজী শরিয়ত উল্লাহ, দুদু মিয়া, বাশের কেল্লার অমর শহীদ নিসার আলী তিতুমির সহ তার অসংখ্য সৈনিক, সিপাহী বিপ্লবের মহানায়ক বাহাদুর শাহসহ মুনসি মেহেরূল্লাহ, পাগলা টিপু, স্যার সলিমুল্লাহ, নওয়াব আলী চৌধূরী, মওলানা আকরাম খাঁ, মওলানা মনিরূজ্জামান ইসলামাবাদী, কাজী মিয়াজান, হাবিলদার রজব আলী, কাজী নজরূল প্রমুখ তাদের কীর্তি দিয়ে ইতিহাসে অবস্থান করে নিয়েছিলেন। 

সেখানে কোন সংকীর্ণতা ছিল না, অন্তরে গাঁথা ছিল সত্যের বাণী, কন্ঠে ছিল আল্লাহর অমোঘ সাহসের স্বীকৃতি, তাই ন্যায় যুদ্ধের সৈনিক তারা হয়েছিল। তাদের অবমূল্যায়ন করে যে অপরাধ করেছে এ যাবত দেশবাসী তার জন্য আফসোস করার সময় এসেছে। এরা ছিলেন সত্যের সৈনিক, সত্যের শহীদ। এদের নাম শহীদের খাতায় লিখে রেখেছে স্বয়ং দুনিয়ার মালিক আল্লাহ। এরা যে অবহেলায় অমোঘ সত্য মুমূর্ষ সময় পার করেছে আজ তাদের বজ্র কঠিন আদর্শে উজ্জীবিত হবার সময় এসেছে, অতীতের গাফেলতির জন্য তওবা করারও সময় পার হচ্ছে। সেদিনের আলোকে শহীদের পরিচিতি স্পষ্ট করতে কুরআনের কিছু অমৃত বাণী। “আর যদি তোমরা মারাই যাও বা তোমাদের কাতল করা হয়, নিঃসন্দেহ আল্লাহর কাছে তোমাদের একত্রিত করা হবে।” (আল-ই-ইমরানের ১৫৭ আয়াত ) “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের বল না মৃত বরং (তারা) জীবন্ত, যদিও তোমরা বুঝতে পারছ না” (সুরা বাক্কারাহএর ১৫৪ আয়াত)। “আর যাদের আল্লাহর পথে হত্যা করা হয়েছে তাদের মৃত ভেবো না বরং তাদের প্রভুর দরবারে (তারা) জীবন্ত, (অফুরন্ত) তাদের রিজেক। তারা আনন্দ করবে আল্লাহর কাছ থেকে অনুগ্রহের জন্য এবং করুণাভান্ডারের জন্য; নিঃসন্দেহ আল্লাহ বিশ^াসীদের প্রাপ্য বিফল করেন না” (সুরা আল ইমরানের ১৬৮/১৭০ আয়াত)। সত্য আলোতে সবাই উদ্ভাসিত হোক।

Andolon News | 18 Jan 2017 | শেখ হাসিনার ছাগল সরকারের আমলে মানুষের নয় উন্নয়ন হয়েছে ছাগলের।

নাজমা মোস্তফা,  মার্চের ২ তারিখ ২০১৬ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: কিছু বানান জটিলতার জন্য দুঃখিত।

Tag Cloud