Articles published in this site are copyright protected.

সত্য সন্ধানীরা যুগে যুগে নিজের ঘাম ও রক্ত দুটোই ঝরিয়ে গেছেন সত্যকে উন্মোচন করবেন বলে। কেউ স্বার্থক হতে পেরেছেন কেউবা হেরে গেছেন। এত নিপিড়নের পরও সত্য মরেনা, বেঁচে থাকে। অনেকে মিথ্যার মসনদে শক্ত হয়ে বসে যায় এর ফাঁকে। কিনতু সত্যের কষ্টরা হাফ ছেড়ে দেয় না, জানে একদিন তার জয় হবেই। প্রজাপীড়ক জমিদার রবীন্দ্রনাথের পরিবার যে দরিদ্র কৃষককুলের উপর জবরদস্তি করতেন এবং তা আদায়ের বিরুদ্ধে শিয়ালদহে প্রজাবিদ্রোহ হয়েছিল, এর প্রমান (সূত্র: অধ্যাপক অমিতাভ চৌধুরী, জমিদার রবীন্দ্রনাথ, দেশ ১৪২ শারদীয় সংখ্যা)। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রবীন্দ্র পূজার আহ্লাদে গোটা দেশ কম্পমান এর কারণ সেখানেও আজ অবদি অনেক সত্য চাপা দেয়া। সচেতন কিছুরা হয়তো জানে বা অনেকেই জানে না কারণ এসব শক্ত করে চাপা দিয়ে রাখা। কেউ কথা বললেই তার মুখে সরাসরি বাণ নিক্ষেপ করা হয়। কবি জসিম উদ্দিন ঐ মাটির এক দুর্লভ সত্য সাধক এসব কষ্টের ভার লাঘব করতে কিছু দাগ রাখলেও তাও চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে ইতিহাসের তলানীতে। যার জন্য ধারণা হয় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশীরা ওসব মোটেও জানে না। প্রতিপক্ষের মত সংকীর্ণমনা হলে ওটি তারা অনেক আগেই সবদিকে ঢাক ঢোলে প্রচার করতো, সত্য বিকট আওয়াজে ময়দানে ফেটে পড়তো। এতে তাদের উদারতার এ দিকটি আবারো জীবন্ত হয়ে উঠে। যদিও এর ক্ষতি ভয়ানক, বিনিময়ে তাদের ঘাম ও রক্ত ঝরার ইতিহাস আরো বেড়ে গেল কয়গুণ বেশী। নীচে বিগত শতকের শান্তি নিকেতনের অশান্ত আচরণের কিছু বাস্তবচিত্র।

কবি জসিমউদ্দিন বলেন, “হিন্দু মহাসভার এক বক্তা আসিয়া শান্তি নিকেতনে ম্যাজিক লন্ঠন সহযোগে এক বকতৃতা দিলেন। জ্বালাময়ী বকতৃতা সহযোগে বক্তা ছবির উপর ছবি দেখাইয়া চলিলেন। লুঙ্গিপরা মুসলমান গুন্ডারা যুবতী হিন্দু মেয়েটিকে জোর করিয়া ধরিয়া লইয়া যাইতেছে। তাহার চিৎকারে আকাশ বাতাস বিদীর্ণ হইতেছে। একটি মেয়েকে টুকরা টুকরা করিয়া কাটিয়া ছালায় ভরিয়া মুসলমান গুন্ডারা নদীতে ফেলিয়া দিতে যাইতেছে। এমনি নানা রকম হৃদয় বিদারক দৃশ্য। এই সব দেখাইয়া বক্তা তার শ্রোতামন্ডলীকে আহবান করিলেন “হিন্দুগণ, প্রসতুত হউন। যেমন করিয়া ভীম, অর্জুন, নকুল, দৌপদীর বস্ত্রহরণের প্রতিশোধ লইয়াছিলেন, যেমন করিয়া রাম লক্ষ্মণ সীতা হরণের পর রাবণকে স্ববংশ নিধন করিয়াছিলেন, তেমন করিয়া  আসুন আমরা মুসলমানদিগকে নিধন করি। বকতৃতা শেষ হইল। কেহই এই বকতৃতার প্রতিবাদ করিলেন না।

প্র্রতিদিন ভোরে গ্রন্থাগারের সামনে এখানকার ছাত্র ছাত্রীরা এবং শিক্ষকেরা মিলিত হইয়া প্রার্থণা করেন। এই প্রার্থণার শেষে কয়েকজন শিক্ষক ও অধ্যাপকের সঙ্গে মিলিত হইলাম। তাহারা প্রত্যেকে বিগত রাতের কথা আলোচনা করিতেছিলেন। একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “দেখুন, আপনার সম্প্রদায় যে এইভাবে হিন্দু মেয়েদের উপর অত্যাচার করছে, আপনার মতো উদার প্রাণ মুসলমানের কাছে আমরা এর প্রতিবাদ আশা করি”। আমি বললাম, “রবীন্দ্রনাথের এই পবিত্র ভূমিতে হিন্দু মহাসভার বক্তা যেভাবে মিথ্যা নারী নির্যাতনের নামে আমার সম্প্রদায়কে একতরফা আক্রমণ করে গেলেন, আমার মনে খুবই আশা ছিল আপনাদের মতো উদারমনা শিক্ষকদের মধ্যে কেউ এর প্রতিবাদ করবেন”। আমার কথা বলা মাত্র যেন মৌমাছির চাকে ঢিল পড়লো। একজন বলিলেন, “আপনার কাছে এরুপ আশা করি নি”। আমি বলিলাম, “কি উত্তর আশা করেছিলেন? আপনার তথাকথিত জাতীয়তাবাদী মুসলমানদের মত বলবো যে, বক্তার কথা সবই সত্য? আপনারা আশা করেছিলেন আমি স্বীকার করবো আমার আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব আমার সমাজের আপামর জনসাধারণ সবাই হিন্দু রমনীকে বলাৎকারের জন্য প্রসতুত থাকে? আপনারা আশা করেছিলেন আমার সমাজকে এইভাবে হেয় করে আপনাদের কাছে উদারমনা বলে পরিচিত হব?

ফলশরুতিতে “একদিন প্রভাতদা আমাকে ডাকিয়া বলিলেন, জসীম, তোমার বিরুদ্ধে এখানে ভীষণ আলোচনা চলছে, এখানকার কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা তুমি এখান থেকে চলে যাও।” এই ঘটনার প্রতিবাদ করিয়া আমি একটি সুদীর্ঘ প্রবন্ধ লিখিয়া বনধুবর বিনয়েন্দ্র বন্দোপাধ্যায়কে পড়িয়া শুনাইলাম। সে বলিল, তোমার নামে যদি এ লেখা প্রকাশ পায়, লোকে তোমাকে ভুল বুঝবে। তাছাড়া তোমাদের সমাজে এতে সাম্প্রদায়িকতার ইন্ধন ছড়িয়ে দেয়া হইবে। এক কাজ করো লেখাটি নকল করে আনো। ওটি আমার নামে ছাপা হবে। তাতে আমাদের সমাজের লোকেরা জানবে হিন্দু সমাজে এমন বহু লোক আছে যারা মিথ্যা সমাজ ধর্মের বিরূদ্ধে দাঁড়াতে পারে। উত্তেজনা  কমিয়া গেলে লেখাটি আর নকল করিয়া প্রেসে পাঠাই নাই। সেই সুদীর্ঘ লেখাটি এখনও আমার খাতায় আছে।” (ঠাকুর বাড়ীর আঙ্গিনায়, পৃষ্ঠা ২৩/২৪)। জসীম সাহেব চলে আসলেন। এইতো রবীন্দ্রনাথের বিশ্ব ভারতীর অবস্থা। রবীন্দ্রনাথের কল্পিত ভারতবর্ষ যে কী ছিল তা তার “ভারতবর্ষ” নামক প্রবন্ধ পুস্তকটি পড়লেই ভাল করে বুঝা যায়। তার কল্পিত ভারত ছিলো বেদ, উপনিষদ, রামায়ন, মহাভারত ও সংস্কৃত মতাদর্শের ভারত। মানুষ যখন অন্ধকারের পূজা করে তখন তাদের আলোর সফুরণ হতে পারে না, বরং আরো গভীর অন্ধকারে নিপতিত হয়। ধারণা হয় মুসলিমদের পক্ষে এরকম অত্যাচার হলে এর ফাঁকে কিছু তসলিমা, হুমায়ুন আজাদ ও তার প্রজন্মরা ময়দানে নেমে আসতো। বাস্তবে যদিও এরা মুসলিম অপরাধ না পেয়েও অন্যের গুটিচালে ইসলাম ধ্বংসে মুসলিমবিরোধী ভূমিকা পালন করছে। হিন্দু  নামের নয়ন চ্যাটার্জি নামের আড়ালে কিছু স্পষ্ট ম্যাসেজ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে, তার পরিচয় আল্লাহই ভালো জানেন। তবে তার বিস্ফারিত নয়নজুটি যে চলার পথের গভীর খাদ দেখতে পাচ্ছে সেটি স্বীকার্য। এ ক্ষেত্রে তার পরিচয় মূখ্য নয়। অতীত যুগের ইতিহাসের বেশীরভাগ নয়ন চ্যাটার্জিরা দৃষ্টিহীন নিরবতার সাক্ষর রেখেছেন, ইতিহাস তার সাক্ষী।

ব্লগের নয়ন নামের স্পষ্টদর্শীর স্বীকৃতি এখানে নীচেই আনছি। রবীন্দ্রনাথের প্রাইভেট সেক্রেটারী অমিয় চক্রবর্তী দরিদ্র প্রজার জন্য কিছু দান করতে প্রস্তাব রাখলে কবির জবাব ছিল কৃপণতায় ভরা। “বল কি হে অমিয়, আমার রথীন (পুত্র) তাহলে খাবে কি? (অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচনা থেকে উধরিত সূত্র – গ্রন্থ ‘রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক চিন্তাধারা” আবু জাফর)।” অধ্যাপক অরবিন্দ পোদ্দারের কিছু কথা “জমিদার জমিদারই। রাজস্ব আদায় ও বৃদ্ধি, প্রজা নির্যাতন ও যথেচ্ছ আচরণে যে সব অস্ত্র চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার জমিদার শ্রেণীর হাতে তুলে দিয়েছিল, ঠাকুর পরিবার তার সদব্যবহারে কোন দ্বিধা করেনি। এমন কি জাতীয়বাদী হৃদয়াবেগ উপনিষদিক ঋষিমন্ত্রের পুনরাবৃত্তি এবং হিন্দুমেলার উদাত্ত আহবানও জমিদার রবীন্দ্রনাথকে তার শ্রেণীস্বার্থ থেকে বিচ্যুত করতে পারে নি। (অরবিন্দ পোদ্দার: রবীন্দ্রনাথ ও রাজনৈতিক প্রবন্ধ)।” সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়ও বলেছেন, “শান্তিনিকেতনে একটি চাকরি পেয়ে তার আধাসরকারি চাকরি ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছা ছিল। কিনতু রবীন্দ্রনাথ হলেন জমিদার মর্জির, ঠিক নেই, কখনো আবার চাকরি নষ্ট করে দিলে তার খাবার অভাব হবে। রবীন্দ্রনাথ ইনটলারেন্ট প্রকৃতির ছিলেন। যে মাষ্টার রবীন্দ্রনাথের কথার প্রতিবাদ করতেন তার চাকরি থাকতো না। তিনি আরো বলেন,  জমিদার হিসাবে ঠাকুর পরিবার ছিল অত্যাচারী। গ্রাম জ¦ালিয়ে দিয়েছিল, বুট পরে প্রজাকে লাত্থি মেরে পায়ে দলেছেন দেবেন ঠাকুর। হরিনাথ মজুমদার তা রেকর্ড করেন। মহর্ষি নামে পরিচিত হয়েও মানুষকে পদাঘাতে দলিত করেন। গ্রাম জ¦ালাবার কথাও আছে। আবুল আহসান চৌধুরীর কাছে এসবের ডকুমেন্ট আছে। ঠাকুর পরিবার প্রজা হিতৈষী কাজ হিসাবে স্কুল করা দিঘী কাটা এসবে নেই। বরং মুসলিম প্রজাদের শায়েস্তা করতে নমশুদ্র প্রজা পত্তন রবীন্দ্রনাথের মাথা থেকেই উদভুত। একই কথা বলে গেছেন ডঃ আহমদ শরীফও। কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার তার ‘গ্রাম্যবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকায় ঠাকুর পরিবারের প্রজাপীড়নের কথা লিখে ঠাকুর পরিবারের বিরাগ ভাজন হয়েছিলেন” (দৈনিক বাংলাবাজার, ১৪.০৪. ১৯৯৭ এবং ১.০৫. ১৯৯৭সংখ্যা)। উপরের যুক্তি থেকে পাঠকরা আঁচ করুণ সেদিন বাংলার পল্লী কবি জসিম উদ্দিন কি ব্যবহার পেয়েছিলেন প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ! সেটি ছিল ভয়ানক, সন্দেহ নেই ! “কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা তুমি এখান থেকে চলে যাও” তাকে ঠাকুর বাড়ীর আঙ্গিনা থেকে বরখাস্ত হতে বলা হয় ! যার জন্য জসিম সাহেব চলে আসলেন। পল্লী কবি জসিম উদ্দিনকে এ উন্মোচনের জন্য যেন কাঙ্গাল হরিনাথের পর্যায়ে নামিয়ে দেয়া না হয় !

স্বামী বিবেকানন্দের ঘনিষ্ট ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের মন্তব্য, “রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত সামন্ততান্ত্রিক।” তাদের বড় দেবতা হল অর্থ ও স্বার্থ। যদিও তা চেপে রাখতে সব করা হয়েছে, এসব মহর্ষি জমিদারদের উদ্দেশ্য করে হরিনাথ লিখেছেন, ধর্ম মন্দিরে ধর্মালোচনা আর বাহিরে আসিয়া মনুষ্য শরীরে পাদুকা প্রহার, এ কথা আর গোপন করতে পারি না” (অশোক চট্ট্রোপাধ্যায়: প্রাক বৃটিশ ভারতীয় সমাজ, পৃষ্ঠা ১২৭, ১৯৮৮)। সিরাজগঞ্জের প্রজা নিপীড়নের সুবাদে হরিনাথকে ঐ জমিদারের বিষ নজরে পড়তে হয়” (অশোক চট্টোপাধ্যায়, ঐ গ্রন্থ, ১২৮ পৃষ্ঠা)। কয়েক পুরুষ ধরে প্রজা পীড়নে হাত দাগায় জোড়াসাঁকোর এই ঠাকুর পরিবারটি। রবীন্দ্রনাথও তার ব্যতিক্রম নন।   ১৮৯৪ সনে রবীন্দ্রনাথ চাষীদের খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, এবং খাজনা আদায়ও করেছিলেন” (তথ্যসূত্র: শচীন্দ্রঅধিকারী, শিলাইদহ ও রবীন্দ্রনাথ পৃষ্ঠা ১৮/১১৭)।”  সব জমিদার খাজনা আদায় করতো একবার আর রবীন্দ্রনাথ এলাকার কৃষকদের থেকে খাজনা আদায় করতেন দুইবার। একবার জমির খাজনা আর দ্বিতীয় বার কালী পূজার চাঁদার নামে খাজনা (তথ্যসূত্র: ইতিহাসের নিরিখে রবীন্দ্র-নজরুল চরিত, লেখক-সরকার শাহাবুদ্দীন আহমেদ)। মানুষ সত্য জানতে পারেনি কারণ প্রকৃত তথ্য চেপে রেখে ভুল ইতিহাস গড়া হয়। এসব শক্তির ছায়াতলে সবদিন মানুষের নষ্ট হাতে রচিত ইতিহাসের ভ্রষ্টামি মাত্র। বিধাতার আদালতে এসব আসামীরা কোনভাবেই পার পাবেন বলে মনে হয় না। “কিনতু শিয়ালদহ জমিদারী এলাকায় যেখানে প্রায় সকল রায়তই মুসলমান, সেখানে গরু কোরবানী নিষিদ্ধ করা কিম্বা একতরফা খাজনা বাড়িয়ে মুসলিম প্রজাদের প্রতিরোধের মুখে তা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের শায়েস্তা করার জন্য তাদের গ্রামে (নমশুদ্র) প্রজাপত্তন নিশ্চয়ই কোনও উদার অসাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ বহন করে না” (বাংলা একাডেমীর ত্রৈমাসিক উত্তরাধিকার ১৩৯৩)। ডঃ আহমদ শরীফ সাম্প্রদায়িক হিন্দু সম্পর্কে লিখেছেন, “বাংলার হিন্দু কেবল হিন্দুর কল্যানেই করলো আত্মনিয়োগ। স্কুল, কলেজ, পত্র-পত্রিকা, সভা-সমিতি, সাহিত্য, শিল্প, ব্যবসা বানিজ্য, শাস্ত্রশোধন, সমাজ সংস্কার, দানধর্ম, চাকরি মজুরী, এমনকি সরকারের আবেদন নিবেদনও করতো কেবল হিন্দুর জন্য ও হিন্দুর স্বার্থে। কিনতু বাস্তব ক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিম যে গাঁয়ে গঞ্জে কেবল পাশাপাশি বাস করে না, অভিন্ন হাটে ঘাটে, মাঠে ঘাটে, বেচা কেনায়, লেন-দেন, সহযোগিতায় ও প্রতিদ্বন্ধিতায় যে অবিচ্ছেদ্য – এ সত্য এ সময়কার ভাব চিন্তা, কর্মে ও আচরণে অনুপস্থিত” (আহমদ শরীফ, প্রত্যয় ও প্রত্যাশা, ঢাকা ২৫শে বৈশাখ ১৩৮৬, পৃষ্ঠা ৪৪)।

দান করলে যে কবির ছেলের উপোস করতে হয়, তাই তার হতদরিদ্র কৃষকরা দু’দুবারও ঐ জমিদারকে খাজনা পরিশোধ করে জমিদারকে উপোসের হাত থেকে আজ অবদি বাঁচিয়ে রেখেছে। মানুষের উচিত ছিল কাঙ্গাল হরিনাথকে উচ্চে তুলে ধরা। কাঙ্গালকে তার মর্যাদা না দিয়ে উল্টো একজন শোষককে স্বৈরাচারকে মসনদ দেয়া হয়েছে, যার অনেক কাজেই বিতর্ক জমা আছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে একজন হিন্দু ও একজন মুসলিমের বড় কবির পক্ষে ধমকের সুরে এ জুটির এক প্রতিবাদ লেখা পড়ি। মনে হলো তারা ইতিহাস না জেনেই যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। এখানে সাহিত্যে সতিত্বহানীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামের একটি লেখাতে কিছু কথা এসেছে কিভাবে মুসলিম বিরোধ বজায় রেখেছেন কবি তার রচনাকালে বা কিভাবে বিতর্কীত জিনিস মিথ্যাচার হয়ে তার বিষয়বসতু হতে পেরেছে ! এসব উদাহরণ কিনতু বিদ্রোহী কবি নজরুল বা পল্লী কবি জসিম উদ্দিনদের চালচিত্রে এক ফোটাও নেই।

কবি জসীম উদ্দীন এর – ‘কবর’ কবিতার সর্বশ্রেষ্ঠ আবৃত্তি

মুসলিম কবি লেখকরা এসব আচরণ থেকে মুক্ত। এর প্রকৃত কারণ মহান আদর্শের মাঝে জন্ম নেয়ায় তাদের উদারতার বাণীই উচ্চকন্ঠ হয়। একবিংশ শতক অবদি ভারতের সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পের মূল নায়ক এসব মহর্ষিরা ! অসচেতন জনতার অগোচরে এদেশ জুড়ে জমিদার নামের পূর্বরোগ আবারো মাথা চাড়া দিচ্ছে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নতুন করে সাজানো হচ্ছে একদল নীরিহ অসাম্প্রদায়িক মানব কুলের বিনাশে। বিশ^প্রভু আল্লাহ তার বানী সম্বন্ধে বিশ^বাসীকে জানান দেন, যে কিতাব দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই জানে যে, নিঃসন্দেহ এটি তাদের প্রভুর কাছ থেকে আসা ধ্রুবসত্য। আর তারা যা করছে আল্লাহ সে সম্বন্ধে বেখেয়াল নন” (সুরা বাক্কারাহএর ১৪৪ আয়াত) সত্যধর্ম সূত্রে জানা যায় যে, কেউ কিছু সামান্য পরিমাণও লুকোতে পারবে না। হাত পা চোখ মুখ সবই একদিন কথা বলতে উদ্যত হবে। এত মাটিচাপার পরও এসব বের হয়ে পড়া তারই লক্ষণ মাত্র।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

ইলিয়াস কাঞ্চনের নতুন সিনেমা ‘ফাটাকেষ্ট’ আটকে দিয়েছে সেন্সরবোর্ড!

নাজমা মোস্তফা,  ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভৃন্দা ফন্টে কনভার্ট করার কারণে কিছু বানান জটিলতা পাঠককে মেনে নিতে হবে, দুঃখিত। যেমন কিনতু, প্রসতুত, ফলশরুতি ইত্যাদি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: