Articles published in this site are copyright protected.

BDRধৈর্য্য ধরে পড়েন, লেখাটি অনেক লম্বা, ঘটনাটি অনেক বিশাল। ঘটনার সমসাময়িক সময়েই আমি এটি লিখি, তাই ঐ নাম দিয়েছি। এটি বিডিআর বিদ্রোহ ছিল না, এটি ছিল শক্তির তলানীতে বিডিআর হত্যা করা।

নীচে মূল লেখার সাথে দুটি পেরা এড করি আজ ২০১৭ সালের ২৬ ফ্রেব্রুয়ারী তারিখে: 

আজ ২০১৪ সালে একটি ছবিতে দেখি শহীদ সেনা কর্মকর্তা সদস্যদের হাতে চেক তুলে দিচ্ছেন অনৈতিক পথে আসা প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। মনে হচ্ছিল যেন গরু মেরে জুতা দান করছেন তিনি। হতভাগা জাতিকে নিয়ে কী মরণ খেলা চলছে একমাত্র বিধাতাই এর প্রকৃত বিচার করতে সক্ষম। ছলের সরকার কিনতু সেদিন থেকে আজও তার কোন আচরণ থেকেই সরে আসে নি। জঙ্গির অপবাদকে একটি মাইল ফলক হিসাবে ধরা যেতে পারে, পাঠক লক্ষ্য করবেন জঙ্গির সূত্র ধরে খবরের ধারা বিবরণী কি ভাবে গড়ায়। মনের কষ্ট চেপে রাখতে না পেরে বিডিআর দূর্ঘটনার পর পরই কেন জানি সরকারের তদন্তের উপর ভরসা না করেই আমি বাংলাদেশের প্রতিটি পত্রিকা ঘেটে ঘেটে যা পাই তাই জড়ো করতে থাকি। সেদিন এর উপর প্রায় ২০ পৃষ্ঠার এক বিরাট লেখা জড়ো করি।

দেশটি গড়ার সময়টিতে আমরাও ছিলাম সেখানের বাসিন্দা। এমনকি এর গড়ার সবকটি প্রহর আমরা নিজেরাও শংকার মাঝে কাটিয়েছি। সেদিন কোন এক পেপারে হঠাৎ করে চোখ পড়লো পতাকাতে স্বাধীন বাংলার মানচিত্রের সংবাদটি। এটি যেন আমার মনের ইতিহাসের তলায় পড়েছিল। নাড়াচাড়াতে সেটি উপরে উঠে আসে। আজো মনে পড়ে আমার নিজের হাতে কতটি যে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরী করেছিলাম, কারণ প্রথম কার্বন কপিটি একজন দর্জি তৈরী করে দেয়। অত্যন্ত সুক্ষকরে ওটি দর্জি তার মেশিন দিয়ে তৈরী করেছিল। বাবা ছিলেন সে সময়কার আওয়ামী লীগের লিডার। আমার সূচি কাজের দক্ষতা বাবার জানা ছিল, তাই আমার উপর তার একটি আবদার এসে পড়লো যদি এর উপর ভিত্তি করে এসব অনেকগুলি বানানো যায় তবে অনেক কাজ দিবে। অনেকের হাতে সেটি তুলে দেয়া যাবে। তা ছাড়া দর্জিকেও ভাল মাপের একটি টাকা দিতে হচ্ছে এ কাজের জন্য। সে সময়ে মনে তারুণ্যেরও ঘাটতি ছিলনা। তার উপর ছিল নিজের কাজের উপর বিশ্বাস। এ রকম সেদিন আমি প্রায় ডজন খানেকতো বটেই কাপড়ের তিনরং পতাকা সবুজের জমিনে লাল সূর্য তার মাঝে সাদারং মানচিত্রের দেশ বাংলাদেশ তৈরী করেছিলাম। আজ আফসোস করি মনে মনে, একটি কপিও যদি নিজের কাছে রাখতাম। কিন্ত ওটি রাখার জন্য তো করিনি। তাই সে প্রশ্নও মনে জাগেনি। সেদিন সেটি তৈরী করেছিলাম প্রতিটি পতাকাতে দুদিকে দুইবারে এপ্লিকের কাজ করে দু’সেট মানচিত্র বসিয়েছিলাম আজ ঐ মানচিত্রে যখন দেখি ভয়ানক সব হামলা তখন স্বভাবতই মনের মাঝে দারুণ কষ্ট জমা হয়। শত কাজে তা দূরে ঠেলে দিয়েও আবার টেনে নেই। আমরা দূরে থাকা জনতারা তো কিছু জানি না। তারপরও যা জানছি তা থেকেও যদি কিছু জমা করা যায়।

মূল লেখার সাথে দুটি পেরা এড করি আজ ২০১৭ সালের ২৬ ফ্রেব্রুয়ারী তারিখে: 
আটটি বছর অনেক রক্ত ঝরিয়েছে এ জাতি। যদিও বিধাতা অবসরে নেই, সব খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে নিরবে! এমন একটি ঘটনাকে কেন কিভাবে কার স্বার্থে দাবিয়ে রাখা হচ্ছে তার নজির বহু বহু, সারা ময়দান এর দীর্ঘশ^াসে বাতাস ক্রমাগত ভারী হচ্ছে যা শুধু বিধাতা নয়, মানুষও দেখছে। উইকিলিক্সের তথ্যেও অনেক নাবলা কথা এর মাঝে বেরিয়ে এসেছে। বিক্ষুব্ধ জাতি যখন এর বিহিত চাইছিল, সেদিন থেকে আজ অবদি চলমান সরকারের অনেক বিতকীত অবস্থান দেখে সমগ্র জাতি স্তব্ধ হয়ে আছে! সরকারী তদন্তের পাশাপাশি অনেকেই এর উপর কিছু কাজ করেন। আমার কাজটিও ছিল ঠিক ওরকম একটি কাজ। কারো ব্যক্তিস্বার্থে নয়, সত্যের স্বার্থে আমি কাজটি করেছিলাম মাত্র। বেদনার ভার কমাতে আজ আট বছর পর দুটি প্যারা সংযোজন করবো মাত্র। মাত্র আজকের ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারীর খবরে প্রকাশ বিডিআরের আট বছর পূর্তিতেও বিনা অপরাধে আটকে রাখা জাতির সম্পাদককে সেমিনার করতে পুলিশ দিয়ে বাধা দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে পূর্ব অনুমতি কেন নেয়া হয়নি। শনিবার গুলশান সেন্টারে “সীমান্তে হত্যা রাষ্ট্রের দায়” এর আয়োজক ছিল জনগণতান্ত্রিক আন্দোলন নামের একটি সংগঠন। কিন্তু সেমিনার বন্ধ করে সরকার এভাবে মানুষের কন্ঠকে স্তব্ধ করে রেখেছে। সরকার প্রথম অপরাধ করছে নিজে নিরবতা পালন করে আর দ্বিতীয় অপরাধ করছে মানুষের কন্ঠ রোধ করে। দরকারেও কোথাও মিটিং মিছিল করতে দেয় না। ঘরোয়া ছোটখাটো অনুষ্ঠানেও সরকারের অনুমোদন লাগে যেখানে এভাবে শত অনাচার করেই এ সরকার পুরোপুরি অবৈধ পথে শক্ত করে গদি দখল করেই আছে। এরকম একটি সরকার কোন সময়ই সন্দেহমুক্ত হতে পারে না। কিন্তু সরকার প্রতিটি নির্দোষ গণ্যমান্য জনকে, সম্পাদকদেরে বারে বারে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করার অধিকার রাখে, এমন কি মিথ্যা মামলাতে জড়িয়ে তিনবার ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিএনপির নেত্রীকেও হুমকি ধমকি দিচ্ছে। একই সাথে বিতর্কীত আওয়ামী সরকার তার লুটপাটের ডজন মামলা দন্ডের জোরে মুছে দিয়ে অপরের মামলাতে সমানেই শান দিচ্ছে। কথার ফানুসে নিজের সীমাহীন অপকর্ম ঢাকতে ব্যস্ত। প্রতিটি কর্মকান্ডই সরকারের বিতর্কের জমা ছাড়া আর কিছু নয়। সরকার যদি নির্দোষ হতো তবে সে সতঃপ্রনোদিত হয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে এগিয়ে আসতো। খোলাসা করে প্রমান তুলে ধরে নিজের শত জটিলতাকে জনগনের কাছে স্পষ্ট করে দেখাতো। তা না করে সরকার যা করছে তাতেই প্রমাণ হয় ডাল মে কুছ কালা হায়! বাংলাদেশীরা এত বোকা নয়, বুদ্ধি প্রতিবন্দীও নয় যে এসব বুঝতে পারে না। অন্যায় দন্ডে শাসন দখলে নিয়ে বুড়ো আঙ্গুল দেখায় একমাত্র স্বৈরাচার, যার সবকটি আচরণ এ সরকারের মাঝে স্পষ্ট। দলে বলে অত্যাচারের ষ্টিম রুলার চালিয়ে মন্ত্রীরাও গদি ঠেকাতে প্রচার করছেন বিএনপি নামের দলটির কোন জনপ্রিয়তা নেই। এসবই মিথ্যাচারে ভরা রাজনৈতিক প্রতারণার অভিনব দর্শন।

২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল। এতে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন এবং তাদের ঐ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ঐ বছর ২রা মার্চ ২০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে এর প্রধান করা হয় লেফটেনেন্ট জেনারেল জাহাঙ্গির আলম চৌধূরীকে। হাসিনা সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চেয়ে সামরিক তদন্তকারীরা স্বারষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। এ কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান এসব পুলিশের কাজ এবং ঐ অজুহাতে তিনি এ দাবী প্রত্যাখ্যান করেন। সরকারী তদন্তের পাশাপাশি সামরিক তদন্তে বিক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী! এসব কর্মকান্ডে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতও জড়িয়েছেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ২০০৯ সালের ১ লা মার্চ ঢাকা – ০০০২১৩ নাম্বারে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর বরাতে একটি তারবার্তা পাঠায় ওয়াশিংটনে। অতপর ৩০ শে আগষ্ট সেটি প্রকাশ করে উইকিলিক্স। ঘটনার দিন প্রায় ৫০০ বিক্ষুব্ধ সেনা কর্মকর্তার মুখোমুখি হন শেখ হাসিনা। নানক ও সাহারা খাতুনের পদত্যাগসহ বিক্ষোভ, চেয়ার ভাংচুরসহ প্রবল প্রতিবাদ তারা করে। পরবর্তীতে এটিও শুনেছি এ বিক্ষোভের খেসারতও তাদেরে জান মান দিয়ে দিতে হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী অক্ষত থাকেন, যাতে বিস্মিত ছিলেন তারেক আহমেদ সিদ্দিকীও। হাওয়াইয়ে অনুষ্ঠিত একটি কনফারেন্সে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে একটি নোট পড়ে শোনান। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এশিয়া প্যাসিফিক স্টোর ফর সিকিউরিটি স্টাডিজ নামের সংস্থাটি চায় বাংলাদেশ সরকার সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করতে। উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব সমর্থনও করেন। বিডিআর ঘটনাটি অনেক বিতর্কীত কর্মকান্ড সরকারও জমা করেছে এটি সারা জাতির জানা। ঘটনার শুরুতেই প্রায় সবগুলো হত্যা সংগঠিত হওয়ার প্রমান পাওয়া যায়। অনেক বিতর্ক তিনি এর মাঝে জমা করেছেন। তিনি সেনাবাহিনী না পাঠিয়ে তাদের ক্ষমা ঘোষণার দিকে কেন অতিরিক্ত মনোনিবেশ করলেন? কার পরামর্শে? উপস্থিত বিক্ষুব্ধ সেনাসদস্যের কাছে কোন সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারে নি। তারপরও সারা বিশে^র হাজার হাজার মানুষ সেটি ইউটিউবে চাক্ষুষ দেখতে পেয়েছে। কথা হচ্ছে মাত্র কয় ঘন্টার মাঝেই কেন জাতির এতগুলো মেধা ধ্বসে গেল? সবই ছিল পরিকল্পিত, মাথায় কমলা ও লাল রংএর কাপড়ের পরিচিতি বাধা, সেন্ডেল পরা, চুল না ছাটা, অগোছালো মানুষগুলো কারা ছিল? এ পরিকল্পিত হত্যাকান্ডে অনেকেই ছিল অপরিচিত, ভাষাও ছিল অপরিচিত, এরা কারা ছিল? এত অল্প সময়ে বিদ্রোহের সাথে কেন হত্যাকান্ড সংগঠিত হলো? শুধু প্রধানমন্ত্রী নিজের জানের মূল্যায়ন করবেন আর বাকী জাতি কানাকড়িতে বিকাবে এ কোন ধর্মের কথা! বাকীদের জন্য কোন বিচারও বরাদ্দ নয় কেন? সুবিচার প্রতিষ্ঠায় এত প্রতিরোধ কেন?

 

(1) মেজর (অব:) আশফাকের  গোপন তথ্য/ (2) মেজর (অব:) শাহ আলম / (3) শাকিল আহমেদের ছেলের প্রশ্ন গুলো

(উপরে নীচে ঘটনার স্পষ্টতার জন্য কিছু ভিডিও আছে, সেটি বিষয়টিকে বুঝতে সহজ ও প্রামাণ্যতা হিসাবে বাড়তি সাহায্য করবে।)

 

উপরের তিনটি ভিডিওই অসাধারণ সত্যের উন্মোচন।

তদন্ত সমন্বয়ক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ১২ মার্চ তার মন্ত্রণালয়ে প্রথম তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটনের কথা বলেন। তার বরাত দিয়ে তাকেই উদধৃত করে খবরের কাগজে ফলাও করে প্রচার হয়, পিলখানা হত্যাকান্ডের নেপথ্যে ছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ‘বেশ কয়েকজন বিডিআর সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা জেএমবির সঙ্গে জড়িত। বিস্তারিত বললে তদন্তের নিরপেক্ষতা হারাতে পারে’ (যুগান্তর, ১৯ মার্চ ২০০৯)। সরকারপক্ষীয় ঢাকা মহানগর ৫৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক সুবেদার হাজী তোরাব আলীকে বিডিআর বিদ্রোহের একজন হোতা হিসেবে শনাক্ত করে গ্রেফতার ও র‌্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে; তার পুত্র সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লেদার লিটন পলাতক, পিলখানার লুণ্ঠিত অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ তার দখলে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে (সাদেক খান, (সাংবাদিক), যুগান্তর, ১৯ মার্চ ২০০৯)। খবরে প্রকাশ তোরাব আলী হাসপাতালে কারাগার থেকে মুক্তি পান ২৭ নভেম্বর কিন্তু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে  যান এবং চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান (ইনকিলাব, ৩০ নভেম্বর ২০১৭)। অনেকেই এ মৃত্যুকেও পরিকল্পিত সন্দেহের চোখে দেখছে। 

ঢাকায় প্রেস ক্লাবে ১৪ মার্চ বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় আগত সাবেক সেনা কর্তারা আশংকা প্রকাশ করেন, পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা চলছে। তারা সমস্বরে বলেন, একটি শক্তি চাইছে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে এবং সে লক্ষ্য নিয়েই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে (সাদেক খান, যুগান্তর। ১৯ মার্চ ২০০৯)। ভারতের শাসক ও শোষক পক্ষের গণমাধ্যমগুলো শুরু থেকেই প্রচার করছে এটি জেএমবি-জামায়াত-বিএনপি চক্রের কাজ। একই সুরে বানিজ্য মন্ত্রীও জিকির করছেন। তবে জনতার মনে সেটিও প্রশ্ন উঠেছে যে বানিজ্য মন্ত্রী যদি এতই নিশ্চিত হয়ে থাকেন তবে মনে হচ্ছে আর তদন্তের দরকারই বা কি?

বিএসএফের হাতে বাংলাদেশীদের হত্যার ছকটি ছিল ২০০১এর মাঝামাঝি থেকে ২০০৬এর মাঝামাঝি সময়ের হিসাব। “৪১৩ বাংলাদেশীকে ৫ বছরে বিএসএফ মেরেছে”, মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ রিপোর্ট, ষ্টাফ রিপোর্টার, (দি ডেইলী ষ্টার)। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারী মানবাধিকার সংস্থা “অধিকার” উল্লেখ করেছে, শুধুমাত্র ২০০৭ সালে ১২ মাসেই ১২০ জন গরু ব্যবসায়ী ও আবাদী কৃষককে পাখির মত গুলি করে মেরেছে বিএসএফ। এ হিসাবে দেখা যায় মাসে কিনা ১০ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে গত বছরে। অপহরণ করা হয়েছে ৯৮ জনকে, ৩ জন বাংলাদেশী নারী বিএসএফএর হাতে ধর্ষনের শিকার হয়েছে। ১৯৮ জন বাংলাভাষী নাগরিককে পুশ-ইন করা হয়েছে। প্রতি বছর এ হত্যাকান্ডের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত সাড়ে আট বছরে ৭০৭ জন অর্থাৎ বছরে গড়ে ৮৩ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। ২০০৮ সালের এই লেখা (২৫ আগষ্ট) পর্যন্ত মোট ৭৮ জনের অকাল মৃত্যু হয়েছে তাদের হাতে। এখানেই শেষ নয়, সরকারীভাবে ভারত দাবী করছে তাদের দেশে বড় বড় অনাসৃষ্টির পেছনে বাংলাদেশের হাত রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো তারা দাবী করে, এসব কাজে নাকি সহায়তা দিয়ে আসছে পাকিস্থানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। উত্তর ভারতে উলফার স্বাধীনতা আন্দোলন, বোডোল্যান্ড আন্দোলনসহ সব চরমপস্থী আন্দোলনের কলকাঠি নাড়া হয় নাকি বাংলাদেশ থেকেই। (শামসুজ্জামান সিদ্দিকী, নয়া দিগন্ত, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০০৯)।

১৬ই মার্চ ২০০৯ তারিখে ভারতীয় পত্রিকা আউটলুক প্রণয় শর্মার প্রতিবেদন ছেপেছে — জবাব হতে পারে ভারতীয়রা যখন এতটাই জানে তাহলে পরিকল্পনা আটার সঙ্গে তাদের যোগ ছিল না এটা বলা যাবেনা। —–১৯৯৭ সাল থেকেই র‌্যামন প্রমাণ করে আসছেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে ইসলামীকরণ ঘটছে এবং আফগান ভাইরাস দ্বারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আক্রান্ত। বিস্ময়কর যে একই উক্তি তিনি পিলখানার বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। র‌্যামনের লেখার কারণে অনেকে দাবী করছেন এটি ভারতীয় প্রতিশোধের অংশ। (উপসম্পাদকীয়, নয়া দিগন্ত, ফরহাদ মাজহার, “লোককথা: এক ঢিলে দুই পাখি”, ১৭ই মার্চ ২০০৯)। এ সম্পর্কে প্রাক্তন বিডিআর প্রধান অবসরপ্রাপ্ত ফজলুর রহমানের লেখাটি পড়লে এর অনেক বাস্তবতা চোখে পড়ে। জেনারেল মাসুদ বলেন, “ওয়ান ইলেভেন নিয়ে আমারও অনেক কিছু বলার আছে। অনেক অজানা তথ্য আমি জানি। একদিন এসব বলবো। আজ দেখছি, অনেকেই সত্য মিথ্যা মিলিয়ে অনেক কথা বলছেন। এসবের জবাবও একদিন আমি দেব। এখন নয়। এখন আমি সরকারী কর্মচারী। এখন কিছু বললে নিজের অবস্থানের কথা মাথায় রেখে বলতে হবে। সব কিছু বলা সম্ভবও নয়। ওয়ান ইলেভেনের সাথে জড়িত থাকার কারণে ইতিহাসের কাছে আমি দায়বদ্ধ। সেই দায় আমাকে একদিন মেটাতেই হবে” (আমাদের সময়, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৯)।

“পিলখানা তদন্তের মাঝপথে মন্ত্রীর উপর্যুপরি বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন” (বিশেষ সংবাদদাতা, সমকাল ২১ মার্চ ২০০৯)। সূত্রমতে তদন্তে শুধু জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা নয় আরো অনেক বিষয়ই এসেছে। কিনতু বানিজ্যমন্ত্রী অন্য সব বিষয় এড়িয়ে শুধু জঙ্গিদের কথা বলায় প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত সমন্বয়ক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ১২ মার্চ তার মন্ত্রণালয়ে প্রথম তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটনের কথা বলেন। — তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, পিলখানা হত্যাকান্ড গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন জওয়ানের পরিবারের কেউ কেউ জেএমবির সঙ্গে যুক্ত ছিল এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এতে এখনই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়, ওই ঘটনায় জেএমবির হাত ছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এখন পর্যন্ত জেএমবি জড়িত থাকার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। সাদেক খান (সাংবাদিক) যুগান্তর, ১৯ মার্চ ২০০৯।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই সদিচ্ছা ব্যক্ত করেও দলীয় রাজনীতি নির্দেশের তাগিদে ইঙ্গিতাবহ কিছু কথা বলেছেন। ইসলামী মৌলবাদ দমনে তার দলীয় এজেন্ডার উল্লেখ করে বলেছেন, এ ঘটনায় কারা লাভবান, যারা নির্বাচিত সরকারের নিরংকুশ ক্ষমতার সাফল্য দেখতে চায় না তাদের মদদ আছে কিনা, সেসব খতিয়ে দেখতে হবে। বিরোধী দলনেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন পিলখানা হত্যাকান্ড নিয়ে সরকার নোংরা রাজনীতি করছে; দোষীদের আড়াল করে তদন্ত প্রক্রিয়া ভিন্নখাতে চালিত করতে সরকারি দলের অনেক নেতা, মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। — তদন্ত সমন্বয়ক মন্ত্রী আরও বলেন ‘এ ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত, যারা অস্থিতিশীল করে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অকার্যকর করতে চায়। যারা দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে।’ (যুগান্তর, ১৯ মার্চ ২০০৯, ঐ )।

বিডিআর কনফ্লিক্টএর পর একটি তথ্য পাওয়া যায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এরশাদের মন্তব্য থেকে, সেটি হচ্ছে যে এ সরকারকে সেনাবাহিনীই গদিতে বসিয়েছে। তিনি হুমকি দিয়েছেন পরে আরো বলবেন (আমার দেশ,  আজ ০৪ মার্চ ২০০৯)। “বিডিআর সদর দফতরে হত্যা” সহযোগিতার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র” (প্রথম আলো ০৪ মার্চ ২০০৯)। যদিও ব্রিটেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিওফ হুন অবশ্য একে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন।

১৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস ও আন্তর্জাতিক হেরাল্ড ট্রিবিউন পত্রিকায় যুগপৎ প্রকাশিত সোমিনি সেনগুপ্ত রচিত একটি মন্তব্য থেকে কিছু কথা। সোমিনি সেনগুপ্তের মন্তব্য ‘কেউ বলছেন, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো এবং ভারতবিরোধী বিদ্রোহীরা এ কাজ করেছে। অন্যরা বলছেন, এটা ভারত কিংবা পাকিস্থানি গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধনে হয়েছে। —। আবার কিছু লোক আছেন, যারা মনে করেন, বিগত নির্বাচনে হেরে যাওয়া রাজনীতিকরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অপর একটি গ্রুপ মনে করে, সেনাবাহিনীকে বাগে পাওয়ার লক্ষ্যে হাসিনার দলেরই কিছু লোক এটা ঘটিয়েছে (যুগান্তর, ১৯ মার্চ ২০০৯, ঐ )।

“নানক আজমদের হাতে শ্বেত পতাকা কেন? অফিসার হত্যার পর সাধারণ ক্ষমা কেন”? সূত্র আসিফ আরসালান। উপসম্পাদকীয় দৈনিক সংগ্রাম, মার্চ ০৮, ২০০৯। গত ৫ মার্চ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক বিশাল মিছিল ও সমাবেশে বলেছেন যে, বিদেশের লোকজনকে বিডিআরের পোশাক পরিয়ে এই নাটকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটানো হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা ব্যাপক অনুসন্ধান করে অনেক ঘটনার উল্লেখ করেছেন। তদন্তকারীদের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, গত ১১ জানুয়ারীর মধ্যে ২৫ জন বিদেশী কমান্ডো বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ঢাকায় তাদেরকে যারা অভ্যর্থণা জানায় এবং আশ্রয় দেয় তারা কুটনীতিকের কভারে কাজ করছে (আন্ডার কভার ডিপ্লোমেট)। একইসাথে স্থানীয় বিডিআর হতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি ছোট গ্রুপকে রিক্রুট করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন দুজন উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি)। এই ১০/১২ জনের দায়িত্ব ছিল ঐ বিদেশী কমান্ডোদের গুপ্তচর এর সমন্বয়ক হিসাবে কাজ করা। তিনজন রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে এই ছোট টিমটি কাজ করে এবং হত্যাযজ্ঞের পূর্ব পর্যন্ত যাবতীয় খবরাখবর সরবরাহ করে।

অপারেশন চালানোর দিনক্ষণ ও নির্বাচন করা হয় অনেক ভেবে চিন্তে। তাদের টার্গেট ছিল বিডিআরের সমস্ত সিনিয়র অফিসারকে একসাথে পাওয়া। এসব অফিসার বার্ষিক বিডিআর দিবস উপলক্ষে ঢাকা এসেছিলেন। এতবড় একটি অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য তিন হাজার অতিরিক্ত সৈন্য অন্যান্য জেলা থেকে ঢাকা এসেছিলেন। এছাড়াও প্রতিবছর বার্ষিক বিডিআর দিবসের প্রধান আকর্ষণ হয় টাট্টু শো। ২৬ তারিখেই এটি হওয়ার কথা ছিল। এবং প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সেই অনুষ্ঠান উপভোগ করার কথা ছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা প্রথমে অপারেশনের দিনক্ষণ ধার্য্য করে ২৪ ফ্রেব্রুয়ারী। সেদিন বিডিআর দিবসের প্যারেডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্যালুট নেয়ার কথা ছিল। কিনতু সেখানে অপারেশন করতে গেলে যে ক্যোলেটারেল ডেমেজ হবে, অর্থাৎ সামরিক অফিসারদের সাথে সাথে যেসব বেসামরিক ভিআইপি মারা যাবেন তার ধাক্কা সামাল দেয়া কিলারদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে। এসব ভিআইপির মধ্যে থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ, কুটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ এবং সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার। এসব বিবেচনায় অপারেশনের তারিখ পিছিয়ে দেয়া হয়। তবে ঐদিন অন্ততঃ তিনজন ভিআইপি ছিলেন ওই প্যারেডে, যারা ইনভাইটি হলেও ঘাতকের প্ল্যানের সাথে যুক্ত ছিলেন।

২৪ তারিখে আনুমানিক রাত ১০.৩০ মিঃ ঢাকার উপকন্ঠে একটি বাসভবনে একটি বৈঠক হয়। ঐ বৈঠকে বিদেশ থেকে আসা কিলার গ্রুপ (কমান্ডো ইউনিট), বিডিআরের ঐ ১০/১২ জন এবং দেশের ৩ জন তরুণ রাজনীতিবিদ যোগ দেন। ঐ বৈঠকের পরের দিনের অপারেশনের সময়ক্ষণ নির্ধারিত হয়। তাদেরকে ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং কখন কোন গ্রুপ কোথায় কিভাবে অপারেশন করবে সেটিও ঠিক করে দেয়া হয়। ঐ সিদ্ধান্ত মোতাবেক অন্যতম উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি), ৪নং গেটে কোন কোন সেন্ট্রি সকাল থেকে ডিউটিতে থাকবে, সেই দায়িত্ব বন্টন করে। বলা বাহুল্য, ঐসব সেন্ট্রিকেই ডিউটিতে বসানো হয় যারা তাদের খাস লোক। পূর্ব পরিকল্পনামত সকাল ৮-১০ মিনিটে বিডিআরের একটি বেডফোর্ড ট্রাকে ৪ নং গেট দিয়ে বিদেশী কমান্ডোর পিলখানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে। তাদেরকে বহন করার জন্য একঘন্টা আগে বেডফোর্ড গাড়ী পাঠানো হয়। ঐসব গাড়ীর ব্যবস্থা করেছিল ডিএডিরা। কমান্ডোর পরণে ছিল স্পোর্টস গিয়ার লম্বা ট্রাউজার, ড্রেস ও পিটিস্যু। স্পোর্টস গিয়ার পরার কারণ ছিল অপারেশন করার পর পালিয়ে যাবার সময় যেন তারা মুহূর্তের মধ্যেই পোশাক পরিবর্তন করতে পারে।

বেডফোর্ড গাড়ির পেছনে ছিল ছাই রং একটি পিকআপ ভ্যান। এই পিক আপ ভ্যানে ছিল বাহির থেকে আনা অস্ত্র ও গোলা বারুদ। অপারেশন শুরু করার জন্য একজন বাংলাভাষী কমান্ডোকে দরবার হলে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়। তার উপর দায়িত্ব ছিল যে অপ্রয়োজনে অপ্রাসঙ্গিকভাবে দরবারের সভাপতি এবং ডিজি জেনারেল শাকিলের সাথে তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হবে। উদ্দেশ্য ছিল, বেয়াদবী করা, যাতে করে ডিজি উত্তেজিত হন। পরিকল্পনা মত ডিজিকে গুলি করার পর উপস্থিত অন্যান্য অফিসার এই একমাত্র ঘাতককে জাপটে ধরেন। মুহূর্তের মধ্যেই কিলারের অ্যাকশন গ্রুপ দরবার হলে ঢুকে পড়ে এবং নির্বিচারে গুলিবর্ষন করতে থাকে। ঘাতকদের যে গ্রুপটি কাভার করছিল তারা মুহূর্তের মধ্যেই সমগ্র হলটি ঘিরে ফেলে। এরপর শুরু হয়  কিলিং মিশনের দ্বিতীয় পর্বের বাস্তবায়ন। এই পর্বে উদ্যত সঙ্গীদের  মুখে অন্যান্য ট্রুপকে ঘাতকদের সাথে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। একটি গ্রুপ অস্ত্রের মুখে মালামাল লুট করে। এরপর তারা অফিসারদের বাসভবন, তাদের পরিবারবর্গের অবস্থান এবং তাদের অতীব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দলিলপত্র কোথায় আছে তার খোঁজ খবর নেয়। এসব দলিল পত্রের মধ্যে ছিল সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সীমান্তে বিডিআর জোয়ানদের মোতায়েনের মানচিত্র। ওরা এসব দলিলপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার পাওয়া সেনা অফিসাররা বলছেন যে সকাল সাড়ে ৯টা দশটার মধ্যেই বিডিআরের ডিজি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। মহাপরিচালক কান্নাজড়িত কন্ঠে অনুরোধ করেছেন, তারা অবরুদ্ধ। অবিলম্বে র‌্যাবের বড় বাহিনী না পাঠালে তারা মারা যাবেন। কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেকের সাথে। কথা হয়েছে সামরিক গোয়েন্দা শাখার মহাপরিচালকের (ডিজিএফআই) সঙ্গে। সকলের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। বিডিআর অফিসারদের যদি বাঁচাতে হয় তাহলে অবিলম্বে সেনাবাহিনী পাঠাতে। এই কথাটি শেখ হাসিনা নিজেও স্বীকার করেছেন। সামরিক বাহিনীর একজন উচ্চ পদস্থ অফিসার বলেছেন যে, রাস্তা ক্লিয়ার করে বিডিআর ক্যাম্পে অর্থাৎ দরবার হলে পৌছতে আর্মির সাঁজোয়া বহরের সময় লাগতো সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট। ট্রুপস মুভমেন্টের পক্ষে মত দিয়েছেন জেনারেল এরশাদ. জেনারেল শওকত, জেনারেল ফজলুর রহমান, জেনারেল শফি, জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী, জেনারেল মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। অথচ সেটি করা হলো না।

আর্মি এ্যাকশনই যদি না হবে তাহলে সে এলাকার এমপি শেখ হাসিনার ভাতিজা শেখ ফজলুল হক মনির পুত্র ব্যারিষ্টার তাপস কেন বিডিআর কম্পাউন্ডের চারদিকে ৩ কিলোমিটার রেডিয়াস পর্যন্ত জনবসতি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন? মিলিটারী এ্যাকশনই যদি না হবে তাহলে কি কিলারদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্যই চারিদিক খালি করে দেয়া হলো? প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানক এবং হুইপ মির্জা আজম শ্বেত পতাকা নিয়ে পিলখানা গেটে ঢুকেছিলেন কেন? হোয়াইট ফ্ল্যাগ বা শ্বেত পতাকা ওড়ানো বা বহন করার অর্থ কি তারা জানেন? বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী গত শুক্রবার চ্যানেল ওয়ানে বলেছেন যে শ্বেত পতাকার অর্থ হলো সারেন্ডার করা বা আত্মসমর্পণ করা। অরেকটি অর্থ হলো যুদ্ধবিরতি বা সন্ধি করার ইচ্ছা প্রকাশ করা। হাসিনার সরকার যেখানে যুদ্ধই করলো না সেখানে যুদ্ধবিরতির বা সন্ধির পতাকা উড়িয়ে দিল কেন? শ্বেত পতাকা দেখানোর পর সরকারের আর কি কোন দরকষাকষির শক্তি থাকে? সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার আগে আর্মি অফিসাররা কেমন আছেন সেটি জানার চেষ্টা করেন নাই কেন? কেন প্রধানমন্ত্রী না জেনে তাদেরে ক্ষমা করলেন (সূত্র: উপসম্পাদকীয়, দৈনিক সংগ্রাম, ০৮.০৩.০৯)?  দেখুন

Pilkhana

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

 

উপরের এতগুলো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে দৈনিক সংগ্রামের উপসম্পাদকীয় কলামটিতে। ৬৫ জন সেনা অফিসারের খুন হওয়াসহ অসংখ্য পরিবারের নিগৃহীত হওয়া নারীদের সম্ভ্রম হারানো থেকে দেশের প্রতিরক্ষাতে নিয়োজিত বাহিনীটিকে এভাবে ধ্বংস হতে দেয়া কি প্রতিটি বাংলাদেশীর মনের গভীর বেদনার কারণ নয়? এসব প্রশ্ন যদি কেউ এড়িয়ে যেতে চায় এবং একে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায় তবে এর পরিণয় ভয়ানক হবে বলেই প্রতীয়মান হয়। “বিদ্রোহের সুযোগ নিতে ওপারে বঙ্গসেনারা তৎপরতা বাড়াচ্ছে”। — কয়েকদিন আগে স্বঘোষিত বঙ্গভূমির রাষ্ট্রপতি শিশির কুমার সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে তারা বঙ্গসেনাদের তৈরী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতির উপর নজর রেখেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জানা গেছে, বঙ্গসেনার সদর দপ্তর তৈরী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া থানার কুপার্স ক্যাম্প এলাকায়। এছাড়া, বঙ্গসেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে ২৪ পরগনার মসলন্দপুরে, বর্ধমানের মেমারি প্রভৃতি জায়গায়। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের ছয়টি জেলা নিয়ে বঙ্গভূমি তৈরীর কথা ঘোষনা করে এই সংগঠনটি। তবে এই বঙ্গসেনা গঠিত হয় ১৯৭৭ সালে। এর কামান্ডার হন কালিদাস বৈদ্য। আর বঙ্গভূমির রাষ্ট্রপতি হন পার্থ সামন্ত। তবে পার্থ সামন্তের পরিবর্তে শিশির কুমার সরকার কবে নতুন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন তা অবশ্য জানা যায় নি। বঙ্গসেনারা মাঝে মাঝে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছেড়ে বঙ্গভূমি উদ্ধারের নামে লংমার্চের ডাক দেয়। এবারও তারা বঙ্গভূমি দখলের অভিযানে নামার পাঁয়তারা করছে বলে জানা গেছে। বঙ্গসেনার পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক বিডিআরের বিদ্রোহকে হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা বলে দাবী করা হয়েছে (মার্চের ৮ তারিখ ২০০৯, মানবজমিন)। বেশ ক’ বছর আগে এর উপরে যায়যায়দিন অনেক তথ্য পরিবেশন করে।

“বিমানের ফ্লাইট দু’ঘন্টা বিলম্বিত, ৪ বিদ্রোহী চলে গেল বিদেশে” এ খবরটি অনেকের চোখেই পড়ে থাকবে। বিডিআর বিদ্রোহে অংশ নেয়া চার জওয়ান অপারেশন শেষ করার ৯৬ ঘন্টার মধ্যে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দিয়ে পালিয়ে যায় । তাদের পালাতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সহায়তা করেছেন বলেও সেনারা জানতে পেরেছে। ঐ সব বিদ্রোহী বিমানে উঠেছে একেবারে বোর্ডিং ব্রিজ থেকে উড়োজাহাজ ছেড়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট আগে। নিরাপদে তাদের বিমান বন্দরের সকল গেট পার করে তুলে দেয়ার পর ঐ উড়োজাহাজটি ঢাকা ছাড়ে। এ জন্য এটি দুই ঘন্টা দেরীতে ছাড়ে। ২রা মার্চ সকাল নটায় বিমানের বিজি -০৪৯ ফ্লাইটটি ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও উড্ড্য়ন করেছে ১১টা ২৫ মিনিটে। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্ণেল রেজানুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারাও বিষয়টি জানতে পেরেছেন, (মানবজমিনের ০৫ মার্চের রিাপোর্টে প্রকাশ)।

“আমাদের নেতৃবৃন্দ আর কখন অনুধাবন করবেন”, । বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ভুল-ত্রুটি ও ব্যর্থতার প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করলে তাকে না ডাকার অভিযোগ করলে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জবাব দেন “আমার ছেলের বা মেয়ের বিয়ে নয় যে, কাউকে দাওয়াত দিতে হবে”। তদুপরি বিরোধী দলের বক্তব্যের মধ্যে তিনি ইতিপূর্বে সেনা সদরে শোনা বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শুনতে পান বলে মন্তব্য করেন। লেখাটিতে শংকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এসব তর্কতর্কির ফাঁক গলে কিনতু প্রকৃত আসামী পালিয়ে যাবার সম্ভাবনাই অতিরিক্ত (ইত্তেফাক”, ০৩ মার্চ ২০০৯)। “সেনাবাহিনীর ভুমিকা না থাকলে আ’লীগ জীবনেও ক্ষমতায় আসতো না: এরশাদ” (দৈনিক আমাদের সময়, মার্চ ০৪ ২০০৯, বুধবার ফাল্গুন ২১, ১৪১৫)। বিডিআর হত্যাকান্ডে বিডিআরের গোয়েন্দা ইউনিট জড়িত! (ইত্তেফাক, ০৩ মার্চ ২০০৯)। তোরাব আলী জানিয়েছে ২৫ ফেব্রুয়ারীর আগে সেও জাকির দুইজনে মিলে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের সাথে বাইরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বৈঠকের আয়োজন করে (২৪ মার্চ ২০০৯, নয়া দিগন্ত)।

ইন্টারনেটে একটি ছবি পাই এবং সাথে একটি ম্যাসেজ। “এই ছবিটিতে তিনজন বিডিআর জওয়ান। তিনজন জওয়ানের মধ্যে মাঝের জনের চুল, বেল্ট, সেন্ডেল অন্যরকম চুল অনেক বড় করে ছাটা যা বিডিআর সপ্তাহ চলাকালে এটি অসম্ভব। এই জওয়ানের বেল্ট কোথায়? বলতে পারেন তাড়াহুড়া করে ফেলে এসেছেন। এটিও অসম্ভব। কারণ ঐ দিন সবাই ইউনিফর্ম পরা ছিল। একই যুক্তি পায়ের স্যান্ডেলের ব্যাপারেও। উল্লেখ্য সেই ছবিটিতে অস্ত্রসহ তিনজনের ছবি ছিল এবং বর্ণিত অবস্থান সঠিকই ছিল। উপস্থিত কোন লেখাতে পড়ে এটিও জেনেছি জনতারা এটিও লক্ষ্য করেছে যে সেদিন এসব বিদ্রোহীদের মাঝে ভিন্নভাষী জনতারাও ছিল। এরা কারা? আর্মিদের সাথে সেনা বিদ্রোহের পরের যে ভিডিওটি বাংলাদেশে ইউটিউব থেকে প্রচার করা হয়েছিল সেটি সে সময়ে ব্যান্ড করা হয়েছিল সেটিতে আমরা দেখতে পারি সৈন্যরা বার বার চিৎকার দিচ্ছে এবং জানতে চাচ্ছে “এরা কারা” “এরা কারা”? সে সময়ে নিউমার্কেটের সন্নিকটে মিছিলও বের করা হয়েছিল “বিডিআর জনতা ভাই ভাই”।

নীচে অনেকগুলি খবরের শুধু শিরোনাম দেয়া হচ্ছে।

*          “মন্ত্রীরা বিভিন্ন বকতৃতা দিয়ে পিলখানার ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন” (যাযাদির রিপোর্ট ১৪ মার্চ ২০০৯)।

*          “সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে বড় ধরণের রদবদল” “বাধ্যতামূলক অবসরে দুই উর্ধতন কর্মকর্তা” মনির হায়দার।

*          “বিডিআর বিদ্রোহে জড়িত সন্দেহে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার” ইত্তেফাক রিপোর্ট, ১২ মার্চ ২০০৯।

*          “বারো বিডিআর সনাক্ত” (যুগান্তর রিপোর্ট ১২ মার্চ ২০০৯)।

*          “এই সংকটের মুহূর্তেও এক হতে পারলেন না” (মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী ১৬ মার্চ ২০০৯। উপসম্পাদকীয় নয়া দিগন্ত)।

*          “অনেক আলামতই নষ্ট হয়ে গেছে” আবু সালেহ আকন (১২ মার্চ ২০০৯, নয়া দিগন্ত)।

*          তাছাড়া অনেক তথ্যে জানা যায় সরকারী আলোচকের সাথে তৌহিদের ১১০বার টেলিফোনে কথোপকথন হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারী রাতে একটি পোশাক শিল্প কারখানাতে ইউনিফর্ম পরা বিডিআর সৈনিকদের সাথে এক বৈঠকে বিদ্রোহের বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়ে (খবরে প্রকাশ ৩মার্চ ২০০৯)।

*          “নতুনভাবে বঙ্গভূমি আন্দোলন শুরু প্রবাসী সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষনা”, ২৫ মার্চ বনগাঁয়ে ৫০ হাজার বঙ্গসেনার সমাবেশ (নয়াদিগন্ত ডেস্ক)।

*          “অনেক কিছু আড়াল করতে চাইছেন তৌহিদ” আবু সালেহ আকন (নয়া দিগন্ত)।

কলকাতার আন্দবাজার ও দ্য টেলিগ্রাফ দৈনিক দুটি এ বিদ্রোহের সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা আবিষ্কার করে বসেছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারী আনন্দবাজার লিখেছে, বিদ্রোহে যাদের সামনের সারিতে দেখা গেছে তাদের বেশীরভাগই নাকি বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থক। আনন্দবাজার কিছু বিশেষ তথ্যও জানিয়েছে যেমন গতকাল সিআইডি গনকটুলি এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে বিডিআর জওয়ানদের ১০ সেট পোশাক। ধারণা করা হচ্ছে সহিংস ঘটনার জড়িতরা এগুলো ফেলে পালিয়েছে (৭ মার্চ ২০০৯, নয়াদিগন্ত)।

“মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তা এবং বিডিআর বিদ্রোহ” সাব্বির মাহমুদ । ২০০১ সালের রৌমারিতে বাংলাদেশের ভেতরে ভারতীয় আগ্রাসনের সময় বিএসএফের পোশাকে শতাধিক সেনা কমান্ডোসহ কয়েকশ ভারতীয় সেনা আক্রমণে অংশ নিলেও তৎকালীন বিডিআর প্রধান আ. স. ম. ফজলুর রহমানের সমর্থণে সেক্টর কমান্ডারের নেতৃত্বে বিডিআর জওয়ান এবং জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধে ১০০ এরও বেশী কমান্ডো বাংলাদেশের ভেতরে মারা যায়। ভারতীয় সমরবিদেরা তখন থেকেই এ পাল্টা প্রতিশোধ নিতে পায়তারা করছিল। একইসাথে সেনাকর্মকর্তা ইস্পাত কঠিন সমঝোতা ও সমন্বয়কে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে জাতির বহু ত্যাগ তিতিক্ষা ও সাধনার ২০০ বছরে গড়ে উঠা বিডিআর এবং যেকোন চরম দুরবস্থায় চ্যালেঞ্জ নিতে সক্ষম সেনাবাহিনীকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া। সে শূণ্যস্থান পূরণে শ্রীলংকার মত বাংলাদেশে শান্তিরক্ষা মিশন পাঠিয়ে দেশকে পুরোপুরি কবজা করা। ইতিমধ্যে দৈনিক টেলিগ্রাফ পত্রিকায় মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার নামে বাংলাদেশে বিডিআর বদলে ভারতীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবের খবর ২৮ তারিখের নয়া দিগন্তের মাধ্যমে পাঠক নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন। ভারত এ ঘটনাকে পুঁজি করে ২০০০ সালে বাংলাদেশে ইনস্টিটিউট অব ষ্ট্রাটেজিক ষ্টাডিজের একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভারতীয় এক প্রবন্ধে বিডিআরকে বিলুপ্ত করে আনসার বা রক্ষীবাহিনীর মতো নামমাত্র একটি বাহিনী তৈরীর পরামর্শ দিয়েছে (নয়াদিগন্ত ০৩ মার্চ ২০০৯)।

“কি সুন্দর মালা আজি পরিয়াছ গলে!”, কাজী মতিউর রহমান। প্রতিবেশী বর্ডারের নিরাপত্তা বাহিনী থেকে বিডিআর অস্তিত্ব যেখানে হুমকির সম্মুখে এবং যেখানে প্রতিবেশী বর্ডারের নিরাপত্তা বাহিনী থেকে মোবাইলে এসএমএস আসছে “সেনাবাহিনী তোমাদের সীমান্ত চৌকি নেবে” (SMS: Army will take up your B.O.P call us to help please) এবং বিডিআরকে আর্থিক সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিচ্ছেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (উপসম্পাদকীয় ০৩মার্চ ২০০৯, নয়াদিগন্ত)। ১৯৬৭সালে তৎকালীন ইপিআর এর বর্তমান (বিডিআর) অস্ত্রাগার লুন্ঠনের এক ব্যর্থ প্রচেষ্ঠার পরিকল্পনায় হাত ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা এম কে সারকারণ নারায়ের, যিনি পরবর্তিকালে “র” এর দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হয়েছিলেন। (১৯৮১ সালে প্রকাশিত আশোক রাইনার “ইনসাইড র” নামক বইয়ে প্রমাণিত তথ্য (ইফিতিখার উদ্দিন রিবা ০৩ মার্চ ২০০৯, নয়াদিগন্ত)।

প্রতিবেশী ভারতের প্রতি আমাদের অন্ধ প্রেম এমন পর্যায়ে পৌছেছে, বিএসএফ সীমান্তে আমাদের বিডিআর জওয়ানদের হত্যা করলেও অনেকে প্রতিবাদ করা দুরে থাক বরং প্রতিবাদকারীদের উপর হামলা করার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত ভূমিকা প্রকাশ করেন। (ডঃ আবু ইউসুফ “জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নে মনোযোগ দিন”, নয়াদিগন্ত ০৩ মার্চ ২০০৯, উপসম্পাদকীয়)। “নতুনকরে বঙ্গভুমি আন্দালন” মোহাম্মদ আলী (সাংবাদিক কুষ্টিয়া)। “এত ষড়যন্ত্রের মধ্যেও ভারতকে ট্রানজিট করিডোর দেয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশ সরকার, যা দেশের স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্বকে হুমকির মুখে নিয়ে যাবে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আশংকা করা হচ্ছে।” (আজ ০৩ মার্চ উপমহাদেশের বিশেষ ব্যক্তিত্ব শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর বক্তব্য)

২৬ তারিখের পর বিভিন্ন পত্র পত্রিকার খবর বের হলো, বাংলাদেশে প্রেরণের জন্য ভারতের একটি বাহিনী সীমান্তে প্রসতুত রাখা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন বিডিআর বিদ্রোহের কথা কি তারা আগে থেকেই জানতেন? কেন মাইকিং করে জনসাধারণকে তিন কিলোমিটার নিরাপদে সরে গিয়ে জায়গা করে দেয়া হলো, কেন সে সময় সবকটি গেটে পাহারা বসানো হলোনা? ১৪ সদস্যের কাছে কেন কিছুই জানতে চাওয়া হলো না যে অফিসাররা কোথায়? বিডিআর অফিসাররা ভয় পাচ্ছে এই ঠুনকো অজুহাতে আশপাশের এলাকা থেকে সৈন্য সদস্যদের সরিয়ে নেয়া হলো কেন? ১১০ মিনিটে অডিও টেপে ডিওডি তৌহিদ সরকারের একজন প্রভাবশলিী নেতার সাথে কি কথোপকথন করেছেন, তা জাতি জানতে চায়। ট্রানজিট, টিফাচুক্তি, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক টাস্কফোর্স, বিডিআর বিদ্রোহ, সীমান্তে ভারতীয় সৈন্যের সমাবেশ এসব কি একসূত্রে গাথা? (“কিছু প্রশ্নের জবাব জানা জরুরী” মনজুর হোসেইন ১০ মার্চ নয়াদিগন্ত)।

এরপর অভিনব সব খবর আসতেও দেরী হচ্ছেনা। শেখ হাসিনাকে “ডটার অব পিস” সম্মাননা দিলেন নানাক আজম (নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৩ মার্চ ২০০৯ নয়াদিগন্তে)। গতবুধবার রাতে এ দুইজনা যমুনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে “ডটার অব পিস” সম্মাননা প্রদান করেন। যদিও কোন সমাধান হয়নি কিনতু শান্তিপূর্ণ সমাধান দেয়ার কারণেই ঐ চিহ্নিত দুই ব্যক্তি এটি প্রধানমন্ত্রীকে দান করেন। খবরে প্রকাশ কাজী হাফিজ বোরহান উদ্দিন থেকে “গ্রীন ক্রিসেন্ট অস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক উদ্ধারের আগেই সংবাদ প্রচার” (আমার দেশ, ৩১ মার্চের ২০০৯)। “গ্রীন ক্রিসেন্ট এতিমখানার কার্যক্রম নিয়ে প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবতার অমিল” জনাব মৃধা ২৪শে মার্চে ঐ এতিমখানা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি উদ্ধারেরও সাক্ষী। এ সম্পর্কে তিনি জানান, উদ্ধারের পর তাকে ডেকে নিয়ে সাক্ষী করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি এ বিষয়ে সন্দেহের চোখে দেখেছেন এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক বাদল শিকদার ও  দারোয়ান মহিউদ্দিনকে (২৯ মার্চ ২০০৯, “আমার দেশ”)

“মুক্তাঙ্গনে সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সমাবেশঃ রক্ষী বাহিনীর মতো বাহিনী গড়ার উদ্দেশ্যেই বিডিআরের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে” ষ্টাফ রিপোর্টার। (৩০ মার্চ ২০০৯, “আমার দেশ”)। সম্পাদকীয় “আমার দেশ” “যে প্রশ্নের জবাব নেই” ২৮ মার্চ ২০০৯, ডঃ মাহবুব উল্লাহ। “বাংলাদেশে কিছু জঙ্গীবাদী সংগঠন আছে। আমাদের গোয়েন্দা সংগঠনগুলি তাদের হাদিস অনেকাংশেই খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে। জঙ্গীবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার করে মৃত্যুদন্ড এবং কারাদন্ডও দেয়া হয়েছে। এখন বলা যায়, বাংলাদেশে জঙ্গীবাদীরা  দেশে নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। ফারুক খানের জঙ্গীবাদ তত্ত্বের পরপরই র‌্যাবের ডিজি মাহমুদ হাসান সাংবাদিকদের জঙ্গীবাদ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শুধু একটি বাক্যে তার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে”। —পাশ্চাত্য মহল এবং আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ইসলাম ও জঙ্গীবাদকে সমার্থকরুপে তুলে ধরতে সবাইকে কুশেস চালিয়ে যাচ্ছে। —১৭ আগষ্টের সিরিজ হামলার পর বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদের ইমাম সাহেবেরা জুমার নামাজে খুতবার মাধ্যমে জঙ্গীবাদের নিন্দা করে বয়ান পেশ করেছেন। —ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, গার্মেন্টস, শিল্পখাতে ব্যর্থ করতে জঙ্গিবাদের মত অস্ত্র আর হয়না। —পিলখানা হত্যাকান্ডের জের ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশী সৈন্যদের সরিয়ে দেয়ার দাবী করে ১৫ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে চিঠি লিখেছে সুসান রাম গোপালন নামের জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা, ভারতীয় এক মহিলা। ––ইতিমধ্যে অনেক দেশ বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।। এমনকি দু একটি দেশ এফবিসিসিআইর দুই পরিচালককেও ভিসা দেয়নি। জঙ্গি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হওয়ায় দেশ ও দশের অর্থনীতি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লেখক – অধ্যাপক, ডেভেলপমেন্ট ষ্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এই জঙ্গী গীতে যোগ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ বলে পরিচিত এক ভারতীয় স্বার্থের চোঙ্গা। তিনি একেবার আঁটঘাট বেঁধে হিসাব কষে দেখিয়ে দিয়েছেন, ১৯৭০ সাল থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশে ১০ লাখ করে লোক জঙ্গী হয়েছে। ফলে গড় পড়তা হিসাবে এখন বাংলাদেশে ৩ কোটি ৮০ লাখ লোক জঙ্গী। তাহলে তো ভীষণ বিপদের কথা। এসব জঙ্গীর মধ্যেও এসব চোঙ্গা বহাল তবিয়তে আছেন সেটিও কম বড় কথা নয়। আসলে বাংলাদেশকে জঙ্গীদের দেশ বলে পরিচিত করানোর ইতর-অপচেষ্টায় এই লোকগুলো সম্ভবত মাথাই খারাপ হয়ে গেছে, (২৮ মার্চ ২০০৯, উপসম্পাদকীয়, নয়া দিগন্ত “ছেলে ভুলানো ছড়ার দেশ শেষ- চলতে ফিরতে দেখা” ডঃ রেজোয়ান সিদ্দিকী)।

“জঙ্গী তৎপরতার ধুয়ো তুলে ভারত এদেশে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে”, “ভোলায় মাদ্রাসা থেকে অস্ত্র উদ্ধার, প্রচারণা নয়, মূল হোতাদেরে বের করুণ”, সম্পাদকীয়। দ্বীপজেলা ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটি অবস্থিত। লন্ডন প্রবাসী জনৈক ফয়সল এনজিওর প্রতিনিধি হিসাবে অর্থের যোগান দিতেন ও কর্মকান্ড তদারকি করতেন। মাদ্রাসার যে শিক্ষক গ্রেফতার হোন তিনি মাত্র ১ হাজার টাকায় সেখানে চাকরি করেন। আরো যে তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন তারা নিতান্ত গোবেচারা গোছের। মাদ্রাসারাই চারপাশে গভীর পরিখা খনন করা, একটি মাত্র প্রবেশ পথ স্থাপিত আধুনিক ব্রিজটি রাতের বেলা বন্ধ থাকতো। এসব রহস্যজনক কর্মকান্ডের পরও সেখানে এতদিন মাদ্রাসাটি কিভাবে কার্যক্রম চালালো, এসব বাংলাদেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসাবে প্রমাণের হিসাবে করা হয়েছে (২৬ মার্চ ২০০৯, নয়াদিগন্ত)। অনেকেরই সন্দেহ যে এই বিতর্কীত জঙ্গিবাদ ইস্যুটি তোলা হয় মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে ঘুরিয়ে দিতে।

“জাতিসংঘ শান্তিমিশন থেকে বাংলাদেশেী সৈন্যদের বহিষ্কার দাবি। কে এই রামগোপালান?”  এনা নিউইয়র্ক। নয়াদিগন্ত। এ দাবী জানান সুসান রামগোপালান নামে জনৈক মহিলা। বানিজ্যমন্ত্রী লেঃ কর্ণেল (অব) ফারুক খানের বক্তব্যকে টেনে জঙ্গীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে দ্রুত সৈন্য বহিষ্কারের আবেদন জানিয়েছেন। ঐ চিঠির কপি ই-মেইলে ছড়িয়ে দেয়া হয়, বার্তা সংস্থা এনাও পেয়েছে এককপি, (২৬ মার্চ ২০০৯ নয়াদিগন্ত)। “বাইরের শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে বাংলাদেশে “দেশের প্রকৃত অবস্থাকে আড়াল করার বহুমুখী তৎপরতা”, (বিশেষ সংবাদদাতা, ২৫ মার্চ নয়াদিগন্ত)। শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা এবং সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সাথে দেশের স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্বকে দূর্বল করারও বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এখন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কয়েকজন মিডিয়াকর্মীকে খুঁজে পেয়েছেন যাদের গতিবিধি ও কর্মতৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেশী দেশে তাদের ঘন ঘন যাতায়াত এবং তাদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে দেশের স্বার্থবিরোধী তৎপরতার প্রমাণ মিলেছে। এফবিআইর তদন্তে আমেরিকা থেকে যারা এসেছেন সেখানেও প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ছিল। ভারতীয় বংশোদ্ভুত কর্মকর্তাদেরই এখানে পাঠানো হয়। জনতাকে পিলখানা ট্রাজেডী থেকে অন্য দিকে দৃষ্টি ফেরাতে কয়েক বছর আগের দশ ট্রাক অস্ত্র মামলাটি সামনে নিয়ে আসা হয়। দুর্নীতির দায়ে অতীতে শাস্তি দেয়া হয়েছে এমন কর্মকর্তাদেরও পদোন্নতি হয়েছে শুধু তদবিরের জোরে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, প্রতিবেশী দেশ ছাড়াও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তৎপরতা ও বেড়েছে। সিআইএ, এফবিআই, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থা, এমআই-৬ চাইনিজ ইনটেলিজেন্স, আইএসআই প্রভৃতি।

“নয়া দিগন্ত” সিরাজুর রহমান। এই ২০২১ সাল উল্লেখের মধ্যে শেখ হাসিনার চিন্তা ভাবনার সংকেত নিহিত আছে। তিনি দীর্ঘকাল, হয়তো আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চান। অন্তত বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৫০ বছর ২০২১ সাল পর্যন্ত তো বটেই। পিতার মতো একদলীয় পদ্ধতি চালু করে আজীবন প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরিকল্পনা তিনি রাখেন। সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার মতো গরিষ্ঠতা বর্তমানে সংসদে তার আছে। প্রয়োজন শুধু কিছু ওছিলা সৃষ্টির, শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রীরা দেশ শাসন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ছেড়ে একদলীয় পদ্ধতি ও আজীবন সরকার প্রধান পদ্ধতি চালু করার ওছিলা সৃষ্টির কাজে ঝাপিয়ে পড়েছেন। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশে আসল এবং একমাত্র ষড়যন্ত্র। (লেখক প্রবীণ সাংবাদিক, ও কলাম লেখক)।

সম্পাদকীয় “রাষ্ট্র নিজে মানবাধিকার লংঘন করতে পারেনা” হায়দার আকবর খান রনো তার লেখাতে বলেন, এ কেবলই তত্ত্বের কথা। বার বারই এটি ঘটেছে। যেসব বিডিআর সদস্যকে বন্দী করা হয়েছে এর মধ্যে মারা গেছে সাতজন। এর মধ্যে চারজন সদর দফতরে, একজন জামালপুর, একজন রাঙ্গামাটি ও একজন সিলেটে। হার্ট এ্যাটাকের কথা শুনলে আমার ক্লিন হার্ট অপারেশনের কথা মনে পড়ে। যা আইন বহির্ভূত হত্যা বলে অভিযোগ উঠেছিল। — স্বাধীনতা পরবর্তী এভাবে রক্ষী বাহিনীর ক্যাম্প থেকেও হারিয়ে যেত অনেক তরূণ। –গত ০৯ মার্চ বিডিআর সদর দফতরে একটি ভবনের শৌচাগারে নায়েক সুবেদার মোজাম্মেল হকের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে আত্মহত্যা কিনতু তার পরিবার বলছে, এটি হতেই পারেনা। — ১৭ মার্চ মারা যায় ৩৫ বছর বয়স্ক জওয়ান মনির হোসেন। —২২ মার্চ নায়েক মোবারক হোসেন তার মৃত্যু নিয়েও নানা প্রশ্ন। সুরতহাল রিপোর্টে পাওয়া যায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষভাবে দুই হাতের বুড়ো আঙ্গুলের নীচে রক্তের দাগ লেগেছিল। পত্রিকায় যা আসেনি কিনতু সন্দেহ উদ্রেক করে তা হল তাদেরে দৈহিক অত্যাচার করা হয়েছে। —এদের রহস্যজনক মৃত্যু সম্বন্ধে সরকার কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। — ময়নাতদন্ত হয়েছে যদিও। এসব কি সভ্য দেশের নমুনা? তত্ত্ববধায় সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “এটা মানবাধিকার লংঘন” (৩১ মার্চ ২০০৯, আমার দেশ)।

নিউইয়র্ক, “হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রশ্নঃ পিলখানায় আটক বিডিআর সদস্যরা কীভাবে মারা গেল” এটি আমার দেশেও উঠেছে (২৮ মার্চ ২০০৯)। আগরতলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদ (২৬ মার্চ ২০০৮) এক দীর্ঘ সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ত্রিপুরা – বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা হলেও ‘পাকিস্থান আমলে পূর্ব পাকিস্থানের সঙ্গে সীমান্ত ও অন্যান্য সমস্যা যেমন ছিল তেমনই শুধু রয়েছে বললে ঠিক হবেনা, বলতে হবে সমস্যা আরো বেড়েছে, আরো জট জটিল হয়েছে। (প্রথম আলো, ২৭ মে ২০০৮, লেখক সৈয়দ মকসুদ গবেষক প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক)। নীচে আরো কিছু খবরের শিরোনাম: আমার দেশ পত্রিকার সৌজন্যে প্রাপ্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি।

*          “৬শ বিডিআর জওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গী সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি তদন্তদল” (১০ মার্চ ২০০৯)।

*          “সংসদে অসত্য বলার কালচার বন্ধ হওয়া উচিত” ইলিয়াস খান (৫ মার্চ ২০০৯)।

*          সংসদ রিপোর্টার, ৫ মার্চ ২০০৯ “ডিএডি তৌহিদের গ্রেফতার ও এরশাদের বক্তব্য নিয়ে সংসদে হৈ চৈ: কোরাম সংকটে অধিবেশন মুলতবি”।

*          “আদালত বসেছে পিলখানায়: ২৪ ধরণের অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি”। ফকরুল আলম কাঞ্চন ১৬ই মার্চ ২০০৯।

*          “জনগণের আকাঙ্খা নয় বিদেশীদের ইচ্ছা পূরণ” সম্পাদকীয়, শাহ আহমদ রেজা, (০৯ জানুয়ারী, লেখক সাংবাদিক)।

*          “ভারত ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সীমানা দখল শুরু করেছে” হান্নান শাহ ষ্টাফ রিপোর্টার, (০৮ ফেব্রুয়ারী ২০০৯)।

*          “বানিজ্যমন্ত্রীর গৃহযুদ্ধ তত্ত্ব বনাম বাস্তবতা” (২০ মার্চ ২০০৯।

*          “পিলখানা হত্যাযজ্ঞঃ তদন্ত দলের সমন্বয়কারীর পদ থেকে বানিজ্যমন্ত্রীকে বাদ দেয়ার দাবি” বিএনপির ষ্টাফ রিপোর্টার (১৯ মার্চ, ২০০৯।

*          “প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক সেনা কর্মকর্তার বর্ণনাঃ হত্যা নির্যাতন ও লুন্ঠনের পর ওরা কিবোর্ড বাজিয়ে নাচানাচি করে” কাজী হাফিজ, (০১লা মার্চ ২০০৯।

*          “বিদ্রোহ দমন ২০ মিনিটের ব্যাপার ছিলঃ এরশাদ “৫০ জনের বৈঠকে কারা ছিল” ষ্টাফ রিপোর্টার, (০২ মার্চ ২০০৯)।

*          “রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রকারীরা এবারও কি পার পেয়ে যাবে?” রইস উদ্দিন (২১ মাচ ২০০৯)। সম্পাদকীয়।

*          সম্পাদকীয় “রক্তের উপর দাঁড়িয়ে কাঁদা ছুড়াছুড়ি” আবু রূশদ (১২ মার্চ ২০০৯)।

*          “সেনা অপারেশন চালালে বহু অফিসারের জীবন বাঁচতঃ” মে, জে, (অব) ফজলুর রহমান, (মার্চ ০২, ২০০৯, এম আব্দুল্লাহ)।

*          “সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকে পরিকল্পিত বললেন ১২ বিশিষ্ট ব্যক্তি” (মার্চ ১০, ২০০৯, ষ্টাফ রিপোর্টার)।

*          “হোতাদের সন্ধানে গোয়েন্দারা মাঠেঃ ডিজির রানারের মোবাইল কল লিস্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার সার্জেন্ট সেলিমসহ ৩১ জওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ, মিলছে নানান তথ্য, কিলিং মিশনের ১০ জনের তালিকা তৈরী” ফকরুল আলম কাঞ্চন, (০৩ মার্চ ২০০৯)।

*          “বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে কিছু মন্তব্য” সম্পাদকীয় হায়দার আকবর খান রনো (মার্চ ১০, ২০০৯)।

*          সম্পাদকীয় “রাজনৈতিক বিবাদে চাপা পড়ে যেতে পারে মূল বিষয়” শাহ আহমদ রেজা, (০৫ মার্চ ২০০৯)।

*          “সরকার নির্ধারিত ছকে পিলখানা ঘটনার তদন্ত করছে” দেলোয়ার ষ্টাফ রিপোর্টার, (১৬ মার্চ ২০০৯)।

*          “বাংলাদেশের জন্য শেখ হাসিনা বিপদজ্জনক ব্যক্তিঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের নথি গায়েবঃ মন্ত্রনালয়ে তোলপাড়”, এম,এ নোমান, (০৯ ফেব্র“য়ারী ২০০৯)।

*          “চুয়াডাঙ্গায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী কৃষক নিহত” (০২ মার্চ ২০০৯, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি)।

*          সম্পাদকীয় “দেখার ভেতরে বাইরে – পক্ষ বিপক্ষ” মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, (১২ মার্চ ২০০৯)।

*          সম্পাদকীয় “গণতান্ত্রিক সরকার কি শিখন্ডীদের পদাঙ্কই অনুসরণ করে যাবে?” ডঃ রেজোয়ান সিদ্দিকী, (২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৯)।

*          “বিদেশী কুটনীতিকদের নগ্ন হস্তক্ষেপ বিপন্ন স্বাধীনতাঃ জনগণের ইচ্ছায় দেশ চলছে না” গোলটেবিলে মেজর মেনারেল (অব) মইনুল, ষ্টাফ রিপোর্টার।

*          “প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খালেদা জিয়া-পিলখানার স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রাজনীতি করবেন না”, ষ্টাফ রিপোর্টার।

*          সম্পাদকীয় “দেশব্যপী জঙ্গী আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছেঃ উদ্দেশ্য কি?” (২১ মার্চ ২০০৯)।

*          সম্পদাকীয় “গুজব এবং মানুষের জানার অধিকার” শাহ আহমেদ রেজা (১২ মার্চ ২০০৯)।

*          “পিলখানা হত্যাকান্ড জঙ্গিতত্ত্ব ঃ ভারতীয় পত্র পত্রিকাঃ বানিজ্যমন্ত্রীর একইসুর” বিশেষ প্রতিনিধি (১৯ মার্চ ২০০৯)।

*          “বিডিআর বিদ্রোহের ফারুক খানের জেএমবি এবং তোরাব আলী নানক আজম সমাচার” বিশেষ প্রতিনিধি (১৬ মার্চ ২০০৯)।

এসব খবরে অনেক সত্য লুকিয়ে আছে হাজার প্রশ্নের জমার মাঝেই হাজার উত্তর খুঁজে পাবার কথা। সারা বছর পাশের দেশের বড় ভাইটি তার নিরীহ ছোট ভাইটিকে মেরে তক্তা বানিয়ে রাখে। বিএসএফএর হাতে এ দেশের জনতারা সারা বছরই পাখির মতই নিহত হয়। এসবে প্রতিবাদ করতে দেখি না কখনোই। সেটি যখন বাংলাদেশে ছিলাম তখনও দেখেছি এটি হচ্ছে কারণ কৃষকের জানের দাম অতি অল্প, পথে ঘাটে লুটায়। দেখা যাচ্ছে এ পর্যন্ত বর্তমান সরকার পক্ষের অনেক যোগসূত্রও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সে যেকোন দেশের বা যে কোন দলের লোকই হোক না কেন। তার সামনে ফাঁসির রশি ঝুলছে। ওটি আজ হোক বা কাল হোক তাকে পরতেই হবে। এ যে বিধাতার বিচার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কেউ হয়তো ভেবেছিলেন রোজ কিয়ামতের বিচার শুরু হয়েছিল তবে এর চেয়েও জীবন্ত একটি বিচার যে বরাদ্দ আছে সেটি কি আসামীদের বিশ্বাস হয়না? এটি বিশ্বাস করাতো সবার ঈমানের অংশ। আর ওটির উপর থাকলে কারো এমন সব লোভ লাভের কথা মনে হওয়ার কথা ছিলনা।

দেখা যাচ্ছে আমাদের প্রধান মন্ত্রী বলছেন গভীর ষড়যন্ত্র করছে তারা, যারা আমাদেরে ব্যর্থ করতে চায় এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীরও একই কথা। এবার কার কথা প্রকৃতই সত্যের কাছাকাছি সেটি পরখ করার সময় এসেছে। অবশ্যই দুজন দু’দিকে বন্দুক তাক করে আছেন। প্রকৃত সত্য ঘটনাতে যদি দুজন এক হতে পারতেন তবেই দেশটির কিছু ভাল হতো এবং জনতারা দেশটির সুন্দর ভবিষ্যৎ মোকাবেলা করতে পারতেন। বর্তমানের সময়ে এত তথ্যবহুল অবস্থানে সত্য বের করতে বেগ পাবার কথা নয়। ঐ খানের চারপাশেই নিশ্চয় লুকিয়ে আছে এমন হাজার রকমের তথ্য কারণ এটি ঘটেছে। এমন না যে কল্পনায় এটি সাজাতে হবে। আর যদি কেউ মনে করেন এটি কল্পনায় নতুন করে সাজানো যাবে। এত এত খবর সংগ্রহ করার পরও যদি একটি উপসংহারে পৌছা না যায় তবে শংকার কথা। তবে এতগুলো তথ্য ঐ পরিবেশ পরিস্থিতি থেকেই সংগ্রহ করা। আমি এখানে দিলাম এখানের প্রতিটি তথ্যকেই অবশ্যই মোটমাট ফলাফলের সাথে মিলে যাবার কথা। মানুষের বিবেক যদি সচেতন থাকে তবে এ অংক মেলাতে কারো বেগ পাবার কথা নয়। প্রতিটি জনতার মাথাতেই একটি সচেতন বিবেক কার্যকর। সবার সে বিবেকটি সক্রিয় হোক এবং সেই প্রকৃত সত্য খুঁজে নিক।

এক প্রধান কাগজে প্রতিবেদন দেখেছি, শুধু ঢাকা ইপিজেড ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার ভারতীয় কাজ করছে। চট্টগ্রামেও হাজার হাজার। তাদের সবাই আইনগতভাবে আসেনি। (প্রথম আলো ২৭ মে ২০০৮, লেখক সৈয়দ মকসুদ গবেষক প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক)।“দেশে অবৈধভাবে কাজ করছে দেড় লাখ বিদেশী” (ইলিয়াস খান ১৯ মার্চ ২০০৯ আমার দেশ)। তথ্যটি বিডিআর ইস্যুর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নাহলেও আতঙ্কিত একটি খবর অবশ্যই। বাংলাদেশের সাথে ভারতের রয়েছে ৪ হাজার ৯৫ কিলোমিটার ব্যাপী সীমান্ত এলাকা। এর মাঝেই বাংলাদেশের তোয়াক্কা না করে তারা বেশীরভাগ দুর্গম এলাকা বাদে সীমান্ত এলাকাই কাটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। প্রায় সময়ই বি এস এফ টহল দিতে দিতে বাংলাদেশের গ্রামের ভেতর ঢুকে পড়ে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের রিপোর্টও এরকম। গত ১৭ জুলাই ২০০৮ এ তারা সীমান্তে দেড় কিলোমিটার ভিতর চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার রঘুনাথপুর গ্রামের ভিতর ঢুকে পড়ে। গভীর রাতে বিডিআর তাদের ধরার চেষ্টা করলে বিএসএফ গুলি ছুড়ে। এতে প্রাণ হারান বিডিআর অফিসার আব্দুল হান্নান ও কৃষ্ণপদপাল। মনবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ প্রমান হিসাবে গ্রামবাসী, ও বিডিআর অফিসার, ও চিকিৎসকের নাম পরিচয় লিপিবদ্ধ করে। ভারতীয় হাইকমিশনার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রেস রিলিজ দেয়। প্রেস রিলিজে হাই কমিশনার জানান ওসব গুলি স্মাগলারদেরে করা হয়েছে, বিডিআরকে নয়। অতঃপর ধরা খেলে সামান্য দুঃখ প্রকাশই তারা যথেষ্ট মনে করে। এরকম একটি ঘটনা বাংলাদেশ ঘটালে কি যে হতো সেটি সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাদের দেশে গেলে তারা  মিডিয়াতে বলে বসে বাংলাদেশের ‘মূখ্যমন্ত্রী’। ইতিহাস সুনিপুনভাবে এমন তরো বেদনা তুলে রেখেছে তার প্রতিটি পাতাতে। বসতুত ভারত যদি ১৯৭৫ সালের প্রণীত ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত গাইড লাইন মেনে চলতো তাহলে এসব অনাহুত ঘটনা কখনোই ঘটত না (পত্রিকা থেকে সংগৃহীত তথ্য)।

এত গেল সীমান্ত যাতনা তার উপর আছে পুশইন নামের আরেক প্রাদুর্ভাব যার কোপে পড়ে কত নীরিহ জনতাকে যে মরতে হচ্ছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন শচীন কর্মকার ২৭ জুলাই এক ই-মেইলের মাধ্যমে সিআইএ পরিচালকের কাছে ভারতের পূর্ব সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশ ভূখন্ডে ইরাকের কুর্দিস্থানের মত হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টানদের জন্য পৃথক স্বায়ত্বশাসিত সংখ্যালঘু এলাকা প্রতিষ্ঠায় মার্কিন সাহায্য চেয়েছে। সংখ্যালঘু কংগ্রেস পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পাদক এই কর্মকার ‘নাইন ইলেভেন’ ঘটনার পর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেন, “আজ আমাদের সাহায্য করো, আগামীকাল আমরা তোমাদের সাহায়তা করবো”। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যেমন ইহুদীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন, বাংলাদেশেও এখন হিন্দু বৌদ্ধ ও খৃষ্টানরা ঠিক একইভাবে মুসলিম মৌলবাদীদের হাতে ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। (দৈনিক আমার দেশ, ১৯ নভেম্বর ২০০৭)।

“তোরাব আলীকে ৫৪ ধারায় মামলা থেকে অব্যাহতি” (নয়া দিগন্ত, ৩১ মার্চ ২০০৯)। “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মেঃ জেঃ শাকিলের টেলিফোন সংলাপ, কোন বক্তব্য সঠিক?” (০১ এপ্রিল ২০০৯, আমার দেশ), বিশেষ প্রতিনিধি। “পিলখানা বিদ্রোহ তদন্তে সরকারী কমিটির মেয়াদ বাড়লো, শেষ পর্যন্ত কী হতে যাচ্ছে”? সবার শেষে সম্পাদক বলছেন নগরীতে আগুন লাগলে দেবালয়ও রক্ষা পায় না। আমরা আসলেই মহা বিপদের মাঝে আছি (সম্পাদকীয়, আমার দেশ,  ০১লা এপ্রিল ২০০৯)। সম্পাদকীয় “মেজর মেহেদী তোমার সঙ্গে কথা বলব”, (০১ লা এপ্রিল ২০০৯, আমার দেশ), মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বীরপ্রতীক।

“হিযবুত তাহেরীরদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ আহত ৪০, গ্রেফতার ১০” ষ্টাফ রিপোর্টার। হিযবুত তাহেরীর প্রধান সমন্বয়কারী ও মুখপাত্র মহিউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার পিলখানা হত্যাকান্ডে ভারতীয় সংশ্লিষ্টতা এবং সম্পৃক্ততা ঢাকতে হিজবুত তাহেরীরকে দমন করতে চাইছে। লিফলেট বিতরণের সময় হিজবুল তাহরীরের ৩১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। (একটি গণতান্ত্রিক সমাজে একজন লিফলেট বিলি করার অপরাধেও গ্রেফতার হয় কিন্তু দেখা যায় সবার নাকের ডগা দিয়ে সেখানে চাঁদাবাজি খুন হামলা দেদারসে হচ্ছে ওটি তেমন বড় কোন অপরাধ নয়। তাদের ঘরে অস্ত্র পেলেও তাদের ছেড়ে দেয়া হয় (আমার দেশ, ২৮ মার্চ ২০০৯)। “মাটি খুড়ে জঙ্গী খোঁজার ঘোষনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরঃ আগে চাঁদাবাজদের ধরুন”সম্পাদকীয় কলাম (৩০ মার্চ ২০০৯, আমার দেশ)।

০২ মার্চ ২০০৯, আমার দেশ, “সেনা অপারেশন চালালে বহু অফিসারের জীবন বাঁচতো, মেজর জেনারেল (অব) ফজলুর রহমান”, এম আব্দুল্লাহ। তিনি ফজলুর রহমান হচ্ছেন প্রাক্তন বিডিআর প্রধান। পদুয়া রৌমারি ঘটনার ঐ সময়কার ঐ যুদ্ধের নায়ক তিনি, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, “পাদুয়া রৌমারিতে যারা আমাদের কাছে পরাজিত হয়েছে তারাই আমাদের মেধাবী ও চৌকষ সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে প্রতিশোধ নিয়ে থাকতে পারে। যারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চায় তারাই এ ঘটনার নেপথ্যে ছিল বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, তারা এক ঢিলে দুই পাখী শিকার করতে চেয়েছে। একদিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ধ্বংস করা, একই সঙ্গে এতগুলো সেনা অফিসার হত্যার ঘটনায় প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে সে বাহিনীকেও ক্ষতিগ্রস্থ করা। ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনার এমনটা ছিল বলে তার ধারণা। জেনারেল ফজলুর রহমান বলেন, আমাদের দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী বুঝতে পেরেছে শত্রুর বাঁশিতে নাচা যাবে না। তারা কঠিন সংযমের পরিচয় দিয়ে শত্রুর সেই নীলনকশা ভনডুল করে দিয়েছে”। প্রতিটি দিনই অজস্র জমা বাড়ছে। এমন না যে এসব কমছে, মাইনাস হচ্ছে বা কিছু, দ্রুতলয়ে বাড়ছে।

“উল্লেখ্য ভারতের গোয়েন্দা বাজেটের মূল অংশ এ ধরণের ‘মাথা ক্রয়ের’ কাজেই ব্যবহৃত হয়। আর এ গোষ্ঠী দেশপ্রেমিক নাগরিকদের কন্ঠ স্তব্ধ করার জন্য কখনো মৌলবাদী কখনো জঙ্গিবাদী কখনো মুক্তিযুদ্ধ হত্যাকারী হিসাবে দেশ বিদেশে প্রচার  চালাচ্ছে। —- ভারতীয় তেজী ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে দেশের রাজনীতিক ব্যবসায়ীদের অর্থের ভাগিদার হওয়ার জন্য এসব নিবেদিতপ্রাণ সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যবহার করেছিল এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রৌমারী হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নেয়ার উত্তম সময় হিসাবে বেছে নেয় ভারত। — একটি উদাহরণ আমার এক সাংবাদিক বন্ধু ছয় মাস আগে ভারত ভ্রমনে যাওয়ার পরে মানি এক্সচেঞ্জে ডলার ভাঙ্গাতে গেলে তার পাসপোর্ট দেখে দোকানের মালিক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে খবর দেয় এবং আমার সাংবাদিক বন্ধুকে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদানের বিনিময়ে আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের প্রস্তাবও দেয়। এবং সেই ভারতীয় গোয়েন্দা এও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিবিদ, সরকারী কর্মকর্তা ও মিডিয়াকর্মী ভারতীয়দের তথ্য পাচারের বিনিময়ে নিয়মিত আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। “মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তা এবং বিডিআর বিদ্রোহ” সাব্বির মাহমুদ, (নয়াদিগন্ত, ০৩ মার্চ ২০০৯)।

“সরকার যেন কোনকিছু লুকোনোর চেষ্টা করছে” সিরাজুর রহমান। (লন্ডন, কলামিষ্ট, প্রবীন সাংবাদিক)।  —-প্রতিরক্ষা নীতি সম্পর্কে শিগগিরই সংসদে একটি বিল আসছে। তাহলে কি শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি কর্তে যাচ্ছে। পথ প্রদর্শকের ভূমিকা নিতে যাচ্ছে? সেনাবাহিনী সম্পর্কে আওয়ামীলীগের মনোভাব বরাবরই ছিল দ্বিধাপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনীকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন। —-কলকাতা ফেরত আওয়ামী কিছু নেতার চাপে স্বাধীনতার পর শেখ মুজিব সেনাবাহিনীর পাল্টা একটি রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিলেন। এ বাহিনীর অত্যাচার আর তাদের নির্যাতনে ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যুর ফলে গোটা জাতী রক্ষী বাহিনীর উপর ক্ষুব্ধ হয়। —জাসদ সে সময় গণ চীনের মত সেনাদের মধ্যে “সিপাই সিপাই ভাই ভাই, অফিসারের কল্লা চাই” এর নেতা ছিলেন কর্ণেল তাহের। মুজিব হত্যার পিছনে রক্ষী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর টানাপোড়েন ফ্যাক্টর বড় ভূমিকা পালন করে। খালেদ মোশাররফের অভিযান ব্যর্থ হয়। অপর দিকে তারা জিয়াকে মুক্ত করে ক্ষমতায় বসান। কৃষ্ণ সন্দেহঃ হঠাৎ প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে বিল উত্থাপনে সন্দেহ বিশেষ কারণে। মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে বিরাট একটি ট্রাজেডী ঘটে গেছে, সেনাবাহিনীতে। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট একমন্ত্রী, ১ প্রতিমন্ত্রী, ১ হুইপ এবং আরো তিনজন সংসদ সদস্যদের সাথে ঘাতকদের একাত্মতা, সন্দেহজনক টেলিফোন যোগাযোগ, হত্যাকান্ডের মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঘাতকদের বৈঠক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হত্যা —এসব কৃষ্ণ সন্দেহ জাতীর মনে রেখা ফেলে আছে। ( সিরাজুর রহমান কলাম, নয়া দিগন্ত ০৭ এপ্রিল ২০০৯)।

“জঙ্গি দমনে বন্ধু দেশকে ডেকে আনা বিষয়টি আত্মঘাতি হয়ে দাঁড়াবে” সম্পাদকীয় কলাম, নয়া দিগন্ত, ০৯ এপ্রিল ২০০৯। আমার দেয়া লেখাগুলো বেশীরভাগই সম্পাদকীয় বা উপসম্পাদকীয় কলামই ছিল যা সব সময়ই একটি পত্রিকার প্রধান উল্লেখযোগ্য অংশ। “পিলখানা ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন তথ্যমন্ত্রী”। ০৯ এপ্রিল নয়াদিগন্ত। “নাম পরিচয় না জেনেই খুন করা হয় অধিকাংশ সেনাকর্মকর্তাকে” (আবু সালেহ আকন ০৯ এপ্রিল ২০০৯)। র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ জওয়ান যে সব সেনাকর্মকর্তাকে মেরেছে তাদের শতকরা ৯০ জনের নাম পরিচয় জানেনা” (ঐ)। উল্লেখ্য তাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু অফিসার খুন করা, নাম পরিচয়ের ধার তারা ধারেনি। “আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বিডিআর বিদ্রোহের কথা অনেক আগে থেকেই জানতেন সরকার দলীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি। এমনকি খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপি শেখ সেলিম এবং ব্যারিষ্টার ফজলে নূর তাপস এমপিও বিষয়টি আগে থেকেই অবগত ছিলেন বলে তদন্ত সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে। ”  (১১ই এপ্রিল ২০০৯, আমার দেশ)।

“ফারুক খান সম্প্রতি বলেছেন, সকাল ১০টার মধ্যেই পিলখানার হত্যাকান্ড শেষ হয়ে যায়। র‌্যাব সূত্র আগেই জানিয়েছিল, কর্ণেল গুলজারের টেলিফোন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল ১০টার মধ্যে প্রায় ৩০০ র‌্যাব সদস্য পিলখানায় অফিসারদের জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার অভিযানের প্রসতুতি নিয়ে গেটেই পৌছেছিল। কিনতু অনুমতি না পাওয়ায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেনি। অথচ প্রধানমন্ত্রী সংসদে এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, র‌্যাব সদস্যরা ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়েছিল। সেজন্য তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছতে পারেনি। সেনাবাহিনী পৌছতে ২ ঘন্টা সময় লাগবে বলা হয়েছিল। বাস্তবে বেলা ১১ টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে টিভি চ্যানেলে সেদিন ঘটনাস্থলের আশেপাশে সেনা সদস্যদের উপস্থিতির ফুটেজ দেখানো হয়েছিল”। – (“বিদ্রোহের তিনদিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন বিডিআর জওয়ানরা: জিজ্ঞাসাবাদে ডিএফআই সেলে চাঞ্চল্যকর তথ্য”, বিশেষ প্রতিনিধি, ১৩ এপ্রিল ২০০৯, আমার দেশ)।

“সমালোচকরা বলছেন, নানাবিধ অর্থনৈতিক সমস্যা যখন চরমে এবং পিলখানার ঘটনা নিয়ে অভিযোগের আঙ্গুল যখন সরকারের দিকে, ছাত্রলীগ ও সরকারীদলীয় লোকদের চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিষয় নিয়ে সমালোচনার মুখে সরকার যখন বেসামাল তখন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যেই সরকার এখন আবিষ্কার করল খালেদা জিয়ার বাড়ী দখলের নাটক” – (উপসম্পাদকীয়, নয়াদিগন্ত, ০৯ এপ্রিল ২০০৯, “বহমান এ নষ্ট সময়ে” লেখক গোলাপ মুনীর)। “এক মাসের বেশ কদিন চলে গেল, কমিটির তৎপরতা মিডিয়ার কাছে আর আসছে না, সময় বৃদ্ধির ফন্দি ফিকির চলছে। দেখে শুনে মনে হচ্ছে, তদন্ত ঝুলিয়ে দিয়ে পিলখানা কলঙ্ক ভুলিয়ে নেয়ার আয়োজন চলছে সুকৌশলে। ঢাকার রাস্তায় ব্যানার টাঙ্গিয়ে, মিডিয়াগুলোর টকশোতে এবং পত্রিকায় দেশে বিদেশে সেমিনার সিম্পোজিয়াম করে দালাল মোসাহেবরা পিলখানার ঘটনা কথিত শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য অভিনন্দনের ছড়াছড়ি শুরু করেছে। ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী ও চাটুকারদের হাততালি ও বাকচাতুর্যের তোড়ে পিলখানার রক্ত কি মুছে দেয়া যাবে?” – (“পিলখানার ঘটনা ও সময়ক্ষেপনের ফাঁদ”, আলমগীর কবির, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাজনীতিক, নয়া দিগন্ত ১৩ এপ্রিল ২০০৯)।

সিআইডি কর্মকর্তা আব্দুল কাহহার আকন্দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আছে – উচ্চ আদালত অনেক আগে তাকে সতর্ক করেছে। এবারো তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে যাতে বিভিন্ন তদন্ত কাজে তিনি সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন। “দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চিরতরে নির্মূল করা হবে”, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি ও সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা, ২০ এপ্রিল ২০০৯, ইত্তেফাক রিপোর্ট। এমনতরো জঙ্গিবাদের হুমকি, কওমী মাদ্রাসার উপর নানান হুমকি, সন্দেহ খবরের শিরোনাম হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জঙ্গীরা হত্যার পরিকল্পনা করছে বলে বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে ভারত সরকার। ওই পরিকল্পনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য সম্প্রতি ঢাকা সফরের সময় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশঙ্কর মেনন বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে এসব প্রকাশিত হয় (২০ এপ্রিল ২০০৯, যাযাদি)। “দেশের প্রতিরক্ষাকে ধ্বংস করার ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত”, ১৯ এপ্রিল ২০০৯, সম্পাদকীয়, নয়াদিগন্ত। আমরা মনে করি বিলিয়ার্ড রিপোর্ট আমাদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পুরোপুরি একটি অপপ্রচার। —-তাদের এই ভিত্তিহীন রিপোর্ট আমাদের সেনাবাহিনী তথা প্রতিরক্ষার জন্য কত বড় হুমকি?

“চল্লিশ বিডিআরের মোবাইল ফোন আলাপের রেকর্ড সিআইডির হাতে”, ঘটনা অবসানে মধ্যস্থতাকারী আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৫ নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন, এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানক, হুইপ মীর্জা আজম, সংসদ সদস্য ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করে বেশ কয়েকজন বিডিআর সদস্যের মোবাইল ফোন নাম্বার বের করা হয়। আবার ২৭ ফেব্রুয়ারী দুপুরে যখন বিডিআর হাসপাতালের পাশে গণকবর চিহ্নিত হয় তখন সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা ডিএডি তৌহিদকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তার কাছ থেকে অন্তত ৪০/৫০ জন বিডিআর সদস্যের মোবাইল নাম্বার পায় যেসব মোবাইল ফোনের কথোপকথন ঐ রাত রেকর্ডিং করা হয়। ঐ সব বিডিআর সদস্যের মোবাইল ফোন থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের রেকর্ডিং পাওয়া গেছে। (২০ এপ্রিল ২০০৯, ইত্তেফাক)।

খুঁজে দেখার মানসিকতাতেই ঘটনার স্বচ্ছতার জন্য এ কাজটি করেছি। সে হিসাবে কোন বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক নয়, কান টানলে মাথা আসে, একটার সাথে আরেকটি জড়িত। আমি মনে করি তারপরও একজন সচেতন প্রকৃত সত্য খুঁজে নেবেন। তা যার কাছেই সত্য পাবেন তাকেই সমাদর করুন। কারণ মানুষ আশরাফুল মখলুকাত। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব, কারণটি আর কিছু নয়, তার বিবেক। প্রকৃতই সারা জীবনে আমাদের প্রকৃত পাওনা ঐ টুকুই। আমরা কে কতটুকু নিজের বিবেককে সঠিক পথে পরিচালিত করেছি এবং সে বিবেক কখনোই কোন চোর ছ্যাচড়ার পক্ষে রায় দিবে না, সেটি স্বীকার্য। যদি কেউ কোন অনাচারের প্রশ্রয় দেয় তবে সে অনাচারের দায়ও তাকে বইতে হবে। এটি সুক্ষ বিচারের নীতি। সে রায়ের দিনটিতে চুল পরিমানও অবিচার কারো প্রতি করা হবেনা।

উপরের লেখাতে যে সব পত্রিকা এতসব ঘটনার বাস্তবতা তুলে ধরেছেন তারা ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। দেশটির প্রকৃত দালালীর স্বার্থে অন্যের দালালী করা থেকে এটি অবশ্যই উত্তম কাজ। আজ প্রকৃতই বাংলাদেশের দালালের প্রচন্ড অভাব, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিদেশের দালাল।

গানে গানে হাসিনার জাহেলিয়াতি শাসনামলের অল্প কিছু ইতিহাস

অপরাধ সনাক্তকরণে এক দুইটি শক্ত যুক্তিতেই আসামী সনাক্ত করা সম্ভব, আমরা সবাই জানি চোর ধরতে হাজার হাজার যুক্তি লাগে না। আর প্রকৃত অপরাধ সঠিকভাবে ধরতে পারলেই এক নাগাড়ে এত এত যুক্তি জড়ো করা সম্ভব। কারণ তখন চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সব যুক্তিরাই প্রমান হয়ে ধরা দিবে। প্রকৃত পক্ষে এতসব বিতর্কীত প্রশ্ন ও লেখা দেখার পর যে কোন সচেতনেরই চিন্তান্বিত হওয়ার কথা। এবং এরকম অনেক লেখা অনেক সচেতন জনই এ যাবত লিখেছেন তাদের সে সব সচেতন লেখার জন্য ধন্যবাদটুকু অবশ্যই সেসব লেখকদের, সাংবাদিকদের ও তাদের পত্রিকার কর্তাদের পাওনা। এর মাঝে পাওয়া আমার বিগত লেখার পর পাওয়া আরো কিছু যুক্তি –

* খবরের শিরোনাম ছিল “শিব শঙ্কর কি চাইতে এসেছিলেন?”, যুগান্তর ১৬ এপ্রিল ২০০৯, শওকত মাহমুদ। “তার সফরের ঘোষণা ভারতই চেপে গেল কেন আর আমাদের সরকারই বা তার ঢাকায় নামার আগে বলল না কেন? আমাদের পররাষ্ট্র সচিবকে ভারতে যেতে হলে তারিখের জন্য বসে থাকতে হয়। বিদেশমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ তো আরও দুরূহ বিষয়। — বাংলাদেশের মন্ত্রীরা হালে যেসব বক্তব্য দেন, তাতে মনে হয় বাংলাদেশ জঙ্গি আকীর্ণ হয়ে গেছে। আসলে কি তাই? অথচ ভারত এজন্যই বাংলাদেশকে আসামির কাঠগড়ায় তুলছে। স্রেফ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দার জন্য আমাদের রাষ্ট্রকে পরের কাছে দুর্বল করার কোন মানে হয় না। — স্বার্থ আদায়ে ভারত যে কতখানি নির্মম হতে পারে তা তার বন্ধুদেরও জানা। — সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ’র সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সাক্ষাৎটি সাংবাদিকদের নজর এড়ায়নি। তাদের প্রশ্নের জবাবে শিবশঙ্কর বলেছেন, সেনাপ্রধান তার বন্ধু। সেজন্যই দেখাশোনা। অবশ্য এ বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমতি ছিল কিনা জানি না। তবে ১/১১-এর মূল কর্তা বর্তমান সেনাপ্রধান বই লিখে, বসুন্ধরার কর্ণধারের কাছ থেকে ক্রীড়া-অনুদান নিয়ে বেশ সমালোচিত হয়েছেন। তার কাজকর্মে কিছুটা স্বাধীনতা আছে, যদিও ১/১১-এর রাজনীতি দমন কর্মসূচির সঙ্গে জড়িতরা একে একে বিদায় নিচ্ছেন। তিনি যখন জমকালো আয়োজনে ভারত সফরে গিয়েছিলেন এবং ঘোড়া নিয়ে এসে বাংলাদেশের অশ্বশক্তি বৃদ্ধি করেছিলেন। — একদিকে সরকার ১/১১-এর নাটবল্টু খুলছে, আরেকদিকে তা লুব্রিকেটিং করছে এই দ্বিচারিতার অবসান কিভাবে, সেটি প্রধানমন্ত্রীই ভালো পারবেন।”

* “আমি মুখ খুললে ১০০ জনের ফাঁসি হবে আত্মহত্যা করলে সবাই বেচে যাবে” সুমনা -সেলিমের কথোপকথনের মোবাইল টেপ উদ্ধার, বিশেষ সংবাদদাতা, ১৭ই এপ্রিল ২০০৯, নয়া দিগন্ত। “গত ২৭ ফেব্রুয়ারী রাতে সেলিম তার স্ত্রী সুমনার সাথে মোবাইলে যে কথা বলেছে তা শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়, চাঞ্চল্যকরও বটে। সেলিম তার স্ত্রীকে বলেছিল, ‘যে কোন মুহূর্তে ধরা পড়ে যেতে পারি। তুমি ভয় পেয়ো না। আমাকে ছাড়িয়ে নেয়ার মত লোক আছে। ধরা পড়ার পর আমি যদি মুখ খুলি তবে ১০০ জনের ফাঁসি হয়ে যাবে। আর যদি আত্মহত্যা করি তাহলে সবাই বেঁচে যাবে।”

* বিডিআর জোয়ানদের আত্মহত্যা অস্বাভাবিকঃ বামমোর্চা নেতৃবৃন্দ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৭ এপ্রিল ২০০৯, নয়া দিগন্ত।

* “প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে নথি গায়েব – শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি”,। প্রধানমন্ত্রীর নিজের কার্যালয় থেকে যদি গোপন নথি হারিয়ে যায়, তাহলে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কি বেহাল অবস্থা তা সহজে অনুমান করা যায়। —- রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও গোপনীয়তা বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না (২৬ এপ্রিল ২০০৯, সম্পাদকীয়, নয়া দিগন্ত)।

* বিডিআর বিদ্রোহের তদন্তে দেরি ইনভেস্টিগেশন ইঞ্জিনিয়ারিংকে সুগম করছে: সেমিনারে বক্তারা: মানব জমিন, ২৬ শে এপ্রিল ২০০৯।

* “তালপট্টির মালিকানা দাবি নিয়ে জাতিসংঘে যাচ্ছে ভারত, বাংলাদেশ যাতে আপত্তি না জানায় তা বোঝাতে ঢাকা সফর করেন শিব শঙ্কর মেনন”, ইলিয়াস খান, আমার দেশ, ২৫ এপ্রিল ২০০৯। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমা অমীমাংসীত থাকলেও ভারত ইতিমধ্যে দক্ষিণ তালপট্টির কাছে তেল গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করেছে। — নয়াদিল্লী আগেভাগেই ঢাকাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা শুরু করেছে। — ১৯৮০ সাল থেকে সব আইন কানুন অমান্য করে জোর পূর্বক দক্ষিণ তালপট্টি দখল করে রেখেছে ভারত। –সেখানে ভারত তার পতাকা টাঙ্গিয়ে রেখেছে।

* “জেঃ শঙ্কর রায়ের রাডার, পিলখানা ও আওয়ামী লীগে জঙ্গি অনুপ্রবেশ”, অনীক ইসলাম, নয়াদিগন্ত, ২৬ এপ্রিল ২০০৯।

* “ভারতীয় প্রচারণা, জয়ের নিবন্ধ এবং ওয়ালিউরের গবেষনা একই সূত্রে গাথা”, কাজী হাফিজ, আমার দেশ।

* “জাবি ছাত্রলীগের কালো তালিকায় পাঁচ সাংবাদিক হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস”, ষ্টাফ রিপোর্টার, আমার দেশ। দেখা যায় এসব সচেতন লেখার জন্য তাদের জীবনও আজ হুমকির মুখোমুখি।

* “ওয়ান ইলেভেনে ক্ষতিগ্রস্তরাই হত্যাকান্ডে ইন্ধন যোগায়” (জামিউল আহসান সিপু, ২৮ এপ্রিল ২০০৯, ইত্তেফাক)।

* “পিলখানার নৃশংস ঘটনার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোই দায়ী”  — কিনতু এখন ক্রমশঃ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা কিছুই জানবো না। কিংবা জানলেও সেটি খন্ডিতভাবে জানবো। হয়তো ইত্তেফাকের (২৮ এপ্রিল তারিখের এই) এই তদন্ত রিপোর্টই পিলখানা হত্যাযজ্ঞের তদন্তের কবর রচনায় প্রাথমিক পদক্ষেপ। — পিলখানার হত্যাযজ্ঞের তদন্ত ও দোষীদের সনাক্ত ও ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শাস্তি কি আমরা দেখব? আমি সন্দেহ করি। আমরা সম্ভবত আরো বড় ধরণের জাতীয় বিপর্যয়ের দিকে দ্রুতবেগে ধেয়ে চলেছি (লোককথা, ফরহাদ মাজহার, নয়াদিগন্ত, ২৯এপ্রিল ২০০৯)।

*“বন্ধুত্বের ভারতীয় সঙ্গা বাংলাদেশের জন্য প্রীতিকর নয়” পাকিস্থানিদের কর্তালির বিরুদ্ধে যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল, তারা কী করে ভারতীয় কর্তালি সহ্য করবে? উভয় দেশের দাদাগিরি সমান বেদনাদায়ক। এটি একটি অত্যন্ত তথ্যবহুল লেখা (২৮ এপ্রিল ২০০৯, নয়াদিগন্ত, সিরাজুর রহমান, লেখক, কলামিষ্ট, সাংবাদিক, সাহিত্যিক)। সচেতনরা পড়তে পারেন।

* “যুগে যুগে স্বাধীনতা বিরোধী” আমার উদ্বেগের জায়গাটা হল, বাংলাদেশের জনগণ কেবল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা বিরোধীদের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করে বর্তমান সময়ের স্বাধীনতাবিরোধীদের কথা বেমালুম ভুলে থাকলে সেই বিস্মরণের সুযোগে দেশটা না আবার হাতছাড়া হয়ে যায়। এখন যে গোষ্ঠী বাংলাদেশকে খন্ডবিখন্ড করে ভারতকে করিডোর উপহার দেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে, চট্টগ্রাম বন্দর আঞ্চলিক পরাশক্তিকে উপহার দিতে চায় — বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের কল্পকাহিনী রটিয়ে বিদেশী দখলদারদের ডেকে আনতে চায় এবং আঞ্চলিক টাস্কফোর্সের নামে দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে চায়, তারা কোনদিনই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হতে পারে না (মাহমুদুর রহমান, ২৬ এপ্রিল, আমার দেশ মাহমুদুর রহমান, সম্পাদকীয় কলাম)।

উপরের এসব হালকা লেখার একটু টাচ দেয়া মাত্র, এবং বেশীর ভাগই শিরোনাম এবং মাত্র কিছুর সূত্র উল্লেখ করা মাত্র। যারা সমাজ সচেতন তারা এর থেকেও অনেক কিছু আঁচ করতে পারবেন, অনেক ধারাবাহিক ঘটনা যা ঘটছে একের পর এক, সে সব অনেক সূত্রের উল্লেখ সেসব জায়গায় আছে। মিডিয়ার কারসাজিতে সারা বিশ্ব জুড়ে অনেক অনাচার হচ্ছে এবং তাকে কৌশলে চাপা দেয়াও হচ্ছে। তাই বলে সবার চোখেই তা চাপা পড়ে থাকছে না। অনেক সচেতনরা অনেক কিছু জানছেন। কিন্তু মিডিয়া সাধারণ জনতাকে ভেড়া বানিয়ে রাখছে। দেরীতে হলেও মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে পারে। আমেরিকার ৯/১১ ঘটনার প্রকৃত ঘটনা আর মিডিয়ার ঘটনার মাঝে বিস্তর ফারাক। ওসব খবরও চুইয়ে চুইয়ে মিডিয়াতে আসে কিনতু সেটি জনতাদের ১০০% সচেতন করতে ব্যর্থ হয়। আমি সব সময়ই মূল লেখা থেকেই বেশীরভাগ শিরোনাম টাচ করছি। যারা জেগে ঘুমায় তাদের ঘুম কখনোই ভাঙ্গানো যায় না। এটি আবারও বলছি আমার এ লেখা ঐ ঘুমকাতুরে লোকের জন্য নয়, তারা গভীর ঘুমে কাল কাটাতে পারেন। তারপরও কিছু সচেতন জনারা সে ভূমিতে বিচরণ করবেন না, সে বিশ্বাস হয় না। ঐ সচেতন সম্প্রদায়ের জন্য আমার এ চেখে দেখা।

অনেকের টেলিফোন কল পাওয়া ও তাদের প্রেরক ও প্রাপক উভয়কেই পাওয়া সত্ত্বেও কেন স্বচ্ছ বিচার হলো না? আজও কেন এত প্রশ্নবোধক চিহ্ন প্রশ্ন হয়ে থাকলো? প্রথম থেকেই সরকার নানান প্রশ্নে বিদ্ধ হয়ে আছে তা উপন্থিত অজস্র শিরোনাম থেকেই পাঠকেরা আঁচ করতে পারবেন। আর একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, বিচারের আসামীরা তাদের হাতে ক্রমেই মারা যায় এটি আর একটি অপকর্ম এরা করে চলেছে। সম্প্রতি ২০১৪তে জঙ্গিনামার জিকির স্থায়ী আসন গেড়ে বসেছে। ধারণা হয় সবই হচ্ছে সরকারী মদদে এবং সেখানেও ধৃত আসামীকে ক্রসফায়ারের নামে আবারো হত্যা করা হয়েছে। জাতির আসল জঙ্গিকে চিনে নিতে হবে। সরকারের মদদে সরকারী জঙ্গিরা বারে বারেই নিজেদের জন্য স্বরাজ সৃষ্টি করে চলেছে। তাই আজ ঐ সরকারী জঙ্গিদের ধরে বিচারের সম্মুক্ষীন না করলে জাতির কোন ব্যক্তি বা সংস্থাই নিরাপদ নন।

এটি ছিল আমার সেদিনের শিরোনামের তদন্ত রিপোর্ট। বিস্তারিত লেখাগুলি সবই পত্রিকা অফিসে সংরক্ষিত থাকার কথা। উৎসাহী তদন্তকারী কেউ হয়তো তা সংগ্রহ করে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা জমা করতে পারেন। আমার পাঠকেরা সেদিন এর উপর মন্তব্য করেছিলেন ভবিষ্যতে এটি বিডিআর বিদ্রোহের মত জটিল বিষয়ের উপর একটি তদন্ত রিপোর্ট হয়েই থাকবে। ধন্যবাদ আমার সেদিনের পাঠকদেরে যারা আমার লেখা থেকে সামান্য হলেও এর গভীরতা আঁচ করতে পেরেছেন। এ তদন্তে কোন উপসংহার নেই। এর বিচারের ভার আপনাদের পাঠকের উপরই থাকলো। আপনারা লেখাগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিবেন আর আপনারাই উপসংহার টেনে নিবেন কে এটি ঘটালো কিভাবে ঘটালো।

জাতির এ চরম দুর্দিনে বেশীর ভাগ পত্রিকা মনে হয়েছে গভীর ঘুমে অচেতন। এটি কখনোই একটি স্বাধীনচেতা জাতির লক্ষণ নয়। দেশের অনেক পত্রিকাই এটি অনেক সময়ই করছে, দেখা যায় আমি আগেও উল্লেখ করেছি বাংলাদেশে যখন ছিলাম সে সময়ও এটি চোখে পড়তো। অনেক উল্লেখযোগ্য শংকার খবর যা প্রকাশ্যে সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি বলেই মনে হয়, তাও অনেক পত্রিকাকে এড়িয়ে যেতে দেখা যায়। এটি সব সময়ই সচেতনদের চোখে পড়ার কথা। কেন অনেকেই এসব অনেক তথ্যকে এড়িয়ে যাচ্ছে, সেটি অবশ্যই সচেতনকে ভাবিয়ে তুলার কথা।  কেন সে কাজটি করতে একজন পাঠককে খুঁজে দেখতে হবে? যেখানে এ দায়িত্ব ছিল প্রতিটি পত্রিকারই। বর্তমান বিশ্বের বেশীর ভাগ জনতাই মিডিয়ার কাছে জিম্মি জীবন কাটাচ্ছে। এই ভাগ্য ও দুর্ভাগ্যকে চিহ্নিত করার, সনাক্ত করার দাবিদার তার সচেতন জনতারা যারা এর প্রকৃত ভোক্তা। কিনতু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এরা যেখানে পেটের ভাত যোগাতেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, সেখানে এসব রাঘব বোয়ালদের ধরতে পারা খুব একটি সহজ কম্ম নয়, সেটি উন্নত বিশ্বেই হোক আর অনুন্নত বিশ্বেই হোক। তাই বার বার বিধাতার বিচারের পানেই চেয়ে স্বান্তনা খুঁজতে হয়। আর মনে হয় ওটিই সবচাইতে নিরপেক্ষ পাওনা যা একজন নির্যাতীত ভুক্তভোগীর জরুর পাওনা হয়ে আছে। মূল লেখাটি ২০০৯এ বিডিআর বিদ্রোহের সময়ই লেখা হয়।

নাজমা মোস্তফা,  ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ লেখাটি কয়েকটি খন্ডে আমারদেশে আসে।

 

 

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: