Articles published in this site are copyright protected.

দেশে বর্তমানে যুদ্ধপরাধের মামলা হচ্ছে যার পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি কুযুক্তি জমে আছে। ঐ সূত্রে আমি যাচ্ছি না তবে ঐ সূত্রে নাগরিকত্ব হারানোর উপর দুটি কথা বলতে গিয়ে আজকের এ কলামের অবতারণা। মুক্তিযুদ্ধের পর পরই বিক্ষুব্ধ মানুষ চাইছিল এ বিচারটি হোক সঠিকভাবে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে সে বিচার ওভাবে হয়নি এমনকি মূল ১৯৩,০০০ আসামী সৈন্যও বাংলাদেশের কবজায় থাকে নাই। হয়তো বৃহত্তর স্বার্থে আর ঐ পথে দেশ জাতি হাটে নাই। সঙ্গত কারণেই ধৈয্যশীলদের দলে ঢুকে গিয়ে জনতারা ধৈর্য্য ধরে বর্তমানে এসে পৌচেছে। সেদিন যারা ময়দানে ছিলেন তারা কমবেশী অনেকেই ঐ সময়ে অত্যাচারী যেমন হয়েছেন অনেকে আবার উপকৃতও হয়েছেন মাঝখানের মধ্যসত্ত্বলোভীদের দ্বারা। আমার জানামতে অনেক শান্তিকমিটির মানুষ আসামীর শিশুপুত্রকে মেজরের সামনে নিয়ে তুলে ধরে তার আসামী বাপকে ছাড়িয়ে এনেছেন। অনেক শান্তিকমিটির মেম্বাররা সৈন্যদেরে বুঝাতে সক্ষম হন তারা যেন কোনভাবেই এলাকাতে আগুন না দেয়। এভাবে তারা সেদিন অনেক এলাকায় অগ্নিরোধকের ভূমিকাতে নামেন বলে অনেক অঞ্চল আগুণের দহন থেকে রক্ষা পায়। আবার অনেকে নির্দোষ প্রতিপক্ষকে সেটে দিতে বহুদিনের পুরোনো মামলা ঠুকে দেয় নিরপরাধ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এই অপবাদে যে সে একজন মুক্তিযোদ্ধা। যদিও সে একদম একজন নিরিহ ছাঁপোষা মানুষ। বা অনেকের জায়গা জমি ঘটিত জটিলতার মোকাবেলাতে অনেকে শত্রুতা নিধনের একটি মোক্ষম সময় ধরে নেন, ঠিক যেভাবে আজও শক্তির ছায়াতলে এটি করা হচ্ছে। ঐ সময়ে নেতা নেতৃসহ অনেকে দাগ রেখেছেন লুটপাটের মহামেলার। অপরাধীর ঘরের প্রতিটি জিনিস লিস্ট করা হয়েছে, ট্রানজিস্টার, রেডিও, দুধাল গরুও বাকী থাকে নাই। ঐটি কি সৈন্যরা পাকিস্তান নিয়ে গেছে, না নেয় নাই। মানুষ সুযোগ গেলেই নীতিবাক্য ভুলে যায়, সততার কথা ভুলে যায় বলেই এসব করে। যদি তারা বুঝতো তাদের প্রতিটি কর্মকান্ড ফাইলবন্দি হচ্ছে তবে তারা ওপথ মাড়াতো না। যারা এসব করেছে তাদের কাছে এ বিষয়ে দলিল অনেক আগেই এসেছে, তারপরও তারা সচেতন হয়নি বলেই ওসব অপরাধ করেছে। আমি ঐ দলিল থেকে সামান্য সূত্র দিব। কুরআন বলে “তোমাদের উপরে নিশ্চয়ই তত্ত্বাবধায়করা রয়েছে, সম্মানিত লিপিকারবৃন্দ, তারা জানে তোমরা যা কিছু কর, ধার্মিকরা নিশ্চয়ই থাকবে আনন্দেরই মাঝে, আর পাপাচারীরা আলবৎ থাকবে ভয়ংক আগুনে, তারা এতে প্রবেশ করবে বিচারের দিনে। আর তারা এর থেকে গরহাজির থাকতে পারবে না। আর কিসে তোমাকে বুঝতে দিবে কি সেই বিচারের দিন? পুনরায় (বলছি) কিসে তোমাকে বুঝতে দিবে বিচারের দিন কি? এ সেইদিন যেদিন কোন সত্ত্বা কোন আত্মার জন্য কোন কিছু করার সামর্থ রাখবে না। আর কর্তৃত্ব সেদিন হবে আল্লাহরই” (সুরা ইনফিত্বার ১০-১৯ আয়াত)। উল্লেখ্য, লিপিকারবৃন্দ অর্থাৎ দুজন ভাল ও খারাপের কাজের তালিকা প্রস্তুতে মগ্ন। আমরা কোনদিন ওদেরে ঐ লিপিকারদেরে চোখে দেখিনি কিন্তু বিশ^াস করি কারণ এটি কুরআনের বাণী। এখানে কোন দিকেই মিথ্যে প্রবেশের সুযোগ নেই, এটিও কুরআন দ্বারা স্বীকৃত।

তাহলে কি বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা নয়

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি অস্ত্রসহ আটক

এসব অপরাধ আমাদের ধর্মহীনতার বা সঠিকভাবে ধর্মটি না জানার কারণেই আমলনামাতে এত অপরাধ জমেছে। তারপরও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী শাসকবর্গের গাফিলতিতেই যুদ্ধপরাধের প্রকৃত বিচারের ভার গিয়ে পড়েছে বিধাতার উপর। আমার নিজের জানা মতে ঐ সময়ে জনতারা ওদের দ্বারা নিগৃহীত হয়েছেন কিন্তু তাদের বিচার করার কোন অবকাশ নেই কারণ তারা মরে গিয়ে পরপারে পাড়ি দিয়ে দুনিয়ার বিচারের বাধা পার হয়ে গেছেন। আরো দু একজনা দাগদেয়া কিছু উল্লেখযোগ্য জন আছেন, যারা ঐ সময়ের পর আর কেউ চোখে দেখে নাই মানে তারা ছদ্মবেশে হয়তো কোথাও আছে অপকর্মের ছাপ মাথায় নিয়ে। এটিও তারা দুনিয়ার ময়দানে পাপের খেসারতে এভাবে মৃতের ভূ’মিকা পালন করছে। আবার কিছুজনা জানা যাচ্ছে খুব কৌশলে ভিড়ে গেছে শাসক বর্গের চাঁদোয়ার তলে। ন্যায় বিচারের বড় শর্ত হচ্ছে নির্দোষ যেন কখনোই শাস্তি না পায়। ন্যায়বিচার করা কুরআনের কড়া শর্ত। কুরআন বলে একজন নির্দোষ হত্যা মানে গোটা জনপদ হত্যার সামিল, সেটি বিচারকদের স্মরণ রাখতে হবে। অনেক সময় আইনজীবিরা মনে করেন তারা ক্ষমতাধর। আসলে তাদের কাজ নয় কাউকে শাস্তি দেয়া বা কাউকে মুক্ত করে দেয়া। তাদের উচিত ন্যায়পরায়নতার দিকে ঝুকে থাকা। তবেই ইহ ও পরকালেও তাদের সুষ্ঠ পাওনা জমা হবে নয়তো বিচারকদেরও কঠিন বিচার সামনে ঝুলছে। এযাবত বিচারের নামে যেসব প্রহসন সামনে আসছে তাতে জাতির চিন্তিত হয়ে পড়ার কথা! বিচারক মানিকের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, আজ দেখলাম দুদকে দুনাম্বার মামলাটি করা হয়েছে। তিনি তার দ্বৈত নাগরিকত্ব তথ্য গোপন করেছেন যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশে^র প্রতিটি সদস্যকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সামনের শেষ বিচারের মোকাবেলা করতে বিধাতার আদালতে করা বড় ফৌজদারী মামলার প্রস্তুতি নিতে হবে। বেশিরভাগ জনতারা বিধাতার আইনের কোন তোয়াক্কাতে নেই তার প্রমাণ পবিত্র কুরআনের বানী যা তাদের কার্যকারণে ধরা পড়ে। নাহলে তারা কখনোই অসৎ পথে যেত না, অসৎ কামাই ঘরে উঠাতো না। বরং দেখা যায় বেশীরভাগ মুসলিম জনতারা মুসলিম প্রধান একটি দেশে কুরআনহীন ধারাকে সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করতেই বাড়তি তৎপর।

শেখ মুজিবের বাকশাল আর শেখ হাসিনার বকশালে পার্থক্য আছেঃ গোলাম মওলা রনি

৯ ফেব্রুয়ারীতে একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী একটি আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্য হিসাবে কিছু যুক্তি তোলে ধরেন, যা আমি সংক্ষেপে তুলে ধরছি। আশংখার সাথে ব্যাখ্যা রাখেন বিচারবিভাগ মনে হচ্ছে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। তার জীবদ্দশাতে তিনি বিচারবিভাগের এ পরিণতি দেখতে রাজি নন, তার আগে তার মরে যাওয়াই কাম্য! গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরশাসনের সীমারেখাতে এসব হয়। তিনি উল্লেখ করেন ঐ বিতর্কিত বিচারপতি মানিককে ঐ সংসদেই একজন স্যাডিস্ট হিসাবে আখ্যায়িত করেছিলেন, যা বর্তমানে অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণতার দিকে যাচ্ছে। তারপরও তিনি কেন আবারো আপিল বিভাগে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। সুপ্রিম কোর্টের অনেক সর্বনাশের দায় তার ঘাড়ে চাপে। এক এক জনের কাছে এক দেড়শ মামলা রয়েছে রায় লেখার অপেক্ষাতে, যা দুঃখজনক। এর দায় আইনজীবিদের, তাদের একযোগে এটি শোধরানোতে ঝাপিয়ে পড়া উচিত। আইনজীবিরা যেন আদালতের বাইরে রাজনীতি করেন, ভিতরে নয়। আপনাদের কাজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে এর উপর জোর দেয়া, অনাচার করা নয়। তিনি সদ্য প্রকাশিত পত্রিকার একটি বিপদজ্জনক আতংকিত সংবাদের উপরও আলোকপাত করেন। এর বিশেষত্ব হচ্ছে যে কোন নাগরিকের নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারে সরকার। নতুন আইনে একজন রাজাকারের সম্পত্তি তার ছেলেপেলে পাবে না। বাবার শাস্তি ছেলে ভোগ করবে। ফৌজদারি আইনে একজনের শাস্তি আরেকজন ভোগ করতে পারে না। গণতন্ত্র থাকলে এসব হবার কথা নয়। এসব প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র মৃত। প্রাক্তন বিচারক তার সময়কালীন বিচারের সাথে বর্তমানের অনেক অসঙ্গতিও তুলে ধরেন। অবসরের পরে কেউ রায় লেখলেও সেটির আদেশ অংশ পরিবর্তন করার কোন সুযোগ নেই। ওটি করতে হলে সেটি রিভিউ করতে হবে। তা না করে কেউ যদি ছয় নয় মাস পরে রাতের আধারে রায়ের আদেশের অংশ পরিবর্তন করে তবে সেটি ফৌজদারী অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। বেশীর ভাগ অপরাধী রাজাকাররা ৪০-৪২ বছরের মাঝে মারা গেছে। একই দিনে একজন আইনজীবি এ বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে এর বিচারিক মর্যাদা প্রত্যাহার চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন। তিনি লিখিত আবেদন করেন অবসরপ্রাপ্ত এ বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের ৫০০ আইনজীবীকে হেনস্তা ও অপমান করেছেন। তার আনুসাঙ্গিক আচরণে গরিষ্ট সংখ্যক আইনজীবীরা মর্মাহত ও বাকরুদ্ধ।

এ ব্যাপারে কুরআন বলে “যে কেউ সঠিক পথে চলে সে তার নিজের জন্যই সঠিক পথে চলে। আর যে বিপথে যায় সেও নিজের বিরুদ্ধেই বিপথে চলে। আর একজন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না” (সুরা বনি ইসরাইলএর ১৫ আয়াত)। আবার “বলো – কী! আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য প্রভু খুঁজবো, অথচ তিনিই সবকিছুর মালিক”? আর প্রত্যেক সত্তা তার নিজের জন্য ছাড়া আর কিছু অর্জন করে না, আর কোন ভারবাহক অন্যের ভার বহন করবে না”। তারপর তোমাদের প্রভুর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দিবেন যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করে চলছিলে” (সুরা আল-আনআম এর ১৬৫ আয়াত)। উপরের দুটি সুরার দুটি আয়াত দিয়ে শাসকবর্গসহ বিচারকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এটি প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করা কুরআন গ্রন্থের মর্যাদা দেয়া ৯০% জনতার দাবী। এখন এর উপর আপনারা শক্তিমান বিচারপতি ও শাসকরা ঈমান বহাল রাখবেন, না প্রত্যাখ্যান করবেন তার উপর নির্ভর করছে এর বাতিল হওয়া বা টিকে থাকা। এবং একই সাথে এর উপর নির্ভর করছে আপনাদের নিজেদের ঈমানের পথে চলাও, প্রধান বিচারপতি সিনহাও এর বাইরে নন। তিনিও ন্যায়নিষ্টদের একজন হিসাবে সাক্ষর রাখার পথে পদক্ষেপ রেখে ইতিমধ্যে জাতির দুর্দিনে কিছু পদক্ষেপ রাখতে পেরেছেন। আমরা ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে রইলাম। অতীতে অধ্যাপক গোলাম আযমের নাগরিকত্ব মামলাতে এটি এসেছে যে, জন্মসূত্রে যে নাগরিক তাকে রাষ্ট্রহীন করা যায় না। অতীতকে স্মরণ করিয়ে দিতে এ কথাটি বলা। বাংলাদেশের গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষ মুসলিম, এবং কুরআনই তাদের পথনির্দেশিকা যা নির্দেশকরা পরখ না করে বারে বারে জটিলতাতে জড়িয়ে পড়ছেন। আমার মনে হয় এর উপর সুক্ষ্ম নজর রাখলে অনেক অপরাধ এড়িয়ে অতি দ্রুত মানুষের মর্যাদা নিয়ে শিখরে পোঁছা সম্ভব।

 

নাজমা মোস্তফা,   ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ সাল।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: