Articles published in this site are copyright protected.

অতিরিক্ত মুখর ব্যক্তি সুরঞ্জিতদের লাগামছাড়া বাগাড়ম্বরে দেশ বঙ্গোপসাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। ফারাক্কা তিস্তাতে ডুবার সুযোগ নেই, নতুন বালিতে ভরাট চরে দেশ মরুভূমির পথে। খবরে প্রকাশ কৃতিত্ব অর্জনকারী পুলিশরা ছড়ি হাতে দেশ চালাচ্ছে। সরকার গলদঘর্ম হওয়ার ভনিতা করছে, খুঁজে পাচ্ছে না এর কারণ? হাজার দাগের মাঝে মাত্র একটি দাগ। জেলা ভিত্তিক রেকর্ড হিসাবে ৩২ হাজার পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিতর্কীত দাগ নাম্বারে। এর মাঝে গোপালগঞ্জের হচ্ছে ৮,০০০ আর কিশোরগঞ্জের ৭,০০০ (২০১৩)। একটি বিশেষ অঞ্চলকে সিলেকশনে রাখা হয়েছে। আবার জাতি ধর্ম নির্বিশেষে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কেও ঠিক এভাবেই কাউন্টার দেয়া হয়েছে যা চরম বিতর্কীত পর্যায়ে পড়ে। দেশটিতে অনেক অনাচার হচ্ছে সম্পাদকদের নাকের ডগা দিয়ে অনেকেই টু শব্দটি করার যুক্তি খুঁজে পান না। স্বার্থপরেরা যখন দেখে নিজের মাথা ঠিক জায়গায় আছে তখন অন্য কথা ভুলেও চিন্তা করে না। বরং দেশ বিধ্বংসী কাজেও আগুয়ান হতে নীতির রাজ্যেও দ্বিধাগ্রস্ত হয়না। আজ উল্টো বাতাসে ২০১৬ সালের শুরুতে বড়ই বেকায়দায় ডেইলী স্টারের মাজফুজ আনামকে কিছু সত্য স্বীকার করতে হলো দায়েপড়ে। পরদিনই দেখি প্রধানমন্ত্রী পুত্র মুখর ১/১১তে তার বড় চেয়ারে বসা মায়ের কারাগারের অপরিসীম অপমানের প্রতিবাদ ছিল তা, এমন কি ঐ প্রতিবাদে সংসদও মুখর। টকশোতে এসব সম্পাদকদের নীতিহীনভাবে মুখর দেখতাম, এদের ভূমিকা সবদিনই এত প্রশ্নবিদ্ধ থাকতো যে দেখতে ইচ্ছে করতো না। এভাবে ঐ সব পত্রিকা পড়ার অভ্যেসেও ভাটা পড়ে। ভুলেও ওপথ মাড়াতাম না, মন চাইতো না। দেশে গেলে দেখতাম সব স্বজনের বৈঠকখানাতে ঐসব পত্রিকা সারিবাধা রাখা। গভীর বিস্ময়ে প্রশ্ন রাখতাম তোমরা কি মনে করো এ পত্রিকাটি ভালো? বদলে দেয়ার যে অঙ্গিকার ওখানে সেটে দেয়া ওটি একটি প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। নিউ এইজের সম্পাদকের একটি লেখা পড়লাম, যেখানে তিনি বড় গলাতে বলেছেন অন্তত একটি পত্রিকা এসব মাথা বিক্রিতে নেই। এ লোকটির বুকের পাটা যুক্তির মানদন্ডে এতই  শক্ত যা প্রশংসাযোগ্য।

রাষ্ট্রীয়ভাবে সার্কুলার জারী করা দেশের জন্য বিপদজনক ব্যাক্তি“ শেখ হাসিনা

আমার মনে হয় নষ্ট পথের এধারার লোকদের জন্য কাঁটার মালা রেডি করে পরিয়ে দেবার রীতি দেশ সমাজ ও বিচার থেকে করলে ভালো হতো। এদের  এ দাগ ইতিহাসের পাতাতে চিহ্নিত কাঁটা হয়ে থাকতো। শোনা যায় নবী ঈসা (আঃ)কে ধর্ম বিরোধীরা হাস্যরস করতে এ কাজটি করেছিল। তাকে টিটকারী করে সেদিন ইহুদী রাব্বিরা মাথায় কাঁটার মুকুট পরিয়েছিল একজন সম্মানিত নবীকে। আজ দু’হাজার বছর পর আমরা ইহুদী খৃষ্টান মুসলিম যে কেউ বলতে পারি কাজটি মোটেও সঠিক হয়নি। কারণ তার ক্রেডিট কখনোই ওটির জমা নয়, এসব ছিল চক্রান্তকারীর ষড়যন্ত্র। বরং এখানের এসব সমাজ ও দেশ বিধ্বংসী অপরাধীর জন্য কাঁটার মালা মনে হয় বেশ উপযুক্ত হতো।

মানুষের স্বভাব কয়লার মত সহজে বদলায় না, ধুলেও যায় না, বার বার স্বরুপে উদ্ভাসিত হয়। আজ যারা মাহফুজ আনামকে গালিগালাজে এক কদম আগুয়ান মূলত এরা একজোট ছিল, এরা তাদের নিজেদেরই দালাল ছিল কিনতু কোনদিকে বখরার ভাগে কম পড়েছে আল্লাহ মালুম, এবার উল্টো সুরে নতুন গান পরিবেশিত হচ্ছে। তাদের নিজেদের দলবাজরাই এতদিন শত অনাচার দেখেও কিছু বলেনি, নিরব থেকেছে। এবার বলছে এসব প্রথম আলো ও ডেইলী ষ্টারের দুজনের ঠাটবাট এত প্রবল যে কখনো কখনো সরকারের চেয়েও বলিষ্ট মনে হয়েছে। তারা বলছে পৃথিবীর আর কোন স্বনামধন্য পত্রিকা এমন শক্তিশালী সম্পাদক এর আগে পায়নি! এসব বলছেন তারাই যারা এতদিন তাদের পেছনে জোরে তালিয়া বাজিয়েছেন! এখন তারা এমনও সন্দেহ করে প্রশ্ন রাখছেন যে, এ ভুল স্বীকার করা হয়তো অন্য কোন নতুন খেলার নাম! সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এ সম্পাদক এখনো গোলামীতে আকন্ঠ না হলেও অর্ধেক কোমর পর্যন্ত ডুবে আছেন। কারণ তিনি সরি বলছেন হাফ অপরাধের বাকী হাফের কোন সরি তার মুখে আজো নেই। সেনা নিয়ন্ত্রিত সময়কালীনই হোক আর বিডিআর বিদ্রোহের সময়ই হোক সেখানে ঐ পাড়াতে তেমন কোন খবর জমতো না। আমি নিজে বিদ্রোহের খবর জমাতে পাগলের মত ঘুরে বেড়িয়েছি শুধু জানার জন্য, সেখানে ঘটনার তুলনায় সীমাহীন পিন পতন নিস্তব্ধতা বিরাজমান। প্রতিটি দুর্যোগে তারা চুপ, প্রতিবাদহীন ষড়যন্ত্রে দাগ রাখা জনতাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মিথ্যের কুয়োতে উটের  মাথা অবদি গুঁজে দিয়ে বদলে দেয়া নাটকের চালে দক্ষ।

সম্প্রতি স্বীকার করা অপরাধ হচ্ছে “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর” যাচাই ছাড়া প্রকাশ করে সাংবাদিকতা জীবনের বড় ভুল তিনি করেছেন।  এতে ধারণা হয়,  এ ছাড়া তার সম্পাদক জীবনে আর কোন বড় ভুল নেই। তাই তার বিরুদ্ধে কিছু প্রতিবাদ ও গ্রেফতার দাবী জমা হয়েছে। কিনতু প্রকৃত অপরাধে যে গোটা জাতি মাথা হারালো, মগজ হারালো, ধড় হারালো পঙ্গু হয়ে গেল, তার সবটাই লুকিয়ে রেখে যে অপরিসীম দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন তার জন্য যারা তাকে আজীবন মাথায় তোলে রাখার কথা ছিল। তারা ছলবাজরা কিনতু তা করছে না, বরং গ্রেফতার ও বিচার চাইছে। সম্প্রতি বিএনপির নেতা রিজভী তাদের একটি সম্পাদকীয় কলামের উদাহরণ টেনেছেন, “ট্রিবিউট টু জিয়া” যেখানে উদ্দেশ্যমূলক ছলনার প্রচারে হাত দাগার প্রমাণ দেখিয়েছেন। সেদিন তারা ঐ প্রতিবাদী ছেলে জয়ের পক্ষে দালালি করতে গিয়ে ওটি করেছেন সন্দেহ নেই। তাছাড়া শুধু বিডিআর বিদ্রোহই নয়, ১/১১ এর পর হাসিনা ও খালেদাকে এক দড়িতে বেঁধে ‘মাইনাস টু তত্ত্বের’ নাটকে নামেদাগে শক্ত ও তৎপর থেকেছেন।

অনেকে যুক্তি দেখাচ্ছেন সম্পাদক দায়ী হলে মালিক প্রকাশকও দায়ী। এরকম নানাজন নানা প্রশ্ন তুলছে। কার ইঙ্গিতে বা কার চাপে তিনি মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করছিলেন? মাহফুজ আনাম এর ফাঁকে অনলাইন ভারসনে পুরানো একটি লেখা দিয়েছেন ভাবখানা গণতন্ত্রের জন্য তিনি এসব করেছেন। এসব প্রশ্নের জমা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। যারা টকশো দেখেছেন তারা বলছেন সেদিন তিনি প্রথমে রেগে গিয়ে প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতে চান। উল্টো প্রতিপক্ষকে জোর গলাতে হুমকি দিতে থাকেন যে প্রমাণ ছাড়া টকশো থেকে যেতে পারবেন না। যখন প্রমাণ আনা হলো তখন তিনি এড়িয়ে যেতে চান, তারপর ফেঁসে গিয়ে দায় স্বীকার করেন ঘটনার এত বছর পর তার আগে নয়। অনেকেই এটি করেছে বলে ঐ দায় অনেকের ঘাড়ে চাপিয়ে বাঁচার শেষ প্রচেষ্ঠা চালান। ঐ দিন ঠেকায় না পড়লে তিনি কি কিয়ামতের আগে এসব খোলাসা করতেন? মনে হয় না। কার উৎসাহে এসব অপরাধে হাত দাগান, নিজের অতি উৎসাহে, নাকি ভিন্ন কোন যোগসূত্র, স্পষ্ট করলে অন্তত জাতি অনেক অপকারের পরও কিছুটা উপকৃত হতো। কিসের লোভে এতবড় বেঈমানীতে উৎসাহ পেলেন? ভুলের সব প্রতিবেদন কি প্রত্যাহার করা হবে? সেখানে ভুলের প্রতিবেদনগুলি আর কি কি ছিল, বলা যাবে কি বা এর সিরিয়েল ফর্দগুলি কি জাতি জানতে পারবে? অপকর্মের একটি ফর্মা আছে, এসব অপকর্ম কি ধরণের চুরি ডাকাতি বাটপারি অবিচার অনাচার চাটুকার আর কি কোন নতুন ব্যাখ্যার পর্যায়ে পড়ে কি না? শামিম ওসমানদের নানা ধরণের অপরাধ আর নারায়নগঞ্জের সাত খুনের ও চলমান সময়ের এ সম্পাদক ঘটিত মিথ্যা প্রচারের সংবাদ অপরাধের মাত্রাতে কোনটি বেশী ক্ষতিকর নাকি সমান সমান?

মাহমুদুর রহমান সত্য প্রচার করেও ফেঁসে গেলেন আর উনারা মিথ্যে প্রচার করেও আধা ডজনের বেশী বছর থেকে বাতাস খেয়ে জেলের ঘানি না টেনে টকশো করে বেড়াচ্ছেন! অন্য অনেকের জন্য টকশোতে পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখা হয়েছে, এর মূল কতদূর গভীরে জাতি ধ্বংসে অবদান রেখেছে, সেটি কি খোলাসা করা যাবে? এর জবাব কি বিশাল ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী সংসদ বা তার পুত্রের কাছে আছে? ময়দানে এত অপরাধ খোলাসা হবার পরও কি ঐ সম্পাদক পদত্যাগ করার চিন্তা করতে পারবেন? কলমের কালিতে এ যাবত গণতন্ত্র রক্ষায় এ ধারার নাটকসম কয়টি শক্ত ও গভীর ছলনার অপরাধ করেছেন, তা কি জাতি জানতে পারবে? মিথ্যে স্লোগান নির্ভর ছলের অপরাধে গোটা জাতিকে প্রতারণা করাতে জাতি কতটুকু হারিয়েছে তা কি জাতি আঁচ করতে পারছে? চলমান সংসদ আংশিক ব্যক্তির জন্য সোচ্চার হয়েছে কিনতু জাতি তার চেয়ে অনেক বেশী ব্যাপক ও বিসতৃত, তার পরিমাপ কে করবে?

এবার জটিল সময়ই নাড়িভুড়ি উগলে সব উদগিরণ করছে, সম্ভবত এটি আসরের কসম কিনা জানি না। কুরআন শরিফে আসরের কসম খেয়ে  দোহাই দিয়ে বলা হয়েছে এমন একটি পৃথিবী ধ্বংসের শেষ মুহুর্তের সংগীন সময় আসবে। ওদিকে ‘কিয়ামতের ঘড়ি’ বলে নতুন বিপদ সংকেত পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ক বুলেটিনে প্রতীকি ঘড়িটিতে মধ্যরাত আসতে মাত্র তিন মিনিট বাকী রিডিং দিচ্ছে। এটি ১৯৪৫ সালে শিকাগো বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েকজন বিজ্ঞানী প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিজ্ঞানীরাই বিশে^ প্রথম পারমানবিক বোমা তৈরী করেছিলেন। সেটি সম্প্রতি ৫ মিনিট থেকে ৩ মিনিটে স্থাপন করা হয়েছে। গোটা বিশে^র অশান্ত পরিস্থিতির উপর পর্যবেক্ষণ করে এটি নির্ধারণ করে বিজ্ঞান ও নিরাপত্তা বোর্ড। সেখানে পদার্থবিদ, পরিবেশবিদসহ ১৬ জন নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে এটি গঠিত। অতি সম্প্রতি এ বছরের শুরুতে এ রিডিং আসে। তাহলে এমন সংগীন সময়ে কুরআনে নির্দেশিত সতর্ক সংকেতটি স্মরণ করারও যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি। “ভাবো অপরাহ্ন কালের কথা। নিঃসন্দেহ মানুষ আলবৎ লোকসানে পড়েছে। তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, আর পরস্পরকে সত্য অবলম্বনের জন্য মন্ত্রণা দিচ্ছে এবং পরস্পরকে অধ্যবসায় অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে” (সুরা আল-আসর ১-৩ আয়াত)। কঠিন শক্ত কথাটি হচ্ছে সমস্ত মানব জাতিই ক্ষতির মাঝে নিহিত। একমাত্র অতি সামান্য সংখ্যক মানুষ যারা ঐ সততার চিহ্নিত শর্তগুলিতে অবদান রেখেছে, তারা ব্যতীত।

 

নাজমা মোস্তফা,  ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: