Articles published in this site are copyright protected.

বেশ বড় সময় থেকে বাঘের পিঠে চড়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। প্রতিবেশীর ইন্ধনে বাজেটে গদি দখলের খেলার কথা সবাই কম বেশী জানেন। এর স্বপক্ষে উদাহরণ টানার মত কিছু স্মরণযোগ্য নমুনা আনছি। ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারী ঢাকার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে ‘বেদান্ত সংস্কৃতি মঞ্চ”  আয়োজিত “পূজা পূনর্মিলনী: বিশ^জুড়ে বিশ^ময়ী” শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)র কেন্দ্রীয় সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সভাপতি তথাগত রায় বলেন, হিন্দুদের আওয়ামী লীগ সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেয়া উচিত এবং এ ব্যাপারে হিন্দুর নিজের স্বার্থে তাদেরে ঝাপিয়ে পড়তে তিনি উপদেশ বিলি করেন। উক্ত মঞ্চের বিশেষ অতিথি ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যিনি ইতিমধ্যে অনেক বিতর্ক জমাও করেছেন। সম্প্রতি তিনি মারা গিয়েছেন বিধায় সারা জাতি দুঃখ প্রকাশ করছে। কিন্তু কিছু সত্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই বলেই দুটি কথা বলা। তিনি গুজরাট বাবরী মসজিদের ধ্বংসকারী বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল মনে করেন না বলে প্রকাশ করেন (ইত্তেফাক, ৩ জানুয়ারী) যদিও জামায়াতকে সাম্প্রদায়িক মনে করেন। এর কারণ কি ভারতীয় দালালি নয়? ৯০% মুসলিমের দেশে বাস করেও কথায় কথায় সোবহানআল্লাহ বিসমিল্লাহ নিয়ে রস করে মশকরা করতেন।  শক্তির দন্ড ধরে থাকার কারণে একটি দেশে সাম্প্রদায়িকতার ইন্ধনে জাতিকে বিভ্রান্ত করে অন্যের হাতিয়ার হয়ে এরা কাজ করে চলেছে। তারপরও বাংলাদেশের সংখ্যাগুরুরা ভারতের হিন্দুর মত ধ্বংসকারী নয়, বরং সব ছাপিয়েও এখানে যেসব ধ্বংস হয় এর বেশির ভাগের পিছনে ঐ ভারত পূজারী দলেরই প্রত্যক্ষ মদদ লক্ষ্য করা যায়। এর প্রমাণে তারা সমানেই ধরা খায় কিন্তু দুঃখের বিষয় এর বিচার বরাদ্দ হয় না কখনোই।

ভারত সরকারের দালাল হয়ে তথাগত রায়রা মিডিয়াতে প্রকাশ করে দাগ রাখেন, তাকেও শক্ত আসামী করা চলে। তিনি প্রকাশ করেন ভারত সরকার আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। আপনাদের জন্য এর চেয়ে ভালো আর কোন সরকার হতে পারে না। এসব খবর মিডিয়াতে আসা খবর। কার্যত তিনি বলেন আমি সেটি প্রকাশ্যে বলতেও পারি না। তারপরও তিনি তার অতি উৎসাহী দালালীপনা চাপিয়ে রাখতে পারেন নি। বাংলাদেশকে পঙ্গু ও অথর্ব করতে ভারত যে কতটুকু গভীরে ষড়যন্ত্র করছে সেটি প্রকাশ করেন নি তথাগত রায় বা তার দালালরা। সত্যিকারের দেশপ্রেমী মগজ থাকলে সুরঞ্জিত গুপ্তসহ হিন্দুরাও বুঝতে পারতো, তারা দেশ ধ্বংসের কি এক জটিল মরণ খেলায় নেমে পড়েছে এসব স্বার্থবাজদের ইন্ধনে।

সম্প্রতি জনতার কষ্ট থেকে জানতে পারছি বরং ঘটনার জটিল বাস্তবতা হচ্ছে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন বিদ্বেষী মানুষ তার মৃত্যুমুখেও  মিথ্যাচারে প্রতিপক্ষকে ছোবল দিতে ভুলেন নি। এরকম অবস্থায়ও মৃত্যুর মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, গাইবান্ধার এমপি যিনি পিস্তল লিটন বলে পরিচিত তার হত্যার প্রধান আসামী নাকি খালেদা জিয়া। উচিত ছিল মরার আগে তার সাক্ষ্য দ্বারা এটি আদালতে গিয়ে প্রমাণ করা। তার মৃত্যুর পর এসব দুঃখ চেপে রাখতে না পেরে অনেক মানুষ আলহামদুলিল্লাহ পড়ছে। তিনি কথায় শান দিতে খুব মুখর ছিলেন,  এমনকি চুরিতে ধরা খাওয়ার পরও। তবে এটি জাতির জানা, যুক্তিহীন বড় গলা হলেই চুরির অপবাদ মিটে না বরং আরো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা পায়। তিনি ফতোয়া দিতেন বিসমিল্লাহ বলে পাঠার মাংস খাওয়া যায়। মসজিদ বানাতে হলে সৌদি যাও, বিদগ্ধ জনের কথাতে প্রমান পাওয়া যায় শুধু বাংলাদেশের মুসলিম নয়, ভারতের মুসলিমও তার মুখর কথা থেকে নিস্তার পায় নি।

সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত যে সুবাহানাল্লাহ সুবাহানাল্লাহ বলে বেঙ্গ করেছেন

 

আপনারা কি জানেন, বাংলাদেশের কোর্টে এখন ভালো বিচারের বদলে পূজো হয় ভালো? শোনা যায় কোর্টের কাজ বন্ধ রেখে ওসব চলে। দেশ এ গতিতে চললে অনেক সুবিধাবাদী অনাচারই ঢেকে রাখা যাবে।  ২০১২ সালের ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে পিলখানার বিডিআর গেটে ঝিকাতলা যাবার পথে ৭০ লাখ টাকার বস্তাসহ রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের কাছে ঘুষের টাকা নিয়ে যেতে বেকায়দায় ধরা পড়ে এপিএস ফারুক। চিটাগাংএর চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগে ৪০০ কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্যে তিনি সরাসরি জড়িত থাকার খবর চাউর হয় মিডিয়ায়। এসব মুখর বানিজ্যের নানান জটিলতায় ভোগে জনতারা এর পর থেকে তার নাম দেয় কালো বিড়াল। মন্ত্রীত্ব খোয়ালেও সরকারী মদদে তাকে জেলে যেতে হয়নি। কারণ জানা যায় এতে সরকারের আরো বড় বড় রাঘব বোয়াল অনুসারীরা জড়িত ছিলেন। সন্দেহের আসামীরা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের এইচটি ইমাম, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিত, শেখ রেহানাসহ আরো বড় বড় নেতারা। এটিও জানা যাচ্ছে এ খবরটি প্রচার হয়ে পড়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর তৎপরতায়। যার খেসারতে মাত্র ৭ দিনের মাথাতে ১৭ এপ্রিল রাতে নিজ বাসাতে ফেরার পথে মহাখালি থেকে শক্তির তোড়ে তিনি তার ড্রাইভারসহ ময়দানে বাতাসে মিলিয়ে যান। অন্যদিকে ফেঁসে যায় ঘুষ বহনকারী এপিএস ফারুকের ড্রাইভার আযম, তাকেও গুম করা হয় একই কায়দায়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনী হলফনামাতে জানা যায় মন্ত্রীর বাৎসরিক আয় ছিল ৭ লাখ টাকা। অতপর মন্ত্রী হয়ে তার পুত্র সৌমেন পাঁচ কোটি টাকা নগদ জমা দিয়ে ব্যবসা বাগিয়ে নেন আর আমদানী করেন ৩০ কোটি টাকার রসদ।

সমকাল ২০১২ এর ১৪ এপ্রিলের খবরে প্রকাশ ক্ষমতার তোড়ে তিনি তার নির্বাচনী এলাকা দিরাই শাল্লায় প্রায় ১৫০ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করেন। আইন ও ধর্মীয় মতে ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির কোন বিধান নেই। কিন্তু ক্ষমতার বলে অল্প পয়সায় সাফ-কবলা দলিলে তিনি তা নিজের কোম্পানীর নামে রেজিষ্ট্রি করে নেন। দিরাই উপজেলার চাঁদপুর, মজলিশপুর ও করিমপুর মৌজায় মিথ্যা তথ্যে ভারতগামী স্বজনদের ৭৫ বিঘা অর্পিত সম্পত্তি আত্মস্থ করার খবরও জনতারা জানে। অর্পিত সম্পত্তি জবরদখল ও মাছ চাষের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়েছেন তিনি। এলাকার শিক্ষিত ছেলেপেলেকে চাকরি দেবার নামে ঘুষ বানিজ্যও চলে তার মদদে, তার ছত্রচ্ছায়ায় তার লোকবলে। ভয়ের মামলা বানিজ্য চালিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করে পৌছে দেয়া হত তার মহলে। গরীব এতিমদের জন্য করা স্কুলেও অনেক সুরঞ্জিতী লুটপাটের খবর পড়েছি অতীতে। সরকারী চাল গমের বানিজ্যে নিয়োজিত ছিল এপিএস প্রদীপ। খবর হাওয়া থেকে পাওয়া খবর নয়, ক্রমে ক্রমে আসা মিডিয়ার খবর এসব। তারপরও কি উদার জনতারা বলবেন তিনি সৎ রাজনীতিক? উদার দেশে মরে গেলেই কি তার নামে মিথ্যা কীর্তন গাইতে হবে? বিদগ্ধজনরা বলছেন বাম রাজনীতির প্রবক্তা সুরঞ্জিত কোন কারণে ১৯৭২ সালে সংবিধানে সই না করলেও ২০১০ সালে সংবিধানকে কেটে ছেড়ে কেয়ারটেকারকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কবর দিতে ইন্ধন দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িত সাধকেরা বলছেন স্বাধীনতার কালে জাতি তিন দলে বিভক্ত ছিল। একদল হচ্ছে পাকিস্তানের পক্ষশক্তি দ্বিতীয়দল হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধেরত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শক্তি আর তৃতীয়দল হচ্ছে কপট স্বার্থে মগ্ন ভারত রাশিয়া শক্তি। সুরঞ্জিত ছিলেন কার্যত শেষ শক্তির বাহক, এর প্রমাণই তার জীবনে বেশীরভাগ সময় দৃষ্টি গোচর হয়েছে। এতে বলা যায় আমৃত্যু তিনি ছিলেন কার্যত ভারতীয় পক্ষের শক্ত দালাল, অনেকেই মন্তব্য করছেন তার আজীবনের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্য বানানো।

ভারতের এরকম অনেকেই আছেন এ কাজটি করে ভারতপ্রেমের উদাহরণ রাখছেন তার একজন হচ্ছেন কুলদীপ নায়ার। এই ঝানু সাংবাদিক ব্যক্তিত্বটি সময়ে সময়ে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে গাজির গীত গান। দরকার মনে করলে তিনি খবরকে উলটপালট করেও প্রচার করেন। ভারতীয় দালালী করতে গিয়ে তিনি খালেদাকে আক্রমণ করে লেখা বা জামায়াত দলকে আক্রমণ করাকে তার সাংবাদিক জীবনের বড় সাধুতা মনে করেন। সময়ে সময়ে তিনি জানান দেন যে, দরকারে স্বার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনে ভারত এর শেষ দেখে ছাড়বে। অনেকটাই হুমকির মত তার প্রচার। দুঃখের কথাটি হচ্ছে বাংলাদেশের সুরঞ্জিতরা যদি এভাবেই ভারতীয় তালে দেশপ্রেমের উদাহরণ রাখেন তবে এ লজ্জা রাখার কোন জায়গা নেই। প্রকৃত বাংলাদেশী জনগণকে এ দুরভিসন্ধি সম্বন্ধে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। এদের লেখাতে থাকে জামায়াত কেন বিএনপির সাথে। এ দুয়ের মিলিত একক শক্তিকে তারা ভয়ানক ভয় পায় ! তাদের এই ভয়টি কিন্তু আর চাপা নেই , এটি ওপেন হয়ে পড়েছে। একই কায়দায় বাংলাদেশেও কিছু ভারতপন্থী সাংবাদিকও একই ভঙ্গিতে সব সময় তাদের কলাম, টকশো এসব সাজায়। এদের চিনে নিতে কোন সময়ও লাগে না। মুহূর্তেই আপনি তার আচরণ দেখেই আঁচ করতে পারবেন সে কোন দলের মানুষ, কার দালাল। সবার শেষে একটি সুবচন দিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করবো। সাথে রইলো কয়টি অপকর্মের দালিলিক ভিডিও প্রমাণ।

Suranjit Sengupta and his caricature(follow up 01)

Suranjit Sengupta and his caricature (Follow Up 05)

 

কুকর্ম ও সুকর্মের জন্য আলাদা আলাদা ধর্মের প্রয়োজন নেই। শেষ সময়ে এটি সবার জন্য বরাদ্দ থাকবে যোগ্যতা অনুযায়ী উপঢৌকন পুরষ্কার বা তিরষ্কার। আর সময়টি মৃত্যু পরবর্তী সময়ের কথা,  তা চন্দনকাঠেই দেহ দান হোক আর নিরব নিস্তব্ধতায় মানুষের কবর যাত্রাই হোক। সবার জন্য একই বিচারকের মহান বিচার বরাদ্দ আছে। সেটি হবে আমাদের সবার সামান্য সামনে, অপেক্ষা করছে, সবার নাটকের পর্দাটি খসে পড়লেই সেটি আসবে কোন এক ক্ষণে সময় হলে। তাকে বলা হয় শেষ বিচারের দিন। সেই মুহূর্তের উপর দৈব থেকে আসা বাণী হিসাবে দুটি কথা জুড়ে প্রতিটি বিবেকে সুমতির আশাতে আজকের মত এখানেই ইতি টানছি। “তখন যে কেউ এক অনু পরিমাণ সৎ কাজ করছে সে তা দেখতে পাবে আর যে কেউ এক অনু পরিমান মন্দ কাজ করেছে সেও তা দেখতে পাবে (সুরা যিলযালএর ৭/৮ আয়াত)।” কুরআন বলে, “সত্যকে তোমরা মিথ্যার পোশাক পরিয়ো না বা জেনে শুনে সত্যকে গোপন করো না (সুরা বাক্কারাহএর ৪২ আয়াত)।” কিছুই লুকানো থাকবে না। সবই থাকবে ষ্পষ্ট ঝকঝকে তকতকে।

সুরঞ্জিত থেকে চোরঞ্জিত, এখন আবার চোরঞ্জিত থেকে ঘোষরঞ্জিত

 

নাজমা মোস্তফা ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

Tag Cloud

%d bloggers like this: