Articles published in this site are copyright protected.

Archive for February, 2016

প্রসঙ্গ রবীন্দ্র: কবি জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিতে শান্তিনিকেতন

সত্য সন্ধানীরা যুগে যুগে নিজের ঘাম ও রক্ত দুটোই ঝরিয়ে গেছেন সত্যকে উন্মোচন করবেন বলে। কেউ স্বার্থক হতে পেরেছেন কেউবা হেরে গেছেন। এত নিপিড়নের পরও সত্য মরেনা, বেঁচে থাকে। অনেকে মিথ্যার মসনদে শক্ত হয়ে বসে যায় এর ফাঁকে। কিনতু সত্যের কষ্টরা হাফ ছেড়ে দেয় না, জানে একদিন তার জয় হবেই। প্রজাপীড়ক জমিদার রবীন্দ্রনাথের পরিবার যে দরিদ্র কৃষককুলের উপর জবরদস্তি করতেন এবং তা আদায়ের বিরুদ্ধে শিয়ালদহে প্রজাবিদ্রোহ হয়েছিল, এর প্রমান (সূত্র: অধ্যাপক অমিতাভ চৌধুরী, জমিদার রবীন্দ্রনাথ, দেশ ১৪২ শারদীয় সংখ্যা)। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রবীন্দ্র পূজার আহ্লাদে গোটা দেশ কম্পমান এর কারণ সেখানেও আজ অবদি অনেক সত্য চাপা দেয়া। সচেতন কিছুরা হয়তো জানে বা অনেকেই জানে না কারণ এসব শক্ত করে চাপা দিয়ে রাখা। কেউ কথা বললেই তার মুখে সরাসরি বাণ নিক্ষেপ করা হয়। কবি জসিম উদ্দিন ঐ মাটির এক দুর্লভ সত্য সাধক এসব কষ্টের ভার লাঘব করতে কিছু দাগ রাখলেও তাও চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে ইতিহাসের তলানীতে। যার জন্য ধারণা হয় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশীরা ওসব মোটেও জানে না। প্রতিপক্ষের মত সংকীর্ণমনা হলে ওটি তারা অনেক আগেই সবদিকে ঢাক ঢোলে প্রচার করতো, সত্য বিকট আওয়াজে ময়দানে ফেটে পড়তো। এতে তাদের উদারতার এ দিকটি আবারো জীবন্ত হয়ে উঠে। যদিও এর ক্ষতি ভয়ানক, বিনিময়ে তাদের ঘাম ও রক্ত ঝরার ইতিহাস আরো বেড়ে গেল কয়গুণ বেশী। নীচে বিগত শতকের শান্তি নিকেতনের অশান্ত আচরণের কিছু বাস্তবচিত্র।

কবি জসিমউদ্দিন বলেন, “হিন্দু মহাসভার এক বক্তা আসিয়া শান্তি নিকেতনে ম্যাজিক লন্ঠন সহযোগে এক বকতৃতা দিলেন। জ্বালাময়ী বকতৃতা সহযোগে বক্তা ছবির উপর ছবি দেখাইয়া চলিলেন। লুঙ্গিপরা মুসলমান গুন্ডারা যুবতী হিন্দু মেয়েটিকে জোর করিয়া ধরিয়া লইয়া যাইতেছে। তাহার চিৎকারে আকাশ বাতাস বিদীর্ণ হইতেছে। একটি মেয়েকে টুকরা টুকরা করিয়া কাটিয়া ছালায় ভরিয়া মুসলমান গুন্ডারা নদীতে ফেলিয়া দিতে যাইতেছে। এমনি নানা রকম হৃদয় বিদারক দৃশ্য। এই সব দেখাইয়া বক্তা তার শ্রোতামন্ডলীকে আহবান করিলেন “হিন্দুগণ, প্রসতুত হউন। যেমন করিয়া ভীম, অর্জুন, নকুল, দৌপদীর বস্ত্রহরণের প্রতিশোধ লইয়াছিলেন, যেমন করিয়া রাম লক্ষ্মণ সীতা হরণের পর রাবণকে স্ববংশ নিধন করিয়াছিলেন, তেমন করিয়া  আসুন আমরা মুসলমানদিগকে নিধন করি। বকতৃতা শেষ হইল। কেহই এই বকতৃতার প্রতিবাদ করিলেন না।

প্র্রতিদিন ভোরে গ্রন্থাগারের সামনে এখানকার ছাত্র ছাত্রীরা এবং শিক্ষকেরা মিলিত হইয়া প্রার্থণা করেন। এই প্রার্থণার শেষে কয়েকজন শিক্ষক ও অধ্যাপকের সঙ্গে মিলিত হইলাম। তাহারা প্রত্যেকে বিগত রাতের কথা আলোচনা করিতেছিলেন। একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “দেখুন, আপনার সম্প্রদায় যে এইভাবে হিন্দু মেয়েদের উপর অত্যাচার করছে, আপনার মতো উদার প্রাণ মুসলমানের কাছে আমরা এর প্রতিবাদ আশা করি”। আমি বললাম, “রবীন্দ্রনাথের এই পবিত্র ভূমিতে হিন্দু মহাসভার বক্তা যেভাবে মিথ্যা নারী নির্যাতনের নামে আমার সম্প্রদায়কে একতরফা আক্রমণ করে গেলেন, আমার মনে খুবই আশা ছিল আপনাদের মতো উদারমনা শিক্ষকদের মধ্যে কেউ এর প্রতিবাদ করবেন”। আমার কথা বলা মাত্র যেন মৌমাছির চাকে ঢিল পড়লো। একজন বলিলেন, “আপনার কাছে এরুপ আশা করি নি”। আমি বলিলাম, “কি উত্তর আশা করেছিলেন? আপনার তথাকথিত জাতীয়তাবাদী মুসলমানদের মত বলবো যে, বক্তার কথা সবই সত্য? আপনারা আশা করেছিলেন আমি স্বীকার করবো আমার আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব আমার সমাজের আপামর জনসাধারণ সবাই হিন্দু রমনীকে বলাৎকারের জন্য প্রসতুত থাকে? আপনারা আশা করেছিলেন আমার সমাজকে এইভাবে হেয় করে আপনাদের কাছে উদারমনা বলে পরিচিত হব?

ফলশরুতিতে “একদিন প্রভাতদা আমাকে ডাকিয়া বলিলেন, জসীম, তোমার বিরুদ্ধে এখানে ভীষণ আলোচনা চলছে, এখানকার কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা তুমি এখান থেকে চলে যাও।” এই ঘটনার প্রতিবাদ করিয়া আমি একটি সুদীর্ঘ প্রবন্ধ লিখিয়া বনধুবর বিনয়েন্দ্র বন্দোপাধ্যায়কে পড়িয়া শুনাইলাম। সে বলিল, তোমার নামে যদি এ লেখা প্রকাশ পায়, লোকে তোমাকে ভুল বুঝবে। তাছাড়া তোমাদের সমাজে এতে সাম্প্রদায়িকতার ইন্ধন ছড়িয়ে দেয়া হইবে। এক কাজ করো লেখাটি নকল করে আনো। ওটি আমার নামে ছাপা হবে। তাতে আমাদের সমাজের লোকেরা জানবে হিন্দু সমাজে এমন বহু লোক আছে যারা মিথ্যা সমাজ ধর্মের বিরূদ্ধে দাঁড়াতে পারে। উত্তেজনা  কমিয়া গেলে লেখাটি আর নকল করিয়া প্রেসে পাঠাই নাই। সেই সুদীর্ঘ লেখাটি এখনও আমার খাতায় আছে।” (ঠাকুর বাড়ীর আঙ্গিনায়, পৃষ্ঠা ২৩/২৪)। জসীম সাহেব চলে আসলেন। এইতো রবীন্দ্রনাথের বিশ্ব ভারতীর অবস্থা। রবীন্দ্রনাথের কল্পিত ভারতবর্ষ যে কী ছিল তা তার “ভারতবর্ষ” নামক প্রবন্ধ পুস্তকটি পড়লেই ভাল করে বুঝা যায়। তার কল্পিত ভারত ছিলো বেদ, উপনিষদ, রামায়ন, মহাভারত ও সংস্কৃত মতাদর্শের ভারত। মানুষ যখন অন্ধকারের পূজা করে তখন তাদের আলোর সফুরণ হতে পারে না, বরং আরো গভীর অন্ধকারে নিপতিত হয়। ধারণা হয় মুসলিমদের পক্ষে এরকম অত্যাচার হলে এর ফাঁকে কিছু তসলিমা, হুমায়ুন আজাদ ও তার প্রজন্মরা ময়দানে নেমে আসতো। বাস্তবে যদিও এরা মুসলিম অপরাধ না পেয়েও অন্যের গুটিচালে ইসলাম ধ্বংসে মুসলিমবিরোধী ভূমিকা পালন করছে। হিন্দু  নামের নয়ন চ্যাটার্জি নামের আড়ালে কিছু স্পষ্ট ম্যাসেজ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে, তার পরিচয় আল্লাহই ভালো জানেন। তবে তার বিস্ফারিত নয়নজুটি যে চলার পথের গভীর খাদ দেখতে পাচ্ছে সেটি স্বীকার্য। এ ক্ষেত্রে তার পরিচয় মূখ্য নয়। অতীত যুগের ইতিহাসের বেশীরভাগ নয়ন চ্যাটার্জিরা দৃষ্টিহীন নিরবতার সাক্ষর রেখেছেন, ইতিহাস তার সাক্ষী।

ব্লগের নয়ন নামের স্পষ্টদর্শীর স্বীকৃতি এখানে নীচেই আনছি। রবীন্দ্রনাথের প্রাইভেট সেক্রেটারী অমিয় চক্রবর্তী দরিদ্র প্রজার জন্য কিছু দান করতে প্রস্তাব রাখলে কবির জবাব ছিল কৃপণতায় ভরা। “বল কি হে অমিয়, আমার রথীন (পুত্র) তাহলে খাবে কি? (অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচনা থেকে উধরিত সূত্র – গ্রন্থ ‘রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক চিন্তাধারা” আবু জাফর)।” অধ্যাপক অরবিন্দ পোদ্দারের কিছু কথা “জমিদার জমিদারই। রাজস্ব আদায় ও বৃদ্ধি, প্রজা নির্যাতন ও যথেচ্ছ আচরণে যে সব অস্ত্র চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার জমিদার শ্রেণীর হাতে তুলে দিয়েছিল, ঠাকুর পরিবার তার সদব্যবহারে কোন দ্বিধা করেনি। এমন কি জাতীয়বাদী হৃদয়াবেগ উপনিষদিক ঋষিমন্ত্রের পুনরাবৃত্তি এবং হিন্দুমেলার উদাত্ত আহবানও জমিদার রবীন্দ্রনাথকে তার শ্রেণীস্বার্থ থেকে বিচ্যুত করতে পারে নি। (অরবিন্দ পোদ্দার: রবীন্দ্রনাথ ও রাজনৈতিক প্রবন্ধ)।” সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়ও বলেছেন, “শান্তিনিকেতনে একটি চাকরি পেয়ে তার আধাসরকারি চাকরি ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছা ছিল। কিনতু রবীন্দ্রনাথ হলেন জমিদার মর্জির, ঠিক নেই, কখনো আবার চাকরি নষ্ট করে দিলে তার খাবার অভাব হবে। রবীন্দ্রনাথ ইনটলারেন্ট প্রকৃতির ছিলেন। যে মাষ্টার রবীন্দ্রনাথের কথার প্রতিবাদ করতেন তার চাকরি থাকতো না। তিনি আরো বলেন,  জমিদার হিসাবে ঠাকুর পরিবার ছিল অত্যাচারী। গ্রাম জ¦ালিয়ে দিয়েছিল, বুট পরে প্রজাকে লাত্থি মেরে পায়ে দলেছেন দেবেন ঠাকুর। হরিনাথ মজুমদার তা রেকর্ড করেন। মহর্ষি নামে পরিচিত হয়েও মানুষকে পদাঘাতে দলিত করেন। গ্রাম জ¦ালাবার কথাও আছে। আবুল আহসান চৌধুরীর কাছে এসবের ডকুমেন্ট আছে। ঠাকুর পরিবার প্রজা হিতৈষী কাজ হিসাবে স্কুল করা দিঘী কাটা এসবে নেই। বরং মুসলিম প্রজাদের শায়েস্তা করতে নমশুদ্র প্রজা পত্তন রবীন্দ্রনাথের মাথা থেকেই উদভুত। একই কথা বলে গেছেন ডঃ আহমদ শরীফও। কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার তার ‘গ্রাম্যবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকায় ঠাকুর পরিবারের প্রজাপীড়নের কথা লিখে ঠাকুর পরিবারের বিরাগ ভাজন হয়েছিলেন” (দৈনিক বাংলাবাজার, ১৪.০৪. ১৯৯৭ এবং ১.০৫. ১৯৯৭সংখ্যা)। উপরের যুক্তি থেকে পাঠকরা আঁচ করুণ সেদিন বাংলার পল্লী কবি জসিম উদ্দিন কি ব্যবহার পেয়েছিলেন প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ! সেটি ছিল ভয়ানক, সন্দেহ নেই ! “কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা তুমি এখান থেকে চলে যাও” তাকে ঠাকুর বাড়ীর আঙ্গিনা থেকে বরখাস্ত হতে বলা হয় ! যার জন্য জসিম সাহেব চলে আসলেন। পল্লী কবি জসিম উদ্দিনকে এ উন্মোচনের জন্য যেন কাঙ্গাল হরিনাথের পর্যায়ে নামিয়ে দেয়া না হয় !

স্বামী বিবেকানন্দের ঘনিষ্ট ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের মন্তব্য, “রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত সামন্ততান্ত্রিক।” তাদের বড় দেবতা হল অর্থ ও স্বার্থ। যদিও তা চেপে রাখতে সব করা হয়েছে, এসব মহর্ষি জমিদারদের উদ্দেশ্য করে হরিনাথ লিখেছেন, ধর্ম মন্দিরে ধর্মালোচনা আর বাহিরে আসিয়া মনুষ্য শরীরে পাদুকা প্রহার, এ কথা আর গোপন করতে পারি না” (অশোক চট্ট্রোপাধ্যায়: প্রাক বৃটিশ ভারতীয় সমাজ, পৃষ্ঠা ১২৭, ১৯৮৮)। সিরাজগঞ্জের প্রজা নিপীড়নের সুবাদে হরিনাথকে ঐ জমিদারের বিষ নজরে পড়তে হয়” (অশোক চট্টোপাধ্যায়, ঐ গ্রন্থ, ১২৮ পৃষ্ঠা)। কয়েক পুরুষ ধরে প্রজা পীড়নে হাত দাগায় জোড়াসাঁকোর এই ঠাকুর পরিবারটি। রবীন্দ্রনাথও তার ব্যতিক্রম নন।   ১৮৯৪ সনে রবীন্দ্রনাথ চাষীদের খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, এবং খাজনা আদায়ও করেছিলেন” (তথ্যসূত্র: শচীন্দ্রঅধিকারী, শিলাইদহ ও রবীন্দ্রনাথ পৃষ্ঠা ১৮/১১৭)।”  সব জমিদার খাজনা আদায় করতো একবার আর রবীন্দ্রনাথ এলাকার কৃষকদের থেকে খাজনা আদায় করতেন দুইবার। একবার জমির খাজনা আর দ্বিতীয় বার কালী পূজার চাঁদার নামে খাজনা (তথ্যসূত্র: ইতিহাসের নিরিখে রবীন্দ্র-নজরুল চরিত, লেখক-সরকার শাহাবুদ্দীন আহমেদ)। মানুষ সত্য জানতে পারেনি কারণ প্রকৃত তথ্য চেপে রেখে ভুল ইতিহাস গড়া হয়। এসব শক্তির ছায়াতলে সবদিন মানুষের নষ্ট হাতে রচিত ইতিহাসের ভ্রষ্টামি মাত্র। বিধাতার আদালতে এসব আসামীরা কোনভাবেই পার পাবেন বলে মনে হয় না। “কিনতু শিয়ালদহ জমিদারী এলাকায় যেখানে প্রায় সকল রায়তই মুসলমান, সেখানে গরু কোরবানী নিষিদ্ধ করা কিম্বা একতরফা খাজনা বাড়িয়ে মুসলিম প্রজাদের প্রতিরোধের মুখে তা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের শায়েস্তা করার জন্য তাদের গ্রামে (নমশুদ্র) প্রজাপত্তন নিশ্চয়ই কোনও উদার অসাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ বহন করে না” (বাংলা একাডেমীর ত্রৈমাসিক উত্তরাধিকার ১৩৯৩)। ডঃ আহমদ শরীফ সাম্প্রদায়িক হিন্দু সম্পর্কে লিখেছেন, “বাংলার হিন্দু কেবল হিন্দুর কল্যানেই করলো আত্মনিয়োগ। স্কুল, কলেজ, পত্র-পত্রিকা, সভা-সমিতি, সাহিত্য, শিল্প, ব্যবসা বানিজ্য, শাস্ত্রশোধন, সমাজ সংস্কার, দানধর্ম, চাকরি মজুরী, এমনকি সরকারের আবেদন নিবেদনও করতো কেবল হিন্দুর জন্য ও হিন্দুর স্বার্থে। কিনতু বাস্তব ক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিম যে গাঁয়ে গঞ্জে কেবল পাশাপাশি বাস করে না, অভিন্ন হাটে ঘাটে, মাঠে ঘাটে, বেচা কেনায়, লেন-দেন, সহযোগিতায় ও প্রতিদ্বন্ধিতায় যে অবিচ্ছেদ্য – এ সত্য এ সময়কার ভাব চিন্তা, কর্মে ও আচরণে অনুপস্থিত” (আহমদ শরীফ, প্রত্যয় ও প্রত্যাশা, ঢাকা ২৫শে বৈশাখ ১৩৮৬, পৃষ্ঠা ৪৪)।

দান করলে যে কবির ছেলের উপোস করতে হয়, তাই তার হতদরিদ্র কৃষকরা দু’দুবারও ঐ জমিদারকে খাজনা পরিশোধ করে জমিদারকে উপোসের হাত থেকে আজ অবদি বাঁচিয়ে রেখেছে। মানুষের উচিত ছিল কাঙ্গাল হরিনাথকে উচ্চে তুলে ধরা। কাঙ্গালকে তার মর্যাদা না দিয়ে উল্টো একজন শোষককে স্বৈরাচারকে মসনদ দেয়া হয়েছে, যার অনেক কাজেই বিতর্ক জমা আছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে একজন হিন্দু ও একজন মুসলিমের বড় কবির পক্ষে ধমকের সুরে এ জুটির এক প্রতিবাদ লেখা পড়ি। মনে হলো তারা ইতিহাস না জেনেই যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। এখানে সাহিত্যে সতিত্বহানীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামের একটি লেখাতে কিছু কথা এসেছে কিভাবে মুসলিম বিরোধ বজায় রেখেছেন কবি তার রচনাকালে বা কিভাবে বিতর্কীত জিনিস মিথ্যাচার হয়ে তার বিষয়বসতু হতে পেরেছে ! এসব উদাহরণ কিনতু বিদ্রোহী কবি নজরুল বা পল্লী কবি জসিম উদ্দিনদের চালচিত্রে এক ফোটাও নেই।

কবি জসীম উদ্দীন এর – ‘কবর’ কবিতার সর্বশ্রেষ্ঠ আবৃত্তি

মুসলিম কবি লেখকরা এসব আচরণ থেকে মুক্ত। এর প্রকৃত কারণ মহান আদর্শের মাঝে জন্ম নেয়ায় তাদের উদারতার বাণীই উচ্চকন্ঠ হয়। একবিংশ শতক অবদি ভারতের সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পের মূল নায়ক এসব মহর্ষিরা ! অসচেতন জনতার অগোচরে এদেশ জুড়ে জমিদার নামের পূর্বরোগ আবারো মাথা চাড়া দিচ্ছে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নতুন করে সাজানো হচ্ছে একদল নীরিহ অসাম্প্রদায়িক মানব কুলের বিনাশে। বিশ^প্রভু আল্লাহ তার বানী সম্বন্ধে বিশ^বাসীকে জানান দেন, যে কিতাব দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই জানে যে, নিঃসন্দেহ এটি তাদের প্রভুর কাছ থেকে আসা ধ্রুবসত্য। আর তারা যা করছে আল্লাহ সে সম্বন্ধে বেখেয়াল নন” (সুরা বাক্কারাহএর ১৪৪ আয়াত) সত্যধর্ম সূত্রে জানা যায় যে, কেউ কিছু সামান্য পরিমাণও লুকোতে পারবে না। হাত পা চোখ মুখ সবই একদিন কথা বলতে উদ্যত হবে। এত মাটিচাপার পরও এসব বের হয়ে পড়া তারই লক্ষণ মাত্র।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

ইলিয়াস কাঞ্চনের নতুন সিনেমা ‘ফাটাকেষ্ট’ আটকে দিয়েছে সেন্সরবোর্ড!

নাজমা মোস্তফা,  ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভৃন্দা ফন্টে কনভার্ট করার কারণে কিছু বানান জটিলতা পাঠককে মেনে নিতে হবে, দুঃখিত। যেমন কিনতু, প্রসতুত, ফলশরুতি ইত্যাদি।

Advertisements

বিডিআর বিদ্রোহের বাস্তবতাঃ বাংলাদেশের চোখ দিয়ে দেখলাম

BDRধৈর্য্য ধরে পড়েন, লেখাটি অনেক লম্বা, ঘটনাটি অনেক বিশাল। ঘটনার সমসাময়িক সময়েই আমি এটি লিখি, তাই ঐ নাম দিয়েছি। এটি বিডিআর বিদ্রোহ ছিল না, এটি ছিল শক্তির তলানীতে বিডিআর হত্যা করা।

নীচে মূল লেখার সাথে দুটি পেরা এড করি আজ ২০১৭ সালের ২৬ ফ্রেব্রুয়ারী তারিখে: 

আজ ২০১৪ সালে একটি ছবিতে দেখি শহীদ সেনা কর্মকর্তা সদস্যদের হাতে চেক তুলে দিচ্ছেন অনৈতিক পথে আসা প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। মনে হচ্ছিল যেন গরু মেরে জুতা দান করছেন তিনি। হতভাগা জাতিকে নিয়ে কী মরণ খেলা চলছে একমাত্র বিধাতাই এর প্রকৃত বিচার করতে সক্ষম। ছলের সরকার কিনতু সেদিন থেকে আজও তার কোন আচরণ থেকেই সরে আসে নি। জঙ্গির অপবাদকে একটি মাইল ফলক হিসাবে ধরা যেতে পারে, পাঠক লক্ষ্য করবেন জঙ্গির সূত্র ধরে খবরের ধারা বিবরণী কি ভাবে গড়ায়। মনের কষ্ট চেপে রাখতে না পেরে বিডিআর দূর্ঘটনার পর পরই কেন জানি সরকারের তদন্তের উপর ভরসা না করেই আমি বাংলাদেশের প্রতিটি পত্রিকা ঘেটে ঘেটে যা পাই তাই জড়ো করতে থাকি। সেদিন এর উপর প্রায় ২০ পৃষ্ঠার এক বিরাট লেখা জড়ো করি।

দেশটি গড়ার সময়টিতে আমরাও ছিলাম সেখানের বাসিন্দা। এমনকি এর গড়ার সবকটি প্রহর আমরা নিজেরাও শংকার মাঝে কাটিয়েছি। সেদিন কোন এক পেপারে হঠাৎ করে চোখ পড়লো পতাকাতে স্বাধীন বাংলার মানচিত্রের সংবাদটি। এটি যেন আমার মনের ইতিহাসের তলায় পড়েছিল। নাড়াচাড়াতে সেটি উপরে উঠে আসে। আজো মনে পড়ে আমার নিজের হাতে কতটি যে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরী করেছিলাম, কারণ প্রথম কার্বন কপিটি একজন দর্জি তৈরী করে দেয়। অত্যন্ত সুক্ষকরে ওটি দর্জি তার মেশিন দিয়ে তৈরী করেছিল। বাবা ছিলেন সে সময়কার আওয়ামী লীগের লিডার। আমার সূচি কাজের দক্ষতা বাবার জানা ছিল, তাই আমার উপর তার একটি আবদার এসে পড়লো যদি এর উপর ভিত্তি করে এসব অনেকগুলি বানানো যায় তবে অনেক কাজ দিবে। অনেকের হাতে সেটি তুলে দেয়া যাবে। তা ছাড়া দর্জিকেও ভাল মাপের একটি টাকা দিতে হচ্ছে এ কাজের জন্য। সে সময়ে মনে তারুণ্যেরও ঘাটতি ছিলনা। তার উপর ছিল নিজের কাজের উপর বিশ্বাস। এ রকম সেদিন আমি প্রায় ডজন খানেকতো বটেই কাপড়ের তিনরং পতাকা সবুজের জমিনে লাল সূর্য তার মাঝে সাদারং মানচিত্রের দেশ বাংলাদেশ তৈরী করেছিলাম। আজ আফসোস করি মনে মনে, একটি কপিও যদি নিজের কাছে রাখতাম। কিন্ত ওটি রাখার জন্য তো করিনি। তাই সে প্রশ্নও মনে জাগেনি। সেদিন সেটি তৈরী করেছিলাম প্রতিটি পতাকাতে দুদিকে দুইবারে এপ্লিকের কাজ করে দু’সেট মানচিত্র বসিয়েছিলাম আজ ঐ মানচিত্রে যখন দেখি ভয়ানক সব হামলা তখন স্বভাবতই মনের মাঝে দারুণ কষ্ট জমা হয়। শত কাজে তা দূরে ঠেলে দিয়েও আবার টেনে নেই। আমরা দূরে থাকা জনতারা তো কিছু জানি না। তারপরও যা জানছি তা থেকেও যদি কিছু জমা করা যায়।

মূল লেখার সাথে দুটি পেরা এড করি আজ ২০১৭ সালের ২৬ ফ্রেব্রুয়ারী তারিখে: 
আটটি বছর অনেক রক্ত ঝরিয়েছে এ জাতি। যদিও বিধাতা অবসরে নেই, সব খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে নিরবে! এমন একটি ঘটনাকে কেন কিভাবে কার স্বার্থে দাবিয়ে রাখা হচ্ছে তার নজির বহু বহু, সারা ময়দান এর দীর্ঘশ^াসে বাতাস ক্রমাগত ভারী হচ্ছে যা শুধু বিধাতা নয়, মানুষও দেখছে। উইকিলিক্সের তথ্যেও অনেক নাবলা কথা এর মাঝে বেরিয়ে এসেছে। বিক্ষুব্ধ জাতি যখন এর বিহিত চাইছিল, সেদিন থেকে আজ অবদি চলমান সরকারের অনেক বিতকীত অবস্থান দেখে সমগ্র জাতি স্তব্ধ হয়ে আছে! সরকারী তদন্তের পাশাপাশি অনেকেই এর উপর কিছু কাজ করেন। আমার কাজটিও ছিল ঠিক ওরকম একটি কাজ। কারো ব্যক্তিস্বার্থে নয়, সত্যের স্বার্থে আমি কাজটি করেছিলাম মাত্র। বেদনার ভার কমাতে আজ আট বছর পর দুটি প্যারা সংযোজন করবো মাত্র। মাত্র আজকের ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারীর খবরে প্রকাশ বিডিআরের আট বছর পূর্তিতেও বিনা অপরাধে আটকে রাখা জাতির সম্পাদককে সেমিনার করতে পুলিশ দিয়ে বাধা দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে পূর্ব অনুমতি কেন নেয়া হয়নি। শনিবার গুলশান সেন্টারে “সীমান্তে হত্যা রাষ্ট্রের দায়” এর আয়োজক ছিল জনগণতান্ত্রিক আন্দোলন নামের একটি সংগঠন। কিন্তু সেমিনার বন্ধ করে সরকার এভাবে মানুষের কন্ঠকে স্তব্ধ করে রেখেছে। সরকার প্রথম অপরাধ করছে নিজে নিরবতা পালন করে আর দ্বিতীয় অপরাধ করছে মানুষের কন্ঠ রোধ করে। দরকারেও কোথাও মিটিং মিছিল করতে দেয় না। ঘরোয়া ছোটখাটো অনুষ্ঠানেও সরকারের অনুমোদন লাগে যেখানে এভাবে শত অনাচার করেই এ সরকার পুরোপুরি অবৈধ পথে শক্ত করে গদি দখল করেই আছে। এরকম একটি সরকার কোন সময়ই সন্দেহমুক্ত হতে পারে না। কিন্তু সরকার প্রতিটি নির্দোষ গণ্যমান্য জনকে, সম্পাদকদেরে বারে বারে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করার অধিকার রাখে, এমন কি মিথ্যা মামলাতে জড়িয়ে তিনবার ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিএনপির নেত্রীকেও হুমকি ধমকি দিচ্ছে। একই সাথে বিতর্কীত আওয়ামী সরকার তার লুটপাটের ডজন মামলা দন্ডের জোরে মুছে দিয়ে অপরের মামলাতে সমানেই শান দিচ্ছে। কথার ফানুসে নিজের সীমাহীন অপকর্ম ঢাকতে ব্যস্ত। প্রতিটি কর্মকান্ডই সরকারের বিতর্কের জমা ছাড়া আর কিছু নয়। সরকার যদি নির্দোষ হতো তবে সে সতঃপ্রনোদিত হয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে এগিয়ে আসতো। খোলাসা করে প্রমান তুলে ধরে নিজের শত জটিলতাকে জনগনের কাছে স্পষ্ট করে দেখাতো। তা না করে সরকার যা করছে তাতেই প্রমাণ হয় ডাল মে কুছ কালা হায়! বাংলাদেশীরা এত বোকা নয়, বুদ্ধি প্রতিবন্দীও নয় যে এসব বুঝতে পারে না। অন্যায় দন্ডে শাসন দখলে নিয়ে বুড়ো আঙ্গুল দেখায় একমাত্র স্বৈরাচার, যার সবকটি আচরণ এ সরকারের মাঝে স্পষ্ট। দলে বলে অত্যাচারের ষ্টিম রুলার চালিয়ে মন্ত্রীরাও গদি ঠেকাতে প্রচার করছেন বিএনপি নামের দলটির কোন জনপ্রিয়তা নেই। এসবই মিথ্যাচারে ভরা রাজনৈতিক প্রতারণার অভিনব দর্শন।

২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল। এতে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন এবং তাদের ঐ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ঐ বছর ২রা মার্চ ২০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে এর প্রধান করা হয় লেফটেনেন্ট জেনারেল জাহাঙ্গির আলম চৌধূরীকে। হাসিনা সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চেয়ে সামরিক তদন্তকারীরা স্বারষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। এ কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান এসব পুলিশের কাজ এবং ঐ অজুহাতে তিনি এ দাবী প্রত্যাখ্যান করেন। সরকারী তদন্তের পাশাপাশি সামরিক তদন্তে বিক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী! এসব কর্মকান্ডে তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতও জড়িয়েছেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ২০০৯ সালের ১ লা মার্চ ঢাকা – ০০০২১৩ নাম্বারে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর বরাতে একটি তারবার্তা পাঠায় ওয়াশিংটনে। অতপর ৩০ শে আগষ্ট সেটি প্রকাশ করে উইকিলিক্স। ঘটনার দিন প্রায় ৫০০ বিক্ষুব্ধ সেনা কর্মকর্তার মুখোমুখি হন শেখ হাসিনা। নানক ও সাহারা খাতুনের পদত্যাগসহ বিক্ষোভ, চেয়ার ভাংচুরসহ প্রবল প্রতিবাদ তারা করে। পরবর্তীতে এটিও শুনেছি এ বিক্ষোভের খেসারতও তাদেরে জান মান দিয়ে দিতে হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী অক্ষত থাকেন, যাতে বিস্মিত ছিলেন তারেক আহমেদ সিদ্দিকীও। হাওয়াইয়ে অনুষ্ঠিত একটি কনফারেন্সে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে একটি নোট পড়ে শোনান। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এশিয়া প্যাসিফিক স্টোর ফর সিকিউরিটি স্টাডিজ নামের সংস্থাটি চায় বাংলাদেশ সরকার সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করতে। উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব সমর্থনও করেন। বিডিআর ঘটনাটি অনেক বিতর্কীত কর্মকান্ড সরকারও জমা করেছে এটি সারা জাতির জানা। ঘটনার শুরুতেই প্রায় সবগুলো হত্যা সংগঠিত হওয়ার প্রমান পাওয়া যায়। অনেক বিতর্ক তিনি এর মাঝে জমা করেছেন। তিনি সেনাবাহিনী না পাঠিয়ে তাদের ক্ষমা ঘোষণার দিকে কেন অতিরিক্ত মনোনিবেশ করলেন? কার পরামর্শে? উপস্থিত বিক্ষুব্ধ সেনাসদস্যের কাছে কোন সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারে নি। তারপরও সারা বিশে^র হাজার হাজার মানুষ সেটি ইউটিউবে চাক্ষুষ দেখতে পেয়েছে। কথা হচ্ছে মাত্র কয় ঘন্টার মাঝেই কেন জাতির এতগুলো মেধা ধ্বসে গেল? সবই ছিল পরিকল্পিত, মাথায় কমলা ও লাল রংএর কাপড়ের পরিচিতি বাধা, সেন্ডেল পরা, চুল না ছাটা, অগোছালো মানুষগুলো কারা ছিল? এ পরিকল্পিত হত্যাকান্ডে অনেকেই ছিল অপরিচিত, ভাষাও ছিল অপরিচিত, এরা কারা ছিল? এত অল্প সময়ে বিদ্রোহের সাথে কেন হত্যাকান্ড সংগঠিত হলো? শুধু প্রধানমন্ত্রী নিজের জানের মূল্যায়ন করবেন আর বাকী জাতি কানাকড়িতে বিকাবে এ কোন ধর্মের কথা! বাকীদের জন্য কোন বিচারও বরাদ্দ নয় কেন? সুবিচার প্রতিষ্ঠায় এত প্রতিরোধ কেন?

 

(1) মেজর (অব:) আশফাকের  গোপন তথ্য/ (2) মেজর (অব:) শাহ আলম / (3) শাকিল আহমেদের ছেলের প্রশ্ন গুলো

(উপরে নীচে ঘটনার স্পষ্টতার জন্য কিছু ভিডিও আছে, সেটি বিষয়টিকে বুঝতে সহজ ও প্রামাণ্যতা হিসাবে বাড়তি সাহায্য করবে।)

 

উপরের তিনটি ভিডিওই অসাধারণ সত্যের উন্মোচন।

তদন্ত সমন্বয়ক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ১২ মার্চ তার মন্ত্রণালয়ে প্রথম তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটনের কথা বলেন। তার বরাত দিয়ে তাকেই উদধৃত করে খবরের কাগজে ফলাও করে প্রচার হয়, পিলখানা হত্যাকান্ডের নেপথ্যে ছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ‘বেশ কয়েকজন বিডিআর সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা জেএমবির সঙ্গে জড়িত। বিস্তারিত বললে তদন্তের নিরপেক্ষতা হারাতে পারে’ (যুগান্তর, ১৯ মার্চ ২০০৯)। সরকারপক্ষীয় ঢাকা মহানগর ৫৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক সুবেদার হাজী তোরাব আলীকে বিডিআর বিদ্রোহের একজন হোতা হিসেবে শনাক্ত করে গ্রেফতার ও র‌্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে; তার পুত্র সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লেদার লিটন পলাতক, পিলখানার লুণ্ঠিত অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ তার দখলে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে (সাদেক খান, (সাংবাদিক), যুগান্তর, ১৯ মার্চ ২০০৯)। খবরে প্রকাশ তোরাব আলী হাসপাতালে কারাগার থেকে মুক্তি পান ২৭ নভেম্বর কিন্তু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে  যান এবং চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান (ইনকিলাব, ৩০ নভেম্বর ২০১৭)। অনেকেই এ মৃত্যুকেও পরিকল্পিত সন্দেহের চোখে দেখছে। 

ঢাকায় প্রেস ক্লাবে ১৪ মার্চ বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় আগত সাবেক সেনা কর্তারা আশংকা প্রকাশ করেন, পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা চলছে। তারা সমস্বরে বলেন, একটি শক্তি চাইছে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে এবং সে লক্ষ্য নিয়েই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে (সাদেক খান, যুগান্তর। ১৯ মার্চ ২০০৯)। ভারতের শাসক ও শোষক পক্ষের গণমাধ্যমগুলো শুরু থেকেই প্রচার করছে এটি জেএমবি-জামায়াত-বিএনপি চক্রের কাজ। একই সুরে বানিজ্য মন্ত্রীও জিকির করছেন। তবে জনতার মনে সেটিও প্রশ্ন উঠেছে যে বানিজ্য মন্ত্রী যদি এতই নিশ্চিত হয়ে থাকেন তবে মনে হচ্ছে আর তদন্তের দরকারই বা কি?

বিএসএফের হাতে বাংলাদেশীদের হত্যার ছকটি ছিল ২০০১এর মাঝামাঝি থেকে ২০০৬এর মাঝামাঝি সময়ের হিসাব। “৪১৩ বাংলাদেশীকে ৫ বছরে বিএসএফ মেরেছে”, মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ রিপোর্ট, ষ্টাফ রিপোর্টার, (দি ডেইলী ষ্টার)। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারী মানবাধিকার সংস্থা “অধিকার” উল্লেখ করেছে, শুধুমাত্র ২০০৭ সালে ১২ মাসেই ১২০ জন গরু ব্যবসায়ী ও আবাদী কৃষককে পাখির মত গুলি করে মেরেছে বিএসএফ। এ হিসাবে দেখা যায় মাসে কিনা ১০ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে গত বছরে। অপহরণ করা হয়েছে ৯৮ জনকে, ৩ জন বাংলাদেশী নারী বিএসএফএর হাতে ধর্ষনের শিকার হয়েছে। ১৯৮ জন বাংলাভাষী নাগরিককে পুশ-ইন করা হয়েছে। প্রতি বছর এ হত্যাকান্ডের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত সাড়ে আট বছরে ৭০৭ জন অর্থাৎ বছরে গড়ে ৮৩ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। ২০০৮ সালের এই লেখা (২৫ আগষ্ট) পর্যন্ত মোট ৭৮ জনের অকাল মৃত্যু হয়েছে তাদের হাতে। এখানেই শেষ নয়, সরকারীভাবে ভারত দাবী করছে তাদের দেশে বড় বড় অনাসৃষ্টির পেছনে বাংলাদেশের হাত রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো তারা দাবী করে, এসব কাজে নাকি সহায়তা দিয়ে আসছে পাকিস্থানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। উত্তর ভারতে উলফার স্বাধীনতা আন্দোলন, বোডোল্যান্ড আন্দোলনসহ সব চরমপস্থী আন্দোলনের কলকাঠি নাড়া হয় নাকি বাংলাদেশ থেকেই। (শামসুজ্জামান সিদ্দিকী, নয়া দিগন্ত, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০০৯)।

১৬ই মার্চ ২০০৯ তারিখে ভারতীয় পত্রিকা আউটলুক প্রণয় শর্মার প্রতিবেদন ছেপেছে — জবাব হতে পারে ভারতীয়রা যখন এতটাই জানে তাহলে পরিকল্পনা আটার সঙ্গে তাদের যোগ ছিল না এটা বলা যাবেনা। —–১৯৯৭ সাল থেকেই র‌্যামন প্রমাণ করে আসছেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে ইসলামীকরণ ঘটছে এবং আফগান ভাইরাস দ্বারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আক্রান্ত। বিস্ময়কর যে একই উক্তি তিনি পিলখানার বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। র‌্যামনের লেখার কারণে অনেকে দাবী করছেন এটি ভারতীয় প্রতিশোধের অংশ। (উপসম্পাদকীয়, নয়া দিগন্ত, ফরহাদ মাজহার, “লোককথা: এক ঢিলে দুই পাখি”, ১৭ই মার্চ ২০০৯)। এ সম্পর্কে প্রাক্তন বিডিআর প্রধান অবসরপ্রাপ্ত ফজলুর রহমানের লেখাটি পড়লে এর অনেক বাস্তবতা চোখে পড়ে। জেনারেল মাসুদ বলেন, “ওয়ান ইলেভেন নিয়ে আমারও অনেক কিছু বলার আছে। অনেক অজানা তথ্য আমি জানি। একদিন এসব বলবো। আজ দেখছি, অনেকেই সত্য মিথ্যা মিলিয়ে অনেক কথা বলছেন। এসবের জবাবও একদিন আমি দেব। এখন নয়। এখন আমি সরকারী কর্মচারী। এখন কিছু বললে নিজের অবস্থানের কথা মাথায় রেখে বলতে হবে। সব কিছু বলা সম্ভবও নয়। ওয়ান ইলেভেনের সাথে জড়িত থাকার কারণে ইতিহাসের কাছে আমি দায়বদ্ধ। সেই দায় আমাকে একদিন মেটাতেই হবে” (আমাদের সময়, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৯)।

“পিলখানা তদন্তের মাঝপথে মন্ত্রীর উপর্যুপরি বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন” (বিশেষ সংবাদদাতা, সমকাল ২১ মার্চ ২০০৯)। সূত্রমতে তদন্তে শুধু জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা নয় আরো অনেক বিষয়ই এসেছে। কিনতু বানিজ্যমন্ত্রী অন্য সব বিষয় এড়িয়ে শুধু জঙ্গিদের কথা বলায় প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত সমন্বয়ক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ১২ মার্চ তার মন্ত্রণালয়ে প্রথম তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটনের কথা বলেন। — তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, পিলখানা হত্যাকান্ড গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন জওয়ানের পরিবারের কেউ কেউ জেএমবির সঙ্গে যুক্ত ছিল এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এতে এখনই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়, ওই ঘটনায় জেএমবির হাত ছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এখন পর্যন্ত জেএমবি জড়িত থাকার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। সাদেক খান (সাংবাদিক) যুগান্তর, ১৯ মার্চ ২০০৯।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই সদিচ্ছা ব্যক্ত করেও দলীয় রাজনীতি নির্দেশের তাগিদে ইঙ্গিতাবহ কিছু কথা বলেছেন। ইসলামী মৌলবাদ দমনে তার দলীয় এজেন্ডার উল্লেখ করে বলেছেন, এ ঘটনায় কারা লাভবান, যারা নির্বাচিত সরকারের নিরংকুশ ক্ষমতার সাফল্য দেখতে চায় না তাদের মদদ আছে কিনা, সেসব খতিয়ে দেখতে হবে। বিরোধী দলনেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন পিলখানা হত্যাকান্ড নিয়ে সরকার নোংরা রাজনীতি করছে; দোষীদের আড়াল করে তদন্ত প্রক্রিয়া ভিন্নখাতে চালিত করতে সরকারি দলের অনেক নেতা, মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। — তদন্ত সমন্বয়ক মন্ত্রী আরও বলেন ‘এ ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত, যারা অস্থিতিশীল করে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অকার্যকর করতে চায়। যারা দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে।’ (যুগান্তর, ১৯ মার্চ ২০০৯, ঐ )।

বিডিআর কনফ্লিক্টএর পর একটি তথ্য পাওয়া যায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এরশাদের মন্তব্য থেকে, সেটি হচ্ছে যে এ সরকারকে সেনাবাহিনীই গদিতে বসিয়েছে। তিনি হুমকি দিয়েছেন পরে আরো বলবেন (আমার দেশ,  আজ ০৪ মার্চ ২০০৯)। “বিডিআর সদর দফতরে হত্যা” সহযোগিতার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র” (প্রথম আলো ০৪ মার্চ ২০০৯)। যদিও ব্রিটেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিওফ হুন অবশ্য একে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন।

১৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস ও আন্তর্জাতিক হেরাল্ড ট্রিবিউন পত্রিকায় যুগপৎ প্রকাশিত সোমিনি সেনগুপ্ত রচিত একটি মন্তব্য থেকে কিছু কথা। সোমিনি সেনগুপ্তের মন্তব্য ‘কেউ বলছেন, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো এবং ভারতবিরোধী বিদ্রোহীরা এ কাজ করেছে। অন্যরা বলছেন, এটা ভারত কিংবা পাকিস্থানি গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধনে হয়েছে। —। আবার কিছু লোক আছেন, যারা মনে করেন, বিগত নির্বাচনে হেরে যাওয়া রাজনীতিকরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অপর একটি গ্রুপ মনে করে, সেনাবাহিনীকে বাগে পাওয়ার লক্ষ্যে হাসিনার দলেরই কিছু লোক এটা ঘটিয়েছে (যুগান্তর, ১৯ মার্চ ২০০৯, ঐ )।

“নানক আজমদের হাতে শ্বেত পতাকা কেন? অফিসার হত্যার পর সাধারণ ক্ষমা কেন”? সূত্র আসিফ আরসালান। উপসম্পাদকীয় দৈনিক সংগ্রাম, মার্চ ০৮, ২০০৯। গত ৫ মার্চ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক বিশাল মিছিল ও সমাবেশে বলেছেন যে, বিদেশের লোকজনকে বিডিআরের পোশাক পরিয়ে এই নাটকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটানো হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা ব্যাপক অনুসন্ধান করে অনেক ঘটনার উল্লেখ করেছেন। তদন্তকারীদের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, গত ১১ জানুয়ারীর মধ্যে ২৫ জন বিদেশী কমান্ডো বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ঢাকায় তাদেরকে যারা অভ্যর্থণা জানায় এবং আশ্রয় দেয় তারা কুটনীতিকের কভারে কাজ করছে (আন্ডার কভার ডিপ্লোমেট)। একইসাথে স্থানীয় বিডিআর হতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি ছোট গ্রুপকে রিক্রুট করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন দুজন উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি)। এই ১০/১২ জনের দায়িত্ব ছিল ঐ বিদেশী কমান্ডোদের গুপ্তচর এর সমন্বয়ক হিসাবে কাজ করা। তিনজন রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে এই ছোট টিমটি কাজ করে এবং হত্যাযজ্ঞের পূর্ব পর্যন্ত যাবতীয় খবরাখবর সরবরাহ করে।

অপারেশন চালানোর দিনক্ষণ ও নির্বাচন করা হয় অনেক ভেবে চিন্তে। তাদের টার্গেট ছিল বিডিআরের সমস্ত সিনিয়র অফিসারকে একসাথে পাওয়া। এসব অফিসার বার্ষিক বিডিআর দিবস উপলক্ষে ঢাকা এসেছিলেন। এতবড় একটি অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য তিন হাজার অতিরিক্ত সৈন্য অন্যান্য জেলা থেকে ঢাকা এসেছিলেন। এছাড়াও প্রতিবছর বার্ষিক বিডিআর দিবসের প্রধান আকর্ষণ হয় টাট্টু শো। ২৬ তারিখেই এটি হওয়ার কথা ছিল। এবং প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সেই অনুষ্ঠান উপভোগ করার কথা ছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা প্রথমে অপারেশনের দিনক্ষণ ধার্য্য করে ২৪ ফ্রেব্রুয়ারী। সেদিন বিডিআর দিবসের প্যারেডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্যালুট নেয়ার কথা ছিল। কিনতু সেখানে অপারেশন করতে গেলে যে ক্যোলেটারেল ডেমেজ হবে, অর্থাৎ সামরিক অফিসারদের সাথে সাথে যেসব বেসামরিক ভিআইপি মারা যাবেন তার ধাক্কা সামাল দেয়া কিলারদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে। এসব ভিআইপির মধ্যে থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ, কুটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ এবং সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার। এসব বিবেচনায় অপারেশনের তারিখ পিছিয়ে দেয়া হয়। তবে ঐদিন অন্ততঃ তিনজন ভিআইপি ছিলেন ওই প্যারেডে, যারা ইনভাইটি হলেও ঘাতকের প্ল্যানের সাথে যুক্ত ছিলেন।

২৪ তারিখে আনুমানিক রাত ১০.৩০ মিঃ ঢাকার উপকন্ঠে একটি বাসভবনে একটি বৈঠক হয়। ঐ বৈঠকে বিদেশ থেকে আসা কিলার গ্রুপ (কমান্ডো ইউনিট), বিডিআরের ঐ ১০/১২ জন এবং দেশের ৩ জন তরুণ রাজনীতিবিদ যোগ দেন। ঐ বৈঠকের পরের দিনের অপারেশনের সময়ক্ষণ নির্ধারিত হয়। তাদেরকে ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং কখন কোন গ্রুপ কোথায় কিভাবে অপারেশন করবে সেটিও ঠিক করে দেয়া হয়। ঐ সিদ্ধান্ত মোতাবেক অন্যতম উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি), ৪নং গেটে কোন কোন সেন্ট্রি সকাল থেকে ডিউটিতে থাকবে, সেই দায়িত্ব বন্টন করে। বলা বাহুল্য, ঐসব সেন্ট্রিকেই ডিউটিতে বসানো হয় যারা তাদের খাস লোক। পূর্ব পরিকল্পনামত সকাল ৮-১০ মিনিটে বিডিআরের একটি বেডফোর্ড ট্রাকে ৪ নং গেট দিয়ে বিদেশী কমান্ডোর পিলখানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে। তাদেরকে বহন করার জন্য একঘন্টা আগে বেডফোর্ড গাড়ী পাঠানো হয়। ঐসব গাড়ীর ব্যবস্থা করেছিল ডিএডিরা। কমান্ডোর পরণে ছিল স্পোর্টস গিয়ার লম্বা ট্রাউজার, ড্রেস ও পিটিস্যু। স্পোর্টস গিয়ার পরার কারণ ছিল অপারেশন করার পর পালিয়ে যাবার সময় যেন তারা মুহূর্তের মধ্যেই পোশাক পরিবর্তন করতে পারে।

বেডফোর্ড গাড়ির পেছনে ছিল ছাই রং একটি পিকআপ ভ্যান। এই পিক আপ ভ্যানে ছিল বাহির থেকে আনা অস্ত্র ও গোলা বারুদ। অপারেশন শুরু করার জন্য একজন বাংলাভাষী কমান্ডোকে দরবার হলে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়। তার উপর দায়িত্ব ছিল যে অপ্রয়োজনে অপ্রাসঙ্গিকভাবে দরবারের সভাপতি এবং ডিজি জেনারেল শাকিলের সাথে তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হবে। উদ্দেশ্য ছিল, বেয়াদবী করা, যাতে করে ডিজি উত্তেজিত হন। পরিকল্পনা মত ডিজিকে গুলি করার পর উপস্থিত অন্যান্য অফিসার এই একমাত্র ঘাতককে জাপটে ধরেন। মুহূর্তের মধ্যেই কিলারের অ্যাকশন গ্রুপ দরবার হলে ঢুকে পড়ে এবং নির্বিচারে গুলিবর্ষন করতে থাকে। ঘাতকদের যে গ্রুপটি কাভার করছিল তারা মুহূর্তের মধ্যেই সমগ্র হলটি ঘিরে ফেলে। এরপর শুরু হয়  কিলিং মিশনের দ্বিতীয় পর্বের বাস্তবায়ন। এই পর্বে উদ্যত সঙ্গীদের  মুখে অন্যান্য ট্রুপকে ঘাতকদের সাথে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। একটি গ্রুপ অস্ত্রের মুখে মালামাল লুট করে। এরপর তারা অফিসারদের বাসভবন, তাদের পরিবারবর্গের অবস্থান এবং তাদের অতীব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দলিলপত্র কোথায় আছে তার খোঁজ খবর নেয়। এসব দলিল পত্রের মধ্যে ছিল সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সীমান্তে বিডিআর জোয়ানদের মোতায়েনের মানচিত্র। ওরা এসব দলিলপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার পাওয়া সেনা অফিসাররা বলছেন যে সকাল সাড়ে ৯টা দশটার মধ্যেই বিডিআরের ডিজি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। মহাপরিচালক কান্নাজড়িত কন্ঠে অনুরোধ করেছেন, তারা অবরুদ্ধ। অবিলম্বে র‌্যাবের বড় বাহিনী না পাঠালে তারা মারা যাবেন। কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেকের সাথে। কথা হয়েছে সামরিক গোয়েন্দা শাখার মহাপরিচালকের (ডিজিএফআই) সঙ্গে। সকলের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। বিডিআর অফিসারদের যদি বাঁচাতে হয় তাহলে অবিলম্বে সেনাবাহিনী পাঠাতে। এই কথাটি শেখ হাসিনা নিজেও স্বীকার করেছেন। সামরিক বাহিনীর একজন উচ্চ পদস্থ অফিসার বলেছেন যে, রাস্তা ক্লিয়ার করে বিডিআর ক্যাম্পে অর্থাৎ দরবার হলে পৌছতে আর্মির সাঁজোয়া বহরের সময় লাগতো সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট। ট্রুপস মুভমেন্টের পক্ষে মত দিয়েছেন জেনারেল এরশাদ. জেনারেল শওকত, জেনারেল ফজলুর রহমান, জেনারেল শফি, জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী, জেনারেল মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। অথচ সেটি করা হলো না।

আর্মি এ্যাকশনই যদি না হবে তাহলে সে এলাকার এমপি শেখ হাসিনার ভাতিজা শেখ ফজলুল হক মনির পুত্র ব্যারিষ্টার তাপস কেন বিডিআর কম্পাউন্ডের চারদিকে ৩ কিলোমিটার রেডিয়াস পর্যন্ত জনবসতি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন? মিলিটারী এ্যাকশনই যদি না হবে তাহলে কি কিলারদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্যই চারিদিক খালি করে দেয়া হলো? প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানক এবং হুইপ মির্জা আজম শ্বেত পতাকা নিয়ে পিলখানা গেটে ঢুকেছিলেন কেন? হোয়াইট ফ্ল্যাগ বা শ্বেত পতাকা ওড়ানো বা বহন করার অর্থ কি তারা জানেন? বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী গত শুক্রবার চ্যানেল ওয়ানে বলেছেন যে শ্বেত পতাকার অর্থ হলো সারেন্ডার করা বা আত্মসমর্পণ করা। অরেকটি অর্থ হলো যুদ্ধবিরতি বা সন্ধি করার ইচ্ছা প্রকাশ করা। হাসিনার সরকার যেখানে যুদ্ধই করলো না সেখানে যুদ্ধবিরতির বা সন্ধির পতাকা উড়িয়ে দিল কেন? শ্বেত পতাকা দেখানোর পর সরকারের আর কি কোন দরকষাকষির শক্তি থাকে? সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার আগে আর্মি অফিসাররা কেমন আছেন সেটি জানার চেষ্টা করেন নাই কেন? কেন প্রধানমন্ত্রী না জেনে তাদেরে ক্ষমা করলেন (সূত্র: উপসম্পাদকীয়, দৈনিক সংগ্রাম, ০৮.০৩.০৯)?  দেখুন

Pilkhana

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

 

উপরের এতগুলো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে দৈনিক সংগ্রামের উপসম্পাদকীয় কলামটিতে। ৬৫ জন সেনা অফিসারের খুন হওয়াসহ অসংখ্য পরিবারের নিগৃহীত হওয়া নারীদের সম্ভ্রম হারানো থেকে দেশের প্রতিরক্ষাতে নিয়োজিত বাহিনীটিকে এভাবে ধ্বংস হতে দেয়া কি প্রতিটি বাংলাদেশীর মনের গভীর বেদনার কারণ নয়? এসব প্রশ্ন যদি কেউ এড়িয়ে যেতে চায় এবং একে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায় তবে এর পরিণয় ভয়ানক হবে বলেই প্রতীয়মান হয়। “বিদ্রোহের সুযোগ নিতে ওপারে বঙ্গসেনারা তৎপরতা বাড়াচ্ছে”। — কয়েকদিন আগে স্বঘোষিত বঙ্গভূমির রাষ্ট্রপতি শিশির কুমার সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে তারা বঙ্গসেনাদের তৈরী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতির উপর নজর রেখেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জানা গেছে, বঙ্গসেনার সদর দপ্তর তৈরী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া থানার কুপার্স ক্যাম্প এলাকায়। এছাড়া, বঙ্গসেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে ২৪ পরগনার মসলন্দপুরে, বর্ধমানের মেমারি প্রভৃতি জায়গায়। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের ছয়টি জেলা নিয়ে বঙ্গভূমি তৈরীর কথা ঘোষনা করে এই সংগঠনটি। তবে এই বঙ্গসেনা গঠিত হয় ১৯৭৭ সালে। এর কামান্ডার হন কালিদাস বৈদ্য। আর বঙ্গভূমির রাষ্ট্রপতি হন পার্থ সামন্ত। তবে পার্থ সামন্তের পরিবর্তে শিশির কুমার সরকার কবে নতুন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন তা অবশ্য জানা যায় নি। বঙ্গসেনারা মাঝে মাঝে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছেড়ে বঙ্গভূমি উদ্ধারের নামে লংমার্চের ডাক দেয়। এবারও তারা বঙ্গভূমি দখলের অভিযানে নামার পাঁয়তারা করছে বলে জানা গেছে। বঙ্গসেনার পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক বিডিআরের বিদ্রোহকে হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা বলে দাবী করা হয়েছে (মার্চের ৮ তারিখ ২০০৯, মানবজমিন)। বেশ ক’ বছর আগে এর উপরে যায়যায়দিন অনেক তথ্য পরিবেশন করে।

“বিমানের ফ্লাইট দু’ঘন্টা বিলম্বিত, ৪ বিদ্রোহী চলে গেল বিদেশে” এ খবরটি অনেকের চোখেই পড়ে থাকবে। বিডিআর বিদ্রোহে অংশ নেয়া চার জওয়ান অপারেশন শেষ করার ৯৬ ঘন্টার মধ্যে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দিয়ে পালিয়ে যায় । তাদের পালাতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সহায়তা করেছেন বলেও সেনারা জানতে পেরেছে। ঐ সব বিদ্রোহী বিমানে উঠেছে একেবারে বোর্ডিং ব্রিজ থেকে উড়োজাহাজ ছেড়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট আগে। নিরাপদে তাদের বিমান বন্দরের সকল গেট পার করে তুলে দেয়ার পর ঐ উড়োজাহাজটি ঢাকা ছাড়ে। এ জন্য এটি দুই ঘন্টা দেরীতে ছাড়ে। ২রা মার্চ সকাল নটায় বিমানের বিজি -০৪৯ ফ্লাইটটি ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও উড্ড্য়ন করেছে ১১টা ২৫ মিনিটে। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্ণেল রেজানুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারাও বিষয়টি জানতে পেরেছেন, (মানবজমিনের ০৫ মার্চের রিাপোর্টে প্রকাশ)।

“আমাদের নেতৃবৃন্দ আর কখন অনুধাবন করবেন”, । বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ভুল-ত্রুটি ও ব্যর্থতার প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করলে তাকে না ডাকার অভিযোগ করলে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জবাব দেন “আমার ছেলের বা মেয়ের বিয়ে নয় যে, কাউকে দাওয়াত দিতে হবে”। তদুপরি বিরোধী দলের বক্তব্যের মধ্যে তিনি ইতিপূর্বে সেনা সদরে শোনা বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শুনতে পান বলে মন্তব্য করেন। লেখাটিতে শংকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এসব তর্কতর্কির ফাঁক গলে কিনতু প্রকৃত আসামী পালিয়ে যাবার সম্ভাবনাই অতিরিক্ত (ইত্তেফাক”, ০৩ মার্চ ২০০৯)। “সেনাবাহিনীর ভুমিকা না থাকলে আ’লীগ জীবনেও ক্ষমতায় আসতো না: এরশাদ” (দৈনিক আমাদের সময়, মার্চ ০৪ ২০০৯, বুধবার ফাল্গুন ২১, ১৪১৫)। বিডিআর হত্যাকান্ডে বিডিআরের গোয়েন্দা ইউনিট জড়িত! (ইত্তেফাক, ০৩ মার্চ ২০০৯)। তোরাব আলী জানিয়েছে ২৫ ফেব্রুয়ারীর আগে সেও জাকির দুইজনে মিলে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের সাথে বাইরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বৈঠকের আয়োজন করে (২৪ মার্চ ২০০৯, নয়া দিগন্ত)।

ইন্টারনেটে একটি ছবি পাই এবং সাথে একটি ম্যাসেজ। “এই ছবিটিতে তিনজন বিডিআর জওয়ান। তিনজন জওয়ানের মধ্যে মাঝের জনের চুল, বেল্ট, সেন্ডেল অন্যরকম চুল অনেক বড় করে ছাটা যা বিডিআর সপ্তাহ চলাকালে এটি অসম্ভব। এই জওয়ানের বেল্ট কোথায়? বলতে পারেন তাড়াহুড়া করে ফেলে এসেছেন। এটিও অসম্ভব। কারণ ঐ দিন সবাই ইউনিফর্ম পরা ছিল। একই যুক্তি পায়ের স্যান্ডেলের ব্যাপারেও। উল্লেখ্য সেই ছবিটিতে অস্ত্রসহ তিনজনের ছবি ছিল এবং বর্ণিত অবস্থান সঠিকই ছিল। উপস্থিত কোন লেখাতে পড়ে এটিও জেনেছি জনতারা এটিও লক্ষ্য করেছে যে সেদিন এসব বিদ্রোহীদের মাঝে ভিন্নভাষী জনতারাও ছিল। এরা কারা? আর্মিদের সাথে সেনা বিদ্রোহের পরের যে ভিডিওটি বাংলাদেশে ইউটিউব থেকে প্রচার করা হয়েছিল সেটি সে সময়ে ব্যান্ড করা হয়েছিল সেটিতে আমরা দেখতে পারি সৈন্যরা বার বার চিৎকার দিচ্ছে এবং জানতে চাচ্ছে “এরা কারা” “এরা কারা”? সে সময়ে নিউমার্কেটের সন্নিকটে মিছিলও বের করা হয়েছিল “বিডিআর জনতা ভাই ভাই”।

নীচে অনেকগুলি খবরের শুধু শিরোনাম দেয়া হচ্ছে।

*          “মন্ত্রীরা বিভিন্ন বকতৃতা দিয়ে পিলখানার ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন” (যাযাদির রিপোর্ট ১৪ মার্চ ২০০৯)।

*          “সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে বড় ধরণের রদবদল” “বাধ্যতামূলক অবসরে দুই উর্ধতন কর্মকর্তা” মনির হায়দার।

*          “বিডিআর বিদ্রোহে জড়িত সন্দেহে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার” ইত্তেফাক রিপোর্ট, ১২ মার্চ ২০০৯।

*          “বারো বিডিআর সনাক্ত” (যুগান্তর রিপোর্ট ১২ মার্চ ২০০৯)।

*          “এই সংকটের মুহূর্তেও এক হতে পারলেন না” (মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী ১৬ মার্চ ২০০৯। উপসম্পাদকীয় নয়া দিগন্ত)।

*          “অনেক আলামতই নষ্ট হয়ে গেছে” আবু সালেহ আকন (১২ মার্চ ২০০৯, নয়া দিগন্ত)।

*          তাছাড়া অনেক তথ্যে জানা যায় সরকারী আলোচকের সাথে তৌহিদের ১১০বার টেলিফোনে কথোপকথন হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারী রাতে একটি পোশাক শিল্প কারখানাতে ইউনিফর্ম পরা বিডিআর সৈনিকদের সাথে এক বৈঠকে বিদ্রোহের বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়ে (খবরে প্রকাশ ৩মার্চ ২০০৯)।

*          “নতুনভাবে বঙ্গভূমি আন্দোলন শুরু প্রবাসী সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষনা”, ২৫ মার্চ বনগাঁয়ে ৫০ হাজার বঙ্গসেনার সমাবেশ (নয়াদিগন্ত ডেস্ক)।

*          “অনেক কিছু আড়াল করতে চাইছেন তৌহিদ” আবু সালেহ আকন (নয়া দিগন্ত)।

কলকাতার আন্দবাজার ও দ্য টেলিগ্রাফ দৈনিক দুটি এ বিদ্রোহের সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা আবিষ্কার করে বসেছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারী আনন্দবাজার লিখেছে, বিদ্রোহে যাদের সামনের সারিতে দেখা গেছে তাদের বেশীরভাগই নাকি বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থক। আনন্দবাজার কিছু বিশেষ তথ্যও জানিয়েছে যেমন গতকাল সিআইডি গনকটুলি এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে বিডিআর জওয়ানদের ১০ সেট পোশাক। ধারণা করা হচ্ছে সহিংস ঘটনার জড়িতরা এগুলো ফেলে পালিয়েছে (৭ মার্চ ২০০৯, নয়াদিগন্ত)।

“মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তা এবং বিডিআর বিদ্রোহ” সাব্বির মাহমুদ । ২০০১ সালের রৌমারিতে বাংলাদেশের ভেতরে ভারতীয় আগ্রাসনের সময় বিএসএফের পোশাকে শতাধিক সেনা কমান্ডোসহ কয়েকশ ভারতীয় সেনা আক্রমণে অংশ নিলেও তৎকালীন বিডিআর প্রধান আ. স. ম. ফজলুর রহমানের সমর্থণে সেক্টর কমান্ডারের নেতৃত্বে বিডিআর জওয়ান এবং জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধে ১০০ এরও বেশী কমান্ডো বাংলাদেশের ভেতরে মারা যায়। ভারতীয় সমরবিদেরা তখন থেকেই এ পাল্টা প্রতিশোধ নিতে পায়তারা করছিল। একইসাথে সেনাকর্মকর্তা ইস্পাত কঠিন সমঝোতা ও সমন্বয়কে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে জাতির বহু ত্যাগ তিতিক্ষা ও সাধনার ২০০ বছরে গড়ে উঠা বিডিআর এবং যেকোন চরম দুরবস্থায় চ্যালেঞ্জ নিতে সক্ষম সেনাবাহিনীকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া। সে শূণ্যস্থান পূরণে শ্রীলংকার মত বাংলাদেশে শান্তিরক্ষা মিশন পাঠিয়ে দেশকে পুরোপুরি কবজা করা। ইতিমধ্যে দৈনিক টেলিগ্রাফ পত্রিকায় মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার নামে বাংলাদেশে বিডিআর বদলে ভারতীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবের খবর ২৮ তারিখের নয়া দিগন্তের মাধ্যমে পাঠক নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন। ভারত এ ঘটনাকে পুঁজি করে ২০০০ সালে বাংলাদেশে ইনস্টিটিউট অব ষ্ট্রাটেজিক ষ্টাডিজের একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভারতীয় এক প্রবন্ধে বিডিআরকে বিলুপ্ত করে আনসার বা রক্ষীবাহিনীর মতো নামমাত্র একটি বাহিনী তৈরীর পরামর্শ দিয়েছে (নয়াদিগন্ত ০৩ মার্চ ২০০৯)।

“কি সুন্দর মালা আজি পরিয়াছ গলে!”, কাজী মতিউর রহমান। প্রতিবেশী বর্ডারের নিরাপত্তা বাহিনী থেকে বিডিআর অস্তিত্ব যেখানে হুমকির সম্মুখে এবং যেখানে প্রতিবেশী বর্ডারের নিরাপত্তা বাহিনী থেকে মোবাইলে এসএমএস আসছে “সেনাবাহিনী তোমাদের সীমান্ত চৌকি নেবে” (SMS: Army will take up your B.O.P call us to help please) এবং বিডিআরকে আর্থিক সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিচ্ছেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (উপসম্পাদকীয় ০৩মার্চ ২০০৯, নয়াদিগন্ত)। ১৯৬৭সালে তৎকালীন ইপিআর এর বর্তমান (বিডিআর) অস্ত্রাগার লুন্ঠনের এক ব্যর্থ প্রচেষ্ঠার পরিকল্পনায় হাত ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা এম কে সারকারণ নারায়ের, যিনি পরবর্তিকালে “র” এর দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হয়েছিলেন। (১৯৮১ সালে প্রকাশিত আশোক রাইনার “ইনসাইড র” নামক বইয়ে প্রমাণিত তথ্য (ইফিতিখার উদ্দিন রিবা ০৩ মার্চ ২০০৯, নয়াদিগন্ত)।

প্রতিবেশী ভারতের প্রতি আমাদের অন্ধ প্রেম এমন পর্যায়ে পৌছেছে, বিএসএফ সীমান্তে আমাদের বিডিআর জওয়ানদের হত্যা করলেও অনেকে প্রতিবাদ করা দুরে থাক বরং প্রতিবাদকারীদের উপর হামলা করার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত ভূমিকা প্রকাশ করেন। (ডঃ আবু ইউসুফ “জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নে মনোযোগ দিন”, নয়াদিগন্ত ০৩ মার্চ ২০০৯, উপসম্পাদকীয়)। “নতুনকরে বঙ্গভুমি আন্দালন” মোহাম্মদ আলী (সাংবাদিক কুষ্টিয়া)। “এত ষড়যন্ত্রের মধ্যেও ভারতকে ট্রানজিট করিডোর দেয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশ সরকার, যা দেশের স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্বকে হুমকির মুখে নিয়ে যাবে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আশংকা করা হচ্ছে।” (আজ ০৩ মার্চ উপমহাদেশের বিশেষ ব্যক্তিত্ব শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর বক্তব্য)

২৬ তারিখের পর বিভিন্ন পত্র পত্রিকার খবর বের হলো, বাংলাদেশে প্রেরণের জন্য ভারতের একটি বাহিনী সীমান্তে প্রসতুত রাখা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন বিডিআর বিদ্রোহের কথা কি তারা আগে থেকেই জানতেন? কেন মাইকিং করে জনসাধারণকে তিন কিলোমিটার নিরাপদে সরে গিয়ে জায়গা করে দেয়া হলো, কেন সে সময় সবকটি গেটে পাহারা বসানো হলোনা? ১৪ সদস্যের কাছে কেন কিছুই জানতে চাওয়া হলো না যে অফিসাররা কোথায়? বিডিআর অফিসাররা ভয় পাচ্ছে এই ঠুনকো অজুহাতে আশপাশের এলাকা থেকে সৈন্য সদস্যদের সরিয়ে নেয়া হলো কেন? ১১০ মিনিটে অডিও টেপে ডিওডি তৌহিদ সরকারের একজন প্রভাবশলিী নেতার সাথে কি কথোপকথন করেছেন, তা জাতি জানতে চায়। ট্রানজিট, টিফাচুক্তি, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক টাস্কফোর্স, বিডিআর বিদ্রোহ, সীমান্তে ভারতীয় সৈন্যের সমাবেশ এসব কি একসূত্রে গাথা? (“কিছু প্রশ্নের জবাব জানা জরুরী” মনজুর হোসেইন ১০ মার্চ নয়াদিগন্ত)।

এরপর অভিনব সব খবর আসতেও দেরী হচ্ছেনা। শেখ হাসিনাকে “ডটার অব পিস” সম্মাননা দিলেন নানাক আজম (নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৩ মার্চ ২০০৯ নয়াদিগন্তে)। গতবুধবার রাতে এ দুইজনা যমুনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে “ডটার অব পিস” সম্মাননা প্রদান করেন। যদিও কোন সমাধান হয়নি কিনতু শান্তিপূর্ণ সমাধান দেয়ার কারণেই ঐ চিহ্নিত দুই ব্যক্তি এটি প্রধানমন্ত্রীকে দান করেন। খবরে প্রকাশ কাজী হাফিজ বোরহান উদ্দিন থেকে “গ্রীন ক্রিসেন্ট অস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক উদ্ধারের আগেই সংবাদ প্রচার” (আমার দেশ, ৩১ মার্চের ২০০৯)। “গ্রীন ক্রিসেন্ট এতিমখানার কার্যক্রম নিয়ে প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবতার অমিল” জনাব মৃধা ২৪শে মার্চে ঐ এতিমখানা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি উদ্ধারেরও সাক্ষী। এ সম্পর্কে তিনি জানান, উদ্ধারের পর তাকে ডেকে নিয়ে সাক্ষী করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি এ বিষয়ে সন্দেহের চোখে দেখেছেন এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক বাদল শিকদার ও  দারোয়ান মহিউদ্দিনকে (২৯ মার্চ ২০০৯, “আমার দেশ”)

“মুক্তাঙ্গনে সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সমাবেশঃ রক্ষী বাহিনীর মতো বাহিনী গড়ার উদ্দেশ্যেই বিডিআরের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে” ষ্টাফ রিপোর্টার। (৩০ মার্চ ২০০৯, “আমার দেশ”)। সম্পাদকীয় “আমার দেশ” “যে প্রশ্নের জবাব নেই” ২৮ মার্চ ২০০৯, ডঃ মাহবুব উল্লাহ। “বাংলাদেশে কিছু জঙ্গীবাদী সংগঠন আছে। আমাদের গোয়েন্দা সংগঠনগুলি তাদের হাদিস অনেকাংশেই খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে। জঙ্গীবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার করে মৃত্যুদন্ড এবং কারাদন্ডও দেয়া হয়েছে। এখন বলা যায়, বাংলাদেশে জঙ্গীবাদীরা  দেশে নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। ফারুক খানের জঙ্গীবাদ তত্ত্বের পরপরই র‌্যাবের ডিজি মাহমুদ হাসান সাংবাদিকদের জঙ্গীবাদ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শুধু একটি বাক্যে তার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে”। —পাশ্চাত্য মহল এবং আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ইসলাম ও জঙ্গীবাদকে সমার্থকরুপে তুলে ধরতে সবাইকে কুশেস চালিয়ে যাচ্ছে। —১৭ আগষ্টের সিরিজ হামলার পর বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদের ইমাম সাহেবেরা জুমার নামাজে খুতবার মাধ্যমে জঙ্গীবাদের নিন্দা করে বয়ান পেশ করেছেন। —ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, গার্মেন্টস, শিল্পখাতে ব্যর্থ করতে জঙ্গিবাদের মত অস্ত্র আর হয়না। —পিলখানা হত্যাকান্ডের জের ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশী সৈন্যদের সরিয়ে দেয়ার দাবী করে ১৫ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে চিঠি লিখেছে সুসান রাম গোপালন নামের জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা, ভারতীয় এক মহিলা। ––ইতিমধ্যে অনেক দেশ বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।। এমনকি দু একটি দেশ এফবিসিসিআইর দুই পরিচালককেও ভিসা দেয়নি। জঙ্গি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হওয়ায় দেশ ও দশের অর্থনীতি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লেখক – অধ্যাপক, ডেভেলপমেন্ট ষ্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এই জঙ্গী গীতে যোগ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ বলে পরিচিত এক ভারতীয় স্বার্থের চোঙ্গা। তিনি একেবার আঁটঘাট বেঁধে হিসাব কষে দেখিয়ে দিয়েছেন, ১৯৭০ সাল থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশে ১০ লাখ করে লোক জঙ্গী হয়েছে। ফলে গড় পড়তা হিসাবে এখন বাংলাদেশে ৩ কোটি ৮০ লাখ লোক জঙ্গী। তাহলে তো ভীষণ বিপদের কথা। এসব জঙ্গীর মধ্যেও এসব চোঙ্গা বহাল তবিয়তে আছেন সেটিও কম বড় কথা নয়। আসলে বাংলাদেশকে জঙ্গীদের দেশ বলে পরিচিত করানোর ইতর-অপচেষ্টায় এই লোকগুলো সম্ভবত মাথাই খারাপ হয়ে গেছে, (২৮ মার্চ ২০০৯, উপসম্পাদকীয়, নয়া দিগন্ত “ছেলে ভুলানো ছড়ার দেশ শেষ- চলতে ফিরতে দেখা” ডঃ রেজোয়ান সিদ্দিকী)।

“জঙ্গী তৎপরতার ধুয়ো তুলে ভারত এদেশে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে”, “ভোলায় মাদ্রাসা থেকে অস্ত্র উদ্ধার, প্রচারণা নয়, মূল হোতাদেরে বের করুণ”, সম্পাদকীয়। দ্বীপজেলা ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটি অবস্থিত। লন্ডন প্রবাসী জনৈক ফয়সল এনজিওর প্রতিনিধি হিসাবে অর্থের যোগান দিতেন ও কর্মকান্ড তদারকি করতেন। মাদ্রাসার যে শিক্ষক গ্রেফতার হোন তিনি মাত্র ১ হাজার টাকায় সেখানে চাকরি করেন। আরো যে তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন তারা নিতান্ত গোবেচারা গোছের। মাদ্রাসারাই চারপাশে গভীর পরিখা খনন করা, একটি মাত্র প্রবেশ পথ স্থাপিত আধুনিক ব্রিজটি রাতের বেলা বন্ধ থাকতো। এসব রহস্যজনক কর্মকান্ডের পরও সেখানে এতদিন মাদ্রাসাটি কিভাবে কার্যক্রম চালালো, এসব বাংলাদেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসাবে প্রমাণের হিসাবে করা হয়েছে (২৬ মার্চ ২০০৯, নয়াদিগন্ত)। অনেকেরই সন্দেহ যে এই বিতর্কীত জঙ্গিবাদ ইস্যুটি তোলা হয় মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে ঘুরিয়ে দিতে।

“জাতিসংঘ শান্তিমিশন থেকে বাংলাদেশেী সৈন্যদের বহিষ্কার দাবি। কে এই রামগোপালান?”  এনা নিউইয়র্ক। নয়াদিগন্ত। এ দাবী জানান সুসান রামগোপালান নামে জনৈক মহিলা। বানিজ্যমন্ত্রী লেঃ কর্ণেল (অব) ফারুক খানের বক্তব্যকে টেনে জঙ্গীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে দ্রুত সৈন্য বহিষ্কারের আবেদন জানিয়েছেন। ঐ চিঠির কপি ই-মেইলে ছড়িয়ে দেয়া হয়, বার্তা সংস্থা এনাও পেয়েছে এককপি, (২৬ মার্চ ২০০৯ নয়াদিগন্ত)। “বাইরের শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে বাংলাদেশে “দেশের প্রকৃত অবস্থাকে আড়াল করার বহুমুখী তৎপরতা”, (বিশেষ সংবাদদাতা, ২৫ মার্চ নয়াদিগন্ত)। শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা এবং সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সাথে দেশের স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্বকে দূর্বল করারও বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এখন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কয়েকজন মিডিয়াকর্মীকে খুঁজে পেয়েছেন যাদের গতিবিধি ও কর্মতৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেশী দেশে তাদের ঘন ঘন যাতায়াত এবং তাদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে দেশের স্বার্থবিরোধী তৎপরতার প্রমাণ মিলেছে। এফবিআইর তদন্তে আমেরিকা থেকে যারা এসেছেন সেখানেও প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ছিল। ভারতীয় বংশোদ্ভুত কর্মকর্তাদেরই এখানে পাঠানো হয়। জনতাকে পিলখানা ট্রাজেডী থেকে অন্য দিকে দৃষ্টি ফেরাতে কয়েক বছর আগের দশ ট্রাক অস্ত্র মামলাটি সামনে নিয়ে আসা হয়। দুর্নীতির দায়ে অতীতে শাস্তি দেয়া হয়েছে এমন কর্মকর্তাদেরও পদোন্নতি হয়েছে শুধু তদবিরের জোরে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, প্রতিবেশী দেশ ছাড়াও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তৎপরতা ও বেড়েছে। সিআইএ, এফবিআই, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থা, এমআই-৬ চাইনিজ ইনটেলিজেন্স, আইএসআই প্রভৃতি।

“নয়া দিগন্ত” সিরাজুর রহমান। এই ২০২১ সাল উল্লেখের মধ্যে শেখ হাসিনার চিন্তা ভাবনার সংকেত নিহিত আছে। তিনি দীর্ঘকাল, হয়তো আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চান। অন্তত বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৫০ বছর ২০২১ সাল পর্যন্ত তো বটেই। পিতার মতো একদলীয় পদ্ধতি চালু করে আজীবন প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরিকল্পনা তিনি রাখেন। সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার মতো গরিষ্ঠতা বর্তমানে সংসদে তার আছে। প্রয়োজন শুধু কিছু ওছিলা সৃষ্টির, শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রীরা দেশ শাসন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ছেড়ে একদলীয় পদ্ধতি ও আজীবন সরকার প্রধান পদ্ধতি চালু করার ওছিলা সৃষ্টির কাজে ঝাপিয়ে পড়েছেন। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশে আসল এবং একমাত্র ষড়যন্ত্র। (লেখক প্রবীণ সাংবাদিক, ও কলাম লেখক)।

সম্পাদকীয় “রাষ্ট্র নিজে মানবাধিকার লংঘন করতে পারেনা” হায়দার আকবর খান রনো তার লেখাতে বলেন, এ কেবলই তত্ত্বের কথা। বার বারই এটি ঘটেছে। যেসব বিডিআর সদস্যকে বন্দী করা হয়েছে এর মধ্যে মারা গেছে সাতজন। এর মধ্যে চারজন সদর দফতরে, একজন জামালপুর, একজন রাঙ্গামাটি ও একজন সিলেটে। হার্ট এ্যাটাকের কথা শুনলে আমার ক্লিন হার্ট অপারেশনের কথা মনে পড়ে। যা আইন বহির্ভূত হত্যা বলে অভিযোগ উঠেছিল। — স্বাধীনতা পরবর্তী এভাবে রক্ষী বাহিনীর ক্যাম্প থেকেও হারিয়ে যেত অনেক তরূণ। –গত ০৯ মার্চ বিডিআর সদর দফতরে একটি ভবনের শৌচাগারে নায়েক সুবেদার মোজাম্মেল হকের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে আত্মহত্যা কিনতু তার পরিবার বলছে, এটি হতেই পারেনা। — ১৭ মার্চ মারা যায় ৩৫ বছর বয়স্ক জওয়ান মনির হোসেন। —২২ মার্চ নায়েক মোবারক হোসেন তার মৃত্যু নিয়েও নানা প্রশ্ন। সুরতহাল রিপোর্টে পাওয়া যায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষভাবে দুই হাতের বুড়ো আঙ্গুলের নীচে রক্তের দাগ লেগেছিল। পত্রিকায় যা আসেনি কিনতু সন্দেহ উদ্রেক করে তা হল তাদেরে দৈহিক অত্যাচার করা হয়েছে। —এদের রহস্যজনক মৃত্যু সম্বন্ধে সরকার কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। — ময়নাতদন্ত হয়েছে যদিও। এসব কি সভ্য দেশের নমুনা? তত্ত্ববধায় সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “এটা মানবাধিকার লংঘন” (৩১ মার্চ ২০০৯, আমার দেশ)।

নিউইয়র্ক, “হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রশ্নঃ পিলখানায় আটক বিডিআর সদস্যরা কীভাবে মারা গেল” এটি আমার দেশেও উঠেছে (২৮ মার্চ ২০০৯)। আগরতলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদ (২৬ মার্চ ২০০৮) এক দীর্ঘ সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ত্রিপুরা – বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা হলেও ‘পাকিস্থান আমলে পূর্ব পাকিস্থানের সঙ্গে সীমান্ত ও অন্যান্য সমস্যা যেমন ছিল তেমনই শুধু রয়েছে বললে ঠিক হবেনা, বলতে হবে সমস্যা আরো বেড়েছে, আরো জট জটিল হয়েছে। (প্রথম আলো, ২৭ মে ২০০৮, লেখক সৈয়দ মকসুদ গবেষক প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক)। নীচে আরো কিছু খবরের শিরোনাম: আমার দেশ পত্রিকার সৌজন্যে প্রাপ্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি।

*          “৬শ বিডিআর জওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গী সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি তদন্তদল” (১০ মার্চ ২০০৯)।

*          “সংসদে অসত্য বলার কালচার বন্ধ হওয়া উচিত” ইলিয়াস খান (৫ মার্চ ২০০৯)।

*          সংসদ রিপোর্টার, ৫ মার্চ ২০০৯ “ডিএডি তৌহিদের গ্রেফতার ও এরশাদের বক্তব্য নিয়ে সংসদে হৈ চৈ: কোরাম সংকটে অধিবেশন মুলতবি”।

*          “আদালত বসেছে পিলখানায়: ২৪ ধরণের অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি”। ফকরুল আলম কাঞ্চন ১৬ই মার্চ ২০০৯।

*          “জনগণের আকাঙ্খা নয় বিদেশীদের ইচ্ছা পূরণ” সম্পাদকীয়, শাহ আহমদ রেজা, (০৯ জানুয়ারী, লেখক সাংবাদিক)।

*          “ভারত ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সীমানা দখল শুরু করেছে” হান্নান শাহ ষ্টাফ রিপোর্টার, (০৮ ফেব্রুয়ারী ২০০৯)।

*          “বানিজ্যমন্ত্রীর গৃহযুদ্ধ তত্ত্ব বনাম বাস্তবতা” (২০ মার্চ ২০০৯।

*          “পিলখানা হত্যাযজ্ঞঃ তদন্ত দলের সমন্বয়কারীর পদ থেকে বানিজ্যমন্ত্রীকে বাদ দেয়ার দাবি” বিএনপির ষ্টাফ রিপোর্টার (১৯ মার্চ, ২০০৯।

*          “প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক সেনা কর্মকর্তার বর্ণনাঃ হত্যা নির্যাতন ও লুন্ঠনের পর ওরা কিবোর্ড বাজিয়ে নাচানাচি করে” কাজী হাফিজ, (০১লা মার্চ ২০০৯।

*          “বিদ্রোহ দমন ২০ মিনিটের ব্যাপার ছিলঃ এরশাদ “৫০ জনের বৈঠকে কারা ছিল” ষ্টাফ রিপোর্টার, (০২ মার্চ ২০০৯)।

*          “রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রকারীরা এবারও কি পার পেয়ে যাবে?” রইস উদ্দিন (২১ মাচ ২০০৯)। সম্পাদকীয়।

*          সম্পাদকীয় “রক্তের উপর দাঁড়িয়ে কাঁদা ছুড়াছুড়ি” আবু রূশদ (১২ মার্চ ২০০৯)।

*          “সেনা অপারেশন চালালে বহু অফিসারের জীবন বাঁচতঃ” মে, জে, (অব) ফজলুর রহমান, (মার্চ ০২, ২০০৯, এম আব্দুল্লাহ)।

*          “সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকে পরিকল্পিত বললেন ১২ বিশিষ্ট ব্যক্তি” (মার্চ ১০, ২০০৯, ষ্টাফ রিপোর্টার)।

*          “হোতাদের সন্ধানে গোয়েন্দারা মাঠেঃ ডিজির রানারের মোবাইল কল লিস্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার সার্জেন্ট সেলিমসহ ৩১ জওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ, মিলছে নানান তথ্য, কিলিং মিশনের ১০ জনের তালিকা তৈরী” ফকরুল আলম কাঞ্চন, (০৩ মার্চ ২০০৯)।

*          “বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে কিছু মন্তব্য” সম্পাদকীয় হায়দার আকবর খান রনো (মার্চ ১০, ২০০৯)।

*          সম্পাদকীয় “রাজনৈতিক বিবাদে চাপা পড়ে যেতে পারে মূল বিষয়” শাহ আহমদ রেজা, (০৫ মার্চ ২০০৯)।

*          “সরকার নির্ধারিত ছকে পিলখানা ঘটনার তদন্ত করছে” দেলোয়ার ষ্টাফ রিপোর্টার, (১৬ মার্চ ২০০৯)।

*          “বাংলাদেশের জন্য শেখ হাসিনা বিপদজ্জনক ব্যক্তিঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের নথি গায়েবঃ মন্ত্রনালয়ে তোলপাড়”, এম,এ নোমান, (০৯ ফেব্র“য়ারী ২০০৯)।

*          “চুয়াডাঙ্গায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী কৃষক নিহত” (০২ মার্চ ২০০৯, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি)।

*          সম্পাদকীয় “দেখার ভেতরে বাইরে – পক্ষ বিপক্ষ” মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, (১২ মার্চ ২০০৯)।

*          সম্পাদকীয় “গণতান্ত্রিক সরকার কি শিখন্ডীদের পদাঙ্কই অনুসরণ করে যাবে?” ডঃ রেজোয়ান সিদ্দিকী, (২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৯)।

*          “বিদেশী কুটনীতিকদের নগ্ন হস্তক্ষেপ বিপন্ন স্বাধীনতাঃ জনগণের ইচ্ছায় দেশ চলছে না” গোলটেবিলে মেজর মেনারেল (অব) মইনুল, ষ্টাফ রিপোর্টার।

*          “প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খালেদা জিয়া-পিলখানার স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রাজনীতি করবেন না”, ষ্টাফ রিপোর্টার।

*          সম্পাদকীয় “দেশব্যপী জঙ্গী আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছেঃ উদ্দেশ্য কি?” (২১ মার্চ ২০০৯)।

*          সম্পদাকীয় “গুজব এবং মানুষের জানার অধিকার” শাহ আহমেদ রেজা (১২ মার্চ ২০০৯)।

*          “পিলখানা হত্যাকান্ড জঙ্গিতত্ত্ব ঃ ভারতীয় পত্র পত্রিকাঃ বানিজ্যমন্ত্রীর একইসুর” বিশেষ প্রতিনিধি (১৯ মার্চ ২০০৯)।

*          “বিডিআর বিদ্রোহের ফারুক খানের জেএমবি এবং তোরাব আলী নানক আজম সমাচার” বিশেষ প্রতিনিধি (১৬ মার্চ ২০০৯)।

এসব খবরে অনেক সত্য লুকিয়ে আছে হাজার প্রশ্নের জমার মাঝেই হাজার উত্তর খুঁজে পাবার কথা। সারা বছর পাশের দেশের বড় ভাইটি তার নিরীহ ছোট ভাইটিকে মেরে তক্তা বানিয়ে রাখে। বিএসএফএর হাতে এ দেশের জনতারা সারা বছরই পাখির মতই নিহত হয়। এসবে প্রতিবাদ করতে দেখি না কখনোই। সেটি যখন বাংলাদেশে ছিলাম তখনও দেখেছি এটি হচ্ছে কারণ কৃষকের জানের দাম অতি অল্প, পথে ঘাটে লুটায়। দেখা যাচ্ছে এ পর্যন্ত বর্তমান সরকার পক্ষের অনেক যোগসূত্রও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সে যেকোন দেশের বা যে কোন দলের লোকই হোক না কেন। তার সামনে ফাঁসির রশি ঝুলছে। ওটি আজ হোক বা কাল হোক তাকে পরতেই হবে। এ যে বিধাতার বিচার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কেউ হয়তো ভেবেছিলেন রোজ কিয়ামতের বিচার শুরু হয়েছিল তবে এর চেয়েও জীবন্ত একটি বিচার যে বরাদ্দ আছে সেটি কি আসামীদের বিশ্বাস হয়না? এটি বিশ্বাস করাতো সবার ঈমানের অংশ। আর ওটির উপর থাকলে কারো এমন সব লোভ লাভের কথা মনে হওয়ার কথা ছিলনা।

দেখা যাচ্ছে আমাদের প্রধান মন্ত্রী বলছেন গভীর ষড়যন্ত্র করছে তারা, যারা আমাদেরে ব্যর্থ করতে চায় এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীরও একই কথা। এবার কার কথা প্রকৃতই সত্যের কাছাকাছি সেটি পরখ করার সময় এসেছে। অবশ্যই দুজন দু’দিকে বন্দুক তাক করে আছেন। প্রকৃত সত্য ঘটনাতে যদি দুজন এক হতে পারতেন তবেই দেশটির কিছু ভাল হতো এবং জনতারা দেশটির সুন্দর ভবিষ্যৎ মোকাবেলা করতে পারতেন। বর্তমানের সময়ে এত তথ্যবহুল অবস্থানে সত্য বের করতে বেগ পাবার কথা নয়। ঐ খানের চারপাশেই নিশ্চয় লুকিয়ে আছে এমন হাজার রকমের তথ্য কারণ এটি ঘটেছে। এমন না যে কল্পনায় এটি সাজাতে হবে। আর যদি কেউ মনে করেন এটি কল্পনায় নতুন করে সাজানো যাবে। এত এত খবর সংগ্রহ করার পরও যদি একটি উপসংহারে পৌছা না যায় তবে শংকার কথা। তবে এতগুলো তথ্য ঐ পরিবেশ পরিস্থিতি থেকেই সংগ্রহ করা। আমি এখানে দিলাম এখানের প্রতিটি তথ্যকেই অবশ্যই মোটমাট ফলাফলের সাথে মিলে যাবার কথা। মানুষের বিবেক যদি সচেতন থাকে তবে এ অংক মেলাতে কারো বেগ পাবার কথা নয়। প্রতিটি জনতার মাথাতেই একটি সচেতন বিবেক কার্যকর। সবার সে বিবেকটি সক্রিয় হোক এবং সেই প্রকৃত সত্য খুঁজে নিক।

এক প্রধান কাগজে প্রতিবেদন দেখেছি, শুধু ঢাকা ইপিজেড ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার ভারতীয় কাজ করছে। চট্টগ্রামেও হাজার হাজার। তাদের সবাই আইনগতভাবে আসেনি। (প্রথম আলো ২৭ মে ২০০৮, লেখক সৈয়দ মকসুদ গবেষক প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক)।“দেশে অবৈধভাবে কাজ করছে দেড় লাখ বিদেশী” (ইলিয়াস খান ১৯ মার্চ ২০০৯ আমার দেশ)। তথ্যটি বিডিআর ইস্যুর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নাহলেও আতঙ্কিত একটি খবর অবশ্যই। বাংলাদেশের সাথে ভারতের রয়েছে ৪ হাজার ৯৫ কিলোমিটার ব্যাপী সীমান্ত এলাকা। এর মাঝেই বাংলাদেশের তোয়াক্কা না করে তারা বেশীরভাগ দুর্গম এলাকা বাদে সীমান্ত এলাকাই কাটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। প্রায় সময়ই বি এস এফ টহল দিতে দিতে বাংলাদেশের গ্রামের ভেতর ঢুকে পড়ে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের রিপোর্টও এরকম। গত ১৭ জুলাই ২০০৮ এ তারা সীমান্তে দেড় কিলোমিটার ভিতর চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার রঘুনাথপুর গ্রামের ভিতর ঢুকে পড়ে। গভীর রাতে বিডিআর তাদের ধরার চেষ্টা করলে বিএসএফ গুলি ছুড়ে। এতে প্রাণ হারান বিডিআর অফিসার আব্দুল হান্নান ও কৃষ্ণপদপাল। মনবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ প্রমান হিসাবে গ্রামবাসী, ও বিডিআর অফিসার, ও চিকিৎসকের নাম পরিচয় লিপিবদ্ধ করে। ভারতীয় হাইকমিশনার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রেস রিলিজ দেয়। প্রেস রিলিজে হাই কমিশনার জানান ওসব গুলি স্মাগলারদেরে করা হয়েছে, বিডিআরকে নয়। অতঃপর ধরা খেলে সামান্য দুঃখ প্রকাশই তারা যথেষ্ট মনে করে। এরকম একটি ঘটনা বাংলাদেশ ঘটালে কি যে হতো সেটি সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাদের দেশে গেলে তারা  মিডিয়াতে বলে বসে বাংলাদেশের ‘মূখ্যমন্ত্রী’। ইতিহাস সুনিপুনভাবে এমন তরো বেদনা তুলে রেখেছে তার প্রতিটি পাতাতে। বসতুত ভারত যদি ১৯৭৫ সালের প্রণীত ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত গাইড লাইন মেনে চলতো তাহলে এসব অনাহুত ঘটনা কখনোই ঘটত না (পত্রিকা থেকে সংগৃহীত তথ্য)।

এত গেল সীমান্ত যাতনা তার উপর আছে পুশইন নামের আরেক প্রাদুর্ভাব যার কোপে পড়ে কত নীরিহ জনতাকে যে মরতে হচ্ছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন শচীন কর্মকার ২৭ জুলাই এক ই-মেইলের মাধ্যমে সিআইএ পরিচালকের কাছে ভারতের পূর্ব সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশ ভূখন্ডে ইরাকের কুর্দিস্থানের মত হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টানদের জন্য পৃথক স্বায়ত্বশাসিত সংখ্যালঘু এলাকা প্রতিষ্ঠায় মার্কিন সাহায্য চেয়েছে। সংখ্যালঘু কংগ্রেস পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পাদক এই কর্মকার ‘নাইন ইলেভেন’ ঘটনার পর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেন, “আজ আমাদের সাহায্য করো, আগামীকাল আমরা তোমাদের সাহায়তা করবো”। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যেমন ইহুদীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন, বাংলাদেশেও এখন হিন্দু বৌদ্ধ ও খৃষ্টানরা ঠিক একইভাবে মুসলিম মৌলবাদীদের হাতে ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। (দৈনিক আমার দেশ, ১৯ নভেম্বর ২০০৭)।

“তোরাব আলীকে ৫৪ ধারায় মামলা থেকে অব্যাহতি” (নয়া দিগন্ত, ৩১ মার্চ ২০০৯)। “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মেঃ জেঃ শাকিলের টেলিফোন সংলাপ, কোন বক্তব্য সঠিক?” (০১ এপ্রিল ২০০৯, আমার দেশ), বিশেষ প্রতিনিধি। “পিলখানা বিদ্রোহ তদন্তে সরকারী কমিটির মেয়াদ বাড়লো, শেষ পর্যন্ত কী হতে যাচ্ছে”? সবার শেষে সম্পাদক বলছেন নগরীতে আগুন লাগলে দেবালয়ও রক্ষা পায় না। আমরা আসলেই মহা বিপদের মাঝে আছি (সম্পাদকীয়, আমার দেশ,  ০১লা এপ্রিল ২০০৯)। সম্পাদকীয় “মেজর মেহেদী তোমার সঙ্গে কথা বলব”, (০১ লা এপ্রিল ২০০৯, আমার দেশ), মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বীরপ্রতীক।

“হিযবুত তাহেরীরদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ আহত ৪০, গ্রেফতার ১০” ষ্টাফ রিপোর্টার। হিযবুত তাহেরীর প্রধান সমন্বয়কারী ও মুখপাত্র মহিউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার পিলখানা হত্যাকান্ডে ভারতীয় সংশ্লিষ্টতা এবং সম্পৃক্ততা ঢাকতে হিজবুত তাহেরীরকে দমন করতে চাইছে। লিফলেট বিতরণের সময় হিজবুল তাহরীরের ৩১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। (একটি গণতান্ত্রিক সমাজে একজন লিফলেট বিলি করার অপরাধেও গ্রেফতার হয় কিন্তু দেখা যায় সবার নাকের ডগা দিয়ে সেখানে চাঁদাবাজি খুন হামলা দেদারসে হচ্ছে ওটি তেমন বড় কোন অপরাধ নয়। তাদের ঘরে অস্ত্র পেলেও তাদের ছেড়ে দেয়া হয় (আমার দেশ, ২৮ মার্চ ২০০৯)। “মাটি খুড়ে জঙ্গী খোঁজার ঘোষনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরঃ আগে চাঁদাবাজদের ধরুন”সম্পাদকীয় কলাম (৩০ মার্চ ২০০৯, আমার দেশ)।

০২ মার্চ ২০০৯, আমার দেশ, “সেনা অপারেশন চালালে বহু অফিসারের জীবন বাঁচতো, মেজর জেনারেল (অব) ফজলুর রহমান”, এম আব্দুল্লাহ। তিনি ফজলুর রহমান হচ্ছেন প্রাক্তন বিডিআর প্রধান। পদুয়া রৌমারি ঘটনার ঐ সময়কার ঐ যুদ্ধের নায়ক তিনি, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, “পাদুয়া রৌমারিতে যারা আমাদের কাছে পরাজিত হয়েছে তারাই আমাদের মেধাবী ও চৌকষ সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে প্রতিশোধ নিয়ে থাকতে পারে। যারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চায় তারাই এ ঘটনার নেপথ্যে ছিল বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, তারা এক ঢিলে দুই পাখী শিকার করতে চেয়েছে। একদিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ধ্বংস করা, একই সঙ্গে এতগুলো সেনা অফিসার হত্যার ঘটনায় প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে সে বাহিনীকেও ক্ষতিগ্রস্থ করা। ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনার এমনটা ছিল বলে তার ধারণা। জেনারেল ফজলুর রহমান বলেন, আমাদের দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী বুঝতে পেরেছে শত্রুর বাঁশিতে নাচা যাবে না। তারা কঠিন সংযমের পরিচয় দিয়ে শত্রুর সেই নীলনকশা ভনডুল করে দিয়েছে”। প্রতিটি দিনই অজস্র জমা বাড়ছে। এমন না যে এসব কমছে, মাইনাস হচ্ছে বা কিছু, দ্রুতলয়ে বাড়ছে।

“উল্লেখ্য ভারতের গোয়েন্দা বাজেটের মূল অংশ এ ধরণের ‘মাথা ক্রয়ের’ কাজেই ব্যবহৃত হয়। আর এ গোষ্ঠী দেশপ্রেমিক নাগরিকদের কন্ঠ স্তব্ধ করার জন্য কখনো মৌলবাদী কখনো জঙ্গিবাদী কখনো মুক্তিযুদ্ধ হত্যাকারী হিসাবে দেশ বিদেশে প্রচার  চালাচ্ছে। —- ভারতীয় তেজী ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে দেশের রাজনীতিক ব্যবসায়ীদের অর্থের ভাগিদার হওয়ার জন্য এসব নিবেদিতপ্রাণ সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যবহার করেছিল এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রৌমারী হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নেয়ার উত্তম সময় হিসাবে বেছে নেয় ভারত। — একটি উদাহরণ আমার এক সাংবাদিক বন্ধু ছয় মাস আগে ভারত ভ্রমনে যাওয়ার পরে মানি এক্সচেঞ্জে ডলার ভাঙ্গাতে গেলে তার পাসপোর্ট দেখে দোকানের মালিক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে খবর দেয় এবং আমার সাংবাদিক বন্ধুকে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদানের বিনিময়ে আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের প্রস্তাবও দেয়। এবং সেই ভারতীয় গোয়েন্দা এও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিবিদ, সরকারী কর্মকর্তা ও মিডিয়াকর্মী ভারতীয়দের তথ্য পাচারের বিনিময়ে নিয়মিত আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। “মৈত্রী এক্সপ্রেসের নিরাপত্তা এবং বিডিআর বিদ্রোহ” সাব্বির মাহমুদ, (নয়াদিগন্ত, ০৩ মার্চ ২০০৯)।

“সরকার যেন কোনকিছু লুকোনোর চেষ্টা করছে” সিরাজুর রহমান। (লন্ডন, কলামিষ্ট, প্রবীন সাংবাদিক)।  —-প্রতিরক্ষা নীতি সম্পর্কে শিগগিরই সংসদে একটি বিল আসছে। তাহলে কি শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি কর্তে যাচ্ছে। পথ প্রদর্শকের ভূমিকা নিতে যাচ্ছে? সেনাবাহিনী সম্পর্কে আওয়ামীলীগের মনোভাব বরাবরই ছিল দ্বিধাপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনীকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন। —-কলকাতা ফেরত আওয়ামী কিছু নেতার চাপে স্বাধীনতার পর শেখ মুজিব সেনাবাহিনীর পাল্টা একটি রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিলেন। এ বাহিনীর অত্যাচার আর তাদের নির্যাতনে ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যুর ফলে গোটা জাতী রক্ষী বাহিনীর উপর ক্ষুব্ধ হয়। —জাসদ সে সময় গণ চীনের মত সেনাদের মধ্যে “সিপাই সিপাই ভাই ভাই, অফিসারের কল্লা চাই” এর নেতা ছিলেন কর্ণেল তাহের। মুজিব হত্যার পিছনে রক্ষী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর টানাপোড়েন ফ্যাক্টর বড় ভূমিকা পালন করে। খালেদ মোশাররফের অভিযান ব্যর্থ হয়। অপর দিকে তারা জিয়াকে মুক্ত করে ক্ষমতায় বসান। কৃষ্ণ সন্দেহঃ হঠাৎ প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে বিল উত্থাপনে সন্দেহ বিশেষ কারণে। মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে বিরাট একটি ট্রাজেডী ঘটে গেছে, সেনাবাহিনীতে। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট একমন্ত্রী, ১ প্রতিমন্ত্রী, ১ হুইপ এবং আরো তিনজন সংসদ সদস্যদের সাথে ঘাতকদের একাত্মতা, সন্দেহজনক টেলিফোন যোগাযোগ, হত্যাকান্ডের মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঘাতকদের বৈঠক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হত্যা —এসব কৃষ্ণ সন্দেহ জাতীর মনে রেখা ফেলে আছে। ( সিরাজুর রহমান কলাম, নয়া দিগন্ত ০৭ এপ্রিল ২০০৯)।

“জঙ্গি দমনে বন্ধু দেশকে ডেকে আনা বিষয়টি আত্মঘাতি হয়ে দাঁড়াবে” সম্পাদকীয় কলাম, নয়া দিগন্ত, ০৯ এপ্রিল ২০০৯। আমার দেয়া লেখাগুলো বেশীরভাগই সম্পাদকীয় বা উপসম্পাদকীয় কলামই ছিল যা সব সময়ই একটি পত্রিকার প্রধান উল্লেখযোগ্য অংশ। “পিলখানা ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন তথ্যমন্ত্রী”। ০৯ এপ্রিল নয়াদিগন্ত। “নাম পরিচয় না জেনেই খুন করা হয় অধিকাংশ সেনাকর্মকর্তাকে” (আবু সালেহ আকন ০৯ এপ্রিল ২০০৯)। র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ জওয়ান যে সব সেনাকর্মকর্তাকে মেরেছে তাদের শতকরা ৯০ জনের নাম পরিচয় জানেনা” (ঐ)। উল্লেখ্য তাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু অফিসার খুন করা, নাম পরিচয়ের ধার তারা ধারেনি। “আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বিডিআর বিদ্রোহের কথা অনেক আগে থেকেই জানতেন সরকার দলীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি। এমনকি খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপি শেখ সেলিম এবং ব্যারিষ্টার ফজলে নূর তাপস এমপিও বিষয়টি আগে থেকেই অবগত ছিলেন বলে তদন্ত সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে। ”  (১১ই এপ্রিল ২০০৯, আমার দেশ)।

“ফারুক খান সম্প্রতি বলেছেন, সকাল ১০টার মধ্যেই পিলখানার হত্যাকান্ড শেষ হয়ে যায়। র‌্যাব সূত্র আগেই জানিয়েছিল, কর্ণেল গুলজারের টেলিফোন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল ১০টার মধ্যে প্রায় ৩০০ র‌্যাব সদস্য পিলখানায় অফিসারদের জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার অভিযানের প্রসতুতি নিয়ে গেটেই পৌছেছিল। কিনতু অনুমতি না পাওয়ায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেনি। অথচ প্রধানমন্ত্রী সংসদে এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, র‌্যাব সদস্যরা ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়েছিল। সেজন্য তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছতে পারেনি। সেনাবাহিনী পৌছতে ২ ঘন্টা সময় লাগবে বলা হয়েছিল। বাস্তবে বেলা ১১ টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে টিভি চ্যানেলে সেদিন ঘটনাস্থলের আশেপাশে সেনা সদস্যদের উপস্থিতির ফুটেজ দেখানো হয়েছিল”। – (“বিদ্রোহের তিনদিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন বিডিআর জওয়ানরা: জিজ্ঞাসাবাদে ডিএফআই সেলে চাঞ্চল্যকর তথ্য”, বিশেষ প্রতিনিধি, ১৩ এপ্রিল ২০০৯, আমার দেশ)।

“সমালোচকরা বলছেন, নানাবিধ অর্থনৈতিক সমস্যা যখন চরমে এবং পিলখানার ঘটনা নিয়ে অভিযোগের আঙ্গুল যখন সরকারের দিকে, ছাত্রলীগ ও সরকারীদলীয় লোকদের চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিষয় নিয়ে সমালোচনার মুখে সরকার যখন বেসামাল তখন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যেই সরকার এখন আবিষ্কার করল খালেদা জিয়ার বাড়ী দখলের নাটক” – (উপসম্পাদকীয়, নয়াদিগন্ত, ০৯ এপ্রিল ২০০৯, “বহমান এ নষ্ট সময়ে” লেখক গোলাপ মুনীর)। “এক মাসের বেশ কদিন চলে গেল, কমিটির তৎপরতা মিডিয়ার কাছে আর আসছে না, সময় বৃদ্ধির ফন্দি ফিকির চলছে। দেখে শুনে মনে হচ্ছে, তদন্ত ঝুলিয়ে দিয়ে পিলখানা কলঙ্ক ভুলিয়ে নেয়ার আয়োজন চলছে সুকৌশলে। ঢাকার রাস্তায় ব্যানার টাঙ্গিয়ে, মিডিয়াগুলোর টকশোতে এবং পত্রিকায় দেশে বিদেশে সেমিনার সিম্পোজিয়াম করে দালাল মোসাহেবরা পিলখানার ঘটনা কথিত শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য অভিনন্দনের ছড়াছড়ি শুরু করেছে। ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী ও চাটুকারদের হাততালি ও বাকচাতুর্যের তোড়ে পিলখানার রক্ত কি মুছে দেয়া যাবে?” – (“পিলখানার ঘটনা ও সময়ক্ষেপনের ফাঁদ”, আলমগীর কবির, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাজনীতিক, নয়া দিগন্ত ১৩ এপ্রিল ২০০৯)।

সিআইডি কর্মকর্তা আব্দুল কাহহার আকন্দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আছে – উচ্চ আদালত অনেক আগে তাকে সতর্ক করেছে। এবারো তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে যাতে বিভিন্ন তদন্ত কাজে তিনি সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন। “দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চিরতরে নির্মূল করা হবে”, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি ও সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা, ২০ এপ্রিল ২০০৯, ইত্তেফাক রিপোর্ট। এমনতরো জঙ্গিবাদের হুমকি, কওমী মাদ্রাসার উপর নানান হুমকি, সন্দেহ খবরের শিরোনাম হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জঙ্গীরা হত্যার পরিকল্পনা করছে বলে বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে ভারত সরকার। ওই পরিকল্পনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য সম্প্রতি ঢাকা সফরের সময় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশঙ্কর মেনন বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে এসব প্রকাশিত হয় (২০ এপ্রিল ২০০৯, যাযাদি)। “দেশের প্রতিরক্ষাকে ধ্বংস করার ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত”, ১৯ এপ্রিল ২০০৯, সম্পাদকীয়, নয়াদিগন্ত। আমরা মনে করি বিলিয়ার্ড রিপোর্ট আমাদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পুরোপুরি একটি অপপ্রচার। —-তাদের এই ভিত্তিহীন রিপোর্ট আমাদের সেনাবাহিনী তথা প্রতিরক্ষার জন্য কত বড় হুমকি?

“চল্লিশ বিডিআরের মোবাইল ফোন আলাপের রেকর্ড সিআইডির হাতে”, ঘটনা অবসানে মধ্যস্থতাকারী আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৫ নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন, এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানক, হুইপ মীর্জা আজম, সংসদ সদস্য ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করে বেশ কয়েকজন বিডিআর সদস্যের মোবাইল ফোন নাম্বার বের করা হয়। আবার ২৭ ফেব্রুয়ারী দুপুরে যখন বিডিআর হাসপাতালের পাশে গণকবর চিহ্নিত হয় তখন সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা ডিএডি তৌহিদকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তার কাছ থেকে অন্তত ৪০/৫০ জন বিডিআর সদস্যের মোবাইল নাম্বার পায় যেসব মোবাইল ফোনের কথোপকথন ঐ রাত রেকর্ডিং করা হয়। ঐ সব বিডিআর সদস্যের মোবাইল ফোন থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের রেকর্ডিং পাওয়া গেছে। (২০ এপ্রিল ২০০৯, ইত্তেফাক)।

খুঁজে দেখার মানসিকতাতেই ঘটনার স্বচ্ছতার জন্য এ কাজটি করেছি। সে হিসাবে কোন বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক নয়, কান টানলে মাথা আসে, একটার সাথে আরেকটি জড়িত। আমি মনে করি তারপরও একজন সচেতন প্রকৃত সত্য খুঁজে নেবেন। তা যার কাছেই সত্য পাবেন তাকেই সমাদর করুন। কারণ মানুষ আশরাফুল মখলুকাত। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব, কারণটি আর কিছু নয়, তার বিবেক। প্রকৃতই সারা জীবনে আমাদের প্রকৃত পাওনা ঐ টুকুই। আমরা কে কতটুকু নিজের বিবেককে সঠিক পথে পরিচালিত করেছি এবং সে বিবেক কখনোই কোন চোর ছ্যাচড়ার পক্ষে রায় দিবে না, সেটি স্বীকার্য। যদি কেউ কোন অনাচারের প্রশ্রয় দেয় তবে সে অনাচারের দায়ও তাকে বইতে হবে। এটি সুক্ষ বিচারের নীতি। সে রায়ের দিনটিতে চুল পরিমানও অবিচার কারো প্রতি করা হবেনা।

উপরের লেখাতে যে সব পত্রিকা এতসব ঘটনার বাস্তবতা তুলে ধরেছেন তারা ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। দেশটির প্রকৃত দালালীর স্বার্থে অন্যের দালালী করা থেকে এটি অবশ্যই উত্তম কাজ। আজ প্রকৃতই বাংলাদেশের দালালের প্রচন্ড অভাব, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিদেশের দালাল।

গানে গানে হাসিনার জাহেলিয়াতি শাসনামলের অল্প কিছু ইতিহাস

অপরাধ সনাক্তকরণে এক দুইটি শক্ত যুক্তিতেই আসামী সনাক্ত করা সম্ভব, আমরা সবাই জানি চোর ধরতে হাজার হাজার যুক্তি লাগে না। আর প্রকৃত অপরাধ সঠিকভাবে ধরতে পারলেই এক নাগাড়ে এত এত যুক্তি জড়ো করা সম্ভব। কারণ তখন চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সব যুক্তিরাই প্রমান হয়ে ধরা দিবে। প্রকৃত পক্ষে এতসব বিতর্কীত প্রশ্ন ও লেখা দেখার পর যে কোন সচেতনেরই চিন্তান্বিত হওয়ার কথা। এবং এরকম অনেক লেখা অনেক সচেতন জনই এ যাবত লিখেছেন তাদের সে সব সচেতন লেখার জন্য ধন্যবাদটুকু অবশ্যই সেসব লেখকদের, সাংবাদিকদের ও তাদের পত্রিকার কর্তাদের পাওনা। এর মাঝে পাওয়া আমার বিগত লেখার পর পাওয়া আরো কিছু যুক্তি –

* খবরের শিরোনাম ছিল “শিব শঙ্কর কি চাইতে এসেছিলেন?”, যুগান্তর ১৬ এপ্রিল ২০০৯, শওকত মাহমুদ। “তার সফরের ঘোষণা ভারতই চেপে গেল কেন আর আমাদের সরকারই বা তার ঢাকায় নামার আগে বলল না কেন? আমাদের পররাষ্ট্র সচিবকে ভারতে যেতে হলে তারিখের জন্য বসে থাকতে হয়। বিদেশমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ তো আরও দুরূহ বিষয়। — বাংলাদেশের মন্ত্রীরা হালে যেসব বক্তব্য দেন, তাতে মনে হয় বাংলাদেশ জঙ্গি আকীর্ণ হয়ে গেছে। আসলে কি তাই? অথচ ভারত এজন্যই বাংলাদেশকে আসামির কাঠগড়ায় তুলছে। স্রেফ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দার জন্য আমাদের রাষ্ট্রকে পরের কাছে দুর্বল করার কোন মানে হয় না। — স্বার্থ আদায়ে ভারত যে কতখানি নির্মম হতে পারে তা তার বন্ধুদেরও জানা। — সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ’র সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সাক্ষাৎটি সাংবাদিকদের নজর এড়ায়নি। তাদের প্রশ্নের জবাবে শিবশঙ্কর বলেছেন, সেনাপ্রধান তার বন্ধু। সেজন্যই দেখাশোনা। অবশ্য এ বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমতি ছিল কিনা জানি না। তবে ১/১১-এর মূল কর্তা বর্তমান সেনাপ্রধান বই লিখে, বসুন্ধরার কর্ণধারের কাছ থেকে ক্রীড়া-অনুদান নিয়ে বেশ সমালোচিত হয়েছেন। তার কাজকর্মে কিছুটা স্বাধীনতা আছে, যদিও ১/১১-এর রাজনীতি দমন কর্মসূচির সঙ্গে জড়িতরা একে একে বিদায় নিচ্ছেন। তিনি যখন জমকালো আয়োজনে ভারত সফরে গিয়েছিলেন এবং ঘোড়া নিয়ে এসে বাংলাদেশের অশ্বশক্তি বৃদ্ধি করেছিলেন। — একদিকে সরকার ১/১১-এর নাটবল্টু খুলছে, আরেকদিকে তা লুব্রিকেটিং করছে এই দ্বিচারিতার অবসান কিভাবে, সেটি প্রধানমন্ত্রীই ভালো পারবেন।”

* “আমি মুখ খুললে ১০০ জনের ফাঁসি হবে আত্মহত্যা করলে সবাই বেচে যাবে” সুমনা -সেলিমের কথোপকথনের মোবাইল টেপ উদ্ধার, বিশেষ সংবাদদাতা, ১৭ই এপ্রিল ২০০৯, নয়া দিগন্ত। “গত ২৭ ফেব্রুয়ারী রাতে সেলিম তার স্ত্রী সুমনার সাথে মোবাইলে যে কথা বলেছে তা শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়, চাঞ্চল্যকরও বটে। সেলিম তার স্ত্রীকে বলেছিল, ‘যে কোন মুহূর্তে ধরা পড়ে যেতে পারি। তুমি ভয় পেয়ো না। আমাকে ছাড়িয়ে নেয়ার মত লোক আছে। ধরা পড়ার পর আমি যদি মুখ খুলি তবে ১০০ জনের ফাঁসি হয়ে যাবে। আর যদি আত্মহত্যা করি তাহলে সবাই বেঁচে যাবে।”

* বিডিআর জোয়ানদের আত্মহত্যা অস্বাভাবিকঃ বামমোর্চা নেতৃবৃন্দ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৭ এপ্রিল ২০০৯, নয়া দিগন্ত।

* “প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে নথি গায়েব – শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি”,। প্রধানমন্ত্রীর নিজের কার্যালয় থেকে যদি গোপন নথি হারিয়ে যায়, তাহলে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কি বেহাল অবস্থা তা সহজে অনুমান করা যায়। —- রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও গোপনীয়তা বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না (২৬ এপ্রিল ২০০৯, সম্পাদকীয়, নয়া দিগন্ত)।

* বিডিআর বিদ্রোহের তদন্তে দেরি ইনভেস্টিগেশন ইঞ্জিনিয়ারিংকে সুগম করছে: সেমিনারে বক্তারা: মানব জমিন, ২৬ শে এপ্রিল ২০০৯।

* “তালপট্টির মালিকানা দাবি নিয়ে জাতিসংঘে যাচ্ছে ভারত, বাংলাদেশ যাতে আপত্তি না জানায় তা বোঝাতে ঢাকা সফর করেন শিব শঙ্কর মেনন”, ইলিয়াস খান, আমার দেশ, ২৫ এপ্রিল ২০০৯। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমা অমীমাংসীত থাকলেও ভারত ইতিমধ্যে দক্ষিণ তালপট্টির কাছে তেল গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করেছে। — নয়াদিল্লী আগেভাগেই ঢাকাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা শুরু করেছে। — ১৯৮০ সাল থেকে সব আইন কানুন অমান্য করে জোর পূর্বক দক্ষিণ তালপট্টি দখল করে রেখেছে ভারত। –সেখানে ভারত তার পতাকা টাঙ্গিয়ে রেখেছে।

* “জেঃ শঙ্কর রায়ের রাডার, পিলখানা ও আওয়ামী লীগে জঙ্গি অনুপ্রবেশ”, অনীক ইসলাম, নয়াদিগন্ত, ২৬ এপ্রিল ২০০৯।

* “ভারতীয় প্রচারণা, জয়ের নিবন্ধ এবং ওয়ালিউরের গবেষনা একই সূত্রে গাথা”, কাজী হাফিজ, আমার দেশ।

* “জাবি ছাত্রলীগের কালো তালিকায় পাঁচ সাংবাদিক হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস”, ষ্টাফ রিপোর্টার, আমার দেশ। দেখা যায় এসব সচেতন লেখার জন্য তাদের জীবনও আজ হুমকির মুখোমুখি।

* “ওয়ান ইলেভেনে ক্ষতিগ্রস্তরাই হত্যাকান্ডে ইন্ধন যোগায়” (জামিউল আহসান সিপু, ২৮ এপ্রিল ২০০৯, ইত্তেফাক)।

* “পিলখানার নৃশংস ঘটনার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোই দায়ী”  — কিনতু এখন ক্রমশঃ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা কিছুই জানবো না। কিংবা জানলেও সেটি খন্ডিতভাবে জানবো। হয়তো ইত্তেফাকের (২৮ এপ্রিল তারিখের এই) এই তদন্ত রিপোর্টই পিলখানা হত্যাযজ্ঞের তদন্তের কবর রচনায় প্রাথমিক পদক্ষেপ। — পিলখানার হত্যাযজ্ঞের তদন্ত ও দোষীদের সনাক্ত ও ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শাস্তি কি আমরা দেখব? আমি সন্দেহ করি। আমরা সম্ভবত আরো বড় ধরণের জাতীয় বিপর্যয়ের দিকে দ্রুতবেগে ধেয়ে চলেছি (লোককথা, ফরহাদ মাজহার, নয়াদিগন্ত, ২৯এপ্রিল ২০০৯)।

*“বন্ধুত্বের ভারতীয় সঙ্গা বাংলাদেশের জন্য প্রীতিকর নয়” পাকিস্থানিদের কর্তালির বিরুদ্ধে যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল, তারা কী করে ভারতীয় কর্তালি সহ্য করবে? উভয় দেশের দাদাগিরি সমান বেদনাদায়ক। এটি একটি অত্যন্ত তথ্যবহুল লেখা (২৮ এপ্রিল ২০০৯, নয়াদিগন্ত, সিরাজুর রহমান, লেখক, কলামিষ্ট, সাংবাদিক, সাহিত্যিক)। সচেতনরা পড়তে পারেন।

* “যুগে যুগে স্বাধীনতা বিরোধী” আমার উদ্বেগের জায়গাটা হল, বাংলাদেশের জনগণ কেবল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা বিরোধীদের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করে বর্তমান সময়ের স্বাধীনতাবিরোধীদের কথা বেমালুম ভুলে থাকলে সেই বিস্মরণের সুযোগে দেশটা না আবার হাতছাড়া হয়ে যায়। এখন যে গোষ্ঠী বাংলাদেশকে খন্ডবিখন্ড করে ভারতকে করিডোর উপহার দেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে, চট্টগ্রাম বন্দর আঞ্চলিক পরাশক্তিকে উপহার দিতে চায় — বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের কল্পকাহিনী রটিয়ে বিদেশী দখলদারদের ডেকে আনতে চায় এবং আঞ্চলিক টাস্কফোর্সের নামে দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে চায়, তারা কোনদিনই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হতে পারে না (মাহমুদুর রহমান, ২৬ এপ্রিল, আমার দেশ মাহমুদুর রহমান, সম্পাদকীয় কলাম)।

উপরের এসব হালকা লেখার একটু টাচ দেয়া মাত্র, এবং বেশীর ভাগই শিরোনাম এবং মাত্র কিছুর সূত্র উল্লেখ করা মাত্র। যারা সমাজ সচেতন তারা এর থেকেও অনেক কিছু আঁচ করতে পারবেন, অনেক ধারাবাহিক ঘটনা যা ঘটছে একের পর এক, সে সব অনেক সূত্রের উল্লেখ সেসব জায়গায় আছে। মিডিয়ার কারসাজিতে সারা বিশ্ব জুড়ে অনেক অনাচার হচ্ছে এবং তাকে কৌশলে চাপা দেয়াও হচ্ছে। তাই বলে সবার চোখেই তা চাপা পড়ে থাকছে না। অনেক সচেতনরা অনেক কিছু জানছেন। কিন্তু মিডিয়া সাধারণ জনতাকে ভেড়া বানিয়ে রাখছে। দেরীতে হলেও মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে পারে। আমেরিকার ৯/১১ ঘটনার প্রকৃত ঘটনা আর মিডিয়ার ঘটনার মাঝে বিস্তর ফারাক। ওসব খবরও চুইয়ে চুইয়ে মিডিয়াতে আসে কিনতু সেটি জনতাদের ১০০% সচেতন করতে ব্যর্থ হয়। আমি সব সময়ই মূল লেখা থেকেই বেশীরভাগ শিরোনাম টাচ করছি। যারা জেগে ঘুমায় তাদের ঘুম কখনোই ভাঙ্গানো যায় না। এটি আবারও বলছি আমার এ লেখা ঐ ঘুমকাতুরে লোকের জন্য নয়, তারা গভীর ঘুমে কাল কাটাতে পারেন। তারপরও কিছু সচেতন জনারা সে ভূমিতে বিচরণ করবেন না, সে বিশ্বাস হয় না। ঐ সচেতন সম্প্রদায়ের জন্য আমার এ চেখে দেখা।

অনেকের টেলিফোন কল পাওয়া ও তাদের প্রেরক ও প্রাপক উভয়কেই পাওয়া সত্ত্বেও কেন স্বচ্ছ বিচার হলো না? আজও কেন এত প্রশ্নবোধক চিহ্ন প্রশ্ন হয়ে থাকলো? প্রথম থেকেই সরকার নানান প্রশ্নে বিদ্ধ হয়ে আছে তা উপন্থিত অজস্র শিরোনাম থেকেই পাঠকেরা আঁচ করতে পারবেন। আর একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, বিচারের আসামীরা তাদের হাতে ক্রমেই মারা যায় এটি আর একটি অপকর্ম এরা করে চলেছে। সম্প্রতি ২০১৪তে জঙ্গিনামার জিকির স্থায়ী আসন গেড়ে বসেছে। ধারণা হয় সবই হচ্ছে সরকারী মদদে এবং সেখানেও ধৃত আসামীকে ক্রসফায়ারের নামে আবারো হত্যা করা হয়েছে। জাতির আসল জঙ্গিকে চিনে নিতে হবে। সরকারের মদদে সরকারী জঙ্গিরা বারে বারেই নিজেদের জন্য স্বরাজ সৃষ্টি করে চলেছে। তাই আজ ঐ সরকারী জঙ্গিদের ধরে বিচারের সম্মুক্ষীন না করলে জাতির কোন ব্যক্তি বা সংস্থাই নিরাপদ নন।

এটি ছিল আমার সেদিনের শিরোনামের তদন্ত রিপোর্ট। বিস্তারিত লেখাগুলি সবই পত্রিকা অফিসে সংরক্ষিত থাকার কথা। উৎসাহী তদন্তকারী কেউ হয়তো তা সংগ্রহ করে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা জমা করতে পারেন। আমার পাঠকেরা সেদিন এর উপর মন্তব্য করেছিলেন ভবিষ্যতে এটি বিডিআর বিদ্রোহের মত জটিল বিষয়ের উপর একটি তদন্ত রিপোর্ট হয়েই থাকবে। ধন্যবাদ আমার সেদিনের পাঠকদেরে যারা আমার লেখা থেকে সামান্য হলেও এর গভীরতা আঁচ করতে পেরেছেন। এ তদন্তে কোন উপসংহার নেই। এর বিচারের ভার আপনাদের পাঠকের উপরই থাকলো। আপনারা লেখাগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিবেন আর আপনারাই উপসংহার টেনে নিবেন কে এটি ঘটালো কিভাবে ঘটালো।

জাতির এ চরম দুর্দিনে বেশীর ভাগ পত্রিকা মনে হয়েছে গভীর ঘুমে অচেতন। এটি কখনোই একটি স্বাধীনচেতা জাতির লক্ষণ নয়। দেশের অনেক পত্রিকাই এটি অনেক সময়ই করছে, দেখা যায় আমি আগেও উল্লেখ করেছি বাংলাদেশে যখন ছিলাম সে সময়ও এটি চোখে পড়তো। অনেক উল্লেখযোগ্য শংকার খবর যা প্রকাশ্যে সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি বলেই মনে হয়, তাও অনেক পত্রিকাকে এড়িয়ে যেতে দেখা যায়। এটি সব সময়ই সচেতনদের চোখে পড়ার কথা। কেন অনেকেই এসব অনেক তথ্যকে এড়িয়ে যাচ্ছে, সেটি অবশ্যই সচেতনকে ভাবিয়ে তুলার কথা।  কেন সে কাজটি করতে একজন পাঠককে খুঁজে দেখতে হবে? যেখানে এ দায়িত্ব ছিল প্রতিটি পত্রিকারই। বর্তমান বিশ্বের বেশীর ভাগ জনতাই মিডিয়ার কাছে জিম্মি জীবন কাটাচ্ছে। এই ভাগ্য ও দুর্ভাগ্যকে চিহ্নিত করার, সনাক্ত করার দাবিদার তার সচেতন জনতারা যারা এর প্রকৃত ভোক্তা। কিনতু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এরা যেখানে পেটের ভাত যোগাতেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, সেখানে এসব রাঘব বোয়ালদের ধরতে পারা খুব একটি সহজ কম্ম নয়, সেটি উন্নত বিশ্বেই হোক আর অনুন্নত বিশ্বেই হোক। তাই বার বার বিধাতার বিচারের পানেই চেয়ে স্বান্তনা খুঁজতে হয়। আর মনে হয় ওটিই সবচাইতে নিরপেক্ষ পাওনা যা একজন নির্যাতীত ভুক্তভোগীর জরুর পাওনা হয়ে আছে। মূল লেখাটি ২০০৯এ বিডিআর বিদ্রোহের সময়ই লেখা হয়।

নাজমা মোস্তফা,  ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ সাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ লেখাটি কয়েকটি খন্ডে আমারদেশে আসে।

 

 

 

অস্তিত্ব সংকটে বাংলাদেশ

সাংস্কৃতিক সংকট, ধর্মীয় সংকট, ভালবাসার সংকট, শিক্ষার সংকট, রাজনীতির সংকট, এখানে পাঁচটি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশে। বাকী হাজারো সংকট একপাশে রেখে এখানের পাঁচটিকে বড় অস্তিত্ব সংকট বলেই মনে হচ্ছে। একটি দেশকে যখন সত্য থেকে বিচ্যুত করা হয় তখন সকল মিথ্যা তাদেরে গ্রাস করতে গোগ্রাসে ছুটে আসে। এসব ধারাবাহিক সংকট তারই নিদর্শন। উলংগপনা, অশ্লীলতা, বেলাল্লাপনা কোনদিনও এ সমাজের সংস্কৃতি ছিল না। মঙ্গল প্রদীপ কপালের টিপকে অনেকে নিজের সংস্কৃতি করতে চাচ্ছেন, এসব একটি জাতির দেউলিয়াত্বের নিদর্শন। মুসলিম সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতাতে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি হয়। মুসলিম শাসনামলে তারা ফারসি ভাষাতে তাদের উন্নত রুচিবোধের সংস্কৃতি ও ধর্মের আলোকে সাহিত্য রচনা করেন। কিন্তু ইংরেজ তাদের কপট স্বার্থে সব উলট পালট করে দেয়। মুসলিমদেরে রিক্ত ও নিঃস করতে যা করা যায় বৃটিশরা তাই করে আর হিন্দুরা ওটিকে একটি মোক্ষম সুযোগ হিসাবে নীতিহীনতার জোয়ারে ভেসে ইংরেজকে বাড়তি সহযোগিতা দেয়। যার সহজ পরিণতিতে একই সময়ে রবীঠাকুররা নোবেল জমা করলেও নজরুলের ভাগে জমে কারাগারের শিকল। এটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা। ইংরেজ হিন্দুদের হাতে জমিদারি যেমনি তুলে দেয় ঠিক তেমনি তুলে দেয় শিক্ষাসহ চাকুরীর সব পাওনা। হিন্দুদের সামনে আশায় ভরা ভবিষ্যত আর মুসলিমদের জন্য জমে নিরাশার তিমির অন্ধকার। ঘুরিয়ে হলে বলা চলে হিন্দু বৃটিশ এক পক্ষ আর মুসলিমরাই প্রকৃত বৃটিশ বিরোধী শক্ত পক্ষ। সুলতানি আমলেই বাংলাভাষা তার সংস্কৃত দাসত্ব থেকে মুক্তি পেল। অতপর ১৮০০ খৃষ্টাব্দে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার পর একদল পন্ডিতকে বাংলাভাষার দায়িত্ব দেয়া হলে তারা প্রচলিত মুসলমানি অপবাদে সব সহজ বাংলাকে বাদ দিয়ে তাতে সংস্কৃত শব্দ বসিয়ে বিশুদ্ধ ভাষার প্রচলন করে। ওটি করেই তারা ক্ষান্ত হয় নি। সে সময় পাঠ্যক্রমকেও হিন্দুওয়ানী রুপ দেয়া হয়। বিদ্যালয় থেকে মুসলিম বাচ্চারাও যাতে হিন্দু হয়ে বের হয়, তার চেষ্ঠা করা হয়।

আপিল করলেই আবদুল হামিদের প্রেসিড়েন্ট পদ চলে যাবে ড তুহিন মালিক

এর উপর তখনকার সময়ের একটি প্রতিবাদলিপির নমুনা দিচ্ছি। “আজকাল বিদ্যালয়গুলিতে যেসব সাহিত্য ও ঐতিহাসিক গ্রন্থ পাঠ করা হচ্ছে তা হিন্দুর দেব-দেবী, মুনি-ঋষি, সাধু-সন্ন্যাসী, রাজা-মহারাজা, বীর বীরাঙ্গনা ইত্যাদির উপাখ্যান ও জীবন চরিত আদতেই পূর্ণ। হিন্দুর ধর্মকম, ব্রত-অর্চনা, আচার-ব্যবহার ইত্যাদির বর্ণনাতেই ঐ সময়ের পাঠ্যগ্রন্থ অলংকৃত। মুসলিমদের পয়গম্বর, পীর,অলি-দরবেশ, নবাব-বাদশাহ, পন্ডিত-ব্যবস্থাপক, বীর-বীরঙ্গনা, আদি ও উপাখ্যান বা জীবন বৃত্তান্ত অথবা ইসলামের নিত্য কর্তব্য, ধর্মাধর্ম, ব্রত, উপাসনা, খয়রাত, জাকাত, এসবের মাহাত্মরাজির নামগন্ধও ঐ সকল পুস্তকে নেই। বরং উল্টো মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষের ভাবই বর্ণিত হয়েছে। প্রথম বর্ণ পরিচয় থেকেই বালকগণ রামের গল্প, শ্যামের কথা, হরির কাহিনী, কৃষ্ণের চরিত্র যদু-মধু শিব ব্রহ্মা রাম সাম ইত্যাদি নামেই পাঠ আরম্ভ হয়।  কাজে কাজেই আমাদের সরলমতি কোমল প্রকৃতি শিশুগণ বিদ্যালয়ে পঠিত হিন্দুগণের উল্লেখিত বিষয়গুলির প্রতি দৃঢ়বিশশাসী হয় এবং আমাদের জাতীয় পবিত্র শাস্ত্র ও ইতিহাস উপাখ্যান ধর্মকর্মাদির বিষয় অপরিজ্ঞাত থাকে। (ছাত্রজীবনে নৈতিক শিক্ষা: মোহাম্মদ ফকির উদ্দিন সরকার, বাসনা ২য় ভাগ, ২য় সংখ্যা জৈষ্ঠ ১৩১৬। মুস্তাফা নুরউল ইসলাম: সাময়িক পত্রে জীবন ও জনমত বাংলা একাডেমী, ঢাকা ১৩৭৭ পৃষ্ঠা ৩০-৩১)”।

কি কারণে সেদিন শিক্ষা সংস্কৃতিতে আগুয়ান মুসলিম জাতি পিছিয়ে পড়েছিল তার সামান্য আলোকপাত উপরে বর্ণনাতে স্পষ্ট। যে বিদ্যা ধারণ করলে নিজের বিশশাস হারাতে হয়, সে বিদ্যা আহরণে স্বভাবতই মুসলিমের আকর্ষন কম হওয়ারই কথা। এ ব্যাপারে বেইলী মন্তব্য করেন, “সত্য কথা বলতে গেলে বলতে হয় যে, আমাদের জনশিক্ষা পদ্ধতি বিষয়ে মুসলমানদের প্রবল মানসিকবৃত্তি উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রাদেশিক ভাষায় শিক্ষা মুসলিমদের মনোপুত হয়নি এবং হিন্দু শিক্ষকও তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য হয় নাই। তাছাড়া গ্রামে যে শিক্ষা দেয়া হতো তা তাদের শ্রদ্ধার আসন পেতে বা ধর্মীয় কর্তব্য পালন করতেও সাহায্য করতো না। ঐ শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝে তাদের ধর্ম শিখার কোন সুযোগ ছিল না। যেখানে মুসলিমরা সাধারণ শিক্ষার সাথে ধর্ম শিক্ষাকে অত্যাবশ্যক বলে মনে করত। মিশনারী বাংলা স্কুলে পড়ানো হতো খৃষ্টধর্মীয় বই। কলকাতা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সংস্কৃত ও বাংলার পন্ডিতরা এমন সাহিত্য রচনা করেন যেখানে মুসলিমরা সংস্কৃত উদ্ভুত বাংলার সাথে পরিচিত ছিল না। তাছাড়া পাঠ্য পুস্তক ছিল হিন্দুধর্ম ও উপকথা সমৃদ্ধ বিশশাসে ভরপুর।

যুক্তি ও সত্যের সাথে যাদের এতদিনের বোঝাপড়া ছিল, তারা এখানে দারুণভাবে হোচট খায়। যে জাতি কাউকে তার শরিক শক্তি ভাবতে পারে না, সে কেমন করে নত মস্তকে মূর্তির স্তব গাইবে? হিন্দুরা জাতিভেদের জটিলতাতে ডুবে থাকা অন্ধকার শক্তি পূজক জাতি যেখানে মুসলিমরা ভাতৃত্ববোধ, মানবিকতা, সাম্যতা ও সহঅবস্থানে বিশশাসী জাতি। তাই পন্ডিত জওহরলাল তার Glimps of World History গ্রন্থে বলেন, নিজের উপর আস্থা এবং বিশশাস একটি বড় জিনিস। ইসলাম ধর্মের বানী হলো, তারা সবাই এক, ভাই ভাই। এতে করে লোকে গণতন্ত্রের কতকটা স্বাদ পেল। তৎকালে খৃষ্টধর্ম যেভাবে বিকৃত হয়ে পড়েছিল তাতে ঐ ভাতৃত্বের বাণীতে কেবল আরব জাতিই নহে, অন্যান্য দেশের অধিবাসীদের মনেও সাড়া জাগিয়েছিল।” কথাগুলি স্বীকার করতে নেহরু বাধ্য ছিলেন। কেউ তাকে এসব প্রচারে বাধ্য করেনি। তিনি পরোক্ষে তার সংকীর্ণ জাতিকে আলো বিলি করতেই এসব উদাহরণ টানেন।

After A long time Mahmudur Rahman (দীর্ঘদিন পর মিডিয়ার সামনে মাহমুদুর রহমান)

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

ধৈর্য হারাবেন না, কুলাঙ্গার শামীম আফজলের কথাগুলো একটু শুনুন

 

 

জেনারেল শ্লীমান মোগল যুগের শিক্ষার উচ্চ মানের প্রশংসা করে লিখেন, ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার যে রুপ ব্যাপক প্রসার হয়েছে পৃথিবীর খুব কম সম্প্রদায়ের মাঝেই সেরকম হয়েছে। যে ব্যক্তি কুড়ি টাকা মাইনের চাকুরী করে সে তার পুত্রের জন্য সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের সমান শিক্ষার ব্যবস্থা করে। যুবকগণ ব্যাকরণ তর্কশাস্ত্র যা গ্রীক ও ল্যাটিন ভাষায় শিক্ষা নেয় তা তারা আরবী ও ফার্সি ভাষাতে আয়ত্ত করে। অক্সফোর্ড হতে যুবকগণ সদ্য যে জ্ঞান নিয়ে বের হয়ে আসে মুসলিম যুবক সাত বৎসরে সে জ্ঞান আহরণ করে মাথায় শিরস্ত্রাণ পরিধান করে। সে অনর্গল সক্রেটিস, এরিষ্টটল, প্লেটো, হিপোক্রেটিস, গেলেন ও ইবনে সিনা সম্বন্ধে আলোচনা করতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমাদের কোন পদস্থ শিক্ষিত মুসলিমদের সাথে আলোচনাতে বসলে শ্রেষ্ঠ ইউরোপীয় ব্যক্তিগণও নিজেদের জ্ঞানের অপ্রতুলতা উপলব্ধি করতে পারেন। টলেমির জ্যোতির্বিদ্যা ও এরিষ্টটলের ন্যায় শাস্ত্র সম্বন্ধে প্রত্যেক মুসলমান ভদ্রলোকের জ্ঞান আছে। ইবনে সিনার মাধ্যমে হিপোক্রেটিস ও গ্যালেনের ভাবধারার সহিত তাদের পরিচয় আছে। তারা দর্শন সাহিত্য বিজ্ঞান ও কলা বিষয়ে আলাপ আলোচনা করতে পারে। উইলিয়াম হান্টার এটিও স্বীকার করেন যে সেই যুগে ভারতে প্রচলিত শিক্ষা অন্যান্য শিক্ষা পদ্ধতি হতে বহুলাংশে উৎকৃষ্টতর ছিল। কিভাবে মুসলিমদের নিষ্ক্রিয় করা হয় এসব তার উদাহরণ। এডাম তৎকালীন সরকারের নীতির সমালোচনা করেন। সরকার কর্তৃক মহসিন ফান্ডের অপব্যবহারের সমালোচনা করে হান্টার লিখেছেন, এই আত্মসাতের অভিযোগ সম্বন্ধে আলোচনা বড়ই কষ্টকর, কারণ এই অভিযোগ অগ্রাহ্য করা অসম্ভব। এসব বিষয়ে আলোচনা এসেছে ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত নাজমা মোস্তফার “পূজারী দোয়ার খোলো” বইটির ‘গোঁড়ামীর গোঁড়ার কথা’ কলামটিতে ২৫-৪১ পৃষ্ঠা।

ধারণা করছি একই পূর্ব রোগের ভাইরাস পুনরায় বর্তমান বাংলাদেশে ভর করেছে ! শোনা যাচ্ছে যারা পাঠ্য পুস্তক সংশোধনী করছেন তারা পূর্ববর্তী বৃটিশ নীতির গোলামীর আদলে জাতি ধ্বংসে শক্তির চাঁদোয়ার নীচে শক্ত দাগ রাখছেন। প্রতিটি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী যে ‘বিলাই নৃত্য’ করেন তা হাস্যকর সন্দেহ নেই। আমার পূজারী দোয়ার খোলো গ্রন্থতে প্রায় ২০ বছর আগে এসব শুরুর সময়টিতে এর উপর একটি চ্যাপ্টার ছিল “পুতুল খেলা” আমার নিজের পুতুল খেলা দিয়ে তার শুরুটা। আমি প্রস্তাব রেখেছিলাম পান্তা ইলিশের বদলে ডাল ভাত খাওয়াই যুক্তিযুক্ত। কারণ বাংলা দেশের অনেক অঞ্চলের মানুষ আমার নিজের অঞ্চলের মানুষ জীবনেও পান্তা খায় না। আমি বা আমার পরিবারের কেউই আজ অবদি জীবনেও ঐ জিনিসটি খায় নি বলেই জানি। কিন্তু ডাল ভাত খায় না এমন অঞ্চল নেই, যদি বছরের প্রথম দিনটিতে এরকম কিছু খেতেই হয় তবে এটি সবার খাবার হতে পারে। অতীত যুগে মানুষ অনেক অর্থহীন কাজ করেছে যদিও আজকের দিনে বিবেক সম্পন্ন মানুষকে কেন অর্থহীন কাজ করতে হবে? অর্থপূর্ণ কাজ করেই শেষ করা যাচ্ছে না সেখানে কেন অর্থহীন অপকাজে সময় ব্যয় করা? সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কেমন করে এত দেউলিয়া একটি দেশ হয়ে গেল?

বিয়েতে মেহদীর জায়গায় জবর দখল করে ‘গায়ে হলুদ’ নামের এক নব্য সংস্কৃতির কোলে ঢলে পড়লো গোটা জাতি ! যেখানে সারা পাড়ার ছেলে বুড়ো ঐ বরকনে ছেলেমেয়ের কপালে হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ে। সবাইকে হাত দিয়ে ছোঁয়ে কপালে ওটি দিতেই হবে। এভাবে গোটা জাতি অপকর্মের দিকে এক পা বাড়া কপাল ছোঁয়া সংস্কৃতির গোলাম বনে গেল আমাদের চোখের সামনে। হলুদ মাখাতেই হবে নাহলে সংস্কৃতি বাঁচেনা। এভাবে ‘গায়ে হলুদ’ নামে জাতির অধঃপতন শুরুর ক্ষতটি ‘গায়ে মরিচ’এর আদলে সবার দৃষ্টির অলক্ষ্যে সলতেতে আগুন দিয়ে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। ‘গায়ে হলুদ’ নামে আমার একটি লেখা আছে, এসব শুরুর সময়েই মনে পড়ে এসব কান্ডকারখানা দেখে ঐ রকম অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক আপা বলে বসেন, খাবারের ম্যানুতে মাংসটা কিসের হবে? পাঠার? মান সম্মান নিয়ে অস্তিত্ব নিয়ে দেশ বাঁচুক, মানুষ বাঁচুক মাথা উঁচু করে। আজো মনে পড়ে যখন আমার দেবরের ছেলের বিয়েতে তার শাশুড়ী খুব বেঁকে বসেন এসব চলবে না। তখন বলা হয়, বর কনে বিদেশ যাবে ওসব না হলে তারা বর্ডার পার হবে কেমনে। এয়ারপোর্টে ওরা তো বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে চাইবে। আর গায়ে হলুদ থাকলে সুবিধা, এসব ছবিতে ভিসার সব কাজ সহজ হবে। বুঝেন ঠেলা ! কেমন করে ওরা রোগের বিজ ঢুকিয়ে দিচ্ছে পুত পবিত্র অঙ্গনে ! মিথ্যে দিয়ে হলেও এভাবে সমাজ তা সামাল দেয় ! এ ঘটনাটি হবে ১৯৯৫ সালের কথা। বলা চলে ক্ষণটিতে, নাচানাচিতে বেশ পোক্ত তারা। কিনতু আগের প্রজন্ম তখনও বাগড়া দিতেন এটি তার প্রমাণ !

বৈশাখী নাচানাচি আমরা অনেক আগে এভাবে দেখি নি। বিগত সময়ে প্রথম শুরু হলো এ নর্তন কুর্দন নাচন। তাই সেদিন আমার কলামটি সাজাতে হয় ‘পুতুল খেলা’ নাম দিয়ে। বাঙ্গালী জাতি এই বুড়ো বয়সে পুতুল খেলছে আমি খেলেছিলাম আমার শিশুকালের অবুঝ বয়সে। এবার শুনছি মূলত পান্তা নাকি হিন্দুরাই খায়, তাও প্রথম বৈশাখে উপবাস করে পরদিন বাসি ভাতে পানি দিয়ে হয়তো সখ করে এক টুকরো ইলিশ জুড়ে দেয়। ছিহ ! মুসলিম ছিহ ! ধিক্কার তোমাদের এত অধঃপতন দেখে ! বছরের পয়লা দিনে এ কেমন অধঃপতন তোমাদের ! নববর্ষের নামে যেসব নষ্ট কর্ম প্রতিবছর শুনি, এর বাইরে কি কিছুই করার নেই। নববর্ষে বুদ্ধিজীবি গুরুজনেরাও নাচে শরিক হতে দেখেছি যা নিয়ে কপট জনেরা নানা উৎকট মন্তব্য করেছে। নববর্ষের ময়দানে আনা ভৌতিক জীবগুলোর মতনই যেন দেশবাসীরা বদলে গেল এই সল্পসময়ের ফাঁক গলিয়ে। মনে পড়ে সে বছর মনে হয় একদম শুরুর সময় মানে ১৯৮৫এর দিকের ঘটনা। সে বছরটিতে সারা রাত আমার সামনের বাসাতে এক জুটি আধুনিকতার নামে একটু বাড়ন্ত, এক দঙ্গল ছেলেপেলেরা বেশীরভাগই ছেলে কারণ তেমন কোন মেয়ে এসবে তখনও যোগ দেয়নি। সবাই যখন বের হয়ে যায় নাচতে নাচতে তখন পেছন থেকে গৃহকর্তী মেয়েটি চিৎকার দিতে থাকে এই স্যুপ খেলে না, স্যুপ খেলে না। যা শুনতে হয়েছে আমার বাসা থেকে, কারণ তাদের হৈ হুল্লোড়ে আমরাও এক ধারার অদ্ভুত রকমের নতুন নাড়া অনুভব করছিলাম। প্রথম দিকের বছরে ওটি ছিল স্যুপে সীমাবদ্ধ, আজ সেটি এসে পান্তাতে ঠেকেছে।

পয়লা বৈশাখে যদি হিন্দুরা উপবাসই করে পান্তা খায় তবে তাতে কেন মুসলিম জনতার ভাগ বসানো ! এ দাস মনোবৃত্তি চৌর্যবৃত্তির উদাহরণ মনে হচ্ছে।  বাংলাদেশের অনুসারীদের জন্য এসব কোন উদারনৈতিক উদাহরণ নয়। দরকার হলে ঐ দিন গরীবের জন্য কিছু করো, অর্থবোধক, জীবন স্বার্থক কিছু করো যেখানে জাতির জন্য ভালো জমা করা যায়। নবী মোহাম্মদ (সঃ) বিদায় হজের সময় প্রকাশ্যে বিশাল জনসভাতে তার শেষ ভাষন দেন। তখন কিছু মূল্যবান কথা বলেন যার প্রতিটি কথাই স্মরণ করার মত। তিনি সে সময় ও এর বাইরেও এসব ব্যতিক্রমী অসাধারণ মূল্যবান কথা বলে যান। অনুসারীদের জন্য সাবধান বানী রেখে যান। সেটি হচ্ছে খৃষ্টানদেরে দেখে তাদের নবীর অনুকরণে তাকে যেন ঈশশরের আসনে বসিয়ে দেয়া না হয়। যার ভয়ে মুসলিমরা তার একটি ছবিও সামনে আনে না। তিনি বলতেন আমি একজন সাধারণ মানুষ আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ। খৃষ্টানরা একজন নবীকে বানিয়ে ফেলে ঈশশরের পুত্র, একমাত্র জাত সন্তান। ওসব কর্ম একেশশর ধর্মধারীর কি পরিমাণ অধঃপতন ! চিন্তাশীলদের জন্য ভয়ংকর উদাহরণ ! যার জন্য নবী বার বার এ সাবধান বাণী উচ্চারণ করে যান। সেদিন ধর্ম হিসাবে এ স্পষ্ট সিলেবাস ‘কুরআন’ শুধু পশুর চামড়াতে আর খেজুরের পাতায়ই লিখা ছিল না। ওটি পোঁতা ছিল প্রায় প্রতিটি সাহাবীর অন্তরে।

শক্ত করে বলা হয় নবী গত হলেও যেন আর কোন জিনিস আমদানী করা না হয় ধর্মের নামে। তিনি বার বার সাবধান করে যান ধর্মের নামে কোন সংযোজন বিয়োজন চলবে না। আর সিলেবাস তোমাদের কাছে রইলো। বিদায় হজ্জ্বের ১০ হাজার জনতাকে তিনি উচ্চস্বরে সবাইকে সাক্ষী রেখে জানতে চান আমি কি আমার কর্তব্য পালন করতে পেরেছি? উপস্থিত জনতারা উচ্চস্বরে তাদের সম্মতি স্বীকৃতি প্রকাশ করে। সাথে সাথে তিনি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলেন, হে আল্লাহ ! তুমি সাক্ষী রইলে তারা যা বলছে। উপস্থিত ঐ জনতার উপর কিছু দায়িত্ব চাপিয়ে দেন, তা হচ্ছে যারা এখানে উপস্থিত নেই, যারা আরো পরে আসবে এই আমাদের কথাও বলে যান। তোমরা যারা এখানে উপস্থিত আছ তোমরা এ খবর পরবর্তীদের কাছে পৌছে দিবে। তারা যেন সততা ন্যায়বাদিতা ও সঠিক আল্লাহভীতির পথে চলে। বাংলাদেশের মুসলিমরা বাস্তবিকই পথ হারিয়েছে। সে সিলেবাস আজও হারিয়ে যায় নি। এত সহজে এটি হারাবার নয়। সাবধান বাণীটি হচ্ছে সীমার বাইরে ধর্মের নামে যা সংযোজিত বিয়োজিত তাকে বলা হবে বিদআত। আর যারা বিদআত করবে তারা নির্ঘাৎ জাহান্নামে যাবে। কুরআন বলে, “আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমাদের জন্য কোন অভিভাবক নেই এবং সাহায্যকারীও নেই” (সুরা আনকাবুত ২২ আয়াত)। এবার আপনারা কোথায় যেতে চান সেটি আপনারাই নির্ধারণ করুন। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন।

নাজমা মোস্তফা,   ১৬ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬।

 

ভালবাসার নাস্তিক সংকটে বাংলাদেশ

একজন নাস্তিকের প্রজন্মের উৎকট ডাকে আস্তিক জাতি ধ্বসের কারণ হতে পারে না। হুমায়ুন আজাদ বিজ্ঞান কতটুকু জানতেন জানি না। তবে ধর্ম মোটেও জানতেন না। ধারণা হয় বিজ্ঞানে ধর্মে তিনি ফেইল, তবে সাহিত্যে বিশারদ। তার দৃষ্টিতে ধর্ম ছিল সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার। ১৯৯৭ সালে আমার সে বছরের “পূজারী দোয়ার খোলো” গ্রন্থের একটি চ্যাপ্টার ছিল “টার্গেট” কারণ ঐ টার্গেট হিসাবে ব্যক্তিটি ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম যাকে হুমায়ুন আজাদ কম সহ্য করতে পারতেন। হুমায়ুন আজাদের টার্গেট ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। আমি সেখানে উল্লেখ করা তার ধর্ম জ্ঞানের গভীরতার কিছু দিক আনছি। ঐ নামের প্রথম অংশের থেকে পরবর্তী অংশের উপরই তিনি বেশী ক্ষ্যাপা কারণ পরবর্তী অংশের নাম ‘ইসলাম’। ধর্ম ছিল তার দৃষ্টিতে সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার। তার ভাষাতে উদ্ভাবনশীল মানুষের সর্ব নিকৃষ্ট কর্মের ফসল এই ধর্ম। ধর্মের মধ্যে নাকি মানুষ বেশিক্ষন বাঁচতে পারে না। ধার্মিক মানুষ অসুস্থ মানুষ। প্রকৃত ধার্মিক মানুষ প্রকৃত খারাপ মানুষ। তার মতে কোন গ্রন্থ পথ দেখাতে পারে না মানুষকে। মহাপুরুষেরা তৈরী করেছেন নিজেদের পথ, অন্যদের জন্য নয়। পৃথিবীর দীর্ঘস্থায়ী মহামারীর নাম বিশ^াস। মহাপুরুষদের নামে পুরোনো পৃথিবীর অনেক বিস্ময়ের নামে যদিও কিছু রটনা প্রচলিত কিনতু তারা তুচ্ছ যাদুর বেশী কিছু করতে পারেন নি। প্রকৃত বিস্ময়ের কাজ করেছে আধুনিক মানুষ। হুমায়ুন আজাদ কোন আধুনিক বিজ্ঞানের প্রফেসরও নন। তিনি বাংলার প্রফেসর ছিলেন। ধর্ম সম্বন্ধে তার জ্ঞান এত অল্প যে এসব নিয়ে সমালোচনা করা বাতুলতা বলেই মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ইহুদীর আছে মোসেজ, খ্রীষ্টানদের আছে জেসাস ক্রাইস্ট তার শিষ্য ও সন্তরা; এবং তুর্কিদের আছে তাদের মাহোমেট যেনো ঈশ^রের পথ সব মানুষের জন্য সমভাবে খোলা নয়। তার কথাতে কোন প্রশ্নও নেই কোন যুক্তিও নেই।  কথাটি যে কত কাঁচা তা তিনি নিজেও আঁচ করতে পারেন নাই, যদিও নিজেকে মহা পন্ডিতই মনে করেছেন।

নাস্তিক ইনুকে দাত ভাঙ্গা জবাব দিলেন মাওলানা শরীফ মোহাম্মদ 360p

প্রশ্নকর্তা যদি প্রশ্নটি না বুঝেন তবে প্রশ্ন করাই বা কেন। একবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ইহুদীরা আহলে কিতাবী নয়, খৃষ্টানেরা আহলে কিতাবী। এসব কথা বলার আগে আহলে কিতাব জিনিসটি কি সেটি জানা দরকার, নয়কি? প্রকৃত জ্ঞান আহরণ না করে অল্প বিদ্যা ভয়ংকরির আদলে অতি বিজ্ঞ হতে গিয়ে বোকা সাজার কি কোন মানে হয়?  তিনি বলছেন এরা তিন দলের তিন ধর্ম, তিন নেতা, তিন পথ। এ পথের সন্ধান যদি হুমায়ুন আজাদ পেয়ে যেতেন তবে আর বিতন্ডা ছিল না। তিনি তো পথ হারিয়েছেন মূলেই। ইহুদীরা মুসলিমদের নবী মুসা ও ইব্রাহিমের অনুসারী, খৃষ্টানেরা মুসলিমদের নবী ঈসার অনুসারী, এখানের এ তিন সবাই ইসলামের দৃষ্টিতে মূলত এক পথের পথিক। নিজেদের সংকীর্ণতার কারণে বাকী দুই দল বিভেদের সৃষ্টি করে রেখেছে। তাই তারা কখনো কুরআন পুড়ায়, গুলি করে আগুন দেয়। এ কাজটি কোন মুসলিম করতে পারে না কারণ তারা ঐ নবীদের অনুসারীও। শুনেছেন কোনদিন কোন মুসলিম বাইবেলে অগুন দিয়েছে, গুলি করেছে? তবে হুমায়ুন আজাদ এদের কোন দলেরই নন। তারা ওসব করতেই পারে। তার ছেলে যা করছে তার চেয়েও বড় নষ্টামির কিছু করলেও বলার কিছু নেই। কারণ তারা বাধ ভাঙ্গা উশৃংখলার শিক্ষা পেয়েছে। তাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। বাংলাদেশীরা হুমায়ুন আজাদের সন্তান নয়, গোলামও নয়। প্রতিটি বাংলাদেশী অভিভাবক তার সন্তানদেরে মানুষ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন আশাকরি। তবে এটি ঠিক নয় কিছু শিক্ষকরা চায় শিক্ষার আগে প্রেমটা শিখে নিক। ওটি টিচারের কাছে শিখতে হলে কুকুর বিড়ালদের জন্যও টিচার নিয়োগ করতে হবে। অভিভাবকসহ টিচারদের উচিত বাচ্চাদেরে মানুষ হওয়ার ট্রেনিং দেয়া। কারণ আমরা কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে অবস্থান করছি, ধ্বসে যাবার সম্ভাবনা অতিরিক্ত।

হুমায়ুন আজাদ নিজে প্রথা মানেন না কিনতু বিয়ে করেছেন মানুষের সমাজে বসবাস করেছেন। যা তার নীতিবিরুদ্ধ কাজ,  প্রতারণার পর্যায়ে পড়ে। তার অন্য কোন প্রথাহীন সমাজে বাস করার কথা। তার পুত্র থাকার কথা নয়। কুকুর বিড়ালরা কারো বাপও নয় কারো সন্তানও নয়। তার ওভাবেই থাকার কথা। তিনি তার প্রকাশিত গ্রন্থে বলেছেন ছেলেবেলাতে যাদু টোনা, ভুত প্রেত, আর বিধাতার ভয়ের মাঝে তিনি বড় হয়েছেন। তার মানে তিনি যেখানে জন্ম গ্রহণ করেছেন সেখানে একগাদা ভুল ও ভৌতিকতার মাঝে তার বাস ছিল। এটি ছিল তার পূর্বপুরুষের আলোহীনতার জ্ঞানহীনতার সংকট মাত্র। সুশিক্ষিত হলে তিনি  নিজে জ্ঞান অর্জন করে সেটি পুষিয়ে ঐ আলোহীনদেরেও আলোকিত করতে পারতেন। তার দাবী ধর্ম মানুষের অজ্ঞানতার আধার, সেটি হবে তার পূর্ব পুরুষের যে ভৌতিক ধর্মে তিনি বেড়ে উঠেছেন, সেটি ধারণা হয় নিঃসন্দেহ অজ্ঞানতার আধার। তার হিসাবে পঞ্চম শ্রেণীর উর্ধ্ব জ্ঞান ধর্ম দিতে পারে না। আমরা জানি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সঃ) মোটেও পঞ্চম শ্রেণীর বিদ্যে অর্জন করেন নি। তার নামের আগে একটি ডঃ ডিগ্রীও নেই। ধারণা হয় সমাজের নেতিবাচক পরিবেশে বেড়ে উঠা হুমায়ুন আজাদ সুপথের বদলে ধারণাতীত গোজামেলে জড়িয়ে যান। তার কথা হচ্ছে ধর্মে প্রচুর স্ববিরোধীতা ও ভুল। ভুল না ধরিয়ে প্রচার ভুল বলার কোন যুক্তি নেই। তিনি মনে করেন প্রত্যাদেশ অসম্ভব ও কল্পিত ব্যাপার। মানুষের বয়স দুই ধরণের, একটি শারীরিক আর একটি মানসিক। মানুষের ঐ দুই বয়সের সমন্বয় না হলে অনেক সময় অনেক কিছু মানুষ গ্রহণ করতে পারে না। সত্যকে আঁচ করতে নানান সমস্যায় সম্মুক্ষীণ হয়। উনার শারীরিক বৃদ্ধি হলেও হয়তো মানসিক বৃদ্ধির পরিমাণ অনেক অনেক কম ছিল বলেই এমন খাপছাড়া কথা বলেছেন প্রকৃত ধর্ম বিজ্ঞান ভূগোলকে এড়িয়ে গিয়েই।

ঢাকা বিশবিদ্যালয়ে দেখা গেছে বাংলা বা ইংরেজীরও কিছু শিক্ষকরা হয়তো সৃষ্টিকর্তাকে দেখতে বাধার সম্মুক্ষীন হয়েছেন যেখানে বিজ্ঞানের শিক্ষকরা ঠিকই পথ মাপতে সক্ষম হয়েছেন। এ ধারার আর একজন ছিলেন ডঃ আহমদ শরিফ (সাহিত্যের শিক্ষক)। দেখা যায় ধর্মে তাদের উভয়েরই, এখানে হুমায়ুন আজাদের গভীর জ্ঞান দূরে থাক, হালকা জ্ঞানও ছিল না। নজরুল ইসলামকে তার সহ্য করতে না পারার কারণ হচ্ছে তার ইসলামী গান রচনা করা। শ্যামা সঙ্গিতের জন্য তিনি উৎকন্ঠিত নন। ইসলামী গান যে লিখবে তার মর্যাদা দিতে তিনি নারাজ। ধর্মের বিপক্ষে বলছেন আবার পরোক্ষে বাইবেলের প্রশংসাও আছে। তবে কোন সময়ই কুরআন বা ইসলাম স্বীকৃত নয়। একই অবস্থা ডঃ আহমদ শরিফেরও। তার জন্য আমার ঐ একই গ্রন্থে একটি চ্যাপ্টার ছিল ‘বিভ্রান্তি’ নামে। তিনি সুরা ফিলকে প্রকৃত সূত্র সন্ধানে না গিয়েই হাস্যকর ব্যঙ্গাত্মক কথা বলেন। আবার ফেরাউনকে নিয়ে মশকরা করেন। জোয়ার ভাটা নিয়ে রঙ্গরসনা করেন। ফেরাউনের ডুবে মরা নিয়ে রসরঙ্গ করেন। এর জবাবে আমার পূজারী দোয়ার খোলো গ্রন্থে ৪২ – ৫৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়, সাথে একটি ফেরাউনের লাশের ছবি ও কুরআনের ভাষ্যসহ। উল্লেখ্য ওখানে ডক্টর মরিচ বুকাইলির সূত্রে পাওয়া যুক্তি আনি। মিসর রাজ দ্বিতীয় রামেসিসের সন্তান মারনে পাত্তাহ-ই ছিলেন সেই চিহ্নিত ফেরাউন, যিনি মুসার নেতৃত্বে ইহুদীদের মিসর ত্যাগের ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন এবং মারা পড়েছিলেন সমুদ্রে ডুবে। মিঃ লরেট ১৮৯৮ খৃষ্টাব্দে থেবেসের রাজকীয় উপত্যকা থেকে মমিটি কায়রো নিয়ে আসেন। ১৯০৭ সালে এই মমিটির আবার উন্মোচন হয়। তার রয়্যাল মামিজ পুস্তকে (১৯৯২ সালে) মমিটির দেহ পরীক্ষার বিস্তারিত আলোচনা আসে। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে মমিটিকে পরীক্ষা করে দেখার জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। ডক্টর এল মেলিগাই ও ডক্টর রামসিয়ীস এর দ্বারা মমিটির উপরে চমৎকারভাবে রেডিওগ্রাফিক স্টাডি পরিচালিত হয়। ডক্টর মুস্তাফা মানিয়ালাভী মমিটির বুকের একটি ফাঁকা জায়গা দিয়ে বুঁকের ভিতরটাও পরীক্ষা করে দেখেন। কোন মমির অভ্যন্তরে এ ধারণের পরীক্ষা এটাই প্রথম।

এতে যা জানা যায় তাতে হুমায়ুন আজাদ ও আহমদ শরিফদের হতাশা নির্ঘাৎ বাড়াবে! এটি প্রতিয়মান হয় যে এটি সাগরে ডুবে মরা একটি লাশ। এতে যে ক্ষত ধরা পড়ে তা সংরক্ষণ জরুরী, এটি অবনতির দিকে যাচ্ছে। । এটি এমন একটি লাশ যার গুরুত্ব শুধু ঐতিহাসিক নয়, নবী মুসার জীবনের সাথে যুক্ত। লেখক অনুরোধ করেন কেউ মিশর গেলে যেন মমিটি দেখে আসেন। সেটি সেখানের মিসরীয় যাদুঘরের ‘রয়েল মামিজ’ কক্ষে সংরক্ষিত আছে (বুকাইলী, পৃষ্ঠা ৩৮২-৩৮৪)। বিজ্ঞানে অনভিজ্ঞ বাংলার শিক্ষকদের জন্য এসব লজ্জার সন্দেহ নেই। আর একটি সতর্ক সংকেত ঐ সময়ও আমাকে আতংকিত করে তোলে। কুরআনে একটি ভবিষ্যদ্বানী আছে সেটি হচ্ছে  আল্লাহ বলেন, “তবে আজকের দিনে আমরা উদ্ধার করবো তোমার দেহ যেন তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। কিনতু মানুষের মধ্যের অনেকেই আমাদের নিদর্শন সম্বন্ধে অবশ্যই বেখেয়াল” (সুরা ইউনুসের ৯২ আয়াত)। উল্লেখ্য এ খবরটি নবী মোহাম্মদ জানতেন না। জানলে তিনি আমাদের বলে যেতেন, এর কোন প্রমাণ নেই।  আধুনিক বিজ্ঞান এটি সম্প্রতি আবিষ্কার করেছে। তাই সত্যকে রোধবার শক্তি এসব অনাচারি নাস্তিকদের হাতে নেই। এরা অধঃপাতের চরমে পৌছবে এবং মমিটি ক্ষয়ের মুখোমুখি, বলা হয়েছে এটি কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। মমির ক্ষত প্রমাণ করে কিয়ামতও সন্নিকটে।

নিজে প্রথা ভাংতে গিয়ে সংসার করে বউ পরিবারের ছেলে মেয়ের সব চাওয়া পাওয়া পুরিয়ে জীবন পার করেছেন। এখন তার ছেলে যা করছে সেটি প্রথা ভাংগা বাপের বেটা হিসাবে এর থেকে বড় কিছু করতে পারার কথা নয়। জাতিকে ময়দানে দল বেধে অপকর্মে নামার ডাক দিয়েছে। বাংলাদেশীরা কি ঐ মরণ পথের অনুসারী হবেন? আপনাদের মা বাবাকে কবর দিয়ে তারপর ওপথ মাড়ান, নয়তো তারা কষ্ট পাবে। আপনারা পৃথিবীর এমন একটি ধর্মের দাবীদার যা নিয়ে আপনাদের গর্ব করাই সাজে। পৃথিবীতে এত আলোর সন্ধান পেয়েও যদি পথ হারান তবে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু নেই। ইসলামে কোন সংকট নেই ভালবাসাতেও নেই। কিনতু খৃষ্টান পাদ্রীরা ওটি নাকি করতে পারে না। এর কারণ তারা তাদের স্বরচিত বিধানে কিছু এটো মিশিয়ে একে কিম্ভুৎকিমাকার করে দিয়েছে। তাই পরলোকগত দ্বিতীয় পোপ জন পলের কয়েকশ গোপন চিঠি আবিষ্কৃত হয়েছে যা তাদের দৃষ্টিতে অপরাধ। কয়েকশ চিঠি পোলান্ডের জাতীয় লাইব্রেরীতে লুকানো ছিল। প্রায়ই শোনা যায় খৃষ্টান যাজকরা নানান যৌণ অপরাধে জড়িত হয়। তার কারণও তাদের স্বরচিত ধর্ম রচনার কারণে এসব গোজামিলের সামাল দিতে তারা বারে বারে বিপদের সম্মুক্ষীণ হচ্ছে। ইসলাম সবদিন এসব থেকে মুক্ত স্বাধীন। হুমায়ুন আজাদরা সঠিক সুশিক্ষিত হলে এসবের উপর অনেক ইতিবাচক কাজ করে জগতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারতেন। এসব নষ্টামীর বাইরে মানুষ দুনিয়াতে অনেক ভালো কাজ জমা করতে পারে। শুধু পশু প্রবৃত্তির জন্যই মানুষের জন্ম নয়। মানুষের পশু থেকে পার্থক্যের প্রধান কারণ হচ্ছে তার বিবেক মগজ, চিন্তা শক্তি, কল্পনাশক্তি আর তার হাতের দশটি আঙ্গুল যা কোন পশুর নেই। এখানের প্রতিটি অঙ্গ দিয়ে সে ব্যতিক্রমী সব কাজ করতে সক্ষম যা পশুরা পারে না। এরা শুধু পশুর দিকেই নজর বেশী রাখছে মানুষের দিকে মানবিকতার দিকে তাদের নজর খুব বেশী কম। তসলিমা ছিলেন “র” এর সৃষ্টি আর তসলিমার এমন বিজয়ে উদ্বেলিত হয়ে ঐ পথে হাটেন ঐ নারীর পথ ধরে যদিও যুক্তিতে অনেক পিছিয়ে, ঝোলাতে রসদ খুব কম। তেমন নেই বললেই চলে।

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা  এক আল্লাহ জিন্দাবাদ

 

মানচিত্র, দেশ, অস্তিত্ব, মান সম্মান নিয়ে বাঁচা দায় হয়ে পড়েছে। আতংকিত হয়েছি আজ যখন একটি কলামে চোখ পড়ে। সেটি ১৫ ফেব্রুয়ারী তারিখে দৈনিক সংগ্রামের প্রাসঙ্গিক ভাবনা: ডঃ নূরুল আমিন সাহেবের লেখাটি পড়ে। তিনি বর্ণনা দিতেও লজ্জা পান। জাতি ধ্বংসের একদম কিনারে এসে পড়েছে মনে হচ্ছে। লুত নবীর সময়ে সেখানের মানুষ এভাবে এতই উশৃংখল হয়ে পড়ে যে এর পর আল্লাহর গজব নেমে আসে। যে যেভাবে ছিল মানুষ পাথর হয়ে যায়। আগ্নেয় বিস্ফোরণে মানুষ স্ট্যাচুর আকৃতি ধারণ করে। আজো সেসব ঐভাবে আছে দর্শকদের জন্য। কেউ উৎসাহী হলে আজকের দিনেও এসব জেনে নেয়া বা দেখা কোন জটিল কাজ নয়। এই ঢাকা এমনই ছিল একবার আমি আমার বাচ্চাদেরে মায়ের কাছে রেখে আসি তারপর আর হোটেলে সিট পাই না। অনেক ঘুরে শেষ পর্যন্ত এক আত্মীয় বাসাতে যাই। কারণ আমাদের দেশের সচেতন হোটেল মালিকরা ওটি করতেন দেশটির মানবিক নৈতিকতার দৃষ্টিভঙ্গিতে। আমরা কোন সময়ই খারাপ পাই নাই, আজ মনে পড়ছে, দেশ এত উন্নত হয়েছে? ভালো আর চরিত্রবানের মাঝে কোন ফারাক থাকছেই না। আজকের হোটেল মালিকরা যে কতগুণ লোভী তা মাপার কোন যন্ত্র হয়তো নেই। তবে ঐ যন্ত্র আল্লাহর কাছে থাকবে। সে ঠিকই হিসেব বের করবে, সুক্ষ্ম বিচার করবে। ভারতকে দেখে জনতারা সিরিজ নাটক থেকে আরো অনেক কিছুই শিখছে । আজো তারা গরু নিয়ে ব্যস্ত সেখানে বাংলাদেশীরা কেন ঐ দলে ভিড়ে নিজের উজ্জ্বল অতীতকে কলঙ্কিত করছে? “কে তবে বেশী অন্যায়কারী তার চাইতে যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে এবং তার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করে। নিঃসন্দেহ অপরাধীরা সফলকাম হবে না” (সুরা ইউনুসের ১৭ আয়াত)।

নাস্তিক শাহরিয়ার কবির ছিল মুরগী চোর তিনি রাজাকারদের মুরগী সাপ্লাই দিতো

নাজমা মোস্তফা,  ১৪ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬।

 

 

জাতীয় সংগীত মূর্তিবন্দনা থেকে মাতৃবন্দনা অদক্ষ হাতে দেশবন্দনা

বাতি সবদিনই চারপাশের অনেক অন্ধকার দূর করতে সক্ষম। বাতি শুধু তার তলানিতে আলো কম দেয় বরং চারপাশ আলোকিত করা বাতির একমাত্র বৈশিষ্ট। ৯০% মুসলিম যদি সঠিকভাবে আলো ছড়াতে পারতো তবে ঐ বাকী ১০% ঐ আলো থেকে অনেক উপকার জমা করতে পারতো, যদি ওখানের উভয় গোষ্ঠী খোলা মনে সত্য সন্ধানে বলিষ্ট উদাহরণ রাখতো। বাংলাদেশের মুসলিমরা অসাম্প্রদায়িক ও উদার এটি যুগে যুগে স্বীকৃত সত্য হয়ে আছে, সেটি শতভাগ স্বীকৃত।  এরা এতই উদার যে তাদের ঘরে কে আগুন দিচ্ছে, কে সব দখলে নিচ্ছে, শিক্ষানীতির যোগান কে দিচ্ছে, কে পাঠ্যপুস্তকে বিতর্ক জমা করছে, কে জাতিকে বিভ্রান্ত করার ম্যান্ডেট নিয়েছে, অতি উদার জাতি তার হিসেবে নেই। আত্মসচেতনহীন জাতি প্রতিটি জীবনের জন্য ভবিষ্যতের জন্য হুমকি, এটি মনে রাখা সময়ের দাবি। উদারতার নামে এত গাফেল হলে চলে না। নয়ন চ্যাটার্জি নামের একটি সাইট দেখিয়েছে কিভাবে দেশাত্মবোধকের নামে বাংলাদেশ দেবী দূর্গার প্রশংসা করে যাচ্ছে বাচ্চাদের বইএ। ক্লাস সিক্স বা মতান্তরে সেভেনের শিক্ষার্থিদের জন্য নির্ধারিত কবিতার আসল নাম ‘মাতৃমূর্তি’ কিনতু প্রতারকচক্র সে নাম পরিবর্তন করে তার নতুন নাম দিয়েছে ‘বাংলাদেশের হৃদয়’। মূল গানটির লেখক রবীন্দ্রনাথ, লেখা হয় ১৯০৫ সালে। আমার চোখে এর তিনটি পরিবর্তনের স্পষ্ট ধারা চোখে পড়ে, যা নামকরণে স্পষ্ট হয়েছে। মূর্তিবন্দনা, মাতৃবন্দনা ও দেশবন্দনা।

durga

Collected from: noyonchatterjee.com

১১ই অক্টোবর ২০১১ তারিখে মানবজমিনের একটি কলাম, “আমার সোনার বাংলা’ মানে অবিভক্ত বাংলা, নিউইয়র্ক টাইমসের মতে ইতিহাসের পরিহাস” (ষ্টাফ রিপোর্টার) নামে লেখাটি ছাপে। “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বাংলা কোন বাংলা? বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষ বিশেষ করে স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন আসলে কোন বাংলার গান গাইছে। এ প্রশ্নটি অনেকের মনে বিশেষ করে বর্তমান ৫৮ হাজার বর্গমাইলের স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মনে একটি আন্দোলন তৈরী করতে পারে। কারণ বিশে^র অন্যতম প্রভাবশালী দৈনিক দি নিউইয়র্ক টাইমস এ বিষয়ে একটি চমৎপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছে। কথাটি উঠেছে সামন্ত সুব্রামিয়ামের একটি লেখাকে উপলক্ষ করে “দেশ ভাগের আগে দেশভাগ”, ৩ অক্টোবর ২০১১। সামন্ত সুব্রানিয়ামরা এত পরে ঘটনার ৪০ বছর পর এসব বলছেন, সেটি আরো আগে তারা বলতে পারতেন। তারা কিনতু এতকাল ভালোই চেপে গেছেন। সেটি করলে হয়তো হতভাগ্য এ দেশবাসীর বেশ উপকার হতো। আজ চল্লিশ বছর পর তারা বেশ আগের গল্পকথা শুনাচ্ছেন। সূত্রে — বৃটিশরা মুসলমানদের অনুভূতি নিয়ে খেললো। ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে লর্ড কার্জন ঢাকায় বলেছিলেন, ‘ইস্ট বেঙ্গল হওয়ার ফলে মুসলিমরা এমন এক ঐক্যের স্বাদ পাবে যেটা তারা বহু আগে যখন মুসলিম রাজা বাদশার আমলে পেয়েছিল, কলকাতার জনগণ এ দিনটিকে শোক দিবস হিসাবে পালন করবে। কলকাতা শহরে প্রথম বাংলা ভাগের প্রতিবাদে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গাওয়া হয়েছিল। ১৯১১ সালে দুই বাংলা পুনরায় একত্রিত হয়েছিল, তবে তা ১৯৪৭ সালে পুনরায় ভাগ হওয়ার জন্য। নিউইয়র্ক টাইমসএর এই নিবন্ধের শেষ বাক্য: ইতিহাসের অনেক পরিহাস। তবে বঙ্গের অন্যতম পরিহাস হলো, ১৯৭১ সালে ইস্ট বেঙ্গল স্বাধীনতা পেল আর তারা কিনা তাদের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে বেছে নিলো আমার সোনার বাংলা প্রথম দশ লাইন। সেটি ছিল রবীন্দ্রনাথের এমন একটি কবিতা, যা অবিভক্ত বাংলার চেতনায় অনুপ্রাণিত।

১৯৯৯ সালের ২৭শে জুলাই “দৈনিক সংগ্রাম” পত্রিকার ‘জহুরী’ কলামে পাওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গের এই ‘বাংলা’ নামবদল ঘটনার জটিলতা সে লেখাটিতেও ফুটে উঠেছিল। অনেক তথ্য যুক্তির মন্তব্যে সমৃদ্ধ বিশাল লেখাটির পর শেষের মন্তব্যটি ছিল “এ গান এপার বাংলার মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বার্থের বিরুদ্ধেই রচিত হয়েছিল। ১৯০৫ সালে যে বীজ বপন করা হয়েছিল তা অঙ্কুরিত হতে সময় লেগেছিল বটে, আমরা একে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহণ করে সাক্ষ্য দিলাম এপার বাংলা ওপার বাংলা একই বাংলা। এখন আর কিছুই করার নেই। তবে পথ একটাই খোলা আছে, তাদের গান তাদের জন্য ছেড়ে দেয়া। এ গানের বাংলা তাদের বাংলা। আমাদের বাংলা আবহমান কালের বাংলা। এ বাংলার জন্য নতুন গান রচনা করা। বলবেন আমাদেরটা দেশ ওদেরটা প্রদেশ। আমাদেরটা স্বাধীন সার্বভৌম ওদেরটা তা নয়। এসব যুক্তি চলবে না। আমাদের ভূখন্ডটা একসময় একটি দেশের প্রদেশ ছিল, পরে হয়েছে দেশ। নামে নামে জমে টানে। অদূর ভবিষ্যতে প্রদেশের রাহুগ্রাস থেকে কি দেশ বাঁচানো যাবে? এখনি তো গিলে গিলে অবস্থা। এর মধ্যে নাম তো এফিডেবিট করে রাখা হয়েছে। খবরে প্রকাশ পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কিছু আগে ওয়েষ্ট বেঙ্গলকে “পশ্চিবঙ্গ” করেছেন। এবার আর ইংরেজীতে ওয়েষ্ট বেঙ্গল লেখা যাবে না। লিখতে হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ’। (উপরের কয়েকটি প্যারা টুকে দিলাম নাজমা মোস্তফার ‘একই ধর্ম একই ধারা’ গ্রন্থের, ১০৩-১০৫ পৃষ্ঠা থেকে, প্রকাশকাল জানুয়ারী ২০১২সাল)।

বাংলাদেশ নামের দেশটির সৃষ্টি ছিল গানটির মৃত্যু সংবাদ। পূর্ববর্তী গানের ঠেলাতেও যদি এককদমও এগিয়ে গিয়ে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়, সেটির উপর ভ্রুকুটি হেনে পুনরায় বঙ্গভঙ্গ স্থায়ী হয় ১৯৪৭এ এসে। একত্রিকরণের বাংলার স্বাধীনতা ভারতীয় কংগ্রেস কোনদিন চায় নাই। তারা চেয়েছিল হিন্দু আর্যাবর্তের অধীন যুক্ত বাংলাকে। তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের সব নির্যাতিত মানুষ সে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে ভারত থেকে পৃথক হয়ে যায়। অতপর তার পরের ঘটনা বা দুর্ঘটনা ইতিহাসের মানচিত্রে পাকিস্তান পরবর্তিতে বাংলাদেশ নামে দেশটির আবির্ভাব। দেখা যায় এখানের গানের মতই দেশটি তার স্বরুপ পাল্টাতে বাধ্য হয়। অস্তিত্ব রক্ষার্থে এখানের প্রতি জন্মই ইতিহাসের বাস্তবতা। কিনতু ঐ গানটি কি কৌশলে এখানে ঢুকে গেল নেতাহারা যুদ্ধের সংকট সময়ে, কারো সম্মতি ব্যতিরেকে তাকে এরকম সহজভাবে ইতিহাসের বাস্তবতা বলে স্বীকার করার অবকাশ কম। যুদ্ধে জনতারা অনেক গান গেয়েছে, এটিও গেয়েছে। নজরুলের জীবন উদ্দিপ্ত করা গানই বেশী গেয়েছে। “কারার ঐ লৌহ কপাট” এমন বড় এক সংগ্রামী সংগীত, যেন মরা নদীতেও তুফান তুলতো। “জাগো, জাগো অনশন বন্দি ওঠোরে যত, জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত জাগো” আমার সোনার বাংলাও মানুষ গেয়েছে, তবে অনেকের মন্তব্য ছিল এটি যুদ্ধের নয়, ঘুম পাড়ানিয়া গান। সামন্ত সুব্রানিয়ামরা জানেন এ গানের মূল সুর ছন্দ কখন কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে আমাদের থেকে বেশী।

জাতি হিসাবে বাংলাদেশীদের সত্যিই ‘সরি’ বলার সময় এসেছে। নয়ন চ্যাটার্জি জানতে চেয়েছেন সপ্তম শ্রেণীতে এ মূর্তিবন্দনার গান কেন, এ দেশে কি গানের অভাব? মোটেও না, ধানের দেশ গানের দেশ সুজলা সুফলা এ বাংলাদেশ। “ধন ধান্যে পুস্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা, তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা। এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি”  আমাদের গানের অভাব নেই। ৯০% মানুষ যদি জানতো ওটি দুর্গাদেবীর সঙ্গীত,  মনে হয় না কেউ ওগান গাইতো। এর কারণ দূর্গাভীতি বা মূর্তিভীতি বা ঘৃণা নয়, এতে তার ঈমান থাকে না। একমাত্র যে অর্জনটুকু নিয়ে ওরা দুনিয়া থেকে বিদায় হবে, সারা দুনিয়ার সহায় সম্পত্তি পিছনে ফেলে রেখে যা নিয়ে সে ফেরত যাবে, ওটিই যদি তার নষ্ট হয়ে যায়, তবে সে কি ভরসাতে বাঁচবে দম ফেলবে? সেদিন ওটি জাতীয় সঙ্গীত না হলে ঐ গানটি থাকতো একটি সাধারণ মাতৃবন্দনা সঙ্গিত হয়ে যা দেবী দূর্গাকে উপলক্ষ করে যার থিমটুকু নেয়া হয়েছিল। এতে দূর্গাদেবীরও মর্যাদা সঠিক জায়গায় থাকতো। বরং একপাল অচ্ছুৎ মুসলিমরা না জেনে দূর্গাদেবীর উপর যে অত্যাচার করেছে তার জন্য তাদের সরি বলা ছাড়া উপায় কই? দেশকে দেবীর আসনে বসিয়ে কবিতাটি লিখা হয়েছিল উগ্র হিন্দুদের জাগিয়ে তুলতে।

ডঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসাহেব, (শিক্ষাবিদ, গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) বিশাল এ কবি সম্বন্ধে বলেন, “ইংরেজ চলে গেল। খন্ডিত বাংলার একাংশ চলে গেলো ভারতবর্ষে, অপর অংশ পাকিস্তানে। বাংলার সংস্কৃতি বিপন্ন হলো উভয় রাষ্ট্রে। এক রাষ্ট্রে হিন্দির গ্রাস, আরেক রাষ্ট্রে উর্দুর। হিন্দির গ্রাস থেকে বঙ্গ সংস্কৃতি মুক্ত হয় নি, কিন্তু উর্দুর গ্রাস থেকে হয়েছে”। (উর্দুকে ঝেড়ে ফেলা গেলেও আজ দুই বাংলায়ই এমনকি যেখান থেকে উর্দু ঝেড়ে ফেলা হয়েছে সেখানেও চলছে হিন্দি গানের রমরমা ব্যবসা, নয় কি? )

জাতীয় সঙ্গীত প্রসঙ্গে সিরাজুল ইসলাম বলেন, “নতুন রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত আক্রান্ত রবীন্দ্রনাথই লিখে দিলেন। এই গান যেন অপেক্ষা করছিল এই রাষ্ট্রের জন্যই। এই ঘটনাকে কি বলবো? এ কি সংস্কৃতির প্রতিশোধ স্বৈরাচারী রাষ্ট্রের উপর?—নজরুল ইসলাম আমাদের আপন জন নিশ্চয়ই। কিন্তু তার গান তো আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হয় নি, এমনকি তিনি তো তেমনভাবে কখনো পূর্ববঙ্গে থাকেন নি, যেমনভাবে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন কুষ্টিয়াতে ও শাহজাদপুরে”। (পশ্চিম পাকিস্তানের অনেকেই আমাদের সাথে থেকেছেন তার পরও তাদের আমাদের মাঝে একটা পার্থক্য আমরা খুজে নিয়েছি, এত থাকাথাকির পরও, নয় কি?)

নজরুলের কবিতা থেকেই বোঝা যায় রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে বুকে ধরে কপালে চুমো খেয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন এবং সম্ভবতঃ “বিদ্রোহীর” আবৃত্তি শোনার পরই “বিদ্রোহী” কবিতার অসাধারণ কাব্য মহিমায় মুগ্ধ হয়েই তিনি নজরুলের অসাধারণ কাব্য প্রতিভার স্তুুতি গেয়েছিলেন। এই ঘটনার পরবর্তী ঘটনা ছিল রবীন্দ্রনাথের নজরুলকে লক্ষ্য করে “আয় চলে আয় রে ধুমকেতু” লেখা ‘Give up hunger strike our literature you’ বলে টেলিগ্রাম করা এবং নজরুলের নামে “বসন্ত” নাটিকা উৎসর্গ করা এবং তার দরবারের রবি ভক্তদের উদ্দেশ্য করে নজরুলের কাব্য সম্বন্ধে বলা “যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য” (কবি স্বীকৃতি, পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়, রবীন্দ্রসদন, কলকাতা, ২৫শে মে ১৯৬৯এ প্রকাশিত পুস্তিকা ‘নজরুল জন্মজয়ন্তী’ থেকে গৃহীত।

নজরুল কাব্যের প্রথম প্রকৃত সমালোচক মোহিতলাল মজুমদার। ১৯২০এর আগস্টের ভাদ্র সংখ্যায় মোসলেম ভারতে পত্রাকারে মোহিতলালের এই সমালোচনা প্রকাশিত হয়। মোহিতলাল সে সময়ের অর্থাৎ ১৯২০ এবং তার অনতিপূর্বের বাংলা কাব্যের একটি রুগ্নরুপের পরিচয় দিয়েছেন তার আলোচনায়। তার লেখায় বোঝা যায় বাংলা কবিতার একটি পরিবর্তন তিনি আশা করেছিলেন। সেই পরিবর্তন মোহিতলাল ভেবেছিলেন, মুসলমানরা আনতে পারে তাদের ভিন্ন জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আমদানী করে। তার প্রতিফলন পরবর্তীতে দেখা যায় তার ভাষায় “মুসলমান লেখকের সকল রচনাই চমৎকার। কিন্তু আমাকে সর্বাপেক্ষা বিস্মিত ও আশান্বিত করিয়াছে তা আপনার পত্রিকার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি লেখক হাবিলদার কাজী নজরুল ইসলাম সাহেবের কবিতা”। তিনি আরো বলেন, “বহুদিন কবিতা পড়িয়া এত আনন্দ পাই নাই, এমন প্রশংসার আবেগ অনুভব করি নাই”। ১৯২০এ মোহিতলাল যখন এই কথা বলছেন তখন রবীন্দ্রনাথ তার প্রতিভার শীর্ষে অবস্থান করছেন। বেঁচে আছেন ও লিখছেন কীর্তিমান ছন্দস্রষ্টা সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, লিখছেন যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, যতীন্দ্রমোহন বাগচী এবং স্বয়ং মোহিতলাল। কিন্তু এ সময়কার জীবিত কবিদের লেখা পড়ে মোহিতলাল আশাহত, বিরক্ত, ক্ষুব্ধ এবং ক্রুদ্ধ। তাই সেদিনের তার সেই লেখাতেই এব্যাপারে বিসতৃত বক্তব্য এসেছে। সংক্ষেপে এখানে:

“কাজী সাহেবের কবিতায় কি দেখিলাম বলিবা? বাঙলা কাব্যের যে আধুনাতন ছন্দঝঙ্কার ও ধ্বনি বৈচিত্রে এক্কালে যুগ্ম হইয়াছিলাম, কিন্তু অবশেষে নিরতিশয় পীড়িত হইয়া যে সুন্দরী মিথ্যা রূপিনীর উপর বিরক্ত বিরক্ত হইয়াছি, কাজী সাহেবের কবিতা পড়িয়া সেই ছন্দ ঝংকার আবার আস্থা হইয়াছে। যে ছন্দ কবিতায় শব্দার্থময়ী কন্ঠ ভারতীয় ভূষণ না হইয়া, প্রাণের আকুতি ও হৃদস্পন্দনের সহরে না হইয়া, ইদানিং কেবলমাত্র শ্রবণ প্রীতিকর প্রাণহীন চারূ চাতুরীতে পর্যবসিত হইয়াছে, সেই ছন্দ এই নবীন কবির কবিতায় তাঁহার হৃদয় নিহিত ভাবের সহিত সুর মিলাইয়া মানবকন্ঠের স্বর সপ্তকের সেবক হইয়াছে। কাজী সাহেবের ছন্দ তাহার স্বতঃউৎসারিত ভাব কল্লোলিনীর অবশ্যম্ভাবী গমনভঙ্গী”।

রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১-১৯৪১) সম্পর্কে জসীম উদ্দীন(১৯০৩-১৯৭৬) এর বক্তব্য: “বিরাট বাংলা সাহিত্য আজ সকল বাংলা ভাষীর অমূল্য সম্পদ। তারপর রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তার আপত্তি তিনি লুকোননি। ‘এদেশের যা কিছু ইউরোপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, তাই লইয়া তিনি পসরা সাজাইলেন। এদেশের সব ভাল ভাল লইয়া কবি পাশ্চাত্যের রুচি বদলাইতে চেষ্টা করিলেন না” (জসীম উদ্দীনের প্রবন্ধসমূহ, দ্বিতীয় খন্ড)। বাংলার তিন কবি বিশ্বকবি, বিদ্রোহী কবি, পল্লীকবি এ তিনটি নাম বললেই তিনজন কবির নাম আমাদের চোখে ভেসে উঠে। জসিম উদ্দিন এসেছেন মুসলমান পরিবার থেকে। স্ব সমাজ তিনি কখনোই বিস্মৃত হননি। কিন্তু তার সৃষ্টি সব সময় অসাম্প্রদায়িক। স্বয়ং অগ্রজ পল্লীকবি কালীদাস রায় জসীম উদ্দিন সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন’ “যতীন্দ্রমোহন ও কুমুদরঞ্জন বঙ্গের পল্লী প্রকৃতিকে দেখিয়েছেন হিন্দুর চোখে। শ্রীমান জসীম উদ্দীন বাঙ্গালীর চোখে দেখিয়াছেন অর্থাৎ হিন্দু মুসলমান ঊভয়ের দৃষ্টিতে দেখিয়াছেন” (জসীম উদ্দীনের সাহিত্যে বাংলাদেশের লোকজীবন, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, ১০ই জানুয়ারী ২০০৯সাল, দৈনিক আমার দেশ)। এখানে এটুকু শুধুমাত্র উপস্থাপনার একটু সূচনা—বিচার বিবেচনা সবই পাঠকের জমা খাতায় হোক জমা (“একই ধর্ম একই ধারা”, নাজমা মোস্তফার বই থেকে উপরের ৭টি প্যারা )নজরুলের একটি কবিতাই ছিল জাতীয় সংঙ্গীত হিসাবে অনন্যভাবে উত্থিত ও সাজানো। তার পরও তার ছন্দ ঝংকারে পরিপূর্ণ জাতীয় সংগীতটি কারো নজর কাড়ে নি, বরং খুব কৌশলে এসব এড়িয়ে যাওয়া হয়।

সত্যকে কোনদিনও দেখা যায় না, ধরাও বড় কষ্ট, তাই তাকে বাড়তি খুঁজতে হয়। যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন। নয়ন চ্যাটাজিকে ইন্টারনেট আমাদের দোয়ারে এনে হাজির করেছে, হাত বাড়ালে অনেকেই পাবেন। যেন বড় মর্মে আঘাত লাগিয়ে তিনি কারেন্টের শক দিয়ে বিশ^ চেতন কর্মে নিয়োজিত। সে হিসাবে তিনি সবার বন্ধু। তবে সংকীর্ণরা সবাই তার শত্রু বোঝা যায়। বাংলাদেশ এখন অন্যের হাতের তলানিতে আত্মবিকৃত অবস্থায় পৌছে গেছে, সেটি তিনি আঁচ করতে পারছেন। এদেশের ৯০% অধ্যুষিত মুসলিমের দেশে পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুর পূজা অর্চনা। আমরা বাইরে থাকি, সব বলতেও পারবো না। তারপরও যেদিকে নজর পড়ে কিছু নাড়াচাড়া করি কিনতু সবদিকে তো আর নজর দেয়া সম্ভব হয় না। বড় কবিতায় অনেক কিছুই বলা হয়েছে, নয়ন চ্যাটার্জির সামান্য একটু ইশারা পেয়ে আমি অন্য একটি পোস্ট দিব এর উপর পরবর্তীতে যে দেবী দূর্গা কিনতু পুরো ভারতের দেবী নন। তিনি মূলত বাংলাভাষী হিন্দুর দেবী। কবিতায় দেবীদূর্গার বর্ণনা করে বলা হয়েছে। “ডান হাতে তোর খড়গ জ¦লে, বা হাত করে শঙ্কাহরণ দুই নয়নে সেনহের হাসি, ললাটনেত্র আগুণবরণ ওগো মা তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে—- ওগো মা তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফেরে, তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে—”। দূর্গাদেবী শুধু ক্লাস সেভেনেই আসন গেড়ে বসে নেই, গোটা দেশ আচ্ছাদন করে অকালনাশিনী দূর্গাজননী ভয়াল রুদ্রমূর্তি ধারণ করে আছেন। যুগে যুগে সঠিক সত্যের বিজয় ঘোষিত হোক কামনায়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: দিল্লীর রাজপ্রাসাদে সমগ্র ভারতের ইংরেজ নেতা সমরাট পঞ্চম জর্জ স্বর্ণখচিত সিংহাসনে উপবিষ্ট। ঠিক সে সময় কবিতার তোষণ ও তোয়াজে কবি রবীন্দ্রনাথ ঐ সমরাট পঞ্চম জর্জএর প্রশংসা ও স্তুতিবাক্যে পূর্ণ কবিতা লিখে তার পদপ্রান্তে উপহার দেন। আর ঐ স্তুতিগানই ভারতের জাতীয় সংগীত। “জনগণমন অধিনায়ক জয় হে ভারত ভাগ্যবিধাতা”।  ঐ সময়ে কবিতাটি পঞ্চম জর্জকে উপহার দেয়া নিয়ে খবরের কাগজে অনেক সমালোচনা হয়েছে। এসব তথ্য ব্যারিস্টার এম. এ সিদ্দিকীর “ভুলে যাওয়া ইতিহাস” এর ৯৬ পৃষ্ঠাতে আছে। এসব তথ্য পাওয়া যায় গোলাম আহমাদ মর্তুজার (বাজেয়াপ্ত ইতিহাস, পৃষ্ঠা ৩৯)। দেখা যায় যখন বিদ্রোহী কবি নজরুল কারাগারে সময় পার করেন সে সময় রবীন্দ্রনাথ এসব স্তুতিমূলক কাব্য রচনা করে নিজেকে ময়দানে প্রতিষ্ঠিত করেন। ভারতীয় স্বাধীনতার ইতিহাসে এ লজ্জাও কম নয়, বলা চলে পরাধীনতার শিকলপরা কলঙ্কের স্পষ্ট দাগ। 

প্রস্তাবনা: বঙ্গভঙ্গ রদএর উপর লেখা দেশ বিরোধী গানটি কেন বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হলো? গানের মাঝে নেই কোন ভয়ঙ্কর চেতনা, জেগে উঠার বাস্তবতা, বলা চলে এটি ঘুম পাড়ানিয়া গান। গানের মাঝে একদিকে নেই বাংলাদেশ নামটি অন্যদিকে সেখানে আছে বাংলা নামের একটি দেশের কথা, সেটি এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, হয়তো তাদের ঐ গান থেকেই তারা উদ্বুদ্ধ হয়েছে ওটি নিতে। তাদের জিনিস তাদেরে ছেড়ে দেয়া হউক। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের জাতীয় কবি নন। জাতীয় কবি নজরুলের গানকে জাতীয় সঙ্গিত করা হউক। পৃথিবীর অনেক দেশই পরবর্তী সময়ে তাদের জাতীয় সঙ্গিত নির্ধারণ করেছে, সেটি বাংলাদেশের বেলায় করতে বাধা কোথায়? নজরুল ছিলেন একাধারে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, সমালোচক, শিশুসাহিত্যিক, গীতিকার, গীতিলেখা ও গীতিনাট্য রচয়িতা, সুরকার, স্বরলিপিকার, গায়ক, বাদক, সংগীতজ্ঞ, সংগীত পরিচালক, সাংবাদিক, সম্পাদক, পত্রিকা পরিচালক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র কাহিনীকার, চলচ্চিত্র পরিচালক। বহু গুণীজনকৃতরা তার গুণে ধন্য ছিলেন, কেউ মনে করতেন তিনি দেবতার বাচ্চা, কেউ মনে করতেন তিনি রবীন্দ্রনাথের চেয়ে উপরে অবস্থান করছেন। এভাবে নজরুল শুধু বারে বারে বই বাজেয়াপ্তের শিকার নন, অনেক ষড়যন্ত্রেরও শিকার।

নাজমা মোস্তফা,   ১২ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬ সাল।

 

পথ হারা বাংলাদেশ এখনো স্বপ্ন দেখছে পথ খুঁজছে

শুরু করছি নীচের একটি ভিডিও দিয়ে।

ইসলামের পক্ষে কথা বললেই আওয়ামী লীগ জঙ্গী বলে

২০১২ সালে জেনারেল অশোক মেহতা দিল্লিতে বলেছিলেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে আওয়ামীলীগকে আরেকবার ক্ষমতায় আনতে হবে। তাহলেই ভারতের সব চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হবে। কথাগুলি স্বনামধন্য সব সাংবাদিকরা জানেন, বন্ধুনামের দেশ থেকে আমরা জেনেছি।  কথাগুলির মাঝে আওয়ামীলীগ সরকার কখনোই খারাপের কিছু দেখবে না, কোন ষড়যন্ত্রও আঁচ করতে রাজি নয়। কারণ ইতিমধ্যে সব বিবেক অন্যখানে জমা রেখে পথ হারিয়ে নিজের সর্বস্ব খুইয়ে দেউলিয়া হয়ে আছে, ধারণা হয় যা ভালো মাপেই আঁচ করতে পারছেন ভারতের সাংবাদিক নায়ার। বাংলাদেশ দরিদ্র হতে পারে কিন্তু আত্মবিকৃত জাতি হবে এটি এখানের কোন সচেতন মানবে বলে মনে হয় না। গরিব হতদরিদ্র মেয়েরা বিদেশে পেটের দায়ে যায়, কিন্তু কারো অসৎ উদ্দেশ্য ধরা পড়লে তারা ঐ রোজগারের মেকি মোহকে খুব সহজে কাটাতে পারে। মর্যাদা রক্ষার্থে দেশে দ্রুত ফেরত আসে, এর কারণ কি? তাদের আত্মসচেতনতা, যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। এরা মনের দিকে অনেক উঁচুতে বাস করে, সেখানে তারা ফকিরনি না, রাজরানী। দারিদ্রের কষাঘাতে প্রয়োজনে তারা গৃহপরিচারিকা হতে পারে কিন্তু তাই বলে আত্মা বিক্রি করে দেহ পসারিনী হতে কখনোই রাজি নয়।

কূলদীপ নায়ার ভারতের স্বনামধন্য কলামিস্ট সাংবাদিক। অতি সম্প্রতি তিনি একটি কলাম লিখেছেন বাংলাদেশ বিষয়ে। ১১ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তরিখের ভারতের দ্যা স্টেটসম্যান ছেপেছে “হেজ বাংলাদেশ লস্ট ইটস ফোকাস?” মানে “বাংলাদেশ কি পথ হারিয়েছে?” শিরোনামে। বাংলাদেশের বিষয়ে তারা প্রধানত আংশিক দেখেন বা হয়তো তাদের একহারা চোখ দিয়ে দেখেন, পুরোটা দেখতে পারেন না। বাংলাদেশ সম্বন্ধে গত বছরে ছাপা হওয়া তার একটি কলামের নাম হচ্ছে “দ্যা ট্রাজেডি অব বাংলাদেশ” মানে “বাংলাদেশের দুর্ভোগ” এটি ছেপেছে পাকিস্তান  টুডে ডট কম, ১৮ জানুয়ারী ২০১৫ তারিখে। কুলদীপ নায়ারের লেখাতে একজন বাংলাদেশী হিসাবে তখনও বেদনা অনুভব করেছি। কারণ এমন জটিল সময়ে তিনি এত একপেশে কেমন করে হন যেখানে তিনি একজন মানবতাবাদী, তার উপর সাংবাদিক। সত্য প্রচারই তাদের একমাত্র বাঁচা মরা, তার পেশা তাই নির্দেশ করে।

সেখানে তিনি দেখিয়েছেন খালেদা জিয়া ইলেকশন বয়কট করে ভুল করেছেন, যুক্তি দেখিয়েছেন এর  ফাঁকে দেশে ফ্রি এবং ফেয়ার ইলেকশন হয়েছে এমন কি বিরোধী দলও আছে। তিনি বেশ কিছু উপদেশও বিলি করেছেন যে দেশটি সৃষ্টির পেছনে ভারতের সহযোগিতা ছিল সে হিসাবে আজো এ বিপদের দিনে ভারত সহযোগিতা দিতে পারে। তিনি এটিও বলেছেন এখানের মানুষ ধার্মিক আবার লিবারেল, সহমর্মী। এক মিলিয়ন হিন্দু এখানে বাস করে, ঝামেলা বিহীনই বলা চলে। এর জবাবে আমার একটি বাংলা লেখা “বাংলাদেশে রাজনীতির অগ্নুৎপাত”  ও ইংরেজিতে একটি লেখা আছে “Volcanic eruption in Bangladesh politics” নামে। এবারের লেখাতে দেখা যাচ্ছে তিনি সামান্য হলেও কিছু স্বীকার করে সরকারের কিছুটা সমালোচনা করেছেন। প্রতিপক্ষদল বিএনপি পাকিস্তান জামাত ও ইসলামকে এক বান্ডিলে দেখানোর ভারতীয় অভিমত তার লেখাতে ফুটে উঠেছে। তিনি অলক্ষ্যে এটি বলে সম্ভবত বিএনপির ত্রুটি দেখাতে চাচ্ছেন। আজ ১১ই ফেব্রুয়ারীতে বাংলাদেশের নৌপরিবহন মন্ত্রী সচারচরের মত পুরোনো রেকর্ডে চাবি দিয়েছেন যে, পাকিস্তান দূতাবাস শেখ হাসিনা হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। তারো আগে বরাবর ভারতীয় এজেন্ডাও ঐ খবর বিলিতে জড়িত থেকেছে বারে বারে তার প্রমাণ আছে, অতীতে বলেছে ১৯বার চেষ্টা হয়েছে, তাহলে এবার হবে ২০ বার। মন্ত্রী পাকিস্তান দূতাবাস নব্য কাসিম বাজার কুঠিতে পরিণত হয়েছে বলে ময়দান গরম করার তালে আছেন । কিন্তু কুলদীপ নায়ারের কলামেই এসেছে যে খালেদা জিয়া বলছেন বর্তমান সরকারের কৃতকর্মই মানুষকে ভারত বিদ্বেষী করে তুলছে। এটিই স্পষ্ট করছে কারা আজকার কাসিম বাজার কুঠির মূল মদদগার।

এরকম উদাহরণ এত ছড়িয়ে আছে যা কুলদীপ নায়াররা বাংলাদেশীদের থেকেও ভালো জানেন। এবার পৌর নির্বাচনের  পরদিন ১১ই জানুয়ারী ২০১৬ আনন্দবাজার প্রচার করে “বাংলাদেশ সরকার অবৈধ ঘোষনা করতে চলেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টিকে”। খবরটি কি কোনই ম্যাসেজ প্রচার করছে না? আনন্দবাজার কি খালেদা জিয়ার সম্মেলন দেখে ভয় পেলো? কারা বর্তমান কাসেম বাজার কুঠির ষড়যন্ত্রে বেশী দাগ রাখছে, ভারত না পাকিস্তান, তার একটি বোঝাপড়া হলে সারা দেশ ভারত বিরোধী রায় জমা করবে। এসব তাদের চল্লিশার্ধ কৃতকর্মের ফলাফল। কুলদীপ নায়াররা কি দেখেন তাদের অশোক মেহতারা, বিএসএফরা কিভাবে কাসেমবাজার কুঠি নাটকে জড়িয়ে গেছে। মানবতার খাতিরে এসব তাদের উন্মোচন করার কথা ছিল। বাংলাদেশের যৌক্তিক মানুষগুলো পেটে ভাত না থাকলেও বাংলাদেশের দালালি করবে, ভারতের নয়। বাংলাদেশের জনতারা একদিন পাকিস্তানের দালালির প্রতিবাদে হুমড়ি খেয়ে পড়ে কিন্তু তাই বলে সরকার বাদে গোটা দেশ ভারতের কাছে নতজানু হয়নি, এটি নিশ্চয় কারো কম জানা নয়। এবার দরকারে তারা আবারো প্রতিবাদী হতে কতক্ষণ? নায়ার অতীতেও দুই বেগমকে এক পাল্লায় মাপতে বেশী অভ্যস্ত, আজও তাই। আজ একই নাটকের দ্বিতীয় পাট হয়তো অপেক্ষায় আছে। বিগত ২০১৬সালের ৫ জানুয়ারী ছিল বহু বিতর্কিত ভোট চুরির দ্বিতীয় বার্ষিকী। শেষ মুহূর্তে এবারের পৌর নির্বাচনে বিএনপি অল্প সময়ের নোটিশে সমাবেশের অনুমোদন পায়। অপেক্ষাকৃত বড় উদ্যানে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি যা তারা চাইছিল। বিএনপি সমাবেশের আহবানের দুদিন পর আওয়ামী লীগও সেখানে সমাবেশ করতে চায়। নয়া পল্টনে ছোট্ট পরিসরে সমাবেশ করতে দেয়া হয়, উভয়ে তাদের দলীয় অফিসের সামনে সমাবেশের অনুমোদন পান। সব সময়ই দেশটির বড় দল বিএনপির সমাবেশ, সম্মেলনে এ সরকার বাগড়া দিয়ে চলেছে অল্প কিছুদিন নয়, বছরের পর বছর থেকে, এটি সারা বিশ^ অবলোকন করছে।

এত অল্প সময়ের মাঝে বিএনপির বিশাল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে অনেকেই ধারণাতিতভাবে বিস্মিত হয়েছেন। এমতাবস্তায় বেশীরভাগ মিডিয়া সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো সমাবেশের ছবিকে এড়িয়ে গেছে। সরকারের মান বাঁচাতে বা সরকারের হুমকি ঠেকাতে দেখিয়েছে শুধু স্টেজের ছবি। উভয় সমাবেশের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। এ নিয়ে চলে ফেসবুকে নানান মন্তব্য যা উদাহরণীয় বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে দেখায়। কিন্তু কুলদীপ নায়াররা সত্য প্রকাশ করতে তারপরও কুন্ঠিত থাকছেন। ভারতের কপটতা, সরকারের কপটতা, কিছু দলবাজ পুলিশ সহ দলদাস ছাড়া বাকী দেশ একদিকে। আজকের ময়দানে পাকিস্তান গত বিগত। এখানে পাকিস্তানের নামে নষ্ট খেলা আপনারা বাদ দেন। নির্বাচনপূর্ব অবস্থানে বারে বারেই অশোক মেহতা, সুজাতা সিংরা ভারতীয় কৃতকর্মের যে দাগ রেখে যাচ্ছেন, তার উপর তাদের কি বলার কিছুই নেই?  সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের মিথ্যা ধোয়াসহ ১৯৮৭ সালে ভারতে ঈদের ছুটি কাটাতে গিয়ে শেখ হাসিনা কলকাতা বিমান বন্দরে ভারতীয় সাংবাদিকদেরকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রীতি নেই, খবরটি ছাপে (দৈনিক যুগান্তর কলকাতা ০৪/০৬/৮৭ সংখ্যা)। সারা দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির জন্য কার ইন্ধনে বেশীর ভাগ হরতাল হয়,  তা হয় ১৭৩ বা তারো বেশী দিন। “সেনাবাহিনীর ভুমিকা না থাকলে আ’লীগ জীবনেও ক্ষমতাতে আসত না: বলেন এরশাদ (দৈনিক আমাদের সময়, মার্চ ০৪, ২০০৯, বুধবার ফাল্গুন ২১, ১৪১৫)। 

বাংলাদেশের একটি দলের নির্বাচনেই ভারতের বাজেট থেকে টাকা খসে ১০০০ কোটিও ছোঁয়। নিজের দেশে শৌচাগার নির্মাণে ঐ টাকা খরচ করলেও অনেক মঙ্গল জমা হতো। অন্তত অন্যের সর্বনাশ হতো না। ২০১৪ সালের নির্বাচনই  খুব বড় আওয়াজে দিল্লীর গুনধর পোষ্য সরকারকে জনতারা বড় আওয়াজে না করে দিয়েছে যা কোনভাবেই নায়াররা স্বীকার করেন নাই। ভোটে গেছে মানুষ নয়, শুধু কুকুর। ঐ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ‘ফক্স এন্ড লায়ন ইন বাংলাদেশ’ নিবন্ধে আওয়ামী লীগকে খেকশিয়াল কল্পনা করা হয়েছে আর বিএনপিকে ধরা হয়েছে সিংহ। এখন শিয়ালের দিকে কিন্তু সিংহ ওত পেতে আছে। ওদিকে ভারত আগাগোড়াই একটি অনৈতিক মধ্যযুগীয় খেলাতে জড়িয়ে গেছে ঐ খেঁকশিয়ালের পক্ষে নির্বাচনি সঙ্গ দিতে। যা স্পষ্ট একটি দেশের আভ্যান্তরিত বিষয়ে হস্তক্ষেপের নামান্তর। মানবতার কথা যারা বলেন তাদের মাথা নত করে এমন ঘটনা, সেটি বড় গলাতে নায়ারদের স্বীকার করা উচিত।

গানে গানে হাসিনার জাহেলিয়াতি শাসনামলের অল্প কিছু ইতিহাস,

 

নাজমা মোস্তফা,   ১২ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬।

 

ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীকে যদি ছাত্র শিবিরের সাথে তুলনা করা হয়, জাতীর সামনে এটা হবে নির্মম তামাশা l

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ২০১৭ সালের সামান্য সংযোজন: বর্তমানের এ সংযোজনটি দরকার মনে করেই করি। উপরের ভিডিওটি সরকারী দলের অনেক অপকর্মের বাস্তবতাকে স্পষ্ট করছে। দেখা যায় ভারতের একজন কুটনীতিক ও নামকরা সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার  খুবই উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাংলাদেশের হৃদপিন্ডে আঘাত করে মাঝে মাঝে দূর থেকে উল্টাসিধা মন্তব্য ছাড়েন, যাতে দেশেটি ভালমতন সহজে গলাডুবা পর্যায়ে পৌছে। তিনি মনে করেন সব সাংবাদিকরাই তার ওষধিবটিকা গোগ্রাসে গিলবে। কিছুরা ঐ বটিকা গেলার জন্য বসেই আছে বেশ বড় সময় থেকে। এর মাঝে এদেরে সারা জাতি চিহ্নিত করে রেখেছে। এরা যে ঐ এক পথেই চলে কথা বলে তা জাতি জানে। এদের দেখলেই এদের অঙ্গভঙ্গি দেখলেই বুঝা যায় এরা কার রসদে বাঁচে। তিনি প্রায়ই বাংলাদেশের জনতাকে গেলাতে চান যে ভারত বিরোধীতা না ছাড়লে বাংলাদেশের রক্ষা নেই। আকারে ইঙ্গিতে আসে শক্ত হুমকির মত সেনাবাহিনীর কথাও, সে ইঙ্গিতও তিনি চেপে রাখতে পারেন নি। কিন্তু নায়ার সাহেব এটি বুঝতে পারছেন না, তার এই অতি দালালীতেই বাংলাদেশীরা বাড়তি মেসেজ পাচ্ছে এবং ভারত বিরোধীতাকে মজ্জার সাথে সেটে দিচ্ছে। সব সময়ই দেখি উদ্দেশ্যমূলক মনোবাসনা নিয়েই তিনি এ বৃদ্ধ বয়সে পরিশ্রম করে চলেছেন, যদিও তিনি ভারত প্রেমের উদাহরণ হয়ে কাজটি করেন কিন্তু প্রকারান্তরে তা বাংলাদেশ বিরোধী হয়ে পড়ে। এটি এ দেশের মানুষকে কষ্ট দেয়।

মানুষের একটি সময় আছে অপরের সর্বনাশ অনেক যুবক বয়সে রক্ত গরম থাকার কারণে মানুষ করে আবার বৃদ্ধ বয়সে মানুষ সর্ব মানবতার মাঝে নিরপেক্ষতারও ছাপ রাখে। ওটি করতে পারলেই সম্ভবত তিনি ভালো করতেন। অন্যের আভ্যন্তরিন বিষয়ে কথা বলতে অবশ্যই উদার হওয়া একটি বড় শর্ত। তবে চানক্য পন্ডিতের ধারাতে হয়তো ওসব মূখ্য নয়। অনেকেই লক্ষ্য করছেন তার প্রচারে মিথ্যাচারের সমাগমও হয়। এটি বাংলাদেশের বিগত নির্বাচন কালীন উপরের লেখাটিই এর বড় প্রমাণ। সারা জাতি যেখানে হাসিনা সরকারকে ধিক্কার দিচ্ছে এবং সে অবৈধ সরকার তার সকল সততা বিসর্জন দিয়ে যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে, নির্বাচন দিবার সহজ স্বাভাবিক নীতি নৈতিকতাও যার শেষ পর্যায়ে, সেটি সমগ্র বিশ^ অবলোকন করছে। এরপরও নায়ার সাহেব ঐ তালিতেই তালি দিয়ে চলেছেন। এর প্রধাণ কারণ নৈতিকতার সব পাটকে কবর দিয়ে মিথ্যার মাঝে আকন্ঠ ডুবার কারণ যে ভারত, সেটি লুকানো নেই। এসব কর্মকন্ডের পিছনে ভারত সরকারই শক্তভাবে জড়িয়ে গেছে নানাভাবে। কুলদিপ নায়ার তার কলাম সমূহে এসব অভিযোগের সত্যতা  তার লেখনী দ্বারা বাড়তি স্পষ্ট করছেন। কেন জানি মনে হয় তার লেখনির বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে ছলে বলে কলে কৌশলে তিনি ভারতকে লেপ্টে দিতে চান বাংলাদেশের মিরাশদারীতে। 

নাজমা মোস্তফা, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

নাগরিকত্ব হারানোর যৌক্তিকতা

দেশে বর্তমানে যুদ্ধপরাধের মামলা হচ্ছে যার পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি কুযুক্তি জমে আছে। ঐ সূত্রে আমি যাচ্ছি না তবে ঐ সূত্রে নাগরিকত্ব হারানোর উপর দুটি কথা বলতে গিয়ে আজকের এ কলামের অবতারণা। মুক্তিযুদ্ধের পর পরই বিক্ষুব্ধ মানুষ চাইছিল এ বিচারটি হোক সঠিকভাবে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে সে বিচার ওভাবে হয়নি এমনকি মূল ১৯৩,০০০ আসামী সৈন্যও বাংলাদেশের কবজায় থাকে নাই। হয়তো বৃহত্তর স্বার্থে আর ঐ পথে দেশ জাতি হাটে নাই। সঙ্গত কারণেই ধৈয্যশীলদের দলে ঢুকে গিয়ে জনতারা ধৈর্য্য ধরে বর্তমানে এসে পৌচেছে। সেদিন যারা ময়দানে ছিলেন তারা কমবেশী অনেকেই ঐ সময়ে অত্যাচারী যেমন হয়েছেন অনেকে আবার উপকৃতও হয়েছেন মাঝখানের মধ্যসত্ত্বলোভীদের দ্বারা। আমার জানামতে অনেক শান্তিকমিটির মানুষ আসামীর শিশুপুত্রকে মেজরের সামনে নিয়ে তুলে ধরে তার আসামী বাপকে ছাড়িয়ে এনেছেন। অনেক শান্তিকমিটির মেম্বাররা সৈন্যদেরে বুঝাতে সক্ষম হন তারা যেন কোনভাবেই এলাকাতে আগুন না দেয়। এভাবে তারা সেদিন অনেক এলাকায় অগ্নিরোধকের ভূমিকাতে নামেন বলে অনেক অঞ্চল আগুণের দহন থেকে রক্ষা পায়। আবার অনেকে নির্দোষ প্রতিপক্ষকে সেটে দিতে বহুদিনের পুরোনো মামলা ঠুকে দেয় নিরপরাধ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এই অপবাদে যে সে একজন মুক্তিযোদ্ধা। যদিও সে একদম একজন নিরিহ ছাঁপোষা মানুষ। বা অনেকের জায়গা জমি ঘটিত জটিলতার মোকাবেলাতে অনেকে শত্রুতা নিধনের একটি মোক্ষম সময় ধরে নেন, ঠিক যেভাবে আজও শক্তির ছায়াতলে এটি করা হচ্ছে। ঐ সময়ে নেতা নেতৃসহ অনেকে দাগ রেখেছেন লুটপাটের মহামেলার। অপরাধীর ঘরের প্রতিটি জিনিস লিস্ট করা হয়েছে, ট্রানজিস্টার, রেডিও, দুধাল গরুও বাকী থাকে নাই। ঐটি কি সৈন্যরা পাকিস্তান নিয়ে গেছে, না নেয় নাই। মানুষ সুযোগ গেলেই নীতিবাক্য ভুলে যায়, সততার কথা ভুলে যায় বলেই এসব করে। যদি তারা বুঝতো তাদের প্রতিটি কর্মকান্ড ফাইলবন্দি হচ্ছে তবে তারা ওপথ মাড়াতো না। যারা এসব করেছে তাদের কাছে এ বিষয়ে দলিল অনেক আগেই এসেছে, তারপরও তারা সচেতন হয়নি বলেই ওসব অপরাধ করেছে। আমি ঐ দলিল থেকে সামান্য সূত্র দিব। কুরআন বলে “তোমাদের উপরে নিশ্চয়ই তত্ত্বাবধায়করা রয়েছে, সম্মানিত লিপিকারবৃন্দ, তারা জানে তোমরা যা কিছু কর, ধার্মিকরা নিশ্চয়ই থাকবে আনন্দেরই মাঝে, আর পাপাচারীরা আলবৎ থাকবে ভয়ংক আগুনে, তারা এতে প্রবেশ করবে বিচারের দিনে। আর তারা এর থেকে গরহাজির থাকতে পারবে না। আর কিসে তোমাকে বুঝতে দিবে কি সেই বিচারের দিন? পুনরায় (বলছি) কিসে তোমাকে বুঝতে দিবে বিচারের দিন কি? এ সেইদিন যেদিন কোন সত্ত্বা কোন আত্মার জন্য কোন কিছু করার সামর্থ রাখবে না। আর কর্তৃত্ব সেদিন হবে আল্লাহরই” (সুরা ইনফিত্বার ১০-১৯ আয়াত)। উল্লেখ্য, লিপিকারবৃন্দ অর্থাৎ দুজন ভাল ও খারাপের কাজের তালিকা প্রস্তুতে মগ্ন। আমরা কোনদিন ওদেরে ঐ লিপিকারদেরে চোখে দেখিনি কিন্তু বিশ^াস করি কারণ এটি কুরআনের বাণী। এখানে কোন দিকেই মিথ্যে প্রবেশের সুযোগ নেই, এটিও কুরআন দ্বারা স্বীকৃত।

তাহলে কি বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা নয়

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি অস্ত্রসহ আটক

এসব অপরাধ আমাদের ধর্মহীনতার বা সঠিকভাবে ধর্মটি না জানার কারণেই আমলনামাতে এত অপরাধ জমেছে। তারপরও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী শাসকবর্গের গাফিলতিতেই যুদ্ধপরাধের প্রকৃত বিচারের ভার গিয়ে পড়েছে বিধাতার উপর। আমার নিজের জানা মতে ঐ সময়ে জনতারা ওদের দ্বারা নিগৃহীত হয়েছেন কিন্তু তাদের বিচার করার কোন অবকাশ নেই কারণ তারা মরে গিয়ে পরপারে পাড়ি দিয়ে দুনিয়ার বিচারের বাধা পার হয়ে গেছেন। আরো দু একজনা দাগদেয়া কিছু উল্লেখযোগ্য জন আছেন, যারা ঐ সময়ের পর আর কেউ চোখে দেখে নাই মানে তারা ছদ্মবেশে হয়তো কোথাও আছে অপকর্মের ছাপ মাথায় নিয়ে। এটিও তারা দুনিয়ার ময়দানে পাপের খেসারতে এভাবে মৃতের ভূ’মিকা পালন করছে। আবার কিছুজনা জানা যাচ্ছে খুব কৌশলে ভিড়ে গেছে শাসক বর্গের চাঁদোয়ার তলে। ন্যায় বিচারের বড় শর্ত হচ্ছে নির্দোষ যেন কখনোই শাস্তি না পায়। ন্যায়বিচার করা কুরআনের কড়া শর্ত। কুরআন বলে একজন নির্দোষ হত্যা মানে গোটা জনপদ হত্যার সামিল, সেটি বিচারকদের স্মরণ রাখতে হবে। অনেক সময় আইনজীবিরা মনে করেন তারা ক্ষমতাধর। আসলে তাদের কাজ নয় কাউকে শাস্তি দেয়া বা কাউকে মুক্ত করে দেয়া। তাদের উচিত ন্যায়পরায়নতার দিকে ঝুকে থাকা। তবেই ইহ ও পরকালেও তাদের সুষ্ঠ পাওনা জমা হবে নয়তো বিচারকদেরও কঠিন বিচার সামনে ঝুলছে। এযাবত বিচারের নামে যেসব প্রহসন সামনে আসছে তাতে জাতির চিন্তিত হয়ে পড়ার কথা! বিচারক মানিকের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, আজ দেখলাম দুদকে দুনাম্বার মামলাটি করা হয়েছে। তিনি তার দ্বৈত নাগরিকত্ব তথ্য গোপন করেছেন যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশে^র প্রতিটি সদস্যকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সামনের শেষ বিচারের মোকাবেলা করতে বিধাতার আদালতে করা বড় ফৌজদারী মামলার প্রস্তুতি নিতে হবে। বেশিরভাগ জনতারা বিধাতার আইনের কোন তোয়াক্কাতে নেই তার প্রমাণ পবিত্র কুরআনের বানী যা তাদের কার্যকারণে ধরা পড়ে। নাহলে তারা কখনোই অসৎ পথে যেত না, অসৎ কামাই ঘরে উঠাতো না। বরং দেখা যায় বেশীরভাগ মুসলিম জনতারা মুসলিম প্রধান একটি দেশে কুরআনহীন ধারাকে সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করতেই বাড়তি তৎপর।

শেখ মুজিবের বাকশাল আর শেখ হাসিনার বকশালে পার্থক্য আছেঃ গোলাম মওলা রনি

৯ ফেব্রুয়ারীতে একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী একটি আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্য হিসাবে কিছু যুক্তি তোলে ধরেন, যা আমি সংক্ষেপে তুলে ধরছি। আশংখার সাথে ব্যাখ্যা রাখেন বিচারবিভাগ মনে হচ্ছে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। তার জীবদ্দশাতে তিনি বিচারবিভাগের এ পরিণতি দেখতে রাজি নন, তার আগে তার মরে যাওয়াই কাম্য! গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরশাসনের সীমারেখাতে এসব হয়। তিনি উল্লেখ করেন ঐ বিতর্কিত বিচারপতি মানিককে ঐ সংসদেই একজন স্যাডিস্ট হিসাবে আখ্যায়িত করেছিলেন, যা বর্তমানে অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণতার দিকে যাচ্ছে। তারপরও তিনি কেন আবারো আপিল বিভাগে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। সুপ্রিম কোর্টের অনেক সর্বনাশের দায় তার ঘাড়ে চাপে। এক এক জনের কাছে এক দেড়শ মামলা রয়েছে রায় লেখার অপেক্ষাতে, যা দুঃখজনক। এর দায় আইনজীবিদের, তাদের একযোগে এটি শোধরানোতে ঝাপিয়ে পড়া উচিত। আইনজীবিরা যেন আদালতের বাইরে রাজনীতি করেন, ভিতরে নয়। আপনাদের কাজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে এর উপর জোর দেয়া, অনাচার করা নয়। তিনি সদ্য প্রকাশিত পত্রিকার একটি বিপদজ্জনক আতংকিত সংবাদের উপরও আলোকপাত করেন। এর বিশেষত্ব হচ্ছে যে কোন নাগরিকের নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারে সরকার। নতুন আইনে একজন রাজাকারের সম্পত্তি তার ছেলেপেলে পাবে না। বাবার শাস্তি ছেলে ভোগ করবে। ফৌজদারি আইনে একজনের শাস্তি আরেকজন ভোগ করতে পারে না। গণতন্ত্র থাকলে এসব হবার কথা নয়। এসব প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র মৃত। প্রাক্তন বিচারক তার সময়কালীন বিচারের সাথে বর্তমানের অনেক অসঙ্গতিও তুলে ধরেন। অবসরের পরে কেউ রায় লেখলেও সেটির আদেশ অংশ পরিবর্তন করার কোন সুযোগ নেই। ওটি করতে হলে সেটি রিভিউ করতে হবে। তা না করে কেউ যদি ছয় নয় মাস পরে রাতের আধারে রায়ের আদেশের অংশ পরিবর্তন করে তবে সেটি ফৌজদারী অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। বেশীর ভাগ অপরাধী রাজাকাররা ৪০-৪২ বছরের মাঝে মারা গেছে। একই দিনে একজন আইনজীবি এ বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে এর বিচারিক মর্যাদা প্রত্যাহার চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন। তিনি লিখিত আবেদন করেন অবসরপ্রাপ্ত এ বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের ৫০০ আইনজীবীকে হেনস্তা ও অপমান করেছেন। তার আনুসাঙ্গিক আচরণে গরিষ্ট সংখ্যক আইনজীবীরা মর্মাহত ও বাকরুদ্ধ।

এ ব্যাপারে কুরআন বলে “যে কেউ সঠিক পথে চলে সে তার নিজের জন্যই সঠিক পথে চলে। আর যে বিপথে যায় সেও নিজের বিরুদ্ধেই বিপথে চলে। আর একজন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না” (সুরা বনি ইসরাইলএর ১৫ আয়াত)। আবার “বলো – কী! আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য প্রভু খুঁজবো, অথচ তিনিই সবকিছুর মালিক”? আর প্রত্যেক সত্তা তার নিজের জন্য ছাড়া আর কিছু অর্জন করে না, আর কোন ভারবাহক অন্যের ভার বহন করবে না”। তারপর তোমাদের প্রভুর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দিবেন যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করে চলছিলে” (সুরা আল-আনআম এর ১৬৫ আয়াত)। উপরের দুটি সুরার দুটি আয়াত দিয়ে শাসকবর্গসহ বিচারকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এটি প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করা কুরআন গ্রন্থের মর্যাদা দেয়া ৯০% জনতার দাবী। এখন এর উপর আপনারা শক্তিমান বিচারপতি ও শাসকরা ঈমান বহাল রাখবেন, না প্রত্যাখ্যান করবেন তার উপর নির্ভর করছে এর বাতিল হওয়া বা টিকে থাকা। এবং একই সাথে এর উপর নির্ভর করছে আপনাদের নিজেদের ঈমানের পথে চলাও, প্রধান বিচারপতি সিনহাও এর বাইরে নন। তিনিও ন্যায়নিষ্টদের একজন হিসাবে সাক্ষর রাখার পথে পদক্ষেপ রেখে ইতিমধ্যে জাতির দুর্দিনে কিছু পদক্ষেপ রাখতে পেরেছেন। আমরা ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে রইলাম। অতীতে অধ্যাপক গোলাম আযমের নাগরিকত্ব মামলাতে এটি এসেছে যে, জন্মসূত্রে যে নাগরিক তাকে রাষ্ট্রহীন করা যায় না। অতীতকে স্মরণ করিয়ে দিতে এ কথাটি বলা। বাংলাদেশের গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষ মুসলিম, এবং কুরআনই তাদের পথনির্দেশিকা যা নির্দেশকরা পরখ না করে বারে বারে জটিলতাতে জড়িয়ে পড়ছেন। আমার মনে হয় এর উপর সুক্ষ্ম নজর রাখলে অনেক অপরাধ এড়িয়ে অতি দ্রুত মানুষের মর্যাদা নিয়ে শিখরে পোঁছা সম্ভব।

 

নাজমা মোস্তফা,   ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ সাল।

কণ্ঠে পরিয়ে দাও কাঁটার মালা

অতিরিক্ত মুখর ব্যক্তি সুরঞ্জিতদের লাগামছাড়া বাগাড়ম্বরে দেশ বঙ্গোপসাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। ফারাক্কা তিস্তাতে ডুবার সুযোগ নেই, নতুন বালিতে ভরাট চরে দেশ মরুভূমির পথে। খবরে প্রকাশ কৃতিত্ব অর্জনকারী পুলিশরা ছড়ি হাতে দেশ চালাচ্ছে। সরকার গলদঘর্ম হওয়ার ভনিতা করছে, খুঁজে পাচ্ছে না এর কারণ? হাজার দাগের মাঝে মাত্র একটি দাগ। জেলা ভিত্তিক রেকর্ড হিসাবে ৩২ হাজার পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিতর্কীত দাগ নাম্বারে। এর মাঝে গোপালগঞ্জের হচ্ছে ৮,০০০ আর কিশোরগঞ্জের ৭,০০০ (২০১৩)। একটি বিশেষ অঞ্চলকে সিলেকশনে রাখা হয়েছে। আবার জাতি ধর্ম নির্বিশেষে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কেও ঠিক এভাবেই কাউন্টার দেয়া হয়েছে যা চরম বিতর্কীত পর্যায়ে পড়ে। দেশটিতে অনেক অনাচার হচ্ছে সম্পাদকদের নাকের ডগা দিয়ে অনেকেই টু শব্দটি করার যুক্তি খুঁজে পান না। স্বার্থপরেরা যখন দেখে নিজের মাথা ঠিক জায়গায় আছে তখন অন্য কথা ভুলেও চিন্তা করে না। বরং দেশ বিধ্বংসী কাজেও আগুয়ান হতে নীতির রাজ্যেও দ্বিধাগ্রস্ত হয়না। আজ উল্টো বাতাসে ২০১৬ সালের শুরুতে বড়ই বেকায়দায় ডেইলী স্টারের মাজফুজ আনামকে কিছু সত্য স্বীকার করতে হলো দায়েপড়ে। পরদিনই দেখি প্রধানমন্ত্রী পুত্র মুখর ১/১১তে তার বড় চেয়ারে বসা মায়ের কারাগারের অপরিসীম অপমানের প্রতিবাদ ছিল তা, এমন কি ঐ প্রতিবাদে সংসদও মুখর। টকশোতে এসব সম্পাদকদের নীতিহীনভাবে মুখর দেখতাম, এদের ভূমিকা সবদিনই এত প্রশ্নবিদ্ধ থাকতো যে দেখতে ইচ্ছে করতো না। এভাবে ঐ সব পত্রিকা পড়ার অভ্যেসেও ভাটা পড়ে। ভুলেও ওপথ মাড়াতাম না, মন চাইতো না। দেশে গেলে দেখতাম সব স্বজনের বৈঠকখানাতে ঐসব পত্রিকা সারিবাধা রাখা। গভীর বিস্ময়ে প্রশ্ন রাখতাম তোমরা কি মনে করো এ পত্রিকাটি ভালো? বদলে দেয়ার যে অঙ্গিকার ওখানে সেটে দেয়া ওটি একটি প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। নিউ এইজের সম্পাদকের একটি লেখা পড়লাম, যেখানে তিনি বড় গলাতে বলেছেন অন্তত একটি পত্রিকা এসব মাথা বিক্রিতে নেই। এ লোকটির বুকের পাটা যুক্তির মানদন্ডে এতই  শক্ত যা প্রশংসাযোগ্য।

রাষ্ট্রীয়ভাবে সার্কুলার জারী করা দেশের জন্য বিপদজনক ব্যাক্তি“ শেখ হাসিনা

আমার মনে হয় নষ্ট পথের এধারার লোকদের জন্য কাঁটার মালা রেডি করে পরিয়ে দেবার রীতি দেশ সমাজ ও বিচার থেকে করলে ভালো হতো। এদের  এ দাগ ইতিহাসের পাতাতে চিহ্নিত কাঁটা হয়ে থাকতো। শোনা যায় নবী ঈসা (আঃ)কে ধর্ম বিরোধীরা হাস্যরস করতে এ কাজটি করেছিল। তাকে টিটকারী করে সেদিন ইহুদী রাব্বিরা মাথায় কাঁটার মুকুট পরিয়েছিল একজন সম্মানিত নবীকে। আজ দু’হাজার বছর পর আমরা ইহুদী খৃষ্টান মুসলিম যে কেউ বলতে পারি কাজটি মোটেও সঠিক হয়নি। কারণ তার ক্রেডিট কখনোই ওটির জমা নয়, এসব ছিল চক্রান্তকারীর ষড়যন্ত্র। বরং এখানের এসব সমাজ ও দেশ বিধ্বংসী অপরাধীর জন্য কাঁটার মালা মনে হয় বেশ উপযুক্ত হতো।

মানুষের স্বভাব কয়লার মত সহজে বদলায় না, ধুলেও যায় না, বার বার স্বরুপে উদ্ভাসিত হয়। আজ যারা মাহফুজ আনামকে গালিগালাজে এক কদম আগুয়ান মূলত এরা একজোট ছিল, এরা তাদের নিজেদেরই দালাল ছিল কিনতু কোনদিকে বখরার ভাগে কম পড়েছে আল্লাহ মালুম, এবার উল্টো সুরে নতুন গান পরিবেশিত হচ্ছে। তাদের নিজেদের দলবাজরাই এতদিন শত অনাচার দেখেও কিছু বলেনি, নিরব থেকেছে। এবার বলছে এসব প্রথম আলো ও ডেইলী ষ্টারের দুজনের ঠাটবাট এত প্রবল যে কখনো কখনো সরকারের চেয়েও বলিষ্ট মনে হয়েছে। তারা বলছে পৃথিবীর আর কোন স্বনামধন্য পত্রিকা এমন শক্তিশালী সম্পাদক এর আগে পায়নি! এসব বলছেন তারাই যারা এতদিন তাদের পেছনে জোরে তালিয়া বাজিয়েছেন! এখন তারা এমনও সন্দেহ করে প্রশ্ন রাখছেন যে, এ ভুল স্বীকার করা হয়তো অন্য কোন নতুন খেলার নাম! সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এ সম্পাদক এখনো গোলামীতে আকন্ঠ না হলেও অর্ধেক কোমর পর্যন্ত ডুবে আছেন। কারণ তিনি সরি বলছেন হাফ অপরাধের বাকী হাফের কোন সরি তার মুখে আজো নেই। সেনা নিয়ন্ত্রিত সময়কালীনই হোক আর বিডিআর বিদ্রোহের সময়ই হোক সেখানে ঐ পাড়াতে তেমন কোন খবর জমতো না। আমি নিজে বিদ্রোহের খবর জমাতে পাগলের মত ঘুরে বেড়িয়েছি শুধু জানার জন্য, সেখানে ঘটনার তুলনায় সীমাহীন পিন পতন নিস্তব্ধতা বিরাজমান। প্রতিটি দুর্যোগে তারা চুপ, প্রতিবাদহীন ষড়যন্ত্রে দাগ রাখা জনতাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মিথ্যের কুয়োতে উটের  মাথা অবদি গুঁজে দিয়ে বদলে দেয়া নাটকের চালে দক্ষ।

সম্প্রতি স্বীকার করা অপরাধ হচ্ছে “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর” যাচাই ছাড়া প্রকাশ করে সাংবাদিকতা জীবনের বড় ভুল তিনি করেছেন।  এতে ধারণা হয়,  এ ছাড়া তার সম্পাদক জীবনে আর কোন বড় ভুল নেই। তাই তার বিরুদ্ধে কিছু প্রতিবাদ ও গ্রেফতার দাবী জমা হয়েছে। কিনতু প্রকৃত অপরাধে যে গোটা জাতি মাথা হারালো, মগজ হারালো, ধড় হারালো পঙ্গু হয়ে গেল, তার সবটাই লুকিয়ে রেখে যে অপরিসীম দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন তার জন্য যারা তাকে আজীবন মাথায় তোলে রাখার কথা ছিল। তারা ছলবাজরা কিনতু তা করছে না, বরং গ্রেফতার ও বিচার চাইছে। সম্প্রতি বিএনপির নেতা রিজভী তাদের একটি সম্পাদকীয় কলামের উদাহরণ টেনেছেন, “ট্রিবিউট টু জিয়া” যেখানে উদ্দেশ্যমূলক ছলনার প্রচারে হাত দাগার প্রমাণ দেখিয়েছেন। সেদিন তারা ঐ প্রতিবাদী ছেলে জয়ের পক্ষে দালালি করতে গিয়ে ওটি করেছেন সন্দেহ নেই। তাছাড়া শুধু বিডিআর বিদ্রোহই নয়, ১/১১ এর পর হাসিনা ও খালেদাকে এক দড়িতে বেঁধে ‘মাইনাস টু তত্ত্বের’ নাটকে নামেদাগে শক্ত ও তৎপর থেকেছেন।

অনেকে যুক্তি দেখাচ্ছেন সম্পাদক দায়ী হলে মালিক প্রকাশকও দায়ী। এরকম নানাজন নানা প্রশ্ন তুলছে। কার ইঙ্গিতে বা কার চাপে তিনি মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করছিলেন? মাহফুজ আনাম এর ফাঁকে অনলাইন ভারসনে পুরানো একটি লেখা দিয়েছেন ভাবখানা গণতন্ত্রের জন্য তিনি এসব করেছেন। এসব প্রশ্নের জমা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। যারা টকশো দেখেছেন তারা বলছেন সেদিন তিনি প্রথমে রেগে গিয়ে প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতে চান। উল্টো প্রতিপক্ষকে জোর গলাতে হুমকি দিতে থাকেন যে প্রমাণ ছাড়া টকশো থেকে যেতে পারবেন না। যখন প্রমাণ আনা হলো তখন তিনি এড়িয়ে যেতে চান, তারপর ফেঁসে গিয়ে দায় স্বীকার করেন ঘটনার এত বছর পর তার আগে নয়। অনেকেই এটি করেছে বলে ঐ দায় অনেকের ঘাড়ে চাপিয়ে বাঁচার শেষ প্রচেষ্ঠা চালান। ঐ দিন ঠেকায় না পড়লে তিনি কি কিয়ামতের আগে এসব খোলাসা করতেন? মনে হয় না। কার উৎসাহে এসব অপরাধে হাত দাগান, নিজের অতি উৎসাহে, নাকি ভিন্ন কোন যোগসূত্র, স্পষ্ট করলে অন্তত জাতি অনেক অপকারের পরও কিছুটা উপকৃত হতো। কিসের লোভে এতবড় বেঈমানীতে উৎসাহ পেলেন? ভুলের সব প্রতিবেদন কি প্রত্যাহার করা হবে? সেখানে ভুলের প্রতিবেদনগুলি আর কি কি ছিল, বলা যাবে কি বা এর সিরিয়েল ফর্দগুলি কি জাতি জানতে পারবে? অপকর্মের একটি ফর্মা আছে, এসব অপকর্ম কি ধরণের চুরি ডাকাতি বাটপারি অবিচার অনাচার চাটুকার আর কি কোন নতুন ব্যাখ্যার পর্যায়ে পড়ে কি না? শামিম ওসমানদের নানা ধরণের অপরাধ আর নারায়নগঞ্জের সাত খুনের ও চলমান সময়ের এ সম্পাদক ঘটিত মিথ্যা প্রচারের সংবাদ অপরাধের মাত্রাতে কোনটি বেশী ক্ষতিকর নাকি সমান সমান?

মাহমুদুর রহমান সত্য প্রচার করেও ফেঁসে গেলেন আর উনারা মিথ্যে প্রচার করেও আধা ডজনের বেশী বছর থেকে বাতাস খেয়ে জেলের ঘানি না টেনে টকশো করে বেড়াচ্ছেন! অন্য অনেকের জন্য টকশোতে পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখা হয়েছে, এর মূল কতদূর গভীরে জাতি ধ্বংসে অবদান রেখেছে, সেটি কি খোলাসা করা যাবে? এর জবাব কি বিশাল ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী সংসদ বা তার পুত্রের কাছে আছে? ময়দানে এত অপরাধ খোলাসা হবার পরও কি ঐ সম্পাদক পদত্যাগ করার চিন্তা করতে পারবেন? কলমের কালিতে এ যাবত গণতন্ত্র রক্ষায় এ ধারার নাটকসম কয়টি শক্ত ও গভীর ছলনার অপরাধ করেছেন, তা কি জাতি জানতে পারবে? মিথ্যে স্লোগান নির্ভর ছলের অপরাধে গোটা জাতিকে প্রতারণা করাতে জাতি কতটুকু হারিয়েছে তা কি জাতি আঁচ করতে পারছে? চলমান সংসদ আংশিক ব্যক্তির জন্য সোচ্চার হয়েছে কিনতু জাতি তার চেয়ে অনেক বেশী ব্যাপক ও বিসতৃত, তার পরিমাপ কে করবে?

এবার জটিল সময়ই নাড়িভুড়ি উগলে সব উদগিরণ করছে, সম্ভবত এটি আসরের কসম কিনা জানি না। কুরআন শরিফে আসরের কসম খেয়ে  দোহাই দিয়ে বলা হয়েছে এমন একটি পৃথিবী ধ্বংসের শেষ মুহুর্তের সংগীন সময় আসবে। ওদিকে ‘কিয়ামতের ঘড়ি’ বলে নতুন বিপদ সংকেত পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ক বুলেটিনে প্রতীকি ঘড়িটিতে মধ্যরাত আসতে মাত্র তিন মিনিট বাকী রিডিং দিচ্ছে। এটি ১৯৪৫ সালে শিকাগো বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েকজন বিজ্ঞানী প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিজ্ঞানীরাই বিশে^ প্রথম পারমানবিক বোমা তৈরী করেছিলেন। সেটি সম্প্রতি ৫ মিনিট থেকে ৩ মিনিটে স্থাপন করা হয়েছে। গোটা বিশে^র অশান্ত পরিস্থিতির উপর পর্যবেক্ষণ করে এটি নির্ধারণ করে বিজ্ঞান ও নিরাপত্তা বোর্ড। সেখানে পদার্থবিদ, পরিবেশবিদসহ ১৬ জন নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে এটি গঠিত। অতি সম্প্রতি এ বছরের শুরুতে এ রিডিং আসে। তাহলে এমন সংগীন সময়ে কুরআনে নির্দেশিত সতর্ক সংকেতটি স্মরণ করারও যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি। “ভাবো অপরাহ্ন কালের কথা। নিঃসন্দেহ মানুষ আলবৎ লোকসানে পড়েছে। তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, আর পরস্পরকে সত্য অবলম্বনের জন্য মন্ত্রণা দিচ্ছে এবং পরস্পরকে অধ্যবসায় অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে” (সুরা আল-আসর ১-৩ আয়াত)। কঠিন শক্ত কথাটি হচ্ছে সমস্ত মানব জাতিই ক্ষতির মাঝে নিহিত। একমাত্র অতি সামান্য সংখ্যক মানুষ যারা ঐ সততার চিহ্নিত শর্তগুলিতে অবদান রেখেছে, তারা ব্যতীত।

 

নাজমা মোস্তফা,  ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬।

বাংলাদেশে সরকারী নিয়োগে হিন্দু প্রলয়াম

এমন বিপর্যয়ে একটি ডকুমেন্ট সংযোজন করছি, যা প্রত্যেকটি বাংলাদেশীর জানা দরকার। (নীচে ভিডিওটি সংযোজিত হলো)

এর মধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য বিলি করেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা নূরে আলম সিদ্দিকী। তিনি উনসত্তরের গনআন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। সম্প্রতি চ্যানেল আইএর এক টকশোতো একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন তিনি। দেখা যায় সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব হিসাবে যে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হয়েছে তাদের ৬৭ জনের মধ্যে ৪৬ জনই অমুসলিম, অথচ সাতটি পদও খালি ছিল না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন সারা জীবন তিনি অসাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তিতে লড়েছেন, সারা জীবনে মৃত্যুর ঝূঁকি নিয়ে হিন্দুদের জন্য কাজ করার উদাহরণ তৈরী করেছেন। তারপরও এ অমানবিকতার জবাব চেয়ে বলেন ৯১% মুসলিম প্রধান একটি দেশে এসব কিসের আলামত? তিনি এটি স্পষ্ট করেন যে এদেশের কিছু বুদ্ধিজীবী দেশটিকে ভারতের অঙ্গরাজ্য করতে চায়। এর জন্যই কি দেশটি স্বাধীন করা হয়েছে? এ প্রশ্ন সাধারণের নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধার। সরকার জিয়াকে মানুষের মন থেকে মুছে দেবার জন্য তার কবর সরিয়ে নিতে চাচ্ছে, কিন্তু যে কবরকে মানুষ হৃদয়ের কোটরে স্থান দিয়েছে তাকে ওখান থেকে সরানোর সে শক্তি কি এ পরনির্ভর অস্তিত্বহারা সরকারের আছে? অতীতের লেন্দুপ দর্জিরা কি ইতিহাসে এ রকম কোন উদাহরণ তৈরী করতে পেরেছে? তারা চিরদিনের জন্য ইতিহাসের আস্তাখুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

ভারতের একজন প্রফেসর মুশিরুল হাসান ভারতের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, যিনি পদ্মশ্রী প্রাপ্ত। তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ^বিদ্যালয় থেকে এম এ করেন ১৯৬৯ খৃষ্টাব্দে, পিএইচডি করেন ক্যামব্রিজ থেকে। পেশাতে শিক্ষক, দিল্লী বিশ^দ্যিালয়ের জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়ার ভাইস চ্যান্সেলর, ২০১০ সালে ন্যাশনাল আরকাইভস অব ইন্ডিয়ার মহাপরিচালক করা হয় তাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন যে, কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত বড় বড় এলাকাগুলির দিকে একবার তাকান। এভাবে কি মানুষ বাস করতে পারে? পৃথিবীর কোথাও এভাবে বাস করতে পারে? তাদের জন্য আজ পর্যন্ত কোনো সুযোগ সুবিধার বন্দোবস্ত করা হয়েছে? মোটেও হয়নি। কারণ তারা মুসলিম এবং গরীব। বাস্তব এটিই যে মুসলিম এলাকায় নাগরিক পরিসেবা প্রায় নেই বললেই চলে। একই শ্রেণীর মুসলিম ও হিন্দুরা যেভাবে বসবাস করে তার তুলনা করলেই প্রকৃত সত্য পেয়ে যাবেন, পার্থক্যটি বুঝতে পারবেন। বহু শহরেই এটি আমি দেখেছি। এ নিয়ে আমি পড়াশুনা করেছি, লিখেছিও। তবে কলকাতা নিয়ে এরকম কথা আগে বলিনি (নতুন বার্তা/এসএফ) (সম্ভবত আতংকিত পরিস্থিতিই বিলম্বের কারণ)। ভারত সব সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর লড়াই লাগিয়ে রাখতে চায়, এর অনেক দৃষ্টান্ত বর্তমান। কিন্তু নিজ দেশের সংখ্যালঘুকে কি পর্যায়ে অমানবিকতার পর্যায়ে রেখেছে তা স্পষ্ট করতে এ সামান্য উদাহরণটুকু। সহজ কথাটি হচ্ছে স্যংখাগরিষ্ঠ বাংলাদেশী ও সংখ্যালঘু ভারতীয় মুসলিমরা বর্তমানে উভয় রাষ্ট্রেই মুসলিম নামধারী এ বিশেষ সম্প্রদায় অতিরিক্ত নির্যাতীত বলেই মনে হচ্ছে।

সংবিধান রক্ষার নির্বাচন ছিল ২০১৪এর নির্বাচন, কত বাহানা নীতিহারা মানবিকতা বিসর্জন দেয়া এ সরকার এসব কাজে নিজের দেউলিয়াত্ব বারে বারে স্পষ্ট করে চলেছে। চারপাশে ছড়ানো উদাহরণ দৃষ্টিহীন সরকার না দেখলেও বাকী জাতি মোটেও রাতকানা আক্রান্ত নয়। “ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (ই.বি.আর) ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ই. পি. আর) এর গুটিকয়েক অফিসার ও সৈনিকদের অসাধারণ সাহস ও দৃঢ়তাই পশ্চিম পাকিস্তানী বাহিনীকে সারাদেশে অবাধ শক্তির প্রভাব বিস্তারে বাধাগ্রস্ত করেছে। তারাই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন! সর্বকালের, সর্বদলের অকুতোভয় জনগন তাঁদেরই কুর্নিশ করবে!! অ্যান্থনী ম্যাসকারেনহাস “দ্যা রেইপ অফ বাংলাদেশ” বঙ্গানুবাদ লেঃ কঃ আবু ওসমান (এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম, পৃষ্ঠা ১১০)।”

হে বিবেচক দেশবাসী! আপনারাই বলুন, দেশী বিদেশী এসব উদাহরণ মুছে কি কবর সরিয়ে ফেলা যাবে? পাকিস্তানের সময়ে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের আমলের লুই কানের নকশার দোহাই দিয়ে সরকার তসবিহ জপছে! আইয়ুবের গন্ধ মেটাতে গোটা সংসদ ভবনই ভেঙ্গে ফেলুক! সরকারসহ তাদের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের ৪৫ উত্তর সংকীর্ণতার স্বার্থে আইয়ুব প্রেমের নবতর ইউটার্ন দেখে দেশবাসী কখনো বিস্মিত আবার কখনো হতবাক! তারপরও সরকার বাস্তবকে স্বীকার করতে পারছে না, হিংসার অনলে পুড়ে সংকীর্ণ মানসিকতায় কখনো ঘর ভেঙ্গে চলেছে আবার কখনো কবর ভাংতে হাতুড়ী হাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০১৩ সালে পাওয়া একটি ব্লগের সূত্রে পাওয়া হিন্দু নিয়োগের  তালিকাটি নিচে দিচ্ছি। ধারণা হয় এর তিন বছর পর বর্তমানেএটি আরো বহুগুণ বেশী শক্তভাবে সমাজের ভারসাম্য অবস্থান বিপন্ন করে তুলছে।

বর্তমানে সচিবদের মধ্যে হিন্দু তালিকা = (3)

(1) BARUN DEV MITRA (2) UJJWAL BIKASH DUTTA (3)RANJIT KUMAR BISWAS

বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবদের মধ্যে হিন্দু তালিকা = 34

(1) SWAPAN KUMAR SAHA (2) BHIM CHARAN ROY (3) JNANENDRA NATH BISWAS
(4) SWAPAN KUMAR SARKER (5) SHYAMAL KANTI GHOSH (6) AMALENDU MUKHERJEE
(7) PRANAB CHAKRABOTY (8) SITANGSHU SEN (9) PARIKSHIT DATTACHOUDHURY
(10) DILEEP KUMAR DAS (11) SHYAMA PADA DEY (12) BIJON KUMAR BAISHYA
(13) TAPOS KUMAR ROY (14) PROKASH CHANDRA DAS (15) ASIT KUMER MUKUT MONI
(16) DILIP KUMAR BASAK, NDC (17) JAGODISH ROY (18) SUSHEN CHANDRA DAS
(19) KAMAL KRISHNABHATTACHARYYA (20) SWAPAN KUMAR ROY (21) SWAPAN KUMAR SARKER (22) PABAN CHOWDHURY (23) TAPAN KUMAR KARMAKER (24) APARUP CHOWDHURY (25) ASHISH KUMAR SARKER (26) ASHOKE MADHAB ROY
(27) TAPAN KUMAR CHAKRAVORTY (28) JISHNU ROY CHOUDHURY (29) NABHASH CHANDRA MANDAL (30) DR RAKHAL CHANDRABARMAN (31) MONOJ KUMAR ROY
(32) AMITAVA CHAKRABORTY (33) RANJIT KUMARCHAKRABORTY (34) SHUBHASHISH BOSE.

বর্তমানে যুগ্ম সচিবদের মধ্যে হিন্দু তালিকা= (131)

(1)PARIMAL CHANDRA SAHA (2)RATAN KUMAR ROY (3)CHANDRA NATH BASAK
(4)DILIP KUMAR SHARMA (5)RABINDRA NATH ROYCHOWDHURY (6)GANESH CHANDRA SARKER (7)SUKUMAR CHANDRA SAHA (8)PANNA LAL CHOWDHURY (9)JIBAN KUMAR CHOWDHURY (10)KOUSHALYA RANI BAGCHI (11)TAPAN CHANDRA MAZUMDER
(12)MANOJ MOHAN MITRA(M.M.MITRA) (13)BINOY BHUSHAN TALUKDER (14)PARESH CHANDRA ROY (15)DR. ARUNA BISWAS (16)NIKHIL CHANDRA DAS (17)ANANTA KUMAR CHOWDHURY (18)NARAYAN CHANDRA BARMA (19)BIJAN KANTI SARKER (20)BIMAN KUMAR SAHA, NDC (21)BIJOY BHATTACHARJEE (22) JYOTIRMMOY SAMADDER (23)RABINDRA NATH SARMA (24)KAMALESH KUMAR DAS (25)BIKASH CHANDRA SAHA (26)BIKASH KISHORE DAS (27)PATIT PABON BAIDYA (28)ANANDA CHANDRA BISWAS (29)PROSANTA KUMAR ROY (30)AJIT KANTI DAS (31)MANIK CHANDRA DEY (32)KALI RANJAN BARMAN (33)RUPAN KANTI SEAL (34)GAUTAM KUMAR GHOSH (35)BASHU DEV ACHARJEE (36)MANOBENDRA BHOWMIK (37)GOPAL KRISHNA BHATTACHARYYA (38)BABUL CHANDRA ROY (39)PUNYA BRATA CHOUDHURY (40)SHANKAR CHANDRA BOSU (41)MALAYA TALUKDER (42)SUSHEN CHANDRA ROY (43)MRIDUL KANTI GHOSE (44)GOKUL CHAND DAS (45)SUBIR KISHORE CHOUDHURY (46)PARIMAL KUMAR DEV (47)BHABESH CHNDRA PODDER (48)SHIKHA SARKAR (49)MANINDRA NATH ROY (50)DHIRENDRA CHANDRA DAS.

Indian are getting job In Bangladesh Police

এ ভিডিওতে দেখেন কিভাবে ইন্ডিয়ানরা এদেশে চাকরি বাগিয়ে নিচ্ছে।

এটি অনেক বেশী জানার কথা ইন্ডিয়াতে মুৃসলিমদের জন্য সবদিনই দরজা সেটে রাখা, আজো কি তার ব্যতিক্রম? এসব চলমান বাস্তবতা। ভারতে একটি মামুলি চাকরির জন্যও তাদেরে ভনিতা করতে হয় যে তারা হিন্দু। এমন উদাহরণ বাস্তবে সর্বত্র এমন কি ইন্টারনেটেও প্রমাণ বর্তমান। । কারণ সংখ্যালঘু মুসলিমের জন্য চাকরি নিষিদ্ধ বেমানান। প্রকাশ্যে গুজরাট দাঙ্গাতে তারা এটি প্রমাণ করেছে ময়দানে, সেটি কম বেশী সব সময়ই চলমান। দেশে কিছু মুসলিম নামধারী আঁতেলরা প্রচার করে এসব হেইট ক্রাইম। যদিও লিস্ট দেয়া হাবিব সিদ্দিকীর মূল লেখাটি ছিল হিন্দুদের পক্ষ থেকে হেইট ক্রাইমের অপবাদের জবাবে লেখা। হাবিব সিদ্দিকীর লেখা লিংক এড্রেস নীচে দেয়া।

(51) AMRITA BAROI (52)SHASHI KUMAR SINGHA (53)SUNIL CHANDRA PAL (54)ASHOKE KUMAR BISWAS (55)SUPRIYA KUMAR KUNDU (56)MANIK LAL BANIK (57)JYOTIRMAY DUTTA (58)NARAYAN CHANDRA DAS (59)BIMAL CHANDRA DAS (60)BHOLA NATH DEY (61)BASHUDEB GANGULY (62)ARUN KUMAR MALAKER (63)NIMAI CHANDRA PAUL (64)DR NOMITA HALDER (65)SUBHASH CHANDRA SARKER (66)MARAN KUMAR CHAKRABORTY (67)TAPAN KUMAR GHOSH (68)PRIYATOSH SAHA (69)GAURANGA CHANDRA MOHANTA (70)SUBRATA ROY MAITRA (71)PARITOSH CHANRA DAS (72)DIPAK KANTI PAUL (73)ARIJIT CHOWDHURY (74)BONAMALI BHOWMIK (75)UTTAM KUMAR MANDAL (76)DILIP KUMAR SAHA (77)ITI RANI PODDAR (78)SWAPAN CHANDRA PAUL
(79)GOPA CHOUDHURY (80)AMIT KUMER BAUL (81)ASHOKE KUMAR BISWAS
(82)SAYTA BRATA SAHA (83)BISHWANATH BANIK (84)PRANESH RANJAN SUTRADHAR
(85)SHYAMA PRASAD BEPARI (86)SUSANTA KUMAR SAHA (87)GOUTAM KUMAR BHATTACHARRYA (88)RANJIT KUMAR SEN (89)HARIPRASAD PAUL (90)TAPAN CHANDRA BANIK (91)PARTHA PRATIM DEB (92)AVIJIT CHOWDHURY (93)SAURENDRA NATH CHAKRABHARTTY (94)SHANKAR RANJAN SAHA (95)DR ARDHENDU SHEKHAR ROY
(96)SHANKAR PRASAD DEV (97)PRANAB KUMAR NEOGI (98)SANTOSH KUMAR ADHIKARI (99)RAMA RANI ROY (100)TANDRA SIKDER. (101)SIMA SAHA (102)SMRITI RANI GHARAMI (103)PULAK RANJAN SAHA (104)TAPAN KUMAR SARKER (105)KONG KHAM NILMANI SINGHA (106)MINU SHILL (107)DHIRENDRA NATH SARKAR (108)ANJALI RANI CHAKRABORTY (109)PRANAY KANTI BISWAS (110)TARUN KANTI GHOSH (111)PROSANTA KUMAR DAS (112)MANOJ KANTI BARAL (113)SWAPAN KUMAR BARAL (114)BIJOY BHUSHAN PAUL (115) DIPAK CHAKRABORTY (116) NIKHIL RANJAN ROY (117) NANDA DULAL BANIK (118) SANJOY KUMAR CHOWDHURY (119) GOUTAM AICH SARKER (120) PRADIP RANJAN CHAKRABORTY (121) SHIB NATH ROY (122) NARAYAN CHANDRA DEBNATH (123) LAXMAN CHANDRA DEBNATH (124) JYOTI LAL KURI (125) JYOTIRMAY BARMAN (126) SUDHAKAR DATTA (127) REBA RANI SAHA (128) BIJAN LAL DEV (129) HIRANMAYA BARAI (130) DR. KRISHNAGAYEN (131) SUSHANTA KUMAR PRAMANIK

বর্তমানে উপসচিবদের মধ্যে হিন্দু তালিকা= (125)

(1)UTTAM KUMAR ROY (2)BIPUL CHANDRA ROY (3)JAGADISH CHANDRA BISWAS
(4)TAPAN KUMAR NATH (5)BIKASH CHANDRA SIKDER (6)DR. NALINE RANJON BASAK
(7)JAYANTI SANYAL (8)TAPAN KANTI GHOSH (9)RAM CHANDRA DAS (10)PRONAB KUMAR GHOSH (11)RAMENDRA NATH BISWAS (12)KAMALA RANJAN DAS (13)RATAN CHANDRA PANDIT (14)NITAI PADA DAS (15)UTPAL KUMAR DAS (16)NIMAI CHAND BISWAS
(17)AJIT KUMAR PAUL ACA (18)MAHADEV BISWAS (19)BIJAY KUMAR DEBNATH
(20)SUPROKASH SANYAL (21)TAPASH KUMAR BASU (22)JAGANNATH DAS KHOKON
(23)SHISHIR KUMAR ROY (24)NANDITA SARKAR (25)MOLOY KUMAR ROY (26)SWAPAN KUMAR GHOSH (27)KALLAL KUMAR CHAKRABORTTY (28)SHYAM KISHORE ROY
(29)PROBIR KUMAR CHAKRABORTY (30)DILIP KUMAR BANIK (31)NANI GOPAL BISWAS
(32)ANAL CHANDRA DAS (33)NISHCHINTA KUMAR PODDER (34)DULAL KRISHNA SAHA
(35)SANAT KUMAR SAHA (36)MRINAL KANTI DEB (37) RANJIT CHANDRA SARKER
(38)SATYENDRA KUMAR SARKAR (39)NITISH CHANDRA SARKAR (40)TULASHI RANJAN SAHA (41)SUBASH CHANDRA SAHA (42)MANINDRA KISHORE MAJUMDER (43)SUSHANTA KUMAR KUNDU (44)SATYAJIT KARMAKER (45)ASHOK KUMAR DEBNATH (46)SUBOL BOSE MONI (47)DR TARUN KANTI SIKDER (48)BISWAJIT BHATTACHARYA KHOKAN (49)SANJOY KUMAR BANIK (50)SATYA RANJAN MONDAL.

(51)BHUBAN CHANDRA BISWAS (52)RANJIT KUMER DAS (53)JAYANTA KUMER SIKDER (54)AMITAVH SARKER (55)PRANAB KUMAR GHOSE (56)MUKESH CHANDRA BISWAS (57)BIKARNA KUMAR GHOSH (58)ARUN CHANDRA MAHOTTAM (59)PRONAB KUMAR ROY (60)PALASH KANTI BALA (61)SUBRATA PAUL CHOWDHURY (62)DIPAK RANJAN ADHIKARY (63)SHASHANKA SHAKHOR BHOWMICK (64)ZANENDRA NATH SARKER (65)PRADIP KUMER DAS (66)GOUTOM KUMAR (67)SHIBANI BHATTACHARJEE (68)NITAI CHANDRA SEN (69)MALAY CHOUDHURY (70)SANJAY KUMAR BHOWMIK (71)RANAJIT KUMAR (72)KRISHNA KANTA BISWAS (73)TAPAN KUMAR SAHA (74)AMAL KRISHNA MANDAL (75)NIRANJAN DEBNATH (76)LIPIKA BHADRA (77)SULEKHA RANI BASU (78)BIDHAYAK ROY CHOWDHURY (79)DILIP KUMAR BANIK (80)MANOJ KUMAR ROY (81)PARIMAL SINGHA (82)SMRITI KARMAKER (83)REKHA RANI BALO (84)TAPAN KUMAR BISWAS (85)DR. SUBAS CHANDRA BISWAS (86)GULLAL SINGHA (87)GAUTAM CHANDRA PAL (88)TANMAYA DAS (89)BIJOY KRISHNA DEBNATH (90)PRADOSH KANTI DASH (91)MONORANJAN BISWAS (92)ASHIM KUMAR DEY (93)AJIT KUMAR DEBNATH
(94)PIJUSH KANTI NATH (95)RATAN KUMAR SARKER (96)SUKUMAR CHANDRA KUNDU
(97)ASHISH KUMAR SAHA (98)SHYAMOL CHANDRA KARMAKAR (99)AJIT KUMAR GHOSH
(100)UTTAM KUMAR KARMAKER.

(101)CHAYAN KUMAR DAS (102)SUSANTA KUMAR SARKER (103)BALAI KRISHNA HAZRA (104)NIRANJAN KUMAR MONDAL (105)BRAZA GOPAL BHOWMICK (106)DR. ANIMA RANI NATH (107)SURATH KUMAR SARKER (108)SWAPAN KUMAR BHOWMICK (109)GITANJALI CHOWDHURY (110)PANKAJ KUMAR PAUL (111)NANI GOPAL MANDAL (112)SANTOSH KUMAR PANDIT (113)SHYAMAL KUMAR SINGHA (114)ASHIM KUMAR BALA (115)MAHESH CHANDRO ROY (116)GOURISANKAR BHATTACHARJEE (117)DIPANKAR MONDAL (118)AJAY KUMAR CHAKRABORTY (119)SUKESH KUMAR SARKER (120)SWAPAN KUMAR MANDOL (121)PRODIP KUMAR SAHA (122)BIJOY RANJAN SAHA (123)BHOLANATH PAUL (124)NRIPENDRA CHANDRA DEBNATH (125) SANJIB KUMAR DEB NATH.

বর্তমানে সিনিয়র সহকারি সচিবদের মধ্যে হিন্দু তালিকা: (53)

(1) KIRAN CHANDRA ROY (2) DEBASHISH ROY (3) APARNA DEY (4) SHAILENDRO NATH MANDAL (5) RAJIB BHATTACHARJEE (6) PRAKASH KANTI CHOWDHURY (7) NIROD CHANDRA MONDAL (8) DEPANKAR BISWAS (9) ANANDA KUMAR BISWAS (10) BIPUL CHANDRA BISWAS (11) PARIMAL SARKER (12) ANJON CHANDRA PAUL (13) BABY RANI KARMAKAR (14) RATHINDRA NATH DATTA (15) SONJOY CHAKRABORTY (16) SAROJ KUMAR NATH (17) PARITOSH HAJRA (18) SATYAKAM SEN (19) DEBOJIT SINGHA (20) GOPAL CHANDRA DAS (21) NILRATAN SARKER (22) KALA CHAND SINHA (23) PROTAP CHANDRA BISWAS (24) ATHIN KUMER KUNDU (25) DHANANJOY KUMAR DAS (26) DEVABRATA CHAKRABORTY (27) DABASISH NAG (28) ATUL SARKER (29) AVIJIT RAY (30) SUBRATA KUMAR SIKDER (31)APURBA KUMAR MONDAL (32)ARUN KUMAR MONDAL (33)UTTOM KUMAR MONDAL (34)SUJIT KUMAR RAY (35)PRIYASINDHU TALUKDER (36)ANUP KUMAR TALUKDER (37)SUBRATA KUMER DEY (38)HILLOL BISWAS (39)DEBAMOY DEWAN (40)MINAKSHI BARMAN (41)DEBPROSAD PAUL (42)BANANI BISWAS (43)SANJIB KUMAR DEBNATH (44)DULAL CHANDRA SUTRADHAR (45)KHOKAN KANTI SAHA (46)SRABASTI ROY (47)SUBRATA PAUL (48)SIDHARTHA SANKAR KUNDU (49)DEBI CHANDA (50)BADAL CHANDRA HALDER (51)MRINAL KANTI DEY (52)PANKAJ GHOSH (53)SONDIP KUMAR SINGHA

বর্তমানে সহকারি সচিবদের মধ্যে হিন্দু তালিকা= (96)

(1)PALLAB KUMAR BANERJEE (2)GOPAL KRISHNA PALL (3)ARUN KANTI MAZUMDER (4)SUKANTA BHATTACHARJA (5)DR ASHOK KUMAR BISWAS (6)TAPAN KUMAR CHAKRABARTY (7)PATIT PABAN DEBNATH (8)UTTAM KUMAR PAUL (9)SUDHIR CHANDRA ROY (10)KANAI LAL SHIL (11)PARIMAL CHANDRA PAUL (12)PROTIVA RANI KUNDU
(13)KALACHAND SARKER (14)DILIP KUMAR DEB NATH (15)PAPIA GHOSH (16)RINA RANI SAHA (17)ASHIM KUMAR KARMAKAR (18)SUDIPTA DAS (19)RAJEEB KUMAR SARKAR
(20)APARNA BAIDYA (21)RAMENDRA NATH BISWAS (22)SANDWIP KUMAR SARKAR
(23)RAJIB KUMAR ROY (24)MALLIKA DEY (25)JUTHIKA SARKER (26)SHILABARATA KARMAKAR (27)SUJAN CHOWDHURY (28)JHUMUR BALA (29)SHANKHAMALA (30)UTTAM KUMAR RAY (31)ANINDITA ROY (32)PRODIP SINGHA (33)DEBENDRA NATH URAON
(34)PRASHANTA KUMAR DAS (35)MORARJEE DESHAI BARMAN (36)SHILPI RANI RAY
(37)VASKAR BEBNATH BAPPY (38)BINITA RANI (39)ANNAPURNA DEBNATH (40)SUBARNA SARKAR (41)SUJIT HOWLADER (42)MOUSUMI SARKAR RAKHI (43)RUPALI MANDAL
(44)SAMAR KANTI BASAK (45)AMITAV PORAG TALUKDER (46)PINTU BEPARI (47)UJJAL KUMAR GHOSH (48)NAMITA DEY (49)DIPANKAR ROY (50)GORANGO KUMAR CHOUDHURY

(51)DIPOK KUMAR ROY (52)KAMOL KUMAR GHOSH (53)DIPAK KUMAR ROY (54)PRASUN KUMAR CHAKRABORTY (55)TUSHAR KUMAR PAUL (56)BISHWAGITH KUMER PAUL
(57)PROVANGSHU SHOME MOHAN (58)ANIRBAN NEOGI (59)MINTU CHOWDHURY
(60)TANMOY MAJUMDER (61)BITHI DEBNATH (62)SHILU ROY (63)SHAMPA KUNDU
(64)MUKUL KUMAR MAITRA (65)SANKAR KUMAR BISWAS (66)ASIM CHANDRA BANIK
(67)BIJEN BANARJEE (68)CHITRA SHIKARI (69)SHIMUL KUMAR SAHA (70)ZUTON CHANDA (71)SNAHASISH DAS (72)LINCOLN BISWAS (73)MILTON CHANDRA ROY (74)NIRJHAR ADHIKARY (75)AMIT DEB NATH (76)SASWATI SEAL (77)PURNENDU DEB
(78)ANJAN KUMAR SARKER (79)SAMIR BISWAS (80)PURABI GOLDER (81)PRANATI BISWAS (82)BIBHISAN KANTI DAS (83)PULOK KANTY CHAKRA BORTY (84)RUMI CHAKRABORTY (85)BIKASH BISWAS (86)JITENDRA KUMAR NATH (87)JOYANTI RUPA ROY (88)SATARUPA TALUKDER (89)RAMKRISHNA BARMAN (90)KALYAN CHOWDHURY (91)DEBANGSU KUMAR SINHA (92)SEJUTY DHAR (93)MOUSHUMI BAIN HIRA (94)TINA PAUL (95)SATYAJIT ROY DAS (96)SUJIT DEBNATH

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার পদে হিন্দু তালিকা= (4)

(1)SAURENDRA NATH CHAKRABHARTTY (2)ASHOKE KUMAR BISWAS (3)SWAPAN KUMAR ROY (4) NARAYAN CHANDRA BARMA

উপবিভাগীয় কমিশননার পদে হিন্দু তালিকা =(5)

(1)AMITAVH SARKER (2)RAM CHANDRA DAS (3)MANOJ KANTI BARAL (4)MUKESH CHANDRA BISWAS (5) MANINDRA KISHORE MAJUMDER

অতিরিক্ত উপবিভাগীয় কমিশনার পদে হিন্দু= (11)

(1)DR. SUBAS CHANDRA BISWAS (2)BIPUL CHANDRA BISWAS (3)GOPAL CHANDRA DAS
(5)ANJON CHANDRA PAUL (6)DEPANKAR BISWAS (7)KALA CHAND SINHA (8)ANANDA KUMAR BISWAS (9)PROTAP CHANDRA BISWAS (10)PRAKASH KANTI CHOWDHURY
(11) DEBOJIT SINGHA

উপজেলা নির্বাহি অফিসার পদে হিন্দু তালিকা = (14)

(1)DEBPROSAD PAUL (2)AVIJIT RAY (3)UTTOM KUMAR MONDAL (4)SUBRATA KUMER DEY
(5)PRIYASINDHU TALUKDER (6)SUBRATA KUMAR SIKDER (7)SUBRATA PAUL (8)ARUN KUMAR MONDAL (9)DULAL CHANDRA SUTRADHAR (10)BANANI BISWAS (11)DEBI CHANDA (12)MRINAL KANTI DEY (13)SIDHARTHA SANKAR KUNDU (14)PANKAJ GHOSH

Indian Army Terrorism in Indian Occupied Kashmir

 

It is sheer falsehood that Bimal Pramanik and Tapan Kumar Ghosh are trying to sell to create hatred and intolerance against Muslims. As brain-children of Goebbels and followers of Hindutvadi fascist theology they know too well that if falsehood is oft repeated it achieves the veneer of truth and some are sure to swallow it. They are counting on it, and it is for conscientious people on all sides to challenge them and defeat their heinous design to divide us into hateful camps. Surely, falsehood is ever weak and bound to be defeated.
[প্রশাসনের তালিকার সর্বশেষ আপডেট ৫ই নভেম্বর, ২০১৩]

http://drhabibsiddiqui.blogspot.com/2014/02/all-those-fuss-about-endangered.html

নাজমা মোস্তফা,  ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬।

সুরঞ্জিতনামা:

বেশ বড় সময় থেকে বাঘের পিঠে চড়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। প্রতিবেশীর ইন্ধনে বাজেটে গদি দখলের খেলার কথা সবাই কম বেশী জানেন। এর স্বপক্ষে উদাহরণ টানার মত কিছু স্মরণযোগ্য নমুনা আনছি। ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারী ঢাকার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে ‘বেদান্ত সংস্কৃতি মঞ্চ”  আয়োজিত “পূজা পূনর্মিলনী: বিশ^জুড়ে বিশ^ময়ী” শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)র কেন্দ্রীয় সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সভাপতি তথাগত রায় বলেন, হিন্দুদের আওয়ামী লীগ সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেয়া উচিত এবং এ ব্যাপারে হিন্দুর নিজের স্বার্থে তাদেরে ঝাপিয়ে পড়তে তিনি উপদেশ বিলি করেন। উক্ত মঞ্চের বিশেষ অতিথি ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যিনি ইতিমধ্যে অনেক বিতর্ক জমাও করেছেন। সম্প্রতি তিনি মারা গিয়েছেন বিধায় সারা জাতি দুঃখ প্রকাশ করছে। কিন্তু কিছু সত্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই বলেই দুটি কথা বলা। তিনি গুজরাট বাবরী মসজিদের ধ্বংসকারী বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল মনে করেন না বলে প্রকাশ করেন (ইত্তেফাক, ৩ জানুয়ারী) যদিও জামায়াতকে সাম্প্রদায়িক মনে করেন। এর কারণ কি ভারতীয় দালালি নয়? ৯০% মুসলিমের দেশে বাস করেও কথায় কথায় সোবহানআল্লাহ বিসমিল্লাহ নিয়ে রস করে মশকরা করতেন।  শক্তির দন্ড ধরে থাকার কারণে একটি দেশে সাম্প্রদায়িকতার ইন্ধনে জাতিকে বিভ্রান্ত করে অন্যের হাতিয়ার হয়ে এরা কাজ করে চলেছে। তারপরও বাংলাদেশের সংখ্যাগুরুরা ভারতের হিন্দুর মত ধ্বংসকারী নয়, বরং সব ছাপিয়েও এখানে যেসব ধ্বংস হয় এর বেশির ভাগের পিছনে ঐ ভারত পূজারী দলেরই প্রত্যক্ষ মদদ লক্ষ্য করা যায়। এর প্রমাণে তারা সমানেই ধরা খায় কিন্তু দুঃখের বিষয় এর বিচার বরাদ্দ হয় না কখনোই।

ভারত সরকারের দালাল হয়ে তথাগত রায়রা মিডিয়াতে প্রকাশ করে দাগ রাখেন, তাকেও শক্ত আসামী করা চলে। তিনি প্রকাশ করেন ভারত সরকার আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। আপনাদের জন্য এর চেয়ে ভালো আর কোন সরকার হতে পারে না। এসব খবর মিডিয়াতে আসা খবর। কার্যত তিনি বলেন আমি সেটি প্রকাশ্যে বলতেও পারি না। তারপরও তিনি তার অতি উৎসাহী দালালীপনা চাপিয়ে রাখতে পারেন নি। বাংলাদেশকে পঙ্গু ও অথর্ব করতে ভারত যে কতটুকু গভীরে ষড়যন্ত্র করছে সেটি প্রকাশ করেন নি তথাগত রায় বা তার দালালরা। সত্যিকারের দেশপ্রেমী মগজ থাকলে সুরঞ্জিত গুপ্তসহ হিন্দুরাও বুঝতে পারতো, তারা দেশ ধ্বংসের কি এক জটিল মরণ খেলায় নেমে পড়েছে এসব স্বার্থবাজদের ইন্ধনে।

সম্প্রতি জনতার কষ্ট থেকে জানতে পারছি বরং ঘটনার জটিল বাস্তবতা হচ্ছে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন বিদ্বেষী মানুষ তার মৃত্যুমুখেও  মিথ্যাচারে প্রতিপক্ষকে ছোবল দিতে ভুলেন নি। এরকম অবস্থায়ও মৃত্যুর মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, গাইবান্ধার এমপি যিনি পিস্তল লিটন বলে পরিচিত তার হত্যার প্রধান আসামী নাকি খালেদা জিয়া। উচিত ছিল মরার আগে তার সাক্ষ্য দ্বারা এটি আদালতে গিয়ে প্রমাণ করা। তার মৃত্যুর পর এসব দুঃখ চেপে রাখতে না পেরে অনেক মানুষ আলহামদুলিল্লাহ পড়ছে। তিনি কথায় শান দিতে খুব মুখর ছিলেন,  এমনকি চুরিতে ধরা খাওয়ার পরও। তবে এটি জাতির জানা, যুক্তিহীন বড় গলা হলেই চুরির অপবাদ মিটে না বরং আরো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা পায়। তিনি ফতোয়া দিতেন বিসমিল্লাহ বলে পাঠার মাংস খাওয়া যায়। মসজিদ বানাতে হলে সৌদি যাও, বিদগ্ধ জনের কথাতে প্রমান পাওয়া যায় শুধু বাংলাদেশের মুসলিম নয়, ভারতের মুসলিমও তার মুখর কথা থেকে নিস্তার পায় নি।

সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত যে সুবাহানাল্লাহ সুবাহানাল্লাহ বলে বেঙ্গ করেছেন

 

আপনারা কি জানেন, বাংলাদেশের কোর্টে এখন ভালো বিচারের বদলে পূজো হয় ভালো? শোনা যায় কোর্টের কাজ বন্ধ রেখে ওসব চলে। দেশ এ গতিতে চললে অনেক সুবিধাবাদী অনাচারই ঢেকে রাখা যাবে।  ২০১২ সালের ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে পিলখানার বিডিআর গেটে ঝিকাতলা যাবার পথে ৭০ লাখ টাকার বস্তাসহ রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের কাছে ঘুষের টাকা নিয়ে যেতে বেকায়দায় ধরা পড়ে এপিএস ফারুক। চিটাগাংএর চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগে ৪০০ কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্যে তিনি সরাসরি জড়িত থাকার খবর চাউর হয় মিডিয়ায়। এসব মুখর বানিজ্যের নানান জটিলতায় ভোগে জনতারা এর পর থেকে তার নাম দেয় কালো বিড়াল। মন্ত্রীত্ব খোয়ালেও সরকারী মদদে তাকে জেলে যেতে হয়নি। কারণ জানা যায় এতে সরকারের আরো বড় বড় রাঘব বোয়াল অনুসারীরা জড়িত ছিলেন। সন্দেহের আসামীরা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের এইচটি ইমাম, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিত, শেখ রেহানাসহ আরো বড় বড় নেতারা। এটিও জানা যাচ্ছে এ খবরটি প্রচার হয়ে পড়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর তৎপরতায়। যার খেসারতে মাত্র ৭ দিনের মাথাতে ১৭ এপ্রিল রাতে নিজ বাসাতে ফেরার পথে মহাখালি থেকে শক্তির তোড়ে তিনি তার ড্রাইভারসহ ময়দানে বাতাসে মিলিয়ে যান। অন্যদিকে ফেঁসে যায় ঘুষ বহনকারী এপিএস ফারুকের ড্রাইভার আযম, তাকেও গুম করা হয় একই কায়দায়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনী হলফনামাতে জানা যায় মন্ত্রীর বাৎসরিক আয় ছিল ৭ লাখ টাকা। অতপর মন্ত্রী হয়ে তার পুত্র সৌমেন পাঁচ কোটি টাকা নগদ জমা দিয়ে ব্যবসা বাগিয়ে নেন আর আমদানী করেন ৩০ কোটি টাকার রসদ।

সমকাল ২০১২ এর ১৪ এপ্রিলের খবরে প্রকাশ ক্ষমতার তোড়ে তিনি তার নির্বাচনী এলাকা দিরাই শাল্লায় প্রায় ১৫০ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করেন। আইন ও ধর্মীয় মতে ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির কোন বিধান নেই। কিন্তু ক্ষমতার বলে অল্প পয়সায় সাফ-কবলা দলিলে তিনি তা নিজের কোম্পানীর নামে রেজিষ্ট্রি করে নেন। দিরাই উপজেলার চাঁদপুর, মজলিশপুর ও করিমপুর মৌজায় মিথ্যা তথ্যে ভারতগামী স্বজনদের ৭৫ বিঘা অর্পিত সম্পত্তি আত্মস্থ করার খবরও জনতারা জানে। অর্পিত সম্পত্তি জবরদখল ও মাছ চাষের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়েছেন তিনি। এলাকার শিক্ষিত ছেলেপেলেকে চাকরি দেবার নামে ঘুষ বানিজ্যও চলে তার মদদে, তার ছত্রচ্ছায়ায় তার লোকবলে। ভয়ের মামলা বানিজ্য চালিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করে পৌছে দেয়া হত তার মহলে। গরীব এতিমদের জন্য করা স্কুলেও অনেক সুরঞ্জিতী লুটপাটের খবর পড়েছি অতীতে। সরকারী চাল গমের বানিজ্যে নিয়োজিত ছিল এপিএস প্রদীপ। খবর হাওয়া থেকে পাওয়া খবর নয়, ক্রমে ক্রমে আসা মিডিয়ার খবর এসব। তারপরও কি উদার জনতারা বলবেন তিনি সৎ রাজনীতিক? উদার দেশে মরে গেলেই কি তার নামে মিথ্যা কীর্তন গাইতে হবে? বিদগ্ধজনরা বলছেন বাম রাজনীতির প্রবক্তা সুরঞ্জিত কোন কারণে ১৯৭২ সালে সংবিধানে সই না করলেও ২০১০ সালে সংবিধানকে কেটে ছেড়ে কেয়ারটেকারকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কবর দিতে ইন্ধন দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িত সাধকেরা বলছেন স্বাধীনতার কালে জাতি তিন দলে বিভক্ত ছিল। একদল হচ্ছে পাকিস্তানের পক্ষশক্তি দ্বিতীয়দল হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধেরত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শক্তি আর তৃতীয়দল হচ্ছে কপট স্বার্থে মগ্ন ভারত রাশিয়া শক্তি। সুরঞ্জিত ছিলেন কার্যত শেষ শক্তির বাহক, এর প্রমাণই তার জীবনে বেশীরভাগ সময় দৃষ্টি গোচর হয়েছে। এতে বলা যায় আমৃত্যু তিনি ছিলেন কার্যত ভারতীয় পক্ষের শক্ত দালাল, অনেকেই মন্তব্য করছেন তার আজীবনের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্য বানানো।

ভারতের এরকম অনেকেই আছেন এ কাজটি করে ভারতপ্রেমের উদাহরণ রাখছেন তার একজন হচ্ছেন কুলদীপ নায়ার। এই ঝানু সাংবাদিক ব্যক্তিত্বটি সময়ে সময়ে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে গাজির গীত গান। দরকার মনে করলে তিনি খবরকে উলটপালট করেও প্রচার করেন। ভারতীয় দালালী করতে গিয়ে তিনি খালেদাকে আক্রমণ করে লেখা বা জামায়াত দলকে আক্রমণ করাকে তার সাংবাদিক জীবনের বড় সাধুতা মনে করেন। সময়ে সময়ে তিনি জানান দেন যে, দরকারে স্বার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনে ভারত এর শেষ দেখে ছাড়বে। অনেকটাই হুমকির মত তার প্রচার। দুঃখের কথাটি হচ্ছে বাংলাদেশের সুরঞ্জিতরা যদি এভাবেই ভারতীয় তালে দেশপ্রেমের উদাহরণ রাখেন তবে এ লজ্জা রাখার কোন জায়গা নেই। প্রকৃত বাংলাদেশী জনগণকে এ দুরভিসন্ধি সম্বন্ধে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। এদের লেখাতে থাকে জামায়াত কেন বিএনপির সাথে। এ দুয়ের মিলিত একক শক্তিকে তারা ভয়ানক ভয় পায় ! তাদের এই ভয়টি কিন্তু আর চাপা নেই , এটি ওপেন হয়ে পড়েছে। একই কায়দায় বাংলাদেশেও কিছু ভারতপন্থী সাংবাদিকও একই ভঙ্গিতে সব সময় তাদের কলাম, টকশো এসব সাজায়। এদের চিনে নিতে কোন সময়ও লাগে না। মুহূর্তেই আপনি তার আচরণ দেখেই আঁচ করতে পারবেন সে কোন দলের মানুষ, কার দালাল। সবার শেষে একটি সুবচন দিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করবো। সাথে রইলো কয়টি অপকর্মের দালিলিক ভিডিও প্রমাণ।

Suranjit Sengupta and his caricature(follow up 01)

Suranjit Sengupta and his caricature (Follow Up 05)

 

কুকর্ম ও সুকর্মের জন্য আলাদা আলাদা ধর্মের প্রয়োজন নেই। শেষ সময়ে এটি সবার জন্য বরাদ্দ থাকবে যোগ্যতা অনুযায়ী উপঢৌকন পুরষ্কার বা তিরষ্কার। আর সময়টি মৃত্যু পরবর্তী সময়ের কথা,  তা চন্দনকাঠেই দেহ দান হোক আর নিরব নিস্তব্ধতায় মানুষের কবর যাত্রাই হোক। সবার জন্য একই বিচারকের মহান বিচার বরাদ্দ আছে। সেটি হবে আমাদের সবার সামান্য সামনে, অপেক্ষা করছে, সবার নাটকের পর্দাটি খসে পড়লেই সেটি আসবে কোন এক ক্ষণে সময় হলে। তাকে বলা হয় শেষ বিচারের দিন। সেই মুহূর্তের উপর দৈব থেকে আসা বাণী হিসাবে দুটি কথা জুড়ে প্রতিটি বিবেকে সুমতির আশাতে আজকের মত এখানেই ইতি টানছি। “তখন যে কেউ এক অনু পরিমাণ সৎ কাজ করছে সে তা দেখতে পাবে আর যে কেউ এক অনু পরিমান মন্দ কাজ করেছে সেও তা দেখতে পাবে (সুরা যিলযালএর ৭/৮ আয়াত)।” কুরআন বলে, “সত্যকে তোমরা মিথ্যার পোশাক পরিয়ো না বা জেনে শুনে সত্যকে গোপন করো না (সুরা বাক্কারাহএর ৪২ আয়াত)।” কিছুই লুকানো থাকবে না। সবই থাকবে ষ্পষ্ট ঝকঝকে তকতকে।

সুরঞ্জিত থেকে চোরঞ্জিত, এখন আবার চোরঞ্জিত থেকে ঘোষরঞ্জিত

 

নাজমা মোস্তফা ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

Tag Cloud