Articles published in this site are copyright protected.

সম্প্রতি ইউকের একটি খবরে এসেছে সৌদি সরকার এক মুসলিম ধর্ম প্রচারককে ১ লক্ষ ৩০ হাজার পাউন্ডের সবচেয়ে সম্মানিত মূল্যবান পুরষ্কারটি দিয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে ঐ প্রচারক এরকম ফতোয়াও অতীতে দিয়েছেন যেখানে তিনি বিবাহ বহির্ভুত মিসরাহ বিয়ের (মুতাহ বা মেয়াদী বিবাহ) আদলে সুবিধাবাদী দাসদাসিকে  ব্যক্তিগত শারীরিক সম্পর্কের জন্য বৈধ ও জায়েজ হিসাবে দেখিয়েছেন, যা প্রকৃত কুরআনে বা আল্লাহর নির্দেশিত গ্রন্থ দ্বারা স্বীকৃত নয়।  যদি একজন প্রচারক এরকম বড় ভুল করেন তবে তাকে কখনোই হালকা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। মারাত্মক ভুলকারী এদেরে পুরষ্কৃত করার আগে আরো সতর্ক নজর দেয়া উচিত। শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিনিময় কখনোই পুরষ্কার নয়। কারণ এসব হচ্ছে মূল গ্রন্থ কুরআন বিরোধী অপরাধ, আল্লাহ বিরুদ্ধ অপরাধ। সম্প্রতি পাকিস্তানের পাঞ্জাবে এরকম এক ফতোয়াতে এক ছেলে তার হাত কেটে ইমামের কথামত উপহার দিয়েছে। এসব কখনোই ইসলাম নয়। এরকম বিকৃত ধারার ইসলামের প্রচার প্রাথমিক ইসলামে কখনোই সম্ভব ছিল না। এখানের প্রহরা এত শক্ত ছিল যে নবী গত হবার পরও চার খলিফার সময়েও এসবের উপর অতিরিক্ত খবরদারী ছিল। তাছাড়া মানুষ এত সতর্ক ছিল যে ও ধারার সুযোগ খুব কম ছিল। তারপরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে কেউ এরকম প্রচারে ধরা খেলে তাদেরে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হতো। এটি অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য আলোচনাযোগ্য বিষয়। ঐদিনের খবরে আরো একটি খবরও আসে যে জাকির নায়েকও একই ধারার সম্মানী পুরষ্কার পান। এটিও ওখানে ঐ সূত্রে তুলে ধরার প্রচেষ্ঠা হয় যে তাকেও ইউকেতে নিষেধ করা হয়েছে, বলা হয় তার অপরাধ ৯/১১এ আমেরিকার জর্জ বুশের “ইনসাইড জব” তথ্য সূত্রের প্রচারের অপরাধে। ম্যাসেজটি অলক্ষ্যে দুটি ঘটনাকে এক করে দেখতে সম্ভবত উৎসাহী হয়েছে। নীচে এর উপর যুক্তির আলোচনাটুকু রাখছি।

বাস্তবে, ধর্মের প্রচারে জাকির নায়েক প্রশংসনীয় অবদান রাখতে পেরেছেন সন্দেহ নেই। যদিও কিছু জনেরা তার পিছু নিয়েছেন তার কর্মকান্ডকে রুদ্ধ করে দিতে। যাকে একটি বড় নোংরামি বলে ধরা যেতে পারে। জাকির নায়েকের যে ব্যতিক্রমী সব ধর্মের উপর তুলনামূলক ব্যাখ্যা, এর তুলনা চলে না। তাছাড়া একদম খোলা ডিকশনারীর পাতার মত যেভাবে তিনি অনর্গল একই সূত্রের বেদ উপনিষদ, বাইবেল, কুরআন ও মহাভারতের শ্লোক আয়ত্ব করতে দক্ষতা রেখে চলেছেন, তার জন্য তাকে এ বিশে^র একজন অতি ব্যতিক্রমী ও বিশ^স্ত প্রচারক হিসাবে গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত। তার যোগ্য সমকক্ষ আর কাউকে দেখি না। একজন আহমদ দিদাতকে অনুসরণ করতে গিয়ে তিনি যে ব্যতিক্রমী সূত্র সন্ধানকে সুবিন্যস্তভাবে রপ্ত করতে পেরেছেন, সে হিসাবে তিনি বহু আগেই আহমদ দিদাতকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার জন্য তাকে যারা ধন্যবাদ দিবেন না তারা নিদেন পক্ষে ঈর্ষাপরায়ন ও কৃপণ সন্দেহ নেই। অনেকে তার পিস টিভি নিষিদ্ধ করতে চাইছে, ঐ মানসিতার দাসত্বে সত্যকে রুখতে গিয়ে ব্যর্থ হারুপার্টির অদক্ষ ধর্মব্যবসায়ীরা ওটি সবদিনই করে করছে ও করবে। এ কাজটি তারা অতীত যুগে সারা জীবনই করে এসেছে, এমনকি যুগে যুগে নবীরাও এসব অত্যাচারী ধর্মধারী জনতার আক্রমণ থেকে রেহাই পান নাই। যুক্তির কথাটি হচ্ছে এভাবে সত্যকে রুদ্ধ করে ধ্বংস করা যায় না। রাশিয়া চিরদিন ঐ কাজটি করেছে শক্ত হাতুড়ী হাতে নিয়ে তারপরও সেখানের সব ময়দানে সত্যরা খান খান হয়ে ভেঙ্গে পড়ে মানচিত্রই সত্য সাধকদের উন্মোচন করে সত্যের বিজয় কেতন উড়িয়েছে। বেশী টাইট দিলে বাঁধন ছিড়ে যায়, এটি মনে রাখলে ভাল। বড় ধরণের ষড়যন্ত্রে জাকির নায়েককে নিষিদ্ধ করা হলো। এসব অনেক মামানসই লিংকও মুছে দেয়া হচ্ছে। জানি না এর জবাব কি হতে পারে?

Dr.Zakir Nayak》Challenge to Arnab Goswami against its investigation

 

যুক্তির সূত্রে জাকির নায়েক এ যুগের একজন ধর্ম প্রচারক, ঐশী বাহক নবী রসুল নন যে তাকে একশত পার্সেন্ট শুদ্ধ একটি মানুষ হতে হবে। এবার প্রশ্ন হতে পারে তবে ঐ সৌদির মিসরাহ নামের অনাচারী প্রচারকের দোষকে কেন হালকা করে দেখছি না। সৌদির ঐ প্রচারকের অপরাধ মোটেও হালকা নয়, মৌল ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, তাই ওকে হালকা করে দেখার অবকাশ কম। জাকির নায়েক কখনোই কুরআন বিরোধী আল্লাহ বিরোধী কোন প্রচারে নেই। তার কাজই কুরআন বাইবেল বেদ উপনিষদ মহাভারতের সূত্র ভিত্তিক প্রচার। তার ত্রুটি বিষয়ক খোলাসা করতে আমি একটি ছোট্ট উদাহরণ আনতে পারি যেমন একবার একটি অপরাধ জনতাদের চোখে ধরা পড়েছে যে তিনি এজিদ (আঃ) বলেছেন। ধর্মের একজন সুক্ষ্ম গবেষক হিসাবে আমি নিজেও এটি জাকির নায়েকের মত মানবো না, এজিদের মত কালপ্রিট একজনকে এ সম্মান দেয়ার কোন যুক্তি নেই। কিন্তু জাকির নায়েক উদারতার দরজাটি খোলাসা করতেই এটি করেছেন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা সুক্ষভাবে দেখলে দেখবো এরকম অপমানিত অর্জনধারী আরো অনেক জনই বহাল আছেন খোশ তবিয়তে আমাদের ধর্মের অঙ্গনে। আমরা অতি আস্ফালনে তাদের মাথায় তুলে রেখেছি যার জন্য আজো ইসলাম সত্যধর্ম হিসাবে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি যুদ্ধরত। এসব আবর্জনা ইসলামের রাস্তা থেকে পরিষ্কার করতে পারলে ধর্মটি আরো নাদুস নুদুস সুস্থ সবল রোগমুক্ত আবর্জনামুক্ত হতে পারতো। জানা যায় বৃটেন কোন এক অদৃশ্য অজুহাতে জাকির নায়েককে বেরিকেড দিয়ে রেখেছে, সেটি ৯/১১ দুর্ঘটনা জনতারা মনে করলেও গলদ অন্যখানে বলেই ধারণা হয়। ৯/১১ কোন সময়ই বৃটেনের ঘটনা নয়, বৃটেন ভিন্ন কারণে সত্যকে রুদ্ধ করতেই সম্ভবত এ ধারার বেরিকেড দিয়ে চলেছে।

কিছু ইসলাম পন্থীরাও ঐ রুদ্ধকরণের সাথে তালি দিয়ে ময়দান গরম করার তালে আছেন। জানা যায় ৭৩ দলের বিভক্তি রোগের আশংখার মাঝে একক ইসলামের এমন ধারার অনুসারীদের এসব সংকীর্ণ আচরণ নানান প্রশ্নের জমা বাড়ায় যা সমর্থণ করা যায় না। জাকির নায়ক ভারতের গৌরব হলেও মোদির জন্য জাকির নায়েক সোনা নন বরং আলকাতরা, তা দুনিয়ার সবাই জানেন।  গুজরাটের দাগী আসামী মোদিকে আমেরিকাও একদিন রুদ্ধদ্বার নোটিশ লটকে দিয়েছিল, মোদি প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি স্বরুপ বদলিয়েছেন এমন প্রমান কারো জানা নেই। জাকির নায়েক যদি জর্জ বুশকে ঐ অপরাধে চিহ্নিত করেন তবে এমন কোন বড় ভুল করেন নাই। কারণ এটি প্রায় স্বীকৃত সত্য যে ওটি ছিল আমেরিকার ইনসাইড জব। মুসলিমদের পায়ে শিকল পরাতে ওসব করা হয়েছিল এসবের অজস্র ম্যাসেজ,  ডকুমেন্টারী, বুশেজ ওয়ার নামের ম্যুভি, ফারেনহাইট ৯/১১ ছাড়াও অসংখ্য গবেষনা তথ্য লেখা ওয়েবসাইট শত শত ছড়িয়ে আছে খোলা ময়দানে। তাই ঐ দোষে জাকির নায়েককে কোণঠাসা করার কোন সুযোগ নেই।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

এই বক্তব্বের কারণেই কি নিষিদ্ধ হলেন জাকির নায়েক লন্ডনে !!!

 

অক্সফোর্ড ইউনিয়ন এ এক ঐতিহাসিক বক্তব্য ‘ইসলাম ও একুশ শতাব্দি’। ডাঃ জাকির নায়েক।

 

সপ্তম শতাব্দী থেকে এ ধর্মটিকে রুদ্ধ করতে নবী করিমের স্বগোত্রীয় স্বজন আবু জেহেল আবু লাহাব আবু সুফিয়ানরা ছিলেন একপায়ে দাঁড়া। তারা আজো বেরিকেড দিয়ে চলেছে, এবং সেটি কিয়ামত পর্যন্ত চলবে হালকা দমে নয়, পুরোদমে। তারপরও সত্য প্রচার থেমে থাকবে না, পুরোদমেই চলবে বহুগুণ তেজে। যতই মোদিরা আগুন দিবে ততই মানুষ একটু বাড়তি সচেতন হবে। ৯/১১এর আগে আমেরিকাতে মানুষ ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে তেমন জানতো না, ঐ ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় বুশ ষড়যন্ত্রে হাত দাগালেও ইসলাম ধর্মটি পৌছে গেছে প্রতিটি সচেতন আমেরিকানের হৃদয়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐ পরিতাপে পাগলের প্রলাপ ছাড়তেই মুখর। ওটি সাজানো হয়েছিল আমেরিকা নিধনের জন্য নয়, বরং ওটি মুসলিম নিধনের হাতিয়ার হিসাবে ছুড়ে দেয়া হয় হাতিয়ারটি ময়দানে। পরবর্তীতে ওটি উল্টো বুমেরাং হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দুনিয়ায় ইসলামের বাহক শক্তি হয়ে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে একজন অদেখা ন্যায়বাদী আল্লাহর বাস্তব থাকা। যার চোখ আছে সে দেখে যার কান আছে সে শোনে। যার মন আছে সে জমা করে। যার বিবেক আছে, সে ঐ অদেখা বিবেকের ইশারাতেই প্রকৃত সত্যকে সবদিনই স্বীকার করে। তাই মূর্তিপূজক আজরের ছেলে মূর্তিপূজক না হয়ে হন এক আল্লাহর একনিষ্ট প্রচারক একজন ইব্রাহিম। কুরআন বলে “ইব্রাহিম ইহুদী ছিলেন না, খ্রষ্টানও নহেন, বরং তিনি ছিলেন ঋজু স্বভাব মুসলিম” (সুরা আল ইমরানএর ৬৬ আয়াত)।

 

নাজমা মোস্তফা,  ৩১ জানুয়ারী ২০১৬।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: