Articles published in this site are copyright protected.

১১ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে প্রকাশিত ভারতের আনন্দবাজার রিপোর্টে বলা হয় বাংলাদেশ অবৈধ ঘোষনা করতে চলেছে জিয়ার দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টিকে, বড়সড় সমস্যার মুখে পড়তে পারে খালেদা জিয়া। সমগ্র বাংলাদেশই আজ জানে কিভাবে বাংলাদেশকে বাগড়া দিতে শুধু ভারত কাঁটাতারের বেড়াই দেয় নি, বরং “র” এর তৎপরতায় ভয়াল চিত্র এঁকে চলেছে। এসব খবরের আসল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের জনমতকে বিভ্রান্ত করা ও ভারতের স্বার্থের অনুকুলে নেয়া। তাই শুধু আনন্দ বাজারই নয়, বাংলাদেশের কিছু মিডিয়া পত্রিকাও কাজ করে তাদের শক্তিশালী মাউথপিচ হিসাবে। সূত্রে পাওয়া এদের একজন ভারতীয় এজেন্ডাতে অল্প বা বেশী দামে বিক্রি হওয়া “সাংবাদিক মহাশয়কে জ¦ালাময়ী সব রিপোর্ট করতে দেখা যায়। রিপোর্টের মাঝে এখানে আইএসআই ঘাটি গেড়ে বসে আছে, মৌলবাদী তালেবানী চক্রান্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন। কবি শামসুর রহমান হত্যাকান্ডে তালেবান কানেকশন আবিষ্কার, “র” বিরোধী লেখা পড়েও তিনি মারাত্মক চিন্তিত থাকেন। ভারতের স্বার্থরক্ষাতে ১৯৯৯ সালে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন স্বনামে। এমনকি কাশ্মীর যে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তার প্রমাণেও তিনি উঠে পড়ে লাগার প্রমান পাওয়া যায়। তার কাজ হচ্ছে এসব দালালির পক্ষে কাজ করে যাওয়া। “র” চ্যানেল থেকে ঐ সাংবাদিককে তড়িঘড়ি কাশ্মীরের ভিসা বিমান টিকেটসহ যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেন কুটনৈতিক ছদ্মবেশে কর্মরত এক “র” মহিলা। দেখা গেল, ঐ সাংবাদিক কাশ্মীরের সব শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিকসহ স্থানীয় সেনা কামান্ডার এমনকি ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে দেখা করে ফিরে এলেন বাংলাদেশে। তার বদৌলতে বাংলাদেশের পাঠক শ্রেণীর এক অংশ জানলো কাশ্মীরী স্বাধীনতাকামী সবই মৌলবাদ সন্ত্রাসী পাকিস্তানের কাজ। (বাংলাদেশে “র” আবু রুশদ, পৃষ্ঠা ১৯৭-৯৮)। এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে টার্গেট করা দেশবাসীকে ভুল পথে পরিচালিত করে হতবুদ্ধ ও বিশৃংখলভাবে পরিচালিত করা। এভাবে এরা শত্রুদের মধ্যে ভুল তথ্যের অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশীদের সর্বনাশ করে। ভারতীয় গোয়েন্দা বিশ্লেষক অশোক রায়নার মতে, উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সংবাদ মাধ্যমে, কুটনৈতিক চ্যানেল অথবা রাজনীতিবিদ সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশাজিবীদের মাধ্যমে এসব ভাইরাসের অনুপ্রবেশ করানো হয়। যা আমরা দেখছি বর্তমানে তাদের অন্য বিশ্লেষকরাও কিভাবে বাহাদুরী করে এসব নষ্টাচারকে বীরত্ব মনে করে বুক ফুলিয়ে সাম্প্রতিক প্রকাশ করছেন।  ঢাকায় বিমানবন্দরে “র” এর অফিস রয়েছে.. ড. তুহিন মালিক

বহুদিন থেকে অনেককে বলতে শুনা যায় বাংলাদেশে কোন সেনাবাহিনীর দরকার নেই, বা হয়তো বলতে শুনবেন বিএনপির সাথে জামাত কেন? ওটি না ছাড়লে কোন সমঝোতা নয়, এসব হচ্ছে তাদের তালেবোলে ভরা “র” এর আদলে অপকর্মে ঠাসা বুলি আমাদের কিছু বিক্রি হওয়া বুদ্ধিজীবি সাংবাদিককেও ঐ তালে মঞ্চ নাড়াতে দেখা যায়। বিশাল সমাবেশ দেখে “র”সহ সরকারের মাথা বিগড়ে গেছে তাই আনন্দবাজারও ১১ জানুয়ারীর এসব প্রলাপে যোগ দিয়েছে। সমাবেশের প্রভাবে পরদিনই সুরঞ্জিত প্রলাপে নামেন, প্রমাণ দেখুন। (১) দেউলিয়া হয়ে গেছে বিএনপি, (২) মা ছেলেকে না বদলালে বিএনপি বদলাবে না, (৩) বিএনপি টিকে কি না সংশয়? এসব প্রচারে বাবু সুরঞ্জিত। নাসিম বলেন অপেক্ষায় আছেন খালেদার আখেরী মোনাজাত করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন বিডিআর বিদ্রোহে খালেদা জড়িত, জিয়া অবৈধ, খালেদা অবৈধ। ওদিকে শেখ হাসিনাকে কয়েক টার্ম সুযোগ দেয়ার আবদার করছেন সৈয়দ আশরাফ। বিএনপিকে ধ্বংস করতে হবে, ইনু। এ সরকারকে বৈধ বললে তবেই সংলাপ: হাছান। সব প্রশ্নের জমা ও তার উত্তরের স্ক্রিপট বাংলাদেশের মজলুম জনতার কাছে আছে। সুরঞ্জিত টাকার বস্তাসহ ধরা পড়েও বাপ বেটা বদলের চিন্তায় নেই, মা ছেলে বদলের চিন্তায় কঠিন সময় পার করছেন। সাম্প্রতিক বিএনপির বিশাল সমাবেশের পর তারা বিরাট উদ্যোগে প্রতিশোধের মানসিকতায় মাঠে নেমেছেন, মুখে এসব বুলি ছাড়ছেন। উল্লেখ্য ২৭ জানুয়ারী ২০১৫ তারিখে ভারতের জনতা পার্টি বিজেপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সভাপতি তথাগত রায়সহ আমাদের সুরঞ্জিতবাবু বাংলাদেশ সফরে হিন্দুদেরে আওয়ামী সরকারের নামে ঝাপিয়ে পড়তে নির্দেশ দেন (ইত্তেফাক ৩ জানুয়ারী ২০১৫, প্রথম আলো ৪ জানু, ২০১৫), সম্ভবত জনতারা ভুলে নাই।

বিগত শতক থেকে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস করে বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের ভারতে পড়াশুনায় উদ্বুদ্ধ করা হয়। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের নেপথ্যে “র” (সাপ্তাহিক সৈনিক এর ২৮ আগষ্ট ১৯৯১ সংখ্যায় এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়)। নীচে ঐ প্রতিবেদনের কিছু। এরা ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তন ঘটায়। ভারতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোন সরকার বা রাষ্ট্র স্থিতিশীলতা অর্জন করুক এটা “র”এর কাম্য নয়। চারপাশে গড়ে উঠে “র”এর সাথে সাদৃশ্য রেখে বিভিন্ন সংগঠনের নামে শিখন্ডী সংগঠন। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসব করা হয়। শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ করা হয় চকচকে উন্নত ধরণের অস্ত্র। ধারণা হয়, এসব “র”এর হাত দিয়েই আসে। উল্লেখ্য গোটা বিশে^ সন্ত্রাস ও গোলযোগ সৃষ্টির জন্য তাদের একটি নেটওয়ার্ক আছে। অনেকের মতে ঐ পথ ধরেই এসব অস্ত্র আসছে। কখনো কখনো সীমান্তের ব্যস্ততা বেড়ে যায়, ১৯৮১ সালে জিয়া হত্যার আগে এমনটি হয়। ভারতের বিজেপির অনুকরণে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব, ঢাকার বেশ কিছু জায়গায় দেয়ালে দেয়ালে দেশীয় বিজেপির দেয়াল লিখন চোখে পড়ে (ঐ গ্রন্থ, ১২৯/১৩০ পৃষ্ঠা)।

মিলিটারী ইন্টেলিজেন্সে “র” এজেন্ট অনুপ্রবেশের অভিযোগ ও দেশের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ভারতে পাচার এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত করার ষড়যন্ত্রের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১২৪(ক) ১২০ (ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। ১৯৯২ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার দিয়াড় মানিকচরে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ভারতে পাচারের সময় বিডিআর জোয়ানদের হাতে গয়ানাথ ধরা পড়ে। পরে সে তার গুপ্তচরবৃত্তির কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। ১৯ সেপ্টেম্বর সঞ্জীব রায় মিন্টু ও আয়েজউদ্দিন গ্রেফতার হয় ঐ একই অপরাধে। বাকী দুজন ভারতে পালিয়ে যায়। গয়ানাথ, বলরাম, রামপদ, আয়েজুদ্দিন গোদাগাড়ী থানা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। উদ্ধারকৃত কাগজপত্র থেকে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর ভারতের দুজন নেতা গোপনে জেলাগুলো সফর করে সংগঠন গড়ে তুলবেন। ঐ সূত্রে ৬২ জনের নাম, ঠিকানাসহ স্বাক্ষর রয়েছে, এদের বেশীর ভাগই নদীয়া ও বর্ধমানের বাসিন্দা। তাদের কাছে পাওয়া যায় হিন্দুদের ব্যক্তিগত পর্যায়ের জমিজমা ও থানার মামলা ও অভিযোগের অনুলিপি, অধ্যাপক গোলাম আযমের মুক্তির দাবী সম্বলিত জামায়াতের নীলফামারী শাখার স্বারকলিপি এসব ভারতে পাঠানোর জন্য সংগৃহীত হয়েছিল বলে আসামীরা জানায়। ওসি হাবিবুর রহমান জানান দেশে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে এদেশে ও ভারতে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা, এবং রাজনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টির কাজে এ গুপ্তচর চক্রটি সর্বদা নিয়োজিত। ইংরেজী পত্রিকা দৈনিক টেলিগ্রাফ ১৩ নভেম্বর ‘৯২ তারিখে ভারতীয় নাগরিক অনুকূল বিশ^াস “র” এর গুপ্তচর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার মেদিনীপুর সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়। উমা রানীর কাছে রাষ্ট্রীয় অনেক গোপন তথ্য সম্বলিত কাগজপত্র পাওয়া যায়। পিটার কাস্টারস নামের এক ডাচ নাগরিক ‘৯২ সালে কলকাতা হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন।

সেই অমোঘ সত্যকে বিএনপি বরাবরের মতই অবহেলা করেছে আর আওয়ামী লীগ হাত দাগিয়েছে দেশ বিরোধী ভারতীয় গোয়েন্দাদের সাথে। ছোট্ট গণতান্ত্রিক দেশকে টিকে থাকতে হলে থাকতে হবে কার্যকর প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গুপ্তচর সংস্থা। কারণ শক্তিশালী ইন্টেলিজেন্স ছত্রচ্ছায়া ব্যতীত এসব বৈরী গুপ্তচর সংস্থার ধ্বংসাত্মক তৎপরতা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। দুই বাংলা একত্রিকরণের অপপ্রচারের উপর ভিত্তি করে বিশ^ শান্তি পরিষদ ও বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ নামের দুটি সংগঠনের আয়োজিত সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল “দক্ষিন এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নয়া তাগিদ” এটি ছিল দুই বাংলাকে একত্র করার উপদেশ দান। ৩১ অক্টোবর ৯৩ তারিখে কলকাতার ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকায় একটি ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয় বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে। ঐ ক্রোড়পত্রে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমার ‘বন্দী আমি’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়। তার আক্ষেপ ছিল, ‘আমরা কবে এক হবো, হাঁটবো বনগাঁ থেকে বেনোপোল’। এসব প্রচার প্রচারণা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, তা মনে করার কোন কারণ নেই। বরং নির্দ্বিধায় বলা যায় অজিত পাঁজা, বিশ^ শান্তি পরিষদ, আনন্দবাজার, তসলিমা, জিটিভি এরা সবাই একই সূতোয় বাঁধা। ‘র’ বাংলাদেশকে গ্রাস করার চক্রান্ত বাস্তবায়নে সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করেছে। এটি বোঝা দুয়ে দুয়ে চার হিসাব মেলানোর মতই সহজ (ঐ গ্রন্থ ১৩২-১৩৭)।

একদল সুযোগ সন্ধানী ১৯৯৬ সালে যে ‘জনতার মঞ্চ’ নাটক করেছিল প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গনে আজকের ক্ষমতাধরদের ছত্রচ্ছায়ায়, সেদিন তারা আহবান করে ছাত্র শিক্ষক, ব্যবহারবিদ প্রকৌশলী, কৃষিবিদ চিকিৎসক, শ্রমজীবী সংস্কৃতিসেবী, বুদ্ধিজীবী রাজনৈতিক, এমনকি সরকারের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা, ব্যুরোক্রেটিক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে চুরে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথ করে দেয়। প্রশাসনের বিভিন্ন মহল বিরক্ত হয়ে উঠবে, মানুষ হতাশ হবে, “র” নীলনক্সা বাস্তবায়নের সিগনাল বেজে উঠবে। চিত্তরঞ্জন সুতারের বঙ্গভ’মি আন্দোলন ছিল বৃটিশের মতনই আরেক কাসেম বাজার কুঠি। জানা যায় ১৯৯১ সালে প্রয়োজনে বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার পথে এগিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা ছিল। এ দেশের দাগী আসামীরা বন্ধুর দেশেই শান্তির আবাস খুঁজে পায়। “র”এর ৪ শ কোটি রুপী বাজেট। “জাতিসংঘে ফারাক্কা প্রশ্নে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। সাপ্তাহিক সুগন্ধা (০৮/১০/৯৩) তে এটি আসে যে, দেশকে অস্থিতিশীল করা ও খালেদা জিয়ার প্রাণনাশ কিংবা যেনতেনভাবে বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা চালাতে পারে”। বারে বারেই “র” এ কাজে হাত দাগিয়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের কল্পকাহিনী ও বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক দেশ হিসাবে চিহ্নিতকরণ। বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হয় ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২সালে। ১৬-৩১ ডিসেম্বরের ‘পাক্ষিক দিকপাল’ প্রকাশ করে চরম মিথ্যাচারের এক কাল্পনিক গল্প নামের ভয়াবহ হিন্দু নির্যাতনের কাল্পনিক কাহিনী। ডঃ আহমদ শরীফ পত্রিকাটির উপদেষ্টা, সন্দীপ কুমার বিশ^াস সম্পাদক ও ন্যাশনাল হিন্দু পার্টির সাধারণ সম্পাদক। প্রতিষ্ঠাতার নাম লেখা আছে খোকাবাবু। মিথ্যাচারী গল্পের কটি লাইন “নিরাপত্তার অভাবে লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকার ১০০টি পরিবার বিশ^বিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে আশ্রয় নেয়। সারাদেশে ৩৩ জেলাতে তিন শতাধিক মন্দির ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণের চিত্র শুধু দিকপালই ছবি আঁকে, অন্য কোন পত্রিকায় এসব ছবি নেই। বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিবাদে সংসদে নিন্দা জানালে ভারতীয় হুমকি আসে ২৩ জানুয়ারী ‘৯৩ তারিখে “ভারত সরকার বাংলাদেশের সরকারের ভবিষ্যত পদক্ষেপের উপর মনোযোগ সহকারে নজর রাখবে”। চিনে রাখুন ভারত কি চিজ! এর মাত্র পাঁচদিনের মাথায় একুশে বইমেলাতে প্রকাশিত হয় তসলিমার “লজ্জা”। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নেই, হিন্দু নির্যাতনের কাল্পনিক কথামালাই ছিল লজ্জা উপন্যাসের মূল বিষয়। ভারতের ‘ইন্সটিটিউট অব স্ট্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আশোক , এ , বিশ^াস ৩১ আগষ্ট ৯৪ সংখ্যা দি নিউ নেশন পত্রিকায় Raw’s rule in furthering India’s foreign policy প্রকাশিত কলামে বলেন, বিএনপি সরকারকে বিশ^ দরবারে সাম্প্রদায়িক, সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী হিসাবে চিত্রিত করার জন্য “র” তসলিমাকে সৃষ্টি করে। তিনি একে “র”এর বড় সাফল্য বলে মনে করেন। তার ভাষ্যমতে এই অনৈতিক তৃতীয় শ্রেণীর লেখিকাকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে কলকাতার প্রচার মাধ্যম ও তাকে আর্থিক সহায়তা দান করেছে “র” (ঐ গ্রন্থ, ১৭৭-১৮০পৃষ্ঠা। তখন বিজেপিসহ হিন্দু সংগঠন এগিয়ে আসে, আনন্দবাজার গোষ্ঠী তাকে আনন্দ পুরষ্কারে ভ’ষিত করে। অতপর ২০০০ সালে আবারো তাকে দ্বিতীয় বারের মত ভ’ষিত করা হয় আনন্দ পুরষ্কারে। বিশেষ মহল তার লজ্জার হাজার হাজার কপি বিনামূল্যে বিক্রি করে। যাদবপুর বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক সেকুলার শিক্ষক (বর্তমানে বিজেপি মানসিকতাসম্পন্ন) নিজ খরচে বইটির ফটোকপি বিলি করে বেড়ান। যুক্তরাষ্ট্রের সিএনএন থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট তসলিমার সমর্থনে বাংলাদেশকে মধ্যযুগীয় মৌলবাদী দেশ হিসাবে প্রতিপন্ন করে প্রচারণা চালায়। ঐ সময় বিজেপির হুমকি ছিল দুই কোটি মুসলমানকে বিতাড়িত করবো ও বাংলাদেশকে অঙ্গরাজ্য বানাবো। ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার ফারাক্কা ভাষনের পূর্বেই বিশ^ দরবারে হেয় প্রতিপন্ন করতে হিন্দু নির্যাতনের কাল্পনিক ইস্যুকে জোরদার করা হয়। এতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মত। ২০ মে ‘৯৬ সালে ক্যু দে’তার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে ভারতীয় ১০ লাখ সৈন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ছিল। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে টাকা দিবে “র” আওয়ামী টার্গেট ২০০ আসন, এটি খবরের শিরোনাম।

প্রচারণা, পত্রপত্রিকা ও রাজনৈতিক দলবাজদের মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচারের উদ্দেশ্য জনমত ভারতের অনুক’লে নেয়া। ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের কিছু আগে থেকেই শ’ পাঁচেক প্রশিক্ষিত স্যাবোটিয়ার্স, যারা পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী ও দেখতে বাংলাদেশীদের মত, তাদেরে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে নিযুক্ত করা হয় বিশৃংখলা সৃষ্টির জন্য। একদিকে বাংলাদেশকে ভারতীয় পণ্যের বাজার তৈরী করছে আর অন্যদিকে দেশীয় পূঁজি বিনিয়োগকে প্রতিহত করে অর্থনৈতিক দিকে আগ্রাসনের পথ সুগম করে দেয়া তাদের এ নীতির অংশ। যমুনা সেতু ১৯৯২ সালে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা পাথর ব্যবহৃত হতে পারে নি কোন অদৃশ্য কারণে। তদানীন্তন সরকার উত্তর কোরিয়ার সাথে একটি স্বারকে স্বাক্ষর করে কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে এ প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যায়। পাথর আমদানী করতে হয় ভারত থেকে (দৈনিক ইনকিলাব ১৬/১২/২০০০)। “র” স্পর্শকাতর পদের পরিবর্তন ঘটায় অদৃশ্য নির্দেশনায়। ভারত বাংলাদেশ গবেষনার নামে তারা ভারতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এসব রিসার্চ সংস্থাও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সম্পর্কযুক্ত। ভারত সরকার এদেরে পরোক্ষভাবে অনুদান দিয়ে থাকে তাদের কপট স্বার্থে। সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেন ভারত থেকে এগিয়ে যেতে না পারে ঐ লক্ষ্যেই ভারত আগুয়ান। সংস্কৃতির লেজুড়বৃত্তির নামে চলে “র” ঘটিত জাদরেল ব্যবসা। নির্বাচনকালীন সময় ও তার আগে তাদের তৎপরতা সবদিনই একটু বেশী থাকে। বাংলাদেশকে চারপাশে “র” অক্টোপাসের মত ঘিরে ধরেছে। কারও প্রতি তাদের কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই। প্রয়োজন শেষে সবাই টয়লেট পেপারের মর্যাদা পায় (দৈনিক ইনকিলাব, ৪/১২/২০০০)। রেস্টুরেন্ট কম্পিউটার ফার্মের আড়ালে চলছে তথ্য সংগ্রহ আদান প্রদান “র” কর্মকর্তারা আসছে ছদ্ম পরিচয়ে। একটি রাজনৈতিক দলের অনেকেই বিনা ভিসায় ভারতে থাকতেন। “র” পুনর্গঠিত করেছিল কাদেরিয়া বাহিনীকে। সিঙ্গাপুরে রয়েছে “র”এর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। প্রকাশ্য রাস্তায় বাংলাদেশী এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে চড় মেরেও ভারতীয় হাই কমিশনার মুচকন্দ দুবেকে চলে যেতে হয়নি বাংলাদেশ থেকে। জানা যায় ৯৭ সালে জাতীয় যাদুঘরের দরজাতে লাত্থি মারার বাহাদুরিতে ভারত তার পদোন্নতি করে, এর উপর অনেক লেখা তখন যায়যায়দিনে পড়েছি আজো মনে পড়ে। ৯৬সালের ফেব্রুয়ারীতে হয় আওয়ামী “জনতার মঞ্চ” নাটক। উল্লেখ্য ৯৬ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনের ব্যয়ভার মেটানোর জন্য কোটি কোটি টাকা বিশেষ চ্যানেলে বিতরণ করা হয় বলে জানা যায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে ভারতীয় অপপ্রচার। আইএসআই কানেকশন আবিষ্কারের চেষ্টা, উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে বলির পাঠা বানানো। ’৯৪ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক আগামী পত্রিকায় এর শক্ত প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয় ভারতের সকল প্রচারণা সর্বৈব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণাদি নেই। ১৯৯১ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এসে যখন স্বতন্ত্র স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষানীতি অনুসরণ করা শুরু করে, ঠিক তখন থেকেই ভারতীয় পত্র পত্রিকায় এমনকি সরকারি মহল থেকেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তর পূর্ব ভারতের গেরিলাদের সহায়তার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের “দি নিউ নেশন ” পত্রিকাতে ৩১ আগষ্ট ৯৪ তারিখে এসব আসে যে কিভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত একটি মনস্তাত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে যাবার পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে “এন্টি-পাকিস্তান’ প্রোপাগান্ডা উসকে দিচ্ছে। দেখুন আনন্দবাজারের ১৩ আগষ্ট ৯৬ সালের রিপোর্ট: “খালেদা পন্থী ফৌজি কর্তাদের হাসিনা ঢাকা থেকে হটালেন”। ভারত মূলত বাংলাদেশের স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামোকে ধ্বংস করে দিতে চায়। গণতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোর মাঝে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়। বিএনপি সরকারকে তীব্র চাপের মধ্যে রেখে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়ে জামায়াত এর কাছ থেকে সরিয়ে নেয়াই ছিল “র”এর মূল উদ্দেশ্য, আজো আওয়ামী লীগের প্রায় সবাইকে ঐ ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর থাকতে দেখা যায় (এখানের বেশীরভাগ তথ্যাবলী গ্রন্থ সূত্রে ও পত্রিকার সূত্রে পাওয়া তথ্য)।

সরকার কি উন্নয়নের জন্য লাজ লজ্জা বিসর্জন দিয়ে রাজ ক্ষমতার খুটি ধরে আছে নাকি রাজত্বের খোলসের তলে চাপা পড়া দাসত্বকে পাকাপোক্ত করতে এসব করে যাচ্ছে সেটি জাতির কাছে আজ প্রায় স্পষ্ট, একবিংশ শতকে আজ রাখঢাকের কিছুই গোপন থাকে নাই। বর্তমানে তারা স্বপ্নের উচ্চমর্গে অবস্থান করছেন, থেকে ২১, এবার ২১ থেকে লাফ দিয়ে ২০৪১এর স্বপ্নে আক্রান্ত হয়েছে। দেশবাসীসহ বিএনপির নেতারা বলছেন উন্নয়নের ধোঁয়া তুলে মানুষকে ভোটহীন ক্ষমতা ধরে রাখা এ সরকার আবারো ধোঁকা দেবার চেষ্টা করছে। সরকার জনতাকে অশিক্ষিত বোকা মগজহীনই মনে করে। সব মগজ গিয়ে কোরাস সুরে সরব হচ্ছে ক্ষমতাধরদের মাথাতে।

 

নাজমা মোস্তফা,  ১২ই জানুয়ারী ২০১৬।

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: