Articles published in this site are copyright protected.

Archive for January, 2016

জাকির নায়েক ও সৌদির এক ধর্ম প্রচারকের পুরষ্কার

সম্প্রতি ইউকের একটি খবরে এসেছে সৌদি সরকার এক মুসলিম ধর্ম প্রচারককে ১ লক্ষ ৩০ হাজার পাউন্ডের সবচেয়ে সম্মানিত মূল্যবান পুরষ্কারটি দিয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে ঐ প্রচারক এরকম ফতোয়াও অতীতে দিয়েছেন যেখানে তিনি বিবাহ বহির্ভুত মিসরাহ বিয়ের (মুতাহ বা মেয়াদী বিবাহ) আদলে সুবিধাবাদী দাসদাসিকে  ব্যক্তিগত শারীরিক সম্পর্কের জন্য বৈধ ও জায়েজ হিসাবে দেখিয়েছেন, যা প্রকৃত কুরআনে বা আল্লাহর নির্দেশিত গ্রন্থ দ্বারা স্বীকৃত নয়।  যদি একজন প্রচারক এরকম বড় ভুল করেন তবে তাকে কখনোই হালকা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। মারাত্মক ভুলকারী এদেরে পুরষ্কৃত করার আগে আরো সতর্ক নজর দেয়া উচিত। শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিনিময় কখনোই পুরষ্কার নয়। কারণ এসব হচ্ছে মূল গ্রন্থ কুরআন বিরোধী অপরাধ, আল্লাহ বিরুদ্ধ অপরাধ। সম্প্রতি পাকিস্তানের পাঞ্জাবে এরকম এক ফতোয়াতে এক ছেলে তার হাত কেটে ইমামের কথামত উপহার দিয়েছে। এসব কখনোই ইসলাম নয়। এরকম বিকৃত ধারার ইসলামের প্রচার প্রাথমিক ইসলামে কখনোই সম্ভব ছিল না। এখানের প্রহরা এত শক্ত ছিল যে নবী গত হবার পরও চার খলিফার সময়েও এসবের উপর অতিরিক্ত খবরদারী ছিল। তাছাড়া মানুষ এত সতর্ক ছিল যে ও ধারার সুযোগ খুব কম ছিল। তারপরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে কেউ এরকম প্রচারে ধরা খেলে তাদেরে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হতো। এটি অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য আলোচনাযোগ্য বিষয়। ঐদিনের খবরে আরো একটি খবরও আসে যে জাকির নায়েকও একই ধারার সম্মানী পুরষ্কার পান। এটিও ওখানে ঐ সূত্রে তুলে ধরার প্রচেষ্ঠা হয় যে তাকেও ইউকেতে নিষেধ করা হয়েছে, বলা হয় তার অপরাধ ৯/১১এ আমেরিকার জর্জ বুশের “ইনসাইড জব” তথ্য সূত্রের প্রচারের অপরাধে। ম্যাসেজটি অলক্ষ্যে দুটি ঘটনাকে এক করে দেখতে সম্ভবত উৎসাহী হয়েছে। নীচে এর উপর যুক্তির আলোচনাটুকু রাখছি।

বাস্তবে, ধর্মের প্রচারে জাকির নায়েক প্রশংসনীয় অবদান রাখতে পেরেছেন সন্দেহ নেই। যদিও কিছু জনেরা তার পিছু নিয়েছেন তার কর্মকান্ডকে রুদ্ধ করে দিতে। যাকে একটি বড় নোংরামি বলে ধরা যেতে পারে। জাকির নায়েকের যে ব্যতিক্রমী সব ধর্মের উপর তুলনামূলক ব্যাখ্যা, এর তুলনা চলে না। তাছাড়া একদম খোলা ডিকশনারীর পাতার মত যেভাবে তিনি অনর্গল একই সূত্রের বেদ উপনিষদ, বাইবেল, কুরআন ও মহাভারতের শ্লোক আয়ত্ব করতে দক্ষতা রেখে চলেছেন, তার জন্য তাকে এ বিশে^র একজন অতি ব্যতিক্রমী ও বিশ^স্ত প্রচারক হিসাবে গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত। তার যোগ্য সমকক্ষ আর কাউকে দেখি না। একজন আহমদ দিদাতকে অনুসরণ করতে গিয়ে তিনি যে ব্যতিক্রমী সূত্র সন্ধানকে সুবিন্যস্তভাবে রপ্ত করতে পেরেছেন, সে হিসাবে তিনি বহু আগেই আহমদ দিদাতকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার জন্য তাকে যারা ধন্যবাদ দিবেন না তারা নিদেন পক্ষে ঈর্ষাপরায়ন ও কৃপণ সন্দেহ নেই। অনেকে তার পিস টিভি নিষিদ্ধ করতে চাইছে, ঐ মানসিতার দাসত্বে সত্যকে রুখতে গিয়ে ব্যর্থ হারুপার্টির অদক্ষ ধর্মব্যবসায়ীরা ওটি সবদিনই করে করছে ও করবে। এ কাজটি তারা অতীত যুগে সারা জীবনই করে এসেছে, এমনকি যুগে যুগে নবীরাও এসব অত্যাচারী ধর্মধারী জনতার আক্রমণ থেকে রেহাই পান নাই। যুক্তির কথাটি হচ্ছে এভাবে সত্যকে রুদ্ধ করে ধ্বংস করা যায় না। রাশিয়া চিরদিন ঐ কাজটি করেছে শক্ত হাতুড়ী হাতে নিয়ে তারপরও সেখানের সব ময়দানে সত্যরা খান খান হয়ে ভেঙ্গে পড়ে মানচিত্রই সত্য সাধকদের উন্মোচন করে সত্যের বিজয় কেতন উড়িয়েছে। বেশী টাইট দিলে বাঁধন ছিড়ে যায়, এটি মনে রাখলে ভাল। বড় ধরণের ষড়যন্ত্রে জাকির নায়েককে নিষিদ্ধ করা হলো। এসব অনেক মামানসই লিংকও মুছে দেয়া হচ্ছে। জানি না এর জবাব কি হতে পারে?

Dr.Zakir Nayak》Challenge to Arnab Goswami against its investigation

 

যুক্তির সূত্রে জাকির নায়েক এ যুগের একজন ধর্ম প্রচারক, ঐশী বাহক নবী রসুল নন যে তাকে একশত পার্সেন্ট শুদ্ধ একটি মানুষ হতে হবে। এবার প্রশ্ন হতে পারে তবে ঐ সৌদির মিসরাহ নামের অনাচারী প্রচারকের দোষকে কেন হালকা করে দেখছি না। সৌদির ঐ প্রচারকের অপরাধ মোটেও হালকা নয়, মৌল ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, তাই ওকে হালকা করে দেখার অবকাশ কম। জাকির নায়েক কখনোই কুরআন বিরোধী আল্লাহ বিরোধী কোন প্রচারে নেই। তার কাজই কুরআন বাইবেল বেদ উপনিষদ মহাভারতের সূত্র ভিত্তিক প্রচার। তার ত্রুটি বিষয়ক খোলাসা করতে আমি একটি ছোট্ট উদাহরণ আনতে পারি যেমন একবার একটি অপরাধ জনতাদের চোখে ধরা পড়েছে যে তিনি এজিদ (আঃ) বলেছেন। ধর্মের একজন সুক্ষ্ম গবেষক হিসাবে আমি নিজেও এটি জাকির নায়েকের মত মানবো না, এজিদের মত কালপ্রিট একজনকে এ সম্মান দেয়ার কোন যুক্তি নেই। কিন্তু জাকির নায়েক উদারতার দরজাটি খোলাসা করতেই এটি করেছেন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা সুক্ষভাবে দেখলে দেখবো এরকম অপমানিত অর্জনধারী আরো অনেক জনই বহাল আছেন খোশ তবিয়তে আমাদের ধর্মের অঙ্গনে। আমরা অতি আস্ফালনে তাদের মাথায় তুলে রেখেছি যার জন্য আজো ইসলাম সত্যধর্ম হিসাবে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি যুদ্ধরত। এসব আবর্জনা ইসলামের রাস্তা থেকে পরিষ্কার করতে পারলে ধর্মটি আরো নাদুস নুদুস সুস্থ সবল রোগমুক্ত আবর্জনামুক্ত হতে পারতো। জানা যায় বৃটেন কোন এক অদৃশ্য অজুহাতে জাকির নায়েককে বেরিকেড দিয়ে রেখেছে, সেটি ৯/১১ দুর্ঘটনা জনতারা মনে করলেও গলদ অন্যখানে বলেই ধারণা হয়। ৯/১১ কোন সময়ই বৃটেনের ঘটনা নয়, বৃটেন ভিন্ন কারণে সত্যকে রুদ্ধ করতেই সম্ভবত এ ধারার বেরিকেড দিয়ে চলেছে।

কিছু ইসলাম পন্থীরাও ঐ রুদ্ধকরণের সাথে তালি দিয়ে ময়দান গরম করার তালে আছেন। জানা যায় ৭৩ দলের বিভক্তি রোগের আশংখার মাঝে একক ইসলামের এমন ধারার অনুসারীদের এসব সংকীর্ণ আচরণ নানান প্রশ্নের জমা বাড়ায় যা সমর্থণ করা যায় না। জাকির নায়ক ভারতের গৌরব হলেও মোদির জন্য জাকির নায়েক সোনা নন বরং আলকাতরা, তা দুনিয়ার সবাই জানেন।  গুজরাটের দাগী আসামী মোদিকে আমেরিকাও একদিন রুদ্ধদ্বার নোটিশ লটকে দিয়েছিল, মোদি প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি স্বরুপ বদলিয়েছেন এমন প্রমান কারো জানা নেই। জাকির নায়েক যদি জর্জ বুশকে ঐ অপরাধে চিহ্নিত করেন তবে এমন কোন বড় ভুল করেন নাই। কারণ এটি প্রায় স্বীকৃত সত্য যে ওটি ছিল আমেরিকার ইনসাইড জব। মুসলিমদের পায়ে শিকল পরাতে ওসব করা হয়েছিল এসবের অজস্র ম্যাসেজ,  ডকুমেন্টারী, বুশেজ ওয়ার নামের ম্যুভি, ফারেনহাইট ৯/১১ ছাড়াও অসংখ্য গবেষনা তথ্য লেখা ওয়েবসাইট শত শত ছড়িয়ে আছে খোলা ময়দানে। তাই ঐ দোষে জাকির নায়েককে কোণঠাসা করার কোন সুযোগ নেই।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

এই বক্তব্বের কারণেই কি নিষিদ্ধ হলেন জাকির নায়েক লন্ডনে !!!

 

অক্সফোর্ড ইউনিয়ন এ এক ঐতিহাসিক বক্তব্য ‘ইসলাম ও একুশ শতাব্দি’। ডাঃ জাকির নায়েক।

 

সপ্তম শতাব্দী থেকে এ ধর্মটিকে রুদ্ধ করতে নবী করিমের স্বগোত্রীয় স্বজন আবু জেহেল আবু লাহাব আবু সুফিয়ানরা ছিলেন একপায়ে দাঁড়া। তারা আজো বেরিকেড দিয়ে চলেছে, এবং সেটি কিয়ামত পর্যন্ত চলবে হালকা দমে নয়, পুরোদমে। তারপরও সত্য প্রচার থেমে থাকবে না, পুরোদমেই চলবে বহুগুণ তেজে। যতই মোদিরা আগুন দিবে ততই মানুষ একটু বাড়তি সচেতন হবে। ৯/১১এর আগে আমেরিকাতে মানুষ ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে তেমন জানতো না, ঐ ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় বুশ ষড়যন্ত্রে হাত দাগালেও ইসলাম ধর্মটি পৌছে গেছে প্রতিটি সচেতন আমেরিকানের হৃদয়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐ পরিতাপে পাগলের প্রলাপ ছাড়তেই মুখর। ওটি সাজানো হয়েছিল আমেরিকা নিধনের জন্য নয়, বরং ওটি মুসলিম নিধনের হাতিয়ার হিসাবে ছুড়ে দেয়া হয় হাতিয়ারটি ময়দানে। পরবর্তীতে ওটি উল্টো বুমেরাং হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দুনিয়ায় ইসলামের বাহক শক্তি হয়ে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে একজন অদেখা ন্যায়বাদী আল্লাহর বাস্তব থাকা। যার চোখ আছে সে দেখে যার কান আছে সে শোনে। যার মন আছে সে জমা করে। যার বিবেক আছে, সে ঐ অদেখা বিবেকের ইশারাতেই প্রকৃত সত্যকে সবদিনই স্বীকার করে। তাই মূর্তিপূজক আজরের ছেলে মূর্তিপূজক না হয়ে হন এক আল্লাহর একনিষ্ট প্রচারক একজন ইব্রাহিম। কুরআন বলে “ইব্রাহিম ইহুদী ছিলেন না, খ্রষ্টানও নহেন, বরং তিনি ছিলেন ঋজু স্বভাব মুসলিম” (সুরা আল ইমরানএর ৬৬ আয়াত)।

 

নাজমা মোস্তফা,  ৩১ জানুয়ারী ২০১৬।

Advertisements

লুৎফুন্নাহার লতার বেদনায় হালকা মলম

লুৎফুন্নাহার লতা আক্ষেপ করেছেন তার ফেইসবুকে মেয়েরা হিজাব করেছে দেখে। একটি ছবিও সেটে দিয়েছেন সাথে যেখানে পাঁচটি মেয়ে বসে আছে চার জনের মাথায় কাপড় দেয়া আর একজনের নেই। তার মনের গভীর বেদনা তিনি প্রকাশ করেছেন, হয়তো তিনি দেশের বাইরে কোথাও থাকেন। তিনি চাননা আর দেশে তার মরা লাশ ফিরুক। তিনি সিদ্ধার্থকে বলে রেখেছেন যেখানে মরবেন সেখানেই যেন তাকে মাটিচাপা দেয়া হয়, তার সখ শুধু একটি শিউলির চারা যেন লাগানো হয় তার কবরের উপর। তার এত কষ্টের কারণটি হচ্ছে বাঙ্গালীর সংস্কৃতিতে কালিপা লেপন দেখে তার এত কষ্ট বার বার তিনি স্বাধীনতার উদাহরণ টানছেন। মনে হচ্ছে লতা আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট হবেন, হয়তো যুদ্ধ তিনি শুনেছেন দেখেন নাই। আমরা যুদ্ধ দেখা মোকাবেলা করা ময়দানের সৈনিক। মুক্তিযুদ্ধে লতারা কষ্ট পেলে আমাদের বরং তার চেয়ে বহু বেশী কষ্ট পাওয়ার কথা। আমরাও কঠিন কষ্টে সময় পার করছি যখন দেখি একটি মুক্তিযুদ্ধকে চেতনা চেতনার নামে ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যখন একজন মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিলের বইটি পড়ি আর বর্তমান শাসনের কোন অংকের সাথেই অংক মেলাতে পারি না। একজন বঙ্গবীর আতাউল গণি ওসমানীকে জাতি সম্মান দিতে ভুলে গেছে। একজন ভাসানী স্মৃতির পাতা থেকে বিলুপ্ত একদিন যারা ময়দানের সচেতন জনতার জলজ্যান্ত সৈনিক ছিলেন। তাদের কথা জাতির এক অংশ কেন জানি ভুলতে চায়। তখন আমরা কুকড়ে লজ্জায় একটু হয়ে যাই। প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের অপমান করে যখন ইয়াহইয়া সরকারের অনুকরণে দেশে বাকশাল তৈরী হয়ে যায় আমাদেরই অনেক দিনের জমা করা শ্রদ্ধার ভান্ড একদম কেমন করে জানি সেদিন উল্টে যায় পুরোটাই। আমরা মুষড়ে আছি সেদিন থেকে যুদ্ধ দেখা, যুদ্ধে বেড়ে উঠা সচেতন জনতারা। কষ্টে আমি একা নই, জাতীর বৃহদাংশই কপট কষ্টের মাঝে কালাতিপাত করে মরছে মরেছে সামনে আরো মরবে।

মনে হয় ঐ কষ্টেই স্বাধীনতার এত পরও উপরের ক্যাপশনের মেয়েরা ঐ ছলনাকে স্বচ্ছ দৃষ্টিতে পরখ করতে চায়, ছলনা চায়না। সংস্কৃতির নামে মিথ্যাচারের সমাজ চায় না। বর্তমান বিশে^র সমাজের অসংলগ্ন আচরণ মিথ্যাচার খুন ধর্ষণ সবকিছু দেখে মনে হয় ওতেই তারা বাঁচার পথ খুঁজে নিয়েছে। রবীন্দ্র পূজারী তসলিমার অতি আস্ফালনে তারা ঐ পথ ধরেছে। তারপরও তারা মানুষ খুন করে বেড়াচ্ছে না। যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি খুনের পেট্রোলবোমার গুমের চাঁদাবাজির প্রশ্নফাঁসের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে রেখেছে দেশটিকে, কয়লার ময়লা দিয়ে সুন্দরবনকে ঢেকে দিতে চায়, আপনার মত বিবেচক মন কি ওতেও বিক্ষুব্ধ হয় নাকি হয়না? মনে হয় তেমন হয় না। কারণ আপনারা প্রকৃত যুদ্ধ দেখেননি, জানেন না প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। আপনার আরো অনেক জানা বাকী। কোন দেশে থাকেন জানি না, তবে আমরা বর্তমানে এমন এক দেশে থাকি, চাইলেও শিউলি ফুলের অর্ডার দিতে পারবো না, কারণ শিউলি এদেশে আমি এখনো দেখিনি। শীত শুরুতেই সব পাতা ঝরে যায়, মরার ভান করে পড়ে থাকে। আর পৃথিবীর যেখানেই থাকি শিউলি না হলেও একটি স্বাভাবিক মৃত্যুর স্বপ্ন সবার মতই দেখি । আপনার স্বপ্ন মনে হচ্ছে কেমন যেন একপেশে সংকীর্ণ স্বপ্ন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মানুষ সুফি দরবেশ থেকে ইসলামে প্রবেশ করলেও ইসলামের মূল ইসলামে ঢুকতে পেরেছে অনেক কম। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে এক মুসলিম শিক্ষকের মুখে জেনেছিলাম তার পূর্বপুরুষের দু একজনা গ্রামে পূর্ব ধারাবাহিকতায় এখনো সর্পপূজা করেন।

আমার পুর্বপুরুষ ছিলেন শিরকের পাদপিঠ ভারতের বাসিন্দা, সেখানের ভিন্ন সমাজের মূল্যবোধ থেকে নিজ সংস্কৃতিকে মর্যাদা দিতে তৎপর থাকাই ছিল তাদের আদর্শের এক বড় পদক্ষেপ। ঐ সময় প্রতাপী মুসলিমরা মঞ্চ থেকে হারিয়ে গেলেও মানুষের মন থেকে হারিয়ে যায় নি। পূর্ব পুরুষের কাছে  থেকে পাওয়া সংস্কৃতিকে আকড়ে ধরে শত অনাচারের অচ্ছুৎ শাসিত সমাজের ভ্রুকুটির পরও নিজের সংস্কৃতিকে নিজের মতই আত্মায় অন্তরে ধারণ করার প্রয়াস ছিল লক্ষ্য করার মত। পাকিস্তান সৃষ্টি করার স্বপ্নে বিভোর থেকে আমার ডাক্তারী পড়া ছাত্র বাবা সারা দিন পাগলের মত একটি মুক্ত ভূমির জন্য মানুষের দোয়ারে দোয়ারে ঘুরেছেন। সেদিন তিনি পাকিস্তানের জিন্নাহকে সমর্থন করতে সুযোগ পেলেই মানুষের দোয়ারে ছুটে যেতেন। কংগ্রেস সমর্থক অনেক মোল্লা মুনশিরা ভুল বুঝে মানুষকে বোঝাতো ঐ জিন্নাতকে ভোট দিবে না। বোকা মানুষকে অল্প কথায় বোঝানো হতো জিন্নাহ মানে জিন্নাত। আমার বাবাকে সব সময় বলতে শুনেছি এ লোকটি এমন একজন মানুষ যাকে কখনোই পয়সা দিয়ে কেনা যায় নি। মায়ের মুখে শুনেছি জিন্নাহ যখন ভারতের শিলংএ আসেন তখন তারা সম্ভবত স্কুল থেকেই অভিবাদন জানাতে মিছিলে অংশ নেন। বাবার এসব অনেক গল্প শুনেছি আমি আমার ফুফুর কাছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মুহূর্তে কোনভাবেই আমার বাবাকে কেউ বুঝাতে পারলো না, সারা ভারত জুড়ে আমার বাবার বন্ধু স্বজনরা ছিলই, কিন্তু আমার বাবার এক কথা ছিল, ওখানে ফিরে যাব না। যেখান থেকে একদিন পরম বেদনায় পিতৃভূমি পেছনে রেখে সামনের দিকে এসেছি, ওখানে ফিরবো না। পূর্ব পাকিস্তানে আসা ওটি ছিল ধর্মের কারণেই নতুন আবাসের সন্ধান, ওটি ছিল আমার বাবার কাছে একটি হিজরত। তার কথা ছিল মরতে হয় মরবো, এ মাটিতেই মরবো, ভারতে নয়। যার জন্য পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের লিডার হওয়া সত্ত্বেও তখনকার মাঠের অপর সাগরেদদের লুটপাটের মহড়াও আমার বাবাকে চরম ব্যথিত করে তোলে। নষ্ট ও ভ্রষ্ট পথে চলা সবদিনই পরিত্যাজ্য সেটি শেষদিন অবধি মেনে গেছেন। তাই ৭১এর এমন সংকট সময়ে তিনি দেশত্যাগ না করে বরং একখানি কুরআন শরিফ হাতে তুলে নেন। পরম সংকট মুহূর্তে বিশাল বড় হাকালুকি হাওর সাতরে পাড়ি দিয়েছেন, এক হাতে উঁচু করে ধরা ছিল তার সেই কুরআন শরিফ। শত বিপদে আর পরবর্তী জীবনে ওটি কাছ থেকে সরান নাই সব সময় থাকতো তার টেবিলের উপরে। তার ডিসপেন্সারিতে তিনি রোগী নিয়ে বসেছেন, সাথে থেকেছে তার ঐ সাংস্কৃতিক দিকদর্শণ বাতানোর ঐ একটি মাত্র পাথেয় দর্শন।

ইসলামের পক্ষে কথা বললেই আওয়ামী লীগ জঙ্গী বলে

 

মুক্তিযুদ্ধের মানচিত্র ছিল আমাদের অন্তরে গাঁথা কষ্টের জমা। লুৎফুন্নাহার লতা আপনার মত মুক্তিযুদ্ধ আর তার ইতিহাসকে এত সহজভাবে মেলাতে পারি না বলে বড়ই কষ্টে সময় পার করছি। পাকিস্তান গড়ে উঠেছিল ভারতবর্ষের  নির্যাতিত মুসলিমদের বাঁচার জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাস হিসাবে। যাতে তারা হিন্দুর নিস্পেষন থেকে মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে। বর্ণহিন্দুর অত্যাচারে  ভারতেও নি¤œবর্ণের হিন্দুরা সবদিনই যাতার তলে সময় পার করে। মুসলিম বা সংখ্যালঘুরা কোনদিনও তাদের দৃষ্টিতে মানুষ নয়, পশুরও অধম। তারা সবদিন মনে করে এরা গরুরও অধম, মূল আদর্শ রেখে যে মেকী সংস্কৃতি নিয়ে আপনি বড়াই করছেন সেখানে আপনি অচ্ছুৎ। বাংলাদেশের সংস্কৃতি কখনোই হিন্দুর সংস্কৃতি নয়। ৯০% ৯৫% মুসলিম জনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠে দেড় হাজার বছরেরও আগে আরবের ধূসর মরূভমিতে একজন মহানায়কের আবির্ভাবে। দেখা গেছে যুগে যুগে মূর্তিপূজকের ঘরেই জন্ম নেয়া নবীরা মূর্তির অসারতা বুঝতে পেরে এর বলয় থেকে বের হয়ে আসেন। তারা মূর্তিপূজাকে চিরদিনের জন্য জলাঞ্জলি দিয়ে একটি ন্যায়বাদি আদর্শ সমাজ গড়ে তুলেন। নবী মোহাম্মদও তাই করেছিলেন। পাকিস্তান সৃষ্টির ইতিহাস ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় যেখানে গরুর মাংস ভক্ষণের জন্য আখলাকদের কতল করা যাবে না। কথায় কথায় আজো ভারতের সংকীর্ণ সংস্কৃতির বাহকদেরে তার দেশের অনাদিকাল থেকে বসবাসরত মুসলিম নাগরিককে লাত্থি মেরে তাড়িয়ে দেবার হুমকি দিতে শোনা যায়, দাঁড়িওয়ালা টুপিওয়ালাদের কোনঠাসা করতে দেখা যায়। ঐ মৃদু রোগ সাম্প্রতিক বাংলাদেশেও ছোঁয়াচে রোগের মত ভিড়েছিল বলেই শুনেছি। মুসলিম অধ্যুষিত দেশে এরকম কোন হুমকি কোনদিনও কোন মুসলিম জনতা দিতে পারে না তার উন্নত রুচিবোধে গড়া ধর্ম দর্শনের কারণে।

পাকিস্তানের মূল যুদ্ধ ছিল পরস্পরের সম্পদ বন্টনে ভাগাভাগির লড়াই। সেদিন বানরের পিঠা ভাগের সুযোগে মধ্যসত্ত¦লোভী পুরো যুদ্ধই হাইজ্যাক করে নেয় তার কপট স্বার্থে। যুদ্ধের একদম শেষ মুহূর্তে আমাদের বিজেতাদের বিজয় ছিনিয়ে নিতে সেদিন রুখে তুলে দেয়া হয় বেরিকেড, ময়দান থেকে সরিয়ে রাখা হয় যুদ্ধের প্রকৃত মহানায়কদেরে। যার কোপানলে পড়ে দেশটি আবারও স্বাধীনতার অর্জন গোলাতে তুলতে ব্যর্থ হয়, যার দাগ চারপাশে ছড়িয়ে আছে। আপনাদের অনিসন্ধিৎসু মন কখনোই সত্যানুসন্ধানে নেই। অন্যের হাতের নকল গড়া ইতিহাসেই আপনারা সন্তুষ্ট। দেশপ্রেমিকের ভূমিকা এভাবে কখনো গড়ে উঠে না, এটি দালালের কপটের অপকর্ম মাত্র। আজকের এমন সঙ্গিন মুহূর্তে  আপনাদের দায় ছিল ঐ নষ্ট স্বাধীনতার বলয় থেকে দেশটি উদ্ধারে ঝাপিয়ে পড়া। ৭১এ আপনারা ছিলেন না, কিন্তু আজকের এ বিপর্যয়ে কেন দেশরক্ষায় আপনারা সংস্কৃতিবানরা অবদান রাখতে বারে বারেই শূণ্যতে ঘোরাফেরা করছেন, ব্যর্থ হচ্ছেন। বরং দেশ বিক্রির দিকে আপনাদের নজর বেশী ঘনিষ্ট। আল্লাহ প্রকৃত নির্যাতিত ও দেউলিয়া দেশবাসীর সহায় হোক। কিভাবে সেই প্রত্যক্ষ যুদ্ধকে ময়দান থেকে লুটে নেয়া হয়, এসব কষ্টের ভার আজো আমাদের ভাবায়। যখন দেখি সারা দেশে চলছে, হিরোইন, ইয়াবার মহামেলা, সীমান্ত ঘিরে গড়ে উঠা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ফেনসিডিল ব্যবসার পসরা, ফেলানীরা মরে পাখির আদলে প্রতিটি দিন আমরা সুস্থির থাকতে পারি না, আমাদের ভাবায়। বাংলাদেশের ৯০% মুসলিম যোদ্ধা জনতার মুক্তিযুদ্ধের পাওনা হিসাবে এসব মেনে নেয়া যায় না। আর বাকী ১০% তারাও বাংলাদেশী, আমরা তাদের কথা ভুলি নাই, তারা আমাদেরই। কষ্ট লাগে আপনি শুধু একা নন, সংস্কৃতির বলয়ে থাকা কিছু জনেরা কেন অতিরিক্ত প্রশ্নবিদ্ধ, এরা কি দেখে কম বুঝে কম? কেন ওসব দেখেও না দেখার ভান করে পড়ে আছেন?

বিপদের সাইরেন শুনলে নেশাগ্রস্ত ছাড়া বাকীরা জেগে উঠে বলেই জানি, আপনাদের অন্তরের সচেতন কি জেগে নেই, সেকি ঘুমিয়ে? তাকে জাগিয়ে তুলুন! দরকারে পড়–ন, জানুন, সত্যের সাথে বোঝাপড়া করুন! সত্যের মোকাবেলা করুন! মিথ্যাকে চিরদিনের মত বিতাড়িত করুন ময়দান থেকে। আপনার কাছে ঐ মেয়েদের থেকে বড় টর্চ লাইট থাকলে তা দিয়ে তাদেরে আরো বেশী আলোকিত করে তুলুন যেন তারা অন্ধকারেও পথ চলতে পারে। তাদের বন্ধু হোন, শত্রু ভেবে অচ্ছুৎ ভেবে তাদেরে ঘৃণায় দূরে ছুঁড়ে দেবেন না। মনে হয় তারা আলোর খুঁজে বেরিয়েছে, তাদেরে সহযোগিতা দিন।

নাজমা মোস্তফা, ২৯  জানুয়ারী ২০১৬।

কুরআন পুড়ানো, প্রতিমা ভাঙ্গার গোপন রহস্য

২০১৭ সালের সাম্প্রতিক সংযোজন:  হিন্দু বাড়ীতে আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। ঢাকার কদমতলা রাজারবাগের কালীবাড়ী নামক এলাকায় অধিকাংশ হিন্দু বাড়ীতেই অস্ত্র মজুদ রাখার সংবাদ আসছে। চিত্ত রঞ্জন দাস নামের স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক হিন্দু নেতা অস্ত্র সরবরাহের যোগানদাতা। একই ব্যক্তি আবার হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ নামের সংগঠনের সাথেও জড়িত। বেশ দিন থেকে এসব দুর্ঘটনার পেছনে এভাবে কাঠখড় পুড়ানো হচ্ছে। বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট এর বরাতে ২০১৪ সালের ০৪ জুলাই তারিখে জানা যায় মন্দির ভাংচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে হিন্দু সংগঠন থেকে হিন্দু নেতারা এ রকম ডাক ছাড়েন। এরা প্রকারান্তরে এ সরকারের লেজুড় বাহিনী সব সময়। এখন তারা প্রচার করছে এটি সরকার ও বিরোধীরা মিলিতভাবে করছে আর একের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন এই সুযোগের সুবাদে তারা একে হালাল করে দাঙ্গা সৃষ্টির তালে আছে। সারা দেশে নানান অপকর্মে হিন্দুরা শক্তভাবে জড়াচ্ছে আর উদোর পিন্ডি ভুদোর ঘাড়েও চাপাচ্ছে। এটি আর একটি অপকর্ম করার সুযোগ সৃষ্টির নমুনা নয় সেটি বলার অবকাশ কম। তাছাড়া সরকারের ভূমিকা ও অস্পষ্টতা অনেক সময় সরকারী অপকর্ম স্পষ্ট করে। ধারণা হয় এটি বিরোধী দমনের সরকারী টুল হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সম্প্রতি সারা দেশে জেলায় জেলায় থানায় থানায় গত ছয়মাসের মধ্যে হিন্দুরা গীতা স্কুল উদ্ভোধন করছে (মার্চ ১৮ ২০১৬)।  উদ্দেশ্য বাংলাদেশের হিন্দু বাচ্চাদেরে যুদ্ধ পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে। মনে হচ্ছে দেশে বড় ধরণের দাঙ্গার সৃষ্টির উসিলায় এসব সাজ করা হচ্ছে। যেখানে আরবী বইকে জিহাদী বই প্রচার করে ধড়পাকড় নাটক চলছে সেখানে ছাত্রদের অস্ত্র শিক্ষা দানের মাধ্যমে এটি হচ্ছে বাস্তবের যুদ্ধ নাটকের বর্ধিত অংশ মাত্র। খুলনার কয়রায়, বগুড়ায়, শ্রীমঙ্গলে একের পর এক, হবিগঞ্জে দুটি, চাঁদপুরে, উত্তর কাট্টালীতে দুটি গীতা স্কুল উদ্ভোধন করা হয়েছে। এসব যুদ্ধ হবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে, এ হচ্ছে ৫%-১০% হিন্দু সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক অপকর্মের দাগচিহ্ন।

ব্লগে ফেইসবুকে এসব খবর আমাদের তথ্য প্রমাণসহ আসছে।  “হিন্দুদের প্রতিমা ভাঙ্গার গোপন রহস্য” শিরোনামে লেখাটিতে  বোকা হাদারাম মুসলিমরা সেটি সাম্প্রতিক জেনেছে। আমার কথা হচ্ছে কোন অপরাধীই কেউ কোন দিনও কোন লাভ জমা করতে পারবে না কারণ অদেখা আল্লাহ যদি অলক্ষ্যের দ্রষ্টা হয়ে থাকেন তবে সব অপরাধিরা অবশ্যই ধরা খাবে চিহ্নিত সেই বড়দিনে। যখন সবাইকে এক বড় মজলিসে একত্র করা হবে শেষ ময়দানে। তখন কিন্তু পালিয়ে যাবার ফুরসত পাবেন না। হয়তো এই সত্য প্রকাশকারীরা সেদিন বড় দাওটি মেরে দিবেন তার সত্যবাদিতার জন্য যাকে আপনারা বাকী অপকর্মী অনুসারীরা হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। তথ্য প্রমাণসহ এসেছে কিভাবে জায়গা জমির জন্য হিন্দুরাও মুসলিমদেরে ঘাটের জল খাওয়াতে হামলা মামলায় বড়দাগে এসব করছেন কারণ বাংলাদেশে হিন্দুদের রক্ষার্তে সব সরকারই অতিরিক্ত সচেতন থাকে এটি আমরা যেমন জানি, সারা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুসহ  সবাই জানেন। দেখা যায় প্রায় সময়ই মন্দিরে ঢুকে মুর্তিটির মাথা ও ধড় আলাদা করা হয়। তিনি দেখিয়েছেন এটি ভাঙ্গার ফলে কি কিছু হয় হিন্দুদেরই কি ক্ষতি হয় আর মুসলিমদেরই বা কি লাভ জমা হয়? মাঝখানে সুযোগসন্ধানীরা এর ফায়দা লুটে ঘরে উঠায়। এটি প্রমাণ করতে একে একে ১১টি লিংক এড্রেস যেখানে প্রতিটি ঘটনার বাস্তবতা প্রমাণিত। এসব হচ্ছে শেরপুর, রাজবাড়ী, পিরোজপুর, সিলেট, ভোলায় জমিজমার বিরোধে যুবলীগ নেতাকেও ফাঁসিয়েছে হিন্দুরা, নীল ফামারিতে, সাতক্ষীরাতে কুড়িগ্রামে পুকুরের জায়গা নিয়ে পেটালো হিন্দুরা। উল্টো ছাত্রদের বিরুদ্ধে মন্দির ভাংগার অভিযোগ উত্থাপন করে। চাঁদপুরে, লিংকসহ প্রতিটি ঘটনার প্রামান্যতাসহ এর সত্যতা নিশ্চিত হয়। জমির দখল নয়তো প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এসব করা হচ্ছে।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই  নীচে।

হিন্দুদের মন্দির কে ভাঙছে? চলুন শুনি এক হিন্দু ভাইয়ের কাছে.

 

হিন্দুদেরও স্মরণ করলে ভালো হয় ভগবানই বলেন আর ঈশ^রই বলেন তাঁর দৃষ্টি থেকে কারোই নিস্তার মিলবে না। সবাই সবদলের আসামীরা সেদিন একবাক্যে জ¦লন্ত শাস্তিখানাতে কঠিন অগুনের ও পাথরের খোরাক হবেন, বন্দীত্বের প্রহর কাটাবেন। সেখান থেকে বের করে এমন সাধ্য কারো হবে না। মুসলিমরা এসব করলে তারাও ঐ একই সাথে জ¦লবে একই তোষের আগুণে। আপনারা যদি মুসলিমদের সরলতার সুযোগে এটি করেন এর জন্য দ্বিগুন শাস্তি আপনাদের বরাদ্দে জমবে। এটি এড়িয়ে যাবার কোন শক্তি আপনারা অর্জন করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে মুসলিমরা তাদের অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও উদার  মনোবৃত্তির জন্য বহু গুণ বেশী পুরষ্কৃত হবেন এটি নির্ঘাৎ বিনা বাক্যে বলা যায়। ফেসবুকের নয়ন চ্যাটার্জি এটি স্পষ্ট করেন যে, মাটির মূর্তি বা প্রতিমার প্রতি হিন্দুদের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা বোধ নেই বলেই তারা অনায়াসে সেটি ভাংতে পারে। আর তাদের এসব অপকর্ম মেইনস্ট্রিম মিডিয়া জানলেও সেটি প্রকাশ করে না। বাংলাদেশের মিডিয়া সব সময় থাকে হিন্দুদের স্বার্থে, ঠিক ভারতের উল্টো। কারণ এরা তাদের অসাম্প্রদায়িক সার্টিফিকেট হারাতে চায় না। সবার শেষে তার আফসোস ছিল জানি না আর কতকাল এরা এসব করে যাবে। আমার জবাব হচ্ছে যতকাল তারা ঐ মূর্তিপূজার অসারতা বুঝতে সময় লাগে ততদিন তারা ঐ রকম অনাচারে দক্ষ থেকে যাবে। সারা কুরআন শরিফে এ ধারার অনাচারির উপর অনেক কথা এসেছে এরা শুরু থেকে শেষ অবধি মিথ্যার সাথে বসবাস করছে। আল্লাহ বলেন, “ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহকে ভয় শ্রদ্ধা কর যেমন তাকে ভয়ভক্তি করা উচিত, আর তোমরা প্রাণত্যাগ করো না আত্মসমর্পিত না হয়ে” (সুরা ইমরান ১০১ আয়াত)। “ (হে মুহাম্মদ) এসব আল্লাহর নির্দেশাবলী যা আমরা তোমার কাছে পাঠ করছি সত্যের সাথে। আর আল্লাহ কোন প্রাণীর প্রতি অবিচার করেন না” (সুরা ইমরান ১০৭ আয়াত)। “তারা আল্লাহকে ভয়শ্রদ্ধা করুক এবং সততার সাথে কথাবার্তা বলুক”। “এমন কি যারা এতিমের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করবে তারা প্রবেশ করবে জ¦লন্ত আগুণে” (সুরা নিসার ৯/১০)। সবার স্মরণ রাখা উচিত, সুনির্দিষ্ট সঠিক বিচার অপেক্ষা করছে সবার জন্য প্রতিটি বিবেক সম্পন্ন প্রাণীর জন্য তা তারা যে কোন ধর্মের বর্ণেরই হোক না কেন, আল্লাহর বিচার সবার জন্য সমানভাবে বরাদ্দ।

পেট্রোল বোমার নাটক দেখেছি নামে দাগে প্রমাণসহ সরকার করছে তার দালাল গুন্ডাবাহিনী দিয়ে। কারণ তারা এভাবে বারে বারে ধরাও পড়েছে তবে শাস্তি হতে দেখা যায় ভিন্ন বিরোধী অনুসারীদের । এ সরকার এভাবে ফল্স ফ্ল্যাগ নাটক সাজাতে বেশ দক্ষ বহুদিন থেকে তার প্রমাণ আজ জাতির কাছে এক দুইটি নয়, অনেকই আছে। প্রায়ই ফেসবুকে ব্লগে এসব রঙ্গরসের খবর জনতারা দিনে দিনে জানছে। এর শুরুটা মনে হচ্ছে তসলিমা শুরু করেছিলেন ধর্মে নষ্ট কথার গোজামিল দিয়ে। প্রকৃত সত্যে প্রবেশ না করে তিনি বিদেশী দালালদের গুটি হয়ে ব্যবহৃত হয়েছিলেন। উদাহরণ হিসাবে কিছু যুক্তি দিচ্ছি। ভারতের দুটি পত্রিকায় বলা হয়েছে যে বিজেপি তসলিমা নাসরিনকে লজ্জা উপন্যাস লেখার জন্য ইতিমধ্যে ৪৫লক্ষ টাকা দিয়েছে। তসলিমা কলকাতার সল্ট লেকে বাড়ী কেনার জন্য সেখানে পরিচিতদের বাড়ী খুঁজতে বলেছেন। ইতিমধ্যে তিনি ঢাকাতে ২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন।  (দৈনিক ইনকিলাব ২৯-১০-৯৩ সংখ্যা)। তার চোখে রবীন্দ্রনাথ হলেন ঈশ^র, বাংলাদেশ হল শালা শুয়োরের বাচ্চা (সাপ্তাহিক পূর্নিমা ৩-১১-৯৩)। “সাম্প্রদায়িকতা ও যৌনতার সংমিশ্রণে লিখিত তসলিমা নাসরিনের ‘লজ্জা’ ইতিমধ্যে সরকার বাজেয়াপ্ত করে। এতে বিজেপির আদেশে তসলিমা লিখেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কেবল হিন্দুরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নির্যাতীত হয়েছে এবং খুন হয়েছে। তাদের বাড়ীঘর আগুণ দিয়ে জ¦লিয়ে দেয়া হয়েছে। মুসলমানদের কিছুই হয়নি। মুসলমানরা হিন্দুদের সাহায্যে এগিয়েও আসেনি। এ ধরণের উক্তি করে তিনি স্বাধীনতাকে এবং মুক্তিযুদ্ধকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন (ইনকিলাব ২৯-১০-৯৩)। অন্যত্র —তসলিমা তার নির্বচিত কলামে বলেন, “পাকিস্তানী সৈন্য আমাদের টাকাকড়ি লুট করেছে, যাবার আগে পুড়িয়ে দিয়েছে বাড়ী, আমার বাবাকে ধরে নিয়ে বুট ও বেয়নেটে পিষেছে, দুই কাকাকে গুলি করে ফেলে রেখেছে রাস্তার মোড়ে, আমার ভাই এর ডান চোখ উপড়ে নিয়ে গেছে, এই মাসে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া তিন মামার দুজন ফিরে এসেছে, ষোল দিন পর ক্যাম্প থেকে ফিরে এসেছে আমার একুশ বছর বয়সের খালা। পড়শি যারা যুদ্ধ করেছে, কারো হাত নেই কারো পা”। উপরোক্ত মন্তব্য কি প্রমাণ করে না যে মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?  তাহলে কি নাসরিন আপনার চৌদ্দপুরুষ কি কেউই মুসলমান ছিল না? নাকি শুধু নামেই তসলিম আর কাজে সবাই ফানুস?”(তসলিমার কলামের জবাব, নাজমা মোস্তফা, পৃষ্ঠা ৩৪,৩৭)। কিভাবে স্ববিরোধী কথা বলে তিনি গোটা বিশে^ একটি মিথ্যাচারের নটনাট্য সৃষ্টি কর্তে সক্ষম হয়েছিলেন, এটি তার উত্তম উদাহরণ হতে পারে। তার নিজের কথাতেই তিনি ধরা খান কিন্তু বিজেপি ঠিকই তাকে কিনে নিয়ে ঐদিন ব্যবসার রসদ ঠিকই জোগাড় করতে পেরেছে বড়মাপে। তিনি নাস্তিক, ঈশ^র মানেন না কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঈশ^র হলে মানেন। কই, রবীন্দ্রনাথ তো জীবনেও নিজেকে ঈশ^রত্ব দাবী করেন নাই। এরা হচ্ছে মগজ বিক্রি হওয়া আত্মবিক্রিত আত্মাহীন মানব জনতার অংশমাত্র। এমন কি পাকিস্তানের সময়ও হিন্দুরা এদেশে আয়েশে থেকেছে, তাদেরে কেউ ওভাবে নির্যাতন করেনি, শুনেছি এমন ধারার কথা সংখ্যালঘুদের থেকেই। বরং আমরা জানতাম ভারতে মুসলিম দাঁড়িওয়ালা টুপিওয়ালা হলে মানুষ বাসে ট্রেনে জায়গাই দিত না। সেটি তেমন বদলায় নি, আজো তাই বহাল আছে।

আমাদের সবাই প্রচার করেন হিন্দুরা গোবেচারা প্রকৃতির নিরীহ, আমরাও তাই মনে করতাম। কিন্তু ইদানিং আর বিশ^াস রাখা দায় হয়ে পড়েছে। হিন্দুদের মাঝে চরম ব্যতিক্রম এই নয়ন চ্যাটার্জি অনেক সত্যকে উন্মোচন করে দেখিয়েছেন। বাড্ডায় কুরআন পুড়ানো বিমল চন্দ্র সাধুর পরিচয়। সে নিমতলা মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তার নাম সার্চ দিয়ে গত বছর তার সম্পর্কে নয়ন চ্যাটার্জি একটি খবর ও ছবি পান। তিনি তার ফেইসবুকে ছবি ও তথ্য শেয়ার করেন। তিনি আধ্যাত্মিক সাধক শ্রী বিমল চন্দ্র (সাধু) ফোন নম্বর ৮৮৩৭৫২৩ বর্তমান ঠিকানা ল-২৪, পূর্ব মেরুল, নিমতলা মন্দির, বাড্ডা, ঢাকা, ১২১২। স্থায়ী বাসা ম-৬০, পশ্চিম মেরুল বাড্ডা, ঢাকা-১২১২। তাদের দেয়া লিংকসূত্রে জানা যায় সেখানে সাধু মতে টোটকা চিকিৎসা দেয়া হয়। (তার মানে বিমল চন্দ্র অবৈধ ছলনার টোটকা ব্যবসার কারিগর)। “কুরআন পুড়ানোর ঘটনায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাড্ডা-রামপুরা  রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন স্থানীয় মুসলমানদের” এটি পত্রিকার খবরের শিরোনাম। বাড্ডায় একটি কালী মন্দিরে প্রকাশ্যে মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন আগুন দিয়ে পুড়ায় এক হিন্দু। বিষয়টি জানাজানি হলে, দায়ী বিমল চন্দ্রকে গ্রেফতার না করে উল্টো লুকিয়ে ফেলা হয়। এতে ক্ষেপে যায় স্থানীয় মুসলমানরা। দেখা যায় ছবিতে তারা গভীর রাতেও রাস্তা আটকে আন্দোলন বিক্ষোভ করছে। প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জলকামান দিয়ে মুসলমানদের দমন করার চেষ্টা করছে পুলিশ। বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো অজানা কারণে এসব খবর প্রচার করছে না। আর পুলিশ বিষয়টি এড়িয়ে গুজব বলে চালানোর চেষ্টা করছে, মন্দির রক্ষায়  দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়েছে, উল্টো আন্দোলনরত মুসলমানদের উপর বারে বারে আক্রমণ করছে, যেন মুসলমানরা আন্দোলন বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যায়। প্রতিটি সত্য তথ্য তিনি তুলে ধরছেন স্পষ্টভাবে।

এবার ছবিসহ পোস্টে দেয়া ভারতের মুসলমানদের শেষ নবীকে সমকামী বলে গালি দিয়েছে এক হিন্দু। ছবিতে দেখা যায় সেখানে মুসলিমরা প্রতিবাদী হয়েছে। কিছুদিন আগে ভারতের উত্তরপ্রদেশে হিন্দু মহাসভার নেতা কমলেশ তিওয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলমানদের শেষ নবীকে গালাগালি করে সমকামী থাকার এক লিখিত বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে ভারতে মুসলিমরা প্রতিবাদ করছে, অনেক স্থানে সমাবেশও হয়েছে। যদিও ভারতীয় ও বাংলাদেশী হিন্দুরা উভয়েই এ সমাবেশ নিয়ে অপপ্রচার করছে, উস্কানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে বলছে মুসলমানরা নাকি মালদায় থানা ভাংচুর করেছে। উদ্দেশ্য ঐ এলাকায় একটি হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বাধানো। যদিও গোমর ফাঁস হয়েছে, মুসলমানরা নয়, থানা ভাংচুর কাজটি করেছিল স্থানীয় মাফিয়া গোষ্ঠী। আফিম চাষ, মাদক পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ইত্যাদি সংক্রান্ত নথিপত্র নষ্ট করতেই তারা থানা হামলা করেছিল। আর সাম্প্রদায়িক হিন্দুরা একটি মিথ্যা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উস্কানি দিচ্ছিলো। একইভাবে আর একটি খবরের শিরানাম ছিল “হিন্দু কর্তৃক মুসলমানদের ঘরবাড়ী দখল” শিরোনামে তিনি প্রকৃত নির্যাতিতকে সচেতন করতে প্রশ্ন রাখেন, আপনারা কি জানেন কিভাবে হিন্দুরা ঘরবাড়ী দখল করছে? এটি নিশ্চয় সবাই জানেন কিভাবে প্রশাসনে ও পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক হিন্দু নিয়োগ দিয়ে এবার আওয়ামী সরকারের ঐ হিন্দুপ্রীতি কাজে লাগিয়ে অনেক এলাকায় হিন্দুরা মুসলমানদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করছে, জোরপূর্বক বাড়িঘর দখল করছে। যেমন (১) কিছুদিন আগে সব পত্র পত্রিকায় একটি ছবি এসেছিল। জমি দখলের প্রতিকার চেয়ে গণভবনের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাড়িয়েছিল এক যুবক। এর কারণ ঐ যুবকসহ আরো শত শত মুসলিম পরিবারের ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমি বালু দিয়ে ভরাট করে দখলের চেষ্টা করছে অমল পোদ্দার নামক হিন্দু ব্যবসায়ী। ঐ এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করলে অমল পোদ্দার মিথ্যা মামলা সাজিয়ে মুসলমানদের জেলে ভরে এবং র‌্যাব দিয়ে হয়রানী করায়। এখানে তিনি লিংকসহ তথ্যসূত্রও দেন।

এটি এ বছর মে মাসের ঘটনা। মৌলভী বাজার জেলার জুড়ী কাপনা (পাহাড় সম্ভবত) চা বাগানে মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ করে হিন্দুরা। তারও সিলেটের যুগভেরী পত্রিকাতে ছাপা হওয়া তথ্যসূত্র দেয়া হয়। রাঙ্গামাটিতে মসজিদের জায়গা দখল করে মন্দির বানাতে চাচ্ছে হিন্দুরা। এরও লিংকসূত্র দেয়া হয় সে তথ্যসূত্রে। তারপর প্রশ্ন রাখেন দেখেন কিভাবে সারা বাংলাদেশে প্রচার হচ্ছে হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে অথচ মুসলমানরাও কিন্তু নির্যাতিত কম হচ্ছে না। নয়ন চ্যাটার্জি সব সময় নিপীড়িত জনগণের পক্ষে। তিনি এর জোর প্রতিবাদ করতে মুসলিমদেরে উৎসাহিত করেন ও জেলা প্রেসক্লাবে গিয়ে সমাবেশ করে একজোট হয়ে আন্দোলন করে শক্ত হাতে প্রতিহত করতে উপদেশ দান করেন।  সব থানাতে সরকার ভোটের পারিবারিক স্বপ্নে হিন্দু নিয়োগ দিয়েছে। প্রতিটি ঘটনা, পত্রিকা, সূত্র তথ্য বলছে এর প্রতিটি সংবাদই কঠিন সত্যের অংশ।

গো হত্যাকে মুসলিম পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় বলে দাবী করেছেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সামির পিতা তৌসিফ আহমদ। সামি ও হাসিবের বাবা তৌসিফ আহমদ টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, হাসিব ঐ ঘটনাস্থলে শুরু থেকে উপস্থিত ছিল না। সে অনেক পরে পৌচেছে ও অন্যান্যদের মত দর্শকের ভ’মিকায়ই ছিল। তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বন্দ্বে জড়ানো হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রথম পাতাতে তিনি আরো বলেন, গো হত্যাকে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। সামি ভারতীয় দলে খেলতে শুরু করার পর থেকেই তাদের সঙ্গে শত্রুতা করছে কেউ কেউ। এ বিষয়ে তিনি এর আগেও  অভিযোগ করেছেন। আমরোহার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভেদপ্রকাশ জানান, তৌসিফ মাসখানেক আগে টেলিফোনে হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে কে বা কারা হুমকি দিচ্ছে, সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারেন নি। তাছাড়া সমানেই মুসলিমকে নিপীড়ন করা ভারতের ইতিহাসের এক লাগোয়া কাহিনী। গতকাল দেখলাম ট্রেনের যাত্রী এক দম্পত্তিকে গরুর মাংস থাকার কারণে নিগৃহীত করা হয়। কিন্তু তাদের কাছে গরুর মাংস ছিল না। এরা তারাই যারা ধর্মের নামে সারা জীবন মানুষ বলি দিতে পেরেছে, কিন্তু গরুর রক্ষক হয়ে আজো মানুষকে বলির পাঠা বানিয়ে রেখেছে।

“মোনাফিকদের সুসংবাদ দাও যে তাদের জন্য নিশ্চয়ই রয়েছে ব্যথাদায়ক শাস্তি যারা অবিশ^াসীদের বন্ধুরুপে গ্রহণ করে বিশ^াসীদের ছেড়ে দিয়ে। নিঃসন্দেহ তিনি মোনাফিক ও অবিশ^াসীদের একত্রিত করতে যাচ্ছেন জাহান্নামে” (সুরা নিসার ১৩৮/১৩৯ আয়াত)। “তোমরা যাদের শরিক করো তা থেকে তিনি মুক্ত” (সুরা আল আনআমএর ৭৯ আয়াত)। নীতি নৈতিকতার মানদন্ডে বিবেকের দায়বদ্ধতা নিয়ে সবারই চলা উচিত নয়তো অপরাধীর পরিণতি সবদিনই কম নয় বরং বেশী বহুগুণ বেশী।

নাজমা মোস্তফা,   ১৮ই জানুয়ারী ২০১৬ সাল।

খুতবা, তবলিগ জামাত, ইজতেমা ও কিছু কথা

বেশ দিন থেকে দেখছি তবলিগ জামাতের বিসতৃতি বেশ বড় পরিসরে বেড়েছে। পরিসর যেভাবে বেড়েছে সেভাবে অর্জন জমেছে বলে মনে হয় না। ঢাকাতে থাকা অবস্থায় দেখতাম কিছু লোকেরা বাসায় বাসায় আসতেন। এখানেও আমেরিকাতে আসার পর দেখি বাইবেলের কিছু সংস্থার লোকেরা এভাবে বাড়ী বাড়ী এসে মানুষকে ধর্মের নসিহত করে। তবে ব্যতিক্রম হচ্ছে ঢাকাতে তারা মুসলিমদের কাছে যেতেন আর আমিরেকাতে তারা সবার কাছেই যায়। আমার কেন জানি ওদের জন্য বড় মায়া লাগে। স্বার্থহীনভাবে কিভাবে এরা শীত গ্রীস্মকে উপেক্ষা করে দোয়ারে দোয়ারে ধরনা দেয়, আর সবচেয়ে বড় কথাটি হচ্ছে অন্য খৃষ্টানেরাও দেখতাম তেমন পাত্তা দিত না। আমার পাশে থাকা এক নানকে একদিন তাদের কথা বলাতে সে বেশ বিরক্তি প্রকাশ করলো। মনে হলো ভাবখানা তারা তাদেরে এক ধরলেন আপদ মনে করতো যার জন্য তারা এদেরে এড়িয়ে যেত। তারা বাইবেল গ্রন্থের কিছু লিফলেট জনতাদেরে ধরিয়ে দিত। আমি সব সময় তা হসিমুখে গ্রহণ করতাম। এতে তারা খুব খুশী হতো, মনে করতো আমি তাদের ধর্মের দিকে ঝুঁকছি, জানতে চাচ্ছি এসব। কিন্তু তারা খুব কম জানতো যে আমি তাদের ধর্মের অনেক কিছুরই খবর রাখি। তারা আমার নামটি পর্যন্ত তাদের খাতাতে টুকে নিত এবং বাসার সামনে এসেই আমার নাম ধরে ডাক দিত। স্বভাবতই অবাক বিস্ময়ে আমি দরজা খুলে দিতাম। তাদের সাথে কথা বলতাম আর বলতাম আমি তোমাদের মতই হেটে না হলেও গবেষনায় সময় পার করছি। প্রতিনিয়ত জানছি, পড়ছি।  জানা যায় ১৯২৬ সাল থেকে দেওবন্দ শিক্ষিত কোন এক মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াসের প্রচেষ্টাতে এটি শুরু হয় ঐ সময় থেকে। জীবনে কিছু তবলিগ জামাতি পরিবারের সাথে পরিচিত হয়েছি যাতে বেশ কাছে থেকে তাদেরে অবলোকন করার সুযোগ হয়েছে। তাছাড়া অনেকেই এর বিরুদ্ধে বিরুপ মন্তব্য করেন সঙ্গত কিছু যুক্তির কারণে সেটি জেনে এর উপর কিছু ইতিবাচক দৃষ্টিতে আজকের লেখাটি লিখছি। কেন জানি মনে হয় ক্রমে ওরা মূল সত্য থেকে বেশ বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। তবলিগে ছেলেরা চিল্লার নামে তিন দিনের, চল্লিশ দিনের জন্য পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ঐসব জটিলতা মেনে নিতে কষ্ট হয়েছে এবং অনেকের পারিবারিক দুর্যোগ প্রত্যক্ষ করেছি। এসব ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, এদের অনেক অগোছালো পরিবারের মহিলাকে বাচ্চাদেরে অনেক জটিলতার মাঝে পার করতে দেখেছি। এমতাবস্তায় পাড়শিরা চাঁদা তুলে তাদের পরিবারকে সহায়তা কর্তে শুনেছি দেখেছি। অনেক সময় অভিভাবকহীন মায়ের পক্ষে একা সামাল দেয়া জটিল হয়ে পড়তো। ইসলাম দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রচার করে “বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়”

চার দেয়ালের পারিবারিক গন্ডির মাঝে থেকে সৎ সুন্দরভাবে জীবনের সব দায় সুষ্ঠভাবে পরিচালনার মাধ্যমে পরিপূর্ণ জীবনাচার চালিয়ে যাওয়াই ইসলাম। নিজেদের পরিচিত গন্ডির মাঝে কেউ ঐ মতবাদে অনুরাগী হলে, এর উপর বিরুপ মন্তব্য অনেককেই করতে শুনি। সম্প্রতি ক্যানাডাতে আমার এক বোনজি থাকে, সে বলেছে তার বিল্ডিংএ তারা এভাবে ধর্মালোচনা করেন যদিও কেন জানি তারা কেউ কুরআন অনুসরণ করেন না, বরং অন্য কোন বই অনুসরণ করে। তখন সে প্রস্তাব দেয় কুরআন পড়তে। তারপর দুই এক সভাতে ওটি অনুসরণ করা হয়। আমি যতদূর জানি তারা “ফাজায়েলে আমল” নামে একটি বই পড়েন ও ফলো করেন এবং কেন জানি তারা সব সময়ই ঐ কেতাবটিকে খুব মনোযোগের সাথে ফলো করেন। শোনা যায় বইটি অদভুত সব গালগল্পে ভরা। এও বলা হয় ওটিই তাদের পথ নির্দেশিকা। বিশ^কে কুরআনের দিকে আহবান কথার ইঙ্গিত কুরআনেই এসেছে, সেখানে কেন এরা ধর্মধারীরা সেখানের মূল সত্য থেকে সামান্য হলেও তফাতে থাকবে?  অনুসারীকে কুরআন থেকে বিচ্ছিন্ন করার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। আমি নিজে বাস্তবে জানি না তাদের এই জটিলতার হেতুটি কি? তবে ছাত্র অবস্থা থেকে কিছু ছাত্র ছাত্রী, পড়শি সুজন থেকে যতটুকু জেনেছি মনে হয় শোনা কথাগুলি একদম মিথ্যেও নয়। ইদানিং শুনি অনেকে বলেন ইজতেমা এক ধরণের ছোট হজ্জ। মুসলিমরা জীবনে একবারই হজ্জ করবেন, তারই নির্দেশনা। তার আবার ছোট বড় কি? কেউ কেউ বলছেন এটি গরীবের হজ্জ। গরীবের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত কোন হজ্জ বরাদ্দ নেই, সেখানে গরীবের জন্য এটি বেঁধে দেয়া ইসলামের কোন কাজ নয়। চৌদ্দশত বছর পূর্ব কুরআন এসেছে পূর্ণতার স্বাক্ষর নিয়ে। কুরআন নিজেই বলে তা পরিপূর্ণ বিধানাবলী নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।  তাকে খন্ডিত মনে করার যুক্তি নেই।

বলতে বাধা নেই এরা সংগঠিত হয়েছে এটি বলতে ভালোই শুনায় কিন্তু গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষের খারাপ মানসিকতার পরিবর্তন কতটুকু করতে পেরেছে, ঐ যোগ বিয়োগের হিসাব তাদের করা উচিত। তাহলে হয়তো এর বড় অর্জন তারা গোলাতে তুলতে পারবে। শবেবরাতের রাতে আমাদের দেশে জনতারা সারা রাত কেঁদে কেটে একাকার করে দেন এবাদত বন্দেগীতে। কিন্তু ফলাফল সব পাশ্চাত্যের গোলাতে উঠে, এর যুক্তিটি কি হতে পারে? যুক্তিটি হতে পারে এটি একটি বাড়তি এবাদত যা ধর্মের নির্দেশ নয়। কারণ সুরা কদরের রাত ব্যতিরেকে অন্য কোন রাতকে ইসলামের পরিভাষাতে কুরআনের ভাষাতে মর্যাদা দেয়া হয়নি। এটি কালের ধারায় গজিয়ে উঠা আচারের একটি, মূল ধর্মাচার নয়। যার সহজ পরিণতিতে আমাদের গোলা থাকে শূণ্যেভরা। সংক্ষেপে “নিঃসন্দেহ আমরা এটি অবতারণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে, এটি কি? এটি হচ্ছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। ফেরেশতাগণ  ও রুহ তাতে অবতীর্ণ হয় তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে প্রতিটি ব্যাপার সম্বন্ধে শান্তি বিরাজিত থাকে ফজরের উদয় পর্যন্ত” (সুরা কদর, ১-৫আয়াত)। খুব স্পষ্টভাবে এটি সুনির্দিষ্ট করে বলা যে এ রাতটি হাজার মাস থেকেও উত্তম। এরকম আর কোন উত্তম রাত কুরআনে লিপিবদ্ধ নেই। তারপরও ভারত উপমহাদেশে দেখা যায় মুসলিমরা একটি ভিন্ন ধারার শবেবরাতের নামে এবাদত চালু করেছেন যার কোন ভিত্তি মূল ইসলামে নেই। তাই আজ স্পষ্ট করে বলা যায় এটি কালের ধারায় গড়ে উঠা এক অনাচারের নাম। ইসলাম এ ধারার আচার আচরণকে উৎসাহ দেয় না, বরং নিরুৎসাহ করে। যা ইসলামে নেই তা নতুন করে কেউ শুরু করলে তাকে বলা হয় বিদআত, আর এসব না করতে বলা হয়েছে। শক্ত করে বলা হয়েছে যারা বিদআত করবে তারা জাহান্নামে যাবে। সে হিসাবে এমন ধারার ইবাদত করে অনাচারের যোগান না দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যে কেউ বলতে পারেন করলে ক্ষতি কি? সীমার বাইরে যাবার ক্ষতি এটিই, ধর্মের নামে কোন কিছু বাড়তি চালু করাই অপরাধ। যারা এটি করবে এর দায়ভার তাদেরেই বইতে হবে। সে জবাবদিহিতার দায়ভার জেনে মেনে সবাইকে পথ চলতে হবে।

ইসলাম কোন গাজাখুরী ধর্ম নয়, এটি শৃংখলার ধর্ম, নির্দেশের বাইরে যাওয়াটা আল্লাহ বিরুদ্ধ কাজ। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে আদম ও ইবলিসের গল্পটির আড়ালে এটি বুঝানো হয়েছে যে আমাদের প্রতি পদে পদে বিভ্রান্তির বিচ্যুতির জটিলতাতে পড়তে হবে। এবং নিজের বুদ্ধি বিবেক বিবেচনা দিয়ে তার মোকাবেলা করতে হবে। পদে পদে শয়তান আমাদের বিভ্রান্ত করবে আর বিবেক তাকে চিহ্নিত করতে সক্ষম। বলা হয়েছে শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু, লুক্কায়িত কিছু না, আড়ালে থাকে না।। আমরা তাকে দেখলেই চিনতে পারবো, সে আসবে বন্ধু হয়ে স্বজন হয়ে নেতা হয়ে। শয়তান সেদিন এটিও স্পষ্ট করেছে যে তোমার সঠিক অনুসারীকে আমি বিভ্রান্ত করতে পারবো না তবে তোমার বেশীর ভাগ হবে আমার অনুসারী পথহারার দল। সবকিছু বিবেচনায় রেখে সুচিন্তিত ভাবে এসব জটিলকে সহজভাবে নিতে হবে কারণ এ ধর্মটি মুমিনদের জন্য ১০০% লাভ জমা করবে যদিও এটি সবার জন্য এসেছে। এর অনুসারীরা প্রতিটি দিন প্রতিটি নামাজের সময় তারা সহজ সরল পথে “সিরাতুল মোসতাকিম”এর দিকে পরিচালিত হবার দোয়া করেন। মোনাফিক ও মুশরিকরাও এবাদতে সামিল হন, তবে শয়তানের কবজায় তারা দুনিয়ার বেশী সময় পার করেন। শয়তান তাদেরে আলিঙ্গনে নিজের দলে রাখে বলে তারা মুমিন হতে পারেন না। তবলিগ ভাইদের কাছে আবদার রাখি আপনারা ধর্মের মূল সত্যে মূল গ্রন্থ কুরআনে প্রত্যাবর্তন করুন। ফাজায়েলে আমলকে এত বেশী প্রধান্য দেয়ার কোন যুক্তি খাটে না। যতটুকু জেনেছি ওর মাঝে একগাদা মিথ্যায় ভরা অনাচারি গল্প দিয়ে ঠাসা যার কোন ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক মূল্য নেই।  এ ধারার গ্রন্থকে আমলে দেয়া মানে বিভ্রান্তিতে আরো ডুবে যাওয়া, তা না করে বরং কুরআনকে মূল্যায়ন করাই প্রকৃত ধার্মিকের কাজ হওয়া উচিত। তা ছাড়া পৃথিবীতে অন্য কোন গ্রন্থের সাথে কুরআনের তুলনা চলে না। ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য কি শুধুই দোয়া করা? কর্মহীন এবাদতের মূল্য ইসলামে বড় অল্প। ইসলাম একটি কর্মময় জীবনধারা।

আপনারা নিশ্চয় সবাই জানেন সেই কাঠুরিয়ার গল্পটি। নবী করিম (সঃ) তাকে তার নিজের পুরোনো কম্বল বিক্রি করে কুঠার কিনে তা দিয়ে কাঠ কেটে জীবন পরিচালনা করায় উৎসাহ দেন কিন্তু ভিক্ষুককে ভিক্ষা করতে নিরুৎসাহিত করেন। ধর্মে অবস্থাপন্নকে গরীবকে জাকাত দিতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে কিন্তু তাই বলে গরীবকে হাত পাততে বলা হয় নাই। এটি হচ্ছে মর্যাদাবান ইসলামের মূল শিক্ষা, মানুষকে কর্মী করে গড়ে তোলার শিক্ষা। আমাদের সমাজে বরং উল্টো মানুষকে হাত পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে ভিক্ষুক হতে দেখা যায়, কারণ এরা ইসলামের মূল থেকে কত দূরে অবস্থান করছে, এ তার উদাহরণ মাত্র। একজন শ্রমিক একজন রিক্সাচালক অনেক বড় দরবেশের পদ দখল করে আছে, তারা যে কঠিন কষ্টের অর্জন জমা করছে, মৌমাছির শ্রমের মধু আহরণের সাথে তুলনীয় হতে পারে। তাদের পাওনা যে কি হবে সেটি চিন্তা করেন সচেতনরা। তারা বেশির ভাগই সৎ, আল্লাহর খুব কাছের জন। যে নারী যে পুরুষ ইট ভেঙ্গে দেশ গড়ার কাজে হাত দাগিয়েছে, তার মূল্য কি একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বা প্রধানমন্ত্রীর থেকে খুব কম? মনে হয় না, বরং মনে হয় হয়তো তার বহু উপরে সে পৌছতে সক্ষম শুধু তার অর্জন দিয়ে সে আকাশ ছুঁতে সক্ষম। যদি সদাচরণে যৌবনে একজন যুবক চলতে পথে আল্লাহর স্মরণে, ঘোষ, নেশা,  দুর্নীতি, ধর্ষন, মদ, চুরি, রাহাজানি, ডাকাতী এক কথায় সব ধরণের অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকে, তার পাওনা কোন গন্ডি দিয়ে বেঁধে রাখা যাবে না।  তখন তারা এরকম একটি অর্জন জমা করতে পারবে, যখন তার ঈমান শক্ত থাকবে, কোন অবস্থায়ই তারা ওপথ মাড়াবে না। তাকে গাটের পয়সা খরচ করেও আপনি বিভ্রান্ত করতে পারবেন বলে মনে হয় না। কারণ সে অসাধারণ জীবন মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্যকে স্পর্শ করতে পেরেছে বলেই সে সৎ থেকেছে, এর বাইরে আর কোন পরিচিতি তার নেই। সে বিশ^ জয় করা তরুণ। আপনাদের তাকেই গড়তে হবে। এমন ধারার যুবককে দিয়ে বিশ^ জয় করতে সময় বেশী লাগবে না। পাশাপাশি ভিন্ন সমাজ থেকে এসব কারণে মুসলিম সমাজে এসব অপরাধ নেই বলাই উচিত। এর প্রধান কারণ ধর্ম তাদের নৈতিকতার গন্ডি বেধে দিয়েছে, যা অন্যরা পারে নাই। তারপরও আমাদের সমাজে কেন এসব দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তার কোন জবাব নেই। এর প্রধান কারণ মূল আদর্শটি তারা রপ্ত করতে পারে নি আত্মায় অন্তরে। এর গাফিলতির দায় সমাজের বাকীদের ঘাড়ে বর্তায় শিক্ষক অভিভাবকসহ সমাজ ব্যবস্থা মানুষকে পশুত্ব চর্চায় উদ্বুদ্ধ করছে। আপনারা নৈতিকতার দিকদর্শক হিসাবে এসব শোধরানোর জন্য ইতিবাচক কাজ করতে পারেন। কারণ যারা আপনাদের ঐ জলসাতে এসেছে, তারা অনেকেই আকন্ঠ ডুবে আছে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে।

এসব অপরাধীদের অপকর্মে গড়া দোয়ার কান্নাতে কি বিধাতার মন টলবে? অপরাধি হলে বিধাতার অনুগ্রহ না পাওয়ারই কথা। শত অপরাধ করে বেহেশতে চলে যাওয়ার মেকী গল্প না করাই উত্তম কারণ এসব কুরআন বিরুদ্ধ প্রচারণা অনেক সময় আমাদের সমাজে বিলি করা হয়। প্রকৃত গ্রন্থকে পাশ কেটে নকল কথার বানিজ্যে ব্যবসা সফল হবার কথা নয়। ধর্মটি এত বোকার ধর্মও নয়। পাপীর জন্য এখানে শক্ত বেরিকেড দেয়া, উদ্ধারের সব কটি রাস্তা সিলগালা করা অপরাধীর জন্য। যদিও অনেক ওয়াজে আমরা রঙ্গ রসের অনেক গল্প শুনি বাস্তবে কুরআন এসব স্পষ্ট করেই বিবৃত করেছে এবং এসব থেকে দূরে সরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে, একবার নয় বারে বারে। নষ্ট ও অপরাধী উদ্ধারের সোজা রাস্তা নেই বলাই সমিচিন। “নিঃসন্দেহ তিনি জানেন কথাবার্তার প্রকাশ্য দিক আর জানেন যা তোমরা গোপন কর” (সুরা আম্বিয়া অর্থ নবীগণ, ১১০ আয়াত)। আল্লাহ বলেন, “এটি দুনিয়ার জীবন হচ্ছে তোমাদের জন্য একটি পরীক্ষা আর কিছুকালের জন্য জীবন উপভোগ” (ঐ সুরা, ১১২ আয়াত)। এবাদতের শর্ত হচ্ছে মানুষকে নির্মল হতে হবে, হালাল খেতে হবে, হালাল রোজগার ঘরে তুলতে হবে। তার হিসাব খুব সহজ। বাংলাদেশের কয়জন মানুষ টাকার রং দেখেন, তারা মনে করেন টাকা হলেই চলে, এর আবার সততার দরকার কি? আল্লাহর কম্পিউটার কিন্তু টাকার প্রকৃত রং চিনতে অতিরিক্ত সক্ষম। দেশটি ডুবি ডুবি করে দুর্নীতির লিস্টে সব সময় উপরের লিস্টে নামেদাগে চিহ্নিত হয়, কারণটি কি? এসব বিষয়ে আপনারা তবলিগের মাহফিলে ইজতেমাতে মানুষকে দিক দর্শন দিতে পারেন, তাদেরে অপরাধের পথ থেকে সরে আসার আহবান জানাতে পারেন। নয়তো এসব দোয়া অরন্যে রোদন ছাড়া আর কোন কিছু কি জমা করতে পারবে? একটু কান পেতে শুনুন আল্লাহ কি বলেন, “আর আকাশ ও পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যে যা কিছু আছে সে সমস্ত আমরা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি” (ঐ সুরা, ১৬ আয়াত)।

অনেক ধর্মে বলা হয় কাজ করে যাও, ফলাফলের আশা করো না। কুরআন কিন্তু তা কখনোই বলে না। সব সময়ই আশায় বেধে রেখেছে তার অনুসারীকে। ইসলাম ও কুরআন সুকর্মের বদলে সুফলের ১০০% গ্যারান্টি দেয়। উদ্দেশ্যহীন তপজপের মূল্য ইসলামে নেই। এটি অতি বৈজ্ঞানিক নিয়মে বাধা ধর্মের মালিকানা সত্য ও নীতিতে গড়া। অনাচার অসত্য বিভেদ বিভক্তির ১০০% বিরোধী মনোভাবে ইসলাম ঠাসা। সেখানে অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন নামে যে দল গড়েছেন বিভিন্ন সংস্থার নামে মূলত ইসলাম এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত মাত্র একটি গাথুনিতে পরিচিত। তাই কড়া করে বলা হয়েছে এ ধর্মে কোন বিভক্তি আনা যাবে না। কিন্তু আমরা বেওকুফরা সে মূলকে শক্ত করে শিকলে বেঁধে রাখতে পারি নি বলে ধর্মের নামে আমাদের মাঝে এত বিভেদের ছড়াছড়ি। হাদিসে জানা যায় মানুষ এভাবে ৭৩ দলে নাকি বিভক্ত হবে, এবং মাত্র একটি দল থাকবে সত্যের উপর। তার সহজ মানে হচ্ছে একমাত্র ইসলাম ছাড়া বাকীরা বাতিল বলে গণ্য হবে। তারও সহজ সমিকরণ হচ্ছে বা হবে ৭৩ থেকে ৭২কে ফেলে দিয়ে ঐ মূল একে ফিরতে হবে সবাইকে, তবেই রক্ষা নয়তো বাকী ৭২দলের কঠিন মরণ। সেই একক সত্ত্বায় ফেরার কৌশলও বাতলোনো আছে পবিত্র গ্রন্থে, শক্ত করে ঐ গ্রন্থের গাটছড়া বাঁধতে হবে।

ইদানিং শুনছি বাংলাদেশে খুতবা নির্ধারণ করার ব্যবস্থা হচ্ছে। উদ্যোগটা উদ্দেশ্য মহৎ হলে মন্দ ছিল না, কিন্তু মনে হচ্ছে তারা এর মূল ছেড়ে দেয়াতে অভিস্ট  লক্ষ্যে পৌছা তাদের ইচ্ছা নয়। বলা হচ্ছে সেখানে কোন রাজনীতির কথা থাকতে পারবে না। ইসলাম কিন্তু এসেছিল সমাজে উত্থিত প্রতিটি সমস্যারই সমাধানে। মসজিদে কোন দিনই জঙ্গি তৈরী হয়নি, ঐশী আদর্শে গড়ে তোলা একদল মানুষ তৈরী করা হয়। যারা এক আল্লাহ ব্যতীত কারো তোয়াক্কা করে না, কোন অনৈতিকতার গোলামী তারা করে না। তবে জীবন চলতে প্রতিটি নীতি নৈতিকতার অতিরিক্ত মূল্যায়ন করে। মসজিদই বড় রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়  প্ল্যাটফরম বলেই জানি। মসজিদই ছিল প্রাক ইসলামের সংসদ। সেখানে প্রতিটি জটিল বিষয় আলোচিত হতো এবং এর উপর ভিত্তি করে নৈতিকতার মানবিকতার আদর্শ ঐশী গ্রন্থের আলোকে উত্তমকে গ্রহণ করা হতো। জামাতের নামাজ তাদের শিখিয়েছিল সামাজিক সাম্যতা আর মহান ঐক্যতার বন্ধন। ঐ একতার কারণে ক্রমে রক্তের বন্ধন থেকে মুসলিম ভাতৃত্বের স্থানও উপরে উঠে আসে। নামাযই ছিল মুসলিমদের ড্রিলের ময়দান। ভাতৃত্বের বন্ধন এতই জোরালো ছিল যে, বিভেদ সেখানে কোনভাবেই জায়গা করতে পারে নি। সবার লক্ষ্য এক আল্লাহকে স্পর্শ করা। কোন পীর মুরশিদকে স্পর্শ করার দায় কোন জনতার মনে খন্ডিতভাবেও ছিল না। আল্লাহ ছাড়া আর বাকী কোন শক্তির পূজা এরা করে না, মসজিদে তা হয় না। ইসলাম পীর মুরশিদের গোজামেলে রাস্তাকে মূর্তিপূজার সাথে তুলনা করে। সেখানে একমাত্র আল্লাহর ঐশ^রিক একাত্বতার স্বীকৃতি সমর্থনীয়।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

মদীনায় প্রথম সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের প্রিয় নবী ইহুদী, পৌত্তলিক ও মুসলিমদেরে দেশের সাধারণ স্বার্থরক্ষার্থে ও দেশের মঙ্গলের জন্য একটি রাজনৈতিক জাতি বা কওমে পরিণত করার ডাক দেন। সেদিন যার যার ধর্ম নিয়েও প্রতিটি গোষ্ঠী সংঘবদ্ধ হয়ে দেশ সেবাতে এক অবিস্মরণীয় প্রতিজ্ঞাপত্রের বদৌলতে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক সনদে এক সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। যেখানে প্রত্যেকের স্বকীয়তা, স্বাধীনতার মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়। পীর মুরশিদের জন্য আলাদা কোন তকমা প্রচার করার সুযোগ থাকে নাই। লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায় ও সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটি এমন একটি সময় ঘটে যখন গোটা আরব জাহেলিয়াতিতে আকন্ঠ ডুবে ছিল তখন একদল মানুষকে নবী মোহাম্মদ (সঃ) বিশে^র ময়দানে মানবতার ডঙ্কা বাজিয়ে এগিয়ে নিতে হাজির হন। সেদিন মসজিদের প্রতিটি মানুষ ছিল সত্যের সৈনিক। সেদিন ঐ সাধারণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল শক্তিমানের অত্যাচার থেকে দূর্বলকে রক্ষা করা। আজ যদি এসব বেরিকেড দিতে প্রবল হয়ে আরো দুর্বলকে আঘাত করা হয় তবে এর উদ্দেশ্য অংকুরেই বিনষ্ট হতে বাধ্য। কারণ যারা এর গুরুদায়িত্বে শোনা যায় তারা  অনেকেই নিজেরাই বিতর্কিত মানুষ তাদের কাজে কর্মে। এরা শক্তিমানের রাজদন্ড হয়ে দূর্বলকে আঘাত করলে ইসলামকেই সমূলে উৎপাটন করা হবে। বলা হচ্ছে সেখানে কোন রাজনীতির কথা আসবে না। কারণটি কি? রাজনীতি কি ইহকালীন কোন সমস্যা নয়? রাজনীতি কি পরকালীন কোন সমস্যা মাটির নীচের কবরের ব্যাপার, যার কোন প্রয়োজন নেই জীবন সংগ্রামী মানুষের? রাজা যা ইচ্ছা তাই করবেন কেউ কিছু বলবে না, তা কোনদিনও ইসলামের বিষয়বস্তু ছিলও না, থাকার কথাও নয়। ইসলাম এক বিশ^ সমাজ গঠনের স্বপ্নে গড়া আদর্শ। একে রাজনীতির সূতা নাতা দিয়ে কষে বাঁধতে গেলে মৌল ইসলামকেই ধ্বংস করা হবে।

চলমান প্রসঙ্গের এ খবরটি উল্লেখ না করে পারছি না। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ধর্মদ্রোহী আখ্যা দিয়ে ১৫ বছরের এক ছেলেকে হাত কাটার নির্দেশ দেন সাব্বির আহমদে নামের এক ইমাম । সে নির্দেশটি পালন করতে ঐ ছেলেটিকেই বলা হয়। সুবোধ বালকটি নিজে তার হাত কেটে উপহার হিসাবে ইমামের স্মরণে পাঠায় । ১৭ জানুয়ারীর খবরে সেই ভয়ঙ্কর ইমামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য প্রশ্ন না বুঝে ভুলভাবে হাত তোলাতে শালিস কমিটির বরাতে তাকে এ ফতোয়া দেয়া হয়। এ ধারার ফতোয়াবাজরা অন্যায় ফতোয়াই দেন, বোঝা যায় তারা ধর্ম শিখেননি। মূল গ্রন্থ কুরআন তাদের আমলে নেই বলেই তারা এসব কুরআন বিরোধী অনাচার করছে আর ধর্মের ঘাড়ে বন্দুকটি রেখে বোকাদেরে শিকার করছে। যারা কুরআন বিরোধী কোন কাজ করবে তাদেরে কঠিন শাস্তির বিধান রাখা উচিত। এর সহজ যুক্তি কুরআন বিরোধী মানে আল্লাহ বিরোধী। তাহলে মানুষ ফতোয়ার নামে এমন ধারার অপরাধ করবে না। কুরআন একমাত্র গ্রন্থ যেখানে ন্যায় নীতি ছাড়া অনৈতিকতার কোন উদাহরণ নেই। যারা কুরআনের প্রতিটি ম্যাসেজের সাথে গভীর বিশ^াসে জ্ঞাত নয়, জড়িত নয়, তাদেরে এসব ইমামতির দায়িত্ব দেয়া উচিত নয়। যেখানে কুরআনের বক্তব্যযে কেউ হত্যা করে একজন নির্দোষ মানুষকে যেন সে সবাইকে হত্যা করলো। আর যে কেউ একজন নির্দোষকে বাঁচালো সে যেন সমস্ত লোকজনকেই বাঁচালো (সুরা মায়েদার ৩২ আয়াতে)। এরা কুরআন না বুঝেই মুখস্ত করে, তাই এর মূল্যবান বাণীসমূহ তাদের অন্তরে প্রবেশ করে না। সমস্ত মুসলিম বিশে^ এ ধারার জনতাকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত।

ইতিহাস বলে প্রাথমিক ইসলামে যদি কেউ এ ধারার সামান্যতম ভুল ত্রুটির উদাহরণ স্থাপন করতো, সাথে সাথে প্রকাশ্য ময়দানে তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হতো, এতে মানুষ এসব অপরাধ করার সাহস পেতো না। হয়রত ওমরের সময়ে তামিদদারী নামক একজনকে মিথ্যা গালগল্প প্রচারের অপরাধে বেত্রাঘাত করা হয়, তিনি ধর্মের নামে মিথ্যা গালগল্পকে ধর্মের গল্প বলে চালানোর প্রচেষ্ঠা করেন। ঐ বিতর্কিত ইমামের প্রশ্নটি যা বালকটি বুঝতে পারে নাই তা ছিল নবী মোহাম্মদ(সঃ)কে মহব্বত করা ও না করা বিষয়ে। তখন সে ভুলক্রমে প্রশ্নটি না বুঝে হাত উঠায় যাতে ইমাম সন্তুষ্ট হতে পারেন নি। এ ধারার ধর্ম বাহকেরা ধর্মের খোলসের বাইরেই ঘোরাফেরা করেন, ভেতরে প্রবেশ করে এর মহানুভবতাকে স্পর্শ করতে পারেন না। গবেষণা তথ্য বলে প্রিয়নবী মোহাম্মদ(সঃ) বিশেষ তাগিদ সহকারে বলে যান যে, “সাবধান! খ্রীষ্টানেরা যেরূপ মরিয়মের পুত্র যীশুকে বাড়াতে বাড়াতে অসীম ও নিরাকার “পরম পিতার” আসনে বসিয়ে দিয়েছে। তোমরা যেন আমার সম্বন্ধেও সেরূপ অতিরঞ্জন করো না, আমি তো আল্লাহর একজন দাস ও তার বার্তাবহ আর কিছুই নহি (মোসলেম–মেশকাত-২৮)। উপরোক্ত সূত্রতে ঐ সব ধর্মে অনভিজ্ঞ ইমামদের জানবার শিখবার অনেক বড় বানী লুকিয়ে আছে। আমার নিরপেক্ষ কাতর মাতৃমন বলছে সে যদি ঐ দিন মসজিদে না যেত তবে এ বিড়ম্বনার সামনে পড়তো না, তার হাতটি অন্তত বাঁচতো। এতে এটি কি স্পষ্ট হয় না যে ঐ ইমাম সন্তানদেরে নামাজের চেয়ে বখাটে হতেই উৎসাহ যোগিয়ে যাচ্ছেন, নয়কি? সব বিতর্কিত ধর্ম না বোঝা প্রচারক ইমামদের কাছে প্রশ্নটি জমা রাখলাম।

ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারনা গুলোর সমাধান – ডাঃ জাকির নায়েক বাংলা

 

দেশে এত এত সমস্যা যার কোন শেষ নেই। প্রতিটি সমস্যাই সেখানে কমবেশী আলোচিত হতে পারে। রক্ষক হয়ে পুলিশ নির্দোষ মানুষ ধরে যমের ঘরে পাঠাচ্ছে, ইসলামের প্রকৃত নীতি হিসাবে সেটিও সেখানে মসজিদে আলোচিত হতে পারে। হিন্দুদের মন্দিরে আগুন কে বা কারা দিচ্ছে তাও খেলাসা করার উদ্যোগ সেখান থেকে নেয়া যেতে পারে। ইদানিং ফেসবুকে অনেক প্রমাণসহ খবর পাই যে অনেক জায়গায় বোকা মুসলিমদেরে ফাঁসাতে হিন্দুরাই নাকি নিজেদের মূর্তি নিজেরা ভাংচুর করছে। এসব প্রতিটি জটিলতার উপরই ওখানে আলোচনা হতে পারে। ইদানিং জঙ্গিপনার নামে কিছু কথা আসছে, তা প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা নয়। জঙ্গিপনার নামে ছেলে মাকে হত্যা করে ফেলছে, এটি কি ধরণের ইসলাম, এমন ধারার ইসলাম কোন দিন নবী করিম প্রচার প্রতিষ্ঠা করেন নাই। আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে আল্লাহর পরই ছেলে মেয়েকে মায়ের বাপের প্রতি নজর দিতে হবে। চিন্তা করুণ সচেতনরা, এটিই একমাত্র ধর্ম যেখানে একজন মা বাবাকে কত উপরে স্থান দেয়া হয়েছে। কেউ যদি মাকে হত্যা করে তাতে আল্লাহ খুশীতে গদগদ হয়ে যাবেন যারা ভাবে তারা ইসলামের গভীর সত্যে ঢুকতে পারে নাই বলে এমন মিথ্যাতে সয়লাব হয়ে গেছে। কুরআন বলে ‘বলো “তোমাদের কি দৃষ্টিগোচর হয়েছে, – তোমাদের উপরে যদি আল্লাহর শাস্তি এসে পড়ে আতর্কিতে অথবা প্রকাশ্যভাবে, তবে অত্যাচারী গোষ্ঠী ছাড়া আর কাউকে কি ধ্বংস করা হবে”? “অতএব যে কেউ ইমান আনে ও সৎকাজ করে তাদের উপরে থাকবে না কোনো ভয়ভীতি, আর তারা করবে না অনুতাপ (সুরা আন’আমএর ৪৭/ ৪৮ আয়াত)।

নাজমা মোস্তফা

কিভাবে তবলিগ করতে হবে এর উপর সুন্দর উদাহরণ বর্তমান। এর উপর উপরে একটি ভিডিও লিংক দিচ্ছি। উপরে ওটিও মুছে দেয়া হয়। যারা চায় না প্রকৃত ইসলাম প্রচারিত হোক তারা এসব সহ্য করতে পারে না।

আনন্দবাজার ও “র”: বাংলাদেশের যাতনার উৎসমূল

১১ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখে প্রকাশিত ভারতের আনন্দবাজার রিপোর্টে বলা হয় বাংলাদেশ অবৈধ ঘোষনা করতে চলেছে জিয়ার দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টিকে, বড়সড় সমস্যার মুখে পড়তে পারে খালেদা জিয়া। সমগ্র বাংলাদেশই আজ জানে কিভাবে বাংলাদেশকে বাগড়া দিতে শুধু ভারত কাঁটাতারের বেড়াই দেয় নি, বরং “র” এর তৎপরতায় ভয়াল চিত্র এঁকে চলেছে। এসব খবরের আসল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের জনমতকে বিভ্রান্ত করা ও ভারতের স্বার্থের অনুকুলে নেয়া। তাই শুধু আনন্দ বাজারই নয়, বাংলাদেশের কিছু মিডিয়া পত্রিকাও কাজ করে তাদের শক্তিশালী মাউথপিচ হিসাবে। সূত্রে পাওয়া এদের একজন ভারতীয় এজেন্ডাতে অল্প বা বেশী দামে বিক্রি হওয়া “সাংবাদিক মহাশয়কে জ¦ালাময়ী সব রিপোর্ট করতে দেখা যায়। রিপোর্টের মাঝে এখানে আইএসআই ঘাটি গেড়ে বসে আছে, মৌলবাদী তালেবানী চক্রান্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন। কবি শামসুর রহমান হত্যাকান্ডে তালেবান কানেকশন আবিষ্কার, “র” বিরোধী লেখা পড়েও তিনি মারাত্মক চিন্তিত থাকেন। ভারতের স্বার্থরক্ষাতে ১৯৯৯ সালে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন স্বনামে। এমনকি কাশ্মীর যে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তার প্রমাণেও তিনি উঠে পড়ে লাগার প্রমান পাওয়া যায়। তার কাজ হচ্ছে এসব দালালির পক্ষে কাজ করে যাওয়া। “র” চ্যানেল থেকে ঐ সাংবাদিককে তড়িঘড়ি কাশ্মীরের ভিসা বিমান টিকেটসহ যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেন কুটনৈতিক ছদ্মবেশে কর্মরত এক “র” মহিলা। দেখা গেল, ঐ সাংবাদিক কাশ্মীরের সব শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিকসহ স্থানীয় সেনা কামান্ডার এমনকি ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে দেখা করে ফিরে এলেন বাংলাদেশে। তার বদৌলতে বাংলাদেশের পাঠক শ্রেণীর এক অংশ জানলো কাশ্মীরী স্বাধীনতাকামী সবই মৌলবাদ সন্ত্রাসী পাকিস্তানের কাজ। (বাংলাদেশে “র” আবু রুশদ, পৃষ্ঠা ১৯৭-৯৮)। এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে টার্গেট করা দেশবাসীকে ভুল পথে পরিচালিত করে হতবুদ্ধ ও বিশৃংখলভাবে পরিচালিত করা। এভাবে এরা শত্রুদের মধ্যে ভুল তথ্যের অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশীদের সর্বনাশ করে। ভারতীয় গোয়েন্দা বিশ্লেষক অশোক রায়নার মতে, উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সংবাদ মাধ্যমে, কুটনৈতিক চ্যানেল অথবা রাজনীতিবিদ সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশাজিবীদের মাধ্যমে এসব ভাইরাসের অনুপ্রবেশ করানো হয়। যা আমরা দেখছি বর্তমানে তাদের অন্য বিশ্লেষকরাও কিভাবে বাহাদুরী করে এসব নষ্টাচারকে বীরত্ব মনে করে বুক ফুলিয়ে সাম্প্রতিক প্রকাশ করছেন।  ঢাকায় বিমানবন্দরে “র” এর অফিস রয়েছে.. ড. তুহিন মালিক

বহুদিন থেকে অনেককে বলতে শুনা যায় বাংলাদেশে কোন সেনাবাহিনীর দরকার নেই, বা হয়তো বলতে শুনবেন বিএনপির সাথে জামাত কেন? ওটি না ছাড়লে কোন সমঝোতা নয়, এসব হচ্ছে তাদের তালেবোলে ভরা “র” এর আদলে অপকর্মে ঠাসা বুলি আমাদের কিছু বিক্রি হওয়া বুদ্ধিজীবি সাংবাদিককেও ঐ তালে মঞ্চ নাড়াতে দেখা যায়। বিশাল সমাবেশ দেখে “র”সহ সরকারের মাথা বিগড়ে গেছে তাই আনন্দবাজারও ১১ জানুয়ারীর এসব প্রলাপে যোগ দিয়েছে। সমাবেশের প্রভাবে পরদিনই সুরঞ্জিত প্রলাপে নামেন, প্রমাণ দেখুন। (১) দেউলিয়া হয়ে গেছে বিএনপি, (২) মা ছেলেকে না বদলালে বিএনপি বদলাবে না, (৩) বিএনপি টিকে কি না সংশয়? এসব প্রচারে বাবু সুরঞ্জিত। নাসিম বলেন অপেক্ষায় আছেন খালেদার আখেরী মোনাজাত করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন বিডিআর বিদ্রোহে খালেদা জড়িত, জিয়া অবৈধ, খালেদা অবৈধ। ওদিকে শেখ হাসিনাকে কয়েক টার্ম সুযোগ দেয়ার আবদার করছেন সৈয়দ আশরাফ। বিএনপিকে ধ্বংস করতে হবে, ইনু। এ সরকারকে বৈধ বললে তবেই সংলাপ: হাছান। সব প্রশ্নের জমা ও তার উত্তরের স্ক্রিপট বাংলাদেশের মজলুম জনতার কাছে আছে। সুরঞ্জিত টাকার বস্তাসহ ধরা পড়েও বাপ বেটা বদলের চিন্তায় নেই, মা ছেলে বদলের চিন্তায় কঠিন সময় পার করছেন। সাম্প্রতিক বিএনপির বিশাল সমাবেশের পর তারা বিরাট উদ্যোগে প্রতিশোধের মানসিকতায় মাঠে নেমেছেন, মুখে এসব বুলি ছাড়ছেন। উল্লেখ্য ২৭ জানুয়ারী ২০১৫ তারিখে ভারতের জনতা পার্টি বিজেপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সভাপতি তথাগত রায়সহ আমাদের সুরঞ্জিতবাবু বাংলাদেশ সফরে হিন্দুদেরে আওয়ামী সরকারের নামে ঝাপিয়ে পড়তে নির্দেশ দেন (ইত্তেফাক ৩ জানুয়ারী ২০১৫, প্রথম আলো ৪ জানু, ২০১৫), সম্ভবত জনতারা ভুলে নাই।

বিগত শতক থেকে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস করে বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের ভারতে পড়াশুনায় উদ্বুদ্ধ করা হয়। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের নেপথ্যে “র” (সাপ্তাহিক সৈনিক এর ২৮ আগষ্ট ১৯৯১ সংখ্যায় এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়)। নীচে ঐ প্রতিবেদনের কিছু। এরা ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তন ঘটায়। ভারতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোন সরকার বা রাষ্ট্র স্থিতিশীলতা অর্জন করুক এটা “র”এর কাম্য নয়। চারপাশে গড়ে উঠে “র”এর সাথে সাদৃশ্য রেখে বিভিন্ন সংগঠনের নামে শিখন্ডী সংগঠন। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসব করা হয়। শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ করা হয় চকচকে উন্নত ধরণের অস্ত্র। ধারণা হয়, এসব “র”এর হাত দিয়েই আসে। উল্লেখ্য গোটা বিশে^ সন্ত্রাস ও গোলযোগ সৃষ্টির জন্য তাদের একটি নেটওয়ার্ক আছে। অনেকের মতে ঐ পথ ধরেই এসব অস্ত্র আসছে। কখনো কখনো সীমান্তের ব্যস্ততা বেড়ে যায়, ১৯৮১ সালে জিয়া হত্যার আগে এমনটি হয়। ভারতের বিজেপির অনুকরণে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব, ঢাকার বেশ কিছু জায়গায় দেয়ালে দেয়ালে দেশীয় বিজেপির দেয়াল লিখন চোখে পড়ে (ঐ গ্রন্থ, ১২৯/১৩০ পৃষ্ঠা)।

মিলিটারী ইন্টেলিজেন্সে “র” এজেন্ট অনুপ্রবেশের অভিযোগ ও দেশের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ভারতে পাচার এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত করার ষড়যন্ত্রের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১২৪(ক) ১২০ (ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। ১৯৯২ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার দিয়াড় মানিকচরে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ভারতে পাচারের সময় বিডিআর জোয়ানদের হাতে গয়ানাথ ধরা পড়ে। পরে সে তার গুপ্তচরবৃত্তির কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। ১৯ সেপ্টেম্বর সঞ্জীব রায় মিন্টু ও আয়েজউদ্দিন গ্রেফতার হয় ঐ একই অপরাধে। বাকী দুজন ভারতে পালিয়ে যায়। গয়ানাথ, বলরাম, রামপদ, আয়েজুদ্দিন গোদাগাড়ী থানা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। উদ্ধারকৃত কাগজপত্র থেকে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর ভারতের দুজন নেতা গোপনে জেলাগুলো সফর করে সংগঠন গড়ে তুলবেন। ঐ সূত্রে ৬২ জনের নাম, ঠিকানাসহ স্বাক্ষর রয়েছে, এদের বেশীর ভাগই নদীয়া ও বর্ধমানের বাসিন্দা। তাদের কাছে পাওয়া যায় হিন্দুদের ব্যক্তিগত পর্যায়ের জমিজমা ও থানার মামলা ও অভিযোগের অনুলিপি, অধ্যাপক গোলাম আযমের মুক্তির দাবী সম্বলিত জামায়াতের নীলফামারী শাখার স্বারকলিপি এসব ভারতে পাঠানোর জন্য সংগৃহীত হয়েছিল বলে আসামীরা জানায়। ওসি হাবিবুর রহমান জানান দেশে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে এদেশে ও ভারতে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা, এবং রাজনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টির কাজে এ গুপ্তচর চক্রটি সর্বদা নিয়োজিত। ইংরেজী পত্রিকা দৈনিক টেলিগ্রাফ ১৩ নভেম্বর ‘৯২ তারিখে ভারতীয় নাগরিক অনুকূল বিশ^াস “র” এর গুপ্তচর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার মেদিনীপুর সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়। উমা রানীর কাছে রাষ্ট্রীয় অনেক গোপন তথ্য সম্বলিত কাগজপত্র পাওয়া যায়। পিটার কাস্টারস নামের এক ডাচ নাগরিক ‘৯২ সালে কলকাতা হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন।

সেই অমোঘ সত্যকে বিএনপি বরাবরের মতই অবহেলা করেছে আর আওয়ামী লীগ হাত দাগিয়েছে দেশ বিরোধী ভারতীয় গোয়েন্দাদের সাথে। ছোট্ট গণতান্ত্রিক দেশকে টিকে থাকতে হলে থাকতে হবে কার্যকর প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গুপ্তচর সংস্থা। কারণ শক্তিশালী ইন্টেলিজেন্স ছত্রচ্ছায়া ব্যতীত এসব বৈরী গুপ্তচর সংস্থার ধ্বংসাত্মক তৎপরতা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। দুই বাংলা একত্রিকরণের অপপ্রচারের উপর ভিত্তি করে বিশ^ শান্তি পরিষদ ও বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ নামের দুটি সংগঠনের আয়োজিত সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল “দক্ষিন এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নয়া তাগিদ” এটি ছিল দুই বাংলাকে একত্র করার উপদেশ দান। ৩১ অক্টোবর ৯৩ তারিখে কলকাতার ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকায় একটি ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয় বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে। ঐ ক্রোড়পত্রে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমার ‘বন্দী আমি’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়। তার আক্ষেপ ছিল, ‘আমরা কবে এক হবো, হাঁটবো বনগাঁ থেকে বেনোপোল’। এসব প্রচার প্রচারণা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, তা মনে করার কোন কারণ নেই। বরং নির্দ্বিধায় বলা যায় অজিত পাঁজা, বিশ^ শান্তি পরিষদ, আনন্দবাজার, তসলিমা, জিটিভি এরা সবাই একই সূতোয় বাঁধা। ‘র’ বাংলাদেশকে গ্রাস করার চক্রান্ত বাস্তবায়নে সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করেছে। এটি বোঝা দুয়ে দুয়ে চার হিসাব মেলানোর মতই সহজ (ঐ গ্রন্থ ১৩২-১৩৭)।

একদল সুযোগ সন্ধানী ১৯৯৬ সালে যে ‘জনতার মঞ্চ’ নাটক করেছিল প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গনে আজকের ক্ষমতাধরদের ছত্রচ্ছায়ায়, সেদিন তারা আহবান করে ছাত্র শিক্ষক, ব্যবহারবিদ প্রকৌশলী, কৃষিবিদ চিকিৎসক, শ্রমজীবী সংস্কৃতিসেবী, বুদ্ধিজীবী রাজনৈতিক, এমনকি সরকারের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা, ব্যুরোক্রেটিক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে চুরে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথ করে দেয়। প্রশাসনের বিভিন্ন মহল বিরক্ত হয়ে উঠবে, মানুষ হতাশ হবে, “র” নীলনক্সা বাস্তবায়নের সিগনাল বেজে উঠবে। চিত্তরঞ্জন সুতারের বঙ্গভ’মি আন্দোলন ছিল বৃটিশের মতনই আরেক কাসেম বাজার কুঠি। জানা যায় ১৯৯১ সালে প্রয়োজনে বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার পথে এগিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা ছিল। এ দেশের দাগী আসামীরা বন্ধুর দেশেই শান্তির আবাস খুঁজে পায়। “র”এর ৪ শ কোটি রুপী বাজেট। “জাতিসংঘে ফারাক্কা প্রশ্নে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। সাপ্তাহিক সুগন্ধা (০৮/১০/৯৩) তে এটি আসে যে, দেশকে অস্থিতিশীল করা ও খালেদা জিয়ার প্রাণনাশ কিংবা যেনতেনভাবে বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা চালাতে পারে”। বারে বারেই “র” এ কাজে হাত দাগিয়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের কল্পকাহিনী ও বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক দেশ হিসাবে চিহ্নিতকরণ। বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হয় ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২সালে। ১৬-৩১ ডিসেম্বরের ‘পাক্ষিক দিকপাল’ প্রকাশ করে চরম মিথ্যাচারের এক কাল্পনিক গল্প নামের ভয়াবহ হিন্দু নির্যাতনের কাল্পনিক কাহিনী। ডঃ আহমদ শরীফ পত্রিকাটির উপদেষ্টা, সন্দীপ কুমার বিশ^াস সম্পাদক ও ন্যাশনাল হিন্দু পার্টির সাধারণ সম্পাদক। প্রতিষ্ঠাতার নাম লেখা আছে খোকাবাবু। মিথ্যাচারী গল্পের কটি লাইন “নিরাপত্তার অভাবে লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকার ১০০টি পরিবার বিশ^বিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে আশ্রয় নেয়। সারাদেশে ৩৩ জেলাতে তিন শতাধিক মন্দির ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণের চিত্র শুধু দিকপালই ছবি আঁকে, অন্য কোন পত্রিকায় এসব ছবি নেই। বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিবাদে সংসদে নিন্দা জানালে ভারতীয় হুমকি আসে ২৩ জানুয়ারী ‘৯৩ তারিখে “ভারত সরকার বাংলাদেশের সরকারের ভবিষ্যত পদক্ষেপের উপর মনোযোগ সহকারে নজর রাখবে”। চিনে রাখুন ভারত কি চিজ! এর মাত্র পাঁচদিনের মাথায় একুশে বইমেলাতে প্রকাশিত হয় তসলিমার “লজ্জা”। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নেই, হিন্দু নির্যাতনের কাল্পনিক কথামালাই ছিল লজ্জা উপন্যাসের মূল বিষয়। ভারতের ‘ইন্সটিটিউট অব স্ট্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আশোক , এ , বিশ^াস ৩১ আগষ্ট ৯৪ সংখ্যা দি নিউ নেশন পত্রিকায় Raw’s rule in furthering India’s foreign policy প্রকাশিত কলামে বলেন, বিএনপি সরকারকে বিশ^ দরবারে সাম্প্রদায়িক, সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী হিসাবে চিত্রিত করার জন্য “র” তসলিমাকে সৃষ্টি করে। তিনি একে “র”এর বড় সাফল্য বলে মনে করেন। তার ভাষ্যমতে এই অনৈতিক তৃতীয় শ্রেণীর লেখিকাকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে কলকাতার প্রচার মাধ্যম ও তাকে আর্থিক সহায়তা দান করেছে “র” (ঐ গ্রন্থ, ১৭৭-১৮০পৃষ্ঠা। তখন বিজেপিসহ হিন্দু সংগঠন এগিয়ে আসে, আনন্দবাজার গোষ্ঠী তাকে আনন্দ পুরষ্কারে ভ’ষিত করে। অতপর ২০০০ সালে আবারো তাকে দ্বিতীয় বারের মত ভ’ষিত করা হয় আনন্দ পুরষ্কারে। বিশেষ মহল তার লজ্জার হাজার হাজার কপি বিনামূল্যে বিক্রি করে। যাদবপুর বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক সেকুলার শিক্ষক (বর্তমানে বিজেপি মানসিকতাসম্পন্ন) নিজ খরচে বইটির ফটোকপি বিলি করে বেড়ান। যুক্তরাষ্ট্রের সিএনএন থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট তসলিমার সমর্থনে বাংলাদেশকে মধ্যযুগীয় মৌলবাদী দেশ হিসাবে প্রতিপন্ন করে প্রচারণা চালায়। ঐ সময় বিজেপির হুমকি ছিল দুই কোটি মুসলমানকে বিতাড়িত করবো ও বাংলাদেশকে অঙ্গরাজ্য বানাবো। ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার ফারাক্কা ভাষনের পূর্বেই বিশ^ দরবারে হেয় প্রতিপন্ন করতে হিন্দু নির্যাতনের কাল্পনিক ইস্যুকে জোরদার করা হয়। এতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মত। ২০ মে ‘৯৬ সালে ক্যু দে’তার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে ভারতীয় ১০ লাখ সৈন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ছিল। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে টাকা দিবে “র” আওয়ামী টার্গেট ২০০ আসন, এটি খবরের শিরোনাম।

প্রচারণা, পত্রপত্রিকা ও রাজনৈতিক দলবাজদের মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচারের উদ্দেশ্য জনমত ভারতের অনুক’লে নেয়া। ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের কিছু আগে থেকেই শ’ পাঁচেক প্রশিক্ষিত স্যাবোটিয়ার্স, যারা পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী ও দেখতে বাংলাদেশীদের মত, তাদেরে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে নিযুক্ত করা হয় বিশৃংখলা সৃষ্টির জন্য। একদিকে বাংলাদেশকে ভারতীয় পণ্যের বাজার তৈরী করছে আর অন্যদিকে দেশীয় পূঁজি বিনিয়োগকে প্রতিহত করে অর্থনৈতিক দিকে আগ্রাসনের পথ সুগম করে দেয়া তাদের এ নীতির অংশ। যমুনা সেতু ১৯৯২ সালে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা পাথর ব্যবহৃত হতে পারে নি কোন অদৃশ্য কারণে। তদানীন্তন সরকার উত্তর কোরিয়ার সাথে একটি স্বারকে স্বাক্ষর করে কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে এ প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যায়। পাথর আমদানী করতে হয় ভারত থেকে (দৈনিক ইনকিলাব ১৬/১২/২০০০)। “র” স্পর্শকাতর পদের পরিবর্তন ঘটায় অদৃশ্য নির্দেশনায়। ভারত বাংলাদেশ গবেষনার নামে তারা ভারতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এসব রিসার্চ সংস্থাও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সম্পর্কযুক্ত। ভারত সরকার এদেরে পরোক্ষভাবে অনুদান দিয়ে থাকে তাদের কপট স্বার্থে। সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেন ভারত থেকে এগিয়ে যেতে না পারে ঐ লক্ষ্যেই ভারত আগুয়ান। সংস্কৃতির লেজুড়বৃত্তির নামে চলে “র” ঘটিত জাদরেল ব্যবসা। নির্বাচনকালীন সময় ও তার আগে তাদের তৎপরতা সবদিনই একটু বেশী থাকে। বাংলাদেশকে চারপাশে “র” অক্টোপাসের মত ঘিরে ধরেছে। কারও প্রতি তাদের কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই। প্রয়োজন শেষে সবাই টয়লেট পেপারের মর্যাদা পায় (দৈনিক ইনকিলাব, ৪/১২/২০০০)। রেস্টুরেন্ট কম্পিউটার ফার্মের আড়ালে চলছে তথ্য সংগ্রহ আদান প্রদান “র” কর্মকর্তারা আসছে ছদ্ম পরিচয়ে। একটি রাজনৈতিক দলের অনেকেই বিনা ভিসায় ভারতে থাকতেন। “র” পুনর্গঠিত করেছিল কাদেরিয়া বাহিনীকে। সিঙ্গাপুরে রয়েছে “র”এর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। প্রকাশ্য রাস্তায় বাংলাদেশী এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে চড় মেরেও ভারতীয় হাই কমিশনার মুচকন্দ দুবেকে চলে যেতে হয়নি বাংলাদেশ থেকে। জানা যায় ৯৭ সালে জাতীয় যাদুঘরের দরজাতে লাত্থি মারার বাহাদুরিতে ভারত তার পদোন্নতি করে, এর উপর অনেক লেখা তখন যায়যায়দিনে পড়েছি আজো মনে পড়ে। ৯৬সালের ফেব্রুয়ারীতে হয় আওয়ামী “জনতার মঞ্চ” নাটক। উল্লেখ্য ৯৬ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনের ব্যয়ভার মেটানোর জন্য কোটি কোটি টাকা বিশেষ চ্যানেলে বিতরণ করা হয় বলে জানা যায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে ভারতীয় অপপ্রচার। আইএসআই কানেকশন আবিষ্কারের চেষ্টা, উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে বলির পাঠা বানানো। ’৯৪ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক আগামী পত্রিকায় এর শক্ত প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয় ভারতের সকল প্রচারণা সর্বৈব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণাদি নেই। ১৯৯১ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এসে যখন স্বতন্ত্র স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষানীতি অনুসরণ করা শুরু করে, ঠিক তখন থেকেই ভারতীয় পত্র পত্রিকায় এমনকি সরকারি মহল থেকেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তর পূর্ব ভারতের গেরিলাদের সহায়তার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের “দি নিউ নেশন ” পত্রিকাতে ৩১ আগষ্ট ৯৪ তারিখে এসব আসে যে কিভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত একটি মনস্তাত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে যাবার পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে “এন্টি-পাকিস্তান’ প্রোপাগান্ডা উসকে দিচ্ছে। দেখুন আনন্দবাজারের ১৩ আগষ্ট ৯৬ সালের রিপোর্ট: “খালেদা পন্থী ফৌজি কর্তাদের হাসিনা ঢাকা থেকে হটালেন”। ভারত মূলত বাংলাদেশের স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামোকে ধ্বংস করে দিতে চায়। গণতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোর মাঝে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়। বিএনপি সরকারকে তীব্র চাপের মধ্যে রেখে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়ে জামায়াত এর কাছ থেকে সরিয়ে নেয়াই ছিল “র”এর মূল উদ্দেশ্য, আজো আওয়ামী লীগের প্রায় সবাইকে ঐ ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর থাকতে দেখা যায় (এখানের বেশীরভাগ তথ্যাবলী গ্রন্থ সূত্রে ও পত্রিকার সূত্রে পাওয়া তথ্য)।

সরকার কি উন্নয়নের জন্য লাজ লজ্জা বিসর্জন দিয়ে রাজ ক্ষমতার খুটি ধরে আছে নাকি রাজত্বের খোলসের তলে চাপা পড়া দাসত্বকে পাকাপোক্ত করতে এসব করে যাচ্ছে সেটি জাতির কাছে আজ প্রায় স্পষ্ট, একবিংশ শতকে আজ রাখঢাকের কিছুই গোপন থাকে নাই। বর্তমানে তারা স্বপ্নের উচ্চমর্গে অবস্থান করছেন, থেকে ২১, এবার ২১ থেকে লাফ দিয়ে ২০৪১এর স্বপ্নে আক্রান্ত হয়েছে। দেশবাসীসহ বিএনপির নেতারা বলছেন উন্নয়নের ধোঁয়া তুলে মানুষকে ভোটহীন ক্ষমতা ধরে রাখা এ সরকার আবারো ধোঁকা দেবার চেষ্টা করছে। সরকার জনতাকে অশিক্ষিত বোকা মগজহীনই মনে করে। সব মগজ গিয়ে কোরাস সুরে সরব হচ্ছে ক্ষমতাধরদের মাথাতে।

 

নাজমা মোস্তফা,  ১২ই জানুয়ারী ২০১৬।

 

কয়লার ময়লাতে সুন্দরবন গভীর শংকায়

koyla

বনের নামই সুন্দরবন। কতটুকু যে তার রুপ, নাম থেকেই আঁচ করা যায়। আজ তার রুপের হাটে কালিমা লেপনের প্রক্রিয়া চলছে। হতভাগ্য দেশ ও দেশবাসী এক তুগলকি শাসকের পাল্লায় মর মর অবস্থাতে দিন গুজরান করছে। সরকার নিজের গদি রক্ষায় বিভোর এক সংকীর্ণ স্বপ্নের দেশ গড়ছে, আর কপট সৎমার মত বাকী সবার জীবনকে এক যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহি চৌধুরী যুক্তি দেখিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুৎ চায়, সাধারণ মানুষ যা চায় সরকার তারই ব্যবস্থা করছে। তাই ২২ অক্টোবর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে। বাস্তবে জনগণের চাহিদার দিকে সরকারের মোটেও নজর নেই। সরকারের যা ইচ্ছে তাই করছে, এর ভুরি ভুরি প্রমাণ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। হাতের আঙ্গুলে গোনা কয়দিন সরকারের বাকী, অন্তত প্রস্তর আর ভিত্তি তার করে যাওয়া চাইই। এরা শত সমস্যার আলামত আগাগোড়া সব জানলেও কোন সমস্যা উপলব্ধি করে বলে মনে হয় না। তাই তাদের দৃষ্টিতে সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজিতে নির্মাণাধীন এই নব্য ডিজিটাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র “পরিবেশ বা সুন্দরবনের কোনই ক্ষতি করবে না”। বনের সাথে একটু পরিচয় করিয়ে দিতে মন চাইছে। তাই সেটিও পাঠকের জন্য সংযোজন করলাম।

Sundorban Beauty of Bangladesh Bangla Documentary — World haritage সুন্দরবন বাংলাদেশের সৌন্দর্য

এটি মনে হচ্ছে তারা মনে মনে নিশ্চিত, তাই এত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাদের এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতেই হবে, না হলে জাতীকে ডুবাপানি গেলানো যাবে না। যেখানে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে মমতাময়ী মায়ের দেশ ভারতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশাল ভারতের কয়েকটি প্রদেশেই এ ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়নি। কিন্তু বোকারাম হাদারাণীর দেশ বাংলাদেশ কেন কয়লার ময়লাতে চুবিয়ে মনুষ্য বহুল অধিবাসীদেরে ডুবাবে না। ভারতের লাভ পা থেকে মাথা অবদি, শুধু ট্রিগারে টিপ দিলেই পাখি মরে রান্না হয়ে ডিনারের টেবিলে এসে হাজির হয়ে যাবে। খাওয়ার কষ্ট ছাড়া কোন দায় তাদের নেই। তাইতো তাদের সুখবুলি ‘তোরা বাংলাদেশীরা মরতে জানিস ভাই, তোদের কয়লায় মরণ নাই’। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশীদের! যার ঘরে মাএর বদলে সৎমা থাকে, তার বিপদ বিপর্যয় একটু বেশীই থাকে।

“জনতার কথা” Published on May 17, 2016

বিদ্যুতের বাস্তব অবস্থা ভয়ানক। বাস্তবতার পথ না মাড়ালে যা হয়, তাই হয়েছে। কল্পনাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গেলে নানান বিড়ম্বনা আসবেই। তাই ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও জনতারা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎহীন। এসব তুগলকি বৈদ্যুতিক কুইক রেন্টাল ব্যবস্থা। লোড সেডিং খেতে খেতে বিদ্যুৎহীন জনতারা অন্ধকারে পথ হাতড়ে মরছে। তারপরও বাড়তি লোডসেডিং দিতে প্রধাণের হুমকি তাড়িত করে জনতাকে বিদ্যুতের বারোমজা বুঝাতে। সবই সরকারের মোটাবুদ্ধির কারবার, সব সময় বুভুক্ষদের জন্য টাকা বানানোর দিকে নজর থাকলে যা হয়, তাই হয়েছে। বুঝতে হবে একবিংশ শতকে বাংলাদেশের মাটিতে যেন দিল্লীর শাসক সুলতান মোহাম্মদ বিন তুগলক ফের ক্ষমতাতে। তার চিন্তার সমন্বয়ের অভাবে একের পর এক প্রকল্প ব্যর্থ হতে থাকে। তাই লোকে তাকে পাগলা তুগলক আখ্যায়িত করলেও তার কাজে কোন সংকীর্ণতা বা অন্য কোন নেতিবাচক অপবাদ শোনা যায়নি। সুশাসক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলেও তিনি এখানে এক ব্যর্থ শাসক হিসাবে পরিচিত হন।

উল্লেখ্য ভারত বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের এক কয়লা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদেশের কারখানা নয়, এটি ভারতেরও কারখানা কিন্তু অবস্থানগতভাবে এর জমি মাটি বাংলাদেশের, শরীর মন আত্মায় আক্রান্ত হবে শুধু বাংলাদেশ নিজে। এর উপর দীর্ঘদিন থেকে হতভাগা দেশটির পরিবেশবাদীরা আপত্তি জানিয়ে আসছে কিন্তু দাম্ভিক সরকার কোন সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিপার্শিক, ধর্মীয় বা মানবিক ইস্যুকে তোয়াক্কা করার প্রয়োজন মনে করে না। তাই তড়িঘড়ি শেষ ঘন্টাটি বেজে উঠার ঠিক আগ মূহূর্তে কয়লা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরের চুড়ান্ত দিন ক্ষণ ঠিক করেছে। এটি এক চরম বাস্তবতা, এ তুগলকি শাসকবর্গের ভিন্নধর্মী আচরণে জাতি হৃদয় মনে মুমূর্ষু হয়ে আছে। সুন্দরবন অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, কিছু বাম সংগঠন, পরিবেশবাদী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, ও সচেতন গোষ্ঠীসহ ছাত্র শিক্ষকের বিশাল বহর। দুর্জনের যেমন ছলের অভাব হয়না, সরকারেরও ছলচাতুরীর কমতি নেই। তাই বর্জ্য নির্গমনও তাদের হিসাবে চোখে কম পড়ছে, সেভাবেই সাজিয়ে কম করে দেখানো হচ্ছে। মানবজমিন ডেস্কএ প্রকাশ দূষিত বর্জ্য নির্গমনের মাত্রা কম দেখিয়েছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। সবকিছুতেই স্বচ্ছতার অভাব চোখে পড়ার মত। বছরে ৫২ হাজার টন বিষাক্ত সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। উদাহরণ হিসাবে এ ধরণের একটি প্রকল্পে এখানে আমেরিকার টেক্সাসে ১৯৭৯সালে ফায়েটএ একটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র এভাবে রাজ্যজুড়ে পরিবেশ নিরাপত্তাতে আক্রান্ত হয়। ২০১০ সালে বিজ্ঞানীদের বরাতে জানা যায় ৩০ হাজার টন সালফার ডাই-অক্সাউড ওখান থেকে নির্গত হচ্ছে। এতে জনরোষ বৃদ্ধি পায় এবং কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

Atv News | 03 August 2016|সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুত নির্মান কেন্দ্র চুিক্ত করলেন হাসিনা

সরকার বলছে এটি সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। বিরোধীরা বলছে, কয়লাচালিত বিদ্যুতকেন্দ্র জীববৈচিত্র ভরপুর এলাকার এত কাছে যে পানিপথ, শাকসবজি, জীবজন্তুসহ গাছবৃক্ষ সবই আক্রান্ত হবে এতে ‘লাভের গুড়টুকু পিপড়াতেই খাবে’। বাস্তবে দেশবাসীর উপকারের চেয়ে অপকারের মাত্রাটি গুণতে হবে কয়গুণ নয়, বহুগুণ বেশী। যেখানে বাংলাদেশ নিজেই তার বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে পারছে না সেখানে আবার ভারতই বা কেন? সবকিছুতেই কেন ভারতকে এক বড় ভাগ দিতে হবে? কারণটি কি, বাংলাদেশ কি ভারতের কেনা গোলাম? আর বিশাল ভারতের এত জায়গা থাকতে সেটি কেন ভারতে হচ্ছে না, এটি কেন এক চিলতে মাটির পড়ো বাড়ির উপরই গড়তে হচ্ছে? এসব প্রশ্ন জনমনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। যেখানে জানা যায় গুজরাট মধ্যপ্রদেশে দুটি কয়লাচালিত বড় ধরণের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ তারা বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মোশাহিদা সুলতানা রিতু বলেন, “এটি এক ধরণের ভন্ডামি। তারা নিজেদের দেশে কাজ বন্ধ করে অন্য দেশে এসে আইন ভঙ্গ করছে”। সুন্দরবন বাংলাদেশের অস্তিত্বের রক্ষাকবচ। তাকে কেন এভাবে ধ্বংস করে দিতে হবে? এ চক্রান্ত একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়, বলা চলে গ্লোবেল ওয়ার্মিংএর যুগে এটি বিশ্বের পরিবেশের উপর হামলা স্বরুপ কাজ করতে সরকার মনস্থ করেছে। ভুগোলবিদরা মনে করেন দশ বছরের মাঝে ঐ এলাকা শ্মশানে পরিণত হবে। দেশটি কি স্বাধীন হয়েছিল এভাবে পরাধীনতার ফাঁস গলাতে পরার জন্য, এটি সরকারের প্রতি দেশবাসীর এক বিরাট প্রশ্ন? সুন্দরবনকে বাঁচানো আজ দেশটির বাঁচা মরার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক বিপর্যয়ে দেশবাসী আকন্ঠ ডুবে আছে, মাথা তুলে দাঁড়াবার ফুরসত তাদের কই? যেন এটি সরকার নয়, জনগণের কাঁধে চেপেছে এক ভয়ানক সিন্দাবাদের ভুত!  এ সিন্দাবাদী সরকারের কান্ডকারখানা বুঝার ক্ষমতা কোন বিশেষজ্ঞেরও আছে কিনা সন্দেহ? দেখুন নিচের হিসাবটি যতটুকু আঁচ করতে পেরেছি কত ভংঙ্কর তার রুপরেখা:

১.  বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে ভারত বাংলাদেশের সমান অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে। বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানী নামে এক কোম্পানী গঠিত হয়েছে।

২.  এর অর্থায়ন হবে ১৫% পিডিবি, ১৫% ভারতীয় পক্ষ আর ৭০% ঋণে হবে। মূল ৫০% হারে দুভাগ হবে। বিদ্যুতের দাম খরচের ফর্মুলা হিসাবে নির্ধারিত হবে। সে হিসাবে প্রতি ইউনিট হবে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা ঠিক করা হয়েছে। যেখানে সরকার মাওয়া থেকে ৪ টাকায় প্রতি ইউনিট এবং আনোয়ারার তিনটি বিদ্যুৎ ও লবনচড়া থেকে ৩টাকা ৮০ পয়সাতে কিনবে বলে পিডিবির সাথে চুক্তি হয়েছে।

৩.  এখানে ১৮৩০ একর ধানী জমি অধিগ্রহণের ফলে ৮,০০০ পরিবার উচ্ছেদ হবে। ৬০০ জনের কর্মসংস্থান হলেও উদ্বাস্তু ও কর্মহীন হয়ে পড়বে প্রায় ৭,৫০০ পরিবার। সাথে সাথে হারাবে বিরাট কৃষি উৎপাদন সম্ভাবনা।

৪.  বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১০ ব্যাসার্ধে বছরে ৬২,৩৫৩ টন ও প্রকল্প এলাকাতে ১২৮৫টন ধান উৎপাদিত হয়। ধান ছাড়াও ঐ ১০ ব্যাসার্ধে বছরে ১,৪০,৪৬১ টন অন্যান্য শস্য উৎপাদিত হয়। প্রতি বাড়ীতে গড়ে ৩/৪টি গরু ২/৩টি মহিষ, ৪টি ছাগল, ১টি ভেড়া, ৫টি হাঁস, ৬/৭টি মুরগী পালন করা হয়।

৫.  বনের সাথে এলাকার জালের মত নদী ও খালের সংযোগ থাকাতে স্বাদু ও লোনা পানির সমৃদ্ধ ভান্ডার এটি। ঐ ১০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে বছরে ৫২১৮.৬৬ মেট্রিক টন এবং প্রকল্প এলাকাতে ৫৬৯.৪১ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। ঝোপ ঝাড় বিনষ্ট করার কারণে সেখানের পরিবেশের পাখি বিশেষ করে সারস বক এরা ধ্বংস হয়ে যাবে। এভাবে আমাদের গোটা খাদ্য প্রবাহের উপর ভয়ঙ্করভাবে এটি হামলে পড়বে।

তারপরও বাকী থেকে গেল বিশাল ক্ষতির অফুরান ক্ষতিয়ান:

১.   কয়লা ভিত্তিক প্রকল্পতে কয়েকগুণ বেশী ক্ষতি লেগে থাকে। ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য দরকার হয় ২.২ বিলিয়ন গ্যালন পানির। পাশেই পশুর নদীটি যা গোটা অঞ্চলের নোনা ও মিঠা জলের ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে সেখানে নদীটিকে গলাটিপে হত্যা করা হবে। পরিবেশ দুষণের জন্য অন্য কোন দেশে ১৫-২০ কিলোমিটারের মধ্যে এ ধরণের কোন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয় না। এমনকি ভারতই তার উদাহরণ। ইআইএ রিপোর্ট অনুসারে এ প্রকল্পটি ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কিন্তু খোদ ইআইএ রিপোর্টের এক জায়গায় বলা আছে প্রকল্পের স্থানটি এক সময় সুন্দরবনেরই অংশ ছিল। কার্যত ৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট সেখানে হবে। প্রথমটি তৈরী হতেই লাগবে সাড়ে চার বছর, তখন গোটা পরিবেশ কৃষি, মৎস পানির উপর অসংখ্য ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে, এসব ঐ রিপোর্টেই বলা আছে।

২.  নির্মাণের মালামাল নদীপথে যাবে ফলে বাড়তি নৌযান, তেল নিঃসরণ, শব্দদুষণ, আলো, বর্জ্য নিঃসরণ, রয়েল ব্যাঙ্গল টাইগার, হরিণ, ডলফিন, ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের আশংকা রিপোর্টে আছে। ড্রেজিংএর ফলে নদীর পানি ঘোলা হবে, দূষিত হবে। পশুর নদীপারের সব ম্যানগ্রোভ কাটা পড়বে। প্রতিদিন প্রায় ১৪২ টন বিষাক্ত  সালফার ডাই-অক্সাইডও ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাউড নির্গত হবে। প্রতি ঘন্টাতে নদী থেকে ৯১৫০ ঘনমিটার করে পানি প্রত্যাহার করা হবে। পৃথিবীর সব দেশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বেলাতে জিরো ডিসচার্জ নীতি অবলম্বন করা হয় অথচ ইআইএ রিপোর্টে বলা হয়েছে এখানে তরল বর্জ্য ঘন্টায় ১০০ ঘনমিটার হারে পশুর নদীতে নির্গত করা হবে, যা গোটা সুন্দরবন ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট হবে।  তাছাড়া ২৭৫ মিটার উঁচু চিমনি থেকে নির্গত গ্যাসের তাপমাত্র হবে ১২৫ সেলসিয়াস যা চারপাশের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিবে। বছরে ৭,৫০,০০০ টন ফ্লাইঅ্যাশ ও ২ লক্ষ টন বটম অ্যাশ ঊৎপাদিত হবে। এতে বিভিন্ন ভারী ধাতু যেমন আর্সেনিক, পারদ, সীসা, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, ব্যারিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়াম, রেডিয়াম,  মিশে থাকে। একদিকে এই ছাই পরিবেশকে বিষাক্ত করবে আবার অন্যদিকে বলা হচ্ছে এই ছাই দিয়েই ১৮৩৪ একর জমির ১৪১৪ একর জমি ভরাট করা হবে। এই ছাইবর্জ্য পানিতে মিশে গোটা এলাকাকেই নয়, পার্শ্ববর্তী সবকিছু দুষিত করে তুলবে। যেখানে বড় পুকুরিয়াতে মাত্র ২৫০ ম্যাগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত দৈনিক ৩০০ মেট্রিক টন বর্জ্যছাই পুকুর বা অ্যাশপন্ডে গাদা করে রেখে গোটা পরিবেশ বিপর্যয় ঘটানো হচ্ছে।

৩.  সেখানের টারবাইন, জেনারেটর, কম্প্রেসার, পাম্প, কুলিং টাওয়ার, কয়লা উঠানো নামানো, পরিবহন ইত্যাদিতে ব্যবহৃত যন্ত্র ও যানবাহনের  শব্দদোষণ ছাড়াও কুলিং টাওয়ারের ব্যাকটেরিয়া দোষণের ফলে আশপাশ এলাকাতে ব্যাপক আকারে নিউমোনিয়া জাতীয় রোগের ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। সমুদ্রপথে কয়লা আমদানী করতে সমুদ্র পথে জাহাজের মাধ্যমে প্রথমে মংলাতে পরে তা রামপালে ছোট বড় জাহাজে নিতে হবে। সরকারী সমীক্ষাই বলছে এভাবে চলাচলে জাহাজের দুষিত পানিসহ কয়লার গুড়া, ভাঙ্গা, টুকরা কয়লা তেল ময়লা আবর্জনাসহ গোটা সুন্দরবন অঞ্চল  বিপুল বর্জ্যে  দুষিত হবে। জাহাজের ঢেউএ দুপারে ভূমি ক্ষয় হবে। জাহাজের সার্চ লাইটের আলো নিশাচর প্রাণীকুল ও সংরক্ষিত বণাঞ্চলসহ পশু পাখীর জীবন চক্রের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় এনটিপিসির মধ্যপ্রদেশে প্রস্তাবিত কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাতিল করে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পাখি শিকারে ভারত উদ্যত হতে পারলেও বাংলাদেশ নামের দেশটির সৎমা সরকারের বোধদয় কবে হবে?

৪.  আশ্চর্য্যরে ব্যাপার হচ্ছে প্রকল্পে ১৫% বিনিয়োগ করেও ভারত ৫০% মালিকানা নিবে। আর বাকী সব দায় বাংলাদেশের কাঁধে তুলে দেয়া। কান্ডজ্ঞানহীন সরকারকে বাগে পেয়ে ভারত যেন পা থেকে মাথা পর্যন্ত লুটতে লেগেছে। বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণটা কত গভীরে প্রেথিত, সেটি যেকোন সচেতন অনায়াসে মাপতে পারেন। পৃথিবীতে আর কোন দেশ কি আছে যারা ভারতকে এমন সুবিধা দিবে? আঞ্চলিক একটি কথা আছে “নিজের কাপড়ে বিয়েতে রাজি হওয়া”। বাংলাদেশের অবস্থা হয়েছে এরকমই। বিয়ে হবে তবে বরপক্ষ কোন খরচ করবে না, কোন কাপড় সাজ কিছুই দিবে না, এটিও কনে পক্ষকে বইতে হবে। ভারত যে এরকম একটি প্রকল্পের মালিকানায় ঢুকে গেল তাদের কোন করও দিতে হবে না। কি মজার বায়না বা বন্ধুত্বনামা! সব লেনদেন এক পক্ষের দায় এবং এরা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ! খুব সহজে বলা চলে এটি ভারতের একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত। একটি জাতি গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিতে সব দিক থেকেই ভারত তার কুটচাল চালিয়ে যাচ্ছে। এর নাম কি বন্ধুত্ব? এমন বন্ধুর চেয়ে শত্রুও ভালো। এরকম একটি পদক্ষেপে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও ভারত শুধু বাংলাদেশের সর্বনাশই করতে চাইছে না বরং পরোক্ষে গোটা বিশ্বের পরিবেশ দোষণের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কয়লা দিয়ে ভিন্ন রকম চিন্তাভাবনা বর্তমান সময়ে চলেছে যাতে পরিবেশ বিপর্যয়ের বদলে উন্নত আবিষ্কারে একে লাগানো যায়। এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা সফলও। ক্ষুদ্র মানচিত্রের উপর থেকে কপটদের কুনজর যত শীঘ্র দূর হয় ততই মঙ্গল।

My opinions on Rampal Coal-Electricity Plant

নিজের দেশকে কপটের হাত থেকে বাঁচানোর দায় প্রতিটি নাগরিকের। কাজ না করে মুখরোচক বক্তৃতা দেয়া এক বিরাট প্রতারণার সামিল। জাতিসংঘে পরিবেশ দোষণের উপর বক্ততা দিতে প্রধানমন্ত্রী বেশ সোচ্চার কিন্তু নিজে যখন পরিবেশ বিরোধী কাজে উৎসাহী যোগানদাতা হন তখন তার স্ববিরোধী কাজ তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে শক্তভাবে। তখন আর আমাদের মুখ রক্ষা হয় না। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দেখি তার কাজের সাথে কথার মোটেও মিল নেই। সেদিন দেখলাম জাতিসংঘের সম্মেলনে অস্ত্রের তহবিল শিক্ষাতে ব্যয় করার আহবান জানালেন। মনে হলো তিনি শান্তির পক্ষে শিক্ষার পক্ষে আছেন, কিন্তু তিনি নিজে কি করছেন, সারা দেশে অস্ত্রের হুঙ্কারে জনতার টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে, শেষ মুহূর্তে অস্ত্র বন্টন প্রক্রিয়া জোরেসোরে চলছে তার চাপাতি পার্টির কাছে। সম্প্রতি তিনি রাশিয়া থেকে বিশাল অস্ত্র ভান্ডার কিনতে উদ্যোগী হয়েছেন অল্প নয়, ১বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনেছেন, কার সাথে যুদ্ধ করবেন তিনিই জানেন। সবাই মন্তব্য করছে লুটপাটের জন্য এটি করা হয়েছে। তার আগেরবারও মিগ ২৯ কেনার হিড়িক লক্ষ্য করা গেছে। জাতির জানাই আছে এর উপকারিতা আর কার্যকারিতা কতটুকু ছিল? ঐ অপবাদ আজো মুছে যায় নি তার উপর থেকে। এসবের উপর অতীতে অনেক বিদগ্ধজনেরা অনেক মন্তব্য করে গেছেন। নিজের মঙ্গলের চিন্তা নিজেদেরেই করতে হবে। হালূয়া রুটির দিকে যার নজর সবদিন বেশী, গদির লোভ যার সীমাহীন তার কাছে কোন কিছু আশা করা যায় না। তাই বলা চলে জাতি আজো ৭১এ আটকে আছে, এগুতে শিখে নি বরং উল্টো ধ্বসের দিকেই ধাবিত হচ্ছে ডিজিটাল গতিতে। সবার কাছে আব্দার রইলো সুন্দরবন বাঁচুক সুন্দরভাবে, আপনারা সহযোগিতা দিন। বর্গির হাত থেকে কপটের হাত থেকে একে বাঁচান।

বাংলাদেশের সুন্দরবনের বাঘ জবাব দিয়েছে: 

একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিকে নিয়ে যে কি তামাশা করছেন তার উত্তম নজির এসব। সম্প্রতি হাসিনা বলেছেন টাইগারকে জিজ্ঞেস করতে যে রামপালে তাদের কোন সমস্যা হচ্ছে কি না? এর জবাবে বাংলা দেশের বাঘ ব্যারিষ্টার তুহিন মালিক দুই ডজন যুক্তিতে জবাব দিয়েছেন। খুব সংক্ষেপে আনছি। (১) মালিকানা দুই দেশের হলেও ভারতীয় ব্যাংক থেকে ১৬০ কোটি ডলার ঋণের পুরো দায় শুধু বাংলাদেশের উপর চাপানো কেন? (২) ঋণের গ্যারান্টার বা জামিনদার বাংলাদেশ হলেও মুনাফার অংশীদারিত্বে  ভারত। ঠিকাদারী থেকে সব ব্যবসা, কয়লাতেও জড়িত ভারত, সবই একা তার, এটি কি চুক্তি না দাসখত? (৩) পরিবেশবাদীদের উদ্বেগের কারণে অতীতে ভারতের সাথে শ্রীলঙ্কার চুক্তি, কেন সেটি বাতিল করে শ্রীলঙ্কা সরকার? (৪) রামপালে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনেস্কো ও রামসার। (৫) এ প্রকল্পে যুক্ত থাকার কারণে নরওয়ে ভারতের এনটিপিসিতে (যাদের সাথে চুক্তি) অর্থ যোগান বন্ধ করে দিয়েছে। (৬) বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ব্যাংকও  এ প্রকল্পে টাকা দিতে অস্বীকার করেছে। (৭) ভারত ব্যস্ত লাভেমূলে অর্থনৈতিক উষলে আর সরকার ব্যস্ত বন্দুত্বের স্লোগানে। (৮) প্রতিবেশী বন্ধু হলেও পরিবেশের সাথে সরকারের যেন শত্রুতা। (৯) পৃথিবীর কোথাও ১৫-২৫ কিলোমিটারের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র সৃষ্টির অনুমোদন নেই। অথচ ভারত তা বাংলাদেশে করছে ৯-১৪ কিলোমিটারের মাঝে। আর বাফার জোন বিবেচনাতে এর দূরত্ব দাঁড়ায় মাত্র ৪ কিলোমিটার। (১০) তাদের নিজেদের বনভূমি রক্ষাতে আছে শক্ত আইন, যার প্রেক্ষিতে এটি বেআইনী। (১১) ভারতের তিন রাজ্যে এটি করতে না পেরে এখন বাংলাদেশের জনতার উপর মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। (১২) ভারতের কর্ণাটকের বিদ্যুতের ছাড়পত্র স্থগিত। (১৩) সোনাবন্ধু ভারতের সাথে সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষার চুক্তি আছে, তারপরও ১০টি নদীকে ভরাট করে, ২,০০০ একর জমি ভরাট করে প্রাণঘাতি এ মরণ খেলার মহামেলা চলছে। (১৩) এ দেশে ৮,০০০ পরিবার উচ্ছেদ হবে। (১৪) ভারত মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটকে ও তামিলনাড়–তে নিজ স্বার্থে এসব প্রকল্প বাতিল করেছে। কৃষিজমির ক্ষতি তারা বড় করে দেখে, এমনকি নর্দমা থেকে ৩২ কিউসেক পানি উত্তোলনকে অবৈধ বলে ঘোষনা করেছে। (১৫) আমাদের পশুর নদী মিঠা ও নোনা পানির ভারসাম্য রক্ষা করছে। সেখানে এটি হলে প্রতি ঘন্টাতে ৯১৫০ ঘনমিটার পানি প্রত্যাহার করতে হবে। (১৬) তখন রামপাল থেকে ৬৫ লিটার পারদ সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়া হবে। বছরে সাড়ে চারকোটি লিটার গরম ও দোষিত পানি যাবে সুন্দরবনে। এতে সেখানের নদীর তাপমাত্র ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। (১৭) বাংলাদেশের বেঁচে থাকার স্বার্থে ভারত বন্ধুত্ব থেকে পরিবেশের মূল্য বহু বেশী। (১৮) অর্থায়নে ১৫% করবে পিডিবি, ১৫% ভারত আর বাকী ৭০% ঋণে হবে। লাভ পাবে ভারত ৫০% বিনা শুল্কে, কোন খাজনা ছাড়াই। অথচ আমাদের প্রবাসীরা মাত্র দুই দিনেই এ টাকা তহবিলে জমা দিতে পারে। (১৯) প্রতি বছর ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৮৫ লাখ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে। (২০) দেশে যদি ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থাও হয়, তাও সুন্দরবন ধ্বংসের বিনিময়ে কাম্য নয়। (২১) গত বছর হাইকোর্ট সরকারের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। অথচ এতদিন পরও উচ্চ আদালত কেন সুন্দরবনকে আর বাঁচাতে পারছে না? (২২) সুন্দরবনের ভাষা নেই বলে কি বাংলাদেশের জনতারাও বাক্যহারা? (২৩) বিদ্যুৎকেন্দ্র করা গেলেও আর একটি সুন্দরবন করা কি সম্ভব? (২৪) বিশে^র প্রতি দেশ নিজের সুস্থতার কথা ভাবে। একমাত্র আমরাই একমাত্র দেশ যারা সর্বস্ব ধ্বংস করে গোজামেলের মাঝে বাক্যহারা বোবা সুন্দরবনের বিরুদ্ধে সৌন্দর্য্যচর্চার দেশ বিধ্বংসী ফেসিয়াল কার্বন উৎপাদনের কথায় মুখর থাকি!! (২৮ জানুয়ারী ২০১৭)

,ডাক দিয়েছে সুন্দরবন । Short Film on Rampal Plant | Save Sundarban

আজ একি হয়ে গেল সারাদেশে! সরাসরি আজকের ভয়ংকর হরতাল দেখুন লাইভ! তুমুল গুলাগুলি, মারামারি আর ভাংচুর

এর মাঝে মুছে দিয়েছে।  

“রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের গোমর ফাঁস: বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি দখল নিতে চায় ভারত।”

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সারা জীবন অপকর্ম করে শেষ বয়সে মুখে চাপদাড়ী রাখলেই দরবেশ হওয়া যায় না, সব অপকর্ম মুছে যায় না। উপরে একটি লিংক দিলাম, পড়তে পারেন অবৈধ পথে আসা অতিরিক্ত পাগল হয়ে পড়া সরকারের কিছু ধান্ধার সংবাদ। সম্প্রতি বিএনপির নেতা আলাল বলেছেন এরকম একজন ব্যক্তি সালমান এফ রহমান যত টাকা মেরেছেন, তা দিয়ে করা যাবে দুটি পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়ে তিনি প্রমাণ করলেন শেয়ার বাজার লুটের অপকর্মে প্রধানমন্ত্রীও জড়িত। উল্লেখ্য শেয়ার বাজারের পর এবার ইসলামী ব্যাঙ্কেরও বর্গা পাচ্ছেন এই দরবেশ নামধারী ব্যক্তি। এভাবে সারা দেশে সরকারী লুটপাটের ভোগ্য ব্যবস্থা বেড়েই চলেছে।

এরকম একটি অবৈধ পথের সরকার আবার জিয়াকে অবৈধ করতেই জাতি বিভক্তির নটনাট্যে ব্যস্ত। জোর করে শহীদ মরহুমের পদক ছিনিয়ে নিয়েছে। অবৈধতার জন্যই এরা মাঠ গরম করতে অপকর্মীদের সারা দেশ থেকে বেছে বেছে জমা করে। উপরের লিংকটি হচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের গোমর ফাঁস। বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দখল নিতে চায় ভারত। গত ২০ এপ্রিল ২০১৬ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিনটি চুক্তি হয়। ভারতীয় চক্রান্তে গদিতে বসেই বিডিআর নিধনের মাধ্যমে এ সরকার দেশ বিধ্বংসী সুতানাতা ঠিক করে বসে। অতঃপর ২০১১ সালের শুরুতে শুরু হয় চুক্তির অপ্রকাশিত মহামেলা। ২০১২ সালে হয় পরবর্তী চুক্তি। এসব লূক্কায়িত বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয় নি। এর মূল পরিকল্পনাতে স্পষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের কয়লায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনতে হবে ভারতীয় কোম্পানীর দেয়া মূল্য অনুযায়ী। এভাবে পরোক্ষে ভারতই বাংলাদেশের কয়লার দখল নিচ্ছে। যার জন্য নিরস্ত্র জনতার প্রতিবাদী মিছিলেও পুলিশের জঘন্য হামলার শিকার হচ্ছেন জনতারা। (২৮ জানুয়ারী ২০১৭)

সুন্দরবন রক্ষার শপথ নিয়ে গান! | Go back get out India Save Sundarban

নাজমা মোস্তফা, ০৯ জানুয়ারী ২০১৬ সাল। 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ২০১৩ সালে আমার দেশ এর মূল কপিটি প্রকাশ করে তার অনলাইন ভারসনে।  (23 September 2013 published in Amardesh).

মাকড়শার ঠুনকো বাসা

ধর্ম রাজনীতি নিয়ে সারা বিশে^ আলোচনা সমালোচনা চলে। এতে কোন পাপ হিসাবে কেউ নিচ্ছে না। ইসলাম এমন একটি নির্ভেজাল ধর্ম আজ চৌদ্দশত বছর থেকেই প্রতিষ্ঠিত। তার উপরও সারা বিশ^ থেকে একদল জোরের সাথে বলছেন যে এটি জঙ্গি ধর্ম, অনেক বিতর্কীত মুসলিমও ঐ সুরে তাল দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি কর্মকান্ডে মানবতার দোসর এ নবীর জীবন নীতির আচরণে সমৃদ্ধ যদিও কিন্তু তাকে শ্রেষ্ঠ অপকর্মী জঙ্গি হিসাবে অনেকেই প্রচারে নেমেছেন। একদিন সিকিমকে নিয়ে অনেক নিন্দাবাজের পাহাড় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছিল। এর কারণ ইতিহাসে জমা আছে। সিকিম ষড়যন্ত্রের কোপানলে আত্মহত্যা করে হাটু পানিতে পুকুরে ডুবে মরেছে। তাই বলে সেটি কি চিরদিনের জন্য একটি হালাল কাজ বলেই স্বীকার করতে হবে? তাহলে পৃথিবীতে নীতি নৈতিকতা অচিরেই আত্মহত্যা করবে। হাত পা বেধে গলাডুবা সরকারের সমালোচনা করতে বসলে ৩ থেকে ৩,০০০ অভিযোগ জমা করা সম্ভব, তারপরও অনেকের বিশ্লেষন শুনলে মনে হবে বিএনপির অপরাধ এই আর সরকারের অপরাধ তার একটু বেশী, এরা অনেক সময়ই দেখা যায় কিছুটা ঘুরিয়ে হলেও বলতে চায় দুজনাই প্রায় সমানে সমান। সাংবাদিক বিচারক অনেককেই এরকম কথা বলতে অতীতেও শুনেছি, শুনছি, ধারণা হয় আরো শুনবো। এরা আসলে খোলসে ঢাকা অপরাধি পার্টির নিয়োজিত দালাল। তাই শত অনাচারেও এদের বিচারিক ক্ষমতা শূন্যের কোঠাতে ঘোরাঘুরি করে। যারা এভাবে বিশ্লেষণ করছেন তাদের বিশ্লেষণই ভুল। দেশটি ডুবতে ডুবতে গভীর তলানিতে গিয়ে পৌচেছে। এর উদ্ধারের সম্ভাবনা ধারে কাছে দেখছি না। যদিও আমরা ময়দানে নেই, শৃঙ্গ থেকে দেখছি সমতলের দেশটিকে। তারা এখনো বিএনপির ভুল খুঁজে পেলেও সরকারের ভুল যে কয়টি সেটি কিয়ামতের আগে সম্ভবত কেউ করতে পারবে না, মনে হচ্ছে অসম্ভব। ঐ বিচারিক আদালতে যদি বিধাতা স্পষ্ট করেন তখন বিশ^বাসী প্রকৃত সংখ্যাটা জানবে। কেউ বলছেন ভারতের সাথে দেরীতে করমর্দন দায়ী, কেউ বলছেন দেরীতে মাঠে আসা দায়ী, এভাবে ভোটের পরাজয়ের হিসাব করছেন, কেউ বলছেন ভোটাররা নাখোশ হয়েছেন। এমনতরো বিশ্লষণ শুনে মনে হয় এরা কি সত্যিই দেশের পরিস্থিতি অবলোকন করছেন নাকি ভারতীয় তালে মঞ্চ নাটক করছেন?

০৫ জানুয়ারী “গনতন্ত্র হত্যা দিবস”

 

বিশ্লেষকরাও কি হতাশ জাতির জনতাকে নিয়ে মশকরা করছেন, সরকার তো মশকরাতেই সময় পার করছে। তবে প্রশ্ন জাগছে শেষ পর্যন্ত তারা কেন ঐ মশকরাতে সামিল হচ্ছেন। ২০১৪তে নির্বাচনী অনিয়ম খোলাসা করে এইচ টি ইমাম নির্বাচন সম্পর্কে বলেছিলেন, “পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিটি উপজেলাতে রিকরুটেদের সাথে কথা বলে, মোবাইল কোর্ট করিয়ে নির্বাচন করেছি। তারা পাশে দাঁড়িয়েছে, বুক পেতে দিয়েছে। ছাত্রদেরে উৎসাহ দিয়ে বলেন, তোমরা লিখিত পরীক্ষা ভালো করো, ভাইভা আমরা দেখবো। ছাত্রলীগের পাশের দায়িত্ব সরকারের। তারপরও সুরঞ্জিতরা বড় গলাতে বলেন, “জনসমর্থণের উপর ভিত্তি করে সরকার ক্ষমতায়, পুলিশকে বিভাজন করা যাবে না, পুলিশ সকলের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আওয়ামী লীগার সম্পাদক মন্ডলীর একজনও বলেন, এটি কি শুধুই এইচ টি ইমামের নিজের কথা নাকি সরকারের কথা, সেটি স্পষ্ট হওয়া জরুরি! ঠিক এবার যেভাবে এরশাদ বলেছিলেন যে সকাল নয়টার মাঝে ভোট শেষ হবে। ওরকমই ২০১৫এর পৌরনির্বাচন এরশাদীয় এজেন্ডা মতনই হয়েছে। মিছেমিছি বিশ্লেষকরা মনগড়া বিশ্লেষনে সময় পার করছেন। প্রায়ই শুনি শাহজালাল বিমান বন্দরে টন টন সোনা ধরা পড়ে। সেদিন দেখলাম এক টক শোতে এক বক্তা বাহাদুরি করে বলছেন ধরা পড়ছে মানে সরকারের কৃতিত্ব। এটি তো ডাকাতির মূখ্য সময়, ধরা পড়ছে বলেই বড় বড় ডাকাতরা পার পেয়ে যাবে? ডাকাতি না হলে তো ডাকাত ধরা পড়ার সম্ভাবনাই মিটে যেত। যে জাতির মগজ এভাবে বিচার করে তাদের জন্য জানি না আর কি অপেক্ষা করছে! বিগত শতকে ৯০এ যে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা হয়েছিল ডাকাতের কাছ থেকে, আজ তার চেয়েও বড় ডাকাতের কবজায় দেশ। 

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

৫ই জানুয়ারির কলঙ্কিত নির্বাচনের, জালভোট ও অনিয়ম নিয়ে বাঁশেরকেল্লার বিশেষ ডুকুমেন্টারী

 

আজকের খবরে দেখলাম পেট্রোল বোমায় পোড়া লোকগুলির খবরও নেয় না কেউ। যে সরকার মানুষ পোড়ানোর দক্ষতা নিয়ে ডাটে বাটে বসে আছে, আজও মানুষের জানের কোন তোয়াক্কা করছে না। তখন তো দেখলাম সরকারী সাগরেদরা হাসপাতালে ভিডিও সেশনে ব্যস্ত। নাটক করতে গীতার রাণীর পাশে ছুটে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্টো গীতা রাণীর ধমক খেলেন। তাদের কি কোন দায় নেই, ঐ মানুষগুলোর খোজ করার? ঐ সময় ছবি তোলার দরকার পড়েছিল তাই ছুটে যাওয়া, আজ আর ছবির প্রয়োজন ফুরিয়েছে। অবশ্যই এর দায় সরকারের ঘাড়েই পড়ে। অন্যরা যদি পুড়ায়ও তারপরও এর দায় সরকারের ঘাড়ে পড়ে। কারণ সরকারই এ দেশের মালিক মোক্তার। আর মালিক মোক্তার বলেই মানুষদের জমের ঘরে নিশ্চিন্তে পাঠাচ্ছে ইলিয়াস আলী থেকে সালাউদ্দিন, বাকী শত শত নির্যাতীত মানুষ। সরকার যতই ধান্ধাবাজী করুক, আল্লাহর সুক্ষ্ম দৃষ্টিকে পৃথিবীর কোন সত্ত্বাই অপকর্ম এড়িয়ে যেতে পারবে না। এটি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার মনে রাখলে ভালো হয়। পেট্রোল বোমার একটি ফাইলে সিরিয়েলি সারা দেশে ধরা খাওয়া নিউজে আসা সচিত্র প্রতিবেদনসহ খবর এসেছে এসব সরকার তার গুন্ডাদেরে দিয়ে করাচ্ছে। এরা বারে বারেই বোমাসব ধরাও পড়েছে, যার কোন শাস্তি হয়নি।

এমনকি পুলিশের লিক হওয়া ভিডিও দেখেছি আমরা যে, পুলিশ প্রধানরা বলছে কিভাবে সরকারের হয়ে তারা অপকর্ম করে সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। মূল অসামীকে না ধরে তারা মামলা করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে, নির্দোষ প্রবীন সম্মানিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। যাদের এ বয়সে আদর যতœ পাবার কথা, তারা কারাগারের প্রকোষ্টে কঠিন সময় পার করেছেন এই সেদিনও, আজো অনেকেই আছেন। এসব আলামত ভালো না, কঠিন মরণের লক্ষণ। বাংলাদেশের প্রতিটি বিপর্যয়ের দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে পড়ে এক বড় সময় থেকেই বড়মাপে। ঐসব বিপর্যয় থেকে মাত্র সামান্য কটি আনছি। জিয়া হত্যা, লেবানন ট্রেনিং, ৮৩এর ফেব্রুয়ারীর ছাত্র হত্যা, নিজ দলের সেলিম, জয়নাল, জাফর, দেলায়ার হত্যা, ৯০এর আন্দোলন আন্দোলন খেলা, ৮৬এর পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়া, ১৯৯২এর হিন্দু মুসলিম রায়ট নাটক, গোলাম আজমের সাথে বৈঠক, রুমালে গ্লিসারিন, খুন করে বেশী খাওয়ার নটনৃত্য, ট্রেনে গুলির মিথ্যে নাটক, দিগম্বর কাহিনী, জেনারেল নাসিমকে ক্ষমতা দখলের প্রস্তাব, পুলিশের লাশ চাওয়া ও মিলিটারির লাশ চাওয়া, ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের হিড়িক, অযৌক্তিক যুদ্ধ বিমান ক্রয়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হামলা মামলা, গঙ্গা ও পার্বত্য চুক্তি, প্রকাশ্য ময়দানে লোক দেখানো নামাজ পড়ার বদৌলতে হাসির নাটক, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারী এসব কিছুই কি আল্লাহতালা দেখেনি? মুসলিম প্রধান বাংলাদশের জনতারা ৯০% অন্তত মুসলিম নামধারী, তাদের ধারণা কি হয় যে, আল্লাহ বাস্তবিকই দৃষ্টিশক্তিহীন! প্রধানমন্ত্রী বলছেন আওয়ামী লীগ সরকার এতিমদের দায়িত্ব নিয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার সারা দেশের বাবাদেরে মেরে তার বাচ্চাদের দায়িত্ব নিতে ব্যস্ত কেন? যুক্তিটি কি, এবারও হাসির নাটক? দেশবাসী তাদেরে ভোট দিবে না এ স্থির বিশ^াসে বছরের পর বছর ভোটের নাটক করে আওয়ামী লীগ। যেখানে বাবারাই বাঁচতে পারে না সেখানে এতিম মেঘেরা কিভাবে বাঁচবে এ সরকারের ডান্ডাবাজির সামনে?

কুরআন শরিফের ২৯ নাম্বার সুরার নাম “মাকড়সা আরবীতে “আনকাবুত”। রসিক আল্লাহ মানুষকে সচেতন করতে ক্ষুদ্র উদাহরণ দিতেও কুন্ঠিত নন। চারদিকে অবস্থা দৃষ্টে মনে বড়ই শংকা। তাই ঐ সুরাটি নিয়ে একটু টাচ করবো খুব সংক্ষেপে তোমরা কি মনে করো তোমাদের পরীক্ষা করা হবে না? পূর্বের সবাইকেই পরীক্ষা করা হয়েছে। যারা সংগ্রাম করছেএটি তার নিজের ভান্ডারে জমবে, আল্লাহ সবার উপরের দ্রষ্টা। আল্লাহর পরই পিতামাতার প্রতি সদয় হতে বলা হয়েছে। তবে শিরক করা পাপী পিতামাতার হকের বেলায় তোমার দায় কম। তুমি বাধ্য নও তাদের শিরকীয় অন্যায় আদেশ পালন করতে। যারা পাপের পথে লিডারদের অনুসরণ করেন, মনে করেন নেতা মনে হয় পাপের বোঝা শেয়ার করবেন, না এটি হবার নয় সেদিন শেষ বিচারের সময় নেতাদেরে ঘাড়ে পড়বে ডাবল বোঝা, একদিকে নিজের পাপের বোঝা অন্যদিকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার বাড়তি পাপের বোঝা বইতে হবে। ক্রমে ক্রমে নবীদের কথা আসে কিভাবে নূহ নবীর সময়  মহাপ্লাবন আসে, কারণ তারা অত্যাচারী জনতাদের কারণেই এটি ঘটে। তাদের অপরাধে নূহ (আঃ)এর অনুসারীরা মহাপ্লাবনের মুখোমুখি দাঁড়ায়। এর পরবর্তী নবীর অনুসারীরাও একইভাবে প্রতিমা পূজায় মগ্ন থেকে মিথ্যার উদ্ভাবক হয়। আল্লাহ এসব ঘটনা দিয়ে বার বার জনতাকে হুশিয়ার করেন যে একদিন তোমাদের আমার কাছেই ফিরতে হবে। বার বার সাবধান বাণীটি হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া তোমাদের আর কোন অভিভাবক নেই।

নবী ইব্রাহিমের শাসক জনতারা নির্দেশ দিচ্ছিল তাকে কতল করতে বা তাকে পুড়িয়ে ফেলতে। আল্লাহ তাকে উদ্ধার করেন। সবই বিশ^াসীদের জন্য নিদর্শন। অপরাধীদের দুনিয়ার জীবন শেষ হলে বন্ধুত্বও শেষ হবে, তখন একে অপরের শত্রু হয়ে সেদিন উত্থিত হবে, একে অপরকে অভিশাপ দিবে, আবাস হবে আগুন। সেখানে সাহায্যকারীদের কেউ থাকবে না। নবী ইব্রাহিম (আঃ)কে বুড়ো বয়সেও অসীম রহমত দেয়া হয়, ইসহাক, ইয়াকুব, নবুয়ত, ধর্মগ্রন্থ দান করে তার পুরষ্কার দুনিয়াতেই তাকে প্রদান করেছিলাম, আর পরকালে তিনি আলবৎ হবেন সৎকর্মীদের অন্তভুক্ত। নবী ইব্রাহিমের ভাগ্না নবী লুতএর সময় মানুষ আবারো পাপের সাগরে ভাসে। পুরুষরা এমন সব পাপ করে যা এর আগে কোন জাতি করেনি। নবীদের সময় কালীনই ধ্বংস নামে, লুত নবী রক্ষা পেলেও অভিশপ্ত নারী লুত নবীর স্ত্রীসহ অপরাধীরা ধ্বংস থেকে বাঁচতে পারে নি। একজন নবীও তার স্ত্রীকে বাঁচাতে সক্ষম নন। এটি আর একটি জীবন্ত সত্য, যা পাপীর জন্য নির্ধারিত। অনেক সময় আমাদের সমাজে সাধু বাবারা মানুষকে প্রতারণা করে নানান মুশকিল আহসান করে দিবে বলে, কিন্তু কুরআন বলে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। কারণ সেদিন নবীর স্ত্রীও ছিলেন পাপের যোগানদাতা। অন্য নবী শোয়াইব (আঃ) তার জনগনকে বলেছেন, পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটিয়ে ঘুরাঘুরি করো না, শেষ দিনকে ভয় করতে বললেও তারা শুনেনি। নবীদের সুকথা তারা বিশ^াস করতো না, উল্টো তারা মনে করতো এসব মশকরা, তারা সবসময়ই নবীদেরে নিয়েও হাসি তামাশা করতো।  বলতো ঠিক আছে, তুমি যদি নবী হও বা সত্যবাদীদের মধ্যকার হও তবে আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি নিয়ে এস। অতঃপর দুষ্ট লোকেরা সবদিনই সবযুগে নবীদেরে প্রত্যাখ্যান করে ভিন্ন ধারাতে কাজ করে গেছে। আজো তার ব্যতিক্রম নয়।

নবীরা আল্লাহর সাহায্য চান, “আমার প্রভো! আমাকে ফেসাদ সৃষ্টিকারী লোকদের বিরুদ্ধে সাহায্য করো”। সেজন্য এক ভুমিকম্প তাদের পাকড়াও করলো। কাজেই অচিরেই তাদের বাড়ীঘর নিথরদেহী হয়ে গেল। এভাবে আদ, সামুদকেও ধ্বংস করা হয়। কারুন, ফিরআউন ও হামানকে আল্লাহ ধ্বংস করেন আর তাদের কাছে তো মুসা এসেই ছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে। তাদের পাপের কারণে আমরা পাকড়াও করেছিলাম এক প্রচন্ড ঝড়। তারা দেশে অহংকার আস্ফালন করতো তাই তারা শাস্তি এড়িয়ে যাবার লোক ছিল না। এটি তাদের উপর অবধারিত ছিল। তাদের মাঝে কেউ রয়েছে যাকে পাকড়াও করলো মহাগর্জন আর তাদের মধ্যে কেউ রয়েছে যাকে আমরা পৃথিবীকে দিয়ে গ্রাস করিয়েছিলাম আর কাউকে আমরা ডুবিয়ে মেরেছিলাম। আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করার পাত্র নন। কিন্তু তারা তাদের নিজেদের প্রতি অন্যায়াচরণ করে চলেছিল, তাদের উপমা হচ্ছে মাকড়সার দৃষ্টান্তের মত। তারা নানান ষড়যন্ত্রে নকশা কেটে ঘর বানায় অথচ নিঃসন্দেহ সবচেয়ে ঠুনকো বাসা হচ্ছে মাকড়সারই বাসা, যদি তারা জানতো। আর বিজ্ঞজন ব্যতীত অন্য কেউ এসব বুঝতে পারে না। মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সত্যের সাথে। নিঃসন্দেহ এতে এক নিদর্শন রয়েছে মুমিনদের জন্য।

উপরের ঘটনা শুধু ঐ যুগের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। সব যুগেই এটি হয়েছে হচ্ছে এবং হবে। কিয়ামত পূর্ব সব যুগের অপরাধীরাই এভাবে আক্রান্ত হবে। সব সময়ই দেখা যায় মানুষ অন্ধ বিশ^াসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নবীদেরে বলে, আমরা বিশ^াস করবো আমাদের অলৌকিক কিছু দেখাও। নবীরা মানুষকে ম্যাজিক দেখাতে আসেন নাই। সব যুগেই তাদের হাতের কিতাব গাইড বুকই শ্রেষ্ঠ মুজেজা বা ম্যাজিক, তার অনুসারীদের জন্য। আজকের বিশ^ বাসীর সামনের ম্যাজিক কিতাব হচ্ছে কুরআন। এটি শুধু মুসলিমদের জন্য আসে নাই, এটি সারা বিশ^বাসীর উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। “আমি তো তোমাকে সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে প্রেরণ করেছি কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না” (সুরা সাবা ২৮ আয়াত)। এ হিসাবে এ গ্রন্থের বাণী শুধু মুসলিমের পথ নির্দেশ হয়ে আসেনি, এসেছে গোটা বিশ^কে পথ দেখাবে বলে। এটি গোটাবিশে^র সম্পদ, রোজনামচা ও পথনির্দেশিকা।

 

নাজমা মোস্তফা,  ৪ জানুয়ারী ২০১৫ সাল।

Tag Cloud