Articles published in this site are copyright protected.

8aগণতন্ত্র এমন এক তন্ত্র যা বর্তমান বিশ্বের গণমানুষের বেশি পছন্দের নাম। এ তন্ত্রটি গোটা সমাজের মানুষের কথা ভাবে, তাদের মতের ওপর চলে এবং তাদের দ্বারাই পরিচালিত হয়। অনেকে ভুলভাবে মনে করে থাকেন, গণতন্ত্র বুঝি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বস্তুত ইসলামই গণতন্ত্রের শিকড় কথা, গণতন্ত্রই এর মূল বাণী। ইসলাম একটি জীবন বিধান বলেই এটি তাদের জীবনের রুটিনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে লেগে থাকা এক বিধান। জনতার স্বীকৃতিতেই একজন জননেতা নির্বাচিত হবেন ও পদত্যাগ করবেন। যে মুহূর্তে জনতার সমর্থন তিনি হারিয়ে ফেলবেন, তার সেখানে থাকার কোনো অধিকার নেই, এটিই ইসলামের নীতি। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালে অনেকে মনে করতে পারেন সেখানে কেন স্বৈরতন্ত্রের অতিরিক্ত হালচাল। ইতিহাস বলে, এ কপট শাসন কূটকৌশলের নামে বহু আগে থেকে সেখানে রাজনীতির ময়দানে অপকর্ম বলেই আজ অবধি শক্তিশালী অবয়বে টিকে ছিল, যা ইদানীং আরব স্প্রিং বা আরব বসন্তের ঝড়ে ভেঙে পড়ছে। গণতন্ত্রের মূল প্রবক্তা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)। পবিত্র কোরআনে ও বাইবেলে একটি পাথরের উল্লেখ পাওয়া যায়, তাকে বলা হয় কালোপাথর বা হাজরে আসওয়াদ, যেটি মক্কার কাবা শরীফে আজও আছে। পরে সেই একই স্থানে যখন গৃহ সংস্কারের প্রয়োজন পড়ে তখনও দেখা যায় সবাই এর সমাদর করত এর ঐতিহাসিক যোগসূত্রের জন্য। এটি নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর জীবনের সঙ্গে জড়িত এক উপাদান। অনেক নবীকে এই যোগসূত্রের জন্যই মুসলিমরা একে সবদিনই সম্মান করে, তবে কখনোই এ সম্মান পূজার উদ্দেশ্যে করা হয়নি।

যখন আরবের কুরাইশরা মনস্থ করে কাবাগৃহের পুনঃনির্মাণের, তখনই কিন্তু বিতণ্ডা বাঁধে কে সেই মর্যাদাবান কালো পাথরকে সরাবে। সব গোত্রই উদগ্রীব সেটি সরাতে। এই বিতণ্ডা তখন ঘোর বিপদের যুদ্ধরূপ ধারণ করে। এভাবে চারদিন কেটে গেলে পর যখন অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষরা উন্মাদপ্রায় জটিল অবস্থানে, এমন সময় কুরাইশ নেতা শ্মশ্রুমণ্ডিত বৃদ্ধ আবু উমাইয়া সবাইকে আশ্বস্ত করে একটি ফয়সালার কথা বললেন। ফয়সালাটি হচ্ছে—‘যে আজ সকালে সবার আগে কাবা গৃহে প্রবেশ করবে তার ওপরই এর মীমাংসার ভার দেয়া হবে।’ নেতার ওই নির্দেশকে সমাধান হিসেবে নিয়ে সেদিন সবাই যখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, ঠিক তখনই অকস্মাত্ তাদের সবার প্রিয় ব্যক্তিত্ব আল-আমিনের আবির্ভাব হয় কাবা প্রাঙ্গণে। সহসা সবার কণ্ঠে আনন্দধ্বনি উচ্চারিত হয়। আরব জাতি তাদের এমন একজনের সততায় মুগ্ধ হয়ে তাকে ‘আল-অমিন’ বলেই সম্বোধন করত। চারিত্রিক সৌন্দর্যের জন্যই তাকে এমন সম্বোধন করা হতো তার ছোটবেলা থেকেই। ‘আল-আমিন’ অর্থাত্ বিশ্বাসী, আর ওই আগত জন ছিলেন মুহাম্মদ (সা.)। সে সময় তিনি তাদের কাছ থেকে এ জটিল বিষয় জেনে বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রত্যেক গোত্রের একজন করে দলপতি হিসেবে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। এবার তিনি একটি চাদরে নিজে ওই পাথরটি স্থাপন করে প্রতি গোত্রের গোত্রপতিকে ওই চাদরের কোণে তুলে ধরে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন এবং যথাস্থানে গেলে পরে তিনি নিজে সেটি সঠিক স্থানে স্থাপন করেন। এতে তখনকার আরবরা এক মহাসঙ্কট থেকে মুক্ত হতে পেরে তাকে লোকেরা আস্-সাদেক বা সত্যবাদী বলে সম্বোধন করতে থাকে। তাছাড়া ওই কালোপাথর সরানোর ঘটনাতেই গণতন্ত্র লুকিয়ে ছিল কিনা, পাঠকরা লক্ষ্য করুন। গণতন্ত্র মানে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা। পরবর্তী সময়ে বয়স চল্লিশ হলে পরে আল্লাহ তালার কাছ থেকে তার ওপর নবুয়তির আদেশ আসে। ধর্ম বলে, ইতিহাস বলে তিনি একদিনের জন্যও ওই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হননি।

শেখ হাসিনা এবং তার দলের আধিপত্য দ্রুত শেষ হবে

 

বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল, সেখানে সেটি কি বর্তমান সময়ে রক্ষিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে? কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘অন্য গণতান্ত্রিক দেশের পথ অনুসরণ করে এদেশে নির্বাচন হবে।’ গণতন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে বলছি, ‘বস্তুত বিরোধী দল নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি পায়নি।এসব হচ্ছে ভুল গণতন্ত্রের পথচলা। সম্পাদক, নেতানেতৃত্বের ডাণ্ডাবেড়ি পরানো, কথায় কথায় হুমকিধমকি দেয়া, রিমান্ডে নেয়ার নামে শারীরিক, মানসিক আত্মিক নির্যাতন চালানো কি গণতন্ত্রের নমুনা? বলা চলে রাজনীতির প্রাসাদ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এমন কিছু বাকি নেই যা করা হচ্ছে না। বিরোধী দল সম্মেলন করতে চাইলে সব যোগাযোগ মাধ্যম অচল করে দেয়া হয়। হোটেলরেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হয়। শত আপদেবিপদেও দেশের মানুষ মুখ খুলতে পারবে না। সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তারা বলছেন, খোলা ময়দানে সভা করার অনুমতি দেয়া হবে না। যেখানে তারা গেলে পরে প্রায় দু দিন হরতাল করে দেশ অচল করা ছিল নীতির অংশ কিন্তু বিরোধী দল হলে সবই হতে হবে একতরফা। গণতন্ত্রের মুখে প্রচারিতএকের বদলে দশটি লাশ ফেলা’, ‘লগি বৈঠার তাণ্ডবেদেশ অচল করে তোলা এসব কি গণতন্ত্রের বুলি বলে মনে হয়? গোটা দেশে একদল গুণ্ডা লালন করে পুলিশ র্যাবের ছায়ায় সন্ত্রাসীদের লালনপালনে আজও প্রতিদিনের প্রতিটি পত্রিকার পাতাই রঞ্জিত হয়ে থাকে রক্তের নদীতে। বিগত সাড়ে চার বছরের শাসনামলে শত শত নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু, যেন শক্তিমানের দৃষ্টিতে স্বাভাবিকের চেয়েও স্বাভাবিক কিছু! মাসের পর মাস শাহবাগীরা গণজাগরণ মঞ্চ করার আশকারা পায়, ওতে সরকারের নিপুণ হাতের পরশ পড়ে। কিন্তু হেফাজতিরা একরাতও পার করতে পারেন না। এসব কি গণতন্ত্রের না একতরফা স্বৈরতান্ত্রিক নমুনা, গোটা বিশ্বই এসব পর্যবেক্ষণ করছে।

এ সরকারের গোটা শাসনামলেই গণতন্ত্রের লণ্ডভণ্ড দশা। বিমানবন্দর থেকে জিয়ার নাম মুছে দেয়া হলো। গভীর রাতে পাল্টে ফেলা হলো সাইনবোর্ড। বিমানবন্দরে পাবলিক উইং কমান্ডার সাইদুর রহমান জানান, রাত সাড়ে আটটার দিকে বাংলা, ইংরেজি আরবি সাইনবোর্ড পরিবর্তনের কাজ শুরু করা হলো। রাতের মধ্যেই নতুন সাইনবোর্ড লাগানো শেষ হবে। রাত একটার পর নিয়ন সাইন ওঠানোর কথা। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। বিমানবন্দরটি রাষ্ট্রপতি জিয়ার উদ্বোধন করার কথা ছিল কিন্তু তার আগেই তিনি শাহাদত বরণ করেন। বিচক্ষণদের লেখাতে এসেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে ফেরার ১৩ দিনের মাথায় তিনি নিহত হন। প্রধানমন্ত্রীকে জিয়াই উদ্যোক্তা হয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরত নিয়ে আসেন।  তত্কালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার বিমানবন্দরের উদ্বোধন করেন। এই মহান নেতার প্রতি কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা ও আবেগের প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের নামে বিমানবন্দরটির নামকরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী একজন মহত্ মানুষকে সম্মান দিতে কেন এত কৃপণ হলেন? বরং তিনি বড় গলাতে বলেছেন বিএনপিকে শিক্ষা দেবার জন্য এটি করা হয়েছে। একইভাবে ‘আমার দেশ’ নামের পত্রিকাটিকে তিনি বেশ একহাত দেখিয়ে দিলেন। এসব কাজ যে গণতন্ত্রের ময়দানে নেতিবাচক কাজ হয়, তারা ওই ধান্ধাতে নেই। বাস্তবিকই এতে গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়। তথ্যমন্ত্রী অকপটে চতুরতার সঙ্গে মিথ্যা বলছেন যে, পত্রিকা প্রকাশে কোনো বাধা নেই। কিন্তু বাস্তবে সেখানে সিলগালা লেপে দেয়া হয়েছে, নতুন আবেদন ও এসবি ক্লিয়ারেন্স ছাড়া বিকল্প প্রেসেও ‘আমার দেশ’ ছাপতে দেয়া হচ্ছে না। ডজনের উপরে সম্পাদকরা একজন নির্দোষ সম্পাদকের মুক্তি ও তার প্রেস খুলে দেয়ার দাবি করছেন, মিডিয়ার উপর এসব অনাচারের বিচার চাচ্ছেন, কিন্তু গণতন্ত্র মরার ভান করে পড়ে আছে। বিশিষ্টজনরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীই সংলাপের সম্ভাবনা নষ্ট করছেন, ওই তত্পরতাতেই তিনি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। রাজনীতির ওই ‘গণতন্ত্র’ শব্দটির অর্থ, ব্যাখ্যা আরও মনোযোগের সঙ্গে আয়ত্তে আনা সময়ের দাবি। কে পরীক্ষাতে পাস করল আর কে ফেল করল তার চিন্তা না করে সরকারের নিজের স্ক্রিপ্টের দিকে নজর দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কথা হচ্ছে ওই বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের জন্য সরকারের প্রায় ১৪শ’ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। সারা বিশ্বে এ পরিবর্তন আনতে এ খরচ হয়। এ টাকা দিয়ে এমন গরিব দেশে কতটুকু করা যেত তা একটু ভাবুন জনগণ। এসব হচ্ছে একবিংশ শতকের ডিজিটাল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারার নমুনা! এসব কৃতকর্মের জন্য সরকারের মোটাদাগে নম্বর কাটা যাবার কথা।

27 May 2016 | সঠিক পথে নেই বাংলাদেশ : ব্রিটিশ এমপিদের উদ্বেগ

এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে হতাশা বিরাজ করছে না। পদ্মা সেতুর রাঘববোয়ালরা দুর্নীতিতে বিদেশে ধরা খেলেও দেশে তাদের বিশিষ্ট চোরদেরে আসামির লিস্টেও তোলা হচ্ছে না। বরং উল্টো প্রচার করা হয়েছে এরা পূত-পবিত্রজন, এদের গায়ে আঁচড় লাগতে নেই! কারণ এ দেশ বর্তমানে গোটা বিশ্বের বাইরে নীতির বাইরে অবস্থান করছে। সবাই ধারণা করছে এর গভীরের কারণ আরও গভীরে প্রোথিত, যা উন্মোচন করলে প্রধানের গায়ে ছিটকে কাদা লাগে। যার কারণেই ওই বিশিষ্ট জনদের পবিত্রতার সিলগালা লাগিয়ে প্রচার করতে সরকার তত্পর। এত নাড়াচাড়ার পরও কেমন করে এসব মন্ত্রী পবিত্র থাকেন, দুর্গন্ধে বিদেশেও টেকা দায়! বিস্মিত বিশ্বব্যাঙ্কও বলছে, দুদকের এজাহারে চার প্রভাবশালীর নাম থাকা উচিত ছিল। বস্তুত ওই আত্মপ্রচারী গণতন্ত্রী সরকার ওই অনুচিত কাজটি করেছে ফাঁকা বুলি নীতির ধারক হয়ে। তথ্যমন্ত্রী ও ডিসির মিথ্যাচারে সাংবাদিকরাও গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে উপহাসে পরিণত করেছে সরকার। ক্ষমতাকে আঁকড়ে থাকার রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে সরকার, লাজ-লজ্জা সব বিসর্জন দিয়ে হলেও অপকর্ম জেনেও অপকর্ম করছে। আর সঙ্গের দলবাজ মন্ত্রীরা ওই তালিতে হাততালি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে জনতা সোচ্চার, বাগেরহাটে ১৩১ আইনজীবীর বিবৃতি কিন্তু সরকার কুম্ভকর্ণের ঘুম দিচ্ছে, এসব ধারার নষ্ট গণতন্ত্রই বাংলাদেশে বহাল রয়েছে। সংসদে এমপি গোলাম মোস্তফা বলতে গেলে সরকারকে হুমকি দিয়েছেন, ‘‘মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দিন, নয়তো পালানোর পথ পাবেন না’। তিনি বলেন, সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, ছাত্রলীগ যুবলীগের কোপে চাপাতির কোপে সারাদেশ ক্ষতবিক্ষত। সারাদেশে একই সুরআওয়ামী লীগ বিশ্বচোরস্বৈরতন্ত্র ব্যতিরেকে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার এটি করতেই পারে না। দৈনিক আমার দেশ, সাথে দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, সাগররুনি, ইলিয়াস, আমিনুল, চৌধুরী আলম সবাই সরকারের স্বৈরাচারী অপকর্মের কুফলের শিকার। শুুধু এরাই নয় আরো সারিবাধা উদাহরণ হয়ে আছে শত শত।  একই দাবি সংবাদপত্রের কালো দিবসে সিএমইউজের আলোচনায় এসেছে। যে অর্থমন্ত্রী কথায় কথায় ‘রাবিশ’ আর ‘বোগাস’ ছাড়া মনে হয় বোঝেন কিছু কম, এবার তারও মাথা নড়ছে, বলছেন সিটি নির্বাচনের ফলাফল এটি অশনি সংকেত!

এরই মাঝে শক্তির দাপটে করা হয়েছে বিরোধী দলকে শায়েস্তা দিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন। এমনিতেই পুলিশের হাতে বিপুল ক্ষমতা, যে পুলিশের ক্ষমতার দাপটে এর মাঝেই মানুষ রক্তেলাল। গণতন্ত্রের কবর দিয়ে এবার হবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে সরকারের ইচ্ছার ষোলকলা পূর্ণ করা। সিটি করপোরেশন মেয়র নির্বাচনে গো-হারা হেরেছে যদিও সরকার পক্ষ, তারপরও তারা খুশি। কারণ যে অপকর্ম তারা করেছে তারা জানে আরও নিচে ধস তাদের নামার কথা। খবরে প্রকাশ, তাই বলে তারা একদমই ধোয়া তুলসীপাতা হয়ে যায়নি, মানুষের স্বভাবস্বরূপ সহজে বদলায় না। এ নির্বাচনেও পুলিশ ও র্যাবকে যথারীতি ব্যবহার করতে তারা কসুর করেনি। এ দুটি বাহিনীর বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসীদের মতো কর্মতত্পর হতে অভিযোগ উঠেছে বহুদিন থেকে। এবারের সিটি নির্বাচনেও তাদের তত্পরতা লক্ষ্য করা গেছে। ১৮ দলের শত শত ভোটারকে তারা ভোটকেন্দ্রেও ঘেঁষতে দেয়নি, এসব অভিযোগকে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। আর এটি তাদের জন্য খুবই বাস্তব একটি ঘটনা। ভোট কেন্দ্রের চৌহদ্দি থেকেও এরা অনেককে বের করে দিয়েছে। র্যাব পুলিশকে দাড়িওয়ালা টুপিওয়ালা কাউকে দেখলে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে। খুলনায় ১০ জন দাড়ি টুপিওয়ালাকে র্যাব আটক করে, তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। এমন কি র্যাবের হাতে নির্যাতিত হয়ে একজন ইসলামী আন্দোলনের কর্মী মারাও গেছেন। তাদের সামনেই আওয়ামী ক্যাডাররা ব্যালটবাক্স ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। পরে সে বাক্সই উদ্ধার হয়েছে। ওই ফাঁকের সময়ে সিলমারা ব্যালটে ভরে দেবার সুযোগ তারা কাজে লাগিয়েছে।  তাই হিসাবের অনুপাতে তারা অনেক বেশি ভোট পেয়েছে। তাই হেরেও তাদের খুশি থাকার কথা।

তারপরও প্রধানমন্ত্রীর মুখে তত্ত্বাবধায়ক সহনশীল হচ্ছে না। উপরন্তু দম্ভ প্রকাশিত হচ্ছে যে, তাদের মতো একটি বিচারিক দল ক্ষমতাতে ছিল বলেই নাকি এত ভালো নির্বাচন পেয়েছে দেশবাসী। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তত্ত্বাবধায়ক মানতে রাজি নয়। এখানেই বাকিদের শঙ্কিত হবার কথা লুকিয়ে আছে। কেন তিনি সেটি মানছেন না? এতদিনে কারণটি দেশবাসী ভালো করেই জেনে গেছে। তারপরও শঙ্কা আর কমছে না, এবার ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’। গণতন্ত্রের কবর রচনা করলে সবদিকেই মহামরণ অপেক্ষা করে স্বৈরাচারী শাসকের জন্য। প্রধানমন্ত্রী জোর গলায় প্রচারে নেমেছেন এবার প্রমাণ হয়ে গেছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দানের সরকারের বিরল কৃতিত্ব। বিজিতরা অতীতের প্রতিপক্ষের মতো সূক্ষ্ম কারচুপি আর স্থূল কারচুপি বলেনি বলেই প্রতিপক্ষ শুদ্ধ হয়ে গেল এমন মনে করার কি কোনো কারণ আছে? সরকার বলছে এবার প্রমাণ হয়ে গেছে যে, এ দেশে আর অসাংবিধানিক সরকারের প্রয়োজন নেই। তাহলে নাকি নির্বাচন হবে না। এটিও এক বড় চাল। শেষের খেলটাতে যে এরা নীতি নৈতিকতার অল্প যেটুকু বাকি রেখেছে ওটুকু পুরোটাই জলাঞ্জলি দেবে সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এটি তাদের এসব আচারে সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। নইলে সহজ সমাধানের মূলে যেতে এত নাকে-কানে খত কেন? এখনো প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নে আছেন পরের বার যদি র্যাব, পুলিশ, যুব, ছাত্রলীগ দিয়ে পার পাওয়া যায়! নিরাশার আঁধারে ওটুকুই ভরসা, দুর্জনের সহজে সুমতি হয় না। নেত্রী বলছেন আমরা চাই বাংলাদেশে এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে আসা যেখানে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। এরকম একটি রাজনীতির কথা ও বাস্তবতার মাঝের গ্যাপটি যে কত বড় সেটি ভুক্তভোগীরাই জানেন। দেশবাসী এ অঙ্ক চোখ বন্ধ করেই কষতে পারেন, এটি কোনোদিনও হবে না। যতদিন এখানের ছলবাজ মানুষ ও সন্ত্রাসীগুলো মন ও মননে শুদ্ধ হবে না ততদিনে এসব সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অবাধ নির্বাচন চাইলে, সবার জন্য সমান নীতি হলে মাহমুদুর রহমান আর দিগন্ত টিভি ইসলামিক টিভি খাঁচাতে থাকত না। বনের পাখি বনেই বাস করত। আপনারা মিথ্যা বুলি দিয়ে আর বোকাদের ঘুম পাড়ানিয়া গান শোনাতে যাবেন না। মনে হয় ওই মনভোলানো গান আর ওরা গিলবে না। এটি ঠিক রাজনীতির গুণ্ডারা নিতান্ত ঠেকায় পড়াতে এবার কিছু লগিবৈঠাতে ধার দেয়ার সুযোগ পেয়েছে কম, বুঝতে পেরেছে এবার রক্ষা নেই, মানুষ জেগে উঠেছে। তাছাড়া চট্টগ্রামে গুণ্ডামি করতে গিয়ে এরা মাত্র কিছুদিন আগে শত শত উত্তমমধ্যম খেয়েছে জনসাধারণের হাতে, ওসব ছিল নিজেদের আক্কেল সেলামির খোদায়ী দণ্ড। 

বলা আছে, ‘চোরের দশ দিন সাধুর এক দিন’। যেমন আজকাল অনেক জায়গাতেই মন্দির ভাঙতে গিয়ে তারা ধরাও খেয়েছে, এর কারণ মানুষ জেগে উঠেছে। মানুষ যদি সঠিক ও সত্ থাকে, অনেক দুর্যোগই তারা এড়াতে পারবে। আর ধূর্তরা, ছলবাজরা, অপকর্মধারীরা ভেতরে বাইরে সবদিকেই মার খাবে, এটিই বাস্তব জীবনের নীতি। কিন্তু শর্ত হচ্ছে বাস্তবিকই জনতাকে সত্ ও তত্পর থাকতে হবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট (আইএফজে) মন্তব্য করে পত্রিকা ‘আমার দেশ’ বন্ধ করার যে অজুহাত সরকার ব্যাখ্যা করছে তাতে বাংলাদেশের জনতাদের দ্বিমত লক্ষণীয়। সরকারের যুক্তিকে তারা মানতে পারছে না। সরকার বেআইনিভাবে পত্রিকা বন্ধ ও তার সম্পাদককে গ্রেফতার করেছে। এসবই রাজনৈতিক খেলা, কোনো পেশাদারি ত্রুটি এটি নয়। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯(২)(খ) অনুচ্ছেদে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকলেও বাস্তব বড়ই করুণ কথা বলছে। অধিকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০১৩ পর্যন্ত ১২ সাংবাদিক নিহত, ৫৭৮ আহত, ২১১ লাঞ্ছিত, ৭৪ জন হামলার শিকার, ৮ জন গ্রেফতার, ৩ জন অপহৃত, ২ জন নির্যাতিত, ২৫৯ জন হুমকির শিকার হয়েছেন। এর আগেও মাহমুদুর রহমানকে নয় মাস আটক করে রাখা হয়। এসব হচ্ছে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নমুনা। যে সরকার কথায় কথায় গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায়, কেউ কেউ আবার বলেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা। এরা বুঝে বলেন নাকি না বুঝেই বলেন আল্লাহই মালুম!

দোষ প্রমাণ হওয়ার আগেই অপরাধীর সূত্রে ফাঁসির গান গাওয়া এসব কোন ধরনের গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার আদব? কোনো ভিডিও ফুটেজে ও কোনো সাক্ষ্য গ্রহণে প্রমাণ না হলেও গায়ের জোরে এসব বহাল করার নীতি এসব কোন গণতন্ত্রের নমুনা? বিচারের ফটক থেকে সাক্ষ্যকে ধরে নিয়ে এসব ঘটনার পূর্বাপর কোনো সুবিচার না করা এসব কোন গণতন্ত্রের নীতি? তাই সরকারকে আগে শিখতে হবে গণতন্ত্র কী, সেটি জানা ও মানা। তারপর নাহয় অনুসরণের পালা। এটি নিশ্চয় গাছে ধরে না। মাটিতে না হলেও এর চাষ করতে হবে প্রতিটি মন ও মননে, আচারে আচরণে। বিরোধীদলীয়রা সংবাদ সম্মেলন করছে যে, ‘তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রতারণামূলক কারণ বন্দুকের জোরে ‘আমার দেশ’-এর প্রেস বন্ধ রেখেছে সরকার। নতুন আবেদন ও এসবি ক্লিয়ারেন্স ছাড়া বিকল্প প্রেসেও আমার দেশ ছাপতে দেয়া হচ্ছে না।’ এসবই কি নব্য ২০১৩-এর গণতন্ত্রের নমুনা? হেফাজতিরা অবস্থান করলে রাতের আঁধারে তাদের গুলি করে মারা হয়। বলা হয়েছে একজনকেও মারা হয়নি। কিন্তু শাপলা চত্বরে গণহত্যা নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে নিহত ২০২ জনের নাম জেনেছে হেফাজত।  এসবই কি গণতন্ত্রের স্বরূপ দর্শন? কোনো স্বাধীন দেশে হত্যা-গুমের এমন হিড়িক পড়ার কথা নয়। আর যখন তা সরকারের ছত্রচ্ছায়ায়ই হয় তখন ওই সরকারকে মাপা খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়। এটি অতি অল্পেই প্রমাণ করে সবদিক থেকেই সরকার সুশাসন চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সে অপকর্ম প্রতিরোধ না করেই বরং অপকর্মের জোগান দিয়ে গেছে। বহুভাবে অপকর্ম রোধ করা যায়। এক. নিজেদের অপকর্ম সামাল দিয়ে প্রতিপক্ষের অপকর্মের প্রতিরোধ করে। আর অন্যটি হচ্ছে নিজেরা অপকর্ম করে প্রতিপক্ষের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিয়ে তরণী বেয়ে যাওয়া আজকের দিনে বড়ই কঠিন। ভিডিও ফুটেজের জামানা। নিজেরা যদি কোরআন শরিফে আগুন দিয়ে বলেন যে হেফাজতিরা দিয়েছে, ওদিকে ভিডিও ফুটেজও কথা বলছে। তারপরও কেন অনুসন্ধান ব্যতিরেকে একতরফা আস্ফালন? আল্লামা শফীও এর ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এ জন্য যে, কেন দোষীকে ফুটেজ দেখে ধরা হলো না। সত্যিকারের গণতন্ত্র হলে সরকারের ঘরের সব আসামিকেও জেলে পুরতে হবে। বিরোধীরা নিষ্পাপ হলেও তারা আসামি, আর সরকারের ডাকাতও আউলিয়া দরবেশ। বিগত কয় বছরের ডজন ডজন গুম-হত্যা হিমাগারে, কেন? এসব নড়ে না, ফাইল নড়ে না, কোনো অগ্রগতি হয় না। এসব ডিজিটাল গণতন্ত্রেরই নমুনা!

জনতার কথা ২৯ ১০ ১৩শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়ার টেলিফোন কথোপকথন নিয়ে মানুষের ভাবনা)

আইন বহির্ভূত হত্যা করার অধিকার রাষ্ট্রের নেই। কিন্তু মহা আনন্দে রাষ্ট্র তা করে চলেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বান ছিল ‘গণহত্যা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন’ করার। সরকার মতিঝিলকে রক্তের সাগর বানিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদেও এরকম খবর আসছে। জজ গ্যালওয়েরাও প্রতিবাদী হয়েছেন, জানিয়েছেন এরা ইসরাইলি বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। দেশের মেধাবীরা রাস্তাতে লাশ হচ্ছেন। ড. ইউনূসরা দাবি করছেন, ‘ক্রীতদাস নয়, মানুষ হিসাবে বাঁচতে চাই।’ একজন নোবেল অর্জনধারীর এরকম একটি কথার মাঝে অনেক জবাব লুকিয়ে আছে। কেন তিনি আজ এরকম অবহেলার শিকার? হেফাজতিকে ধ্বংস করতে দেড় লক্ষাধিক গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়। কোনো সভ্য রাষ্ট্রে বিদ্যুত্ বন্ধ করে এসব কী ধরনের গণতন্ত্র চর্চার নমুনা, জানতে ইচ্ছে করে! ‘দুর্নীতি তদন্ত রিপোর্ট করবে না সংসদীয় কমিটি’ এসব চাপা দেয়া থাকবে। শুধু করবে চল্লিশ বছর আগের বিচার কিন্তু আজকের বিচার হবে মনে হয় পরবর্তী চল্লিশ পার হলে পর। এদের এখন বিচার হলে এরা ফাঁপরে পড়বেন। তাই চল্লিশ পার করতে পারলে ওরা বেঁচে যাওয়ার একটি অবকাশ তৈরি হবে। কারণ তখন তো তারা বেশিরভাগই মারা যাবেন। যে রকম আজ নির্দোষকে যুদ্ধাপরাধের আসামি করতেই সরকার বেশি তত্পর। যুদ্ধাপরাধী নিজের স্বজন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা এরকম কেউ হলেও এরা সাধু আর বিরোধী দলের কেউ হলে রাজাকার, ধরো মারো ফাঁসি দাও। বিয়াল্লিশ বছর পর অপকর্মধারী লাশেরা চলে যাওয়ার পর এই যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিজেই এক রাজনৈতিক অনাচার ছাড়া আর কিছু নয়। তারপরও যদি এতে কোনো সদিচ্ছা থাকত তাহলে তারা ১৯৯৬ সালেই সেটি করতে পারত, কিন্তু তাও অনেক দেরি, ২৫ বছর পর। তখনও মনে হয়নি, কারণ তখন তো মউজে দিন গেছে, দহরম মহরম চলেছে, চলেছে দোস্তি রাজনীতির খেলা। এসব হচ্ছে সুবিধাবাদী রাজনীতির সংসদীয় গণতন্ত্র! এখানে বর্তমানের নীতি হচ্ছে শক্তিমানের কোনো বিচার হবে না, সব মামলা উঠিয়ে নেয়া হবে। আমার নয় শুধু তোমার মানে প্রতিপক্ষের বিচার বরাদ্দ থাকবে। আমার ছেলের বিচার নেই, বিচার হবে তোমার ছেলের। গণতন্ত্রের নীতি হচ্ছে আসামি হলে দুজনকেই ডান্ডাবেড়ি দেয়াই আইনের নীতি, তবে বিচারের আগে নয়।

শেয়ার লুটপাট, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, হলমার্ক জালিয়াতি, সব চুপ, প্রকাশ করা যাবে না। এসব বিষয়ে খোদ অর্থমন্ত্রীর তুচ্ছতাচ্ছিল্য-জড়িত যুক্তি লক্ষ্য করা গেছে। যার সম্পদ তাকে লুকিয়ে এ কী ধরনের গণতন্ত্র, এসব জনগণ কেন জানবে না। কোথায় কোন চুক্তি হয় বিদেশির সঙ্গে তাও সব আড়ালে আবডালে। দেশটি যেন কারও বাবার মৌরসী স্বত্ব! ভয় হচ্ছে, কিছু চুক্তিতে কি বাংলাদেশকে চিরকালের গোলাম বানানো হয়েছে? হতভাগ্য জনতা তাও জানে না। সরকারের অতি চাতুরিতে গণতন্ত্রের ফাঁকা বুলির নিচে তা চাপা পড়ে গেছে। অতীতে ’৭১-এর স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে ২৫ বছরের গোলামি চুক্তির শিকল সবার অগোচরে দেশবাসীকে পরিয়ে দেয়া হয়। এবার যদি তার চেয়েও গুরুতর কিছু করা হয়ে থাকে, তবে ভয়ঙ্কর সে শিকল ভাঙার খেলায় জনতাকে অবশ্যই সোচ্চার হতে হবে। স্বৈরাচারকে টিকিয়ে দিতে কেমন করে অতীতে গণতন্ত্রের নেত্রী বলতে পারলেন, ‘আই এম নট আনহ্যাপীি।’ যারা স্বৈরাচারকে সমর্থন দেবে তারা ‘জাতীয় বেইমান’ বলে মাত্র ক’দিনের মধ্যে তিনি কেমন করে ওই স্বৈরাচারকে সমর্থন করে বেইমানের তকমা সখ করে নিজেই গলে পরে নিলেন। এতেই বুঝা যায় কত দূরদৃষ্টির অভাব এদের আচরণে লক্ষণীয়। হাঁড়ির ভাত সবকটি টিপে দেখে না মেয়েরা, একটি ভাত দিয়েই টেস্ট করে নেয় ভাত হয়েছে কিনা? একইভাবে মানুষকে টেস্ট করতে বার বার পরীক্ষার দরকার নেই। তার অতীত বর্তমানই তার আমলনামা। এ দিয়েই ভবিষ্যত্ নির্ধারণ হওয়াই যুক্তির কথা। যারা সেটি করতে পারে না, এরা বার বার মার খেতে থাকবে। এদের মাথা তুলে দাঁড়াবার ফুরসত বড়ই কম। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও মতিঝিল গণহত্যার বিচার দাবি করেছে। সরকার শুধু গণতন্ত্রের স্বপ্নই দেখে জেগে ও ঘুমিয়ে, কিন্তু বাস্তবে গণতন্ত্রের ‘গ’তেও নেই। এসব বিষয় সব দলের জনতাকেই সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করা উচিত। এ দেশ কোনো দলের নয়, এটি গোটা দেশবাসীর। ন্যায় যারা করবে তারাই যেন সমাদৃত হয়। নয়তো ইহকাল পরকালেও আল্লাহর দরবারে পার পাবার কোনোই ফুরসত দেখছি না।

‘দুর্নীতি দমন ইস্যুতে ৯ বছর ধরে প্রত্যাশিত সূচক অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ’ যার জন্য বাংলাদেশ বহুল প্রত্যাশিত যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্টির (এমসিএ) আওতায় সহযোগিতা পাওয়ার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হচ্ছে। আদর্শের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ধর্মে ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের জন্য এটি বড়ই লজ্জার কথা। গত নয় বছরের সব স্কোরবোর্ডেই বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতি দমনে পাওয়া অর্জনকে লাল কালিতে দেখানো হয়েছে। এসবই বর্তমানের নষ্ট গণতন্ত্রের বাস্তব ফল প্রকাশের নমুনা। কেউ কেউ বলছেন, সরকারের দায়িত্বশীলদের মানসিক চিকিত্সার দরকার। এদের কারণে সারা জাতি আজ কারারুদ্ধ, অবর্ণনীয় অবস্থার শিকার। অসুস্থ বাংলাদেশ আজ শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, ভৌগোলিক, সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব ধরনের পঙ্গুত্বের শিকার। সমাজ বিনির্মাণের সুচিকিত্সকরা স্ট্যাথো নিয়ে উঠে দাঁড়ান। বাংলাদেশীর প্রাণপ্রিয় ভূমি সবুজের এই দেশটিকে গণতন্ত্রের বাস্তবসম্মত ডোজটি দিয়ে বাঁচান। ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা শুরু হয়েছে, সচেতনের ছোঁয়াতে এটি চিরকালের জন্য বন্ধ হোক, জনতা বাস্তবিকই জেগে উঠুক।

 

নাজমা মোস্তফা, December 24, 2015. 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: