Articles published in this site are copyright protected.

ppপ্রতি বছর ৬ই ডিসেম্বরকে স্বৈরাচার পতন দিবস হিসাবে পালন করা হয়। ৯০এর দশকে সেদিনের চিহ্নিত স্বৈরাচার ছিলেন এরশাদ। যদিও আগে পরেও স্বৈরাচার বারে বারে এসেছে, বাসা গেড়েছে, আছে বহাল তবিয়তে, মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে। তারাই গণতন্ত্র নামের গিলাফের নিচে এতদিন থেকে খেলা চালিয়ে গিয়ে নানান কথামালা দিয়ে নিজেদের ধুয়ো তুলসি পাতা করতে চাইছে। একজন বলছে কোথায় তোমাদের গণতন্ত্র? এরা স্বভাব বদলায় না, বদলাতে পারে না। কথায় বলে ‘কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না’। ইয়াহইয়ার অনুকরণে জাতিকে কলা দেখিয়ে গজিয়ে উঠা স্বাধীনতা পরবর্তী বাকশাল, এরশাদ এক পথে হাটা পথিক। নব্বইএর দশকে নূর হোসেন, জাফর, জয়নাল, দেলোয়ারের লাশ স্বৈরাচার বিধ্বংসী খেলার দাগেভরা। এসব লাশও জমে অনাগত অপেক্ষারত স্বৈরাচারের পরিকল্পনার পথ ধরে। কিভাবে এখানে অর্ডারী লাশ জায়গা করেছিল, তা জাতির সচেতনরা জানেন না, এমন নয়। না জানলে একদিন জানাবার কিছু সূত্র দেব। কারণ জাতিকে কানা করে রাখা হয়েছ, তাই আজ অনেক ক্ষেত্রেই চোখ থাকতে অন্ধ জাতি।  আজকের প্রগলভতা হচ্ছে অপকর্মে জাহাজ ডুবি ঘটিয়ে করে হাবাগোবা সাজার নাটকীয় প্রয়াস, ভিন্ন মাত্রার ছলচাতুরী! সহজ অংকে দন্ডধারীরা ওপথেই হাটছে, স্বৈরাচারে দাগী অপরাধী হয়ে আছে, নাম নিয়েছে “পদ্মলোচন” পদ্মের মত চোখ কিন্তু জাতে কানা। মুক্তিযুদ্ধে অনভিজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা কেন বিএনপি করে, এটি মানা যায় না। নিউইয়র্কের হিউম্যান রাইটস ফোরামের পরিসংখ্যান অনুসারে গত দশ বছরে ৯০০ বাংলাদেশিকে বিএসএফ হত্যা করে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের রেকর্ড অনুযায়ী ২০০০ সালের ১ জানুয়ারী থেকে গত ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১০৬৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে বিএসএফ। পাকিস্তানকে ভারত যত কেয়ার করে বাংলাদেশকে তার ছিটেফোঁটাও করে না। স্বৈরাচারের কোন মেরুদন্ড থাকে না। সম্প্রতি স্বৈরাচার এরশাদ মেরুদন্ড খুঁজে বেড়াচ্ছেন আর প্রমান করতে চাচ্ছেন তিনি সাধু। চলমান স্বৈরাচারি মন্ত্রীরা এসবের কোন খোঁজ রাখেন বলে মনে হয় না। মন্ত্রী ওটিও ভুলে আছেন যে, বিএনপির নেতাই মুক্তিযোদ্ধার শিকড় সূত্র। মন্ত্রীর মাথায় বর্তমান বাংলাদেশ অনুপস্থিত। বন্ধু আর শত্রু যারা চিনে না, তারাই সময়ের সেরা হতভাগা।

তারা ভিন দেশের চিন্তায় সময় পার করে। “ভারতের সম্মতি ছাড়া ভুটান থেকে জলবিদ্যুত কেনা যাবে না” খবরটি তাদের মগজে খেলে না, বরং মগজ বিএনপি নামের ভাইরাসে আক্রান্ত। এর বড় কারণ বিএনপি সবদিনই মিরজাফরের বদলে সিরাজের ভ’মিকাতে নেমেছে। প্রকৃত বাংলাদেশের রাজনীতি করছে যার জন্য বাড়তি উৎকন্ঠা, তাই মুখের কথা সব পাগলের প্রলাপ। “আন্তঃনগর সংযোগ প্রকল্পে শুকিয়ে যাবে বাংলাদেশের নদনদী” ফারাক্কা তারা দেখে না, টিপাইমুখ তাদের ঘাড়ের উপর সাটা। তারপরও তারা অবোধ শিশুর মত ছেলে খেলার গল্প শোনায়। সামনে সিংগাপুর মালয়েশিয়া! পড়ছি ডঃ তুহিন মালিকের “সমগ্র বাংলাদেশ মাত্র এক রুপি!” ২০১৫তে বাংলাদেশ ছাড়া এত বেওকুফ আর কোন জাতি আছে বলে জানি নি। বুঝতে চায় না দেশের প্রকৃত সমস্যা কোথায়? তাদের জং ধরা মনের চেতন আজ মৃত। তারা মোটা গলায় বলতে ব্যস্ত “জিয়াকে আর সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান বলা যাবে না”। আজকের বাংলাদেশের সমস্যা কি জিয়াকে রাষ্ট্রপতি বলা? তারচয়ে ভালো হয় ঐ নাম বদলে নতুন নাম রেখে দিক তারা, তবে আকিকা করতে হবে, তখন কেউ আর ঐ নাম মুখে আনবে না। এরশাদের মন খারাপ “জিয়ার সাথে কেন তাকে এক পাল্লায় ফেলা?” স্বৈরাচার বোনের জন্য কি কম করেছে স্বৈরাচার ভাই? হত্যা গণধর্ষন গনগ্রেফতার অতীতের সব রেকর্ড আজ উচ্চ অর্জনে ভরা! মামলা ওয়ারেন্ট ছাড়া ধড়পাকড় চলছে দেখে মন্ত্রীর গলা “পুলিশ এ করবে না তো কি চুমো দেবে?” এরা কি কথা বলতেও ভুলে গেলো, না কথা শিখেই নি, আল্লাহ মালুম। সম্প্রতি ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার বিচারের সাক্ষ্যদাতা আওয়ামী কাজী জাফর উল্লাহ যুক্তিতে বলছেন তিনি একজন যুবককে গ্রেনেড ছুড়তে দেখেছেন, তিনি আজো আহত ঐ গ্রেনেডের আঘাতে, সাক্ষির যুক্তিতে এটি করেছে হাওয়া ভবন। ঘটনার সময় আমরাও ময়দানে না থাকলেও কাছেই ছিলাম, ভাবনায় পড়েছি। এর উপর ভেবেছি, কাজ করেছি। যার জমা আমার “২১ আগষ্ট ২০০৪ সচেতনের সন্দেহ সন্ত্রাসীর দিকে”, লেখাটির দিকে পাঠককে একটু বাড়তি নজর দিতে অনুরোধ করবো। দেখতে পারবেন কিভাবে স্বৈরাচার চাঁদোয়ার নিচে, যেন দেখা যায়!

জনতার কথা ২৪.০৭.১৩(জয় বলছেন আওয়ামী লীগ আবার ও ক্ষমতায় আসছে; তার কাছে খবর আছে) somehow it was erased from the field.  

Khandokar Abdur Rashid words

 

এরশাদ যে সাক্ষাৎ মঞ্জুর হত্যায় জড়িত, তা ধানাই পানাই এরশাদ আজো লুকোতে ব্যস্ত, কারণ চোরের মনেই তো পুলিশ পুলিশ!  লরেন্স লিফশুলৎজ ফার ইস্টার্ণ ইকোনমিক রিভিউ এর দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি একমাত্র বিদেশী সাংবাদিক যিনি মঞজুর হত্যা মামলায় ২৫ মার্চ ১৯৯৫ সিআইডিকে দেয়া এর স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন যা এর মাঝে পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছে (২৩এপ্রিল ২০১৪, প্রথম আলো)। সেখানে ছিল এয়ার ভাইস মার্শাল সদরুদ্দিনের সাক্ষ্য। যেখান থেকে এটি স্পষ্ট যে মেজর জেনারেল মঞজুরকে জিয়া হত্যায় ফাঁসানোর একটি পরিকল্পনার কথা জানা যায়। যুক্তিতে এটি স্পষ্ট মঞ্জুর কখনোই জিয়া হত্যায় জড়িত নন। সময় ১লা জুন ১৯৮১ সাল। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অফিসে মেজর জেনারেল মঞজুর ধরা পড়লে একটি টেলিফোন আসে এতে উত্তেজিত এরশাদ রেড টেলিফোনের কাছে ছুটে যান আর একটি নাম্বারে ডায়াল করেন। ও পাশ থেকে বলা হয়, মঞজুরকে পুলিশ আটক করেছে। উপস্থিত ময়দানের সাক্ষিরা এরশাদের চতুর বাণীর   শ্রোতা “এক্ষুনি তাকে নিয়ে নাও। তারপর পরিকল্পনা মত কাজ করো” বলেই তিনি ত্বরায় টেলিফোন রেখে দেন। তখন সাক্ষি বলেন, জেনারেল এরশাদ আপনি কোন পরিকল্পনার কথা বলছেন, আমি কি জানতে পারি? এতে তিনি আরো উত্তেজিত হয়ে বলেন, এয়ার চিফ, আপনি কিছুই বোঝেন না, তিনি বলেন, আমি কি বুঝি না বুঝি, আপনার কাছ থেকে জানতে হবে না”। সাক্ষি তখন বিচারপতি সাত্তারের আশ^াস চাইলে তিনি তা দিয়েছিলেন, বলেছিলেন বিচার করা হবে। পরদিন ২রা জুন। ভোর রাত দেড়টা দুইটার দিকে উইং কমান্ডার কামাল, ডিরেক্টর এয়ার ইন্টেলিজেন্স টেলিফোনে মেজর জেনারেল মঞজুরের হত্যার খবর দেন। সকাল ছয়টা সাতটার দিকে সাক্ষি এরশাদ সাহেবকে টেলিফোন করে বলেন,“এরশাদ সাহেব আপনারা জেনারেল মঞজুরকে মেরে ফেললেন”।

মরণ কি আপনাদেরে কোন কালেই স্পর্শ করবে না স্বৈরশাসক এরশাদ, কি মনে হয়! মৃত্যুর দড়ি, কিয়ামতের জবাবদিহিতা, শেষ বিচারের বাস্তবতা তো অন্তত সাক্ষাৎ যমের মতই ঝুলছে, যতই খেলা ঢেলা করেন। কি কারণে পেট্রোল বোমা ছোড়া সরকারকেও এরশাদ জেনেও ঢেকে রাখে, দেলোয়ার গাড়ী চাপায় মরে হাসিনার কপট বাহিনীর দ্বারা, তাও আজ দিবালোকের মত স্পষ্ট। সেদিনের মিছিলের জাফর দেলোয়াররা মঞজুরের মতই অর্ডারী লাশ, এটি জেনেও এরশাদকে রেখে ঢেকে কথা বলতে হয় আসল সত্য প্রকাশ করেন না কারণ তারা মাসতুতো ভাই। এসব কারণেই তাদের দুজনাতে এত একাত্বতা! যিনি খুন করেন তাকে কাছ থেকে মাত্র একটি গুলি ছুড়তে হয়। জিয়া হত্যার মাত্র তিন দিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি নিহত হন উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তার হাতে, পরিকল্পনা মাফিক যিনি ছুটে যান ঢাকা থেকে। মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলৎজের দীর্ঘ অনুসন্ধানে পাওয়া এখানের সংক্ষিপ্ত সংগ্রহ। পরে একসময় পারলে এর উপর বিস্তারিত কিছু কাজের ইচ্ছা রইল মনে। যিনি গুলি করেন তাকে অনেকেই নিজ চোখে দেখেছেন, অনেকেই তাকে নামে দাগে চিনতেন বলেও প্রকাশিত হয়েছে। মঞজুরকে যেখানে রাখা হয় সেখানে ঐ ব্যক্তি ঢোকে কর্ম সিদ্ধির পর সাথে সাথে ঢাকাতে প্রত্যাবর্তন করেন। অতপর মৃত সনাক্ত হয়। মিলিটারী ডাক্তারও একই খবর প্রচার করেন যে একজন ঢাকা থেকে এসে আদেশ পালন করে সাথে সাথে ফিরে যান। এত কিছু জানার পরও আদালত যদি নিরব ভূমিকা পালন করে, তবে সবার জানা উচিত, বিধাতা মরে নাই মরবে না, জানা কথাটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই শুধু। যিনি গুলি করেছেন তার দোষ অনেক হালকা, কারণ তিনি কথার আদেশ পালন করতে বাধ্য, অবাধ্য হলে হয়তো তিনিও পরবর্তী মঞজুর হতেন। কিন্তু তাকে সুযোগ দেয়া উচিত যাতে প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হয়। তিনি যদি দেশের বাইরেও থাকেন, তার যেন সে সুযোগ হয় প্রকৃত সত্য প্রকাশের, এ আশায় বুক বেধে রইলাম। জানা যায় মুক্তিযোদ্ধা হতভাগা মঞজুরের পরিবার আজো দেশের বাইরে, দেশ স্বাধীন করে তারা নিজেরাই আজ পরাধীন। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী কি এসব খবর রাখেন, জানতে ইচ্ছে করে? এ স্বৈরাচাররা কখনোই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় নি, এরাই পাকিস্তান ফেরত ভারতীয় বাহুল্যে ক্ষমতা দখল করে বেছে বেছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে ময়দান থেকে চিরকালের জন্য সরিয়ে দেয়। এ হচ্ছে একটি স্বাধীন দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস!

কোন এক অজানা কারণে উচ্চ আদালত বেশ কয়েক বছর আগে মেজর জেনারেল আব্দুল লতিফ ও লেফটেনেন্ট কর্ণেল শামসুর রহমানের বিচারিক প্রক্রিয়ার উপর স্থগিতাদেশ জারি করেন। ঘটনার মূল সাক্ষিদেরে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। উর্ধতন কর্মকর্তাদের মৃত্যুর হুমকি দেয়া হয়। যখন মামলাটি চলছিল তখন এটর্নি জেনারেল আমিনুল ইসলাম যিনি মামলাটিতে গতি এনেছিলেন, হঠাৎ হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান (?)। সেদিন থেকে বিগত ১৯ বছর ধরে নানান প্রশ্নের আড়ালে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদছে। এর ফাঁক গলিয়ে আসামীরা হাফ ছেড়ে যেন বাঁচেন এবং একই ধারাতে আজ অবদি প্রগলভ আচরণ বহাল আছে। সচেতন পাঠকরা দেখতে পারেন, (মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যাকান্ড, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার, ২২-২৫ ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৪)। সবশেষে বলছি বিচারপতিরাও সাবধান! একদিন আপনারাও মরবেন, এসব অপরাধে গোটা বিচার বিভাগই আসামীর খাতাতে নাম লেখাবে, যদি বিন্দু পরিমান অবিচার তারা করে। আল্লাহর প্রকৃত বিচারের আদলে যেন ইহ ও পরকালে এদের সবার ধ্বংস নির্ধারিত হয়, এ কামনায়। আমরা জানি এসব কামনারও দরকার পড়বে না, নিখূঁত বিচারের জমা পাওনা তাদের জন্য শেষ বিচারে অবশ্যই মোটাদাগে চিরন্তনভাবে সংরক্ষিত ও অবধারিত।

নাজমা মোস্তফা,  ৬ই ডিসেম্বর ২০১৫

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: