Articles published in this site are copyright protected.

মাত্র এই ১৩ নভেম্বর শুক্রবার রাতে কনসার্ট হলরুমে প্যারিসে বোমা হামলা হলে ভারাক্রান্ত মনে কয়দিন থেকে কষ্টে ছিলাম এ জন্যে যে এসব কেন হচ্ছে বা কেনই বা করা হচ্ছে এবং কে করছে? দেখা যায় মাত্র এর একদিন আগে বৃহস্পতিবারে আত্মঘাতি বোমা হামলায় লেবাননের বৈরুতে ৪৩ জন নিহত ও ২৩০ জন আহত হয়। একজন প্রশ্ন উঠিয়েছেন, কতজন এ ঘটনা জানতে পেরেছে, বা জানতে পারবে? অথচ যখন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১২৮ জন মতান্তরে ১৪০ জন নিহত হলো, আহত ৩৫০। সবাই জানে গোটা বিশ^ই জানছে, মাতম করছে। একসাথে এতগুলো মৃত্যু মাতম চলারই কথা। তবে প্যালেষ্টাইন, লেবানন, সিরিয়ার মৃত্যুর মহড়ায় কেন যুগ যুগ অবধি গভীর নিশীথের নিস্তব্ধতা লক্ষ্য করা যায়। মিডিয়ায় কোন নাড়া তৈরী হয়না, অনেকটা সুনসান নিরবতা। এটি কি নিরপেক্ষ সভ্য সমাজের ন্যায়যুদ্ধের এক বড় বিকার নয়? ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, লেবানন, আফগানিস্তানে যখন লাগাতার মৃত্যুর মহড়া চলে, তখনও বিশ^ মানবতা কেন মুখ লুকিয়ে বসে থাকে? ঐ নিরবতা নিশ্চয় লজ্জায় নয় বরং উর্বর কপট সভ্যতার দাগচিহ্নের দায়ে ভরা। এভাবে যুগ যুগ থেকে বিশ^কে জঙ্গি তৈরীর কারখানা বানিয়েছে বিশে^র সভ্যসমাজ। বিশ^ মানবতার দরজা কেন এত করেও উন্মত্ত ব্যথিত হয় না? কেন পিন পতন নিস্তব্ধতা এ মৃত্যুপুরিতে এত অচলাবস্তা? কেন কিসের স্বার্থে ক্ষুদ্র এ বিশ^কে এ নারকীয় কারখানার কাঁচামাল হচ্ছে নির্দোষ লাশগুলি? মুমূর্ষ মৃত্যু যাতনায় মানবতা হতাশার মাঝে গোমরে গোমরে মরছে। বলতে দ্বিধা নেই, তারপরও এ বিষফোঁড়া খুব যতেœর সাথে লালন করা হচ্ছে, পরম আদরে অর্থনীতির গোলাঘরে। কোন অবস্থাতে এসব মৃত্যু মানা যাচ্ছে না বলে মুসলিমসহ গোটা বিশ^ সমাজ আজ গগন বিদারী প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে।

Asaduddin Owaisi amp Dr Zakir Naiks Views On Terrorism Latest Speech 2016

উল্লেখ্য, মুখিয়ে উঠেছে প্রতিটি মুসলিম দেশের সদস্যরাও, যাদেরে মনে মনে আসামী ধরে বিকৃত মানবতা সামনে পা ফেলে। পরিকল্পনার স্বপ্ন বহুদূর দীগন্ত জোড়া, দখলি মানচিত্রের স্থিতিই শুধু নয়, বপু আরো বাড়াতে হবে। মুখর প্রতিবাদে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মহাথির মোহাম্মদ স্পষ্ট করেই বলেছেন এসবের নেপথ্য নায়ক আসলে কে? তিনি রাখঢাক রাখেন নাই, সভ্যতার ঘোমটা উন্মোচন করে তা স্পষ্ট করেছেন। এটি এমন এক ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিষফোঁড়া যাকে কৌশলে ১৯৪৮ সালে “ইসরাইল” নামের রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয়েছে এক নবীর নামানুসারে পবিত্র জেরুজালেম ভ’মিতে। জন্মলগ্ন থেকেই সেখানে রক্তক্ষরণ চলছে, জ¦লছে আগুন। ঐ ইন্ধনে সেদিন থেকেই ওখানে সন্ত্রাস দানা বাঁধতে শুরু করে, অতপর প্রচারে প্রতিষ্ঠা পায়। মহাথিরের মন্তব্য যতদিন অবধি ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান হবে না ততদিন এসব বন্ধ হবে না। প্রতিটি হামলার পরই দেখা যায় আইএস বলে একটি সংস্থা এর বাহাদুরি দাবী করতেও পিছপা হয় না, এবারও তাই। ফ্রান্সও এদেরে দায়ী করছে। ওদিকে ফিদেল ক্যাস্ত্রো কিউবার নেতা বলছেন এর পেছনের নায়ক আমেরিকা ও ইসরাইল। ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ ও আমেরিকার রিপাবলিকান যুদ্ধবাজ সিনেটর জন ম্যাককেইন এ গোপন খেলায় জড়িত, যারা ইরাকের বিরাট অংশ ও সিরিয়ার প্রায় এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এ বক্তব্য একজন পশ্চিমা কুটনৈতিক ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন (আইআরআইবি, ১৬ নভেম্বর ২০১৫)। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রিক স্যান্তরাম উল্টো দোষ চাপাচ্ছেন ওবামার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ইরাক পরিত্যাগ করাই অপরাধ হয়েছে। ওদিকে প্রাক্তন পেনসিলভেনিয়ার এ সিনেটর (১৯৯৫-২০০৭) বলেন ২০১২ সালে সিরিয়ার সরকারকে উৎখাত করতে সিআইএ প্রথম প্রশিক্ষণ দেয়া হয় আইএসকে জর্দানে (প্রেসটিভি)। নিঃসন্দেহ এসব হামলা মানবজাতীর উপর বড় ধরনের ট্রাজেডি। সবাই যখন আসামী ধরতে ব্যস্ত তখন মিডিয়া দুই এক কাকতাড়ুয়াকে এনে হাজির করছে, দেখা যাচ্ছে। ঠিক ওরকম সময়ে উইকিলিক্সও এ হামলার জন্য দায়ী করেছে আমেরিকা ও তাদের মিত্রকে। তারা বলছে চরমপন্থীকে অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেয়ার ফলই এ হামলা। সিরিয়া ও ইরাক রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে যারা অস্ত্র অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করছে তাদের বিচারের দাবী উঠেছে। ঠিক এরকম সময়ে ওবামা বলছেন এর জন্য মূলত বুশ দায়ী। বুশই ইরাক ধ্বংসে আইএসএর উত্থান ঘটিয়েছে। ভাইস নিউজকে দেয়া এক বক্তব্যে এমন অভিযোগ করলেন ওবামা, খবর বৃটিশ ইন্ডিপেন্ডেন্টের। অনেকেই ভাবছেন এসব গোটা বিশে^ মুসলিমকে বিপন্ন দশাতে পৌছে দিচ্ছে। এ ছাড়া গোটা বিশে^ দোষ দেয়া হচ্ছে জঙ্গি মানেই মুসলিম । সব গোলার ফসলই কিন্তু ইসলামবিরোধীর গোলাতে উঠছে। নির্দোষ মুসলিমরা শুধু শিলপাটায় গড়াগড়ি খাচ্ছে।

বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন:

গোটা বিশে^ এ হামলার সংবাদে মুখর, এদিকে বেশ চড়াসুরে খবর বেরিয়েছে যে “আএসআইএস মোসাদের হয়ে কাজ করছে”। বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নে ইসরাইলের এ রোগের বিস্তার। একই স্বপ্নের প্রতিপালনে ভারতে চলছে প্রতিবেশীদের কবজা করার স্মরণকালীন মহামেলা। সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে উঠছে “ইন্ডিয়া ইসরাইল যৌথ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম” (২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫, ডিফেন্স নিউজ, নিউ দিল্লী)। খবরের ছড়াছড়ি – ইসরাইল কি সিরিয়াকে ভাংতে তৎপর বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্রের জায়নবাদী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে? অ্যামি গুডম্যানের সাথে এক সাক্ষাৎকারে আমেরিকার জেনারেল ওয়েসলী ক্লারক (অবঃ) ব্যাখ্যাতে বলেন, বুশ শাসন ২০০৭ সালের ২ মার্চ তারিখে এক পরিকল্পনা করেন কয়টি দেশকে বের করে আনতে এরা হচ্ছে ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইরান, ইউটিউবে তা প্রচারিত। একই ধারার যুক্তি আসে ক্যান ও ক্যাফের ধারণাতে। তিনি হচ্ছেন গালফ ওয়ারের যুদ্ধ ফেরত কর্মকর্তা। ম্যাক্সনিউজ ডট কম “ষ্টুপিড ওয়ার” নামে এর উপর অনেক স্পষ্ট ধারণার খবর প্রচার করে। তিনি বলেন মূল সমস্যা আমাদের ব্যাকইয়ার্ডে। নেতানিয়াহুর ঘৃণার কারণে ইরানকে কসাই খানায় ছুড়ে দেয়া হয়েছে, যেন জবাইএর ভেড়া। তিনি অকপটে প্রকাশ করেন ৯/১১ খেলার গোড়ার কথা। তিনি মুসলিম নন যদিও, এসব যে কোন মুসলিম দ্বারা সংগঠিত হয় নি, এটি তিনিও স্পষ্ট করেন। একই ধারাতে ওটিও ছিল মোসাদের হাতে তৈরী একটি অপারেশন। আজ কমবেশী গোটা বিশে^র সচেতনরাই জানে ঐ ঘটনার গোড়ার কথা। তারপরও দেখা যায় দুনিয়াটা বাস্তবিকই শাসন করছে প্রতারক ধড়িবাজ। তার কথাতে গোটা বিশে^র অর্থ বানিজ্যের প্রতারণার যুক্তিগুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠে। নরম্যান ফিনকেল্সটেইন একজন নিবেদিত মহিলা যিনি তার ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন মধ্যপ্রাচ্য ও  প্যালেস্টাইন ইসরাইল কনফ্লিক্টএর উপর। তারা একযোগে বলছেন এই আইএসআইএস হচ্ছে একটি ইসরাইলি প্রজেক্ট। উল্লেখ্য, প্যারিসের মুসলিম প্রধান এলাকাতে সম্প্রতি এ হামলাটি সংগঠিত হয়। যার প্রেক্ষিতে সেখানের মুসলিমরাও এর উপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

Greater-Israel-courtesy-of-Isis“ষ্টুপিড ওয়ার” এ এখানের চার অক্ষরের নামটিরও ব্যাখ্যা আসছে। চারটি ইংরেজী অক্ষরের আইএসআইএস = “ইসরাইল সিক্রেট ইনটেলিজেন্স সার্ভিস” এটি এক ভয়ানক কাকতাড়–য়া, এদের বিশ্লেষনে আসে এটি মুসলিমদের কাজ নয়। রিটা কার্টজ নামের এক জায়নবাদীর মেয়ে ঐ সাম্প্রতিক সময়েও বাংলাদেশের হত্যাগুলোতেও এ নাম শুনেছি বারে বারে, তিনি একজন জায়নবাদী স্পাই ও স্পাইএর মেয়ে। ৯/১১ ছিল আমেরিকার এবার ১১/১৩ হচ্ছে ইউরোপিয়ানদের ৯/১১। সারা ইন্টারনেট জুড়ে বুদ্ধিজীবি, লেখক, গবেষক, বিশেষজ্ঞদের থরে বিথরে নিউইয়র্কের মূল নাইন ইলেভেনের পোস্ট মোর্টেম এর প্রমাণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আজ আর তা ঢাকা নেই, ওপেন সিক্রেট, খোলা পাতার খেলা, সবার জানা। “বুশেজ ওয়ার” নামের ম্যুভি, ফারেনহাইট ৯/১১ দেখেন নি এমন সচেতন খুজে পাওয়া যাবে খুব কম, যেখানে খুব খোলামেলাভাবে আসামীকে দেখা যায়। এসব শুরুর কথা, এখন হাজার হাজার সাইট আছে এর উপর। আন্তর্জাতিক ডেস্ক থেকে বলা হচ্ছে ফ্রান্সের তদন্তকারীরা খুঁজে পাচ্ছে তিনটি দল জড়িত। একজন অপরাধির পরিচয় পেয়েছে, যার নামে আগে থেকেই অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, আরেকজনকে পাওয়া গেছে সিরিয়ান পাসপোটে। এদিকে এর খেসারত হিসাবে মুসলিমরা সবদিকেই শংকার মাঝে প্রহর কাটাচ্ছে। মিডিয়া সব সময়ই এ প্রচারে সোচ্চার থেকেছে, পেছনের পাতা উল্টে দেখলেই তা স্পষ্ট হবে। ৯/১১এ তারা কি করেছিল? সেদিনও মাঠে তারা খুঁজে পায় অপরাধীর পাসপোর্ট নিউইয়র্কের ব্যস্ততম রাস্তাতে। একই খেলা এবারও হয়েছে আসামীর পাসপোর্ট পাওয়া যায়, বোকাদের বোঝাতে আরো কত নাটক উহ্য থেকে যায়। একই বন্দনা সঙ্গিতে নষ্ট মিডিয়া মুখর থেকেছে। আজও তার ব্যতিক্রম হবে কেন? মিডিয়ার দৃষ্টিতে সব সময়ই জঙ্গি মানেই মুসলিম যদিও ধ্বংসযজ্ঞে পাওয়া যায় বেশিরভাগ ইসলাম বিরোধীরাই জড়িত। ইসলাম অর্থই শান্তি সেখানে সন্ত্রাসীর কোন জায়গা নেই। নবীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামেও সন্ত্রাসীর কোন জায়গা নেই, কোনকালে ছিলও না। যদি কেউ থাকে তাকে ধরো, বিচার করো। নষ্ট বিচারের সাজানো জমাটিও নষ্ট বিচারকের জমা খাতায় থাকবেই। এর শোধবোধ হবে হয়তো দেরীতে আল্লাহর বিচারপর্বে, তবে বিচার যে হবে এ নিশ্চয়তা প্রকৃত মুসলিমরা ১০০% দিবে।

ইসলাম ধর্মে জোরজবরদস্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। এমন সত্য নির্ভর আদর্শের পেছনে বাকী গোটা বিশ^কে অতি তৎপর দেখা যায়। অন্য কোন ধর্মের পেছনে এত তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না। কারণ ইসলাম কখনোই পরের ঘরে ধর্না দিচ্ছে না, যেভাবে বাকীরা ঐ ধর্ণা কাজে তৎপর থাকছে, যার প্রমাণ করতেই এসব হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। এটি এমন একটি সময় ঘটেছে যখন গোটা ইউরোপ জুড়ে শরণার্থীদের বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। যদি তাই হয়, এ মোসাদের খেলা, তবে তারা শত পার্সেন্ট সার্থক এ ক্ষেত্রে! ৯/১১এর খেসারত হিসাবে কম ধকল যায়নি বিদেশে অবস্থানরত মুসলিমদের উপর দিয়ে, সেটি আবারো দ্বিতীয় দফাতে সংকটের উৎসমূল হয়ে দেখা দিবে। সারা বিশ^ থেকে প্রতিটি মুসলিম নেতা নেতৃরা তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চলেছেন। গোটা বিশে^ এমন কোন জাতিরাষ্ট্র জানা নেই যারা নাস্তিক বা অধার্মিক। তাহলে যারাই এসব কাজ করছে তারা সন্ত্রাসী সন্দেহ নেই। যেখানে গোটা বিশ^ই আস্তিক, ধর্মের নামে এসব সংঘটনের জবাব কি হতে পারে? হাতের কাছে প্রমাণ পাওয়া যায় ধর্মের নামে ভারতে সংখ্যালঘু ও মুসলিম নিধন হয়, তারপরও তারা জঙ্গি নয় কেন? নবী ঈসাকে ক্রুশে বিদ্ধ করেও ইহুদীরা জঙ্গি নয় কেন? নবী মুসাকে নাস্তিক ফেরাউনের মোকাবেলা করতে হয়েছে, তার অবর্তমানে তার জনতারা সোনার তৈরী গরুর পূজা করেছে। কিছুদিন আগে একটি গবেষনার বহুপূর্ব যুক্তি মিশরে পিরামিডের সূত্র নবী ইউসুফের সময়ের জমা, ওটি সে আমলে শস্য সংরক্ষণের জন্য রচিত, সত্য মিথ্যা এখনো স্পষ্ট নয়। ঐ নবীর পরবর্তী ধারাবাহিকতায় আসা নবী মুসার সময়ে ফেরাউনের লাশ সেখানে সংরক্ষিত পাওয়া যায়, যা স্পষ্ট করে কুরআন, খুঁজে পায় বর্তমান বিজ্ঞান। এটিও ঐশী কুরআনের এক অনন্য দলিল মাত্র, “আমরা উদ্ধার করবো তোমার দেহ, যেন তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। কিন্তু মানুষের মধ্যের অনেকেই আমাদের নিদর্শন সম্বন্ধে অবশ্যই বেখেয়াল” (১০:৯২)। মাত্র চৌদ্দশত বছর আগে কুরআন এ সত্য প্রকাশ করে, এর আগে কেউ এ কথা বলেনি, এ সত্য প্রকাশ করেনি। সেদিনের ইব্রাহিম (আঃ), মুসা (আঃ), ঈসা (আঃ) সবাই প্রতিটি কৃতকর্মের ভীতি মনে পুষে রাখতেন। প্রতিটি অবিচারের জবাবদিহিতা তাদের মাঝে সব সময় ছিল। তার পরবর্তী অনুসারীদের মাঝে এ দায়বদ্ধতার এত ঘাটতি কেন, এটি মোটেও বোধগম্য নয়। এরা পরবর্তীরা কি আদৌ আল্লাহতে বিশ^াস হারিয়েছে? কুরআন বলে “যাদের তওরাতের ভার দেওয়া হয়েছিল, তারপর তারা তা অনুসরণ করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে গাধার মতো যে গ্রন্থরাজির বোঝা বইছে। কত নিকৃষ্ট সে জাতির দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে। আর আল্লাহ অন্যায়াচারী জাতিকে সৎপথে চালান না” (৬২:৫)। নবী ইউসুফ (আঃ)এর পর থেকে ইহুদীরা নামেদাগে ময়দানে পরিচিত হলেও, সেদিন থেকে এটিও জানা যায় চক্রান্তকারী হিসাবে ঐ নবীর দশভাইকে সাক্ষাৎ জড়িত থাকতে দেখা যায়। তারা কিভাবে তাদের বৈমাত্রেয় শিশু ভাইটিকে কুয়োতে ফেলে দিতেও মনের মাঝে কোন কুন্ঠা বোধ করেনি। এর প্রতিফলন ও এর অধপতন যেন আজো গোটা বিশ^কর্মকান্ডের মাঝে ফুটে উঠছে, ঐ প্রাক্তন অসততা থেকে তারা আজো মুক্ত নয়।

ধর্ম ও ইতিহাস বলে প্রাথমিক ইসলামের শুরুর কাল থেকেই সপ্তম শতাব্দীতেই ইহুদী ষড়যন্ত্রে বারে বারে আক্রান্ত হতে দেখা যায় সেদিনের শান্তির ধর্ম ইসলাম নামের শিশু ধর্মটিকে। অতঃপর ক্রুুসেডের ইতিহাস আবারো স্পষ্ট করে কিভাবে মুসলিম ও ইহুদী উভয়কেই খৃষ্টান জনগোষ্ঠী অমানবিক আচরণে নির্যাতন করে ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এসব কার্যকারণ ইসলাম পূর্ববর্তী ধর্মধারীদের অনেক অমানবিকতার স্বাক্ষর বহন করে আছে। একবিংশ শতাব্দীতেও সে প্রাচীন রোগমুক্তির আজও কোন সম্ভাবনা নেই। জগত সংসারে প্রকৃত পক্ষে ইহুদী খৃষ্টানেরাই প্রথম ধর্মের সত্যে প্রবেশ করে। কালে তাদের অপকর্মের খেসারত হিসাবেই ভিন্ন এক গোষ্ঠী বেদুইনের হাতে এ সত্য স্থানান্তরিত হয়, বিধাতার নির্দেশে। কুরআন এ জটিল বিষয়ও স্পষ্ট করে এবং পরবতী অনুসারীদের প্রতি সাবধানবাণী বিতরণ করে। ঐ গাধার বোঝা বয়ে না বেড়াতে সাবধান বাণী উচ্চারণ করা হয়েছে কিন্তু দেখা যায় কার্যত পরবর্তীরাও তাদের অনুকরণে অনেক ক্ষেত্রেই গাধার বোঝা বয়ে বেড়চ্ছে। ও থেকে মুসলিম ধর্মধারীদের আরো বেশী সাবধান হতে হবে যাতে ঐ একই অপরাধে আসামী হিসাবে তারা আক্রান্ত হওয়ার দায় থেকে মুক্ত হতে পারে। সেদিন প্যারিস সন্ত্রাস ইসলাম ধর্মের সাথে কোনভাবেই মিলে না। এ ধর্ম সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়, সন্ত্রাসের নয়। এ ধর্ম শান্তির শিক্ষা দেয়, হত্যার নয়। এ ধর্ম আত্মসমর্পণের শিক্ষা নেয়, আত্মবিক্রিত হতে উৎসাহ দেয় না। এ ধর্ম ভাতৃত্বের শিক্ষা দেয়, বিভেদের নয়। এ ধর্মের রাস্তা সহজ সরল, বক্রতা সেখানে সমর্থনীয় নয়। যদিও অনেক রাজনেতারাও খোলা মনে অপরাধ করছে আর ধর্মের ছায়াতলে আশ্রয় চাইছে। এরা ধার্মিক নয়, মুমিনও নয়, এরা মোনাফিক এরা ছলবাজ।

আজ ২২ নভেম্বর এক অভিভাবকের সাথে কথা হয়, তার ছেলেটি পাবলিক স্কুলের ছাত্র। তার টিচার ক্লাসে বলেছেন মুসলিমরা টেররিষ্ট বলে তারা বোমা মেরে মানুষ মারছে কারণ তাদের গ্রন্থ কুরআন এটি করতে নির্দেশ দিয়েছে। ছেলেটি মন খুব খারাপ করে এর জবাব চাইছে তার মায়ের কাছে। মাও বেদনার ভারে এর বিহিত কি হতে পারে জানতে চাইছেন। ছেলেটি কুরআন শিখে ও পড়ে এবং এসব বিশ^াস করেনি যদিও, তবু মায়ের কাছে জবাব চাইছে। সোমত্ত ছেলেরাও ক্ষ্যাপে গিয়ে নানান উল্টাসিধা কথা বলছে কেন মুসলিমরা এসব করছে, কি লাভ এসব করে, আমেরিকার মসজিদে সাইনবোর্ড ঝুলছে “গো বেক ইয়োর হোম ল্যান্ড” ইমিগ্রান্ট মুসলিমদের লক্ষ্য করে নির্দোষ ইউসুফ নবীর পরবর্তী প্রজন্মরা এ প্রতিবাদনামা টাঙ্গিয়ে রেখেছে। সবাই মনে করছে এটি উপযুক্ত কাজই করছে তারা। অবশ্যই মুসলিমকে সত্যনিষ্ট হয়ে প্রকৃত আসামী ধরায় আরো সোচ্চার হতে হবে। যদি কোন মুসলিম এটি করে থাকে গোটা বিশে^র মুসলিমই নিন্দা জানাচ্ছে শুধু হৃদয় মন উজাড় করেই নয়, নির্দোষতার প্রমাণও দেখাচ্ছে।

একই ধারার রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নে ভারতও একাকার:

বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে। জনগণসহ বিবেকবানরা টের পান বহুদিন থেকে এর পেছনে ভারতের শক্ত কলকাঠি নড়েচড়ে। বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী হলেও একটি সার্বভৌম স্বাধীন দেশ। ভারতের প্রণব মুখার্জি সম্প্রতি প্রচার করছেন বাংলাদেশ “সমৃদ্ধ গণতন্ত্রের দেশ” যখন গোটা বাংলাদেশ মুমূর্ষ দশা কাটাচ্ছে এক অবৈধ নির্বাচন গিলে খাওয়া প্রতারকক্রের হাতে। সুষ্ঠ নির্বাচন গনতন্ত্রের পূর্বশর্ত। এরকম মেরুদন্ডহীন প্রতিবেশীই ভারতের চাই, যাকে দাসের আদলে উঠবস করানো যাবে, চেটেপুটে খাওয়া যাবে, দাপট বহাল রাখা যাবে, বর্ডারে মানুষ মেরে তক্তা করা যাবে। এ লেখার সময়ই লালমনিরহাটে ২৮ তারিখের খবরের শিরোনাম “দুইদিনে তিনজন নিহত”, বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে, সমানেই এ ধারার মৃত্যু হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। তারপরও অবৈধ ক্ষমতা ধরে থাকা গণতন্ত্রহীন সরকার কোন প্রতিবাদ করার সাহস রাখে না, যার জন্যই প্রণব বাবুরা এত উৎফুল্ল। নেপাল ভারতের আর এক প্রতিবেশী হিন্দু জাতি সত্ত¦ায় পরিচিত, যদিও তারা ভারতের অধিনস্ত নয়, কিন্তু ভারত সেখানেও ওরকম দখল চাইছে। সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী তার এক সাক্ষাৎকারে ভারতের এ কপট আচরণের উপর মন্তব্য করেছেন। ২০০ বছর বৃটিশের গোলামী করে মুক্ত হলেও বৃটিশের ঐ মনোবৃত্তিতে ক্রমেই ভারতের প্রশাসন ঐ খোড়া রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। নেপাল কিন্তু কখনোই কারো গোলামী করে নাই, কারো উপনিবেশ ছিল না। কার্যকারণে দেখা যায় ভারত নেপালকেও ঐ রকম দাসখতে বাধতে চাইছে। কিছু বদ মতলবি নেতাকে হাত করে এসব ঘরভাঙ্গা খেলায় ভারত বাড়তি তৎপর থাকে, এর বহুবিধ প্রমাণ সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। প্রতিবেশী বাংলাদেশের বেলায়ও এ দোষে তাদেরে খুব শক্তভাবে দায়ী করা যায়। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত চায় নেপালের নামমাত্র স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব থাকবে, বাকীটা থাকবে তাদের নিজেদের দখলে। একই মানসিকতাতে প্রনব মুখার্জি মুমূর্ষ বাংলাদেশে দেখছেন সমৃদ্ধ গণতন্ত্রের বিজয় মেলা। কারণ এর সুযোগ গড়িয়ে তারা দেশটি চেটেপুটে লুটে নিতে পারছেন। একই রোগে আক্রান্ত বিংশ শতকে জন্ম নেয়া ইসরাইলের অন্তরাত্মা ‘মোসাদ’। এর ধারাবাহিকতায় “মোদির নিরাপত্তায় মোসাদ” এ উল্লেখযোগ্য খবরও জমা হিসাবের খাতাকে স্পষ্ট করছে।

ভারত কাশ্মিরীদের জন্য যমদূত হয়ে আছে। বর্ডারে বাংলাদেশীরা সমানেই পাখির মত মরছে সরকারের উদাসীনতার খেসারত হিসাবে। প্রতিবেশীদের সাথে এটি ভারতের আচরণগত জটিলতার বাস্তব প্রকাশ। ঠিক যেন ইসরাইল প্যালেষ্টাইনের জন্য গড়ে উঠা বড় যমদূত। ভারত আর ইসরাইলের কর্মকান্ডের মাঝে মিল অনেক। ঊভয়েই শাস্তির আবাসে বলা চলে স্বর্গভ’মি নামে খ্যাত ভ’মি দখলের প্রতিযোগিতায় জীবন পাত করে চলেছে। ভারত এটি ঠিক করতেই হিমসিম খাচ্ছে কাশ্মির তার বিচ্ছেদ্য অঙ্গ না অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ তা নিয়ে মানুষের জীবনের গোটা কয় যুগ চলে গেল।  তারপরও জনতারা স্বাধীনতার সাধ নিতে উন্মুখ হয়ে আছে। বাংলাদেশেও জঙ্গিদের মারা হচ্ছে লিস্ট ধরে, যাদেরে মারলে প্রকৃত মুসলিমরা ধরা খায়, তাদেরেই মারা হচ্ছে ঠিক প্যারিসের হামলার মতই। আর বর্তমান সরকার ঐ গীত শুনতেই চায়, তার টিকে থাকার জন্য অনেকে মনে করছেন এটি নির্বাচনহারা সরকারের বড় বেশী দরকার, এটি তার সময়ের দাবী।

যারা ধৃত হচ্ছে তাদের চেহারাতে কোন মারাত্মকের ছাপ নেই যদিও, কিন্তু প্রচারে বলা হচ্ছে মারাত্মক। একই আদলে বাংলাদেশেও টিভিতে নিরীহদেরে সাজিয়ে জঙ্গি হিসাবে দেখানো হচ্ছে, অভিযোগ করছেন  সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন মূল অপরাধীদেরকে বাদ দিয়ে সাধারণ ও নিরিহ মানুষদেরকে গ্রেপ্তার করায় আসল অপরাধীরা মুখ চেপে হাসছে। বাংলাদেশে এভাবে ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। গণগ্রেপ্তারের আতংকে মানুষ বিপর্যস্ত সময় পার করছে। যেন আইএসএর জঙ্গি আর বাংলাদেশের জঙ্গিদের রকমফের একই।  ধারণা হয়, উভয়েই শক্তির তলানীতে লালিত পালিত হয়ে ময়দান গরম করে রেখেছে। ইসলামে চরম পন্থা বলে কোন পন্থাই নেই। ইসলাম এক মধ্যপথে চলার নাম। এখানের রাস্তা সহজ সরল। ন্যায়ের কথা নীতির কথা ধৈর্যের কথা এখানে প্রাধান্য পায়। “ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহর জন্য দৃঢ় প্রতিষ্ঠাতা হও, ন্যায় বিচারে সাক্ষ্যদাতা হও, আর কোন লোকদলের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেন ন্যায়াচরণ না করতে তোমাদের প্ররোচিত না করে (৫:২)। ন্যায়াচরণ করো, এটিই হচ্ছে ধর্মভীরুতার নিকটতর। আর আল্লাহকে ভয় শ্রদ্ধা করো। নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছো আল্লাহ তা অবগত”(৫:৮)। দেখা যায় এ আয়াতে মানুষ হত্যাতে ইসলামপূর্ব ইসরাইলীয়রা অতিরিক্ত হাত দাগিয়েছিল বলেই আল্লাহর আয়াতে রাখঢাক না রেখেই স্পষ্ট করা, “এই কারণবশত আমরা বিধিবদ্ধ করেছিলাম ইসরাইল বংশীয়দের জন্য – যে, যে কেউ হত্যা করে একজন মানুষকে আরেকজনকে (হত্যার অপরাধ) ব্যতীত, অথবা দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে, তাহলে সে যেন সমস্ত মানবজাতিকে হত্যা করল। আবার যে কেউ তাকে বাঁচিয়ে রাখে সে যেন তাহলে সমস্ত মানবজাতিকে বাঁচালো। আর নিশ্চয়ই তাদের কাছে আামাদের রসুলগণ এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্তু তাদের মধ্যের অনেকেই এর পরেও পৃথিবীতে সীমা ছাড়িয়ে চলে।” (৫:৩২)। এটি কোন মানুষের কথা নয়, এটি ঐশীবাণী যা বহুযুগ পূর্ব প্রতিটি সত্য তথ্য স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। এরা যে আগেও এসব অপকর্মে দক্ষতা অর্জন করেছিল বলেই তাদের (ইসরাইলীদের) নাম উল্লেখ করে এ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। এটিও বলা হচ্ছে তাদের কাছে রসুল আসার পরও তারা সীমা লংঘন করে চলেছে।

ইসলামে যুদ্ধের মাঝেও জীবনের মাঝে সর্বক্ষেত্রে ন্যায়নীতির উপর সব সময় জোর দেয়া হয়েছে যা বর্তমানে আর কোন ধর্মধারীর জমা খাতাতে এরকম স্পষ্ট দেখা যায় না। উপরের ৫:২ ও ৫:৮ আয়াতে দেখা যায় ন্যায়পরায়নতার নামই ধর্ম। যার কোন স্বাক্ষর ক্রুসেডাররা বা ইহুদীরা হিন্দুরা এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে বৌদ্ধরাও দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। মুসলিমের উপর নির্দেশ হচ্ছে “সীমালংঘনকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না” (২:১৯০) বলা হয়েছে যারা অন্যায়ভাবে যুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে । নির্দোষের সাথে যুদ্ধ করার কোন বিধান ইসলামের ধারে কাছেও জমা নেই। (সুরা বাক্কারাহএর ১৯০ আয়াত দ্রষ্টব্য)। কোন অবস্থাতেই অত্যাচারী ব্যতীত কারো সাথে যুদ্ধ চলবে না (২:১৯৩)। তারা যদি আক্রমণ করে একই কায়দায় তোমরাও জবাব দেবে (২:১৯৪)। আল্লাহ মঙ্গলকারীদের ভালবাসেন (২:১৯৫)।

আমেরিকাতে রিপাবলিকার পদপার্থী দাবী করছেন মসজিদ বন্ধ করে দিতে। দেখা যাচ্ছে মুসলিমরা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায় গত বছর সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ইরাক। গ্লোবাল টেররিজম ইন্ডেক্সএর তথ্যে দেখা যায় শুধু ইরাকে ৯,৯২৯ জন মানুষ নিহত হয়। এ সংখ্যা যে কোন দেশের চেয়ে বেশি বলে জানায় ইন্সটিটিউট ফর ইকোনোমিক্স এন্ড পিস (আইইপি)। এ রিপোর্টে দেখা যায় বিশে^র পাঁচটি দেশে এসব বেশি ঘটেছে, এর ৭৮% ঘটেছে ইরাক, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও সিরিয়াতে। ৩২,৬৫৮ জন নিহত হয়েছে, অন্য বছর থেকে ৮০% বেশি। নাইজেরিয়ায় এটি খুব বেশি। গত দেড় বছরে এটি ৩০০% বেড়েছে, নিহত হয়েছে ৭,৫১২ জন। গত বছর যে দশটি দেশ এর শিকার হয় এর প্রত্যেকটি দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ। শুধু নাইজেরিয়াতে মুসলিম খৃষ্টান বিভক্তি আছে। ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর উপর একটি কলাম ছেপেছে বৃহষ্পতিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৫। শিরোনামগুলি আনছি শুধু “আইএসএর শীর্ষ নেতা মোসাদের অনুচর”/ “মুসলিম দেশগুলিই বেশী ক্ষতিগ্রস্ত”/ “আইএসকে অর্থ ও অস্ত্র দিচ্ছে কারা?”/ “কেয়ামতের মিশনে আইএস” ছবিতে বুশ ব্লেয়ার ও ওবামার ছবি কথা বলছে/ “আইএসকে কাঁপাচ্ছে রাশিয়া ও ফ্রান্স”/ “দেশে দেশে প্রত্যাখ্যাত আইএস”। ছয়টি শিরোনামে একটি পাতা জুড়ে বিশাল নিউজ করেছে পত্রিকাটি। খবরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলি হচ্ছে, মূল আসামী খলিফা বাগদাদি আসলে ইহুদী/ ২০০৪ সাল থেকে সিআইএর সঙ্গে তার ঘনিষ্টতা শুরু/ তাকে টানা ১ বছর প্রশিক্ষণ দিয়েছে মোসাদ/ বুশ ব্লেয়ারের ইরাক হামলার সময় ছদ্মবেশে তিনি সেখানের মসজিদের খতিব ছিলেন। তাদের সাম্প্রতিক হুমকি ওয়াশিংটনে হামলা চালাবে / বলা হচ্ছে সিরিয়া ও ইরাকে যারা হামলা চালাচ্ছে তাদের পরিণতি হবে ফ্রান্সের মত/ প্যারিস হামলার জন্য আমেরিকা  ও তার মিত্রদের দায়ী করেছে উইকিলিক্স। ভ’খন্ড বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে মোসাদের। এসব তথ্য প্রকাশ করে মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় ইন্টারনেট রেডিও আজিয়াল ডটকম। পরে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাও এর সত্যতা স্বীকার করে, এসব প্রকাশিত হয় আরবী পত্রিকা ইজিপ্রেসে। এত কিছুর পরও বলতে হচ্ছে কেন এরা এরকম করছে। কারণ রাজ্য বিস্তারের মত একটি বড় রোগের শিকার এরা। এরা বহু পুরোনো মধ্যযুগ পূর্বেকার “জোর যার মুলুক তার” রোগে আক্রান্ত। এভাবে ক্রমে শিয়া সুন্নী বিরোধও তারা তাদের নিজেদের স্বার্থে উসকে দিচ্ছে। লোভী ভারত ও ইসরাইলের হয়েছে মানচিত্র বৃদ্ধির রোগ, যার পেক্ষিতে তারা তৃতীয় বিশ^যুদ্ধকে দুহাতে ডাকছে, হাতছানি দিচ্ছে যেন পিপিলিকার পাখা উঠছে মরিবার তরে।

সম্প্রতি সুইডেনের অর্থনীতিবিদদের পরিচালিত এক জরিপে বৃটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের বক্তব্যে প্রকাশ বিশে^র অসহিষ্ণু দেশের তালিকায় প্রথমে আছে ভারত এরপর জর্ডান ও তিনে আছে বাংলাদেশ। সহিষ্ণুতার নিদর্শন হিসাবে সদ্য পাওয়া খবর ভারতের মুসলমানদের বাংলাদেশ পাকিস্তানসহ বিশে^র যে কোন জায়গায় চলে যেতে মন্তব্য করেছেন আসাম রাজ্যের গভর্নর পিবি আচার্য। জঙ্গি প্রচারে অসহিষ্ণু বাংলাদেশ সরকার তার মন্ত্রীরা বহুদিন থেকেই জড়িত এ প্রমাণ কাজে কলমে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে, ৯০% অধ্যুষিত মুসলিম একটি দেশ, চলছে জঙ্গির খেলা। গোটা বিশে^ নির্দোষ মানুষ মরছে আর জঙ্গিনামা থর থর করে কেঁপে চলেছে। অনেককেই হুমকি দেয়া হচ্ছে, শোনা যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড পত্রিকা মানবজমিনের প্রধান সম্পাদককে জেএমবির চিঠি: ‘অতিরঞ্জিত লিখলে পরিণতি ভয়াবহ” (আমাদের সময় ডট কম, ১৮/১১/২০১৫)। বাংলাদেশের বগুড়ায় শিয়া মসজিদের মোয়াজ্জিন নিহত হন ও ইমামসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন আজ ২৭ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে, হামলার দায় স্বীকার করে আইএস (আমারদেশ ২৭ নভেম্বর ২০১৫)। বাংলাদেশের জনতারা যেভাবে সাম্প্রদায়িক হামলা করে না, সে একই ভাবে শিয়া সুন্নীর লড়াই সেখানে কোনদিন গায়ে গতরে বাড়ে নাই। ঐ পরিবেশ সেখানে নেই, জন্মে নাই। নতুন করে বাংলাদেশেও এ কাজ করার একদল ফটকাবাজ তৈরী হচ্ছে, কিছু আগেও এটি হয়ে গেল, পায়ে পায়ে আগাচ্ছে, মনে হয় ঐ একই শক্তির ছায়াতলে এদের লালন করা হচ্ছে, সেখানেও বিভেদের নতুন বিজ পুতা হচ্ছে। এসবের পরিণতি কারো জন্য ভালো জমা নয়, এসব ধ্বংসের জমা। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যুই এর পরিণতি।

World trade centre truth-Ram puniyani

নাজমা মোস্তফা,   ২৮ নভেম্বর ২০১৫।

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: