Articles published in this site are copyright protected.

সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া সৌদি গ্যাজেটে ২৯ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে একটি বিষয় উঠে আসে যা মুসলিম জীবনের সাথে জড়িত। রিয়াদ থেকে প্রচারিত সৌদি গ্যাজেটের লেখাটির শিরোনাম ছিল “আনএ্যাবল টু এফর্ড ম্যারেজ এক্সপেন্সেস, ইয়ং ম্যান গো ফর মিসইয়ার” লেখাটির শিরোনামই ঘটনার বিষয় স্পষ্ট করছে। “মিসইয়ার” এক ধারার বিবাহ ব্যবস্থা যা অনেক সময় অতীতে সৌদিরা তাদের ইসলামপূর্ব সময়ে ব্যবহার করেছে। শোনা যায় আজো কোন কোন জায়গায় সৌদি ও ইরানীরা তা ফলো করছে। এবার কথা হচ্ছে বাস্তব জটিল অর্থনীতি, সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থানে এটি কতটুকু সমর্থণীয়, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মক্কা দৈনিকের বরাতে দেখা যাচ্ছে অনেক পুরুষ এতে উৎসাহী হচ্ছেন। পারিবারিক পরামর্শদাতা নাসার আল তুবাইতি এর কারণ হিসাবে ব্যাখ্যা করছেন, যুবকেরা চলমান বিবাহ ব্যয় বহনে অক্ষম এবং মেয়েদের অতিরিক্ত দাবী দাওয়ার প্রেক্ষিতে এ গ্যাপ পূরণ করতে ঐ বিকল্প চিন্তার দরকার পড়েছে। অতীতে আমরা খুব কম হলেও নামটি শুনেছি “মুতাহ” বিয়ে নামে এক অস্থায়ী বিয়ের কথা। এখানের এ দুটি বিয়ে ব্যবস্থা একই ধারার। এতে দায় দায়িত্বের বালাই নেই, এক ধরণের কন্ট্রেক্ট ম্যারেজের মত, এটি একটি শর্তবদ্ধ সাময়িক খন্ডকালীন বিয়ে।

মুসলিমদের নৈতিকতার দরজায় টোকা পড়েছে বলেই এতে অনেক সচেতন ধর্মধারীর নজর কাড়ছে, আমিও তার ব্যতিক্রম নই। রাজতন্ত্রের আদলে গদি জোড়া সৌদির অনেক কাজই বিতর্কীত, এসব ইসলাম নয়। তারা প্রথমেই যে রাজতন্ত্রের ধারণা বহাল রেখেছে এসব ইসলামের বৈরী কাজ। আর সেটি চলছে বহু বড় সময় কাল থেকে। এটি একটি বড় ইশারা হতে পারে আদমকে শয়তান বিভ্রান্ত করবে বলে কুরআন নামের ঐশীগ্রন্থে যে ইশারা রয়েছে এর ফলশ্রুতিতে আমরা এভাবে শুরুর সময় থেকেই আক্রান্ত হচ্ছি। ইসলামে এ ধারার বিয়ের কোন বর্ণনা বাস্তবতা পেতে পারে না। কারণ এরকম ধারনাই কুরআন বিরোধী। মেয়েরা শুধুই কি বাচ্চা পালনের জন্য বা গৃহকর্মের জন্য, তা কিন্তু নয়,  বরং চলমান জীবনে একজন সঙ্গি বা সঙ্গিনী সব ব্যাপারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে। নবী জীবনের ২৫ থেকে ৫৫ অবধি জীবনের একমাত্র সঙ্গিনী ছিলেন বিবি খাদিজা, তিনি কি করেছিলেন? তাকে কি গৃহকোণে বন্দী করে রাখা হয়েছিল?  তিনি তো একজন স্বনামে খ্যাত ব্যবসায়ী মহিলা ছিলেন যিনি “তাহিরা” উপাধিপ্রাপ্তা। সৌদিতে মহিলাকে ড্রাইভ পর্যন্ত করতে দেয়া হতো না বলেই আমরা জানি। যে আল্লাহর প্রথম নির্দেশ ছিল জ্ঞানঅর্জনের। ধারণা মতে তাদের আজ জ্ঞানবিজ্ঞাানের চূঁড়ামনিতে পৌছার কথা কিন্তু তারা আজও জ্ঞান অর্জনের বিরোধী মনোভাবে উজ্জ্বল। অনেক সময় মদ নারীতে অতিরিক্ত আসক্ত। বিবাহ সম্বন্ধে ইসলামের মূল নির্দেশ হচ্ছে এক বিয়ের পক্ষে, ভাষ্যমতে এর উপর শক্ত নির্দেশই টিকে। যা আমাদের বাংলাদেশীরা অনেক বেশী বহাল রাখতে পেরেছে শক্ত হাতে। কিন্তু চলমান সৌদি বাদশাহরা কি করছে? ডজন ডজন বিয়ে করে শত সন্তানের পিতৃত্বের দাবী করে। এ সব কি ইসলাম? এসব হচ্ছে জাহিলিয়াতি আচার। এসব নির্মূল করতেই নবী এ ধরাতে এসেছিলেন। উচিত ছিল এর উপর পরবর্তীদের বাস্তব কাজ করা। ধর্ম ও ইতিহাস বলে অতীতে যারা সোচ্চার হয়েছেন তাদেরে কৌশলে তথাকথিত রাজনেতারা খুন করে ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়। আল্লাহর সামাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে দেয়নি। এসব ইবলিস করবেই, এটি আমাদের জানা, ইবলিস আমাদের ঘরে সদর দরজা দিয়েই আমাদের সাথেই ঢোকে, বের হয়, যার জন্য আমরা ধরতে পারি না। আল্লাহ বারে বারে কুরআনে বলেছেন এ হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। তার মানে তুমি চাইলে তাকে ধরতে পারবে, সে কোন লুক্কায়িত শত্রু নয়, সে আড়ালে নেই।

অতীত ইতিহাস বলে মুতাহ বিবাহের নামে এক জাহিলিয়াতি অনাচার ইসলামপূর্ব যুগে প্রচলিত ছিল। কালে অনেকে ঐ অনাচারকে টেনে এনে ইসলামের পবিত্র অঙ্গণে ঢুকিয়ে দেয়ার প্রয়াস করেছেন, করছেন। বস্তুত তা কুরআন বিরুদ্ধ অনাচার। সুরা নিসার ১৩৬ আয়াতে বলা হয়েছে “ওহে যারা ঈমান এনেছ, বিশ^াস স্থাপন করো আল্লাহতে, তার রসুলে ও তার কিতাবে”। বস্তুত ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটও ভিন্ন ছিল; দাসপ্রথা, যুদ্ধবিগ্রহ ও বন্দী নারী পুরুষের বাড়তি সমস্যা ঐ সমাজে প্রচলিত ও বহাল ছিল। এমতাবস্তায় বলা হয়েছে ন্যায়পরায়নতার স্বার্থে ঐ সব এতিম মেয়েকে বিয়ে করা যাবে। তবে একজনকেই কারণ এটি নিশ্চিত একের উর্দ্ধে সমতা বিঘিœত হবেই। আল্লাহর বাণীতে এটিও সুস্পষ্ট যে একজনকেই বিয়ে করবে। এটিই বেশী সঙ্গত (৪:৩)।  এর পর পরই বলা হয়েছে তাদের প্রাপ্য মহরানা আদায় করতে হবে নিঃস্বার্থভাবে। পুরুষকে দেবার মানসিকতায় বিয়ে করতে হবে তবে যদি সঙ্গত কারণে প্রতিপক্ষ কোন ছাড় দেয় স্বেচ্ছাকৃতভাবে, সেটিও সমর্থণীয়। অনেকে জবরদস্তি করে মেয়েদের থেকে মাফ করিয়ে নিতে চান এটি অধর্মাচার, অকুরআনীয় বিচার (৪:৪)। মোটকথা উভয়ের সমঝোতাতে যে কোন ফয়সালা হতে পারে, তবে জবরদস্তি করে কোন কিছু কুরআন সমর্থণ করে না। সব সময় সাক্ষী রেখো, তারপরও সব হিসাব রক্ষণে আল্লাহই সুবিচারক (৪:৬)। কারো সম্পত্তি জবরদস্তি করে ব্যবহার করা যাবে না, সবার প্রতি সদয় ব্যবহার করতে হবে (৪:১৯)। যদি দেখা যায় স্বাধীনা নারী বিয়ে ব্যয়সাধ্য তাহলে এমতাবস্থাতে বিশ^াসিনী দাসীকে বা বন্দিনীদের থেকে স্ত্রীরুপে গ্রহণ করারও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে কঠিন কথাটি হচ্ছে কখনোই তাকে মোহরানা ছাড়া বিয়ে করা সমর্থণীয় নয়, এবং ব্যভিচারের জন্যও এটি সমর্থনীয় নয় (৪:২৪)। কম হোক বেশী হোক যার যার সাধ্যমত সেটি নির্ধারিত হবে। ছেলে পক্ষের উপরও অযথা বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেয়ার কোন যুক্তি ইসলাম বা কুরআন সম্মত নয়। ইসলাম একটি জীবন বিধান কারো উপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেয়া এর বিধান নয়। এসব প্রেক্ষাপটে বরং দেখা যাচ্ছে মেয়েরা বাড়তি দায়ভার চাপাচ্ছে পুরুষের উপর, তা মোটেও সমর্থণীয় নয়।

তারপরও বিধান দেয়া হয়েছে যার আর্থিক সঙ্গতি নেই, তার জন্যই বিশশসিনী কুমারীদের যারা ডান হাতে ধরা রয়েছে, এখানেও আল্লাহর সেই একই কথা মোহরানা দিবে, ব্যভিচারের জন্য এসব নয়, রক্ষিতারুপেও তা সমর্থণীয় নয়। এটি শুধু তার জন্য যে মনে করে যে সে পাপে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা। আর যদি কেউ ধৈর্য্যধারণ করে, তবে সেটিই বেশী ভাল তার মানে সে ধৈর্য্য ধারণ করতে পারলে তার পুরষ্কার উত্তম হবে। সে ভালটারই অনুসরণ করবে। আল্লাহই ত্রাণকর্তা ও অসীম কৃপানিধান (৪:২৫)। বস্তুত এ আয়াতে বুঝা যায় যারা সত্যিকারের ধৈর্য্যশীল তাদের জন্য ত্রানকর্তা স্বয়ং আল্লাহ, সফলতা তাদের শক্ত পাওনা হয়ে থাকবেই। সৌদি গ্যাজেটের লেখাটিতে দেখা যায় বহুবিবাহ কমে আসছে, এটি লক্ষণ ভালো। তার মানে ধীরে হলেও মানুষ প্রকৃত সত্যে আত্মসমর্পণ করছে। ডিভোর্স বাড়ছে এর কারণ বহুবিধ, সারা বিশে^ই এর উর্ধ্বগতি। মিসরাহ বিয়ে বা মুতাহ বিবাহের নামে ফতোয়াবাজদের এসব ফতোয়া দেখে ভয় লাগে মনে, এরা যে কুরআনকে কম অনুসরণ করছেন, এসব তার প্রমাণ। কুরআনেই শ্রেষ্ঠ ফতোয়া বিলি করা হয়েছে, আল্লাহ স্বয়ং ফতোয়াবাজ হয়ে এর মালিকানাতে প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহকে পাশ কাটিয়ে যে বা যারা ফতোয়ার নামে এসব অনাচারকে লালন করছেন তারা প্রকারান্তরে অপকর্মের লালন করছেন। আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন ভাষাতে বলেন, তিনি কখনোই বিফল করবেন না কর্মীদের কোন কাজ, তারা পুরুষ হোক বা নারী (৩:১৯৪)। উভয়ের মর্যাদা অভিন্ন আল্লাহর কাছে। আল্লাহর নির্দেশকে ডিঙ্গিয়ে উপরোক্ত ধারণার বিয়ে কখনোই কুরআন সমর্থন করে না। অতীতে ‘মোতাহ’ বিয়ের নামে এক জাহেলিয়াতি অনাচার সমাজে প্রচলিত ছিল। আমরাও শুনেছি বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে নাকি কাজের মৌসুমে মানুষ অস্থায়ী বিয়ে করতো। যদি এসব সত্য হয়, তবে এসব ইবলিসীয় কাজ কুরআনের মাপকাঠিতে টিকে না। ফতোয়ার নামে আজকাল অনেক অনাচারই করা হচ্ছে এসব নেতিবাচক প্রচার থেকে সত্য নির্ভর আল্লাহর বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রতিটি মুসলিমকে মুমিন হতে হবে। কুরআনের হিসাবে সমাজে সভ্যতাতে এমন কি মুসলিমদের মধ্যেও তিন ধারার মানুষ হবেন এক মুমিন, মোনাফিক, মুশরিক।  মুমিন ছাড়া বাকী দু’দলই নিকৃষ্ট প্রজাতির মানুষ। সত্য ধর্মের ও সত্য গ্রন্থের লালন ও প্রসারই সঠিক পথ নির্দেশিকা। বস্তুত সৌদিকে নয়, রসুলের মারফতে আসা গ্রন্থ কুরআনকে আল্লাহর বানী জেনেই ইসমে আজমের মত কঠিন সত্য নির্ভর যুক্তি বলেই ফলো করতে হবে। এটি এমন একটি ঐশী গ্রন্থ যা এখানের তিন একসূত্রে গেঁথেছে যা এ গাঁথুনির শক্ত ভিত্তি। এর সাথে যার বিরোধ হবে সত্যের সাথে মিথ্যার কোন ফয়সালা হবে না।

উপসংহারে বলতে বাধ্য হচ্ছি কি কারণে আজ চৌদ্দশত বছর পরও জাহেলিয়াতি আচার আমাদের পরিসরে হালকাভাবে হলেও এসে ভিড়েছে। মুতাহ বিবাহ কুরআন বিরোধী একটি অনাচারী ধারা যা ছিল ইসলামপূর্ব সমাজের আচার মাত্র। কিভাবে আজ আলোকিত গ্রন্থ প্রাপ্তির চৌদ্দশত বছর পরও আমরা ঐ পুরাতনকে নষ্টকে খুঁজে পাচ্ছি। কিয়ামতের আগে মানুষ ঐ পূর্বেকার জাহিলিয়াতি যুগের দিকে ফিরে যাবে, এমন ধারার কথা সমানেই আলোচনায় আসে। বর্তমান চলমান সমাজে এমন অনেক অনাচারকে বিজয় মালা পরানো হচ্ছে। যেমন: সমকামিতা, বিবাহ বহির্ভুত জীবন যাপন ব্যবস্থা, এটি প্রতিটি মুসলিমকে জানতে হবে মানতে হবে এসব ইসলাম নয়। এসব কুরআন নামের বস্তুনিষ্ট সিলেবাসের বাইরের অনাচারী ব্যবস্থা। বস্তুত কিভাবে কুরআন বিরুদ্ধ আচরণ এসে আমাদের পবিত্র অঙ্গণে এসে জায়গা করে নিয়েছে, এসব তার বাস্তব উদাহরণ মাত্র। এর প্রধাণ কারণ আমাদের গাফিলতি, ধর্মহীন, প্রকৃত কুরআনজ্ঞানহীন, গবেষনাহীন ধ্যাণধারণা এসবের জন্য দায়ী। গ্রন্থটি বস্তনিতে বেধে উপরের তাকিয়ায় নাগালের বাইরে রেখে দেবার জন্য আসে নাই, বরং এসেছে একে বোঝার জন্য, মানার জন্য, পালন করার জন্য। অনেকে মনে করেন তেলাওয়াত করলেই সকল দায় শেষ। মোটেও নয়, তেলাওয়াতে দায় মাত্র শুরু হয়, শেষ হয় পালনে। আল্লাহ আমাদের সহজ সরল ধর্মটি বোঝার তওফিক দান করুন। আল্লাহ জানেন আমরা পরবর্তীতেও যে এসব অনাচার করবো। তাই আল্লাহর সাবধানবাণীটি স্মরণ করা ছাড়া আর দ্বিতীয় পথ সামনে খোলা নেই। আল্লাহ বলেন, “হে গ্রন্থধারীগণ!  কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার পোষাক পরিয়ে দিচ্ছ, আর তোমরা জেনেশুনে সত্যকে লুকাচ্ছ”? (সুরা আল ইমরানের ৭০ আয়াত)। আল্লাহ আমাদের সত্যকে ধারণ করার তওফিক দান করুন।

 

নাজমা মোস্তফা,   ১৩ নভেম্বর ২০১৫ সাল।

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: