Articles published in this site are copyright protected.

বাংলাদেশে বাংলা ভাষার উপর সাম্প্রতিক ভিন্নরকম এক হামলা চলছে । টিভি খুললেই দেখি নানান উল্টাসিধা ধারা। রাজনৈতিক বিতর্কীত অবস্থানে ইদানিং আর বাংলা চ্যানেল দেখাই হয় না, সেটিও তাদের সংকীর্ণ প্রচারে দেখাটি সময়ের অপচয় বলেই মনে হয়, তাই আর দেখা হয় না। “নয়াদিগন্তে” ৪ঠা অক্টোবরের উপসম্পাদকীয় কলামে ছাপা হওয়া জি মুনিরের লেখাটি মনে দাগ কাটলো, লেখাটির নাম ছিল “বাংলা ভাষা নিয়ে এ কোন তৎপরতা”। সমমাপের চিন্তায় আক্রান্ত একজন সুহৃদকে লেখাটি পাঠাই। তিনি লেখাটি পড়ে ফেরত কল করেন ও এর উপর মন্তব্যও করেন। এসব সাম্প্রতিক জটিলতা যে বেশ পুরোনো শিকড়ে বাধা, সেটি খোলাসার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। ভেবেছিলাম অন্য কাজ করবো। তার কথাটির পরই কম্পিউটার নিয়ে বসি। সংক্ষেপে বলছি শুরুটা লেখক জি মুনির তার স্বদেশীয় ও স্বগোত্রীয় এক গুণিজনের কাছে যোগাযোগের মাধ্যমে পৌছতে ব্যর্থ হন একবার নয়, বরং বার বার বহুবার। এর কারণ একটি বাক্যের উপলব্ধির সীমাবদ্ধতায় এ অঘটন ঘটে, গ্রহীতার ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্ঠায়। অতঃপর অন্য একজন পথ বাতলে দেন, কারণ উনার জানা ছিল এ জটিল রোগের গোটামোটা কারণ। গ্রহিতার টেলিফোন মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য অসুস্থতার কারণ তার ভালই জানা ছিল। আমি এটিকে অসুস্থতাই বললাম। এরকম কিছু জটিল আচরণের শিকার হয়ে একবার আমার এক নানা বললেন লোকটি শিক্ষিত বটে, তবে তার মানসিক বৃদ্ধি হয়নি, মানে তিনি মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি। বিতর্কীত অবস্থানে উপরোক্ত পরিচিতি আমার আর আমার কর্তার খুব পছন্দ হয়। তাই প্রায়ই কথা উঠলে এরকম অবস্থানে আমরা দুজনাই এটি কোট করি। বাস্তবে মানুষের বৃদ্ধির নানান রকমফের আছে, শারীরিক বৃদ্ধির সাথে অনেক সময় মানসিক বৃদ্ধি ঠিকমত হয় না, আবার অনেক সময় দুটোরই সংকট দেখা দেয়। এদেরে মানসিক প্রতিবন্দীও ধরা হয়। এবার কাজের কথায় আসি।

“আস-সালামু আলাইকুম”কে অনেক সেকুলার ধারার মানুষ মনে করেন এটি মুসলমানি ঢং, একে ছাড়তেই হবে নয়তো আর বাংগালী হওয়া যাবে না। “স্লামালাইকুম” আমাদের মন মানসিকতার সাথে অতোপ্রেতোভাবে জড়িত। আমরা এটি ব্যতিরেকে অন্য মুসলিমের সাথে কথা বললে 484792_376318135808082_1715004718_nঅপমানকর বলেই মনে হয়। মনে হয় আপনি প্রতিপক্ষকে অবজ্ঞা করলেন। “আস-সালামু আলাইকুম” এটি কি শুধুই একটি কথার কথা? কেউ মনে করেন আরবী বই কেন পড়তে হবে? তার উপর টিটকারী দিয়ে অনেকে বলেন এসব উল্টোবই মুখস্ত করতে হবে কেন?। উল্টোবই বলার অর্থ হচ্ছে এটি ডান দিক থেকে পড়তে হয়, লিখতে হয়। আমরা বাংলা ইংরেজী বাম দিক থেকে ডান দিকে লিখি বা পড়ি। রাজনৈতিক আচরণের সুবিধার্থে আজকাল টুপি দাড়ি, আরবী বই, এসবকে এক নির্দিষ্ট চিহ্নের মাঝে বেধে দেয়া হচ্ছে। আরবী বই অর্থে কুরআন সে লিস্টের শিরোভাগে অবস্থান করে। এমন একটি গ্রন্থ যার তুলনা পৃথিবীতে আর দুটি নেই। এটি কোন মানবিক রচনা নয়। এটি স্বর্গীয় রচনা যদিও মানবিক পরিশ্রমে পাবলিশ হয়েছে প্রেস থেকে। এর প্রতিটি বাণী অক্ষর সাজানো গোছানো সবকিছুতেই ঐশ^রিকতার ছোঁয়া লাগানো। এর প্রকৃত বাহক (ফেরেশতা জিবরাইল) অদেখা এক সত্ত্বা যাকে মানবিক চোখে দেখা যায় না। তার উপস্থিতি টের পেতেন নবী মোহাম্মদ (সঃ), ধারণা হয় তার প্রিয়তমা স্ত্রী বিবি খাদিজা কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি কিছুই দেখতেন না বা টের পেতেন না। নবীর আচরণে কিছু শারীরিক পরিবর্তন আসতো, শরীর কাঁপতো, শীত শীত অনুভূত হতো, যার জন্য তিনি এমন অবস্থায় তার শরীর ঢেকে দিতেও বলতেন। তাই রসিক আল্লাহ তাকে “কমলিওয়ালা” বলেও সম্মোধন করেছে। আজকের দিনে এ বইটি অনেকের চোখে শূল হয়ে বিঁধছে। অনেকে প্রচার করছেন এসব জঙ্গিদের বই। এসব পবিত্র গ্রন্থে সেক্যুলাররা অনেক সময় আগুন দিচ্ছেন পুড়াচ্ছেন, ভয়ও পাচ্ছেন না। তারা মনে করছেন, এসবই মিথ্যে জঙ্গিদের খেলা। টুপি দাড়িওয়ালা অনেক সহজ সরল মানুষ ধর্মটির সব জটিলতা কুটিলতা না বুঝলেও, তারা সৎ উদ্দেশ্যেই এসব ধারণ করে ও চলে। কিন্তু সেক্যুলার নামধারী সমাজ তাদেরে ভিণœ ধারাতে চিহ্নিত করে চলেছে। এটি এক বিরাট সংকট তৈরী করছে বাংলাদেশের সংখ্যা গরিষ্ট মুসলিমদের জীবনে।

অনেক সময়ই বিদেশের ইসলামিক স্কুলে বাচ্চাদেরকে এর মাহাত্ম্য শিক্ষককে বোঝাতে হয়। সহজভাবে একটি বাচ্চাকে প্রশ্ন করলেই সে বলে বসে এর অর্থ হচ্ছে “হাই” মানে “হ্যালো”। আসলে কি তাই? না, মোটেও তা না। জি মুনিরের উপরোক্ত ঘটনার গ্রহিতাও যে অনভিজ্ঞ অসচেতন শিশুদের মতনই একই উত্তর দিবেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই। বাংলাদেশে টিভির বাংলা অনুষ্ঠানে অনেককে ইদানিং বলতে শুনি, “শুভ সকাল”,“শুভ বিকাল” বা “শুভ রাত”। এর অর্থ কি? সকালটি বিকালটি রাতটি শুভ হোক, এইতো? এর বেশী কিছুই নয়। আর মুসলমানের “আস সালামু আলাইকুম” অনেক বেশী ব্যাপক ও অর্থবহ। এর অর্থ হচ্ছে “আল্লাহ তোমাকে শান্তি দান করুন” একজন শিক্ষক যখন তার ছাত্রদের এটি বলেন, তখন তার ছাত্ররাও সাথে সাথে বলে উঠে “ওয়ালাইকুম আস সালাম”। সুজনের কাছ থেকে এরকম একটি দোয়া প্রাপ্তির পর তারাও বসে থাকে না, প্রতি উত্তরে তারা বলে “আল্লাহ আপনাকেও শান্তি দান করুন ”। সারা বিশ^ জুড়ে যখনই একজন মুসলিম আর একজনকে এ দোয়া করে ঠিক তখনই প্রতিপক্ষও তাকে পাল্টা দোয়াতে আপলুত করে দেয়। এর সাথে কি শুভ সকাল শুভ বিকালের তুলনা চলে? মনে হয় চলে না। এ ধর্মের প্রতিটি জিনিসই অর্থবহ, সাবলীল ও সুন্দর। এটাকে বলা হয় “সালাম” অর্থ হচ্ছে শান্তি। এটি হচ্ছে শান্তির দোয়া। এক মুসলমান আর এক মুসলমানকে দেখলেই একে অন্যের জন্য দোয়া করে। এই পৃথিবীতে এরকম ব্যবস্থা আর কোন ধর্মধারীদের মাঝে এভাবে প্রচলিত নেই। সবারই এক একটি শব্দ জমা আছে কিন্তু এসবের তুলনা এ শব্দ সমষ্টির সাথে তুলনীয় নয়। তারপর সংকীর্ণতার অজ্ঞতার খেসারত হিসাবে সংকীর্ণ চিন্তা থেকে অনেকে অনেক কথাই বলেন। এসব করলেই কি তিনি মহান ও মহৎ হয়ে যান? না, এতে প্রমাণিত হয়, তিনি ঐ সুন্দরকে ধারণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ বলেই, বিশালকে তিনি এমন সংকীর্ণ গন্ডিতে জমা রাখেন। সাগরকে তিনি জলাশয়ে জমা রাখতে চান।

আমরা ছোটকালে শুনতাম আমাদের দাদারা বলতেন বর্তন(প্লেট), আনানাস (আনারস), তসতরি(পিরিচ), আমরা অনেকেই মনে করতাম আমদের দাদারা একদম গেঁয়ো। আসলে কি তাই? না, তারা প্রকৃতই খানদানী শব্দ ব্যবহার করতেন। যা আরবী ফারসি উর্দু ইংরেজী এরকম অনেক অনেক ভাষা থেকে সংগৃহীত আহরিত ও ব্যবহৃত ছিল যার প্রেক্ষিতে এক নতুন ভাষা স্থিতিলাভ করে, যার নাম বাংলা। “অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী” বলে একটি কথা আছে। আমাদের সেক্যুলাররা অনেক সময় ঐ অল্প বিদ্যার রুটিন ওয়ার্ক করছেন বলেই মনে হয়। আমি যা ধারণ করি তাই আমার ধর্ম। আমার প্রথম ধর্মশিM_Id_376239_Internationalক্ষক আমার মা। যেদিন ধর্মের কিছুই জানিনে সেদিন থেকে ধর্মকে চিনিয়েছেন। একটি ভাত যখন প্লেট থেকে পড়ে গেছে তখনই শিখিয়েছেন এ অনাচার আল্লাহ সইবেন না। তখনই প্রশ্ন উঠে এসেছে তিনি কে? কোথায় থাকেন? মনের সঙ্গোপনে আজো সে সব মনে গেঁথে আছে। সচেতনভাবে ধর্ম শিখতে নামি এর অনেক পরে। মুসলিম নন এমন বাংগালীদের এসব প্রশ্ন মনে হবার অবকাশ কম। কারণ মূর্তিপূজক হলে সাক্ষাৎ দেবতা থাকলে নিরাকারের প্রশ্ন আসার কোন জায়গা খালি থাকে না। তাই আমার মন মানসিকতা আর আমার হিন্দু বান্ধবীটির মন মাসনিকতা কোনদিনও এক হবে না। আমরা পাশাপাশি থাকলেও দুই জন হবো দুই ভুবনের বাসিন্দা। আমার মুসলিম সেক্যুলার বান্ধবীরা কেমন হবেন আমি জানি না। তবে তারাও হয়তো বাড়তি কিছু উপলব্ধির জটিলতাতে কম বেশী ভোগবেন। এসব জটিলতার শুরু আজ নতুন নয়। সেক্যুলার হচ্ছে না এপার না ওপার, যেন দু নৌকায় পা দেয়ার ফায়দা লুন্ঠনকারী। কালের অবগাহনে সংকীর্ণ স্বার্থে সমাজে এরা জায়গা করেছে।

পশ্চিমারা কেন ইসলামকে ভয় করে !! উত্তর দিচ্ছেন ডঃ জাকির নায়েক

 

কবি নজরূল ইসলাম ছিলেন বিশাল হৃদয়ের একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ আমরা সবাই জানি। তারপরও তাকে সেক্যুলার বলুন আর সাম্প্রদায়িক মুসলিম বলুন তাকেও এ পথ মাড়াতে হয়েছে। সে লড়াই তাকে করতে হয়েছে সাধারণের সাথে তো বটেই, এমনকি খোদ তার গুরুকবির সাথেও। তার লেখা থেকেই উদ্ধৃত করছি, “কবিগুরু আমায়ও বাণ নিক্ষেপ করতে ছাড়েন নি। তিনি বলেছেন, আমি কথায় কথায় রক্তকে ‘খুন’ বলে অপরাধ করেছি। কবির চরণে ভক্তের সশ্রদ্ধ নিবেদন, কবি তো নিজেও টুপি পায়জামা পরেন, অথচ, আমরা পরলেই তার এত আক্রোশের কারণ হই কেন, বুঝতে পারিনে। এই আরবি ফার্সি শব্দ প্রয়োগ কবিতায় শুধু আমিই করিনি। আমার বহু আগে ভারতচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ প্রভৃতি করে গেছেন। আমি একটি জিনিস কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করে আসছি। সম্ভ্রান্ত হিন্দু বংশের অনেকেই পায়জামা-শেরওয়ানি-টুপি ব্যবহার করেন, এমন কি লুঙ্গিও বাদ যায় না। তাতে তাদের কেউ বিদ্রুপ করে না। তাদের ড্রেসের নাম হয়ে যায় তখন ‘ওরিয়েন্টাল’ কিন্ত ওগুলোই মুসলমানেরা পরলে তারা হয়ে যায় “মিয়া সাহেব”। মৌলানা সাহেব আর নারদ মুনির দাড়ির প্রতিযোগিতা হলে কে যে হারবেন বলা মুশকিল। তবু ওনিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপের আর অন্ত নেই। আমি তো টুপি –পায়জামা-শেরওয়ানি-দাড়িকে বর্জন করে চলেছি শুধু ঐ “মিয়া সাহেব” বিদ্রুপের ভয়েই, তবুও নিস্তার নেই। এইবার থেকে আদালতকে না হয় বিচারালয় বলবো, কিন্তু নাজির-পেশকার-উকিল-মোক্তরকে কি বলবো? কবিগুরুর চিরন্তনের দোহাই নিতান্ত অচল। তিনি ইটালিকে উদ্দেশ্য করে এক কবিতা লিখেছেন। তাতে – “উতারো ঘোমটা” তাকেও ব্যবহার করতে দেখেছি। “ঘোমটা খোলা” শোনাই আমাদের চিরন্তন অভ্যাস। “উতারো ঘোমটা” আমি লিখলে হয়তো সাহিত্যিকদের কাছে অপরাধীই হতাম। কিন্ত “উতারো” কথাটা যে জাতেরই হোক ওতে এক অপূর্ব সঙ্গীত ও শ্রীর উদ্বোধন হয়েছে ওজায়গাটায়, তা তো কেউ অস্বীকার করবে না। ঐ একটু ভালো শোনাবার লোভেই ঐ একটি ভিনদেশী কথার প্রয়োগে অপূর্ব রুপ ও গতি দেওয়ার আনন্দেই আমিও আরবি ফারসি শব্দ ব্যবহার করি। কবিগুরুও কতদিন আলাপ আলোচনায় এর সার্থকতার প্রশংসা করেছেন। আজ আমাদেরও মনে হচ্ছে আজকের রবীন্দ্রনাথ আমাদের সেই চিরচেনা রবীন্দ্রনাথ নন। তার পিছনের বৈয়াকরণ পন্ডিত এসব বলাচ্ছে তাকে। “খুন” আমি ব্যবহার করি আমার কবিতায় , মুসলমানি বা বলশেভিকি রং দেওয়ার জন্য নয়। হয়তো কবি ওদুটোর একটাও রং আজকাল পছন্দ করছেন না, তাই এত আক্ষেপ তার। আমি শুধু “খুন” নয়, বাংলায় চলতি আরো অনেক আরবি ফার্র্সি শব্দ ব্যবহার করেছি  আমার লেখায়। আমার দিক থেকে ওর একটা জবাবদিহি আছে। আমি মনে করি, বিশ^কাব্যলক্ষির একটা মুসলমানি ঢং আছে। ও সাজে তার শ্রীর হানি হয়েছে বলেও আমার জানা নেই। স্বর্গীয় অজিত চক্রবর্তীও ও ঢং এর ভূয়শী প্রশংসা করে গেছেন। বাঙলা কাব্য লক্ষীকে দুটো ইরানী জেওর পরালে তার জাত যায় না, বরং তাকে আরও খুবসুরতই দেখায়। আজকের কলা লক্ষীর প্রায় অর্ধেক অলঙকারই তো মুসলমানী ঢংএর, বাইরের এ ফর্মের প্রয়োজন ও সৌকুমার্য সকল শিল্পীই স্বীকার করেন। পন্ডিত মালবিয়া স্বীকার করতে না পারেন, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ স্বীকার করবেন।” (শ্রেষ্ঠ নজরুল, বড়র পিরীতি বালির বাঁধ, ৪৭৫-৪৭৬পৃষ্ঠা) উপরের এ প্যারাটি আমি কবির সাহিত্য গ্রন্থ থেকেই টুকে নিলাম।

ভাষার প্রশ্নে মাতৃভাষার মূল্যায়নে বাংলাদেশ উর্দুর সাথে লড়াই করেছে। কিন্ত কি হলো আধৃুনিক বাঙ্গলাদেশীদের? সেক্যুলারিটির কবজাতে পড়ে হিন্দির আগ্রাসনে আজ বাঙ্গাHefazat_1লীর মৃত্যুদশা। এ অপকালচারে ডুবতে বেসেছে বাংলাদেশের অস্তিত্ব। এর প্রতিবাদ দেশের সর্বত্রই হচ্ছে, দেশের অনেকেই করেন। আমরা টের পাই কম, কারণ আমরা এখানে হিন্দির গোলামীতে নই। তারপরও ধারেকাছে অনেক আত্মবিকৃতরা ঐ রোগে আক্রান্ত থাকতে পারেন। হিন্দু বা উর্দুতে বিতন্ডা বাধতে পারে। উর্দু সংস্কৃতি মুসলিমের সাথে গেলেও হিন্দি সংস্কৃতি কোনভাবেই মুসলিমের সাথে খাপে খাপে যাবে না। প্রমাণ হিসাবে তখন নজরুলের সাথে রবীন্দ্রনাথের ঠুকাঠুকি হবেই, এটিই স্বাভাবিক। এটি শুধু ধর্মের কারণেই নয়, সংস্কৃতির ভিন্নতা দু সমাজের দু রকম, অস্বীকার করার উপায় নেই। তারপরও তারা মিলেমিশে কাটিয়েছে, যতদিন না বৃটিশের কপট দৃষ্টি তাদের উপর পড়েছে তখন থেকেই তাদের মাঝে এ বিভেদের মাত্রা কাজ করেছে বহুগুণ শক্তিধর হয়ে, ইতিহাস তাই বলে। মুসলমান যতটুকু অসাম্প্রদায়িকতার প্রাকটিস করতে পেরেছে হিন্দুরা সেটি করতে অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে, এর প্রমাণ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশে বিদেশে, খোদ ভারতে এটি মহামারী রুপে বারে বারে আবির্ভুত হয়। আজকের ছাপা হওয়া কলাম থেকেই উদাহরণ দিচ্ছি (০৬ অক্টোবর ২০১৫, আমাদের সময়.কম) খবরের শিরোনাম “বাবাকে পিটিয়ে হত্যার পরও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চান সরতাজ”। ভারতের দাদরিতে গরুর মাংস রাখার মিথ্যা গুজবে উগ্র হিন্দুর হিং¯্র আক্রমণে বয়োবৃদ্ধ খামারি মজুর আখলাক(৫৮)কে পিটিয়ে মারা হয়। তার ছেলে মুহাম্মদ দানিশ(২২) হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। আর তার ছোট ভাই মুহম্মদ সরতাজ পরিবারের এত বড় বিপদে ভেঙ্গে পড়েছেন কিন্তু তারপরও ধৈর্য্যহারা হন নাই। কবি আল্লামা ইকবালের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, বাবা মারা গেছেন, তবু বলবো, “সারে জাঁহা সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা”। এমন ঘোর বিপদের দিনেও তার মুখে কোন তিক্ততা প্রকাশিত হয়নি। তিনি আরো বলেন, আমাদের আদর্শ কখনো পরষ্পরের সঙ্গে শত্রুতার শিক্ষা দেয় না। ভালো মানুষের পাশাপাশি মন্দ লোকও রয়েছে। তার ক্ষোভ সবার বিরুদ্ধে নয়, একমাত্র আসামীর বিরুদ্ধে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার তিনিও চান। এর নাম হচ্ছে ইসলাম, কার্যত এটি এমন এক ধর্মগ্রন্থ যা একটি অনাহুত মৃত্যুকেও সমর্থণ করে না, হোক সে যে কোন ধর্মধারী। এ আয়াত নির্দেশ করে “যে একজনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলো যেন সে গোটা মানবজাতিকে হত্যা করলো আর যে একজনকে বাঁচালো যেন সে গোটা মানবজাতিকে বাঁচালো” (আল মাইদাহ এর ৩২ আয়াত) । এখানে বলা নেই যে তাকে শুধু মুসলিমই হতে হবে। তাকে হতে হবে মানব সম্প্রদায়ের একজন। এ গ্রন্থ আসে নাই শুধু মুসলিমদের জন্য একাই, বরং সমস্ত মানব জাতির উদ্দেশ্যেই এ গ্রন্থ নিবেদিত হয়েছে। “আমি তো তোমাকে সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না” (সুরা সাবার ২৮ আয়াত)। তাই কাউকে অন্যায় আঘাত করা যাবে না। ধর্মকে আত্মায় অন্তরে ধারণ কর্তে না পারার বদৌলতে অনেক সেক্যুলাররা অমার্জনীয় অপরাধ করে চলেছেন। দেখা যায় কার্যত সেক্যুলাররাই সাম্প্রদায়িক নির্যাতনে বাড়তি উৎসাহবোধ করেন কিন্তু প্রকৃত ধর্মধারী মুসলিম এটি করতে অপারগ কারণ তাদের হাতপা সত্য ও নীতির সাথে বাধা। আল্লাহ সঠিক ধর্মটি ধারণ করায় সবার সুমতি দিক।

 

নাজমা মোস্তফা,   ০৬ অক্টোবর ২০১৫।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: