Articles published in this site are copyright protected.

Archive for October, 2015

দুই বিদেশী হত্যা: সরকার ও ভারতীয় অভিমত

afp-benarnews.org

Source: AFP, BenarNews.org

(আন্ডারলাইন করা ইটালিক : কোন লেখার বা ভিডিও লিংক )

খুন করা হত্যা করা মানে একটি জীবন শেষ হয়ে যাওয়া। বিদেশী ইতালী আর জাপানী খুন হলে সরকার নড়েচড়ে আর হতভাগা দেশটির মানুষ মরলে মৃদু শব্দও হয়না, তাতে মনে হয় মরার জন্যই এদের জন্ম হয়েছে, বিচারের জন্য নয়। যেন মানুষ মারার লাইসেন্স নিয়ে সরকার দেশ চালাচ্ছে। আর বন্ধু কিল ঘুষি দিলে বা খুন করলেও গায়ে লাগে না। তখন আর প্রধাণের পুত্র জয়ের ঝকমারি রকমারি কথাও বের হয় না। ফেলানী মরেছে সেই কবে, এরপর থেকে কত শত ফেলানীরা লাশ হচ্ছে এসবের বিচার বরাদ্দ নয় কেন? তা কি জাতি জানবে না? পতাকা বৈঠক হচ্ছে আর একটি নাটের খেলা। এর মূল্য কি? ৮ অক্টোবর ২০১৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলার শিবচর উপজেলায় ফতেপুর সীমান্তে বিএসএফ সচরাচরের মত গুলি করে। দুজনের একজন পালিয়ে এসে দেশে চিকিৎসা নিচ্ছে। আর একজনকে হত্যা করে ভারতে মুর্শিদাবাদ জেলার সূতি থানায় রাখা হয়েছে। জনতার এসব কষ্ট দাগের খোঁজও করে না অবৈধ পথে আসা সরকার, জনতারা শুধু জানছে বাংলাদেশের বর্ডারে চলে মৃত্যুর মিছিল। জোর করে ভেতরে ঢুকেও তারা মানুষ মারে, কাঁটাতারের বেড়া তাদের অনেক শক্তি যুগিয়ে চলেছে।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী জিকিরে বহুদিন থেকে ব্যস্ত সরকার ও তার মন্ত্রীরা, মাঝে মাঝে ভারতও ঐ একই সুরে কথা বলে। বিগত বিনাভোটের সরকার সব সময়ই বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়াকে বহুদিন থেকে ঐ জঙ্গি নামে ডাকতেই পছন্দ করছেন, একবার নয়, বহুবার বার বার। এটি তার স্বভাবের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোহরাওয়ার্দি উদ্যান, হাটে ঘাটে মাঠে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীরা যেখানে যাচ্ছেন একই সঙ্গিত রিওয়াইন্ড করে বাজাচ্ছেন জনগণ গিলুক আর নাই গিলুক। সাথে আছেন অবৈধ পথের সহযাত্রী সাগরেদ নাসিম, মাহবুবুল আলম হানিফ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুজিবুল হক, হাছান মাহমুদ, মন্ত্রীরা একই কোরাস সুরের জঙ্গিসঙ্গিতে যুক্ত।  সবার ভয় কার থেকে কে পিছনে পড়ে যান জঙ্গিনামার প্রতিযোগিতায়, যত আগেভাগে জামাতে সামিল হবেন ততই যোগ্যতা ছড়িয়ে পড়বে ত্রিভুবনে। জামাতি বটিকার মহৌষধ হিসাবে জয়ের ওয়াশিংটন টাইমস এর নিবন্ধ একই সঙ্গিতের ধারাবাহিকতা মাত্র। যদিও বিরোধীরা এসবের প্রতিবাদ করে জোরের সাথেই বলছেন এসব প্রকৃত দোষীকে আড়াল করার ব্যবস্থা ছাড়া আর কিছু নয়। প্রতিপক্ষরা সঠিক আসামীকে চিহ্নিত করার দাবী করছেন। এরশাদের সময় থেকেই একটি বাক্য নিয়ে আমরা হাসাহাসি করতাম তা হচ্ছে ভাব আর মূর্তি = ভাবমূর্তি। এবারও শুনছি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হচ্ছে। যদিও গার্ডিয়ানের দেয়া সাক্ষাৎকারে নেত্রী গলার জোরে তার বিরুদ্ধে চিহ্নিত সব অপবাদ নাকচ করে দেন। গলার জোর থাকলেই সাধু হওয়া যায় না, এর জন্য উদাহরণীয় সাধুতারও প্রয়োজন। বরং সবাই জানে “দোষীদের বড় গলা” বলে সমাজে একটি ভারী কথা জমা আছে। ইতালীয় নাগরিক খুনের সময় গুলশান দুই নম্বরের সড়কে বাতি জ্বালানো নেভানোর জালিয়াত  ভিডিওটি সত্য প্রকাশ করছে।

“বিদেশী খুনে জড়িতরা ছাড় পাবে না”, বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এরকম প্রকাশে এর গভীর আড়ালের কথাটি বেশ স্পষ্ট হয়ে পড়ছে। এ কথাটি শুনলে মনে হয় এ যাবত সব খুনেই ছাড় দেয়া হচ্ছে হয়েছে, খুনী যাদুধন সাবধান, এবার ছাড় হবে না! বেশ দিন বছর থেকে এ যাবৎ প্রত্যেকটি খুন গুমে ছাড় দেয়ার সত্যিকারের কারণটি কি ছিল, শুনলে জাতির এ কঠিন দুর্দিনে বড়ই উপকার হতো। বিদেশীরা মূল্যবান আর বাংলাদেশের মানুষ মূল্যহীন? এ কথাটির আরো ভিন্ন অর্থ হতে পারে এর সুযোগে অন্তত যেন মূল আসামীটা বেঁচে থাকার পথটুকু পায়, সে যেন নিশ্চিন্ত থাকে যে তার উপর কোন ঝামেলা আসবে না। একজন প্রধানমন্ত্র¿ীর ভাষাকে সাবলীল ও সার্বজনীন হতে হয়। বাস্তবতা হচ্ছে বিচার এক পক্ষের জন্যই কেন জমা, যেখানে অনাচারে জড়িত সরকারের নিজের দলবাজরা, যাদের ছাড় দিয়েই বেঁচে আছেন তিনি। সরকার সৎ হলে কেনই বা অনাচারিকে আচল দিয়ে আগলে রাখা? অবৈধ সরকারের অবৈধ নীতি হচ্ছে সব সময় নির্দোষ প্রতিপক্ষকেই হতে হবে আসামী। শওকত মাহমুদ, মাহমুদুর রহমান এরা যত বড় সাধু অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক হোন না কেন তাদেরকেই আসামীর বেড়ী পরতে হবে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বসুন্ধরা সিটির সামনে থেকে শওকত মাহমুদ ধৃত হন, এরকম একজন গুণিজনের বিরুদ্ধে একটি দুইটি নয়, বিভিন্ন থানাতে সর্বমোট ৩২টি মামলা সচল হয়েছে। এর মাঝে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসে পেট্রোল বোমা মারার অপরাধেরও তিনি আসামী। এর প্রধান কারণ নিশ্চয়ই এতেও প্রধানমন্ত্রী কোন ছাড় দিচ্ছেন না। বাংলাদেশ বর্তমানে সরকারসহ আসামীর মুক্তাঙ্গন আর কারাগার হচ্ছে সাধুদের প্রাঙ্গন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের আদিলুর রহমানরা সত্য প্রকাশ করেন বলে আক্রান্ত হন কারণ সত্যিকথা যারা বলে, তাদেরে ভাতে মারাই এ সময়ের নীতি।

“ছাড় পাবে না” কথাটির ধরণ হচ্ছে এ দেশে বিদেশীরাই ভাগ্যবান! দেশবাসীর মরণে সরকারের মাথা ব্যথা কম কেন? এটি কি কোন শাসানির দাগানি কিনা সে প্রশ্নতো বিগত সব কৃতকর্মের মাঝে জমা আছেই। কথাটির আড়ালে কি লুকিয়ে আছে বাড়তি আরো কিছু? যদিও স্বার্থপর তালিবাজরা হাততালিতেই সময় পার করছেন। স্মরণ করার মত ঘটনা, কেনই বা প্রতিটি খুনের ঘটনাতে শাসকপক্ষ ক্রমাগত বাড়তি আদিখ্যেতা দেখিয়ে যাচ্ছে? এ প্রশ্ন নিশ্চয় প্রতিটি সচেতনের মনেই উদিত হচ্ছে? সাগররুণির মৃত্যুর পর কেন মাত্র ৪৮ ঘন্টার টাইম বেঁধে দেয়া হলো? এর কি যুক্তি হতে পারে? অতি আদিখ্যেতা না চোর ধরা পড়ার সম্ভাবনাকে বাতিল করতে এ বাড়তি বাগাড়ম্বর? স্বাভাবিক হলে সঠিক তদন্ত করে অল্প দিনের মাঝেই এর ফয়সালা করা যেত। ঘটনার চারপাশে অজ¯্র দাগচিহ্ন ছিলই। তারপরও কেন ৪৮ ঘন্টাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বছরের পর বছর গেলেও এর ফলাফল দেখার সাধ দেশবাসীর বা তাদের অবুঝ বাচ্চা মেঘের কপালেও নেই! কিন্তু অতি তৎপর সরকারের কথামত হিসাব ছিল মাত্র ৪৮ ঘন্টার হিসাব, আরো কতকি? এসব কি জাতির সাথে সাক্ষাৎ প্রতারণা নয়? কেন বিডিআর বিদ্রোহের সময় দোষীদের আগেই তেলা মাথাতে তেল মাখাতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী? সেদিন সাধ করে কোন আসামী তার কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করে নাই! তিনি সখেদে ক্ষমা প্রদর্শণ করে কি দেখালেন দেশবাসীসহ বিশ^বাসীকে? যে প্রধানমন্ত্রী তার বিরোধী নেত্রীকে হিংসার অনলে পুড়ে, পারলে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন, সে প্রধানমন্ত্রী কি বিনা স্বার্থেই এ সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করেছিলেন? যারা গোটা জাতির হৃদপিন্ডে কামড় বসিয়েছে, তাদেরকে কার স্বার্থে তিনি ক্ষমা প্রদর্শন করলেন? শামীম ওসমানের মত ক্যাডাররা তাদের উদাহরণীয় নেতা হয়। পূজার চাঁদা তুলতেও তারা ধরা খায়। জমি দখলেও তারা, অপকর্ম আর আওয়ামীলীগ এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে তাদের নিজের লোকেরাও ঠেকায় পড়ে নেতা পাতি নেতা থেকে অধ্যাপকেরা পর্যন্ত সেটি প্রকাশ করছেন ও মানছেন। সরকারের এমপি (গাইবান্ধা ১ আসনের নামকরা আসামী লিটন) প্রধান শিক্ষকের গালে চড় মারতে পছন্দ করেন। এরকম অপরাধী যিনি বাচ্চা ছেলেদের গুলিতে লটকে সুখ খোঁজেন সৌরভকে গুলি করে আহত করা মামলার আসামীকে উদ্ধার করতে উচ্চ হওয়া আওয়ামীরা ময়দানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে, যেখানে সরকারের  একান্ত বাধ্য পুলিশও ১৭ জনকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয় (১৫/১০/১৫)।

“দেশ নি¤œ থাকবে না, উচ্চ হবে স্বপ্নসাধ প্রধানমন্ত্রীর!” প্রশ্ন ফাঁস করে, ভোট চুরি করে, কপট হাতে মানুষ খুন করে রক্তলাল লাশ উপহারে, বিচারের নামে প্রহসন করে, ক্ষমতা দখলের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, বাংলাদেশে শাসকবর্গের ক্রমাগত একটির পর একটি ঘটতে থাকা বিশাল বিশাল অনাচার, মানুষকে নীচু থেকে বহু নীচু খাদের দিকেই নিয়ে চলেছে। এর ফাঁক গলিয়ে উচ্চ যেটুকু হচ্ছে ওটি জনতারা করছে জীবন বাজি রেখে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে। ব্যক্তি জীবন ও সামাজিকতায় সত ও সততা বজায় রাখা মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। যে বা যারা এটি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, এদের অহঙ্কার করার মত আর কিছু থাকে না। টাকা পয়সা ধন দৌলত এসব ঠুনকো জিনিস। ঐ অহঙ্কারটুকু নিয়েই সব ইতর মেথরসহ সব শাসককেই শেষ ময়দানে শূণ্য হাতে ফিরতে হবে বেশী দূরে নয়, নিকট সময়ে। মানবিকতার প্রশ্নে শত শত প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে সরকারপ্রধান! কিভাবে এসব আচরণের সরল অংক করে মতলববাজের মত ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তা কোন সচেতন বিবেকবান মানুষ সে অংক মেলাতে সমর্থ নয়। শুধু মুষ্টিমেয় শামীম ওসমানরা তার কথার মর্মার্থ বুঝতে সমর্থ হলেও বাকী দেশবাসী ঐ ভাষা বুঝতে অক্ষম। এমন অবস্থায় মানুষের নির্বাক বাকরুদ্ধ হওয়াই তার জবাব। একটি খবর “ইবিতে ভিডিও ফুটেজ দেখে চোর আটক” যে প্রায় দিনই মোবাইল ফোন ল্যাপটপ এসব চুরি করে নিয়ে পালাতো। ভিডিও ফুটেজ ধরে ঠিক ঠিকই সাধের চোরটিকে ধরা গেছে (১৩ অক্টোবর ২০১৫)। জহুরুল ইসলাম মিঠু বয়স ১৬ কুষ্টিয়ার স্বস্থিপুর গ্রামের ছেলে, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের ব্যবসা বিভাগের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র বলে সে ধরা খাওয়া চোর দাবী করে। ইবির মত কিন্তু অন্য আসামীরা ধরা পড়ছে না। যদিও কুটনৈতিক পাড়াতে ১০৯টি ভিডিও ফুটেজ বর্তমান, তারপরও কোনই প্রমাণ মিলে না, ফুটেজে আসে সবকিছু ঝাপসা, চেনা যায় না। সমস্যা তো সেখানেই, ভিডিও ফুটেজের মর্মমূলে “ডাল মে কুছ কালা হায়”!

মিশরের বাদশাহ ফেরাউন ছিল অনাচারি শাসক। কুরআনের আয়াতে প্রমাণিত এমন না যে ফেরাউন শুধু মুসা নবীর সাথেই অনাচারীতে লিপ্ত ছিল, মিশরের জনগণের ছেলেদের কতল করা হতো আর মেয়েদের নিপিড়নের জন্য রেখে দেয়া হতো, ঐসময় এটি ছিল মিশরবাসীদের প্রতি বিধাতার দেয়া এক কঠিন সংকটের পরীক্ষা (সুরা ইব্রাহিমের ১৪: ৬ আয়াত)। উদাহরণ হিসাবে সততার কাজের সুফল হচ্ছে শক্তিশালী শিকড় সমৃদ্ধ বৃক্ষ সমান (১৪: ২৪) আর খারাপ কাজের উদাহরণ হচ্ছে আগাছার মত যাকে অতপর উপড়ে ফেলা হয় (১৪: ২৬)। আস্ফালনকারীদের লক্ষ্য করেই বলা হয়, “তোমরা ভেবো না যে অন্যায়কারীদের সম্বন্ধে আল্লাহ বেখেয়াল। তিনি শুধু তাদের অবকাশ দিচ্ছেন সেদিন পর্যন্ত যেদিন চোখগুলি হবে পলকহীন স্থির” (১৪: ৪২)। বার বার বলা হয়েছে যারা বোধশক্তিসম্পন্ন তারা যেন সঠিক উপদেশ গ্রহণ করে (১৪:৫২)। বস্তুতঃ এ উপদেশ গ্রহণ করলে আল্লাহর কোন লাভ জমবে না বরং গ্রহণকারীর নিজেরই লাভ জমা হবে। এতে তারা পূণ্যবান সঠিক মানুষ হতে পারবে। উপরে বর্ণিত দন্ডধারী অপকর্মী শক্তিমান রাজনেতারা কি মানবিক হতে পেরেছেন? এ প্রশ্নটুকু শুধু করলাম, এর উত্তর আপনারা নিজেরাই দিয়ে দিবেন বিবেককে প্রশ্ন করে। আপনারা হচ্ছেন ময়দানের সৈনিক, আপনারা ভোক্তভোগী, জানার ও বুঝার কথা বহুগুণ বেশী। “জোর যার মুলুক তার” হয় হালকা সময়ের রোজগার। সুপথ সততা ন্যায় নীতির কথা দীর্ঘ জীবনের প্রাপ্তির বড় অর্জন হয়ে জমবে। সে হিসাবে কোন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ক্যাডার, ধর্ষকের কোন প্লাস জমবে না, বরং বোধশক্তি সম্পন্নরাই বাস্তবে উপকৃত হবেন।

প্রাচীন মিশরে ফেরাউনের অনাচার গোটা জাতির সাথে ছিল। শিশুকাল থেকে ঐ পরিবেশে বেড়ে উঠা বালক মুসা চোখের সামনে ফেরাউনের অনাচার দেখে শুনে জেনে অভ্যস্ত, শিশু অবস্থাতে ষড়যন্ত্রের কোপে তাকে হত্যা করতে ব্যর্থ হলে বিধাতার কৌশলে তিনি ঐ পরিবেশেই বেড়ে উঠার সুযোগ পান, খোদ রাজপ্রাসাদেই। ফেরাউনের গৃহেই পূণ্যবান বিবি আসিয়ার জীবনকাল কাটে, ত্রাসের মহাদুর্যোগ মাঝে। ফেরাউন, বিবি আসিয়া, নবী মুসা এরা তিনজনাই এক ঘরের বেড়ে উঠা বাসিন্দা। এদের দুজন সুপথপ্রাপ্ত হলেও তৃতীয়জন আগুণের বাসিন্দা। ঘটনার ধারাবাহিকতায় একই গৃহের ছাদের তলে এরা বাড়লেও এদের পরকালের আবাস স্থান হবে ভিন্ন, ফেরাউন একজন ইতিহাসের দাগী আসামী আর বাকী দুজনা কুরআনের হিসাবেও জান্নাতের বাসিন্দা। এসব হচ্ছে ঐশী গ্রন্থের বাস্তবধর্মী উদাহরণ। একই নাটক মঞ্চায়িত হচ্ছে যুগ যুগ অবধি শাসক ও শোষিতের আদালতে। আজকের রাজনীতির নাট্যকাররাও শীঘ্রই ঐ মিছিলে যোগদান করবেন সন্দেহ নেই।

ভারতের আউটলুক ম্যাগাজিনের সিনিয়র এডিটর প্রণয় শর্মা এক নিবন্ধে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিদেশী নাগরিক হত্যা ও খৃষ্টান যাজকের হামলার মন্তব্যে বলেন, এর দায় দ্রুত স্বীকার করেছে আইসিস। কিন্তু অনেকেই আইসিসের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দিহান, সরকারও সন্দিহান। ওদিকে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার পিনাক চক্রবর্তী বলেন, ব্লগার হত্যা ও উগ্রপন্থীর উত্থান প্রসঙ্গ এনে অনুমান করছেন ইসলামপন্থী মৌলবাদীরা হয়তো সরকারকে অস্থিতিশীল করতে এসব করছে। স্মরণযোগ্য জনবহুল শহরগুলোতে জনসমক্ষে এসব সংগঠিত হচ্ছে। ঘটনার পর খবরে দেখেছি অনেকে কথা বলতেও অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন, কোন কমেন্ট করা যাবে না। নিশ্চয়ই নিরাপত্তার অভাবে জনতারা মুখ স্টেপল করে রাখেন। ঠিক এরকম সময়ে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার (ঢাকার নন, রাজশাহীতে নিযুক্ত) সন্দীপ মিত্র জানিয়েছেন, দু’একজন বিদেশী হত্যার ঘটনায় তারা ভীত নন। তিনি বলেন, ভারতীয় হিসাবে আমরা ভয় পাই না। নওগাঁ শহরের মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলতে চান ভারতের সাথে বাংলাদেশের শুধু বন্ধুত্বই নয়, রক্ত সম্পর্কও যুক্ত। তারা যে ইদানিং কম ভয় পাচ্ছেন সে তো আমরা দেখছিই। অতীতে পাকিস্তানের আমলে ভয়ের চোটে তারা নড়তেই পারতেন না। এখন তো বর্ডারে, মানুষ মেরে লাশ বানানোই তাদের রক্তময় বন্ধুত্বের স্বীকৃত কাজ। সুযোগে ঐ রক্তের দাদ মেটাতে ফেলানীদের বাপ ভাইকে প্রতিদিনই হত্যা গুলি ও মৃত্যুর ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে এ ধারায় কথা বলতে এদের লজ্জা করা উচিত ছিল। বাংলাদেশীর মগজ একদম বিনা মূল্যেই কিনতে চায় তারা! অষ্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল ইতমধ্যে বাংলাদেশ আসা বাতিল করেছে। পিনাক বাবুরা সন্দীপ বাবুরা কি খুশী হননি? বোকা বিএনপি জামাতিরা কি সুবর্ণ সুযোগই না করে দিচ্ছে তাদের হয়ে এসব অপকর্ম করে, দেখা যায় সব ফসল গিয়ে মোদির গোলাতে উঠছে। পাঠকেরা একটু হলেও মাথাটা খেলাবেন, দয়া করে।

অতীতে শান্তি বাহিনী সৃষ্টি করে দেশের অভ্যন্তরে বিরোধ সৃষ্টিতে ভারতীয় তৎপরতা, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ড, স্বাধীন বঙ্গভুমি আন্দোলন, ভারতের তালপট্টি দখল, শেখ হাসিনাকে দিয়ে বারে বারে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কাল্পনিক অভিযোগ তোলা, গারোল্যান্ড আন্দোলন,বাংলাদেশ মোহাজির সংঘ: বঙ্গভ’মির সমান্তরালে নতুন ষড়যন্ত্র, রাজীব গান্ধী হত্যায় বাংলাদেশ জড়িত থাকার অপপ্রচার, শিক্ষাঙ্গনে ত্রাস সৃষ্টি করে রাখা, দুই বাংলা একত্রিকরণের অপপ্রচার, ক্ষুদ্র দেশটিকে খন্ড খন্ড করার অপতৎপরতা, জন্মাষ্টমীর মিছিলে হামলা ও দুর্গাপূজা নিয়ে চক্রান্ত, পুশইন পুশবেক ইস্যু, তসলিমা ইস্যু সৃষ্টিতে ভারতীয় তৎপরতা, এরশাদীয় নাটকে ভারতীয় যোগাযোগ, বিমানবন্দর রেলস্টেশনে গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া, রেললাইন উপড়ে ফেলা, সমুদ্র বন্দরকে নিস্ক্রিয় করা, ব্যাপক মাত্রায় জ¦ালাও পোড়াও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভাংচুর চালানো, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠনেও তাদের তৎপরতা, বারে বারে গার্মেন্টস এর বিপর্যয়, ২ মে ৯৬সালের কু দে’তার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ, বিডিআর বিদ্রোহের সময় একই ভাবে সৈন্য সমাবেশ নাটক, বাংলাদেশের পত্রিকাকে টাকার অনুদানে কিনে পরিচালিত করার নেপথ্য নাটক এসব একদুই ঘটনা নয়। দেশটির সমূহ দুর্ভোগের দায় বড়দাগে ভারতের কাঁধে পড়ে। অতীতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বিএনপি সরকারের পতন ঘটানোর লক্ষ্যে। ’৯৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত “র” এদেশে প্রায় ৭-৮০০ কোটি টাকা খরচ করে। ১৯৯৪-৯৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলন পরিচালনায় ভারতীয় র, বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনের ব্যয়ভার মেটানোর জন্য কোটি কোটি টাকা বিশেষ চ্যানেলে বিতরণ করা হয় বলে জানা যায়। ৫০কোটি টাকা একটি পত্রিকাকে দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র উল্লেখ করে এবং পরেও ঐভাবেই টাকা পায় পত্রিকাটি। কলকাতার পত্রপত্রিকায় সব সময় পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশে জড়িত, এ তথ্যসঙ্গিত পেশ হয়, সেই একই ভারতীয় বন্দনা সঙ্গিতে আজো জড়িত সুরঞ্জিতগংসহ সরকার ও সরকারের নিকটজনরা। এসব অনেক প্রতিবেদন ২০০০ সালের ডিসেম্বরে ও ২০০১ সালের জানুয়ারী মাসে ধারাবাহিকভাবে দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত হয়েছে।

এসব আজকের দিনে অপেন সিক্রেট, সচেতনরা জানে যারা চোখ কানের ব্যবহার করে। “র” নামের একদল ষড়যন্ত্রকারী যারা এদেশের সর্বনাশ করতে এমন কাজ নেই যা করে নাই। এসব হচ্ছে বন্ধুত্ব ও রক্তের প্রতিদান, যা কোন মানবিকতার পর্যায়ে পড়ে না। গোয়েন্দা তৎপরতার নামে নীতিহীন অপকর্ম করলে যদি ধর্মের ঈশ^র ছেড়ে দেন, তবে ঐ ঈশ^রকে কপট ঈশ^র বলতে হবে। দুর্বলকে বাগে পেয়েও কোন প্রকৃত বীর হত্যা করে না, এটি হচ্ছে প্রকৃত বীরের যুদ্ধনীতি। কিন্তু এদের কোন নীতি লাগে না, তারা অপকর্মী সবার দৃষ্টিতে, সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিতেও। ঐ চানক্য পন্ডিতের স্বরচিত ধর্মে এসব আদর্শনীতিকে বাতিল অচল করা হয়েছে। খৃষ্টপূর্ব ৩২১ সাল হতে ৩০০ খৃষ্টপূর্ব সালের মধ্যে রচিত কৌটিল্যের “অর্থশাস্ত্রে” পৌরহিত ও সন্নাসীনি গুপ্তচরদের বিবরণ পাওয়া যায়, প্রতারক কুটনৈতিক কৌটিল্যর ছিল ৬ নীতি।(১) চুক্তির মাধ্যমে শান্তি (২) অনবরত আঘাত করে শত্রুকে ঘায়েল করার নাম যুদ্ধ (৩) উদাসীন থাকা মানেই নিরপেক্ষ থাকা (৪) সামরিক শক্তি বাড়িয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি (৫) অন্যকে অধীনে বাধ্য করে রাখার নামই মিত্রতা (৬) এক জনের সাথে দোস্তি আর অন্যের সাথে যুদ্ধই হচ্ছে দ্বৈতনীতি। আমাদের অসংখ্য নাট্যশিল্পী, কলামিস্ট, বুদ্ধিজীবী সেই কোরাস সঙ্গিতে আজও মশগুল। এরা কোনভাবেই দেশপ্রেমিকের সংজ্ঞাতে পড়েন না। এরাই প্রকৃত দেশদ্রোহী রাজাকার, দালাল, ক্রমাগতভাবে দেশটির সর্বনাশে হৃদপিন্ডে কামড় দিয়ে চলেছে। তারপরও এত জানার পরও আজো কাউকে বলতে শুনিনি যে, এসবে ভারতকে কেউ জড়িত করেছে বলে। কিন্তু ভারতের অতীত কর্মকান্ড অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশী ভুলো মনকে ডেকে বলে, “মনরে তুমি কোন তালে আছো রে মন আমার, এ ভাবনা ভাবার সময় কি এখনো হয় নি তোমার?”

প্রধানমন্ত্রী এক হারানোর গল্প দিয়ে সব গোজামিলের সমাধান আনতে চান। তিনি যদি বাস্তবিকই এ দেশবাসীকে ভালবাসতেন তবে এ হারানোর গল্প তাকে বার বার জনগণকে রিওয়াইন্ড করে শুনাতে হতো না। এ জাতি বড়ই আবেগ প্রবণ জাতি! দুদিন পর পর একই করুণ রসের গল্প করে এরফাঁক গলিয়ে গোটা জাতিকে দেউলিয়া করে দিয়েছেন! তার অতিরিক্ত নজর নিজের দিকে, নিজের নিরাপত্তার সব সূতানাতা সাজাচ্ছেন ঠিকই,  কিন্তু কেউ কি আছে এ জীবনে যে মরবে না, যার মৃত্যু নেই যে অমর। গোটা জাতির মরাকান্না শুনতে তিনি অভ্যস্ত নন। হাজার মানুষ তার বাপ হারাচ্ছে ভাই হারাচ্ছে স্বামী হারাচ্ছে পুত্র হারাচ্ছে তারই কোপানলে পড়ে, এ দিকে প্রধানের ভ্রুক্ষেপ নেই। এর নাম কি সততা, নিরপেক্ষতা, বিচারিক ব্যবস্থা? হিংসা বিদ্বেষের অপর পিঠে কোন পজিটিভ অর্জন জমতে পারে না। হিংসা শুধু হিংসারই জন্ম দেয়। এটির তাপ কোনদিনও কোনভাবেই নির্বাপিত হবার নয়। এটি অনন্তকাল জ¦লবে সাথে সাথে অন্তর আরো বাড়বাড়ন্ত হয়ে পুড়বে। মুক্তি থাকবে সুদূর পরাহত! আপনি বলেছেন, “এদেশে ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্রমুক্ত হবে, এটাই আপনার লক্ষ্য।” আপনার লক্ষ্য হলেই কেন গোটা জাতিকে সেটিই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে? বাংলাদেশ কি শুধু আপনার একারই দেশ? কোন গণতান্ত্রিক সমাজের মানুষ কি এসব সমর্থন করতে পারে? এ কথাটির মাঝেই লুকিয়ে আছে আপনার গোপন ইচ্ছা যা চাপা থাকেনি। এসব কথার প্যাঁচ বুঝার মত বুদ্ধি বাংলাদেশীদের হয়নি, আপনি কি তাই মনে করেন? তারা এতই গোবেট, এ ধারণা জন্মানোর কারণটি কি? যেখানে আপনি জনগণের কোন তোয়াক্কাই করছেন না, তাদের মিডিয়াকে কবজা করছেন, বিচারকে পদানত করছেন, নির্বাচন কমিশনকে পদানত করে রেখেছেন, পুলিশ র‌্যাব বিজিবি সবকটাকে মানুষ থেকে গোলামে রুপান্তরিত করেছেন। এত করেও আপনি আপনার মিড়িয়াতে প্রচার করছেন যে ২০২১ সাল পর্যন্ত আপনি এ জাতির সর্বণাশ হয়ে থাকবেন। কেউ আপনাকে না চাইলেও আপনি জবর দখল করে বসে থাকবেন। বাকীদের শান্তিতে থাকতে দিবেন না। একজন সত্যিকারের মুমিন প্রতিটি মূহূর্তেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকে। দেখা যায় কোনভাবে ২১ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রীর হালখাতাতে আছে! আপনি নিশ্চিন্ত, আজরাইল এ সময়টিতে আপনার চৌহদ্দিতে ঢুকতে পারবে না, যদিও শুধু আপনার একার মুখেই শুনি ১৯বার আপনাকে চেষ্টা করা হয়েছে মারার জন্য! তারা বেওকুবেরা জানে না যে আপনার কাছে আজরাইলের হলুদ কার্ড জমা আছে!

ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মুসলিম হত্যা ও সাম্প্রতিক দাঙ্গার গোলযোগের পর পরই মোদির বক্তব্যে আসে ওখানেও শয়তান ঘোরাফেরা করছে। গরু ভারতীয়দের কাছে ‘মা ও ভগবান’ অর্থে পূজিত হলেও বাকী গোটা বিশে^র খাদ্য হিসাবে বিবেচিত। মোদি সরকার তার এক সভাসদের গরু বিষয়ক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, মনে হচ্ছে ঐ সভাসদ শয়তানে আক্রান্ত হয়েছেন। কারণ তিনি এমন সত্য প্রকাশ করছেন, যা স্বীকার করা গরুর লিডারদের জন্য অপমানজনক। ঐ গরুকে সূত্র ধরে বারে বারেই ভারতে মারদাঙ্গা হামলা মামলা পুরোদমে চলে তারপরও তারা জঙ্গি হয় না। তাদের নেতারা ঐ প্রচারেও যায় না। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দে এ নিকোলায়েভ বলেন, “দুটি হত্যাকান্ডে বাংলাদেশ জঙ্গি রাষ্ট্র হয়ে যায় না। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন শান্ত ও সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, “দু’ফোটা পানি বৃষ্টি বোঝায় না। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দু’টি  বিদেশী হত্যাকান্ডে রাশিয়াও উদ্বিগ্ন। তিনি আরো বলেন, আমি জানি বাংলাদেশে তা কেন হচ্ছে” (ডিডাব্লিউ)। ঘুরিয়ে হলেও মনে হচ্ছে এসব কথার মাঝে ম্যাসেজ আসছে। বিদেশে দু নেত্রী একই সময়ে অবস্থান করলেও হাসিনা সরকার খালেদাকে চিহ্নিত করে বক্তব্য দিচ্ছেন, দিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি থেকেও এর ত্বড়িত জবাব দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমান করে দেশের আইন শৃংখলা কি পর্যায় পার করছে। শক্তির জোরে পারিপাশির্^ক শক্তিধররাই নিজস্ব ক্ষেত্র আবাস নাড়িয়ে যা ইচ্ছা তাই করছে।

জঙ্গি ধরতে পুলিশের মিথ্যাচারের কোন জবাব নেই। এদের সততা সম্ভবত গোলামীর কারণে এত নীচে নেমেছে সেটি এক বড় প্রশ্ন ও সময়ের দাবী হয়ে দেখা দিয়েছে। নয়াদিগন্তের ০৯/১০/১৫ তারিখের খবরে প্রকাশ কিশোরগঞ্জের নিরীহ দশ বছরের ছেলে রানা যার পুরো নাম তৌফিকুল ইসলাম রানা ভিন্ন জাবেদ নাম ধারণ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত চট্টগ্রামের জেএমবি সামরিক শাখার “প্রধান” হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশুনা করতো। কারণ তাকে এ ভুমিতে জন্মাতেই হবে বা পারিপাশি^ক অবস্থার প্রেক্ষিতে পুলিশকে তা আবিস্কার করে দেখাতেও হবে। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর, পড়শি, পরিবারসহ স্বজনরা এ খবরে হতবাক, তারা জানান এসব বিশ^াসযোগ্য নয়। উল্লেখ্য তাকে “জেএমবি প্রধান” বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের আওয়ামী লীগের সদস্য এ পরিবারের সবাই, কিন্তু তারপরও প্রচারে তারা জামাআতুল মোজাহেদিন (জেএমবি) প্রধান হিসাবেই জায়গা পায়। আর একটি খবর ০৭ অক্টোবর ২০১৫ তারিখের সংগ্রামের সম্পাদকীয় কলামে ড. রেজোয়ান সিদ্দিকীর “ভয়ঙ্কর, ছেলেটি সব জানে” কলামে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার আঠারোবাড়ি ইউনিয়নের ফতেনগর গ্রামের দশম শ্রেণীর ছাত্র ফয়সল ছাত্রছাত্রীদের মাঝে “মধ্যপ্রচ্যের ডাক” নামে একটি লিফলেট বিলি করে। ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সুযোগে সে জানতে পারে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমানরা ইহুদী নির্যাতনের শিকার। সে প্রতিবাদ জানাতেই সে একটি কবিতা লিখে যার নাম “মধ্যপ্রাচ্যের ডাক”। করিৎকর্মা পুলিশ আরো দাবি করে যে, সে আইএস সমর্থক হিসাবে স্বীকার করেছে, ছয়মাস থেকে সে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনকে সমর্থন করে আসছে। সে আমেরিকাও বুঝে, মধ্যপ্রাচ্যও বুঝে, ইহুদী বুঝে মুসলিমও বুঝে। যেহেতু সে অনেক কিছুই জানে ও বুঝে, তাহলে সে নিশ্চয় আইএস সমর্থক, এটি শিক্ষকের সন্দেহ। উল্লেখ্য উক্ত শিক্ষক মুখ ঢেকে সাক্ষাৎকার দেন নিরাপত্তার স্বার্থে। ওদিকে খৃষ্টান যাজক হত্যাচেষ্টার ধড়পাকড়ও চলছে। সম্প্রতি ওবায়দুল আওয়ামী পরিবারের সন্তান ধৃত হলেও খবরে আসে সে শিবির কর্মী। ওবায়দুল একটু নেশা করতো। হোন্ডা ছিনতাই অপরাধের মামলা ছিল, পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে পরে টিভিতে দেখি সে নাকি শিবিরকর্মী। শুনে হাসি পেল”(পাবনা ও ঈশ^রদী সংবাদদাতা, নয়াদিগন্ত, ৭ অক্টোবর ২০১৫)। “ঈশ^রদী থানার ওসি বিমান কুমার দাশ দাবি করেন, ওবায়দুল শিবিরের একজন কর্মী। যাজক লুক সরকার হত্যাকারীদের চিনবেন বললেও তিনি ওবায়দুলকে চিনেন না বলেই জানান (ডয়চে ভেলে, ৯ অক্টোবর ২০১৫)।”  উল্লেখ্য আসামীকে অবশ্যই বিএনপি নয়তো জামাত হতে হবে, এটি যেন বর্তমান সময়ের বিমান কুমার দাসদের অলিখিত দাবী!

বিদেশী খুনে বিরোধীরা জড়িত, বলছেন জয়। যে কেউ উল্টো প্রশ্ন করতেই পারে এ ষড়যন্ত্রে জয় জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা ও উদাহরণ হিসাবে এটি শুধু মাত্র কোন সোর্সও না, বিদেশী পত্রিকাতে একদম জ¦লজ্যান্ত উদাহরণ। জয়ের উদাহরনীয় বাস্তবতার নিদর্শন, বেশ কিছু খবর “গোয়েন্দাদের সন্দেহের তীর বিএনপির দিকে” (আমাদের সময়, ০৭ অক্টোবর ১৫। যুক্তি দেখানো হচ্ছে (সেই বহু পুরোনো গণসঙ্গিত) বিএনপির সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের মুহাম্মদ মুজাহিদকে বাঁচানোর এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্ঠা। সরকারী গোয়েন্দা খুঁজে পাচ্ছেন খালেদা বিদেশে আর দেশে হত্যা, ঠিক এমন সময় তারা ভুলে গেলেন ষড়যন্ত্রে গলাডুবা সরকারও এ সময় বিদেশে ছিল! অতীতে রামুর ঘটনাতেও সরকার বাইরে ছিলেন, কলকাঠি নেড়েছেন। অবশ্যই বিএনপি জামায়াত জড়িত: বলছেন হাসিনা। “আইজিপি বলছে বাংলাদেশে আইএস নেই, তারপরও গ্রেফতার ২০” দ্য ডেইলি স্টার, (৭/১০/১৫)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার বক্তব্যের সাথে তাল রেখে আইজিপি একসুরে জামাতের কথা বলছেন। বেশ আগে ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বরে এ কথা বলেছিল টাইমস অব ইন্ডিয়া। এর সূত্রে ভারতের সোয়া ডজন তরুণকে ধড়পাকড়ের আওতায় আনা হয়। এদিকে বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএস এর দায় নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রিটা কাৎস পরিচালিত বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা সার্চ ফর ইন্টারনাশনাল টেরোরিস্ট এনসিটিজ (সাইট) বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার বেসরকারী মুখপাত্র হিসাবে এসব প্রেপাগান্ডা চালাচ্ছে। দেখতে হবে এসব জঙ্গিগীতে কার লাভ গোলাতে উঠছে। কে এসব বলে বাড়তি সম্পদ গোলাজাত করতে পারছে। এসব গোলাজাতের উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে। শক্তির দাপটে যেখানে কোন নির্দোষ জান নিয়ে বাঁচতে পারছে না, সেখানে কি বিনা ভরসাতে সন্ত্রাসী জঙ্গিরা এমন নিশ্চিন্তে বসবাস করছে আর তাদের মনের ইচ্ছেমত একের পর এক হত্যাগুমের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে! আল্লাহর কম্পিউটার ও আল্লাহর সিসিক্যামেরা ছাড়া এরা কোন দিনও ধরা পড়বে না! তারা তো আর ইবির চোর নয় যে ধরা পড়বে? তারা সংক্ষেপে “ইতিহাস বিখ্যাত (ইবি) সন্ত্রাসী জঙ্গি!”

সম্প্রতি ১৭ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে শ্রীলংকার গণমাধ্যম লঙ্কা ওয়েবে “ইন্ডিয়া ইউজিং নাজি ইনসেটিভ ট্যাক্টিক্স অ্যাগেইনস্ট শ্রীলংকা, নেপাল অ্যান্ড বাংলাদেশ” নামে দিলরক কান্নাংগারার একটি নিবন্ধ ছাপে। উক্ত দেশগুলির আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বারে বারেই ভারতের অতিরিক্ত দাদাগিরির উপরই এর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ পূর্ব দায় নিয়ে হিটলারের নাজিরা যা করেছে, সে একই কাজ করছে ভারত তার নিকট প্রতিবেশীদের সাথে। ভারতের এ কৌশলের নাম হচ্ছে “অপারেশন হিমলার”। উপরে ভারতের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ যা আজ সবার জানা, এ লেখাটিও তারই বাস্তব প্রতিফলন মাত্র। নেপালেও দুটি উপজাতিকে নিয়ে ভারত খেলায় মেতেছে। এখানের সবটি দেশের নির্বাচনে ভারতকে অতিরিক্ত নাক গলাতে দেখা যায়। সম্প্রতি মালদ্বীপের নির্বাচনেও সংকট সৃষ্টিতে ভারত হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশীদের মাঝে একটু সমর্থ যারা তারা নামেদাগেই ভারতের শত্রু হিসাবে বিবেচ্য , এরা হচ্ছে পাকিস্তান ও চীন। আফগানিস্তানের সাথেও সাম্প্রতিক সময়ে ভাল নেই ভারত। বৃটিশ আমলের স্বাধীনচেতা দেশগুলিকে ক্রমে ক্রমে উদরে ঢুকায় ভারত। এতে তার লোভ বেড়েই চলেছে একদিন যারা ভারত ভুক্তির চেয়ে মৃত্যু বা আত্মহত্যা করাকে ভালো মনে করতো, ওভাবেই তাদের যবনিকাপাত ঘটে। উক্ত কলামের শেষ উপদেশ টুকুন ছিল এসব নির্যাতীত চিহ্নিত দেশগুলিকে চীন ও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন ন্যাম সম্মেলনের মাঝে এর সমাধানে এগুতে হবে, যেখানে ভারতকে কোনভাবে যুক্ত করা যাবে না। সাথে সাথে লেখক কঠিন পরিণতির আগাম উদাহরণ রেখে এটিও বলেন যে, তারা ভুলে গেছে সেভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোশ্লাভিয়ার কৃতকর্ম শেষ পর্যন্ত দুনিয়ার ময়দান থেকে মুছে তাদেরে যাদুঘরেই ঠাঁই দেয়।

 

নাজমা মোস্তফা,   ১৮ই অক্টোবর ২০১৫।

Advertisements

সেক্যুলার প্রীতিতে বাংগালি মুসলিমের ধর্মহীনতা

বাংলাদেশে বাংলা ভাষার উপর সাম্প্রতিক ভিন্নরকম এক হামলা চলছে । টিভি খুললেই দেখি নানান উল্টাসিধা ধারা। রাজনৈতিক বিতর্কীত অবস্থানে ইদানিং আর বাংলা চ্যানেল দেখাই হয় না, সেটিও তাদের সংকীর্ণ প্রচারে দেখাটি সময়ের অপচয় বলেই মনে হয়, তাই আর দেখা হয় না। “নয়াদিগন্তে” ৪ঠা অক্টোবরের উপসম্পাদকীয় কলামে ছাপা হওয়া জি মুনিরের লেখাটি মনে দাগ কাটলো, লেখাটির নাম ছিল “বাংলা ভাষা নিয়ে এ কোন তৎপরতা”। সমমাপের চিন্তায় আক্রান্ত একজন সুহৃদকে লেখাটি পাঠাই। তিনি লেখাটি পড়ে ফেরত কল করেন ও এর উপর মন্তব্যও করেন। এসব সাম্প্রতিক জটিলতা যে বেশ পুরোনো শিকড়ে বাধা, সেটি খোলাসার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। ভেবেছিলাম অন্য কাজ করবো। তার কথাটির পরই কম্পিউটার নিয়ে বসি। সংক্ষেপে বলছি শুরুটা লেখক জি মুনির তার স্বদেশীয় ও স্বগোত্রীয় এক গুণিজনের কাছে যোগাযোগের মাধ্যমে পৌছতে ব্যর্থ হন একবার নয়, বরং বার বার বহুবার। এর কারণ একটি বাক্যের উপলব্ধির সীমাবদ্ধতায় এ অঘটন ঘটে, গ্রহীতার ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্ঠায়। অতঃপর অন্য একজন পথ বাতলে দেন, কারণ উনার জানা ছিল এ জটিল রোগের গোটামোটা কারণ। গ্রহিতার টেলিফোন মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য অসুস্থতার কারণ তার ভালই জানা ছিল। আমি এটিকে অসুস্থতাই বললাম। এরকম কিছু জটিল আচরণের শিকার হয়ে একবার আমার এক নানা বললেন লোকটি শিক্ষিত বটে, তবে তার মানসিক বৃদ্ধি হয়নি, মানে তিনি মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি। বিতর্কীত অবস্থানে উপরোক্ত পরিচিতি আমার আর আমার কর্তার খুব পছন্দ হয়। তাই প্রায়ই কথা উঠলে এরকম অবস্থানে আমরা দুজনাই এটি কোট করি। বাস্তবে মানুষের বৃদ্ধির নানান রকমফের আছে, শারীরিক বৃদ্ধির সাথে অনেক সময় মানসিক বৃদ্ধি ঠিকমত হয় না, আবার অনেক সময় দুটোরই সংকট দেখা দেয়। এদেরে মানসিক প্রতিবন্দীও ধরা হয়। এবার কাজের কথায় আসি।

“আস-সালামু আলাইকুম”কে অনেক সেকুলার ধারার মানুষ মনে করেন এটি মুসলমানি ঢং, একে ছাড়তেই হবে নয়তো আর বাংগালী হওয়া যাবে না। “স্লামালাইকুম” আমাদের মন মানসিকতার সাথে অতোপ্রেতোভাবে জড়িত। আমরা এটি ব্যতিরেকে অন্য মুসলিমের সাথে কথা বললে 484792_376318135808082_1715004718_nঅপমানকর বলেই মনে হয়। মনে হয় আপনি প্রতিপক্ষকে অবজ্ঞা করলেন। “আস-সালামু আলাইকুম” এটি কি শুধুই একটি কথার কথা? কেউ মনে করেন আরবী বই কেন পড়তে হবে? তার উপর টিটকারী দিয়ে অনেকে বলেন এসব উল্টোবই মুখস্ত করতে হবে কেন?। উল্টোবই বলার অর্থ হচ্ছে এটি ডান দিক থেকে পড়তে হয়, লিখতে হয়। আমরা বাংলা ইংরেজী বাম দিক থেকে ডান দিকে লিখি বা পড়ি। রাজনৈতিক আচরণের সুবিধার্থে আজকাল টুপি দাড়ি, আরবী বই, এসবকে এক নির্দিষ্ট চিহ্নের মাঝে বেধে দেয়া হচ্ছে। আরবী বই অর্থে কুরআন সে লিস্টের শিরোভাগে অবস্থান করে। এমন একটি গ্রন্থ যার তুলনা পৃথিবীতে আর দুটি নেই। এটি কোন মানবিক রচনা নয়। এটি স্বর্গীয় রচনা যদিও মানবিক পরিশ্রমে পাবলিশ হয়েছে প্রেস থেকে। এর প্রতিটি বাণী অক্ষর সাজানো গোছানো সবকিছুতেই ঐশ^রিকতার ছোঁয়া লাগানো। এর প্রকৃত বাহক (ফেরেশতা জিবরাইল) অদেখা এক সত্ত্বা যাকে মানবিক চোখে দেখা যায় না। তার উপস্থিতি টের পেতেন নবী মোহাম্মদ (সঃ), ধারণা হয় তার প্রিয়তমা স্ত্রী বিবি খাদিজা কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি কিছুই দেখতেন না বা টের পেতেন না। নবীর আচরণে কিছু শারীরিক পরিবর্তন আসতো, শরীর কাঁপতো, শীত শীত অনুভূত হতো, যার জন্য তিনি এমন অবস্থায় তার শরীর ঢেকে দিতেও বলতেন। তাই রসিক আল্লাহ তাকে “কমলিওয়ালা” বলেও সম্মোধন করেছে। আজকের দিনে এ বইটি অনেকের চোখে শূল হয়ে বিঁধছে। অনেকে প্রচার করছেন এসব জঙ্গিদের বই। এসব পবিত্র গ্রন্থে সেক্যুলাররা অনেক সময় আগুন দিচ্ছেন পুড়াচ্ছেন, ভয়ও পাচ্ছেন না। তারা মনে করছেন, এসবই মিথ্যে জঙ্গিদের খেলা। টুপি দাড়িওয়ালা অনেক সহজ সরল মানুষ ধর্মটির সব জটিলতা কুটিলতা না বুঝলেও, তারা সৎ উদ্দেশ্যেই এসব ধারণ করে ও চলে। কিন্তু সেক্যুলার নামধারী সমাজ তাদেরে ভিণœ ধারাতে চিহ্নিত করে চলেছে। এটি এক বিরাট সংকট তৈরী করছে বাংলাদেশের সংখ্যা গরিষ্ট মুসলিমদের জীবনে।

অনেক সময়ই বিদেশের ইসলামিক স্কুলে বাচ্চাদেরকে এর মাহাত্ম্য শিক্ষককে বোঝাতে হয়। সহজভাবে একটি বাচ্চাকে প্রশ্ন করলেই সে বলে বসে এর অর্থ হচ্ছে “হাই” মানে “হ্যালো”। আসলে কি তাই? না, মোটেও তা না। জি মুনিরের উপরোক্ত ঘটনার গ্রহিতাও যে অনভিজ্ঞ অসচেতন শিশুদের মতনই একই উত্তর দিবেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই। বাংলাদেশে টিভির বাংলা অনুষ্ঠানে অনেককে ইদানিং বলতে শুনি, “শুভ সকাল”,“শুভ বিকাল” বা “শুভ রাত”। এর অর্থ কি? সকালটি বিকালটি রাতটি শুভ হোক, এইতো? এর বেশী কিছুই নয়। আর মুসলমানের “আস সালামু আলাইকুম” অনেক বেশী ব্যাপক ও অর্থবহ। এর অর্থ হচ্ছে “আল্লাহ তোমাকে শান্তি দান করুন” একজন শিক্ষক যখন তার ছাত্রদের এটি বলেন, তখন তার ছাত্ররাও সাথে সাথে বলে উঠে “ওয়ালাইকুম আস সালাম”। সুজনের কাছ থেকে এরকম একটি দোয়া প্রাপ্তির পর তারাও বসে থাকে না, প্রতি উত্তরে তারা বলে “আল্লাহ আপনাকেও শান্তি দান করুন ”। সারা বিশ^ জুড়ে যখনই একজন মুসলিম আর একজনকে এ দোয়া করে ঠিক তখনই প্রতিপক্ষও তাকে পাল্টা দোয়াতে আপলুত করে দেয়। এর সাথে কি শুভ সকাল শুভ বিকালের তুলনা চলে? মনে হয় চলে না। এ ধর্মের প্রতিটি জিনিসই অর্থবহ, সাবলীল ও সুন্দর। এটাকে বলা হয় “সালাম” অর্থ হচ্ছে শান্তি। এটি হচ্ছে শান্তির দোয়া। এক মুসলমান আর এক মুসলমানকে দেখলেই একে অন্যের জন্য দোয়া করে। এই পৃথিবীতে এরকম ব্যবস্থা আর কোন ধর্মধারীদের মাঝে এভাবে প্রচলিত নেই। সবারই এক একটি শব্দ জমা আছে কিন্তু এসবের তুলনা এ শব্দ সমষ্টির সাথে তুলনীয় নয়। তারপর সংকীর্ণতার অজ্ঞতার খেসারত হিসাবে সংকীর্ণ চিন্তা থেকে অনেকে অনেক কথাই বলেন। এসব করলেই কি তিনি মহান ও মহৎ হয়ে যান? না, এতে প্রমাণিত হয়, তিনি ঐ সুন্দরকে ধারণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ বলেই, বিশালকে তিনি এমন সংকীর্ণ গন্ডিতে জমা রাখেন। সাগরকে তিনি জলাশয়ে জমা রাখতে চান।

আমরা ছোটকালে শুনতাম আমাদের দাদারা বলতেন বর্তন(প্লেট), আনানাস (আনারস), তসতরি(পিরিচ), আমরা অনেকেই মনে করতাম আমদের দাদারা একদম গেঁয়ো। আসলে কি তাই? না, তারা প্রকৃতই খানদানী শব্দ ব্যবহার করতেন। যা আরবী ফারসি উর্দু ইংরেজী এরকম অনেক অনেক ভাষা থেকে সংগৃহীত আহরিত ও ব্যবহৃত ছিল যার প্রেক্ষিতে এক নতুন ভাষা স্থিতিলাভ করে, যার নাম বাংলা। “অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী” বলে একটি কথা আছে। আমাদের সেক্যুলাররা অনেক সময় ঐ অল্প বিদ্যার রুটিন ওয়ার্ক করছেন বলেই মনে হয়। আমি যা ধারণ করি তাই আমার ধর্ম। আমার প্রথম ধর্মশিM_Id_376239_Internationalক্ষক আমার মা। যেদিন ধর্মের কিছুই জানিনে সেদিন থেকে ধর্মকে চিনিয়েছেন। একটি ভাত যখন প্লেট থেকে পড়ে গেছে তখনই শিখিয়েছেন এ অনাচার আল্লাহ সইবেন না। তখনই প্রশ্ন উঠে এসেছে তিনি কে? কোথায় থাকেন? মনের সঙ্গোপনে আজো সে সব মনে গেঁথে আছে। সচেতনভাবে ধর্ম শিখতে নামি এর অনেক পরে। মুসলিম নন এমন বাংগালীদের এসব প্রশ্ন মনে হবার অবকাশ কম। কারণ মূর্তিপূজক হলে সাক্ষাৎ দেবতা থাকলে নিরাকারের প্রশ্ন আসার কোন জায়গা খালি থাকে না। তাই আমার মন মানসিকতা আর আমার হিন্দু বান্ধবীটির মন মাসনিকতা কোনদিনও এক হবে না। আমরা পাশাপাশি থাকলেও দুই জন হবো দুই ভুবনের বাসিন্দা। আমার মুসলিম সেক্যুলার বান্ধবীরা কেমন হবেন আমি জানি না। তবে তারাও হয়তো বাড়তি কিছু উপলব্ধির জটিলতাতে কম বেশী ভোগবেন। এসব জটিলতার শুরু আজ নতুন নয়। সেক্যুলার হচ্ছে না এপার না ওপার, যেন দু নৌকায় পা দেয়ার ফায়দা লুন্ঠনকারী। কালের অবগাহনে সংকীর্ণ স্বার্থে সমাজে এরা জায়গা করেছে।

পশ্চিমারা কেন ইসলামকে ভয় করে !! উত্তর দিচ্ছেন ডঃ জাকির নায়েক

 

কবি নজরূল ইসলাম ছিলেন বিশাল হৃদয়ের একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ আমরা সবাই জানি। তারপরও তাকে সেক্যুলার বলুন আর সাম্প্রদায়িক মুসলিম বলুন তাকেও এ পথ মাড়াতে হয়েছে। সে লড়াই তাকে করতে হয়েছে সাধারণের সাথে তো বটেই, এমনকি খোদ তার গুরুকবির সাথেও। তার লেখা থেকেই উদ্ধৃত করছি, “কবিগুরু আমায়ও বাণ নিক্ষেপ করতে ছাড়েন নি। তিনি বলেছেন, আমি কথায় কথায় রক্তকে ‘খুন’ বলে অপরাধ করেছি। কবির চরণে ভক্তের সশ্রদ্ধ নিবেদন, কবি তো নিজেও টুপি পায়জামা পরেন, অথচ, আমরা পরলেই তার এত আক্রোশের কারণ হই কেন, বুঝতে পারিনে। এই আরবি ফার্সি শব্দ প্রয়োগ কবিতায় শুধু আমিই করিনি। আমার বহু আগে ভারতচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ প্রভৃতি করে গেছেন। আমি একটি জিনিস কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করে আসছি। সম্ভ্রান্ত হিন্দু বংশের অনেকেই পায়জামা-শেরওয়ানি-টুপি ব্যবহার করেন, এমন কি লুঙ্গিও বাদ যায় না। তাতে তাদের কেউ বিদ্রুপ করে না। তাদের ড্রেসের নাম হয়ে যায় তখন ‘ওরিয়েন্টাল’ কিন্ত ওগুলোই মুসলমানেরা পরলে তারা হয়ে যায় “মিয়া সাহেব”। মৌলানা সাহেব আর নারদ মুনির দাড়ির প্রতিযোগিতা হলে কে যে হারবেন বলা মুশকিল। তবু ওনিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপের আর অন্ত নেই। আমি তো টুপি –পায়জামা-শেরওয়ানি-দাড়িকে বর্জন করে চলেছি শুধু ঐ “মিয়া সাহেব” বিদ্রুপের ভয়েই, তবুও নিস্তার নেই। এইবার থেকে আদালতকে না হয় বিচারালয় বলবো, কিন্তু নাজির-পেশকার-উকিল-মোক্তরকে কি বলবো? কবিগুরুর চিরন্তনের দোহাই নিতান্ত অচল। তিনি ইটালিকে উদ্দেশ্য করে এক কবিতা লিখেছেন। তাতে – “উতারো ঘোমটা” তাকেও ব্যবহার করতে দেখেছি। “ঘোমটা খোলা” শোনাই আমাদের চিরন্তন অভ্যাস। “উতারো ঘোমটা” আমি লিখলে হয়তো সাহিত্যিকদের কাছে অপরাধীই হতাম। কিন্ত “উতারো” কথাটা যে জাতেরই হোক ওতে এক অপূর্ব সঙ্গীত ও শ্রীর উদ্বোধন হয়েছে ওজায়গাটায়, তা তো কেউ অস্বীকার করবে না। ঐ একটু ভালো শোনাবার লোভেই ঐ একটি ভিনদেশী কথার প্রয়োগে অপূর্ব রুপ ও গতি দেওয়ার আনন্দেই আমিও আরবি ফারসি শব্দ ব্যবহার করি। কবিগুরুও কতদিন আলাপ আলোচনায় এর সার্থকতার প্রশংসা করেছেন। আজ আমাদেরও মনে হচ্ছে আজকের রবীন্দ্রনাথ আমাদের সেই চিরচেনা রবীন্দ্রনাথ নন। তার পিছনের বৈয়াকরণ পন্ডিত এসব বলাচ্ছে তাকে। “খুন” আমি ব্যবহার করি আমার কবিতায় , মুসলমানি বা বলশেভিকি রং দেওয়ার জন্য নয়। হয়তো কবি ওদুটোর একটাও রং আজকাল পছন্দ করছেন না, তাই এত আক্ষেপ তার। আমি শুধু “খুন” নয়, বাংলায় চলতি আরো অনেক আরবি ফার্র্সি শব্দ ব্যবহার করেছি  আমার লেখায়। আমার দিক থেকে ওর একটা জবাবদিহি আছে। আমি মনে করি, বিশ^কাব্যলক্ষির একটা মুসলমানি ঢং আছে। ও সাজে তার শ্রীর হানি হয়েছে বলেও আমার জানা নেই। স্বর্গীয় অজিত চক্রবর্তীও ও ঢং এর ভূয়শী প্রশংসা করে গেছেন। বাঙলা কাব্য লক্ষীকে দুটো ইরানী জেওর পরালে তার জাত যায় না, বরং তাকে আরও খুবসুরতই দেখায়। আজকের কলা লক্ষীর প্রায় অর্ধেক অলঙকারই তো মুসলমানী ঢংএর, বাইরের এ ফর্মের প্রয়োজন ও সৌকুমার্য সকল শিল্পীই স্বীকার করেন। পন্ডিত মালবিয়া স্বীকার করতে না পারেন, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ স্বীকার করবেন।” (শ্রেষ্ঠ নজরুল, বড়র পিরীতি বালির বাঁধ, ৪৭৫-৪৭৬পৃষ্ঠা) উপরের এ প্যারাটি আমি কবির সাহিত্য গ্রন্থ থেকেই টুকে নিলাম।

ভাষার প্রশ্নে মাতৃভাষার মূল্যায়নে বাংলাদেশ উর্দুর সাথে লড়াই করেছে। কিন্ত কি হলো আধৃুনিক বাঙ্গলাদেশীদের? সেক্যুলারিটির কবজাতে পড়ে হিন্দির আগ্রাসনে আজ বাঙ্গাHefazat_1লীর মৃত্যুদশা। এ অপকালচারে ডুবতে বেসেছে বাংলাদেশের অস্তিত্ব। এর প্রতিবাদ দেশের সর্বত্রই হচ্ছে, দেশের অনেকেই করেন। আমরা টের পাই কম, কারণ আমরা এখানে হিন্দির গোলামীতে নই। তারপরও ধারেকাছে অনেক আত্মবিকৃতরা ঐ রোগে আক্রান্ত থাকতে পারেন। হিন্দু বা উর্দুতে বিতন্ডা বাধতে পারে। উর্দু সংস্কৃতি মুসলিমের সাথে গেলেও হিন্দি সংস্কৃতি কোনভাবেই মুসলিমের সাথে খাপে খাপে যাবে না। প্রমাণ হিসাবে তখন নজরুলের সাথে রবীন্দ্রনাথের ঠুকাঠুকি হবেই, এটিই স্বাভাবিক। এটি শুধু ধর্মের কারণেই নয়, সংস্কৃতির ভিন্নতা দু সমাজের দু রকম, অস্বীকার করার উপায় নেই। তারপরও তারা মিলেমিশে কাটিয়েছে, যতদিন না বৃটিশের কপট দৃষ্টি তাদের উপর পড়েছে তখন থেকেই তাদের মাঝে এ বিভেদের মাত্রা কাজ করেছে বহুগুণ শক্তিধর হয়ে, ইতিহাস তাই বলে। মুসলমান যতটুকু অসাম্প্রদায়িকতার প্রাকটিস করতে পেরেছে হিন্দুরা সেটি করতে অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে, এর প্রমাণ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশে বিদেশে, খোদ ভারতে এটি মহামারী রুপে বারে বারে আবির্ভুত হয়। আজকের ছাপা হওয়া কলাম থেকেই উদাহরণ দিচ্ছি (০৬ অক্টোবর ২০১৫, আমাদের সময়.কম) খবরের শিরোনাম “বাবাকে পিটিয়ে হত্যার পরও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চান সরতাজ”। ভারতের দাদরিতে গরুর মাংস রাখার মিথ্যা গুজবে উগ্র হিন্দুর হিং¯্র আক্রমণে বয়োবৃদ্ধ খামারি মজুর আখলাক(৫৮)কে পিটিয়ে মারা হয়। তার ছেলে মুহাম্মদ দানিশ(২২) হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। আর তার ছোট ভাই মুহম্মদ সরতাজ পরিবারের এত বড় বিপদে ভেঙ্গে পড়েছেন কিন্তু তারপরও ধৈর্য্যহারা হন নাই। কবি আল্লামা ইকবালের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, বাবা মারা গেছেন, তবু বলবো, “সারে জাঁহা সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা”। এমন ঘোর বিপদের দিনেও তার মুখে কোন তিক্ততা প্রকাশিত হয়নি। তিনি আরো বলেন, আমাদের আদর্শ কখনো পরষ্পরের সঙ্গে শত্রুতার শিক্ষা দেয় না। ভালো মানুষের পাশাপাশি মন্দ লোকও রয়েছে। তার ক্ষোভ সবার বিরুদ্ধে নয়, একমাত্র আসামীর বিরুদ্ধে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার তিনিও চান। এর নাম হচ্ছে ইসলাম, কার্যত এটি এমন এক ধর্মগ্রন্থ যা একটি অনাহুত মৃত্যুকেও সমর্থণ করে না, হোক সে যে কোন ধর্মধারী। এ আয়াত নির্দেশ করে “যে একজনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলো যেন সে গোটা মানবজাতিকে হত্যা করলো আর যে একজনকে বাঁচালো যেন সে গোটা মানবজাতিকে বাঁচালো” (আল মাইদাহ এর ৩২ আয়াত) । এখানে বলা নেই যে তাকে শুধু মুসলিমই হতে হবে। তাকে হতে হবে মানব সম্প্রদায়ের একজন। এ গ্রন্থ আসে নাই শুধু মুসলিমদের জন্য একাই, বরং সমস্ত মানব জাতির উদ্দেশ্যেই এ গ্রন্থ নিবেদিত হয়েছে। “আমি তো তোমাকে সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না” (সুরা সাবার ২৮ আয়াত)। তাই কাউকে অন্যায় আঘাত করা যাবে না। ধর্মকে আত্মায় অন্তরে ধারণ কর্তে না পারার বদৌলতে অনেক সেক্যুলাররা অমার্জনীয় অপরাধ করে চলেছেন। দেখা যায় কার্যত সেক্যুলাররাই সাম্প্রদায়িক নির্যাতনে বাড়তি উৎসাহবোধ করেন কিন্তু প্রকৃত ধর্মধারী মুসলিম এটি করতে অপারগ কারণ তাদের হাতপা সত্য ও নীতির সাথে বাধা। আল্লাহ সঠিক ধর্মটি ধারণ করায় সবার সুমতি দিক।

 

নাজমা মোস্তফা,   ০৬ অক্টোবর ২০১৫।

Tag Cloud