Articles published in this site are copyright protected.

Archive for February, 2015

কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা

ফ্রান্সের প্যারিসে নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কার্টুন এঁকে যে হাস্যকর তামাশার সূত্রপাত হয় তা অনেক দূর গড়ায়। শুধু এটিই নয়, প্রায়ই বেশ ক বছর থেকে এসব হচ্ছে। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে মুসলিম বিরোধী “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” ম্যূভিটি সারা মুসলিম বিশে^ বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন একটি কলাম লিখেছিলাম “ইনোসেন্স অব মুসলিমস: এক উদভ্রান্ত পাগলা ঢিলের নাম” শিরোনামে। প্রায়ই এসব হয় এবং হচ্ছে, ডেনিশ কার্টুন সাম্প্রতিক সময়ের কার্টুন এসব নিয়ে নাস্তিকদের সাইটে সারা বছরই কলমের মল্লযুদ্ধ লেগে আছে ইসলামিস্টদের সাথে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কখনো মুসলিমরা বিরোধীকে আঘাত করছেন কখনোবা তারা নিজেরাও নিহত হচ্ছেন। কথা হচ্ছে ফাস্টবয়কে লাস্টবয়রা সবদিনই ঘৃণা করে এবং করবে। এতে ক্ষিপ্ত না হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তির মাঝে জবাব দেয়াই উত্তম বলে মনে করি। কারণ যার কাছে যুক্তি সে জিতবেই, তার হারার কোনই সম্ভাবনা নেই। ফ্রান্সের কার্টুনিস্ট চার্লি হেবদো তার ম্যাগাজিনে এক গুচ্ছ কার্টুন এঁকে সারা বিশে^ বেশ বড় রকমের নাড়া তৈরী করতে সক্ষম হয়। এ রোগ ২০১১, ২০১২, ২০১৫ ক্রমেই এসব হচ্ছে একের পর এক, গোটা বিশ^ দেখছে। সাম্প্রতিক সময়ে ২রা জানুয়ারীর ২০১৫ তে দেখা যায় দুজন লোক সশস্ত্র সাজে সজ্জিত হয়ে এক নাগাড়ে ঐ কার্টুনিস্টসহ তার সাথের আরো ১২জন মানুষকে প্রকাশ্য ময়দানে গুলি করে বসে। প্রথমে ১১জন মারা যায় এবং সেখানে আরো ১১জন আহত হয়। ঠিক ঐ সময় সেখানে একজন ফ্রেন্স মুসলিম পুলিশও ঐ বিতন্ডাতে চার্লি হেবদোর পক্ষে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে খুন হয়। মিডিয়া সমান গলাতে প্রচার করছে এসব করেছে মুসলিম টেররেস্ট জঙ্গিরা।

10 Lies You Were Told About Islam!

ওদিকে ১১ই জানুয়ারীতে ৪০টি দেশে হর্তাকর্তাসহ এর প্রতিবাদে জড়ো হন প্যারিসের সব মিলে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ। সেদিন তাদের সবার হাতের পতাকাতে একটি ম্যাসেজই ছিল “জে স্যুট চার্লি” এর অর্থ হচ্ছে “আমি চার্লি।” এর প্রায় এক মাস পর ১১ই ফেব্রুয়ারীতে নর্থ ক্যারোলিনার ইউনিভার্সিটি টাউন অব চ্যাপেল হিলে তিনজন মুসলিম নিহত হয় যাদের মাঝে এক দম্পতি স্বামী স্ত্রীসহ তিনজন, তৃতীয়জন ঐ মেয়েটির বোন একসাথে একজন সন্ত্রাসীর হাতে মারা যায়। এর ধারাবাহিকতায় ৪৬ বছরের স্টিফেন হিক্সকে আক্রমণকারী হিসাবে পুলিশ আটক করে। এসব ঘটনার পর আমার মনে ঐ কার্টুন দেখার বিষয়ে কিছু উৎসাহ তৈরী হয় যার প্রেক্ষিতে আমি ওগুলো খুঁজতে থাকি। যদিও ফ্রেন্স ভাষা না জানাতে তাদের প্রতিটি কথার অর্থ আমি বুঝতে পারিনি, তবে কিছু ধারনা পাই কিছু কার্টুনের আকার ইঙ্গিত দেখে। দু একটি ছবি দেখার পর আমার এসব দেখার উৎসাহ কমে আসে। কারণ সেই পুরনো একই খেলা কত আর শোনা যায় বা দেখা যায়, জনম জনম থেকে সেই এক সাপের নাচন খেলা, ওসব দেখতে কি আর মন চায়? মনে হলো মিডিয়া, চার্লি ও অন্যান্য কার্টুনিস্টরা যা করছে, এসব কত যে বড় রকমের হাস্যাস্পদ কাজ তারা করছে, সেটি তারা নিজেরাও চিন্তা করতে পারছে না। এটা অনেকটা মিথ্যার সাথে যুদ্ধ করার মত, ছায়ার সাথে যুদ্ধ করার মত ব্যাপার। ইতিহাসে প্রমান পাওয়া যায় কিছু জনেরা নবী ইসা (আঃ)কে বাস্টার্ড গালি দিয়ে চরম প্রশান্তি অর্জন করেছে। তখনকার ইহুদী রাব্বিরা তাকে শূলে চড়ায়, তাদের দাবী অনুযায়ী তাকে ক্রুশে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঐ ঘটনার আলোকে মানুষটিকে টিটকারী মশকরা করার কোন কমতি তারা রাখে নাই। থুথু ছিটিয়েছে, মাথায় কাটার মালা পরিয়েছে, বাস্টার্ড বলে গালি দিয়েছে, একই  আদর্শের দিশা ধরে ভিন্ন আরেকদল যখন নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে একজন যুদ্ধবাজ, নারী নির্যাতনকারী বা নারী লোভী হিসাবে উপস্থাপন করে চরম তৃপ্তি পেতে চায়। যখন একজন সম্মানিতকে কোনভাবেই অবদমিত অপমানিত করার সুযোগ থাকে না, তখন অসুস্থ জনতারা মনের স্বান্তনার জন্য এসব অপবাদকে মুখরোচক হিসাবে গ্রহণ করে, আর ওতেই স্বান্তনা পেতে চায়। বস্তুত এসব করে তারা নিজের অন্তরের হিংসার ক্ষতের উপর প্রলেপ লেপে দিতে চায়।

মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও আল্লাহর অস্তিত্ব ( গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মন্তব্য সমূহ )

 

ধর্ম এক চরম মিথ্যাচার, এ বিতন্ডার কোন সুযোগ নেই। এর প্রধান প্রমান হচ্ছে এক ধর্মের সাথে অন্য ধর্মের একাত্বতা। ইহুদী খৃষ্টান আর ইসলাম, ধর্মের যোগসূত্রে বাধা এরা তিন। সোজা করে তাকালেই দেখা যায় এরা সবাই এক ঘরের মানুষ, মূলত এরা এক আলোর দিশারী। এমনও দেখা গেছে যারা যৌবনে ধর্ম মানেনি তারাই প্রৌঢ় হলেই ধর্মের ঘাড়ে ভর করতে দাঁড়াতে চেয়েছে। কিন্তু যখন গায়ে শক্তি থেকেছে তখনই শক্তির বাহাদুরিতে ধর্মকে অবজ্ঞা করেছে বহু বেশী, হয়েছে নাস্তিক। ধর্মের এ বিতন্ডা দেখে নাস্তিকতায় স্বান্তনা খুঁজেছে অনেকে, এ হচ্ছে বোকামীর ধর্ম দর্শন। দেখা যায় ইসলামকে প্রতিপক্ষ জেনে সেই সপ্তম শতাব্দী
থেকে চলছে এসব লড়াই। আজ এreligion.blogs.cnn.comত পরেও সেটি শেষ না হয়ে বরং যেন দিনে দিনে মহিরুহ হয়ে উঠছে। তাই মহিরুহের অবস্থানকে স্পষ্ট করার দায়িত্ব ছিল আমাদের প্রতিটি ধর্মধারীর। যারা এর পেছনে রসদ যুগিয়ে চলেছে, তাদের স্বযতœ তদারকিতে এটি বেড়েই চলেছে। আর যাদের দায়িত্ব ছিল এসব জটিলকে খোলাসা করার তারা দিনে দিনে ধর্মের মূল গবেষনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বরং উল্টো বিরোধীকে রসদ যুগিয়ে গেছে। এরকম বহু উদাহরণ চারপাশে ছড়ানো আছে।  এ শতকের শুরুতে ৯/১১ এ ঘটে ভিন্ন রকম যুদ্ধের সূচনাপর্ব। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশ একে “ক্রুসেড” বলে ডাক দিলেও প্রতিবাদ উঠলে তাকে ‘সরি’ বলতে হয়েছে। কিন্তু প্রথমে সময় ক্ষ্যাপন না করে তিনি ক্রুসেডের ডাক দেন। সভ্যতার যে সংকটের আশংকা করেছে সচেতনরা, তারা ওটি নির্মুল করতে আজ নতুন করে ভাবছে কিভাবে প্রত্যেকের ই-মেইল ইন্টারনেট চেক করবে। এতে মানুষের প্রাইভেসির মাত্রাটি একদম শূন্যের কোঠাতে নেমে আসবে, সন্দেহ নেই। তারপরও কি যুদ্ধকে সামাল দেয়া যাবে বলে মনে হয়, যদি না এসব মিথ্যা ক্যারিক্যাচার বন্ধ হয়?

ফিলিস্তিনের কলিজাতে কামড় : বিগত শতকে হিটলার (অনেকের ধারণা মতে ৬০ লাখ) ইহুদী নিধন করে সহজ একটি সমাধান করতে চান। এতে কতদূর যে সমাধান হয়েছে তা ইতিহাসই সাক্ষী। বরং এক হিটলারের বদলে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে ইহুদীরাই পরবর্তী বিশে^র হিটলার হয়ে নতুন জন্মে ফিলিস্তিনের কলিজাতে কামড় দিয়ে চলেছে। যদিও ফিলিস্তিনিরা এর জন্য মোটেও দায়ী নয়, জার্মান হিটলারের দায় তাদের ঘাড়ে চাপার কথা নয়, কিন্তু অবিবেচকের মত বিশ^ মোড়লরা এ ব্যাপারে চরম অনাচার করে বিধাতার দরগাহে খুব বড়দাগেই আজকের দন্ডধারী আসামী। বড়কর্তারা যারা শুরু থেকেই এর পেছনে তেল যুগিয়েছে তাদের ঘাড়েই এর দায় বর্তায়। সেখানে দেখা যায় নিরপরাধ প্যালেষ্টিনিয়ানদের শিশু, মেয়ে, মহিলা, পুরুষ কারো মুক্তি মেলেনি, ঐসব দানব স্বরুপ পরবর্তী নকল ইহুদী নামধারীদের অত্যাচার থেকে। তাদেরে স্বগৃহ থেকে বের করে নিয়ে সর্বস্ব লুন্ঠন করে পথে বসিয়েছে, এমন অনাচার নাই যা তারা করে নাই। জাতিসংঘ নির্ধারিত স্কুলেও হামলে পড়তে তাদের বাধে নাই। বাড়ির মূল কর্তাকে বের করে নিয়ে গোটা বিশ^ থেকে ছন্নচ্ছাড়াদেরে ধরে ধরে এনে নতুন বসতি গড়ে তোলে। আরবে ইসরাইলের বিষয়টি ভয়ংকর গবেষনাতে বের হয়েছে ইসরাইলীয়রা কোন দিনই ঐ মাটির সাথে যুক্ত নয়। তারা খাজারসহ অন্য সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। কিন্তু বৃটিশ পরাশক্তি এদেরে কৌশলে প্যালেষ্টিনিয়ানদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। যার সাথে ইতিহাস ধর্মের কোন যোগাযোগ নেই। সবই ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ। নবী ইসা এসেছিলেন একজন আঞ্চলিক নবী হয়ে বাইবেলের হিসাবেও ইহুদীদের হারানো গোত্রের সন্ধানকর্তা হিসাবে এসেছিলেন, তিনি ছিলেন আঞ্চলিক নবী। বাইবেল বলে, “তিনি (জিসাস ক্রাইস্ট) উত্তরে বলেন, ইসরাইল কুলের হারানো মেষ ছাড়া আর কারো নিকট আমি প্রেরিত হই নাই” (বাইবেল, ম্যাথ্যু ১৫:২৪ আয়াত)। দেখা যায় যে মুসার অনুসারী ইহুদীদের খুঁজে দেখার কাজে তিনি এসেছিলেন, তারাই তাকে এর মাঝেই শুলে চড়ায়। এরা বিভ্রান্ত হয়েছিল বলেই পরবর্তী নবী ঈসা (আঃ)কে আসতে হয়। এবং নবী ঈসার অনুসারীরাও বিভ্রান্ত হয়েছিল বলে তারও পরবর্তী আর একজনকে আসতে হয়, তিনি হচ্ছেন শেষ নবী মোহাম্মদ (সঃ)। তার হতেই ধর্ম পূর্ণতা লাভ করে। আল্লাহ বলেন, “যারা অবিশ^াস পোষন করে তারা আজকের দিনে তোমাদের ধর্ম সম্বন্ধে হতাশ^াস হয়েছে, কাজেই তাদের ভয় করো না, বরং ভয় করো আমাকে। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম ব্যবস্থা পূর্ণ করলাম” (সুরা মায়েদার ৩ আয়াত)। ধারাবাহিক ২৩ বছরে ধর্মটি এভাবে পূর্ণতা পায়। তারপরও এর মাঝে কোন জটিলতা ধরা পড়লে বা তৈরী হলে তাও ঐ কুরআনের প্রথম বাণী “পড়” কথার অনুসরণে ধর্মধারী জনগণকেই প্রয়োজনে চর্চা গবেষনা করে সঠিককে বেছে নিতে হবে এবং তারই সাধনা করতে হবে। বিদায় হজে¦র বাণীতে ছিল মিথ্যা ‘চিরতরে দূরিভূত হয়েছে’।

প্রায় দুই হাজার বছর পরের ইতিহাসে সারা বিশ^ থেকে ছন্নচ্ছাড়াদেরে ধরে এনে প্যালেস্টাইনে ঠাঁই দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বৃটিশ এমপি মিঃ ডেভিড ওয়ার্ড ইসরাইলী প্রাইম মিনিস্টার বেনজামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঐ প্যারিস সংহতিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারীর ১১ তারিখে। এবং তিনি শুধু প্রতিবাদই করেন নাই তার প্লেকার্ডের বানী ছিল “জে স্যুট প্যালেস্টাইন” “আমি প্যালেস্টাইনী” ছিল তার প্রতিবাদের শ্লোগান। গাজার হামলার প্রতিবাদে তিনি বলেন, “আমি যদি তখন গাজাতে থাকতাম, আমি ইসরাইলের প্রতি রকেট নিক্ষেপ করতাম”। ৬০ বছরেরও বেশী সময় থেকে প্যালেস্টাইনীরা এ মার খেয়ে যাচ্ছে। যদিও সমস্ত বিশে^র সুজনদের মেধাবীদের শরীরের উপর বিবেক নামের মস্তিষ্কটি আজো সচল আছে এবং ছিল। যে ধর্ম দিয়ে বিরুদ্ধবাদীরা ইসলামের জনতাকে পাগল ঠাওর করতে চাচ্ছেন মুক্তির রাস্তা খুঁজতে এমন জটিল সময়ে সে গ্রন্থ থেকে কিছু বানী আনছি। সে গ্রন্থে পাওয়া যায় খৃষ্টানরাই মুসলিমের সবচেয়ে কাছের স্বজন। আর ইসলামের শুরু থেকেই এর সর্বনাশ  ও ধ্বংস সাধনে ইহুদীরা অতোপ্রতোভাবে জড়িত থাকার ইতিহাস পাওয়া যায় সর্বত্র। নবী মোহাম্মদকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের সাথে তারা বারে বারে জড়িত থেকেছে। এসব আচরণের কিছু দাগ চিহ্নও পবিত্র গ্রন্থ কুরআনে পাওয়া যায়। এতে ইহুদীদের কপটতা ও খৃস্টানের সহজতা ধরা পড়ে (সুরা মাইদাহ এর ৮২ আয়াত)। অতীতে ইহুদীরাই নবী ইসাকে অর্থাৎ জিসাসকে নিয়ে মশকরা করেছে আর আজকে তারা দুদলই (ইহুদী ও খৃষ্টান) নবী মোহাম্মদকে নিয়ে মশকরা করছে, আর নাস্তিক্য ধারার কারণে এসব বেড়ে চলেছে। যদিও ধর্মের একত্ব যেখানে লক্ষ্য করা যায়, সেখানে এসব হবার কথা ছিল না।

বিবি আয়েশার বিয়ে: (কুরআনে সুরা নিসার ৫ ও ৬ আয়াতে) দেখা যায় আল্লাহর নির্দেশ এসেছে কিভাবে সংশ্লিষ্টরা একজন সাধারণ মুসলিম অনাথের প্রতি আচরন করবেন। সেখানে বলা হয় তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে যতদিন না তারা বিবাহযোগ্যা হয়ে উঠে ততদিন তাদের দেখভাল করতে হবে, তাদের সহায় সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে তা নষ্ট করা যাবে না। অতপর তাদের সম্পত্তি তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। সবার শেষে সাবধান বাণী হিসাবে বলা হয় হিসাব রক্ষক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। ইসলামের এরকম একটি নির্দেশের পর কেমন করে নবী মোহাম্মদ (সঃ) একজন ৬ বছর বা ৯ বছরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারেন বলে যা চৌদ্দশত বছর পরও বিরোধীর জ¦ালা হয়ে জ¦লছে। ধারাবাহিকভাবে সমাজে এ নিয়ে বিতন্ডা তৈরী করা হচ্ছে। সবার উপর আবু বকর ছিলেন বিবি আয়েশার বাবা, বাবার কষ্টের চেয়েও আজকের বিরোধীর কষ্ট যেন বহুগুণ বেশী। তিনি এমন একজন বিচক্ষণ সাহাবা (নবীর সহচর) যাকে নবীর পরই খলিফার মর্যাদা দেয়া হয়। এতে কি এসব স্পষ্ট হয় না, এসবই বিরুদ্ধবাদীদের অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়? সবচেয়ে বড় কথা নবী মোহাম্মদ(সঃ) ২৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত এক স্ত্রী বিবি খাদিজা ছাড়া আর কারো পানি গ্রহণ করেননি। ঐ সময় তার ঘরে চার চারজন মেয়ে ফাতেমা, কুলসুম, রোকেয়া, জয়নব এদের রক্ষণাবেক্ষনের জন্যও একজন বুদ্ধিমতি যোগ্য অভিভাবকের সংবাদ নিয়ে খাওলাহ নামের এক মহিলা বিবি আয়েশার নাম উচ্চারণ করে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসেন, তখন নবীর ৫৫ বছরে ঐ বিয়ে হয়। এসব ক্ষেত্রে যে বা যারা আরবী ভাষাটি জানেন তারা ভাল করেই জানেন “বিকর” শব্দটি কখনোই কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর জন্য বা নয় বছরের বাচ্চার জন্য ব্যবহার হয় না। এটি একমাত্র তার জন্যই ব্যবহার হয়েছে যে এরি মাঝে বিবাহযোগ্যা (তাইয়্যিবা) হয়ে উঠেছে। আমি দেখেছি অনেক মুসলমানও বিষয়টি ভালো করে জানেন না। অনেকে সহিহ হাদিসের দোহাই দিয়ে এরকম কুরআন বিরোধী মিথ্যার প্রচার করে ধর্মের বারোটা বাজিয়ে চলেছেন, যার ইন্ধনে গোটা বিশে^ লঙ্কাকান্ড চলছে। সহি হাদিসের বড় শর্ত হচ্ছে তা কুরআন বিরোধী হতে পারবে না। কোন হাদিস কুরআন বিরোধী হলে, তা বাতিল বলে গন্য হবে, এটি হাদিসের প্রধান শর্ত। সারা বিশ^ই আজ বিবি আয়েশার মা বাবা সেজে যুদ্ধের মাঠে নেমেছে। বিবি আয়েশা আজ তাদের হাতের গিনিপিগ। আর বিরোধীরা মহা উৎসাহে এসবের উপর নটনৃত্য চালিয়ে যাচ্ছে। কার্টুন রচিত হচ্ছে এসব ভুলের উপরই রঙ্গমেলা চলছে, কলমের কালিতে কার্টুনের আঁকিবুকিতে ওটিই ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।

রাসুল সাঃ কে নিয়ে কেউ ব্যাঙ্গ করলে মুসলিমদের কি করনীয় ডাঃ জাকির নায়েক

দেখা যায় বেশীর ভাগ কার্টুনের ক্যারিকেচার হচ্ছে বহু বিবাহ, বিবি আয়েশার বিয়ে, যুদ্ধবাজ ধর্ম এসব নিয়ে বিতন্ডা। আমরা সবাই জানি বাইবেলে বহু বিবাহ একটি সাধারণ ঘটনা। নবী ইব্রাহিমের দু সন্তান ইসমাইল ও ইসহাক দু মায়ের দু সন্তান। তাই বলে ওসব নিয়ে ইসলামে কোন বিতন্ডা করতে দেখা যায় না বা কোন বিতন্ডা বাধে না। ইসলামের বক্তব্যও এক বিয়েতেই টিকে, সুরা নিসার ৩ আয়াতে শর্ত হচ্ছে একাধিক  স্ত্রী থাকলে সবার সাথে সমতা রাখতে হবে, এবং সেটি জটিল। তোমরা একাধিকের সাথে সমতা রাখতে পারবে না (৪:১২৯) তাহলে একজনকেই এবং এটিই বেশী সঙ্গত” (সুরা নিসার ৩ আয়াত)। ইসলামের শক্তি প্রবল বলেই হয়তো মিথ্যা গল্প জুড়ে কুরআন, মোহাম্মদ, ও ইসলাম নিয়ে মশকরা করার লোকের বিধর্মী বা নাস্তিকের কোন কমতি নেই এ পৃথিবীতে, কোন যুগেই এদের কমতি হয়নি। বেশীর ভাগ বিতন্ডাকারীদের কথা হচ্ছে বিবি আয়েশার বিয়ে হয়েছে ৬ বছর বয়সে আর ঘরে তোলা হয়েছে ৯ বছর বয়সে। গোটা বিশে^ এরকম অনেক কর্ম অপকর্ম আছে যার কোন অভাব নেই কিন্তু ইসলামকে নিয়ে এ ক্যারিকেচার যেন কিয়ামত পর্যন্তই চলবে। সেদিন যখন কার্টুন খুঁজতে থাকি তখন দুটি আঁকিবুকি আমার কাছে স্পষ্ট হয় একটি চাকাওয়ালা বাহনে দেখা যায় নবী মোহাম্মদ (সঃ) ও ছয় বছরের বাচ্চা আয়েশা বসে আছেন এবং ছবিতে টেগ লাগানো আছে যে মোহাম্মদ ও তার কনে আয়েশা এরকম কিছু একটা। অন্য একটি ছবিতে এক মুসলিম সম্ভবত নবী স্বয়ং কুরআন হাতে দাঁড়িয়ে আর দূর থেকে সেখানে শেলের মত কিছু এসে কুরআনকে বিদ্ধ করছে। যেন কুরআনের সাথে যুদ্ধ চলছে, অস্ত্রের যুদ্ধ। আজ থেকে প্রায় বারো তেরো বছর আগে ইন্টারনেটে নাস্তিকের সাথে যুদ্ধ করতে যেয়ে এর জবাবে ১৬ টি পয়েণ্টের ভিত্তিতে যুক্তি  খুঁজে পাই যেখানে প্রমাণিত হয় যে, বিবি আয়েশার বিয়ে মোটেও ৬বা ৯ বছরে হয় নি, বরং বিয়েটি হয় ১৯ বছর বয়সে তার বহুবিধ প্রমান পাওয়া যায়। কিভাবে মিথ্যার সাথে আজ চৌদ্দ শতাব্দী পরও তারা যুদ্ধ করে চলেছে, যেন ছায়ার সাথে যুদ্ধ করছে। ওখান থেকে শুধু কুরআনের যুক্তিটুকুই যথেষ্ট মনে করে আনছি, কারণ এটি আল্লাহর বানী। “আর এতিমদের পরীক্ষা করে দেখবে যে পর্যন্ত না তারা বিবাহ বয়সে পৌছে যায়, তারপর যদি তাদের মধ্যে বিচারবুদ্ধি দেখতে পাও তবে তাদের সম্পত্তি তাদের হস্তার্পন করবে, আর তা মাত্রাতিরিক্তভাবে ও তাড়াহুড়া করে খেয়ে ফেলো না পাছে তারা বড় হয়ে যাবে (এই আশঙ্কায়) আর যে অবস্থাপন্ন সে যেন বিরত থাকে, আর যে গরীব সে ন্যায়সংগতভাবে খায়। তারপর যখন তোমরা তাদের সম্পত্তি তাদের ফিরিয়ে দাও তখন তাদের সামনে সাক্ষী ডাকো। আর হিসাবরক্ষকরুপে আল্লাহ যথেষ্ট” (সুরা নিসার ৬ আয়াত)। 

বাকী অনেক হাদিস ও ঐতিহাসিক যুক্তিতেও এসব বানোয়াট কথা টিকে না। এবন হেশাম, হালবি, এয়াবা প্রভৃতিতে পাওয়া যায় বিবি আয়েশা (রাঃ) সমরক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে সৈনিকদের সেবা শুশ্রুষা করেন। বিবি আয়েশা বদর যুদ্ধের ময়দানে সেবা শুশ্রুষা করেন। ইতিহাসে বা হাদিসে পাওয়া যায় প্রত্যক্ষ যুদ্ধের ময়দানে অংশ নেয়ার একটি বয়স নির্ধারিত আছে ১৫ বছরের নীচে কেউ যুদ্ধে যোগ দিতে পারতো না। এমতাবস্তায় তিনি ৬ বছরের বা ৯ বছরের হলে কেমন করে বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবেন। এরকম কোন যুক্তিতেই এসব টিকে না যে বিবি আয়েশার বয়স ৬ বা ৯ ছিল। সুক্ষ্মভাবে প্রতিটি কার্টুনের নষ্টামির স্পষ্ট জবাব দেয়া সম্ভব। তা না করে মিছামিছি খন্ডযুদ্ধ করার কোন মানে নেই। কারণ তা হলে ওতে অসহিষ্ণুতার উদাহরণ তৈরী হয়। মুসলমানকে ধৈর্য্য ধারণ করতে শক্ত করেই বলা হয়েছে। বিনিময়ে তাদের জন্য অফুরান পাওনা জমা আছে। সবার উপর মানুষকে কুরআনে বলা হয় আশরাফুল মকলুকাত। মানে মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আর এই শ্রেষ্ঠ জীবের স্বীকৃতি স্বরুপ মাথাটি তার প্রতিটি সুকর্মের প্রকৃত যোগানদাতা। তাই কাউকে নিয়ে মশকরা করার পূর্বে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার পূর্বে দরকার তার মূল ইতিহাসকে জানার। ঘটনার মূল গোড়াতে না পৌছে শুধু ডালপালা নিয়ে নাড়াচাড়া করলে ডাল ভেঙ্গে হাত পা ভাঙ্গার সমূহ সম্ভাবনাকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তারা ইহকালে কোনদিনও সফল হতে পারবে না। ধৈর্য্য ও সবরের আয়াতটি হচ্ছে: “তারাই শ্রেষ্ট যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করছে ও পরষ্পরকে সততা অবলম্বনে উপদেশ দিচ্ছে এবং পরষ্পরকে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিচ্ছে” (সুরা আল আসরের ৩ আয়াত)। ধৈর্য্য ধরার মাধ্যমে জটিলকে মোকাবেলা করার আহবান জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।

নাজমা মোস্তফা,  ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫।

Advertisements

Tag Cloud