Articles published in this site are copyright protected.

নীচে একটি ভিডিও মিস করবেন না।

বাংলাদেশে বিরোধীর ন্যুনতম রাজনৈতিক অধিকার রাস্তায় দাঁড়াবার অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ। ধড়পাকড়, রিমান্ড, গুলি, বেধড়ক পিটুনী, গণগ্রেফতার বাংলাদেশের চলমান বর্তমান। গণআন্দোলনে দিশাহারা সরকার এখনো বড় গলাতে বলে চলেছে “কারা বোমা বানায় ও ফাটায় খুঁজে বের করুন। সরকার প্রধান আরো বলেন, খালেদার আন্দোলনে কেউ সাড়া দেয় না; জনগণ ক্ষ্যাপে গেলে পরিণাম হবে খুবই খারাপ।” তার কথার সাথে কাজের মিল পাওয়া কষ্ট। ঐ একই দিনের খবরে শিরোনাম ছিল “সমাবেশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিসহ ক্ষমতাসীন দলের ৪জন আটক। নামধামসহ তাদের পরিচিতি প্রকাশিত হয় (আমার দেশ, ১২ জানুয়ারী)। তবে মিডিয়া সরকারের বাড়তি চাপের মাঝে, আর যারা দাসসম তারা এসব সব সময়ই রেখে ঢেকে রাখে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, “কীভাবে খালেদা জিয়াকে শায়েস্তা করতে হবে, তা ছাত্রলীগ জানে।” তাদের তৃণমূল থেকে বড় নেতা সবার একই ভাষা। গত ৩১ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাত দফা সমঝোতা প্রস্তাবের বিপরীতে শেখ হাসিনা ৩ থেকে ১৯ জানুয়ারী তাকে অবরুদ্ধ করেছেন। সরকার ৫ তারিখ বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়নি আবার ১২ তারিখে তারা নিজেরা সমাবেশ করে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। খালেদা নির্বাচনে না আসাতে জাতি বেঁচে গেছে, “আমি বেঁচে গেছি” কৌশলী নেত্রী কথাটি উহ্য রেখে, উল্টো কথাটি বলছেন। ভাবখানা এমন যেন জাতির নাড়ির খবর তিনি জানেন না। যেন পাগলীনির অভিনয় করে চলেছেন। এমন দুর্যোগে কখনো রবীন্দ্র সঙ্গিতে যোগ দিচ্ছেন, কখনো বাচ্চাদের গায়ে টোকা মারছেন। একবিংশ শতকের রুম, বাংলাদেশ নামের দেশ পুড়ছে, পুড়াচ্ছে সরকার। সবার উপরে শক্ত করে আকড়ে থাকা গদি হাসিনার, তার বাকী পোড়খাওয়া গোটাদেশ বাকী সবার।

সাবিহউদ্দিন, রিয়াজ রহমানসহ খালেদা জিয়ার প্রতিটি নিকট সদস্যকে আটক গুলি ও গাড়ীতে আগুন দেয়া হয়েছে হচ্ছে। সিনিয়র নেতাদের বাসাতে ও অফিসে গুলি ও বোমা হামলা চলছে, একথায় তাদেরে পঙ্গু করে দেয়ার পায়তারা চলছে। এমনকি শফিক রেহমানকেও ছাড় দেয়া হচ্ছে না। যারা এতদিন সীমান্তের পাহারাদার ছিল তাদেরেও নিয়ে আসা হয়েছে বিএনপি জামায়াতের পাহারার জন্য। লগি বৈঠার ডাক দিয়ে একের বদলে দশ লাশ ফেলা নেত্রীর দলবাজরা একই ভঙ্গিমাতে এসব করে চলেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “বন্দুক পিস্তল দেয়া আছে, আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান।” যেন তিনি অধৈর্য্য হয়ে পড়েছেন বলতে চাচ্ছেন বেটারা তোদেরে অস্ত্র দিয়ে পাঠানো হয়েছে, এখানে আনা হয়েছে গুলি চালাবি। ঠেকায় পড়লে কি বলবি “আত্মরক্ষার্থে” কথাটিও বলে দেয়া হচ্ছে কৌশলে; শুধু বিরোধী ধরে ধরে মারবি আর গুলি করবি। এমনিতেই তো তাদের সাত খুন মাফ, করে রেখেছে সরকার। কেমন মজার এক অবৈধ সরকার ও তার প্রশাসন! কেউ নির্দেশ দিচ্ছেন পায়ে গুলি কর, কেউ নির্দেশ দিচ্ছেন, ওতে কাজ না হলে বুকে গুলি কর। এধারার উসকানীর নির্দেশেই রিয়াজ রহমানের উপর হামলা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ আর এ গনির ধানমন্ডির বাসার সামনে কে বা কারা রাতের আধারে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে গেছে। এসব চলছে মাঠ পর্যায়ে সর্বত্র, তারপরও গুলি করা আগুন দেয়া আসামীরা ধরা খায় না।  বরং এসবের ভিতরে আবেদ খানরা বিএনপির অশরীরি আত্মা দেখতে পান।

Jonotar Kotha 26 07 13 সাগর রুনির হত্যার কোন বিচার হলো না

বিজিবি পুলিশ র‌্যাব একপায়ে দাঁড়া। সর্বত্র সরকারের হুমকি আর ধমকি চাল চলছে, এসব তুঙ্গে। মানিক গঞ্জে বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, নারায়নগঞ্জে আবারো বাসে আগুন, শিশুসহ আহত ১০। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে চাষাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বন্ধন সমবায় পরিবহনের একটি বাসে অভিনব কায়দায় ১০/১৫ জন যুবক প্রথম লোহার পেরেক সাটা একটি কাঠের বোর্ড ফেলে গতি রোধ করে তার পর বাসের গ্লাস ভেঙ্গে অভিনব কায়দায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়, সারা দেশে পুলিশ বিজিবি র‌্যাব এক পায়ে দাঁড়া কিন্তু পেট্রোল ঢালা আসামী ধরা পড়ে যুবকরা নয়, প্রৌঢ়রা, রিজভী, আমান, বুলু, বিএনপির বড় নেতারা (১৯ জানুয়ারী ২০১৫, আমার দেশ)। । বানিজ্যমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রীসহ সবকটি সরকারী মাধ্যমে হত্যা খুনের হুমকি চলছে, মোকাবেলা হবে অস্ত্রের মাধ্যমে, হচ্ছেও তাই। সংগ্রামের অবগুন্ঠন উন্মোচনে আসিফ আরসালানের কলামে কিছু তথ্য উঠে এসেছে।  তিনি আন্দোলনে এ সময়ের মাঝে ক্ষয় ক্ষতির মোটামোটি একটি হিসাব কষেন। এবং সেখানে তিনি আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, “প্রতিটি হামলার ঘটনাই নিন্দাজনক। কিন্তু আমরা নিশ্চিত নই যে, কারা এসব ঘটাচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার জন্যই সরকার বিএনপির উপর দোষ চাপাচ্ছে। কিন্তু একটি ঘটনারও তদন্ত করেনি।” (১৬ জানুয়ারী টেলিভিশনের ‘সম্পাদকীয়’ টকশো)।

এদিকে পেট্রোল বোমা ছোঁড়া হচ্ছে দেখে নিক্ষেপকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর। তার বিনা নির্দেশেই কি এতসব হচ্ছে? প্রতি মূহূর্তে তিনি নির্দেশ দিয়ে চলেছেন। সম্প্রতি গোয়েন্দাদেরে তৎপরতা বাড়াতে বলেছেন। এসব তো বহুগুণ বাড়িয়ে আছে বহুদিন থেকে। যার কঠোর প্রতিবাদ করে চলেছে গোটা জাতি। তারপরও প্রতিদিন লাগামের রশি বাড়তি করে টানা হচ্ছে বলেই আন্দোলন হচ্ছে। কিন্তু মোদ্দা কথা হচ্ছে পেট্রোল বোমা যারা ছুঁড়ে এদের পরিচয়ে পেলেও কি সরকার কোন দিন ধরেছে? এমন নজির নেই। হুমকি, ধমকি, হামলাই সার। এখানেও আমরা জানলাম কোন তদন্ত এসব বিষয়ে নেই। তবে ধড়পাকড়ের কমতি নেই আর তা বিরোধীর জমা খাতার হিসাব। এবার ঐ সূত্রে এসেছেন রিজভী, আমান, বুলু, নাদিম মোস্তফারা। প্রশাসন এক পায়ে দাঁড়িয়ে, ওদের পরিমিত রসদ দেয়া হয়েছে, সব ধরণের পাওনা পুষিয়েই এখানে আনা হয়েছে।

ইতিহাস বলে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসের মা জননী, পেট্রোল বোমার সব নাড়ি নক্ষত্র তার জানা। তারপরও সেবার তিনি ছুটে গেছেন গীতা রাণীদের জন্য মায়াকান্না করতে। যার জবাব দিয়েছিল সেদিন গীতারানী তার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে। বিহঙ্গ পরিবহনের হিন্দু মালিকের দখলে ছিল ঐদিনের পেট্রোল বোমা। এবারও বলছেন “ওদের হাত পুড়িয়ে দিলেই বুঝবে পোড়ার যন্ত্রণা” উনি কখনোই আসামীর শাস্তি চান না, শুধু বিরোধী রিজভী, আমান, বুলু, নাদিম মোস্তফাদের হাত পুড়াতে চান। “বর্তমানে মামলা ৩০০, আসামী ৬০,০০০ আর গ্রেফতার ৭,০০০ (কাফি কামাল, ১৮ জানুয়ারী, দৈনিক মানব জমিন)। এ দেশ স্বাধীন দেশ মানুষের দেশ বলে মনে হয় কি? এ দেশ আসামীর দেশ, গোটা দেশই এক কারাগার বানিয়ে রেখেছে এ অবৈধ পথে আসা মানুষটি। “কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ২৯,০০০ বন্দি ৮০,০০০, মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা” (আমার দেশ, ১৮ জানুয়ারী)”। ১৬ জানুয়ারী দৈনিক যুগান্তর একটি বিশ্লেষণধর্মী খবর ছাপিয়েছে “অপরাধী কারা?” সারাদেশে গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে, সরকার গুলি চালিয়ে শক্তি দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে রাখতে চাচ্ছে। বিজিবি, পুলিশ র‌্যাব দেশ চালাচ্ছে। ইংরেজী নিউজ এজএর সম্পাদক নূরুল কবীর আরটিভির ‘আওয়ার ডেমোক্রেসি’ অনুষ্ঠানে কিছু মন্তব্যে তিনি বলেন, পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মানুষ যারা হত্যা করে আইনশৃংখলা বাহিনী তাদের কাউকে স্পটে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কারণ এরা রাজনৈতিক সুবিধাভোগী। এদেরকে ছাড়া সরকার চলতে পারেনা, সরকার ছাড়া এরা চলতে পারে না। অর্থাৎ এদেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ’৯৬সাল থেকে এটা দেখছি। আওয়ামী লীগের সংগ্রামের সময় শেরাটনের সামনে একবাসে আগুণ দিয়ে ১৫ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়। বর্তমান সরকারের কোন জনসমর্ধন নেই। এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। এ জন্য কিছু মন্ত্রী অতিরিক্ত কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি যখনই দলীয় পক্ষপাতিত্ব অশ্লীল, অগণতান্ত্রিক, নিয়ম বহির্ভূত এবং আইনবহির্ভূতভাবে বক্তৃতা দেয় এবং কাজ করে তখনই এসব প্রতিষ্ঠান জনবিচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আরেকজন ক্ষমতায় এসে যাবে বলে আপনি নির্বাচন দিবেন না, এ খোঁড়া যুক্তি ছাড়া আর কিছু নয়।

শেরাটন হোটেলের সামনের ভিডিও ফুটেজের ঘটনার বিবরণ ২০১৩সালের এপ্রিল থেকে হাজার হাজার দেশী বিদেশী বাংলাদেশী জনতা ইউটিউবের ভিডিওতে দেখে চলেছে। এভাবে শেখ সেলিম ও ওবায়দুল কাদেররা ধরা খেলে অকপটে স্বীকার করেন যে ওটি ছিল হাসিনার চাল, ছিল আওয়ামী ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র। আজো কেউ ইউটিউবে গিয়ে সার্চ দিলে এর সাথে আরো অজ¯্র জটিল বিষয়ে গার্মেন্ট শিল্প ধ্বংসকরাসহ স্পষ্ট অনেক খবর জানতে পারবেন তাদের মুখ থেকেই। ঐ সময় ১/১১এর সময় তাদের প্রশ্ন করা হলে তারা গড়গড় করে সব গোপন ওপেন করেন। বলেন, “এসব ঠিক হয়নি” এটিও বলেন, উপর থেকে ওভাবে নির্দেশ দেয়া হয় করতে, তাই তারা শেরাটনের সামনে বাসে আগুণ দেয়, এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের অসুস্থ রাজনৈতিক চাল। বর্তমান ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখে ধারণা করি, এটি ওদেরই চাল। সব ঘটনাই নেত্রীর নির্দেশে সংগঠিত হয়। “আওয়ামী স্ক্যান্ডাল লিকড” এ ইউটিউবে যান, ক্লিক করুন। লাইন বাধা সবগুলো প্রশ্নের উত্তর পাবেন। এর পাশাপাশি প্রতিবেশীর স্বার্থে কিভাবে গার্মেন্টস সেক্টরকে ধ্বংস করা হচ্ছে, এসব একে একে অজ¯্র তথ্য খোলা ময়দানের বাণী হয়ে ফুটে আছে। কি সরকার কি বিরোধী অবস্থানে উভয় ক্ষেত্রেই এ সরকার দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে গলা অবধি ডুবিয়ে থেকেছে। আজ ময়দানের সরকার নিজেই অতীত সব অপকর্মের উদাহরণ মাত্র।

ধন্যবাদ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদকে, তার উপলব্ধির জন্য। তিনিও বলেছেন বিএনপির আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই আওয়ামী লীগের কর্মীরা গাড়ি পোড়াচ্ছে, অগ্নিসংযোগ করছে। “হরতাল অবরোধ সহিংসতায় সর্বকালের সেরা রেকর্ড আওয়ামী লীগের” একটি লেখাতে ১৯৯১-১৯৯৬এ আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন ও ২০০১Ñ২০০৬এ ১৩০ দিন (১৭৩+১৩০)=সর্বমোট ৩০৩ দিন গোটা দেশ অচল করে দিয়েছে, সেখানে একটানা ৪৮ ঘন্টার হরতালসহ লাগাতার অবরোধের কোন কমতি দেখা যায় নি, গোটা জাতির সেটি জানাই আছে। পক্ষান্তরে বিএনপি তার শাাসনামলে ৫৯ দিন হরতাল দেয় (শহীদুল ইসলাম, ১৮ জানুয়ারী, দৈনিক সংগ্রাম)।  আবু রুশদ এর “বাংলাদেশে র” গ্রন্থে এসবের পিছনে সরকার ও ভারতীয় রএর চালের উপর সুস্পষ্ট খেলাপাতা জনতার সামনে আছেই। তাছাড়া ‘গাড়ি জ¦ালালে ক্ষতিপূরণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী’ সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এটি বলা আছেই। এবার গণহত্যায় কারা জড়িত, সেটি আশা করি খুঁজে পেয়েছেন দেশবাসী। সুদূর আমেরিকাতে বসে আপনাদের এসব দুর্ভোগ আঁচ করে শুধু আতঙ্কিতই হচ্ছি। কোন কিছুই অস্পষ্ট নয়, সবই দিনের আলোর মতই স্পষ্ট।

নাজমা মোস্তফা,  ১৯ জানুয়ারী ২০১৫।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: