Articles published in this site are copyright protected.

আওয়ামীলীগের জঙ্গি নাটকের একটি বাস্তব চিত্র দেখুন

“আমাদের দেশটিতে কবে সেই ছেলে হবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে” বলছি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে যার মুখ থেকে অনর্গল কথা বের হয়। মাঝে মাঝে অতীব সুবচন সুকথনেও তাকে দেখা যায়, যদিও লাগামহীন আপ্ত-বাক্য প্রয়োগেই তিনি বেশী পারদর্শী। তিনি প্রচারে নেমেছেন জঙ্গীবাদ, ধর্মান্ধতা, অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা এসব বাঙালী সংস্কৃতির সাথে মানানসই নয়। যদিও তিনি এর প্রতিটি অপকর্ম আলাদা আলাদাভাবে করে চলেছেন। বিডিআর বিদ্রোহ ও তার আগে থেকেই তার ছেলে দলবলসহ জঙ্গীবাদের মিথ্যাচারে জড়িয়ে আছেন। বিডিআর বিদ্রোহের সময় কর্ণেল গুলজারের চোখ উপড়ে ফেলে দিতে নির্দেশ দেন মির্জা আজম যিনি যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, এসবের ভিডিও ফুটেজ আছে। কারণ হচ্ছে মির্জা আজমের দুলাভাই চিহ্নিত আওয়ামী জঙ্গী শায়খ আব্দুর রহমানকে বিএনপি আমলেই ধরা হয় ও ফাঁসি দেয়া হয়। সারা জাতি জানে ঐ সময় এটি ছিল দেশে জঙ্গীবাদের শিকড় সূত্রের উদাহরণ। বিরোধীকে দোষী সাজাতে সাম্প্রদায়িকতার নামে ধর্মান্ধতার সাজে করা অধার্মিক অপকর্ম দলের লোকেরা তার প্রশ্রয়ে সরকারী ছত্রচ্ছায়ায় বহুদিন থেকে করে চলেছে। ধারে কাছের সব পোড়ানোসহ কুরআন নিয়ে মিথ্যাচারেও প্রধানের আত্মা কাঁপে না; ঈমানের গভীরতা ওতেই পরীক্ষিত। সহিংসতা তার দলের প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার নিজ মুখের প্রচার একের বদলে দশ লাশ ফেলা, লগি বৈঠা নিয়ে তান্ডব চালানো, পেট্রোলবোমাসহ পোড় খাওয়া গীতারাণীরা ছিল আওয়ামী নির্যাতনের স্বাক্ষর মাত্র। সেদিনের গীতা রাণীদের বাস পুড়ানোয় বিহঙ্গ পরিবহনের হিন্দু মালিক ব্যক্তির জড়িত থাকার অভিযোগ দিবালোকের মত স্পষ্ট।

আওয়ামী যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানক বলছেন, “৫ জানুয়ারী জাতির অগ্নিপরীক্ষা।” তারা অনেক অপকর্ম করেই কাটিয়ে উঠেছেন তাই বুক চাপড়ে বলছেন এসব যুদ্ধপরাধী বানচালের চেষ্টা ও খালেদার মামলার জন্য হচ্ছে। কেন নানকরা এসব করছেন, এটি না করেও তাদের উপায় নেই, সাপের গর্তে তাদের পা। আমরা পত্রিকা থেকে জেনেছি বিডিআর বিদ্রোহের দিন নানক ও তৌহিদের মাঝে ২০৪ মিনিট কথা হয়। পরদিন হাসিনার সাথেও মিটিং হয়। নানক তৌহিদকে বিডিআরের অস্থায়ী ডিজি ঘোষনা করেন। কর্নেল মঞ্জুর সাহায্য চাইলেও কোন সাহায্য করা হয়নি বরং তাকে ম্যানহোল থেকে বের করে হত্যা করা হয়। এসব খবর অনেকেই জানেন। আমড়া কাঠের ঢেকি সাহারার নেতৃত্বে সেদিন রাতের আঁধারে অপরাধীদেরে নিরাপদে পালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেয়া হয়। কোন কিছুই মা জননীর অগোচরে নেই। বিডিআর বিদ্রোহে জড়িত থাকার সুবাদে নানকের নাম বারে বারে আসে, বিদেশী বাংলাদেশীরাও তখনই তাকে নামে প্রচারে বেশী চিনে। তিনি সেদিন আহ্লাদের অতিশয্যে (পিলখানার বিজয়ে!) শেখ হাসিনাকে ‘ডটার অব পিস’ সম্মাননা দিলেন (নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৩ মার্চ ২০০৯, নয়াদিগন্ত)। “বিডিআর বিদ্রোহের ফারুক খানের জেএমবি এবং তোরাব আলী নানক আজম সমাচার” বিশেষ প্রতিনিধি (১৬ মার্চ ২০০৯) এর স্পর্শকাতর এসব সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক আমার দেশ। এরকম হাজার দেশধ্বংসকারী খবর আমরা জানতে পারি বাংলাদেশের সচেতন পত্রিকা থেকে, হয়তো সেদিন থেকেই আমার দেশ সরকারের বিষবৃক্ষসম চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ায়। আমারদেশ সৎ সঠিক তথ্য তুলে ধরতে কখনোই পিছপা হয়নি। তাই আজও নানক বলে চলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি”। বাস্তবিকই এটি অগ্নি পরীক্ষা! জাতি ধ্বংসের সব পাঠে এরা দুই হাত লাগিয়ে মিরজাফর ও লেন্দুপদর্জির পথে হাটছে। এদের অপকর্মের কোন জবাব নেই! ধড় পাকড়ে তারা জবাব আদায় করতে চাচ্ছে! তারেকের যুক্তির কাছে তারা নির্বাক হয়ে ময়দানে হিং¯্র পশুর স্বরুপ ধরেছে। কিছু দিন আগে নানক হুমকি দেন প্রয়োজনে খালেদাকে গ্রেফতার করা হবে। জাতি ধ্বংসকারী এসব অপরাধীরাই আজ অবৈধ সরকার রক্ষায় লম্বাহাত, হুমকির রাজা হয়ে আছে।

২০০৪ সালে নানক ও মির্জা আজমের নেতৃত্বে শেরাটন হোটেলের সামনে গান পাউডার দিয়ে দোতলা বাসে আগুণ লাগিয়ে ১১ মতান্তরে ১৩ বাসযাত্রীকে পুড়িয়ে মারার কেসে কর্ণেল গুলজারই এদেরে সনাক্ত করেন। ঐ দিন ১৬৪ ধারাতে স্বতঃস্ফ’র্তভাবে জনতার জবানবন্দি মানুষ জেনেছে। উল্লেখ্য আওয়ামী নেতাদের কৃত প্রতিটি অপকর্ম খোলা ময়দানে তাদের কুটচালের কৌশল ছাপিয়েও খেলাসা হয়। পরবর্তীতে এর খেসারতে ঐ আওয়ামী নেতাদের নির্দেশেই বিডিআর বিদ্রোহে কর্ণেল গুলজারের লাশ পুড়িয়ে বিকৃত করা হয়। ঘটনার ১৫ দিন পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তার প্রকৃত লাশ সনাক্ত করা হয়। এমন কি শেখ সেলিম ও ওবায়দুল কাদের ভিডিও ফুটেজে বাস পুড়ানোকে স্বীকার করেন, ৮৬এর নির্বাচনকে ভোটারহীন ক্ষমতা ও টাকার লোভে হাসিনার পাতানো নির্বাচন আখ্যায়িত করেন। আওয়ামী অপরাধের সচিত্র প্রতিবেদন আজো ইউটিউবে দেখতে পাওয়া যায়। গোটা বিশে^র হাজার হাজার বাংলাভাষী মানুষ সেটি দেখেছে, যা দিবালোকের মত স্পষ্ট। তাছাড়া মতিয়ুর রহমান রেন্টুর ‘আমার ফাঁসি চাই’ এর অনেক জলজ্যান্ত উদাহরণ ও স্বাক্ষর নিয়ে ইতিহাসের প্রদীপ হয়ে জ¦লছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের রাজধানীতে মুক্তাঙ্গণ বলে কোন জায়গা নেই। সব পুলিশের জবর দখলে। জনগণ আজ মিথ্যাচারী সরকার ও তার প্রশাসনের হাতে জিম্মী হয়ে আছে। পুলিশও দুইহাতে অনাচার করে চলেছে। চারপাশে জগদ্দল অপরাধ গলাধঃকরণের পরও পুলিশের কমিশনারকে সুবোধ বালকের মত কথা বলতে দেখা যায়, এ হচ্ছে অপরাধী সরকারের শাসন করার নমুনা। রিমান্ড, খুন, নেতা পিটানোর দক্ষতা সবই তাদের সরকারী নিয়ন্ত্রণে চলছে, যেখানে জনগণ অনুপস্থিত। যতই তারা মুখে জনগণ জনগণ করুক, এসব হচ্ছে মিথ্যাচারের নমুনা, আজ আর কোন জনগণ তাদের সাথে নেই, যারা আছে এরা মানুষ নয়, সন্ত্রাসী ও উপসত্ত্¡ভোগী দালাল।

কোন বিবেকবান এটি বিশ^াস করবে না যে, বিএনপি জামায়াত হরতালের আগের দিন মানুষ পুড়াবে। শান্তিপূর্ণ অবস্থানে তারা প্রতিবাদের দক্ষতা অর্জন করেছে আওয়ামী থেকে বহু লক্ষ গুণ বেশী। আওয়ামীরা মন্তব্য কলামে ফুসকুরি মারে, এদের আন্দোলন করার মুরোদ নেই। এরা মারদাঙ্গা করতে পারে না, আমাদের সে দক্ষতা বহুগুণ বেশী, এটি সারা জাতি জেনেছে। গাজীপুরের ধকল সামাল দিতে আগের দিন মানুষ পুড়ানো ও স্কুল শিক্ষিকাকে হত্যার দায়, গুন্ডামীতে দক্ষ সরকারকেই বহন করতে হবে। অবৈধ পথে গদীতে বসে যা ইচ্ছে তাই করে চলেছে সরকার, যার কোন বৈধ অধিকার নেই একদন্ডও শাসনদন্ড হাতে নেবার। নিজের লুটপাট ছাড়া জনগণের জান মালের প্রতি দৃষ্টি দেবার অবকাশ তাদের কোথায়? এ ধারার অপকর্র্ম আজ তাদের নতুন নয়, বহু যুগ থেকে কাগজে কলমে প্রামাণ্যতা রেখে এসব করে আসছে। এসব আজ দিবালোকের মত স্পষ্ট। ঢাকার রমনা বটমূলে বোমা হামলায় জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান সেদিন মারা যান, যার কারণে এ ক্ষতির দায় পুষিয়ে দিতে পরবর্তীকে জিল্লুর রহমানকে প্রেসিডেন্টের পোষ্টটি দেয়া হয়। গোবেচারা জিল্লুর রহমান পদ পেয়েই মহাখুশী, স্ত্রীর মৃত্যুর প্রকৃত আসামীকে তার জানা হলো না। আওয়ামী গড্ডালিকাতে পড়ে আইভি রহমান মারা যান। এটি দৈবের কাজ, সেদিনও নেপথ্যে ছিল বর্তমান সরকার, ছিল অতি তৎপর, অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে ওটি সাজানো হয়েছিল। মঞ্চভর্তি আওয়ামী নেতানেত্রী থাকলেও কয়জন নেতৃস্থানীয় মারা যান সেদিন? তখনকার আওয়ামী সাজানো চালে এটি সংঘঠিত হয়। বর্তমানের বিরোধী দল ছিল সরকারে, তারা চাইছিল বিদেশী তদন্ত কমিটি এর তদন্ত করুক কিন্তু জাতি নিশ্চয় ভুলে যায়নি বিদেশী তদন্ত দলকে হাসিনার গাড়ী তল্লাশী করতে দেয়া হয়নি। কেন দেয়া হয়নি, সে প্রশ্ন কি কারো মনে জাগে নি? শিকার হন আইভি রহমান, ঠিক আওয়ামী দলদাস জাফর, জয়নাল, সেলিম ও দেলোয়ারের আদলে আরেক গুটি হয়ে তিনি লুটিয়ে পড়েন। ঐ দিনও নিজ দলের ছাত্র হত্যায় নেত্রী পুলকিত হয়ে বলেন, টাকা দিয়ে পুষিয়ে দেব। ঢাকায় ১লা বৈশাখে গানে মুখরিত চত্বরে আওয়ামী ষড়যন্ত্রে ঢলে পড়ে আর এক আইভি রহমান।

এবারো ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পুরানো কৌশল চালানো হয়, পেট্রোল বোমা ছুড়া ও বাসে অগ্নি সংযোগ বহু পুরানো দিনের ভানুমতির খেলা। এটি জাতি বেশ জেনে গেছে। তারপর প্রায়শই এই কথা বলে আওয়ামী দলদাসদেরে টকশোতে উত্তেজিত দেখা যায়। তাদের কাছে মিথ্যা সংখ্যালঘু ইস্যু আর এরকম দুচার মিথ্যাচার নিয়ে অতিব্যস্ত দেখা যায় সব সময়। মাহমুদুর রহমানের ধাচে গড়া নিউজ এজ সম্পাদকের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকায় যে হুমকি নামের ধমকিচাল চালানো হলো, তিনি এর কঠোর প্রতিবাদ করেন। জবাবে তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার গাড়ী পোড়ানোর কাল্পনিক ঐশীত’ল্য সংবাদ প্রচার করেন। এসব বিপ্লব দাসরা গোটা দেশে এমন সব দাসের ভ’মিকায় নেমেছে, এসব খাপছাড়া কাজের জন্যই এরা নিয়োগপ্রাপ্ত, হাসিনার হাত ধরে জাতির বারোটা এরাও বাজাচ্ছে। ধারণা হয় এরা হচ্ছে সদ্য এইচ টি ইমামের খোলাসা হওয়া নিয়োগপ্রাপ্ত আওয়ামী দালালীতে চাকরিতে পদ পাওয়া অনুগত দাস। আজকাল সর্বত্র দেখি এদের অতিরিক্ত বোলচাল। বিরোধী নেতাকর্মীকে গণধোলাইএর নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ। বখাটে ইভ টিজারদেরে মেয়েদের বাড়ীর সামনে শো ডাউন করতে শোনা যায়, একই আদলে আওয়ামী লীগ তাই করে চলেছে পল্টনের বিএনপি অফিসের সামনে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন ৬ জন লেকচারার। ১ম দ্বিতীয়রা স্থান পায়নি, এইচ টি ইমামের দাগ দেয়া ইনফরমেশনের ভিত্তিতেই ১৯ তম স্থানের অধিকারীকে দলীয় এজেন্ডাতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কথা ছিল ২জনকে নিয়োগ দেয়ার, এর সুবাদে ৬ জন দলীয় মহাভাগ্যবান সে সুযোগ পাচ্ছেন। সবার মনে আছে নিশ্চয়, অতীতে বিশ^বিদ্যালয়ের নীতিহীন দলবাজ শিক্ষকও বলেছিলেন, ছাত্রলীগ করলেই যেন তাদের পাশ দেয়া হয়।

গায়েশ^র রায়সহ হাজার হাজার নেতা কর্মীরা ধরা খায় বিনা অপরাধে, কোন ভিডিওতেও তারা ধরা পড়ে না। কিন্তু ভিডিওতে ধরা খাওয়া তাদের হামলাকারীকে সব সময় এড়িয়ে যায় সরকার ও পুলিশ। চলছে বাংলাদেশে মরা আইনের শাসন। ছাত্রদল মিছিল করতে চাইলেও পুলিশ লাঠি উঁচায়, বন্দুক তাক করে, খোলা মিছিলের ময়দান থেকে আকাশরা ধরা খায়। বিএনপি জামায়াতের মিছিল হলে পুলিশ বন্দুক তাক করে, সরকারের নির্দেশে মানুষ মারে। দুর্ঘটনাতে পাইপে পড়ে যাওয়া শিশুর পিতাকে আটক করেও শাসানি দেয়া হয়, এসব নাকি নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়। মিছিল হলেই পুলিশ, লাঠিপেটা, হত্যা খুনে দক্ষতা দেখায়, আহত করা তো মামুলি বিষয় তাদের কাছে। গ্রেফতার করে শত শত হাজার হাজার, তারা এখন আওয়ামী লাঠিয়াল। অর্থমন্ত্রীর বেপরোয়া আচরণ। মুদ্রাস্ফিতির দলীয় কমেন্টের সাথে অর্থ বিশেষজ্ঞরা একমত হতে পারছেন না। দুদক হারছে ৫৩% মামলাতে। বিরোধী নেতারা কারাগারে ভালো নেই। সরকারের কারণেই তারা বিনা অপরাধে আসামী। বোকা জনগণকে কৃতিত্ব দেখাতে একদিকে ভারত থেকে চাল আমদানী করে শত শত কোটি টাকার, অন্যদিকে রপ্তানী করে শ্রীলঙ্কায়। পাঠক কি বুঝলেন? এসব গোজামিলে দলও বাঁচে দলবাজ পিপড়ারাও বাঁচে। কোটি কোটি টাকার সোনা চালান কোন সময় হয়, যখন কর্তা নাক ডাকিয়ে ঘুমায়?

বিরোধী দল ক্ষমতাতে থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালের ২৭শে জানুয়ারী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে এক জনসভার শেষে দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় কিবরিয়াসহ ৫ জন নিহত ও ৭০জন আহত হন। ঘটনার দশ বছর পর দুবার অধিকতর তদন্ত শেষে এখন ময়দানে নতুন আসামীদের যোগান হচ্ছে। সিলেট ও হবিগঞ্জের দুই মেয়রসহ ১১ জনের নাম দিয়ে সাম্প্রতিক চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মনে হচ্ছে তাদের বড় অপরাধ তারা বিরোধী দলের মেয়র কেন? জাতির নিশ্চয় স্মরণে আছে সিলেটের মেয়র বিজয়লাভ করলে আরিফুল হককে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি তারা দিয়েছিল। কিবরিয়া হত্যার সময় এ রকম খবরও পত্রিকাতে পড়েছিলাম যে কিবরিয়া সাহেব কোন কারণে সেদিন হবিগঞ্জ যেতে চান নাই কিন্তু নেত্রী খুব জোর করেই তাকে সেদিন পাঠান। অনেকেই সন্দেহ করেন, মরার ফাঁদ সেখানে রেডি ছিল, সাধারণের জানা না থাকলেও দুর্মতির সম্ভবত জানা ছিল। কারণ এরকম কাজ ব্যক্তি হাসিনা তার জীবনে বহুবার করেছেন। অতীতের পাতা উল্টালেই পেয়ে যাবেন এসব ধারাবাহিক সংগঠিত উপাখ্যান। এবারও ঐ হুমকির কার্যকারীতায় সরকার কিবরিয়া হত্যায় মেয়রকে টেনে এনে তার পুরানো স্বভাবের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। শুনেছি তারেক জিয়াকেও এখানে এনে ভিড়ানোর পায়তারা চলছে। আজ নতুন বছরের ২রা জানুয়ারী মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, “২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়, ঐ সময় সরকারী পৃষ্টপোষকতায় এসব হয়”। সাংঘাতিকদের ঘুম ভাঙ্গাতে গুলি ছুড়েন হাসিনার আত্মীয় নাসিম (মন্ত্রী)। পরদিনই হাসিনাকে মিথ্যে হত্যা চেষ্টার খবর ছড়ানো হয়, এর সূত্রে হয় হরতাল (সূত্র: রেন্টুর বই)। হেসে লুটোপুটি খায় তারা, নিজের প্রতিভাতে তারা নিজেরাই মুগ্ধ। জাতি আজো হতবাক! এখানে হানিফ ধরা খেলেন এ প্রমাণ রেখে যে সরকারই এসব করে। এসব মোটা বুদ্ধির আওয়ামী চাল মাত্র।

আওয়ামী লীগের রাজাকারদের বিচার – কাদের সিদ্দিকী

যোগ্য বিচারক অপকর্ম না দেখেও অপরাধীকে খুঁজে পায়। ঠিক সেভাবে জাতিকে মূল্যায়ণ করতে হবে তার প্রতিটি আচরণ গতি প্রকৃতি পরখ করলে সিদ্ধান্ত পাওয়া খুব সহজ। জটিল সরকার কখনোই বিচারে নেই, তদন্তের নামে প্রকৃত সত্যকে চাপা দেয়াই তাদের প্রধান কাজ, বিডিআর বিদ্রোহ তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। অতীতের  কৃত ১৭৩দিনের হরতালসহ  ১৯৯৬ সালের বাস পুড়ানো, ইয়াসমীন নাটক সবই ছিল সাজানো আওয়ামী চাল। তারা যুক্তি বের করেছে গণজাগরণ তৈরী করতে তারেক ভুলের পথে হাটছে। বিএনপির আর কোন অপশন নেই বলে এসব করছে। তারা বলতে চান জিয়া দ্বিতীয় শ্রেণীর আর মুজিব প্রথম শ্রেণীর। প্রকৃত সত্য ও ইতিহাস হচ্ছে, মুজিব নেতৃত্বে ছিলেন তবে শেষে পলাতকের ভ’মিকায় নামেন, এটি ঘটমান বাস্তবতা। তারা বলছে তারেকের বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে খালেদাকে কোথাও দাঁড়াতে দেয়া হবে না। ধর্মের ইতিহাসে আমরা পাই চাচা আবুতালিব নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে লালন পালন করেন, কিন্তু ধর্মের মূল সত্যকে গ্রহণ করতে তিনিও পলাতকের ভ’মিকা রাখেন। শিশু ইসলামকে তিনি লালন পালন করে গড়ে তুলেন এটি শতভাগ সত্য, কিন্তু ধর্মান্তরিত নও-মুসলিম আবুবকর, খালেদ ওমরদের মত সত্যকে গ্রহণ বরণ করতে তিনি ব্যর্থ হন। ইতিহাস ও ধর্ম তার অবস্থান দাগ দিয়ে রেখেছে।। যদিও কুরাইশরা দাবী করতো চাচা আবুতালিব প্রথম শ্রেণীর আর নবী মোহাম্মদ (সঃ) ছিলেন শাস্তির যোগ্য অপরাধী নাস্তিক। আজকের সত্য ইতিহাসের সাথে তাদের মনগড়া ইতিহাসের কোন মূল্যও নেই সত্যতাও নেই। উপসংহারে এসব চালচিত্রের সহজ মন্তব্য হচ্ছে নীতি নৈতিকতাহীন উপরোক্ত আচরণ কোন মানবিক বিচারেও টিকতে পারে না। এসব শেষ ধ্বসের পূর্ব লক্ষণ মাত্র।

 

নাজমা মোস্তফা,  ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪সাল।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: