Articles published in this site are copyright protected.

Archive for January, 2015

ঐ অন্ধ আলোটা নিভিয়ে দাও

ফেলানীকে কাটাতারে বিদ্ধ হয়ে মরতে হয়। এর দায় কার? কে বেশী দোষী ফেলানী না বিএসএফ?
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী ফেলানীর কাটাতারে ঝুলার চার বছর পূর্তি, সে ঝুলা আজও বন্ধ হয়নি,
সহজে বন্ধ হবার নয়, আসামীর শাস্তি আজো পোক্ত নয়, সমর্থ সমাজে তারা ঘুরপাক খায়,
তার বাবা বার বার যায় ওপারে বিচারের আশায় কোর্টের বারান্দায়, তারা তারিখ বদলায়।
দেশে যে কটি আলো জ¦লে মিডিয়ার, নিস্তেজ, নিষ্প্রভ, তেজহীন। ধার করা আলোতে খুড়িয়ে বেড়ায়।
বদলে দেয়া আলোর বাহাদুরী। প্রচারে মিটি মিটি, জ¦লেও না, ছড়ায়ও না, লজ্জায় চাঁদও কুকড়ায়
ঐ তেজহীন আলো তেজী উইপোকাগুলোকে ধরে ধরে আনে, আর দিব্যি গ্রাস করে উদরে ঢুকায়।
এক তোষের আগুন, জ¦লে ধিকি ধিকি, দেশপ্রেমিককে, সাধুকে, জাতির উৎকৃষ্টকে পুড়িয়ে মারে,
নিকৃষ্টকে বাড়তি লাই দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে, যাতে কপট স্বার্থ বাঁচে, বাঁচে অন্ধ আলোটা
সরকারের আমাই যামাই অচল সবে, থাকবে সরকারী নিমাইরা, মিথ্যে রসদে যে বাঁচে
ওরাই নকল ধার করা আলোর যাত্রী হিসাবে একটু নড়ার চলার বসার জায়গা পায়।
কিভাবে দেশটি পুড়ে পুড়ে ধ্বংস হচ্ছে! মিনরা এরা নকলেই তারা আগাগোড়া মোড়া।
বারে বারে ঘুরে যাই, আশাহত হই, কিছুই জন্মায় না সেথায়, আবর্জনায় ভরা আলোর মেলা,
অরগেনিকের আবর্জনা পুষ্টি যোগায়! আশ্চর্য ঐ নকল আবর্জনাতে কোন ফলবান বৃক্ষও জন্মায় না,
ওতে পেট্রোল বোমারা বাড়তি তপ্ত হয়। গান পাউডারে বাস পুড়িয়ে মারার গল্প কথাই ¯œরণ করিয়ে দেয়!
একবার নয়, বারে বারে। চোখের সামনে ইউ টিউবের ভিডিও জ¦ল জ¦ল করে জ¦লে!
ধরা খাওয়া শেখ সেলিম ওবায়দুল কাদেরের স্মৃতিচারণ, যেন কিয়ামতের পরের কথা বলে!
সরকারের অপরাধ স্বীকার কথা, লিক্ড স্ক্যান্ডাল স্পষ্ট দেখি শুনি হতবাক যাই,
বাংলাদেশ নাকি শুনতে পায় না, ইউটিউব বন্ধ রাখা! এতই যখন পারো, ওটিও করো!
জোর গলাতে বলতে ইচ্ছে করে, ঐ মিথ্যে নষ্ট আলোটা নিভিয়ে দাও, বন্ধ করে দাও।
দেখো, চোখ খুলে তাকাও! মৃদু আলোতে পোড়া কষ্টের দাগ নীচে, আজো দেখা যায়!

Jonotar Kotha 26 07 13 সাগর রুনির হত্যার কোন বিচার হলো না,

উপরে কষ্ট কথাগুলো কবিতার ভাষাতে বললাম। পেট্রোল বোমা কারা ছুড়ছে এ জাতিকে কবজা করতে, আশা করি সচেতনরা জানছেন ও বুঝতে পারছেন। বলি প্রমান পাওয়া যায় দুদলই ছুঁড়ছে। কেউ প্রশ্ন রাখছেন, অভিশাপ কি দেব? জবাবে বলছি কিন্তু কেন নয়? একমাত্র অপরাধিই অভিশাপের ভয় করে, অন্যেরা নয়? নিষ্পাপের গায়ে অভিশাপ লাগে না! সমস্ত দেশের র‌্যাব, পুলিশ বিজিবিকে এক পায়ে দাঁড় করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য!  পেট্রোল বোমার গান পাউডারের ওবায়দুল কাদের আর শেখ সেলিমরা আজো কিন্তু একটিও ধরা পড়েনি! লাইন বাধা সব নির্দোষকে ধরা হচ্ছে! কারাগার টইটম্বুর, তারপরও! তারপরও কেন অভিশাপ দিতে কুন্ঠা! নিমাই সরকারের দুর্বৃৃত্তরা কখনোই ধরা পড়ে না, কাঁটাবনের দিকে দৌড়ে পালায়! সময় গড়াচ্ছে, সারা জাতি একযোগে অভিশাপ ছাড়–ন, হতভাগারা ধ্বসে যাবে আপনাদের পবিত্র দীর্ঘশ^াসে! অলক্ষ্যের বিধাতা নির্যাতীতের একদম শাহ রগেরও কাছে অবস্থান করে! শিরা উপশিরার চেয়েও কাছে তার অবস্থান, সে দূরে নয়! তার আগলেই আজো আপনারা বেঁচেবর্তে আছেন! স্মরণ করুন, ইতিহাসের মাত্র কয়টি পাতা আগে যান! শাহজালালের হুঙ্কারে বলা হয় সাততলা দালান ধ্বসে যায়! মানেটা সোজা, খুব সোজা! সততার হুঙ্কার এতই শক্তিমান, ওটি একটি উদাহরণ মাত্র! সে উদাহরণ আজো জীবন্ত হয়ে কথা বলবে, পথ চলবে! আপনারা নিশ্চিন্ত জানুন!

আরো জানার বাকী আছে, বাড়তি কিছু কষ্টকথা! আপনারা জানেনও এর মাঝে হয়ে গেল জানুয়ারী ৩, ঢাকার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে “বেদান্ত সংস্কৃতি মঞ্চ” আয়োজিত “পূজা পূনর্মিলনী : বিশ^জুড়ে বিশ^ময়ী” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)র কেন্দ্রীয় সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সভাপতি তথাগত রায় বলেন, হিন্দুদের আওয়ামী লীগ সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেয়া উচিত” হিন্দুদের আহবান করে তিনি আরো ঝাপিয়ে পড়তে উপদেশ বিলি করেন। তিনি বলেন, “আপনাদের নিজেদের স্বার্থেই আপনাদের এটি করতে হবে।” উপস্থিত মঞ্চের বিশেষ অতিথি ছিলেন বিতর্কীত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত; তিনিও বলেন বিজেপিকে তিনি সাম্প্রদায়িক দল হিসাবে বিশ^াস করেন না। তিনি বলেন ওটি তাদের রাজনৈতিক কৌশল (ইত্তেফাক ৩ জানুয়ারী ২০১৫)। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কিভাবে দেশের ভিতরে সাম্প্রদায়িক ইন্ধনের কাজে জড়িত, এটি তার উত্তম নমুনা। তিনি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পদে থেকে আগুন জ¦ালাতে সিদ্ধহস্ত। রেলের অপকাজে দক্ষ মন্ত্রী এবার সাম্প্রদায়িকতার মোটা দাগের আসামী! দুনাম্বারি এসব আচরণকে প্রথম আলোর খবরও এ বক্তব্যের গুরুত্বে জায়গা করে দিয়েছে। সেখানেও বলা হয় তথাগত রায়ের বক্তব্যে প্রকাশ, ভারত সরকার আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। এখানকার হিন্দুদের জন্য এর চেয়ে ভালো আর কোন সরকার হতে পারে না। হিন্দুদের আহবান করে তিনি (তথাগত রায়) বলেন আপনারা পূর্ণ সমর্থন আওয়ামী লীগকে দিন। প্রকাশ্যে সমর্থন না দিলে আওয়ামী লীগ আপনাদের ব্যাপারে পুরাপুরি বুঝতে পারবে না (প্রথম আলো ৪ জানুয়ারী ২০১৫)। তিনি তথাগত রায় আরো বলেন, আমি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা হিসাবে এটি বলতে পারি না। আমরা দেশের সঙ্গে দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করি। বাংলাদেশের বিষয়টি ভিন্ন। ভারতের এমন ধারার হস্তক্ষেপকে কি বলা যেতে পারে? বন্ধুর কাজ, না শত্রুর দাগ? এসব কি সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন নয়? তারা তাদের দেশকে ধর্মনিরপেক্ষতার আদলে গড়লেও গুজরাটে মুসলিম ধ্বংসে, ইতিহাসের দাগচিহ্ন বাবরী মসজিদ মাটিতে মিলিয়ে দিয়ে সেখানে হিন্দু ধর্মের গণসঙ্গিত বাজাচ্ছে! তারা মনে করে ওতে হিন্দু বিধাতার গায়ে আঁচড় পড়ে নি, ও আঁচড় বাবরের গায়ে লেগেছে। সম্প্রতি ভারত শত শত মুসলমান ও খৃষ্টানদের ধর্মান্তর শুরু করেছে! বিশ^ হিন্দু পরিষদ তার ছাউনির মাঝে এসব করে চলেছে, সাথে বিজিপিও বিজয় কেতন ওড়াচ্ছে। বিধাতা যে সার্বজনিন, জাতপাত বুঝে না, এটি তাদের মগজে নেই, মুছে গেছে! সুজাতা সিংরা জামাতকে দেখতে পারেন না, আমরা জানতে চাই জামাতের সাথে তাদের কিসের শত্রুতা! মুসলমানিত্বের শত্রুতা ছাড়া আর কি কিছু? এত করেও আজো ভারতে বিজিপি ধর্মান্তরে দাগ রাখছে, জামাতের গায়ে কিন্তু ওসব ধর্মান্তরি দাগ নেই। তারপরও মুসলিম হয়ে জামাত যদি দোষ করে তবে হিন্দু তথাগত রায় বিশ^ হিন্দু পরিষদ, কেমন করে তিরষ্কৃত না হয়ে উল্টো সুরঞ্জিতের মালা পায়? অংকটি কোনভাবেই মিলেনা! গোলমেলে ঠেকে!

বাংলাদেশের মুসলমানরা হিন্দুদের সাথে সহমর্মী হয়ে সম্মানের সাথে আছেন। বরং দেখা যায় সংখ্যালঘু থেকে সংখ্যাগরিষ্টরাই আজ নির্যাতনের পাটাতনে সময় পার করছেন। একটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, যারা অন্যকে দোষী করতেই কমবেশী সারা বছর হিন্দুর গায়ে আঁচড় দেয়, এটি হিন্দুরাও সংকীর্ণ স্বার্থে কম স্বীকার করলেও জানেন মানেন ও আজকাল স্বীকার করেন। কারণ সত্যকে অস্বীকার করার সাধ্য কারো নেই। বাস্তবে বিধাতার কম্পিউটার কাউকে ছেড়ে দেবে না! উপরে একটি স্বাধীন দেশের দুটি পত্রিকার খবরে কি সংবাদ বিলি করে? সংখ্যালঘু নেতা যিনি নামে দাগে শক্ত চুরিতে ধরা খাওয়া জাতির চোখে দাগী আসামী, তিনি বাবু সুরঞ্জিত দেশটির হৃদপিন্ডে মরণ কামড় দিতে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন তথাগত রায়দের! তার ধর্ম নিয়ে মশকরা করতে পারার দক্ষতা কি সংবাদ জানান দেয় বিশ^বাসীকে? সম্প্রতি সুজাতা সিং ভারতের পররাষ্ট্র সচীব বরখাস্ত হন (৩০ জানুয়ারী ২০১), মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত মাস আগে। নতুন নিয়োগে আসেন সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। সোনিয়া গান্ধীর ও কংগ্রেসের নিয়োগে সুজাতার আগমণ ছিল। ২০১৪তে যে বিতর্কীত নির্বাচন হয়ে গেল বাংলাদেশে, এর পেছনে বারে বারে কলকাঠি নাড়তে সুজাতাদেরে দেখা যায়, গল্পের ভাড়ের মত শত হাত দূরে থেকে তারা প্রচার করেন, আমরা বাংলাদেশের আভ্যন্তরিন বিষয়ে নেই! কিন্তু বাস্তবে বাহ্যিক, আভ্যন্তরিন, আত্মিক, শারীরিক, মানসিক সব জায়গাতেই তাদেরে হাত দিতে দেখা যায়। এর কারণটি কি? মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা ভারত সফরে গেলে সুজাতা সিং বৈঠকে কেন এত শীতল ভ’মিকা রাখলেন, তার কপট স্বার্থকে সম্মান দেখাতে? যা দেখে আমাদের মোটা মাথার মন্ত্রী আশরাফ একদম বুয়াদের দালাল হয়ে ড্যান মজিনা সম্বন্ধে উল্টাসিধা কথা বলা শুরু করেন! দীর্ঘশ^াস ছেড়ে বলছি, ভোটের আগের সুজাতা সিং এর কানমন্ত্রে জাতি আজ দ্বিধাবিভক্ত! তারপরও কি ভারত বলবে আমরা আভ্যন্তরিন বিষয়ে হাত দেই না! বিধাতার দৃষ্টিশক্তি কি এতই অল্প বলতে চান ধর্মাবতাররা!

সুরঞ্জিত, সুজাতা, আশরাফ, এরশাদ এরা এদেশের কেউ না। এরা চিহ্নিত দালাল! বাংলাদেশীরা কি এতই গোবেট জাতি? দেখেও দেখে না, কানেও শোনেনা? যে জামাতের সাথে আঁতাত করতে বাড় বাড়ন্ত ব্যস্ত হাসিনা, আজ তারই কপট স্বার্থে সুজাতা এরশাদের কানে কানমন্ত্রে কোরাস গেয়েছিলেন “ওরা (জামাত শিবির!) এসে যাবে?” মনে হচ্ছে ওরা মা কালীর যমদূত! এ অংকটি জাতিকে হৃদয় দিয়ে বুঝতে হবে, এই যদি হয় তাদের অংক, জামাত শিবিরকে আসতেই হবে! কারণ এই জামাত শিবির নিয়েই তারা ফায়দা ওঠাতে চায়! অতীত তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ তুলে রেখেছে তার ঢেকে রাখা নষ্ট ইতিহাসের পাতাতে! সে ঘটমান সময়টিতে বাংলাদেশে ছিলাম, দেখেছি হজম করেছি, এই সেদিনও দালাল বুদ্ধিজীবিরাও সুজাতার সাথে কোরাস সঙ্গিতে সুর দিয়েছেন, জাতি দেখেছে, লজ্জা পেয়েছে! সুজাতা বাংলাদেশের অমঙ্গলে ও তার দেশের  স্বার্থে যা করেছেন তা নীতিবর্জিত কাজ! এ আপত্তিজনক কাজ তাকে বহুগুণ বেশী সমালোচিত করেছে। কিন্তু আমাদের মোটা মাথার বুদ্ধিজীবিরা যে, বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়ে দিশাহারা নাবিকের মত চলেন সে অপবাদ লুকানোর কোন জায়গা নেই! একইভাবে সুরঞ্জিতের অংকটি বড়ই বেমামান, হাজার হলেও তিনি এদেশের আলো বাতাসে বাড়েন চলেন খান বাঁচেন, কিন্তু স্বার্থ দেখেন ভারতের, এর হেতুটা কি? দেশদ্রোহিতা, না ধর্মদ্রোহিতা? তার ধর্ম কি বলে? ধরা পড়া টাকার বস্তা কি পুরোটাই ওপারে যায়? এত নিকৃষ্টই কি কোন ধর্ম নীতি হয়, মানতে কষ্ট হয়?

এতক্ষণ বললাম বেদান্ত সংস্কৃতি মঞ্চের খবর এবার আরেক মঞ্চের খবর শোনাবো। আজ শেষ দিন ৩১শে জানুয়ারীর খবরে প্রকাশ, জেনেছি আগেও। ওরা এবার সরকারী সুরঞ্জিত সাজে আসছে, মোটা অংকের আগাম কারবার, “জাগরণ মঞ্চ”, নাস্তিক নর্তন কুর্দন, অনেক বেলাল্লাপনার খবরসহ গতবার হাইজ্যাক করে নিয়েছিল সরকার বিরিয়ানীর প্যাকেটে, সিগারেট, ড্রাগ টাকার গোমটে। এবার আগেই কিনে রেখেছে দরকষাকষি চলছে সাজগোজ, কদিন থেকে। এটিও “আমাদের সময়” জানালো, জানালো “আমারদেশ”ও। এবার বড়কাজ হবে নিজের সুনাম আর বিরোধীর বদনাম করা, জাতি এ ব্যাপারে বিজ্ঞ অভিজ্ঞ, এতদিনে বেশ বিদ্যে অর্জন করেছে, পোক্ত হয়েছে। দেয়ালে দেয়ালে বিরোধীর বদনাম সাটা হবে, চলছে মন্ত্রণা! মন্তব্য কলামে প্রায়ই একটি মন্তব্য দেখি আল্লাহকে প্রশ্ন করা “এরকম সরকার দিলা, তবে শয়তান দিলা কেন আল্লাহ?” সরকার আর শয়তানের মাঝে মনে হচ্ছে কোন পার্থক্য নেই। গত শনিবার থেকে খালেদা জিয়ার বিদ্যুৎ, টিভি, ইন্টারনেট, ক্যাবল, ফোন, মোবাইল সবই অচল। আজ দেখলাম পানিও কন্ট্রোল করছে। এ তো এজিদের বংশধর! প্রধামন্ত্রী কি বলবো, মাননীয় বলার মনে হয় কোন প্রয়োজন নেই! মনুষ্যত্বের অস্তিত্ব আছে নাকি ওদের মাঝে, সেটিই প্রশ্ন জাগছে! ওদের দলে কি একটিও মানুষ নেই?

 

নাজমা মোস্তফা,  ৩১ জানুয়ারী,  ২০১৫।

Advertisements

বাংলাদেশে রাজনীতির অগ্নুৎপাত

সবুজের দেশে ভয়ানক হলাহলের মাঝে রাজনৈতিক উত্তাপে দেশ ভেসে যাচ্ছে। উইলিয়াম মাইলাম একজন লেখক সাংবাদিক ওয়াশিংটন ডিসির উড্রো উইলসন সেন্টারের সিনিয়র স্কলার। আগে তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আমেরিকার এমবেসেডার ছিলেন। তাই এসব দেশের মাটির সাথে তার কিছু যোগসূত্র লক্ষ্য করা যায় তার অতীত ইতিহাসে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ময়দান তার কাছে অতিরিক্ত স্পষ্ট বলেই মনে হয়েছে। সম্প্রতি তিনি একটি কলাম লিখেছেন ১৬ জানুয়ারী ২০১৫ তারিখে লেখাটি অনলাইন দ্যা ফ্রাইডে টাইমস ডট কম ছেপেছে। লেখাটির নাম হচ্ছে “এন ইল উইন্ড ব্লউজ ফ্রম দ্যা ইস্ট” অর্থাৎ “পূর্ব থেকে একটি অসুস্থ বাতাস বইছে”। লেখাটি বাংলাদেশ পরিস্থিতির উপর লেখা যা আমাদেরে স্মরণ করিয়ে দেয় তার একাত্মতা দেশটির প্রতি। সম্প্রতি তার উৎকণ্ঠার কারণ হচ্ছে মানবতার কারণে ভুলুন্ঠিত হচ্ছে এতদঅঞ্চল, যার জন্য তার সাংবাদিক মনের উৎকণ্ঠা তার লেখনিতে ফুটে উঠেছে। তার শংকা হচ্ছে যে খুব নিকট সময়ে বা দেরীতে হলেও একটি ভয়ানক পরিণতির আশঙ্খা তিনি করছেন। তার লেখাতে এটিও ফুটে উঠেছে যে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধারাও ধড়পাকড় ও  কারাগার বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। তিনি রাখঢাক না রেখেই স্পষ্ট করেই বাংলাদেশ সরকারের অনাচারের কথা অকপটে প্রকাশ করেছেন। তার লেখাতেও আছে মিডিয়া চাপের মুখে সময় পার করছে।

আরেকটি লেখা আসে সমসাময়িক সময়েই কুলদীপ নায়ার ভারতের মানবতাবাদী লেখক ও সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, তিনি আবার ১৯৯৭ সালে ভারতীয় পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। তার কলামের নাম হচ্ছে “দ্যা ট্রাজেডি অব বাংলাদেশ” মানে “বাংলাদেশের দুর্ভোগ” এটি ছেপেছে পাকিস্তান  টুডে ডট কম, ১৮ জানুয়ারী ২০১৫ তারিখে। এখানের দুজনাই উৎকন্ঠিত, বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে। কিন্তু দুজন দু মেরুর বাসিন্দা বলেই মনে হচ্ছে। কুলদীপ নায়ারের লেখাতে একজন বাংলাদেশী হিসাবে বেদনা অনুভব করেছি। কারণ এমন জটিল সময়ে তিনি এত একপেশে কেমন করে হন যেখানে তিনি মানবতাবাদী আর তার উপর সাংবাদিক। সত্য প্রচারই যাদের একমাত্র বাঁচা মরা, তার পেশা তাই নির্দেশ করে। তার বক্তব্যে এটি খুব স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে যে, খালেদা জিয়া ইলেকশন বয়কট করে ভুল করেছেন, যুক্তি দেখিয়েছেন কারণ এর ফাঁকে দেশে ফ্রি এবং ফেয়ার ইলেকশন হয়েছে এমন কি বিরোধী দলও আছে। তিনি বেশ কিছু উপদেশও বিলি করেছেন যে দেশটি সৃষ্টির পেছনে ভারতের সহযোগিতা ছিল সে হিসাবে আজো এ বিপদের দিনে ভারত সহযোগিতা দিতে পারে। তিনি এটিও বলেছেন এখানের মানুষ ধার্মিক আবার লিবারেল, সহমর্মী। এক মিলিয়ন হিন্দু এখানে বাস করে, ঝামেলা বিহীনই বলা চলে। তারপর তিনি নেতিবাচক যা বলেছেন তা হচ্ছে এরা সব সময় বাইরের থেকে সাহায্য নেয়, আর ঐ ভরসাতে বাঁচে। এটা তাদের জন্য ভালো না। তাদেরেকে তাদের নিজের দিকে তাকাতে হবে। দুই বেগমই বাইরের  দিকে তাকিয়ে থাকেন। সব সমস্যার চাবি হাসিনার হাতে বলেই তিনি মনে করেন। এটিও তিনি বলেন যে এটি খালেদার জন্য বেশী চাওয়া হয়ে যায় নির্বাচনের দাবীটা। তারপরও তিনি উভয়ের মাঝে একটি নতুন শুরুর আশা রেখে কলাম শেষ করেন।

উভয়ের ফাঁক গলিয়ে কিছু কথা জমে গেছে যা বাংলাদেশের জনতার পক্ষ থেকে বলা দরকার মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে বাংলাদেশের বিপদ মাইলাম আঁচ করতে পারলেও নায়ার বাংলাদেশের চিন্তায় নেই। নায়ার বাংলাদেশীদের স্মরণ করিয়ে দেন চার পয়েন্টের উপর কন্সটিটিউশন এর কথা। বস্তুত এ দেশ স্বাধীন হয় চার পয়েন্টের উপর নয়, হয়তো নায়ার এটি কম জেনেছেন, তাই স্পষ্ট করতে চাচ্ছি, একজন মুক্তি যোদ্ধার যুক্তিই আনবো। কথাগুলি সাধারণের নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধার লিখিত গ্রন্থ bangladesh-flag-brick-wall-750“অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” গ্রন্থ থেকেই সংযোজন করছি “৭২এ আওয়ামী লীগের এমন কোন বৈধ অধিকার ছিল না যাতে করে তারা দেশ ও জাতির উপর একটি মনগড়া সংবিধান আরোপ করতে পারে। তবুও তারা তা জবরদস্তি করেছে। দেশের জনগণের চিৎকার প্রতিবাদ কোন কাজেই আসেনি। এভাবেই যুদ্ধোত্তর বিধ্বস্ত বাংলাদেশের কোটি কোটি বুভুক্ষ মানুষের জন্য অন্নবস্ত্রের পূর্বেই রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এসে মাথায় চেপে বসে। এই ৪ মূলনীতি আরোপ করার মধ্য দিয়ে দিল্লীর কর্তারা তাদের মূল লক্ষ্যই স্থির রেখেছে কেবল।” লেখক বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে নবম সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। এভাবেই খুব কৌশলে বাংলাদেশীর মগজে ওটি সেটে দেয়া হয়। তাই নায়ার বিষয়টিতে যেভাবে সহজ বলে প্রচার করতে চাচ্ছেন বিষয়টি এত সহজ মোটেও নয়। এই যে বিস্ফোরণ এটি প্রস্তুত হচ্ছে বেশ সময় থেকে; বলা চলে চল্লিশ থেকেই। কদম কদম হাটা চলা শিখতে শিখতে এখন জাতির হৃদপিন্ডে কামড় পড়ছে। যে স্বচ্ছতা একজন মাইলাম দেখতে পারেন, সেটি কেন নায়ার দেখতে পারেন না সেটি বুঝে আসে না। যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ যুদ্ধ করেছিল সে যুদ্ধ আজো স্বপ্নাতীত রয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ কি চাইবে না চাইবে তা তার নিজের ব্যাপার। যে বাংলাদেশ পাকিস্তানের গোলামী করলো না, সে কেমন করে ভারতের গোলামী করবে সেটি কি তারা বুঝতে পারেন না। এসব মধ্যযুগীয় চিন্তা থেকে বের হয়ে চলাই একবিংশ শতকের জন্য মঙ্গল।

সারা বিশ^ জানে, ভারতীয় মিডিয়াতে এটি এসেছে যে তারা নির্বাচনে একটি দলকে ঘুষ দেয়। এটি কি মানবিক আচরণ? এবারের নির্বাচনে ১,০০০ কোটি টাকা (নববার্তা, ভাস্কর দেব, নতুনদিল্লী ২০ অক্টোবর, ২০১৩), আগের নির্বাচনে ৮০০ কোটি টাকা এসব হিসাব ভারতের মিডিয়াই প্রচার করেছে। ৭১ পূর্ব মুক্তিযুদ্ধটি কোন সময়ই ধর্মযুদ্ধ ছিল না, যা অনেকে গেলাতে চাচ্ছেন। ওটি ছিল পূর্ব ও পশ্চিমের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের লড়াই। ৬ দফার লড়াইতে সেকুলারিজমের চার স্তম্ভের লড়াই ওটি ছিল না। সেদিন মুসলিম মুসলিমের বিরুদ্ধে লড়েছে ভাগ বাটোয়ারার প্রশ্নে। নায়ার বলতে চাচ্ছেন আমেরিকা বড় আকারে বাংলাদেশের কর্তৃত্বে আছে কিন্তু গোটা জাতি দেখছে ভারতের কর্তৃত্ব, অতিরিক্ত দাদাগিরি। ভারতের কথা বলতে পারেন না, সত্য প্রকাশে নায়ারের এত শংকা কেন? এবার নির্বাচন নিয়ে এই অবৈধ সরকার যা করেছে সেটি ভারত ছাড়া আর কেউ স্বীকৃতি দেয় নি। বরং সবাই প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। সেদিন আওয়ামী লীগরাও ভোট দিতে যায় নি। ওটি কোন ভোট ছিল না ছিল প্রতারণার খেলা। ভোটের মাঠ পাহারা দিয়েছে কুকুর। আর ভোট দিয়েছে কিছু অর্বাচিন ৯/১০ বছরের ছেলে পেলে জাল ভোট দিয়েছে। এতসব করে সরকার পেয়েছে মাত্র ৫% ভোট, সরকারী হিসাব সম্পূর্ণ মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। এ সরকার সত্য খুউবই কম বলে। অবশ্যই সাধারণভাবেও সরকার এর চেয়ে বেশী ভোট পেতো কিন্তু সে ভরসা আজ আর তাদের নেই বলেই এত নির্বাচনী খেলা, সেটি বুঝেও না বুঝার ভান ভারতীয় সাংবাদিককেই মানায় ভালো। ১৫৩ জন বিনা ভোটে জেতা সদস্য বাকীরা ৫% গদি রক্ষা কমিটি। তাদের চিৎকার চেচামেচিতে দেশ ধ্বংসের পারে এসে গেছে। ভারত বলে বাংলাদেশের আভ্যন্তরিন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু সারা জাতি জানে, ভারতের সুজাতা সিংকে এসে এরশাদকে ধাক্কা দিতে হয়েছে, তিনি সোজা চলে যান এরশাদের মঞ্জিলে। জবরদস্তি করে বিড়াল সরকার তুলে নেয় ইঁদুর এরশাদকে হাসপাতালে, সেখান থেকে গলফ খেলা, খেলা থেকে নির্বাচনের পর সংসদে যাওয়া এই তো বিরোধী দলের স্বৈরাচারী নাচন। এদের বলা হয় গৃহপালিত বিরোধী দল।

ক্ষমতা হাতে নিয়ে অতি অল্প দিনের মাঝে বিডিআর মিউটিনি ঘটিয়ে দেবার দক্ষতায় ভারতের হাত অনেক যে লম্বা ছিল, তা তো দেশবাসী জেনেছে, শত শত ঘটনা তার নিরব দিকদর্শক হয়ে জনতাকে গাইড দিয়ে চলেছে। লেফটেনেন্ট জেনারেল জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীর করা তদন্ত রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে পারে নাই বলে সেটি জনসমক্ষে প্রচারিত হয়নি। বরং তার মুখ থেকে বের হয়, তা হলে আমার নামটি ও যোগ করে দাও! সরকার যদি জড়িত থাকে তবে কেন তার নাম আসবে না, সেটি জাতির প্রশ্ন? জঙ্গির খেলা কেউ না দেখলেও সরকার দেখে, সাথে ভারতও সে এক চোখ দিয়েই দেখে। সরকার ও ভারতের চোখ কেমন করে এক হয়, সেটিই জাতির প্রশ্ন? প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয় “ষ্টিমিং দ্যা রাইজ অব ইসলামিক এক্সট্রিমিজম ইন বাংলাদেশ” লিখে ডাটা দেন যে, বাংলাদেশের বিএনপি জোটের সময়ে ৩০% মাদ্রাসা ছাত্রকে সৈন্য বাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ না থাকলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, হত্যা গুমের বিরুদ্ধে “অঋজঅওউ” এফরেইড সংস্থাটি সরকারের হত্যা, গুম ধড়পাকড়, নির্যাতন সব ধরণের অনাচারের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ করে চলেছে। একের পর এক গোপন চুক্তির মাধ্যমে জাতীয় স্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। আপনাদের চোখে যে হাসিনাকে ধোয়া তুলসি পাতা মনে হচ্ছে, তাকে দেশবাসী দেখছে একজন লেন্দুপ দর্জির আদলে। লন্ডন প্রবাসি এক চোখা আব্দুল গফফার চৌধুরীর মত না হয়ে বাস্তব দৃষ্টি সম্পন্ন সাংবাদিকের দৃষ্টিতে দক্ষতা রুখুন, এতে সব যুগে সব ধর্মে সততার মূল্যে বিধাতার বিচারে অতিরিক্ত সম্মানের অধিকারী হবেন। বর্তমান সরকারের অপরাধ এত ব্যাপক যে তার বলে আর শেষ করা যাবে না। তারা দম ছাড়লেই বিষাক্ত গ্যাস বের হয়। তাদের দলবাজরা নিজেরাই ফাঁস করে চলেছে চারদিকের সব অপকর্ম। জাতির চোখ কান আজ অতিরিক্ত খোলা। আপনারা আর ঘুম পাড়ানিয়া গান গাইবেন না।

 

উপরে যে সাংবাদিকের লেখা দিয়ে লেখাটি শুরু করেছিলাম তার আর একটি উক্তি প্রণিধানযোগ্য বলেই মনে করছি। বাংলাদেশে নিযুক্ত ঐ মার্কিন সাবেক রাষ্ট্রদূত তার লেখা বইএ ঐ মন্তব্যটি অতীতে করেছিলেন। “It’s hard to imagine what would have happened to Bangladesh had Ziaur Rahman been assassinated in 1975 instead of 1981. A failed state on the model of Afghanistan or Liberia might well have resulted. Zia saved Bangladesh from that fate.’ – Ambassadoor William B Milam in ‘Bangladesh And Pakistan : Flirting With Failure In South Asia, page 69.” অর্থাৎ এটি ধারণা করা খুবই কঠিন যদি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে না মরে ১৯৭৫ সালে মারা যেতেন তাহলে এটি একটি আফগানিস্তানের আদলে অথবা লাইবেরিয়ার মতো দেশ হতো। জিয়া বাংলাদেশকে ঐ দূর্ভাগ্যের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। “বাংলাদেশ অ্যান্ড পাকিস্তান: ফ্লারটিং উইথ ফেইলিয়র ইন সাউথ এশিয়া গ্রন্থের ৬৯ পৃষ্ঠাতে কথাটি এসেছে। একজন সাংবাদিক হিসাবে তার এ মূল্যায়নকে আমরা অত্যন্ত বাস্তব ও জীবন্ত বলেই মনে করি। সত্যকে সত্য বলতে পারার সাহসের জন্য হাজারো সালাম তার পাওনা হয়ে থাকবে। আজকের যুগে সবার মুখ দিয়ে সত্য বের হয় না। অনেকেই সত্য বলতে কুন্ঠিত থাকে। বাংলাদেশের মিডিয়া শত যাতনার সময় পার করছে। তাই সত্য খুব কমই প্রকাশ পায়। তারপরও যারা অকপটে সত্য প্রকাশ করেন তাদেরে হাজারো লাল সালাম।

“মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ন’টি মাসের অসীম ত্যাগ তিতিক্ষা এবং আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে রচিত বিজয় পর্ব এভাবেই ভারতীয় শাসক চক্র দ্বারা লুন্ঠিত হয়ে যায়। সংগ্রামী, লড়াকু বাঙালী জাতি প্রাণপণ যুদ্ধ করেও যেন বিজয়ী হতে পারল না, পারল কেবল অপরের করুণার বিজয় বোধ দূর থেকে অনুভব করতে। বিজয়ের সরাসরি স্বাদ থেকে কেবল বাঙালী জাতি বঞ্চিত হলো না, বঞ্চিত হলো প্রকৃত স্বাধীনতা থেকেই। সুতরাং সেই বঞ্চনাকারীদের কবল থেকে বঞ্চিতদের ন্যায্য পাওনা আদায় করার লক্ষ্যে আর একটি প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজন কি এখনও রয়ে যায় নি? একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অবুঝের মত কেবল ৪টি স্তম্ভই ধার করলাম, নিরাপদ একটি বাসগৃহ তৈরী করার প্রস্তুতি নিলাম না। দেশের কোটি কোটি নির্যাতিত মানুষ এবং তৌহিদী জনগণ আজ সেই নিরাপদ একটি বাসগৃহই কামনা করে, বিদেশী প্রভুদের কাছ থেকে পাওয়া স্তম্ভ বিশিষ্ট ইমারত নয়। কথাগুলি ছিল মেজর জলিলের বই “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” গ্রন্থের শেষ পেরা। আজ গোটা দেশই মেজর জলিলের সাথে একাত্বতা ঘোষনা করছে। সে একাত্বতার রিনিঝিনি কি নায়াররা বুঝতে পারেন না, না বুঝেও না বুঝার ভান করেন?

 

নাজমা মোস্তফা,   ২৭ জানুয়ারী ২০১৫।

বিরোধীরা আন্দোলনে আর সরকার গণহত্যায়

নীচে একটি ভিডিও মিস করবেন না।

বাংলাদেশে বিরোধীর ন্যুনতম রাজনৈতিক অধিকার রাস্তায় দাঁড়াবার অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ। ধড়পাকড়, রিমান্ড, গুলি, বেধড়ক পিটুনী, গণগ্রেফতার বাংলাদেশের চলমান বর্তমান। গণআন্দোলনে দিশাহারা সরকার এখনো বড় গলাতে বলে চলেছে “কারা বোমা বানায় ও ফাটায় খুঁজে বের করুন। সরকার প্রধান আরো বলেন, খালেদার আন্দোলনে কেউ সাড়া দেয় না; জনগণ ক্ষ্যাপে গেলে পরিণাম হবে খুবই খারাপ।” তার কথার সাথে কাজের মিল পাওয়া কষ্ট। ঐ একই দিনের খবরে শিরোনাম ছিল “সমাবেশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিসহ ক্ষমতাসীন দলের ৪জন আটক। নামধামসহ তাদের পরিচিতি প্রকাশিত হয় (আমার দেশ, ১২ জানুয়ারী)। তবে মিডিয়া সরকারের বাড়তি চাপের মাঝে, আর যারা দাসসম তারা এসব সব সময়ই রেখে ঢেকে রাখে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, “কীভাবে খালেদা জিয়াকে শায়েস্তা করতে হবে, তা ছাত্রলীগ জানে।” তাদের তৃণমূল থেকে বড় নেতা সবার একই ভাষা। গত ৩১ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাত দফা সমঝোতা প্রস্তাবের বিপরীতে শেখ হাসিনা ৩ থেকে ১৯ জানুয়ারী তাকে অবরুদ্ধ করেছেন। সরকার ৫ তারিখ বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়নি আবার ১২ তারিখে তারা নিজেরা সমাবেশ করে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। খালেদা নির্বাচনে না আসাতে জাতি বেঁচে গেছে, “আমি বেঁচে গেছি” কৌশলী নেত্রী কথাটি উহ্য রেখে, উল্টো কথাটি বলছেন। ভাবখানা এমন যেন জাতির নাড়ির খবর তিনি জানেন না। যেন পাগলীনির অভিনয় করে চলেছেন। এমন দুর্যোগে কখনো রবীন্দ্র সঙ্গিতে যোগ দিচ্ছেন, কখনো বাচ্চাদের গায়ে টোকা মারছেন। একবিংশ শতকের রুম, বাংলাদেশ নামের দেশ পুড়ছে, পুড়াচ্ছে সরকার। সবার উপরে শক্ত করে আকড়ে থাকা গদি হাসিনার, তার বাকী পোড়খাওয়া গোটাদেশ বাকী সবার।

সাবিহউদ্দিন, রিয়াজ রহমানসহ খালেদা জিয়ার প্রতিটি নিকট সদস্যকে আটক গুলি ও গাড়ীতে আগুন দেয়া হয়েছে হচ্ছে। সিনিয়র নেতাদের বাসাতে ও অফিসে গুলি ও বোমা হামলা চলছে, একথায় তাদেরে পঙ্গু করে দেয়ার পায়তারা চলছে। এমনকি শফিক রেহমানকেও ছাড় দেয়া হচ্ছে না। যারা এতদিন সীমান্তের পাহারাদার ছিল তাদেরেও নিয়ে আসা হয়েছে বিএনপি জামায়াতের পাহারার জন্য। লগি বৈঠার ডাক দিয়ে একের বদলে দশ লাশ ফেলা নেত্রীর দলবাজরা একই ভঙ্গিমাতে এসব করে চলেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “বন্দুক পিস্তল দেয়া আছে, আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান।” যেন তিনি অধৈর্য্য হয়ে পড়েছেন বলতে চাচ্ছেন বেটারা তোদেরে অস্ত্র দিয়ে পাঠানো হয়েছে, এখানে আনা হয়েছে গুলি চালাবি। ঠেকায় পড়লে কি বলবি “আত্মরক্ষার্থে” কথাটিও বলে দেয়া হচ্ছে কৌশলে; শুধু বিরোধী ধরে ধরে মারবি আর গুলি করবি। এমনিতেই তো তাদের সাত খুন মাফ, করে রেখেছে সরকার। কেমন মজার এক অবৈধ সরকার ও তার প্রশাসন! কেউ নির্দেশ দিচ্ছেন পায়ে গুলি কর, কেউ নির্দেশ দিচ্ছেন, ওতে কাজ না হলে বুকে গুলি কর। এধারার উসকানীর নির্দেশেই রিয়াজ রহমানের উপর হামলা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ আর এ গনির ধানমন্ডির বাসার সামনে কে বা কারা রাতের আধারে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে গেছে। এসব চলছে মাঠ পর্যায়ে সর্বত্র, তারপরও গুলি করা আগুন দেয়া আসামীরা ধরা খায় না।  বরং এসবের ভিতরে আবেদ খানরা বিএনপির অশরীরি আত্মা দেখতে পান।

Jonotar Kotha 26 07 13 সাগর রুনির হত্যার কোন বিচার হলো না

বিজিবি পুলিশ র‌্যাব একপায়ে দাঁড়া। সর্বত্র সরকারের হুমকি আর ধমকি চাল চলছে, এসব তুঙ্গে। মানিক গঞ্জে বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, নারায়নগঞ্জে আবারো বাসে আগুন, শিশুসহ আহত ১০। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে চাষাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বন্ধন সমবায় পরিবহনের একটি বাসে অভিনব কায়দায় ১০/১৫ জন যুবক প্রথম লোহার পেরেক সাটা একটি কাঠের বোর্ড ফেলে গতি রোধ করে তার পর বাসের গ্লাস ভেঙ্গে অভিনব কায়দায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়, সারা দেশে পুলিশ বিজিবি র‌্যাব এক পায়ে দাঁড়া কিন্তু পেট্রোল ঢালা আসামী ধরা পড়ে যুবকরা নয়, প্রৌঢ়রা, রিজভী, আমান, বুলু, বিএনপির বড় নেতারা (১৯ জানুয়ারী ২০১৫, আমার দেশ)। । বানিজ্যমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রীসহ সবকটি সরকারী মাধ্যমে হত্যা খুনের হুমকি চলছে, মোকাবেলা হবে অস্ত্রের মাধ্যমে, হচ্ছেও তাই। সংগ্রামের অবগুন্ঠন উন্মোচনে আসিফ আরসালানের কলামে কিছু তথ্য উঠে এসেছে।  তিনি আন্দোলনে এ সময়ের মাঝে ক্ষয় ক্ষতির মোটামোটি একটি হিসাব কষেন। এবং সেখানে তিনি আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, “প্রতিটি হামলার ঘটনাই নিন্দাজনক। কিন্তু আমরা নিশ্চিত নই যে, কারা এসব ঘটাচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার জন্যই সরকার বিএনপির উপর দোষ চাপাচ্ছে। কিন্তু একটি ঘটনারও তদন্ত করেনি।” (১৬ জানুয়ারী টেলিভিশনের ‘সম্পাদকীয়’ টকশো)।

এদিকে পেট্রোল বোমা ছোঁড়া হচ্ছে দেখে নিক্ষেপকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর। তার বিনা নির্দেশেই কি এতসব হচ্ছে? প্রতি মূহূর্তে তিনি নির্দেশ দিয়ে চলেছেন। সম্প্রতি গোয়েন্দাদেরে তৎপরতা বাড়াতে বলেছেন। এসব তো বহুগুণ বাড়িয়ে আছে বহুদিন থেকে। যার কঠোর প্রতিবাদ করে চলেছে গোটা জাতি। তারপরও প্রতিদিন লাগামের রশি বাড়তি করে টানা হচ্ছে বলেই আন্দোলন হচ্ছে। কিন্তু মোদ্দা কথা হচ্ছে পেট্রোল বোমা যারা ছুঁড়ে এদের পরিচয়ে পেলেও কি সরকার কোন দিন ধরেছে? এমন নজির নেই। হুমকি, ধমকি, হামলাই সার। এখানেও আমরা জানলাম কোন তদন্ত এসব বিষয়ে নেই। তবে ধড়পাকড়ের কমতি নেই আর তা বিরোধীর জমা খাতার হিসাব। এবার ঐ সূত্রে এসেছেন রিজভী, আমান, বুলু, নাদিম মোস্তফারা। প্রশাসন এক পায়ে দাঁড়িয়ে, ওদের পরিমিত রসদ দেয়া হয়েছে, সব ধরণের পাওনা পুষিয়েই এখানে আনা হয়েছে।

ইতিহাস বলে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসের মা জননী, পেট্রোল বোমার সব নাড়ি নক্ষত্র তার জানা। তারপরও সেবার তিনি ছুটে গেছেন গীতা রাণীদের জন্য মায়াকান্না করতে। যার জবাব দিয়েছিল সেদিন গীতারানী তার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে। বিহঙ্গ পরিবহনের হিন্দু মালিকের দখলে ছিল ঐদিনের পেট্রোল বোমা। এবারও বলছেন “ওদের হাত পুড়িয়ে দিলেই বুঝবে পোড়ার যন্ত্রণা” উনি কখনোই আসামীর শাস্তি চান না, শুধু বিরোধী রিজভী, আমান, বুলু, নাদিম মোস্তফাদের হাত পুড়াতে চান। “বর্তমানে মামলা ৩০০, আসামী ৬০,০০০ আর গ্রেফতার ৭,০০০ (কাফি কামাল, ১৮ জানুয়ারী, দৈনিক মানব জমিন)। এ দেশ স্বাধীন দেশ মানুষের দেশ বলে মনে হয় কি? এ দেশ আসামীর দেশ, গোটা দেশই এক কারাগার বানিয়ে রেখেছে এ অবৈধ পথে আসা মানুষটি। “কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ২৯,০০০ বন্দি ৮০,০০০, মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা” (আমার দেশ, ১৮ জানুয়ারী)”। ১৬ জানুয়ারী দৈনিক যুগান্তর একটি বিশ্লেষণধর্মী খবর ছাপিয়েছে “অপরাধী কারা?” সারাদেশে গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে, সরকার গুলি চালিয়ে শক্তি দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে রাখতে চাচ্ছে। বিজিবি, পুলিশ র‌্যাব দেশ চালাচ্ছে। ইংরেজী নিউজ এজএর সম্পাদক নূরুল কবীর আরটিভির ‘আওয়ার ডেমোক্রেসি’ অনুষ্ঠানে কিছু মন্তব্যে তিনি বলেন, পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মানুষ যারা হত্যা করে আইনশৃংখলা বাহিনী তাদের কাউকে স্পটে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কারণ এরা রাজনৈতিক সুবিধাভোগী। এদেরকে ছাড়া সরকার চলতে পারেনা, সরকার ছাড়া এরা চলতে পারে না। অর্থাৎ এদেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ’৯৬সাল থেকে এটা দেখছি। আওয়ামী লীগের সংগ্রামের সময় শেরাটনের সামনে একবাসে আগুণ দিয়ে ১৫ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়। বর্তমান সরকারের কোন জনসমর্ধন নেই। এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। এ জন্য কিছু মন্ত্রী অতিরিক্ত কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি যখনই দলীয় পক্ষপাতিত্ব অশ্লীল, অগণতান্ত্রিক, নিয়ম বহির্ভূত এবং আইনবহির্ভূতভাবে বক্তৃতা দেয় এবং কাজ করে তখনই এসব প্রতিষ্ঠান জনবিচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আরেকজন ক্ষমতায় এসে যাবে বলে আপনি নির্বাচন দিবেন না, এ খোঁড়া যুক্তি ছাড়া আর কিছু নয়।

শেরাটন হোটেলের সামনের ভিডিও ফুটেজের ঘটনার বিবরণ ২০১৩সালের এপ্রিল থেকে হাজার হাজার দেশী বিদেশী বাংলাদেশী জনতা ইউটিউবের ভিডিওতে দেখে চলেছে। এভাবে শেখ সেলিম ও ওবায়দুল কাদেররা ধরা খেলে অকপটে স্বীকার করেন যে ওটি ছিল হাসিনার চাল, ছিল আওয়ামী ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র। আজো কেউ ইউটিউবে গিয়ে সার্চ দিলে এর সাথে আরো অজ¯্র জটিল বিষয়ে গার্মেন্ট শিল্প ধ্বংসকরাসহ স্পষ্ট অনেক খবর জানতে পারবেন তাদের মুখ থেকেই। ঐ সময় ১/১১এর সময় তাদের প্রশ্ন করা হলে তারা গড়গড় করে সব গোপন ওপেন করেন। বলেন, “এসব ঠিক হয়নি” এটিও বলেন, উপর থেকে ওভাবে নির্দেশ দেয়া হয় করতে, তাই তারা শেরাটনের সামনে বাসে আগুণ দেয়, এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের অসুস্থ রাজনৈতিক চাল। বর্তমান ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখে ধারণা করি, এটি ওদেরই চাল। সব ঘটনাই নেত্রীর নির্দেশে সংগঠিত হয়। “আওয়ামী স্ক্যান্ডাল লিকড” এ ইউটিউবে যান, ক্লিক করুন। লাইন বাধা সবগুলো প্রশ্নের উত্তর পাবেন। এর পাশাপাশি প্রতিবেশীর স্বার্থে কিভাবে গার্মেন্টস সেক্টরকে ধ্বংস করা হচ্ছে, এসব একে একে অজ¯্র তথ্য খোলা ময়দানের বাণী হয়ে ফুটে আছে। কি সরকার কি বিরোধী অবস্থানে উভয় ক্ষেত্রেই এ সরকার দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে গলা অবধি ডুবিয়ে থেকেছে। আজ ময়দানের সরকার নিজেই অতীত সব অপকর্মের উদাহরণ মাত্র।

ধন্যবাদ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদকে, তার উপলব্ধির জন্য। তিনিও বলেছেন বিএনপির আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই আওয়ামী লীগের কর্মীরা গাড়ি পোড়াচ্ছে, অগ্নিসংযোগ করছে। “হরতাল অবরোধ সহিংসতায় সর্বকালের সেরা রেকর্ড আওয়ামী লীগের” একটি লেখাতে ১৯৯১-১৯৯৬এ আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন ও ২০০১Ñ২০০৬এ ১৩০ দিন (১৭৩+১৩০)=সর্বমোট ৩০৩ দিন গোটা দেশ অচল করে দিয়েছে, সেখানে একটানা ৪৮ ঘন্টার হরতালসহ লাগাতার অবরোধের কোন কমতি দেখা যায় নি, গোটা জাতির সেটি জানাই আছে। পক্ষান্তরে বিএনপি তার শাাসনামলে ৫৯ দিন হরতাল দেয় (শহীদুল ইসলাম, ১৮ জানুয়ারী, দৈনিক সংগ্রাম)।  আবু রুশদ এর “বাংলাদেশে র” গ্রন্থে এসবের পিছনে সরকার ও ভারতীয় রএর চালের উপর সুস্পষ্ট খেলাপাতা জনতার সামনে আছেই। তাছাড়া ‘গাড়ি জ¦ালালে ক্ষতিপূরণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী’ সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এটি বলা আছেই। এবার গণহত্যায় কারা জড়িত, সেটি আশা করি খুঁজে পেয়েছেন দেশবাসী। সুদূর আমেরিকাতে বসে আপনাদের এসব দুর্ভোগ আঁচ করে শুধু আতঙ্কিতই হচ্ছি। কোন কিছুই অস্পষ্ট নয়, সবই দিনের আলোর মতই স্পষ্ট।

নাজমা মোস্তফা,  ১৯ জানুয়ারী ২০১৫।

ভারতকে আওয়ামী সরকার নির্বাচনী ব্যাঙ্ক ভাবে

ভারতের অমিতশাহ খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করাতে সরকারের মন্ত্রীরা পাগল প্রায়  হয়ে উঠেছেন। পেপার স্প্রের কারণে অসুস্থ খালেদা জিয়ার খোঁজ খবর নেন ফোনে বিজেপির প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ। উল্লেখ্য ঐ টেলিফোনের পরএটি শুনে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। যা হচ্ছে আর এটি লজ্জাজনক বিষয়। সম্প্রতি এখানে আমেরিকাতে একটি রাস্তার নামকরণ করেছে জিয়াউর রহমানের নামে। সেখানে শিকাগোতে জিয়ার নামে সড়কে কুটনৈতিক লড়াইএ গেছে বাংলাদেশের অবৈধ সরকার। গত ৫০ বছরে তারা বিভিন্ন সড়কে এরকম ১,৫০০ সম্মানসূচক নামকরণ করেছে। জিয়াউর রহমান একজন স্বৈরশাসক এবং নিপীড়ক ছিলেন দাবী করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন। তার দাবী ছিল এ ব্যক্তি এর যোগ্য নন। তারপরও জো মোর নর্থ ক্লার্ক স্ট্রিটএর দুটো ব্লকে “জিয়াউর রহমান ওয়ে” নামফলক স্থাপিত হয়। এটি রোধ করার জন্য আওয়ামী লবির লোকেরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও ওটি রুখতে পারে নি। তবে ভবিষ্যতে যাতে আর কোন রাস্তার নামকরণ তার নামে না হয় তার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ হচ্ছে তাদের মনের সংকীর্ণতার পরিচয়। খালেদা জিয়া বিরাট সংখ্যক জনগণের নন্দিত নেত্রী। তিনি কারো মুখাপেক্ষী থাকার কথা নয়। একটি নষ্ট অবৈধ সরকার আগা থেকে গোড়া মিথ্যায় ডুবে থাকা দেউলিয়া দলও দেউলিয়া সরকার, খালেদা জিয়াকে অবরোধ করে তালাবদ্ধ করে রেখেছে, পিপার স্প্রে দিয়ে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে, বালুর ট্রাকে সামাল দিতে হয়েছে। তারা আজ আয়নায় দেখেও নিজেদের চিনতে পারছে না, এতই ভয় পেয়েছে যার জন্য তালা, বালি, ট্রাক, পুলিশ, হামলা মামলা তো আছেই। এহচ্ছে অবৈধ পথে আসা একটি সরকারের আচরণ জনিত জটিলতা। তারা সত্যবাদিতার কোন ট্রেনিং পায় নি, মিথ্যার উপরই তারা খায় চলে ঘুমায় গায় রাজনীতি করে। এর প্রমাণ সারা জাতিসহ গাটা বিশ^ দেখে চলেছে। খালেদার খবর নিয়ে অমিত শাহ এমন কোন মহাভারত করে ফেলেন নাই। কে মিথ্যাবাদী সেটি জাতিই বিচার করতে পারবে। মানুষকে বাঘ আসলো বাঘ আসলো গল্পটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, অতপর বাঘের পেটেই গল্পের মিথ্যাচারী ষড়যন্ত্রকারীর মৃত্যু হয়। ধারণা করি আজকের বাঘের মৃত্যুও সেভাবেই ঘটবে।

আজকের খবরে দেখলাম এমন সংকট সময়ে বেহাল দশাটি ঢাকতে কত আজব তাল চলছে, এ তার নমুনা মাত্র। “১১টি মেডিক্যাল কলেজ উদ্বোধন হচ্ছে” কাদের জন্য? এ সরকারের শাসনামলে দলবাজ চোর ও সন্ত্রাসী ছাড়া ওখানে কেউ চান্স পাবে না, এটি জানার পরও এসব হচ্ছে টিকে যাওয়ার কৌশলী নাটক মাত্র। ছলে বলে কলে কৌশলে শুধু গদিটায় টিকে থাকা চাই; মানুষ না হয়ে মিথ্যুক হয়েও টিকে থাকাটাই জীবনের বাজী। শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবীতে সারা দেশ উদ্বেল, এর মাঝে দুই বাংলাদেশী ছাত্র যারা বৃটেনে পড়তে এসেছে, তারা আমরণ অনশন শুরু করেছে বৃটেনের পার্লামেন্টারী ভবনের সামনে। তারেক রহমানের মুখের নাগাল না পেলেও, কোর্টের আইনে তার মুখে লাগাম দেয়ার অপচেষ্ঠা হয়েছে। সংবিধানের ৩৯ নং ধারায় প্রতিটি নাগরিকের কথা বলার ও মতামত প্রকাশের অধিকার স্বীকৃত অধিকার হয়ে আছে। সেখানে কোর্ট আইন করে জনগণের মৌলিক অধিকারকে স্তব্ধ করতে পারে না। অবৈধ পথে আসা সরকার যে কত গভীরে শক্তির বলে এসব করছে, এ তার নমুনা মাত্র। সারা বিশ^ থেকে এর উপর প্রতিবাদ আসছে। আওয়ামী দাস টিভিগুলোতে অনেক অনাচারেই কথা বলা চলে, ওসব শুনতে টিভিতে সংবাদে অরুচি ধরেছে সবদিনই সচেতনের, যা অতীতেও সাহেব বিবি গোলামের বাক্স হয়ে নাম কিনেছে। বেশীরভাগ পত্র পত্রিকাও সরকারের একান্ত বাধ্য গোলাম, তা না হলে মাহমুদুর রহমানের গতি হবে তাদের। মাহমুদুর রহমানরাতো আর গন্ডা গন্ডা জন্মায় না, উনি এক পিসই। এত যাতনার পরও দেশবাসী এমন করে প্রতিবাদী হয়েছে, তা অবাক বিস্ময়েরই ব্যাপার!  যেন ফের ৭১ কথা বলছে, ঘড়ি উল্টো হাটছে!

মানবাধিকার সংস্থাগুলো যখন বিরোধীদের পক্ষে কথা বলে তখন এর জবাবে খাদ্যমন্ত্রীর বেফাঁস মুখে বের হয় “ওরা সব বিরোধীর দালাল।” বেশ বেশ, গোটা বিশ^ই যখন বিরোধীরা কিনে নিতে পেরেছে, তারপরও তাদের কাছে নিজেদের স্বরুপ স্পষ্ট হচ্ছে না, হবেও না। কারণ এরা হচ্ছে কুরআনের ভাষাতে মোহর মারা দল, দুইকান এদের তালা। ফেলানী হত্যাকারী ইন্ডিয়ানরা বাংলাদেশের দোসর ভাবা ঠিক না। এরা একমাত্র বাংলাদেশ যে ধ্বংস করতে আসবে, তারই দোসর হবে। স্বাধীনতার সাথে সাথে বাংলাদেশকে পঁচিশ বছরের মেয়াদী মৈত্রীচুুক্তি করতে ভারত বাধ্য করে, যাকে বাংলাদেশীরা মনে করতো গোলামী চুক্তি। এটি গোপনীয়ভাবে করা হয় স্বাধীনতাকামী জনতাকে গোলামে রুপান্তর করতে। এরপর “রক্ষীবাহিনীর গোড়ার কথা” ছিল ঐ চুক্তির সারকথা। “র”এর নির্দেশ ব্যতীত কেউ রক্ষী বাহিনীর সদস্য হতে পারবে না। এরা হবে মুক্তিবাহিনীর কিছ ুচিহ্নিত সদস্য, যারা প্রয়োজনে অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করতে পারবে। আর তারা তা করতে পেরেছিলও। ঐ চুক্তি স্বাক্ষর করেই অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মূর্ছা যান। তার পরবর্তী নিকট প্রজন্ম দিকভ্রান্ত হয়ে থাকলেও তিনি সে সত্যটি উপলব্ধি করতে পারেন, সেদিন তার বিচারিক ক্ষমতা আহত হয়েছিল প্রচন্ডভাবে, যা তার মূর্ছা যাওয়াতে প্রমাণিত হয়।

সংখ্যালঘু বেশীরভাগ নেতা জনতারা বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতায় শরিক থেকেছে বহুগুণ বেশী, এর উদাহরণ আজো সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাদের বড় অংশের স্বপ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ যেন ভারত হয়। বাংলাদেশ যেন সিকিম হয়। এরকম সংবাদ যখন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী তার সময়ে সরকারকে অবহিত করলেন, সরকার নিরব ভ’মিকা রাখে। কারণ সরকার আগে থেকেই জানে এসব চেনা খানা খন্দকের খবর। কারণ ভারত সরকার ও সংখ্যালঘু ছিল হুমায়ুন রশিদের সরকারের সাথে এক সূতায় বাধা। (হুমায়ুন রশিদের সাক্ষাৎকার, মাসুদুল হক লিখিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ “র” এবং সিআইএর ভ’মিকা দ্রষ্টব্য গ্রন্থে এসব জানবার মত অনেক উপাত্ত আছে। এর মাঝে অতি সম্প্রতি “বিজেপিকে কাছে চাইলে বিএনপির জামায়াতকে ছাড়তে হবে” কথাটি বলছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও নীতিনির্ধারণীকমিটির সদস্য তথাগত রায়। তার কথার সাথে আমাদের শেখ হাসিনার কথার একদম হুবহু মিল। দুয়ে দুয়ে চার, অংক একদম পরিষ্কার। বিএনপি কার সাথে খাবে বসবে নাচবে গাইবে তা তার বিষয়। বিএনপি কি বিজেপির গোলাম নাকি যে, তারা এতই আহ্লাদে আটকানা হয়ে আছেন! বিএনপিকে লোভের টোপ দিচ্ছেন, আওয়ামীর সাথে করেছেন ভালো কথা! গোটা বাংলাদেশীকে তাদের গোলাম ভাবাটা ঠিক নয়।

এ জাতি জানে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনে পৌত্তলিক ভারতীয় নেতারা বিরোধীতা কতটুক করেছেন। তারা টিটকারী দিয়ে বলেছে এটি ঢাকা নয়, হবে মক্কা বিশ^বিদ্যালয়। ৭১এর পর ভারতীয় পরলোকগত রাজনীতিবিদ জয় প্রকাশ নারায়ন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে আর একটি পাকিস্তান সৃষ্টির আশংকা প্রকাশ করেছিলেন। শেখমুজিব বলেছিলেন এটি হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। তাই এসব বাস্তব প্রমাণ, ভারতের রাজনীতিবিদদের এসব কথা ভালো লাগার কথা নয়। ৭১এ ভারতীয় সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শেল মানেক শ কিছু সত্য আঁচ করতে পারেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভারতের প্রতি কোন ভালবাসা জন্মার সুযোগ হয়নি বা জমলেও তা ক্ষণস্থায়ী হবে। তার আশংখা ছিল বাংলাদেশের জনগণ ভারতের চেয়ে মক্কা ও পাকিস্তানকে কাছের ভাববে। দীর্ঘ ৪০ বছরে ভারত বাংলাদেশের পক্ষে এমন কিছু করে নাই যে ভারতকে অতি আপন ভাবা যাবে, বরং তাদের চানক্য চালে নিজেদের সংকীর্ণ করে উপস্থাপন করেছে বারে বারে। যদি অমিত শাহ আবারো সংকীর্ণ হন বা এর মাঝে আর কোন চাল থাকে, এতে খালেদা জিয়ার বড়ত্ব কমে যাবে না, বরং বহুগুণ বেড়ে যাবে। জন্মসূত্রে ও ধর্মসূত্রে বাংলাদেশ ঐ দুটি দেশের সাথে যুক্ত, অস্বীকার করার উপায় নেই। এখানে আমেরিকাতে আমরা বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ভারতের জনগণকে মনে করি কাছের জন। যারা ন্যায় নীতির অনুসরণ করেনা, ¯্রষ্টাভীতি না করে যারা চানক্য চালে চলে তাদের উপর অতিরিক্ত বিশ^াস রাখার কোন যুক্তি নেই। ঐ নীতিহীনতার কারণেই বড় দেশ হয়েও তারা বড় মন অর্জন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ সবদিন। এর শিকার হয়ে তাদের প্রতিটি প্রতিবেশী বহু কষ্টে কঠিন সময় পার করছে। তারপরও প্রতিবেশীদের ভোর হবে না, এটি বলা যাবে না।

মালদ্বীপ ও ভুটানের কোন পররাষ্ট্রনীতি নেই। সিকিম আস্তে আস্তে চলে গেছে ভারতের উদরে। ইউনুস নবীকে গিলে মাছ খেতে পারে নি। উগলে বের করে দিয়েছে সাগরের পারে। ধার্মিকেরা বিশ^াস করেএর পেছনে ¯্রষ্টার নির্দেশেই এসব হয়েছে, যদিও মাছ ময়দানের সৈনিক ছিল, ¯্রষ্টা ছিল অলক্ষ্যে। কেন এমন হলো, কারণ একজন নীরব দ্রষ্টা ¯্রষ্টা সরব ছিল বলেই মাছের উগলে দেয়া ছিল ইউনুস নবীর মুক্তির নিশানা। বিধাতা তার প্রিয় বান্দার হৃদয় নিংড়ানো দোয়া শত বিপদের পরও কবুল করেছেন। ভারত যেভাবে বাংলাদেশ গিলতে মুখ ব্যাদান করেছে, বলা যায় না ¯্রষ্টার কি পরিকল্পনা! ভারত ধ্বংসের পায়তারাই কিনা তা ভবিতব্য জানে! তবে মনে হয় এ অঞ্চলের স্বাধীনচেতা মানুষকে হজম করা সুখের হবে না! ¯্রষ্টার গুরুদন্ড ভারত ও ইসরাইল উভয়ের জন্য জমা আছেই। এটি রোধবার সাধ্য কারো হবার কথা নয়, তাহলে ¯্রষ্টার ন্যায়পরায়নতা কলঙ্কিত হবে। ভারত এমন একটা দেশ তারা চাকমা সম্প্রদায় ও শান্তিবাহিনীর নামে বিদ্রোহী প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে এরা বাংলাদেশে বিশৃংখলা তৈরী করে। এর বিচার কি চানক্য পন্ডিতদের উপর বরাদ্দ হবে না? নিশ্চয় হবে, এটি কোন লুকানো বিষয় নয় যে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাই শান্তি বাহিনীকে পরিচালনা করে চলেছে (দৈনিক ইনকিলাব, ১১-৬-৯৩) । ১৯৭৬ সনে ভারতের দেরাদুনে তারা প্রশিক্ষণ পায়। পাকিস্তানের ফেলে যাওয়া অস্ত্র দিয়ে তাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ চলে। কৈএর তেলে কৈ মাছ ভাজা চলে এভাবে। পার্বত্য সন্ত্রাসীরা ৭৫, ৭৭, ৭৯, ৮৯সালে এভাবে তারা ৫ বার অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরকের চালান পায়। বাংলাদেশের মত একটি ছোট্ট ভ’খন্ডের উপর এ হচ্ছে বন্ধুত্বের সুকঠিন উপঢৌকন!

স্মরণ করতে চাই ইন্দিরার অনুমোদনে “র” বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাচক্রে আগায়। ৮০ সালে ইন্দিরার নির্বাচন বিজয় আর জিয়া হত্যা নিকট সময়ের ঘটনা। হত্যার খবর প্রথম প্রচারিত হয় ভারতীয় গণমাধ্যমে, ঠিক যেভাবে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা প্রথম প্রকাশ পায় তাদের গণমাধ্যমে। খুনীই সবারআগে হত্যার খোঁজ জানে, এটিই বাস্তবতা। জিয়া হত্যায় জড়িত দুই পলাতক দীর্ঘকাল অন্য কারো আশ্রয়ে ছিল, যাদের খোঁজ পাওয়া যায় নি। একজন এখনো কলকাতা নগরীতে ব্যবসা বানিজ্য করছেন (শামছুর রহমান, বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক, সাপ্তাহিক বিচিত্রা, ২২ বর্ষ ৯ সংখ্যা ২৩ জুলাই ৯৩ সাল/৮শ্রাবণ ৪০০, পৃষ্ঠা ৩৭)। হত্যার ১৩ দিন পূর্বে হাসিনা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন এবং এসে জিয়া হত্যায় বেশ উদ্যোগও গ্রহণ করেন তার প্রমাণ বর্তমান। স্মরণযোগ্য অকৃতজ্ঞ শেখ হাসিনা জিয়ার বদান্যতাতে দেশে ফেরেন! যে বা যারা মুক্ত একটি স্বাধীন দেশ ধ্বংসের কিলাকিলিতে জড়িত, তারা কি বিধাতার আদালতের আসামী নয়? বাংলাদেশের আম জনতারা ৯০% মুসলমান বিধাতার ঐ বস্তুনিষ্ট আদালতটির দিকে চাইতে গেলেও কি তথাগত রায়দের অনুমতি লাগবে, তাদের হুমকি ধমকি সইতে হবে?

নাজমা মোস্তফা,  ১০ জানুয়ারী ২০১৫সাল

অন্ধ ও বধির সরকার নিজ অপকর্ম দেখে না

আওয়ামীলীগের জঙ্গি নাটকের একটি বাস্তব চিত্র দেখুন

“আমাদের দেশটিতে কবে সেই ছেলে হবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে” বলছি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে যার মুখ থেকে অনর্গল কথা বের হয়। মাঝে মাঝে অতীব সুবচন সুকথনেও তাকে দেখা যায়, যদিও লাগামহীন আপ্ত-বাক্য প্রয়োগেই তিনি বেশী পারদর্শী। তিনি প্রচারে নেমেছেন জঙ্গীবাদ, ধর্মান্ধতা, অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা এসব বাঙালী সংস্কৃতির সাথে মানানসই নয়। যদিও তিনি এর প্রতিটি অপকর্ম আলাদা আলাদাভাবে করে চলেছেন। বিডিআর বিদ্রোহ ও তার আগে থেকেই তার ছেলে দলবলসহ জঙ্গীবাদের মিথ্যাচারে জড়িয়ে আছেন। বিডিআর বিদ্রোহের সময় কর্ণেল গুলজারের চোখ উপড়ে ফেলে দিতে নির্দেশ দেন মির্জা আজম যিনি যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, এসবের ভিডিও ফুটেজ আছে। কারণ হচ্ছে মির্জা আজমের দুলাভাই চিহ্নিত আওয়ামী জঙ্গী শায়খ আব্দুর রহমানকে বিএনপি আমলেই ধরা হয় ও ফাঁসি দেয়া হয়। সারা জাতি জানে ঐ সময় এটি ছিল দেশে জঙ্গীবাদের শিকড় সূত্রের উদাহরণ। বিরোধীকে দোষী সাজাতে সাম্প্রদায়িকতার নামে ধর্মান্ধতার সাজে করা অধার্মিক অপকর্ম দলের লোকেরা তার প্রশ্রয়ে সরকারী ছত্রচ্ছায়ায় বহুদিন থেকে করে চলেছে। ধারে কাছের সব পোড়ানোসহ কুরআন নিয়ে মিথ্যাচারেও প্রধানের আত্মা কাঁপে না; ঈমানের গভীরতা ওতেই পরীক্ষিত। সহিংসতা তার দলের প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার নিজ মুখের প্রচার একের বদলে দশ লাশ ফেলা, লগি বৈঠা নিয়ে তান্ডব চালানো, পেট্রোলবোমাসহ পোড় খাওয়া গীতারাণীরা ছিল আওয়ামী নির্যাতনের স্বাক্ষর মাত্র। সেদিনের গীতা রাণীদের বাস পুড়ানোয় বিহঙ্গ পরিবহনের হিন্দু মালিক ব্যক্তির জড়িত থাকার অভিযোগ দিবালোকের মত স্পষ্ট।

আওয়ামী যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানক বলছেন, “৫ জানুয়ারী জাতির অগ্নিপরীক্ষা।” তারা অনেক অপকর্ম করেই কাটিয়ে উঠেছেন তাই বুক চাপড়ে বলছেন এসব যুদ্ধপরাধী বানচালের চেষ্টা ও খালেদার মামলার জন্য হচ্ছে। কেন নানকরা এসব করছেন, এটি না করেও তাদের উপায় নেই, সাপের গর্তে তাদের পা। আমরা পত্রিকা থেকে জেনেছি বিডিআর বিদ্রোহের দিন নানক ও তৌহিদের মাঝে ২০৪ মিনিট কথা হয়। পরদিন হাসিনার সাথেও মিটিং হয়। নানক তৌহিদকে বিডিআরের অস্থায়ী ডিজি ঘোষনা করেন। কর্নেল মঞ্জুর সাহায্য চাইলেও কোন সাহায্য করা হয়নি বরং তাকে ম্যানহোল থেকে বের করে হত্যা করা হয়। এসব খবর অনেকেই জানেন। আমড়া কাঠের ঢেকি সাহারার নেতৃত্বে সেদিন রাতের আঁধারে অপরাধীদেরে নিরাপদে পালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেয়া হয়। কোন কিছুই মা জননীর অগোচরে নেই। বিডিআর বিদ্রোহে জড়িত থাকার সুবাদে নানকের নাম বারে বারে আসে, বিদেশী বাংলাদেশীরাও তখনই তাকে নামে প্রচারে বেশী চিনে। তিনি সেদিন আহ্লাদের অতিশয্যে (পিলখানার বিজয়ে!) শেখ হাসিনাকে ‘ডটার অব পিস’ সম্মাননা দিলেন (নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৩ মার্চ ২০০৯, নয়াদিগন্ত)। “বিডিআর বিদ্রোহের ফারুক খানের জেএমবি এবং তোরাব আলী নানক আজম সমাচার” বিশেষ প্রতিনিধি (১৬ মার্চ ২০০৯) এর স্পর্শকাতর এসব সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক আমার দেশ। এরকম হাজার দেশধ্বংসকারী খবর আমরা জানতে পারি বাংলাদেশের সচেতন পত্রিকা থেকে, হয়তো সেদিন থেকেই আমার দেশ সরকারের বিষবৃক্ষসম চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ায়। আমারদেশ সৎ সঠিক তথ্য তুলে ধরতে কখনোই পিছপা হয়নি। তাই আজও নানক বলে চলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি”। বাস্তবিকই এটি অগ্নি পরীক্ষা! জাতি ধ্বংসের সব পাঠে এরা দুই হাত লাগিয়ে মিরজাফর ও লেন্দুপদর্জির পথে হাটছে। এদের অপকর্মের কোন জবাব নেই! ধড় পাকড়ে তারা জবাব আদায় করতে চাচ্ছে! তারেকের যুক্তির কাছে তারা নির্বাক হয়ে ময়দানে হিং¯্র পশুর স্বরুপ ধরেছে। কিছু দিন আগে নানক হুমকি দেন প্রয়োজনে খালেদাকে গ্রেফতার করা হবে। জাতি ধ্বংসকারী এসব অপরাধীরাই আজ অবৈধ সরকার রক্ষায় লম্বাহাত, হুমকির রাজা হয়ে আছে।

২০০৪ সালে নানক ও মির্জা আজমের নেতৃত্বে শেরাটন হোটেলের সামনে গান পাউডার দিয়ে দোতলা বাসে আগুণ লাগিয়ে ১১ মতান্তরে ১৩ বাসযাত্রীকে পুড়িয়ে মারার কেসে কর্ণেল গুলজারই এদেরে সনাক্ত করেন। ঐ দিন ১৬৪ ধারাতে স্বতঃস্ফ’র্তভাবে জনতার জবানবন্দি মানুষ জেনেছে। উল্লেখ্য আওয়ামী নেতাদের কৃত প্রতিটি অপকর্ম খোলা ময়দানে তাদের কুটচালের কৌশল ছাপিয়েও খেলাসা হয়। পরবর্তীতে এর খেসারতে ঐ আওয়ামী নেতাদের নির্দেশেই বিডিআর বিদ্রোহে কর্ণেল গুলজারের লাশ পুড়িয়ে বিকৃত করা হয়। ঘটনার ১৫ দিন পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তার প্রকৃত লাশ সনাক্ত করা হয়। এমন কি শেখ সেলিম ও ওবায়দুল কাদের ভিডিও ফুটেজে বাস পুড়ানোকে স্বীকার করেন, ৮৬এর নির্বাচনকে ভোটারহীন ক্ষমতা ও টাকার লোভে হাসিনার পাতানো নির্বাচন আখ্যায়িত করেন। আওয়ামী অপরাধের সচিত্র প্রতিবেদন আজো ইউটিউবে দেখতে পাওয়া যায়। গোটা বিশে^র হাজার হাজার বাংলাভাষী মানুষ সেটি দেখেছে, যা দিবালোকের মত স্পষ্ট। তাছাড়া মতিয়ুর রহমান রেন্টুর ‘আমার ফাঁসি চাই’ এর অনেক জলজ্যান্ত উদাহরণ ও স্বাক্ষর নিয়ে ইতিহাসের প্রদীপ হয়ে জ¦লছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের রাজধানীতে মুক্তাঙ্গণ বলে কোন জায়গা নেই। সব পুলিশের জবর দখলে। জনগণ আজ মিথ্যাচারী সরকার ও তার প্রশাসনের হাতে জিম্মী হয়ে আছে। পুলিশও দুইহাতে অনাচার করে চলেছে। চারপাশে জগদ্দল অপরাধ গলাধঃকরণের পরও পুলিশের কমিশনারকে সুবোধ বালকের মত কথা বলতে দেখা যায়, এ হচ্ছে অপরাধী সরকারের শাসন করার নমুনা। রিমান্ড, খুন, নেতা পিটানোর দক্ষতা সবই তাদের সরকারী নিয়ন্ত্রণে চলছে, যেখানে জনগণ অনুপস্থিত। যতই তারা মুখে জনগণ জনগণ করুক, এসব হচ্ছে মিথ্যাচারের নমুনা, আজ আর কোন জনগণ তাদের সাথে নেই, যারা আছে এরা মানুষ নয়, সন্ত্রাসী ও উপসত্ত্¡ভোগী দালাল।

কোন বিবেকবান এটি বিশ^াস করবে না যে, বিএনপি জামায়াত হরতালের আগের দিন মানুষ পুড়াবে। শান্তিপূর্ণ অবস্থানে তারা প্রতিবাদের দক্ষতা অর্জন করেছে আওয়ামী থেকে বহু লক্ষ গুণ বেশী। আওয়ামীরা মন্তব্য কলামে ফুসকুরি মারে, এদের আন্দোলন করার মুরোদ নেই। এরা মারদাঙ্গা করতে পারে না, আমাদের সে দক্ষতা বহুগুণ বেশী, এটি সারা জাতি জেনেছে। গাজীপুরের ধকল সামাল দিতে আগের দিন মানুষ পুড়ানো ও স্কুল শিক্ষিকাকে হত্যার দায়, গুন্ডামীতে দক্ষ সরকারকেই বহন করতে হবে। অবৈধ পথে গদীতে বসে যা ইচ্ছে তাই করে চলেছে সরকার, যার কোন বৈধ অধিকার নেই একদন্ডও শাসনদন্ড হাতে নেবার। নিজের লুটপাট ছাড়া জনগণের জান মালের প্রতি দৃষ্টি দেবার অবকাশ তাদের কোথায়? এ ধারার অপকর্র্ম আজ তাদের নতুন নয়, বহু যুগ থেকে কাগজে কলমে প্রামাণ্যতা রেখে এসব করে আসছে। এসব আজ দিবালোকের মত স্পষ্ট। ঢাকার রমনা বটমূলে বোমা হামলায় জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান সেদিন মারা যান, যার কারণে এ ক্ষতির দায় পুষিয়ে দিতে পরবর্তীকে জিল্লুর রহমানকে প্রেসিডেন্টের পোষ্টটি দেয়া হয়। গোবেচারা জিল্লুর রহমান পদ পেয়েই মহাখুশী, স্ত্রীর মৃত্যুর প্রকৃত আসামীকে তার জানা হলো না। আওয়ামী গড্ডালিকাতে পড়ে আইভি রহমান মারা যান। এটি দৈবের কাজ, সেদিনও নেপথ্যে ছিল বর্তমান সরকার, ছিল অতি তৎপর, অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে ওটি সাজানো হয়েছিল। মঞ্চভর্তি আওয়ামী নেতানেত্রী থাকলেও কয়জন নেতৃস্থানীয় মারা যান সেদিন? তখনকার আওয়ামী সাজানো চালে এটি সংঘঠিত হয়। বর্তমানের বিরোধী দল ছিল সরকারে, তারা চাইছিল বিদেশী তদন্ত কমিটি এর তদন্ত করুক কিন্তু জাতি নিশ্চয় ভুলে যায়নি বিদেশী তদন্ত দলকে হাসিনার গাড়ী তল্লাশী করতে দেয়া হয়নি। কেন দেয়া হয়নি, সে প্রশ্ন কি কারো মনে জাগে নি? শিকার হন আইভি রহমান, ঠিক আওয়ামী দলদাস জাফর, জয়নাল, সেলিম ও দেলোয়ারের আদলে আরেক গুটি হয়ে তিনি লুটিয়ে পড়েন। ঐ দিনও নিজ দলের ছাত্র হত্যায় নেত্রী পুলকিত হয়ে বলেন, টাকা দিয়ে পুষিয়ে দেব। ঢাকায় ১লা বৈশাখে গানে মুখরিত চত্বরে আওয়ামী ষড়যন্ত্রে ঢলে পড়ে আর এক আইভি রহমান।

এবারো ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পুরানো কৌশল চালানো হয়, পেট্রোল বোমা ছুড়া ও বাসে অগ্নি সংযোগ বহু পুরানো দিনের ভানুমতির খেলা। এটি জাতি বেশ জেনে গেছে। তারপর প্রায়শই এই কথা বলে আওয়ামী দলদাসদেরে টকশোতে উত্তেজিত দেখা যায়। তাদের কাছে মিথ্যা সংখ্যালঘু ইস্যু আর এরকম দুচার মিথ্যাচার নিয়ে অতিব্যস্ত দেখা যায় সব সময়। মাহমুদুর রহমানের ধাচে গড়া নিউজ এজ সম্পাদকের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকায় যে হুমকি নামের ধমকিচাল চালানো হলো, তিনি এর কঠোর প্রতিবাদ করেন। জবাবে তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার গাড়ী পোড়ানোর কাল্পনিক ঐশীত’ল্য সংবাদ প্রচার করেন। এসব বিপ্লব দাসরা গোটা দেশে এমন সব দাসের ভ’মিকায় নেমেছে, এসব খাপছাড়া কাজের জন্যই এরা নিয়োগপ্রাপ্ত, হাসিনার হাত ধরে জাতির বারোটা এরাও বাজাচ্ছে। ধারণা হয় এরা হচ্ছে সদ্য এইচ টি ইমামের খোলাসা হওয়া নিয়োগপ্রাপ্ত আওয়ামী দালালীতে চাকরিতে পদ পাওয়া অনুগত দাস। আজকাল সর্বত্র দেখি এদের অতিরিক্ত বোলচাল। বিরোধী নেতাকর্মীকে গণধোলাইএর নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ। বখাটে ইভ টিজারদেরে মেয়েদের বাড়ীর সামনে শো ডাউন করতে শোনা যায়, একই আদলে আওয়ামী লীগ তাই করে চলেছে পল্টনের বিএনপি অফিসের সামনে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন ৬ জন লেকচারার। ১ম দ্বিতীয়রা স্থান পায়নি, এইচ টি ইমামের দাগ দেয়া ইনফরমেশনের ভিত্তিতেই ১৯ তম স্থানের অধিকারীকে দলীয় এজেন্ডাতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কথা ছিল ২জনকে নিয়োগ দেয়ার, এর সুবাদে ৬ জন দলীয় মহাভাগ্যবান সে সুযোগ পাচ্ছেন। সবার মনে আছে নিশ্চয়, অতীতে বিশ^বিদ্যালয়ের নীতিহীন দলবাজ শিক্ষকও বলেছিলেন, ছাত্রলীগ করলেই যেন তাদের পাশ দেয়া হয়।

গায়েশ^র রায়সহ হাজার হাজার নেতা কর্মীরা ধরা খায় বিনা অপরাধে, কোন ভিডিওতেও তারা ধরা পড়ে না। কিন্তু ভিডিওতে ধরা খাওয়া তাদের হামলাকারীকে সব সময় এড়িয়ে যায় সরকার ও পুলিশ। চলছে বাংলাদেশে মরা আইনের শাসন। ছাত্রদল মিছিল করতে চাইলেও পুলিশ লাঠি উঁচায়, বন্দুক তাক করে, খোলা মিছিলের ময়দান থেকে আকাশরা ধরা খায়। বিএনপি জামায়াতের মিছিল হলে পুলিশ বন্দুক তাক করে, সরকারের নির্দেশে মানুষ মারে। দুর্ঘটনাতে পাইপে পড়ে যাওয়া শিশুর পিতাকে আটক করেও শাসানি দেয়া হয়, এসব নাকি নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়। মিছিল হলেই পুলিশ, লাঠিপেটা, হত্যা খুনে দক্ষতা দেখায়, আহত করা তো মামুলি বিষয় তাদের কাছে। গ্রেফতার করে শত শত হাজার হাজার, তারা এখন আওয়ামী লাঠিয়াল। অর্থমন্ত্রীর বেপরোয়া আচরণ। মুদ্রাস্ফিতির দলীয় কমেন্টের সাথে অর্থ বিশেষজ্ঞরা একমত হতে পারছেন না। দুদক হারছে ৫৩% মামলাতে। বিরোধী নেতারা কারাগারে ভালো নেই। সরকারের কারণেই তারা বিনা অপরাধে আসামী। বোকা জনগণকে কৃতিত্ব দেখাতে একদিকে ভারত থেকে চাল আমদানী করে শত শত কোটি টাকার, অন্যদিকে রপ্তানী করে শ্রীলঙ্কায়। পাঠক কি বুঝলেন? এসব গোজামিলে দলও বাঁচে দলবাজ পিপড়ারাও বাঁচে। কোটি কোটি টাকার সোনা চালান কোন সময় হয়, যখন কর্তা নাক ডাকিয়ে ঘুমায়?

বিরোধী দল ক্ষমতাতে থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালের ২৭শে জানুয়ারী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে এক জনসভার শেষে দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় কিবরিয়াসহ ৫ জন নিহত ও ৭০জন আহত হন। ঘটনার দশ বছর পর দুবার অধিকতর তদন্ত শেষে এখন ময়দানে নতুন আসামীদের যোগান হচ্ছে। সিলেট ও হবিগঞ্জের দুই মেয়রসহ ১১ জনের নাম দিয়ে সাম্প্রতিক চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মনে হচ্ছে তাদের বড় অপরাধ তারা বিরোধী দলের মেয়র কেন? জাতির নিশ্চয় স্মরণে আছে সিলেটের মেয়র বিজয়লাভ করলে আরিফুল হককে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি তারা দিয়েছিল। কিবরিয়া হত্যার সময় এ রকম খবরও পত্রিকাতে পড়েছিলাম যে কিবরিয়া সাহেব কোন কারণে সেদিন হবিগঞ্জ যেতে চান নাই কিন্তু নেত্রী খুব জোর করেই তাকে সেদিন পাঠান। অনেকেই সন্দেহ করেন, মরার ফাঁদ সেখানে রেডি ছিল, সাধারণের জানা না থাকলেও দুর্মতির সম্ভবত জানা ছিল। কারণ এরকম কাজ ব্যক্তি হাসিনা তার জীবনে বহুবার করেছেন। অতীতের পাতা উল্টালেই পেয়ে যাবেন এসব ধারাবাহিক সংগঠিত উপাখ্যান। এবারও ঐ হুমকির কার্যকারীতায় সরকার কিবরিয়া হত্যায় মেয়রকে টেনে এনে তার পুরানো স্বভাবের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। শুনেছি তারেক জিয়াকেও এখানে এনে ভিড়ানোর পায়তারা চলছে। আজ নতুন বছরের ২রা জানুয়ারী মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, “২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়, ঐ সময় সরকারী পৃষ্টপোষকতায় এসব হয়”। সাংঘাতিকদের ঘুম ভাঙ্গাতে গুলি ছুড়েন হাসিনার আত্মীয় নাসিম (মন্ত্রী)। পরদিনই হাসিনাকে মিথ্যে হত্যা চেষ্টার খবর ছড়ানো হয়, এর সূত্রে হয় হরতাল (সূত্র: রেন্টুর বই)। হেসে লুটোপুটি খায় তারা, নিজের প্রতিভাতে তারা নিজেরাই মুগ্ধ। জাতি আজো হতবাক! এখানে হানিফ ধরা খেলেন এ প্রমাণ রেখে যে সরকারই এসব করে। এসব মোটা বুদ্ধির আওয়ামী চাল মাত্র।

আওয়ামী লীগের রাজাকারদের বিচার – কাদের সিদ্দিকী

যোগ্য বিচারক অপকর্ম না দেখেও অপরাধীকে খুঁজে পায়। ঠিক সেভাবে জাতিকে মূল্যায়ণ করতে হবে তার প্রতিটি আচরণ গতি প্রকৃতি পরখ করলে সিদ্ধান্ত পাওয়া খুব সহজ। জটিল সরকার কখনোই বিচারে নেই, তদন্তের নামে প্রকৃত সত্যকে চাপা দেয়াই তাদের প্রধান কাজ, বিডিআর বিদ্রোহ তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। অতীতের  কৃত ১৭৩দিনের হরতালসহ  ১৯৯৬ সালের বাস পুড়ানো, ইয়াসমীন নাটক সবই ছিল সাজানো আওয়ামী চাল। তারা যুক্তি বের করেছে গণজাগরণ তৈরী করতে তারেক ভুলের পথে হাটছে। বিএনপির আর কোন অপশন নেই বলে এসব করছে। তারা বলতে চান জিয়া দ্বিতীয় শ্রেণীর আর মুজিব প্রথম শ্রেণীর। প্রকৃত সত্য ও ইতিহাস হচ্ছে, মুজিব নেতৃত্বে ছিলেন তবে শেষে পলাতকের ভ’মিকায় নামেন, এটি ঘটমান বাস্তবতা। তারা বলছে তারেকের বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে খালেদাকে কোথাও দাঁড়াতে দেয়া হবে না। ধর্মের ইতিহাসে আমরা পাই চাচা আবুতালিব নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে লালন পালন করেন, কিন্তু ধর্মের মূল সত্যকে গ্রহণ করতে তিনিও পলাতকের ভ’মিকা রাখেন। শিশু ইসলামকে তিনি লালন পালন করে গড়ে তুলেন এটি শতভাগ সত্য, কিন্তু ধর্মান্তরিত নও-মুসলিম আবুবকর, খালেদ ওমরদের মত সত্যকে গ্রহণ বরণ করতে তিনি ব্যর্থ হন। ইতিহাস ও ধর্ম তার অবস্থান দাগ দিয়ে রেখেছে।। যদিও কুরাইশরা দাবী করতো চাচা আবুতালিব প্রথম শ্রেণীর আর নবী মোহাম্মদ (সঃ) ছিলেন শাস্তির যোগ্য অপরাধী নাস্তিক। আজকের সত্য ইতিহাসের সাথে তাদের মনগড়া ইতিহাসের কোন মূল্যও নেই সত্যতাও নেই। উপসংহারে এসব চালচিত্রের সহজ মন্তব্য হচ্ছে নীতি নৈতিকতাহীন উপরোক্ত আচরণ কোন মানবিক বিচারেও টিকতে পারে না। এসব শেষ ধ্বসের পূর্ব লক্ষণ মাত্র।

 

নাজমা মোস্তফা,  ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪সাল।

Tag Cloud