Articles published in this site are copyright protected.

২০১৪এর বছরের শেষ সময়ের বাংলাদেশ:  “গ্রেফতার করে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না” কাদের সিদ্দিকের ধমকে মনে হচ্ছে কাজ হয়েছে। সরকার থমকে আছে এখনো ওদিকে হাত বাড়ায় নি। বর্তমানের চিহ্নিত স্বৈরাচার অবৈধ সরকার সম্বন্ধে – “আট মাসে খুন ১৬৫ গুম ৩০০” মন্তব্য করেছেন সরকারী জোটের এরশাদ। উত্তরায় মাটি খুঁড়তে বেরিয়ে এল কঙ্কাল, ব্যাপক চাঞ্চল্য। খালেদা জিয়া বলছেন র‌্যবের জিয়াকে না ধরা পর্যন্ত গুপ্তহত্যা বন্ধ হবে না। এসব হচ্ছে সাম্প্রতিক গুমের বাস্তব চালচিত্রের নমুনা।2014-2015-calendar-hero দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনুস “গ্লোবাল থট লিডার্স” তালিকায় মানুষের চিন্তাকে প্রভাবিত করা ১০০ জনের মাঝে ডঃ ইউনুস পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছেন কিন্তু দেশে হাসিনার কাছে মানীর মর্যাদা নেই, বরং তিনি উচ্চকন্ঠে তার বিরুদ্ধে প্রচার করেন “সুদখোর ঘুষখোর ব্যক্তি দেশের সর্বনাশ করে”। সারা দেশ জুড়ে গুণিজনের মানহানী এভাবে হচ্ছে। সরকারের গোন্ডারা ও শত অপরাধের দাগী আসামী মন্ত্রীরাও এক কাতারে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় পরিজনেরা গুম খুনে জড়িত থাকার প্রমাণ দিবালোকের মত স্পষ্ট; মন্ত্রী মায়ার ২৫ ডিসেম্বরের হুমকি হচ্ছে রক্ত ঝরিয়েই বিএনপিকে জবাব দেয়া হবে। আওয়ামী মন্ত্রী হানিফ বিরোধী নেতাদের উপর হামলা করার হুমকি দিয়েছেন, একই তালে বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনার ডঃ মিজানও সচরাচরের মত ঐ তালিতে তাল দিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও হুমকি দিচ্ছেন। বকশী বাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে মির্জা ফখরুলের ভাষাতে অনুমান ৬০০ জনের উপর হামলা হয়েছে। তারপরও পুলিশ সরকারের সহযোগিতায় দেড় শতাধিকের উপর মামলা চাপিয়ে দেয়। ভয়ের চোটে পাগলা কুকুরের স্বরুপে সরকার, খালেদার সমর্থণে জনতার জোয়ারে ভয় পাওয়া সরকারের এসব কান্ডকীর্তি। জাতি জানে খালেদা কখনোই এ সরকারের কাছে ন্যায় বিচার পাবেন না। নিজের মামলা উঠিয়ে নিয়ে খালেদার নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে সাজাচ্ছে সরকার। সোনালী ব্যাঙ্কেও ৫২৩ কোটি টাকার ঋণের নথি গায়েব। পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কও এসব নথি উদ্ধার করতে পারে নি। ধারণা করা হচ্ছে হল মার্ক গ্রুপের কেলেঙ্কারীর মত কার্যালয়ের বাইরে কোথাও নথিপত্র তৈরী করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। বিজয়ের মাসে ছাত্রলীগ সেক্রেটারী হুমকি দিচ্ছে, “ন্যাড়ী কুত্তার মত পিটামু বিএনপির বড় নেতাদের”। এসবের বিচার বরাদ্দ নয় যে দেশে, সে দেশ কি স্বাধীন দেশ? ছাত্রলীগের আন্দোলনে বন্ধ দিনাজপুর বিশ^বিদ্যালয়। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে তিন ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কারের অভিযোগে ধরা খেলে এর সহজ পরিণতি বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ। দেশের বড় চাটুকার মানবাধিকারের ডঃ মিজানও বলতে বাধ্য হন যে দেশের বড় ঠিকাদার এখন সশস্ত্র বাহিনী, তারা মানুষের ভ’মি দখল করছে। ২০১৫কে আসতে দেখে ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে সরকারী দলের, তাই এমন হুমকি আর হামলা শুরু করেছে দেশবাসীর সাথে; তাদের আচরণ একমাত্র হায়েনার সাথে যার তুলনা হতে পারে।

শেখ হাসিনার মিথ্যাচার: এটি একমাত্র অস্ত্র যা দিয়ে তিনি গদি সামাল দেবার শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বলছেন “বঙ্গবন্ধু থাকলে মালয়েশিয়ার আগেই বাংলাদেশ উন্নত হয়ে যেত”। কথাটি বলে তিনি মালয়েশিয়াকেও অপমানিত করার চেষ্টা করেন। মহাতিরের মহতি উদ্দেশ্য মুজিব কখনোই দেখাতে পারেন নাই। তার লেলিয়ে দেয়া গুন্ডা বাহিনী আর রক্ষী বাহিনী এসব উদাহরণ বহন করে না।  মুজিব মুজিবই, এর চেয়ে বড় উদাহরণ তার কন্যা যে খেল দেখিয়ে চলেছেন তা জাতি অবলোকন করছে। তার নমুনা চারপাশে আজো সমাজে সোচ্চার ও বাস্তব হয়ে আছে। হাসিনা নিজে শালীন ভাবে কথা বলতেও অপারগ; অতীতে রং হেডেড খেতাব তিনি স্বজ্ঞানে অর্জন করেছিলেন, এ তার শিকড়ের নমুনা, বৃক্ষ তার ফলে পরিচয় তিনি নিজেই। তিনি বলেন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ ছিল দেশের স্বর্ণযুগ; তিনি জীবন্ত কিংবদন্তী, স্বর্ণযুগের রেশ আজও চলছে। তার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য ছুড়েন কিন্তু ভারত যখন মগজে কামড় দিতে নির্বাচনে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করে তখন কেন তার বয়ান বের হয় না, সেটি জাতি জানতে চায়। বড়দিনেও বিএনপি বড় হয়ে থাকে হাসিনার মুখে ঠোঁটে। অশ্লীল বাক্য প্রয়োগে তিনি সর্বেসর্বা। কুরআন পুড়ানোর মিথ্যাচারে আর সংখ্যালঘুর মিথ্যা সাজানো গল্প প্রচারে তিনি বাড়তি দক্ষ। বাংলার মানুষ নাকি এখন ধর্ম পালন করে। এতদিন করতে পারে নি। এসব হচ্ছে মিথ্যাচারের চরম নমুনা। এমন কি বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তান আমলেও ধর্ম পালন করতে পেরেছে, এ নিয়ে তাদের সাথে কোন দিন কোন বিরোধ হয়নি। দলবাজরা বলছেন যতদিন আল্লাহ চাইবেন ততদিন তিনি থাকবেন। যেন আল্লাহই তাকে এনে গদিতে বসিয়েছেন। এ কথা ফেরাউন নমরুদও বলতে পারে। তাই বলে সেটি আল্লাহর উপর চাপানো যায় না। জনগণের অমতে একদিনও ক্ষমতায় থাকা, চরম অসিদ্ধ কাজের একটি। আল্লাহর দোহাই এসব পাপের ক্ষেত্রে
অচল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্ট এ তিন মানবাধিকার কমিশনের বিবৃতি সরকারের তার আচরণকে সংকীর্ণ করেছে। বার্গম্যানের সাম্প্রতিক রায় মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান দেখানোর পরিবর্তে অভিযুক্তের আপিল করার অধিকারকেও সংকীর্ণ করেছে। সরকার ক্ষমতায় অন্ধ হয়ে যা ইচ্ছে তাই করছে। সময়ে পুলিশ, র‌্যাব, দুদক ও আদালতকে ব্যবহার করছে। সাধারণরাই শুধু নয়, সাবেক বিচারপতিরাও এমন ধারার প্রবল প্রতিবাদে মন্তব্য রাখছেন।

স্বাধীন দেশে পরাধীণতা চেপে বসা:  আদালতে ডঃ কামাল হোসেন বলেন রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করলেই রাষ্ট্রদ্রোহ হয়ে যায়। “কথায় কথায় মামলা” খালেদা জিয়া
৬টি, মির্জা ফখরুল ৪৭টি, খন্দকার মোশাররফ ২০টি, ব্যারিষ্টার মওদুদ ১৮টি, হন্নœান শাহ ১৬টি, রফিকুল ইসলাম মিয়া ২৩টি, মির্জা আব্বাস ৪১টি মামলায় ধরা আছেন, সব সাম্প্রতিক। ছাত্রলীগের কোন্দলে অস্থির শিক্ষাঙ্গণ। ছয় মাসে তিনজন নিহত অর্ধশতাধিক সংঘর্ষ। চট্টগ্রামের ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রলীগ। সংবিধান সম্বন্ধে উক্তি ও ধর্মীয় অনুভ’তিতে আঘাত হানার জন্য তুহিন মালিকের বিরুদ্ধে দুই মামলা ছাত্রলীগের। তুহিন মালিক একজন ধার্মিক মানুষ তারপরও মামলা দিয়ে ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। লতিফ সিদ্দিকীর হজ¦ টিটকারীর পর সমাজকল্যাণমন্ত্রী পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে ও বেশ্যাবৃত্তির পক্ষে কথা বলেন, অর্থমন্ত্রী ঘুষের পক্ষে, সৈয়দ টাইটেল ধারী মুসলিম নামধারী আশরাফ মন্ত্রী হিন্দু নই মুসলিমও নই বলার পরও তারা ধর্মদ্রোহী হন না। কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী এমপি হিসাবে প্রথম শ্রেণীর বন্দীর সুবিধা ভোগ করছেন, পরোক্ষে হয়রানির উদ্দেশ্যে প্রতি সপ্তাহে কোন না কোন মামলায় কারারুদ্ধ মাহমুদুর রহমানকে ২/৩ দিন কাশিমপুর থেকে ঢাকায় প্রিজনভ্যানে করে নিয়ে আসা হয়। সপ্তাহে চারদিন নিয়ে আসারও নজির আছে।  দা কুড়াল নিয়ে প্রস্তুত থাকার কথা বলাতে খোকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয় কিন্তু লগি বৈঠা দিয়ে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করে জগত বিস্মিত হয়ে গেলেও কোন কাজ হয় না, মামলা হয়না, বিচারও বরাদ্দ হয়না। রাজধানীতে প্রকাশ্যে ছিনতাইএ পুলিশ, এসব খবর স্থান পায় ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪সাল। সরকার লুন্ঠন করে যাচ্ছে যুদ্ধপরাধী ডামাডোলের ঝড়ো হাওয়ার তান্ডব তুলে বেশ ক বছর থেকে হামলে পড়েছে গোটা জাতির উপর। বিরোধী প্রতিটি নেতা প্রতিনিধি মেয়ররা মিথ্যা মামলাতে মুমূর্ষু কাল কাটাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু বেশ ছিলেন যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময় থেকে বেশ সম্মানের সাথেই দেশের কর্তৃত্বের উপর চেপে বসেছিলেন। নিজেদের অপরিণামদর্শী দেউলিয়াত্বের পরিণতিতে পরে তাকে কঠোর দন্ড দিতে হয়। এটি বলা যাবে না যে, তিনি জাতির উপর অনাচার করেন নাই। শাসনদন্ড হাতে আইয়ুব ইয়াহইয়া সরকার যেমন অনাচার করেছে, ঠিক তেমনই করে দেখিয়েছেন শেখ মুজিব। কেউ অতি সুখে আহ্লাদে বঙ্গবন্ধু খেতাব দিয়ে পরে নিকট সময়ে আবার সে খেতাব ফিরিয়ে নিতেও কুন্ঠিত হয়নি। দেখা যায় জাতির উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া খেতাব বিষয়ে এক সাংবাদিক এক লেখা থেকে তথ্যটি কোট করেছেন যে, ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু খেতাবটি তৎকালীন ডাকসু ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ২৩ শে ফেব্রুয়ারী তারিখে প্রদান করেন আবার মাত্র চার বছর পর ৭৩ সালের ১ জানুয়ারীতে পুলিশের গুলিতে দুই ছাত্র হত্যা ও সাংবাদিকসহ আরো ছয়জনতে আহত করার প্রতিবাদে পল্টন ময়দানে সে খেতাব একই ব্যক্তি প্রত্যাহার করে নেন। ইতিহাস গাছে ধরে না, কালের ধারাতে গড়ে উঠে। তাকে খুঁজলে পাওয়া যায়। খুঁজতে হয় কঠিন মনোযোগের সাথে, তাহলে সে ধরা দেয়।

সরকার নিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যানেল: একাত্তর নামের এক টিভি চ্যানেলে প্রায়ই দেখা যায় দুজন বক্তা থাকলে দুজনাই সরকারের এক ঢোলের তালিতে তাল দেন, এটি সরকারের পক্ষের এক চাটুকার চ্যানেল। একা গোল দিতে ওস্তাদ ৭১ চ্যানেল, যেন  বর্তমান সরকারের মতই একতালে হাটায় ওস্তাদ। ভারতে বেড়াতে যাওয়া বাংলাদেশীদের অভিযোগ বর্ডার পার হলেই দেশ তাদের কাছে অচেনা হয়ে যায়, কোন খবর পাওয়া যায় না। সেখানে সব বাতিল। এসব হচ্ছে সোনাবন্ধুর দেশের আজীব নমুনা। কিন্তু বাংলাদেশের সব চ্যানেল ভারতীয় পণ্যসহ সবার রমরমা ব্যবসা। বৌদিরা ভাবী হচ্ছেন, বাহারী এড এর তাগড়া ব্যবসা চোখে পড়ার মতই। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অনুমতি দেয় না, আর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সরকার মেরুদন্ড ভেঙ্গে তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। বাংলাদেশ নামের মেরুদন্ডহীন বন্ধ্ুুর মাধ্যমে গোপন কার্যক্রম পারিচালনা করার সহায়তা অর্জনই ভারতীয় উদ্দেশ্য। প্রতিদিন বর্ডারে মানুষ মরছে, মারছে বিএসএফ কসাইএর মত, তারপরও তারা জঙ্গি নয়। বাংলাদেশীরা বর্ডারে একটি বিএসএফ বা ইন্ডিয়ানকে না মারলেও বাংলাদেশী জঙ্গিরা ভারতে ধরা খাচ্ছে। জঙ্গি ধরা খেয়েও ভারতের সুবর্ণ সুযোগ এসে যাচ্ছে হাতের মুঠোতে। এবার গোয়েন্দা নজরদারীতে তৎপরতা চালাতে দাদাবাবুরা বাংলাদেশে আসছেন। এ দেশটির স্বাধীনতা, স্বকীয়তা, সার্বভৌমত্ব বলতে কি কিছুই থাকবে না? বিরাট মানচিত্রের দেশ ভারত মনের দিক থেকে অল্পপ্রাণ ছোট অমানবিক ও কপট হয় কেমন করে? প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক ও সৎ সম্পর্ক রাখতে ভারত বড়ই কৃপণ। এ চালে তার চানক্য নীতি কোন দিনই সুখকর নয়। “র” এর প্রভাবে বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ও নট নাট্যকাররা তাদের কলামে ভারতীয় মন্তব্য করতে কুন্ঠিত হন না। তারা ভারতীয় স্বার্থেই কলাম লেখেন। “বাংলাদেশে কোন সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই” “র” বাংলাদেশে এলামিং পর্যায় পার করছে”  দৈনিক ইনকিলাব ২৯/১১/২০০০) প্রকাশিত তারিখের আজ চৌদ্দবছর পর এটি এখন মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেছে এটি সচেতনরা অবলোকন করছেন। তাই সরকারও পাগলা কুকুরের স্বরুপ ধরেছে।

টকশো: টক শোর নামে একাত্তর জার্নাল ভাড়ামিতে বাড়তি দক্ষ। বক্তারা বলেন, বিভিন্নজনের ভুল তথ্য সম্বলিত গ্রন্থ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তারেক মামলার ভয়ে আবোল তাবোল বকছেন। এসব কথাতে কি চিড়ে ভিজবে? সঠিক ইতিহাস থেকে সত্য তথ্যটি সংযোজন করে এডভাইজজারদের এর জবাব দেয়াটাই কি উপযুক্ত ছিল না?  প্রেসিডেন্ট ইয়াহইয়াকে মুজিব অনুরোধ করেন  “আমাকে গ্রেফতার করুন নয়তো চরমপন্থীরা স্বাধীনতা ঘোষনা করতে পারে”- ৭১ সালে সামরিক শাসক টিক্কা খানের গণসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিকের “উইটনেস টু সারেন্ডার” থেকে। স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মতানৈক্যের প্রেসনোটটি সাংবাদিকদের কাছে পৌছলে এন্থনি ম্যাসকারেনহাস বলেন, “আমার দুঃখ হয়, এই নির্বুদ্ধিতার সম্পর্কে আমার কোন মন্তব্য নেই”। (সূত্র: রেপ অব বাংলাদেশ, অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, অনুবাদ মাযহারুল ইসলাম ১১৩ পৃষ্টা, ১৯৭৩ সাল)। স্বাধীনতার সময়কার মুজিব কৃত এসব নির্বুদ্ধিতার জবাব দিয়ে চলেছেন চলমান অবৈধ সরকার ও তার মন্ত্রীরা। শেখ হাসিনা অপরাধ করে শাসন ক্ষমতা ধরে আছেন, আদালতের মাধ্যমে নিজের শক্ত অপরাধের দাগ দেয়া ১৫টি মামলা তুলে নিয়ে বিরাট বহরে ঘুষ খাওয়া মিগ কেনাসহ সব অপরাধ ফাঁস হওয়া সত্ত্বেও তিনি লেফাফা দোরস্ত। বিনিময়ে বিরোধীর উপর সাজানো মিথ্যাচারী মামলা চাপিয়ে বেশ মৌজে আছেন গিন্নীমা। বড় গলাবাজিতে খালেদা জিয়াকে বলে চলেছেন আপনি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন, আমি লেফাফা দুরস্ত। খুব সহজ অংক হচ্ছে যাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সময়ে মামলা আছে বুঝতে হবে এরা জাতির বা সে সমাজের সে দেশের সজ্জন ব্যক্তি। আর যাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই তারা দৈবাত সৌভাগ্যবান নয়তো চোর ছ্যাচড়া। দুই স্বৈরাচারের কৌশলে সব কিছু ধ্বংস হওয়ার পথে, দেশ এখন গভীর তিমিরে নিমজ্জিত।

তারেক: তারেক বলছেন তার কাছে প্রমাণ আছে শেখ পরিবার ও হানাদার বাহিনীর মাঝে আঁতাত হয়েছিল। কথাটি আকাশ থেকে পেড়ে বলা বলেও মনে হচ্ছেনা। কারণ এর স্বপক্ষে অজ¯্র তথ্য যুক্তি উপাত্ত সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। দৈব যদি তারেকের পক্ষেই বই উপাত্ত তুলে দেয় তবে সরকারের করার কি থাকতে পারে? গালাগালিতে এসব মিটানো যাবে না আর উপাত্ত খন্ডানোও যাবে না। রাজাকার গালি দিতে ওস্তাদ প্রধানমন্ত্রী নিজে। নিজের রাজাকারদের দুর্গন্ধ মেটাতে এসব করছেন কিনা আল্লাহই মালুম। নৌমন্ত্রী এক পথেই হেটে তারেক রহমানকে অর্বাচিন, কুলাঙ্গার, প্রতারক ও চরিত্রহীন আখ্যায়িত করেছেন। তবে সরকারের দ্বৈত নীতি হচ্ছে এসব কথাতে কখনোই মামলা সাজে না বা কোন আদালত তা আমলে নেয়না। সকালের মামলা দুপুর গড়াতে পারে না, খারিজ হয়ে যায়। যদিও বিরোধীর বিরুদ্ধে শত শত মামলা আমলে যাচ্ছে। বিচার ব্যবস্থা এখন পুলিশের চেয়েও ভয়ঙ্কর। পুলিশ বিচার বিভাগ দুদক সব একখোরে মাথা মোড়ানোর দল, সরকারের লাঠিয়াল। দেশের অবস্থা যখন এমন,  ঠিক তখনও প্রশাসনকে আরো কঠোর হবার নির্দেশ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তারেকের বিরুদ্ধে গন্ডমুর্খ ও পাগলের প্রলাপ বলছেন যদিও তারেকের বক্তব্যে যুক্তি ছিল বহুগুণ বেশী, তাদের এসব হালকা কথা থেকে। একজন শ্রোতা হিসাবে বা দর্শক হিসাবে পাঠক হিসাবেও মুগ্ধ হবার মত বেশ যুক্তি ছিল। তারা প্রচার করছেন তারেককে তওবা করে দেশে ঢুকতে হবে, কারণটিও ব্যাখ্যাতে আসছে। বলা হচ্ছে নবী মোহাম্মদ(সঃ) বা শেখ মুজিব এদের সম্বন্ধে এমন বক্তব্য হলে ফতোয়া এমনই হতে হবে। বাস্তবে গন্ডমুর্খ আর পাগল কাকে বলবো বুঝতে পারছি না। সরকারের প্ররোচনাতে বায়তুল মোকাররমের ইমাম ফতোয়া দিচ্ছেন মুজিব হত্যা আর মুতার যুদ্ধ এক। মুক্তিযুদ্ধ পুরো একটি দলীয় ব্যাপার হয়ে পড়েছে, যুদ্ধ না করলেও মুক্তিযোদ্ধা হওয়া এক দলের অধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিবরিয়া হত্যা মামলাতে নির্দোষকে আক্রমণ করতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে, যাতে আসলরা ধরা না খায়। মূল থেকেই এসব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নকল বিডিআর বিদ্রোহে কিছু নির্দোষকে না ফাঁসালে নানকদের বাঁচানো যাবে না। তাই এবারো নির্দোষরা কাদের মোল্লার মত মামলার ছকে আটকা পড়ছেন। হবিগঞ্জের ও  সিলেটের মেয়র এখন ফাঁটা বাঁশের তলানিতে আছেন, এরা সাম্প্রতিক ধরা খাচ্ছেন।

সুন্দরবন: সুন্দরবনে ডুবলো সাড়ে ৩ লাখ লিটার তেলবাহী ট্রলার। শত কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন নদীতে ভাসছে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল। নৌ মন্ত্রী বলছেন সুন্দরবনে সাপ ছাড়া অন্য কোন প্রাণি মারা যায়নি। খবরের শিরানাম হচ্ছে মারা যাচ্ছে ডলফিন, গুইসাপ, মাছ, কাঁকড়া, বাঘও বিপর্যযের পথে। কুমিরের মুখে ঘা, হুমকিতে দেশের একমাত্র লবন পানির প্রজনন কেন্দ্রটি; সরকার নির্বিকার। গলাবাজি আর গালাগালিতে মত্ত সময় কাটাচ্ছে। শেলা নদীতে ভেসে উঠছে মৃত ডলফিন। বাস্তবের বাঘ বিলুপ্ত হলে কি হবে, সবকিছু ভুলে নাসিম বাঘের আদলে গর্জন করে চলেছেন মুহূর্তের জন্যও বিএনপিকে রাজপথে নামতে দেয়া হবে না। গাজীপুরে বিরোধীরা সভা ডাকলে সাথে সাথে তারাও সমাবেশ ডাকছেন। কত সম্প্রীতির দেশ চালাচ্ছেন অবৈধ এ সরকার, এসব তার নমুনা!

সংখ্যালঘু: আমার পূর্ব পুরুষ ভারতের বাসিন্দা ছিলেন, তাই আমি ভালো করেই জানি ভারত তার সংখ্যালঘুর উপর কি করতে পারে, কত গভীরে তাদের শিকড় বাকড় তৎপরতা। তারা চায় বাংলাদেশেও তাই হোক। ভারতকে চাঙ্গা করতেই আওয়ামী এ অপবাদের বোলচাল নির্দোষ জাতির ঘাড়ে চাপায়। ভারতের গুজরাটে ২০০২সালে এক কোপে জবাই করে ফেলে তারা ২,০০০এরও অধিক মুসলিম। এটি দৈবাৎ কোন ঘটনা নয়, এসব তাদের সচরাচরের রোজনামচা। আমরা এতই একটি গাফেল জাতি যে এসবের কোন খোঁজই রাখি নাই, সে বছর এত বড় ঘটনার পরও বাংলাদেশের মিডিয়া তেমন সচল ছিল না। কারণ যখন যাযাদি একটি লেখা উপহার দেয়, তখন অনেককেই এ মন্তব্য করতে দেখা যায় যে তারা একমাত্র যাযাদি থেকে এ বিষয়টি অবগত হতে পারে। যার জন্য অজ¯্র ধন্যবাদ তারা সেদিন মন্তব্য কলামে রাখে। সম্প্রতি ভারতের আগ্রায় ২০০ মুসলিমকে গণধর্মান্তকরণ ছিল খবরের শিরোনাম। গরীব বস্তিবাসীদেরে রেশন কার্ড ও সাহায্যের কথা বলে তাদেরে ঐ অনুষ্ঠানে নেয়া হয়। দেবতার পায়ে হাত রেখে মন্ত্র গেলানো হয়। অনেকে প্রতিবাদী হলে ভয় দেখানো হয় কার্ড বা সাহায্য পাবে না। এ হচ্ছে মোদির ভারত যার ৬০ কোটি খোলা ময়দানে মলত্যাগ করে। এসব তাদের ধর্মের বাহারি নমুনা। সংখ্যালঘুর দারিদ্রতাকে পূঁজি করে এভাবে তারা মূর্তিপূজার প্রসারে নেমেছে। একবিংশ শতকে মূর্তিকে ঈশ^র ভগবান বলতে একটি বিবেকবান শিশুও প্রশ্নœবিদ্ধ হয়। মোদির ভারত বিবেক বর্জিত ছিল অতীতে গুজরাটে, দাঙ্গা তাদের সারা জনমের সাধারণ ঘটনা; যা সারা বছরই প্রায়শই হওয়ার ঘটনা বর্তমান। এভাবে ধর্মের নামে তারা মানুষ দমন নিধন করে। এটি হচ্ছে সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রধান আচার নামের অনাচার। ভারতীয় পত্রিকার খবরে প্রকাশ উত্তর প্রদেশের সামধান এলাকায় গ্রামে বেশীর ভাগকেই হিন্দুতে রুপান্তরিত করা হয়েছে। অনেক রাজ্যে এসব চলছে মহা সমারোহে। হিন্দু হলে বেহিসাব লাভ অর্জিত হচ্ছে। ছত্রিশগড়ের খৃষ্টানরা জমের মুখে সময় পার করছেন। অহিন্দু হলে নিরাপত্তা নেই, হঠাৎ আক্রমণ হচ্ছে। মোদির আমলেই দাঙ্গা সংগঠিত হয়েছে বেশ জায়গায়। বাংলাদেশের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ নিশাকে দুই আনার মন্ত্রীর টিটকারী, ইউএসএর রাষ্ট্রদূত মজীনাকে কাজের বুয়া মর্জিনা বলার দৃষ্টান্ত সরকারী ভাড়ামির বাড়তি সংযোজন। সাথে সাথে তিনি মোদির আওয়ামী বন্দনাতে মুখর হয়ে আছেন। এসব ক্ষেত্রে মোদির সাথে আওয়ামী মিল থাকতেই পারে, যা নিয়ে বাহাদুরী করা যায়। বাংলাদেশে নির্যাতীত সংখ্যালঘু নয় ভারতের মতই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা নির্যাতীত বহুগুণ বেশী, কারণ শাসনদন্ড হাতে সরকার হাসিনা, ভারতের সেবাদাস। শত অপরাধেও এসব প্রলাপরত মন্ত্রীদের মামলা বাংলাদেশের কোন আদালত আমলে নেয় না। সকালেরটা বিকেলে খারিজ করে দেয়।

ভারত: দিল্লী উদার প্রতিবেশী নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত কুটিল কপট প্রতিবেশী; এ দাগ মুছতে অপারগ ভারত। তার সর্ব অঙ্গে এর বিষাক্ত দগদগে ঘা ছড়িয়ে আছে। ফেনীর সীমান্তে ভারতীয় মদ, ফেন্সিডিল, বিয়ার, কোরেক্স সিরাপ, ইয়াবা, হিরোইন, গাঁজা দেদারসে আসছে। সম্প্রতি দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ট্রেন তল্লাশী চালিয়ে ৩০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে দিল্লী বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে লাশ করতে সরকারের সহযোগিতা দিয়ে গেছে এর প্রমান বহু। এসব ধর্মান্তরে কি সে দাগ মুছে যাবে বরং পাপের পাল্লা আরো বহুগুণ ভারী হবে? প্রতিবেশী দেশের মানুষ মারছে তারা দেদারসে পাখির মত। অথর্ব সরকার ল্যাংড়ার আদলে সময় পার করছে আর বলছে ভালই হয়েছে, বিএনপি নির্বাচনে না আসাতে ভালই হয়েছে। সেটা সবাই বুঝতে পারছে। দুষ্কর্মের ফসল সবটা হাসিনার গোলাতে উঠছে কিন্তু সৎ আমলের পাল্লা কখনোই ভারী হবে না, সেটি স্মরণ রাখলে ভালো হয়। জোটের ২০দল প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিষফোঁড়া বলেই তাদেরে কোথাও দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না, সেটি বাংলাদেশের একজন রিক্সাওয়ালাও বুঝতে পারছে নিশ্চয়। একের পর এক গোপন চুক্তিতে প্রতিবেশী ভারত মনে করছে খুব ভালো কবজা করছে, বস্তুত এদের কোন নীতি ধর্ম অবশিষ্ট নেই বলেই এমন হচ্ছে, নয়তো প্রতিবেশীর সাথে তারা এটি করতে পারতো না। স্বাধীনতার চার দশক পরও তারা দেশটির হৃদপিন্ডে শক্ত কামড় দিয়ে যাচ্ছে। যদিও তারা ধর্মে বিশ^াসী দল, মূর্তিপূজক হলেও। কিন্তু তাদের ধর্মে কি মানবতার নীতি নেই? সরকার মেধাবীদেরে গুম করে যাচ্ছে তাদের পরিবার থেকে স্পষ্ট প্রতিবাদ আসছে, বছর পূর্তিতে পরিবার থেকে স্পষ্ট প্রতিবাদ আসছে কাদের মোল্লাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের যুক্তির সাথে সব সচেতনরাই একমত।

মানবাধিকার: লতিফ সিদ্দিকী বাহ্যিক হজে¦ ধরা খেলেও সবাই বলছে জয়ের গোমর ফাঁক করাই তার বড় পাপ হয়েছে। আজো তিনি সম্মানের সাথেই আরামে আয়েশে ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসাধীন। কারাবাসে মাহমুদুর রহমানের রিমান্ড আর কষ্টের জীবন। তবে সজ্জ্বনেরা বলছেন হজ্জ্বের জন্য নয়, জয় বাবার দুই লাখ ডলার প্রাপ্তির বেতন ফাঁসের ঘটনাতেই পা পিছলে আলুর দম হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে মানবাধিকার অর্থহীন ও কল্পকথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। সাম্য, ন্যায়, গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করাই হচ্ছে মানবাধিকার, যার কোনটিই বাংলাদেশে নেই। চলতি বছরে বালাদেশ সিএনএন, নিউইয়র্ক, টাইম, আল জাজিরা দি ইকনমিষ্ট এর মত পৃথিবীর নন্দিত মিডিয়ায় ২৬৮৫ বার শিরোনাম হয়েছে। সরকার দলীয় লোক দ্বারা গুম খুন হত্যা স্বাধীনতা উত্তর কখনো এমনভাবে বিশে^র গণমাধ্যমে আসে নাই। বাংলাদেশের মানুষ এখন মানবাধিকারের কথা বলতে ভুলতে বসেছে। সাভারে যুবলীগ নেতা পাভেলের গুলিতে স্কুল ছাত্রী আহত হয়। সরকারের গুন্ডারা এখন বন্দুকের ভাষাতে কথা বলতেই পছন্দ করে। পুলিশও সব ধরণের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সরকার এভাবে গোটা জাতিকে নিয়ে চোর পুলিশ খেলছে।

ভিন্ন স্বাদ এরশাদ ও বিপন্ন গণতন্ত্র: শিরকধারী এরশাদ বলছেন তার বাবা বলেছেন ২০০ সিট পাবেন। এরশাদ চাচার ঈমান যে কোন পর্যায়ে আছে এসব তার প্রমাণ। এরশাদ বলছেন এ বছর ২০১৪ সালে ২০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আর একবার মাত্র দেশ পরিচালনার সুযোগের অপেক্ষাতে দিন গুজরান করছেন বাবার এ এজেন্ট। তাই থুথু মিয়া আবারো কৌতুক করে বলছেন “মন্ত্রীসভা থেকে জাপা এমপিরা পদত্যাগ করবেন”। তিনি নিজের কথাই বলছেন তিনি সরকারের শরিক দল, হয়তো ভাগে অল্প কম পড়েছে তাই এমন বলা। নয়তো তার সাহায্যেই বোনের গদি রক্ষার পায়তারা এ যাবত হয়েছে, চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। আরেক খবর খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করার অভিযোগে অবসরে যুগ্মসচিব জাহাঙ্গির। অতীতে জনতার মঞ্চ করে কিভাবে জাতিকে বিভেদ করা হয়েছিল জাতির জানা আছে। তার মানে হাসিনা মনে করেন সরকারী কর্মচারীরা তার কেনা গোলাম। গণশিক্ষামন্ত্রীও প্রশ্নফাঁসে যুক্তি দেখাচ্ছেন যে বিদেশেও নথি ফাঁস হয়। সুতরাং তাদের বছরওয়ান্তি প্রশ্নফাঁস এক বড় ক্রেডিট হতেই পারে। মির্জা ফখরুলকে ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথি করাতে ম্যাচ বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগ নয়, পুলিশ। এ হচ্ছে দেশের বাস্তব অবস্থা। এরকম খেলার আয়োজন করা হলে সবাইকে গ্রেফতারের হুমকি দেন ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। এ হচ্ছে বাংলাদেশে ১৪ সালের ডিসেম্বরের গণতন্ত্রের বাস্তব অবস্থা। অবৈধ সরকার পুলিশ দিয়ে জনগণের উপর নির্মমভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। নব্য ভাড় হিসাবে সদলে মতিয়া ইনুকেও দেখা যায়, সম্প্রতি মতিয়া চৌধুরীর বয়ান হচ্ছে, “৭৪এর দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র”। বস্তুত সরকারকে খূশী করতে এসব ভাড়ামি করা হচ্ছে, ঐ সময় মতিয়ারা অন্য সুরে কথা বলেছেন, যদিও এবার সুর পাল্টে কোকিল সুরে কোরাস গাইছেন।

শিক্ষার মান: বিগত ২০০৯ ও ২০১২ সালে বাংলাদেশে গিয়েছি, সেখানে আমার এক বোনজি স্কুল শিক্ষিকা আমার কাছে আবদার রাখে- খালা, আপনি এসব একটু লিখবেন কোথাও সুযোগ পেলে। দেশে কি যে হচ্ছে লেখাপড়ার কোন বালাই নেই, ছেলেপেলেরা লেখাপড়া না করলেও তাদেরে সরকারী নির্দেশ দেয়া হচ্ছে সবাইকে গণহারে পাশ দিতে হবে, সরকারের কড়া নির্দেশ। কথা দিয়েছিলাম লিখবো সে কথা আর রাখা হয়নি। আজ একটি খবর চোখে পড়ে তাই মনে পড়ে কয় বছর আগের সে কথাটি। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক এম মান্নান প্রশ্নফাঁসসহ ঢালাওভাবে পাশের হার বাড়িয়ে এ অনাচার করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার পায়তারার কথা উল্লেখ করেছেন। এর গভীর সত্যতা এখনো বর্তমান বলেই মনে হচ্ছে। বগুড়াতে পরীক্ষায় মোবাইল ম্যাসেজে উত্তর লেখার সময় ১৪ জন আটক। যে সরকার নিজেই অসৎ আচরণে দক্ষ সে সমাজের ছাত্র সমাজ পুলিশ র‌্যাব দুদক সবই এক খোরে মাথা মোড়ানোর দল হতে বাধ্য।

নাজমা মোস্তফা, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪ সাল।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: