Articles published in this site are copyright protected.

ভারতের পৌত্তলিক সংস্পর্শে এসে তৃতীয় মোগল সম্রাট আকবর ইসলাম ধর্মটিকে বদলে দিয়ে একটি পৌত্তলিক ধর্ম করতে চেয়েছিলেন। ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায় সম্রাট আকবর ঐশী নির্দেশ ছাড়াই এগিয়েছিলেন ঐ কাজটি করতে। “দীন-এ-এলাহি” নামের এ অদভুত ধর্মের পয়গম্বর ছিলেন বাদশাহ আকবর স্বয়ং। “প্রতিদিন প্রত্যুষে তিনি সমগ্র বিশ্ব উজ্জীবনকারী পরমাত্মার প্রতীকরুপী সূর্যের পূজা করতেন। অপর পক্ষে তিনি নিজে স্বয়ং অগণিত মুঢ় নর নারী কর্তৃক পূজিত হতেন”। (ভারতের শিল্পকলা ১৪শ সংস্করণ দ্রষ্টব্য)। আকবর নামটি মুসলিম শোনালেও বাস্তবে তার রোজনামচাতে ইসলাম মনস্কতার পরিচয় মিলে নাই, তার সাক্ষী ইতিহাস। বায়তুল মোকারারমের খতিব প্রফেসর মাওলানা সালাহ উদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জুম্মার খুতবায় এক অদভুত  ব্যাখ্যা দিয়েছেন যার সাথে ইতিহাসের মিল হয় না। শেখ মুজিবের নিহত পরিবারকে মুতা যুদ্ধের সাহাবীদের সাথে তুলনীয় করে তিনি দেখিয়েছেন। এতে তিনি সত্য ধর্ম ইসলামকে অনেক বিতর্কের সামনে নিয়ে গেছেন। 

মনে হচ্ছে মুতা যুদ্ধের মূলে তিনি না ঢুকে তিনি চাটুকারিতার উদাহরণ টেনেছেন। সম্রাট আকবরের শৈশব এমন কেটেছে যে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের তার সুযোগ কম হয়েছে। আকবরের স্বেচ্ছাচারী শাসনে ভারতের মুসলমান সমাজ বাকরদ্ধ ছিল। ব্লকম্যানের আইনী আকবরী, ১ম খন্ডে এসব প্রমাণ পাওয়া যায় যে, সেদিন সেখানে বায়াতনামাতে স্বাক্ষর করেন সে সময়ের ১৮ জন ব্যক্তি, এ দলে একমাত্র বীরবল ছাড়া আর সবাই ছিলেন মুসলমান। বায়াতনামার উপসংহারে বলা হয়, যদি সম্রাট কোন বিধান জারি করেন এসব পালন করতে জনগণ বাধ্য। এটিও বলা হয় এসবের বিরোধিতা করলে পরকালে লানত ও ইহজীবনে সমাজচ্যুতি ও ধ্বংস দন্ড কার্যকর হবে। সেদিনও কুরআন গ্রন্থখানি ভারতের ময়দানে গৃহে সর্বত্রই ছিল। কুরআনকে অবজ্ঞা করে শাসক আকবর তার প্রতাপের জোরে এসব মিথ্যা সমাজে চালু করেন, ইতিহাস আজো তার সাক্ষ্য বয়ে বেড়াচ্ছে। সবযুগেই দেখা গেছে যখন শাসনদন্ড রুঢ় হয় কিছু মুসলমানকে এসব ক্ষেত্রেও কেনা যায় এবং সেদিনও এটি সম্ভব হয়েছে। এরা যুগে যুগে এভাবে কুশাসকের অপকর্মের সামনে মাথা নত করে দিয়েছে। তারপরও সত্যকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দেখা গেছে। এর কারণ হচ্ছে সত্য ধর্মের মূল দায়িত্ব এমন এক সত্ত্বার হাতে নিয়োজিত, যাকে নির্মূল করা শত আকবরের পক্ষেও সম্ভব নয়।

‘মোহাম্মদ’ নামে আরবের এক সদ্য উত্থিত ছেলে নবুয়তী দাবী করছে আর ঈশ্বর যীশুকে মনুষ্য সন্তান বলে প্রচার করছে। এ ধৃষ্ঠতা অসহ্য, তাই রোমের খৃষ্টান শাসকরা গাটছড়া বাঁধছে বেশ দিন থেকে। মুতা যুদ্ধের গোড়ার ঘটনা এটি। এর মধ্যে পারস্য পদানত হয়েছে, বিশ্বে বেশ নাড়া পড়ে গেছে। এদিকে সিরিয়ার ‘মাআন’ প্রদেশের এক খৃষ্টান গভর্ণর তার ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে দৃঢ়তার সাথে নবী মোহাম্মদ(সঃ)কে যীশুর পরবর্তী আগত ঈশ্বর প্রেরিত ঐশী শক্তি বলে মেনে নিয়েই সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করে তা পত্রপাঠে নবী মোহাম্মদ (সঃ)কে জানিয়েছেন। ঐ গভর্ণরকে ক্রুশে চড়ানো হয়, তারপরও তিনি সত্য থেকে বিচ্যুত হতে রাজি হন নি। উইলিয়াম মূরের লেখনীতে খৃষ্টান শাসনকর্তাকে দেয়া ঐ গভর্নরের বক্তব্য পাওয়া যায়, “আমি মোহাম্মদের ধর্ম কখনোই ত্যাগ করবো না। আপনি ভালভাবেই জানেন, অতীতে যীশু তার বাণীতে, এর আগমনেরই ভবিষ্যদ্বানী প্রচার করে গেছেন। কিন্তু সম্রাট! সাম্রাজ্যের মায়াজালেই আপনি আজ সত্যকে অস্বীকার করছেন।” ঘটনার ধারাবাহিকতায় তাকে ক্রুশে বিদ্ধ করা হয়। হাজার হাজার দর্শকের সামনে তিনি হাসিমুখে ক্রুশবিদ্ধ হন। ঘটনাটি বিরোধী পক্ষের জন্য খুব সুখকর ছিল না। আসন্ন মৃত্যুকেও এরা সত্যানুসারীরা পরোয়া করে না। দেখা যায় এরা পরাধীন ধর্মের শিকল পরা থেকে এমন মৃতবৎ বাঁচার চেয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করাই শ্রেয় মনে করে। সেদিন ক্রুশের মরণ তার নতুন জীবনের বিজয়ের দ্বার হয়ে উঠে। যীশুর প্রকৃত অনুসারী, এ গভর্নর নাকি ঐ ক্ষমতালোভী রোম সম্রাট; সেটি পাঠকই বিবেচনা করুন।

প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ সাঃ Part 02, মুতার যুদ্ধ

 

 

হুদায়বিয়ার সন্ধির পর ইসলামের ডাক চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, দিকে দিকে সবার কাছে দূত মারফতে নবীর পক্ষ থেকে পত্রও পাঠানো হয়। এরকম সময়ে ‘ওমের’ নামের এক পত্রবাহক সাহাবীদূত মুতা নামক স্থানে পৌঁছলে এক খৃষ্টান দর্পধারী কর্মচারী ‘শোরাহবিল’ তাকে হত্যা করে ফেলে। যার সফল পরিণতি ছিল যুদ্ধ। এটি মক্কা বিজয়েরও আগের ঘটনা। খৃষ্টানশক্তি সেদিন মুসলিমদেরকে চিরতরে নির্মুল করে দিতে ছিল বদ্ধপরিকর। এমন সঙ্গিন সময়ে অগোছালো অবস্থায়ও সেদিন তিনজন সেনাপতি পর পর নিহত হন। তিনজনকেই নবী নির্বাচন করে দেন। এবং চার নাম্বার জনকে প্রয়োজনে তাদের নিজেদের মাঝ থেকে নির্বাচিত করার ভার দেয়া হয়। এটি একটি সহজ যুদ্ধ ছিল না। একটি নব্য উঠতি শক্তি প্রবল প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষিত লক্ষ লক্ষ সৈন্যের মোকাবেলার জন্য মোটেও যথেষ্ঠ ছিল না, প্রস্তুতও ছিল না। তাদের গোটা খৃষ্টান সমাজ সেদিন এক ছায়াতলে এসে হামলে পড়ে মুসলিমের উপর প্রবল পরাক্রমে। মুসলিমরা ছিল মাত্র তিন হাজার, অপর পিঠে খৃষ্টানেরা এক লক্ষ (৩৩ গুণের বেশী) শিক্ষিত ও সুসজ্জিত সৈন্যের সহিত এ লড়াই । প্রবল পরাক্রমে পর পর তিন সেনাপতি নিহত হবার পর মুসলমানদের মাঝে কিছু বিপর্যয় দেখা দেয়। অগত্যা এক সৈনিক বীরবর এগিয়ে আসেন এবং বিপর্যস্ত যুদ্ধে হেলে পড়া নবীর পতাকা তুলে ধরেন। সেদিন তার ডাকে ঐ ময়দানেই খালেদ বিন ওয়ালিদকে চতুর্থ সেনাপতি নির্বাচন করা হয়। ইত্যবসরে নবী (সঃ) তিনজন সেনাপতি নিহতের খবর অবগত হয়ে মদীনা থেকে পুনরায় দলবল নিয়ে যুদ্ধে যোগ দেন। আল্লাহর ও নবীর মর্যাদা রক্ষার্থে আরবের প্রতিটি সমর্থ ব্যক্তি সেদিন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। নতুন সেনাপতি খালেদ ও তার অপরিসীম রণচাতুর্য্য ও সত্যধর্মের সৎ নেতৃত্ব তাকে বিজয়ের দ্বারে নিয়ে যায়। খৃষ্টানরা যুদ্ধ থেকে পলায়ন করে, তারা পরাজিত হয়।

দীর্ঘ এক সপ্তাহকাল যুদ্ধ চলে (হালবী ৩-৬৬ প্রভৃতি সূত্র)। খালেদের হাতে পর পর আটটি তরবারী ভেঙ্গে চুরমার হয় এবং নয় নম্বর তরবারীতে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়। এ ঘটনা স্বয়ং খালেদের বর্ণিত বিবরণে পাওয়া যায় (বোখারী, মুতা সমর)।  খালেদ সেনাপতি হওয়ার পর আল্লাহ সে কঠিন যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় দান করেন। কথাকয়টি স্বয়ং রসুলের মুখনিঃসৃত বাণী (হালবী ৩-৬৭) থেকে জানা যায়। এ যুদ্ধে খৃষ্টানদের থেকে মুসলিমরা অনেক যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করে। (ফৎহুলবারী ৭-৩৬১ এবং হালবী ৩-৬৮)। উপস্থিত খতিব সালাহ উদ্দিন ধর্মকে পাশ কেটে যে ধর্ম ব্যবসা করছেন এতে সত্য ধর্মের অমর্যাদা হয়েছে। একবিংশ শতকে বসে তিনি সংকীর্ণ অর্থে বিকৃত প্রচারে ধর্ম ব্যবসাতে নেমেছেন। তিনি বলছেন এরা তিনজন নিরপরাধ ছিলেন, মনে হচ্ছে তারপরও তাদের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ ছিল। এরা ছিলেন সত্যধর্ম প্রচারে প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত শেষনবী হযরত মোহাম্মদ কর্তৃক নির্বাচিত যুদ্ধের তিন সেনাপতি। তিনজনই সেনাপতি, আমীর বা নেতা ছিলেন, প্রথম জন ইতিহাসে চিহ্নিত কৃতদাস জায়েদ, দ্বিতীয় জন ছিলেন জাফর ইবন আবুতালিব (হযরত আলীর ভাই), তৃতীয় জন ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবন রওয়াহা। শেখ মুজিবের ও তার পরিবারের মৃত্যু অনেক বিতর্ক জমা করেছে। এসব জটিল বিষয়কে একচোখা নীতিতে বিচার বিশ্লেষণ করলে সত্য ধর্মকে ছোট করা হয়। এসব বেফাঁস কথার জন্য বিধাতার বিচারেও ধিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। স্রষ্টাই শ্রেষ্ঠ বিচারক। যে বা যারা জাতির সাথে প্রতারণার খেলা খেলবে এদেরে বিধাতাও ছেড়ে দিবে না। সম্রাট আকবর বলে তারও মুক্তি সহজ হবার কথা নয়। আর খতিব সালাহ উদ্দিন কি নিজের জমা বাড়াচ্ছেন না?

 যশোরের শ্রী জাহিদ থেকে কেন কীভাবে মোঃ জাহিদুল ইসলাম

 

দুঃখজনক হলেও সত্য কথা, বর্তমান সময়ে ও অতীতে কখনো মদীনার সনদের নামে বাংলাদেশে যা ঘটছে তার অনেক কিছুই ইসলামের সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। শেখ মুজিবের বা তার পরিবারের মৃত্যু অস্বাভাবিক ছিল, তারপরও তা বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। এসব সবারই জানা। সম্রাট আকবরের পক্ষে অতীতে অমর্ত্যসেনও ওকালতি করেছেন তার “আরগুমেন্টেটিভ ইন্ডিয়ান” বইএ মুসলমানদেরকে নিয়ে বাড়তি কিছু চিন্তা করে তাদেরে আকবরের ধর্ম গ্রহণের ডাক দিয়েছেন। অমর্ত্য সেন হয়তো সেখানে ইসলামের স্বার্থ থেকে তার নিজ সংস্কৃতির^ স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন, কিন্তু ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশের খতিবেরও ধর্ম সম্বন্ধে এমন ঘোলাটে অস্বচ্ছ ধারণা মেনে নেয়া কষ্টকর। জাতীয় খতিবকে ইসলামের সেবক হতে হয়, তা যদি না হয়, সংকীর্ণ চাটুকারীতায় নিমজ্জিত ব্যক্তি শুধু ইসলামের নয়, বরং দেশ জাতি সমাজ ও বিশ্বের জন্য বিপদজনক। ইসলাম এসেছে মানুষকে মুক্ত করতে নির্মল করতে, খতিবের মত মানুষকে ধর্মের মিথ্যা মায়াডোরে বাঁধতে নয়। “তারা আল্লাহর আয়াতকে স্বল্প মূল্যে বিনিময় করে, তাই তারা (লোককে) তাঁর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে। নিঃসন্দেহ জঘন্য যা তারা করে যাচ্ছে! (সুরা আল-বারাআতএর ৯ আয়াত)। অল্প মূল্যে বিক্রি হওয়ার ঘটনা আল্লাহর জানা, তাই ওসব আয়াত কুরআনের অংশ হয়েছে। কুরআন বলে, “আর বলো, ‘সত্য সমাগত এসেই গেছে আর মিথ্যা অন্তর্ধান করেছে। নিশ্চয় মিথ্যা তো সদা অন্তর্ধানশীল থাকে” (সুরা বনী ইসলাইলএর ৮১ আয়াত)। এদের কারণেই আজো মিথ্যা অন্তর্ধাণশীল না হয়ে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্ঠায় আছে। নবীদের কাজ শেষ, এ ব্যাপারে বর্তমানের ভবিষ্যতের সচেতনকে, মুক্ত চিন্তার মানুষকে, প্রকৃত ধার্মিককে জাগতে হবে; এ জাগার বিকল্প নেই।

Documents show 2002 Gujarat riots were not sudden

নাজমা মোস্তফা,  ১৫ই আগষ্ট ২০১৪সাল।

(লেখাটি নিউইয়র্ক ভিত্তিক ঠিকানা ছাপিয়েছে ২০১৪ সালের নভেম্বরের ২৪তারিখে)।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: