Articles published in this site are copyright protected.

Archive for March, 2014

১৯৮৩ সালে ভারতে বাংলাভাষীদের ওপর আরোপিত নেলীর ধ্বংসযজ্ঞ

না জ মা মো স্ত ফা

১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে আসামের লেগুং গোত্রের নেলীর ধ্বংসযজ্ঞে সরকারি হিসাবে দুই হাজার ১৯১ এবং বেসরকারি হিসাবে পাঁচ হাজার মানুষের জীবনহানি হয়। ১৪টি গ্রামের, মতান্তরে ১৬টি গ্রামের মাঝে নেলীও একটি। এটি নেলীর ধ্বংসযজ্ঞ নামেই পরিচিতি পেয়েছে। এ হামলা ছিল মূলত মুসলমান নিধনের মহোৎসব । ভারতের বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদীর ‘ভারতের রক্তে ধর্মের বিষ’ বলে একটি লেখা অনুবাদ করেন প্রমিথ হোসেন। রুশদী নিজে একজন ভারতীয়। তার ভাষায়, আগুনে পোড়া শিশুটির বাহু কালো হয়ে গেছে, ছোট ছোট আঙুল বেঁকে মুঠিতে পরিণত হয়েছে। তার বর্ণনা দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই ছবিতেই ফুটে উঠেছে যুগে যুগে ভারত ও তার হিংস্র অনুসারীরা কীভাবে সংখ্যালঘুর ওপর তাদের অভিযান চালায়। গুজরাটের আহমেদাবাদে সংঘটিত মানুষকে দগ্ধ করে হত্যার এ ধরনের উত্তম নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়। তার বর্ণনাতে এটিও এসেছে যে, ভারতীয় বিশেষত্বের একটা অংশ হলো শিশুহত্যা। এছাড়াও আশির দশকে আসামের নেলীতে ব্যাপক গণহত্যা, ১৯৮৪ সালে মিসেস গান্ধী নিহত হলে শিখ শিশুদের হত্যা করা হয়েছিল। নেলীর ছবিতে আজও শিশুহত্যার দাগচিহ্ন পাওয়া যায় লাইনবাঁধা লাশের সারিতে। জানা যায়, প্রতিটি ঘটনাতেই জীবন্ত শিশুদের গায়ে কেরাসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়, অথবা তাদের গলা কাটা হয়, অথবা ভারী কাঠের মুগুর দিয়ে স্রেফ পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। এই হলো ভারতীয়দের ভয়ানক রূপ। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর সংগঠিত এ এক বিরাট বিপর্যয় সন্দেহ নেই। স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে মুসলিম নিধন এক সহজ বাস্তবতার নাম। তারপরও অসংখ্য মুসলমান সেখানে মুমূর্ষু প্রাণ নিয়েও জন্মভূমি আঁকড়ে ধরে আছে।

nelly-picture

Bodies of infants during the 1983 massacre Nellie (www.kractivist.org)

নেলীতে সাধারণ খবরেও আসে তিন হাজার ৫০০ মানুষ মারার হত্যাযজ্ঞ। কবরের জন্য খোলা ময়দানে ফেলে রাখা সারিবাঁধা লাশের খণ্ড ছবি ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। মায়ের কোলে শিশুটিকে শক্ত করে বেঁধে রাখা অবস্থায় জীবন সংহার করা হয়। বলা হয়, তারা বাংলা ভাষাভাষী এথনিক সম্প্রদায়ের জনতা। ব্রহ্মপুত্রের পাশঘেঁষে ধুবড়ি থেকে ডিব্রিগড়ে সরকারি মৃত্যুর হিসাব ২০৯১। বাস্তবতার আয়োজনে এসব আলোচনার বিষয় নয়, এসব চেপে রাখা ঘটনার ছাইচাপা আগুন— ওখানকার সংখ্যালঘুদের জন্য জমা রাখা। নিজভূমে তারা নিজ দেশের ভোটার জনতাকে এভাবে হাজারে হাজারে হত্যা করতে পেরেছে, যাদের পূর্বপুরুষ বাপ-দাদারা সেখানের বাসিন্দা। আসাম তিন দশক থেকে হাজার হাজার লাশ তার পেটে ধারণ করে মৃত্যুঞ্জয় হয়ে বসে আছে। যারা নেলীতে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারাও সরকারের প্রশ্রয়ে এসব চেপে যাওয়ার পক্ষপাতী সব দিন। সরকারি-বেসরকারি দলিলপত্র তথ্যাবলিসহ সদ্যসমাপ্ত নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় সব যুক্তিতে ঢিল দেয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। সরকারি তেমন কোনো শক্ত তদন্ত লক্ষ করা যায়নি। রাজ্য সরকারের অনুরোধে একজন রিটায়ার্ড আইএএস অফিসার ত্রিভুবন প্রাসাদ তোয়ারী ১৯৮৪ সালে ৬০০ পৃষ্ঠার একটি অফিসিয়াল সমীক্ষা চালান ওখানকার বাস্তবতা অবলম্বনে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সে রিপোর্টটি আলোর মুখ দেখতে পারেনি, অর্থাৎ সাধারণ্যে প্রকাশ করা হয়নি। ওখানে সংখ্যালঘুরা কখনোই বিচার পায় না। এটি ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের সহজ বাস্তবতা। নিজেদের এত ক্ষত নিয়েও অন্যের গৃহে এই সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়েও তাদের অতিরিক্ত নাক গলাতে দেখা যায়।
নিচে একটি পরিসংখ্যান আনছি, যা ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক রিপোর্টে প্রকাশিত। এতে ১৯৪৭ থেকে ’৫৩ সালের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এই ক’বছর যে দাঙ্গা হয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ভারত স্বাধীনতা পায় ১৫ আগস্ট আর ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে যায় দাঙ্গা (Impact International 8-21 June 1984, London)।

ভারতে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা
এভাবে যাদের সারা বছরই দাঙ্গা চলে, তাদের কথা আর কত বলা যায়। এবার উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট থেকে পাওয়া হিসাবে মাত্র কয়েকটি হিসাব আনছি, যেগুলো শত নয়, হাজার ছাড়িয়ে গেছে— (১) ১৯৪৭ সালে ৫,০০,০০০ লাখ (হিন্দু-মুসলিম-শিখ দাঙ্গা), (২) ১৯৬৪ সালে বিহার জমশেদপুরে ২,০০০ জন (হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা), (৩) ১৯৪৮ সালে হায়দরাবাদ ম্যাসাকার ২৭-৪০,০০০ জন (একতরফা মুসলিম নিধন করা হয়), (৪) ১৯৮৩ আসামের নেলীতে বাংলাভাষী হত্যাযজ্ঞে নিহত ২২০০-৫০০০, (৫) ১৯৮৪ সালে শিখবিরোধী দাঙ্গায় ২৭০০-৪০০০ মতান্তরে ৫০০০, (দিল্লিতে সব শিখ) এবং (৬) ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০২ সালে গুজরাট ভায়োল্যান্সে ৪০০০ মুসলিম ও ১০০ হিন্দু, যার মৃত সদস্যরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের বাসিন্দা। নেলীর ছবিতে আসে মৃতের চোখ বের হয়ে আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মৃতদেহগুলোকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বিদ্ধ করা হয়েছিল। গোটা শরীরে কোপানোর দাগ ছিল। খোলা মাঠে তাদের মেরে ফেলা হয়। তারা দলেবলে ঘরে ঘরে আগুন দেয়, আর মানুষ মাঠে ছুটে গেলে ওইখানেই তাদেরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসব মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যানের গুরুত্ব সম্পর্কে কখনোই ভারত গরজ দেখায়নি। যেখানে মাত্র ৬৮৮ জনের রেজিস্ট্রি করা হয় এবং পুলিশ মাত্র ৩১০ জনের কেস দেখায়। আর বাকি সব কেসই বাতিলযোগ্য। এত হত্যার জন্যও কোনো ধড়পাকড় নেই, কোনো বিচার নেই। যেন এই চায় ধর্মনিরপেক্ষ ভারত সরকার।

শুধু জানা যায়, হত্যার করুণ অবস্থান থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ৫,০০০ রুপি পেয়েছেন। এ ছাড়া আর কোনো ধরনের পজিটিভ সাহায্য দেয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। ১৮ ফেব্রুয়ারিতে ঘটনা ঘটলেও মার্চের ১৫ তারিখে ‘ইন্ডিয়া টুডে’ প্রথম মুখ খুলে এ বেদনার কথা ছবিসহ প্রকাশ করে। তারপরও আজ অবধি তা সরকারি নথির অনেক তলানিতে চাপা দিয়ে রাখা, এসব সংখ্যালঘুদের গুরুদণ্ড ভোগের করুণ দশা। উপজাতি ও বাংলাভাষী বাচ্চারা আজও ওই স্বজনদের কবরসংলগ্ন চত্বরে খেলে বেড়ায় যার নিচে ঘুমিয়ে আছে তাদের নিকটজনরা। আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এ হত্যাযজ্ঞের পেছনে বিরাট ভূমিকা পালন করে বলে মনে করা হয়। কিন্তু সরকার বারে বারে দেখাতে চায়, এসব দুই সম্প্রদায়ের লড়াই। এটি আসামের অনেক বড় ক্ষত। এ ক্ষত গোটা ভারতের সংক্রামক রোগ। জাপানি এক সমাজ গবেষক বিশেষজ্ঞ মাকিকো কিমুরা এক গবেষণাকর্ম সম্পাদন করে এর ওপর কাজ করেন। কিন্তু আসাম সরকার তার এ কাজটি উপস্থাপনের অনুমতি দেয়নি। সত্য হজম করার চেয়ে চেপে যাওয়ায় বিশ্বাসী ভারত তার সংখ্যালঘুর সঙ্গে এমনই আচরণ করে চলেছে। আজ ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারির খবরে দেখি, ভারতের আম আদমি ১৯৮৪-র শিখ দাঙ্গার সঠিক তদন্ত চাইছে। নেলীর অবর্ণনীয় মৃত্যুর মাত্র এক বছর পরের আর এক দুর্ভাগ্যের বলি ছিল ওইটি। সংখ্যালঘু শিখদের বিচারের সঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলমান নিধনের ঘটনাও বিচারের দাবি রাখে। ভারতের নির্যাতনে সব সময়ই সরকারের সহযোগিতার ও চাপা দেয়া খবরের তথ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশ সব দিনই তার সংখ্যালঘুর সঙ্গে মানবিক আচরণই করে। তবে ইদানীং দেখা যাচ্ছে, বেসামাল সরকার এ ক্ষেত্রেও ভারতকে উকিল মানছে, তার প্রশিক্ষণে নিজ দেশের সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন করছে যাতে লোকে মনে করে— এসব সরকার নয়, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক মুসলমানরা করছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার মনে মনে হিন্দু, ভাবখানা তার এমনই। তারপরও ইদানীং তাদের বারে বারেই সংখ্যালঘু নিধনে জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে জনগণকে প্রকৃত দুর্ভোগ থেকে সরিয়ে রাখতে কৌশল হিসাবে ভারতীয় অনুগত সরকারই যে এটি করছে, তা অস্বীকার করতে পারবে না। সরকার যখন স্বজ্ঞানে এসব করে, তখন নির্যাতনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় খোদ হিন্দুরাও সরকারের ভানুমতির খেলা উন্মোচন করতে সোচ্চার হয়েছেন। নয়তো অতীতে হিন্দুরা কিল খেয়ে কিল চুরি করাতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।

১৯৮৪ সালে শিখ দেহরক্ষীদের কাছে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর দিল্লিতে কয়েক হাজার শিখ নরনারীকে হত্যা করা হয়। নেলীতে আজও গায়ে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা। জনতার গায়ে ডেগার-ছুরি-চাক্কুর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত দাগচিহ্ন আজও রিপোর্টাররা দেখতে পান। মায়ের কোল থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে ঠিক তার শরীরের মাঝ বরাবর দু’টুকরা করে কুমড়ো ফালি করাতে তাদের কোনো অরুচি হয়নি। আজও মা সেই বাচ্চার করুণ অবস্থা বর্ণনা করে যাচ্ছেন, তাও নিচু স্বরে! এমনই হতভাগা সেখানের সংখ্যালঘুরা! পরিবারের সব সদস্য হারিয়ে অনেকে পাগলপ্রায় হয়ে ছিন্নমূল জীবন কাটিয়েছেন। অনেক অনাথকে কাছের দূরের স্বজনরা নিয়ে লালনপালন করেছেন। আসাম গোত্রীয় দাঙ্গার এক উর্বর ভূমি। সেখানে অনেক গোত্রে গোত্রেই এ দাঙ্গার কথা শোনা যায়। জানা যায়, শিখ দাঙ্গায় ক্ষতিপূরণ বাবদ দেয়া হয় সাত লাখ, যা ঠিক নেলীর ঘটনার পরের বছরই ঘটে। নেলীর ঘটনায় আজও একজন দোষীকেও কোনো বিচারের কাঠগড়া মাড়াতে হয়নি। এ রকম একটি রাষ্ট্র কেমন করে তার সংখ্যালঘুর সঙ্গে আচরণ করে চলেছে তা বর্ণনার অতীত। ২০০৮-তে মুম্বাই হত্যার পরবর্তী পদক্ষেপ কখনোই গুজরাটের বা নেলীর সঙ্গে তুলনীয় নয়। এটি ভারত সরকারের দ্বিমুখী আচরণের ব্যর্থতার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। মুম্বাই তাজ হোটেলের মৃতদের মূল্য থাকলেও সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা সেখানে উদ্বেগজনক হয়ে আছে। তারা কখনোই বিচারও পায় না। কেসও চলে না। সেখানকার দিল্লি, ভাগলপুর, গুজরাট, নেলী, মালেগাঁওয়ের মুসলমানও যে মানুষ, সেটি কীভাবে প্রমাণ করা যায়?

জানা যায়, সেদিন উৎসবের আদলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তারা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ড্রাম পিটিয়ে হাজার মানুষ সম্মিলিতভাবে অতর্কিত হামলে পড়ে। সেদিনও ওয়ারলেসের মাধ্যমে করা প্রাথমিক আহ্বানকে অবজ্ঞা করা হয়। আসামিরা মাত্র ছয় ঘণ্টার তাণ্ডবে তাদের দুষ্কর্ম সারে। আসামের কেন্দ্রে অবস্থিত নওগাঁর জেলাগুলোতে এসব ঘটে। ধর্মীয় বর্ণবাদের এক অবর্ণনীয় নির্মমতার ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছে আসামের নেলী। আজ অবধি বিচারহীন। প্রাসাদ তোয়ারীর রিপোর্টে দেখা যায়, তিন দিন আগে আসামিরা যুদ্ধসাজে এলে স্থানীয়রা পুলিশের সাহায্য চায়। রিপোর্টে দেখা যায় যে, জহিরুদ্দিন আহমেদ সেখানের ইনচার্জ ছিলেন, এ অবস্থায় তিনি সাহায্য চান আসাম বেটেলিয়নের স্টেশনে মারিগাওয়ে, যা ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঘটনার সত্যতাতে জানা যায়, নওগাঁর এসপিকে পাওয়া যায়নি। তাই মারিগাওয়ের এসপির খোঁজ করতে হয়। এভাবে পরবর্তীদের জবাব খুবই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার মতোই। কেউ বলেন, ঘটনার আগে ম্যাসেজ পাননি। কেউ বলেন, সেটি তার ঝুড়িতেই পড়ে ছিল। কেউ বলেন, সেটি টেবিলেই পড়ে ছিল। এমনও বলা হয়, আমি (কর্তৃপক্ষ) ওইসব গ্রামের রাস্তাই চিনি না। এমনও দেখা যায়, কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে অবহেলা করে অন্যদিকে দৃষ্টি দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। রাজ্য সরকার তেওয়ারী কমিশনের রিপোর্ট মেনে নেয়নি। একইভাবে ২০০৪-এ রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানি স্কলার মাকিকো কিমুরায়য়ের গবেষণার কাজটি, যা এ ঘটনার ওপর করা হয়, তা বন্ধ করে দেয়। গৌহাটিতে একটি সেমিনারে তার এটি উপস্থাপন করার কথা ছিল, কিন্তু কোনো অদৃশ্য হাতে সেটি আলোর মুখ দেখেনি। উপরন্তু পুলিশের রিপোর্টে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারির ১৫-তে স্থানীয় হিন্দুরা জানায়, তাদের মুসলমানরা আক্রমণ করতে পারে। বরবরি গ্রামেও মুসলমানরা মারা যায়। তারা ঘটনার এক দিন আগেও পুলিশের সাহায্য চেয়ে পায়নি। পুলিশ অপারগতা জানায়। ওপরের এ ঘটনার সঙ্গে আমার কিছু জানা অভিজ্ঞতাও আমি সংযোজন করছি। আমি নিজেও জানতাম ওই সময় ওই ঘটনার পরপরই আমার জানা এক বাংলাদেশী প্রত্যক্ষদর্শী কাকতালীয়ভাবে ওখানে স্বজনদের কাছে বেড়াতে গেলে দেখা করেন ওখানকার কোনো থানার ইনচার্জের সঙ্গে। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী উৎসাহী হয়ে জানতে চেয়েছিলেন গভীর ক্ষতের বিষয়ে। তখন একজন কর্মকর্তা চোখের জলে জবাব দিয়েছিলেন, সে খবর আমার সুপ্ত মনে কষ্ট হয়ে আজও সংগোপন আছে।

ওই সময় ভারতের সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার একটি কলাম লেখেন যার শিরোনাম ছিল, ‘হোয়াই দ্য ইন্ডিয়ান্স আর সো মাচ বারবারিক’ভারতীয়রা এত বর্বর কেন? তিনি তার লেখায় দেখিয়েছিলেন, ইন্ডিয়ান্স আর নট এ সিভিলাইজড পিপল। ইন্ডিয়ানরা কোনো সভ্য জাতি নয়। যাক ফিরে যাই আবার সেই শিখ দাঙ্গাতে। আজ ২০১৪ সালে দিল্লির ক্ষমতাসীন পার্টি (আপ) আম আদমি পার্টি দাবি তুলেছে, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী কয়েক হাজার দাঙ্গায় মৃতের তদন্ত করতে হবে। সরকার যে অদৃশ্য থেকে এসব দাঙ্গার সহযোগিতায় ছিল, এসব দুটি ক্ষেত্রেই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। রাহুল দাবি করেন, গুজরাট দাঙ্গাতে নরেন্দ্র মোদীর উসকানি ছিল। জবাবে রবিশঙ্কর বলেন, গুজরাট দাঙ্গায় নয় বার সিট গ্রহণ করেও কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই ভারত আর এই তার বিচার! যে দেশে হাজার হাজার মানুষ নিধনের পরও কোনো সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যায় না, তারা আবার হয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশের পা-চাটা সরকারের মাতবর। একই ভারতীয় খেলা চলছে বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর। স্বার্থ আদায়ের এ খেলা চলছে ভিন্ন ভিন্ন মোড়কে। এমন দুর্যোগে-দুর্ভোগে বাস্তবিকই পরম করুণাময়ের সার্বিক দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ লেখাটি আমার দেশ ছাপে ২০১৪ তারিখে মার্চের ০৫ তারিখে।

Advertisements

Tag Cloud