Articles published in this site are copyright protected.

না জ মা মো স্ত ফা

আজ ১লা মার্চ ২০১৭ পুরোনো লেখাটি আপলোড করেছি মাত্র। ঠিক তখনই স্বাধীনতা সংগ্রামী এক ভাইএর একটি কলামে থমকে গেলাম, মনে হলো সেখান থেকে কিছু না নিলে বিবেকের কাছে জবাবদিহি হতে হবে। (তাই প্লাস দিলাম)। ভারত তার আগ্রাসী ভূমিকাতে কোন রাখঢাক রাখছে না, সম্প্রতি যেন হামলে পড়ছে সম্মুখ সমরে। জগলুল হোসেন নামের মুক্তিযোদ্ধা ঐ ভাইএর লেখাটি মাত্র আজকে ২০১৭ সালের ১লা মার্চ তারিখে অনলাইন দেশ ভাবনাতে এসেছে। সিকিমীয় আদলে, ভুটানীয় কসরতে, কাশ্মীরী কায়দায়, বাংলাদেশকে উদরে ঢোকানোর সব কায়দা করে যাচ্ছে ভারত। বিডিআর ধ্বংসে ভারত কি করেছে, দেশ বিধ্বংসী লেন্দুপীয় কর্মকান্ড অস্বীকার করার কোন পথ ভারতের সামনে নেই। হাসিনার করতলে করা অতীতের আড়াই ডজন চুক্তি বাদে সম্প্রতি ৪১ চুক্তির মাঝে ভয়ঙ্কর দুটি নিয়ে আগাচ্ছে ভারত। বিশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তি ও যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি করার যে দুটি ভয়ঙ্কর চুক্তির স্বপ্নে ভারত মত্ত হয়ে আছে তাতে গোটা জাতি শংকিত না হয়ে পারে না। বিডিআর হত্যায় বহু দাগে ভারত যে জড়িত তা গোটা জাতি তাদের প্রচারে, লেখনিতে স্পষ্ট তুলে ধরেছেন বারে বারে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনসহ জঙ্গি, জামায়াত, ইসলাম ধ্বংসের কৌশলে ভারত আগুয়ান। ইসলামী সন্ত্রাস প্রচার করে মুখে খই ফুটছে। মাত্র কিছু দিন আগে শোনা গেছে তারা ভারতীয়রা বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পেয়েছে দলে দলে, যারা ভালো করে বাংলাও বলতে পারছে না। সারা দেশে হিন্দুদেরে এমন ভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে যা ভয়ঙ্কর সতর্ক সংকেত ছাড়া আর কিছু নয়। প্রায় প্রতিটি পদে দেখবেন ৫%-১০% হিন্দুর যেনো ১০০ ভাগ দখলে, এ কেমন খেলারামের খেল! ভারতে সেনাবাহিনীর চাকরীর বিজ্ঞপ্তি ছড়ানো হয়েছে যাতে তারা সেখান থেকে রুপিতে ফর্ম পূরণ করতে পারে, প্রমানসহ খবর সহ ছবিসহ দেখেছি। । এসবই এদেশ বাসী প্রতিনিয়ত জানছে। যে বাকশালের দাস শুলভ যাতাকলে পড়ে অতীতে এই আওয়ামী লীগের জনতারাই অস্ত্র তুলে ধরে শেখ মুজিবকে হত্যা করেছিল, আজ ফের তার চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইন্দিরা গান্ধী পাকিস্তান ভেঙ্গে হয়তো দুই পাকিস্তান সৃষ্টি করে দিলেন সেটি শংকা করেছিলেন, মনে হয় সেটিই হবে, ভবিষ্যত যেন তাই জানান দিচ্ছে। ৭১এ একটি জাতির দুর্যোগ মুহূর্তে ইন্দিরা গান্ধী তাজউদ্দিনের উপর চাপিয়েছিলেন ৭ দফা চুক্তি, কপট স্বার্থে গড়েন রক্ষী বাহিনী যা দ্বারা ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা দেশপ্রেমিককে হত্যা করা হয়েছে।

চরম ধৈর্য্যশীল এ জাতি এসব ভুলে যায় নি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে ভারত আমাদের চোখের সামনে সব লুন্ঠন করে নিয়ে গেছে। চৌর্য্যবৃত্তির এমন উদাহরণ কোন সৎ বন্ধুত্বের লক্ষণ নয়! ২০০৮ সালে বাংলাদেশের কারচুপির ভোটেও ভারত তালিতে, মজা লুটে। যুদ্ধ ছাড়াই দেশের ৫৭ মেধাবীসহ আরো ডজন ডজন সৈনিক হত্যা করে আবার জামায়াত বিধ্বংসী নাটক , জঙ্গি নাটক, কোন নাটকে ভারত নেই! ভারতের ভগবানের কি কোন বাছবিচার নেই? সব অপরাধই কি সেখানে ক্ষমার যোগ্য? ইসলামের আল্লাহ কিন্তু অনাচারির জন্য কোন ছাড় জমা করে না, তা বাংলাদেশী হোক আর ভারতীয় হোক! ভারত নিশ্চয় এটি জানে আজ বাংলাদেশের ৯০% মানুষ ভারতবিরোধী, এর প্রধান কারণ তাদের সংকীর্ণ কপট আচরণ।  অপকর্ম এরা বোঝে, এরা কোন সময়ই প্রতিবন্দী নয়, দৃষ্টিহীনও নয়। সেনাবাহিনীতে বাগে নিতে সাম্প্রতিক রদবদল সব সচেতনই পরখ করছেন! দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। আশা করি সেখানের ৯০%-৯৫% মুসলিম এক আল্লায় বিশ^াস রেখে নিজ মাতৃভূমি রক্ষায় কোন কার্পণ্য করবে না। এটি বাঁচা মরার প্রশ্ন, ঈমানের প্রশ্ন। আপনারা জানেন নিশ্চয় যে অন্যায় ভাবে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার লিডিং দায়িত্বে ছিল সে আজ মসজিদ ভাঙ্গে না বরং গড়ে, তার নাম বালবীর সিং। এসব প্রমাণ করে ভারতের ভগবানের চেয়ে আল্লাহ মনে হচ্ছে অনেক অনেক শক্তিধর। জাতির জেগে উঠার বিকল্প নেই। অবশ্যই জাতির জেগে উঠার বিকল্প নেই। 

আওয়ামী লীগ এখন জোরগলায় প্রচার করছে, মুজিব ঠিকই গোপনে আগরতলাতে গিয়েছিলেন পাকিস্তান ভাঙার জন্য। পাকিস্তান সরকার তখন দেখাতে চাইত যে, শেখ মুজিবুর রহমান দেশদ্রোহী ছিলেন। স্বনামধন্য সাংবাদিক সিরাজুর রহমান সারা জীবনই এই ভুলের পেছনে অনেক কসরত ও সময় ব্যয় করেছেন। এ সত্য উদ্ঘাটনে তার অনেক প্রচেষ্টার কথা আমরা জানতে পারি। বরং দেখা গেছে, তখন সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের জবাবে তিনি তার বিশ্বাস ও আন্তরিকতা দিয়ে পাকিস্তান সরকারের মিথ্যা প্রচারণাকে খণ্ডাতেই ব্যস্ত থেকেছেন। এর কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। তবে মনে হচ্ছে, আজ ঘোলের জল খেতে খেতে চোখে সর্ষেফুল দেখে দেখে তিনি এবার এর প্রকৃত সত্যটি পরখ করছেন। তার লেখাতে পাই, ‘১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে এক সাক্ষাত্কারে আমি মুজিব ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি কি সত্যি সত্যি আগরতলায় গিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিলেন? তিনি আমার প্রশ্ন হেসে উড়িয়ে দেন।’ দেখা যায়, হাসিটাই ছিল তার কৌশলী জবাব। সত্যকে চাপা দেয়ার কি অপরূপ কৌশলমাত্র।

অতীতকে কখনোই সাদা চোখে দেখা যায় না। সেটি জানতে হলে আগ্রহ নিয়ে তাকে খুঁজতে হয়। কখনো অতীতের মনের পাতা, বইয়ের পাতা, ছবি-প্রমাণ— এসব উল্টেপাল্টে দেখতে হয়, নাড়তে হয়, তাহলে অতীত নতুনভাবে ধরা দেয়। অতীতকে জানার এটিই মোক্ষম ব্যবস্থা। সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের লেখা থেকে সচেতন মনকে বিচলিত করার মতো পাওয়া কিছু তথ্য। পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে শেখ মুজিব দিল্লি হয়ে রাজকীয় বিমানবাহিনীর কমেট বিমানে ঢাকা পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে। তার পরই খবর বেরুতে থাকে যে, বিভিন্ন ভারতীয় সাংবাদিককে তিনি বলেছেন, পাকিস্তান ভাঙতেই তিনি আগরতলা গিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, গোড়া থেকেই তিনি পাকিস্তান ভাঙার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু অতীতে বলা হতো এটি পাকিস্তানিদের একটি অপপ্রচার, একটি সাজানো মামলা তাকে ফাঁসানোর জন্য করা হয়। তার পরের কষ্টের কথাটি ছিল মুজিবের মেয়ে শেখ হাসিনা ২০১০ সালের জানুয়ারিতে সরকারিভাবে ভারতে গিয়ে যেসব ষড়যন্ত্র করে এসেছেন, তার বিবরণ দেশবাসী কবে জানতে পারবে? এটিও অবশ্যই ষড়যন্ত্র ছিল, কারণ ব্যাপক গণদাবি সত্ত্বেও দিল্লিতে তার স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর বিবরণ আজ অবধি প্রকাশ করা হয়নি। তার লেখাটির শিরোনাম হচ্ছে, ‘ভারতের দাসত্বের জন্য কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি।সবচেয়ে বড় কথাটি ছিল, সে ষড়যন্ত্রের কথা জানলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে প্রাণ দিতে রাজি হতো কি? সে সংখ্যা তিন লাখই হোক আর তিরিশ লাখই হোক। এ রকম একটি কথার ফয়সালা জানার দাবি এ দেশের সবকটি মানুষের, এমনকি যারা দেশের বাইরে আছে, তাদেরও জানার দরকার আছে। যুদ্ধকালে এ দেশের শত পার্সেন্ট মানুষ যারাই এদেশে অবস্থান করেছে তারাই ছিল সেদিন যুদ্ধের শরিক যোদ্ধা। তারা যুদ্ধে শরিক ছিল, তাই বলা চলে আজ এটি জানার অধিকার প্রতিটি জনতার, এটি স্বাধীন জাতির চল্লিশের দাবি।

সে বছরেই নভেম্বরে তিনি লন্ডন এসেছিলেন। বিবিসির জন্য বাংলায় আমাকে এবং ইংরেজিতে এভান চার্লটনকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারেও আমরা তাকে সে প্রশ্ন করেছিলাম। মুজিব ভাই বলেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল সাজানো, সে ষড়যন্ত্রের কথা পাকিস্তানিদের অপপ্রচার। তিনি আরও বলেন, আমরা দেশপ্রেমিক পাকিস্তানি হতে চাই, কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিদের বঞ্চনা আর বৈষম্যের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সে সফরে বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ ও অন্যান্য দেশীয় সাংবাদিকের সঙ্গে আমি মুজিব ভাইয়ের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম, তারা তার সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলেন। তাদের কারো কারো প্রশ্নের উত্তরেও তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্রের কথা অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু সিরাজ সাহেবের মনের খটকা এখনো দূর হয়নি। তার জানতে ইচ্ছা করছে, সে ষড়যন্ত্রের বিষয়বস্তু কী ছিল এবং কী প্রাপ্তির আশায় তিনি পাকিস্তান ভাঙতে চেয়েছিলেন। তার বিনিময়ে ভারতকেই বা তিনি কী মূল্য দিতে রাজি হয়েছিল? আরও বহু প্রশ্নের উদয় হয় এর জের ধরে। ভারত অবশ্যই পাকিস্তান ভাঙতে চেয়েছে। বস্তুত পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে তারা অন্তত এক কোটি মুসলমানের প্রাণনাশ করেছে। তাদের পশ্চিম ও পূর্ব, উভয় সীমান্তে বৈরী পাকিস্তান অবস্থিত ছিল বলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল আকাশচুম্বী। পাকিস্তান ভাঙলে সে ব্যয় রাতারাতি অন্তত অর্ধেক হয়ে যাবে। সেটাই ভারতের জন্য বিরাট লাভ। আর বাকি অফুরান লাভের সীমা-পরিসীমা যে কেউই মাপতে পারবেন।

সব সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশেই নিয়ম আছে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো সংসদের অধিবেশনে অথবা সংসদের লাইব্রেরিতে পেশ করতে হবে। বাংলাদেশে উল্টো সংবিধান সংশোধন করে বিধান করা হয়েছে, যাতে ২০১০ সালে দিল্লিতে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর বিবরণ ভবিষ্যতেও সংসদ সদস্যদের জানতে দেয়া না হয়, যা গোপনীয়তার অন্ধকারে ঘটে এবং যা প্রকাশ রোধে একদলীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন করা হয়, সেটা যে ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু হতে পারে না, বাংলাদেশের মানুষ ঠিকই বোঝে। ওই লেখাতে তার সরাসরি কিছু কথার টাচ ছিল— ট্রানজিটের জন্য ভারত অধীর কেন? নেয়ার আগে কিছু দিতেও শিখুন। এ যাবৎ সম্পর্ক হচ্ছে শোষক আর শোষিতের মতো। এ অবস্থা দূর মেয়াদে ভারতের জন্য মোটেই ভালো হবে না।

পলাশীর আম্রকাননে যখন দেশ বিক্রি হয়ে হাতবদল হয়েও যায়, তখনও সাধারণের অনেকে ছিলেন ঘুমিয়ে। বলতেও পারেননি গোটা দেশের এ কঠিন বিপর্যয়ের কথা। কারণ তারা শুধু সাদা চোখে মানচিত্রের ভূগোল হিসাবে সামনের মাত্র কয় গজই দেখে, দেশের বাকি ইতিহাসের বিপর্যয় তারা ধরতে পারে না। তবে আজ দুনিয়া অনেক দ্রুত লয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে। আজ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও একটি খবর পৌঁছতে বেশি সময় লাগে না, তারপরও বাংলাদেশের মতো একটি দেশে সবার সচেতনতার দরকার অনেক বেশি। মিরজাফর যখন বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার ওই অপকর্মের কারণে জাতি তার সর্বস্ব হারায় এবং অতি অল্প যুদ্ধেই এরা পঙ্গু হয়ে পড়ে কারণ কৌশলে ডানে-বাঁয়ে, ওপরে-নিচে সব দিক দিয়ে এর মাঝেই এদের কাবু করে ফেলা হয়। মিরজাফর ছিল সেদিনের কাক তাড়–য়া, মূল অপকর্মে ছিল জগৎ সিং, উঁমি চাঁদ, রায়বল্লভরা; এরা ছিল ভয়ঙ্কর দেশ বিধ্বংসী মাতাল। উদার মুসলিমরা সব সময় মিরজাফরকে দায়ী করে বাকীদেরে এড়িয়ে গেছে। সেদিনের সে এড়িয়ে যাওয়ার অপরাধও মুসলিমদের কম নয়! তাই ইতিহাস কোনো অবহেলার জিনিস নয়। আর মিথ্যা ইতিহাস, বিকৃত ইতিহাস কোনোদিন সঠিক দিক বাতলে দিতে পারে না। তাই সচেতনকে জানতে হবে প্রকৃত ইতিহাস। এই ছেলেভোলানো মিথ্যা ইতিহাসকথার গুনগুনানি সাজানো হয় শুধু সত্যকে চাপা দেয়ার জন্য। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে জানতে তার বাস্তব প্রামাণ্য কিছু কর্মকাণ্ডই যথেষ্ট।

বিডিআর বিদ্রোহের জন্য আসামি ধরতে কেন হাজার হাজার প্রমাণের দরকার? কেউ যদি বলে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে কোনো যুদ্ধ হয়নি, এটি এমনি এমনি স্বাধীন হয়ে গেছে। ১৬ ডিসেম্বর আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। একে অবশ্যই ইতিহাস দিয়ে, ভূগোল দিয়ে প্রমাণ করা খুবই সহজ। বরং অসম্ভব কাজটি হচ্ছে, একে প্রমাণ করা যে যুদ্ধ ছাড়াই এটি স্বাধীন হয়ে গেছে স্বপ্নের মাঝে। তাই বিডিআর বিদ্রোহীদের ধরতে না পারা এ রকম একটি জটিল স্বপ্ন রচনা ছাড়া আর কিছু নয়। আর এ রকম জটিল একটি কাজ মনে হচ্ছে এখন করা হচ্ছে। বর্তমান দেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন একপর্যায় পার হচ্ছে, দেখা যায় এখানে কোথাও দেশের স্বার্থকে কখনোই বড় করে দেখা হচ্ছে না, বরং দেশের বিরোধিতাই করা হচ্ছে। দুঃখের বিষয় এ সরকারের সময়ে বিগত তিন বছরে যেসব চুক্তি হয়েছে, তার বিবরণ মানুষ জানতে পারেনি। ওই সিরাজুর রহমানের লেখা থেকেই এই ডানে-বাঁ ওপরে-নিচে বেঁধে ফেলার কিছু যুক্তি দিচ্ছি। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে যেসব চুক্তি করে এসেছেন, তা দেশবাসী আজও জানে না।

ভবিষ্যতেও যাতে দেশবাসী জানতে না পারে, তাই খানাখন্দ বন্ধ করতে সংবিধানেও পরিবর্তন করা হয়েছে। এদিকে ভারত বার্ষিক ১.৭৫ শতাংশ হার সুদে বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এবং সেটি ব্যয়িত হবে শুধু চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর এবং পূর্বভারতে সাত রাজ্যের সঙ্গে ট্রানজিট উপযোগী করে বাংলাদেশের অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ বাবদ। তার ওপর আরও জানা যাচ্ছে, এখানে কাজ করবে ভারতীয় শ্রমিকরা ভারত থেকে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ব্যবহার করে। তারা একদম ব্রিটিশের নীতিরই অনুকরণ করছে। একসময় ব্রিটিশরাজ যেভাবে কৌশল অবলম্বন করে গোটা বাংলাদেশ-ভারতকে কবজা করেছিল, তারা ওই কৌশলই অনুসরণ করছে। পরনির্ভরশীলতা কতটুকু গভীর হলে একটি জাতির ওপর এমন ধারার ঋণের শিকড় প্রোথিত হতে পারে, সেটি একজন সচেতনকে অবশ্যই মাপতে হবে। মনে হচ্ছে, বিশাল ভারতকে বাঁচার জন্য আজকে যেন ক্ষুদ্র এ দেশটিকেই এই চতুর্মুখী বিপর্যয়ে ফেলাটাই বাংলাদেশের গোলাম সরকার ও ভারতের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। তাই যে কোনো ছলেবলেই হোক তাদের পদানত করে রাখতে হবে। তাই ভারতের ১০০ কোটি ঋণের কী বাহাদুরি আর অপরিসীম উদারতা! এমন ঋণভারে দেশটিকে কি না জড়ালেই নয়? কোনো আত্মমর্যাদাশীল দেশ বা নিদেনপক্ষে কোনো ব্যক্তিও কি এরকম কাজে সই করতে পারে? এরা কি এমনই চেতনহারা একটি জাতিতে পর্যবসিত হয়েছে এই মাত্র চল্লিশ বছরে? চেতনধারী জনতার বুদ্ধি স্বপুষ্ট হওয়ার এটি সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

বাংলাদেশের জনগন শেখ হাসিনার চুক্তি লাথি মেরে ফেলে দিবেঃ ড. আসিফ নজরুল

 

ঋণের এ বহর দেখে শিশুকালে পড়া সেই গল্পটি মনে পড়ছে। যখন বোকা ভাইটিকে বুদ্ধিমান ভাই সমবণ্টনের নামে একটি গাছ, একটি গরু ও একটি কম্বলের শেয়ার বণ্টন এভাবে করে যে গরুর মুখ-অংশ তোমার, পেছন আমার; আর গাছের গোড়া তোমার, আর উপর আমার; আর কম্বল দিনের বেলা তোমার, আর রাতের বেলা আমার। বোকা ভাই তো খুশিতে ডগমগ। কী সুবিচার বুদ্ধিদীপ্ত বড় ভাইয়ার। সারা দিন ছোট ভাই গরুকে খাওয়ায় আর বড়ভাই দুধ দোহন করে নেয়; ছোট ভাই সারা বছর গাছের যত্ন করে আর সে ফসল পেড়ে খায়; আর দিনের বেলা ছোটভাই কম্বল রোদে শুকিয়ে ঝরঝরে করে রাখে আর বড় ভাই রাতের বেলা আরাম করে ঘুমায়। বোকার এসব কর্মকাণ্ড দেখে পড়শিরা শেষে বুদ্ধি দিলে বোকা ভাইটি বদলায়। তখন গাছের ফলন কাটতে গেল সে তখন গাছ কাটতে শুরু করে, গরুর দুধ দোহনের সময় সে গরুকে মারতে থাকে এবং দিনের বেলাতে যখন কম্বল ভিজিয়ে রাখতে শুরু করে তখনই ধুরন্ধর ভাইয়ের চেতন আসে যে, একে আর ঠকানো সম্ভব নয়। সে সময়টি কি বাংলাদেশের আজও আসেনি? ভারত বাংলাদেশের কোনো ভাই নয়, প্রতিবেশী। তাই সে সম্পর্ক মনে রেখেই প্রতিটি ক্ষেত্রে এগুতে হবে।

কাঁটাতারের বেড়া তাও একটি নয়, দুটি। ঢাকঢোলের বাহারে বোঝা যাচ্ছে, এটি শুধু বাংলাদেশীদের জন্য, আর ভারতে কি শুধু সাধুরা বাস করেন? জনাব বানশাল এরকম শঙ্কার জবাবে বলেন, যতক্ষণ ভারতে বাংলাদেশের সীমান্তে অপরাধমূলক কাজ হতে থাকবে, ততক্ষণ সেই অপরাধ আটকাতেই হবে বিএসএফকে, সেটি বাহিনীর দায়িত্ব। একজন প্রধান কর্তা ব্যক্তি নিজেদের অপরাধ ঢাকতে যদি এভাবে কথা বলেন তবে কি মনে হয় কেয়ামতের আগে এটি কোনোভাবে বন্ধ হবে? তাদের কথামতো ভারতের পুণ্যভূমিতে কোনো চোরাচালানি বাস করে না। কী বিরাট শাস্ত্রবাণী! তাহলে ফেনসিডিল, সীমান্তে চাঁদাবাজি, মাদক কি উড়ে উড়ে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আসে, যদি তারা সেখানে জড়িতই না থাকে? সারা দেশ আজ মাদকের অভয়ারণ্য আর এসব আসে ভারত থেকে। কীভাবে কৌশলে যে তারা এ অপকর্ম করছে, তাদের কর্তার কথাতে এটি আরও সুস্পষ্ট হয়েছে। সাম্প্রতিক এ সপ্তাহেরই সংবাদ যা সচরাচরই সব সপ্তাহেই হচ্ছে। ‘মঙ্গলবার দুপুরে গরুর খাবারের জন্য ঘাস কাটতে সীমান্তের কাছে গেলে ৮-১০ ভারতীয় যুবক রবিউল ইসলাম নামে এক যুবককে ধরে নিয়ে যায়। ওপারে তাকে বেদম মারপিট করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিএসএফের হাতে সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে (যশোর ও চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২)।

সিলেট সীমান্তে বিডিআর কয়েক দফা রেড অ্যালার্ট জারি করেছে, সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগসহ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, নিরীহ গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে যাওয়া, গবাদিপশু আটক, আজকাল নির্যাতনের নামে মানুষকে উলঙ্গ করেও হামলা করা হচ্ছে, বাড়িতে হামলাসহ নানা ধরনের উসকানিমূলক কাজের ভয়ে আতঙ্কিত সীমান্তবর্তী হাজার হাজার মানুষ। জকিগঞ্জ সীমান্তে কুশিয়ারা নদীতে ভারত জলসীমা লঙ্ঘন করে জেটিঘাট নির্মাণ করে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে। এভাবে প্রায় ৩২ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশে পরিণত হয়েছে। বড়লেখার বোবারতল সীমান্তের ফুরকান ও নান্নু তিন মাস থেকে তাদের হাতে বন্দি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২)। সাতক্ষীরায় ৫ জনকে অপহরণ দিনাজপুরে হত্যার পর লাশ ফেরত : আখাউড়ায় বিজিবির বাধায় কালভার্ট নির্মাণ বন্ধ করেছে বিএসএফ (৫ ফেব্রুয়ারি)। এটি সারা বছরের খবর নয়, মাত্র কয়দিন আগের ’১২ সালের ফেব্রুয়ারির খবর। এ রকম সময়ে ভারতের বিএসএফের প্রধান বানশাল জানান, বাংলাদেশ সীমান্তে তার বাহিনী গুলি চালানো বন্ধ করবে না। যেখানে হিউম্যান রাইটস ওয়াচও মন্তব্য করছে, ওরা ট্রিগার-হ্যাপি ফোর্স অর্থাৎ বন্দুকবাজ বাহিনী নামে বিজয়তিলক পাচ্ছে।

সচেতনরা দেখছেন, এটি বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রক্তাক্ত সীমান্ত। ছোট শিশু বালিকা, যুবক, বৃদ্ধ কারও সেখানে নিস্তার নেই। প্রধানদের আচার-আচরণ, বাস্তবতা, প্রকৃত প্রতিবেশীর আচরণগত গভীর সত্য প্রকাশ করছে সূক্ষ্মভাবে। এত বেদনা চেপে রেখে কিছু ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরে ইতিহাসের কটি পাতা উল্টাতে চাচ্ছি। একজন সাধু ওলি নিয়ামত উল্লাহ সম্বন্ধে সেই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। আজ তার কিছু কথা এখানে আলোচনা করব। ইনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। উইলিয়াম হান্টার তার রচিত ‘দ্য ইন্ডিয়ান মুসলমানস’ নামের বইতে এই দরবেশের বহুল প্রচারিত ভবিষ্যৎ বাণীগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় মুসলমানদের মাঝে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে রাখার মানসেই এটি করা হয়। অনেকে এটিকে ভারতীয় মুসলমানদের ব্যর্থ রাজনৈতিক জীবনে আশার আলো জ্বালিয়ে রাখার মতো একটি ছলনাময়ী কৌশল বলেও অভিহিত করেছেন। তার রচনাবলি প্রায় আটশ’ বছর আগে থেকেই প্রচারিত ও জ্ঞাত। ব্রিটিশবিরোধী মুসলিম মুজাহিদ ও বিপ্লবীরা মাঝেমধ্যে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করেছে তারও প্রমাণ পাওয়া যায়। তারপরও আজও কিছু সত্য এমনভাবে লুকিয়ে আছে যাকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দেয়া যায় না বলে একটি বইয়ে কিছু সূত্র প্রাপ্ত হয়েছি। বইটির নাম সেতু বন্ধন, ডা. এম এ শুকুর, প্রথম প্রকাশ ১৯৯২ সাল।

ওই গবেষক লেখকের কথাতে জানা যায়, ওলির এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মাঝে এমন কিছু কথা ছিল, যা আমাদের জীবদ্দশায় আমাদের চোখের সামনেই বাস্তবতা পেয়েছে। তার বক্তব্যে ব্রিটিশদের ভারতবর্ষ ত্যাগকালে তাদের কৃত চক্র চক্রান্তের কথা উল্লেখিত হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, ভারতবর্ষ ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে স্বাধীন হবে বটে, কিন্তু তাতে জনগণের প্রকৃত মুক্তি আসবে না। আটশ’ বছর আগে ওলি নিয়ামতউল্লাহর ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে শেষ যুদ্ধে (সম্ভবত তৃতীয় বিশ্ব সমরের ধাক্কায়) আমেরিকা ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এটা বোধহয় এ কারণেই হবে যে, আজকের পৃথিবীতে সবকটি অমানবিক ও গণস্বার্থবিরোধী বিশ্ব সমস্যার জন্মদাতা তো এরাই। কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, ইন্দোচীনসহ যেখানে যত দাবাগ্নি জ্বলছে এগুলোর সবকটিতেই ব্রিটিশদের হাত ছিল এবং আছে। এদের দ্বারা কৃত অন্যায়ের সবচেয়ে বড় অন্যায় হলো ফিলিস্তিন। হয়তো বা এখানেই মানব ইতিহাসের চরমতম বিয়োগান্ত নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটবে নবজাত ইসরাইল রাষ্ট্রের অবলুপ্তির মাধ্যমে। 

বাংলাদেশ মানচিত্র সম্পর্কে ওলি বলেছেন, এ সময়ে এখানে এই ভারতবর্ষে বেনিয়া গোত্র থেকে একজন নেতার আবির্ভাব হবে, যার নামের প্রথম অক্ষর হবে ‘গাফ’। সাধারণের দৃষ্টিতে তিনি একজন অমুসলমান বলে মনে হলেও তিনি হবেন কার্যত একজন ছদ্মবেশী মুসলমান। গবেষক লেখক ডাঃ শুকুর বলেন, ওলির এই ভবিষ্যদ্বাণীটি মহাত্মা গান্ধীর জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলির সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। দরবেশ তার লেখা ওসিয়তনামাতে আরও যা বলেছেন, তা হলো এই যে, ‘অতঃপর একজন মুসলমান (নামধারী) নেতার উদ্ভব হবে (এ ঘটনাটিতে বোঝা যায় এটি শেখ মুজিবের মাধ্যমে একটি দেশ বিভাগের ষড়যন্ত্রকে স্পষ্ট করেছে), যিনি বিজাতীয় চক্রান্তে প্রভাবিত হয়ে তার স্বদেশ ও স্বজাতির সর্বনাশ ডেকে আনবেন (তিনি নামধারী মুসলিম হলেও হিন্দুর স্বার্থে অপকর্মটি করবেন) এবং এই ঘটনাটি ঘটবে দুই ঈদের মধ্যবর্তী সময়ে।’ কার্যত এরূপ ঘটনার অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে এই ঢাকায়, যেদিন লে. জেনারেল নিয়াজি তার ৯৩ হাজার সিপাহিসহ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এই ঘটনা (দরবেশের কথামতই) দুই ঈদের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটেছিল। এ ছাড়াও দরবেশ আরও কিছু ব্যাপারে আলোকপাত করেছিলেন। আগামীর ভবিষ্যদ্বাণী হিসাবে তিনি আরও প্রকাশ করেছেন, যা ভারতের জন্য মোটেও সুখের নয়। তার ভাষায় ‘অচিরে এখানে অর্থাৎ এই উপমহাদেশে এমন এক বিপর্যয় নেমে আসবে যেখানে ইরানিজ, আফগানিজ এবং ডেকানিজরা ভারতের বিরুদ্ধে পঙ্গপালের মতো ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই সময়ে প্রতিশ্রুত হাবিবুল্লাহ তার সাথী নসরতউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে আবিভূত হবেন। পরিণামে, ভারতবর্ষে কোনো হিন্দু রাজত্ব থাকবে না এবং শিরক ও বিদআতসহ পৌত্তলিকতার কোনো নাম-গন্ধও অবশিষ্ট থাকবে না।’ (সেতু বন্ধন, ডা. এম এ শুকুর, ১৪৮, ১৪৯ পৃষ্ঠা)।

মনে হচ্ছে এটি ‘পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে’ নাটকের সূচনা। এখানে ‘হিন্দু রাজত্ব’ বলতে তিনি খুব সম্ভবত উত্তর ভারতীয় মাড়োয়া শোষণ ও ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রভাবিত বর্ণবাদী শাসনকেই বুঝাতে চাইছিলেন। দরবেশের উল্লেখিত বর্ণনামতে, ইরান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ এই উপমহাদেশের যেখানে যত যুদ্ধ, যুদ্ধাবস্থা, যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং অন্যান্য যত রকম অশান্তি চলছে তার সবকটিতেই দিল্লীশ্বরদের লোমশ হাত যে জড়িত আছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এর শেষ পরিণাম যে কী এবং কোথায়, তা একমাত্র ভবিতব্যই জানে। ওপরের এই কথাগুলো আজকের গবেষণার অর্জন নয়, এটি বিগত আটশ’ বছর আগের বর্ণিত একজন ওলির ভবিষ্যদ্বাণী। আজ বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের চল্লিশ বছর পার করেও তার সদস্যরা অন্ধকারে পথ হাতড়ে মরছেন। আর সুদীর্ঘ আটশ’ বছরেরও বেশি সময়েরও আগে একজন সাধক কীভাবে এমন সব সত্যের দরজাতে টোকা দিতে পেরেছেন, সেটিও চিন্তাশীলদের জন্য বাড়তি চিন্তা জমা করবে বলেই মনে করি। বাস্তবে যেখানে দেখা যাচ্ছে, গোটা হিন্দু ভারতে মুসলমান নিধনে ও এদের সমুচিত শাস্তি দিতে বাড়তি তৎপরতা দেখাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশের প্রতি সামান্যতম সহমর্মিতা দেখানোর কোনো প্রয়োজন তারা বোধ করছে না, উপরন্তু এখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতি আজ এমনই একপর্যায়ে নেমে এসেছে যে ওই ওলির কথা যেন অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবতার সপক্ষে প্রমাণ-প্রতিবেদন হয়ে দেখা দিচ্ছে।

ওলির সে কথাগুলো চল্লিশের আগেই ফলেছে, আজ যেন চলছে তার সুবর্ণ জয়ন্তী। তাই সঙ্গত কারণেই এ পাটটি নতুন করে উন্মোচন করে দেয়ার দরকার পড়েছে। বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মে. জে. (অব.) ফজলুর রহমান সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশে বসে ভারতীয় গোয়েন্দারা কাজ করছে। ধরে নেয়া যায়, তারা এ দেশকে ধ্বংস করে দেয়ার কাজই ত্বরান্বিত করছে। কোথাও ইতিবাচক সহযোগিতার কোনো ছোঁয়া আজ অবধি চোখে পড়ছে না। তাদের অতি তৎপরতার কারণেই ডানে-বাঁয়ে, ওপরে-নিচে সব দিক থেকে দেশটিকে আহত করার সবকটি প্রক্রিয়া সচল আছে। অতি কৌশলী চক্রান্তের কারণে সবার চোখে সেটি ধরা পড়তে একটু সময় লেগেছে। তবে যারা চলতে পথে গভীর খাদ আগাম দেখতে পারেন, তারাই শুধু এটি অনুভব করতে পেরেছেন আজ নতুন নয়, বহু দিন থেকে তারা পাগলা ঘণ্টা বাজিয়ে চলেছেন। হয়তো ডাঃ এম এ শুকুরও এ রকম একজন সচেতন, যিনি চারপাশ থেকে আঁচ করতে পেরেছিলেন এ রকম এক মহা দুর্যোগের আগাম সংবাদ। সে হিসেবে তিনি আটশ’ বছরের বর্ণিত বিড়ম্বনার কিছু আভাস-ইঙ্গিত খুঁজে পেয়েছিলেন। তাই জীবনের শত জটিলতা কাটিয়েও বিগত শতকে তিনি তার গ্রন্থে সে কথাটি স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রকাশ করে গেছেন তার লেখনীতে।

এমন দুর্যোগের সময়টিতে আজ আটশ’ বছরের আগের একজন সাধকের বাণী খুবই প্রণিধানযোগ্য। তার কথাগুলো যেন কাটায় কাটায় মিলে যাওয়া সত্য লেখা। একজন গবেষক হিসেবে তার পাওনা তথ্য দিনে দিনে যেন আরও বেশি জীবন্ত ও বাস্তব হয়ে উঠছে। ভারতের অতি দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সাম্প্রতিক সেনাবাহিনীর এক ঘটনার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে, ক্যু হলে হাসিনাকে ভারত হেলিকপ্টারে নিয়ে যেত। এ রকম একটি সংবাদ ইন্ডিয়া টুডে প্রচার করেছে। এখানে যদিও কোনো ক্যু হয়নি, বরং জানা যাচ্ছে ভারতেরই ইন্ধনে কিছু একটি হয়েছে। প্রকৃত সত্যকে চাপা দিয়ে রাখার কোনো উপায়ই নেই। যেভাবেই হোক সত্য প্রকাশ হবেই, আর ভারত জড়িত থাকার এ তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে ভারতের সাংবাদিক কুলদীপ নায়ারের গালফ নিউজের কোনো এক লেখাতে। এসব কর্মকাণ্ড করার দক্ষতা কি ওই দেশটির প্রতিবেশীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছে সেটিও সচেতনের পরখ করার কঠিন সময় বয়ে যাচ্ছে। এ রকম সঙ্কটেও একজন অঙ্ক মেলাতে পারেন সেই আটশ’ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী যেটি এরকম সব বেদনার কথা অনেক আগেই প্রকাশ করে রেখেছে। আমরা যদি ওই আটশ’ বছরের ইতিহাস আরো আগে সচেতনভাবে জানতাম ও মানতাম তবে অনেক আগেই এর সূত্র সন্ধান করতে পারতাম। এমন কঠিন সময়ে জাতির সামনে বিগত চল্লিশ-উত্তর অনেক জানার শিকড়সূত্র সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এবং আজও অনেক আছে, কিন্তু আমরা এ মাঝের সময়টিতে থেকেছি ভুল ইতিহাস রচনা করতে।

ওই ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে জাতির পরবর্তীরা আজ ইতিহাসহারা একদল বিভ্রান্ত প্রজন্মতেই পরিণত হয়েছে। তাই আজও প্রকৃত ইতিহাস জানতে হলে আগের প্রজন্মের কাছে ছুটে যাওয়াই উত্তম, এখনও তাদের কাছে কিছু ছিটেফোঁটা সত্য বর্তমান আছে। দেখা যায়, বর্তমান প্রজন্ম আগাছার মতো রাজনীতিতে জড়িয়ে আছে, মিথ্যে ছল ছাড়া ইতিহাসের তেমন কিছুই জানে না। এর দায়ও পূর্বপ্রজন্মের ঘাড়েও বর্তায়। তাদের এর সঠিকতার ওপর আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। আর শুধু তারাই নয়, যারাও বা এ জাতির কর্ণধার হয়ে কাণ্ডারি পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখেন তাদের অনেকেই এবং সিরাজুর রহমানদের মতো এ রকম ব্যক্তিরাও শত অন্ধকারে হাবুডুবু খেয়েও বাস্তবকে উপলব্ধি করতে পারছেন। যার পরিণতিতে স্বভাবতই বর্তমান জাতি প্রজন্ম যে কতটুকু তিমির অন্ধকার নিশীথ পার করছে, সেটি সেখান থেকেও আঁচ করা যায়। ওলি বুজুর্গের দেশ বাংলাদেশ, এদের পদভারে এ অঞ্চল প্রকম্পিত হয়েছে ও এদের সাহচর্যেই এখানে ইসলাম বিকশিত হয়েছে। আশা করি যুগে যুগে সঠিক আদর্শের কাণ্ডারি এসব অনেক সাধকদের থেকে পাওয়া সহযোগিতা, দোয়া ও দাওয়া আজও জাতিকে সামনে চলতে সাহস জোগাবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য (আজকের মন্তব্য, ২০ ডিসেম্বর ২০১৩) : বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গোটা বিশ্বের আনাচে-কানাচে থেকে প্রতিবাদ হচ্ছে, কিন্তু সরকার ও তার নিকট প্রতিবেশী এসব লজ্জাকর কৃতকর্ম নিয়ে নির্বিকার। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরেও প্রকাশ বাংলাদেশ জ্বলছে এবং জ্বলার দায় ভারতেরও। জয়ন্ত জ্যাকবের শিরোনাম লেখা অন্তত তাই প্রচার করছে।বাংলাদেশ অন বয়েল, ইন্ডিয়া পার্ট অব কোলড্রন এর মধ্যে ভারতের রাজনীতির মঞ্চ অভিনেতারা অনেক উন্মোচন করেছেন। প্রায় দুই বছর আগের লেখাটিতে আটশ’ বছর আগে ভবিষ্যতের অনেক না-বলা কথা ইঙ্গিত হয়ে ফুটে উঠেছে।

এ লেখাটি  আমারদেশ অনলাইনে এসেছিল ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বরে। তারো দুই বছর আগে এটি সোনারবাংলা ডট কমে এসেছিল।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: