Articles published in this site are copyright protected.

34দেশবাসী আপনারা শুনেছেন ২০০৯এর গদিতে বসার সাথে সাথে বিগত আওয়ামী সরকারের ফেব্রুয়ারীর সেই বিকট আওয়াজের সাজানো ঘনঘটা ও পিলখানার বিদ্রোহ। কষ্টের ক্ষনটি শুধু স্মরণ করছি আরো বাড়তি কষ্টের কথা শুনাবো বলে। গদিতে বসার মাত্র দুই মাসের মাথাতে এমন এক ভূমিকম্পের কাঁপন বাংলাদেশের মানচিত্রে বয়ে যায়। এর অল্প মাত্র ক মাস পার হলেই শুরু হয়ে যায় অন্য এক নাটকের মহড়া, যাতে গোটা জাতিকে হাতের মুঠোয় আনার জন্য কসরত চলে আরো বড় হত্যা গুমের ধ্বংস বানিজ্য। ঐ বছরের  ২০০৯এর সেপ্টেম্বরেই এর পায়তারা শুরু হয়। মানচিত্রের অল্প দূর থেকে একটি সাইরেন ধ্বনি বেজেছিল আপনাদেরে সতর্ক করতে আপনারা কি জেনেছেন শুনেছেন সে আওয়াজ? অনেকেই শুনেছেন আর অনেকেই পাত্তা দেননি কারণ এর মাঝে আপনাদের স্বভাব অনেক বদলে গেছে। ২০১২ সালের সেই সাইরেনের সংকেত হয়তো কিছু জনেরা শুনেছেন বা শুনেন নাই; না শুনারই কথা কারণ আপনারা এমন এক অন্ধকার জগতে বসবাস করছেন যেখানে সূর্য্যরে আলো পৌছাতে পারছে কম। কারণ আপনাদের সদ্যগত সরকার সেটি খুব কৌশলে চারপাশের কাঁটাতারীয় কসরতের কাজটি করে রেখেছে যাতে আপনারা এ সূর্য্যময় আলো থেকে ভালো মাপে বঞ্চিত হন। আপনারা যখন অনেকেই বোকার মত বিশ্বাস করেন সূর্য্যের আলো বদলে দেবে আপনাদের সব জটিলতা কিন্তু দুর্ভাগ্য সে আলো যখন চাঁদের ধার করা আলোও ছড়াতে ব্যর্থ হয় তখন আপনাদের মন্দ ভাগ্যলিখনের দোষই দিতে হবে। মনে হচ্ছে দেশটির প্রথম জন্মের চেয়ে বরং শেষ জন্মলগ্ন থেকেই আপনারা গভীর অন্ধকারের তলানীতে আছেন। আর আপনাদের চেতনধারীরা ধর্মের আবু হানিফাদের মত চিৎকার চেচামেচি করে গোটা দেশ নাড়িয়েছেন সময়ে সময়ে কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীর অতিরিক্ত ছলের কারণে আপনারা আজো সন্দেহের দোলায় ঝুলে আছেন। এর প্রধান কারণ আপনাদের চেতন চেতন বললেও বাস্তবে নিজেদের চেতনহীনতা, বিবেকহীনতা, অপরিনামদর্শীতা ও চরম অবহেলা!

আত্মত্যাগীদের  ঐ নাড়া ঐ বিদ্রোহ ছিল আপনাদের জন্য বিপদের সাইরেন ধ্বনি। তরুণেরা মনে করেছে জন্মেছি স্বাধীন দেশে এবার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবো। ফেনসিডিল ইয়াবা আরো সব মরণের বন্ধুবটিকা গিলে একদিকে সন্ত্রাস করবো, ভাইএর বুকে ছুরি বসাবো আর পরক্ষণেই আকন্ঠ মদিরা গিলে সব ভুলে থাকবো। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশের সন্তানের জন্য এটি ছিল ভুল, মহাভুল! বেশ আগে এ বছরের এপ্রিলের ০২ তারিখে “গভীর সংকটে জেগে উঠার সময়” লেখাটির কথা আপনারা সম্ভবত ভুলেই বসে আছেন। এরকম আরো আছে অনেক, সংকট সময়ে উচিত ছিল মেজর জলিলের সেই “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” কে অবহেলে দূরে ঠেলে না দিয়ে মনে প্রাণে প্রতিটি তরুণের সামনে “ইসমে আজম” মনে করে সেটি পাঠ করা, পরখ করে দেখা। তারা সতর্ককারীরা বারে বারে জেগে উঠার ডাক দিয়ে গেছেন। তারপরও আপনারা ঘুমে অচেতন! আপনারা কোন সময়ই অথর্ব পঙ্গু মিডিয়ার উপর ভরসা রাখবেন না, বেশির ভাগ মিডিয়া প্রতারণার খেলা খেলছে আপনাদের সাথে। আপনারা নিজের হিসাব নিজে কষেন। চারপাশ থেকে সত্য সংগ্রহ করুন, চোখ কান খোলা রাখুন। হোক সেটি ছোট্ট, আপনার সেই ছোট্ট সংবাদটি জাতির মৃত্যু সংবাদ হতে পারে! সে বিশ্বাসে হাটুন ভাবুন চলুন আর বাস্তবের একটি ক্ষুদ্র স্বাধীন মানচিত্র নিয়ে বাঁচতে পারবেন কি না সেটি ভাবনাতে রাখুন। নির্ঘাৎ আপনারা পারবেন। আপনাদের ভেতরে অপরিসীম তারুণ্যের চেতনা লুকিয়ে আছে। আপনার সরকারসহ যখন সবকিছুই আপনাকে প্রতারণা করছে তখন আপনারা ন্যায় বিদ্রোহের ঝান্ডাটি তুলে নেন দৃপ্ত তেজে। বিধাতা তার সিংহাসন ফেলে আপনার পাশে এসে নির্ঘাৎ দাঁড়াবে কারণ সে নির্যাতীতের খুব কাছের জন। আপনারা তাকে পাবেনই, জেনে নিয়ে সামনে হাটুন।f

আপনাদের জন্য ২০১২ সালের সাইরেন ধ্বনিটি বাজিয়ে শুনিয়েছিল বিদেশী একটি পত্রিকা। “দি বেঙ্গল টাইগারস ইন দ্যা র কেইজ” বাংলার বাঘেরা রএর খাঁচাতে। এ শিরোনামে ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ানে লেখাটি ছাপে জেসিকা ফক্স। সেখানে বলা হয় সরকারের ছত্রচ্ছায়াতে বাংলাদেশের ১০০ আওয়ামী লীগের ক্যাডারকে ভারতের দেরাদুনে খুব শক্ত একটি ৬ মাসের ট্রেনিং দেয়া হয়। এ ট্রেনিংটি হয় ভারতীয় গেয়েন্দা সংস্থা “র” এর প্রত্যক্ষ হেফাজতে। এরা বহুবিধ কাজ করে এর মধ্যে প্রাধান্য পায় হত্যা গুম। বিগত ২০১০এর জুন মাস থেকে এরা ক্লিনিং মিশনের আওতায় বিরাট সংখ্যক রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সমাজের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের এর আওতায় এনেছে। এর নাম নিয়েছে “ক্রুসেডার ১০০” এরা বিগত ২০০৯এ ভারতে যায় এবং সেখানে ট্রেনিংএর জন্য থাকে ২০১০ এর মধ্য জুন অবদি । সেখানে ভারতের মেধাবী কমান্ডো ট্রেইনাররা “র”এর তত্ত্বাবধানে এদেরে ব্যতিক্রমী  টেনিংএ দক্ষ করে তোলে। এরকম একটি প্রজেক্ট সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিজের ও তার ডিফেন্স উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (রিটায়ার্ড) তারিক আহমদ সিদ্দিকীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। মেজর জেনারেল তারিক সিদ্দিকী “র”এর সাথে সব সময় স্পেশাল যোগাযোগ রাখেন। যখন থেকে তিনি আর্মিতে আছেন তখন থেকেই তার এ যোগাযোগ পাকাপোক্ত। এটিও খবরে এসেছে যে তার হাসিনার পারিবারিক সম্পর্কের কারণেও  এটি আরো বাড়তি দৃঢ়তা পায়।

ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ফাঁস: ‘র’ এর প্রশিক্ষণে রক্ষীবাহিনীর মতো বিশেষ বাহিনী গঠন।

যখন ২০০৯এ হাসিনা সরকার ক্ষমতা দখল করেন, দেখা যায় তখনই মেজর সিদ্দিকী ঐ সরকারের একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। সে হিসাবে তিনি হচ্ছেন শেখ হাসিনার ছোটবোন শেখ রেহানার সম্ভবত ভাসুর বা দেবর (দুটোর একটি) । এখানের গোটা বিষয়টি ট্রেনিংএর সবটুকুন প্রধানত এপারে বাংলাদেশের পক্ষে এদের দুজনার (হাসিনা ও সিদ্দিকীর) সরাসরি হস্তক্ষেপে ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত। সেখানে তার আরো কিছু সহযোগী ও কিছু রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার জড়িত। তারা যখন এ ট্রেনিংটি শেষ করে দেশে ফেরে তখন একটি চুড়ান্ত লিস্ট তৈরী করা হয় রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সমাজের সজ্জনদের। জানা যায় সেখানে ৮৩জনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয় যাদেরে এই “ক্রুসেডার ১০০” দিয়ে নির্মুল করার প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়। এই স্পেশাল ধ্বংসকারী  সদস্যরা ঢাকার গোলশান ও বারিধারার এলাকার বিভিন্ন জায়গাতে নিরাপদে বসবাস করছে। বারিধারার বরকন্দাজ হচ্ছেন এই মেজর জেনারেল তারিক আহমদ সিদ্দিকী এবং এসব জায়গায় তাদেরে খুব সাবধানে সাধারণের ধরাছোয়ার বাইরে কড়া নিরাপত্তার মাঝে সবদিক সামাল দিয়ে রাখা হচ্ছে। জানা যায় এম ইলিয়াস আলীর নামও, সেখানে সে লিস্টে ছিল। তিনি ইলিয়াস আলী হচ্ছেন সদ্য গত সরকারের সৃষ্ট এই ১০০ ক্রুসেডারের কপট শিকার। জেসিকা ফক্স আরো বলেন, তার সাম্প্রতিক দিল্লী সফরে ৮৩ জনের মধ্যের কিছু সজ্জনের নাম  জানতে পেরেছেন তারা হচ্ছেন আমানুল্লা আমান, মীর্জা আব্বাস,  সাদেক হোসেন খোকা, গায়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোহাম্মদ ইলিয়াস আলী, হাবিবুন নবী সোহেল, আব্দুল্লাহ আল নোমান, বারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক, সাইফুল আলম প্রধান, এএসএম আব্দুর রব, মুফতি ফজলুল হক আমিনী, ও মৌলানা ফজলুল করিম।

আওয়ামী লীগ ও “র” স্থির করেছে এদেরে এই লিস্টের সজ্জনদেরে শেষ করে দিবে ডিসেম্বরের ২০১৩এর মাঝে। ষড়যন্ত্রকারীরা মনে করছে তাদের পরবর্তীতে দন্ড হাতে শাসন ক্ষমতাতে ফিরে আসার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা তাদেরে করতেই হবে। তারা এরি মাঝে এসব কাজ সমাধা করতে চায়। ২০২১ পর্যন্ত এই ইন্দোবাংলাদেশ ক্ষমতা ধরে রাখতে  এটি তাদের উভয়ের একটি দাগ দেয়া পরিকল্পনা। খবরে প্রকাশ এরা সর্বদা ছোট ও মাঝারি মাপের স্পর্শকাতর অস্ত্র দ্বারা নিরাপত্তা ঘেরা। এদের জন্য সর্বদা উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জামাদি যোগান দেয়া হচ্ছে। সম্ভবত এজন্য বিগত সময়ে সরকারের মুখে বারে বারে “ডিজিটাল” নামের উদ্ভট কথাটি বলতে শুনেছি। সরকারের কাজে এর বাইরে চুরি চামারি ছাড়া আর কোন ডিজিটালের সন্ধান মেলে নি। উন্নত প্রযুক্তির সায়লেন্সার, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, গ্যাস বোমা ও নিজেদের আলাদা অপারেশনের জন্য স্পেশাল যোগাযোগ বাহনের ব্যবস্থাও তাদের জন্য আছে। এখানের অনেক সদস্যরাই স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে যাতে তারা খুব সহজে বাংলাদেশ গোয়েন্দাদের সব প্রতিবন্ধকা সহজে ডিঙ্গিয়ে যেতে পারে। এখানে প্রতিটি সদস্য খুব উঁচু মাপের টাকার অঙ্কে কেনা ও ঐ সাথে বহুবিধ বাড়তি সুযোগ সুবিধা তাদের দেয়া হয়। এসবের মাঝে ঢাকা শহরে তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ফ্লাটের সুযোগসহ ব্যবসার লগ্নিও ধরিয়ে দেয়ার টোপ দেয়া আছে। দিনের বেলাতে কাউকে মুখ দেখাবার অনুমতি তাদের নেই এবং বেশীর ভাগ সময় ঢাকা শহরে একটু আড়ালে আবডালে তারা থাকে। খুব জরুরী মনে করলে তারা বাইরে রাস্তায় যেতে পারে কিন্তু এমতাবস্থায় তাদেরকে কালো রংএ ঢেকে রাখা স্পেশাল হেমলেট পরতেই হবে, যাতে মানুষ তাদেরে চিহ্নিত করতে না পারে। সদস্যরা সবাই গাণিতিক পদ্ধতিতে একজন একজন করে প্রত্যেকেই ৭ থেকে ১০দিন করে ভারতে ভেকেশনের আদলে ছুটির ও ভ্রমণের সুযোগ পায়। এরকম পর্যায়ে তাদের কোন ব্যক্তিগত আইনগত কাগজপত্রেরও দরকার নেই। তারা মিরজাফরের এজেন্টরা অনায়াসে ওটি ছাড়াই যাওয়া আসা করতে পারে। আইন মাহমুদুর রহমানসহ সব দেশবাসীর জন্য বেশী বেশী করে বরাদ্দ হলেও সরকার ও তাদের এসব চেলাদের জন্য নয়।

খবরের নীচে একজন পাঠক মন্তব্য করেছেন যে, তার হিসাবে ৫০,০০০ মানুষ এ খবরটি পড়েছে কিন্তু তারপরও জনতারা তেমন জানে বলে মনে হয় না। এরপরও এটি পত্রিকার শিরোনামে কেন সংবাদের মোড়কে উঠলো না সেটি তার বোধগম্য নয়। যদি ৫,০০০ মানুষও অবগত হয় তারপরও আমার মনে হচ্ছে এর একমাত্র জবাব হচ্ছে মিডিয়ার দাস মনোবৃত্তি, বিগত শতকে বিদ্রোহী কবি নজরুল জাতির ভেতরের সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলতে বিদ্রোহের যে গান গেয়েছিলেন এত দিনের কসরতে তাদের সে বিদ্রোহী মন মরে গেছে। তার বদলে ঘুম পাড়ানিয়া গানের তালে বেসুরো বীণার তালে তারা নেশাগ্রস্তের আদলে বেতাল চলছে। এর মাঝে জাতির তরুণকে যোগান দেয়া হচ্ছে মাদকের অমিয় ধারা। জাতির তরুণ আজ নেশাগ্রস্ত, মাদকাসক্ত, বেশী দূর দেখতে পায়না। সবকিছু কাঁটাতারে ঘের দেয়া, সামনে পেছনে ডানে বামে উপরে নীচে কৌশলের খাঁচায় গিনিপিগ তারা।  আশ্চর্য্যরে বিষয় বটেই এরকম একটি খবর ছেপেছে শ্রীলংকা গার্ডিয়ান ২০১২ সালের চার এপ্রিলে, দেড় বছরেরও বেশী সময় আগে। সাইরেন ধ্বনিটি শ্রীলংকার সংকেত ছিল না ছিল বাংলাদেশের সতর্ক সংকেত। তারপরও বাংলাদেশের মিডিয়া কি করেছে, এটি বাংলাদেশের জনগণের কাছে পৌছে যে দেয়নি, তাই মনে হচ্ছে। বরং এটি রেখে ঢেকে রাখতেই তৎপর থেকেছে আর যারা এসব নাড়ছেন তাদের বিরুদ্ধে গাড়ী ভাঙ্গার মামলা করছে জঙ্গি এ সরকার। আর সরব ছলবাজ মিরজাফর পত্রিকারা যারা সমানেই সরকারের লেজুড় বৃত্তিতে তৎপর, তারা ঐসব ঢেকে রাখার ধান্ধাতেই সময় পার করছে।

জানা যায় সরকার তার সুবিধামতন ফেসবুক ইউটিউব বন্ধ করে দেয় তার কুবাস যাতে জনতার কাছে না পৌছায়।  তারপরও কত দুৃর্গন্ধময় বাস যে ছড়াচ্ছে, তা বলে শেষ করার মত নয়। ইউটিউবে এটিও দেখা যায় সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ঢাল হিসাবে সরকারকে বাঁচাতে ব্যস্ত, তবে এটিও দেখা যায় ওখানে একজন আওয়ামী কর্মকর্তা খবরটির সত্যতায় বিশ্বাস রেখে সুষ্ঠ অনুসন্ধানের কথাও বলেছেন। এখন শেষ সময়ে প্রশ্ন হচ্ছে অনুসন্ধানের অবকাশ আর নেই বলাই বাহুল্য। এর সত্যতা এতই সুস্পষ্ট যে, ফলাফল বের হতে হতে বিষয়টি এখন শেষ পর্যায়ে অবস্থান করছে। মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ জ্বলজ্বলে প্রমাণসহ এখানে অনেককেই নির্মূল করে দিতে অনেক কসরতে আছে হাসিনার গত সরকার ও তার বর্তমান অনড় অবস্থান। মাহমুদুর রহমানের এতদিন বেঁচে থাকার কথা ছিল না। দৈবাত তিনি বেঁচে গেছেন হয়তো তার মায়ের অফুরান দোয়ায়, বাস্তবে উনি গুম থেকে বাঁচতে পেরেছেন তার নিজ কৌশলে কিন্তু কারাগার থেকে নয়। নীচের খবরে দেখা যায় সাদেক হোসেন খোকাও ধরা খেয়েছেন, তার নামও লিস্টে ছিল। তাই ভয়টা আরো প্রকট হচ্ছে। শেখ হাসিনা যে ঘসেটি বেগম হয়ে মিরজাফর হয়ে মোবারক হয়ে আসাদ হয়ে ফেরাউন হয়ে মানুষ নিধনে নেমেছেন তা এড়িয়ে যাবার কোন উপায় নেই। পঙ্কজ সরণ, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংরা তার রক্ষাতে একদম দম না ফেলেই দৌড়ের উপর আছেন। এরশাদের কাছেও তাকে ছুটে যেতে হয়। বলতে হয়, “আপনি নির্বাচনে না গেলে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসবে”। এতে ভারতের কলিজাও একদম বের হয়ে পড়েছে,  সুজাতার এমন কথার অর্থ কত গভীরে প্রাথিত এটি বাংলাদেশীরা মগজ নিয়ে চিন্তা করুন। জানা যাচ্ছে এতে বাংলাদেশের মানুষের মনে নতুন সৃষ্ট ক্ষত আরো গভীর হচ্ছে। মালিক দেখলে দাসের বাড়তি আহলাদ বাড়ে। তাই বুঝি ফের মাহমুদুর রহমানকে আগ বাড়িয়ে অকস্মাৎ রিমান্ডে নেয়া হলো, মালিকদেরে বাহাদুরী দেখাতে! সরকারের দাস স্বভাব কত নীচে নেমেছে এ তার নমুনা!

ক্ষুদ্র হলেও কয়টি শিরোনাম সংবাদ টুকে নিচ্ছি ডিসেম্বরের ৫এর ২০১৩এর  দেশের পত্রিকা থেকেই। “সশস্ত্রবাহিনী সব সময় জনগণের সঙ্গে থাকবে, বলেন সদ্য গত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা”। “মাহমুদুর রহমানকে রিমান্ডে নেয়াতে উদ্বেগ বিএনপির”। “ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সফরের দিনে যুক্তিহীন হঠাৎ রিমান্ডে মাহমুদুর রহমান” “এর জন্য সাংবাদিক ও আইনজীবি নেতাদের উদ্বেগ” । “সাদেক হোসেন খোকাকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে গোয়েন্দারা”। “খোকার বিরুদ্ধে মামলা আছেই গাড়ী পোড়ানোর মামলা” “লাদেনের মত মানুষ হত্যার নির্দেশ দিচ্ছে বিএনপি” শেখ হাসিনা। “পেশাজীবি সমাবেশে বিশিষ্টজনরা: দেশ জ্বলছে এক জনের ইচ্ছায়, হাসিনার হাতে দেশ এক মুহূর্তও নিরপদ নয়, বি চৌধুরী, দলের নেতারা পদত্যাগ করলেই এরশাদের উদ্যোগ সফল হবে -মেজর হাফিজ, জনগণের গণ বিস্ফোরণ শুরু হয়েছে – খন্দকার মাহবুব, সত্য বলায় মাহমুদুর রহমান কারারুদ্ধ – ডাঃ জাহিদ”। “৮ দিন পার হলেও নিখোঁজ লাকসাম বিএনপির দুই নেতার সন্ধান মেলেনি” “হঠাৎ রিমান্ডে মাহমুদুর রহমান: অভিযোগ আমার দেশ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আগুণ দিয়েছেন টেক্সিক্যাবে”। ৬ ডিসেম্বরের একটি খবর নিউইয়র্ক টাউমসের খবর “সেনাবাহিনী জরুরী অবস্থা ঘোষনা করতে পারে।” বিগত নষ্ট সরকার সেটিও সাগতম জানাবে তারপরও বিএনপিকে মেনে নিতে রাজি নয়, এ খবর আমরা আগেও অবগত হয়েছি। ছলবাজ সরকারের ইচ্ছায় নয়, জনগণের ইচ্ছায় দেশ চলুক ঐ কামনায় আমরা উৎসুক রইলাম।

একজন মানুষকে অপমানের একটি সীমা রাখা উচিত প্রধানমন্ত্রীর। “ক্রুসেডার ১০০” গঠন করাসহ হাজার হাজার অপরাধের শিরোমনি তিনি, তার বিরুদ্ধে সব মামলা উঠিয়ে নিয়ে সজ্জনদেন বিরুদ্ধে মামলা ঠুকছেন। তিনি আগা গোড়া জীবনে অনেক খারাপ অপকর্মে হাত দাগিয়েছেন বলে সবাইকে নিজ দলে টানতে চান। যদিও ইতিহাস বলে তার  অধস্তনেরা তার ফাঁসি চেয়ে বই লিখেছে, বইটি তিনি নিষিদ্ধ করে রেখেছেন, সে বুকের পাটাও তার ফুরিয়ে গেছে এর মাঝে। লেখক প্রথমে নিজের ফাঁসি চেয়েছেন পরে বাকীদের ফাঁসি চেয়েছেন তাই বইটির নাম হয়েছে “আমার ফাঁসি চাই”। যেখানে মাহমুদুর রহমানের অধস্তনেরা তার জন্য কঠোর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন জীবনের তোয়াক্কা না করে। সমস্ত জাতির চোখের সামনে বিগত হাসিনা সরকার সিরিজ সব অপকর্মে হাত দাগিয়েছেন, বাংলাদেশে তিনি এক পিসই। ভারত তার কাছে পরম পূজনীয় মহাগুরু। আর বাকী দেশবাসীর কাছে ভারত একটি প্রতিবেশী দেশ। তবে এটিও স্বীকৃত যে, ঐ মহাগুরু আবার এ ছলের সাগরেদ ছাড়া কিছুই বুঝে না। কারণ অতীতের দুটি বিএনপি সরকারই উল্টে পাল্টে দেখেছে ভারত, দাসের আদলে বা পুজনীয় সাগরেদের আদলে গোলামের মত তাকে নাড়ানো যায়নি। বিএনপি সবদিন মনে করেছে ভারত এক প্রতিবেশীরাষ্ট্র, তার বেশী নয়। ইউকে থেকে প্রকাশিত ইকোনমিস্ট কিছু নির্মম সত্য তুলে ধরেছে সেটি গোটা বিশ্বই জানে। ভারত কত আর চাপা দিবে? মধ্য ২০১১ তে ইকোনমিস্ট, হিলারী ক্লিনটনের কথোপকথন ও আরো অনেক সূত্রই এ সত্য অকপটে প্রকাশ করেছে যে, টাকার বস্তা ও উপদেশ হাসিনা সরকারকে গদিতে বসিয়েছে। কিন্তু এসব কি উভয়ের (ভারত ও হাসিনা) জন্য ভয়ানক লজ্জাজনক, অপরের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের মত অপরাধ নয়? কাশ্মিরকে পদতলে রেখেছে বলে স্বাধীন একটি দেশকেও কি ভারত তাই ভাববে? বাংলাদেশকে তার বিচ্ছেদ্য অঙ্গ মনে না করে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ মনে করার যুক্তিটি কি? হাসিনা গোলাম হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা মানুষকে এত গোলাম মনে করার কোন যুক্তি নেই। এর খেসারত কিন্তু অল্প হবে বলে মনে হয় না। এর গভীর ক্ষত অনেক দূর গড়াবে বলেই মনে হয়! ভারতের মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ কাশ্মীর নয়।

মুজিব যুদ্ধ পরবর্তী অনেক অনাচার করেছেন যেটি বাংলাদেশের থেকে ভারত জানে আরো বেশী। রক্ষী বাহিনী করে ৪০,০০০ মানুষ নিধনের মরণ খেলায় মেতেছিলেন একদিন তিনি ক্ষমতার মোহে। তার হাতে কলঙ্কজনক সিরাজ শিকদার হত্যার পর মিথ্যাচারও করেছেন। বলেছেন পালাতে গেলে পুলিশের গুলিতে সিরাজ শিকদার মারা যান। কিন্তু সত্যি কথাটি হচ্ছে তাকে সামনে থেকে গুলি করা হয়, তিনি পালিয়ে যান নাই। তাকে উদ্দেশ্যমূলক হত্যা করা হয়েছে এবং এরপর দম্ভ প্রকাশ করে সংসদে বলা হয় “কোথায় আজ সিরাজ শিকদার”। এসবের ধারাবাহিকতাতে ৭৫এর  ২৫ জানুয়ারীতে সব বিরোধীকে মাটি চাপা দিয়ে দেশে একটি একদলীয় সরকারের পায়তারা করেন ক্ষমতান্ধ শেখ মুজিব। বন্ধ করে দেয়া হয় স্বাধীন দেশের মানুষের বাকশক্তিও। মিডিয়ার মুখ চাপাও তার কারসাজির একটি শেয়ানা চাল। শেখ মুজিবের এমন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হতে সাধ জাগে ঠিক আইয়ুব ইয়াহইয়ার মত, ক্রমে এক ভয়ানক বাকশালী ভুত তার মাথাতে জেকে বসে। এসব ভাবলে অবাক লাগে কেমন করে একজন রাজনৈতিক মানুষের কথা বলা মানুষ এত অল্পে এত দ্রুত এ বিরাট পরিবর্তনে পাকিস্থানের পুরাতনে ফিরে যেতে  চাইলো? যে স্বৈরাচার ছিল ধিক্কারের সেই স্বৈরাচার সাজার ইচ্ছা বা সখ কেমন করে তার মননে ঠাঁই পেল? তাতে মনে হয় মুজিব হয়তো মূলে থেকেই ছিলেন ক্ষমতার লোভী। তাই এর আগে জনতার সে সুযোগ হয়নি তাকে সঠিকভাবে চিনে নেবার। খুব অল্প সময়ে ঐ চেনার কাজটি ত্বরায় করে দিয়ে ইহকাল সাঙ্গ করেন তিনি খুব দ্রুতলয়ে।

আজ আপনারা এদেশে দুইবারের স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে ধন্য হয়েছেন। আপনারা জানেন এর স্বাদ ও বিস্বাদ দুটোতেই আপনারা অভ্যস্থ। বাংলাদেশের মানুষের সামনে আদর্শহীন নেতৃত্ব বড় আকারে থাকলেও, আদর্শময় নেতৃত্ব একদম অনুপস্থিত ছিল এটি বলার অবকাশ নেই। একজন মাহমুদুর রহমানের শক্তি  কি পরিমান হতে পারে সেটি হিসাব করুণ মনে মনে। সেহিসাবে ১৬ কোটি জনতা থাকতে আপনারা দরিদ্র এটি কে বলে? বদরের যুদ্ধে মাত্র ৩১৩ জন সদস্য নগন্য অস্ত্রসাজে সজ্জিত যোদ্ধারা বিশাল বহরের ১,০০০ যুদ্ধবাজ জাতির যোদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর মোকাবেলা করে বিজয় ছিনিয়ে নেয়। কারণ তাদের সৎ ও সততার শক্তি ছিল বহুগুণিত। ঐ কারণেই তারা ছিল কয়েকগুণ বেশী শক্তিশালী, আত্মশক্তিতে বলিয়ান জাতি। ভারতের চানক্য নীতি অতি অল্পেই মুষঢ়ে পড়তে বাধ্য। আর হাসিনা একজন নীতিহারা মানুষ। অসৎ নেতৃত্ব কোনদিনই আত্মায় অন্তরে শক্তি নিয়ে দাঁড়াতে পারে না। প্রবল প্রতাপী ক্ষমতাধর ফেরাউন নমরুদ আবু লাহাব, আবু জেহেলরা ইতিহাসের নীরব পরাজিত শক্তি। ধর্মের উদাহরণীয় সাক্ষী হয়ে ধর্ম ও ইতিহাসে চিরকাল জ্বলজ্বল করছে। ইনশাআল্লাহ! ১৬ কোটি জনতার অঙ্গুলি হেলনে চক্রান্তকারীদের সকল ষড়যন্ত্র তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়বে অতি অল্পেই। এটি কোন কল্পকথা নয়, এটিই প্রকৃত বাস্তবতা।আমার দেশ পত্রিকাটির ২০১৩ সালের লেখাটির সূত্র বর্তমানে অকার্যকর, শুধু দাগচিহ্ন উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।  আমার দেশ পত্রিকাটির ২০১৩ সালের লেখাটির সূত্র বর্তমানে অকার্যকর, শুধু দাগচিহ্ন উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।  আমার দেশ পত্রিকাটির ২০১৩ সালের লেখাটির সূত্র বর্তমানে অকার্যকর, শুধু দাগচিহ্ন উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।  

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/12/08/227540#.V3V0yer6tfy

‘ক্রুসেডার ১০০’র হত্যা গুম ধ্বংস ও আওয়ামী দাঙ্গা সরকার

নাজমা মোস্তফা,  ৫ই ডিসেম্বর ২০১৩ সাল।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: