Articles published in this site are copyright protected.

Archive for December, 2013

আটশ’ বছরপূর্ব ওলির বাণীতে মানচিত্রের অতীত ও ভবিষ্যত্ +

না জ মা মো স্ত ফা

আজ ১লা মার্চ ২০১৭ পুরোনো লেখাটি আপলোড করেছি মাত্র। ঠিক তখনই স্বাধীনতা সংগ্রামী এক ভাইএর একটি কলামে থমকে গেলাম, মনে হলো সেখান থেকে কিছু না নিলে বিবেকের কাছে জবাবদিহি হতে হবে। (তাই প্লাস দিলাম)। ভারত তার আগ্রাসী ভূমিকাতে কোন রাখঢাক রাখছে না, সম্প্রতি যেন হামলে পড়ছে সম্মুখ সমরে। জগলুল হোসেন নামের মুক্তিযোদ্ধা ঐ ভাইএর লেখাটি মাত্র আজকে ২০১৭ সালের ১লা মার্চ তারিখে অনলাইন দেশ ভাবনাতে এসেছে। সিকিমীয় আদলে, ভুটানীয় কসরতে, কাশ্মীরী কায়দায়, বাংলাদেশকে উদরে ঢোকানোর সব কায়দা করে যাচ্ছে ভারত। বিডিআর ধ্বংসে ভারত কি করেছে, দেশ বিধ্বংসী লেন্দুপীয় কর্মকান্ড অস্বীকার করার কোন পথ ভারতের সামনে নেই। হাসিনার করতলে করা অতীতের আড়াই ডজন চুক্তি বাদে সম্প্রতি ৪১ চুক্তির মাঝে ভয়ঙ্কর দুটি নিয়ে আগাচ্ছে ভারত। বিশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তি ও যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি করার যে দুটি ভয়ঙ্কর চুক্তির স্বপ্নে ভারত মত্ত হয়ে আছে তাতে গোটা জাতি শংকিত না হয়ে পারে না। বিডিআর হত্যায় বহু দাগে ভারত যে জড়িত তা গোটা জাতি তাদের প্রচারে, লেখনিতে স্পষ্ট তুলে ধরেছেন বারে বারে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনসহ জঙ্গি, জামায়াত, ইসলাম ধ্বংসের কৌশলে ভারত আগুয়ান। ইসলামী সন্ত্রাস প্রচার করে মুখে খই ফুটছে। মাত্র কিছু দিন আগে শোনা গেছে তারা ভারতীয়রা বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পেয়েছে দলে দলে, যারা ভালো করে বাংলাও বলতে পারছে না। সারা দেশে হিন্দুদেরে এমন ভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে যা ভয়ঙ্কর সতর্ক সংকেত ছাড়া আর কিছু নয়। প্রায় প্রতিটি পদে দেখবেন ৫%-১০% হিন্দুর যেনো ১০০ ভাগ দখলে, এ কেমন খেলারামের খেল! ভারতে সেনাবাহিনীর চাকরীর বিজ্ঞপ্তি ছড়ানো হয়েছে যাতে তারা সেখান থেকে রুপিতে ফর্ম পূরণ করতে পারে, প্রমানসহ খবর সহ ছবিসহ দেখেছি। । এসবই এদেশ বাসী প্রতিনিয়ত জানছে। যে বাকশালের দাস শুলভ যাতাকলে পড়ে অতীতে এই আওয়ামী লীগের জনতারাই অস্ত্র তুলে ধরে শেখ মুজিবকে হত্যা করেছিল, আজ ফের তার চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইন্দিরা গান্ধী পাকিস্তান ভেঙ্গে হয়তো দুই পাকিস্তান সৃষ্টি করে দিলেন সেটি শংকা করেছিলেন, মনে হয় সেটিই হবে, ভবিষ্যত যেন তাই জানান দিচ্ছে। ৭১এ একটি জাতির দুর্যোগ মুহূর্তে ইন্দিরা গান্ধী তাজউদ্দিনের উপর চাপিয়েছিলেন ৭ দফা চুক্তি, কপট স্বার্থে গড়েন রক্ষী বাহিনী যা দ্বারা ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা দেশপ্রেমিককে হত্যা করা হয়েছে।

চরম ধৈর্য্যশীল এ জাতি এসব ভুলে যায় নি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে ভারত আমাদের চোখের সামনে সব লুন্ঠন করে নিয়ে গেছে। চৌর্য্যবৃত্তির এমন উদাহরণ কোন সৎ বন্ধুত্বের লক্ষণ নয়! ২০০৮ সালে বাংলাদেশের কারচুপির ভোটেও ভারত তালিতে, মজা লুটে। যুদ্ধ ছাড়াই দেশের ৫৭ মেধাবীসহ আরো ডজন ডজন সৈনিক হত্যা করে আবার জামায়াত বিধ্বংসী নাটক , জঙ্গি নাটক, কোন নাটকে ভারত নেই! ভারতের ভগবানের কি কোন বাছবিচার নেই? সব অপরাধই কি সেখানে ক্ষমার যোগ্য? ইসলামের আল্লাহ কিন্তু অনাচারির জন্য কোন ছাড় জমা করে না, তা বাংলাদেশী হোক আর ভারতীয় হোক! ভারত নিশ্চয় এটি জানে আজ বাংলাদেশের ৯০% মানুষ ভারতবিরোধী, এর প্রধান কারণ তাদের সংকীর্ণ কপট আচরণ।  অপকর্ম এরা বোঝে, এরা কোন সময়ই প্রতিবন্দী নয়, দৃষ্টিহীনও নয়। সেনাবাহিনীতে বাগে নিতে সাম্প্রতিক রদবদল সব সচেতনই পরখ করছেন! দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। আশা করি সেখানের ৯০%-৯৫% মুসলিম এক আল্লায় বিশ^াস রেখে নিজ মাতৃভূমি রক্ষায় কোন কার্পণ্য করবে না। এটি বাঁচা মরার প্রশ্ন, ঈমানের প্রশ্ন। আপনারা জানেন নিশ্চয় যে অন্যায় ভাবে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার লিডিং দায়িত্বে ছিল সে আজ মসজিদ ভাঙ্গে না বরং গড়ে, তার নাম বালবীর সিং। এসব প্রমাণ করে ভারতের ভগবানের চেয়ে আল্লাহ মনে হচ্ছে অনেক অনেক শক্তিধর। জাতির জেগে উঠার বিকল্প নেই। অবশ্যই জাতির জেগে উঠার বিকল্প নেই। 

আওয়ামী লীগ এখন জোরগলায় প্রচার করছে, মুজিব ঠিকই গোপনে আগরতলাতে গিয়েছিলেন পাকিস্তান ভাঙার জন্য। পাকিস্তান সরকার তখন দেখাতে চাইত যে, শেখ মুজিবুর রহমান দেশদ্রোহী ছিলেন। স্বনামধন্য সাংবাদিক সিরাজুর রহমান সারা জীবনই এই ভুলের পেছনে অনেক কসরত ও সময় ব্যয় করেছেন। এ সত্য উদ্ঘাটনে তার অনেক প্রচেষ্টার কথা আমরা জানতে পারি। বরং দেখা গেছে, তখন সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের জবাবে তিনি তার বিশ্বাস ও আন্তরিকতা দিয়ে পাকিস্তান সরকারের মিথ্যা প্রচারণাকে খণ্ডাতেই ব্যস্ত থেকেছেন। এর কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। তবে মনে হচ্ছে, আজ ঘোলের জল খেতে খেতে চোখে সর্ষেফুল দেখে দেখে তিনি এবার এর প্রকৃত সত্যটি পরখ করছেন। তার লেখাতে পাই, ‘১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে এক সাক্ষাত্কারে আমি মুজিব ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি কি সত্যি সত্যি আগরতলায় গিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিলেন? তিনি আমার প্রশ্ন হেসে উড়িয়ে দেন।’ দেখা যায়, হাসিটাই ছিল তার কৌশলী জবাব। সত্যকে চাপা দেয়ার কি অপরূপ কৌশলমাত্র।

অতীতকে কখনোই সাদা চোখে দেখা যায় না। সেটি জানতে হলে আগ্রহ নিয়ে তাকে খুঁজতে হয়। কখনো অতীতের মনের পাতা, বইয়ের পাতা, ছবি-প্রমাণ— এসব উল্টেপাল্টে দেখতে হয়, নাড়তে হয়, তাহলে অতীত নতুনভাবে ধরা দেয়। অতীতকে জানার এটিই মোক্ষম ব্যবস্থা। সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের লেখা থেকে সচেতন মনকে বিচলিত করার মতো পাওয়া কিছু তথ্য। পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে শেখ মুজিব দিল্লি হয়ে রাজকীয় বিমানবাহিনীর কমেট বিমানে ঢাকা পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে। তার পরই খবর বেরুতে থাকে যে, বিভিন্ন ভারতীয় সাংবাদিককে তিনি বলেছেন, পাকিস্তান ভাঙতেই তিনি আগরতলা গিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, গোড়া থেকেই তিনি পাকিস্তান ভাঙার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু অতীতে বলা হতো এটি পাকিস্তানিদের একটি অপপ্রচার, একটি সাজানো মামলা তাকে ফাঁসানোর জন্য করা হয়। তার পরের কষ্টের কথাটি ছিল মুজিবের মেয়ে শেখ হাসিনা ২০১০ সালের জানুয়ারিতে সরকারিভাবে ভারতে গিয়ে যেসব ষড়যন্ত্র করে এসেছেন, তার বিবরণ দেশবাসী কবে জানতে পারবে? এটিও অবশ্যই ষড়যন্ত্র ছিল, কারণ ব্যাপক গণদাবি সত্ত্বেও দিল্লিতে তার স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর বিবরণ আজ অবধি প্রকাশ করা হয়নি। তার লেখাটির শিরোনাম হচ্ছে, ‘ভারতের দাসত্বের জন্য কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি।সবচেয়ে বড় কথাটি ছিল, সে ষড়যন্ত্রের কথা জানলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে প্রাণ দিতে রাজি হতো কি? সে সংখ্যা তিন লাখই হোক আর তিরিশ লাখই হোক। এ রকম একটি কথার ফয়সালা জানার দাবি এ দেশের সবকটি মানুষের, এমনকি যারা দেশের বাইরে আছে, তাদেরও জানার দরকার আছে। যুদ্ধকালে এ দেশের শত পার্সেন্ট মানুষ যারাই এদেশে অবস্থান করেছে তারাই ছিল সেদিন যুদ্ধের শরিক যোদ্ধা। তারা যুদ্ধে শরিক ছিল, তাই বলা চলে আজ এটি জানার অধিকার প্রতিটি জনতার, এটি স্বাধীন জাতির চল্লিশের দাবি।

সে বছরেই নভেম্বরে তিনি লন্ডন এসেছিলেন। বিবিসির জন্য বাংলায় আমাকে এবং ইংরেজিতে এভান চার্লটনকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারেও আমরা তাকে সে প্রশ্ন করেছিলাম। মুজিব ভাই বলেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল সাজানো, সে ষড়যন্ত্রের কথা পাকিস্তানিদের অপপ্রচার। তিনি আরও বলেন, আমরা দেশপ্রেমিক পাকিস্তানি হতে চাই, কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিদের বঞ্চনা আর বৈষম্যের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সে সফরে বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ ও অন্যান্য দেশীয় সাংবাদিকের সঙ্গে আমি মুজিব ভাইয়ের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম, তারা তার সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলেন। তাদের কারো কারো প্রশ্নের উত্তরেও তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্রের কথা অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু সিরাজ সাহেবের মনের খটকা এখনো দূর হয়নি। তার জানতে ইচ্ছা করছে, সে ষড়যন্ত্রের বিষয়বস্তু কী ছিল এবং কী প্রাপ্তির আশায় তিনি পাকিস্তান ভাঙতে চেয়েছিলেন। তার বিনিময়ে ভারতকেই বা তিনি কী মূল্য দিতে রাজি হয়েছিল? আরও বহু প্রশ্নের উদয় হয় এর জের ধরে। ভারত অবশ্যই পাকিস্তান ভাঙতে চেয়েছে। বস্তুত পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে তারা অন্তত এক কোটি মুসলমানের প্রাণনাশ করেছে। তাদের পশ্চিম ও পূর্ব, উভয় সীমান্তে বৈরী পাকিস্তান অবস্থিত ছিল বলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল আকাশচুম্বী। পাকিস্তান ভাঙলে সে ব্যয় রাতারাতি অন্তত অর্ধেক হয়ে যাবে। সেটাই ভারতের জন্য বিরাট লাভ। আর বাকি অফুরান লাভের সীমা-পরিসীমা যে কেউই মাপতে পারবেন।

সব সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশেই নিয়ম আছে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো সংসদের অধিবেশনে অথবা সংসদের লাইব্রেরিতে পেশ করতে হবে। বাংলাদেশে উল্টো সংবিধান সংশোধন করে বিধান করা হয়েছে, যাতে ২০১০ সালে দিল্লিতে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর বিবরণ ভবিষ্যতেও সংসদ সদস্যদের জানতে দেয়া না হয়, যা গোপনীয়তার অন্ধকারে ঘটে এবং যা প্রকাশ রোধে একদলীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন করা হয়, সেটা যে ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু হতে পারে না, বাংলাদেশের মানুষ ঠিকই বোঝে। ওই লেখাতে তার সরাসরি কিছু কথার টাচ ছিল— ট্রানজিটের জন্য ভারত অধীর কেন? নেয়ার আগে কিছু দিতেও শিখুন। এ যাবৎ সম্পর্ক হচ্ছে শোষক আর শোষিতের মতো। এ অবস্থা দূর মেয়াদে ভারতের জন্য মোটেই ভালো হবে না।

পলাশীর আম্রকাননে যখন দেশ বিক্রি হয়ে হাতবদল হয়েও যায়, তখনও সাধারণের অনেকে ছিলেন ঘুমিয়ে। বলতেও পারেননি গোটা দেশের এ কঠিন বিপর্যয়ের কথা। কারণ তারা শুধু সাদা চোখে মানচিত্রের ভূগোল হিসাবে সামনের মাত্র কয় গজই দেখে, দেশের বাকি ইতিহাসের বিপর্যয় তারা ধরতে পারে না। তবে আজ দুনিয়া অনেক দ্রুত লয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে। আজ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও একটি খবর পৌঁছতে বেশি সময় লাগে না, তারপরও বাংলাদেশের মতো একটি দেশে সবার সচেতনতার দরকার অনেক বেশি। মিরজাফর যখন বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার ওই অপকর্মের কারণে জাতি তার সর্বস্ব হারায় এবং অতি অল্প যুদ্ধেই এরা পঙ্গু হয়ে পড়ে কারণ কৌশলে ডানে-বাঁয়ে, ওপরে-নিচে সব দিক দিয়ে এর মাঝেই এদের কাবু করে ফেলা হয়। মিরজাফর ছিল সেদিনের কাক তাড়–য়া, মূল অপকর্মে ছিল জগৎ সিং, উঁমি চাঁদ, রায়বল্লভরা; এরা ছিল ভয়ঙ্কর দেশ বিধ্বংসী মাতাল। উদার মুসলিমরা সব সময় মিরজাফরকে দায়ী করে বাকীদেরে এড়িয়ে গেছে। সেদিনের সে এড়িয়ে যাওয়ার অপরাধও মুসলিমদের কম নয়! তাই ইতিহাস কোনো অবহেলার জিনিস নয়। আর মিথ্যা ইতিহাস, বিকৃত ইতিহাস কোনোদিন সঠিক দিক বাতলে দিতে পারে না। তাই সচেতনকে জানতে হবে প্রকৃত ইতিহাস। এই ছেলেভোলানো মিথ্যা ইতিহাসকথার গুনগুনানি সাজানো হয় শুধু সত্যকে চাপা দেয়ার জন্য। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে জানতে তার বাস্তব প্রামাণ্য কিছু কর্মকাণ্ডই যথেষ্ট।

বিডিআর বিদ্রোহের জন্য আসামি ধরতে কেন হাজার হাজার প্রমাণের দরকার? কেউ যদি বলে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে কোনো যুদ্ধ হয়নি, এটি এমনি এমনি স্বাধীন হয়ে গেছে। ১৬ ডিসেম্বর আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। একে অবশ্যই ইতিহাস দিয়ে, ভূগোল দিয়ে প্রমাণ করা খুবই সহজ। বরং অসম্ভব কাজটি হচ্ছে, একে প্রমাণ করা যে যুদ্ধ ছাড়াই এটি স্বাধীন হয়ে গেছে স্বপ্নের মাঝে। তাই বিডিআর বিদ্রোহীদের ধরতে না পারা এ রকম একটি জটিল স্বপ্ন রচনা ছাড়া আর কিছু নয়। আর এ রকম জটিল একটি কাজ মনে হচ্ছে এখন করা হচ্ছে। বর্তমান দেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন একপর্যায় পার হচ্ছে, দেখা যায় এখানে কোথাও দেশের স্বার্থকে কখনোই বড় করে দেখা হচ্ছে না, বরং দেশের বিরোধিতাই করা হচ্ছে। দুঃখের বিষয় এ সরকারের সময়ে বিগত তিন বছরে যেসব চুক্তি হয়েছে, তার বিবরণ মানুষ জানতে পারেনি। ওই সিরাজুর রহমানের লেখা থেকেই এই ডানে-বাঁ ওপরে-নিচে বেঁধে ফেলার কিছু যুক্তি দিচ্ছি। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে যেসব চুক্তি করে এসেছেন, তা দেশবাসী আজও জানে না।

ভবিষ্যতেও যাতে দেশবাসী জানতে না পারে, তাই খানাখন্দ বন্ধ করতে সংবিধানেও পরিবর্তন করা হয়েছে। এদিকে ভারত বার্ষিক ১.৭৫ শতাংশ হার সুদে বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এবং সেটি ব্যয়িত হবে শুধু চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর এবং পূর্বভারতে সাত রাজ্যের সঙ্গে ট্রানজিট উপযোগী করে বাংলাদেশের অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ বাবদ। তার ওপর আরও জানা যাচ্ছে, এখানে কাজ করবে ভারতীয় শ্রমিকরা ভারত থেকে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ব্যবহার করে। তারা একদম ব্রিটিশের নীতিরই অনুকরণ করছে। একসময় ব্রিটিশরাজ যেভাবে কৌশল অবলম্বন করে গোটা বাংলাদেশ-ভারতকে কবজা করেছিল, তারা ওই কৌশলই অনুসরণ করছে। পরনির্ভরশীলতা কতটুকু গভীর হলে একটি জাতির ওপর এমন ধারার ঋণের শিকড় প্রোথিত হতে পারে, সেটি একজন সচেতনকে অবশ্যই মাপতে হবে। মনে হচ্ছে, বিশাল ভারতকে বাঁচার জন্য আজকে যেন ক্ষুদ্র এ দেশটিকেই এই চতুর্মুখী বিপর্যয়ে ফেলাটাই বাংলাদেশের গোলাম সরকার ও ভারতের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। তাই যে কোনো ছলেবলেই হোক তাদের পদানত করে রাখতে হবে। তাই ভারতের ১০০ কোটি ঋণের কী বাহাদুরি আর অপরিসীম উদারতা! এমন ঋণভারে দেশটিকে কি না জড়ালেই নয়? কোনো আত্মমর্যাদাশীল দেশ বা নিদেনপক্ষে কোনো ব্যক্তিও কি এরকম কাজে সই করতে পারে? এরা কি এমনই চেতনহারা একটি জাতিতে পর্যবসিত হয়েছে এই মাত্র চল্লিশ বছরে? চেতনধারী জনতার বুদ্ধি স্বপুষ্ট হওয়ার এটি সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

বাংলাদেশের জনগন শেখ হাসিনার চুক্তি লাথি মেরে ফেলে দিবেঃ ড. আসিফ নজরুল

 

ঋণের এ বহর দেখে শিশুকালে পড়া সেই গল্পটি মনে পড়ছে। যখন বোকা ভাইটিকে বুদ্ধিমান ভাই সমবণ্টনের নামে একটি গাছ, একটি গরু ও একটি কম্বলের শেয়ার বণ্টন এভাবে করে যে গরুর মুখ-অংশ তোমার, পেছন আমার; আর গাছের গোড়া তোমার, আর উপর আমার; আর কম্বল দিনের বেলা তোমার, আর রাতের বেলা আমার। বোকা ভাই তো খুশিতে ডগমগ। কী সুবিচার বুদ্ধিদীপ্ত বড় ভাইয়ার। সারা দিন ছোট ভাই গরুকে খাওয়ায় আর বড়ভাই দুধ দোহন করে নেয়; ছোট ভাই সারা বছর গাছের যত্ন করে আর সে ফসল পেড়ে খায়; আর দিনের বেলা ছোটভাই কম্বল রোদে শুকিয়ে ঝরঝরে করে রাখে আর বড় ভাই রাতের বেলা আরাম করে ঘুমায়। বোকার এসব কর্মকাণ্ড দেখে পড়শিরা শেষে বুদ্ধি দিলে বোকা ভাইটি বদলায়। তখন গাছের ফলন কাটতে গেল সে তখন গাছ কাটতে শুরু করে, গরুর দুধ দোহনের সময় সে গরুকে মারতে থাকে এবং দিনের বেলাতে যখন কম্বল ভিজিয়ে রাখতে শুরু করে তখনই ধুরন্ধর ভাইয়ের চেতন আসে যে, একে আর ঠকানো সম্ভব নয়। সে সময়টি কি বাংলাদেশের আজও আসেনি? ভারত বাংলাদেশের কোনো ভাই নয়, প্রতিবেশী। তাই সে সম্পর্ক মনে রেখেই প্রতিটি ক্ষেত্রে এগুতে হবে।

কাঁটাতারের বেড়া তাও একটি নয়, দুটি। ঢাকঢোলের বাহারে বোঝা যাচ্ছে, এটি শুধু বাংলাদেশীদের জন্য, আর ভারতে কি শুধু সাধুরা বাস করেন? জনাব বানশাল এরকম শঙ্কার জবাবে বলেন, যতক্ষণ ভারতে বাংলাদেশের সীমান্তে অপরাধমূলক কাজ হতে থাকবে, ততক্ষণ সেই অপরাধ আটকাতেই হবে বিএসএফকে, সেটি বাহিনীর দায়িত্ব। একজন প্রধান কর্তা ব্যক্তি নিজেদের অপরাধ ঢাকতে যদি এভাবে কথা বলেন তবে কি মনে হয় কেয়ামতের আগে এটি কোনোভাবে বন্ধ হবে? তাদের কথামতো ভারতের পুণ্যভূমিতে কোনো চোরাচালানি বাস করে না। কী বিরাট শাস্ত্রবাণী! তাহলে ফেনসিডিল, সীমান্তে চাঁদাবাজি, মাদক কি উড়ে উড়ে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আসে, যদি তারা সেখানে জড়িতই না থাকে? সারা দেশ আজ মাদকের অভয়ারণ্য আর এসব আসে ভারত থেকে। কীভাবে কৌশলে যে তারা এ অপকর্ম করছে, তাদের কর্তার কথাতে এটি আরও সুস্পষ্ট হয়েছে। সাম্প্রতিক এ সপ্তাহেরই সংবাদ যা সচরাচরই সব সপ্তাহেই হচ্ছে। ‘মঙ্গলবার দুপুরে গরুর খাবারের জন্য ঘাস কাটতে সীমান্তের কাছে গেলে ৮-১০ ভারতীয় যুবক রবিউল ইসলাম নামে এক যুবককে ধরে নিয়ে যায়। ওপারে তাকে বেদম মারপিট করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিএসএফের হাতে সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে (যশোর ও চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২)।

সিলেট সীমান্তে বিডিআর কয়েক দফা রেড অ্যালার্ট জারি করেছে, সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগসহ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, নিরীহ গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে যাওয়া, গবাদিপশু আটক, আজকাল নির্যাতনের নামে মানুষকে উলঙ্গ করেও হামলা করা হচ্ছে, বাড়িতে হামলাসহ নানা ধরনের উসকানিমূলক কাজের ভয়ে আতঙ্কিত সীমান্তবর্তী হাজার হাজার মানুষ। জকিগঞ্জ সীমান্তে কুশিয়ারা নদীতে ভারত জলসীমা লঙ্ঘন করে জেটিঘাট নির্মাণ করে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে। এভাবে প্রায় ৩২ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশে পরিণত হয়েছে। বড়লেখার বোবারতল সীমান্তের ফুরকান ও নান্নু তিন মাস থেকে তাদের হাতে বন্দি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২)। সাতক্ষীরায় ৫ জনকে অপহরণ দিনাজপুরে হত্যার পর লাশ ফেরত : আখাউড়ায় বিজিবির বাধায় কালভার্ট নির্মাণ বন্ধ করেছে বিএসএফ (৫ ফেব্রুয়ারি)। এটি সারা বছরের খবর নয়, মাত্র কয়দিন আগের ’১২ সালের ফেব্রুয়ারির খবর। এ রকম সময়ে ভারতের বিএসএফের প্রধান বানশাল জানান, বাংলাদেশ সীমান্তে তার বাহিনী গুলি চালানো বন্ধ করবে না। যেখানে হিউম্যান রাইটস ওয়াচও মন্তব্য করছে, ওরা ট্রিগার-হ্যাপি ফোর্স অর্থাৎ বন্দুকবাজ বাহিনী নামে বিজয়তিলক পাচ্ছে।

সচেতনরা দেখছেন, এটি বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রক্তাক্ত সীমান্ত। ছোট শিশু বালিকা, যুবক, বৃদ্ধ কারও সেখানে নিস্তার নেই। প্রধানদের আচার-আচরণ, বাস্তবতা, প্রকৃত প্রতিবেশীর আচরণগত গভীর সত্য প্রকাশ করছে সূক্ষ্মভাবে। এত বেদনা চেপে রেখে কিছু ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরে ইতিহাসের কটি পাতা উল্টাতে চাচ্ছি। একজন সাধু ওলি নিয়ামত উল্লাহ সম্বন্ধে সেই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। আজ তার কিছু কথা এখানে আলোচনা করব। ইনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। উইলিয়াম হান্টার তার রচিত ‘দ্য ইন্ডিয়ান মুসলমানস’ নামের বইতে এই দরবেশের বহুল প্রচারিত ভবিষ্যৎ বাণীগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় মুসলমানদের মাঝে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে রাখার মানসেই এটি করা হয়। অনেকে এটিকে ভারতীয় মুসলমানদের ব্যর্থ রাজনৈতিক জীবনে আশার আলো জ্বালিয়ে রাখার মতো একটি ছলনাময়ী কৌশল বলেও অভিহিত করেছেন। তার রচনাবলি প্রায় আটশ’ বছর আগে থেকেই প্রচারিত ও জ্ঞাত। ব্রিটিশবিরোধী মুসলিম মুজাহিদ ও বিপ্লবীরা মাঝেমধ্যে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করেছে তারও প্রমাণ পাওয়া যায়। তারপরও আজও কিছু সত্য এমনভাবে লুকিয়ে আছে যাকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দেয়া যায় না বলে একটি বইয়ে কিছু সূত্র প্রাপ্ত হয়েছি। বইটির নাম সেতু বন্ধন, ডা. এম এ শুকুর, প্রথম প্রকাশ ১৯৯২ সাল।

ওই গবেষক লেখকের কথাতে জানা যায়, ওলির এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মাঝে এমন কিছু কথা ছিল, যা আমাদের জীবদ্দশায় আমাদের চোখের সামনেই বাস্তবতা পেয়েছে। তার বক্তব্যে ব্রিটিশদের ভারতবর্ষ ত্যাগকালে তাদের কৃত চক্র চক্রান্তের কথা উল্লেখিত হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, ভারতবর্ষ ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে স্বাধীন হবে বটে, কিন্তু তাতে জনগণের প্রকৃত মুক্তি আসবে না। আটশ’ বছর আগে ওলি নিয়ামতউল্লাহর ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে শেষ যুদ্ধে (সম্ভবত তৃতীয় বিশ্ব সমরের ধাক্কায়) আমেরিকা ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এটা বোধহয় এ কারণেই হবে যে, আজকের পৃথিবীতে সবকটি অমানবিক ও গণস্বার্থবিরোধী বিশ্ব সমস্যার জন্মদাতা তো এরাই। কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, ইন্দোচীনসহ যেখানে যত দাবাগ্নি জ্বলছে এগুলোর সবকটিতেই ব্রিটিশদের হাত ছিল এবং আছে। এদের দ্বারা কৃত অন্যায়ের সবচেয়ে বড় অন্যায় হলো ফিলিস্তিন। হয়তো বা এখানেই মানব ইতিহাসের চরমতম বিয়োগান্ত নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটবে নবজাত ইসরাইল রাষ্ট্রের অবলুপ্তির মাধ্যমে। 

বাংলাদেশ মানচিত্র সম্পর্কে ওলি বলেছেন, এ সময়ে এখানে এই ভারতবর্ষে বেনিয়া গোত্র থেকে একজন নেতার আবির্ভাব হবে, যার নামের প্রথম অক্ষর হবে ‘গাফ’। সাধারণের দৃষ্টিতে তিনি একজন অমুসলমান বলে মনে হলেও তিনি হবেন কার্যত একজন ছদ্মবেশী মুসলমান। গবেষক লেখক ডাঃ শুকুর বলেন, ওলির এই ভবিষ্যদ্বাণীটি মহাত্মা গান্ধীর জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলির সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। দরবেশ তার লেখা ওসিয়তনামাতে আরও যা বলেছেন, তা হলো এই যে, ‘অতঃপর একজন মুসলমান (নামধারী) নেতার উদ্ভব হবে (এ ঘটনাটিতে বোঝা যায় এটি শেখ মুজিবের মাধ্যমে একটি দেশ বিভাগের ষড়যন্ত্রকে স্পষ্ট করেছে), যিনি বিজাতীয় চক্রান্তে প্রভাবিত হয়ে তার স্বদেশ ও স্বজাতির সর্বনাশ ডেকে আনবেন (তিনি নামধারী মুসলিম হলেও হিন্দুর স্বার্থে অপকর্মটি করবেন) এবং এই ঘটনাটি ঘটবে দুই ঈদের মধ্যবর্তী সময়ে।’ কার্যত এরূপ ঘটনার অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে এই ঢাকায়, যেদিন লে. জেনারেল নিয়াজি তার ৯৩ হাজার সিপাহিসহ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এই ঘটনা (দরবেশের কথামতই) দুই ঈদের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটেছিল। এ ছাড়াও দরবেশ আরও কিছু ব্যাপারে আলোকপাত করেছিলেন। আগামীর ভবিষ্যদ্বাণী হিসাবে তিনি আরও প্রকাশ করেছেন, যা ভারতের জন্য মোটেও সুখের নয়। তার ভাষায় ‘অচিরে এখানে অর্থাৎ এই উপমহাদেশে এমন এক বিপর্যয় নেমে আসবে যেখানে ইরানিজ, আফগানিজ এবং ডেকানিজরা ভারতের বিরুদ্ধে পঙ্গপালের মতো ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই সময়ে প্রতিশ্রুত হাবিবুল্লাহ তার সাথী নসরতউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে আবিভূত হবেন। পরিণামে, ভারতবর্ষে কোনো হিন্দু রাজত্ব থাকবে না এবং শিরক ও বিদআতসহ পৌত্তলিকতার কোনো নাম-গন্ধও অবশিষ্ট থাকবে না।’ (সেতু বন্ধন, ডা. এম এ শুকুর, ১৪৮, ১৪৯ পৃষ্ঠা)।

মনে হচ্ছে এটি ‘পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে’ নাটকের সূচনা। এখানে ‘হিন্দু রাজত্ব’ বলতে তিনি খুব সম্ভবত উত্তর ভারতীয় মাড়োয়া শোষণ ও ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রভাবিত বর্ণবাদী শাসনকেই বুঝাতে চাইছিলেন। দরবেশের উল্লেখিত বর্ণনামতে, ইরান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ এই উপমহাদেশের যেখানে যত যুদ্ধ, যুদ্ধাবস্থা, যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং অন্যান্য যত রকম অশান্তি চলছে তার সবকটিতেই দিল্লীশ্বরদের লোমশ হাত যে জড়িত আছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এর শেষ পরিণাম যে কী এবং কোথায়, তা একমাত্র ভবিতব্যই জানে। ওপরের এই কথাগুলো আজকের গবেষণার অর্জন নয়, এটি বিগত আটশ’ বছর আগের বর্ণিত একজন ওলির ভবিষ্যদ্বাণী। আজ বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের চল্লিশ বছর পার করেও তার সদস্যরা অন্ধকারে পথ হাতড়ে মরছেন। আর সুদীর্ঘ আটশ’ বছরেরও বেশি সময়েরও আগে একজন সাধক কীভাবে এমন সব সত্যের দরজাতে টোকা দিতে পেরেছেন, সেটিও চিন্তাশীলদের জন্য বাড়তি চিন্তা জমা করবে বলেই মনে করি। বাস্তবে যেখানে দেখা যাচ্ছে, গোটা হিন্দু ভারতে মুসলমান নিধনে ও এদের সমুচিত শাস্তি দিতে বাড়তি তৎপরতা দেখাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশের প্রতি সামান্যতম সহমর্মিতা দেখানোর কোনো প্রয়োজন তারা বোধ করছে না, উপরন্তু এখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতি আজ এমনই একপর্যায়ে নেমে এসেছে যে ওই ওলির কথা যেন অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবতার সপক্ষে প্রমাণ-প্রতিবেদন হয়ে দেখা দিচ্ছে।

ওলির সে কথাগুলো চল্লিশের আগেই ফলেছে, আজ যেন চলছে তার সুবর্ণ জয়ন্তী। তাই সঙ্গত কারণেই এ পাটটি নতুন করে উন্মোচন করে দেয়ার দরকার পড়েছে। বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মে. জে. (অব.) ফজলুর রহমান সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশে বসে ভারতীয় গোয়েন্দারা কাজ করছে। ধরে নেয়া যায়, তারা এ দেশকে ধ্বংস করে দেয়ার কাজই ত্বরান্বিত করছে। কোথাও ইতিবাচক সহযোগিতার কোনো ছোঁয়া আজ অবধি চোখে পড়ছে না। তাদের অতি তৎপরতার কারণেই ডানে-বাঁয়ে, ওপরে-নিচে সব দিক থেকে দেশটিকে আহত করার সবকটি প্রক্রিয়া সচল আছে। অতি কৌশলী চক্রান্তের কারণে সবার চোখে সেটি ধরা পড়তে একটু সময় লেগেছে। তবে যারা চলতে পথে গভীর খাদ আগাম দেখতে পারেন, তারাই শুধু এটি অনুভব করতে পেরেছেন আজ নতুন নয়, বহু দিন থেকে তারা পাগলা ঘণ্টা বাজিয়ে চলেছেন। হয়তো ডাঃ এম এ শুকুরও এ রকম একজন সচেতন, যিনি চারপাশ থেকে আঁচ করতে পেরেছিলেন এ রকম এক মহা দুর্যোগের আগাম সংবাদ। সে হিসেবে তিনি আটশ’ বছরের বর্ণিত বিড়ম্বনার কিছু আভাস-ইঙ্গিত খুঁজে পেয়েছিলেন। তাই জীবনের শত জটিলতা কাটিয়েও বিগত শতকে তিনি তার গ্রন্থে সে কথাটি স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রকাশ করে গেছেন তার লেখনীতে।

এমন দুর্যোগের সময়টিতে আজ আটশ’ বছরের আগের একজন সাধকের বাণী খুবই প্রণিধানযোগ্য। তার কথাগুলো যেন কাটায় কাটায় মিলে যাওয়া সত্য লেখা। একজন গবেষক হিসেবে তার পাওনা তথ্য দিনে দিনে যেন আরও বেশি জীবন্ত ও বাস্তব হয়ে উঠছে। ভারতের অতি দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সাম্প্রতিক সেনাবাহিনীর এক ঘটনার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে, ক্যু হলে হাসিনাকে ভারত হেলিকপ্টারে নিয়ে যেত। এ রকম একটি সংবাদ ইন্ডিয়া টুডে প্রচার করেছে। এখানে যদিও কোনো ক্যু হয়নি, বরং জানা যাচ্ছে ভারতেরই ইন্ধনে কিছু একটি হয়েছে। প্রকৃত সত্যকে চাপা দিয়ে রাখার কোনো উপায়ই নেই। যেভাবেই হোক সত্য প্রকাশ হবেই, আর ভারত জড়িত থাকার এ তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে ভারতের সাংবাদিক কুলদীপ নায়ারের গালফ নিউজের কোনো এক লেখাতে। এসব কর্মকাণ্ড করার দক্ষতা কি ওই দেশটির প্রতিবেশীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছে সেটিও সচেতনের পরখ করার কঠিন সময় বয়ে যাচ্ছে। এ রকম সঙ্কটেও একজন অঙ্ক মেলাতে পারেন সেই আটশ’ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী যেটি এরকম সব বেদনার কথা অনেক আগেই প্রকাশ করে রেখেছে। আমরা যদি ওই আটশ’ বছরের ইতিহাস আরো আগে সচেতনভাবে জানতাম ও মানতাম তবে অনেক আগেই এর সূত্র সন্ধান করতে পারতাম। এমন কঠিন সময়ে জাতির সামনে বিগত চল্লিশ-উত্তর অনেক জানার শিকড়সূত্র সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এবং আজও অনেক আছে, কিন্তু আমরা এ মাঝের সময়টিতে থেকেছি ভুল ইতিহাস রচনা করতে।

ওই ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে জাতির পরবর্তীরা আজ ইতিহাসহারা একদল বিভ্রান্ত প্রজন্মতেই পরিণত হয়েছে। তাই আজও প্রকৃত ইতিহাস জানতে হলে আগের প্রজন্মের কাছে ছুটে যাওয়াই উত্তম, এখনও তাদের কাছে কিছু ছিটেফোঁটা সত্য বর্তমান আছে। দেখা যায়, বর্তমান প্রজন্ম আগাছার মতো রাজনীতিতে জড়িয়ে আছে, মিথ্যে ছল ছাড়া ইতিহাসের তেমন কিছুই জানে না। এর দায়ও পূর্বপ্রজন্মের ঘাড়েও বর্তায়। তাদের এর সঠিকতার ওপর আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। আর শুধু তারাই নয়, যারাও বা এ জাতির কর্ণধার হয়ে কাণ্ডারি পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখেন তাদের অনেকেই এবং সিরাজুর রহমানদের মতো এ রকম ব্যক্তিরাও শত অন্ধকারে হাবুডুবু খেয়েও বাস্তবকে উপলব্ধি করতে পারছেন। যার পরিণতিতে স্বভাবতই বর্তমান জাতি প্রজন্ম যে কতটুকু তিমির অন্ধকার নিশীথ পার করছে, সেটি সেখান থেকেও আঁচ করা যায়। ওলি বুজুর্গের দেশ বাংলাদেশ, এদের পদভারে এ অঞ্চল প্রকম্পিত হয়েছে ও এদের সাহচর্যেই এখানে ইসলাম বিকশিত হয়েছে। আশা করি যুগে যুগে সঠিক আদর্শের কাণ্ডারি এসব অনেক সাধকদের থেকে পাওয়া সহযোগিতা, দোয়া ও দাওয়া আজও জাতিকে সামনে চলতে সাহস জোগাবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য (আজকের মন্তব্য, ২০ ডিসেম্বর ২০১৩) : বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গোটা বিশ্বের আনাচে-কানাচে থেকে প্রতিবাদ হচ্ছে, কিন্তু সরকার ও তার নিকট প্রতিবেশী এসব লজ্জাকর কৃতকর্ম নিয়ে নির্বিকার। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরেও প্রকাশ বাংলাদেশ জ্বলছে এবং জ্বলার দায় ভারতেরও। জয়ন্ত জ্যাকবের শিরোনাম লেখা অন্তত তাই প্রচার করছে।বাংলাদেশ অন বয়েল, ইন্ডিয়া পার্ট অব কোলড্রন এর মধ্যে ভারতের রাজনীতির মঞ্চ অভিনেতারা অনেক উন্মোচন করেছেন। প্রায় দুই বছর আগের লেখাটিতে আটশ’ বছর আগে ভবিষ্যতের অনেক না-বলা কথা ইঙ্গিত হয়ে ফুটে উঠেছে।

এ লেখাটি  আমারদেশ অনলাইনে এসেছিল ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বরে। তারো দুই বছর আগে এটি সোনারবাংলা ডট কমে এসেছিল।

Advertisements

“ক্রুসেডার ১০০” এর হত্যা গুম ধ্বংস ও আওয়ামী দাঙ্গা সরকার

34দেশবাসী আপনারা শুনেছেন ২০০৯এর গদিতে বসার সাথে সাথে বিগত আওয়ামী সরকারের ফেব্রুয়ারীর সেই বিকট আওয়াজের সাজানো ঘনঘটা ও পিলখানার বিদ্রোহ। কষ্টের ক্ষনটি শুধু স্মরণ করছি আরো বাড়তি কষ্টের কথা শুনাবো বলে। গদিতে বসার মাত্র দুই মাসের মাথাতে এমন এক ভূমিকম্পের কাঁপন বাংলাদেশের মানচিত্রে বয়ে যায়। এর অল্প মাত্র ক মাস পার হলেই শুরু হয়ে যায় অন্য এক নাটকের মহড়া, যাতে গোটা জাতিকে হাতের মুঠোয় আনার জন্য কসরত চলে আরো বড় হত্যা গুমের ধ্বংস বানিজ্য। ঐ বছরের  ২০০৯এর সেপ্টেম্বরেই এর পায়তারা শুরু হয়। মানচিত্রের অল্প দূর থেকে একটি সাইরেন ধ্বনি বেজেছিল আপনাদেরে সতর্ক করতে আপনারা কি জেনেছেন শুনেছেন সে আওয়াজ? অনেকেই শুনেছেন আর অনেকেই পাত্তা দেননি কারণ এর মাঝে আপনাদের স্বভাব অনেক বদলে গেছে। ২০১২ সালের সেই সাইরেনের সংকেত হয়তো কিছু জনেরা শুনেছেন বা শুনেন নাই; না শুনারই কথা কারণ আপনারা এমন এক অন্ধকার জগতে বসবাস করছেন যেখানে সূর্য্যরে আলো পৌছাতে পারছে কম। কারণ আপনাদের সদ্যগত সরকার সেটি খুব কৌশলে চারপাশের কাঁটাতারীয় কসরতের কাজটি করে রেখেছে যাতে আপনারা এ সূর্য্যময় আলো থেকে ভালো মাপে বঞ্চিত হন। আপনারা যখন অনেকেই বোকার মত বিশ্বাস করেন সূর্য্যের আলো বদলে দেবে আপনাদের সব জটিলতা কিন্তু দুর্ভাগ্য সে আলো যখন চাঁদের ধার করা আলোও ছড়াতে ব্যর্থ হয় তখন আপনাদের মন্দ ভাগ্যলিখনের দোষই দিতে হবে। মনে হচ্ছে দেশটির প্রথম জন্মের চেয়ে বরং শেষ জন্মলগ্ন থেকেই আপনারা গভীর অন্ধকারের তলানীতে আছেন। আর আপনাদের চেতনধারীরা ধর্মের আবু হানিফাদের মত চিৎকার চেচামেচি করে গোটা দেশ নাড়িয়েছেন সময়ে সময়ে কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীর অতিরিক্ত ছলের কারণে আপনারা আজো সন্দেহের দোলায় ঝুলে আছেন। এর প্রধান কারণ আপনাদের চেতন চেতন বললেও বাস্তবে নিজেদের চেতনহীনতা, বিবেকহীনতা, অপরিনামদর্শীতা ও চরম অবহেলা!

আত্মত্যাগীদের  ঐ নাড়া ঐ বিদ্রোহ ছিল আপনাদের জন্য বিপদের সাইরেন ধ্বনি। তরুণেরা মনে করেছে জন্মেছি স্বাধীন দেশে এবার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবো। ফেনসিডিল ইয়াবা আরো সব মরণের বন্ধুবটিকা গিলে একদিকে সন্ত্রাস করবো, ভাইএর বুকে ছুরি বসাবো আর পরক্ষণেই আকন্ঠ মদিরা গিলে সব ভুলে থাকবো। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশের সন্তানের জন্য এটি ছিল ভুল, মহাভুল! বেশ আগে এ বছরের এপ্রিলের ০২ তারিখে “গভীর সংকটে জেগে উঠার সময়” লেখাটির কথা আপনারা সম্ভবত ভুলেই বসে আছেন। এরকম আরো আছে অনেক, সংকট সময়ে উচিত ছিল মেজর জলিলের সেই “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” কে অবহেলে দূরে ঠেলে না দিয়ে মনে প্রাণে প্রতিটি তরুণের সামনে “ইসমে আজম” মনে করে সেটি পাঠ করা, পরখ করে দেখা। তারা সতর্ককারীরা বারে বারে জেগে উঠার ডাক দিয়ে গেছেন। তারপরও আপনারা ঘুমে অচেতন! আপনারা কোন সময়ই অথর্ব পঙ্গু মিডিয়ার উপর ভরসা রাখবেন না, বেশির ভাগ মিডিয়া প্রতারণার খেলা খেলছে আপনাদের সাথে। আপনারা নিজের হিসাব নিজে কষেন। চারপাশ থেকে সত্য সংগ্রহ করুন, চোখ কান খোলা রাখুন। হোক সেটি ছোট্ট, আপনার সেই ছোট্ট সংবাদটি জাতির মৃত্যু সংবাদ হতে পারে! সে বিশ্বাসে হাটুন ভাবুন চলুন আর বাস্তবের একটি ক্ষুদ্র স্বাধীন মানচিত্র নিয়ে বাঁচতে পারবেন কি না সেটি ভাবনাতে রাখুন। নির্ঘাৎ আপনারা পারবেন। আপনাদের ভেতরে অপরিসীম তারুণ্যের চেতনা লুকিয়ে আছে। আপনার সরকারসহ যখন সবকিছুই আপনাকে প্রতারণা করছে তখন আপনারা ন্যায় বিদ্রোহের ঝান্ডাটি তুলে নেন দৃপ্ত তেজে। বিধাতা তার সিংহাসন ফেলে আপনার পাশে এসে নির্ঘাৎ দাঁড়াবে কারণ সে নির্যাতীতের খুব কাছের জন। আপনারা তাকে পাবেনই, জেনে নিয়ে সামনে হাটুন।f

আপনাদের জন্য ২০১২ সালের সাইরেন ধ্বনিটি বাজিয়ে শুনিয়েছিল বিদেশী একটি পত্রিকা। “দি বেঙ্গল টাইগারস ইন দ্যা র কেইজ” বাংলার বাঘেরা রএর খাঁচাতে। এ শিরোনামে ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ানে লেখাটি ছাপে জেসিকা ফক্স। সেখানে বলা হয় সরকারের ছত্রচ্ছায়াতে বাংলাদেশের ১০০ আওয়ামী লীগের ক্যাডারকে ভারতের দেরাদুনে খুব শক্ত একটি ৬ মাসের ট্রেনিং দেয়া হয়। এ ট্রেনিংটি হয় ভারতীয় গেয়েন্দা সংস্থা “র” এর প্রত্যক্ষ হেফাজতে। এরা বহুবিধ কাজ করে এর মধ্যে প্রাধান্য পায় হত্যা গুম। বিগত ২০১০এর জুন মাস থেকে এরা ক্লিনিং মিশনের আওতায় বিরাট সংখ্যক রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সমাজের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের এর আওতায় এনেছে। এর নাম নিয়েছে “ক্রুসেডার ১০০” এরা বিগত ২০০৯এ ভারতে যায় এবং সেখানে ট্রেনিংএর জন্য থাকে ২০১০ এর মধ্য জুন অবদি । সেখানে ভারতের মেধাবী কমান্ডো ট্রেইনাররা “র”এর তত্ত্বাবধানে এদেরে ব্যতিক্রমী  টেনিংএ দক্ষ করে তোলে। এরকম একটি প্রজেক্ট সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিজের ও তার ডিফেন্স উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (রিটায়ার্ড) তারিক আহমদ সিদ্দিকীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। মেজর জেনারেল তারিক সিদ্দিকী “র”এর সাথে সব সময় স্পেশাল যোগাযোগ রাখেন। যখন থেকে তিনি আর্মিতে আছেন তখন থেকেই তার এ যোগাযোগ পাকাপোক্ত। এটিও খবরে এসেছে যে তার হাসিনার পারিবারিক সম্পর্কের কারণেও  এটি আরো বাড়তি দৃঢ়তা পায়।

ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ফাঁস: ‘র’ এর প্রশিক্ষণে রক্ষীবাহিনীর মতো বিশেষ বাহিনী গঠন।

যখন ২০০৯এ হাসিনা সরকার ক্ষমতা দখল করেন, দেখা যায় তখনই মেজর সিদ্দিকী ঐ সরকারের একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। সে হিসাবে তিনি হচ্ছেন শেখ হাসিনার ছোটবোন শেখ রেহানার সম্ভবত ভাসুর বা দেবর (দুটোর একটি) । এখানের গোটা বিষয়টি ট্রেনিংএর সবটুকুন প্রধানত এপারে বাংলাদেশের পক্ষে এদের দুজনার (হাসিনা ও সিদ্দিকীর) সরাসরি হস্তক্ষেপে ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত। সেখানে তার আরো কিছু সহযোগী ও কিছু রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার জড়িত। তারা যখন এ ট্রেনিংটি শেষ করে দেশে ফেরে তখন একটি চুড়ান্ত লিস্ট তৈরী করা হয় রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সমাজের সজ্জনদের। জানা যায় সেখানে ৮৩জনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয় যাদেরে এই “ক্রুসেডার ১০০” দিয়ে নির্মুল করার প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়। এই স্পেশাল ধ্বংসকারী  সদস্যরা ঢাকার গোলশান ও বারিধারার এলাকার বিভিন্ন জায়গাতে নিরাপদে বসবাস করছে। বারিধারার বরকন্দাজ হচ্ছেন এই মেজর জেনারেল তারিক আহমদ সিদ্দিকী এবং এসব জায়গায় তাদেরে খুব সাবধানে সাধারণের ধরাছোয়ার বাইরে কড়া নিরাপত্তার মাঝে সবদিক সামাল দিয়ে রাখা হচ্ছে। জানা যায় এম ইলিয়াস আলীর নামও, সেখানে সে লিস্টে ছিল। তিনি ইলিয়াস আলী হচ্ছেন সদ্য গত সরকারের সৃষ্ট এই ১০০ ক্রুসেডারের কপট শিকার। জেসিকা ফক্স আরো বলেন, তার সাম্প্রতিক দিল্লী সফরে ৮৩ জনের মধ্যের কিছু সজ্জনের নাম  জানতে পেরেছেন তারা হচ্ছেন আমানুল্লা আমান, মীর্জা আব্বাস,  সাদেক হোসেন খোকা, গায়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোহাম্মদ ইলিয়াস আলী, হাবিবুন নবী সোহেল, আব্দুল্লাহ আল নোমান, বারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক, সাইফুল আলম প্রধান, এএসএম আব্দুর রব, মুফতি ফজলুল হক আমিনী, ও মৌলানা ফজলুল করিম।

আওয়ামী লীগ ও “র” স্থির করেছে এদেরে এই লিস্টের সজ্জনদেরে শেষ করে দিবে ডিসেম্বরের ২০১৩এর মাঝে। ষড়যন্ত্রকারীরা মনে করছে তাদের পরবর্তীতে দন্ড হাতে শাসন ক্ষমতাতে ফিরে আসার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা তাদেরে করতেই হবে। তারা এরি মাঝে এসব কাজ সমাধা করতে চায়। ২০২১ পর্যন্ত এই ইন্দোবাংলাদেশ ক্ষমতা ধরে রাখতে  এটি তাদের উভয়ের একটি দাগ দেয়া পরিকল্পনা। খবরে প্রকাশ এরা সর্বদা ছোট ও মাঝারি মাপের স্পর্শকাতর অস্ত্র দ্বারা নিরাপত্তা ঘেরা। এদের জন্য সর্বদা উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জামাদি যোগান দেয়া হচ্ছে। সম্ভবত এজন্য বিগত সময়ে সরকারের মুখে বারে বারে “ডিজিটাল” নামের উদ্ভট কথাটি বলতে শুনেছি। সরকারের কাজে এর বাইরে চুরি চামারি ছাড়া আর কোন ডিজিটালের সন্ধান মেলে নি। উন্নত প্রযুক্তির সায়লেন্সার, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, গ্যাস বোমা ও নিজেদের আলাদা অপারেশনের জন্য স্পেশাল যোগাযোগ বাহনের ব্যবস্থাও তাদের জন্য আছে। এখানের অনেক সদস্যরাই স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে যাতে তারা খুব সহজে বাংলাদেশ গোয়েন্দাদের সব প্রতিবন্ধকা সহজে ডিঙ্গিয়ে যেতে পারে। এখানে প্রতিটি সদস্য খুব উঁচু মাপের টাকার অঙ্কে কেনা ও ঐ সাথে বহুবিধ বাড়তি সুযোগ সুবিধা তাদের দেয়া হয়। এসবের মাঝে ঢাকা শহরে তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ফ্লাটের সুযোগসহ ব্যবসার লগ্নিও ধরিয়ে দেয়ার টোপ দেয়া আছে। দিনের বেলাতে কাউকে মুখ দেখাবার অনুমতি তাদের নেই এবং বেশীর ভাগ সময় ঢাকা শহরে একটু আড়ালে আবডালে তারা থাকে। খুব জরুরী মনে করলে তারা বাইরে রাস্তায় যেতে পারে কিন্তু এমতাবস্থায় তাদেরকে কালো রংএ ঢেকে রাখা স্পেশাল হেমলেট পরতেই হবে, যাতে মানুষ তাদেরে চিহ্নিত করতে না পারে। সদস্যরা সবাই গাণিতিক পদ্ধতিতে একজন একজন করে প্রত্যেকেই ৭ থেকে ১০দিন করে ভারতে ভেকেশনের আদলে ছুটির ও ভ্রমণের সুযোগ পায়। এরকম পর্যায়ে তাদের কোন ব্যক্তিগত আইনগত কাগজপত্রেরও দরকার নেই। তারা মিরজাফরের এজেন্টরা অনায়াসে ওটি ছাড়াই যাওয়া আসা করতে পারে। আইন মাহমুদুর রহমানসহ সব দেশবাসীর জন্য বেশী বেশী করে বরাদ্দ হলেও সরকার ও তাদের এসব চেলাদের জন্য নয়।

খবরের নীচে একজন পাঠক মন্তব্য করেছেন যে, তার হিসাবে ৫০,০০০ মানুষ এ খবরটি পড়েছে কিন্তু তারপরও জনতারা তেমন জানে বলে মনে হয় না। এরপরও এটি পত্রিকার শিরোনামে কেন সংবাদের মোড়কে উঠলো না সেটি তার বোধগম্য নয়। যদি ৫,০০০ মানুষও অবগত হয় তারপরও আমার মনে হচ্ছে এর একমাত্র জবাব হচ্ছে মিডিয়ার দাস মনোবৃত্তি, বিগত শতকে বিদ্রোহী কবি নজরুল জাতির ভেতরের সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলতে বিদ্রোহের যে গান গেয়েছিলেন এত দিনের কসরতে তাদের সে বিদ্রোহী মন মরে গেছে। তার বদলে ঘুম পাড়ানিয়া গানের তালে বেসুরো বীণার তালে তারা নেশাগ্রস্তের আদলে বেতাল চলছে। এর মাঝে জাতির তরুণকে যোগান দেয়া হচ্ছে মাদকের অমিয় ধারা। জাতির তরুণ আজ নেশাগ্রস্ত, মাদকাসক্ত, বেশী দূর দেখতে পায়না। সবকিছু কাঁটাতারে ঘের দেয়া, সামনে পেছনে ডানে বামে উপরে নীচে কৌশলের খাঁচায় গিনিপিগ তারা।  আশ্চর্য্যরে বিষয় বটেই এরকম একটি খবর ছেপেছে শ্রীলংকা গার্ডিয়ান ২০১২ সালের চার এপ্রিলে, দেড় বছরেরও বেশী সময় আগে। সাইরেন ধ্বনিটি শ্রীলংকার সংকেত ছিল না ছিল বাংলাদেশের সতর্ক সংকেত। তারপরও বাংলাদেশের মিডিয়া কি করেছে, এটি বাংলাদেশের জনগণের কাছে পৌছে যে দেয়নি, তাই মনে হচ্ছে। বরং এটি রেখে ঢেকে রাখতেই তৎপর থেকেছে আর যারা এসব নাড়ছেন তাদের বিরুদ্ধে গাড়ী ভাঙ্গার মামলা করছে জঙ্গি এ সরকার। আর সরব ছলবাজ মিরজাফর পত্রিকারা যারা সমানেই সরকারের লেজুড় বৃত্তিতে তৎপর, তারা ঐসব ঢেকে রাখার ধান্ধাতেই সময় পার করছে।

জানা যায় সরকার তার সুবিধামতন ফেসবুক ইউটিউব বন্ধ করে দেয় তার কুবাস যাতে জনতার কাছে না পৌছায়।  তারপরও কত দুৃর্গন্ধময় বাস যে ছড়াচ্ছে, তা বলে শেষ করার মত নয়। ইউটিউবে এটিও দেখা যায় সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ঢাল হিসাবে সরকারকে বাঁচাতে ব্যস্ত, তবে এটিও দেখা যায় ওখানে একজন আওয়ামী কর্মকর্তা খবরটির সত্যতায় বিশ্বাস রেখে সুষ্ঠ অনুসন্ধানের কথাও বলেছেন। এখন শেষ সময়ে প্রশ্ন হচ্ছে অনুসন্ধানের অবকাশ আর নেই বলাই বাহুল্য। এর সত্যতা এতই সুস্পষ্ট যে, ফলাফল বের হতে হতে বিষয়টি এখন শেষ পর্যায়ে অবস্থান করছে। মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ জ্বলজ্বলে প্রমাণসহ এখানে অনেককেই নির্মূল করে দিতে অনেক কসরতে আছে হাসিনার গত সরকার ও তার বর্তমান অনড় অবস্থান। মাহমুদুর রহমানের এতদিন বেঁচে থাকার কথা ছিল না। দৈবাত তিনি বেঁচে গেছেন হয়তো তার মায়ের অফুরান দোয়ায়, বাস্তবে উনি গুম থেকে বাঁচতে পেরেছেন তার নিজ কৌশলে কিন্তু কারাগার থেকে নয়। নীচের খবরে দেখা যায় সাদেক হোসেন খোকাও ধরা খেয়েছেন, তার নামও লিস্টে ছিল। তাই ভয়টা আরো প্রকট হচ্ছে। শেখ হাসিনা যে ঘসেটি বেগম হয়ে মিরজাফর হয়ে মোবারক হয়ে আসাদ হয়ে ফেরাউন হয়ে মানুষ নিধনে নেমেছেন তা এড়িয়ে যাবার কোন উপায় নেই। পঙ্কজ সরণ, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংরা তার রক্ষাতে একদম দম না ফেলেই দৌড়ের উপর আছেন। এরশাদের কাছেও তাকে ছুটে যেতে হয়। বলতে হয়, “আপনি নির্বাচনে না গেলে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসবে”। এতে ভারতের কলিজাও একদম বের হয়ে পড়েছে,  সুজাতার এমন কথার অর্থ কত গভীরে প্রাথিত এটি বাংলাদেশীরা মগজ নিয়ে চিন্তা করুন। জানা যাচ্ছে এতে বাংলাদেশের মানুষের মনে নতুন সৃষ্ট ক্ষত আরো গভীর হচ্ছে। মালিক দেখলে দাসের বাড়তি আহলাদ বাড়ে। তাই বুঝি ফের মাহমুদুর রহমানকে আগ বাড়িয়ে অকস্মাৎ রিমান্ডে নেয়া হলো, মালিকদেরে বাহাদুরী দেখাতে! সরকারের দাস স্বভাব কত নীচে নেমেছে এ তার নমুনা!

ক্ষুদ্র হলেও কয়টি শিরোনাম সংবাদ টুকে নিচ্ছি ডিসেম্বরের ৫এর ২০১৩এর  দেশের পত্রিকা থেকেই। “সশস্ত্রবাহিনী সব সময় জনগণের সঙ্গে থাকবে, বলেন সদ্য গত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা”। “মাহমুদুর রহমানকে রিমান্ডে নেয়াতে উদ্বেগ বিএনপির”। “ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সফরের দিনে যুক্তিহীন হঠাৎ রিমান্ডে মাহমুদুর রহমান” “এর জন্য সাংবাদিক ও আইনজীবি নেতাদের উদ্বেগ” । “সাদেক হোসেন খোকাকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে গোয়েন্দারা”। “খোকার বিরুদ্ধে মামলা আছেই গাড়ী পোড়ানোর মামলা” “লাদেনের মত মানুষ হত্যার নির্দেশ দিচ্ছে বিএনপি” শেখ হাসিনা। “পেশাজীবি সমাবেশে বিশিষ্টজনরা: দেশ জ্বলছে এক জনের ইচ্ছায়, হাসিনার হাতে দেশ এক মুহূর্তও নিরপদ নয়, বি চৌধুরী, দলের নেতারা পদত্যাগ করলেই এরশাদের উদ্যোগ সফল হবে -মেজর হাফিজ, জনগণের গণ বিস্ফোরণ শুরু হয়েছে – খন্দকার মাহবুব, সত্য বলায় মাহমুদুর রহমান কারারুদ্ধ – ডাঃ জাহিদ”। “৮ দিন পার হলেও নিখোঁজ লাকসাম বিএনপির দুই নেতার সন্ধান মেলেনি” “হঠাৎ রিমান্ডে মাহমুদুর রহমান: অভিযোগ আমার দেশ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আগুণ দিয়েছেন টেক্সিক্যাবে”। ৬ ডিসেম্বরের একটি খবর নিউইয়র্ক টাউমসের খবর “সেনাবাহিনী জরুরী অবস্থা ঘোষনা করতে পারে।” বিগত নষ্ট সরকার সেটিও সাগতম জানাবে তারপরও বিএনপিকে মেনে নিতে রাজি নয়, এ খবর আমরা আগেও অবগত হয়েছি। ছলবাজ সরকারের ইচ্ছায় নয়, জনগণের ইচ্ছায় দেশ চলুক ঐ কামনায় আমরা উৎসুক রইলাম।

একজন মানুষকে অপমানের একটি সীমা রাখা উচিত প্রধানমন্ত্রীর। “ক্রুসেডার ১০০” গঠন করাসহ হাজার হাজার অপরাধের শিরোমনি তিনি, তার বিরুদ্ধে সব মামলা উঠিয়ে নিয়ে সজ্জনদেন বিরুদ্ধে মামলা ঠুকছেন। তিনি আগা গোড়া জীবনে অনেক খারাপ অপকর্মে হাত দাগিয়েছেন বলে সবাইকে নিজ দলে টানতে চান। যদিও ইতিহাস বলে তার  অধস্তনেরা তার ফাঁসি চেয়ে বই লিখেছে, বইটি তিনি নিষিদ্ধ করে রেখেছেন, সে বুকের পাটাও তার ফুরিয়ে গেছে এর মাঝে। লেখক প্রথমে নিজের ফাঁসি চেয়েছেন পরে বাকীদের ফাঁসি চেয়েছেন তাই বইটির নাম হয়েছে “আমার ফাঁসি চাই”। যেখানে মাহমুদুর রহমানের অধস্তনেরা তার জন্য কঠোর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন জীবনের তোয়াক্কা না করে। সমস্ত জাতির চোখের সামনে বিগত হাসিনা সরকার সিরিজ সব অপকর্মে হাত দাগিয়েছেন, বাংলাদেশে তিনি এক পিসই। ভারত তার কাছে পরম পূজনীয় মহাগুরু। আর বাকী দেশবাসীর কাছে ভারত একটি প্রতিবেশী দেশ। তবে এটিও স্বীকৃত যে, ঐ মহাগুরু আবার এ ছলের সাগরেদ ছাড়া কিছুই বুঝে না। কারণ অতীতের দুটি বিএনপি সরকারই উল্টে পাল্টে দেখেছে ভারত, দাসের আদলে বা পুজনীয় সাগরেদের আদলে গোলামের মত তাকে নাড়ানো যায়নি। বিএনপি সবদিন মনে করেছে ভারত এক প্রতিবেশীরাষ্ট্র, তার বেশী নয়। ইউকে থেকে প্রকাশিত ইকোনমিস্ট কিছু নির্মম সত্য তুলে ধরেছে সেটি গোটা বিশ্বই জানে। ভারত কত আর চাপা দিবে? মধ্য ২০১১ তে ইকোনমিস্ট, হিলারী ক্লিনটনের কথোপকথন ও আরো অনেক সূত্রই এ সত্য অকপটে প্রকাশ করেছে যে, টাকার বস্তা ও উপদেশ হাসিনা সরকারকে গদিতে বসিয়েছে। কিন্তু এসব কি উভয়ের (ভারত ও হাসিনা) জন্য ভয়ানক লজ্জাজনক, অপরের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের মত অপরাধ নয়? কাশ্মিরকে পদতলে রেখেছে বলে স্বাধীন একটি দেশকেও কি ভারত তাই ভাববে? বাংলাদেশকে তার বিচ্ছেদ্য অঙ্গ মনে না করে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ মনে করার যুক্তিটি কি? হাসিনা গোলাম হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা মানুষকে এত গোলাম মনে করার কোন যুক্তি নেই। এর খেসারত কিন্তু অল্প হবে বলে মনে হয় না। এর গভীর ক্ষত অনেক দূর গড়াবে বলেই মনে হয়! ভারতের মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ কাশ্মীর নয়।

মুজিব যুদ্ধ পরবর্তী অনেক অনাচার করেছেন যেটি বাংলাদেশের থেকে ভারত জানে আরো বেশী। রক্ষী বাহিনী করে ৪০,০০০ মানুষ নিধনের মরণ খেলায় মেতেছিলেন একদিন তিনি ক্ষমতার মোহে। তার হাতে কলঙ্কজনক সিরাজ শিকদার হত্যার পর মিথ্যাচারও করেছেন। বলেছেন পালাতে গেলে পুলিশের গুলিতে সিরাজ শিকদার মারা যান। কিন্তু সত্যি কথাটি হচ্ছে তাকে সামনে থেকে গুলি করা হয়, তিনি পালিয়ে যান নাই। তাকে উদ্দেশ্যমূলক হত্যা করা হয়েছে এবং এরপর দম্ভ প্রকাশ করে সংসদে বলা হয় “কোথায় আজ সিরাজ শিকদার”। এসবের ধারাবাহিকতাতে ৭৫এর  ২৫ জানুয়ারীতে সব বিরোধীকে মাটি চাপা দিয়ে দেশে একটি একদলীয় সরকারের পায়তারা করেন ক্ষমতান্ধ শেখ মুজিব। বন্ধ করে দেয়া হয় স্বাধীন দেশের মানুষের বাকশক্তিও। মিডিয়ার মুখ চাপাও তার কারসাজির একটি শেয়ানা চাল। শেখ মুজিবের এমন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হতে সাধ জাগে ঠিক আইয়ুব ইয়াহইয়ার মত, ক্রমে এক ভয়ানক বাকশালী ভুত তার মাথাতে জেকে বসে। এসব ভাবলে অবাক লাগে কেমন করে একজন রাজনৈতিক মানুষের কথা বলা মানুষ এত অল্পে এত দ্রুত এ বিরাট পরিবর্তনে পাকিস্থানের পুরাতনে ফিরে যেতে  চাইলো? যে স্বৈরাচার ছিল ধিক্কারের সেই স্বৈরাচার সাজার ইচ্ছা বা সখ কেমন করে তার মননে ঠাঁই পেল? তাতে মনে হয় মুজিব হয়তো মূলে থেকেই ছিলেন ক্ষমতার লোভী। তাই এর আগে জনতার সে সুযোগ হয়নি তাকে সঠিকভাবে চিনে নেবার। খুব অল্প সময়ে ঐ চেনার কাজটি ত্বরায় করে দিয়ে ইহকাল সাঙ্গ করেন তিনি খুব দ্রুতলয়ে।

আজ আপনারা এদেশে দুইবারের স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে ধন্য হয়েছেন। আপনারা জানেন এর স্বাদ ও বিস্বাদ দুটোতেই আপনারা অভ্যস্থ। বাংলাদেশের মানুষের সামনে আদর্শহীন নেতৃত্ব বড় আকারে থাকলেও, আদর্শময় নেতৃত্ব একদম অনুপস্থিত ছিল এটি বলার অবকাশ নেই। একজন মাহমুদুর রহমানের শক্তি  কি পরিমান হতে পারে সেটি হিসাব করুণ মনে মনে। সেহিসাবে ১৬ কোটি জনতা থাকতে আপনারা দরিদ্র এটি কে বলে? বদরের যুদ্ধে মাত্র ৩১৩ জন সদস্য নগন্য অস্ত্রসাজে সজ্জিত যোদ্ধারা বিশাল বহরের ১,০০০ যুদ্ধবাজ জাতির যোদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর মোকাবেলা করে বিজয় ছিনিয়ে নেয়। কারণ তাদের সৎ ও সততার শক্তি ছিল বহুগুণিত। ঐ কারণেই তারা ছিল কয়েকগুণ বেশী শক্তিশালী, আত্মশক্তিতে বলিয়ান জাতি। ভারতের চানক্য নীতি অতি অল্পেই মুষঢ়ে পড়তে বাধ্য। আর হাসিনা একজন নীতিহারা মানুষ। অসৎ নেতৃত্ব কোনদিনই আত্মায় অন্তরে শক্তি নিয়ে দাঁড়াতে পারে না। প্রবল প্রতাপী ক্ষমতাধর ফেরাউন নমরুদ আবু লাহাব, আবু জেহেলরা ইতিহাসের নীরব পরাজিত শক্তি। ধর্মের উদাহরণীয় সাক্ষী হয়ে ধর্ম ও ইতিহাসে চিরকাল জ্বলজ্বল করছে। ইনশাআল্লাহ! ১৬ কোটি জনতার অঙ্গুলি হেলনে চক্রান্তকারীদের সকল ষড়যন্ত্র তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়বে অতি অল্পেই। এটি কোন কল্পকথা নয়, এটিই প্রকৃত বাস্তবতা।আমার দেশ পত্রিকাটির ২০১৩ সালের লেখাটির সূত্র বর্তমানে অকার্যকর, শুধু দাগচিহ্ন উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।  আমার দেশ পত্রিকাটির ২০১৩ সালের লেখাটির সূত্র বর্তমানে অকার্যকর, শুধু দাগচিহ্ন উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।  আমার দেশ পত্রিকাটির ২০১৩ সালের লেখাটির সূত্র বর্তমানে অকার্যকর, শুধু দাগচিহ্ন উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।  

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/12/08/227540#.V3V0yer6tfy

‘ক্রুসেডার ১০০’র হত্যা গুম ধ্বংস ও আওয়ামী দাঙ্গা সরকার

নাজমা মোস্তফা,  ৫ই ডিসেম্বর ২০১৩ সাল।

Tag Cloud