Articles published in this site are copyright protected.

না জ মা মো স্ত ফা

এরশাদ নামটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দৈব-দুর্বিপাকের নাম। এক মুখে দুই কথা বলা, মিথ্যাচার করা এসব স্বভাবে বর্তমান সরকার দারুণভাবে আক্রান্ত। আর এতে শক্তভাবে এর সহযোগী আরেকজনকে পাওয়া যায়, তার নাম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরা হচ্ছে খুবই সুবিধাবাদী স্বৈরশাসক রাজনেতা, অবৈধ পথেই যার আসা এবং যাওয়া। আসার সময়ও তার পথ ঘোরাপথ আবার যাবার সময়ও এরা সোজা পথে হাঁটে না। উদাহরণ ২০১৩, বর্তমান সরকারের শেষ সময়েও জাতিকে কি কষ্টের মাঝে রেখেছে। খালি হালুয়া-রুটির সন্ধানে দেশময় ঘুরে বেড়ানোই এদের নীতির অংশ। সিংহাসনের অতিরিক্ত লোভে এরা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে জড়াতেও রাজি, কিন্তু গদি থেকে নামতে রাজি নয়। কোনোভাবেই মেয়াদ শেষেও এ থেকে দূরে যাবার কথা এরা চিন্তা করতেও পারে না। যাদের মনে আছে তারা স্মরণ করতে পারেন এরশাদের সময়কার স্বৈরশাসনের কুৎসিত রূপ যে কত ভয়ঙ্কর ছিল। তিনি এখনও আছেন ওই তালে কেমন করে মানুষকে প্রতারিত করতে পারেন। কখনও বলেন নারী নেতৃত্ব ঠিক নয়, অসৎ পুরুষ নেতৃত্ব যে দিতেই হবে এমন কথা কি বলা আছে কোথাও? পবিত্র গ্রন্থে ‘ইনসান’ অর্থাৎ নারী-পুরুষ বলেই গোটা মানব জাতিকে বেশিরভাগ সময়ে ডাকা হয়েছে। সময় সুযোগ পেলেই বুবুজান ভাবীজানের কথা বলেন আবার প্রায়ই শত্রুপক্ষকে শক্তিশালী করতে চুপিচুপি বুবুজানের সঙ্গে অপকর্মে যোগ দেন। তখন ভাই হয়ে বোনের কাছে ছুটে যান। কিন্তু ভুলেও জাতির কথা ভাবেন না। মুখে মুসলমানির কথা বললেও এসব প্রকৃত ঈমানদারির লক্ষণ নয়, এসব মোনাফেকির লক্ষণ। অতীতে আটরশির সুতা ধরে দৌড়ঝাপ করেছেন বিস্তর। এসব তার দুর্বল ঈমানদারির লক্ষণ। কুরআনের হিসাবে যে প্রমাণিত মিথ্যাচার করে তার কোনো সাক্ষী কখনোই গ্রহণীয় হতে পারে না। আর এরাই দেশের নেতৃত্বের আসনের দাবিদার হয়ে বসে কোন সাহসে বা কোন ভরসায়? জাতি এদের কাছে কি আশা করতে পারে?

এখনো তার কথা শুনলেই আঁচ করা যায় তার রাজনীতির ভাষাতে জটিলতা কতটুকু। দেশ যে কি পরিমাণ সঙ্কটাপন্ন করে রেখেছে বর্তমান সরকার, আর তার সঙ্গে ইন্ধনে সব সময়ই এরশাদ নেপথ্যে দেশ ডুবাতে তালি দিয়ে গেছেন, আজ নতুন নয়। তার সহযোগিতার ফলেই কপট হাসিনা সরকার এ জাতির সর্বনাশ করতে সাহস পেয়েছে সুদূর অতীতে ও নিকট অতীতে। তার প্রতিটি অপকর্মী পাট আপনারা দেখেন চোখ-কান খোলা রেখে। তার উদ্দেশ্য একটাই, ফের ক্ষমতার লোভে তিনি চরকির মতো ঘুরছেন, কখনো হিল্লি কখনো দিল্লি কখনো সিঙ্গাপুর। এ বয়সে এসে এখনো তিনি সুবিধার অপেক্ষাতে দু’মুখো সাপের পার্ট প্লে করে চলেছেন। নিজের গদির পথকে খোলাসা করতে তিনি তার দৃষ্টিতে কখনো দেখছেন দেশে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দিচ্ছে বিরোধী দল! এরকম কথা বলে তিনি কি অর্জন করতে চাচ্ছেন! তখন আশায় ছিলেন বিড়ালের দখলে থাকা দুধের উপরে ভাসা সরের বড়ভাগ হয়তো পাওয়া যাবে! আসলে এরশাদ আজীবন হাসিনা সরকারের হয়ে কাজ করেছেন। এসব দ্বৈত নীতি মোনাফিকির সাক্ষাৎ চিহ্ন বহন করে। কুরআনে এদের জন্য “মোনাফিকুন” নামে একটি সুরাই নাজিল হয়েছে, মোনাফিকগোষ্ঠী আলবত মিথ্যাবাদী। নিঃসন্দেহে তারা যা করে চলেছে তা কত মন্দ। সেজন্য তাদের হৃদয়ের উপরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। তাদের সম্বন্ধে সাবধান হও। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা নাই কর এ তাদের জন্য একসমান। আল্লাহ কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না। (সুরা মোনাফিকুন থেকে নেয়া ক’টি কথা)। আজও মোনাফিকদের চোখে ভাসছে দুঃস্বপ্ন। বিএনপির খোকার মুখে দা কুড়াল শুনেই এরশাদ পল্টি নিতে শুরু করেন। তিনি সাধু পুরুষ, এসব রাজনীতি দেখতে চান না। বর্তমানে তিনি কীসব রাজনীতি দেখছেন? সারাদেশ জুড়ে এত তাণ্ডব তার কানে পৌঁছায় না, দিশাহারা এরশাদ দরগায় দরগায় দেউলিয়া হয়ে ঘুরছেন, প্রতারণার কৌশল বগলে নিয়ে। ১৯৭১এ বাকী মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের ময়দানে থাকলেও এরশাদ কিন্তু পাকিস্তানে ছিলেন। 

থুথু বাবা এরশাদ এর কাহিণী Nov 23 2013

 

২০০৬-এর বিভৎস লগি-বৈঠার পরও তার হুঁশ ফেরেনি, তখন দেশকে আসন্ন বিপদ থেকে বাঁচাতে দুষ্টের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে দেশ উদ্ধারের কথা তার স্মরণে ছিল না। এরশাদের রাজনীতিকে সুস্থতার নীতি জেনে তাকে মূল্যায়ন করা যায় না। তার কৃত রাজনীতি সমাজনীতি এক বড় দাগের মাইনাস নীতি। কখনো বিদিশা কখনো বেদিশা, এই তার পুরুষতান্ত্রিক হতাশার কলঙ্কজনক রাজনীতি। তিনি জাতিকে প্রতারণার ছকে ঝুলিয়ে রেখেছেন, “২৫ অক্টোবরের আগেই আমি মহাজোট ছাড়ব, ওরা বেঈমানি করেছে”। দুষ্টের সহযোগিতা অতীতেও দিয়ে গেছেন, যাচ্ছেন এবং যাবেন। এমন মানুষকে বিশ্বাস করায় জাতির অনেক ক্ষতির সম্ভাবনা, উনার কথার ওজন বড় কম। বিনা লাভে মশাই ওখানে ভেড়েন নাই! এ বয়সে তার উচিত ছিল নিঃস্বার্থভাবে দেশের মঙ্গলে কাজ করে যাওয়া। জীবনের বাকি ক’টা দিন ভালো কাজে কাটাতেও এ লোভীদের রুচিতে বাঁধে। নাকের আগায় টোপের লোভের মূলা আজীবন তাদের দিশাহারা করে তাড়িত করে রাখে। ওদিকে দাসত্বের শিকল পরা ভাইয়ের বিপদও আছে। প্রধানমন্ত্রী হুমকি দিচ্ছেন উস্কানি দেবেন না, তাহলে শাস্তি অক্ষুন্ন থাকবে। এই হচ্ছে মামলা আর ফরমাইশি শাস্তির নমুনা! যিনি দেশ ডুবার ষড়যন্ত্রে হাত দাগাবেন না, তার বিরুদ্ধে মামলা, এর নাম হাসিনা, এটি সব বিরোধীর জন্যই জমা। আর তারেকের জন্য এটি বহুগুণ বেশি।

এরশাদের মজার মজার কথা: সকালে এক কথা। বিকেল আরেক কথা। আত্মহত্যার হুমকি

 

দেশের মানুষকে শান্তিতে রাখার দায় জনগণের, সদ্য শেষ হওয়া সরকারের নয়। উনি শুধু চেটেপুটে ছেলেপুলে দলবল নিয়ে খাবেন। বাকিরা অভুক্ত থেকে চড়া মূল্য দেবে আর শান্ত থাকবে। মুখরার মুখে সমানেই বকাঝকার তুবড়ির পরও কত ছলাকলা। এমন ভণ্ড সরকারের সহযোগী বন্ধু ছিলেন এরশাদ, এমনই তার ভিন্ন স্বাদ। সম্প্রতি কিছু আগের বরগুনা ২ আসনের উপনির্বাচনে হাতপাখার সঙ্গে জিততেও নৌকার লাচার অবস্থা, অনিয়ম ও কারচুপি ছাড়া ত্বরাবার উপায় নেই। ফাঁড়ি পথে ইসলামী একটি দলের সাথে তাদের পার্টি জিতেছে, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কিন্তু কে শোনে কার কথা? এরাই নাকি করবে নির্বাচন! সংলাপের জন্য নয়, দুর্বৃত্তায়নের জন্য সব দরজা আজ পাঁচ বছর ধরেই অপকর্মের জন্য দুই পাটসহ খুলে রেখেছেন মুজিব কন্যা হাসিনা। সেই হাসিনার সাথী এরশাদ এক বিরাট আদর্শহীন নেতৃত্বের নাম। নয় বছর স্বৈরশাসকের ভূমিকায় অনেক অনাচারের যোগান দিয়ে গেছেন। মনে পড়ে তার শাসনামলে এরকমই খোলামেলা অনাচার হতো। আমরা চোখের সামনে দেখেছি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা চাইলেই প্রকাশ্যে টাকা বানাতে পারত, ছলের পথে যাবার অনেক অপশন ছিল। ওই সময়কার বাংলাদেশের ইসলাম প্রতিষ্ঠাকারী দাবিদার, কবি এরশাদ এসব কত অনাচারের কলাম সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ডানে-বামে সামনে-পেছনে উপরে-নিচে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতিকে মুখ চাপা দেয়ার দায় তার সেদিনও ছিল।

রওশন এরশাদের বাহারি শাড়ির তোড়ে সে সময় দুনিয়া রঙিন ছিল। মেয়েরা দোকানে গিয়ে চাইতো গতকাল উনি যে শাড়ি পরেছেন ওটি চাই। পরে জানা যেত ওটি তো এক পিসই তৈরি হয়েছে মহারানীর জন্য! গরিব দেশের মসনদে বসে এরা এসব করেছে। গদিতে বসলে এদের বিবেক যেন মরে যায়। বহু নারী কেলেঙ্কারীর নায়ক এরশাদের মুখে সৎ আর সততা বড়ই বেমানান। গণ্ডা গণ্ডা নারী ওই সম্পদের অনলে আত্মাহুতি দিয়েছেন। তিনিই কপট বোনের হাতকে শক্তিশালী করেছেন আর পরোক্ষে দেশের সর্বনাশে অনেক ইন্ধন দিয়ে গেছেন। এরা দু’জনই একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এ জাতি তার মাথাতে কোনোকালেও ছিল না, আজও নেই। ব্যক্তি চিন্তার বাইরে তাদের সামনে জাতি নেই। অসৎ নেতৃত্ব জাতির জন্য সমাজের জন্য এমন কি পরিবারের জন্যও ভয়াবহ। ‘‘দু’দিল বান্দা কালেমা চোর, না পায় শ্মশান না পায় গোর”। ধারণা হয় “চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী”র মতোই তারা তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে আমৃত্যু। আজ এত বছর থেকেও তাদের মনে একটি বারের জন্য দেশের মঙ্গল চিন্তা ঠাঁই পায়নি। স্বভাব দোষে শোষকের পদ থেকে তারা সেবকের পদে নামতে পারে না। মেজর জিয়া যে সেবা দেশকে দিয়ে গেছেন এটি দেখেও তারা অনুকরণ করতে পারতেন, সামান্য হলেও কিছু শিখতে পারতেন। তা কোনো শিক্ষাই তাদের মানসপটে ঠাঁই পায়নি। বরং কেমন করে শুধু মৌ-এর ভাণ্ডে মুখ চুবিয়ে খাওয়া যায়, ওই অংকটি রপ্ত হয়েছে আজীবন।

অপকর্মী বরগুনা ২ আসনের উপনির্বাচনের আগে বরগুনা ১-এর এমপি ধীরেন্দ্রনাথ পাথরঘাটাতে আগেই হুমকি দিয়ে রাখেন যেখানেই ভোট দেন অসুবিধা নেই, জিতবে নৌকা। কুকমের্র দক্ষতায় শিরোমণি সরকার ও তার গুণ্ডাবাহিনী এই অল্প ক’দিনের উপনির্বাচনে যে নজিরবিহীন উদাহরণ তৈরি করতে পেরেছে তা বিস্ময়কর! ঐ দিয়ে মাপা যায় পরবর্তী জয়ের নৌকায় পাল ওড়াতে সংসদ নির্বাচনে ধীরেন্দ্রবাবুরা কি করবেন, বুঝে নিন। যার জন্য খবরের শিরোনাম হয়েছে, “হাতপাখার সাথে জিততেও নৌকার জেরবার অবস্থা, ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি”। ওদিকে বিগত কয়েকমাস থেকে এরশাদ নানান হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজেকে পরিষ্কার করাসহ চমক দেবার চেষ্টা করছেন। তার সম্বন্ধে তার দল ও দলের বাইরেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সব সময়ই। তার নেতাদের ভাষার মতোই লাভজনকটি বেছে নিয়েছেন এরশাদ। সহজ কথাতে এর মানে তিনি একজন নীতি নৈতিকতা বর্জিত সুবিধাবাদী মানুষ। তার জীবনে কোনো আদর্শ নেই। খারাপ ভালোর কোনো হিসাব নিকাশ নেই। তাই প্রায় সময়ই তিনি ছলবাজ বোনের ভাই, বি-টিম। ওই দু’জনে ইতোমধ্যে হয়ে গেছে নৈশভোজ, সেখানে তার পছন্দের রেসিপিও মানা হয়েছে। ডিগবাজি খেতে দক্ষ ডিগবাজিতেই মগ্ন। নিজের অপকর্মের অজস্র মামলা থেকে বেঁচে আছেন ভাই-বোনের লুকোচুরি খেলের বদৌলতে। ক্ষমতা লোভী এরশাদ তার লোভের ও অবৈধ দখলদারীর অনেক পাট পার হয়ে আছেন। কারাগারে না থেকে বরং সংসদের চেয়ারে বসতে পারছেন বোনের কল্যাণে, এটিও কম কি? এসব ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেলদের শুনানিতেও সাংবিধান অনুযায়ী তার অবৈধতার খবর সমগ্র জাতির জানা।

মহাজোট সরকারের সব অবহেলা তাকে সইতে হয়েছে তার অতীত পাপের খেসারত মেটাতে। যেকোনো সময়ই তার পুরনো মামলা চাঙ্গা হতে কতক্ষণ? যার জন্য তাকে সারাক্ষণ পরিস্থিতি মাপতে দেখা যায়। জাতীয় পার্টি দেশের মঙ্গলের চেয়ে নিজের সঙ্কীর্ণ ভবিষ্যৎ চিন্তায়ই সময় পার করছে। এরকম মানুষের আচরণের উপর এক আনা ভরসা করার কোনো যুক্তি নেই। এ দুই নীতিহীনের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। ৮৬ সালের পাতানো নির্বাচনে হাসিনা অংশগ্রহণ করে নিজের দেয়া গালি নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে স্থায়ীভাবে ‘জাতীয় বেঈমান’ হয়ে চিহ্নিত হয়ে আছেন। এদিকে খবরের শিরোনাম হয়েছিল ‘এরশাদের নেতৃত্বে নতুন জোট’। এতে থাকছে বিকল্পধারা, গণফোরাম, জেপি, কৃষক শ্রমিক লীগ, জেএসডি, হেফাজত ইসলামের এক অংশ এসব ছোট ছোট কিছু দল নিয়ে নতুন জোট গঠনে তিনি আশাবাদী। এতক্ষণে অরিন্দম মূল স্বরূপে ফেরেন। অগত্যা তিনি প্রধান দুই জোটের কঠোর সমালোচনা করতে শুরু করেন। আর ভাবী জোটের বাহাদুরী করে বলেন তার জোট জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। তিনি রাহুর গ্রাস থেকে দেশকে রক্ষা করবেন। হাসিনার হাজারো অপকর্মের প্রতিটি মাথা থেকে পা পর্যন্ত তার নখদর্পণে, তারপরও তার মুখে দু’দলই খারাপ! যুক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি, একটি চায় তত্ত্বাবধায়ক আর একটি তা চায় না। দুটোরই উদ্দেশ্য খারাপ, ক্ষমতা চায়। শুধু উনার উদ্দেশ্য মহৎ! কিন্তু উনার উদ্দেশ্য কোনোদিনও কি মহৎ কিছু ছিল স্বৈরশাসক হিসেবে অতীতে বা ভবিষ্যতে মহৎ নজির কি হতে পারে, সেটি তিনি ব্যাখ্যা করেননি। ওসব তার ধানাই পানাই কথার আড়ালে থেকে যায়।

এদিকে একই দিনে খবর বেরিয়েছে যে, এরশাদের স্বপ্ন ২৪ ঘণ্টার ভেতরে আঁতুড়ঘরেই মরে গেছে। কারণ তার অপরিষ্কার রং বদলের ধানাই-পানাই মার্কা কথাতে কারও বিশ্বাস নেই। অতিরিক্ত দরকষাকষির দালালীপনাতে দলভারি করার কাজে জড়িত থাকার সম্ভাবনা বাকিদের নজরে পড়েছে। চারপাশ থেকে মোটা অংকের অফার আসতে দেখে তিনি এ বয়সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। সবারই সন্দেহ হঠাৎ করে এ প্রতারক নির্বাচনে দলছুট দৌড়ের ধান্ধাতে আছে। এরই মধ্যে সবার সন্দেহ বাস্তবতা পেয়েছে। অতীতে জনতা তাকে “বিশ্ব বেহায়ার” টাইটেল দিয়ে রেখেছে। এবার নব্য দুই টাইটেলধারী নির্বাচনকে বৈধতার অনাচারে নিজেদের মাঝে গোল্লাছুট খেলছে। স্কাইপ ক্যালেঙ্কারীতে বিচারকদের অনেক অনাচার বেরিয়ে যায় খোলা ময়দানে। যখন একজন ধরা পড়া বিচারক বলছিলেন যে, ‘‘আমি দাঁড়াইয়া যামু, আপনি আমারে বসাইয়া দিবেন। লোকে দেখুক আমাদের মধ্যে কোনো খাতির নেই।” সে রকম ঘটনা আবারও ঘটতে যাচ্ছে, এরশাদের উপলক্ষে এরকম খবরও শিরোনামে জায়গা দখল করছে। বর্তমানে এরশাদের একমাত্র স্বপ্ন হচ্ছে প্রধান বিরোধী দল সেজে মাঠ দখল করা। আর হাসিনার স্বপ্ন হচ্ছে বিরোধী বিএনপিকে দূরে সরিয়ে রাখা। দুই প্রতারক আবার এক হয়েছে। জাতি এদের দাগ দিয়ে চিনে রাখুন এবং রাস্তা মাপুন।

এত তাড়াতাড়ি ইতিহাস ভুলে যাওয়া জাতির উচিত নয়। কেউ বলছেন এরশাদ হচ্ছেন পরিচ্ছন্ন সহজ-সরল এক কবি মানুষ। যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেন না। তিনি যুক্তিটি দেখান তার বাচনিক হাসিনার মতো ভ্রষ্টাচারে ভরা নয়। সবচেয়ে বড় সত্য কথাটি হচ্ছে এরশাদ একজন প্রচণ্ড সুবিধাবাদী মানুষ। একজন মানুষের এ গুণ খুবই খারাপ একটি গুণ এরা কখনোই নীতির ধারক হতে পারে না। সুবিধাবাদীরা সব দিনই আনপ্রেডিকটেবল হয়, এটি সবার জানা। এ গুণটি এরশাদের স্বভাবের সঙ্গে খাপে খাপে যায়। লোভ আর ক্ষমতাকে উনি অনেক বড় করে দেখেছেন অতীতেও, এটি জাতির দুর্ভাগ্য। জাতিকে অনেক হোমওয়ার্ক করতে হবে সঠিক সত্যটি আঁচ করতে হলে। যদি তিনি জাতির প্রকৃত সুহৃদ হতেন তবে কখনোই দুষ্টের সাথে হাত মেলাতে যেতেন না। কিন্তু তাকে একবার নয়, বারে বারেই সেটি করতে দেখা গেছে। ছলবাজের টোপ গিলতে তিনি অতিরিক্ত তৎপর, সেটি লং ড্রাইভে গিয়েই হোক আর ভিন্ন যোগাযোগেই হোক। তার এসব ছলবাজি কথা আপনারা সচেতনরা বিস্মৃত হবেন না। “জেলে যেতে হলে যাব তবুও সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে যাব না, জেল বড় না সম্মান বড়? যে কাজ করলে দেশের মানুষ থুথু দেয় সে কাজ করব না।

সব সময় জনগণের পক্ষে ছিলাম; জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মরতে চাই। আমি আর কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হব না। সর্বদলীয় সরকার নয়, তত্ত্বাবধায়ক ও সবার অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে যাব না।” এসব তার মোনাফেকি বুলি। লক্ষ্য করুন তার পরের কথা— “দেশ এখন দুই রাহুগ্রাসে নিমজ্জিত”। এটিই তার মূল কথা ও সুর, তার কবিগানের ছন্দকথা। আজকাল মিথ্যা কথা বলা রাজসিক আচার তারা মনে করে, এ কাজে এখানের দু’জনাই কমবেশি দক্ষ। এই দুই প্রতারককে উপযুক্ত শাস্তি দানে জাতি সংকল্পবদ্ধ হোন। থুথুই যার উপযুক্ত পাওনা, আজ তাকে তাই শোধ দিন।

অনেকে খালেদা ও হাসিনা দু’জনকে সমান করতে পারলে মনে করেন অনেক রক্ষা করলেন, জাতে উঠলেন। বহুদিন থেকে ধরা খাওয়া ও তার গোপন বিটিমের সাগরেদরা এ জাতে ওঠার কাজটি বেশ দম্ভের সঙ্গে কৌশলে ব্যবহার করছে। এরা এত অনাচারের পরও দু’জনকে এক পাল্লায় মাপতে চায়, শূন্যের সঙ্গে একশত সংখ্যাটির কোনো পার্থক্য এরা দেখতে চায় না। এটি নিশ্চয় আপনারা অনেকেই অবগত আছেন যে জিয়া হত্যাতে এখানের প্রধান দুই ছলবাজেরই সংযোগ ছিল। এরা এ দুই আসলে এক খোরে মাথা মোড়ানোর দল। জিয়া কিন্তু কোনোভাবেই মুজিব হত্যাতে জড়িত নন। জিয়াকে হত্যা করার বিশাল একটি কারণ লুকিয়ে আছে। শুরু থেকেই এ লোকটি ও তার দলটি প্রকৃতই বাংলাদেশের রাজনীতি করেছিল আত্মায় অন্তরে। প্রাণবন্ধু যুদ্ধত্তোর বাংলাদেশের সকল সম্পদ লুটেপুটে উদরস্থ করলে অর্থনীতিতে ভেঙে পড়া বাংলাদেশের স্বার্থকে এ দলটি উঁচুতে তুলে ধরেছিল। তাই বন্ধুর কৌশলে এই মহানায়কের মৃত্যু ছিল তার নিজ রক্ত দিয়ে শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিকের নামটি খুদিত করা, আর এ কাজটি করেছে অলক্ষ্যের ইতিহাস। তার এমন আলোকধারী অর্জনে প্রতিবেশীসহ সবার গায়ে চুলকানি শুরু হয়ে যায়। তার খাল কাটার মতো স্বনির্ভর আন্দোলনকে হিংসার অনলে পুড়া দুর্মুখেরা বলতো ‘জিয়াকে শনিতে ভর করেছে’। এখানের প্রতারক দু’জন প্রায় সমান, একজনকে এক নম্বর করলে অন্যজনকে দুই নম্বরে রাখতেই হবে। এসব কারও মুখের কথা নয়, এসব সূক্ষ্ম গবেষণার ফলাফল। ‘সেনাবাহিনীর ভূমিকা না থাকলে আ’লীগ জীবনেও ক্ষমতাতে আসত না : এরশাদ (দৈনিক আমাদের সময়, মার্চ ০৪, ২০০৯, বুধবার ফাল্গুন ২১, ১৪১৫)। ওই সময় এ খবরও ছিল— তিনি বলেছিলেন, তিনি অনেক কিছুই জানেন, সময় হলে প্রকাশ করবেন। তার সে সময় আজও আসেনি এবং ইহকালে আর আসবে বলে মনে হয় না। এতকিছুর পরও তিনি ঐ ছলের সাথে হাত দাগিয়েছেন, কারণ ভুলে যাবেন না, চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। ইতিহাস জানুন, চারপাশ থেকে সত্য সংগ্রহ করুন পড়ুন এবং বিশ্বাসঘাতকের খাতাতে আপনার অবস্থান সুস্পষ্ট করুন। শেখ হাসিনা দিল্লিতে ভারতের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। অতঃপর বহু চেষ্টা-তদবির করে জিয়াউর রহমান তাকে দেশে নিয়ে আসেন। তার দেশে আসার অল্প হাতে গোনা ক’দিনের মাঝেই জিয়া হত্যার নাটক মঞ্চায়িত হয়। অকৃতজ্ঞ মানুষের উৎকৃষ্ট উদাহরণ শেখ হাসিনা!

জিয়া হত্যার পর সৈনিকদের হাতে সরাসরি জড়িতদের একজন জেনারেল মঞজুর ধরা পড়লে জেনারেল এরশাদ তড়িঘড়ি মঞজুরকে হত্যা করান। আপনারা যারা মনে করছেন উনি ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেন না এতই ভাবুক সাধু কবি পুরুষ, তিনি কিছুতেই “না” বলতে পারেন না, এসব নকল অবস্থান ছেড়ে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এসব প্রতারকদের আসল চোহারা উন্মোচন করুন। সে সময় তড়িঘড়ি মঞজুর হত্যা কার্যকরের উদ্দেশ্য ছিল দেরি হলে তার নিজের দুষ্কর্ম খেলাসা হয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে তিনি অস্বীকার করতে পারবেন না। এর সামান্য পর এরশাদকে ক্ষমতা দখলের ব্যাপারে সব রকমের সাহায্যসহ পূর্ণাঙ্গ আমন্ত্রণ জানান সহযোগী শেখ হাসিনা। এর উপর ভিত্তি করে তাদের মাঝে পাঁচদফা গোপন বৈঠক হয়। ঐসব বৈঠকের সূত্রে ও ধারাবাহিকতায় এভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে একনায়ক স্বৈরশাসকের আমদানি হয় এদেশে। হাসিনা সরকার তার নিজের কৃত সব অপরাধ গোয়েবলসের কায়দায় বিএনপির কাঁধে চাপান, সব অপকর্মের নাটের গুরু তিনি মুজিবকন্যা নিজে। গালাগাল করেন জিয়াকে, কারণটি কি? সারাজীবন জিয়া ও তার চৌদ্দ গোষ্ঠী তার প্রতিপক্ষ! আমরা জানি সাধুর সাথে শয়তানের কিয়ামত পর্যন্ত চরম যুদ্ধ চলবে। খবরে প্রকাশিত তার মুখের বুলি “আমাদের মূল শত্রু জিয়াউর রহমান ও তার দল বিএনপি। আমাদের প্রধান কাজ বিএনপিকে চিরতরে শেষ করে দেয়া”। এটি তার দলের কাছে প্রকাশ্যে বর্ণিত তার মধুর ভাষার নমুনা। জিয়া হত্যার দিন নেত্রী হাসিনা যাকে সদ্য জিয়া ভারত থেকে দেশে আনিয়েছিলেন, তিনি সিলেট থেকে ঢাকা আসার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া দিয়ে ভারতে পালাতে গিয়ে বিডিআরের কাছে ধরা পড়েন। এসব তথ্য পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছে। শওকত মাহমুদের লেখা বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ১২ বছর কলামে (২০/০৫/৯৩ সংখ্যা)। উল্লেখ্য সেদিন তিনি বর্ডার দিয়ে বেরখা পড়ে পালাতে গিয়ে ধরা খান। যদিও অজয় রায়রা ২০১৭তে হুমকি দিচ্ছেন তিনি নাকি হেফাজতের পাল্লায় পড়ে বোরখা পরবেন কিন্তু জাতি জানে এর বহু আগেই তিনি ভারতে পালিয়ে যেতে বোরখা পড়েছিলেন, এবং ধরাও খেয়েছিলেন।  এসব কারণেই হাসিনার শত্রু জিয়া, চোরের মনে পুলিশ পুলিশ !!

প্রমাণ হিসাবে এরশাদের অতীত অপকর্মের উপর দেশবাসী দয়া করে চোখ বুলান, তার মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতায় যাওয়া। ১৯৮২ সালের মার্চের ২৪ তারিখে জেনারেল এরশাদ জনগণের নির্বাচিত বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এবং পরদিন একই উপায়ে ঐ বৃদ্ধের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে তাকে রেডিও টেলিভিশনের সামনে এনে পুতুলের আদলে দণ্ড হাতে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার অঙ্গীকারনামা প্রকাশ্যে বাধ্য করান এই প্রতারক এরশাদ। একই পদ্ধতিতে বেশ ক’বছরের পরের নাটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সম্মানিত শিক্ষক ইয়াজ উদ্দিনকে “ইয়েস উদ্দিন” বানিয়ে রাজনীতির গুলিতে রূপান্তরিত করা হয়। একই খেল, শুধু সময়ের ফাঁরাক দুটি সময়ে দুটি ঘটনাতে লক্ষ্য করা যায়। এরা দু’জনা একই দক্ষতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আর বোকা জনতাকে তারা ঘোলের জল খাইয়ে চলেছেন নিজের উদর পূর্তি করতে। দোহাই জনতা, আপনারা এ জোড়া ছলবাজকে বিশ্বাস করবেন না, এরা চিহ্নিত জাতীয় বেঈমান, এরা জাতির প্রকাশ্য শত্রু। জিয়া হত্যার পর বিএনপি সরকারের তালিকায় এরশাদের নামও ছিল, সেটি তিনি কৌশলে সরিয়ে ফেলেন। সাক্ষী গোপালদেরেও সরিয়ে ফেলতে কার্পণ্য করেননি। আর বাকি চোরে চোরে মাসতুতো ভাইরাও সব সময়ই একে অন্যের বি টিম হিসেবে বাকি জীবন কাটিয়ে যাবে, এ চালে সই করে রেখেছে। ৭১ থেকে ৭৫ পূর্ব গেল মুজিব সরকারের প্রতাপী দণ্ডের কাছে মানুষের নিরাপত্তাহীন ত্রাসের জীবন।

আর ৭৫ পরবর্তী হাসিনার আগমন থেকে আজ অবধি প্রতি বছরই বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্দোলনের নামে হরতালের নামে দেশে একটি অস্থিতিশীল ত্রাসের রাজত্ব চলে আসছে, এটি বিনা কারণে নয়, বরং হাসিনার কপটতাতে সৃষ্ট মিথ্যা অজুহাতের বদৌলতে বেশিরভাগ হরতাল হয়, আর তা ১৭৩ বা তারও বেশি দিন চালু ছিল। দেশে অস্থিতিশীলতার পেছনে ওই নেত্রী হাসিনার কপট কালচারই সোচ্চার হয়ে ইতিহাস হয়ে আছে। এসব কিছুই আজ লুকানো নেই। এসব খোলা কলমের বাণী, তাদের রাজনৈতিক অপকর্মের ইশারা মাত্র। তিনি বিরোধী থাকতেও মানুষ মেরে মানুষের লাশের রাজনীতি করতেন, দোষ চাপাতেন তখনকার সরকারের উপর। রামুর ঘটনা আর সাঁথিয়ার ঘটনা দেখেও আপনারা আঁচ করতে এত সময় নেবেন? আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, এদেশের স্বার্থে প্রকৃত কোনো ইতিবাচক দল থাকলে সেটি বিএনপি ও তার আদর্শ। তার মূল নেতৃত্বের অসাধারণ দক্ষতার কোনো তুলনা হয় না। চোর ছ্যাচড়া সব দলেই কম-বেশি থাকে তবে স্বয়ং হাসিনাসহ তার চোরদের ভারে গোটা দেশ জাহান্নাম হয়ে আছে। আমি আবারো বলছি, আপনারা হোমওয়ার্ক করবেন আরও নিখুঁতভাবে চোখ-কান খোলা রেখে কাজ করবেন। কাল্পনিক সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ধুয়া তোলেন শেখ হাছিনা অনেক আগে, সেটি ১৯৮৭ সালে ভারতে ঈদের ছুটি কাটাতে গিয়ে শেখ হাসিনা কলকাতা বিমান বন্দরে ভারতীয় সাংবাদিকদের একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সমপ্রীতি নেই। খবরটি ছাপে দৈনিক যুগান্তর (কলকাতা ০৪/০৬/৮৭ সংখ্যা)। সমসাময়িক ছলবাজ তসলিমা নাসরিনও সংখ্যালঘুর মিথ্যা ধুয়া তোলার খলনায়িকা। তিনিও ওই তালিতে তালি দেন। হাসিনার ঘাড়ে চাপা ঐ রোগ এখনো সারেনি, আজো সেটি চালু আছে। এরশাদের আমলে আ. স. ম রব সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বলেন, বাংলাদেশে ভারতের ৬০,০০০ এজেন্ট আছে। এবার বুঝুন! আপনাদের বুদ্ধিজীবীরা হাজার হাজার ছলবাজেরা কোথায় বিক্রি হয়েছে, কীভাবে মাথা খুইয়েছে অতি অল্প দামে! পৃথিবীর ইতিহাসে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যাকে কখনোই পয়সা দিয়ে কেনা যায় না। সে সর্বক্ষণ নীতির উপর থাকে, নেতৃত্বে এদেরই বসাবেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে যে শান্তিবাহিনীর নামে ভয়ানক অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে এসব কিসের আলামত? বন্ধুকৃত অবন্ধুত্বসুলভ আচরণের উত্তম নমুনা, পদে পদে সারা দেশ জুড়ে এসব নমুনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তাই এদেশে প্রোইন্ডিয়ান সরকার না এলেই নয়। চল্লিশ পার করা স্বাধীনতা, হতভাগ্য বাংলাদেশীরা ভোগ করছে এভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে, এর নাম কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা! চেতনা চেতনা করে সমগ্র জাতিকে চেতনহীন করে দেবার এক গভীর ষড়যন্ত্রে এরা নিমজ্জিত। বিনামূল্যে দেশ বিকিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রসহ ৬০,০০০ অতন্ত্র প্রহরী গোটা দেশ দখল করে আছে, এ হিসাব বিগত শতকের, এ শতকে এসব বহুগুণিত হয়েছে। অতএব সাধু সাবধান! এই দুই প্রতারক থেকে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। এরা দু’জনাই একটি মুদ্রার দু’পিঠ। এরা শুধু নিজের আখের গোছাতেই জানে, স্বার্থপর আত্মবিকৃত নেতৃত্বে এরা বিশ্বাসী। বড় বড় কথা, লম্বা লম্বা ভাষণ, দেশের ভাবমূর্তি, নকল ইসলামী অবয়বসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, এসব জোড়া প্রতারকের চালের গুটিমাত্র। এ দুই প্রতারকের আইওয়াশ থেকে নিজেকে নিজের দেশকে, সমাজকে, পরিবারকে বাঁচিয়ে চলুন। এরা দু’জনাই একযোগে রাজনীতির ফেল করা স্বৈরশাসক, একনায়ক, বাকশালীর ধারক, এরা স্বৈরশাসক আইয়ুব-ইয়াহিয়ার উত্তরসূরি গণতন্ত্র কবর দেয়ার চৌকষ নায়ক।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ লেখাটি আমার দেশ অনলাইন ছাপে ২০১৩ সালের নভেম্বরের ২৬ তারিখে।

পুনশ্চ: মিরজাফরের ভাগ পাওয়া এরশাদের আর একটি অপকর্মের দাগ পাই কামরুল ইসলাম নামের ফেইসবুকে। মুক্তিযুদ্ধে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আব্দুর রহমান সাভারে শিখা অনির্বান টাইপের কিছু প্রস্তুতির সময় পূজার স্তম্ভেবর বদলে আল্লাহর একত্বকে উচ্চে তুলে ধরেন। মুসলিম দেশে পূজার সুযোগ হবে না। এরকম যুক্তির পর সেখানে ওটি স্থাপনের আর সুযোগ হয়নি। এসব প্রকাশ পায় সৌধ নির্মাতায় যুক্ত প্রকৌশলী একজনের কাছ থেকে। এরকম একজন ঈমানদারকেও পরবর্তীতে এরশাদ ফ্রান্সে গুপ্ত হত্যায় শেষ করেন। খবরটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসাবে সংযোজন করছি।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: