Articles published in this site are copyright protected.

Archive for June, 2013

ঢিলের বদলে পাটকেল আসে কখনও খোদায়ি কখনও মানবিক

না জ মা মো স্ত ফা

টিপাইমুখ, ফারাক্কা—এসব একের পর এক মরণ ফাঁদের নাম। রাজনীতিকে একপাশে ঠেলে রেখে বাস্তবতার কথা চিন্তা করাই সুশাসকের নীতি। মানুষ ঠেকেও শেখে। জিয়া যদি সামান্য সময়ের জন্যও পানি আনতে পারেন নিশ্চয় তিনি একটি কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, অন্যরা কেন কোনো কৌশলও অবলম্বন করতে পারল না? তখন কি সেখান থেকেও কিছু শেখা গেল না? না, তার কাছ থেকে শিখব না। সে একজন সামান্য মেজর মাত্র! একজন মেজরের কাছ থেকে শেখাও অনেক ভাগ্যের কথা। দরকারে যে কারও কাছ থেকেও একটি বিদ্যা শিখে নেয়া যেতে পারে। আমরা বিশাল আদর্শের মাঝে জন্মালেও প্রকৃত সেই আদর্শের অনুসরণে নেই। এ ধর্মে উচ্চ-নীচ, জাতিভেদ নেই। কে ছোট কে বড় এর কোনো ফয়সালা এখানে নেই। পাকিস্তানকে ভারত যত সমীহের চোখে দেখে তত কিন্তু বাংলাদেশকে মোটেও দেখছে না। এটি থেকেও নিজেদের মর্যাদা আঁচ করতে পারার কথা। এ ক্ষেত্রে ভারতের কাছে পাকিস্তানের মর্যাদা অনেক বেশি। ইতিহাস বলে সিকিমের লেন্দুপ দর্জিকে মৃত্যু পূর্ববর্তী প্রহরে হতাশার তিমির অন্ধকারে কালাতিপাত করতে হয়েছে। কাজ হাসিলের পর তাকে দূরে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। নিজের আক্কেলে তিনি তার জনতাকে দুধের বদলে ঘোলের জোগানদাতা ছিলেন। মীর জাফরও লোভে পড়ে গদির লোভে ইহকাল পরকাল সবই ঝরঝরে করতে পিছ-পা হয়নি। এদের জীবন এক শূন্য মরূদ্বান ছাড়া আর কিছু নয়, ইতিহাস এর বাইরে এদের জন্য কোনো চিহ্ন রাখেনি। কোনো প্লাস অ্যাড করে না, এরা মাইনাস। ইতিহাস বদলায়, বাংলার মসনদ বদলায় কিন্তু এরা বদলায় না। ইতিহাসের পাতা থেকে এদের মিটিয়ে দেয়ার সাধ্য কারও নেই। মওলানা ভাসানী ছিলেন খড়ের ঘরের বাসিন্দা। সবদিনই শুনেছি। খড়ের ঘরে থেকেও এই যে জাগতিক মর্যাদা তিনি লাভ করলেন ধারণা করা যায় তার পারলৌকিক মর্যাদাও আশানুরূপ হবে। মানব জনমের এটিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ পাওনা, আর তো কিছুই কারও সঙ্গে যাবে না।

বাংলাদেশের ইতিহাসে দুই রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব আর জেনারেল জিয়া দু’জনই মারা গেলেন। এরা যাবার সময় কিছু কি বাড়তি নিতে পেরেছেন? না, শূন্য হাতে দু’জনই ঘাতকের হাতে প্রাণ দেন। তবে দু’জনই দু’জনের আমলনামাটি সঙ্গে নিয়ে গেছেন। এটি অবশ্যই আমরা মুসলমানরা বিশ্বাস করি। মীর জাফরও তার আমলনামা বাংলার মসনদে রেখে যায়নি, নিয়ে গেছে। সব প্রশ্ন উত্তর সবার কৃতকর্ম থরে-বিথরেই সাজানো থাকবে। এ থেকে বেরিয়ে যাবার ফুরসত নেই। সামান্য মোবাইল আর ক্যামেরার কারসাজিতে কত কিছু ধরা পড়ে যাচ্ছে আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নেটওয়ার্ক কতদূর যেতে পারে সেটি কি আজকের এই ঝলমলে উজ্জ্বল একবিংশ শতকের আলোতেও কৃতকর্মধারীরা বুঝতে পারেন না? বাবরি মসজিদ যারা ভেঙেছিল তাদের তরুণ নেতৃত্বের দু’জন যে পরিণতিতে পৌঁছেছে, একমাত্র ওই ঘটনাটিই তো প্রাপ্তি হিসাবে নির্যাতিত জনতার জন্য অনেক বড় পাওনা। যাদের মাথাতে মগজ আছে তারা শেখে ইতিহাস থেকে আর যারা মগজের দ্বারা তাড়িত হয় না, তারা ইহ-পরকালের জন্যও কোনো ইতিবাচক অর্জন জমা করতে পারে না। তারা মগজহীন পশুর মতোই জীবন কাটায়। সে বাদশাহ হলেই কি আর ফকির হলেই কি, সে চিরবঞ্চিতই থাকে আত্মায় অন্তরে। কোনোভাবেই কোনো অর্জন জমা করতে পারে না।

ভারতে বালবীর সিংহ নামে এক ছেলে হাইস্কুল পাসের পর পানিপথের কলেজে ভর্তি হয়। পানিপথই হিন্দুত্ববাদী শিবসেনার শক্ত ঘাঁটি। বালবীর সিংয়ের বাবা যখন ছেলের শিবসেনা সংসর্গের কথা অবগত হন তখন তাকে অনেক উপদেশ বিলি করতে থাকেন। কিন্তু কথায় আছে, সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। বালবীরের বেলাতেও তাই হচ্ছিল। তার বাবা একজন কৃষক ও গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি তাকে ইতিহাস থেকে উদাহরণ এনে বাস্তবতা আঁচ করতে উৎসাহ দিতেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সময়ে বন্ধুরা তো বাবার নামও ভুলিয়ে দেয়। বাল ঠাকরে, বজরং দল ও উমা ভারতী, অশোক সিনগাল এবং এ মানসিকতায় যারা চালিত হচ্ছেন, এসব তরুণ উগ্রবাদী হিন্দু ওই ওদের চক্করেই ঘুরছেন। এদিকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাবরি মসজিদ ইস্যু গায়ে-গতরে পাকাপোক্ত হচ্ছে। ইতিহাসের বাবর, আওরঙ্গজেব ও আরও আরও সব মুসলমান শাসকদের কথা সব সময় বালবীরের বাবার আলোচনার অংশ ছিল। তিনি ইতিহাসের অনেক কথাই বলতেন। তিনি ১৯৪৭ সালের দাঙ্গা দেখেছেন, ওই সময়ের অমানবিকতার কথা তিনি বলতেন, মানবিক গুণ সমৃদ্ধ বাবা ছেলেকে আপ্রাণ চেষ্টা করেও তার মনে কোনো মানবিকতার আবেদন পৌঁছাতে পারেননি, বন্ধুদেরই জিত হয়েছিল।

এদিকে, ১৯৯০ সালে মি. আদভানির রথযাত্রা চলছে। এরকম সময়ে বালবীর শিবাজীর নামে শপথ করে অযোধ্যাতে যায়, উদ্দেশ্য বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পাঁয়তারা করা। এসব করতে করতে বালবীর তরুণদের নেতৃত্বের আসনে চলে আসে। ৩০ অক্টোবর তার দলবলসহ অযোধ্যায় যাওয়া ও প্রস্তুতি নেয়া চলতে থাকে। এভাবে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এল ১ ডিসেম্বর ১৯৯২ সাল। সেখানে অযোধ্যা পৌঁছলে যোগেন্দ্র বা ধর্মেন্দ্র (দু’জায়গায় আমি দুটি নাম পেয়েছি) নামে তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুও তার সঙ্গে যোগ দেয়। সে শানিপাত গ্রামের এক জোত-জমিদারের ছেলে। তার অবস্থাও একই, বাবার অমতে সেও যোগ দেয় এ অপকর্মে। এভাবে সে পরে এলেও ৫ ডিসেম্বর পৌঁছে যায় অযোধ্যাতে। ওই রাত সে সেখানের কিছু মুসলমানের ছাদে রাত কাটায়। পরদিন উমা ভারতী তার জ্বালাময়ী বকতৃতা দেন। বকতৃতার রক্ত গরম করার পালা শেষ হলে বালবীর একটি কুঠার হাতে এগিয়ে চলে মসজিদের ছাদের দিকে। মাঝের গম্বুজে আঘাত করে খুব উচ্চস্বরে বলে উঠে, ‘জয় জয় রাম ভগবান’। শুরু হয় আল্লাহর ঘর ভাঙার অভিযান। অতি অল্পে চোখের সামনেই মসজিদ ভূলুণ্ঠিত হয়। তারা বিরাট দলবলসহ আনন্দ-ফুর্তি করতে করতে ফিরে যায়, সঙ্গে করে নেয় দুটি ইট। সাক্ষ্য হিসাবে তারা এ দুটি পানিপথেই নিয়ে যায় সেখানের জনতাকে দেখাবে বলে। 

Babri masjid ko shaheed karne ka jimmedar kun aur hindo muslim ko kun ladata hai – Zakir naik

এসব দেখে তাদের ডাক-নাম চারদিকে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। দর্শনার্থীরা এসব দেখে আরও উৎসাহ দেয়। চারদিকে জয় জয় আর হাততালি পড়তে থাকে। এতসব আনন্দের খবর বালবীর তার বাবাকে বললে তার বাবা আরও রেগে যান। তিনি এমনই অবস্থাতে চলে যান যে, বলেন তাকে বাড়ি ছাড়তে। অথবা তিনিই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন বলে হুমকি দেন। তার সোজা কথা, যে বিধাতার ঘর ভাঙে তাকে তিনি সহ্য করতে পারছেন না। তিনি এটিও বলে দেন যে, তার জীবদ্দশাতে সে যেন এ বাড়িতে আর না আসে। অগত্যা সেও পণ করে যিনি রামকে পাত্তা দেন না, সেও তার সঙ্গে বসবাস করবে না। তখন সে পানিপথে চলে যায়। একদিন তার বন্ধু যোগেন্দ্র পাল পানিপথের মানুষকে ডাক দেয় তাদের আনা বাবরি মসজিদের সেই ইট প্রদর্শন করবে বলে এবং তারা আমন্ত্রিতরা সেদিন দলগতভাবে এর উপর মূত্রত্যাগ করে। 

সময় গড়াতে থাকে। এবার বুঝি ফেরত পালা। মসজিদের প্রকৃত রক্ষকের ফিরতি জবাবের পালা, পাটকেল আসার ক্ষণ। এর কিছুদিন পর যোগেন্দ্র মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে এমন পর্যায়ে যায় যে একদম পাগল হয়ে যায় এবং গায়ে কোনো কাপড়ই রাখে না, যাকে বলে বদ্ধ উন্মাদ। এদিকে সে ওই জমিদারের একমাত্র ছেলে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় বিবেকহারা উদ্ধত তরুণসহ তার পরিজনেরা ঘটনার মূলে ফিরে যান এবং প্রায়শ্চিত্ত হিসাবে ধর্মান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। সংশোধন ব্যতিরেকে সমাধান নেই। বাপ-বেটা দু’জনাই ইসলাম কবুল করেন। অতঃপর এ খবর চারদিকে মুহূর্তে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এরকম খবরও শোনা গেছে এসব ধর্মান্তর দেখে-শুনে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীরা চাচ্ছিলেন এদের হত্যা করে ফেলতে। বাস্তবে যদিও তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। এভাবে তাদের বাকি পরিবারের সদস্যরাও ইসলামের ছায়াতলে আসে। সবার শেষে আজ তাদের অনুশোচনার পালা, সবার জন্য একটাই নৈতিক মেসেজ আজ তারা বিলি করছে, এরা যদি হুজুগে নেতারা ইসলাম সম্বন্ধে সামান্যও জানতো তবে এসব কাজ কোনো সময়ই করতে পারতো না। তাদের নেতৃত্বের কারণেই তরুণদের পদস্খলন হয়েছে। তাদের নিজের অপকর্মের জন্য তারা বার বার ওই নেতাদের কথাই বলছিল।

এ যেন প্রাথমিক যুগে ইসলামের বীরবর হামজা (রাঃ)-র ধর্মান্তরের মতনই একটি ঘটনা। নবী মুহাম্মদ (সঃ)কে কাবায় এবাদতরত দেখে আবু জেহেল নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ কুৎসা করেও কোনো দিশা করতে না পেরে অবশেষে একখণ্ড পাথর ছুড়ে মারে রাসুল (সঃ)-এর মাথা বরাবর। কুরাইশদের এমনধারা অত্যাচার সহ্য করেও নবী নীরব থাকেন। কিন্তু ধর্মের কল বাতাসে নড়ে বলে একটি কথা আছে। একজন ক্রিতদাসী এসব অবলোকন করে তা বীরবর হামজা (রাঃ)-র কাছে অবলীলায় প্রকাশ করে। এতদিন তিনি কুরাইশদের স্বদলীয় একজন মুখপাত্র ছিলেন, ভ্রাতুষ্পুত্রের আহ্বানেও তিনি সাড়া দেননি। এবার তার মনে প্রচণ্ড ক্ষোভের সঞ্চার হলো। তার মনে এবার প্রশ্ন উত্থিত হয়, কি অপরাধ তার ভাতুষ্পুত্রের? তার একটাই অপরাধ— ‘আল্লাহ আমার প্রভু’ প্রচার করছেন। এ অপরাধে তারা কুরাইশরা এসব অকর্ম-কুকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এ ক্ষোভ থেকেই তিনি সঠিক পথ হিসাবে ন্যায়ের পথটি গ্রহণ করেন, তার পূর্বপুরুষের অনুকরণ করা জঞ্জাল ফেলে তিনি আলোর মিছিলে যোগ দেন। বীরবর হামজা (রাঃ)) ধর্মান্তরের সিদ্ধান্ত নেন এবং দেখা যায় এতে প্রতিপক্ষের অপকর্মের পরিণতিতে হিতে তাদের জন্য বিপরীতই ঘটে, এমনই ইতিহাসের বিচার। আল্লাহ যে একজন অলক্ষ্যে কলকাঠি নাড়ছেন, এসব ঘটনা দেখেও কি ছিটগ্রস্তদের মগজ শুদ্ধ হয় না? যে হামজা (রাঃ))-কে নবী মুহাম্মদ (সঃ) কোনোভাবেই আকৃষ্ট করতে পারছিলেন না তাকেই আল্লাহ তাদের অপকর্মের কারণে ইসলামের দোরগোড়াতে এনে হাজির করেন। এটি শুধু এখানেই নয়, সবদিনই ইসলামকে খারাপভাবে উপস্থাপন করতে যারাই তৎপর থেকেছেন তারাই অলক্ষ্যে এর সুন্দরকে উন্মোচন করিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। এভাবে যুগে যুগে দৃষ্টিধারী বিবেচক জনতার সূক্ষ্মদৃষ্টি মিথ্যা ছলকে দূরে ঠেলে দিয়ে প্রকৃত সুন্দরকে গ্রহণ করেছে। যার কারণে আজ যেন জাগরণের হিড়িক পড়ে গেছে।

আমেরিকার ৯/১১র আগে মানুষ ইসলাম সম্বন্ধে তেমন কিছু জানতোই না। এখন সবাই এ অপরাধীকে চিহ্নিত করতে যেয়ে এর প্রকৃত স্বরূপ সন্ধান করতে পারছে। একে বলা চলে নির্বাক বিধাতার কথাবলা নড়াচড়া। যোগেন্দ্র যখন ওমর নাম ধারণ করে মুসলমান হয় ঠিক কাছাকাছি সময়ে এর প্রতিক্রিয়া শুরু হয় বালবীরের জীবনেও। মনের বেদনা মনে চেপে রেখে অতঃপর ৯ মার্চ ১৯৯৩ সালে বালবীরের বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুকালীন এসব বেদনার কথা সে তার মায়ের কাছ থেকে জেনেছে। মরার আগে তিনি আশায় বুক বেঁধে গেছেন যেন পরজন্মে কোনো মুসলমান ঘরে জন্ম নিয়ে এর শোধ নিতে পারেন। তিনি মরার আগেও শক্ত করে বলে দেন তার শেষকৃত্যেও যেন এ ছেলে উপস্থিত না থাকে। তাই মুত্যুর ৮ দিন পর তাকে মৃত্যু সংবাদ দেয়া হয়। মায়ের কাছে গেলেই সে দেখে মায়ের অসন্তুষ্ট মন, তাছাড়া অজানা আশঙ্কাতে সেও কাতর হয়ে পড়ে। অবশেষে সেও ধর্মান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। তাই এ দুই বন্ধুর এবারের শপথ জীবন চলার পথে তারা বাকি জীবন মসজিদ নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের কাজে ব্যয় করে যাবে। তাই ডিসেম্বরের ৬, ১৯৯২ সালে ভারতের ইতিহাসে এক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাঝে এক ইতিবাচক অর্জন এদের ধর্মান্তর প্রক্রিয়া। মো. ওমর একটি সিদ্ধান্ত নেয় প্রায়শ্চিত্ত হিসাবে সে একশ’টি মসজিদ নির্মাণ করবে গ্রামে যেখানে কোনো মসজিদ নেই। এবং অন্যজনা আমির শপথ নেয় সে ১০০টি মসজিদ পুনর্নির্মাণ করবে যেসব মসজিদ খারাপ অবস্থায় আছে। বলা যায় এটি ছিল ঢিলের ঐশ্বরিক পাটকেল।

তাছাড়া ঢিলের বদলে মানবিক পাটকেলও হতে পারে, এর একটি উদাহরণ আনতে কিছু পেছন ফিরে তাকাই। রামাল্লা থেকে ২০০৫ সালের ৬ নভেম্বরের খবরে প্রকাশ, ১২ বছরের একটি ফিলিস্তিনি বালক মারা যায় ইসরাইলিদের আঘাতে। সেদিন খাতিব নামের শিশুটি ইসরাইলিদের আঘাতে আহত হয় বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতরের প্রথম দিনটিতে। যেদিন শেষ হয় রমজানের রোজা, ঈদের আমেজ লেগে ছিল ঘরে ঘরে, প্যালেস্টাইনের মৃতপুরীগুলোতেও। ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে। মাথায় ও পেটে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উত্তরাঞ্চলের হাসপাতালে নেয়া হয় এবং সেখানে ওই সপ্তাহের শনিবারেই সে মারা যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ইসরাইলি সৈন্যের ভাষ্যে একটি খেলনা বন্দুক নিয়ে শিশুটি খেলছিল। পরে তারা সেটি আবিষ্কার করে। এ নিয়ে মোট ৪৮৭৭ জন মৃতকে শনাক্ত করা যায়, এ পর্যন্ত আল-আকসা ইনতিফাদার শুরু থেকে মারা হয় যাদের প্রায় সবাই ফিলিস্তিনি। বাচ্চাটির বাবা ইসরাইলি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ঈদের পুরস্কার হিসাবে আমি এরকম একটি উপহার ইসরাইলিদের থেকে আশা করিনি। প্যালেস্টাইন সংবাদ সংস্থাকে চোখের জলে বাবা তার কষ্টকে এভাবে প্রকাশ করেন। তিনি ইসরাইলি সৈন্যদের বক্তব্যের জোরালো প্রতিবাদ করেন। তার ছেলের হাতে কোনো খেলনা বন্দুক সেদিন ছিল না। তার মারা যাওয়া পর্যন্ত তাকে সেদিন কোনো খেলনা কিনে দেয়া হয়নি। ঈদের পাওয়া (সম্ভবত ঈদীর টাকাটা যা শিশু বাচ্চাদের দেয়া হয়ে থাকে) তার পকেটেই ছিল, সে তখন পর্যন্ত কোনো পয়সা খরচ করেনি।

ইসরাইলি সৈন্যরা প্রথমে তার ছেলেকে কোমরে আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়। যখন সে দাঁড়াতে চেষ্টা করে তারা তখন মাথায় আঘাত করে। বাবা ইসমাইল বলেন, তিনি ঠিক করেছিলেন এদের বিরুদ্ধে একটি কেস ফাইল করবেন তার সন্তানের এই ঘটনার কারণে। পরে বাবা ইসমাইল বরং তা না করে তিনি অন্য সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার সন্তানের হার্ট, লাংগস, কিডনি, লিভার দান করে যান সেইসব ইহুদিদের চিকিৎসার জন্য যারা আজ ইসলামের বিরুদ্ধে এমন স্বরূপ ধরেছে। ভয়েস অব আমেরিকা থেকে এসব সংবাদ জানা যায়। বাবার বক্তব্য ছিল এ রকম, ইসরাইলি সন্তানেরাও আমাদের সন্তান। আমরা এটি করছি শুধু এ কারণে, কারণ আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ঈদের উপহারের সঙ্গে সঙ্গে হতভাগ্য বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। সেদিন দেখলাম এবারের ২০১১ সালের বিজয় দিবসে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে রক্তিম উপহার দেয়া হয়েছে বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের পক্ষ থেকে। তার সুদক্ষ বিএসএফ জোয়ানরা কার্পণ্য না করে একটি স্বাধীন দেশের বাসিন্দাদের ওপর তাদের নিশানা শক্তি পরীক্ষা করে চলেছে। বন্দুত্বের কী অপরিসীম নিদর্শন, কখনোই ভোলার নয়! বেশি নয়, এবার মাত্র চারটি লাশ এবং সেটি মানুষ নামধারী একবিংশ শতকের কয়টি জীবের, যারা স্বাধীনতার পর থেকেই প্রাণবন্ধুর হাতে সারা বছরই এভাবে মরছে। ৪০ বছর পূর্তির এমন দিনে স্বাধীনতার গর্বে জনতারা এভাবেই জেনে-শুনে মরণবিষ পান করে চলেছেন। হায়রে স্বাধীনতা!

Babri Masjid ko shaheed karne wale Balbir singh Islam le aaye

ফুলবাড়ী সীমান্তে অপহৃত দুই ছাত্রকে ফেরত দেয়নি বিএসএফ। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া একদম সীমান্ত সংলগ্ন বসবাসকারী দুই ছাত্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ৯২৯/৫ এলাকায় হাঁটাচলা করছিল। বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে মারধর করে, গতকালকের খবরে প্রকাশ এখনও ফেরত দেয়নি (কুড়ীগ্রাম প্রতিনিধি)। লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়ীমারী সীমান্ত থেকে এক বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বর্তমানে সে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এদিকে, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের পণ্য পরিবহন শুরু। জনগণকে পাশ কাটিয়ে একপেশে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে এই হচ্ছে স্বার্থবাদী বন্ধুত্বের অপরিসীম উদাহরণ। সত্যিই বিচিত্র এ দেশ ও তার চেতনাহীন জনতার কপাল! বাংলাদেশের সরকার মা না সত্মা বুঝতে পারছি না। নজরুলের কবিতার আলোকে বিধাতার দৃষ্টি আকর্ষণ করার আব্দারটুকু রেখে গোটা জনপদকে সচেতন হতে গাইছি—

“অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া জানে না সন্তরণ
কাণ্ডারী আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পণ
‘হিন্দু না ওরা মুসলিম?’ ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? 
কাণ্ডারী! বল ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার!”

তাই আজ যারা একটি শান্তিপ্রিয় জাতির ঘাড়ে একের পর এক হুমকি সৃষ্টি করে চলেছে, দেশের মেধাবী সন্তানকে কৌশলে হত্যা করে পথের কাঁটা দূর করছে, সীমান্ত হত্যা, প্রতিটি সেক্টরে অশান্তি সৃষ্টির জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে, দেশটির মরুকরণের প্রক্রিয়াতে ইন্ধন যোগাচ্ছে। হতভাগা দেশটিকে শুরু থেকে সব কিছু উজাড় করে দিতেই হয়, ফিরে আর পায় না কিছু, এই তার ললাট লিখন! কিছু আগের খবরে প্রকাশ “৫৫ টি ভারতীয় ছিটমহলের বিনিময়ে বাংলাদেশ ভারতে থাকা ১১১টি ছিটমহল ফিরে পাওয়ার কথা”। (ইউএনবি) তার মানে পায়নি, পাবার কথা। সবাই আজ মিছিলে লাশ হয়ে যাচ্ছে, আর কার জন্য এই ফিরে পাওয়া। এ জগতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে মনে হয় এসব কোন দিনও পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে এ জাতির ঘাড়ে চেপেছে পরীক্ষার নাকানী চুবানী দশা, পরীক্ষামূলক ফারাক্কা, পরীক্ষামূলক ট্রানজিট, পরীক্ষামূলক তিতাস। তারপর টিপাইমুখ বাঁধ করে দিতে যারা কলকাঠি নাড়ছেন, দেশের জনগণকে গিনিপিগ ভাবছেন তাদের চিন্তা করা উচিত বিশ্বকর্তার চোখকে ফাঁকি দেবার ক্ষমতা কি কোন বিবেক ধারণ করতে পারবেন? সময়ে সবাইকে এক ময়দানে হাজির হতেই হবে। সব খুটিনাটি জট জটিলতার জবাব কর্মধারীদের দিতেই হবে। পালিয়ে যাবার ফুরসত কম, এটি বলারও জো নেই। বলতে হবে পালিয়ে যাবার ফুরসত মোটেই নেই। কি ব্যক্তি কি বন্ধু কি জাতি কি সরকার। ন্যায়দন্ড বিধাতার দন্ড হয়ে ঝুলছে সবার উপর। শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র, সর্ব শাস্ত্রে বর্ণিত বিশ্ব মানবের জন্য নির্দেশিত এটি এক অনুপম সত্যকথা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ২০১৩ সালের জুনের ১৩ তারিখ লেখাটি আমার দেশ অনলাইন পত্রিকাতে আসে।

Advertisements

Tag Cloud