Articles published in this site are copyright protected.

হে নারী! সভ্যতার শুরু থেকেই সমাজ তোমার দানে ধন্য। তুমি কীর্তিমান তোমার কাজে। তোমার হাতেই কৃষিকাজ-বুননকাজের হাতেখড়ি। সত্যের আহ্বানে সাড়া দেয়া তুমি প্রথম ইসলামের নারী!

আজ অবধি তোমার এত হতাশা, এত কান্নার কথা ছিল না। মুক্তির বাণী এসেছে অনেক অনেক আগে, কিন্তু দখিনা বাতাস তা ঠিকমত পৌঁছে দিতে পারেনি বুঝি তাই, তাই আজও তোমার চোখে পানি ঝরে, হও তুমি যৌতুকের বলি। কখনও গার্মেন্টের লেলিহান আগুনে পোড়ে তোমার দেহ, কখনও সলিল সমাধি নড়বড়ে ভিতে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীর ধসে যাওয়া দালানের খোরাক তুমি। ছলবাজ বারবার তোমাকে কবজা করে রাখতে চায় তার কৌশলে; ব্যবহার করে গিনিপিগের মতো শুধু তার কুটিল স্বার্থকে পোক্ত করবে বলে। এ নকল বেড়িবাঁধ ভেঙে তোমাকে সামনে চলার গান গাইতেই হবে।
ইসলামই একমাত্র ধর্ম, যা নারীর মর্যাদা নির্ধারণ করেছে—আজ নতুন নয়। এযাবত্ পৃথিবীতে ইসলাম-পূর্ব নারীর অবস্থান ছিল বেদনায় ভরা এক শৃঙ্খলিত দাসত্বের জীবন। ইসলামই দাস-দাসীর মুক্তির নিশানা বাতলে দেয়। সব অসত্য-অসুন্দরের বিরুদ্ধে শ্রেষ্ঠত্বের দানে ধন্য তুমি নারী। ভুলে যেও না তুমি অবলা নও, তুমি বিশাল এক দায়িত্ব কাঁধে দাঁড়িয়ে আছো—তুমি কারও মা, কারও বোন, কারও প্রিয়া, তুমি বুকজুড়ানো স্বপ্নের রানী। সপ্তম শতাব্দীতে যে বাতি জ্বলেছিল, তারই পরিণতি হিসেবে নবম শতাব্দীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা আসে একজন মুসলিম মহিলার হাতে। তার নাম ফাতেমা আল ফিহরি। তার নামেই মরোক্কোর ফেজ শহরে এ বিশ্বদ্যািলয়টি গড়ে ওঠে। যেখানে বিধর্মীরাও বিদ্যা অর্জনে নিবেদিত ছিল। মধ্যযুগের সেই গহিন অন্ধকারে কেমন করে এ বাতি জ্বলেছিল? একজন আলোকধারী গুনিনের পরশ পেয়ে মরুর বুকে যে আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পড়ে, এ ছিল তারই রেশমাত্র।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একবার বলেছিলেন, বুবুজান ও ভাবীজানকে দিয়ে দেশ চলবে না—যদিও তার নিজের দলেও বুবুজানরা, ভাবীজানরা গলাগলি করে ঘুরে বেড়াতেন। এসব নীতি-নৈতিকতাবর্জিত কথা নেতারা বলেও খেলো হয়ে চারিত্রিক বলিষ্ঠতা হারিয়েছেন বারবারই। বেশিরভাগের কাজের সঙ্গে কথার সঙ্গতি থাকে না বলে জাতি এদেরে বিশ্বাস করতে পেরেছে খুব কম। যার যার সুবিধামত ওয়াজ করে বুবুজান ও ভাবীজানদের ছাড়িয়েও ভাইজানের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা দেশ-বিদেশে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে। নারী নেতৃত্বের নারীরা যদি মিথ্যাচারিতা, কুটিলতার নোংরা রাজনীতি করেন, তবে অবশ্যই তা নিয়ে বিতর্ক চলে হাজার বার। কিন্তু তার কাজ নিয়ে তাকে তিরস্কার করা, ছোট করা অবশ্যই অমানবিক।

বিবি ফাতেমা, বিবি আয়েশারা যখন রাজনীতিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন, তখন কি সমাজ তাদের বিরুদ্ধে খড়্গ তুলে ধরেছিল? কখনোই নয়। তারাও অধিকার নিয়ে জন্মেছিলেন; সমাজ বিনির্মাণে তারাও অংশীদার। সমাজের অনাচারে তারাও কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেছেন। সমাজের একপেশে বক্তব্য আমাদের নারীদের অনেক ক্ষতি করেছে এবং সঙ্গে সঙ্গে ইসলামেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। এভাবেই কালের ধারায় গড়ে ওঠা কিছু অনাচারে সত্য ধর্মটি সত্য থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। ইসলামের নারী সব কালেই স্বাধীন ও মুক্ত। পরাধীনতার শিকল তাকে নতুন করে ভাঙার কোনো প্রয়োজন নেই। সে শিকল ভেঙে দিয়ে গেছেন একজন পুরুষই। তিনি হজরত মোহাম্মদ (সা.)। চৌদ্দশ’ বছর আগে মুক্তির দিশা দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর যথার্থ মূল্যায়ন করে গেছেন তিনি। 
ইসলামের নারীরা সব দিনই মানুষ অর্থাত্ ইনসান, তাই বারবার পবিত্র কোরআনে নারী-পুরুষকে ওই নামেই ডাকা হয়েছে। ‘ওহে মানবগোষ্ঠী! তোমাদের প্রভুকে ভয়ভক্তি করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একই নফস থেকে আর তার জোড়াও সৃষ্টি করেছেন তার থেকে (অর্থাত্ সেই একই নফস থেকে), আর এই উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু নর ও নারী, নিঃসন্দেহ আল্লাহ তোমাদের ওপর সদাপ্রহরী।’ (সুরা নিসার প্রথম আয়াত)।

‘আমি নিশ্চয় বিফল করব না তোমাদের মধ্যের কর্মীদের কোনো কাজ, পুরুষ হও বা নারী, তোমরা পরস্পর এক ও অভিন্ন।’ (সুরা আলে ইমরান ১৯৪ আয়াত)। বস্তুত দুজনার ওপরই সংযত থাকার বিধান এসেছে। ‘তুমি মুমিন পুরুষদের বলো যে, তারা তাদের দৃষ্টি অবনত করুক এবং তাদের আঙ্গিক কর্তব্যগুলোর হেফাজত করুক। এ তাদের জন্য পবিত্রতর। তারা যা করে, আল্লাহ তা অবহিত। আর মুমিন নারীদেরে বলো যে, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে, আর তাদের আঙ্গিক কর্তব্যগুলোর হেফাজত করে।’ (সুরা নূরের ৩০, ৩১ আয়াত)।

ইসলাম কোনো জটিল ধর্মের নাম নয়, বরং এটি সিরাতুল মুস্তাকিম অর্থাত্ সহজ-সরল পথ। নারীরা এখানে অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারিণী। নারীশিক্ষার উত্সাহে কন্যাশিক্ষা ও বোনদের শিক্ষাদানে প্রাথমিক ইসলামের নির্দেশনাতে প্রমাণ পাওয়া যায়। ‘পড়’ প্রথম আদেশপ্রাপ্ত কথাটি নর ও নারী সবার ওপর সমানভাবে কোরআনের নির্দেশ হয়ে আসে স্রষ্টার কাছ থেকে। প্রাথমিক যুগের ইসলামের সময়টিতে দাসীরা পর্যন্ত শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকেনি। যার কারণে দেখা যায় অনেক বিদুষীবাদী সমাজে স্থান করে নিয়েছেন। এটি সম্ভব হয়েছে শুধু সমাজের এ ইসলামি উদারনৈতিক ভাবধারার কারণেই। বিবি আয়েশা (রা.) ছিলেন সে যুগের মহিলাদের কর্ণধার। প্রাক-ইসলামিক যুগ নারীমুক্তির যুগ। প্রথম সত্য গ্রহণকারী নারী বিবি খাদিজা (রা.), প্রথম শহীদ নারী বিবি সুমাইয়া, এমনি খাওলা, আয়েশা, ফাতেমা জননীরা ইসলামের অবারিত সৌন্দর্যে মুগ্ধ ললনারা এ পরম সত্যকে সাদরে সমর্থন করেন। সমাজে শিশু, নারী, বাদী এ তিন শ্রেণীকে সুসংগঠিতভাবে বিদ্যার্জনের জন্য উদ্যোগী করে গড়ে তোলা হয়। 

ইসলাম-পূর্ব যুগে দেখা যায়, নারী ছিল শৃঙ্খলিত, কঠোরভাবে দুর্দশাগ্রস্ত। তখনকার সমাজের চিহ্নিত ভয়াবহ আপদ ছিল মেয়েরা, যাদের জ্যান্ত কবর দেয়া হতো। বাবা বিনাদ্বিধায় এ কাজ করতে মনের কাছেও অপরাধী হতো না। মায়াবী মেয়েটি খননরত বাপকে তৃষ্ণা নিবারণে পানি পান করাচ্ছে। পরক্ষণেই সে পাষণ্ড বাবা তাকে জীবন্ত সেই মাটিতে পুঁতে দিচ্ছে। সমাজ কতদূর নষ্ট হয়ে গেলে এমন হতে পারে! ভেবে দেখুন, ঠিক এমনই সময়ে গোটা বিশ্বের ত্রাণকর্তারূপে আবির্ভূত হন মহামানব হজরত মোহাম্মদ (সা.) ওই আরবের শুষ্ক মরুভূমিতে। যেন যুগের প্রয়োজনেই তার আবির্ভাব। সে সমাজে লোকরা তাদের কুটিল উদ্দেশে নারীকে মনে করত পণ্য। মা নিজেই আপন ছেলের কাছে ছিল উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বাবার সম্পদ। যে সমাজে নারীদের জ্যান্ত কবর দেয়া হতো, সে সমাজেই ইসলামের মহান আদর্শের হাতছানিতে কবর থেকে নারীরা ময়দানে এসে বিজয়ডঙ্কা বাজিয়েছিলেন। কিছু বিজিত নারীর কথা উল্লেখ করব দৃষ্টান্তস্বরূপ—যাতে এ বিভাজন থেকে নারীরা প্রকৃতই নিজেকে সুস্পষ্টভাবে কৃতিত্বের অর্জনধারীরূপে চিহ্নিত করতে পারেন।

একবিংশ শতকের নারীরা সত্য উদ্ঘাটনে ইতিহাস পড়ুন, সত্য সন্ধান করুন, তাহলে দেখবেন সব তমসার অবসান খুব নিকটে। কারও কথাতে বিক্রি হবেন না। নিজের স্বকীয়তা নিজে তুলে ধরুন। আপনারা শিকারের টোপ হিসেবে ব্যবহৃত হবেন না, আত্মমর্যাদা অর্জন করে নিজেই নিজেকে অনুকরণীয় করে তুলুন। ইতিহাসের এ রকম নারীদের একজন উম্মে আমারার সাহসিকতাপূর্ণ কীর্তির কথা আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি। ইসলামের দ্বিতীয় সমর ওহুদের যুদ্ধে যে বিপর্যয় নেমে আসে, এটি ছিল মুসলমানদের জন্য অনেক বড় পরীক্ষা ও শিক্ষা। ওহুদ যুদ্ধের অগ্নিপরীক্ষায় যখন মুসলমানরা জয়ের প্রান্তে এসেও হজরতের কঠোর আদেশ ও সেনাপতির নিষেধ অবহেলা করায় প্রমাদ গুনছিলেন, এই সময় সাহাবারা, বিশেষত আনসার বীররা, এমনকি মুসলিম মহিলারা পর্যন্ত যে ভক্তি, বিশ্বাস ও ধৈর্যের পরিচয় দেন—বস্তুত এ দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে অতুলনীয় (১)।

বিবি আয়েশা (রা.)সহ অন্যান্য মুসলিম মহিলার সঙ্গে উম্মে আমারা (রা.) ও শুশ্রূষাকারিণীরূপে সমরক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে আহত সৈনিকদের পানি প্রদান এবং তাদের অন্যান্য সেবা-শুশ্রূষার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমন সময় মুসলিমদের বিপর্যয় ও হজরতকে আক্রমণের কথা শুনতে পেয়ে উম্মে আমারা কাঁধে মশক ও হাতের পানির পাত্র ছুড়ে ফেলেন এবং তীর-ধনুক ও তরবারি নিয়ে হজরতের কাছে ছুটে যান। তখন মুষ্টিমেয় ভক্ত প্রাণপণ যুদ্ধ করে হজরতের দেহরক্ষা করেছিলেন। উম্মে আমারা অত্যন্ত ন্যায়বিক্রমসহকারে উপস্থিত হয়ে বিশেষ ক্ষীপ্রতাসহকারে বান বর্ষণ করে কুরাইশদের ধ্বংস করতে লাগলেন এবং তরবারি হস্তে কুরাইশদের ওপর প্রতিশোধ নেন। শত্রুর বর্শা এবং তরবারির আঘাতে তার পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত ও জর্জরিত হয়ে পড়ে। কিন্তু মুসলিম বীরাঙ্গনা সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে নিজের কর্তব্য পালন করে যান। ওহুদ যুদ্ধের বর্ণনাকালে স্বয়ং হজরত বলেছেন, সেই বিপদের সময় আমি ডানে-বামে যেদিকেই দৃষ্টি নিক্ষেপ করি, সেদিকেই দেখি উম্মে আমারা আমাকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করছেন। এ সময় কুরাইশদের একটি ঘোড়সওয়ার হজরতকে আক্রমণ করতে এলো। উম্মে আমারা নক্ষত্র গতিতে তার ওপর আপতিত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে তাকে আজরাইলের হস্তে সমর্পণ করেন। (২)

হজরত নিহত হয়েছেন—এ গুজব শুনে মুসলিম মহিলারা সমরক্ষেত্রের দিকে ছুটে আসেন। উম্মে আয়মন এ সময় জনৈক মুসলিমকে নগর অভিমুখে যেতে দেখে তিরস্কার করে বলেন—‘মদিনার মহিলারা ইসলামের মর্যাদা রক্ষার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে গমন করছেন, আর তোমরা পলায়ন করছ! এই লও আমার অস্ত্র; তোমার অস্ত্র আমাকে দাও।’ (৩) পিতাগতপ্রাণ বিবি ফাতেমাও যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছিলেন। মুসলিম জননী বিবি আয়েশা প্রমুখ মহিলা স্নেহ ও করুণার সাক্ষাত্ প্রতিমূর্তিরূপে আহত ও আসন্ন মৃত্যুকবলিত সৈনিকদের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদের সেবা করেন, তাদের শুষ্ক কণ্ঠে পানিদান করেন। (৪) অন্যদিকে কুরাইশ রাক্ষুসীরা নরপিশাচিনীরূপে সমরক্ষেত্রে তাণ্ডব নৃত্য করে বেড়াচ্ছিল। হিংস্র নারী হিন্দা বীরবর হামজা (রা.)র মৃতদেহ থেকে কলজে বিচ্ছিন্ন করে বুভুক্ষু কুক্কুরীর ন্যায় তা চর্বণ করতে থাকে (৫)।

হজরত ও তাঁর মহামান্বিত খলিফা চতুষ্টয়ের মুসলিম মহিলারা শুশ্রূষাকারিণীরূপে সমরক্ষেত্রে উপস্থিত হন। তারা যুদ্ধের সময় আহতের সেবা ও পানি পান করান। শিবিরে প্রত্যাবর্তন করে তাদের ক্ষতস্থানগুলোয় ওষুধ লাগিয়ে ও পট্টি বেঁধে দিয়ে তাদের সেবা-শুশ্রূষা করেন। সময় সময় তারা রণক্ষেত্রে পুরুষদের অস্ত্রশস্ত্র জোগান দেন এবং আবশ্যক হলে এই বীরাঙ্গনারা স্বামী, ভাই, বাবা ও ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে তরবারি হাতে বীরত্বের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগের পৃষ্ঠাগুলো এই শ্রেণীর মহিলাদের অক্ষয় কীর্তিকলাপে উদ্ভাসিত হয়ে আছে। একদল মহিলা খায়বার যুদ্ধেও যোগদান করেছিলেন। জনৈক কিশোরী নিজের কণ্ঠমালা প্রদর্শনকরত আনন্দে গদগদ স্বরে বলতেন—আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে হজরত আমাকে এই পুরস্কার প্রদান করেছিলেন। (৬) 

ইসলাম একটি জীবনবিধান। এটি নারী-পুরুষের সুশৃঙ্খল রোজনামচা ছাড়া আর কিছুই নয়। সুবিবেচনাই এর সঠিক পথনির্দেশনা। মানবতার জয়গানই এ ধর্মের মূল সুর, মূল কথা। সব যুগেই নাস্তিকরা ধর্মের মূলে না ঢুকে ডাল-পালা নিয়ে নাচানাচি করেছে, ফেরাউন-নমরুদ ওই নাস্তিকের সেরা উদাহরণ যারা সর্বাংশে জগতজীবনে ব্যর্থতার পাহাড় গড়ে তুলেছে। তাই আজও তাদের উপস্থিতি অনেক অর্বাচীন ও পণ্ডিতের মাঝেও বর্তমান। বয়স ও অভিজ্ঞতার দীনতার কারণে তারা স্বল্প হলেও কিছু জনতা অসীমকে ধারণ করতে সব দিনই ব্যর্থ হয়েছে। সে হিসেবে বাতাসকেও তাদের অস্বীকার করার কথা। এরা অনেক না দেখা জিনিস স্বীকার করলেও ইসলাম স্বীকার করতে কৃপণ থাকে। এ তার পরাজয়ের নমুনা; তাই তো সত্যকে মিথ্যার এত ভীতি। তাদের স্বপ্ন সবদিনই তাসের ঘরের মতো ভেঙে খান খান হবে। ধর্মে যদি মানবিকতা না থাকে, তবে সেটি কোনো ধর্ম হতে পারে না। সত্যের ওপর, নীতির ওপরই এই ধর্ম সুপ্রতিষ্ঠিত। যুক্তির সঙ্গে, নীতির সঙ্গে এই ধর্মের সবচেয়ে বেশি সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব। নারী আর পুরুষ দুজনাই স্রষ্টার সুনিপুণ সৃষ্টি। স্রষ্টা ব্যতীত এরা কেউ কাউকে পূজা দেয় না। একমাত্র স্রষ্টাকে নিবেদন করতেই তারা আশরাফুল মখলুকাত, সৃষ্টির সেরা।

তথ্য নির্দেশিকা
১. মোস্তফা রচিত, মোহাম্মদ আকরম খাঁ, পৃষ্ঠা ৫৫৮
২. এবন হেশাম, হালবি, এয়াবা প্রভৃতি। গ্রন্থ- ঐ, পৃষ্ঠা ৫৬১
৩. মোস্তফা রচিত, মোহাম্মদ আকরম খাঁ, পৃষ্ঠা ৫৬৩
৪. বোখারি, মাগাজী, গ্রন্থ- ঐ,পৃষ্ঠা ৫৬৪
৫. বোখারি, আবু দাউদ, এয়াবা, ফতহুল বারি ও সমস্ত ইতিহাস গ্রন্থ; ঐ, পৃষ্ঠা ৫৬৪
৬. আবু দাউদ, কানজুল উম্মাল ও সাধারণ ইতিহাস, পুস্তক দ্রষ্টব্য, গ্রন্থ; ঐ, পৃষ্ঠা ৬২৭

নাজমা মোস্তফা

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ লেখাটি আমার দেশ ছেপেছে ২০১৩ সালের এপ্রিলের ২৯ তারিখে।

Advertisements

Tag Cloud

%d bloggers like this: