Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ হচ্ছে পুতুল পূজার কৌশল আচার।
সবাই পূজো করো। মূর্তির সামনে মাথা হেট করো, প্রসাদ গেলো,
জয় শ্রী রাম বলো। রাজশাহীর ভিসি তার মাথা বিক্রি করে দিয়েছে।
তুমিও দেবে? তাকওয়া ঈমান আর মূর্তিপূজা কি সমান সমান?
মরতে হয় মরো, বেঁচে থেকে কি করবে? মানবের মত বাঁচো।
আত্মসম্মান হারিয়ে বাঁচার চেয়ে আবরারের মত মরো।

আবরার এক বুলেট, এক দাবানল মৃত জাতীকে পথ বাতলায়।
উপর মহলের অর্ডারে মরা লাশ, সবার চোখের ছানি কাটায়।
নিজ রক্ত দিয়ে জাতির পানির প্রতিবাদ করে যায়। আর ঐ ফাঁকে
দলদাসরা শপথ নেয়, বলে সব সমস্যা পরিষ্কার,

ছলের কথা বলে ফের ধরা খায়। আবরার আবার খুন হয় এভাবে বার বার।
আবরার বলেছিল, কাবেরী নদীর পানি নিয়ে ভারতে নিজ দেশে দাঙ্গা বাধায়।
আর আমরা ফারাক্কায় অক্কা পাওয়া জাতি বেহিসাব উগলে দেব?
আমরা জানি তিস্তায় তাদের অপারগতা, আর আমাদের এ কেমন বদান্যতা?
কবির ভাষায় এক ইতিবাচক কমেন্ট আবরারের,
“পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি, এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে, আপনার কথা ভুলিয়া যাও।”

এমন সুবচন শুনেও বড় ভাই ক্ষ্যাপে উঠে, নির্দেশ দেয় ব্যাট লাগাও।
চড় থাপ্পড় লাথি হকিষ্টিক দিয়ে ডজন ডজন পদধারীরা হাত লাগায়, পিটায়।
অতঃপর সচরাচরের মত তৃপ্তির ঢেকুর তোলে, টিভিতে খেলা দেখে।
মদ পূজার উপাচার, মূর্তির সাথে যায়, সকাল রাসেল, আকাশরাও শরিক
নিষিদ্ধ পানে অভ্যস্ত তারা, সর্বস্ব অস্তিত্ব হারা নেশাতে আসক্ত ভগ্নাংশ।
এদের মেধাবী বলা ঠিক না, বিভ্রান্ত মেধার ধ্বসে পড়া প্রজাতির একাংশ।
মনে পড়ে ফরহাদ মজহার, সালাহউদ্দিন, সাঈদী, সুখরঞ্জন বালীকে
মানচিত্র পার করা দলবাধা তারা, ফরহাদ সাঈদী থেকে যান এপারে।
এটি কিভাবে, বন্ধুত্বের অপমান অপঘাতে শৃংখলিত তারা অনেকে।
হতাশ করেছে মুক্তচিন্তার অসাম্প্রদায়িক প্রতিটি বাংলাদেশীকে।

লাশ রেখে খেলা দেখা ছিল মদ্যপদের বিনোদনের অংশ
হত্যা শেষে সচরাচরের মত সাজাতে, মাদক নাটকে ব্যস্ত।
বিধি হলো বাম, কত আর সইবে, তুলে নেয় আবরারকে নিজের কাছে।
জানাজায় এলো না ভিসি, মরেছে পরের ছেলে, অসুস্থ পদ রাখাই তার একমাত্র কাম।
আর এক মার খাওয়া ভুক্তভোগী ছবি ছাপায়, যেন বেঁচে যাওয়া আবরার
হলে হলে শতাধিক সরকারী দলবাজি টর্চার সেল, গদিরাখা ক্ষমতার দখল।
ইত্যবসরে জয় শ্রীরাম রাজশাহীর ভিসির মুখে, সারা জাতি হত বিহবল।
স্কুলে শিশুদের প্রসাদ বিলায়, বিনিময়ে শিখায় জয় শ্রীরাম বোল
সিসিটিভির দায়িত্বে কৃষ্ণপদ রায়, পেটানোর নজরদারীতে অমিত সাহা।
এ জাতির সামনে পিছনে অন্ধকার দেখা। চারপাশে আত্মাহীন মূর্তিরা দন্ডায়মান।
অভিযোগ যে করবে, সে পুলিশ হলেও সরকারী বিচার সুবিন্যস্ত।
হুইপের বিরুদ্ধে ১৮০ কোটির গলদ ধরায় পুলিশ সাইফুল আমিন বরখাস্ত।
অবৈধ পথের নেতারা বলছে লেখাপড়া করো, নইলে ধড়পাকড় করবো।

আবরারের কবর জিয়ারতেও সরকারী বাধা, এ লাশ তাদের অর্জন
তারা দাবীদার। তারাই এ শিকার ধরে এনেছে, বাকীরা বাতিল।
প্রধানমন্ত্রী হুঙ্কার ছাড়েন, জড়িতরা কেউ ছাড় পাবে না ।
সাগর-রুণি, তাদের সন্তান মেঘও বিচার পায়নি।
বিচার এভাবে আটকায় থমকে দাঁড়ায়।
সরকারী মনিটরিং মানেই বিচারকে সরকার মাড়ায়।
চুনোপুঠিকে ধরে বাঘব বোয়ালকে বাঁচানো, গদি দখলের সূত্রকথা।
মুরাদ মমতাজরা আহত, হাড় গোড় ভাঙ্গা এ নব কালচার
শুনছি এটি নাকি বিজেপির সংখ্যালঘু নির্যাতন ভারতীয় আচার।
অবৈধরাই বৈধতার সব দাবীদার, বৈধরা কারাগারে মৃত্যুর দিকে যায়।
থাপ্পড় দিয়ে কান ফাটিয়ে দেয়া কালচারে দেশ উন্নয়নের মহাসড়ক।
এভাবে বুয়েটের ললাটে লেপে দিল আজ কলঙ্কের মহাতিলক।

লেখার সময়। ১৮ই অক্টোবর ২০১৯।

Tag Cloud

%d bloggers like this: