Articles published in this site are copyright protected.

5আরব দেশে প্রিয় নবীর সময়কালীন ইসলাম পূর্ব যুগের নিয়ম ছিল কোন ভয়ঙ্কর বিপদের আশঙ্কা হলে পার্শ্ববর্তী পর্বতের উপর উঠে কিছু বাক্য দ্বারা দেশের মুনুষকে আকৃষ্ট করা হতো এবং আসন্ন বিপদ সম্পর্কে আগাম সতর্ক সংকেত দেয়া হতো। যখন মক্কার কুরাইশরা পৌত্তলিকতার ঘোর অন্ধকারে ডুবে ছিল। এমন ঘোর দুর্দিনে নবী মোহাম্মদ (সঃ) আল্লাহ কর্তৃক মনোনয়ন পাওয়ার পর সাফা পর্বত শিখরে আরোহন করে মানুষকে আসন্ন বিপদ সম্বন্ধে সতর্ক সংকেত দেন। তার ডাকে সেদিন মানুষ চারদিক থেকে ছুটে আসে। তারপর তিনি সামনের বিপদ সম্বন্ধে তাদেরে সতর্ক করেন। প্রথমে তিনি বলেন, “আমি যদি বলি তোমাদের সামনে বিপদ তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে”? তারা সমস্বরে বলে, “অবশ্যই! তুমি আমাদের আল-আমিন। তুমি কোন সময় মিথ্যা কথা বলো নাই”। তারপর তিনি তাদের আগাম বিপদের সংকেত হিসাবে এই শিরকের পাপের ভুল রাস্তা ছেড়ে সব অনাচার ঝেড়ে ফেলে আল্লাহর রাস্তাতে ফিরতে উপদেশ দেন। তার সেদিনের বাণী তাৎক্ষণিকভাবে সে মুহূর্তে তাদের মর্মে না ঢুকলেও সেদিন তাদের কানে সেটি ঠিকই ঢুকেছিল। যদিও বিপথগ্রস্ত জনতারা সেদিন বিরক্তি প্রকাশ করে ফিরে যায়।

বাড়ীতে আগুন লেগে গেলে কি কেউ ঘুমাতে পারে? না, সুস্থ মানুষ হলে সেটি পারে না। একমাত্র পাগল সে সময়টিতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। এ রকম বিপর্যয়ের সময়েও ঘুমাতে পারার দক্ষতা এযাবত অনেক প্রচার মাধ্যম ও পত্রিকা কতর্ৃৃপক্ষও দেখিয়ে গেছেন। মনে পড়ে বিগত ২০০৯এর  বিডিআর বিদ্রোহের চরম সংকটের সময়টিতে যখন জোয়ানদের উপর নানা রকম চোরাগোপ্তা হামলা হয়, কিছু পত্রিকায় এমন সব খবর পাওয়া যাচ্ছিল আর কিছু পত্রিকা পড়লে মনে হতো দেশে তেমন কিছুই হয়নি। সবকিছু স্বাভাবিকের চেয়েও বেশী স্বাভাবিক। এবার প্রশ্ন হচ্ছে যেসব পত্রিকা অনেক পিলে চমকানো খবর বিলি করছিল এরা কি এসব মিথ্যে তথ্য বিলি করছিল না এসব সাজিয়ে মিথ্যে মিথ্যে সংবাদ পরিবেশন করছিল। নিশ্চয় না, বরং এতেই মাপা যায় বেশীরভাগ পত্রিকা কর্তৃপক্ষের দেশের দুর্যোগ মুহূর্তে সত্য প্রচারে নিরাসক্ত অবস্থান। একই অবস্থান বর্তমান সময়টিতেও অনেক খবরে সেই একই ধাঁচ বহাল আছে বলেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু খবরে এরকমও কেউ বা বলছেন বর্তমানের সময়টি বিগত ১০ বছরের মাঝে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, কেউ বিলি করছেন শান্তির ঘুমপাড়ানিয়া গান। অপর পিঠে বিভিন্ন খবরে প্রকাশ বর্তমানের সময়টিতে ২০০ মানুষকে মেরে গুম করা হয়েছে, স্বাধীন দেশে এরা নিখোঁজ, এসব কি শান্তির লক্ষণ না এর শুরু না এর শেষ!

দেশটির অনেক বিপন্ন সংবাদের গগনবিদারী আওয়াজ সমানেই আমরা শুনতে পাচ্ছি। সতর্ক সংকেত হিসাবে এরি মাঝে বহুবার পাগলা ঘন্টা বেজে উঠেছে, ওতে মরেছে বেছে বেছে জাতীর মেধাবী জোয়ানরা। খবরের পাতা সেদিনও খোলাই ছিল। থরে বিথরে আমরা গুণে গুণে সব সংবাদ পড়েছি, বিস্ময়ে হতবাক আমরা! দেশ শুদ্ধ বিদেশের সবাই হতবাক হয়েছি। তারপরও কি এটি বলা সঙ্গত হবে যে, এ সবকিছুই গোজামেলে  জটিলতা। এসব ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে ইহকালীন তদন্ত রিপোর্টের তোয়াক্কা করাটিও বোকামী। এই কিছুদিন আগেও মনে হয়েছে গোটা জাতীর সবাই সততার মানদন্ডে শূণ্যেতে ঝুলে আছে। বিগত ১/১১ পরবর্তী সময়কালীন আমার এক বোনের সাথে কথা বলতে গেলে সে লজ্জায় কুকড়ে উঠে বলে, আপা আমরা আর কেউই মানুষ নেই! বেছে বেছে সবাইকে সে সময় অমানুষ বানিয়ে দেয়া হয়। সবকিছুই কিন্তু দুঃস্বপ্নের আগাম সতর্ক সংকেত নয়, এটি চলমান দুঃস্বপ্নের বাস্তব প্রকাশ। অনেক সময় মানুষ বিপদের আগে দুঃস্বপ্ন দেখে। কিন্তু যখন বিপদ চলে আসে তখন সবার চোখই দুর্যোগ মাপতে পারে । “ভুমিরক্ষায় সিলেট সীমান্তে লংমার্চে জনজোয়ার। জীবন দেব জমি দেব না” ০৩ অক্টোবর ২০১১ তারিখের মাহমুদুর রহমানের এমন সংকল্পের ডাকে এ জনজোয়ার দেখে মনে হচ্ছে হতাশায় ভরা মানুষরা আজো মরে যায় নি। আজও দৃপ্ত তেজে দেশ রক্ষায় তারা নিবেদিত। ১৯৪৭ সালের গণভোটে ভারতের করিমগঞ্জ তৎকালীন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, কিন্তু রেডক্লিফের অবিচারের কারণে তা ফের ভারতের ভাগে গিয়ে পড়ে। এবার তারই পাশের অঞ্চল সিলেটের ভুভাগ আসামের হাতে তুলে দেবার পায়তারার বিরুদ্ধে জনতার এ গনজোয়ার। গনজোয়ার করার মত বহু ঘটনা চলমান সময়টিতে ঘটছে একের পর এক।

সম্প্রতি দেশ থেকে সচতন সমাজের একজন আমেরিকাতে এসেছেন, আসেন প্রায়ই তার বাচ্চারা এখানে থাকে। তাকে জিজ্ঞেস করি দেশ কেমন আছে, বলেন কেউ নিরাপদ নয়, কেউ মুখ খুলে কথাও বলেনা ভয়ের চোটে। নিজেরা নিজেরাও বলতে ভয় পায় কারণ কে কখন কি ধরে নেয় আবার জেলের ঘানি টানতে হয় কিনা? কথাটি শোনা অবদি মনে হচ্ছে দেশ সত্যি বিপদের চূড়াতে মহা বিপদ সংকেতের উপরই অবস্থান করছে। যে দেশে একদিন জনতারা মনে করেছিল বিগত শতকের সত্তুরের যুদ্ধে মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার আদায় করেছিল। সম্প্রতি একটি লেখা চোখে পড়ে “দেশটা ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে” শিরোনামে অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদির কথাটি এভাবে উঠে আসে। তার এক বন্ধু যিনি বিগত সময়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবার দেশ ছাড়ছেন এ যুক্তিতে যে, দেশের বর্তমান এমনই অবস্থা, এমন দেশের জন্য যুদ্ধ করি নি। তাই ভদ্রলোক দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচতে চাচ্ছেন। আর যারা পালাতে পারছেন না তারা কি করবেন? কথাগুলি যে কোন সচেতনকে ভাবিয়ে তুলবে। সেদিন কথা প্রসঙ্গে একজন বক্তা এরকম একটি প্রশ্ন তুলেন যে আমরা বলি স্বাধীনতার যুদ্ধ, এটি কি ঠিক? বক্তার প্রশ্ন ছিল তার মানে কি আমরা এ মাঝের সময়টিতে পরাধীন ছিলাম? ১৯৪৭সনে আমাদের বাপ চাচারা মাথার ঘাম পায়ে ঠেকিয়ে একটি স্বাধীন দেশ গড়েছিলেন নিতান্ত দায়ে পড়ে। অত্যাচারের নিগড় থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়ে তারা এটি করেছিলেন? ভারত যেখানে আজও মুসলমানের উপর হামলা করতে পিছপা হয়না সেখানে এটি খুব সহজেই বুঝা যায় তখনকার প্রেক্ষাপটে এরকম একটি দেশের প্রতিষ্ঠা কতটা যৌক্তিক ছিল। এ প্রশ্ন সেদিন বড় না হলে আমাদের পূর্ব পুরূষ হিন্দু মুসলিম এক ভারতবর্ষেই বাস করতেন। তাহলে সেদিন শুধু বৃটিশকেই তাড়িয়ে দিয়ে স্বাধীনতার সীমানা নির্ধারণ করা হত। একটি স্বাধীন মুসলিম দেশের জন্য তারা জীবনভর লড়ে গেছেন এ আমরা তাদের মুখেই শুনেছি। সেই বাবা চাচারাই আবার পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন করেছেন। সেটি ছিল পরষ্পর বোঝাপড়ার লড়াই যা কালে স্বাধীনতার যুদ্ধে রুপ নেয়। ১৯৪৭-৭১ পর্যন্ত আমরা কোন সময়ই পরাধীন ছিলাম না। ভাগ বাটোয়ারা প্রশ্নে নানান ইস্যুতে আমরা জড়িয়ে যাই আর তৃতীয় পক্ষ এর সমূহ সুযোগ নিয়ে এর সুফল তার গোলাতে তুলতে এ পর্যন্ত ব্যস্ত থেকেছে।

বিচারের নামে প্রহসন করা সেই রেডক্লিফের ভাগ বাটোয়ারাতে কিভাবে মাত্র তিনদিন পাওয়া করিমগঞ্জ বাংলাদেশের পাওনা সেদিনও ফসকে গেল এটিও ইতিহাসের আরেক কষ্টকথা। বানরের পিঠা ভাগের মত মানচিত্রের যে একটু খানি পাওয়া গেছে তাও এখন ছিবড়ে ছিবড়ে ক্ষয়ে যেতে থাকলে এর আর বাকী কি অবশিষ্ট থাকবে? এর পর পুরোটাই না বানরের পেটে যায় সেটি দেখার বিষয়। পরিবেশ পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে বর্তমানের সময়ে জাতিটি এমনই একটি সংকটকাল কাটাচ্ছে যে আজ প্রকৃতই তাদের দু’ভাগ হয়ে যাবার কথা। যেখানে একটি দেশ মনে হচ্ছে তার স্বকীয়তা নিয়ে টিকতে পারছে না, হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে চারদিক থেকে। যেখানে সার্বভৌমত্বই প্রধান প্রশ্ন, সেখানে কারা সার্বভৌমত্বের পক্ষে আর কারা এর বিপক্ষে অস্তিত্বের লড়াইএ সে রায়ই মূখ্য হয়ে দেখা দিয়েছে। আজ বিএনপি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি বা জামাতে ইসলামী কোন ইস্যু নয়, এসব বিভাগ আজ গৌন। বর্তমান সময়টি  যেন একবিংশ শতকের এ জাতির বাঁচা মরার সংগ্রাম বলা চলে। এমন সন্ধিক্ষনে হতবুদ্ধ দেশবাসীকে সঠিক সময়ে অবশ্যই সঠিক কাজটি করতে হবে। যুক্তি নির্ভর কাজ ছাড়া মানুষের অন্ধত্ব ঘোচানো যায় না। সুসময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়ের সমান। কথাটি জ্ঞানীরা না বুঝেই বলেন নাই। ধারে কাছের যেটুকু জানছি তাতে অনেকেই বলছেন দেশের জনতারা বিডিআর বিদ্রোহের ক্ষতের গভীরতা তেমন কিছুই বলতে পারে না তার চেয়ে ঢের বেশী যুক্তি তথ্য আমরা যারা বাইরে আছি জানি। কারণ আমরা সব সংবাদ মাধ্যম চষে বেড়াতে পারি, আমাদের জন্য সব দরজা খোলা। মানুষ সবকিছু আঁচ করতে না পারার কারণ মিডিয়ার সীমাহীন নিরবতা। বেশীর ভাগ পত্রিকা নিরব ভুমিকা পালন করে, সব সময় ঢেকে রেখে চলে। চাচা আপন প্রাণ বাঁচা, এরকম বাঁচার অর্থ মরণের পূর্বলক্ষণ মাত্র।

নিজের ও চারপাশের অবস্থানকে সঠিক চিহ্নিত করতে একটি বই পড়তে বলবো, বইটির নাম “গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা-বাংলাদেশে ‘র’ আগ্রাসী গুপ্তচরবৃত্তির স্বরুপ সন্ধান” লেখক আবু রুশ্দ। সে বই থেকেই কিছু পয়েন্ট আনছি। ÔRAWÕ অর্থাৎ `Research and Analysis Wing’. এদের সম্পর্কে বলতে যেয়ে ‘The illustrated weekly of India” মন্তব্য করেছে ÒRaws major triump in external intelligence were in Banglaedesh and Sikkim”। সঙ্গত কারণেই এর উপর কিছু জানা প্রতিটি বাংলাদেশীর জন্য অবশ্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্দিরা গান্ধীই ছিলেন ‘র’ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা। বেছে বেছে কংগ্রেস সমর্থকদেরকেই এখানে নিয়োগ দেয়া হতো। এটি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নাম। সারা বিশ্বেই এর নেটওয়ার্ক আছে। বাংলাদেশের মত দেশের রাজনীতিতে এরা খুব তৎপর। দৈনিক নাগরিকের ২৭ জানুয়ারী ৯২ সংখ্যার এক রিপোর্টে জানা যায় দেশের ভেতরে বাইরে বিভিন্ন স্তরে ৩০,০০০ ‘র’ এজেন্ট তৎপর। মন্ত্রী, আমলা, এমপি, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, লেখক, কবি সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পী, প্রকাশক, অফিসার, কর্মচারীই শুধু নয় এ ছাড়াও ছাত্র, শ্রমিক, কেরানী, পিয়ন, রিকশাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, পোর্টার, কুলী, টেক্সি ড্রাইভার, ট্রাভেল এজেন্ট, ইন্ডেন্টিং ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট, নাবিক, বৈমানিক, আইনজীবিসহ বিভিন্ন স্তরে তাদের এজেন্ট সক্রিয় রয়েছে। এ কিয়ামতের ময়দানে আপনার ধারে কাছে কে যে কি করছে তা আল্লাহই মালুম। তবে তার চলাবলা হালচাল দেখে তাকে চিনবার দায়িত্ব আপনাদেরেই নিতে হবে।  বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে এককপি করে এ বইটি থাকা সময়ের দাবী। তাহলে খুব অল্পে চানক্য পন্ডিতের ছলবাজ নীতিও জানতে পারবেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে কেন সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল কে গ্রেফতার করা হয়েছিল ?

বিগত শতকে সবার নিশ্চয় মনে আছে একজন নাস্তিক মহিলার কথা। যিনি সমস্ত সাহিত্য অঙ্গন জুড়ে লাফালাফি শুরু করে দিলেন যে ইসলাম এক নষ্ট ধর্মের নাম। চৌদ্দশ’ বছর ধরে প্রতিষ্ঠা পাওয়া জগতের শ্রেষ্ঠ ধর্মটিকে তিনি দুমড়ে মুচড়ে দিতে চাইছিলেন। সেদিন তারা ঐ মহিলাকে “ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলোর মত” ব্যবহার করেছে। মহিলার এ ছলরোগের কারণ কিন্তু ধর্ম ছিল না, ছিল রাজনীতি। সময় সুযোগ পেলে বইটি পড়বেন, তবে পড়াটা সবার জন্য অবশ্য কর্তব্য বলেই মনে করছি। মাত্র কয়টি পয়েন্ট আনছি সচেতন বিবেকবানদের জন্য, দেরীতে হলেও প্রতিটি সচেতনের মগজে চিন্তার উদ্রেক করার কথা। বাকী খবর বইএর ভেতরেই আছে।

(১)          যেখানে বাংলাদেশের কোন বড় লেখকের লেখাও সেদেশে ঠাই পায় নাই, সেখানে তারা তাদের কৌশলকে কাজে লাগাবে বলে একমাত্র তসলিমার লেখনীকে সাম্প্রদায়িকতার ইন্ধনে কাজে লাগায়।

(২)         ৭১ সালে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারকে গোপন সাত দফা চুক্তিতে বাধ্য করা হয়। কথিত আছে ঐ চুক্তিতে স্বাক্ষর দেয়ার পর  তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অজ্ঞান হয়ে যান। যুদ্ধের পর পরই ৭২ সালের মার্চ মাসে স্বাক্ষরিত হয় তথাকথিত পচিঁশ বছর মেয়াদী চুক্তি। গোলামী নীতির আদলে তৈরী হওয়া চুক্তিটি নামে ছিল ‘মৈত্রী চুক্তি’ যাকে এ দেশের জনগণ ঘৃণাভরে ‘গালামী চুক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

(৩)         ১৯৭৫এর পট পরিবর্তনের পর সৃষ্টি করা হয় শান্তিবাহিনী, যার দ্বিতীয় ফ্রন্ট হিসাবে ‘র’ তৈরী করে বঙ্গভূমি আন্দোলন। ছোট্ট একটি বাংলাদেশকে খন্ড খন্ড করার স্বপ্নে এসব করা হয়। পরবর্তী ঘটনার প্রেক্ষিতে জেনারেল জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শন ভারতকে সবচেয়ে বেশী বিচলিত করে তোলে।

(৪)         ৩১ আগষ্ট ১৯৯৪ সংখ্যা ‘দি নিউ ন্যাশন’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘Raw’s Role in Furthering India’s Foreign Policy’ শীর্ষক এব প্রবন্ধে মিষ্টার অশোক বিশ্বাস বলেন, বিএনপি সরকারকে বিশ্ব দরবারে সাম্প্রদায়িক সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য ‘র’ তসলিমা ইস্যু সৃষ্টি করেছে। তিনি একে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘র’এর বড় সাফল্য বলে ব্যক্ত করেন। তার ভাষ্যমতে, এই অনৈতিক তৃতীয় শ্রেণীর লেখিকাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে কলকাতার প্রচার মাধ্যম এবং তাকে তারাই পুরো আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিসহ অন্যান্য হিন্দু সংগঠনগুলো তসলিমার সমর্থনে এগিয়ে আসে। তার লেখা ‘লজ্জা’কে অবলম্বন করে আনন্দবাজার গোষ্ঠী ব্যাপক কভারেজ দেয়, তাকে পুরষ্কারে ভূষিত করে। পুনরায় ২,০০০ সালে তিনি আবারো ভূষিত হন অনন্দ পুরষ্কারে। যেখানে ভারতের আজন্ম এক বিরাট সমস্যা স্ব সম্প্রদায়ের নি¤œ বর্ণের জনগণসহ ভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে লেগে থাকা সাম্প্রদায়িক সমস্যা। ২,০০০ সালে গুজরাটে ২,০০০ এরও বেশী মুসলমান নিধনের ঘটনা, বাবরী মসজিদসহ হাজার হাজার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তাদের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার, এ লজ্জা ঢাকবার কোন উপায় তাদের নেই; এসব শত শত দাঙ্গা তাদের কৃতকর্মের চাক্ষুষ উদাহরণ হয়ে আছে। যখন বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হয় সে সময়টিতে তাদের কুকীতির কথা চাপা পড়ে যায় “চোরের মায়ের বড় গলা” নীতির তালে পড়ে। এ সময়ে কৌশলে বাগিয়ে নেয়া তসলিমা রেকর্ড তখন চড়া আওয়াজে বাজতে থাকে। এতে অপরিপক্ক বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসে উল্টোরথের গুয়েবলসি বিড়ম্বনা। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ে। বিদেশে বাংলাদেশীরা হতবুদ্ধ হন। তখনই নিউইয়র্ক টাইমসএ ছাপে “সেন্সরশিপ বাই ডেথ” লেখাতে বাংলাদেশকে ধিক্কার জানানো হয় ‘শেম’ শব্দ দিয়ে। বিষয়টি পুরানো হলেও জানবার দরকার আছে। ষড়যন্ত্র তো মোটেও পুরানো হয়নি। ওটি যদি শুরু হয় এর শেষটা এখনো চলছে। তারা এ ছলবাজ মহিলার “লজ্জা” উপন্যাসের হাজার হাজার কপি বিনামূল্যে বিলি করে। সে হিসাবে তসলিমা হলেন এক কলঙ্কিত বাংলাদেশী; ‘র’এর এজেন্ট, অতি অল্প দামে বিক্রি হয়ে যাওয়া এক সত্তা। তার লেখা ‘লজ্জা’ বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ঢাকা থেকে কিন্তু বিক্রি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। যেখানে বাংলাদেশের বই ভারতের অঙ্গনে ঢুকতে পারে না কিন্তু ছলবাজির জন্য হলে ঠিকই ঢুকতে পারে। বিজেপি মানসিকতার বুদ্ধিজীবিরা ঝোলা বেগে বয়ে বয়ে বইটি পুশসেল করে বেড়ান। এক শিল্পপতি নাকি বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বইটির আগাম কপি কিনে নেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ইতিহাসের অধ্যাপক নিজ খরচে বইটির ফটোকপি বিলি করে বেড়িয়েছেন। নির্দোষ বাংলাদেশের গায়ে কালিমা লেপে দিতে বন্ধু রাষ্ট্র কৃত কৌশলটির কথা একবার ভাবুন দেখি গোটা দেশের সচেতনরা। এসব কোন সুরুচির বিষয় নয়, যতই চানক্য পন্ডিতের কাজ হোক এসব নি¤œরুচির কাজ কোন সভ্য সমাজের এসব আচার করা শোভা পায় না। কোন সুশাস্ত্রই এসব কর্মকান্ডকে অনুমোদন করবে না। আর এরাই কিনা শ্রেষ্ঠ একটি ধর্মের শুদ্ধি চাচ্ছে আকন্ঠ নর্দমার মাঝে ডুবে থেকে। ১৯৯৩ সালের ৩১ অক্টোবর কলকাতার ‘আনন্দবাজার’পত্রিকায় তসলিমার ‘বন্দী আমি’ প্রকাশিত হয়, সেখানে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমরা কবে এক হবো, হাঁটবো বনগাঁ থেকে বেনোপোল”। মূলত ধর্মের নাম নেয়া তার সে নকল বিদ্রোহ ছিল মূলত একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার ফাঁদে আঁটা এক গভীর ষড়যন্ত্রকথা।

(৫)         চোখ কান খোলা রাখলে ধারে কাছে অনেক উদাহরন দেখবেন, আঁচ করতে পারবেন। একজন ছাত্র, পর্যটক, সাংবাদিক, বিমানের কর্মকর্তা কর্মচারী, ব্যবসায়ী, এমনকি একজন শিল্পীকেও বিশেষ প্রশিক্ষণ দানের পর পার্শ্ববর্তী দেশে বিশেষ সময়ে বা স্থায়ীভাবে ‘র’ প্রেরণ করে থাকে।

(৬)         আকর্ষনীয় মহিলাকে এ সংস্থা ইন্টেলিজেন্সে নিয়োগ করে দেশে বা বিদেশের টার্গেটকে তাদের মাধ্যমে ব্লেকমেইল করে।

(৭)         বিএসএফের সাথে মিলিতভাবে সীমান্ত এলাকায় গুপ্তচরবৃত্তি পরিচালনা করাও এ সংস্থার কাজ।

(৮)         বিভিন্ন দেশের সাথে ভারতের পক্ষে অসম চুক্তি সম্পাদন করায় এ সংস্থা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

(৯)         দেশের প্রতিভাবান তরুণ তরুনীদের মাঝে সাংস্কুতিক, শিক্ষা, কারিগরী প্রশিক্ষণ প্রদানের আড়ালে ভারতীয় চেতনার অনুপ্রবেশ ঘটানোয় এ সংস্থা তৎপর।

(১০)       ভিন দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নাশকতামূলক কাজে নিজ দেশের এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া তার উল্লেখযোগ্য কাজ।

(১১)       ভুল তথ্য উপস্থাপন, দেশের জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করা, জনগণকে হতবুদ্ধি করা, সংক্ষেপে মূল কথা হল প্রবঞ্চনা ও চাতুরীর মাধ্যমে কাজ করা তার নীতির অংশ। বন্ধু নামধারী প্রতিবেশী শত্রু দেশে এভাবে নানা ছলের মাধ্যমে ভুল তথ্যের অনুপ্রবেশ করানো হয়। উদ্দেশ্য হাছিলের জন্য ভুল গোয়েন্দা রিপোর্ট তৈরী করানো, কুটনৈতিক চ্যানেল, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশাজীবিদের মাধ্যমে আক্রান্ত দেশটিতে অনুপ্রবেশ করানো হয়। (প্রগুক্ত, অধ্যায় ৪)।

(১২)       ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক পর্যায়ে চিত্ত রঞ্জন সুতার ও কালিদাস বৈদ্য এবং এর সহযোগী আরো একজন মোট তিনজন নেতা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশকে ভারতের অংশ করে রাখার প্রস্তাব রাখেন (হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর সাক্ষাৎকার)। যুদ্ধ পরবর্তী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এবং জনার চৌধুরীর বক্তব্য ছিল তারা কিছু সংখ্যালঘু নেতা চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে।

(১৩)      দেশের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ভারতে পাচার ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত করার অপরাধে অভিযুক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কর্মী মাহাতো হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব রায় মিন্টু, কৃষি মজুর গয়ানাথ এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আয়েজুদ্দিন, কারিতাস কর্মচারী চিত্তরঞ্জন, কেরানী তাপস মিশ্র, উমা রাণী, অনুকূল বিশ্বাস উল্লেখযোগ্য। এদের অনেকের কাছেই রাষ্ট্রীয় অনেক উল্লেখযোগ্য কাগজপত্র পাওয়া যায়।

(১৪)                 আরো জানা যায় ভারতের কোন স্থানে কোন হামলা হলেই তাতে মুসলমান সংখ্যালঘুদের একতরফাভাবে দায়ী করা এটি ভারতের একচেটিয়া রোগ। এ ব্যাপারে রেডিও তেহরান থেকে প্রশ্ন করা হলে ভারতের বুদ্ধিজীবিদের একজন সাধন পুরকায়স্থ এটি স্বীকার করেন। তার কথাতে এটি ধারণা পাওয়া যায় যে, যারা বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের সাথে জড়িত তারা নিশ্চয়ই ভারতের নাগরিক। এরা আলফা, নাগা, উগ্রপন্থী, ত্রিপুরার উগ্রপন্থী, কাশ্মিরী ও বোড়োদের সবাই কিন্তু ভারতীয়। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই এসব ঘটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। (তেহরান বাংলা রেডিও, ০২/১১/২০০৮)।

(১৫)      সম্প্রতি ত্রিপুরার একটি দৈনিকের খবর: ট্রানজিটের ফলে ভারতের ৯০ ভাগ খরচ সাশ্রয় (জুটন বণিক, আখাউড়া, ব্রাক্ষণবাড়িয়া)। বাংলাদেশের ভাগ্যে কিছু না জুটলেও ট্রানজিট প্রক্রিয়ায় ভারতের পরিবহন খরচ ৯০ ভাগ সাশ্রয় হয়েছে। পরীক্ষামূলক প্রথম চালান হাতে পেয়ে উল্লসিত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ব্যবসায়ীরা। আগরতলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশের কথা’ পত্রিকায় এ কথা বলা হয়েছে ‘কম সময়, কম খরচ, খুশি রাজ্যের বাণিজ্য মহল’। আশুগঞ্জ নদী বন্দর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরাসহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। স্বপ্নের এখানেই শেষ নয়, আশুগঞ্জের মতো চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরও তারা ব্যবহার করবে। এতে তাদের পরিবহন খরচ দশভাগের একভাগ হয়ে গেছে। এটি সবচেয়ে বড় লাভ। বাজারে এখন অনেক জিনিসের দাম কমবে। ব্যবসায়ী সহ সেখানের মানুষের লাভ হবে।

(১৬)      “ফি না দিয়ে উল্টো ভুর্তকি দিচ্ছে বাংলাদেশ”: দেবপ্রিয়। ট্রানজিটের বাংলাদেশী অতি উৎসাহীরা প্রচার করেছেন বাংলাদেশ সিংগাপুর হয়ে যাবে। আর এখন ভারত তো একটাকাও ফি দিবে না উল্টো বাংলাদেশের দরিদ্র জনগণের খাজনা দিয়ে ভারতের খায়েশ পূরণ করতে হবে।

(১৭)       পরীক্ষামূলক ফারাক্কা ইস্যুর মত শুরু হয়েছে ট্রানজিটের নামে বাংলাদেশের ভুখন্ড ব্যবহার। এতে করে হাজার হাজার টন পণ্য শুল্ক ছাড়া নিয়ে যাচ্ছে। ওদিকে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজের ধাক্কায় ডুবে গেছে বাংলাদেশের এক মালিকের বালিবাহী কার্গো। বরিশাল অফিস জানিয়েছে, বুধবার রাতে ভাসানটেক এলাকার চড়খড়ি নদীতে ভারতীয় টিন নিয়ে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে যাওয়ার পথে এমভি গালফ-৪ নামের একটি জাহাজের ধাক্কাতে সাউদার্ন ষ্টার-২ নামের কার্গোটি ডুবে গেছে। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার ৬দিন পরও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ডুবে যাওয়া কার্গোর কর্মকর্তারা জানান, সাউদার্ন ষ্টার-২ নামের কার্গোটি সুনামগঞ্জ থেকে বালু বোঝাই করে যশোহরের নওয়াপাড়া যাচ্ছিল। কার্গোর মালিক জানান তার ২ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের কার্গোটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এতে তার অর্ধকোটি টাকা ক্ষতি হবে।

(১৮)      মাহমুদুর রহমানের লেখা “ভারতের ভূমি আগ্রাসন” নামের বেশ বড় লেখাটি গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি দেশবাসীর পড়া উচিত। ‘দৈনিক ইনকিলাব’ পত্রিকার ১৮ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত লিড ষ্টোরির শিরোনাম ছিল “বাংলাদেশের জমি চলে যাচ্ছে ভারতের অংশে”। রেডক্লিফ রোয়েদাদের আওতায়ও যা পাওয়া গেছে তাও বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারছে না। দক্ষিণ তালপট্টিতে জেগে উঠা ভূখন্ডও ভারত অপদখলে রেখেছে। জোর যার মুলুক তার এ নীতি কি বর্তমানের একবিংশ শতকের মূল নীতি হয়ে আছে? দক্ষিণ তালপট্টিকে “নিউ মুর দ্বীপ” এবং পূর্বাশা নামে অঞ্চলটি তাদের বলে দাবি করে ১৯৮১ সালে ভারত পতাকা ওড়ায় ও একটি অস্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্পও স্থাপন করে।

(১৯)       “সাপ্তাহিক বিক্রম” ম্যাগাজিনের এক পত্রলেখক ৯-১৫-৯৩ সংখ্যাতে বলেন, “কর্শশালার শেষ দিন ইন্দোনেশিয়া থেকে আগত সে দেশের বিখ্যাত মোহাম্মদীয়া পার্টির বৈদিশিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ মোঃ হাবীব খিরজিন আমাদেরকে তসলিমা নাসরিনের ঠিকানা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। অবাক হবার পালা শেষ হলে তিনি বলেন এক ভারতীয় কুটনীতিক তাকে এ নাম ধরিয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন সময় করে তিনি যেন তার সাথে দেখা করেন”। তারিখটির দিকে খেয়াল করবেন বলতে গেলে এটি ছিল তার ছলবাজির শুরুর সময়, আজকার অবস্থান নয়।

(২০)      সবার শেষে ভারতের একটি পত্রিকার খবরে প্রকাশ রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘের নিয়ন্দ্রণাধীন শিশু মন্দির, স্বরস্বতী মন্দির, প্রভৃতি স্কুলের পাঠ্যবইএ ভারতের মানচিত্রে নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, বার্মা, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ভারতের অন্তর্ভূক্ত দেখানো হয়েছে। ঐ মানচিত্রের নাম দেওয়া হয়েছে “পূণ্যভূমি ভারত” (অবগুন্ঠন উন্মোচন, আসিফ আরসালান, দৈঃ সংগ্রাম, ৩রা ডিসেম্বর ১৯৯৮ সাল)

উপরের এ বিশটি পয়েন্ট যে কোন সচেতনের ঘাম ঝরিয়ে দিবে অতি অল্পেই। ১৯৯৮ সালের দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশ হওয়া আসিফ আরসালানের কলামটি কি এভাবেই বাস্তবতার দিকে মোড় নিচ্ছে? জঙ্গি মৌলবাদী মৌলবাদী বলে এত চিল্লাফাল্লার কি এসবই কারণ কি না তাও খুঁজে দেখতে হবে। ভারতের মৌলবাদী আর বাংলাদেশের মৌলবাদীর মাঝে আকাশ পাতাল পার্থক্য। ওরা ধর্মের ঘর ভাঙ্গে আর এরা প্রতিরোধ করে, তা যে কোন ধর্মেরই হোক।

 

নাজমা মোস্তফা,  অক্টোবর ০৬, ২০১১।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: