Articles published in this site are copyright protected.

Archive for February, 2011

ফেলানী

তুমি তুচ্ছ ফেলে দেবার মতো এক আবর্জনা ছিলে বুঝি?

তাইতো কুড়িগ্রাম জেলার অনন্তপুর সীমান্তে আজ ঝুলছে তোমার লাশ!
ভাবতে অবাক লাগে কত যে বেদনাতে কত কষ্ট বুকে নিয়ে জন্মদাত্রী মা এমন একটি নাম রেখেছে খুঁজি
লক্ষ কোটি দামের সন্তান মার, তিল তিল করে গড়েছে আদরে মমতায় সাকুল্যে ১৫ বছরের পুঁজি।
পড়ন্ত বিকেলের লাল নীলের জমিনে যে খুব সহজে মিশে গিয়েছিল বিকেলের রোদ্দুরে।
লাশ হয়ে ঝুলে থাকা ওড়নাতে প্যাঁচানো তোমার অবয়বটা, একখান বাংলাদেশ।
কথা ছিল বধূ সাজিবার লাল চেলী কেনা হলো না, ততক্ষণে সব শেষ।
তুমি ছিলে ঐদিনই কাঁটাতারের নেটের খাঁজকাটা তারের বুনটে ঝুলতে থাকা লাশ।
তারিখটা কি ভুলতে পারে কোনো বাংলাদেশী ৭ জানুয়ারির মাত করা সব ছলাবলা।
ঠিক এরকম সময়ে রিভিউ দেখছিলাম একটি বইয়ের, ছিল জগতের সব কাটা ইতিহাসের কথা।
বড় ছেলের সাথে আলাপ করি, ‘এটি কেমন হয় যদি ফেলানীকে প্রচ্ছদে আঁকি?’
বুঝতে পারছি না কিসে যে ঘুচাবো এ বেদনা, এ শতাব্দীর প্রথম দশকের পাওনা।
আমি কি জানতাম এর চেয়ে বড় কষ্ট বড় যাতনার চাপ আমার সামনে আসছে।
তাই আজ আর প্রচ্ছদ নয়, আমি কবিতা লিখছি। প্রতিটি কষ্টে একটি কবিতা।
এবার মনে হচ্ছে একটি নয়, দুটি নয়। হাজার হাজার হাতকে এক করতে হবে।
প্রথম খবরে পেলাম ফেলানী তুমি পানি চেয়েছিলে, তারা দেয়নি।
তারা পানি নিতে জানে দিতে জানে না।
পরে জানলাম—না, খবরটি ছিল এলোমেলো।
প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দিতে হলে এরকম করতেই হয়।
আর সত্যি তো তাদের কোনো ইতিহাস বলে না তারা কোনো কালে তোমাদের সাথে সদাচরণ করেছে বলে।
দালালের ভাগ ঠিকই তারা ওঠায়, কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়েও তোমাদের ঘামে ঝরা পয়সা থেকে।
তারা সবদিনই উন্মাদ, জমিদখল করতে ফসল তুলে নিতে সবদিনই তত্পর, তুখোড়, মেধাবী।
তারা ভগবান ঈশ্বর মানে না। তারা নিয়মনীতি চেনে না। তারা শুধু মারতে জানে।
কারণ তারা অমর। তারা কোনোকালেও মরবে না।
তাদের কোনো মা বোন নেই। কোনো ধর্ম নেই। তারা এ ধর্মেই ওস্তাদ।
তারা শুধু মানুষ মারতেই জানে। ধামাচাপা তারা দেবেই। ওটিই তাদের সেরা ধর্ম।
তারা এভাবেই বীরের জাতি। তোমাকে পানি দেবেই-বা কেন?

felani killing in Bangladesh India border part 1.

 

তারাই তোমার পানি শুষে নিয়েছে। তারা তো কসাই। মৃত্যুর নাম তাদের জানা নেই। তারা মরবে না। তারা চিরজীবী। সবদিন তারা প্রহারায় থাকবে। নইলে তাদের হৃদয় কাঁপতো! ভগবান ঈশ্বর নামের একজন তাদের যদি থাকতো তবে, তাদের অন্তর সামান্য হলেও কাঁপতো! তারা তো তাদের বিশ্বাসের কবর দিয়েছে, মানব নামধারী জীব হত্যার তারা অনুমোদন পেয়েছে। শক্ত হাতে তারা সবদিক সামলাতে পারছে। বিবেক? ভগবান? ভবিষ্যত্? সব যেন তাদের দখলে।
তাদের অন্তর কাঁপে না কারণ তারা বীরের জাত। সীমান্ত পাহারা দেয় আর দুর্বল মানুষ দেখলে শকুনের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। কি বাহাদুর সম্রাট এরা। তারা জানে না এপারে এককালে প্রকৃত বীরের হুঙ্কারে সাততলা দালান ধসে গেছে। শোষকেরা নিজের শিকারের অর্জন ফেলে পালিয়ে বেঁচেছে। সেদিন ওরা কি করেছিল জানো, আপন অহংবোধে গর্বিত হয়ে একটি কচি বাচ্চার আকিকা উত্সবে পশুর মাংসের গন্ধ পেয়ে তাদের মানবতা উবে গিয়েছিল। জবাব দিয়েছিল ঠিক এভাবে, শোধ নিয়েছিল ওই শিশুটির বুকে ছুরি বসিয়ে রক্তে মৃত্তিকা লাল করেছিল। তিউনিসিয়ার বেন আলিরা আজ পলাতক! কেন? একই অপরাধ তাদেরও। কীভাবে ইতিহাস কথা বলতে জানে, দেখো! ইন্টারনেট, টুইটার কত সব নতুনের আনাগোনা। ছলবাজ আজ আবদ্ধ, যখন বিধাতা উদ্যত হয় তখন আর কাঁটাতারের বেড়া লাগে না। ওরা এমনি এমনি ধরা পড়ে যায়। হোঁচটে হোঁচটে আটকায়, চলতে আর পথ পায় না। দু’চোখে আঁধার দেখে, পুরু লেন্সের চশমা চোখে, তারপরও।

ফেলানীরা চশমা পাবে কোথায়? আঁধারেই দালাল গুনে গুনে পয়সা নেয়। সব সাজানো আছে কাঁটাতারের বেড়া, মই, টাকা, দালাল ওসব বিএসএফ দেখে না, যদিও ফেলানীকে ঠিকই দেখতে পায়। কোন ফাঁকে যে দালাল এসে মই ফিট করে যায়, তা দেখে না বিএসএফ, ওটি দেখা তার কম্ম নয়। তখন আর তার গুলি বের হয় না। কাঠের তৈরি মই কেমন করে পাখির মতো উড়ে এসে তারের দু’পাশে ফিট হয়ে গেল? নুর হোসেন পার পেয়ে যায়, ছিটকে হলেও বাংলার মাটিতে গড়ায়, কিন্তু ফেলানী বিএসএফের হাতের মুঠোয়। সন্ধানী চোখে কোনো সময়ই হিসাবের বাইরের জিনিস বিঁধে না। অন্য কোনো কিছুর ওপর কোনো লোভ নেই বিএসএফের। তাদের শকুনীর চোখ শুধু ফেলানীকেই খোঁজে। আর ওই ফেলানীকে খুঁজে বের করার জন্য কত সুন্দর করে সাজানো হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া, কাঁটা কাঁটা জালি দেয়া। গোটা বাংলাদেশীকে খাঁচায় আবদ্ধ করা যায় খুব সহজে। বেচারারা যাবে কোথায়? খাঁচাতে আবদ্ধ হয়ে মরবে। সত্যিই বড়র পিরিতি বালির বাঁধ।

চেতনহীন এ জাতি একদিন স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল সেটি ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায়, কিছুটা আমরা চোখেও দেখেছি। ফেলানী কতটুকু স্বাধীনতা নিয়ে মরলো, জানতে বড় ইচ্ছে করে। কত কষ্টে কত নিপীড়নেই না ফেলানীকে মরতে হলো বন্ধু নামধারী পাষণ্ডদের হাতে। ‘আমাদের সময়’ তার চরম খবরটি বয়ে এনেছে। ইন্ডিয়ান বিএসএফ রাজাকাররা ফেলানীর সর্বস্ব-স্বাধীনতা, সততা, নারীত্ব লুণ্ঠন করেছে। বিএসএফ নামধারী এমন চরিত্রহীন পাহারাদারদের বিচার কি চাইবে হতভাগ্য এই বন্ধুভাগ্যে গর্বিত জাতি? তিউনিসিয়ায় একজন অসহায় ফল বিক্রেতা নিজের পরিজনের ভরণ-পোষণের মতো কঠিন কাজটি সহজভাবে করতে পারেনি বলে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে জনতার বিবেকে নাড়া দিয়ে গেছে। ফেলানীর এ করুণ মৃত্যু কি আমাদের প্রতিবেশী এবং বন্ধু চিনতে সাহায্য করবে? এখানে কে বেশি সত্, বলবেন বিচারকরা? ফেলানী, না বিএসএফ? অনেকের মন্তব্যে থাকে যুক্তির তুবড়ি, ফেলানীই তো দোষী কারণ সে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়েছে। বাহারে বাহা! আসল লাভটা কার গোলাতে উঠছে ভাইরা, দেখবেন? কাঁটাতারের বেড়া+দালাল+টাকা+মই+ভোগ+নগদ আসামির কাছে পাওয়া টাকা+ দ্রব্যাদি+লাশ। একমাত্র লাশ ছাড়া কি আর কিছু ফেলানীর ভাগে পড়ে?
ফেলানী তুমি কি পার না মা, তিউনিসিয়ার সেই ফল বিক্রেতার মতো গোটা জাতির গায়ে আগুন ধরিয়ে দিতে?
তুমি মরে বড় বাঁচা বেঁচেছো মা, গোটা জাতি তোমার বন্দনা সুরে ক্রন্দন করছে।
সবাই তোমাকে চিনেছে, তুমি আজ আর তুচ্ছ অপৃকষ্ট নও, তুমি আজ বাংলাদেশের আর এক নাম।
মার্কিন সাংবাদিক স্কট কার্নির মন্তব্য এটি কোনো ক্রাইম স্পটে নয়।
সীমান্তের বাকি হত্যার সাথে একে একাকার করাটাও ঠিক নয়।
বিএসএফ খুব কৌশলে চাইছিল তোমাকে মুছে দিতে রাতের আঁধারে।
লুকাতে তাদের সব অপকর্ম, বিধাতা ওঁত্ পেতে ছিল, তাই তো কিছুই লুকানো গেল না।
‘আমাদের সময়’ জানান দিল গভীর গোপন কথা, ভাঙালো সীমান্তের নীরবতা। তুমি ধর্ষিতা ওদের হাতে।
সাংবাদিক শাহিন প্রথম সংবাদ এনেছিল, অতঃপর বেলা বেশ গড়ালে সেই স্তম্ভিত করার খবর জানলো জনতা।
বানারবিটা গ্রামের অনেকেই জানতো, এবার ইন্টারনেটে, প্রযুক্তিতে তা ছড়ালো পৃথিবীর অপর প্রান্তে দ্রুতলয়ে।
ভাগ্যের ফেরে ফেলানীরা লটকায়, আরও কত শত এভাবে আড়ালে থেকে যায়
ছিহ! লজ্জায় মুখ দেখায় কীভাবে জানি না, দেখতে কতই না কদাকার কুৎসিত ওরা?
ওরা কলঙ্কিত! আর কতকাল ড্রাকুলার মতো বেঁচে থাকবে এ লজ্জা নিয়ে। ওয়াক থু!
তাও আবার আমাদের সীমান্ত ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকবে কাঁটাতার বরাবর।

maxresdefaultঘেন্না লাগে বাতাস এসে জানান দিয়ে যাবে তাদের দুর্গন্ধের পুঁতিময় গন্ধ ওই কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে। আমাদের পবিত্র অঙ্গনে মসজিদের চত্বরে মোয়াজ্জিন আকবর আলীর আজানে উড়িয়ে নিয়ে যাক সে দুর্গন্ধের নারকীয় পাপ। নরক এদের জন্যই সাজানো হচ্ছে সৃষ্টির শুরুর কাল থেকেই। এভাবেই তারা প্রস্তুত হচ্ছে ঘরে ঘরে পাপে পাপে আকণ্ঠ ডুবে তারা তাদের প্রস্তুতি সারছে। ভয় পেয়ো না ফেলানী! তুমি মরে জিতে গেছ! প্রকৃত মরণ হয়েছে ওদেরই। সমস্ত জগত্ সভ্যতায় ওরা কীটসদৃশ জীব হয়ে বেঁচে রইবে, ওরা নরকের কীট, ওরা জীবন ভর নারকীয় সুখে পুড়ে মরবে। ফেলানীর নানা কবিরাজ রশিদ আলী নিজ চোখে সরিষা ক্ষেতে ফেলানীর অপমানের রক্ত দেখেছে, বেচারা জীবনের এক বিরাট অংশ কাটিয়ে আপন নাতনীর নির্যাতনের চিহ্ন দেখার সাক্ষী হয়েছেন, নানী খোদেজা বেগম নিজ হাতে গোসলে তার সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন! বানারবিটা গ্রামের বাবা নুরু হোসেন কেমন করে তুমি ভুলবে তোমার কচি মেয়ের সুকরুণ কান্না! তুমি কি জানো তোমার কন্যাই প্রকৃত এ জাতির করুণ চিত্র তুলে ধরেছে বিশ্বের দরবারে? তুমি চা বিক্রেতা, কখনও ইঁটের ভাটায় তোমার কাজ—এই তোমাদের পারিবারিক পরিচিতি।

তোমার ফেলানীর প্রকৃত পরিচয় কি তুমি পেয়েছো? সে আজ ইতিহাসের এক মাইলফলক! সে আজ বিশ্বের দরবারে এক নিখাদ সত্যের নাম। একটি যুদ্ধ জয়ের পর একজন বিজয়ী সৈনিক যা লাভ করে তোমার মেয়ে ফেলানী তা-ই অর্জন করেছে। সে আজ বিজয়িনী, গরবিনী সে আজ মহীয়সী ফেলানী। স্বাধীন দেশ যে কি পরিমাণ পরাধীন হয়ে আছে সেটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল ফেলানী! গোটা জাতিকে ফেলানী দেখিয়ে দিয়ে গেল কেমন করে তোমরা এমন দুর্বল হয়ে গেলে? এমন মৃতবত্ একটি নপুংসক জাতি হয়ে গেলে, কেমনে? মনে হচ্ছে এ জাতি আত্মমর্যাদা মাপার স্কেল আজ হারিয়ে ফেলেছে, দলে দলে যুদ্ধাবস্থা লেগে আছে কে বন্ধু আর কে শত্রু সেটি চিহ্নিত করতে সবাই ব্যর্থ হচ্ছে, ফেলানী সেটি সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল। তারপরও যদি তোমরা চোখে না দেখ তবে চিকিত্সকের কাছে যাও। অপারেশন তোমাদের জন্য জরুরি। অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোনো চিকিত্সা তোমাদের সারিয়ে তুলতে পারবে না। তোমরা দেখতে শেখো বাইরের ও ভেতরের দৃষ্টি দিয়ে। যে জাতি অতীত থেকে শেখে না এবং যে জাতি ভবিষ্যত্ দেখে না এরা কখনোই কোনো উত্কৃষ্ট জাতি হতে পারে না। আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকাই হচ্ছে মনুষ্য জনমের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

উল্লেখ্য, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১১ “আমারদেশ” পত্রিকায় এ গদ্য কবিতাটি ছাপে ।

নাজমা মোস্তফা,  লেখার তারিখ ২৭ জানুয়ারী ২০১১।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ছয় বছর পরের কষ্ট।  আজ ২০১৭ সালের মার্চ মাস। সীমান্ত হত্যায় স্বাধীন দেশ তার নাগরিকের স্বপক্ষে দাড়াবার যুক্তি নিয়ে প্রতিবাদী হয় সবদিন কিন্তু গোলামী নেতৃত্ব থাকলে তা ওভাবে সম্ভব হয় না। এর উত্তম উদাহরণ হতে পারে বাংলাদেশ। ইত্যবসরে অবৈধ চোরাপথে আসা সরকার হাসিনা ও নির্দোষ কিশোরী ফেলানী দুটি নাম বিপরীত ধর্মী আচরণে ইতিহাসের নামফলকে উঠেছে। দুজনাই এক চিহ্নিত পক্ষের কেউ দালাল কেউ নির্দোষ আসামী। একজনকে ডাকছে বাংলাদেশের প্রতিকী নামে আর অন্যজনকে জনতারা সন্দেহ করছে নতুন নাম দিচ্ছে, লেন্দুপ নামে ডাকছে ! বড় কষ্টে কলিজার গভীর থেকে জনগণ এ নতুন নামকরণ করেছে। একই গুলির প্রতিবাদে চেতনধারী নেপালও ঐ কষ্টের দাগকে যেন স্পষ্ট করছে বিশ^ ময়দানে। গুলি খাওয়া গবিন্দ গৌতমের হিন্দু অধ্যুষিত নেপাল হিন্দু অপরাধী ভারতের দিকে তীরটি বিবেক বরাবর ছুঁড়ে দিয়েছে। নির্যাতীতকে উপযুক্ত মর্যাদা দেবার চেষ্টা করেছে, এটি প্রমাণ করে তারা আজও সোজা মেরুদন্ডে ভর করে দাঁড়াবার ক্ষমতা রাখছে।

যেখানে বাংলাদেশ ভয়ঙ্কর সময় পার করছে, লেন্দুপ ভাইরাসে মেরুদন্ড বেঁকে আছে। যে ফেলানী দেশসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ঝড় তুলেছিল, তাকে দাবিয়ে রেখেছে সব ধুরন্ধর, আজ ছয়টি বছর পার হচ্ছে। উল্টো হত্যাকারী বিএসএফ অমীয় ঘোষকে নির্দোষ সার্টিফিকেট দিয়ে সাধু বানানো হয়েছে। ফেলানীর লাশই ভারতের শেষ লাশ নয় ওটি শুরুও নয়, ওটি একটি স্বাধীন দেশের লেন্দুপ ঘটিত অর্জিত সময়ের বড়দাগ। ধারাবাহিক ফেলানীদের কিছু হিসাব দেখতে পারেন পাঠক, ২০১৩ তে পড়ে আরো ২৯ লাশ, ২০১৪ তে সেটি বেড়ে চলে ৩৫-৪৪ তে পৌছায়। ২০১৬তে যোগ হয় আরো বাড়তি ২৯ লাশ। থেমে নেই লাশেরা, চলছে ২০১৭, ইত্যবসরে প্রথম দুমাসে পুরো হয়েছে আরো ৪। তিনদিক বরাবর মানচিত্র ঘিরে রেখেছে ভারত, গিলে গিলে অবস্থায় রেখেছে, একটি নির্যাতীত দেশ বাংলাদেশকে। দেখুন মাপুন কি ভয়ঙ্কর এ বন্ধুত্ব! ঐ দেবতারা লাশ ছাড়া ভোগে নারাজ! একটি স্বাধীন দেশে এভাবে সারা বছরই দেশবাসী লাশ জমায়। এটিই একবিংশ শতকের বন্ধু নামধারী প্রতিবেশীর লাশ খেকো বিলাস!

Advertisements

Tag Cloud