Articles published in this site are copyright protected.

Jajadi aidsদুর্যোগের মহাসংকেতবানী প্রচার করা হয় যখন ঘুর্নিঝড় হামলা করার প্রস্তুতি নেয় এবং এর মাত্রা চিহ্নিত করা হয় দুর্যোগের মাত্রাবুঝে এবং সেটি যত আগে নির্ধারণ করা যায় ততই মঙ্গল। কত নম্বর সংকেত ঘোষণা করতে হবে সেটি অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে নির্ধারণ করে দিতে হবে। যাতে মানুষ আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে। প্রস্তুতি থাকলে অনেক বিপর্যয় মোকাবেলা করা সম্ভব বা অনেক বিপদ এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব। নানান বিপর্য়য়ের মুখোমুখি দেশটি এক না এক সমস্যায় আত্রান্ত সব সময়ই। এরকম এক সমস্যার নাম এইডস। অনেকেই জানেন আবার অনেকেই এর গভীরে হয়তো ঢুকেন নি। কিন্তু এর গভীরে ঢোকার প্রয়োজন এর প্রতিটি সদস্যের অবশ্যই, অনন্ত তাকে জানবার জন্য। সে কেমন অতিথী, কতটুক সর্বনাশ একজনের সে করতে পারে এবং কিভাবে তা করা সম্ভব? অতি অবশ্যই এটি পাঠ্য তালিকায়ও সহজভাবে আগামীর ভবিষ্যত সন্তানের সামনেও তুলে ধরা দরকার। কি কি পন্থা অবলম্বন করলে এর বিপদ থেকে বাঁচতে পারবে তাও প্রতিটি জনতার জানবার দরকার এবং এ অধিকারও তার আছে। একজনের পক্ষে সম্ভব নয় সব জটিলতা নিজের থেকে জানা। বিশেষ করে আমাদের জনতারা এত সচেতনও নয় এবং যথেষ্ট প্রবাসীরা আমাদের সমৃদ্ধ করে চলেছেন অনুক্ষণ সেখানে তারাও এর প্রচারে অনেক উপকার পেতে পারেন। অনেক সময় এসব প্রবাসীর মাধ্যমেও এ রোগের ব্যাপ্তি হতে পারে এটিও উড়িয়ে দেবার উপায় নেই।

ঘাতক ব্যাধি এইডসএর পরীক্ষা নিরীক্ষায় আমাদের প্রায় অর্ধসহস্র কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও গত ১৪ বছরে রোগীর সংখ্যা চিহ্নিত করা হয়েছে মাত্র ২৪৮ জন। এইডস সম্পর্কে সাংবাদিক নজরূল ইসলাম মিঠু তার এক গবেষণামূলক নিবন্ধে বলেছেন, গত বছরের হিসাব অনুযায়ী সারা বিশ্বে ৪ কোটি ২০ লাখ লোক এইডস ভাইরাস বহন করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, গত বছরে এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ লাখ। ২ হাজার সালে এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩০ লাখের বেশী লোক। এ নিবন্ধ অনুযায়ী এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২ লাখ যা গড়ে বছরে ১০ লাখ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ও কম্বোডিয়ায় এইডসএর প্রাদুর্ভাব সবচাইতে বেশী। এছাড়া বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেশ ভারত ও চীনে এইডসএ আক্রান্তের হার প্রতি বছর মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু ভারতে সরকারী হিসাবে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩১ লাখ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশী উন্মুক্ত সীমান্ত থাকা সত্ত্বেও ১৩ কোটি লোকের দেশে কিভাবে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৮ জন হয় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। অথচ বিদেশী বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশ মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।

মারাত্মক এইডস ঝুঁকির আশংকা রয়েছে প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে। ভৌগলিক অবস্থার কারণে এবং প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে এইডস ঝুঁকির আশংকা বেড়ে চলেছে। এইডস প্রতিরোধে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা জরূরী এবং সর্বাগ্রে জরূর এর সম্পর্কীত আনুষাঙ্গিক জ্ঞান। এরকম একটি জটিল বিষয়কে গুরূত্বের সাথে নেয়া সময়ের দাবী। একে রেখে ঢেকে রাখার কিছু নেই। বরং জনতার মাঝে এটির সঠিক বাস্তবতা এবং এর প্রচার দরকার। অজ্ঞানতার, প্রচারহীনতার, কুসংস্কারপ্রিয়তার কারণে অনেক ক্ষেত্রেও দেখা যায় আমাদের জনতারা পিছিয়ে আছে। যেখানে আমাদের সামর্থ কম, সমস্যা হলে তা মোকাবেলা করার মত পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক নড়বড়ে অবস্থানে অন্তত সচেতনতা অনেক বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। এ ব্যাপারে চিকিৎসকরাও ভালই ভুমিকা রাখতে পারেন। তবে এটি অবশ্যই করতে হবে সংগঠিতভাবে, প্রচারণার মাধ্যমে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকির মাঝে আছে। ঢাকা, ১২ই মে ২০০৩: তারিখের এক খবরে প্রকাশ বাংলাদেশ মরণঘাতি এইডস রোগীর সংখ্যা তেরো হাজার বলে স্বীকার করা হচ্ছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। রোগটি চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অভাবের কারণে এইডস জীবানুবাহী অনেকেই নিজেদের অজান্তে এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে। গত রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তথ্য পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন গবেষণাপত্রের বরাত দিয়ে কর্মশালায় বলা হয়, বাংলাদেশে এইডসএর ঝুঁকি মারাত্মক। কারণ বাংলাদেশের তিনদিকে ভারত ও একদিকে মায়ানমার। এ দুটি দেশেই এইডস আক্রান্তের সংখ্যা মারাত্মক অবস্থায়। কর্মশালায় উপস্থিত বিশেজ্ঞরা অভিমত দেন আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী এইডস রোগীর সংখ্যা ২৪৮ জন এর মধ্যে মারা গেছে ২১ জন। মরণঘাতী এইডস এর ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেনও  স্বীকার করছেন যে ভৌগলিক ও আর্থ সামাজিক কারণে বাংলাদেশে এই এইডস ঝুঁকি মারাত্মক।

সর্বশেষ জরিপে গত জুন মাসে প্রাপ্ত সরকারী তথ্যে এ আতংকের কথাও বলা হয়েছে এবং এর প্রতিরোধের সময়ও ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। জরিপে রোগটির আক্রমণ আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার স্পষ্ট আলামত পাওয়ার পর নীতিনির্ধারকেরা এ দেশে এই পরিস্থিতিকে ‘কনসেনট্রেটেড’ বা ‘ঘনীভূত’ মহামারী হিসাবে দেখছেন। তার মানে এখানে এই রোগের প্রাপ্ত উচ্চহারের আচরণগত পরিবেশের লক্ষণ সুস্পষ্ট। চতুর্থ পর্যায়ের জরিপের ফলাফলে প্রকাশ বাংলাদেশে রোগটি ছড়ানোর ক্ষেত্র সর্বাধিক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইডসের  মতে বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা তের হাজার নির্ণয় করা হয়েছে। এই রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি হলে রোগী তার প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে যে কোন সাধারণ রোগেই সে আক্রান্ত হলে বাঁচবার সম্ভাবনা একদম শুণ্যেতে আসে। এ রোগের এখনো কোন চিকিৎসা নেই। তবে এই জীবানু বহন করেও কিছু নিয়ম মেনে এবং তার চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘদিন বাঁচা যায়। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথমে একজন পুরুষের শরীরে এই রোগ ধরা পড়ে। গত মার্চে শ্রীলঙ্কায় এইডস প্রতিরোধের এক সভায় বাংলাদেশকে ঝুঁকির দিক দিয়ে এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ বলে নির্নয় করা হয়।

প্রথমত বাংলাদেশ মাদকের এক ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার বদৌলতে দেশটির আনাচে কানাচে মাদকের ব্যবসা জমজমাট। এর সূত্রে দেখা যায় অনেক সময় রাস্তার টুকাইও অতি অল্পে কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসের লালনাগার হিসাবে একটির সাথে অন্যটি অতোপ্রোতভাবে জড়িত। টুকাই হিসাবে তার অর্জন এতো হয় যে, সে তখন আরও  শত টুকাইএর আদর্শ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এইডস রোগ এর কারন ও এর ইতিহাস ।

ঝুঁকিপূর্ণ জনতাদের মাঝে সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণের কারণে এ রোগ হু হু করে বেড়েই চলেছে। এ রোগটি প্রধাণতঃ রক্তবাহিত রোগ। যৌন ও রক্তের মাধ্যমে এ রোগ দেহ থেকে দেহে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের কোটি কোটি শিশুও আজ এ রোগের শিকার। আফিকা মহাদেশটি যেন এর জন্য এক অভয়ারণ্য পেয়ে গেছে। ‘এক মিলিয়ন এইডস আক্রান্ত অনাথ শিশুর মাঝ থেকে একটি মাত্র শিশু একটি বাঁচবার আবাস খুঁজে পেল’ মানে একটি ঘর পেল, লিখেছেন ম্যালিসা ফ্যা গ্রিন। ম্যালিসা এবং ডন নিজেরাই এই মেযেটিকে পালক নেন। ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবার একটি মেয়েকে এক আমেরিকান পালক কন্যা হিসাবে নিয়ে আসে তারই প্রেক্ষিতে আর্টিক্যালটি ছাপে নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিন ডিসেম্বর ২২, ২০০২ তারিখে। একটি বার ভাবুন তার পিছনে পড়ে থাকা বিরাট অঙ্কের বাকীদের কথা। যাদের মা নেই বাবা নেই আছে শুধু এইডস নামক এক ভয়ানক শত্রƒ। এখন এই মেয়েকে এই রোগের কারণে যদিও কোন চিকিৎসা নেই তবু তাকে এর জন্য কিছু ব্যবস্থা দেয়া হবে কিন্তু বাকীদের কি হতে পারে? যাদের জন্য নেই কোন চিকিৎসা, নেই কোন ব্যবস্থা সেই করূণ চিত্রও ফুটে উঠছিল লেখাটিতে যারা শুধু মৃত্যুর প্রহরায় সময় কাটাচ্ছে। খোদ আমেরিকাতেও এ রোগ আছে, তবে আফ্রিকার অবস্থা ভয়াবহ।

বাংলাদেশে শিরায় মাদক দ্রব্য গ্রহণকারীদের মধ্যে শতকরা ৪ ভাগ দেখা যায় এ রোগের শিকার। সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক সেবকদের মাঝে এই রোগের গড় হিসাব ছিল ২০০০ সালে শতকরা ১ দশমিক ৫ ভাগ। ২০০১ সালের জরিপে ছিল ১ দশমিক ৭ ভাগ। পূর্ববর্তী প্রতিবেদনগুলোতে বাংলাদেশকে সর্বনিু এইডস ছড়ানোর ক্ষেত্র হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছেল। তবে মনে হচ্ছে শিরাতে মাদক সেবকদেরই মাঝে এ রোগে আত্রান্তের সংখ্যা ছড়াচ্ছে অতিরিক্ত। তা ছাড়াও সমাজে পতিতালয়ের অন্ধ গলি দিয়েও এসব রোগের বিস্তার ঘটে অবাধে। সিরিঞ্জের মাধ্যমে শিরায় মাদক ব্যবহারকারীদের ৭১ ভাগই একে অন্যের সঙ্গে তাদের সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করে। অনেক সময় হসপিটাল গুলিতেও শোনা যায় পুরানো ব্যবহৃত সিরিঞ্জ অসাধূ লোকজনেরা বিক্রি করে। এটি হলেও এর আতংকের মাত্রা যে কোথা থেকে কোথা গিয়ে দাঁড়াবে তা আর হিসেব কষে পাবার কথা নয়।

শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে শতকরা  ৯ . ৪ থেকে —১৯. ৪ ভাগ, যৌনকর্মীদের থেকে ১২. ১ থেকে — ২৯ . ৮ ভাগ, পতিতালয়ের মহিলা যৌনকর্মীদের মধ্যে ১৭. ৪ থেকে — ৪০.২ ভাগ, ট্রাকচালক ও হেলপারদের মধ্যে ৭ ভাগ যৌনরোগ সিফিলিসে আক্রান্ত বলে জানা গেছে। এটা শুধু যাদের সম্পর্কে জানা গেল আর যাদের সম্পর্কে কিছু জানা গেল না তারা তো রইলোই। এসবই এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। জাতীয় এইডস টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এ এস এম মতিউর রহমান সম্প্রতি বলেন, চতুর্থ জরিপের ফলাফল খুবই উদ্বেগজনক।

শিরায় মাদক সেবকরাই এ রোগের ভাইরাস হয়ে বেড়াচ্ছে। সে হিসাবে এরা কোন ভিন্ন জনগোষ্ঠী নয়। এদের এ চলার গতি রোধ করতে না পারলে এটি মহামারী হতে আর বেশী সময় লাগবে না। ঘরে ঘরে এর বিরূদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এদেরকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীর মত ধরিয়ে দিতে হবে নয়তো তাদেরকে বাঁচার পথ বাতলে দিতে হবে যাতে এর সাথে জাতিও বাঁচতে পারে।

অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল, গ্রাম শহরে শোনা যাচ্ছে এই মাদকের ঝংকার বহুদিন থেকেই। কারণ শিকারীরা সমৃদ্ধ অঞ্চলেই তাদের আখড়া পাতে শিকার ধরার জন্য। এসব টুকাইরা, ডাকাতরা নাম নিয়েছে সম্রাট, কিং এবং কুইন হিসাবে। হিরোইন সম্রাট, ফিনসিডিল সম্রাট, হিরোইন কুইনরা অবশ্যই পুলিশের বখরা দিয়ে যায় ঠিকই। কারণ নেশাখোরকে ধরতে কখনোই সময় লাগার কথা নয়, সে তো নেশাগ্রস্তই থাকে। সে একজন অসুস্থ ব্যাক্তিই। তাকে একজন সুস্থ পুলিশের পক্ষে ধরা খুবই সহজ হওয়ার কথা। এরা একদিকে মানুষকে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে অন্যদিকে তার মন ও মানসিকতা নষ্ট করে দিচ্ছে। তার আগামীর ভবিষ্যতকে, আগামীর স্বপ্নকে একদম শিকড়সুদ্ধ শেষ করে দিচ্ছে। তারপর আসছে সেই ভংঙ্কর থাবা বিস্তার করা সেই রোগ যার নাম এইডস, যেখান থেকে বাঁচবার কোন উপায় নেই। সে আসছে ঐ হিরোইন হাটের পিছনের গলি দিয়ে তার সূতানাতা নিয়ে একদম লেজে গোবরো অবস্থা করে ছাড়বে অবশেষে। সবাই সাবধান হোন।

যারা হিরোইন খাচ্ছেন, নেশা করছেন তারাতো অবশ্যই এবং যারা তা নিচ্ছেন না তারাও। কারণ বিপদ সবার ঘরেই আঘাত হানবে, সবার জন্যই বিপদ। মাজারে মাজারে দেখা যায় এরা মাজারের ছত্রচ্ছায়ায়ও তাদের এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে বহুদিন থেকে সব সচেতন জনতা, পুলিশ, প্রশাসনের সবার নাকের ডগা দিয়ে। দেশে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আছে কিন্তু শোনা যায়, এদের কাজ এর প্রতিরোধ নয় বরং এর বিস্তার। তাই সচেতনরা এদের শত্রƒই মনে করে থাকেন। কারণ এরা নিজেরাই নেশার পক্ষের শক্তি। সব চেয়ে বড় কথা দেশের জনতার, পুলিশের, প্রশাসনের এক কথায় যেন একসাথে সবার বিবেকে নেশা ধরে আছে, সর্বাগ্রে প্রয়োজন প্রতিটি বিবেকের সুচিকিৎসার।

আওয়ামী মন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিমের স্বাস্থ্যখাতে যত দূর্নীতি

অজস্র সমস্যার ভারে আক্রান্ত একটি জাতিকে বাঁচতে হলে তার জনতার অতিরিক্ত সচেতনতা দরকার। এইডস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন বাঁচবার অনেক বড় অবলম্বন। যার কারণেও এখনও এটি মহামারী হয় নি। তবে বড়ই দুর্ভাগ্যের কথা নিজেদের অসচেতনতার কারণেই হয়তো আমরা শেষ মুহূর্তে নিঃশ্বেষ হয়ে যাব। বাংলাদেশের জনতার বেশীর ভাগই মুসলমান। এ ধর্মে নেশা নিষিদ্ধ। সে হিসাবে একজন সিগারেটখোর সিগারেট দিয়েই তার নেশা শুরূ করে থাকেন। আজ হয়তো তা শেষ পর্যন্ত অনেকের বেলায় হিরোইন, ফেনসিডিল পর্যন্ত গড়াচ্ছে। প্রতিটি সচেতন যুবককে আজকের এই আন্দোলনে বিরাট ভূমিকা রাখতে হবে। এটিই হোক জাতির আজকার মুক্তি যুদ্ধ। অতি সাম্প্রতিক দেশের পানি সম্পদের উপর হুমকি আসছে, এবার আসছে রক্তের উপর এই হুমকি, মোকাবেলার জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে ঘরে ঘরে। আত্মবলে বলিয়ান একটি জাতি অনেক কিছুই করতে পারে। তাই আজকে সবচেয়ে বেশী দরকার আত্মবিশ্বাসের এবং আত্মশক্তির। বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ সন্দেহ নেই কিন্তু তার জনতারা সংখ্যার তুলনায় কখনোই ফেলনা নয়। পরস্পরের সাথে হানাহানি এবং রক্তারক্তি বন্ধ করে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সবাই এই দুর্যোগের মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হোন এই হোক আমাদের আগামীর শপথ।

 

নাজমা মোস্তফা,  লেখার তারিখ ৪ এপ্রিল ২০০৮। এ লেখাটি যায়যায়দিন ৫ জুন ২০০৮ সাল ছেপেছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: