Articles published in this site are copyright protected.

এ লেখাটি মূলত আমি আমাদের ঐতিহাসিকদের কৃত অপব্যাখ্যা ও নানান ভুল তথ্য সংযোজন বিষয়ের উপর লিখছি। এর ফলাফল কিভাবে যে প্রকৃত ঘটনাকে মূল সূত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং কিভাবে ভুল ব্যাখ্যা এসে নিজের অবস্থান পাকা করে নেয়, তার উপর আলোকপাত করতে চাই। এ প্রসঙ্গে একটি গল্পও মনে পড়ে যাচ্ছে কিছু দিন আগে আমার এক পরিচিত জন তার বাচ্চাকে এখানের ইসলামিক স্কুলে ভর্তি করতে যাবে, তখন তার প্রশ্নটি হলো এসব স্কুলে ভর্তি করা কি ঠিক হবে? এখানে আবার আল-কায়েদার কোন সমস্যা নেই তো? তার কথাতে সত্যিকারভাবে আমি চমকে উঠি। আল-কায়েদা ভীতি কিভাবে আমাদের গোটা সমাজকে কুরে খাচ্ছে। এতে বুঝা যাচ্ছে মুসলমান মানে আল-কায়েদা। প্রকারান্তরে এ প্রচারে শুধু অমুসলিমরাই নয়, মুসলমানরাও যোগ দিচ্ছে, তাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তথ্য বিভ্রান্তি মানুষকে সব চেয়ে বেশী বেদিশা করতে পারে, যেটি কাটিয়ে উঠা অনেক জটিল ব্যাপার। যুদ্ধের প্রসঙ্গে সন্ত্রাসী মোহাম্মদের চিত্র অনেকের চোখেই পড়ছে। কারণটি ঠিক এটি নয় যে মোহাম্মদ ঠিক ঠিকই সন্ত্রাসী ছিলেন বরং কারণটি হচ্ছে আজকের মতোই যেভাবে মুসলমানকে সন্ত্রাসী বানানো হচ্ছে, সেখানেও সেভাবে নবী মোহাম্মদকে সন্ত্রাসী বানানো হয়েছে। যা নিয়ে কিছু ইউরোপীয় লেখক ও ঐতিহাসিকরা সারা জীবন তাদের নিজের মতো করে নানান রঙ্গরসনা করে গিয়েছে এ সবের সূত্র ধরে। এখন আমরাও নিজেরা অনেক সময় ঐ সব ভুল ব্যাখ্যা পড়ে নিজেরা নিজেদেরে ভুল বুঝছি। মোহাম্মদ (সঃ) সম্বন্ধে ভুল জানছি, এবং কখনো এটি মানছি অনেকেই  যে তিনি বুঝি সত্যিই যুদ্ধবাজ ছিলেন।

একদল মহানন্দে মোহাম্মদকে দায়ী করছেন যে তিনি কেন প্যাগানদের দেব দেবীদের সাথে যুদ্ধের ডাক দিলেন? মোহাম্মদ ভালো করেই জানতেন এ দেবদেবীরা পঙ্গু, শক্তিহীন, মাটির বা পাথরের ঢেলা, যা দিয়ে বড়জোর আমাদের ছেলে পেলেরা খেলতে পারে, তার বেশী নয়। আজকাল খেলতেও বাচ্চারা এর চেয়ে উন্নত উপকরণ পছন্দ করে। মাটিতে বা পাথরে তাদের মন ভরে না। এদের ধরাশায়ী করতে যুদ্ধের দরকার হয় নি। তিনি যখন একেশ্বরবাদী ধর্ম প্রচার করছিলেন ঐ প্রচারকেই তারা ধরে নেয় তাদের অকাল মরণ। আসন্ন মৃত্যু ভয়ে তারা প্রলাপ বকতে থাকে। কখনো মাথায় ঢালে উটের নাড়িভূড়ি, কখনো পাথর ছুড়ে মারে, নওমুসলিমদেরে পাথরে তপ্ত বালুতে নির্যাতন করে, আগুণের ছ্যাকা দেয়। প্যাগান নামধারী শক্তিপূজকরা এসব করে। তারপরও তারা যুদ্ধবাজ হয় না, হয় শান্তশিষ্ট সুবোধ বালক। যারা এ সবের পক্ষে ওকালতি করেন তারাই প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধের ইন্ধনদাতা। মোহাম্মদ এমন বেওকুফ ছিলেন না যে মূর্তির সাথে বোকার মতো যুদ্ধ করতে যাবেন। যদি তাদের সে অপবাদ ঠিকই হয়ে থাকে তবে সে অপবাদ খন্ডনোর দায়িত্ব বর্তায় ঐ সব ক্ষমতাহীন দেবতা নামক মূর্তিদের উপরই, যাদের প্রধানের কাঁধে একবার নবী ইব্রাহিম(আঃ) তার কুঠার রেখেছিলেন যাতে ঐ সব অন্ধরা দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। তারপরও সেই অন্ধরা পরবর্তীতে স্বয়ং নবী ইব্রাহিমের মূর্তি গড়ে পূজা দিয়েছে। যিনি এককালে মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন পরে তাকেও তারা ভগবান ঈশ্বর বানিয়ে ছাড়ে। এরা জগতের মানুষ নামের কলঙ্ক ছাড়া আর কিছুই নয়। বিবেকের অপমান তারাই করেছে যুগে যুগে সব চেয়ে বেশী। এক বিংশ শতাব্দীতেও প্যাগানদের স্বপক্ষে লড়াই হচ্ছে, এদেরকে নিয়ে কথা বলতে আমাদের বিবেক সম্পন্ন মানুষদের লজ্জা করা উচিত।

প্রায়ই লিংকগুলি মুছে দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা এখানেই নীচে।

মদীনার ইহুদীরা শিশু ইসলামকে ধ্বংস করে দিতে কি কান্ড যে করেছিল তা একমাত্র প্রকৃত ইতিহাস ঘাটলে পাওয়া যাবে অবশ্যই। কিন্তু আমরা নিজের গবেষণার ভান্ডার সমৃদ্ধ করার চেয়ে নিজেরা নিজেদের মাঝেই লেগে আছি তার প্রধান কারণ ইজতেহাদ থেকে সরে পড়া। কখনো নিজেদের পন্ডিতী জাহির করতে যেয়ে আমাদের মাঝে কে কাফির, কে মুমিন সেটির উপর নিজেরাই সার্টিফিকেট দিচ্ছি যদিও আমরা ভাল করেই জানি আমাদের নিজেদের সার্টিফিকেট দেবার কোনই ক্ষমতা নেই এ ব্যাপারে। তবে সঠিক যুক্তি দিয়ে ইজতেহাদের কঠিন শর্ত পালন করে অনেক শক্ত কথাও বলা সম্ভব। হারাম হালালের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ ব্যতীত, আমাদের অতি সাধারণ মানুষকে যে কোন সাধারণ জিনিসকে বলতে শোনা যায় এটি হারাম। যেন ফতোয়া তাদের মুখের বুলি, অপরকে আঘাত করার জন্য এক উত্তম হাতিয়ার। বস্তুত হারাম বা হালাল কারো মুখের কথায় হবার কথা নয়, এটির ধারণা শুধু তখনই কার্যকর হবে যখন এর উপর স্রষ্টার সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসবে। কারো মুখের কথায় বা কোন ওয়াজকারীর মুখের বর্ণনাতে এটি নির্ধারিত হতে পারে না। ইসলাম কোন আচারের ধর্ম নয়, এটি নীতির ধর্ম, সিলেবাসের ধর্ম। সিলেবাসের বাইরে কেউ এটিতে বাড়তি কিছু সংযোজন বিয়োজন করতে পারেন না। যেমন সেদিন একজনকে বলতে শুনলাম রমজানের আগের দিন রোজা রাখা হারাম, তার মানে সমস্ত আমেরিকার মুসলমানরা এ কাজটি করছেন প্রতি বছর। আমরা জানতাম ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম এবার আর একটি নতুন ফতোয়া শুনলাম এবং অনেকেই রমজানের আগের ছয় রোজাও রাখেন নফল মনে করে তার মানে তারা সারাজীবন হারাম কাজ করছেন। এসবই আমাদের ধর্মের সর্বনাশ করেছে সবচেয়ে বেশী, সবাই মনে মনে পন্ডিত। যার যা মুখে আসে তাই হারাম হালাল বলে প্রচার করতে কেউ দ্বিধা করছেন না।

Lecture Series Facts & Myths Dr Ram Puniyani,

 

স্মরণ করার বিষয় প্রথম হতেই মদীনায় একদল কপট মুসলমানের আবির্ভাব হয়েছিল যাদেরে খুব সহজে মুসলমান না বলে মোনাফেক বলা যায়। এদের একজন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মোনাফিকের এক উত্তম উদাহরণ হয়ে ইতিহাস বিখ্যাত হয়ে আছেন। সম্ভবত ধর্ম নয়, ক্ষমতার লোভই তাকে এ নতুন ধর্ম গ্রহণে উৎসাহিত করেছিল কিন্তু পরে দেখা গেল এ ধর্ম কোন বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য বা কোন ব্যাক্তি বিশেষের লাভের জন্যও সৃষ্ট হয় নি। কিন্তু সে ব্যাক্তিটি আমৃত্যু এ ধর্মটির সর্বনাশের জন্য, এর মূলচ্ছেদের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যায়। আব্দুল্লাহ ইবন উবাইএর কাছে লেখা কুরাইশ নেতাদের চিঠির ব্যাখ্যা ছিল এভাবে যে, তোমরা আমাদের স্বধর্মের হয়েও আমাদের পরম শত্রু মোহাম্মদকে নিজের দেশে আশ্রয় দিয়েছ। এবার তোমরা দুটি কাজ করতে পার এক তোমরা তাকে নিজেরা যুদ্ধ করে ধ্বংস করে ফেলবে নয়তো তাকে সেখান থেকে বের করে দিবে। আমরা কসম করে বলছি তোমরা যদি এ দুটির একটি অন্তত গ্রহণ না করো তাহলে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমাদের আক্রমণ করবো। তোমাদের যুবকদেরে নিহত করবো এবং তোমাদের মেয়েদেরে বাঁদী বানিয়ে রাখবো (আবু দাউদ হাদিস গ্রন্থের সুত্রে প্রাপ্ত)।

তারপরও ইউরোপীয় লেখকেরা এসবের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সব সময় অতিরঞ্জন করে দেখিয়েছেন যে হযরত মদীনায় আসার পর কোরেশদের উত্যক্ত করে তাদের বানিজ্য সম্ভারাদি লুন্ঠন করে তাদেরে যুদ্ধে লিপ্ত করতে বাধ্য করেন। দেখা যায় পরবর্তী যুগে অনেক লেখক ও রাবীরা কাফেলা লুন্ঠন করার উদ্দেশ্যে এ কথাগুলি তাদের লেখাতে যোগ করে দেন। তারপরও দেখা যায় তাবরী, তাবকাত প্রভৃতি গ্রন্থের বদৌলতে আমাদের লেখকরা তাদের লেখা থেকে এ কাফেলার মানুষ এবং উটের সংখ্যাও সুক্ষ্মভাবে দিতে পেরেছেন। বস্তুত ঐ সব রাবীরা তেমন কোন কাফেলার প্রকৃত সন্ধান দিতে না পারলেও একটি ভুল তথ্য সংযোজন করে দিতে দ্বিধা করেন নি। একমাত্র গবেষনাই এ সব গোজামেল খোলাসা করতে সক্ষম। নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য, গতিবিধি লক্ষ্য রাখার জন্য গুপ্তচর প্রেরিত হত, কাফেলা লুন্ঠনের জন্য কখনোই নয়। যদি সত্যিই কাফেলা লুন্ঠনের জন্য প্রেরিত হতো তবে এত অল্প সংখ্যক ব্যাক্তি কখনোই প্রেরিত হতো না। কুর্জ এবন জাবের নামের মক্কার একজন প্রধান ব্যাক্তি মদীনার নিকটস্থ কৃষিঅঞ্চল থেকে মুসলমানদের পালিত পশুগুলি ধরে নিয়ে যায় (সুত্রগ্রন্থ, এছাবা, ৭৩৮৮নং)। দিন দিন এদের অপকর্ম ও তৎপরতা বাড়তে থাকে। এর কাছাকাছি সময়ে মক্কাবাসীদের আসন্ন যুদ্ধের আগাম প্রস্তুতি সংবাদ হযরতের কানে যায়। ঠিক তখনই হযরত এদের গতিবিধি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গুপ্তচর নিয়োগ করেন। নাখলা নামক স্থানটিতে যে ঘটনাটি ঘটে তাকেও অনেকেই  উদ্দেশ্যমূলক ধরে নিয়ে হযরতকে দায়ী করে  বদর যুদ্ধের কারণ মনে করে প্রচার করে থাকেন। বাস্তবে প্রকৃত অনুসন্ধানে তাও টিকে না। এরা কখনোই কাফেলা লুন্ঠনের কোন অনুমোদন পায় নি। দেখা গেছে ঐতিহাসিকরা কখনো ঐ সব গুপ্তচর বাহিনীকে “অভিযান” হিসাবে উল্লেখ করেন। এতে ইউরোপীয় লেখকেরা দ্বিগুণ উৎসাহে তাদের তপ্তবাণী ছড়াতে থাকেন ইসলাম নিধনের উত্তম সুযোগ মনে করে।

হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) যে ভাবে মক্কা বিজয় করে ছিলেন

 

ইউরোপীয় লেখকদের ও আরো সব ঐতিহাসিক তথ্য বিভ্রান্তি আমাদের অনেককেই খটকায় ফেলে দিয়েছে। অনেকে ধরে নেন যে তাহলে মোহাম্মদ নিশ্চয় এরকম কোন সন্ত্রাসের যোগান দিয়ে গেছেন। অনেক সময় কুরআনের আয়াতই যথেষ্ট সংখ্যক জটিল ধারণার অবসান ঘটাতে সাহায্য করে। যেমন বদর যুদ্ধের উপর নাজেল হওয়া অনেক আয়াতেই বোঝা যায় যে তাদের অহঙ্কার ও যুদ্ধউন্মাদনার কারণেই এ যুদ্ধের অনুমতি মুসলমানদেরে দেয়া হয়। কুরআনের আয়াত থেকেও এটি জানা যায় যে, “মক্কার কোরাইশ নর নারীদের মধ্যে একরতি পরিমাণ সোনাদানাও যার নিকট ছিল তারা সেটি এ কাফেলায় প্রেরণ করে” (দাহলান ১-৩৬৫)। সুরা আনফালে তাদের ধন সম্পদ সংগ্রহের বর্ণনার উপর সুস্পষ্ট বক্তব্য আসে। এখানে সুরা আনফাল থেকে বদর যুদ্ধের উপর দুটি আয়াত আনছি  “নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা তাদের ধন সম্পত্তি খরচ করে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেবার জন্যে। তারা এটি খরচ করবেই, তারপর এটি হবে তাদের মনস্তাপের কারণ” (সুরা আনফালের ৩৬ আয়াত)। “ওহে যারা ঈমান এনেছ! যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের যখন তোমরা দেখা পাও যুদ্ধ যাত্রা করছে তখন তাদের দিকে পিঠ ফিরাবে না” (সুরা আনফালের ১৫ আয়াত)। এখানে দুটি সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। এক তারা ধন সম্পদ দিয়ে প্রতিরোধ গড়ছে, এবং এর মোকাবেলা করতে ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে, পিঠটান না দিতে হুশিয়ার করা হচ্ছে। সত্যের প্রতিষ্ঠায়, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। “আর তাদের সাথে লড়বে যে পর্যন্ত না উৎপীড়ন বন্ধ হয়, আর ধর্ম সামগ্রিকভাবে আল্লাহর জন্যেই হয়।” (সুরা বাক্কারাহএর  ১৯৩আয়াত , সুরা আনফালের ৩৯ আয়াত)।  এখানে দেখা যাচ্ছে এসব আয়াতে উৎপীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এটি চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। এ নির্দেশ মোহাম্মদের কোন নির্দেশ নয়, এ নির্দেশ আল্লাহর নির্দেশ। তাই কারো যদি সখ  হয় যুদ্ধবাজ চিহ্নিত করার তবে আল্লাহকেই করতে পারেন, মোহাম্মদকে নয়।

ইতিহাস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে যে ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে তা হচ্ছে যে মদীনায় বসবাসকারী দুটি দল বনু কোরাইজা ও বনু নাজির নামের দুটি ইহুদী গোত্র মোহাম্মদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তিনি দুই গোত্রের সমস্ত পুরুষকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। বস্তুত এখানে সুপ্তভাবে হলেও কথাটি থেকে যায় যে তিনি প্রকারান্তরে তাদের জন্যও প্রেরিত হয়েছিলেন। তবে কেন তিনি এত কঠোর হলেন? এতে অনেকেই মনে করতে পারেন যে তিনি তাহলে দেখা যায় খুবই হিংস্র ছিলেন, যুদ্ধবাজ ছিলেন। সামান্য একটি কথাতে সমস্ত ইতিহাস পরিষ্কার হয়ে যায় না। এই ইহুদীদের ছলচাতুরী যে কি প্রকৃতির ছিল তা এক কথায় প্রকাশ করার নয়। তারপরও এর মূল ঘটনা একদম সেরকম ছিল না যেভাবে এটি অনেকেই ধরে নিচ্ছেন। বস্তুত ইসলামের কারণেই বরং তাদের উপর অনেক সহনশীল ভূমিকা দেখানো হয় নয়তো প্রাচীন তথাকথিত মধ্যযুগীয় নীতির অনুসারে চললে তাদের এ রকম অপরাধের কারণে তাদের প্রতি আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়াও সঙ্গত ছিল। এ ঘটনার আগে বদর, ওহুদ, খন্দকের উপর অনুসন্ধান চালালে প্রতিটি পাঠক জানবেন যে তারা এই যুদ্ধের শুরুটা কিভাবে ঘটিয়েছে এবং মুসলমানদেরে যুদ্ধে বাধ্য করেছে। এক গালে চড় দিলে আর এর গাল বাড়িয়ে দেবার ধর্ম ইসলাম নয়। কেউ কাউকে আক্রমণ করলে আক্রমনকারীর উপর জবাব দিবার অধিকার বর্তায়। সে অপরাধে তাকে দোষী মনে করার কোন কারণ নেই। অপরাধ অনুপাতে শাস্তি সব যুগেরই বিচার। আর সে সময়টি ছিল মধ্যযুগ, মধ্যযুগের সেই চরম বর্বরতার উপরই ভর করে দাড়ায় প্রচন্ড প্রতাপে মহান পরিচিতি নিয়ে ইসলাম নামের শান্তির ধর্ম। এটি দাঁড়াতে তাকে শান্তির উপর অবলম্বন করেই এগুতে হয়; অশান্তি, অরাজকতা, অন্যায়, অবিচার করে নয়। ন্যায়, নীতি, মহানুভবতা, সুবিচারের উপর ইসলাম কঠিন একটি শক্ত পরিচিতি নিয়ে গর্বের সাথে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে ইহুদীরা যারা ইসলামের দুর্যোগে কঠিন কপট ভূমিকা নেয় তাদের সম্বন্ধে একটি কথা বলে রাখি এরা মূলত এখানের আরবের মূল বাসিন্দা ছিল না। জবুর, ইঞ্জিলের পুরানো শাস্ত্র তথ্য অনুসারেই তাদের পূর্বপুরুষরা একজন নবীর অপেক্ষায় এখানে এসে বসতি করতে থাকে। কিন্তু যখন তারা দেখলো যে এ নবী তাদের নিজেদের গোত্র থেকে আসেন নি তখনই তারা বেঁকে বসে। বস্তুত এখানের ইহুদীরা পৃথিবীর অন্য সব ইহুদীদের থেকে দুধর্ষ ছিল, ষড়যন্ত্রে, ও কপটতায়। মদীনায় আগমনের পরপরই হযরত সব জাতির  সাথে মিলে একটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। পৌত্তলিক, ইহুদী ও মুসলিমরা ছিল মদীনার বাসিন্দা। এখানে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত ছিল এবং স্বদেশ রক্ষার্থে সবার সহযোগিতা নতুন রাষ্ট্রের নাগরিকদের শর্তের অংশ ছিল। বহিঃশত্রুর সাথে ষড়যন্ত্র ছিল এ গণতন্ত্রের শর্তবিরোধী কাজ। ধর্ম, বানিজ্য, ও সমস্ত আভ্যন্তরিন বিষয়ে ইহুদীদিগের সম্পূর্ণ স্বীকৃতির অনুমোদন ছিল। তারা কিন্তু বার বারই এসব শর্ত অমান্য করে অপরাধ করতে থাকে এবং তাদেরে এসব ক্ষেত্রে বার বারই ক্ষমা করে দেয়া হয়। এবং ক্ষমা দেয়া হয় বিনা দন্ডে এবং বিনা ক্ষতিপূরণে, যা বাস্তবে তাদের তথাকথিত জীবনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এদের প্রধান পেশাই ছিল গোত্রে গোত্রে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে রাখা যে যুদ্ধের পিছনে তারা যুগ যুগ ব্যাপী ইন্ধন দিয়ে গেছে। আউস ও খাজরাজ গোত্রের  সে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের খবর আমাদের প্রায় সবারই জানা। বরং এই মুসলমানদের আগমনে সে দেশের বহু যুগ ব্যাপী সব রক্তচোষা যুদ্ধের চির অবসান হয় যা ছিল ইহুদীদের নিজস্ব মাতবরির জন্য এক ভীষণ ধাক্কা, এক প্রচন্ড হুচট।

দেখা যায় সুযোগ মত তারা সন্ধির কথা অস্বীকার করতে দ্বিধা করতো না। তখন তারা প্রকাশ্যে অস্বীকার করতো যে তারা সন্ধির ধার ধারে না এবং মোহাম্মদকে তারা চিনে না, পরোয়া করে না। পরিখার যুদ্ধেও মুসলিম নারীদের এবং ছেলেপেলেকে আক্রমণ করতে এরা উদ্যত হয়। সে সময়ও তারা মনে করেছিল যে কোরেশের সাথে সন্ধির ফলে এ দুই বাহিনীর মিলিত প্রচেষ্ঠায় সমস্ত মুসলিম বাহিনী ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস খন্দকের গ্যাড়াকলে পড়ে অর্থ্যাৎ অদভুত এ নতুন ধরণের অভিনব যুদ্ধ কৌশলের ফলে তাদের সব হিসাব গোলমেলে হয়ে যায়। এ সময় বনি নাজির গোত্রের নেতা ‘হোয়াই’ খাইবারের ইহুদীদের সমাজপতি হয়ে বসে এবং নানান ষড়যন্ত্রে মুসলমানদের ধ্বংসের জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। তার স্বপ্ন ছিল আকাশচুম্বি। অতি অল্প দিনের মধ্যে ষড়যন্ত্রী সূত্রে যোগাযোগ করা বিশাল ইহুদী বাহিনী আসলে তারা একাই এতদঅঞ্চল শাসন করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে লম্ফঝম্ফ দিতে লাগলো। যার সহজ পরিণতি হিসাবেই খন্দকের যুদ্ধের পর তিন সহস্র সৈন্য সহযোগে মুসলমানরা তাদের দূর্গ অবরোধ করে তাদেরে আত্মসমর্পণ করতে বলে। তারা সে প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে। তখনও তারা খাইবারের আশায় বসে ছিল। এরকম সঙ্গীন মূহূর্তেও হযরত তাদেরে বার বার সন্ধির প্রস্তাব দেন তারা সেটি প্রত্যাখ্যান করে। বরং তারা পরবর্তীতে সন্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর সংবাদ পাঠালো যে মোহাম্মদ নয় বরং ছাআদ ইবন মাআজ এর বিচার তারা মানবে। হযরত তাদের এ প্রস্তাব মানলে তারা তখন আত্মসমর্পণ করে।

এরপর খন্দক যুদ্ধে আহত ছাআদ তাদের বিচারের ভার গ্রহণ করেন। প্রথমে ছাআদ তাদেরে প্রতিজ্ঞা সমাপান্তে তার বিচার্য অভিমত ব্যক্ত করেন ঠিক এভাবে যে, তাদের যুদ্ধা পুরুষদেরে কতল করা হোক, বাকীদেরে বন্দী করা হোক এবং বিষয়সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক। এ সিদ্ধান্ত অনুসারেই একদলের প্রাণদন্ড হয় এবং একদলকে বন্দী করা হয়এর পূর্বে প্রতিবারই ইহুদীদেরে ক্ষমা প্রদর্শণ করা হয়েছে এবং তা করেছেন হযরত স্বয়ং নিজে। বনী কোরাইজার যে অপবাদ অনেকেই হযরতের নামে চাপাতে চান সেটিও কার্যত হযরতের উপর বর্তায় না। কারণ হযরত বিচার করলে হয়তো আগের মতোই ক্ষমা করে দিতে পারতেন কিন্তু সে বিচারের দায় পড়ে ছাআদের উপর যার বিচার ইহুদিরা শিরোধার্য করে মানতে চেয়েছিল। এ তাদেরই কর্মের উপযুক্ত ফলাফল। আর বিশ্বস্রষ্টার ইচ্ছাও হয়তো এটিই ছিল তাই এরকম একটি ফয়সালার মোকাবেলা তাদের করতে হয়। তাদের পাপের তুলনায় তাদের পাওনাটা মোটেও বেশী হয় নি, বরং কমই হয়েছে।

এর সূত্রে এক শ্রেণীর লেখকেরা বলেছেন যে, কোরাইজা গোত্রের সমস্ত বয়ঃপ্রাপ্ত পুরুষদেরে হত্যা করা হয়েছিল, সংখ্যাও তারা ব্যক্ত করেন ছয়শত থেকে নয়শত। কিন্তু তিরমিজি, নাছাই, প্রভৃতি হাদিছ গ্রন্থে কোরাইজা অভিযানে যোগদানকারী জাবের বলেন যে, ছাআদ কোরাইজার পুরূষদেরে নিহত করার আদেশ প্রদান করেন। তাদের সংখ্যা ছিল চারশত। তারপর তারা নিহত হওয়ার পর ছাআদের মৃত্যু হয়। এ হাদিসের সূত্রে জানা যাচ্ছে তারা ছিলেন চারশত। আবার জাবের বলেন যে, ছাআদ সমস্ত পুরুষকে নিহত করার আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু বোখারী ও মুসলিমের সূত্রে জানা যায় ছাআদ বলছেন, “আমি আদেশ করছি যে, যুদ্ধে লিপ্ত পুরুষদের নিহত করা হউক”। উপরের সবকটি হাদিস মিলিয়ে পড়লে দেখা যাবে যে সে সময়ে এই বন্দী নির্ধারণের জন্য একটি বিচার হয়েছিল। (তথ্য সূত্র মোহাম্মদ আকরম খাঁ, মোস্তফা চরিত, পৃষ্ঠা ৪৭২)। বিচারের পর ঐ চারশত পুরুষ থেকে যাদের সম্বন্ধে কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায় নি তাদেরে মুক্তি দেয়া হয় বা বন্দী করে রাখা হয়কুরআন শরিফেও এর উপর বর্ণনা এসেছে সুরা আহজাবে। সেখানে বলা হয় যে তারা একদলকে নিহত করলো এবং একদলকে বন্দী করলো। সঙ্গত কারণেই বুঝা যায় সকল পুরুষকে নিহত করা হয় নি। একদল রেহাই পায়। এবন আছাক নামের এক হাদিস বেত্তা বলেন, তারপর হযরত তাদের তিনশত পুরুষকে নিহত করলেন এবং অবশিষ্ট পুরুষকে বললেন তোমরা সিরিয়া প্রদেশে চলে যাও (কানজুল ওম্মাল ৫-২৮২)। সে সময় সিরিয়া প্রদেশটি ইহুদীদের প্রধান কেন্দ্র ছিল। বনি কোরাইজার এক মহিলা রায়হানাকে নিয়েও ভিত্তিহীন গালগল্পের অবতারণা করা হয়েছে। কিন্তু হাফেজ ইবন মন্দার ন্যায় রেজাল শাস্ত্রের ইমাম এটি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, হযরত বনি কোরাইজার রায়হানাকে বন্দী করার পর মুক্ত করে দিলে রায়হানা নিজ পরিজনের নিকট চলে যান”। প্রখ্যাত হাফেজ ইবন হাজরও এটি স্বীকার করেছেন।

তারপরও ঐতিহাসিকরা এটি বর্ণনা করেছেন যে তারা কোরাইজারা কোথায় রাত্রিবাস করে। ঐতিহাসিক হালবী বলেন, কোরাইজার সমস্ত পুরুষকে ওসামা ইবন জায়েদের গৃহে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। বাস্তবে সে সময়ের একটি সাধারণ গৃহ কি রকমের হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়, এবং সে গৃহে কেমন করে এত লোকের জায়গা হলো সেটিও ভাববার বিষয়। ঐতিহাসিকরা দেখা গেছে কখনো কখনো হাদিসের বা তফসিরেরও পাত্তা দেন নি, কখনো কখনো মনগড়া ব্যাখ্যা দান করেছেন। এবং আমাদের অনেকেই তার অনুকরণে নকল ইতিহাস টেনে এনে ঘটনাকে আরো ঘোলাটে করে তোলেছেন। এভাবে দেখা যায় হয়তো অনেকে তফসিরেও অনেক ভুল ব্যাখ্যা ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এর খেসারত হিসাবে পরবর্তীরা অনেক ভুলের যোগান দিয়ে যাচ্ছেন এবং সমাজে অনেক নতুন ভুল ধারণা শক্তিশালী হয়ে প্রচারিত হচ্ছে, কখনো নতুন ভুলের সৃষ্টিও হচ্ছে। লড়াকু কোরাইশ দল তথাকথিত আইয়ামে জাহেলিয়ার নীতির উপর ভর করেই তাদের কাজ চালায় আর অপর পক্ষে মুসলমানেরা তাদের নবী মোহাম্মদের নেতৃত্বে জগত সেরা আদর্শের অনুকরণে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো এক ভিন্নধর্মী আদর্শের ঝান্ডা তোলে ধরে। বস্তুত বিরুদ্ধবাদীদের এই মিথ্যে ছলবাজ সাজানো অপবাদ যেটি তারা করে চলেছে এটি কখনোই যুক্তির কাছে টেকে না। শান্তিদূত হযরত মোহাম্মদ (সঃ) একজন নবী হিসাবে ইহুদীদের প্রতি, পৌত্তলিকের প্রতি বা খৃষ্টানের প্রতি, আচারে আচরণে কখনোই ইসলামের বাইরে যান নি, নীতির বাইরেও যান নি। তার যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে নি বরং তারাই বারে বারে পদস্থলিত হয়েছে আদর্শ থেকে, সত্য থেকে, নীতি থেকে।

ইসলামের মূল শিক্ষাতে যদি মুসলমানেরা সত্যিকারভাবে নিবিষ্ট থাকতো তবে তাদের হারার বা অনুশোচনার কোনই কারণ ছিল না। আজ সারা বিশ্বে ইসলাম গালির ভাগিদার। চৌদ্দশত বছর আগে আমাদের নবী যে ইসলাম রেখে গিয়েছিলেন তার সাথে পরবর্তীতে যেভাবে দলে দলে হাদিস মতে (৭৩ দল) অসংখ্য দলের সৃষ্টি হচ্ছে, এরা সবাই এ সব গ্যাঞ্জামের যোগানদাতা। কালে মানুষ মূল গ্রন্থ থেকে সরে পড়ে এবং এটিকে একটি পুথির মর্যাদা দেয় অতিরিক্ত সমাদরে। সে বদ্ধ দরজা ইদানিং কিছু মুসলমানেরা ভাংতে শুরু করেছেন খুব নতুনভাবে, এটি আশার কথা। ইজতিহাদ, গবেষনা ব্যতীত কখনোই সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। এটি ছিল এখানের আদেশ, কালে জনতারা তার মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেখানে মহা ধুমে জায়গা করে নেয় ফতোয়া, তাবিজ কবজ, ঝাড় ফুক, তুক তাক, মন্ত্র তন্ত্র। এককালের মূর্তিপূজক জাতি শুরু করেছে কবর পূজার নামে নানা ভাওতাবাজীর মাজার পূজা। ভুত তাড়ানোর নামে, জিন খেদানোর নামে বছরে প্রায় সব সময়ই শোনা যায় নানান অপকীর্তির সংবাদ পত্রিকার পাতাতে। এসব জিনদের অসুবিধা হচ্ছে এসব প্রচারের বাহূল্যতায় এরা ধরা পড়ে যাচ্ছে, সমাজে অনেকের দৃষ্টি স্বচ্ছ হচ্ছে। নয়তো অতীতে এসব চাপা পড়ে যেত, খুব একটা এসব অপকর্মের কথা জানাজানি হতো না। কম বেশী আমাদের সারা জাতির একাংশ অন্তত এসবের গভীর অন্ধকারে ডুবে আছে। এর প্রধান কারণ এখানের কৌশলবাজরা একে ধর্ম বলে দিব্যি চালিয়ে দিচ্ছে মানুষের অজ্ঞানতার সুযোগে। এভাবে অনেকের দৃষ্টিতে মোহাম্মদ কখনো সন্ত্রাসী, যুদ্ধবাজ। বাস্তবে তিনি যা ছিলেন তা আল-কুরআন সত্যের অঙ্গিকার নিয়ে আজো ঘোষণা দিচ্ছে।

Old Bible Proves Quran is Right

 

এক আল্লাহর, এক গ্রন্থের এক ধর্মকে আজ নানা জন নানাভাবে বুঝার চেষ্টা করছেন। মূল গ্রন্থকে বুঝুন, জ্ঞানীর দৃষ্টিতে সত্যের সন্ধান করুন। মুসলমান যদি বাড়াবাড়ি (আল্লাহর অপছন্দনীয় জিনিস) সেটি ত্যাগ করে তার মূল আদর্শ নিয়ে থাকতো তবে বিশ্বজয়ের চাবিকাঠি তাদের হাতেই থাকতো। জ্ঞানীদের উচিত এর উপর গবেষনার দৃষ্টিতে সত্যের সন্ধান করা, তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা। কুরআনের প্রথম বাণীটিই ছিল “পড়” কথাটির মূল্যায়ন করা। দুঃখের বিষয় যাদের উপর এর নির্দেশ ছিল দেখা যায় প্রকারান্তরে তারাই প্রচারে সময়ে সময়ে এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এভাবে এরা দৃশ্যতঃ ধর্মের পক্ষের শক্তি হয়ে বিপক্ষের কাজ করেন। উদাহরণ হিসাবে বলছি এককালে নারী শিক্ষাতে এটি করেছেন আমাদের কর্তারা। সেই কর্তাদের কথা মতো এগুলে আমারও আজ এ অর্টিক্যালটি লেখার কথা ছিল না।

এর জের হিসাবে কিভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি, কিভাবে আমাদের জ্ঞানের দ্বার রুদ্ধ করা হয়েছে তার একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমনটিও ঘটেছে একবার এক ছাত্র উচ্চতর গবেষনার কাজ কুরআনের উপর করতে চাইলে তাকে তা করতে দেয়া হয় নি। কথাটি শুনে আমি চমকে উঠেছিলাম, কেন দেয়া হয় নি? কারণ কুরআনের উপর গবেষণা চলবে কেন? এটি পূর্ণ, এটি গবেষনার বিষয় নয়। একটি সত্য ধর্মধারীদের এটি বলা শোভা পায় না। কিয়ামত পর্যন্ত এর উপর গবেষণা, সাধনা করার নির্দেশ ছিল আল্লাহরই, যতই আমরা এর উপর গবেষণা করবো ততোই নতুনের সন্ধান পাবার কথা ছিল। আমাদের অজ্ঞ জনতার একাংশ এর থেকে শুধু তাবিজ কবজের নামে মিথ্যা বিদ্যা চালু করে দিয়েছে, সত্যিকারের সুফল তারা কখনোই তাদের ভাড়ারে উঠাতে পারে নি। জিহাদের নামে আজ সুইসাইড বোম্বিং কোন মজার খেলা নয়, বেহেশত কোন ছেলের হাতের মোয়াও নয়। কুরআনে আল্লাহ দুটি বেহেশতের অঙ্গিকার করেছেন একটি ইহকালে একটি পরকালে। বেশীরভাগের কাছে ইহকালেরটি ফসকে যাচ্ছে মনে হচ্ছে তাহলে পরকালেরটা কি এভাবে ঘোরাপথে পৌছানো সম্ভব হবে, সে সাধনা একদল করছেন। এতই কি সহজ পরীক্ষাতে ষ্টার, লেটার, টেলিগ্রাম, স্ট্যান্ড মার্ক পেয়ে যাওয়া তাও আবার কুপথে? বিবেককে প্রশ্ন করুন, বিবেকই মানুষের শ্রেষ্ঠ ওস্তাদ, এটিও একটি হাদিস। ব^াংলাদেশ আফগানিস্তান নয় বা কাশ্মিরও নয়, ইরাকও নয়, ইসরাইলও নয়। তারপরও যদি কারো সখ হয় এদেশটিকে ওদের এক সারিতে দাঁড় করিয়ে দিতে তাদের জন্য কঠিন বিচার অপেক্ষা করছে অবশ্যই, কারণ স্রষ্টা সত্যিকারের বিচারক। কোন দলের নয়, বিধর্মীর, অধার্মিকের, নাস্তিকের সবারই বিচারক তিনি। তাই সুসাইড বম্বিং করে নিজের জানটা খুইয়ে শেষকালে যখন জাহান্নামের শহীদ মিনারে ঢোকানো হবে সেটি যে কেউ সাধারণ বিবেক দিয়েও খুজলে পাবেন। সবারই সেটি অবশ্যই মাথায় রেখে চলা উচিত।

জানি না যেসব পাগল এসব করছে তাদের কাছে আমার এ লেখাটি পৌছাবে কি না? তবে পাগল দিয়ে অনেক কাজই করানো যায়, সত্যিকারের মানুষদের মুক্তির জন্য স্রষ্টার সাহায্য ছাড়া আমাদের বাঁচবার আর কোন পথ দেখছি না। বিদেশে থেকে নিজের দেশের মানুষদেরে খুব বেশী করে মনে পড়ে। যে সমাজ যে বন্ধুজন যে শিকড় আমি ফেলে এসেছি তা আমাকে চরমভাবে ভাবায় এবং সে হিসাবে আমি আমার দেশের জনগণকে শ্রদ্ধা করি অতিরিক্ত। যে মূল্যবোধ আজো আমাদের সমাজে অবশিষ্ট আছে তা অমূল্য ভান্ডার সন্দেহ নেই। নিজেদের অপরিনামদর্শিতার জন্য আমরা যেন তা হারিয়ে না বসি। যতদূর জানি স্রষ্টাই নির্যাতিতের সবচেয়ে কাছের বন্ধু, তাই আজ কায়মনোবাক্যে তাঁর কাছেই সাহায্য চাইছি। শত সমস্যায় জর্জরিত একটি জাতি যেন সঠিক পথের সন্ধান পায়, এ কামনাই করছি।

 

নাজমা মোস্তফা,  নভেম্বর ২৭, ২০০৫ সাল (এটি লেখা হয়) ২৩ নভেম্বর ২০০৬ সালে লেখাটি যায়যায়দিনে ছাপা হয়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Tag Cloud

%d bloggers like this: