Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

এ প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের নীতি হচ্ছে কলিজাতে কামড় না পড়লে কোন অবিচারের বিচার করে না। পরপর টানা দুই মেয়াদে মানুষ মরতে মরতে এই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিচার হনুজ দূর অস্ত। অতি সম্প্রতি অনেকেই বলছে কোন বিশেষ কারণে সরকারের কলিজাতে কামড় পড়েছে, তাই শোভন রব্বানীরা আসামীর লিস্টে। সহজে এদের আসামী করা হয় না। অমিত শাহার রুমে তাকে মারা হলেও সে কোনভাবেই আসামীর খাতায় উঠে না। এখন এরা ধরা খেলে তারা বলছে উপরের নির্দেশে তারা এসব করেছে। উপরের মাত্রাটা কতটা উপর সেটি আল্লাহই জানে।

গত ৬ অক্টোবর আবরার কিছু চরম সত্য প্রকাশের অপরাধে নিহত হন। দেশবাসীদের কিছু মন্তব্য বিবেকের কথা বলে। যেমন “আবরারের লাশটা গণভবনে পাঠানো যায় না? আবরারের নিথর হাতের আঙ্গলের ফাঁকে থাকবে একটি চিরকুট। তাতে লেখা থাকবে, “হে স্বৈরাচারী, তুমি ক্ষমতাকে ভালোবেসে দেশ দিয়ে দিলে, আর আমি দেশকে ভালোবেসে জীবন দিয়ে গেলাম!” ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী প্রথম শহীদ আবরার। ফেনী নদীকে আবরার নদ করার দাবীও দেখলাম। একজন শেখ হাসিনাকে আবরারের ঘটনায় অতীত ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়েছে। ব্লগার রাজিব হত্যার পর হাসিনা রাজিবের বাড়িতে গিয়ে রাজিবের মা বাবাকে বলেছিলেন জামায়াত শিবির একটি সন্ত্রাসী দল এদের রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হবে। এখন আবরারের বাড়িতে গিয়ে কেন বলতেছেন না ছাত্রলীগ একটি সন্ত্রাসী দল এদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হবে।

৫২ সালের রফিক সালাম বরকতের লাশের উপর দিয়ে স্বাধীনতার গতিপথ নির্ধারিত হয়। কিন্তু ফেলানীর ঝুলে থাকা লাশ নিস্তব্ধ জাতিকে সম্বিত দিতে ব্যর্থ হলো জাতির উমিচাঁদ ঘষেটি বেগম মিরজাফরদের জন্য। প্রায় ৩০০ বছর থেকে এদের আত্মা মরে নাই, পুরোনো বোতলে নতুন মদের মতই এরা যুগে যুগে সচল থেকে জাতির কলিজাতে কামড় দিয়ে চলেছে। যার জন্য আবরার ১০০% নির্দোষ লাশ শিবির হয়ে ময়দানে হাজিরা দিচ্ছে। ঘটনাটি একটি বিষয় স্পষ্ট করলো নীতির দিকে শিবিররাই বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি হলেও যারা এতদিন প্রতারণা করে বলেছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তারাই ক্রমে ক্রমে বিরাট দানবে পরিণত হয়ে দেশ বিরোধী নামে স্পষ্ট দাগ রাখছে। সবদিন খুনীরা আদর্শকে ভয় পায়। সব ভালো নীতির কাজ করে শিবির, আর সব খারাপ কাজ করে লীগ। এর কারণ একদল আদর্শের ধ্বজাধারী আর একদল গুম খুন ধর্ষন হত্যা ও মাদকের ধ্বজাধারী।

জাতির মূল অসুখের চিকিৎসা না করলে এসব মৃত্যু বন্ধ হবে না। ধানাই পানাই মার্কা সাময়িক বরখাস্তের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সিসিটিভির ফুটেজ লুকানোর কসরত করবে। সেন্ট্রির চোখে কিছুই ধরা পড়বে না। মেডিক্যাল রিপোর্টে কোন নির্যাতনের দাগ খুঁজে পাওয়া যাবে না। ভিসিরা রাজনীতির নামে শিক্ষাকে কবজা করে জাতিকে পঙ্গু করে দিবে। কারণ মূল অপকর্মীরা দলবলসহ বহাল তবিয়তে আছে থাকবে। মূল অপকর্মীদের না সরালে রোগের চিকিৎসা হবে না। শুদ্ধি অভিযান চলুক শুধু শোভন রব্বানীদের নয়, সমস্ত জাতির নষ্ট ভাইরাসকে বেছে বেছে পরিষ্কার না করলে এ জাতি ইতমধ্যে মেরুদন্ড হারা আত্মমর্যাদাহীন জাতিতে পরিণত হয়েছে। গোটা দেশকে অন্ধকারে রেখে অনির্বাচিত একটি ১০০% বিতর্কীত সরকার কেন চুক্তিতে সই করে, প্রতিবাদ করলে তাদের পোষা বাহিনী দিয়ে মানুষ মারে। জাতি ওটি জানে, আজ তারা কার কাছে বিচার চাইছে? ডাকাতের কাছে বাটপারের বিচার কি চাওয়া যায়? আরবার হত্যা ভোটের আগের রাতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি, সুবর্ণচরের ধর্ষণের পুনরাবৃত্তি, ৫৭ সেনা অফিসার হত্যার মাধ্যমে বিডিআর বিদ্রোহের পুনরাবৃত্তি। প্রতিটি হত্যা মৃত্যুর দায় অবৈধ দখলদারের। সমস্ত জাতি মূলের পানে ছুটুক যদি জান মান নিয়ে বাঁচতে চায়। নয়তো আবরারের মতই সারা জাতিকে পিটিয়ে মারা হবে। কে কোন দল করে সেটি কোন বিষয় নয়। দলমত নির্বিশেষে  এটি আলামত মাত্র, সবাই মরবে, ইহ পরকাল দুই কালই ঝরঝরে হবে। সরকারের এ কলঙ্ক আরবার নদী হয়ে ফেনী নদীর নতুন নামকরণে রাজনীতি, ইতিহাস ভূগোল দখল করে রাখুক। চাপাতী লীগরাও সত্য ইতিহাসের অর্জনে জমা হচ্ছে।

যুগ যুগ অবদি মানুষ এ ইতিহাসের কথা জানবে। সরকারের দাপটিরা এতই সংঘবদ্ধ যে সিসিটিভির ফুটেজও তারা লুকিয়ে ফেলতে পারে, সরাতে পারে মিটাতে পারে, কমাতে পারে। এদের হাতে সিসেম ফাঁকের ভোটচুরি যাদুমন্ত্র। আবরারের লাশ সিড়িতে রেখে টিভিতে খেলা দেখে ছাত্রলীগের খুনীরা। পানি চুক্তিতে সমালোচনা করাতে আবরার হত্যা। পানি পানি চাইতে চাইতে মরেছে কিন্তু ওরা অবৈধপথে ভারতকে পানি দিলেও মরার সময় আবরার এক ফোটা পানি খুঁজেও পায় নাই। শারীরিক মানসিক তিন দফাতে তাকে মারা হয় ২২ জন নামধারী পদবীধারী দানব দ্বারা। এসব ধর্ম যার যার উৎসব সবার করা মদ্যপানের মহড়ার ফলাফল। প্রধানমন্ত্রী গর্ব করে বলেন আমি ছাত্র অবস্থা থেকে এভাবেই রাজনীতি শিখেছি। কিন্তু তার কাছের জনরাই বই লিখে স্পষ্ট করে গেছেন যে ১৯৯৬ সালের আগে তিনি কখনো কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না (মতিয়ুর রহমান রেন্টুর বই ‘আমার ফাঁসি চাই’ ৯০ পৃষ্ঠা)। ২০১৮ সালে মানুষ ভোট দেয়নি কিন্তু তিনি অকপটে বলে বেড়ান মানুষ ভোট না দিলে বিরোধীরা আমাকে গদিতে থাকতে দিত না। তিনি গদিতে থাকছেন এসব পেটুয়া বাহিনীর দ্বারা যারা পিটিয়ে সারা জাতিকে পঙ্গু অথর্ব করে রাখে। নির্দোষ বিরোধী নেত্রীকে কারাগারে ঢুকিয়ে তার উপর চরম অবিচারের সীমাহীন অনাচার চালায়। বিচার বিভাগও তার অধীনস্ত দাসত্বের শিকার। তার পছন্দের সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধান বিচারপতিও টিকতে পারেন নাই। সেখানে বিরোধী নেত্রীও কারাগারে, স্পষ্টভাষী সম্পাদকেরা বারে বারে কারাগারে গেছেন। সেখানে একমাত্র হলুদ সাংবাদিতা সমর্থনীয় ও পুরষ্কৃত।

সময়ে বিধাতাও বিরাগ হয়। বিধাতা চাইলে আবরারকে জীবিত রেখে দিতে পারতেন বাকী অনেকের মতই। কারণ সারা বছরই এভাবে টর্চার সেলে মানুষ ছাত্রদেরে পিটানো হয়। আর টর্চারের মাঝেও তারা বাঁচে। ফেরাউনের অত্যাচারে যখন নির্যাতীত মিসরবাসী প্রমাদ গুনছিল তখন মিসরে তাদের উদ্ধারকল্পে নবী মুসার জন্ম হয়। নজরুলের ভাষাতে ঘটনাটি কবিতার ছন্দে আনছি।

শুনিয়াছি, ছিল মমির মিসরে সমরাট ফেরাউন,

জননীর কোলে সদ্য প্রসূত বাচ্চার নিত খুন!

শুনেছিল বাণী, তাহারি রাজ্যে তারি রাজপথ দিয়া

অনাগত শিশু আসিছে তাহার মৃত্যু বারতা নিয়া।

জীবন ভরিয়া করিল যে শিশু জীবনের অপমান,

পরের মৃত্যু আড়ায়ে দাঁড়ালে সে-ই ভাবে পেল প্রাণ!

জন্মিল মুসা, রাজভয়ে মাতা শিশুরে ভাসায় জলে,

ভাসিয়া ভাসিয়া সোনার শিশু গো, রাজারই ঘাটেতে চলে।

ভেসে এল শিশু রাণীরই কোলে গো, বাড়ে শিশু দিনে দিনে,

শত্রু তাহারি বুকে চড়ে নাচে, ফেরাউন নাহি চিনে।

এল অনাগত তারি প্রাসাদের সদর দরজা দিয়া,

তখনো প্রহরী জাগে, বিনিদ্র দশ দিক আগুলিয়া!

রসিক খোদার খেলা, তারি বেদনায় প্রকাশে রুদ্র যারে করে অবহেলা।।

এমন সংকট সময়েও বিধাতার কাছে এ জাতির মুক্তির জন্য দোয়া চাইছি।

কলাম লেখার সময় : অক্টোবরের ১৩ তারিখ ২০১৯ সাল।

 

Advertisements

নাজমা মোস্তফা

প্যারোলে জামিন বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশে। যদিও ক্রেতা নেই, বিক্রেতা চাইছেন প্যারোল দিতে। ৭৬ বছর বয়স্ক একজন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে দরকষাকষি চলছে। বহুদিন থেকে যেচে যেচে বাদিপক্ষ বলে “প্যারোল নেবে গো” যদিও অধিকার না পাওয়া বঞ্চিতের দাবী এটি নয়। বিবাদিপক্ষ দয়া চান না, চান তার ন্যায্য পাওনা। এসব হতাশার কথা একবিংশ শতকে বাংলাদেশ শাসক বর্গের ইতিহাসে দাগ চিহ্ন হয়ে থাকবে। সরকার প্রধান দেশে ১০ টাকার টিকিট কেটে মানুষকে গোলক ধাঁধায় ফেলে পরক্ষণেই ছুটে যান বিদেশে চিকিৎসা নিতে। পক্ষান্তরে খালেদা জিয়া কোন সময়ই দেশের চিকিৎসায় হতাশ নন, তবে তার আবদার তার নিজস্ব চিকিৎসক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া,  যেখানে তিনি স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে এটি দিতে প্রতিপক্ষ নারাজ। এখানেই লুকিয়ে আছে গভীর শংকা, বিশ^াসহীনতা ও অপতৎপরতা। তাকে যেতে হবে সরকারের পছন্দের হাসপাতালে, যেখানে যেতে ডায়বেটিকসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত অসুস্থ খালেদা জিয়া স্বচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না। এটি এমন একটি দেশ যেখানে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকেও উপযুক্ত মর্যাদা দেয়ার দরকার বোধ করে না মধ্য রাতের ভোটে জেতা সরকার। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিকেরও জামিন পাওয়ার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া  সরকারের জন্য শোভন কাজ নয়। মানুষ বা জাতি যখন মানবিকতা থেকে দূরে থাকে তখন মানুষ হিসাবে তাদের আর গর্ব করার কিছু থাকে না। এ মানসিকতায় জামিনের প্রশ্নে ভিন্ন ভাষায় প্রতিপক্ষের জবাব ‘নো কম্প্রোমাইজ’। কথাটি আদালতের কথা নয়, রায়ও নয়, এটি সরকারের মুখ নিঃসৃত প্রগলভ সংলাপ। অন্যদিকে নিজ দলের অপরাধীকে এরেস্ট না করে অপরাধীকে নজরদারীতে রেখে মন্ত্রীদের জবাব হচ্ছে ওয়েট এন্ড সি। এরা এতই দাপটি যে তাকে ধরতে সরকার সময় নেয়। সচেতনরা বলছেন দেশবিধ্বংসী চুক্তিগুলো দেশবাসীর কাছ থেকে আড়াল করার জন্যই এতসব চলমান মঞ্চনাটক, দৃষ্টি ঘোরাতে ট্রেনিং প্রাপ্তরা একই পথে হাটে। সব রসুনের কোয়ার মতই সব ডাকাত এক ধারায় প্রশিক্ষণ রপ্ত করে। প্রতারণার শেষ কৌশল জাতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো।

আল্লাহর হাতে অসীম ক্ষমতা, তারপরও আল্লাহ তার অধিনস্তের উপর অসীম নমনীয়, না চাইতেই আমরা রোদ বৃষ্টি আকাশ বাতাস সুজলা সুফলা সমৃদ্ধ ধনে দানে ধন্য হয়েছি। কিন্তু এত অর্জনের পরও উদ্ধত ফেরাউন নমরুদরা এর ব্যতিক্রম, উদারতায় মানবিকতায় এরা সবদিন কৃপণ। যুগে যুগে এভাবে ধরাকে সরাজ্ঞান করে শিরোপা নিয়ে দুই জাহানে তাদের নিজেদের ক্ষতি জমা করেছে। মুজিব পরবর্তী আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দখল বেশীরভাগই প্রশ্নবিদ্ধ অথবা অবৈধ। কিছু মানুষ বোকার মত তাদের বিশ^াস করেছে, পরক্ষণেই বার বার ঠকেছে। এটি তার দলের চারপাশের ধারেকাছের পরিবারসহ গোটা জাতির বেশীর ভাগের ভালো করেই জানা। এ শংকাতেই তারা অবাধ ভোটে ভয় পায়, সাহস হারায়, আগের রাতে ভোট সারে। সাগরচুরি চাঁদাবাজি ধাপ্পাবাজির সব খানাখন্দক এদের ভিতর বাইরের খবর বারে বারেই ঘরের সাগরেদরাই খোলাসা করে গেছে। এবার সর্বশেষ ক্যালেঙ্কারীর নামে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে মেডিক্যালের বই, ক্লিনারের বেতন, ঢেউটিন, রেলওয়েতে হরিলুট, বালিশ, পর্দা, বৈদ্যুতিক ক্যাটলী, বৈদ্যুতিক চুলা, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ড্রেসিং টেবিল, খাট. মেট্রেস, তোষক, সোফা, চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিল, ভ্যাকুয়াম মেশিন, এসব প্রজেক্টে লাখ লাখ নয়, কোটি কোটি টাকার লুটপাট বানিজ্য উন্নয়নের জোয়ার হয়ে আছড়ে পড়ছে ময়দানে। সরকারের দাপটে মিডিয়া কত আর চেপে রাখবে। ফেসবুক ইউটিউবের যুগ, সারা উন্নয়নের বাটপারি জোয়ার হয়ে ভাসছে। এখানে হাজার লক্ষের কোন বিষয় নেই সাকূল্যে পেট ভরাতে সব কোটি কোটি টাকার কারবার। রাস্তার কংক্রীট হাতের ঠেলাতে উঠে আসছে, রডের বদলে বাঁশের বুনটে করা সেতু ধ্বসে পড়ে মানুষ মরছে। একটি বালিশ প্রকল্প ভবনের উপর উঠাতে এক হাজার টাকা, একটি বৈদ্যুতিক কেটলী উঠাতে ৩,০০০ টাকা, একটি ওয়াশিং মেশিন ভবনে উঠাতে ৩০,০০০ টাকা ধরা হয়েছে। লুটপাট কাহাকে বলে এটি কত প্রকার ও কি কি, এসব প্রশ্ন বেকুব হয়ে যাওয়া জাতির সামনে উদাহরণ হয়ে ঝুলছে। এরা যদি মাছ ভাত না খেয়ে স্বর্ণ খেত তবে তাদের এসব লুটপাটের যুক্তি মানা যেত। মানুষের এ ক্ষুধা, মৃত্যুক্ষুধা হয়ে সরকারকে উলংগ করে দিচ্ছে, একবার নয় বারে বারে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১১টি ভয়ংকর বড়সড় মামলা সরকারী আদেশে সরিয়ে নেয়া হয়েছে, তার লিস্টটা দেখলে আর টাকার পরিমাপ জানলে আপনাদের আত্মা শুকিয়ে যাওয়ার কথা। (১) নাইকো দুর্নীতি (২) মিগ ২৯ বিমানক্রয়ে দূর্নীতি (৩) কোরিয়ান ফ্রিগেট ক্রয়ে দূর্নীতি (৪) মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র দূর্নীতি (৫) খুলনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ঘুষ গ্রহণ (৬) টুঙ্গীপাড়া স্মৃতিসৌধ নির্মাণে দুর্নীতি (৭) আজম জে চৌধুরীর ঘুষ গ্রহণ (৮) কাজী তাজুল ইসলামের ঘুষ গ্রহণ (৯) নূর আলীর নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণ (১০) বেজপায় লবিস্ট নিয়োগে ঘুষ গ্রহণ (১১) নভো থিয়েটার নির্মাণে দুর্নীতি। পরিসর কমাতে আমি মোট টাকার সংখ্যাটি শুধু আনছি ১৪,৮৬২ কোটি টাকা। খালেদা জিয়া জিয়াউর রহমানের অনুদানের টাকা ব্যঙ্কে রাখলে সেটি কয়গুণ হয়, ২ কোটি হয়েছে ৬ কোটি মতান্তরে ৮ কোটি। এই অপরাধে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে এরকম শাস্তি দিয়ে জামিন অযোগ্য করে রাখছে সরকার। ইয়াাসির আরাফাতকে স্লো পয়জনিংএর অভিযোগ উঠে তার মৃত্যুর পর, এর অনেক প্রমাণও পাওয়া যায়। একই কসরত কি এখানেও চালানো হচ্ছে, এ শংকা অনেকেই করছেন। আমরা জানি হিংসা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। তাই এটি শুধু খালেদাকেই ধ্বংস করছে না, বরং এসব কর্মকান্ডে হাসিনাসহ গোটা দেশই ধ্বংস হচ্ছে হয়েছে ধারণা হয় আরো হবে।

ভারতে গিয়ে সম্প্রতি বরাবরের মত অনেক দিয়ে এসেছেন, কিছু আনতে পারেন নাই। এসব দেনা পাওনা সম্পূর্ণ তার নিজের লাভ ক্ষতির উপর নির্ভর করে হয়। কারো মতামতের তোয়াক্কা করেন না, এসব প্রকাশও করেন না। কেউ বলেছে মূলা এনেছেন। এটিও তারা জানতে চাচ্ছে সত্যি কি তিনি মূলা আনতে পেরেছেন? আত্মপ্রচারে পারদর্শী প্রধানমন্ত্রী ভয়েস অব আমেরিকাতে গিয়ে বলে এসেছেন যেখানে দুর্নীতি সেখানেই অভিযান। সম্প্রতি শেখ হাসিনা বলেছেন নেতা হওয়ার আগে মানুষ হন। কথাগুলি খুবই সুন্দর কিন্তু ওটি কি তিনি পালন করেন? যে সব মামলাতে হাসিনা খালেদাকে ঘোলের জল খাওয়াচ্ছেন তার থেকে বহু বহু গুণ অপরাধে আক্রান্ত তিনি নিজে। রসুলের একটি হাদিসে এটি বর্ণিত হয়েছে একজন অতিরিক্ত মিষ্টি ভোক্তা তার কাছে বুদ্ধি নিতে আসে। নবীর নিজেরও ছিল খুব মিষ্টির প্রতি আসক্তি, তিনিও মিষ্টি পছন্দ করতেন। তার উত্তরটি ছিল যে এর পরিমাণ কমালে ভালো। কিন্তু রসুল নিজে মিষ্টি পছন্দ করতেন তাই তিনি জবাব দিতে কিছু সময় নেন। আগে নিজে মিষ্টি খাওয়া কমান এর পর উপদেশ বিলি করেন। কিন্তু দেখা যায় আমাদের সমাজে যারা অপকর্ম করে তারাই বেশী উপদেশ বিলি করে আত্মপ্রচার চালায়। এসব শুনলে মানুষের হতবাক হওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না। তার কথার সাথে উল্লেখিত লিস্টটি মিলিয়ে দেখলে দেশবাসী কি মন্তব্য করবেন সেটি আল্লাহই জানে ভালো। কিন্তু রসুলের নীতি অনুসারে আগে নিজের জীবনে প্রতিফলন করে তারপর উপদেশ বিলি বন্টন করলে সেটি সুস্থ রুচির পরিচয় বহন করে। সমস্ত জাতির একটি অধিকার আছে প্রতিটি যৌক্তিক অযৌক্তিক ইস্যুতে কথা বলার। ইসলামে একেই বলা হয়েছে জেহাদ। সত্য বলা, সত্য প্রচার করা, পালন করা মুসলিমদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। তারা দেড় হাজার বছর থেকে এর প্রাকটিস করলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হতো।

অসুস্থ খালেদা জিয়ার জন্য সারা জাতি নিজেদের উদ্যোগে প্রাণ খোলে দোয়া করেন। তিনি নিজের কোন কাজই করতে পারছেন না। এটি খুবই কষ্টকর একটি সময়, যে কোন মানুষের জীবনেই এটি আসতে পারে। জাতির মুখে “আমার নেত্রী আমার মা জেলে থাকতে দেব না’ ‘জেলের তালা ভাংবো, খালেদা জিয়াকে আনবো’ ইহ ও পরকালে অর্জিত নিঃস্বার্থ দোয়া পাওয়া একজন মানুষের জীবনের সব চেয়ে বড় পাওনা। এটি সবার ভাগ্যে জোটে না। অনেকে মরেও সেটি পায় না। তিনি জীবিত অবস্থায় দেশবাসীর কাছ থেকে যে সম্মান পেলেন তার তুলনা হয় না। ধারণা হয় প্রতিটি বঞ্চিত নির্যাতীত মানুষের দোয়ার জরুর পাওনাদার খালেদা জিয়া। সবার শেষে অদেখা বিধাতার দেয়া একটি বাণীকে স্মরণ করছি। আল্লাহ অহংকারী মানুষকে বলেন, “আর মানুষের প্রতি তোমার চিকুব ঘুরিয়ে নিও না, আর পৃথিবীতে গর্বভরে চলাফেরা করো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ প্রতিটি উদ্ধত অহংকারীকে ভালবাসেন না (সুরা লুকমানএর ১৮ আয়াত)।

লেখার তারিখ = ০৪ অক্টোবর ২০১৯।

বি দ্র: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘দি রানার নিউজ’ সাপ্তাহিকে শুক্রবার ১১ই অক্টোবর ২০১৯ সংখ্যাতে ছাপে।

নাজমা মোস্তফা

আদমের সময় থেকেই ইবলিস ময়দানে উপস্থিত। বাংলাদেশের দখলদার সরকার বিরোধী দমনে যতই শক্তি দেখাক নিজ দলের পোষ্য সম্রাট সন্ত্রাসীদের কাছে সরকার রাজা নয়, প্রজা। কারণ এরাই অবৈধ দখলদারীত্ব সরকারের চালিকাশক্তি। সাত দেহরক্ষী নিয়ে চলা মাত্র একজন যুবলীগ নেতা জি কে শামিমরা অবৈধ সরকারের চালিকাশক্তি হয়ে প্রতিদিন ৫ লক্ষ টাকা ভাগ দিত আইন শৃংখলা বাহিনীকে, প্রতি মাসে ২৫ কোটি টাকা মন্ত্রী এমপিকে, ঠিকাদারী কাজ দেয়ার জন্য একজন প্রকৌশলীকে দিতে হয় মাত্র ১২ কোটি টাকা। এভাবে ৫ বছর চলছে, এদের পিঠ চাপড়ে বাহবা দিতে হয়েছে অবৈধ প্রশাসনকে। গদি টেকাতে নিজ দেশের মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে প্রতিবেশী দেশ বিধ্বংসী অপকর্ম ও বর্ডারে লাশ যোগানদারদের পাতে টন টন ৫০০ টন লোভনীয় উপহার তুলে দিতে হয়। মূল দুষ্টদের বাঁচাতে দখলদারীত্ব টিকাতে প্রধানমন্ত্রী দেশসেবার নামে যা ইচ্ছে তাই বলে বেড়াতে পারেন, তার মুখে লাগাম দেয়ার কেউ নেই। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে, বলতেও প্রধানমন্ত্রীর মুখে আটকায় না। সারা দেশে একই সমাচার, ডাকাত ধরা পড়ছে, দ্বিগুণ উৎসাহে তারা প্রচার করছে অপদখলের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এরা এমন এক তরবারী এটি ধারেও কাটে আবার ভারেও কাটে, এ চাকুর দুদিকেই প্রচন্ড ধার। জাহান্নামের তালিকা হাতেও খুশীতে তালিয়া বাজায়, ইবলিসের সর্দার হতে পারছে ঐ খুশীতে। এরা গঙ্গার পানিতে ধোয়া তুলসিপাতা, সার্টিফিকেট নিজেদের করা।

শিকড় থেকে শাখা প্রশাখা কান্ড মূল সব এক ইবলিস প্রজাতি। তৃণমূল থেকে চূড়াতে পৌছা ৯৫% মুসলমানের দেশ আজ আইয়ামে জাহেলিয়াতের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে অনেক অনেক আগে, লগি বৈঠাতে ইবলিসের জগতসেরা তারা। শেষ জামানার এ এক অসাধারণ নমুনা। প্রিয় নবী মোহাম্মদ (সঃ) নিজেই ছিলেন একজন শেষ জামানার নবী, তার পরে আর নবী নেই। তাই সে হিসাবে তিনি শেষ ধ্বংসের নিকট সময়ের নবী। এদের প্রভাবে তার স্বগোত্রীয় মুসলিমরা সততা, নীতি আদর্শের কথা ভুলে গেছে, শেষ সময়ে এরা কুরাইশের আদলে ময়দানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। বদর ওহুদ খন্দক চলছে। ডোবাতে কুচি কুচি করে টাকা কেটে কেটে ফেলা এক দুই বস্তা নয় কাড়ি কাড়ি গাড়ি গাড়ি বস্তা। একটি বাবার মেয়ে তার বাবার নাম ডুবিয়ে সারা জাতিকে নিয়ে এমন এক খেলায় মত্ত যেখানে এ ধর্মের সব দাগ চিহ্ন নীতি নৈতিকতা শেষ অবস্থানে। বাকী দেশের ভেতরে ধড়পাকড়ের মঞ্চ নাটক চলছে। বর্তমান সময়ে ইবলিস এদেশে আটকায় না, অবাধ স্বাধীনতা সুখ সম্ভোগে সময় পার করছে। একই সময়ে সাধুরা এদেশে ইজ্জত নিয়ে বাস করতে পারছেন না। এমন সংকটেও যে পুলিশ সদস্য সত্য প্রকাশ করছে তার চাকরি চলে যাচ্ছে, আবার ঐ পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায়ই শক্তির তলানীতে নেপালী ভাড়াটে জোয়াড়েরা নিজদেশে স্বসম্মানে সমস্যা মুক্ত হয়ে চলে যেতে পারে। বালিশ উঠছে পর্দা পড়ছে, সবখানে কোটি কোটি টাকার খেলা। দুষ্টদের সাওয়ালরা ফোনে সাধুদেরে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। ইবলিস যা কিছু করবে, তার সব কিছুই করা হচ্ছে এই বাংলাদেশে। যুগে যুগে শক্তির তলানীতে ইবলিসরা এভাবে কাজ করে গেছে, এ খবর দেড় হাজার বছর আগেই দেয়া হয়েছে। ইবলিসরা ছলে বলে কলে কৌশলে রাজ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। কুরআন এদের পরিচয় স্পষ্ট করেছে এরা হবে অহংকারী অগ্নিমূর্তি, আচরণ দেখে ইবলিস চেনা যায়। এই ইবলিসদের কারণে ইমাম আবু হানিফা শান্তিতে মরতেও পারেন নাই, কারাগারে অবর্ণনীয় নির্যাতনে মারা গেছেন।

এভাবে ধর্মের সিলেবাসে দুষ্টের কৃতকর্মের জমা নির্দিষ্ট করা আছেই, যদিও চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। আল্লাহর কথা দিয়েই শিষ্টাচারী মানুষদের স্মরণ করিয়ে দেই, আল্লাহ সব জানেন যা তারা লুকায় ও প্রকাশ করে (সুরা বাক্কারাহএর ৭৭ আয়াত)। এদের মাঝে নিরক্ষর তারা যারা উপকথার বেশী জানে না, এবং আন্দাজের উপর চলে (ঐ, ৭৮ আয়াত)। তাদের জীবনে মন্দ অর্জন করবে, যে অর্জনে পাপ তাদের ঘিরে ধরবে, এরা হচ্ছে আগুণের বাসিন্দা, তাতে থাকবে দীর্ঘকাল (ঐ, ৮১ আয়াত)। যারা আখেরাতের বদলে ইহকাল খরিদ করে অপকর্ম করছে তাদের উপর শাস্তি লাঘব করা হবে না, কোন সাহায্যও দেয়া হবে না (ঐ, ৮৬ আয়াত)। এসব বাণী দুর্বৃত্ত ছাড়া আর কেউ অস্বীকার করবে না (ঐ, ৯৯) আয়াত)। সামনে এমন দিন আসছে যখন কেউ কাউকে সাহায্য করতে পারবে না, কারো সুপারিশে কোন কাজ হবে না। এরা সাহায্যও পাবে না (ঐ, ১২৩ আয়াত)। এটি ঠিক অবিশ^াসীকে ক্ষনিকের জন্য ভোগ করতে দেয়া হবে। তারপর তাদের তাড়িয়ে নেয়া হবে আগুণের নিকৃষ্ট গন্তব্যের শাস্তির দিকে (ঐ, ১২৬ আয়াত)। পূর্ব পশ্চিমে মুখ ফেরানোর নাম ধর্ম নয় (ঐ, ১৭৭ আয়াত)। আল্লাহ খুব দয়ালু তবে প্রতিফল দানে বড়ই কঠোর (আর ইমরানের ১১ আয়াত)। গ্রন্থধারীদের মাঝে এমন লোকও আছে যার কাছে একগাদা জিনিস গচ্ছিত রাখলে সে ফিরিয়ে দেবে আবার এমন লোকও আছে যে তার বিপরীত কিছুই ফিরিয়ে দিবে না (ঐ, ৭৫ আয়াত)। গ্রন্থধারীও সত্যের সাথে মিথ্যাকে মিশায় আর জেনে শুনে সত্য লুকায় (ঐ, ৭১ আয়াত)।

মেগা দুনীতির জবাব দেয়া হবে মেগা শাস্তি দ্বারা। কোন মানুষ এরকম বিচার করতে সক্ষম নয়, প্রতিদান দিতেও সক্ষম নয়। কারণ বলা হয়েছে সেদিন বালি পরিমাণও কারো প্রতি অবিচার করা হবে না। বালিশ দূর্নীতি, পর্দা দুর্নীতি, রেলওয়ে প্রকল্পের দুর্নীতি, পুলিশ, আইন বিচার বিভাগকে কবজা করার মিথ্যাচারী দুনীর্তি, গুম খুন, চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো বানিজ্য, ধর্ষণ, মজুতদারী, নেশাখোরী, লুটপাট, প্রশিক্ষণের নামে আনন্দ ভ্রমণ, জনতার সম্পদ তসরুফ, সব পাই পাই হিসাব দিতে হবে সোনাচান্দ পাখিদের। জাতির মেগা সাধুরা ময়দানে নেই দেখেই মহা আয়োজনে এরা জাতির অর্থনীতিকে খুবলে খুবলে খাচ্ছে। আমরা মানুষরা প্রতিনিধিত্ব করছি আল্লাহর, আমরাই তার খলিফা তার আদেশ মানছি, তার সার্বভৌমত্ব স্বীকার করছি। সব পাই পাই হিসাব তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। আদম আর ইবলিসের গল্পটি দিয়ে মানব জীবনের শুরুতে আল্লাহ এ গল্প বলে দুনিয়ার খেলা শুরু করেছেন। এখানে এ দুজনার গল্প সাজানোর পেছনে বিধাতা গভীর প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিবেক সম্পন্ন মানব সম্প্রদায়ের চিন্তাশীলদের কাছে ম্যাসেজ বিলি করেছেন আর বারে বারে বলেছেন তোমাদের উভয়ের বিচার হবে। এটিও স্পষ্ট করা হয়েছে বেশীর ভাগ মানুষ হবে ইবলিসের অনুসারী অল্প মানুষ থাকবে সৎপথ প্রাপ্ত সুপথের কারিগর ধৈর্যশীল সততায় অটল। ইবলিস তাদেরে কারাগারে ঢুকায় বারে বারে। ইবলিস ভালো করেই জানে তার পরিণতি কত ভয়ঙ্কর! একদিন ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলে সব পন্ড করে খেলা শেষ ঘোষনা করা হবে যদিও আমরা জানি না সেটি কখন হবে। তবে বলা হয়েছে, বেশী দূরে নয়, হঠাৎ করেই এটি সংগঠিত হবে কেউ ধারণাও করতে পারবে না। কুরআনের শপথ নিয়ে কথাগুলি বললাম সুরা ইয়াসিনের দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে এটি এমন ‘একটি গ্রন্থ যেটি জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ। বিবেক সম্পন্ন মানুষরা যেন তাদের বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয় এ আশায় কলামটি শেষ করছি।

লেখার তারিখ= ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯।

বি দ্র: এ লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক দি রানার নিউজ সংখ্যায় ৪ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ছাপা হয়।


নাজমা মোস্তফা

মনের গোপন কোণে অনুসন্ধানের স্পৃহা ছিল প্রকট তাই ময়দান চষে বেরিয়েছি ইতিহাসের খানাখন্দকে ঘুরে ফিরে। মুসলিমরা সাড়ে পাঁচশত বছর শাসনের পরও কি কারণে ধ্বসে গেল মসনদ, এটি সবার জানা। প্রথম কয় বৎসর ইংরেজরা মুসলিম বিচারকদের রাখলেও ক্রমে ক্রমে উচ্চপদস্থ পদগুলিতে মুসলিমদের পদগুলি তারা ইংরেজদের নিয়োগ দিতে থাকে। ইংরেজের আগমনকে হিন্দুরা সাদরেই বরণ করে। এদেশে শিকড় গাড়তেও নেপথ্যে হিন্দুদের অপকর্মের অনেক দাগ ছিল। এর বড়দাগের প্রমাণ ছড়িয়ে আছে খোদ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক ভাবে কল্পনায় কবিতায় আচার আচরণে। এটি বৃটিশরা বার বার স্বীকার করেছে যে হিন্দুদের কারণেই তারা ঐ দেশে শিকড় পোক্ত করতে পেরেছে। ১৮১৩ সালে সিলেক্ট কমিটির এক প্রশ্নের জবাবে স্যার জন ম্যালকলম বলেন, আমাদের প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের অনুরক্তি আমাদের ভারত সামরাজ্যের নিরাপত্তার প্রধান উৎস (এ আর মল্লিক ১৪৩ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)। ঐ সময়ে সিলেক্ট কমিটির এক সাক্ষ্যে ক্যাপ্টেন টি মাকানও একই মন্তব্য করেন। কর্নেল টমাস মনরো এটিও বলেন যতদিন হিন্দুরা আমাদের অনুরক্ত থাকবে ততদিন মুসলিমরা অসন্তুষ্ঠ থাকলেও আমরা এদেশে দন্ড ঘোরাতে পারবো (ঐ)। গভর্নর জেনারেল লর্ড এলেনবারা হিন্দুদের খুশী করতে মুসলিমদেরে আঘাত করতেও দ্বিধাবোধ করেন নাই। ফার্সি মুসলিম অভিজ্ঞদের ভাষা হলেও বৃটিশরা হিন্দু শিক্ষকের কাছে ফার্সি শিখে হিন্দু মনোরঞ্জন বহাল রাখে। মুসলিমদের ফকির বিদ্রোহ, তিতুমীরের বিদ্রোহ, সিপাহী বিদ্রোহ ও সীমান্তের জিহাদে তাদের কার্যকলাপে বৃটিশরা শংকিত ছিল এবং কোম্পানীর শাসন প্রলম্বিত হওয়ার পেছনে হিন্দুদের দেশ বিরোধী কর্মকান্ড সুস্পষ্ট থাকলেও একমাত্র মুসলিম মিরজাফরের ঘাড়েই সেটি চেপে রাখা হয়েছে। আর ইত্যবসরে রবীঠাকুরগংসহ বাকীদের সকল নীচতাকে কবর দিয়ে মনগড়া ভুল ইতিহাস চালু রাখা হয়েছে। বৃটিশরা যে মুসলিম দমন নিপীড়ন করেছে সেটি তারা তাদের লেখনীতেই প্রকাশ করে গেছে। আর হিন্দুরা যে তাদের সাথে তালিয়া বাজিয়ে গেছে সেটিও ঢাকা থাকে নাই। দৃশ্যতঃ খোলসের আড়ালে থেকে কথা বলে হাতজোড় করে নমঃ নমঃ ভঙ্গিতে প্রকৃত ক্রুড় স্বভাব চাপা পড়ে যায় না। বৃটিশরা মুসলিমদের বিচারিক দক্ষতা, সততা, ন্যায়বোধ জনিত বস্তুনিষ্ঠতার কারণে বৃহত্তর স্বার্থে কাজী, মুফতি, মৌলভী ও এরকম কিছু পদের কর্মচারীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছুদিন রাখতে বাধ্য হয়। এভাবে রাজভাষা ফারসি থেকে তারা ক্রমে ক্রমে ইংরেজীতে প্রত্যাবর্তন করে।

মুসলিমদের ধ্বংস করতে তাদের হাতে সাজানো শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় সব দাগ মুছে দেয়ার প্রচেষ্টা চলে। যদিও মুসলিমরা সব সময় ধর্মীয় শিক্ষাকে অত্যাবশ্যকীয় বলে মনে করতো। মুসলিমদেরে ঠেকাতে ঐ সময় শুধু ভাষা নয়, পাঠ্যক্রমেও হিন্দুয়ানী জুড়ে দেয়া হয়। মুসলিম শিশুরা যাতে মনের দিক থেকেও হিন্দু হয়ে গড়ে উঠে সে প্রচেষ্টা চলে। ওদিকে পাঠ্যপুস্তকে জুড়ে দেয়া হয় রামের গল্প, শ্যামের গল্প, হরির কাহিনী কৃষ্ণের চরিত্র, যদু মধু, শিব ব্রহ্মা রাম হরি, এসব নামেই পাঠ আরম্ভ হয়। স্বরস্মতি বন্দনা, মনসা মঙ্গল এসব যখন বিদ্যালয়ের অংশ হয় এবং সেটি মুসলিম ছাত্রছাত্রীকেও বন্দনা গীতি গাইতে হয় তখন স্বভাবতই তারা শিশুকালেই চরম আঘাত প্রাপ্ত হয়। সাহিত্যে বাংলা ভাষায় মুসলিমদের অবদান অনস্বীকার্য, ইরানী সাহিত্যের সাথে সম্পৃক্ত বাংলা সাহিত্যের অনবদ্য হাতেখড়ির অবদান তারা রাখে সুলতানী আমলেই। সুলতানী আমলে বাংলা ভাষার যে বৃদ্ধি ও প্রচার হয় তাকে ইংরেজ আমলে শিকল পরিয়ে ওলট পালট করা হয়। ফারসির বদলে সংস্কৃতকে চাপিয়ে দেয়া হলো ভারতবাসীর উপর। সংস্কৃতবহুল না হলে হিন্দু প্রকাশকরা আরবী ফারসির শব্দ যুক্ত লেখা প্রকাশ করতেন না। এ নিয়ে সাহিত্যে খোদ রবীন্দ্রনাথের সাথে নজরুলেরও বাকবিতন্ডার কথা উঠে এসেছে। নজরুলও আক্রান্ত হলে জবাবে বলেছেন আমি কথায় কথায় রক্তকে ‘খুন’ বলে অপরাধ করেছি। আজ আমাদের মনে হচ্ছে আজকের রবীন্দ্রনাথ আমাদের সেই চিরচেনা রবীন্দ্রনাথ নন। তার পেছনের বৈয়াকরণ পন্ডিত এসব বলাচ্ছে তাকে। আমি শুধু খুন নয়, বাংলায় চলতি আরো অনেক আরবী ফারসী শব্দ ব্যবহার করেছি। আমি মনে করি বিশ^ কাব্যলক্ষীরও একটি মুসলমানি ঢং আছে। ও সাজে তার শ্রীর হানি হয়েছে বলে আমার জানা নেই। বাংলা কাব্যলক্ষ্মীকে দুটো ইরানী ‘জেওর’ পরালে তার জাত যায় না, বরং তাকে আরো খুব সুরতই দেখায়। আজকের কাব্যলক্ষ্মীর প্রায় অর্ধেক অলঙ্কারই তো মুসলমানী ঢংএর। — হৃদয়েরও খুন খারাবী হতে দেখি আর তা শুধু মুসলিম পাড়া লেনেই হয় না।’ এভাবে ঐ অস্বাভাবিক গতি প্রকৃতির কারণেই মুসলিমরা প্রতিনিয়ত বিপদগ্রস্ত হয় এবং বিদ্যালয়ে যেতে নিরুৎসাহী হয়। পেছনে পড়ে যার , এর মূলে কাজ করেছে বৃটিশ হিন্দু জোটের জট জটিলতা।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মুসলিমরা ভারতবর্ষে শিক্ষা দীক্ষায় চিন্তায় অনেক উন্নত ছিল। বিদ্যা অর্জন তাদের জন্য অবশ্য করণীয় ধর্ম। আকবরের শিক্ষা বিষয়ক আইনে পাওয়া যায় ‘প্রত্যেক বালকের জন্য নীতিজ্ঞান, অংক, কৃষি, পরিমাপ বিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রাসায়ন ও ইতিহাসের জ্ঞান জরুরী ছিল। আবুল ফজল বলেন, এই আইনের বলে মাদ্রাসাসহ বিদ্যালয়গুলি উজ্জ¦ল আলোতে ভরে উঠে। জেনারেল শ্লীম্যান এটি স্বীকার করেছেন যে ভারতীয় মুসলিমরা যেভাবে শিক্ষিত হতো এ ধারায় পৃথিবীর খুব কম সম্প্রদায়ই শিক্ষা লাভ করেছে। গ্রীক ও ল্যাটিন থেকে অনুদিত আরবী ও ফারসি ভাষাতে তারা ব্যাকরণ, তর্কশাস্ত্র, এমনভাবে আয়ত্ব করতো যে, অক্সফোর্ড ফেরত যুবকদের সাথে তারা সমান তালে অনর্গল সক্রেটিস, এরিষ্টটল, প্লেটো, হিপোক্রেসিস, গেলেন ও ইবনে সিনা সম্বন্ধে আলোচনা করতে পারতো। সাত বছরের নিরলস প্রচেষ্ঠায় তারা শিরোস্ত্রাণ পরিধান করতো। শ্লীম্যান,উইলিয়াম হান্টার এরা স্বীকার করেছেন মুসলিমদের শিক্ষা অন্যদের থেকে বহু উন্নত ছিল। খুব কৌশলে মুসলিমদের হটিয়ে দিতে বৃটিশ হিন্দু জোট প্রতিপক্ষরা এমন কিছুই বাকী রাখে নাই, ঐ ষড়যন্ত্রে কাজ করে গেছে। তাই আজও প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে বৃটিশের চক্রান্তে সাজানো পাঠ্যসূচিসহ অনেক কিছু লেজে গোবরে অবস্থানে আছে। যদিও অতীতের পন্ডিতেরা ময়দানে নেই, কিন্তু ঐ গোপন চাল আজো বাংলাদেশের নতুন জনমে কুটবুদ্ধি আকারে চাপিয়ে দেয়ার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। কিছু চিহ্নিত দালালরা আজো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঐ আদলে মূল শিকড়হীন ভাবে মুসলিমদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাজাতে চায়।

সেদিন কৌশলীরা নিষ্কর জমি বাজেয়াপ্ত করে তাদের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বস আনে। এতে রাজ্যহারা বিত্তহীন মুসলিমদের পক্ষে শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। মুসলিমদের হাত থেকে সবকিছু কেড়ে নেয় তারা ধন জন বল শিক্ষা দীক্ষা চাকুরী সব। মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলির দান সম্পত্তি সরকার ভিন্নখাতে ব্যবহার করে। হাজী মোহাম্মদ মহসিনসহ মুসলিমদের সব দান ধন অর্জনকে উদরস্থ করে তারা। এডাম তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এই আত্মসাতের অভিযোগ সম্বন্ধে আলোচনা বড়ই কষ্টদায়ক, কারণ এ অভিযোগ অগ্রাহ্য করা অসম্ভব। এডাম এটিও বলেন ছাত্রদেরে প্রতিদিন হাটুগেড়ে নত মস্তকে স্বরস্মতি বন্দনা আবৃত্তি করতে হতো। পত্রলেখা মনসামঙ্গল এসবও তাদের পাঠ্য তালিকাভুক্ত ছিল। মিশনারী বাংলা বিদ্যালয়ে খৃষ্টধর্মীয় বই পাঠ্য তালিকার অপরিহার্য অংশ ছিল। দেখা যায় ঐদিন মুসলিমরাই ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র শত্রু। আর বাকীরা এক। একে অন্যে নোবেল আদানপ্রদান চলে। অনেক বিতর্কীত গালগল্প বাতাসে ছড়িয়ে আছে। আর প্রতিবাদী মুসলিমের ঠাঁই হয় ফাঁসিতে, গুলিতে, কারাগারে। যারা এ যাবৎ আদর্শের সাথে লড়ে গেছে, সত্য জীবন মোকাবেলা করেছে তাদের পায়ে বেড়ি পরিয়ে দেয়া হয়। ৪৭এর স্বাধীনতা পরবর্তীও রচিত হয় মিথ্যা ইতিহাস। ভুলে গেলে চলবে না, মিরজাফরের নামে দেশদ্রোহীর পাপ ও গালিটুকুনও মুসলিমদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া, আর ২০০ বছরের গোলামীর অর্জনকে যারা অভ্যর্থণা জানায় তারা ঐ পুরো সময় তুলনামূলক সমাদৃত হয়। এদের কারণেই ঐ প্রহরটি এত প্রলম্বিত হয়।

পুরাতন রাজস্ব ব্যবস্থা পরিবর্তন ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রচলন করে বৃটিশ গভর্ণমেন্ট বাংলাদেশের মুসলিমদের আর্থিক জীবনে তীব্র আঘাত হানে ( ডব্লিউ হান্টার, এন্যালস অব রুরেল বেঙ্গল, ৫৩-৫৪ পৃষ্ঠা)। এভাবে এসব ক্ষেত্রে মুসলিমদেরকে উৎখাত করে তাদের অধিনস্ত কর্মচারীদের অথবা বেনিয়া ব্যবসায়ীদের সহিত পাকা ব্যবস্থা করা হয়। এসব অবিচারের কথা স্বীকার করে মেটকাফ বলেন যে, “এই অবস্থায় জমির প্রকৃত মালিকদের থেকে জমি ছিনিয়ে নিয়ে এরুপ এক শ্রেণীর বাবুদেরে এটি দেয়া হয় যারা ঘুষ ও অন্যান্য অবৈধ উপায়ে ধনী হয়েছে” (এ আর মল্লিক ৩৪ পৃষ্ঠা)। এভাবে হিন্দু কর্মচারী যারা পূর্বে রাজস্ব কর্মচারী ছিল তারাই ক্রমে জমিদার হয়ে বসে।

কুষ্টিয়ার বনেদী জমিদার পরিবারের সন্তান মির মোশাররফ হোসেনের ‘গাজি মিয়ার বস্তানী’ থেকে ইতিহাসের তলানীতে পড়ে থাকা কষ্টকথার সামান্য আঁচ। “এ হাট তাদেরি ছিল, ফাঁকি দিয়ে কেড়ে নিল, পুরাতন নায়েবের ভাই। পৈত্রিক বসতবাড়ী, পুষ্করিনী গোলাবাড়ি, কিনিয়াছে তাহার জামাই। — সম্মুখে দাঁড়িয়ে রয়, জোড় হাতে কথা কয়, তোষামোদে বড় বাহাদুর। গন্ডমুর্খ জমিদার, ফুলে হল ঢোলাকার, শুনিতে ভাল লাগে কানে। আগ পিছ নাহি চান, আহলাদেতে গলে যান, খাবি খান খুশীর তুফানে। যদি বলি জল উচা, বলে হিন্দু তাই সাচা, প্রতিবাদ করে না কাহার। বিদ্যাহীন, বুদ্ধিহীন, একেবারে অর্বাচীন, বাঙ্গালার প্রায় জমিদার। — ডেপুটির পুত্র হয়ে, ডেপুটির বাক্স লয়ে, পালকির আগে আগে ধায়। মুন্সেফের সন্তান, মারিয়া তামাকে টান, বাজারেতে টিকি বেঁচে খায়। লক্ষপতি জমিদার, সন্তান সন্ততি তার, খেটে খায় অপরের বাড়ী। কাজ করিলে হেলা, মার খায় দুই বেলা, জুতা লাত্থি খড়মের বাড়ী। — বেগম নবাবজাদী, বাইজীর হল বাদী, কেহ সাদী করে ভেড়––য়ায়। কেহ গুড়গুড়ি মাজে, কেহ বা তামাক সাজে, কেহ বাও করিছে পাখা। বঙ্গের বুনেদী দল, গেছে সবে রসাতল, কেহ মরা কেহ আধমরা।”

কবিতার ছন্দে অনেক নাবলা কথা, সত্য হয়ে ভাসছে। বিভক্ত বাংলাদেশের মুসলিম আর ভারতের মুসলিমদের দেনা পাওনা সমান নয়, আজো তাদের মার খাওয়া চলছে, কাশ্মীরীরাও ঐ মারের ভাগ গিলছে, কারণ তারাও মুসলিম। মুসলিমরা সবদিন আক্রান্ত হলেও অসাম্প্রদায়িক থেকেছে ইসলাম ধর্মের কড়া নির্দেশের কারণে। এসব প্রচারে পাছে সাম্প্রদায়িকতা প্রকাশ পায় মনে করে আজো তা জনতার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা, ৯৫% মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশেও কয়জন পড়েছেন গাজি মিয়ার বস্তানী আপনারাই পরিমাপ করুন। কিন্তু ইতিহাস জানা নিজেকে জানা চেনা মানব জীবনের কঠিন শর্ত, আত্মসচেতন থাকা এবাদতের অংশ। বেওকুফের জন্য এবাদত নয়, এটি চিন্তাশীলদের জন্য বিবেকবানদের জন্য প্রদর্শীত সুপথ। এটি ব্যতীত অদেখা পালনকর্তা আল্লাহকে জানা, চেনা যায় না; মানব জনমের প্রকৃত আত্মসমর্পণ অসম্ভব। ঐ আত্মসমর্পণই মুসলিমদের গন্তব্যে পৌছার একমাত্র সূত্রকথা। এইজন্য কুরআনে বলা হয়েছে তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যাকে এক করে দিও না। সঙ্গত কারণেই আত্মসচেতনতার জন্য প্রতিটি সত্য প্রচার ও মিথ্যার উন্মোচন জরুরী। শতাব্দীপূর্ন এসব সংকটের পরও প্রার্থণা করি ঐসব নির্যাতীতের জন্য যারা জনম জনম নির্যাতীত হয়েছে, আজো হচ্ছে। আল্লাহ তাদের সহায় হোক।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সাল।

বি দ্র: এ লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক দি রানার নিউজ সংখ্যায় ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে ছাপা হয়।

নাজমা মোস্তফা

মানুষকে জোর জবরদস্তি করে ধর্মান্তর করা ধর্মের নিষেধ। জোর করা ছাড়া এ ধর্মের বানী প্রচার করার দায়িত্ব মুসলিমদের। তাই দৃশ্যত এ মহান ধর্মটির সুমহান ঐতিহ্য মাধুর্য্যে মোহিত হয়েই অত্যাচারের নিগড় থেকে নির্যাতীত মানুষরা যুগে যুগে ধর্মান্তরিত হয়ে এসেছে তাদের নিজেদের ইচ্ছায়। মুসলিমরা একে অন্যের ভাই। মুসলিমরা নেহরুর আজন্ম বৈরী হলেও পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর বক্তব্যে এ সত্যও উঠে এসেছে যে, মানুষ প্রথম গণতন্ত্রের স্বাদ গ্রহণ করে ইসলাম থেকেই। । — “নিজের উপর আস্থা এবং বিশ্বাস একটি বড় জিনিস। ইসলাম ধর্মের বাণী হচ্ছে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সবাই ভাই ভাই। এতে করে লোক গণতন্ত্রের কতকটা আঁচ পায়। অতীতে খৃষ্টধর্ম যেরুপ বিকৃত হয়ে পড়েছিল তাতে এ ভাতৃত্বের বাণী কেবল আরব জাতিকেই নয়, অন্যান্য দেশের অধিবাসীদের মনেও সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছিল”। (বিশ্ব ইতিহাস প্রসঙ্গে, পন্ডিত জওহরলাল নেহরু, পৃষ্ঠা ১২৩)। সংকীর্ন চিন্তার মানুষরা এ সাড়া জাগানোকে সহজভাবে নিতে পারে নি বরং এর জবাবে তারা আজীবন বিদ্বেষের তাপে আগুণ দিয়ে যায়। যদিও এ ধর্মের বানী সবসময়ই সহনশীলতায় বিশ্বাসী। যার কারণেই মুসলমানরা অপর ধর্মধারীদের থেকে অনেক বেশী সহনশীল। কিন্তু বর্তমান সময়কার মিডিয়ার প্রচার কৌশলে সে প্রকৃত সত্য বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। শাস্ত্র নাড়ার ক্ষমতা না থাকলেও হিন্দু ধর্মে নারীর সৃষ্টি হয়েছে স্বামীকে পূজো করবে বলে। স্বামী যদি মরেও যায় বা তাকে বিক্রি করে দেয় বা ত্যাগ করে তারপরও তাকে পুরুষের পূজো দিতে হবে (মনুসংহিতা ৯অঃ ৪৬ শ্লোক)। সন্তান জন্মদানে দেবরের ভুমিকাসহ সামাজিক বিধানকে অস্বীকার করে সকল ন্যায়ধর্মের কবর রচিত হয়েছে এসব আচারী ধর্মে। যার জন্য নির্যাতীতা নারীদের বলতে হয়, এ ধর্মে আচার আছে ভাই বিচার নেই। এভাবে উচ্চবর্ণ হিন্দুরা নিজেদের সুবিধামতনই শোষণ করার শাস্ত্র সাজিয়েছে, দেব দেবীরা শত অপকর্ম করলেও দেবতা থাকতে পারে। নারীকে মরার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে, দরকারে সহমরণে যেতে হবে। কিন্তু ইসলামে এসব কিছু নেই। তারপরও কৌশলীরা সব অপবাদই সিলেবাসধারী মুসলিমদের উপর ঠেসে দিয়েছে। ইন্টারনেটে হিন্দুদের গালাগালিতে যে কেউ বিচলিত হতে পারেন। যাদের বড়াই করার কিছুই নেই তারা এমনভাবে মুসলিমদের পিছে লেগেছে জোকের মতই, এটি কি ন্যায়ধর্মের নমুনা? এসব খুটিনাটি হিসাবও মূল বিশ^কর্তার দৃষ্টি এড়াবার নয়।

আজকের দিনে যত মত তত পথ ছলনার প্রতারণার উৎস কথা। এর কারণ শত অনাচার দিয়ে সুপথ রচনা করা যায় না বরং সঠিক ন্যায় নীতির পথেই একমাত্র সুপথ রচিত হতে পারে। তাই সব ভুল নষ্ট পথেও মুক্তি মেলে কথাটি বড় ছলনার কথা। গোজামেলে মিথ্যাকে সামাল দিতেই এসব কথা বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশী খেদাও আন্দোলনে নেমেছে ভারত, ওদিকে হাজার হাজার ভারতীয়কে ইত্যবসরে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যারা এদেশে চাকুরী করছে। কোন কৌশলে এ অসম্ভব সম্ভব হয়? বিগত শতক থেকেই শুনেছি পাঁচ লাখ এখন দেখছি উইকিপিডিয়াতে ২০০৯ এ পাঁচ লাখ সরকারী হিসাব আর বাকীটা তথৈবচ। আজ চলছে ২০১৯ একজন সচেতন বুঝতে পারেন, এর ব্যাপ্তি কতদূর গড়াতে পারে। মধ্যরাতে অপকর্মী চোর কখনো কখনো চেঁচিয়ে উঠে আর চোর চোর বলে চিল্লায়, যখন ধরা পড়ার সম্ভাবনা কাছে আসে ঠিক তখন। চোর এটি করে আত্মরক্ষার্থে যাতে কেউ তাকে চোর ঠাওরাতে না পারে। বিগত শতকে শুনেছিএ ধারার কিছু পুশইন পুশবেক নাটক সময়ে সময়ে হতো, যা নিয়েও ময়দান গরম হয়েছে। পুশইনএর উপর কবিতাও হয়েছে। বৃটিশের হাতে ভারত পাকিস্তান বন্টনের সময় থেকেই ভারতীয় বৃটিশ তোষণবাজরা পাকিস্তানের সাথে অনৈতিক বণ্টন যে করেছেন সেটি ঐতিহাসিক সত্য। তাদের পাওনা না বুঝিয়েই খেলা পন্ড করে বোকাদের পোকায় খাওয়া পাকিস্তান দেয়াটা কি মিথ্যা গুজব নাকি বৃটিশ ভারতের আভ্যন্তরিন বিষয় ছিল? ইতিহাস তলানীতে পড়ে কিন্তু ফসিল আকারে থেকে যায়, মরে না। তাই সময় সময় কথা বলে। এর উপর সচেতনরা অনেকেই জানেন। আর এসব কারণেই স্বাধীনতার পর থেকে দেশটিকে কবজা করতে ভারত বেশী সচেষ্ট থাকে। তা না হলে এমনও হতে পারে সদ্য মুক্ত দেশ তার অতীতের দেনা পাওনার হিসাব তুলে ধরতে পারে, প্রতারকদের কাছে সে হিসাবের ফয়সালা চাইতে পারে, সে ভয় তাদের ছিল আছে এবং থাকাটাই স্বাভাবিক। এ জন্যই কি ভারত চোর চোর বলে সারাক্ষণ চিল্লায়? মুসলিম ধর মার কাট এর নাম হচ্ছে অখন্ড ভারত তৈরীর প্রচেষ্ঠা। তারা মনে করে তাহলে মুসলিমরা চুপসে থাকবে আর হিসেব নিকেশ চাইবে না।

ইত্যবসরে ইসলাম সারা বিশে^ ছড়িয়ে গেছে আর মূর্তিপূজা ঐ গৃহকোণে আবদ্ধ হয়ে আছে। ঐ গৃহকোণও আজ ভঙ্গুর অবস্থায় কারণ মিথ্যা দিয়ে কি শাস্ত্রধর্ম টিকানো যায়? জাকির নায়েক কি কারণে আজ আসামী, কোন দোষ তারা প্রমাণ করতে পারে নি, তার মূল অপরাধ তিনি মুসলিম, কাশ্মীরীদের মত আসামী একজন। অপরাধীর সামনে সত্য বলা ও সত্য প্রচার করাও অপরাধ। নীতির ধর্ম ইসলাম এগিয়ে যাওয়ার মূল ধর মার কাটো নয়, বরং তার মানবিকতা, উদারতা মহানুভবতা, মধ্যপ্রচ্যের গন্ডি পেরিয়ে প্রবল বেগে স্ফুলিংগের মত গোটা বিশে^ ছড়িয়ে গেছে। সমস্ত বিশে^ মুসলিমদের মত এত সহনশীল জাতি আর দুটি নেই। প্রকৃত ইতিহাস বিশ্লেষণ ছাড়া এ সত্য লুক্কায়িত, ষড়যন্ত্রীরা দৃষ্টির আড়াল করে রেখেছে। ইহুদী খৃষ্টান হিন্দুদের মাঝেও অনেক সত্যবাদী আছেন যারা এ সত্যকে অকপটে স্বীকার করে গেছেন। যদিও এরা সংখ্যায় অল্প তারপরও ঐ অল্প সংখ্যাও ইতিহাসের কথা হয়েছে। সহজে সৎ চিন্তার মানুষ জন্মায় কম। কালে ভদ্রে সুভাষ চন্দ্র বোসরা জন্মালেও এদের তাড়িয়ে দেয়া হয় ময়দান থেকে। মিথ্যা গুজবে তাদের মেরে ফেলা হয়। আমরা জানি একজন সৎ হাজার অসৎ থেকেও ওজনদার। ইসলাম বিরোধীরা এক হয় তাড়াতাড়ি কারণ এদের প্রতিপক্ষ এক সততার আদর্শে বিশ^াসী। বাকীদের কাছে যত মত তত পথ, বহু সুবিধাবাদীর কুপথও তাদের কাছে সুপথ।

যখন বুদ্ধের আবির্ভাব হয়, তখন ভারতবর্ষে চলছিল ঈশ^রের নামে চরম অধপতনের যুগ। ৩৩ কোটি দেবতার পাপে টলটলায়মন ভারত বর্ষের স্বরুপ দেখে বিস্মিত বুদ্ধ সমাজ সংস্কারের নিমিত্তেই গৃহত্যাগ করেন। তিনি সেদিন পাগল ছিলেন না, ছিলেন সত্যান্বেষী এক সাধক।
তিনি কোনদিনও নাস্তিক ছিলেন না, কিন্তু এ সত্যসাধক অসীমের সন্ধান লাভ করেন। বিভ্রান্তরা তাকে কখনো বলেছে নাস্তিক কখনো বলেছে ঈশ^র কখনো বলেছে অবতার। যুগে যুগে এরা এসেছেন মানুষকে সুপথ দেখাতে আলোর মশাল হাতে এরা সমাজ থেকে মিথ্যা পুতুল পূজা, প্রেত পূজা, দূর করতেই কাজ করে গেছেন। সমাজ তাদের নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করেছে করছে। কখনো বলেছে তিনি প্রাণী হত্যা নিষেধ করেছেন। আমিষভোজি বুদ্ধ মাছ মাংস খেতেন। তার মৃত্যু হয় চুন্দের দেয়া বিষ মিশ্রিত মাংস খেয়ে (উদ্বোধন, জৈষ্ঠ ১৩৭৮)। পরবর্তীতে শাসক অশোক নিরামিষ খাবারের প্রচলন করেন। মুখে এটি বললেও কার্যক্ষেত্রে বর্তমানে বৌদ্ধরা এমন এক জাতি যারা সর্বভুক, সব খায়। এদের অখাদ্য পৃথিবীকে কিছু নেই। এভাবে কালে এরা অনুসারীরা এসব সাধকদের সবদিকে কবর রচনা করেছে। আজকে মিয়ানমারের বৌদ্ধরা যা করে চলেছে তা গৌতম বুদ্ধকে কয় হাজার বার কবর দিয়ে দিয়েছে। কোন কোন পাঠে জানা যায় বৌদ্ধ চোর ছিলেন, নাস্তিক ছিলেন। জওহরলাল নেহরুও তার ডিসকভারী অব ইন্ডিয়া গ্রন্থে বলেছেন ভারতে নিচু জাতের কিছু দলিতমার্কা বৌদ্ধ ছিল। এভাবে তারা কালে বুদ্ধকে একদিকে যেমনি অবতার বানায় আবার তার অনুসারীকে দলিত শ্রেণীর বলে প্রচার চালায়।

ভারত আর মায়ানমার বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থানে একাট্টা হয়ে কাজ করছে। কাজেকর্মে উভয়ের এই ঠেলাঠেলির বানিজ্যে এক ইস্যুকে ভয়ঙ্কর মিল দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ভারত মায়ানমার বন্ধু, বাংলাদেশের বন্ধু তারা নয়। রোহিঙ্গাদের দেখে ভারত উৎসাহী হয়েছে, ঐ খেলা ফের খেলতে চাচ্ছে বাংলাদেশে, উভয় ক্ষেত্রে ভোক্তভোগী ধরা হয়েছে মুসলিমদেরে। এটি আর লুক্কায়িত নেই যে মুসলিমদের বাদ দিতেই ভারতে মোদির সাম্প্রতিক সময়ের এই এনআরসি মঞ্চায়ন এবং ধরা খাওয়া। আবার এটিও তারা খোলাসা করেছে এনআরসিতে আটকে যাওয়া হিন্দুদেরে তারা সামাল দিবে। মোদি ও বিজেপি তাদের নিজেদের স্বমূর্তি খোলে ধরেছে, কিছুই ঢাকা নেই। একইভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারও খোলাসা। ঐ এক নীতিতেই হিন্দুদের প্রত্যাবাসন এগিয়ে নিতে তৎপর মিয়ানমার, খবর বিবিসির। একই সাথে তারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রাম ধ্বংস করে গুড়িয়ে দিয়ে তৈরী করছে পুলিশ ব্যারাক ও সরকারী ভবন। বিবিসি এরকম চারটি স্থাপনা খুঁজে পেয়েছে, স্যাটেলাইট কৃত ছবি থেকে যেখানে আগে ছিল রোহিঙ্গা মুসলিম বসতি। যদিও সরকারী কর্মকর্তা তা স্বীকার করছে না। বিবিসিসহ কিছু সংবাদ মাধ্যমকে তারা আমন্ত্রণ জানালেও ছবি তোলা, সাক্ষাৎকার নেয়া, নিজস্ব গাড়ী ব্যবহার ও প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি লক্ষ্যনীয়। অষ্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউট জানায়, ২০১৭ সালে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা গ্রামগুলির কমপক্ষে ৪০ ভাগ গ্রাম পুরোপুরি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ‘মিয়ার জিন’ নামে এক রোহিঙ্গা গ্রাম বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। ‘ইন দিন’ নামে আর একটি গ্রামে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ১০ জন বন্দী মুসলিম পুরুষকে হত্যা করা হয়। অল্প বিস্তর অপরাধ যা তারা স্বীকার করে ‘ইন দিন’ তার একটি। এ গ্রামের তিন চতুর্থাংশই মুসলিম আর বাকীরা বৌদ্ধ। এখন সেখানে মুসলিমের কোন চিহ্ন নেই। অতীতে যেখানে মুসলিমরা থাকতো সেখানে তৈরী হয়েছে কাটাতারের বেড়া আর বিশাল সীমান্ত রক্ষী পুলিশের ব্যারাক। মিয়ানমার সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ, রোহিঙ্গা মুসলিমদের চলাফেরাতে স্বাধীনতা না দেয়া, সর্বোপরি নাগরিকত্ব অস্বীকারের মত বিষয়কে অমীমাংসিত রেখে রোহিঙ্গারা ফিরতে পারে না। ওখানে বাস্তুচ্যুত এক তরুণের ভাষ্যে জানা যায় বিনা অনুমতিতে কোন বিদেশীর সাথে কথা বলার অধিকার তাদের নেই। ২০১২ সাল থেকে মোট সাত বছর থেকে ক্যাম্পে আটকে পড়া ঐ তরুণের লেখাপড়ার কোন সুযোগ নেই। অনুমতি ব্যতীত ক্যাম্পের বাইরে যাবার অনুমতিও তার নেই। সে নিষেধ করে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা এ অবস্থায় কখনোই যেন না ফেরে, প্রকৃত সমস্যার সামধান না করে ফিরলে কোনভাবেই তাদের দুর্ভোগ কমার সুযোগ নেই।

হিন্দু শাস্ত্রের নীতি হচ্ছে সুরা খাও, পিও আর নারী নিয়ে আনন্দ কর। ইন্দ্রের ভালোবাসার কাজই ছিল দাসদের হত্যা করা। এসব ঋকবেদ শাস্ত্রের কথা। অনেক লেখাতে পাওয়া যায় মনুস্মৃতি লেখা হয় ছয়শত খৃষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে তার আগে নয়। তাহলে এটি স্পষ্ট করছে ইসলামের শেষ নবীর আগমনের সময়ই এর সংযোজন। বিবেকানন্দ, গান্ধী, রামকৃষ্ণ এরা বুঝতে পেরেছিলেন সহনশীলতা ছাড়া এ বিকৃত নীতিহীন ধর্মকে রক্ষার উপায় নেই, তাই তারা অন্য বর্ণহিন্দুদের থেকে অনেকটাই উদার থাকার চেষ্টা করে গেছেন। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ইসলাম ও খৃষ্টান ধর্মের অনুকরণে কিছুটা উদারতার দিকে গিয়ে ‘যত মত তত পথ’ বাতলে গেছেন। মূলত হিন্দু শাস্ত্রগুলি লুকিয়ে রাখা, এটি কোন শাস্ত্রের ধর্ম নয়, এটি হচ্ছে একরাশ আচারের ধর্ম। সেখানে নীতি থাকতে পারে অনীতিও সমান তালে সমাদৃত। একে অবশ্যই শুদ্ধ করতে হবে যত মত তত পথ নয় বরং হবে যত মত এক পথ। এক কর্তার এক পথ , ন্যায়ের পথ সততার পথ। একমাত্র এ সুপথে হয়তো ভারতবাসী মুক্তির স্বাদ পেতে পারে। বিবেকসম্পন্নরা এটি ভেবে দেখতে পারেন।
লেখার তারিখ = সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখ।

বি দ্র: লেখাটি ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে ২০১৯ নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক রানার নিউজ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে।

নাজমা মোস্তফা

যুগে যুগে মুসলিমরা ষড়যন্ত্রীদের সাজানো অপবাদ মাথায় নিয়ে তলোয়ারের বদলে ইসলামধর্ম প্রচারের মিথ্যা জারিজুরি নিয়ে ঘুরছে, কোন প্রতিবাদ ছাড়াই। যদিও এ অপবাদ কোনভাবেই তাদের উপর বর্তায় না। এবার আসামের বোঝা চাপিয়ে দেয়ার যে গোপন বাসনা ভারত লালন করছে, কখনো কখনো তার অতি লোভী সাগরেদরা সেটি প্রকাশও করছেন, গিলে ফেলবেন অন্তত এক তৃতীয়াংশ খুলনা থেকে রংপুর সিলেট কিছু বাকী নেই। এর কারণ হচ্ছে এই বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র নীতির দাসত্ব মানসিকতা। কোন বিবেকহীন সরকার এভাবে বিক্রি হলে সে সরকার অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ দাগী আসামী, আর এমন অবস্থায় ভারতও কি ছাড় পাবে মানবতার আদালতে? ভারত একটি দেশ যদি এভাবে তার সর্বস্ব হারায় তবে এ বেঁচে থাকার অর্থ কি হতে পারে? ২০১০ সালের জানুয়ারীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লীতে যেসব চুক্তি করে এসেছেন, তা দেশবাসী আজো জানে না। ভবিষ্যতেও যাতে দেশবাসী জানতে না পারে তাই খানাখন্দ বন্ধ করতে সংবিধানও পরিবর্তন করা হয়েছে। ক্ষমতার অবৈধ দখল নেয়া হয়েছে। এভাবে সামান্য কয় পার্সেন্ট হিন্দুরা কিভাবে বাংলাদেশের সব সেক্টর দখল করে বসে থাকে? এতে কি ভারতের মানসিকতায় বিচারিক কোন জবাবদিহিতা থাকবে না? নাকি এটিও আভ্যন্তরিন ব্যাপার বলে চালিয়ে যাবে ভারত? হিন্দু শাস্ত্রে দেখি পরস্ত্রী হরণ বা পরস্ত্রী বরণ কোন অপরাধ নয়। শাস্ত্রে তাদের দেবদেবীরা তাই করেছেন। পরস্ব হরণও কি তারা আইনের চোখে ন্যায়কাজ বলে মনে করেন?

শিরোনামটি এ কারণে করা যেখানে বাংলাদেশ শত সমস্যায় জর্জরিত, সেখানে লাখ লাখ ভারতীয় কেন জাতির ঘাড়ে চেপে বসলো? একদল প্রচার চালাচ্ছে বাংলাদেশে প্রিয়াসাহাদের জায়গা হচ্ছে না এমন সংকটে ভারতের লাখ লাখ প্রিয়াসাহারা কেন সে দেশে জেকে বসেছে? অনেকে সন্দেহ করেন ঐ ২০১০ সালের গোপন চুক্তিতেই ভারত এসব অনাচার করার সব দাসখত করিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশের অবৈধ সরকার দিয়ে। ভারতের ময়দানে সারা বছর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কাটে মারে, একই ধারার সাম্প্রদায়িক অপরাধ একবার নয়, বারে বারেই হয়, আর বিচারের নামে চলে প্রহসন। প্রতিবেশীর সাথে সারাক্ষণ মাতবরী করে, তারা মনে করে তাদের এসব অপকর্ম কেউ দেখছে না। অন্তত এটি নিশ্চিত গরু বা মূর্তি ভগবান তো দেখবে না। এদিকে আকন্ঠ অপরাধে ডুবে থাকা মুজিবের কন্যা সরকারের গদি রক্ষার ভান ধরে আছেন, কেউ তারে ভোট দেয়নি, এটি সারা বিশ^ জানে। কোন বাছবিচার না করেই কি কারণে সর্বস্ব অকাতরে বিলিয়ে দেয়া ভারতকে, সেটি গোটা জাতির প্রশ্ন। ভারতের বোঝা উচিত দেশটি কি কারো একার সম্পত্তি? গরু ভারতের আরাধ্য পূজ্য হলেও বাংলাদেশের নয়, ওটি তাদের ভোগ্যপন্য, খাদ্য। তারা আল্লাহ নামের এক অদেখা শক্তির কাছে সব মামলা অপবাদ অনাচার নির্যাতনের বিষয় জমা রাখে আর বিশ^াস করে একমাত্র ঐ সত্যকে, দেরীতে হলেও পাওনাদাররা সুবিচার পাবে। তারা বিশ^াস করে নিজেরা অপরাধী হলে যেমনি শাস্তি পাবে ঠিক তেমনি অন্যেরা অপরাধী হলেও সে মাপে শাস্তি গোলাতে উঠাবে। এ কারণে শত নির্যাতনের পরও এরা মরতে ভয় পায় না। ফিলিস্তিনীরা কাশ্মীরীরা ময়দানে মরেও কিন্তু জিতে আর অনাচারীরা দৃশ্যত মনে হয় জিতছে কিন্তু এ বিজয় তাদের বিকলাঙ্গ করছে, ভিসুবিয়াসী অর্জনে অগ্নির জমা বাড়িয়ে চলছে। মধ্যযুগ নয় বরং একবিংশ শতকে পরস্ব হরণের এ খেলা কলঙ্ক হয়ে তাদের আমলনামাতে জমছে।

শত শত হাজার হাজার ভারতীয়রা বাংলাদেশে কাজ করছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় ২০০৯ সালে কম পক্ষে পাঁচলক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে বসবাস করছে। তাদের বিভিন্ন এনজিও, গার্মিন্টস, টেক্সটাইল আইটিতে কাজ করছে এবং হুন্ডিতে তারা ভারতে টাকা পাঠাচ্ছে। এদেশ থেকে সর্বোচ্চ লিষ্টে পঞ্চম স্থানে থেকে ভারতীয়রা টাকা পাঠাচ্ছে। ২০১২ তে দেখা গেছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী তারা ভারতে পাঠায়। তারা বাংলাদেশকে পঞ্চম রেমিটেন্সের দেশ হিসাবে সুবিধা নিচ্ছে। এটি হচ্ছে সরকারের হিসাব যেখান আনঅফিসিয়াল খবর আরো ব্যাপক। এদের বেশীর ভাগই ভ্রমণে আসে আর ফেরত যায় না (উইকিপিডিয়ার সূত্র) সংবাদ। লাখ লাখ ভারতীয়রা বেআইনীভাবে বাংলাদেশে বসবাস করছে এরা পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম থেকে এসে এখানে থেকে যাচ্ছে। এভাবে তারা সারাদেশের গ্রামে গঞ্জে আনাচে কানাচেও ছড়িয়ে আছে। ২০১৬ সালের জুলাইতে একসাথে চার হাজার ভারতীয় লোক এখানে অবস্থান নেয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে, বন্যা উপলক্ষে। (1) Jump up to:a b Sadeque, Syeda Samira. “Dhaka has a question: what about the illegal Indian immigrants in Bangladesh?”. Scroll.in. Retrieved 20 April 2017. (2) ^ Madhok, Diksha. “Bangladeshis in India sent back $6.6 billion last year—6% of their homeland’s GDP”. Quartz. Retrieved 20 April 2017. (3) “Flood-affected Indians take shelter in Bangladesh”. The Daily Star. 27 July 2016. Retrieved 20 April 2017.

প্রায় প্রতি সাপ্তাহেই বাংলাদেশে বর্ডারে মানুষ মরে, বিএসএফ এদেরে পাখির মতই মারে। আজকে ৬ সেপ্টেম্বর খবরে প্রকাশ চুয়াডাঙ্গাতে ও দামুড়হুড়া প্রতিনিধির বরাতে একজনের গরু ভারতের মাঠপাড়া থেকে তাড়িয়ে আনতে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে। গরু তো গরুই, মানচিত্র কি বুঝে? সেটি কি গরু পূজক বিএসএফের সদস্যরা বুঝে না? একদিন না একদিন প্রতিটি রক্তের বদলা যে দিতে হবে, সে হিসাবে তারা নেই। পতাকা বৈঠকে তারা এ হত্যার কথাটি স্বীকার করেছে আর দুইদিন পর লাশ হস্তান্তর করেছে। দাস স্বভাবের সরকার নড়বে কেন? বাংলাদেশের ভাগ্যে জুটেছে অবৈধ সৎমা সরকার। শেয়ার মার্কেটের ২৭ হাজার কোটি টাকার গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা, ডেঙ্গু সবই ছিল সরকারী ভাষাতে গুজব। প্রিয়া সাহারা কার দালাল সেটি বুদ্ধিমানদের বুঝে নিতে হবে। সবই কঠিন চাদরে ঢেকে রাখা মিডিয়াতেও এসেছে। সম্প্রতিক সময়ের এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিষ্টার ফর সিটিজেনশিপ) বিজেপির জন্য বুমেরাং! এ ছিল খবরের শিরোনাম, প্রধানত তিন কারণে (১) আসামে এক কোটি বহিষ্কারের কল্পনার গল্পের সাথে বাস্তবের মিল নেই। (২) বাদপড়া ১৯ লাখের বড় অংশই হিন্দু (১১ লাখ হিন্দু + ৬ লাখ মুসলিম + দুই লাখ বিহারী নেপালী লেপচা) (৩) ঢাকা বা দিল্লী বলছে, এটি ভারতের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বিজেপির বহুদিনের ছক মুসলিমদের পায়ে জনম দড়ি দিবে, তারা এটিও বলছিল হিন্দু হলে তাদের ছাড় দেয়া হবে। এখন বিজেপি কি করে দেখা যাক কারণ বেশীরভাগই তাদের ভোটার। বিজেপি এ খেলা শুরু করেছিল ৪১ লাখ বাসিন্দার মাঝে ১৯ লাখ ছাড়া বাকী ২২ লাখ সম্মুখ ময়দানে রক্ষা পেল, গুয়াহাটির যুগশঙ্খ তাই বলছে। বিজেপি তাদের ছকে জিতে গেলে লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়তো। এর মধ্যে এটিও স্পষ্ট হয়েছে অনেকে অধিকারহারা হয়ে এর মাঝে আত্মহত্যা করেছে, পরিবারের একজন অধিকার পেলে অন্যজন ঝরে গেছে। বাপ পেলো তো ছেলে ঝরে গেল।

খুব সহজে একটি হিসাব মুসলিমরা যারা বহু প্রজন্মই সেখানে কাটাচ্ছে তারাই মানুষের মর্যাদা পায় না, সেখানে কোন সাহসে নব্য মুসলিমরা সেদেশে স্থায়ীভাবে বসতি করতে যাবে। হিন্দুরা যায়, এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। তারা বেশীরভাগ হিন্দুরা মনে করে ভারত মাতা তাদের মাতৃভূমি না হলেও মূর্তিভূমি। যেখানে ভারতে মুসলিমদের এত অত্যাচারের পরও ভারতের মুসলিমরা ভুলেও দেশত্যাগের কথা মুখে আনে না। কারণ এরা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে কোন ধরণের অনাচার নির্যাতন ব্যতিরেকেই হিন্দুরা বাংলাদেশে টাকা অর্জন করে স্বর্ণ কিনে রাখে, টাকা জমায় আর অনেকে ভারতে পাঠায়। আবার অনেকে দুদেশেই লুটেপুটে খেতে পছন্দ করেন। কেন করে সেটি ঐ সব দুদোল্যমনা মানসিকতার প্রিয়াসাহারাই বলতে পারবেন। এখানে প্রিয়াসাহার ট্রাম্প নাটকের পর তার গ্রামের স্বজাতিরা এক বাক্যে বলেছে ওসব ছিল প্রিয়াসাহার সাজানো মিথ্যাচার। সে নিজেই তার লোকজন দিয়ে ভাঙ্গা পড়ো বাড়ীতে আগুন দিয়ে মুসলিমদের ফাঁসাতে এসব মোদিবাজী নাটক করেছে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের বিরুদ্ধে সীমান্তের ওপারে মোদির এ নাটকের সাথে প্রিয়া সাহাদের এসব নাটক আর কতকাল চলবে? এরকম হাজার প্রশ্নের মুখোমুখি স্বাধীন একটি দেশ বাংলাদেশের মুসলিমরা কঠিন সময় পার করছে। লাখ লাখ ভারতীয়রা বেআইনীভাবে বাংলাদেশে থাকছে, এর দায় নিতে বেআইনী ভারতীয়দের জন্য বাংলাদেশী এনআরসি কি জরুরী নয়?
লেখার সময় = ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সাল।

বি দ্রঃ এ কলামটি সেপ্টম্বরের ১৩ তারিখ ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের “দি রানার নিউজ” এ ছাপা হয়।

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশ এমন একটি সময় পার করছে এবং বড় সময় থেকে গোটা জাতিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। সেটি দেশপ্রেমিক জনতারা বুঝতে পারলে মঙ্গল হতো। স্বাধীন দেশে বাস করেও মানুষ আজো কেন পরাধীনতার আতঙ্কে। জাতিকে যারা ভাগ করেছে আড়াল থেকে, সেটি বুঝতে জাতির এত সময় লাগার কথা ছিল না। এর ফাঁকে অন্যেরা বাংলাদেশীদের মাথাতে কাঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তানের অধিকারে এগিয়ে আসা ভারত ১৯৭১ সালে খুবই উৎসাহী ছিল কিন্তু ১৯৪৭ থেকে নির্যাতনের যাতাকলে পিষ্ট কাশ্মীরীদের প্রশ্নে তারা উল্টো। সেই ৭১ সালেই ভারতের নীতি থাকলে কাশ্মীরের প্রতি মানবিক আচরণ করতো। কেন করছে না, সেটি সময়ের বড় প্রশ্ন। কাশ্মীর বিচ্ছেদ্য অংশ না অবিচ্ছেদ্য অংশ তা নিয়ে ধান্ধাবাজি সময় পার করছে। এটি নিশ্চয় আজ স্পষ্ট যে পাকিস্তানকে ভেঙ্গে দু টুকরো করার স্বপ্নেই ভারত বিভোর ছিল সেদিন। সেদিন এ কথাটি মনে ছিল না যে ওটিও ছিল পাকিস্তানের আভ্যন্তরিন বিষয়, কিন্তু ভারত নাক গলায়। আগরতলা মামলা তার উদাহরণ হয়ে আছে। আজ স্বাধীনতার ৬ যুগ পর কেন কাশ্মীরী মুসলিমদের সাথে অমানবিক আচরণের ষ্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। এতদিন দেয়া নগন্যতম অধিকারও কেন কেড়ে নিচ্ছে। শুরু থেকেই সৈন্য ছাড়া কাশ্মীরকে সামলাতে অপারগ ভারত। কেন জবরদস্তি করে লাখ লাখ সৈন্য বহাল রেখে ও বৃদ্ধি করে মানুষকে বন্দুকের নলের সামনে দাবড়ানি দিতে হয় ভারতকে। এসব প্রমাণ করে ভারতের আচরণ ৬ যুগ থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। ভারত এমন একটি দেশ, নিচুবর্ণের হিন্দুদের ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠদের সাথে অমানবিক আচরণ করতে কখনোই বিচলিত হয়নি। সবদিনই তারা তাদের বিবেককে বন্ধক রেখে পরম নিশ্চিন্তে অপকর্মে তালিয়া বাজিয়ে গেছে। সময়ে সময়ে সরকারও সহযোগিতা দিয়ে গেছে।

১৯৩০ সালে একদল মুচি বা চামার গোষ্ঠীর ধৃষ্ঠতা হয়েছিল রাজপুত্রের মত পোষাক পরিয়ে তাদের এক বরকে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার করানোর। আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে ঐ অপরাধে বর্ণ হিন্দুরা নির্যাতীতদের প্রতি তাদের এগারোটি নির্দেশমূলক আদেশ জারি করল।

(১) হাঁটুর নীচ পর্যন্ত কাপড় পরা যাবেনা।
(২) নারী পুরুষের স্বর্ণালঙ্কার পরিধান করা যাবেনা।
(৩) মেয়েরা জল বহন করবে শুধু মাটির পাত্রে, তামা বা পিতলের পাত্রে নয়।
(৪) ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করবেনা বা নিজেদেরকে শিক্ষিত করে তুলবেনা।
(৫) ছেলেমেয়েরা শুধু মিরাশদারদের গরু চরাবে।
(৬) পুরুষরা ও মেয়েরা মিরাশদারদের গোলাম হিসাবে কাজ করবে।
(৭) মিরাশদারদের কাছ থেকে জমি ইজারা নিয়ে চাষ করতে পারবেনা।
(৮) মিরাশদারদের কাছে নিজের জমি বিক্রি করবে খুব সস্তা দামে, অন্যথায় জলসেচের জন্য তাদেরকে কোন জল দেয়া হবেনা।
(৯) সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুরুষরা এবং মেয়েরা উপবাসী প্রায় হারে মিরাশদারদের কুলির কাজ করতে থাকবে।
(১০) অনুষ্ঠানাদিতে ভারতীয় সঙ্গিত ব্যবহার করা চলবে না।
(১১) বিবাহ মিছিলে ঘোড়া ব্যবহার করা যাবেনা, শুধু তাদের ঘরের দরজা পাল্কী হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে। এবং কোন অভিপ্রায়েই কোন যানবাহনের ব্যবহার করতে পারবেনা (“ভারতের নির্যাতিত শ্রেণী”, ডঃ বি, আ, আম্বেদকর এম.এ, পি.এইচ.ডি, এস.সি, বার.এট.ল)

উপরের আদেশগুলি দেখলে বোঝা যায় বর্ণহিন্দু কি জিনিস। ভারত বিভাগে এই বর্ণহিন্দুদের শক্ত হাত সচল ছিল বলেই মানুষের দুর্ভোগ আজ অবদি কমছে না। এভাবে এরা মানুষের মানবিক আচরণের বাইরে থেকে কাজ করে গেছে। যেখানে এ ধারার আচরণ করে তারা স্বজাতির সাথে। সেখানে ভিনধর্মী মুসলিমদের সাথে তারা কি আচরণ করতে পারে সেটি খুব সহজেই অনুমেয় । ৭৩ সাল অবদি কাশ্মীরীরা এসব ক্ষতচিহ্ন নিয়ে সময় পার করছে। সম্ভবত ভারতের বর্তমান শাসক মোদি হিন্দু উচ্চবর্ণের নন। কিন্তু তার শক্তির তলানীতে হিন্দুত্ববাদীরা ঐ চর্চাকে মোটাতাজা করতে নির্যাতনে অব্যাহত আছে। ২০০২ সালে গুজরাটে ২০০০এরও বেশী মুসলিম নিধনের কারিগর এই মোদিকে ভারতীয়রা গদিতে বসিয়েছে। এতেও ভারতীয় মানসিকতা স্পষ্ট হয় এই একবিংশ শতকেও। গরু নিয়েই তারা মুখর ও অবিচল, মানুষের দিকে তাদের নজর কম।

বিগত শতকের শেষ দিকে বেড়াতে গিয়েছিলাম ভারতের শিলচরে আমার মামার কাছে। মামী বললেন এখানে এক মেয়ে তোমার নাম করাতে খুব উৎফুল্ল হয়ে বললো সে তোমাকে চিনেছে। একদিন তোমাকে নিয়ে যাব তাদের বাসাতে। মেয়েটির নাম ইভা। আমি অবাক বিস্ময়ে বলি আমি চিনি একজন ইভাকে, কিন্তু সে কি আমার সেই চেনা ইভা, তাতো জানি না। একদিন গেলাম গিয়ে অবাক হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরি। সত্যিই এ আমার পরিচিত সেই ইভা। ওর সহপাঠি শক্তি ভক্তিরা সবাই ধারেকাছে আছে, ভালো চাকরি করছে। কিন্তু দেখতে শুনতে লেখাপড়াতে ভালো হলেও যোগ্যতার কমতি না হলেও সে মুসলিম এ অপরাধে তার কোন সুগতি হয়নি অধগতি ছাড়া। তার কোন পথ নেই কোন বাঁচার ব্যবস্থা নেই। দিল্লীতে থাকা স্বজনদেরও একই অবস্থা। সেখানে মুসলিম হয়ে কাজ করা বড় কষ্টের তারা সারাক্ষণ সন্দেহ করে আর নানান অনাচার করে যাতে স্বচ্ছন্দে চাকরি করা যায় না। প্রধানত সেদেশে মুসলিমদের জন্য চাকরিই নেই, আর কেউ যোগ্যতা বলে পেলেও ধরে রাখতে পারে না। আমার ছোটবোন ইভা সেদিন তার মনের দুয়ার খোলে অনেক বেদনাঘন বিষয়ের বর্ণনা করে যায়। কথাচ্ছলে সে বলে তার পূর্বপুরুষ ভারতের বাসিন্দা। আমার পূর্বপুরুষও ভারতের বাসিন্দা হওয়াতে আমি বেড়াতে গিয়েছি। সে সুবাদে তাদের জায়গাজমি সবই ওখানে স্বাধীনতা পূর্ব থেকেই যা আজও আছে। চমৎকার একটি মেয়ে ইভার জীবন এখন আজ এই মুহূর্তে কি পর্যায়ে আছে আমি জানি না। তবে সময়ে সময়ে তার কথা মনে পড়ে যখন মুসলিমদের দুর্দশার কথা পড়ি জানি তখন তার কথাও মনে পড়ে, এক নিরব সাক্ষী পথ চলতে এরকম অনেক নির্যাতীতা মুসলিম মেয়ের কপট কষ্ট শুনেছি জেনেছি।

ডঃ আম্বেদকর পন্ডিত নেহরুর ক্যাবিনেট আইনমন্ত্রী ছিলেন। তাকে ভারতীয় শাসনতন্ত্রের রচয়িতা বলা হয়। তিনি অচ্ছুৎ সম্প্রদায়ের লোক। দক্ষিণ ভারতের আওরঙ্গাবাদ শহরের অচ্ছুৎ সম্প্রদায় মারহাটওয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ডঃ আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় রাখার পরিকল্পনা করায় মহারাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। এই প্রয়াত ডঃ কর শৈশবে একবার তার বড়ভাইএর সাথে ট্রেনযোগে পাঞ্জাবের গুরগাঁও মেলায় যান। তাদের পিতা তখন সেখানে অবস্থান করছিলেন। কোন টাঙ্গাওয়ালা তাদেরকে রেলষ্টেশন থেকে শহরে পৌছতে রাজী হয়নি। কারণ তারা ছিল ছোটজাত। হাইস্কুলে ব্ল্যাকবোর্ডের কাছে যাবার তার অনুমতি ছিলনা। কারণ উচ্চবর্ণ হিন্দুর ছেলেরা ঐ ব্ল্যাকবোর্ডের কাছে তাদের টিফিন বক্স রাখতো। কলেজে সবার সাথে ক্যান্টিনে গিয়ে চা খেতে পারতেন না তিনি। কারণ ক্যান্টিন পরিচালনায় ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ। উচ্চশিক্ষা সমাপান্তে বারোদা স্টেইটে গেলে সেখানে কোন হোটেলে তাকে কামরা দেয়া হয় না। খাতায় নাম লিখতে গিয়েই বাধলো বিপত্তি। খাতা টেনে নেয়া হল। বারোদায় চাকরি পেলেন কিন্তু তারই চাপরাশি তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করল। বাড়ীওয়ালা তার পরিচয় জানতে পেরেই তার বাড়ী খালি করার নোটিশ দেয়। কলেজ সহকর্মী লেকচারার তার সোরাহী থেকে তাকে পানি দিতে অস্বীকার করে। সারাজীবন এই অমানবিক জীবন কাটানোর পর এই তিক্ততা থেকে মুক্তির অন্বেষায় তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। সে সাথে তিনি অচ্ছুৎদেরেও উপদেশ দিয়ে যান যে, “তোমরা বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করো নয়তো হিন্দুরা তোমাদের খেয়ে ফেলবে”। সর্ব বিষয়ে সুপন্ডিত এ ব্যক্তিটি জাতিতে নিচুবর্ণের সাহার শ্রেণীভুক্ত হওয়ায় বর্ণ হিন্দুদের দ্বারা যেভাবে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন সে লাঞ্ছণা থেকে বাঁচার জন্য তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। পরে গান্ধির অনুরোধে তিন লাখ অনুসারীসহ বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। ডঃ বি আর আম্বেদকর ক্ষুব্ধ চিত্তে তার “এ্যানিহিলেশন অব কাষ্ট” বইতে লিখেছেন, “যদি তুমি জাত ব্যবস্থাকে ভাংতে চাও, তবে তোমাকে বেদ এবং শাস্ত্রগুলিকে – যা কোন যুক্তিকে স্বীকার করেনা, যা নৈতিকতাকে অস্বীকার করে ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিতে হবে। তোমাকে অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে স্মৃতি অনুসারী ধর্মকে”। অনেক তথ্য উপাত্ত বলে গান্ধী মুসলিম ঘেষা ছিলেন কিন্তু এখানে এটি স্পষ্ট তিনি আম্বেদকরের খুঁজে পাওয়া ইসলাম থেকে তাকে বৌদ্ধ ধর্মের দিকে ঘুরিয়ে দেন। যে বৌদ্ধরা আজকের দুনিয়ায় কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা করছে, যদিও গৌতম বৌদ্ধ এমন ছিলেন না।

ডঃ আম্বেদকর ও তার ভাইকে দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে সংস্কৃত ভাষাটি শিখতে দেয়া হয়নি। ব্রাহ্মণদের ধারণা ছিল যে, দেবভাষা শিখে ফেললে হয়তো অস্পৃশ্য শুদ্রেরা নিষিদ্ধ গ্রন্থ বেদ পাঠ করে তা অপবিত্র করে ফেলতে পারে। একইভাবে দেয়া হয়নি ডঃ শহীদুল্লাহকে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিস্ময়ের ব্যাপার হল, এরাই আবার বিদেশী ও বিধর্মী মনিষীদের বেদ সংক্রান্ত আলোচনা পাঠে অপরিসীম উৎফুল্ল হয়ে উঠতো। অথচ শুদ্রদেরে বেদ পাঠের অধিকার থেকে নির্লজ্জভাবে বঞ্চিত করে রেখেছিল। বাধ্য হয়েই ডঃ আম্বেদকরকে দ্বিতীয়ভাষা হিসাবে ফার্সি পড়তে হয়। লক্ষ্যনীয়, ফার্সি পড়তে তাদের কোন বাধার সম্মুখিন হতে হয়নি। ৪ জুন ১৯১৩ সালে উচ্চ শিক্ষা লাভ করার জন্য তিনি নিউইয়র্ক যান। আমেরিকাতে প্রত্যেকটি মানুষই সমান মর্যাদার অধিকারী। তিনি সকলের সঙ্গে একত্রে চলছেন, একই টেবিলে বসেছেন। এ যেন তার কাছে স্বর্গ লোকের ঘটনা। তখন তিনি বলেছিলেন, “আমি অস্পৃশ্য হয়ে জন্মেছি কিন্তু আমি অস্পৃশ্য হয়ে মরবোনা”। এই একবিংশ শতকেও ভারত কেন আজো ঘুমন্ত বিবেকের দাসত্ব করছে, আর কতকাল করবে?

মোদি ভারতে চরম মুসলিম জাতিবিধ্বংস নীতি শুধু করেছেন এ শতাব্দীর শুরু থেকে। এর দেড়যুগ পরও তিনি একবিন্দুও সরে আসেন নাই। গুজরাট অপকর্মের পর এই মোদিকে আমেরিকা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিল, সে গ্লানির কথা দুনিয়ার মানুষ ভুলে যায়নি। ১৯৪৭ থেকে ২০১৯ গোটা ভারতে হাজার হাজার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নামে মুসলিম নিধনের যে মহামেলা সময় সময় তারা চালাচ্ছেন, আজকের সবকটি অপকর্ম ঐ আগের ধারাবাহিকতার অংশ। আইয়ামে জাহেলিয়াত নামে পরিচিত আরবের কুরাইশরা এটি ষষ্ট শতাব্দীতে জোরে সোরে চালু করেছিল। হিন্দু নামে কোন ধর্ম নেই, সিন্ধু নদের নাম অনুসারে ভুলভাবে ধর্মের পরিচয় দেয়। তারা বলে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরানো ধর্মের নাম সনাতন ধর্ম। ইসলাম চৌদ্দশত বছর আগে এসেছে, কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। সময়টি শুরু নয় বরং শেষ, সর্বশেষ ইসলাম এসেছে ঐসময় আর শুরুটা সেই আদমের সময় থেকে। নবী আদম হচ্ছেন প্রথম প্রতিষ্ঠিত নবী। এর পরে কুরআনে বর্ণিত ২৫জন নবীর প্রমাণ মেলে। ইতিহাস ভূগোলে এরও প্রমাণ পাওয়া যায় এই আরবীয় বণিকেরা কালের ধারাতে সারা বিশে^ এমনকি ভারতেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামের সুখবর প্রায় নবী মোহাম্মদের সমসাময়িক সময়েই ভারতের উপকন্ঠে পৌছায়। কিন্তু আরব বণিকদের মারফতে ছড়িয়ে যাওয়া কুরাইশদের ঐ মূর্তিপূজা ভারতেও ছড়িয়ে পড়ে। গবেষনায় প্রাপ্ত নবী নূহের সময়কার অভিশপ্ত জাতির চালচিত্র ভারতীয়রা আজো ধারণ করে আছে। নূহের মহাপ্লাবনকে তারা নাম দিয়েছে জ¦ালা প্রলয়াম। আমরা জানি মুসার অবর্তমানে তার বিভ্রান্ত অনুসারীরা গরুর বাছুরের পূজা শুরু করে। “আর স্মরণ করো! আমরা মুসার সঙ্গে চল্লিশ রাত্রি নির্ধারিত করেছিলাম। তখন তোমরা বাছুরকে তার অনুপস্থিতিতে গ্রহণ করলে আর তোমরা হলে অন্যায়কারী (সুরা বাক্কারাহএর ৫১ আয়াত)।”এর প্রমাণ আজো কুরআনে ছড়িয়ে আছে। এভাবে মধ্য প্রাচ্যের মূর্তিপূজার দখলদার হয় ভারত, আর সনাতনের বড়াই করে সেই নবীদের অনুসারীদের উপর চড়াও হয়ে যুদ্ধ করছে একবিংশ শতক অবদি। এভাবে বিগত ষষ্ঠ শতকের কুরাইশদের আদলে আইয়ামে জাহেলিয়াতের মতই ইসলামের শিকড় বাকড় ধরে বাহবা কুড়াতে জগতের সব নিকৃষ্ট কাজ করে চলেছে তারা ধর্মের নামে। সে হিসাবে তারা কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে পড়া ধর্মের দল। কয় শতক পূর্ব বর্বর ধর্ম নামের অধর্ম চালিয়ে সারা ময়দানে লঙ্কাকান্ড বাধিয়ে পুতুল পূজা বহাল রেখেছে। বিবেক সম্পন্ন মানুষ মাটির কাঠের ষ্টিলের পাথরের পুতুলের বদলে পশু গরুর বদলে বিবেকসম্পন্ন মানুষকে সম্মান করতে শিখুক, এটিই একবিংশ শতকের প্রত্যাশা হওয়া উচিত। আর এটি রপ্ত করতে না পারলে জাতি হবে বিবেকহারা কপট কদাকার ও কলঙ্কিত। মানুষের ময়দানে এক ও মানবিক হওয়াই সব কথার শেষ কথা।
৩১ আগষ্ট ২০১৯।
বি দ্র: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ সাপ্তাহিকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে ছাপে।

নাজমা মোস্তফা

গ্রামের অসৎ মোড়ল অনেক দিনের গভীর প্রচেষ্টা ছাড়া গ্রামের নীরিহ মানুষটির ভিটেমাটি দখল করতে পারে না। এর জন্য তার কুটিল কপট আচরণ দিয়ে ক্রমে ক্রমে ধূর্ত মোড়ল এগিয়ে যায়। একটি দেশকে গোটা গিলতে হলে একই কায়দায় ময়দান মাপতে হয়। ইত্যবসরে মোড়ল যদি দু একটি গিলে থাকে তবে তার সাহস ও লোভ দিনে দিনে বাড়ে। তবে অতি লোভে তাঁতি নষ্ট বলেও একটি কথা আছে। ভারতের কুবুদ্ধি শেষ পর্যন্ত না বুদ্ধিলোপের পর্যায়ে যায়, সেটি সময় স্পষ্ট করবে। একটি সাজানো বাগানে পাগলা হাতির আক্রমন হলে সে বাগানের কি অবস্থা সহজে অনুমেয়। ঘটনাটি ওরকমই একটি কিছু। একটি বইএর উদাহরণ টানবো খুব সংক্ষেপে যেখানে এ শতাব্দীর শুরুতেই প্রথম প্রকাশিত হয় ১ ফেব্রুয়ারী ২০০১সালে বইটি ময়দানে এসেছিল, কিছু তীর্যক আলো হয়তো ফেলেছিল কিছু সচেতনদের কাছে। খুব সংক্ষেপে বাংলাদেশের পরম বন্ধু নামীয় সোনাবন্ধুর অনেক কার্যক্রম স্পষ্ট হয় শিরোনাম থেকে। সময় অল্প, কথা বেশী। স্বভাবতই শিরানামেও অনেক খবর প্রকাশ পায়। দেড় যুগ আগের এ সাইরেন ধ্বনির পরও যারা ঘুমিয়ে থাকে আর অন্ধের মত দলবাজি করে জাতির বারোটা বাজায় এর দায় প্রতিটি অন্ধ দলবাজের উপর অবশ্যই বর্তায়। যতদূর জানি এর প্রচার সীমিত, কারণ একটি দলকে অল্প দামে কিনে নিয়ে দেশের ভিতরে শক্ত দালাল প্রতিরোধের কাজ করছে। শেখ মুজিব ইন্দিরার কবজায় থাকেন নাই, এই অজুহাতে তাকেও ময়দান থেকে সাফ করা হয়। ‘র’ এর কৌশলই সব সময় উদোর পিন্ডি ভোদর ঘাড়ে চাপানো। তাই অনেকেই এক তরফা আমেরিকার দিকে আঙ্গুল দেখান। এরশাদও র এর বড় দালাল ছিলেন। স্বাধীনতার আর এক নায়ক জিয়ার কারণে এ দেশ উন্নতির শিখরে পৌছে যাচ্ছে দেখে ইত্যবসরে বেরিকেড উঠে, তাকে হত্যার মাধ্যমে দেশ থেকে উন্নতির বিজ উপড়ে ফেলা হয়। ইন্দিরা গান্ধী সবদিন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে আতঙ্কে ছিলেন পাকিস্তান ভেঙ্গে আবার যদি দুই পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়ে যায়। বিচিত্র কি, হয়তো সেটিই হতে যাচ্ছে। লায়লাতুল কদরের রাতে বিশ^ বিধাতা হয়তো দুই পাকিস্তানের সৃষ্টি করে দিলেন খুব কৌশলে। ভারতের নির্দেশে করা আওয়ামীদের পাকিস্তান তসবির মূল কারণ তাদের নব্য প্রভু ও নিজেদের অপকর্ম ঢাকা।

বাংলাদেশে ‘র’এর তৎপরতায় কাদেরিয়া বাহিনীর সৃষ্টি, শান্তি বাহিনী গঠন, সশস্ত্র বাহিনীতে পুনরুত্থান ঘটানো, প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যায় ভারতীয় ‘র’ জড়িত। মুজিব হত্যায় ভারত জড়িত নয় বলা কঠিন। অনেক আকার ইঙ্গিত স্পষ্ট করে এতেও ভারতের ইন্ধন রয়েছে। নিজেদের সুবিধা আদায় করতে মূল ৯৫,০০০ যুদ্ধপরাধীর বিচার ভারতই হতে দেয় নি। নিকট সময়ের যুদ্ধপরাধীর নামে যে বিচার, মূলত এদেশ থেকে ইসলাম নিধনের ধারাবাহিকতার অংশ ওটি ছিল। আর পরবর্তীতে ভারতের তালপট্টি দখল, এরশাদকে ক্ষমতায়নেও র, কাল্পনিক শেখ হাসিনার সংখ্যালঘু নির্যাতনের কাহিনী সাজানোয় তৃতীয় শক্তির হাত স্পষ্ট। ঐ সময় সরকারের ভিতরে বাইরে ৩০,০০০ র এজেন্ট তৎপর ছিল, শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস সৃষ্টিতেও ভারত, বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীদের ভারতীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার প্রচেষ্টা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসেও ‘র’, মিলিটারীতেও ‘র’ এর অনুপ্রবেশ, দেশের গোপন তথ্য প্রচার, এসব গুপ্তচরবৃত্তিতে রাজশাহী তে ‘র’ এর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতা গ্রেফতার, দুই বাংলা একত্রিকরণের অপপ্রচার, বাংলাদেশকে খন্ড খন্ড করায় উস্কানী দান, একটি বিশেষ দলকে নির্বাচনের বৈতরনী চালানো। পুশব্যাক পুশইন ইস্যু, ভারতীয় নাগরিকের গোপন অনুপ্রবেশ ও তার প্রমাণসহ ধরা খাওয়া, অতপর বাংলাদেশে ‘র’এর ৬০,০০০ এজেন্ট, ঐ সহযোগিতায় খালেদার শাসনে থাকা অবস্থায় কাল্পনিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলেন শেখ হাসিনা, গারোল্যান্ড আন্দোলন, ‘র’এর সাথে বিবিসির কানেকশনে বাংলাদেশকে ভারতের সাথে মিশে যাবার উপদেশ বিলি করা, (৬ ডিসেম্বর ৯০-২৭ মার্চ ৯১ ) বিশৃংখল পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ, একটি পরাজিত দলকে ‘র’ এর সাড়ে ৪ কোটি দান, বাংলাদেশে মোহাজির সংঘ: বঙ্গভূমি নামে সমান্তরালে নতুন ষড়যন্ত্র, চট্টগ্রামে বন্দরটিলা নৌ ঘাটিতে বিশৃংখলা সৃষ্টিতে ইন্ধন দান, রাজীব গান্ধী হত্যায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভারতীয় অপপ্রচার, বাংলাদেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির চক্রান্ত, প্রয়োজনে বেগম খালেদাকে হত্যার পথে এগিয়ে যাওয়া, জন্মাষ্টমীর মিছিলে হামলা ও দুর্গাপূজা নিয়ে চক্রান্ত, বারে বারে বঙ্গভূমি আন্দোলন, বঙ্গসেনা সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশ, বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকের গোপন অনুপ্রবেশ, সিলেটে স্থায়ী বাসিন্দা হিন্দিতে কথা বলে- ওরা কারা, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির তৎপরতা, বেগম জিয়ার “ফারাক্কা ভাষন ও ‘র’এর ৪ শত কোটি টাকার বাজেট, বাংলাদেশে ‘র’ তৎপরতা ও বিজেপি, জাপানি পূজি বিনিয়োগ ও হরতাল ধর্মঘট যোগসূত্র, অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন বিএনপি সরকারের পতন ঘটাতে বিপুল অস্ত্র আমদানীর ষড়যন্ত্র, ২ মে ৯৬ সালে কু করার পরিপ্রিক্ষিত, ঐ সময় সীমান্তে ভারতীয় সেনা মোতায়েন, টাকা দেবে ‘র’ আওয়ামী টার্গেট ২০০ আসন, জনমত ভারতের অনুকুলে নিতে ভুল প্রচারণা ও পত্রপত্রিকতায় ভুল তথ্য উপস্থাপন প্রক্রিয়া, ৯৫-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের পতনের আন্দোলনে ‘র’এর বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা নাশকতামূলক তৎপরতা চালায়, চীন পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশেও বেতার যোগাযোগ ও টেলিফোনে আড়ি পাতে ‘র’ প্রশাসন। ব্যবসা খাতে এজেন্টদের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে আগাম তথ্য, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা পালনে ‘র’ তৎপরতা, স্পর্শকাতর পদেও এরা পরিবর্তন ঘটায়, এনজিও গবেষনামূলক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধেও ‘র’ গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছে, রেস্টুরেন্ট কম্পিউটার ফার্মের আড়ালে চলছে ‘র’এর তথ্যসংগ্রহ আদানপ্রদান, কর্মকর্তারা আসছেন ছদ্ম পরিচয়ে, একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের অনেকেই বিনা ভিসাতে ভারতে থাকতেন, চারদলীয় জোটের আন্দোলন নস্যাত, রাজনীতি নিয়ন্ত্রণেও ‘র’, বাংলাদেশে সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে ভারতের অপপ্রচার ও আইএসআই কানেকশনের চেষ্টা। এভাবে গোটা দেশটিকে আগ্নেয় বিস্ফোরণের আখড়া বানিয়ে রেখেছে বন্ধু নামীয় কৌশলীরা।

আমি উপরে মাত্র কয়টি শিরোনাম ছুঁয়ে গেলাম, এর ভেতরে ঢুকলে আপনারা আতঙ্কিত হবেন। বিগত সময়ে যে হরতালের মহামারী ছিল যা প্রধানত আওয়ামী লীগই করতো সবই তাদের অতি তৎপরতায় সংগঠিত হয়। মিডিয়া অন্ধ বোবার পার্ট প্লে করছে, ধারে কাছে উপরে নীচে সর্বত্র শক্তিশালী দালালরা সক্রিয়। আত্মায় অন্তরে এ জাতি বিক্রি হয়ে গেছে। এখন বিদ্রোহ করা ছাড়া দেশবাসীর সামনে আর কোন পথ দেখছি না। পকিস্তান, জামায়াত, রাজাকার সর্পাতঙ্কে রেখে জাতিকে ফেনসিডিল, ইয়াবা, ষ্টার জলসা টেবলেট দিয়ে ঘুমিয়ে রাখা হয়েছে, ঐ ফাঁকে ঘাড় মটকাতে আসছে আসল দানব রাজাকার। এ যাবত স্বাধীনতা উত্তর দেশে যত বিশৃংখলা তৈরী হয়েছে তার বেশির ভাগই এদের সাজানো কারসাজি। দুই বিড়ালে যখন ঝগড়া লাগে তখন তৃতীয় পক্ষ পানি ছিটিয়ে দিলে ঝগড়াটি তুঙ্গে উঠে। একটি মনে করে অন্যটি তার উপর মুত্রত্যাগ করেছে। বাংলাদেশে এভাবে একদলকে কিনে নিয়ে অন্যদলের উপর ডিভাইড এন্ড রুল চালানো হয়েছে তৃতীয় শক্তি দ্বারা। সারা দেশে অনাচারের বিস্তার ঘটিয়ে দেশের স্থিতীশীলতাকে স্তব্ধ করে গোটা জাতিকে দু টুকরো করা হয়েছে। আর চরম বিশৃংখলায় বেওকুফ দুই বিড়াল চরম উৎসাহে ঝগড়া চালিয়ে যাচ্ছে। অবস্থার প্রেক্ষিতে গড়ে উঠেছে একদল দেশপ্রেমিক আর একদল দেশদ্রোহী। এই সুযোগে মোড়লরা তাদের দেশের জন্য সব উপাত্ত সুযোগ মনের মাধূরী দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছে। আদর্শহীনতার কারণে পলাতক মানসিকতার জনতারা জেনেও কপট স্বার্থে চুপ থাকে। যেমন এদেশে শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস, সংখ্যালঘুদের ইস্যু নিয়ে মিথ্যা নাটক সাজানো, গার্মেন্টসএ নানান ষড়যন্ত্র, দেশেকে খন্ড খন্ড করার প্রচেষ্ঠায় বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার অভিপ্রায়ে শান্তির নামে অশান্তির বিজ বপন, নিশ্চয় বিধাতার আদালতে সব জমা থাকবে। এভাবে সবার নাকের ডগা দিয়ে জাতির মজ্জা চোষে চলেছে ভারত বড় সময় থেকেই। লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে সংস্কৃতির নামে দল বেধে তারা এদেশে আসে, আর দেশের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীরা দিশা হারিয়ে মাটি পেতে বসে এসব দেখে, যেন বাপের জনমে পালা গানও শুনে নাই। উপরে যা বললাম তা খুব কমই বললাম, প্রতিটি শিরোনামের ভিতরে ভয়ংকর ভূমিকম্পসম আগ্নেয় বিস্ফোরণ জমা হয়ে আছে। দেশের মাথা মোটা নারী সদস্যরা নাকি তাদের ঐ ষ্টার জলসার যাত্রাগান না দেখলে ঘুম হয় না। মানুষকে অভিযোগ করতে শুনি ঐ সব পালাগান শুনে শুনে ঘরে ঘরে অশান্তির দাবানল। মনে রাখবেন আদর্শ বড় কঠিন জিনিস, যেটি মুসলিম সমাজ ধারণ করে আছে। ওদের তালে পড়ে আজ তারা নিজের সর্বস্ব বিকিয়ে দিচ্ছে। এতে ইহকাল পরকাল সবই ঝরঝরে করে নিজেকে ধ্বংস করছে।

বইটি সাবেক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা নিয়ে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশে ‘র’ আগ্রাসী গুপ্তচরবৃত্তির স্বরুপ সন্ধান লেখক আবু রুশদ। আপনারা দেখবেন বাংলাদেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে কিছু কেনা দালাল টকশো, সাংবাদিক, লেখক দেশের প্রতিটি সেক্টরেই আছে, তাদের আচরণ দেখেই চিনে নিবেন। এরা বাংলাদেশের খায় ঠিকই কিন্তু এরা ভিন দেশের দালাল। সামান্য কুলি মজুর থেকে সকল ক্ষেত্রে এরা ঢুকে পড়েছে। এরা নিমকহারাম মোনাফিক প্রজাতির একটি বড় দল দেশে তৈরী হয়েছে শক্ত মাপে। এদেরে ইত্যবসরে চিনেন জানেন কারণ এদের কথাবার্তা শুনলেই বুঝে নিবেন । এরা কখনোই বাংলাদেশের স্বার্থ দেখে না। এদের প্রধান কাজ হচ্ছে ভারতের স্বার্থ দেখা। এর নাম স্বাধীনতায় ভারতের সহযোগিতা। আপনাদের কি মনে আছে প্রয়াত সুরঞ্জিত বাবুকে। তিনি প্রকাশ্য ময়দানে কিভাবে সবার নাকের ডগা দিয়ে বিদেশীদের দালালী করে গেছেন, দেশদ্রোহী কাজ করেছেন বিবেকহারা সরকারের ছায়াতলে বসে। আজ বিধাতার আদালতে গেছেন, বিচারের ভার ওখানেই জমা হবে। কিন্তু যারা বেঁচে আছেন তারা আর কত লম্বা ঘুম দিবেন? সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রকাশ্য ময়দানে ভারতের তথাগত রায়দের সাথে প্রচারে যুক্ত থেকে হিন্দুদের আওয়ামী করণের ডাক দিতেন। একইভাবে সিনহাবাবুও ইসকনসহ দেশ বিধ্বংসী নাটকে কমবেশী ছিলেন। সুতরাং এরা অনেকেই দেশের খায় কিন্তু গুণ গায় ভিন দেশের। সহজে বলা যায় এরা জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, রায়বল্লভের বংশধারা। এরা মনের দিক থেকে বাংলাদেশের কেউ নয়। এরা জেনে না জেনেই প্রধান থেকে পিয়ন অল্প দামে কেনা গোলাম মিরজাফর। চিহ্নিত প্রিয়া সাহাগংরা দেশের কি কেউ? এরা জাতির দেউলিয়াত্বের জন্য বড় দাগে দায়ী। সত্য প্রকাশ করা ঈমানী দায়িত্ব, দেখা যায় ঐ ঈমানী দায়িত্ব পালন করেছেন ঐ বইএর লেখক এ শতকের শুরুতেই। আজ তার ২০ বছর পূর্তির সময় আমি এ কলামটি লিখছি বাংলাদেশীরা যে দেশটি স্বাধীন করেছিল বিগত শতকের একাত্তুরে, সেদিনই ময়দান থেকে ভারতীয়রা কপটতার আশ্রয় নিয়ে গোটা যুদ্ধ লুট করে নেয়। এদের অনেক অপকর্মে বিতশ্রদ্ধ হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিল বেদনার বহি প্রকাশ ঘটিয়ে অনেক বই লিখে রেখে গেছেন, এর একটির নাম “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা”। তিনি বুঝতে পেরেছেন বলেই এমন সত্যটি অকপটে বিলি করে গেছেন। এরকম আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধা আজো বেঁচে বর্তে আছেন যারা এ যাতনার কপট কষ্টে ধুকে ধুকে মরছেন।

এসব বই জাতির জন্য ছিল অমূল্য সম্পদ। বলা হয় দেশপ্রেম ঈমানের অংশ। তার মানে মুসলিম যারা বেকায়দায় পা ফেলেছেন বলতে হবে তারা ঈমান হারিয়েছেন। বাংলাদেশের টকশো গুলো শুনলেই দেখবেন একদল মানুষ কিভাবে বন্য আচরণ করে চলছে, কোনভাবেই তারা জাতির ইতিবাচক কথা কাজ চিন্তা করতেই পারে না, অপারগ তারা। এদের দেখলে চেনা যায়, তাদের অঙ্গভঙ্গি তাদের পরিচিতি স্পষ্ট করে দেয়। যাদের অন্তরে আসল দেশপ্রেম আছে তারা নকলদের চিনতে পারবেন আর যাদের ওটি নেই বুঝে নিন তারা ওদের মাঝে এর মধ্যেই বিলিন হয়ে গেছে। এ আত্মবিক্রিত দেশদ্রোহীরা যেন অপকর্মের তলাহীন ঝুড়ির ময়দানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। হাসিনাকে হত্যার যে গল্প এযাবৎ চালানো হয়েছে সবই চরম মিথ্যাচার, বরং খালেদা জিয়াকে হত্যার এজেন্ডা ভারতের ছিল। কারণ এর প্রমান দাগ সর্বত্র আজো স্পষ্ট। তাদের কেনা দালালরা আছে বলেই আজ ভারতের নেতা নেত্রীরা দাবী করছে খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত এক তৃতীয়াংশ ভারতকে দিতে হবে। ১৭ আগষ্ট শিলচর থেকে প্রকাশিত ‘সাময়িক প্রসঙ্গে’ গৌহাটিতে সুব্রানিয়াম স্বামী এ মন্তব্য করেন। এটি মুখ ফসকে বলা মনে করার কারণ নেই। মনে কি পড়ে অনেক আগে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মূখ্যমন্ত্রী বলে এক অপরুপ কৌশলী নাটক করা হয়েছিল। সবই ঐ মোড়লীয় কপটতা! এরা এভাবেই আগায়। এভাবে এ দেশকে অস্থিতিশীল রাখা হয়েছে বড় সময় থেকে, সচেতনরা সাইরেন ধ্বনি বাজিয়েছে এর মাঝেও, এদের আর একটি সাইরেন হচ্ছে “আমার ফাঁসি চাই”। এ লেখক আগে নিজের ফাঁসি চেয়েছেন কারণ অনেক অপকর্ম নিজ চোখে দেখে জেনে শুনেও কথা বলেন নাই, আঁচ করতে পারেন নাই এর গভীরতা কত ভয়ংকর হবে, ঐ অপরাধে তিনি তার নিজের ফাঁসি চান সবার আগে। আজ মনে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টুর একার নয়, গোটা জাতির ফাঁসির সময় এসেছে। গোটা জাতিই ফাঁসিতে যাবেন নাকি বিবেক খাটাবেন সেটি জাতীর বিবেচনা। জেনে শুনে মিথ্যার প্রচার নিন্দনীয়, সত্য স্পষ্ট করা মানবিক দায়িত্বের অংশ বলেই মানি।

ইতিহাস কথা বলে, ভারতীয় উপমহাদেশে ক্ষমতালোভী স্বার্থপর দালালদের কারণে ২০০ বছরের জন্য সিরাজের মসনদসহ গোটা উপমহাদেশ ছিনিয়ে নেয় বৃটিশরা। আজও কি এই একবিংশ শতকে ১৭কোটি বাংলাদেশী সেই একই বেওকুফের ভূমিকা পালন করবে? গোটা কাশ্মীর আজ কপটের কারাগারে। চারপাশে বিশ^াসঘাতকরা দম ছাড়ছে, সমস্ত জাতির মজ্জার মাঝে বিষাক্ত ভাইরাস মিশে গেছে। চেতনহারা জাতিকে আল্লাহও পথ দেখায় না। আত্মসচেতন থাকা প্রতিটি নাগরিকের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। টাকার রং না দেখে উদরে ঢোকানো আগুন গেলার সমান। মুমিন ছাড়া বেশীর ভাগ মানুষ এটি বিবেচনা করে না বলেই চোর ডাকাতের আদলে এসব দালালদের সুইস ব্যাঙ্কে টাকার পাহাড় জমে। ছলবাজদের কোন এবাদত আল্লাহর নিকটে পৌছাবে না। ধর্মের মূল গ্রন্থ দিয়েই এটি সিল করে দেয়া। বলা হয়েছে এদের লোক দেখানো এবাদতের কোন প্রয়োজন নেই। ঈমানদারের প্রতিটি সৎ চিন্তাই এবাদতের অংশ, এটি মনে রাখবেন। শুধু পশ্চিমে মাথা ঝুকালেই এবাদত হয় না, উদ্দেশ্যহীন লোক দেখানো মানুষ ঠকানোর এবাদতের মূল্য শূণ্য। যারা দেশদ্রোহী কাজ করেন, এরা পশুরও অধম। এরা বিচার দিবসকে মিথ্যা মনে করে। এরা বিবেকহারা মানুষ নামের অযোগ্য । যারা বিশ^াস করেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে বিরাট পুরষ্কার (সুরা তীন ৬ আয়াত)। শর্তগুলো পরখ করুন, যেখানে কুরআনে বলা হয়েছে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান, সর্বদ্রষ্টা। যারা মিথ্যারোপ করে ও সৎ পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় জাহান্নামের আগুণের খোরাক তারাই। ঐ পাপীদের কেশগুচ্ছ ধরে আনা হবে, পাপীরা তাদের নেতাদের অভিভাবকদের ডেকে আনুক তারপর দেখবে তাদের পরিণতি কত ভয়ংকর সত্য হয় (সুরা আলাক ৯৬ সুরা)। পাঠক একটি কথা মনে রাখবেন যাদের টাকা দিয়ে কেনা যায় না, তারাই জগতের সেরা মূল্যবান মানুষ। যারা অতি অল্প দামে বিক্রি হয়ে যায় তারা সমাজের সব চেয়ে নিকৃষ্ট জীব, কীটসদৃশ।

কুরআন বলে “যদি তোমাদের মধ্যে কুড়ি জন ধৈর্য্যশীল থাকে, তবে তারা দু’শ জনকে পরাজিত করবে, আর যদি তোমাদের মধ্যে একশতজন থাকে তবে তারা পরাজিত করবে যারা অবিশ^াস পোষণ করে তাদের এক হাজার জনকে, যেহেতু তারা হচ্ছে একটি সম্প্রদায় যারা বুঝে না (সুরা আনফালের ৬৫ আয়াত)। শুধু শর্ত হচ্ছে সৎকর্মশীল হওয়া, এরা সংখ্যায় অল্প হলেও তারা জিতবে। কুরআনীয় বন্টন একে সত্তুর নয়, একে দশ। শেষ ঘন্টা বাজার এ সঙ্গীন সময়ে কুরআনহারা (কিন্তু কিতাব নির্ভর) সংগ্রামী এ জাতিকে মূল কুরআনে ফিরে আসার আহবান জানাই আর প্রকৃত সত্যের উপর ভর করে দাঁড়াবার ঐশী ক্ষমতায় ভর করে এগিয়ে যাবার কথাটুকুই স্মরণ করিয়ে সকল দাসত্ব থেকে মুক্ত হবার ডাক দিয়ে আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আল্লাহই এ জাতির একমাত্র ভরসা।
লেখার সময়, ২৩ আগষ্ট ২০১৯।
বি দ্র: লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দি রানার নিউজ থেকে শুক্রবার, ৩০ আগষ্ট ২০১৯ তারিখে ছাপা হয়।

 

নাজমা মোস্তফা

কাশ্মীর নিয়ে দাদাদের দাদাগিরি + দুটি কলাম আছে আমার ব্লগেই। এটি চরম বিতর্কীত বর্তমানে না পৌছালেও বিতর্ক সংঘাত ছিল বলেই আমার ব্লগে অতীতেই জায়গা দখল করে। নেড়া বেলতলাতে একবারই যায় কিন্তু মুসলিমরা কেন সেখানে বার বার যাচ্ছে, বুঝে আসছে না। এ তাদের অতিরিক্ত উদারতা বনাম অতিরিক্ত অসাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি তাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে।

হায়দ্রাবাদ: স্বাধীনতার শুরু থেকেই ভারত সাম্প্রদায়িক উস্কানীতে মোটা দাগেই জড়িয়ে ছিল। কাশ্মীর, হায়দ্রাবাদ পাকিস্তান তার জনমের শত্রু, কারণ এরা মুসলিম প্রধান দেশ। হায়দ্রাবাদ ও মুসলিম বলেই গণহত্যা চালিয়ে তাদের স্বাধীনতা হরণ করে ভারত। ১৯৪৭ সালে দেশটি স্বাধীন হয় এর পরের বছরই ৪৮ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ভারতের শেষ স্বাধীন সালতানাতের অবসান ঘটে ভারতের সৈন্য বাহিনীর ব্যাপক গণহত্যার মাধ্যমে সন্ত্রাসী কায়দায়। একে কি বিজয় করা বলে? দাক্ষিণাত্য নামে পরিচিত এ সালতানাতের শাসক ওসমান আলী খান নিজামউল মুলক হামলার ছয় দিন প্রবল প্রতিরোধ চালিয়ে যান। শেষে ব্যাপক রক্তপাত এড়াতে আত্মসমর্পণ করে ২২৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটান। ব্যাপক বিস্তৃত ভূখন্ডের অধিকারী হায়দ্রাবাদ ৪৭ সালে এই মুসলিম রাষ্ট্রটি ভারতীয় স্বাধীনতা অনুযায়ী ভারত বা পাকিস্তানে যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ভারতের তথাকথিত নেতারা সামরিক শক্তির জোরে জোর করে দেশটিকে ভারতের অন্তর্ভূক্ত করে নেয়। এ ঘটনার তদন্ত হওয়ার কথা থাকলেও আজ অবদি তা প্রকাশিত নয়।  যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পরও জনতারা হত্যা ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়নি। কিংকর্তব্য বিমুখ জনতাকে হাজারে হাজারে হত্যা করা হয় এবং উচ্ছেদ করা হয় কয়েক লাখকে। সন্ত্রাস দমনের নামে এসব নারকীয় কাজ করা হয় ( ১৯৫০ সালে প্রকাশিত “দ্যা মিডল ইস্ট জার্নাল, খন্ড ৪)। ভারত যেন পাশর্^বর্তীদের সাথে লোভী নেকড়ের ভূমিকা পালন করে চলেছে। ৭৫ সালেই সিকিমকে আত্মস্থ করে উদরে ঢোকায়। কাশ্মীরের দিকে তীর্যক দৃষ্টি দিয়ে রেখেছে শুরু থেকেই। শুধু উদরে ঢোকানোর অপেক্ষায় ছিল এ যাবত।

কাশ্মীর: অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করে কাশ্মীরীদের স্বায়ত্বশাসন বাতিল করে তাদের সব সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একতরফা দাদাগিরির বড়দাগ রেখেছে। এভাবে একতরফা পদক্ষেপে সম্প্রতি সৈন্য সংখ্যা বেড়ে ৭ লক্ষাধিক সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশাল বহরের স্বশস্ত্র সৈন্যের মোকাবেলা করতে পাথর ছুড়লেও বিপদ, তাদের ঘরে তল্লাশী চলছে। ঈদের নামাজও পড়তে পারে নাই জনতারা। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখেও ছিল এবারের মতই ঈদের দিন। রক্তাক্ত কাশ্মীরে সেদিনও ছিল না কোন ঈদের আনন্দ। সত্য অস্বীকারকারী ধর্মধারীর কাছে মানুষ খুব কম নিরাপদ বলেই এসব ময়দানের প্রমাণ। “কাশ্মীর ভারতের নয়, হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়” ১৭ অক্টোবর ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়। জম্মু কাশ্মীরের হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছে, সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী এ ঘোষনা দেয় হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয় এটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র, এটি কখনোই ভারতের সাথে একীভূত হবে না। এ বিষয়ে হুরিয়াত নেতা শিব্বির আহমদ বলেন, বিভক্তির আগেও কাশ্মীর ভারতের অংশ ছিল না। এখানো ভারতের অংশ হতে দেবো না (উৎস: জিওটিভি)। পাঠক আপনাদের কি মনে আছে ২০০১ সালে ভারতে কিভাবে অন্যায়ভাবে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতার ফাঁসি কার্যকর করে। গার্ডিয়ানে মানবাধিকার কর্মী অরুন্ধতী রায়ের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল “ আফজাল গুরুর ফাঁসি ভারতীয় গণতন্ত্রের কলঙ্ক” এই শিরোনামে তিনি ভারতের স্বরুপ তুলে ধরেন। কাশ্মীরীদের আরেক মৃত্যুঞ্জয় বোরহান ওয়ানী কিভাবে মানুষের মনে স্ফুলিংগ হয়ে আছেন তা কাশ্মীরীরা জানে। তিনি যে কাশ্মীরের প্রতীক হয়েছেন সেটি স্বীকার করে ভারতীয় সাবেক গোয়েন্দা প্রধান গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আপনারা তাকে সন্ত্রাসী মনে করেন। কিন্তু অচীরেই ধারণার অতীত এই বোরহান ওয়ানীই এই কাশ্মীরীদের আদর্শ বলে প্রতিষ্ঠা পাবে। তিনি ইতমধ্যে এ বিরোধ নিস্পত্তির জন্য পাকিস্তানের সাথে আলোচনার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন (আমাদের সময়.কম ০২-০৯-২০১৬)। সময়ে ইতিহাসও কথা বলে।

 ভারতের কপটতা: কাশ্মীরীদের দমন করতে মোদি সরকার চার কৌশল নিচ্ছে। শুরুতে নেতাদের গৃহবন্দীত্ব আছেই / বুলেট তো নেই, পাথরও যাতে ছুড়তে না পারে পরিবার প্রতি তার বন্ড সই নিবে / প্রভাবশালী ও ধর্মধারীদের নজরদারীতে রাখবে / সন্ত্রাস দমনের নামে সেনা বাহিনীর ডোজ দিবে। ডিভাইড এন্ড রোলের অনুসারী হয়ে এরা কাশ্মীরী যুবকদের নিয়ে ভাঙ্গনের খেলাও খেলেছে তারা যেন তাদের মাঝে বৈরীতা লালন করা যায়। একটি ভিডিওতে এটিও দেখা যায় পুলিশের চাকরীতে যেতে তাদের নিরুৎসাহী করা হতো এমনভাবে যে বলা হতো যারা পুলিশে যোগ দিবে তারা নিজেদের মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে। তারাই গণতন্ত্রের বুলি কপচায় আর ধর্ম নিরপেক্ষতার মানুষ ঠকানোর গানা গায়। কাশ্মীর নিয়ে যে খেলা ভারত খেলছে, সেটি আজ নতুন নয়। বৃটিশ গমনের পর থেকেই চলছে ঐ কলকাঠি নিয়ে নাটক। কাশ্মীরে গনভোট করার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভারতের থাকলেও সে প্রতিশ্রুতি ভারত রক্ষা করেনি। এ না করার কোন লজ্জায় তারা নেই বরং আরো বড় অপরাধে হাত দাগিয়ে চলেছে। ৩৭০ ধারা বাতিল করে তাদের খাঁচাবন্দী করার সকল প্রক্রিয়া জোরেসোরে চালাচ্ছে যেন মধ্যযুগীয় ময়দানে তারা দম ছাড়ছে। একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলকে উদরস্থ করতে কাশ্মীর হয়েছে ভারতের আভ্যন্তরিণ বিষয়। অতি লোভে তাঁতি নষ্ট একটি কথা আছে। সারা ভারতে এভাবে দক্ষিণে তামিল নাড়– আন্দোলন, পশ্চিমে খালিস্তান, পূর্বে মিজো ও নাগা সমস্যা, আসামের বিদেশী হঠাও আন্দোলন এসব তাদের সাজানো সময়ের বিষফোঁড়া। কঠিন সময় জানান দিচ্ছে হয়তো নিকট সময়ে জগতের সব নির্যাতীতরা তাদের দাবীতে সোচ্চার হবে। কারো ব্যক্তি স্বার্থে নয় বরং দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের অধিকার নিয়ে বাঁচার তাগিদেই এটি করতে হবে। শাহজালালের পূণ্যভূমিকে খুব কৌশলে তারা উভয় পারে দ্বিখন্ডিত করে রেখেছে। ঐশী নির্দেশেই সত্য প্রচারের উদ্দেশ্যে সাধক শাহজালালের অবস্থানকেও তারা খন্ডিত করেছে নিজের কপট স্বার্থে। আর তারা সেটি করেছে কোন এক লায়লাতুল কদরের সম্মানিত রাতে। ইসলামে কোন রাত দিনের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। কুরআনে শুধু একটি রাতই আল্লাহ কর্তৃক হাজার মাসের সেরা বলেই চিহ্নিত।

ভারতের কারসাজি: ১৯৪৭ সালে কুমিল্লার কংগ্রেস নেতা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী নেহরুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস এখন কেন  পার্টিশন মেনে নিচ্ছে। জবাবে নেহরু বলেন, কংগ্রেস কখনোই অতীতে এটি মেনে নেয়নি। কখনো ইচ্ছের বিরুদ্ধেও পরিস্থিতি বুঝে কিছু মেনে নিতে হয়। আমরা ভারত বিভাগ মেনে নিয়েছি শুধু বাংলা ও পাঞ্জাবের বিভাগের স্বার্থে। কারণ এ পথেই আমরা অখন্ড ভারত ফিরত পাব। এভাবে ভারত উপমহাদেশে  লেন্দুপ দর্জিদের মত গোলাম কিনে কাজ হাসিল করছে বড় সময় থেকে। কিন্তু মুসলিমদের জন্য তার দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিই পবিত্র আমানত। বড়কে অনেক সময় উদারও হতে হয়। কিন্তু ভারত সব সময় কপট, ক্ষুদ্র নীচতায় আক্রান্ত বড় নয় বরং নিকৃষ্ট। তসলিমা ভারতীয় দালালি করে দেশদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন। কবিতায় হলেও তিনি চেয়েছেন অন্যায়ভাবে মানচিত্র মুছে দিতে। ধর্ম নিধনের নামে তিনিও মানচিত্রের উপর হামলা করেছেন কলম দিয়ে। প্রথম থেকে ভারত সুযোগ খুঁজছিল পাকিস্তান ভাঙ্গার। সুযোগ হাতে এসে যায় দুই পাকিস্তানের গ্যাড়াকলে শেখ মুজিবের আগরতলা ষড়যন্ত্র সেটি সহজ করে দেয়। ভারতীয় লেখক অশোক রায়না তার বই “ইনসাইড ‘র’ বইতে এর ইঙ্গিত করেছেন। পূর্ব পাকিস্তানের খাজা নাজিম উদ্দিন, শহীদ সোহরাওয়ার্দীরাও তা বুঝেছিলেন বলেই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে মিশে একাত্ম হয়েছিলেন। বহু শতাব্দী আগে জন্ম নেয়া দরবেশ নিয়ামত উল্লাহ ওয়ালীও এ ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন যে একজন মুসলিম নামধারী ব্যক্তির কারণে একটি মুসলিম দেশ বিভক্ত হয়ে যাবে দুই ঈদের মাঝখানে। কঠিন হলেও এটি বাস্তবতা যে ওলির কথার যুক্তিতে এ ষড়যন্ত্রের জালে আটকে যান শেখ মুজিবুর রহমান। এবং সেটি ছিল পাকিস্তানের ভাঙ্গনের ইতিহাস। ভারত ইসরাইলকেও তার পথ প্রদর্শক হিসাবে নিয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। ঐ উদ্দেশ্যে অতি সাম্প্রতিক ভারতও ইসরাইলের অতি দহরম মহরমও ময়দানে স্পষ্ট। তাদের মাঝে ফিলিস্তিন আদলে কাশ্মীরে আক্রমণের ক্ষেত্র তৈরী করছে ভারত তার ওস্তাদ ইসরাইলের কাছ থেকে, ইউকে থেকে জার্নালিস্ট  রবার্ট ফিস্কও ঐ মন্তব্যই করছেন। 

বাংলাদেশ:  স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে অনেক মিথ্যাচার হয়েছে, আজও হচ্ছে, চলমান এসব মিথ্যাচার সরকারী মদদেও চলছে বেশ বড় সময় থেকে। অতীতে পলাশীর পরও ভারত তার ইতিহাসকে নিজের মতই আগলে রেখে মিথ্যাকে যামাই আদরে লালন করেছে। জানতে হবে কেমন অন্যায়ে ভর করে তারা বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে সিলেটের সাথে করিমগঞ্জ মহকুমাকে অন্যায়ভাবে কেটে নেয়। কাশ্মীর ও ত্রিপুরা রাজ্যকে ভারতভুক্ত করার পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রকে বাস্তবে রুপদানও ছিল ভারতীয় স্বার্থে। জালালাবাদকে এভাবে দ্বিখন্ডিত করণ ভারতীয় কারসাজির অংশ।  খন্ডিত কাশ্মীর সাজানো হয়েছে যেন উভয়ে উভয়কে ধ্বংস করে দেয়। এসবই তথাকথিত রেডক্লিফ রোয়েদাদের নামে অন্যায় সীমানা বন্টনের লুক্কায়িত জারিজুরি আজ উন্মোচন জরুরী। এসব জটিলতা অতীতে কৃত ষড়যন্ত্রমূলক সব অন্যায়কে স্পষ্ট করে তুলছে। আজ সময় এসেছে সব অনাচারের বিরুদ্ধে বিশে^র সচেতনদের মাথা উঁচু করে সত্যের জন্য সম্মুখ ময়দানে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি হিসেব কড়ায় গন্ডায় বুঝে নিতে হবে। অতীতে দিল্লীর বর্ণবাদী শাসককুলের সাজানো সব জটিলতা একতরফাভাবে মুসলিমদের প্রতিপক্ষ করে রেখেছে বড়মাপে। যার সহজ পরিণতিতে তারা সবদিন সত্যের মুখে সিলগালা দিয়ে চেপে রেখেছে। ভারতের লেখক গোলাম আহমাদ মর্তুজার মুখ বন্ধ করতে তার গবেষনামূলক সব লেখনী বাজেয়াপ্তের খাতায় ছিল যুগ যুগ অবদি। ভারত নিতে জানে দিতে জানে কম। যার জন্য আজ বাংলাদেশে ট্রানজিট দাবী, জমি দাবী, সুন্দরবন, কত আবদার দাবী আর দাবী, এই ছোট্ট দেশটির উপর যেন এখানে তাদের বাপ দাদার মৌরসী সত্ত্ব জমা আছে। ইউরোপে ট্রানজিট ব্যবস্থা চালু আছে, মানে সেখানে ভারতের মত সন্ত্রাসী দাদাগিরি কি হচ্ছে এসব নিয়ে? স্বাধীনতার পর পরই ভারত সদ্য বিধ্বস্ত দেশটিতে যে লুটপাট চালিয়েছে তা পরখ করেছি আমরা সীমান্ত বসবাসরত বাসিন্দারা আর মেজর জলিলের লিখিত “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” গ্রন্থে তার অনেক দাগ জমা আছেই। সঠিক বিচার হলে ভারতের নিজের পাপে নিজেরই গলাতে ফাঁসি চড়ানোর কথা। কিন্তু দেবতার দেশে সুবিচারের আশা করাও বৃথা।  কাশ্মীরকে খাঁচাবন্দী করার কারণ ওরা মুসলিম। ঢালাওভাবে সকল হিন্দুদের দোষ দিতে না চাইলেও বেশীর ভাগ হিন্দুরাই সাম্প্রদায়িক ও সংকীর্ণ। এটি হিন্দুরাও স্বীকার করতে বাধ্য। কেন তারা এমন জানি না। ধারণা করি হয়তো তাদের ধর্ম সুপথ দেখানোর বদলে সংকীর্ণ করতেই বেশী অবদান রেখেছে। যেখানে ইসলামে সেটি কখনো কোনভাবেই হয়নি, উদারতা, মানবতাই এ ধর্মের মূল শিক্ষা। বাংলাদেশে ফারাক্কা ফোঁড়া, পানিচুক্তির নামে পানি শূণ্যতা, পাখির আদলে সীমান্তহত্যা, সীমান্তে ফেনসিডিল, ইয়াবা বানিজ্য,  তাদের সীমান্তে এসব কারখানা তৈরী, মানুষ হত্যার গরু রাজনীতি সবই আতংকজনক। এত করেও সব অপরাধ বাংলাদেশের, তাই কাটাতারের ডিজিটাল বেড়া, প্রতিনিয়ত লাশের জমা ফেলানীদের ভাগে। এসব  সুশিক্ষার সুবিচারের প্রমাণ দেয় না। একজন নিবর দর্শক বিধাতা নিশ্চয় আছেন, এসব হিসাবে নিবেন বলেই ভরসা রাখি। তারপরও মুসলিমদের অতিরিক্ত সচেতন হওয়া সময়ের বড় দাবী। কেউ কারো অর্জন মুখে তুলে দেয় না, সেটি আত্মবিশ^াসের ও সততার মানদন্ডে হলেও নিজেদের করতে হয়। আর দুষ্টরা মনের দিকে থাকে দুর্বল কারণ তারা অপরাধী অনাচারী। তারপরও অনাচার করেও কখনো কখনো জেতা যায়, যুগে যুগে অত্যাচারী শাসকেরা যেমন জিতেছে তেমনি বিবেচক, সত্যনিষ্টরা কষ্ট হলেও ময়দান উজালা করেছে। তবে সত্যের পথটি সবদিনই অনেক কষ্টের ও প্রাপ্তির অর্জনের বিজয়ের সর্বোপরি রক্ত ঝরিয়ে কেনা শান্তির সন্দেহ নেই।

১৮ ই আগষ্ট ২০১৯।

বি দ্র: ২৩ আগষ্ট ২০১৯ তারিখে নিউইয়র্ক ভিত্তিক “দি রানার নিউজ” কলামটি ছাপে।

নাজমা মোস্তফা

আজকের কলামের নামটি আমি ধার নিয়েছি একজনের  বই থেকে, রাজনীতি সচেতন এ ব্যক্তির লিখিত গ্রন্থ থেকে কিছু তথ্য দিয়েই লেখাটি সাজাবো। সাম্প্রতিক সময়ে  দেশে কিছু মানুষ যে দেশবিরোধী ভূমিকায় নেমেছে তাতে চারপাশ মুখরিত। সেখানে প্রিয়াসাহা একা নন, ঐ এক লাইনে ইসকন সংগঠনের ছাউনিতে দেশে মুসলিম ধর্মান্তকরণের কাজ চলছে জোরেসোরে প্রকাশ্য ময়দানে। সারা দেশে এদের অসংখ্য সংগঠন গোপনে ও প্রকাশ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে আকাম কুকাম চালিয়ে যাচ্ছে। শিশুদের খাদ্য বিতরণের মাধ্যমে প্রকাশ্যে হরিবল, জয় শ্রীরাম হরেকৃষ্ণ হরে হরে হরেরাম বন্দনাও চালাচ্ছে। পীযুষ বন্দোপাধ্যায়, রানাদাস গুপ্ত, রামেন্দু মজুমদার, সুভাষ সিংহ, এসকে সিনহা এরা সবাই এমনভাবে এসব রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছেন যা অনেক বিতর্কীত অবস্থানকে স্পষ্ট করছে। আজকের বাংলাদেশে হিন্দু বনাম ছাত্রলীগ নেতারাও সন্ত্রাসীতে আগুয়ান, লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলাগুলিতে অসংখ্য আহত নিহত। ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামলদত্তকেও অনেক সময় বিতর্কীত অবস্থানে দেখা যায়। ৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের বরাতে হাসিনা হত্যার মিথ্যা হামলা সংবাদও ঐ পত্রিকাই বিলি করে। ইতিহাস বলে অতীতে একটি গোপন সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন চিত্তরঞ্জন সুতার ও কালিদাস বৈদ্য, তখন তাদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশলে জড়িত থাকা। পুনরায় বঙ্গভূমি আন্দোলন নামে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করা ও ভাঙ্গার আর এক কৌশলে তারা জড়িত। ৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালীন সময়েই তিন সংখ্যালঘু নেতা আওয়ামী ছত্রচ্ছায়ায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার কাছে বাংলাদেশকে ভারতের অংশ করে রাখার আবদার রাখেন। (হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর সাক্ষাৎকার, জনাব মাসুদুল হক লিখিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা র এবং সিআইএর ভূমিকা)। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হচ্ছে ঐ সময় সরকার জেনেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি এমন কি জনাব চৌধুরী এটিও উল্লেখ করেন যে, তারা চেয়েছিল বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে। এবার বুঝেন এরা কি ধারার দেশপ্রেমিক! এরা ভারতীয় সংবিধানের চারনীতিতেই বিশ^াসী থেকেছে, ভারতপন্থী হাসিনার আওয়ামী লীগকে ভারত নগদে কিনে, ভোটের খরচ জোগায়। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের আত্মসচেতনহীন দল, একদিন যারা পাকিস্তানের ও বাংলাদেশের আন্দোলনের শিকড়ে ছিল কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ থেকে অনেকটা পথহারা।   

ভারত ৭১ সালে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারকে গোপন সাত দফা চুক্তিতে বাধ্য করে। কথিত আছে ঐ চুক্তিতে স্বাক্ষর দেয়ার পর তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর ৭২ সালের মার্চে পঁচিশ বছর মেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার নামকরণ করা হয় মৈত্রী চুক্তি যাকে জনগণ পর্যবেক্ষণ করেছে গোলামী চুক্তি নামে। ৭৪ সালের ১৬ মের সীমানা চুক্তি লংঘন করে ভারত আঙ্গোরপোতা বেরুবারী দখল করে রাখে। ৭৫এর পট পরিবর্তনের পর শান্তিবাহিনী তৈরী করা ও বঙ্গভূমি আন্দোলন সবই এক উদ্দেশ্যে তৈরী করা হয় র এর ইঙ্গিতে। এই র গঠনের মাত্র তিন বছরের মাথায় এ দেশকে ভেঙ্গে বাংলাদেশ অপারেশনের মাধ্যমে খুব কৌশলে দু টুকরো করে ।

কাশ্মীরে ভয়ংকর অবস্থা চলছে। তাদের দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সর্বত্র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করেছে অনুচ্ছেদ ৩৫ কেড়ে নেয়া হয়েছে, সবকিছু হয়েছে গোপনে গোপনে। যেন একটি সংসার ভাঙ্গার মতই হঠাৎ করেই খুঁড়িয়ে চলা বিধ্বস্ত সংসারটির মাথায় বজ্রাঘাত করা হলো। পুরো কাশ্মীর এখন এক জিন্দা কারাগার। ঢাকাতে এক কাশ্মীরী ছেলের মুখের বয়ান শুনছিলাম সে বলছে প্রতিদিন ভারতীয় সৈন্যরা হাজারেরও বেশী মহিলাকে ধর্ষণ করছে। বিগত শতকে রচিত নিজ জন্মভূমি ফেলে আসা এক পাকিস্তানী + বাংলাদেশীর লেখনী থেকে চিন্তাশীলদের জন্য কিছু খন্ডিত তথ্য তুলে ধরছি। বইটির নাম সত্যম সুন্দরম, লেখক ডাঃ এম এ শুকুর। 

তার বইএর একটি অধ্যায়ের নাম ছিল ভারতের ভাগ্যাকাশে শতাব্দীর দুর্গ্রহ: “স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়, পরধর্ম ভয়াবহ” এই মহাবাক্যটি ভারতবর্ষের ধর্ম ও সংস্কৃতির রক্ষাকবচ হিসাবে সার্থকভাবে কাজ করেছে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দীব্যাপী বাইরের সত্যকে হয় রুখে দাঁড়িয়েছে, নয় আপনার মধ্যে আত্মস্থ করেছে। আপন রক্ষণশীল ব্যবস্থা ও দার্শনিক শক্তিতে বাইরের প্রভাবকে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সে যে শুধু বাইরের সত্যকে রুখেছে তাই না বরং ভেতরের দ্রোহকেও নিস্তেজ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশে^র ধর্ম জগতে এই কথার বিপরীতে আর একটি কথা আছে – লা ইকরাহা ফিদ্বিন – অর্থাৎ ধর্মে জোর জবরদস্তি নাই, কারণ সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা সুস্পষ্ট।

গরু একটি চতুষ্পদ জন্তু, মানুষের অতি উপকারী জীব। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এর মাংস খায়। এই ভারতবর্ষেও প্রাচীন মহাভারতের যুগে পর্যন্ত গোমাংসের প্রচলন ছিল। এমনকি কোন বিশিষ্ট অতিথির আগমনে গোবৎসের মাংস প্রদান অত্যন্ত সম্মানজনক বলে গণ্য হত। পন্ডিত জওহরলাল নেহরু লিখিত Discovery of India বা ভারত আবিষ্কার বইএর ১০৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। “The eating of beef previously countenanced, is later absolutely prohibited. In the Mahabharath there are references to beef or veal being offered to honored guests” পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে এটি প্রচলিত খাদ্য। যদিও খাদ্যাখাদ্যের বিচার সব সমাজেই আছে। কোন কোন জাতি এ ব্যাপারে বিচারহীন। এরা সাপ, ব্যাঙ, শিয়াল, কুকুর যাবতীয় জীবজন্তু জীবিত এমন কি মৃতও ভক্ষণ করে। নিজ ইচ্ছা অনুসারে খাদ্য গ্রহণের স্বাধীনতা সকলেরই থাকার কথা। একমাত্র সামাজিক স্বাস্থ্য হানির কারণ ব্যতীত অন্যের সেখানে বাধা দেয়ার কোন যুক্তি নেই। এবং এইভাবে বাধাদান মানুষের মৌলিক অধিকার তথা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সামিল। এদেশে যেদিন থেকে গরুকে দেবতা জ্ঞান করা হয়েছে সেদিন থেকে এটি অতি উপকারী প্রাণী সময়ে সময়ে মানুষের নিরাপত্তার জন্যে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই  অমানুষিক সমাজ চিত্রই সেদিন শাহজালাল নামে এক ফকিরকে করেছিল মর্মাহত ও উদ্বেলিত।

অনেকে বলে থাকেন মুসলিমরা তরবারীর জোরে সত্য প্রচার করেছে। আত্মরক্ষার জন্য তরবারীর প্রয়োজন অনস্বীকার্য। এর প্রয়োজন চিরদিন ছিল চিরদিন থাকবে। কিন্তু মহাসত্যের শাণিত যুক্তির তরবারী  তাদেরে যে অসীম শক্তিধরের শক্তিতে শক্তিমান করেছিল তার সামনে মিথ্যা ঘুনেধরা কুযুক্তির অনুশাসন টিকে থাকতে পারে না। অতীতেও যেমন পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। ধাতব তরবারী মিথ্যাকে সাময়িক আশ্রয় দিতে পারে কিন্তু চিরকাল মিথ্যাকে জিইয়ে রাখা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে গোটা মানব জাতির জন্য এক একান্নবর্তী পরিবারের কল্পনা করতে আজ মানুষ বাধ্য হচ্ছে। এবং এই প্রথম পৃথিবীকে “এক পৃথিবী এক জাতি এক সংস্থা” হিসাবে মেনে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে মানুষের কল্যান তথা বিশ^ শান্তি আজ আর একক প্রচেষ্ঠায় সম্ভব নহে।

এই শতাব্দীর প্রারম্ভে স্বাধীনতা উত্তর মিশরের জাতীয়নেতা জগলুল পাশা যে উদার মন নিয়ে সংখ্যালঘুদের মনে নিরাপত্তার আশ^াস দেন দুর্ভাগ্যক্রমে ভারতবর্ষে তেমন মনোভাবের একান্ত অভাব ছিল। আমাদের নেতৃবৃন্দের উভয় পক্ষই সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির উপরে উঠতে সক্ষম হয়নি। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত সময়ে ভারতীয় রাজনীতিতে যে ধর্মচাঞ্চল্য আসে তাতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং নিখিল ভারত মুসলিম লীগ দুটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধী দলরুপে  প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৪০ সনে লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগ কাউন্সিল অধিবেশনে ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে স্বাধীন সার্বভৌম পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবীতে প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। ইতিমধ্যে ইউরোপ তথা সারা বিশ^ জুড়ে দ্বিতীয় বিশ^ সমরের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

এই সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে বিপুল ভোটাধিক্যে সভাপতি নির্বাচিত হন সুভাষ চন্দ্র বোস। কিন্তু এই নির্বাচন কংগ্রেস হাই কমান্ডের মনঃপুত না হওয়ায় সুভাষকে পদত্যাগ করতে হয়। ভারত উপমহাদেশে গণতন্ত্র একাধিক বার বঙ্গ বিরোধে পর্যবসিত হয়েছে। এই দুঃখজনক ঘটনা তারই এক জলন্ত দৃষ্টান্ত। সুভাষ একই সময়ে ইংরেজ শাসক ও কংগ্রেস নেতৃত্বের কোপে পতিত হন। কিন্তু আগুনকে ছাইচাপা দিয়ে রাখা যায়না। তিনি সবার চোখে ধুলো দিয়ে বিদেশে পলায়ন করেন। এখানে জার্মানী ও পরে জাপান থেকে ভারতের বাইরে অবস্থানরত ভারতীয়দের সাহায্যে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে বৃটিশের বিরুদ্ধে সক্রিয় সামগ্রিক বিদ্রোহ শুরু করেন। যুদ্ধে ভারতবর্ষ স্বাভাবিকভাবে ইংরেজের পক্ষে জড়িয়ে পড়ে। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ১৯৪২ সনে “ভারত ছাড়” আন্দোলন আরম্ভ করে। ভারত সরকার মিঃ গান্ধীসহ অধিকাংশ কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করে নেয়।

হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে আনবিক বোমা নিক্ষিপ্ত হয় এবং জাপান আত্মসমর্পণ করে। জাপানের সক্রিয় সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত আজাদ হিন্দ বাহিনী স্বাভাবিক ভাবেই পর্য্যুদস্ত হয় এবং বার্মা ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পরিব্যাপ্ত হাজার হাজার আজাদ হিন্দ সৈন্য ইংরেজের হাতে বন্দী এবং বিচারের জন্য স্বদেশে আনীত হয়। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন (?)। সেদিন ঐ মিথ্যা প্রচার করা হয় কিন্তু (আজ আমরা জানছি তিনি সেদিন নিহত হন নাই, ওটি ছিল ভারতীয় আর এক চানক্য চাল)। ভারত গগনের এক অতি উজ্জল তারকা এভাবে ঝরে গেল নিভৃতে রাজনীতির অঙ্গন থেকে চিরদিনের জন্য।

সুভাষ বোস ছিলেন ভারতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মহান দূত। বসু পরিবার চিরদিন তাদের অসাম্প্রদায়িকতার জন্য খ্যাত কিন্তু সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তারা কোনদিন পাত্তা পায়নি। ভারত বিভাগের দাবী মূলতঃ মুসলিম লীগের,পাঞ্জাব ও বঙ্গবিভাগের দাবী কংগ্রেসের। মোটকথা ভাগাভাগির ব্যারিষ্টারী প্রতিযোগিতায় একে অপরকে টেক্কা দিয়ে ১৯৪৭সনের ১৪ই আগষ্ট মধ্য রাত্রিতে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্মলাভ করে। রহস্যজনক হলেও সত্য ঐ রাত্রি ছিল “লায়লাতুল কদর” অত্যাশ্চর্য্য সৃষ্টি রহস্যের রাত্রি এটি। এই রাত্রির মহিমা ত্রিশ সহস্র রাত্রির চেয়েও শুনেছি শ্রেয়। ঘটনা পরষ্পরার সমন্বয়ে এতে কি রহস্য ছিল জানি না। আমরা ইতিহাসের নীরব দর্শক মাত্র। গত দুই হাজার বৎসরের মধ্যে ভারতবর্ষ অন্তত চারবার একত্রিত হয়েছে এবং বারে বারে খন্ডিত হয়েছে। ভবিষ্যতের খবর কারো জানার কথা নয়। জিন্নাহ প্রথম জীবনে খাঁটি কংগ্রেস কর্মী ছিলেন। ১৯৪০ সনে ভারত বিভাগের প্রস্তাব মূলতঃ কোন ব্যক্তির নয়, ওটি ছিল নিখিল ভারত মুসলীম লীগ কাউন্সিলের। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন শেরে বাংলা ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি প্রমুখ বহু ভারতীয় জননেতার আহবান এই প্রস্তাবে ছিল। গোলটেবিল বৈঠকে গৃহীত তার বলিষ্ট নীতি এবং উপরোক্ত মুসলিম সর্বদল সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়নের জন্য মিঃ জিন্নাহর আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে তিনি ভারতীয় মুসলিমদের এক বৃহদাংশের মনে এমন প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন যে ১৯২৯ থেকে ১৯৪৮ সনে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২০ বৎসর তিনি এই উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে একমাত্র ভরসাস্থল বলে বিবেচিত হয়েছেন।

যে শক্তি সুভাষ বোসের মত জননেতার ব্যক্তিত্বকে সহ্য করতে পারে নি, সেই শক্তিই পারেনি ফজলূল হকের প্রতিভার স্বীকৃতি দিতে। সেদিন ভারতের পূর্বাঞ্চলে এক আঞ্চলিক মানব গোষ্ঠীর স্বায়ত্ত্বশাসন সহ তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার লাভের সম্ভাবনাকে সুনজরে দেখতে না পারায় এর অদূরদর্শী পরিণাম হিসাবে নেতৃবৃন্দকে গ্রুপিং প্ল্যান প্রত্যাখ্যানে প্ররোচিত করে ভারত বিভাগকে অবধারিত করে তুলেছিল। উদোরপিন্ডি ভুদোর ঘাড়ে ফেলে কোন লাভ নেই, ইতিহাস একদিন এর নিরপেক্ষ বিচার অবশ্যই করবে। ইতিহাস পাঠককে বলতে শুনেছি, মতিলাল নেহরু যদি ১৯২৯ সনে জিন্নাহর চৌদ্দদফাকে মেনে নিতে পারতেন, তৎকালীন ভারতীয় মুসলিমদের মনে সংখ্যাগুরুর ভীতি দূরীকরনে তা সার্থক ভাবে কার্যকরী হত। ঠিক সেইভাবে কেবিনেট মিশনের গ্রুপিং প্ল্যানকে নাকচ করে দিয়ে তারই পুত্র নেহরু ভারত বিভাগকে অবধারিত করে দিয়েছিলেন এরই দুই দশক পরে। পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল। সুক্ষ্মভাবে দেখলে শুধু পাকিস্তান নয়, বিশে^র প্রতিটি মুসলিম রাষ্টে এই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম অভাব। গণতন্ত্রের অবমাননার কারণেই সারা মুসলিম জাহান আজ বিধাতার অভিশাপে অভিশপ্ত।

বেদ:-

অধিকাংশ হিন্দুই বিশ^াস করেন যে বেদ প্রত্যাদিষ্ট শাস্ত্র। বেদের শিক্ষায় পৌত্তলিকতা বা দেবদেবী ছিল না, দেব মন্দিরও ছিল না। বৈদিক যুগে আর্যরা কৃষিজীবি ছিল। জীবন সম্বন্ধে তারা খুব সক্রিয় ছিল। তারা পরকালে বিশ^াস করত এবং একেশ^রবাদী ছিল। নাস্তিকতা, বহুদেববাদ এমন কি অদ্বৈতবাদ পরবর্তী যুগের সৃষ্টি। অনেকের মতে ভারতীয় সংস্কৃতিতে পুতুল পূজার আমদানী হয় গ্রীস থেকে। পুতুল বা প্রতীক পূজার সম্পূর্ণ বিরোধী ছিল বৈদিক বা আর্যধর্ম। ভারতীয় আদিম অধিবাসীদের মধ্যে যদিও পুতুল বা প্রতীক পূজার প্রচলন ছিল তথাপি এটি ব্যাপক ছিল না। বৌদ্ধধর্ম প্রথমতঃ পৌত্তলিকতার ঘোর বিরোধী ছিল। কিন্তু কালে গ্রীক চিত্রকলা এবং সুন্দর দেবমূর্তি সমূহ ভারতীয় চিন্তার রাজ্যে প্রভাব বিস্তার করে। পরিণামে ভারতবাসীরা পূজা পার্বন আর দেবমূর্তিকে এমনভাবে গ্রহণ করেছে যে আজ পুরোহিত আর দেবমূর্তিকে বাদ দিলে কোন কিছু হয়তো অবশিষ্ট থাকবে না।

খৃষ্ট জন্মের প্রায় ৮০০ বছর আগে ভারতীয় চিন্তাধারাকে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে এতে। পরিণামে এই উপনিষদই বৌদ্ধমত এবং বেদান্তদর্শনের অদ্বৈতবাদের সূচনা করেছিল। এভাবে কালে ভারতে বুদ্ধ ধর্মের স্বাভাবিক মৃত্যুতে মূলতঃ কোন অস্বাভাবিকতা ছিল না। একটু ভাবলেই অবাক হতে হয় যে কি অদ্ভুত ভাবে মন্দির, কুলগুরু, দীক্ষামন্ত্র, এরা সবাই মিলে হিন্দু জাতিটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। —- এ দেশের মাটিরই এমন গুণ, যিনিই এসে ভগবানের একটু খবর দিলেন, তিনিই ভগবান হয়ে গিয়ে মন্দিরে মন্দিরে পূজিত হতে লাগলেন। তিনি যা দিতে এসেছিলেন তা তোমরা গ্রহণ করলে কি না, তার উপদেশকে জটিল কুটিল গ্রন্থিল ব্যাখ্যার গুরুভারে অতলে তলিয়ে দিলে, এর কোন হিসাব নিকাশও হল না। —-যুগের প্রয়োজনে যুগে যুগে দেবতার সৃষ্টি হয়েছিল। আজ আবার যুগের প্রয়োজনেই বহু দেবতার বিদায় নেবার সময় হয়ে এসেছে। ওঁঙ্কার থেকে উৎপত্তি হয়েছে কোটি কোটি দেবতার, আবার সেখানেই হবে নিষ্পত্তি। আর্য্যরা মূলতঃ একেশ^রবাদী ছিল, তারা দেবদেবী বা মূর্তিপূজক ছিল না। তাই এটি সহজেই অনুমেয় যে পরবর্তীদের দ্বারা বেদের সত্য শিক্ষায় মিথ্যার প্রলেপ দেয়া হয়েছে। জগতের কোন প্রাচীন শাস্ত্রই এবম্বিধ কারসাজি থেকে রেহাই পায়নি, বেদও তার ব্যতিক্রম নয়।

আধুনিক জগতে সর্বাধিক উচ্চারিত যে তিনটি নীতি আদর্শ তা হচ্ছে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা। জোট-নিরপেক্ষতাই হউক আর ধর্ম-নিরপেক্ষতাই হোক আদতে সর্বত্র নিরপেক্ষতার অভাব পরিদৃষ্ট। একারণেই আজ জাতির জীবনেও মুনাফিকী আবশ্যক ভাবে পরিত্যাজ্য। ধর্ম বর্ণ গোত্র ও ভাষা যেন কোন নাগরিকের অনিরাপত্তা এবং অন্য নাগরিকের বিশেষ সুবিধা ও সুযোগের কারণ না হয়। রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রযন্ত্র যদি ধর্ম বর্ণ গোত্র ও ভাষার দ্বারা প্রভাবিত হয় তবে সেই রাষ্ট্র কিছু সংখ্যক মানুষের সহজ আবাস রুপে গণ্য হতে পারে না। বাংলার মানুষের সরলতা, হৃদয়ের উষ্ণতা ও ভাব প্রবণতাকে অন্যেরা গ্রহণ করেছে আমাদের জাতীয় দুর্বলতা হিসাবে। ফলে গত এক হাজার বছর ধরে এদেশের মানুষ শুধু পরের বেগারই খেটেছে, হাসি হাসি কথার আড়ালে তারা কোনদিন চিনতে পারে নি তাদের বন্ধুবেশী শোষককে।

অধিকার সচেতন জনতা এই শাসন শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে যখনি সংগ্রাম শুরু করেছে উপনিবেশবাদিরা তখন এসব আন্দোলনকে দাবিয়ে দিতে চাইছে তাদের আভ্যন্তরীন সমস্যার অজুহাত তোলে। দেখা যায় ষড়যন্ত্রী রাষ্ট্রই আবার অন্যত্র অন্য জনপদে মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সোল্লাসে গর্বভরে দলিত মথিত করে চলে যায়। সুষ্পষ্ট নীতি আদর্শের অভাব আজ সর্বত্র তীব্রতর। সাম্প্রতিক কালের বিশ^ময় অশান্তির একটি মূল কারণ এই রাজনৈতিক আদর্শহীনতা। আজকের পৃথিবীতে মানুষ একবিশ^ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অথচ একদিকে তুমি একবিশ^ গঠনের মহান মন্ত্র আওড়াবে, অন্যদিকে আভ্যন্তরীন সমস্যার জিকির তুলে মানুষের স্বাধীনতা হরণ করবে, ভবিষ্যত পৃথিবী তোমার এই সাধু শয়তানি খেলা মেনে নেবে কেন? তাই জনগণের অকল্যাণে যাতে গণতন্ত্র ব্যবহৃত না হয়, সেজন্য আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সহ মানুষের সার্বিক সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে নিতেই হবে আগামী দিনের মানুষকে।

স্রষ্টাকে যে স্বীকার করেনা তাকে কাফির বলব না বরং কাফির তাকেই বলব যেজন সত্যকে অস্বীকার করেছে এবং অন্যায় অত্যাচারে মানুষকে জর্জরিত করে মানবতাকে পর্যুদুস্ত করেছে। স্রষ্টার আদালতে তার কি হবে জানিনা তবে মানুষের যদি কোন সত্যিকার আদালত থাকে তবে তাকে সেখানে আসামীর কাটগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। উপরের অংশটি ডাঃ এম এ শুকুরের গ্রন্থ থেকে খন্ডিতভাবে টুকে নেয়া ।

(লেখাটির রচনাকাল ৮ আগষ্ট ২০১৯ সাল)।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক দি রানার নিউজ এ কলামটি ছাপা হয় ১৬ আগষ্ট ২০১৯ তারিখে।

রাজনীতি – ষড়যন্ত্র, ধর্ম, আন্তর্জাতিক ও স্মৃতিচারণ। এখানে মোট = ১৩৬ + লেখার লিংক দেয়া হলো

এখানে মোট ১৩৬ + + লেখার লিংক দেয়া হলো। বেশীরভাগ লেখাগুলি রাজনৈতিক পটে লেখা হয়েছে। বাংলাদেশ বড় সংকট সময় পার করছে। বাস্তব ঘটনার আলোকে এগুলি লিখা হয়েছে ময়দানের দাগ চিহ্ন দেখে। স্বাধীনতা পরবর্তী জাতি এত বিপর্যস্ত অবস্থান মোকাবেলা করে নি যা বর্তমানে একটি বড় সময় থেকে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। লেখাগুলি বাংলাদেশীদের জীবনের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। লেখাগুলি প্রতিটি সচেতন বাংলাদেশীর পড়া অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়াও কিছু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাস্তব নির্যাতনের কিছু চিত্রও এখানে এসেছে। শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসাবে ইসলাম একটি জরূরী অধ্যায়, অস্বীকার করার উপায় নেই। তাতে কোন ভুল জড়িত থাকুক সেটি এখানের কোন সৎ নেতৃত্বই চাইবেন না। সঙ্গত কারণে সেটির মূল্যায়নও দরকার।

সত্য ইতিহাস আজ মিথ্যায় মোড়া / হিন্দুরা আরবের কুরাইশ অনুগামী মূর্তিপূজক জাতি /বাংলাদেশে লাখ লাখ ভারতীয়, এর জবাব কি? / বাংলাদেশ গ্রাসের প্রচেষ্টায় ভারতীয় ‘র’ / বিপর্যস্ত ইতিহাস কাশ্মীর হায়দ্রাবাদ বাংলাদেশ / ভারতের ভাগ্যাকাশে শতাব্দীর দুর্গ্রহ /<দাদাগিরির দাবড়ানি / এরশাদ ও তার স্বৈর স্বজন হাসিনা / ট্রেনে শেখ হাসিনার মদনীয় হামলা / মুরসী বনাম খালেদা জিয়া / আওয়ামী লীগ এরা কারা, এরা কি মানুষ?/ মর্মাহত ও বিব্রত হওয়াই কি সিইসির একমাত্র সমাধান? / ঐশী গ্রন্থ কুরআন থেকে মানব ও দানব চেনা সময়ের বড় দাবী /

ভোটের আগেই ভোট ডাকাতী ছায়া সরকারের নড়াচড়া / বিচারের নামে অদেখা বিচারককে দয়া করে ভুলে যাবেন না / ধর্ম ও রাজনীতিতে প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশ ও সৌদি / ইমাম যখন ঈমান হারান / আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস / বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম / মানুষের রক্তে নদীরা লাল / শিকড়হারা (?) রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ / ফরহাদ মজহার, খালেদা জিয়ার বোতল, পুলিশ ও সরকার / পলাশির পতনের মূলে হিন্দু পরাশক্তি অতঃপর মীরজাফর /

বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন, ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব? , নিষিদ্ধ বৃক্ষ / ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা / বাংলাদেশের কলিজাতে কামড়: লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞ্জুর / মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। / মাদ্রাসার বই ও হিন্দু লেখক , ভুল শুধরে ফের ভুল / সত্য বলা ছাড়া আর কোন বিকল্প দেখছি না / হাওর গিলছে ভারত পানি মাঙ্গা লালপানি মিলা / জাতীয় সংগীত মূর্তিবন্দনা থেকে মাতৃবন্দনা অদক্ষ হাতে দেশবন্দনা (conspiracy / politics) / বাংলাদেশ কি আকবরের দীন-ই-এলাহীর উত্তরসুরি? / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার / স্বাধীনতা হারাবার শংকা কেন জাগছে? / মাওলানা সাঈদীর বিচারে “গভমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়” / ষড়যন্ত্রের ভূমিকম্প : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / মধ্যযুগীয় উপনিবেশ: রুখে দাও বাংলাদেশ / প্রতিরক্ষা চুক্তির ফাঁদে লেজেগোবরে জঙ্গিবাংলাদেশ / ভাসুরের নাম মুছতে ব্যাংকে আগুন সাথে জঙ্গি হামলা / ২০০১ সালের ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ জানান দেয় বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ / বিগত শতকের গুণ্ডামি আজ চলচ্চিত্রের ‘গুণ্ডে’ / ঢিলের বদলে পাটকেল আসে কখনও খোদায়ি কখনও মানবিক / ১৯৮৩ সালে ভারতে বাংলাভাষীদের ওপর আরোপিত নেলীর ধ্বংসযজ্ঞ / এরশাদ চিহ্নিত জোড়া প্রতারকের একজন / ওড়না বিতর্ক: / মুক্তমনা ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক্যবাদের নামে পাঠ্যবই এ গভীর ষড়যন্ত্র / কয়লার ময়লাতে সুন্দরবন গভীর শংকায় / আটশ’ বছরপূর্ব ওলির বাণীতে মানচিত্রের অতীত ও ভবিষ্যত্ +/ সিইসি বিতর্ক পিপিলিকার পাখা / ছবি যখন ডিজিটাল ভোটের কথা কয়! / ইসলাম বাতিলের ধ্বনি / জাতি জাগো / ধর্মনিরপেক্ষতা ষড়যন্ত্রীদের ধর্ম বটিকা ! / গোলামী বড়? / প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা ধর্ম চাকরী / ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ / পড়শির মনমত / পথ খুঁজছে / নাগরিকত্ব হারানো / হিন্দু প্রলয়াম / কুরআন পুড়ানো, প্রতিমা ভাঙ্গা / আনন্দবাজার ও “র”/ সুন্দরবন শংকায় / “ক্রুসেডার ১০০”/ সংকটে জেগে উঠ / রাজনীতির অগ্নুৎপাত / গণতন্ত্র কি / শহীদের প্রশ্নবিদ্ধ সংখ্যা / জাতীয় সংগীত / বিডিআর বিদ্রোহ / মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) এম এ জলিল: অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা / আলামত সৃষ্টির না ধ্বংসের? / ব্যাংক লুটে ৭২ – ৭৪, ২০১৬ / প্রস্থান হোক প্রধান দাবী / চিন্তার বলিরেখা কপালে / দুজন সম্পাদক / জিহাদ জঙ্গি, জয়, লাশের দেশ / গুলশানের জমা / সরকারই জঙ্গী ওপেন সিক্রেট / কল্যানপুরের জঙ্গি / সার্বভৌমত্ব মাপুন / দুর্গা পূজা পলাশীর কলঙ্ক / সুরঞ্জিতনামা / সংকটে বাংলাদেশ / কণ্ঠে কাঁটার মালা / লতার বেদনায় হালকা মলম / দুই বিদেশী হত্যা: সরকার ও ভারত / অন্ধ আলোটা নিভিয়ে দাও / বিরোধীরা আন্দোলনে সরকার গণহত্যায় / সরকার অপকর্ম দেখে না / বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে একুশে আগষ্ট ২০০৪, সন্দেহ সন্ত্রাসীকে / ভারত সরকারের নির্বাচনী ব্যাঙ্ক / ২০১৪ ডিসেম্বরের রাজনৈতিক হালখাতা / লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞজুর / স্বৈরাচাররা দুর্গন্ধ ঢাকতে ব্যস্ত / ভালবাসার নাস্তিক সংকট / বৈশাখ পূজা শবেবরাত ইলিশ মঙ্গলপ্রদীপ সমকামিতা মানবাধিকার / ২০১৬এর রমজানে সংযম সংকট / আকবরের দীন-ই-এলাহী কি ? / ষড়যন্ত্রে : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / গুজরাটের রক্ত: ভারতবর্ষের গর্ব না কলঙ্ক? / অযোধ্যার আগুনের সলতেটা কার /

ধর্ম ও গবেষনা মূলক লেখা: অনেক ক্ষেত্রে ভুল ভাবে ধর্মের বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সেটি স্পষ্ট করতে ১৮ + লেখা সংযোজন করছি যে গুলি এর মাঝে ছাপা হয়েছে এই সাইটে।

ঐশী গ্রন্থ কুরআন থেকে মানব ও দানব চেনা সময়ের বড় দাবী / বিবি আয়েশার বিয়ে / ইমাম যখন ঈমান হারান / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ / বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন, ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব?, নিষিদ্ধ বৃক্ষ/ ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা / ইসলামে যুদ্ধ: ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা / ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:/ মুতার যুদ্ধ ময়দানের কঠিন যুদ্ধ: ধর্ম ব্যবসা নয় / দোররা / বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম: / কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা / সেক্যুলার বাংগালি মুসলিমের ধর্মহীনতা / ২০১৫ এর লাশের মিছিলে হজ বিপর্যয় / “মুতাহ” বিবাহ / “আইএসআইএস”এক বিষ ফোঁড়ার নাম / মাকড়শার ঠুনকো বাসা/ খুতবা, তবলিগ জামাত, ইজতেমা ও কিছু কথা / জাকির নায়েক ও সৌদির এক ধর্ম প্রচারকের পুরষ্কার / ধর্মহারা লালনের জন্য ডেরা তৈরী করে কে বা কারা? / যুগের সত্য মোকাবেলায় হিন্দু সংস্কৃতির প্রস্তুতি / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার। / তুরষ্কের অভ্যুত্থানে আযান ছিল বিপদের সাইরেন ধ্বনি / ইহুদীরা না ইসরাইলীয় না সেমেটিক, জায়নবাদী ইহুদীরা নবী ইব্রাহিমের নয়, হিটলারের অনুসারী / মধ্যযুগ বাংলাদেশে, ধর্মের নামে রাজ প্রতারণা / ইসলামের নারী

তাছাড়া কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক বিষয়ে বা সাহিত্যে ইতিহাসে যে নির্যাতনের অপকর্ম করা হয়েছে তারও কিছু ছোঁয়া থাকবে। এবারের লেখাগুলোতে ডজনখানেক লেখা সংযোজন করছি।

মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। / শিকড়হারা রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সময়ের দাবী কাশ্মীর বাংলাদেশ থেকে ভারত হটাও / কষ্টের যাতাকলে কাশ্মীর, শুনছি যুদ্ধের ধ্বনি / প্যালেস্টাইনীরা বিপন্ন বিধ্বস্ত জঙ্গী আক্রান্ত / গাজাতে অবরোধ, বিপন্ন মানবতা, সভ্যতার নিরবতা! / মীর মশাররফ হোসেনের “গাজী মিঁয়ার বস্তানী”কবিতার অংশ:/ প্রসঙ্গ গুজরাটের ধর্মান্ধতা: উচ্চবর্ণের হিংস্রতা / প্রসঙ্গ রবীন্দ্র: কবি জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিতে শান্তিনিকেতন / সাহিত্যে সতিত্বহানীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বাংলাদেশে এইডসএর প্রকৃত অবস্থান অতংকজনক / ফেলানী /

এখানে স্মৃতিচারণমূলক একটি লেখা সংযোজন করছি।

গণিভাই ও আমরা

নাজমা মোস্তফা

পড়শি বলা হয় তাকে যে সবচেয়ে কাছে থাকে, আপদে বিপদে সাহায্যকারী, মূল্যবান নিকট প্রতিবেশী। অনেক শাস্ত্রেই পড়শির মান মর্যাদা অনেক। তার ডাকে সাড়া দিতে হয়, তার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হয়। প্রয়োজনে নিজের খাবারটাও তাকে শেয়ার করতে হয়, নাহলে ধর্ম টিকে না। কিন্তু দাদাবাবুদের ধর্মে ওসবের মূল্যায়ন কেন জানি এত নীচে নেমে গেছে যে বলার মত না। পড়শির আচরণ বিতর্কীত হলে জীবন অরক্ষিত হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে।

১৩ জুলাই ২০১৯ রয়টার্সের একটি খবর “কাশ্মীরে হিন্দু বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা বিজেপির”। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে হিন্দু সংখ্যা বাড়াতে এ প্রয়াস। কাশ্মীর উপত্যকা ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই দাবী করে। এ নিয়ে দুবার যুদ্ধও হয়। সেখানে ৭০ লাখ মানুষের মাঝে ৯৭% মুসলিম। হাজার হাজার ভারতীয় সৈন্য তাদের সামাল দিতে ব্যস্ত। গত তিন দশকে ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। হিন্দু পুনর্বাসনের এজেন্ডা বিজেপির বহুদিনের স্বপ্ন। এ অঞ্চলের স্বাধীনতাকামীরা এটাকে ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরাইলী বসতির সাথে তুলনা করছে। সঙ্গত কারণে পরিস্থিতি গরম হচ্ছে পুলিশের তৎপরতা বেড়েই চলেছে। মুসলিমদের উপর খড়গও বাড়ছে। স্বাধীনতাকামী হুররিয়াতের ওমর ফারুকি বলেন, এসব করে এ উপত্যকাকে হত্যা করা হবে।

দেখা গেছে অতীতেও সংকীর্ণতার উদাহরণ রেখেছে সমাজের নামী দামীরাও। মুসলিম প্রধান কাশ্মীরে হিন্দু বসতি স্থাপন করে শায়েস্তা করার মত একই ধারার প্রবণতা রবীবাবুও এককালে দেখিয়েছিলেন। শিয়ালদহ জমিদারী এলাকায় যেখানে প্রায় সব প্রজাই মুসলিম সেখানে গরু কুরবানী নিষিদ্ধ করা এবং একতরফা খাজনা বাড়িয়ে তা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে সেখানে নমশুদ্র প্রজাপত্তন করেছিলেন খোদ রবীন্দ্রনাথ নিজে (বাংলা একাডেমীর ত্রৈমাসিক উত্তরাধিকার ১৩৯৩ দ্রষ্টব্য), এসবে কি তার বিশাল মনের উদার সুকর্মের কোন প্রমাণ ফুটে? বরং বলা যায় এরাই বিজেপির মতই বড়দাগের আসামী, এ যাবৎ তোষের ঐ আগুনে এরা যুগে যুগে তা দিয়ে গেছে। মুসলিম বিদ্বেষী অসংখ্য প্রমাণ কবির লেখনীতে জমা আছে। তবে কৌশলে আজকাল ওসব চেপে রাখা। পূর্ব বাংলার মুসলিমরা যাতে শিক্ষিত হতে না পারে সেজন্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় সৃষ্টির বিরোধীতা করতে একের পর এক ১৮ বার স্মারক লিপি দেয়ার নেতা আর গড়ের মাঠের বিশাল প্রতিবাদ সভার সভাপতি রবীবাবু। বাংলাদেশের মানুষগুলো অতিরিক্ত অসাম্প্রদায়িক যার জন্য তারা ঘোলের জল বেশী খাচ্ছে। অকারণে অতি ভক্তি কোন ভালো গুন নয়। ইতিহাস বিমুখীনতা ইতিহাস না জানা বড় অপরাধ, এসব জাতিকে সুপথ না দেখিয়ে পথহারা করে।

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন কট্টরপন্থী এক সাম্প্রদায়িক মানুষ যাদের কুটিল নেতৃত্বের কারণে ভারত আজ অবদি তুষের আগুণে পুড়ছে। কিন্তু মিথ্যার দালাল নষ্টরা মানুষকে বিভ্রান্তির পথে ঘুরায় সত্যকে চাপা দেয়, মিথ্যায় রসদ জোগায় সবদিন। দুর্গন্ধ ঢেকে রাখলেও আগুনের হলকা আজও বহাল, প্রমাণ হয়ে মানুষের রক্ত গঙ্গা বইছে। এই বিজেপি কর্মকান্ড ঐ একসূত্রে বাঁধা গাটছড়ার আর এক নাম। এরা কবিতায় বড় কবি হলেও ময়দানে সুকর্মে ভয়ংকর কৃপণ। আজও ঐ ধারাবাহিকতা চলমান; সংকীর্ণ অমানবিক, অনুদার, সাম্প্রদায়িক, কুটিল আচরণ ধন্য তারা। যেখানে মুসলিম লেখক কবি সাহিত্যিকরা দার্শণিক সমাজপতিরা ওটি শিখেনি বলেই তাদের আচরণ সবদিন উদার মানবিক।

কাটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে নানা কৌশলে ঠিকই অস্ত্র আসছে (১৪ জুলাই, মানবজমিন)। যদিও ফেলানীরা আটকে যায়, গুলি খায়, বিচার পায় না। স্বাধীনতার দাসসুলভ খেসারত এসব। সীমান্তের গরীব ভারতীয়রা অল্প টাকায় এসব অস্ত্র কারবারীদের হাতে পৌছে দেয়। অস্ত্র প্রস্তুতের জন্য গড়ে উঠেছে ছোট ছোট কারখানা, অল্প টাকাতেই অল্প দামের প্রতিবেশী চোষার ব্যবসা চলছে। কাঁটাতারের বেড়া যেন বলছে সব বাংলাদেশীরা চোর বাটপার, সীমান্তের ওপারে যারা থাকেন সব সাধু। তাদের এ ছলনার সাজগোজ সুর সুর করে চলে যায় অপরাধীর হাতে, এসব হচ্ছে সোনাবন্ধুর স্বাধীনতা নামের কারসাজি। এভাবে দুধকলা দিয়ে সাপ পোষে দেশটির মজ্জা চোষে খাচ্ছে, ইয়াবা গেলাচ্ছে, ফেনসিডিল, পাতার বিড়ি আর কি চাই যত ধরণের ধ্বংসাত্মক জীবন বাজি রাখা অপদার্থ সবই গিলছে বাংলাদেশীরা। ভারত এটি কেন করছে এর মূল কারণ এরা নীতির বদলে চলে চানক্য তালে, যত পার শোষন নির্যাতন চালিয়ে যাও আর নিজের আখের গোছাও। আল্লাহর ভয় কম, হয়তো তাদের ভরসা তেত্রিশ কোটি দেবদেবীরা তাদের সামাল দিবে। কিন্তু ইসলামে অপরাধীর জন্য কোন ছাড় নেই। আল্লাহর বেটাবেটি কেউ নেই, দেবদেবীও নেই। শুধু এ কারণেই মুসলিমদের বড় পার্সেন্ট অসাম্প্রদায়িক, নিজের ভয়ঙ্কর পরিণতি গুণে নিজেরা শংকিত হয়। আর বাকীরা যারা শুধু নামে মুসলিম কাজে মোনাফিক, মোনাফিকের ঈমান নড়বড়ে তাই পাপ করে উৎসাহ নিয়ে। মুমিন, মুসলিম, মুনাফিক এরা তিন ধারায় চিহ্নিত। মুমিনরা উৎকৃষ্ট, মোনাফিকরা নিকৃষ্ট।

সাগরে বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারতীয়রা (১৩ জুলাই ২০১৯, নয়া দিগন্ত, শরণখোলা, বাগেরহাট সংবাদদাতা)। অন্যের সম্পদে একমাত্র ডাকাতের ভাগ থাকে। কোন সুস্থ জাতি মানুষের এটি ভাবা সুস্থতার লক্ষণ নয়। ভারত মূর্তিপূজক জাতি হলেও একজন নিরব দ্রষ্টা যে সব অবলোকন করছেন সেটি আস্তিক মূর্তিপূজক সবার জানা। ফেসবুকে গরুর গোশত খাওয়ার ছবি দেয়ায় ভারতে মুসলিম যুবকের ওপর হামলা, (নয়াদিগন্ত, ১৩ জুলাই ২০১৯)। তার মানে ভারত এমন অদ্ভুত গণতন্ত্রের দেশ যেখানে একজন মুসলিম নাগরিক আল্লাহর নির্দেশিত পথে খাবার খাওয়ার অনুমতিও তার নেই। এ ধারার খবর প্রায়ই দৃষ্টিগোচর হয়। এটি করে বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজা পার্বন বন্ধ করে দেয়ার ম্যাসেজ কি তারা বিলি করছে? তাদের বার বার ভাবা উচিত মহান বাংলাদেশীরা কত সহনশীল ও উন্নত আচরণধন্য, যেন ধৈর্য্যের হিমালয় এরা।

হিন্দু মুসলিম এ দুটি ধর্ম নিয়ে স্বাধীনতার আগে থেকেই ভারতীয় উগ্রবাদীরা দাঙ্গাবাজ। সম্প্রতি বয়সে কিছু বড় ছেলেরা ছোটদের কাছ থেকে তাদের খেলার ক্রিকেট ব্যাট কেড়ে নেয় এবং ‘জয় শ্রীরাম” শ্লোগান দিতে অস্বীকার করলে ঐ ব্যাট দিয়েই তাদের মারা হয়, এতে কয়েকজন ছাত্রের মাথা ফেটে যায়। কথা হচ্ছে এতে কি ধর্মে শ্রীরামের বিজয় লাভ হয়? ভারত কেন যেন তার সংকীর্ণতাকে পরিহার করতে পারে না, লজ্জাস্কর ভাবে ধরা খায়, বারে বারে। অপরাধের দাগী আসামীরা ময়দান চষে মজা নিচ্ছে। দেখা যায় এসব হচ্ছে মানুষের পাশবিক আচরণ। ট্রেনে উঠে জয় শ্রীরাম বলে দলবেধে যাত্রীদের মারধর করা, উত্তপ্ত বীরভূমের বাতাসপুর স্টেশন, উত্তপ্ত হয় মুর্শিদাবাদের কান্দি। তারা চায় তাদের অনুমোদিত ভোগ্যপণ্য মুত্র গোবর এসব মুসলিমরা খাবে আর শ্রীরামের গানা গাইবে! এর নাম কি ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র? বকধার্মিক মোদির সরকার হিন্দু ধর্মকেও কবরস্থ করছে। ভারতের খান্ডওয়া নামক জায়গায় গরু বহনের অভিযোগে ২৪ জনের একটি দলকে হেনস্থা করা, কান ধরে উঠবস করানো ও জোর করে ‘গো মাতা কি জয়’ বলানো। মুসলিমদের পরকাল থাকলেও পরজন্ম যেমন নেই, কীট পতঙ্গ গরু ছাগল হওয়ার সুযোগও তাদের নেই। স্বভাবতই গরু তাদের উৎকৃষ্ট প্রাণিজ খাদ্য এবং সেটি বিধাতা প্রদত্ত। কিন্তু মোদির ভারতে বিধাতাও প্রশ্নবিদ্ধ!

বলা হয় ভারত একটি গণতন্ত্রী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ভারতের সহযোগিতায় সেই কবে চুলায় গেছে। ভারত সবদিনই প্রতিবেশী গঞ্জনাকারী হিসাবে নামকরা অবস্থানে আছে। বছর কয় আগে ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে এটি ষ্পষ্ট করেন যে, তাদের প্রথম সংবিধানে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল না। পরে ভারতের স্বাধীনতার ২৯ বছর পর ১৯৭৬ সালে তাদের সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে সেটি সংযোজন করা হয়। এ হচ্ছে তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার নমুনা। মনে রাখার বিষয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনদিনও ধর্মনিরপেক্ষতার খোলসে হয়নি। প্রায়শ অনেককে বলতে শুনি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার উপর, এটি একটি চরম মিথ্যা কথা। মুক্তিযুদ্ধে ধর্ম কোন ফ্যাক্টর ছিল না। এটি মূলত ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান এ দুয়ের ভাগাভাগির লড়াই। পাকিস্তানীদের সাথে বিরোধ ছিল অর্থনৈতিক বিরোধ, ধর্মের কোন বিরোধ এদের মাঝে ছিল না। কিন্তু কৌশলী ইন্দিরা সেটি এ দেশের ঘাড়ে ষড়যন্ত্রের নামে যুক্ত করে দেন ১৯৭২ সালে, নিজ দেশ ভারতেরও চারবছর আগে। এসব ষড়যন্ত্রের সূতা নাতা সচেতনকে সবদিন ভাবায়। সাম্য, ন্যায়পরায়ণতা, মানবিক মর্যাদা এসব ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল নীতি। যদিও ভারতীয় অনুকরণের ধর্মনিরপেক্ষতা হচ্ছে ইন্দিরার চাপিয়ে দেয়া নীতি যার কঠোর প্রতিবাদ করে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিল তার গ্রন্থে। সচেতনের জন্য থরে বিথরে রসদও জমা আছে সেখানে। মেজর জলিল নিজে ছিলেন প্রথম রাজনৈতিক বন্দী, প্রথম বিজয় দিবসে বুঝতে পারেন স্বাধীনতার মর্মজ¦লা কত বিভৎস ও ভয়ংকর হয়ে জাতির জন্য অপেক্ষা করছে। দূরদৃষ্টির অধিকারী ঐ মুক্তিযোদ্ধার লেখা বইটির নামকরণই দেশটির বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করে ম্যাসেজ বিলি করে যাচ্ছে, বইটির নাম “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” ।

২০ ই জুলাই ২০১৯।

 

 

 

নাজমা মোস্তফা

এরশাদ মুক্তিযুদ্ধ করেন নাই। রাজনীতির বা মুক্তিযুদ্ধের ধারে কাছে না থেকেও এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন অন্যায়ভাবে। সেটি জোর করে ধরে রেখে অতপর একজন আপোষহীন নেত্রীর নেতৃত্বে অপারগ হয়ে হাল ছাড়েন নব্ব্ইএর দশকে। সম্প্রতি তিনি মারা গেছেন। ঐ সময় তিনি রংপুরে ছিলেন তারপরও যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান চলে যান। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান প্রত্যাগতদের সাথে তিনি দেশে ফিরে আসেন। অতি মাত্রায় কপট অন্যায় ক্ষমতা লোভী এব্যক্তির পছন্দ রাজতন্ত্র।  রাজতন্ত্রের বাকশালী পথ মুজিবেরও শেষ জামানার স্বপ্ন, পরিকল্পনা ধ্যাণ ধারণা ছিল, যে পাপে তাকে সদলে প্রাণ হারাতে হয়। আমরা জানি নষ্টরা ওপথ পছন্দ করে বেশী,  শেখ হাসিনার পছন্দও ঐপথ, তাই আজো স্বাধীনতার প্রায় পঞ্চাশ বছর ছুঁই ছুঁই করছে আজো গণতন্ত্র শুধু কিতাবে গোয়ালে নেই, ময়দানে স্বৈরতন্ত্রই সার। যদিও ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯০ সালকে স্বৈরাচার পতন দিবস হিসাবে পালন করা হয়, কিন্তু এর মাঝে ঐ দুই নীতিহীনের বন্ধুত্ব গড়ে উঠে এবং সেটি আমৃত্যু চলমান থাকে। ৮৬এর পাতানো নির্বাচনে এরা দুজন দুইনামে চিহ্নিত হয়। একজন জাতির দেয়া তকমা স্বৈরাচার আর একজন নিজের দেয়া গালি কাঁধে জাতীয় বেঈমান হয়ে আছেন। ২০০৯ সালে হাসিনার ক্ষমতা দখলের পর এরশাদ বলেছিলেন “সেনাবাহিনীর ভূমিকা না থাকলে আওয়ামী লীগ জীবনেও ক্ষমতায় আসতো না  (দৈনিক আমাদের সময়, মার্চ ০৪, ২০০৯), তিনি আরো বলেছিলেন আমি অনেক কিছুই জানি, সময় হলে প্রকাশ করবো। এর মাঝে জাতি অনেক কিছুই জেনেছে। কিন্তু তার আর সময় হয়নি ওটি খোলাসা করার কারণ তাকে মাইনকার চিপায় ঠেসে ধরে রাখা হয়েছিল।

এরশাদ খুনী, তার হাতে রক্তের দাগ তবে তুলনামূলক হাসিনার থেকে অনেক অনেক কম। সময় ১লা জুন ১৯৮১ সাল। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অফিসে মেজর জেনারেল মঞ্জুর ধরা পড়লে একটি টেলিফোন আসে বঙ্গভবনে, এতে উত্তেজিত এরশাদ রেড টেলিফোনের কাছে ছুটে যান আর একটি নাম্বারে ডায়াল করেন। ও পাশ থেকে বলা হয়, মঞ্জুরকে পুলিশ আটক করেছে। উপস্থিত ময়দানের সাক্ষিরা এরশাদের চতুর বাণীর শ্রোতা “এক্ষুনী তাকে নিয়ে নাও। তারপর পরিকল্পনা মত কাজ করো” বলেই তিনি ত্বরায় টেলিফোন রেখে দেন। জিয়া হত্যার ১২ ঘন্টা পর একটি গল্প আকাশে বাতাসে প্রচার করা হয় যে, লোভী মঞ্জুর এ কাজ করেছে। এ সময় বিদেশী সাংবাদিক লরেন্স ছিলেন ভারতের বিহারে। উৎসাহী লরেন্স তিনদিন পর বেনোপোল সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় পৌছেন এবং মাত্র এক সপ্তাহ থেকে তিনি যথেষ্ট রসদ সংবাদ সংগ্রহ করেই ত্বরায় দেশ ছাড়েন কারণ পুলিশের বাধা। এদিকে এরশাদের নেতৃত্বে ঐ সময় বাংলাদেশের ঢাকা রেডিও থেকে ক্রমাগত এটি প্রচার করা হয় যে, মঞ্জুর “খুনী ও বিশ^াসঘাতক”। ভারত থেকে পাওয়া ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে এতদসংক্রান্ত অনেক যুক্তিতে হাসিনা এরশাদ জোটবাধা শাসকবর্গের যুক্তি খাপে খাপে মিলে। এরা উভয়েই ধরা খায়। যারা প্রকৃতই ভারতীয় দালালীতে বাংলাদেশ বিরোধী কাজে সরাসরি জড়িত। এরা দলে দলে দেশে সময়ে সময়ে পাকিস্তান পাকিস্তান বলে শুধু চিল্লায়, তাদের ভারতীয় দূর্নাম লুকানোর জন্য। জেনে রাখবেন, এরাই মিরজাফর উমিচাদ রায়দূর্লভের বংশধারা।

বিচারের নামে সেদিন ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দেয়া হয়। এরকম অভিনব এক এক্সপ্রেস ফিল্ড কোর্ট মার্শাল তাদের কোন আত্মপক্ষ সমর্থণের সুযোগও দেয় নি। বরং জোর করে তাদের দিয়ে বলানো হয় যে, ওটি ছিল একটি অভ্যুত্থান। তাদের ঐ মিথ্যা বলানোর জন্য তাদের প্রহার করা হয়, আঙ্গুল থেকে নখ উপড়ে ফেলা হয়, যৌনাঙ্গ পুড়িয়ে দেয়া হয়। নির্যাতীতরা এত কষ্টের মাঝেও অভিশম্পাদ দিতে কুন্ঠিত হন নাই। এসব চিত্র জুলফিকার আলী মানিকের সাহসী কলামে উঠে এসেছে। ঐ সময় কোন এক অজানা কারণে সরকারী কৌশলীরাও কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন নাই। বিকৃত ইতিহাস সৃষ্টিকারীরা যে নষ্ট ইতিহাস গড়তে কি ভয়ংকর দাগ রেখেছে এ তার নমুনা মাত্র।

তথ্যসূত্র: মতিয়ুর রহমান রেন্টুর আমার ফাঁসি চাই গ্রন্থ থেকে:-  ১৯৮২ সালের মার্চের ২৪ তারিখে এই ক্ষমতালোভী জেনারেল এরশাদ জনগণের নির্বাচিত বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এবং পরদিন একই উপায়ে ঐ বৃদ্ধের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে তাকে রেডিও টেলিভিশনের সামনে এনে পুতুলের আদলে দন্ড হাতে রেডিও টেলিভিশনে নিজের অযোগ্যতা ও তার সরকারের দুর্নীতি – স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি কারণ দর্শিয়ে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেবার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন এই প্রতারক এরশাদ।  এরশাদ দেশে সামরিক আইন জারি করে স্বয়ং হলেন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। শেখ হাসিনার গোপন আমন্ত্রণে ও সহযোগিতায় এরশাদ ক্ষমতার মালিক হয়ে জনগণের বুকে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেন (এরশাদকে ক্ষমতা গ্রহণের আমন্ত্রণ: ঐ গ্রন্থ ৪৬ পৃষ্ঠা)।

৮১ সালের ২৩শে ২৪শে মে টিএসসি তৃতীয় তলাতে কর্ণেল শওকত আলী (আওয়ামী লীগের এমপি, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী) বলেন, “জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম গেলে —– মেজর জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে জিয়াকে হত্যা করা হবে। এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে হাসিনা অবগত আছেন। কিভাবে এ দখল কাজ চট্টগ্রাম ঢাকাতে সমাধা হবে তার নির্দেশও সেখানে আছে। এরশাদসহ অন্যরা মঞ্জুরের সাথে থাকবেন। জেনারেল মঞ্জুর জিয়াকে হত্যা করেছে। ধূর্ত এরশাদ মঞ্জুরকে ত্বরায় হত্যার নির্দেশ দিয়ে নিজের অপরাধ ঢাকেন। হাসিনাই এরশাদকে জনগণের বুকের উপর বসান। জেল থেকে খালাস পাওয়া এরশাদের দাগী অপরাধীরাই ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডাঃ মিলনকে হত্যা করে (রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যা: ঐ গ্রন্থ ৪১ পৃষ্ঠা)।

ভারতীয় সানডে পত্রিকার ১৮তম সংখ্যায় প্রকাশিত ‘দি সেকেন্ড ওল্ডেস্ট প্রফেশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত “৭৫ সালের পর ইন্দিরা গান্ধীর অনুমোদন নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার চক্রান্ত বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়। ৮০ সালে ইন্দিরা ক্ষমতা লাভের পর এটি ঘটে, জাতি জানে হাসিনার অনেক অনেক ভোটের ব্যয়ভার বহন করে ভারত। আজ এসব ওপেন সিক্রেট, সচেতনরা জানেন, আগা থেকে গোড়া এ জুটি স্বাধীনতা বিরোধী মিরজাফরগংদের ভূমিকায় নামতে পেরেছে । ঢাকার নিউনেশন পত্রিকায় ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ তারিখেও এটি প্রকাশিত হয়। তার এ হত্যা সংবাদ প্রথমে আকাশবাণীতে প্রচারিত হয় (ঐ গ্রন্থ ৬৩ পৃষ্ঠা), ঠিক বিডিআর বিদ্রোহের মত যেন একই মঞ্চ নাটক। সেদিনের দুই পলাতক সেনা অফিসার আজো ভারতে বসবাস করছে (শাসছুর রহমান, বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক, সাপ্তাহিক বিচিত্রা, ২২ বর্ষ ৯ সংখ্যা, ২৩ জুলাই, পৃষ্ঠা ৩৭)। জিয়া হত্যার খবর পেয়ে সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার সময় শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সীমান্ত দিয়ে ভারত পাড়ি দেবার সময় সীমান্তরক্ষীদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন। (শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ১২ বছর, দৈনিক দিনকাল, ২০/৫/৯৩ সংখ্যা)। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জানতে চায় শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না। তার মানে তাকে গ্রেফতারের পক্ষে অনেক যুক্তি ছিল, তাই তারা সন্দেহ করে। জিয়া হত্যার সপ্তাহ দুই আগে শেখ হাসিনা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন জিয়া হত্যার এজেন্ডা নিয়ে, মজার বিষয় হচ্ছে জিয়াউর রহমানের সহযোগিতায় হাসিনা এদেশে আসেন আর বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুযোগ সুবিধা লাভ করেন যা তার বাবা চিরতরে রুদ্ধ করেছিলেন। (প্রয়াত সিরাজুর রহমানের কলামে এর অসংখ্য প্রমাণাদি বর্তমান)।

ডাকাতে ডাকাতে দোস্তি হয় ঠিকই, তারপরও কিছু বৈরীতাও গোপন থাকে। লেঃ জেঃ এরশাদ নামের খাটাশকে (হাসিনার কথামত) হাতের মুঠোয় রাখতে এজেন্ডা প্রাপ্ত শেখ হাসিনা নামকা ওয়াস্তে এক ভুয়া আন্দোলনের পরিকল্পনা হাজির করে রাজনীতির নামে ছাত্র হত্যা করান, তার পরিকল্পনা হলো লাশ লাগবে, তবে শুধু লাশ হলে হবে না, লাশটি হতে হবে এরশাদের পুলিশের হাতে মারা লাশ। টাকা যা লাগে লাগুক। ঐ পথে হাটতে তখন পুলিশের এক (নয়নবন্ড!) কোম্পানী কমান্ডার হাফিজুর রহমান লস্করকে নগদ টাকাতে কেনা হয়। সম্ভবত এসব বিষয়ে শেখ হাসিনা ভারতের প্রশিক্ষণ প্রাপ্তা। একের পর এক এ ধারার অসংখ্য অপরাধ বাংলাদেশে চলমান আছে এবং ঘটে চলেছে। ১৯৯৫ সালে প্রথমে মঞ্জুরের ভাই মঞ্জুর হত্যার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২২ বার বিচারক পরিবর্তিত হয়েছে (বিতর্কীত  ভাইবোনের কারসাজি!)। বিগত সময়ে একযোগে জেএমবির ৬৩ জেলাতে বোমা হামলা, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা, লগি বৈঠা দিয়ে ময়দানে মানুষ খুন, পেট্রোল বোমা নাটকে বারে বারেই সন্ত্রাসী আওয়ামীরা ধরা খায়, সেক্রেটারিয়েটের দিগম্বর কাহিনীর মত নিকৃষ্ট অশ্লীলতা, বিশ^বিদ্যালয়কে ডাকাতের গ্রাম বানানোর পেছনেও এরা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এ সরকারের পালিত সন্ত্রাসীরা বিগত শতকে র্ধষণের সেঞ্চুরী করে প্রকাশ্যে বাহবা কুড়িয়েছে। মানুষ খুন করলে এ সরকার তাদের পুরষ্কৃত করে। ২১ আগষ্ট ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিল পাশর্^বর্তী দেশ ও আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা (সূত্র: প্রথম আলো, ২১ আগষ্ট, ২০০৮ সাল), এ ছাড়া শত শত গুম খুন নাটকের চলমান প্রক্রিয়া ডিজিটাল গতিতে জাতিকে মৃত্যু কুপের দিকে ছুড়ে দিয়েছে। এর পেছনে এই দুই স্বৈর শাসক ও তাদের সাহায্যকারী বিদেশী শক্তি। এরা কে কত বড় বন্ধু, ও দেশপ্রেমিক সেটি মাপতে না পারা, এ জাতির ৫০ পূর্তির পূর্ব মুহূর্তের আকাশচুম্বী ব্যর্থতা।

উল্লেখ্য এনএসআইর নথিপত্রে জিয়াউর রহমান বা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধাচারণকারীদের তালিকায় জেনারেল এরশাদের নামও ছিল। ফলে ইত্যবসরে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় এসে প্রথমেই এনএসআই থেকে হাফিজুর রহমান লস্করকে ঝেটিয়ে বিদেয় করেন। এতে লস্কর এরশাদের উপর ক্ষুব্ধ থাকায় হাসিনার প্রস্তাবে শামিল হন আর হাসিনা এমন বাজপাখিকে খুঁজে বের করেন। শিকারীর নীলনকশা অনুযায়ী পরিকল্পনা হলো ছাত্রদের মিছিলটি কোন রকমে দোয়েল চত্বরে আনলেই হলো, বাকী কাজ আর্মড পুলিশ সামাল দিবে। (৪৮ পৃষ্ঠা)। ১৪ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৩ সাল।  বসন্ত উৎসব মুখর বিশ^বিদ্যালয়। ১২/১৩ ফেব্রুয়ারীতেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় নগদ অর্থ প্রদান করে স্থানকাল নির্ধারিত হয়। মিছিলটি যেই বাংলা একাডেমী ছেড়ে দোয়েল চত্বর ফেলে আসলেই হাফিজুর রহমান লস্করের আর্মড ফোর্সের গুলি গুড়ম গুড়ম ঠাস ঠাস; মুহূর্তের মাঝে জয়নাল ও জাফর লাশ হয়ে পরলোকে চলে গেল। বিশ^বিদ্যালয়ে নেমে এল শোকের ছায়া। থেমে গেল ফেব্রুয়ারীর বসন্ত উৎসব। ছাত্ররা তাদের নিহত সাথীদের নিয়ে শোকাহত ঐতিহাসিক বটতলায়। বিকেল তিনটায়, নিহত ছাত্রদের লাশ দেখে রুমাল দিয়ে চোখ মুছার ভান করতে করতে নেত্রী শেখ হাসিনা এলাকা ত্যাগ করলেন, পরবর্তী কোন কর্মসূচী ব্যতিরেকে। ইত্যবসরে এরশাদের সাথে যোগাযোগ করে মোচলেকা আদায় করেন যে তিনি কোন কর্মসূচী দেবেন না। এ খবর জানার পর আশ^স্ত হয়ে এরশাদ সরকার সমগ্র বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় চারদিকে পুলিশী ও মিলিটারী হামলা চালায়। প্রতিবাদী ছাত্ররা দিকবিদিক দৌড়াতে থাকে আর বেধড়ক মার খায়। চারদিকে পড়ে থাকে জুতা স্যান্ডেল। এভাবে ব্যর্থ হয় জাফর ও জয়নালের আত্মদান (যেন ফের মনে পড়ে ২১ আগষ্টের নিজ দলের আইভি নিধনের পরিকল্পিত রঙ্গমেলা!)। হাসিনা নিজের প্রয়োজনে যে কারো বুকে ছুরি বসাতে কুন্ঠিত নন। লেখক এসব অকপটে স্বীকার করেছেন।

পরের বছর ১৯৮৪ সাল, ঘুরে আসে বসন্ত আবার, আন্দোলনের মাস। ২৮ ফ্রেব্রুয়ারী, ৩০/৪০ জনের এক মিছিল আসবে, জানা গেল সেখানে পেছন থেকে হামলা হবে। যে কয়জন এটি জানে তারা মিছিলের সামনে সামনে থাকে। বিকেল পাঁচটা, যেই মিছিলটি নীমতলী পার হয়ে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে ঢোকে, সাথে সাথেই রায়ট পুলিশ তাদের লরিটি বিদ্যুৎ গতিতে মিছিলের উপর তুলে দিল। পিছনে থাকা সেলিম মুহূর্তে লরির চাকায় পিস্ট হয়ে যায়। বাকী অন্যরা ছিটকে দুপাশে ছড়ায়। দেলোয়ার সোজা প্রাণপণ দৌড়াতে থাকে। মুহূর্তে দেলোয়ারের শরীর চাকার সাথে পিষে মারে রায়ট পুলিশের লরি। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অধীর আগ্রহে অর্ডারী লাশের জমার অপেক্ষায় শেখ হাসিনা, খবর শুনে পুলকিত ও আনন্দিত হয়ে বলে উঠেন – সাবাস। যারা মারা গেল তারা বা তাদের স্বজনরা হয়তো আজো জানে না কিভাবে তাদের নয়নের মনিরা এভাবে মারা পড়ছে। সেদিনও তিনি অজ্ঞাত স্থানে চলে যান (পরবর্তী ষড়যন্ত্র করতে)। পরদিন ভোরেও অজ্ঞাত স্থানে বোরখা পরে তিনি অজ্ঞাত লোকের সাথে লং ড্রাইভে যান। এদিকে ছাত্ররা ঐ মৃত্যুগুলো নিয়ে আন্দোলন করতে চাইলে হাসিনা তাদের বাধা দেন। এবং তাদের স্বান্তনা দেন আমাদের মূল শত্রু জিয়া ও তার দল বিএনপি। জিয়া তো শেষ। আর এরশাদ মাত্র বিএনপি থেকে ক্ষমতা দখল করেছে। এখন থেকে আমাদের প্রধান কাজ হবে বিএনপিকে চিরতরে শেষ করে দেয়া। আমরা এরশাদের বিরুদ্ধে সরাসরি যাব না। আমাদের মূল শত্রু বিএনপি, এটি মনে রাখতে হবে। ছাত্ররা সেদিন ভগ্ন হৃদয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে তিনি বলেন আবেগাপ্লুত হয়ে লাভ নেই। সময় হলে এদের পরিবারকে পুষিয়ে দেয়া হবে। ছাত্রনেতারা কোন রকম কর্মসূচী ছাড়াই ভগ্ন হৃদয়ে সে স্থান ত্যাগ করে। (৫৩ পৃষ্ঠা, ঐ গ্রন্থ)। হায়রে মোটা মাথার ছাত্র নেতারা, তোমাদের বিবেক কেমন করে এত মরে গেল জানি না! কিসের মোহে ছুটে মরছো। তোমরা কি মানুষ না! আজো প্রার্থণা করি তোমরা শুধু মানুষ হও, আর কিছু না।

আসলো ১৯৮৬ নির্বাচন। এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পাকাপোক্ত অবস্থানে। এর মাঝে নিরবে নিঃশব্দে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি উল্লেখযোগ্য একক রাজনৈতিক শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত হলো। ষড়যন্ত্র চলছে— টাকার বস্তা আসতে থাকে। মুখ সেলাই করা ৯টি টাকার বস্তা। মাইক্রোবাসে করে আনা বস্তাগুলি ৩২ নম্বরের নীচতলার মাস্টার বাথরুমে রাখা হয়। জরুরী সংবাদ সম্মেলনের ডাক পড়ে ডাঃ কামালসহ অনেকেরই। কেউই এটি আগে জানতেন না, মাত্র চারজন ছাড়া। টাকার বাহক এস আই চৌধুরী / হাসিনা/ এরশাদ আর ডিজিডিএফ ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুল হাসান। তখন হাসিনা একদিনও কাল ক্ষেপন করতে রাজী নন। কারণ বিএনপিকে ল্যাং মেরে তাকে নির্বাচনে যেতে হবে। পরদিন ষ্টিলের ওয়ারড্রোব কেনা হলো। আর সেলাই করা বস্তার মাল সামানা ওখানে সাটা হলো। এভাবে জাতির বারোটা বাজার সব প্রক্রিয়া জোরেসোরে চলতে লাগলো। (৫৫ পৃষ্ঠা, ঐ গ্রন্থ)।

দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হলো। একভাগ এরশাদের ও হাসিনার পাতানো নির্বাচনে, অন্যভাগ খালেদা ও স্বৈরাচার পতনের ভাগে থাকলো। এ দেশটিতে এ যাবত যা ঘটছে তা ঘটাচ্ছে এসব দেশীয় দালাল যারা কখনোই দেশপ্রেমিক না, বরং এরা দেশ বিধ্বংসী শত্রু। এ দেশের প্রতিটি দুর্যোগ এরা মনের মাধূরী মিশিয়ে সাজায় আর সহজ সরল মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে নিজেরা নিজেদের আখের সামলায়। জনতাকে আবারো মনে করিয়ে দিতে চাই, কিভাবে তারেক জিয়াকে ফাঁসানো হয়েছে মিথ্যা মামলা দিয়ে, এসব তার নমুনা মাত্র। এর উপরও আমার বিস্তারিত লেখা আমার ব্লগে আছে। আপনারা সেটি পড়ে মূল ঘটনা জানতে পারেন। বিগত শতক থেকে কিভাবে রাহুর মত হাসিনা ও এরশাদ এ জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে, সেটি জাতিকে জানতে হবে। এ জাতির সমস্ত দুর্গতির মূলে এ দুই নষ্টের এক হওয়া ষড়যন্ত্রই, জাতিকে জাতির প্রতিটি সদস্যকে হুমকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ।

বাঘ যখন মানুষ খায় তখন তার নেশা বেড়ে যায়, সে বারে বারে মানুষ খেতে উৎসাহী হয়। একই দশা হয়েছে এসব স্বৈরশাসকদের। পরবর্তীতে এভাবে আবার আসলো ১৩ বস্তা টাকা, আগের থেকে ৪ বস্তা বেশী। এসব টাকার রং লাগে না, মুসলিম হয়েও স্বৈরাচাররা কখনোই হালাল হারাম সাদা কালো বুঝে না। টাকা হলেই হয়। টাকা আসছে গুলশানের সেই ব্যবসায়ী এস আই চৌধুরীর মাধ্যমে তিনটি মাইক্রোবাসে ৩২ নম্বরে। আগের জায়গায়ই বস্তা উঠানো হলো। আগে ছিল দশ কোটি টাকা এবার অনুমান পনেরো কোটি টাকা। ঐ টাকার খেলায় হাসিনা জাতির ঘাড়ে এরশাদকে আরো শক্তিশালী হয়ে স্বৈরশাসন চালাবার অঙ্গিকার দিয়ে মাঠে নামালো (ঐ গ্রন্থ, ৫৭ পৃষ্ঠা), এর সাক্ষ্যদাতা মটর সাইকেল আরোহী নিজে, এই ১৫ কোটি টাকার বিষদাঁত আজো জাতির মজ্জা চোষে খাচ্ছে। আজকে ওটি কত হাজার কোটিতে গেছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ আজ সেটি আরো শক্ত হয়ে জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতই চেপে বসেছে।

আপনারা সত্য জানুন আর এর সফল পরিণতি নিজ চোখে দেখুন। ওরা এ জাতির ছারপোকা, জেনে বুঝেই জাহান্নামের পথে হেটেছে গদীর লোভে। জেনে রাখুন ওরাই হবে পাথরের ও আগুণের খোরাক কুরআনের হিসাবে। আপনারাই ঐ দেশে সবচেয়ে বড় নির্যাতীত সদস্য, তাই আজকে আপনাদের নিজেদের জন্য দোয়া দাওয়া প্রচার ও সুবিচার সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক।

১৫ই জুলাই ২০১৯।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ কলামটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক “দি রানার নিউজ” এ ১৯ জুলাই ২০১৯ সংখ্যায় ছাপা হয়।

 

নাজমা মোস্তফা 

আজ জুলাই এর এক তারিখ। বিগত ২৪ বছর অর্থাৎ দুই যুগ পূর্ব মিথ্যা সাজানো মামলার রায় হবে মাত্র দুদিন পর ০৩ জুলাই ২০১৯। হয়তো আমার এ কলামটি আসতে পারে পরবর্তী সপ্তাহে, ততদিনে মিথ্যা মামলার মিথ্যা রায় ময়দানে এসে যাবে, বিচারক রুস্তম আলী। ঘটনা ঈশ^রদী, পাবনা আর ভৌতিক মামলার আসামীরা স্থানীয় বিএনপির ময়দানের কর্মীরা। প্রথম আলোর প্রথম জুলাইএর বিবরণে প্রকাশ ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরাঞ্চলে দলীয় কর্মসূচিতে শেখ হাসিনা ট্রেনে করে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ঈশ^রদী প্রবেশের সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা আতর্কিত গুলি, বোমাবর্ষণ ও হামলা চালান। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেন। বোমার আঘাতে তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন ও পুলিশের কয় সদস্যরা আহত হন। ঐ সময় ঈশ^রদী পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে এ মামলার ৫২জনকে আসামী করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগ দাখিল করা হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর ৯ মাস ৯ দিন পর আগামী বুধবার রায়। এদের ৩০ জন আসামী আদালতে হাজির হলে তাদের জামিন বাতিল করে তাদেরে কারাগারে পাঠানো হয়। ৫ জন বিভিন্ন সময় মারা গেছেন। বাকী আসামীরা গতকাল আদালতে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

একরাশ মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রে ভরা দেশটির অসংখ্য নাবলা কথা জনসম্মুখে উঠে এসেছে একটি বইএ। বইটির নাম “আমার ফাঁসি চাই” লেখক মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টু। কিছু প্রশ্ন কিছু কথা: দুশো আড়াইশ পৃষ্ঠার বই, লেখক একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ছাত্র অবস্থাতেই যুদ্ধে যোগদান করেন ক্লাস নাইনে থাকতেই। অতঃপর ১৯৮১ সালের ১৭ই মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরদিন থেকে ১৯৯৭ সালের ১৫ই জানুয়ারী পর্যন্ত ১৬ বছর তিনি হাসিনার সাথে ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কীত ছিলেন। তার স্ত্রী নাজমা আক্তার ময়না ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯ বছর শেখ হাসিনার অবৈতনিক হাউজ সেক্রেটারী ছিলেন। “১৯৯৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জননেত্রী শেখ হাসিনা বিমানযোগে যশোর হয়ে খুলনা এসে বিকেলে শহীদ হাদিস পার্কে ভাষন দেন। রাত্রে তার চাচাতো ভাই শেখ নাসেরের বড় ছেলে শেখ হেলালের বাড়ীতে খান ও থাকেন। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল নয়টায় উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে ট্রেন যাত্রা শুরু করেন। সাধারণ যাত্রী সহযোগে বেশ লম্বা ট্রেন। ট্রেনের সাধারণ যাত্রীরা জানেও না বা বুঝতে পারছে না হাসিনার সভা করতে যাওয়া এই ট্রেন কবে কখন গন্তব্যে পৌছাবে।

ঠিক নয়টায় ট্রেন ছাড়ে। প্রতি ষ্টেশনেই ট্রেন থামিয়ে সভা চলছে। ট্রেন থেকে নেমে সভাস্থলে সভা করে ফেরত আসতে ১ ঘন্টা সময় লাগছে। এভাবে প্রতি স্টেশনে গড়ে ১ ঘন্টা করে দিন পেরিয়ে রাত নামলো। শেখ হাসিনার ঢাকা থেকে আসা ডজন খানেক সাংবাদিক (তার ভাষায় সাংঘাতিক) সাথে রয়েছে। সবই বিশাল আয়োজন। ট্রেনের শেষের দিকে একটি ভিআইপি স্পেশাল কামরায় বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা, ঐ কম্পার্টমেন্টের সামনে ও পিছনে নেত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল এসবি ব্রাঞ্চ পুলিশের বারো জন সদস্য। তার পরের কম্পার্টমেন্টে সাংবাদিকগণ, এরপর বাকী সব কম্পার্টমেন্টে সাধারণ যাত্রী। এই দীর্ঘ বিলম্বে বাকীদের ত্রাহি মধুসুদন অবস্থা। ছয় ঘন্টার রাস্তা চব্বিশ ঘন্টায়ও না ফুরানোয় পানিসহ সকল খাবার ফুরিয়ে গেলে সাধারণ যাত্রীদের কষ্ট ও দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে পৌছে। তৃষ্ণার্ত ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না ও আহাজারিতে অনেকে গন্তব্যের আগে ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে বাঁচে। অপর দিকে প্রতিটি স্টেশন থেকে অফুরন্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি (মিনারেল ওয়াটার) পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা হয়। সারা দিনে নেত্রী প্রায় কুড়িটির মত রেলস্টেশনে জনসভায় এভাবে ভাষন দেন। রেলস্টেশন ছাড়াও উৎসুক জনতা ট্রেন থামালে সেখানেও তিনি বক্তৃতা করেন এবং সাংবাদিকরা সব লিপিবন্ধ করছেন। রাতের আঁধারে একই বক্তৃতা বার বার শুনতে শুনতে সাংবাদিকদের প্রায় মুখস্ত হওয়ায় শেষ দিকে তারা অনেকেই ট্রেন থেকে নেমে সংবাদ লিপিবদ্ধ করতে যাননি। রাত তখন ১১টা ১৭ মিনিট। ঈশ^রদী পৌছার পূর্ব মুহূর্তে শেখ হাসিনা বলেন, আমি এত যামাই আদরে এদেরে এনেছি আর তারা ঘুমাচ্ছে, এত লোক হচ্ছে আর বক্তৃতা করছি কিছুই তাদের নজরে আসছে না। এসব সাংবাদিকদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে আমার জনসভাতে পাঠাও যেন পরদিন সব পত্রপত্রিকায় ভালো নিউজ হয়।  এ সময় শেখ হাসিনার বেতনভুক এক কর্মচারী মদন মোহন দাস বলল, ‘ডাইকা ঘুম ভাঙ্গন লাগবো না। পিস্তল দিয়া কয় রাউন্ড গুলি করলেই সাংঘাতিক গো ঘুম কই যাইব, লাফাইয়া ট্রেন থাইক্যা নীচে পইড়া যাইবো।’ 

আলাউদ্দিনের প্রদীপ পাওয়ার মত সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনা তখন তার বাবার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে বাহাউদ্দিন নাসিমকে বললেন, ‘দে দুই রাউন্ড গুলি করে। আর উপস্থিত অন্যদেরে বললেন, তোমরা আমাকে (হাসিনাকে) হত্যার জন্য ট্রেনে গুলি করা হয়েছে বলে সাংঘাতিকদের মাঝে প্রচার করে দেবে।’ ট্রেন ঈশ^রদী প্ল্যাটফর্মে ঢোকার কয়েক মিনিট আগে বাহাউদ্দিন নাসিম ট্রেনের জানলা দিয়ে সাংবাদিকদের কম্পার্টমেন্ট লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড গুলি ছুড়লো। গুলির শব্দ শুনে হাসিনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশরাও ৫-৬ রাউন্ড গুলি করে। এ আওয়াজে পাশের কম্পার্টমেন্টে থাকা সাংবাদিকরা ভয়ে ট্রেনের ভিতরে গড়াগড়ি শুরু করে এবং আমরা (রেন্টুগং) পরিকল্পনামত সাংবাদিকদের কম্পার্টমেন্টে এসে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ট্রেনে গুলি করা হয়েছে বলে প্রচার করতে থাকি। ট্রেন ঈশ^রদী প্ল্যাটফর্মে থামলে, ঈশ^রদী রেলস্টেশনের জনসভার মঞ্চ থেকে মাইকে আওয়ামী লীগ সদস্য আমির হোসেন আমু শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ট্রেনে গুলি করা হয়েছে বলে প্রচার করেন। জাতীয় পত্র পত্রিকায় সংবাদ বের হলে বগুড়া সরকারী সার্কিট হাউসের ভিভিআইপি রুমে বসে শেখ হাসিনাসহ তার সফর সঙ্গীরা (যারা মূল ঘটনা জানে) হাসাহাসি করতে থাকে। এবং হাসাহাসির এক পর্যায়ে গুলির এই ঘটনা নিয়ে হরতাল ডাকার সিদ্ধান্ত হয় (ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৭৩,৭৪,৭৫)।

সবার শেষে বলতে চাই গুলির মামলার বিচারের সবকিছুর মূলে এই আলাউদ্দিনের প্রদীপসম পাওয়া মদন আর তাদের মদনীয় মিথ্যাচার। এই বইটি এতই গুরুত্বপূর্ণ একটি বই, যা বিগত শতক থেকে শুরু করে এ জাতীর অনেক অনেক মানবসৃষ্ট দুর্ভোগের চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। এটি যেকোন বিবেকবান সচেতনকে এ নিয়ে বার বার চিন্তা করতে হবে। আর কিছু না পারলে আপনারা সবাই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে হলেও বইটি পড়েন ও জানেন দেশের প্রকৃত অবস্থা; দেশ কত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সুক্ষ্ম গবেষনা বিশ্লেষণ সঠিক দিকদর্শন ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ ছাড়া মানুষের বাঁচার কোন বাস্তব রাস্তা নেই। সেখানে ঈশ^রদীর বিচারক থেকে ফরিয়াদী আসামী সবাই ধরা পড়বেন, অলরেডী সবাই তালিকায় নাম উঠিয়ে নিয়েছেন, চলমান ঘটনার সময়ই জগত ঈশ^রের খাতায় তা লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে, শুধু রায়ের অপেক্ষায়।

লেখকের কথায় প্রকাশ শেষের দিকে সত্য কথা বলার দৃঢ়তা আমাদেরে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের কাছে বিপজ্জনক করে তুলেছিল। ব্যক্তিগতভাবে যিনি অসৎ বেঈমান, মিনকহারাম এবং মুনাফেক তিনি কি রাষ্ট্রীয় বা সমাজ জীবনে সৎ ঈমানদার হতে পারেন। বইটির প্রকাশকের কথা : “৮১ থেকে ৯৭  পর্যন্ত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেপথ্যের অনেক কাহিনীর বর্ণনা লেখক তার এই গ্রন্থে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এ কথা নিশ্চিত বলা যায় যে, আমার ফাঁসি চাই বইটি পড়লে যে কেউ বিশেষত তরুণ যুবক ছাত্র সম্প্রদায় রাজনৈতিক প্রতারণার হাত থেকে বেঁচে যাবেন।” প্রকাশকের এ কথার সাথে আমিও সচেতনদের একজন হয়ে একাত্বতা প্রকাশ করছি। আল্লাহ জগতের সকল নির্যাতীতের হেফাজত করুক।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: উল্লেখ্য উক্ত লেখার মূল অংশটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ৫ জুলাই ২০১৯ সংখ্যা সাপ্তাহিক “দি রানার নিউজ” মাগাজিন ছেপেছে। কলামটিতে লেখকের বর্ণনাতে এটি খুব স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে কিভাবে একজন গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী তার বিরোধী দলীয় নেত্রীর সাথে আচরণ করেছেন আর অন্যদিকে কিভাবে একজন বর্তমানের বিনাভোটের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী একজন বিরোধী নেত্রীর প্রতি অমানবিক হুমকি ধমকির বিধান চালু করেছেন। সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না, জাতির জানা। এতে এই দুজনারই আমলনামা স্পষ্ট হয়ে পড়ছে। এখানেও জাতির জন্য অনেক আশা নিরাশার বাণী লুকিয়ে আছে।

রায়ের পর পত্রিকা অবলম্বনে প্রতিক্রিয়া: উক্ত মামলায় ০৩ তারিখের রায়ে ৯ জনের ফাঁসি, ২৫ জনের যাবজ্জীবন আর ১৩ জনের ১০ বছরের কারাদন্ড হয়েছে। এর ভিত্তিতে আরো কিছু কথা না বললেই নয়। সম্পূর্ণ মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে একটি দেশ চলছে, এর অসংখ্য উদাহরণ উপরে নীচে ডানে বামে সবদিকে ছড়িয়ে আছে। বিচার বিভাগ ও পুলিশ বিভাগ উঠবস করে অবৈধ সরকারের কড়া হুকুমে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তম উদাহরণ হিসাবে মানুষ উত্তর কোরিয়ার উদাহরণ টানে। প্রথম আলোর নিউজে এসেছে ঐ সময় মামলা দায়েরের পরে পুলিশ অভিযোগের কোন সাক্ষী না পেয়ে আদালতে ওটি জমা দেয়। তখন আদালত সেটি গ্রহণ না করে মামলাটি সিআইডিতে পাঠায়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে হাসিনা সরকার এসে পুনঃতদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ৫৭ জনের নামে আবার নতুন অভিযোগপত্র জমা দেয়। ঐ ঘটনার বিবরণ হিসাবে আনা হয় শ্যামল দত্তের ভোরের কাগজের সংবাদ। খবরের শিরোনাম: শেখ হাসিনার ট্রেন যাত্রায় বাধা, গুলি বোমা অর্ধশত আহত। — গোটা শহরে বোমাবাজি চলতে থাকে। আওয়ামী লীগের হাজার খানেক কর্মীর উপর হামলা হয়।

তৎকালীন সরকারের প্রেস নোট: ভোরের কাগজের প্রেস নোটের অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। খবরটিতে সরকারের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে এ অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। ট্রেনটি স্টেশনে পৌছানোর আগে উশৃংখল সমর্থকদের মাঝে কিছু ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পটকা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই ধারার খবর ছাপে মানবজমিন যে, ১৯৯৬ সালে এর পুনঃতদন্ত হয় এবং নতুনকরে বিরোধীদলের ৫২ জনকে আসামী করা হয়। নয়াদিগন্তও একই ধারার খবর ছাপে। ঘটনার দিন জিআরপি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। সত্যতা না পাওয়ায় এর তিন বছর পর হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মামলার চার্জসিট দাখিল করে। এর মাঝে ৬ জন ইতমধ্যে মারা যান। বিএনপির সহতথ্য ও গবেষনা সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এটা একটি হাস্যকর মামলা। এতে মৃত্যুদন্ড কি কোন সাজা হওয়ারও কথা নয়। এ রায় পৃথিবীর নজির বিহীন রায় বলে আমি মনে করি। কারণ ঐদিন আমি নিজে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক থাকার কারণে শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী ছিলাম। আমি ঐ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। এ ঘটনায় মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন হতে পারে না। রায়ের পর আদালত থেকে বের হলে তার উপর হামলাও করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। আশা করি বাংলাদেশে শ্যামলদত্ত ছাড়াও মানুষ বাস করেন। ঐ দেশে ঐ সব দেশ বিরোধী গুটিকয় দালাল ছাড়াও যদি কোন পত্রিকা বা কোন সম্পাদক থেকে থাকেন তবে তাদের নিজেদের স্বার্থে ও দেশটির স্বার্থে আপনারা সোচ্চার হন। একজন সত্যসন্ধানী গবেষক লেখক, কলামিস্ট হিসাবে এসব অনাচারের বিরুদ্ধে এ নোংরামির কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি ও প্রকৃত সত্য উন্মোচনের  দাবী জানাচ্ছি।

সুসংগ্রহ: “আর যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না। নিঃসন্দেহ শ্রবণ শক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ—এদের প্রত্যেকটিকে তাদের সম্বন্ধে সওয়াল করা হবে (সুরা বনি ইসরাইলের ৩৬ আয়াত)।”

০৩/০৭/২০১৯ তারিখ

https://amarfashichai.blogspot.com/2013/07/amar-fashi-chai-by-motiur-rahman-rentu.html

নাজমা মোস্তফা 

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সংগ্রামী জনতাকে ময়দান থেকে সরিয়ে দেবার এজেন্ডা নিয়েছে সরকার ও তার সহযোগিরা। বিগত শতকের শেষ দশক থেকে “এই জিয়া সেই জিয়া নয়” বলে এ প্রজেক্টে হাত দেন ভারত ফেরত মুজিব কন্যা নিজে (রেন্টুর গ্রন্থে প্রকাশ)। সত্যকে অস্বীকার করার এ এজেন্ডায় তিনি দল গড়ে তুলেন আর সমানেই প্রচার করেন আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। এটি কি আল্লাহ ভীতির নমুনা? দেশ থেকে গণতন্ত্রের দাগচিহ্ন মুছে দিতে তার জুড়ি মেলা ভার। নিকট সময়ে তাকে মানুষ মিশরের সিসির সাথে তুলনা করছে আর তার প্রধান শত্রু খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পথিকৃত সবদিন, খালেদাকে মুরসীর সাথে তুলনা করা হচ্ছে। মুরসীর এরকম ঘটনা যে তারা ঘটাবে এ শংকা করেছেন অনেকে। সত্যবাদী সক্রেটিস একজন, কিন্তু মধ্যযুগের বিচারকরা প্রকৃত অপরাধী ও ধিকৃত সবদিন। সম্মান ও মর্যাদা সক্রেটিসের ভাগে আজো জমছে। বাংলাদেশে সুরেন্দ্র কুমারসহ আরো বিচারকরা স্পষ্ট করে গেছেন দেশের ভয়ংকর বিচার ব্যবস্থা। ময়দানের বিচারকরা সরকারের গোলাম নাহলে বহিষ্কার তাদের পাওনা। সত্য উন্মোচনকারী সাংবাদিকের ভাগ্যে জমে পলায়ন। যিনি পালাতে জানেন না, তাকে কারারুদ্ধ করা হয় বছরের পর বছর, তাদের পত্রিকায় সিলগালা পড়ে, আইয়ুব সরকারও যত সংযম দেখিয়েছে, তার ছেটেফোঁটাও অবৈধ পথে আসা সরকারে নেই।

সোহেল তাজের ভাগনাকে গুম করে গিলতে না পেরে ছুড়ে দিয়ে অদেখা অধরা গুম হত্যাকারী ময়দানে আবারো স্পষ্ট হলো। এতিমের টাকা চুরি, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা, ২১ আগষ্টের ঘটনায় এতই অস্পষ্টতা ও অসত্য অনাচার জড়িয়ে আছে যে ঐ কটি ঘটনা ছাড়া দেশে কোন বিশৃংখলা ঘটে নাই, সরকার এটি প্রমাণে ব্যস্ত। আর কিছু ঘটলেই তার দায় নেয়ার জন্য খালেদা জিয়া জামায়াত ও তাদের দল জমা আছেই। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাঙ্কসহ শেয়ারবাজার বালিশ কান্ড, কয়গুণ নির্মাণ ব্যয়ের মহামেলা সবই ঢেকে রাখা। কিছুই প্রকাশ করা যাবে না, সত্য বলার নামে মিথ্যার মহামেলা চলছে দেশে। খালেদার মত সত্যকে আটক না করলে উপায় নেই। রুমিনকে সংসদে দেখে তারা যেমনি কাঁপে, খালেদাকে দেখলে কয়গুণ বেশী কাঁপে। সিসি যে কারণে মুরসীর গলাটিপে ধরলেন একই কারণে খালেদাও আক্রান্ত। কারণ তিনি জনপ্রিয়, তিনবারের সঠিক নির্বাচনের বৈধ গণতান্ত্রিক জিতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী। অপরপক্ষে অবৈধ পথ ছাড়া জিতবার উপায় নেই জেনেই এ পথ লুফে নিয়েছে। তারা মুখে আল্লাহ উচ্চারণ করে শুধু স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। চুরেও চুরির আগে আল্লাহর নাম নেয়। এরা আল্লাহর সত্যকে বুঝেনি মানে নি, মনে করে অদেখা নাটক।

মুরসীকে কারাগারে পাঠিয়ে বাকীদেরে ফাঁসি দিয়ে হাজার হাজার আসামী না করলে ক্ষমতা ধরা দেয় না। তাই ৫২% ভোটে নির্বাচিত একজন গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টকে ময়দান থেকে সরাতে চিকিৎসাসেবা না দেয়া, স্লোপয়জনিং এর দিকে ঠেলে দেয়ার সব যুক্তি তার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে, হিউম্যান রাইটস সহ সচেতনরা শংকা প্রকাশ করেছেন। লাশ না ফেরার দেশে চলে গেছে, তবে সত্যটা জানুন, বিচার হবে এটা নিশ্চিত। একই প্রচেষ্ঠা চলমান আছে খালেদা জিয়ার জন্য। কারণ গণতন্ত্রের জীবন্ত উদাহরণ ময়দানে থাকলে অপকর্মীরা বেকায়দায় পড়ে, তাই একই কায়দা রপ্ত করে এ ধারার অপরাধীরা। ন্যালসন ম্যান্ডেলার মতই কারারুদ্ধ করে গভীর রাতে ভোট সমাধা করাকে যারা বিজয়ের নমুনা ভাবছেন তারা দিশেহারা তো বটেই, ইহ ও পরকালের পথহারা। একটি ইউটিউবে দেখছিলাম শিল্পমন্ত্রী বলছেন, সারা বিশে^ বাংলাদেশ রোল মডেল। এরা মুষ্টিমেয় কয়জন নিজেরাই নিজেদের রাজাগিরির ঢোল পিটায়। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরের কাছাকাছি সময়ে গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে স্বৈরগণতন্ত্র নামের রোল মডেল বানিয়ে নিজেরাই হাততালি দিচ্ছে। এটিও তাদের মিথ্যাচারের মাত্রাটা বুঝায়। গুটিকয় দেশবিক্রেতা দালালের কাছে দেশটি কি ধরণের কাঁচামাল যা চেটেপুটে লুটে খাওয়া যায়। যদিও প্রধানমন্ত্রী বলছেন এখন লুটার মত টাকা নেই ব্যাঙ্কে। কারণ ইতমধ্যে ব্যংকলুট শেষধাপে। তাই ভিন্ন খাতের দিকেই শিকারীর নজর।

বাংলাদেশের জন্য মুরসী এক অনন্য উদাহরণীয় সাইরেন ধ্বনি। মুরসীর খবর তুরষ্ক প্রকাশ করায় মিসর সরকার তাদের গণমাধ্যম ব্লক করে দেয় (১৮ জুন যুগান্তর)। একই ধারা বাংলাদেশের গণমাধ্যম জিয়া পরিবারের জন্য সব নিষিদ্ধ করে রেখেছে। এসব করে চলেছে বড় সময় থেকে। বিরোধীকে কথা বলতে, মিটিং মিছিল করতে দেয়া হয় না, তৃণমূল থেকে নেতাদের পেছনে শত শত মামলা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অপকর্মীরা যত হাততালিই দিক বৃহত্তর স্বার্থে আত্মত্যাগীরাই শহীদ মর্যাদার অধিকারী, কুরআন বলে যারা সত্যের জন্য মরে তারা শহীদ, এদেরে মৃত বলো না, বরং এরা জীবিত। মুরসি শুধু একজন প্রেসিডেন্টই ছিলেন না, তার অসাধারণ অর্জন ছিল অনেক দিকেই, একজন ইঞ্জিনিয়ার, ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, নাসার কাজেও একসময় তিনি জড়িত ছিলেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের এ নেতা মিশরের একমাত্র নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে প্রথম ধাপে ময়দান থেকে সরায়। আর দ্বিতীয় ধাপে অসুস্থ মানুষটিকে কার্যকর কোন চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, তাদের ভাষাতে এটি রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ড মাত্র। ইখওয়ানুল মুসলেমিন ব্রাদারহুডের জন্ম ১৯২৮ সালে, মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, স্বৈরশাসকের চক্ষুশূল। এর প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল বান্নাকেও হত্যা করা হয়। সিসি আল ফাত্তাহর নেতৃত্বে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়, শত শত মানুষকে হত্যা ও হাজার হাজার পরিবারকে বিপদে ঠেলে দেয়া হয়। ফেরাউনের দেশ মিশরে আজো ফেরাউনরা সচল। স্বৈর শাসকের সাথে হাত মেলায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইল। মুরসীকে উৎখাতে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অকাতরে ঢালে । আরব বসন্তের প্রাদুর্ভাবে তারা শংকিত সব সময়। অপরপক্ষে জর্ডান, মরক্কো, তিউনিসিয়া, কুয়েত, ফিলিস্তিন, ও বহু দেশের মানবসেবার নানা কর্মে মুসলিম ব্রাদারহুডের অবদান জ¦লজ্যান্ত। তুরষ্ক কাতার এ অবৈধ সরকারকে সমর্থন দেয়নি। ময়দান থেকে সরিয়ে গণতন্ত্রকে পদদলিত করে ৫০ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিরব ভূমিকা পালন করে, যা মানবতার কলঙ্ক হয়ে জ¦লছে। মুরসীর এ মৃত্যু আদালত ও শাসনের কলংকজনক অধ্যায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলছে এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। সরকার ও পুলিশী হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।

আশংকা জাগছে মনে, মিসরের মত বাংলাদেশও কি আর একটি শহীদী মৃত্যুর অপেক্ষায় সময় পার করছে? মুরসী নবী মুসার কয়েক হাজার বছর পরে জন্মেও ঐদেশে এক নিরব প্রতিবাদী মৃত্যু দিয়ে অপরাধীদের কপালে কলঙ্ক তিলক এঁকে গেলেন। কায়রোর এক ভাড়া বাসাতে নিতান্ত সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন এ সাধু পুরুষ। খাশোগী হত্যাকান্ডের নায়ক ও মূল কারিগর সৌদি যুবরাজ সালমান প্রকাশ্য দাগে চিহ্নিত হয়ে আছেন। অপরাধীকে চিনতে হাজার হাজার দাগের কি দরকার পড়ে? কুরআন তো প্রকাশ্যভাবে এদের স্বরুপ স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে। এরা কারা, এদের সহজ পরিচয় এরা সবদিন সাধুদের প্রকাশ্য শত্রু। কারাগারে মুরসি একটি কুরআন শরিফ চাইলে তারা দিতে বাধা দেয়। তখন মুরসীর জবাব ছিল তারা কি জানে না আমি ৩০ বছর আগে পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেছি। কুরআন মুরসীর অন্তরে খোদাই করেই রাখা। একটি ইচ্ছে ছিল আল্লাহর কালামটি একটু ছুঁয়ে দেখা। মুসলিম নামধারী অনেক শাসক আছে যারা ধর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা জ্ঞানের চরম অজ্ঞতা ও ঘাটতি নিয়েই দেশ চালায়, গুম খুনের রাজত্ব চালায়, হারাম হালালের তোয়াক্কা না করে জাহান্নামের রসদ ঢক ঢক করে গিলে। মুরসী এদের থেকে অনেক অনেক উপরে অবস্থান করতেন। প্রধাণত এ আত্মত্যাগী মানুষটির অন্তরে সত্যের উপলব্ধি আঁচ করতে পেরেই বিরোধীরা তাকে জব্দ করে। কিন্তু সত্যকে কি এত সহজে মুছে দেয়া সম্ভব? এক মুরসী গত হলে লক্ষ মুরসীরা জেগে উঠতে কতক্ষণ? কারণ সত্যকে চিরদিন দাবিয়ে রাখা যায় না। সত্যের জন্ম হয় এক অদেখা সূত্র থেকে।

রোমানরা যখন ঈসা নবীকে শূলে চড়াতে চায় তখন সাধু নবী ঈসার প্রতি দরদী রোমান গভর্নর পিলেট তাকে জনরোষ থেকে বাঁচাতে রোমান চক্রান্তকারীদের কাছে একটি অপশন ছুড়ে দেন। একটি চিহ্নিত ডাকাতকে এনে হাজির করেন এই বলে যে, তোমরা চাইলে এই ডাকাত বারাব্বাসকে শূলে চড়াতে পার আর বিনিময়ে এই ব্যক্তিকে ছাড় দিতে পারি। রোমান ধর্মযাজকসহ জনতা ঐ সাধুরই শুলে বিদ্ধ মরণ চাইলো আর এমন সুযোগে ঐ ডাকাত মুক্ত হয়ে গেল। এটি হচ্ছে দু হাজার বছর আগের মধ্যযুগীয় সমাজের বিচারব্যবস্থা। আজকের যুগে বাংলাদেশও ঐ সব অপরাধের মাঝে ভয়ংকরভাবে আটকে আছে। সেখানে দেখা যায় কয় বারের খুনী অপরাধীরা যামাই আদর পায় জামিন পায়, অপরাধী মন্ত্রীরা সংসদে রাজা উজির মারে। কিন্তু খালেদা জিয়ার মত একজন শ্রদ্ধেয়া মহিলা যার বাচনিক অর্জন থেকে প্রতিটি সংযত আচরণ ও মর্যাদায় তিনি সব দিনই সাধারণের উপরে এক অনন্য উদাহরণ। এতিমের টাকা মারার তার কোন চিহ্নও নেই, বরং তা বেড়ে কয় গুণ হয়েছে।

সব যুগেই চক্রান্তকারীদের স্বরুপ কিন্তু এক। অপরাধীরা সব সময় এক লাইনে থাকে, একজন আরেকজনকে প্রশ্রয় দেয়। কারণ একজন আরেকজনের দোসর। সৌদি কি স্বার্থে সিসি আল ফাত্তাহএর সাথে গাটছড়া বাঁধে, শক্তিমানরা কেন সেখানে কারণ এদের স্বার্থ এক। পাকা রাধুনীর মত হাড়ির ভাত একটি টিপেই বুঝে নিন বাস্তবতা। কি কারণে কেন এবং কারা সোহেল তাজের ভাগনাকে তারাকান্দার বটতলা এলাকায় চোখ বাধা সৌরভকে গাড়ী থেকে ছুড়ে পালালো। এদের সৎ সাহস নেই বলেই এরা রাতের আঁধারে ভোট চুরি করে, মানুষ গুম খুন করে জঙ্গিগীত গেয়ে সব সাধুর নামে মিথ্যাচার করে, পেট্রোল বোমা ছুড়ে সাধুর নামে অপবাদ ছড়ায়। কিছুই লুকানো নেই। কে বা কারা পেট্রোল বোমা ছুড়ছে সব প্রমান ময়দানে, শুধু মিডিয়াকে চাপের মুখে রেখে মধ্যযুগের মতই বাংলার মুসাদেরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ক্ষমতান্ধ ফেরাউন।

সুসংগ্রহ: “তাদের অন্তরে ব্যারাম, তাই আল্লাহ তাদের জন্য ব্যারাম বাড়িয়ে দিয়েছেন; আর তাদের জন্য ব্যথাদায়ক শাস্তি, যেহেতু তারা মিথ্যা বলে চলেছে” (সুরা বাক্কারাহ এর ১০ আয়াত)। “ওহে যারা ঈমান এনেছ! সম্পূর্ণরুপে আত্মসমর্পণে দাখিল হও। আর শয়তানের পদচিহ্ন অনুসরণ করোনা। নিঃসন্দেহে সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু” (সুরা বাক্কারাহ ২০৮ আয়াত)।

লেখার তারিখ ২০ জুন ২০১৯সাল।

এ লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা “দি রানার নিউজ” ২৮ জুন, ২০১৯ এ ছাপা হয়েছে।

Tag Cloud