Articles published in this site are copyright protected.

নাজমা মোস্তফা

এরশাদ মুক্তিযুদ্ধ করেন নাই। রাজনীতির বা মুক্তিযুদ্ধের ধারে কাছে না থেকেও এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন অন্যায়ভাবে। সেটি জোর করে ধরে রেখে অতপর একজন আপোষহীন নেত্রীর নেতৃত্বে অপারগ হয়ে হাল ছাড়েন নব্ব্ইএর দশকে। সম্প্রতি তিনি মারা গেছেন। ঐ সময় তিনি রংপুরে ছিলেন তারপরও যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান চলে যান। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান প্রত্যাগতদের সাথে তিনি দেশে ফিরে আসেন। অতি মাত্রায় কপট অন্যায় ক্ষমতা লোভী এব্যক্তির পছন্দ রাজতন্ত্র।  রাজতন্ত্রের বাকশালী পথ মুজিবেরও শেষ জামানার স্বপ্ন, পরিকল্পনা ধ্যাণ ধারণা ছিল, যে পাপে তাকে সদলে প্রাণ হারাতে হয়। আমরা জানি নষ্টরা ওপথ পছন্দ করে বেশী,  শেখ হাসিনার পছন্দও ঐপথ, তাই আজো স্বাধীনতার প্রায় পঞ্চাশ বছর ছুঁই ছুঁই করছে আজো গণতন্ত্র শুধু কিতাবে গোয়ালে নেই, ময়দানে স্বৈরতন্ত্রই সার। যদিও ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯০ সালকে স্বৈরাচার পতন দিবস হিসাবে পালন করা হয়, কিন্তু এর মাঝে ঐ দুই নীতিহীনের বন্ধুত্ব গড়ে উঠে এবং সেটি আমৃত্যু চলমান থাকে। ৮৬এর পাতানো নির্বাচনে এরা দুজন দুইনামে চিহ্নিত হয়। একজন জাতির দেয়া তকমা স্বৈরাচার আর একজন নিজের দেয়া গালি কাঁধে জাতীয় বেঈমান হয়ে আছেন। ২০০৯ সালে হাসিনার ক্ষমতা দখলের পর এরশাদ বলেছিলেন “সেনাবাহিনীর ভূমিকা না থাকলে আওয়ামী লীগ জীবনেও ক্ষমতায় আসতো না  (দৈনিক আমাদের সময়, মার্চ ০৪, ২০০৯), তিনি আরো বলেছিলেন আমি অনেক কিছুই জানি, সময় হলে প্রকাশ করবো। এর মাঝে জাতি অনেক কিছুই জেনেছে। কিন্তু তার আর সময় হয়নি ওটি খোলাসা করার কারণ তাকে মাইনকার চিপায় ঠেসে ধরে রাখা হয়েছিল।

এরশাদ খুনী, তার হাতে রক্তের দাগ তবে তুলনামূলক হাসিনার থেকে অনেক অনেক কম। সময় ১লা জুন ১৯৮১ সাল। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অফিসে মেজর জেনারেল মঞ্জুর ধরা পড়লে একটি টেলিফোন আসে বঙ্গভবনে, এতে উত্তেজিত এরশাদ রেড টেলিফোনের কাছে ছুটে যান আর একটি নাম্বারে ডায়াল করেন। ও পাশ থেকে বলা হয়, মঞ্জুরকে পুলিশ আটক করেছে। উপস্থিত ময়দানের সাক্ষিরা এরশাদের চতুর বাণীর শ্রোতা “এক্ষুনী তাকে নিয়ে নাও। তারপর পরিকল্পনা মত কাজ করো” বলেই তিনি ত্বরায় টেলিফোন রেখে দেন। জিয়া হত্যার ১২ ঘন্টা পর একটি গল্প আকাশে বাতাসে প্রচার করা হয় যে, লোভী মঞ্জুর এ কাজ করেছে। এ সময় বিদেশী সাংবাদিক লরেন্স ছিলেন ভারতের বিহারে। উৎসাহী লরেন্স তিনদিন পর বেনোপোল সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় পৌছেন এবং মাত্র এক সপ্তাহ থেকে তিনি যথেষ্ট রসদ সংবাদ সংগ্রহ করেই ত্বরায় দেশ ছাড়েন কারণ পুলিশের বাধা। এদিকে এরশাদের নেতৃত্বে ঐ সময় বাংলাদেশের ঢাকা রেডিও থেকে ক্রমাগত এটি প্রচার করা হয় যে, মঞ্জুর “খুনী ও বিশ^াসঘাতক”। ভারত থেকে পাওয়া ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে এতদসংক্রান্ত অনেক যুক্তিতে হাসিনা এরশাদ জোটবাধা শাসকবর্গের যুক্তি খাপে খাপে মিলে। এরা উভয়েই ধরা খায়। যারা প্রকৃতই ভারতীয় দালালীতে বাংলাদেশ বিরোধী কাজে সরাসরি জড়িত। এরা দলে দলে দেশে সময়ে সময়ে পাকিস্তান পাকিস্তান বলে শুধু চিল্লায়, তাদের ভারতীয় দূর্নাম লুকানোর জন্য। জেনে রাখবেন, এরাই মিরজাফর উমিচাদ রায়দূর্লভের বংশধারা।

বিচারের নামে সেদিন ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দেয়া হয়। এরকম অভিনব এক এক্সপ্রেস ফিল্ড কোর্ট মার্শাল তাদের কোন আত্মপক্ষ সমর্থণের সুযোগও দেয় নি। বরং জোর করে তাদের দিয়ে বলানো হয় যে, ওটি ছিল একটি অভ্যুত্থান। তাদের ঐ মিথ্যা বলানোর জন্য তাদের প্রহার করা হয়, আঙ্গুল থেকে নখ উপড়ে ফেলা হয়, যৌনাঙ্গ পুড়িয়ে দেয়া হয়। নির্যাতীতরা এত কষ্টের মাঝেও অভিশম্পাদ দিতে কুন্ঠিত হন নাই। এসব চিত্র জুলফিকার আলী মানিকের সাহসী কলামে উঠে এসেছে। ঐ সময় কোন এক অজানা কারণে সরকারী কৌশলীরাও কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন নাই। বিকৃত ইতিহাস সৃষ্টিকারীরা যে নষ্ট ইতিহাস গড়তে কি ভয়ংকর দাগ রেখেছে এ তার নমুনা মাত্র।

তথ্যসূত্র: মতিয়ুর রহমান রেন্টুর আমার ফাঁসি চাই গ্রন্থ থেকে:-  ১৯৮২ সালের মার্চের ২৪ তারিখে এই ক্ষমতালোভী জেনারেল এরশাদ জনগণের নির্বাচিত বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এবং পরদিন একই উপায়ে ঐ বৃদ্ধের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে তাকে রেডিও টেলিভিশনের সামনে এনে পুতুলের আদলে দন্ড হাতে রেডিও টেলিভিশনে নিজের অযোগ্যতা ও তার সরকারের দুর্নীতি – স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি কারণ দর্শিয়ে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেবার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন এই প্রতারক এরশাদ।  এরশাদ দেশে সামরিক আইন জারি করে স্বয়ং হলেন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। শেখ হাসিনার গোপন আমন্ত্রণে ও সহযোগিতায় এরশাদ ক্ষমতার মালিক হয়ে জনগণের বুকে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেন (এরশাদকে ক্ষমতা গ্রহণের আমন্ত্রণ: ঐ গ্রন্থ ৪৬ পৃষ্ঠা)।

৮১ সালের ২৩শে ২৪শে মে টিএসসি তৃতীয় তলাতে কর্ণেল শওকত আলী (আওয়ামী লীগের এমপি, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী) বলেন, “জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম গেলে —– মেজর জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে জিয়াকে হত্যা করা হবে। এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে হাসিনা অবগত আছেন। কিভাবে এ দখল কাজ চট্টগ্রাম ঢাকাতে সমাধা হবে তার নির্দেশও সেখানে আছে। এরশাদসহ অন্যরা মঞ্জুরের সাথে থাকবেন। জেনারেল মঞ্জুর জিয়াকে হত্যা করেছে। ধূর্ত এরশাদ মঞ্জুরকে ত্বরায় হত্যার নির্দেশ দিয়ে নিজের অপরাধ ঢাকেন। হাসিনাই এরশাদকে জনগণের বুকের উপর বসান। জেল থেকে খালাস পাওয়া এরশাদের দাগী অপরাধীরাই ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডাঃ মিলনকে হত্যা করে (রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যা: ঐ গ্রন্থ ৪১ পৃষ্ঠা)।

ভারতীয় সানডে পত্রিকার ১৮তম সংখ্যায় প্রকাশিত ‘দি সেকেন্ড ওল্ডেস্ট প্রফেশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত “৭৫ সালের পর ইন্দিরা গান্ধীর অনুমোদন নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার চক্রান্ত বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়। ৮০ সালে ইন্দিরা ক্ষমতা লাভের পর এটি ঘটে, জাতি জানে হাসিনার অনেক অনেক ভোটের ব্যয়ভার বহন করে ভারত। আজ এসব ওপেন সিক্রেট, সচেতনরা জানেন, আগা থেকে গোড়া এ জুটি স্বাধীনতা বিরোধী মিরজাফরগংদের ভূমিকায় নামতে পেরেছে । ঢাকার নিউনেশন পত্রিকায় ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ তারিখেও এটি প্রকাশিত হয়। তার এ হত্যা সংবাদ প্রথমে আকাশবাণীতে প্রচারিত হয় (ঐ গ্রন্থ ৬৩ পৃষ্ঠা), ঠিক বিডিআর বিদ্রোহের মত যেন একই মঞ্চ নাটক। সেদিনের দুই পলাতক সেনা অফিসার আজো ভারতে বসবাস করছে (শাসছুর রহমান, বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক, সাপ্তাহিক বিচিত্রা, ২২ বর্ষ ৯ সংখ্যা, ২৩ জুলাই, পৃষ্ঠা ৩৭)। জিয়া হত্যার খবর পেয়ে সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার সময় শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সীমান্ত দিয়ে ভারত পাড়ি দেবার সময় সীমান্তরক্ষীদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন। (শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ১২ বছর, দৈনিক দিনকাল, ২০/৫/৯৩ সংখ্যা)। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জানতে চায় শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না। তার মানে তাকে গ্রেফতারের পক্ষে অনেক যুক্তি ছিল, তাই তারা সন্দেহ করে। জিয়া হত্যার সপ্তাহ দুই আগে শেখ হাসিনা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন জিয়া হত্যার এজেন্ডা নিয়ে, মজার বিষয় হচ্ছে জিয়াউর রহমানের সহযোগিতায় হাসিনা এদেশে আসেন আর বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুযোগ সুবিধা লাভ করেন যা তার বাবা চিরতরে রুদ্ধ করেছিলেন। (প্রয়াত সিরাজুর রহমানের কলামে এর অসংখ্য প্রমাণাদি বর্তমান)।

ডাকাতে ডাকাতে দোস্তি হয় ঠিকই, তারপরও কিছু বৈরীতাও গোপন থাকে। লেঃ জেঃ এরশাদ নামের খাটাশকে (হাসিনার কথামত) হাতের মুঠোয় রাখতে এজেন্ডা প্রাপ্ত শেখ হাসিনা নামকা ওয়াস্তে এক ভুয়া আন্দোলনের পরিকল্পনা হাজির করে রাজনীতির নামে ছাত্র হত্যা করান, তার পরিকল্পনা হলো লাশ লাগবে, তবে শুধু লাশ হলে হবে না, লাশটি হতে হবে এরশাদের পুলিশের হাতে মারা লাশ। টাকা যা লাগে লাগুক। ঐ পথে হাটতে তখন পুলিশের এক (নয়নবন্ড!) কোম্পানী কমান্ডার হাফিজুর রহমান লস্করকে নগদ টাকাতে কেনা হয়। সম্ভবত এসব বিষয়ে শেখ হাসিনা ভারতের প্রশিক্ষণ প্রাপ্তা। একের পর এক এ ধারার অসংখ্য অপরাধ বাংলাদেশে চলমান আছে এবং ঘটে চলেছে। ১৯৯৫ সালে প্রথমে মঞ্জুরের ভাই মঞ্জুর হত্যার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২২ বার বিচারক পরিবর্তিত হয়েছে (বিতর্কীত  ভাইবোনের কারসাজি!)। বিগত সময়ে একযোগে জেএমবির ৬৩ জেলাতে বোমা হামলা, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা, লগি বৈঠা দিয়ে ময়দানে মানুষ খুন, পেট্রোল বোমা নাটকে বারে বারেই সন্ত্রাসী আওয়ামীরা ধরা খায়, সেক্রেটারিয়েটের দিগম্বর কাহিনীর মত নিকৃষ্ট অশ্লীলতা, বিশ^বিদ্যালয়কে ডাকাতের গ্রাম বানানোর পেছনেও এরা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এ সরকারের পালিত সন্ত্রাসীরা বিগত শতকে র্ধষণের সেঞ্চুরী করে প্রকাশ্যে বাহবা কুড়িয়েছে। মানুষ খুন করলে এ সরকার তাদের পুরষ্কৃত করে। ২১ আগষ্ট ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিল পাশর্^বর্তী দেশ ও আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা (সূত্র: প্রথম আলো, ২১ আগষ্ট, ২০০৮ সাল), এ ছাড়া শত শত গুম খুন নাটকের চলমান প্রক্রিয়া ডিজিটাল গতিতে জাতিকে মৃত্যু কুপের দিকে ছুড়ে দিয়েছে। এর পেছনে এই দুই স্বৈর শাসক ও তাদের সাহায্যকারী বিদেশী শক্তি। এরা কে কত বড় বন্ধু, ও দেশপ্রেমিক সেটি মাপতে না পারা, এ জাতির ৫০ পূর্তির পূর্ব মুহূর্তের আকাশচুম্বী ব্যর্থতা।

উল্লেখ্য এনএসআইর নথিপত্রে জিয়াউর রহমান বা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধাচারণকারীদের তালিকায় জেনারেল এরশাদের নামও ছিল। ফলে ইত্যবসরে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় এসে প্রথমেই এনএসআই থেকে হাফিজুর রহমান লস্করকে ঝেটিয়ে বিদেয় করেন। এতে লস্কর এরশাদের উপর ক্ষুব্ধ থাকায় হাসিনার প্রস্তাবে শামিল হন আর হাসিনা এমন বাজপাখিকে খুঁজে বের করেন। শিকারীর নীলনকশা অনুযায়ী পরিকল্পনা হলো ছাত্রদের মিছিলটি কোন রকমে দোয়েল চত্বরে আনলেই হলো, বাকী কাজ আর্মড পুলিশ সামাল দিবে। (৪৮ পৃষ্ঠা)। ১৪ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৩ সাল।  বসন্ত উৎসব মুখর বিশ^বিদ্যালয়। ১২/১৩ ফেব্রুয়ারীতেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় নগদ অর্থ প্রদান করে স্থানকাল নির্ধারিত হয়। মিছিলটি যেই বাংলা একাডেমী ছেড়ে দোয়েল চত্বর ফেলে আসলেই হাফিজুর রহমান লস্করের আর্মড ফোর্সের গুলি গুড়ম গুড়ম ঠাস ঠাস; মুহূর্তের মাঝে জয়নাল ও জাফর লাশ হয়ে পরলোকে চলে গেল। বিশ^বিদ্যালয়ে নেমে এল শোকের ছায়া। থেমে গেল ফেব্রুয়ারীর বসন্ত উৎসব। ছাত্ররা তাদের নিহত সাথীদের নিয়ে শোকাহত ঐতিহাসিক বটতলায়। বিকেল তিনটায়, নিহত ছাত্রদের লাশ দেখে রুমাল দিয়ে চোখ মুছার ভান করতে করতে নেত্রী শেখ হাসিনা এলাকা ত্যাগ করলেন, পরবর্তী কোন কর্মসূচী ব্যতিরেকে। ইত্যবসরে এরশাদের সাথে যোগাযোগ করে মোচলেকা আদায় করেন যে তিনি কোন কর্মসূচী দেবেন না। এ খবর জানার পর আশ^স্ত হয়ে এরশাদ সরকার সমগ্র বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় চারদিকে পুলিশী ও মিলিটারী হামলা চালায়। প্রতিবাদী ছাত্ররা দিকবিদিক দৌড়াতে থাকে আর বেধড়ক মার খায়। চারদিকে পড়ে থাকে জুতা স্যান্ডেল। এভাবে ব্যর্থ হয় জাফর ও জয়নালের আত্মদান (যেন ফের মনে পড়ে ২১ আগষ্টের নিজ দলের আইভি নিধনের পরিকল্পিত রঙ্গমেলা!)। হাসিনা নিজের প্রয়োজনে যে কারো বুকে ছুরি বসাতে কুন্ঠিত নন। লেখক এসব অকপটে স্বীকার করেছেন।

পরের বছর ১৯৮৪ সাল, ঘুরে আসে বসন্ত আবার, আন্দোলনের মাস। ২৮ ফ্রেব্রুয়ারী, ৩০/৪০ জনের এক মিছিল আসবে, জানা গেল সেখানে পেছন থেকে হামলা হবে। যে কয়জন এটি জানে তারা মিছিলের সামনে সামনে থাকে। বিকেল পাঁচটা, যেই মিছিলটি নীমতলী পার হয়ে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে ঢোকে, সাথে সাথেই রায়ট পুলিশ তাদের লরিটি বিদ্যুৎ গতিতে মিছিলের উপর তুলে দিল। পিছনে থাকা সেলিম মুহূর্তে লরির চাকায় পিস্ট হয়ে যায়। বাকী অন্যরা ছিটকে দুপাশে ছড়ায়। দেলোয়ার সোজা প্রাণপণ দৌড়াতে থাকে। মুহূর্তে দেলোয়ারের শরীর চাকার সাথে পিষে মারে রায়ট পুলিশের লরি। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অধীর আগ্রহে অর্ডারী লাশের জমার অপেক্ষায় শেখ হাসিনা, খবর শুনে পুলকিত ও আনন্দিত হয়ে বলে উঠেন – সাবাস। যারা মারা গেল তারা বা তাদের স্বজনরা হয়তো আজো জানে না কিভাবে তাদের নয়নের মনিরা এভাবে মারা পড়ছে। সেদিনও তিনি অজ্ঞাত স্থানে চলে যান (পরবর্তী ষড়যন্ত্র করতে)। পরদিন ভোরেও অজ্ঞাত স্থানে বোরখা পরে তিনি অজ্ঞাত লোকের সাথে লং ড্রাইভে যান। এদিকে ছাত্ররা ঐ মৃত্যুগুলো নিয়ে আন্দোলন করতে চাইলে হাসিনা তাদের বাধা দেন। এবং তাদের স্বান্তনা দেন আমাদের মূল শত্রু জিয়া ও তার দল বিএনপি। জিয়া তো শেষ। আর এরশাদ মাত্র বিএনপি থেকে ক্ষমতা দখল করেছে। এখন থেকে আমাদের প্রধান কাজ হবে বিএনপিকে চিরতরে শেষ করে দেয়া। আমরা এরশাদের বিরুদ্ধে সরাসরি যাব না। আমাদের মূল শত্রু বিএনপি, এটি মনে রাখতে হবে। ছাত্ররা সেদিন ভগ্ন হৃদয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে তিনি বলেন আবেগাপ্লুত হয়ে লাভ নেই। সময় হলে এদের পরিবারকে পুষিয়ে দেয়া হবে। ছাত্রনেতারা কোন রকম কর্মসূচী ছাড়াই ভগ্ন হৃদয়ে সে স্থান ত্যাগ করে। (৫৩ পৃষ্ঠা, ঐ গ্রন্থ)। হায়রে মোটা মাথার ছাত্র নেতারা, তোমাদের বিবেক কেমন করে এত মরে গেল জানি না! কিসের মোহে ছুটে মরছো। তোমরা কি মানুষ না! আজো প্রার্থণা করি তোমরা শুধু মানুষ হও, আর কিছু না।

আসলো ১৯৮৬ নির্বাচন। এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পাকাপোক্ত অবস্থানে। এর মাঝে নিরবে নিঃশব্দে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি উল্লেখযোগ্য একক রাজনৈতিক শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত হলো। ষড়যন্ত্র চলছে— টাকার বস্তা আসতে থাকে। মুখ সেলাই করা ৯টি টাকার বস্তা। মাইক্রোবাসে করে আনা বস্তাগুলি ৩২ নম্বরের নীচতলার মাস্টার বাথরুমে রাখা হয়। জরুরী সংবাদ সম্মেলনের ডাক পড়ে ডাঃ কামালসহ অনেকেরই। কেউই এটি আগে জানতেন না, মাত্র চারজন ছাড়া। টাকার বাহক এস আই চৌধুরী / হাসিনা/ এরশাদ আর ডিজিডিএফ ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুল হাসান। তখন হাসিনা একদিনও কাল ক্ষেপন করতে রাজী নন। কারণ বিএনপিকে ল্যাং মেরে তাকে নির্বাচনে যেতে হবে। পরদিন ষ্টিলের ওয়ারড্রোব কেনা হলো। আর সেলাই করা বস্তার মাল সামানা ওখানে সাটা হলো। এভাবে জাতির বারোটা বাজার সব প্রক্রিয়া জোরেসোরে চলতে লাগলো। (৫৫ পৃষ্ঠা, ঐ গ্রন্থ)।

দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হলো। একভাগ এরশাদের ও হাসিনার পাতানো নির্বাচনে, অন্যভাগ খালেদা ও স্বৈরাচার পতনের ভাগে থাকলো। এ দেশটিতে এ যাবত যা ঘটছে তা ঘটাচ্ছে এসব দেশীয় দালাল যারা কখনোই দেশপ্রেমিক না, বরং এরা দেশ বিধ্বংসী শত্রু। এ দেশের প্রতিটি দুর্যোগ এরা মনের মাধূরী মিশিয়ে সাজায় আর সহজ সরল মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে নিজেরা নিজেদের আখের সামলায়। জনতাকে আবারো মনে করিয়ে দিতে চাই, কিভাবে তারেক জিয়াকে ফাঁসানো হয়েছে মিথ্যা মামলা দিয়ে, এসব তার নমুনা মাত্র। এর উপরও আমার বিস্তারিত লেখা আমার ব্লগে আছে। আপনারা সেটি পড়ে মূল ঘটনা জানতে পারেন। বিগত শতক থেকে কিভাবে রাহুর মত হাসিনা ও এরশাদ এ জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে, সেটি জাতিকে জানতে হবে। এ জাতির সমস্ত দুর্গতির মূলে এ দুই নষ্টের এক হওয়া ষড়যন্ত্রই, জাতিকে জাতির প্রতিটি সদস্যকে হুমকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ।

বাঘ যখন মানুষ খায় তখন তার নেশা বেড়ে যায়, সে বারে বারে মানুষ খেতে উৎসাহী হয়। একই দশা হয়েছে এসব স্বৈরশাসকদের। পরবর্তীতে এভাবে আবার আসলো ১৩ বস্তা টাকা, আগের থেকে ৪ বস্তা বেশী। এসব টাকার রং লাগে না, মুসলিম হয়েও স্বৈরাচাররা কখনোই হালাল হারাম সাদা কালো বুঝে না। টাকা হলেই হয়। টাকা আসছে গুলশানের সেই ব্যবসায়ী এস আই চৌধুরীর মাধ্যমে তিনটি মাইক্রোবাসে ৩২ নম্বরে। আগের জায়গায়ই বস্তা উঠানো হলো। আগে ছিল দশ কোটি টাকা এবার অনুমান পনেরো কোটি টাকা। ঐ টাকার খেলায় হাসিনা জাতির ঘাড়ে এরশাদকে আরো শক্তিশালী হয়ে স্বৈরশাসন চালাবার অঙ্গিকার দিয়ে মাঠে নামালো (ঐ গ্রন্থ, ৫৭ পৃষ্ঠা), এর সাক্ষ্যদাতা মটর সাইকেল আরোহী নিজে, এই ১৫ কোটি টাকার বিষদাঁত আজো জাতির মজ্জা চোষে খাচ্ছে। আজকে ওটি কত হাজার কোটিতে গেছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ আজ সেটি আরো শক্ত হয়ে জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতই চেপে বসেছে।

আপনারা সত্য জানুন আর এর সফল পরিণতি নিজ চোখে দেখুন। ওরা এ জাতির ছারপোকা, জেনে বুঝেই জাহান্নামের পথে হেটেছে গদীর লোভে। জেনে রাখুন ওরাই হবে পাথরের ও আগুণের খোরাক কুরআনের হিসাবে। আপনারাই ঐ দেশে সবচেয়ে বড় নির্যাতীত সদস্য, তাই আজকে আপনাদের নিজেদের জন্য দোয়া দাওয়া প্রচার ও সুবিচার সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক।

১৫ই জুলাই ২০১৯।

 

 

 

Advertisements

নাজমা মোস্তফা 

আজ জুলাই এর এক তারিখ। বিগত ২৪ বছর অর্থাৎ দুই যুগ পূর্ব মিথ্যা সাজানো মামলার রায় হবে মাত্র দুদিন পর ০৩ জুলাই ২০১৯। হয়তো আমার এ কলামটি আসতে পারে পরবর্তী সপ্তাহে, ততদিনে মিথ্যা মামলার মিথ্যা রায় ময়দানে এসে যাবে, বিচারক রুস্তম আলী। ঘটনা ঈশ^রদী, পাবনা আর ভৌতিক মামলার আসামীরা স্থানীয় বিএনপির ময়দানের কর্মীরা। প্রথম আলোর প্রথম জুলাইএর বিবরণে প্রকাশ ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরাঞ্চলে দলীয় কর্মসূচিতে শেখ হাসিনা ট্রেনে করে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ঈশ^রদী প্রবেশের সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা আতর্কিত গুলি, বোমাবর্ষণ ও হামলা চালান। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেন। বোমার আঘাতে তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন ও পুলিশের কয় সদস্যরা আহত হন। ঐ সময় ঈশ^রদী পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে এ মামলার ৫২জনকে আসামী করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগ দাখিল করা হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর ৯ মাস ৯ দিন পর আগামী বুধবার রায়। এদের ৩০ জন আসামী আদালতে হাজির হলে তাদের জামিন বাতিল করে তাদেরে কারাগারে পাঠানো হয়। ৫ জন বিভিন্ন সময় মারা গেছেন। বাকী আসামীরা গতকাল আদালতে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

একরাশ মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রে ভরা দেশটির অসংখ্য নাবলা কথা জনসম্মুখে উঠে এসেছে একটি বইএ। বইটির নাম “আমার ফাঁসি চাই” লেখক মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টু। কিছু প্রশ্ন কিছু কথা: দুশো আড়াইশ পৃষ্ঠার বই, লেখক একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ছাত্র অবস্থাতেই যুদ্ধে যোগদান করেন ক্লাস নাইনে থাকতেই। অতঃপর ১৯৮১ সালের ১৭ই মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরদিন থেকে ১৯৯৭ সালের ১৫ই জানুয়ারী পর্যন্ত ১৬ বছর তিনি হাসিনার সাথে ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কীত ছিলেন। তার স্ত্রী নাজমা আক্তার ময়না ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯ বছর শেখ হাসিনার অবৈতনিক হাউজ সেক্রেটারী ছিলেন। “১৯৯৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জননেত্রী শেখ হাসিনা বিমানযোগে যশোর হয়ে খুলনা এসে বিকেলে শহীদ হাদিস পার্কে ভাষন দেন। রাত্রে তার চাচাতো ভাই শেখ নাসেরের বড় ছেলে শেখ হেলালের বাড়ীতে খান ও থাকেন। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল নয়টায় উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে ট্রেন যাত্রা শুরু করেন। সাধারণ যাত্রী সহযোগে বেশ লম্বা ট্রেন। ট্রেনের সাধারণ যাত্রীরা জানেও না বা বুঝতে পারছে না হাসিনার সভা করতে যাওয়া এই ট্রেন কবে কখন গন্তব্যে পৌছাবে।

ঠিক নয়টায় ট্রেন ছাড়ে। প্রতি ষ্টেশনেই ট্রেন থামিয়ে সভা চলছে। ট্রেন থেকে নেমে সভাস্থলে সভা করে ফেরত আসতে ১ ঘন্টা সময় লাগছে। এভাবে প্রতি স্টেশনে গড়ে ১ ঘন্টা করে দিন পেরিয়ে রাত নামলো। শেখ হাসিনার ঢাকা থেকে আসা ডজন খানেক সাংবাদিক (তার ভাষায় সাংঘাতিক) সাথে রয়েছে। সবই বিশাল আয়োজন। ট্রেনের শেষের দিকে একটি ভিআইপি স্পেশাল কামরায় বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা, ঐ কম্পার্টমেন্টের সামনে ও পিছনে নেত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল এসবি ব্রাঞ্চ পুলিশের বারো জন সদস্য। তার পরের কম্পার্টমেন্টে সাংবাদিকগণ, এরপর বাকী সব কম্পার্টমেন্টে সাধারণ যাত্রী। এই দীর্ঘ বিলম্বে বাকীদের ত্রাহি মধুসুদন অবস্থা। ছয় ঘন্টার রাস্তা চব্বিশ ঘন্টায়ও না ফুরানোয় পানিসহ সকল খাবার ফুরিয়ে গেলে সাধারণ যাত্রীদের কষ্ট ও দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে পৌছে। তৃষ্ণার্ত ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না ও আহাজারিতে অনেকে গন্তব্যের আগে ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে বাঁচে। অপর দিকে প্রতিটি স্টেশন থেকে অফুরন্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি (মিনারেল ওয়াটার) পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা হয়। সারা দিনে নেত্রী প্রায় কুড়িটির মত রেলস্টেশনে জনসভায় এভাবে ভাষন দেন। রেলস্টেশন ছাড়াও উৎসুক জনতা ট্রেন থামালে সেখানেও তিনি বক্তৃতা করেন এবং সাংবাদিকরা সব লিপিবন্ধ করছেন। রাতের আঁধারে একই বক্তৃতা বার বার শুনতে শুনতে সাংবাদিকদের প্রায় মুখস্ত হওয়ায় শেষ দিকে তারা অনেকেই ট্রেন থেকে নেমে সংবাদ লিপিবদ্ধ করতে যাননি। রাত তখন ১১টা ১৭ মিনিট। ঈশ^রদী পৌছার পূর্ব মুহূর্তে শেখ হাসিনা বলেন, আমি এত যামাই আদরে এদেরে এনেছি আর তারা ঘুমাচ্ছে, এত লোক হচ্ছে আর বক্তৃতা করছি কিছুই তাদের নজরে আসছে না। এসব সাংবাদিকদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে আমার জনসভাতে পাঠাও যেন পরদিন সব পত্রপত্রিকায় ভালো নিউজ হয়।  এ সময় শেখ হাসিনার বেতনভুক এক কর্মচারী মদন মোহন দাস বলল, ‘ডাইকা ঘুম ভাঙ্গন লাগবো না। পিস্তল দিয়া কয় রাউন্ড গুলি করলেই সাংঘাতিক গো ঘুম কই যাইব, লাফাইয়া ট্রেন থাইক্যা নীচে পইড়া যাইবো।’ 

আলাউদ্দিনের প্রদীপ পাওয়ার মত সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনা তখন তার বাবার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে বাহাউদ্দিন নাসিমকে বললেন, ‘দে দুই রাউন্ড গুলি করে। আর উপস্থিত অন্যদেরে বললেন, তোমরা আমাকে (হাসিনাকে) হত্যার জন্য ট্রেনে গুলি করা হয়েছে বলে সাংঘাতিকদের মাঝে প্রচার করে দেবে।’ ট্রেন ঈশ^রদী প্ল্যাটফর্মে ঢোকার কয়েক মিনিট আগে বাহাউদ্দিন নাসিম ট্রেনের জানলা দিয়ে সাংবাদিকদের কম্পার্টমেন্ট লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড গুলি ছুড়লো। গুলির শব্দ শুনে হাসিনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশরাও ৫-৬ রাউন্ড গুলি করে। এ আওয়াজে পাশের কম্পার্টমেন্টে থাকা সাংবাদিকরা ভয়ে ট্রেনের ভিতরে গড়াগড়ি শুরু করে এবং আমরা (রেন্টুগং) পরিকল্পনামত সাংবাদিকদের কম্পার্টমেন্টে এসে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ট্রেনে গুলি করা হয়েছে বলে প্রচার করতে থাকি। ট্রেন ঈশ^রদী প্ল্যাটফর্মে থামলে, ঈশ^রদী রেলস্টেশনের জনসভার মঞ্চ থেকে মাইকে আওয়ামী লীগ সদস্য আমির হোসেন আমু শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ট্রেনে গুলি করা হয়েছে বলে প্রচার করেন। জাতীয় পত্র পত্রিকায় সংবাদ বের হলে বগুড়া সরকারী সার্কিট হাউসের ভিভিআইপি রুমে বসে শেখ হাসিনাসহ তার সফর সঙ্গীরা (যারা মূল ঘটনা জানে) হাসাহাসি করতে থাকে। এবং হাসাহাসির এক পর্যায়ে গুলির এই ঘটনা নিয়ে হরতাল ডাকার সিদ্ধান্ত হয় (ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৭৩,৭৪,৭৫)।

সবার শেষে বলতে চাই গুলির মামলার বিচারের সবকিছুর মূলে এই আলাউদ্দিনের প্রদীপসম পাওয়া মদন আর তাদের মদনীয় মিথ্যাচার। এই বইটি এতই গুরুত্বপূর্ণ একটি বই, যা বিগত শতক থেকে শুরু করে এ জাতীর অনেক অনেক মানবসৃষ্ট দুর্ভোগের চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। এটি যেকোন বিবেকবান সচেতনকে এ নিয়ে বার বার চিন্তা করতে হবে। আর কিছু না পারলে আপনারা সবাই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে হলেও বইটি পড়েন ও জানেন দেশের প্রকৃত অবস্থা; দেশ কত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সুক্ষ্ম গবেষনা বিশ্লেষণ সঠিক দিকদর্শন ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ ছাড়া মানুষের বাঁচার কোন বাস্তব রাস্তা নেই। সেখানে ঈশ^রদীর বিচারক থেকে ফরিয়াদী আসামী সবাই ধরা পড়বেন, অলরেডী সবাই তালিকায় নাম উঠিয়ে নিয়েছেন, চলমান ঘটনার সময়ই জগত ঈশ^রের খাতায় তা লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে, শুধু রায়ের অপেক্ষায়।

লেখকের কথায় প্রকাশ শেষের দিকে সত্য কথা বলার দৃঢ়তা আমাদেরে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের কাছে বিপজ্জনক করে তুলেছিল। ব্যক্তিগতভাবে যিনি অসৎ বেঈমান, মিনকহারাম এবং মুনাফেক তিনি কি রাষ্ট্রীয় বা সমাজ জীবনে সৎ ঈমানদার হতে পারেন। বইটির প্রকাশকের কথা : “৮১ থেকে ৯৭  পর্যন্ত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেপথ্যের অনেক কাহিনীর বর্ণনা লেখক তার এই গ্রন্থে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এ কথা নিশ্চিত বলা যায় যে, আমার ফাঁসি চাই বইটি পড়লে যে কেউ বিশেষত তরুণ যুবক ছাত্র সম্প্রদায় রাজনৈতিক প্রতারণার হাত থেকে বেঁচে যাবেন।” প্রকাশকের এ কথার সাথে আমিও সচেতনদের একজন হয়ে একাত্বতা প্রকাশ করছি। আল্লাহ জগতের সকল নির্যাতীতের হেফাজত করুক।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: উল্লেখ্য উক্ত লেখার মূল অংশটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ৫ জুলাই ২০১৯ সংখ্যা সাপ্তাহিক “দি রানার নিউজ” মাগাজিন ছেপেছে। কলামটিতে লেখকের বর্ণনাতে এটি খুব স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে কিভাবে একজন গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী তার বিরোধী দলীয় নেত্রীর সাথে আচরণ করেছেন আর অন্যদিকে কিভাবে একজন বর্তমানের বিনাভোটের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী একজন বিরোধী নেত্রীর প্রতি অমানবিক হুমকি ধমকির বিধান চালু করেছেন। সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না, জাতির জানা। এতে এই দুজনারই আমলনামা স্পষ্ট হয়ে পড়ছে। এখানেও জাতির জন্য অনেক আশা নিরাশার বাণী লুকিয়ে আছে।

রায়ের পর পত্রিকা অবলম্বনে প্রতিক্রিয়া: উক্ত মামলায় ০৩ তারিখের রায়ে ৯ জনের ফাঁসি, ২৫ জনের যাবজ্জীবন আর ১৩ জনের ১০ বছরের কারাদন্ড হয়েছে। এর ভিত্তিতে আরো কিছু কথা না বললেই নয়। সম্পূর্ণ মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে একটি দেশ চলছে, এর অসংখ্য উদাহরণ উপরে নীচে ডানে বামে সবদিকে ছড়িয়ে আছে। বিচার বিভাগ ও পুলিশ বিভাগ উঠবস করে অবৈধ সরকারের কড়া হুকুমে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তম উদাহরণ হিসাবে মানুষ উত্তর কোরিয়ার উদাহরণ টানে। প্রথম আলোর নিউজে এসেছে ঐ সময় মামলা দায়েরের পরে পুলিশ অভিযোগের কোন সাক্ষী না পেয়ে আদালতে ওটি জমা দেয়। তখন আদালত সেটি গ্রহণ না করে মামলাটি সিআইডিতে পাঠায়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে হাসিনা সরকার এসে পুনঃতদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ৫৭ জনের নামে আবার নতুন অভিযোগপত্র জমা দেয়। ঐ ঘটনার বিবরণ হিসাবে আনা হয় শ্যামল দত্তের ভোরের কাগজের সংবাদ। খবরের শিরোনাম: শেখ হাসিনার ট্রেন যাত্রায় বাধা, গুলি বোমা অর্ধশত আহত। — গোটা শহরে বোমাবাজি চলতে থাকে। আওয়ামী লীগের হাজার খানেক কর্মীর উপর হামলা হয়।

তৎকালীন সরকারের প্রেস নোট: ভোরের কাগজের প্রেস নোটের অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। খবরটিতে সরকারের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে এ অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। ট্রেনটি স্টেশনে পৌছানোর আগে উশৃংখল সমর্থকদের মাঝে কিছু ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পটকা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই ধারার খবর ছাপে মানবজমিন যে, ১৯৯৬ সালে এর পুনঃতদন্ত হয় এবং নতুনকরে বিরোধীদলের ৫২ জনকে আসামী করা হয়। নয়াদিগন্তও একই ধারার খবর ছাপে। ঘটনার দিন জিআরপি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। সত্যতা না পাওয়ায় এর তিন বছর পর হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মামলার চার্জসিট দাখিল করে। এর মাঝে ৬ জন ইতমধ্যে মারা যান। বিএনপির সহতথ্য ও গবেষনা সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এটা একটি হাস্যকর মামলা। এতে মৃত্যুদন্ড কি কোন সাজা হওয়ারও কথা নয়। এ রায় পৃথিবীর নজির বিহীন রায় বলে আমি মনে করি। কারণ ঐদিন আমি নিজে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক থাকার কারণে শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী ছিলাম। আমি ঐ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। এ ঘটনায় মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন হতে পারে না। রায়ের পর আদালত থেকে বের হলে তার উপর হামলাও করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। আশা করি বাংলাদেশে শ্যামলদত্ত ছাড়াও মানুষ বাস করেন। ঐ দেশে ঐ সব দেশ বিরোধী গুটিকয় দালাল ছাড়াও যদি কোন পত্রিকা বা কোন সম্পাদক থেকে থাকেন তবে তাদের নিজেদের স্বার্থে ও দেশটির স্বার্থে আপনারা সোচ্চার হন। একজন সত্যসন্ধানী গবেষক লেখক, কলামিস্ট হিসাবে এসব অনাচারের বিরুদ্ধে এ নোংরামির কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি ও প্রকৃত সত্য উন্মোচনের  দাবী জানাচ্ছি।

সুসংগ্রহ: “আর যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না। নিঃসন্দেহ শ্রবণ শক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ—এদের প্রত্যেকটিকে তাদের সম্বন্ধে সওয়াল করা হবে (সুরা বনি ইসরাইলের ৩৬ আয়াত)।”

০৩/০৭/২০১৯ তারিখ

https://amarfashichai.blogspot.com/2013/07/amar-fashi-chai-by-motiur-rahman-rentu.html

নাজমা মোস্তফা 

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সংগ্রামী জনতাকে ময়দান থেকে সরিয়ে দেবার এজেন্ডা নিয়েছে সরকার ও তার সহযোগিরা। বিগত শতকের শেষ দশক থেকে “এই জিয়া সেই জিয়া নয়” বলে এ প্রজেক্টে হাত দেন ভারত ফেরত মুজিব কন্যা নিজে (রেন্টুর গ্রন্থে প্রকাশ)। সত্যকে অস্বীকার করার এ এজেন্ডায় তিনি দল গড়ে তুলেন আর সমানেই প্রচার করেন আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। এটি কি আল্লাহ ভীতির নমুনা? দেশ থেকে গণতন্ত্রের দাগচিহ্ন মুছে দিতে তার জুড়ি মেলা ভার। নিকট সময়ে তাকে মানুষ মিশরের সিসির সাথে তুলনা করছে আর তার প্রধান শত্রু খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পথিকৃত সবদিন, খালেদাকে মুরসীর সাথে তুলনা করা হচ্ছে। মুরসীর এরকম ঘটনা যে তারা ঘটাবে এ শংকা করেছেন অনেকে। সত্যবাদী সক্রেটিস একজন, কিন্তু মধ্যযুগের বিচারকরা প্রকৃত অপরাধী ও ধিকৃত সবদিন। সম্মান ও মর্যাদা সক্রেটিসের ভাগে আজো জমছে। বাংলাদেশে সুরেন্দ্র কুমারসহ আরো বিচারকরা স্পষ্ট করে গেছেন দেশের ভয়ংকর বিচার ব্যবস্থা। ময়দানের বিচারকরা সরকারের গোলাম নাহলে বহিষ্কার তাদের পাওনা। সত্য উন্মোচনকারী সাংবাদিকের ভাগ্যে জমে পলায়ন। যিনি পালাতে জানেন না, তাকে কারারুদ্ধ করা হয় বছরের পর বছর, তাদের পত্রিকায় সিলগালা পড়ে, আইয়ুব সরকারও যত সংযম দেখিয়েছে, তার ছেটেফোঁটাও অবৈধ পথে আসা সরকারে নেই।

সোহেল তাজের ভাগনাকে গুম করে গিলতে না পেরে ছুড়ে দিয়ে অদেখা অধরা গুম হত্যাকারী ময়দানে আবারো স্পষ্ট হলো। এতিমের টাকা চুরি, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা, ২১ আগষ্টের ঘটনায় এতই অস্পষ্টতা ও অসত্য অনাচার জড়িয়ে আছে যে ঐ কটি ঘটনা ছাড়া দেশে কোন বিশৃংখলা ঘটে নাই, সরকার এটি প্রমাণে ব্যস্ত। আর কিছু ঘটলেই তার দায় নেয়ার জন্য খালেদা জিয়া জামায়াত ও তাদের দল জমা আছেই। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাঙ্কসহ শেয়ারবাজার বালিশ কান্ড, কয়গুণ নির্মাণ ব্যয়ের মহামেলা সবই ঢেকে রাখা। কিছুই প্রকাশ করা যাবে না, সত্য বলার নামে মিথ্যার মহামেলা চলছে দেশে। খালেদার মত সত্যকে আটক না করলে উপায় নেই। রুমিনকে সংসদে দেখে তারা যেমনি কাঁপে, খালেদাকে দেখলে কয়গুণ বেশী কাঁপে। সিসি যে কারণে মুরসীর গলাটিপে ধরলেন একই কারণে খালেদাও আক্রান্ত। কারণ তিনি জনপ্রিয়, তিনবারের সঠিক নির্বাচনের বৈধ গণতান্ত্রিক জিতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী। অপরপক্ষে অবৈধ পথ ছাড়া জিতবার উপায় নেই জেনেই এ পথ লুফে নিয়েছে। তারা মুখে আল্লাহ উচ্চারণ করে শুধু স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। চুরেও চুরির আগে আল্লাহর নাম নেয়। এরা আল্লাহর সত্যকে বুঝেনি মানে নি, মনে করে অদেখা নাটক।

মুরসীকে কারাগারে পাঠিয়ে বাকীদেরে ফাঁসি দিয়ে হাজার হাজার আসামী না করলে ক্ষমতা ধরা দেয় না। তাই ৫২% ভোটে নির্বাচিত একজন গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টকে ময়দান থেকে সরাতে চিকিৎসাসেবা না দেয়া, স্লোপয়জনিং এর দিকে ঠেলে দেয়ার সব যুক্তি তার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে, হিউম্যান রাইটস সহ সচেতনরা শংকা প্রকাশ করেছেন। লাশ না ফেরার দেশে চলে গেছে, তবে সত্যটা জানুন, বিচার হবে এটা নিশ্চিত। একই প্রচেষ্ঠা চলমান আছে খালেদা জিয়ার জন্য। কারণ গণতন্ত্রের জীবন্ত উদাহরণ ময়দানে থাকলে অপকর্মীরা বেকায়দায় পড়ে, তাই একই কায়দা রপ্ত করে এ ধারার অপরাধীরা। ন্যালসন ম্যান্ডেলার মতই কারারুদ্ধ করে গভীর রাতে ভোট সমাধা করাকে যারা বিজয়ের নমুনা ভাবছেন তারা দিশেহারা তো বটেই, ইহ ও পরকালের পথহারা। একটি ইউটিউবে দেখছিলাম শিল্পমন্ত্রী বলছেন, সারা বিশে^ বাংলাদেশ রোল মডেল। এরা মুষ্টিমেয় কয়জন নিজেরাই নিজেদের রাজাগিরির ঢোল পিটায়। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরের কাছাকাছি সময়ে গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে স্বৈরগণতন্ত্র নামের রোল মডেল বানিয়ে নিজেরাই হাততালি দিচ্ছে। এটিও তাদের মিথ্যাচারের মাত্রাটা বুঝায়। গুটিকয় দেশবিক্রেতা দালালের কাছে দেশটি কি ধরণের কাঁচামাল যা চেটেপুটে লুটে খাওয়া যায়। যদিও প্রধানমন্ত্রী বলছেন এখন লুটার মত টাকা নেই ব্যাঙ্কে। কারণ ইতমধ্যে ব্যংকলুট শেষধাপে। তাই ভিন্ন খাতের দিকেই শিকারীর নজর।

বাংলাদেশের জন্য মুরসী এক অনন্য উদাহরণীয় সাইরেন ধ্বনি। মুরসীর খবর তুরষ্ক প্রকাশ করায় মিসর সরকার তাদের গণমাধ্যম ব্লক করে দেয় (১৮ জুন যুগান্তর)। একই ধারা বাংলাদেশের গণমাধ্যম জিয়া পরিবারের জন্য সব নিষিদ্ধ করে রেখেছে। এসব করে চলেছে বড় সময় থেকে। বিরোধীকে কথা বলতে, মিটিং মিছিল করতে দেয়া হয় না, তৃণমূল থেকে নেতাদের পেছনে শত শত মামলা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অপকর্মীরা যত হাততালিই দিক বৃহত্তর স্বার্থে আত্মত্যাগীরাই শহীদ মর্যাদার অধিকারী, কুরআন বলে যারা সত্যের জন্য মরে তারা শহীদ, এদেরে মৃত বলো না, বরং এরা জীবিত। মুরসি শুধু একজন প্রেসিডেন্টই ছিলেন না, তার অসাধারণ অর্জন ছিল অনেক দিকেই, একজন ইঞ্জিনিয়ার, ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, নাসার কাজেও একসময় তিনি জড়িত ছিলেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের এ নেতা মিশরের একমাত্র নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে প্রথম ধাপে ময়দান থেকে সরায়। আর দ্বিতীয় ধাপে অসুস্থ মানুষটিকে কার্যকর কোন চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, তাদের ভাষাতে এটি রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ড মাত্র। ইখওয়ানুল মুসলেমিন ব্রাদারহুডের জন্ম ১৯২৮ সালে, মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, স্বৈরশাসকের চক্ষুশূল। এর প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল বান্নাকেও হত্যা করা হয়। সিসি আল ফাত্তাহর নেতৃত্বে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়, শত শত মানুষকে হত্যা ও হাজার হাজার পরিবারকে বিপদে ঠেলে দেয়া হয়। ফেরাউনের দেশ মিশরে আজো ফেরাউনরা সচল। স্বৈর শাসকের সাথে হাত মেলায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইল। মুরসীকে উৎখাতে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অকাতরে ঢালে । আরব বসন্তের প্রাদুর্ভাবে তারা শংকিত সব সময়। অপরপক্ষে জর্ডান, মরক্কো, তিউনিসিয়া, কুয়েত, ফিলিস্তিন, ও বহু দেশের মানবসেবার নানা কর্মে মুসলিম ব্রাদারহুডের অবদান জ¦লজ্যান্ত। তুরষ্ক কাতার এ অবৈধ সরকারকে সমর্থন দেয়নি। ময়দান থেকে সরিয়ে গণতন্ত্রকে পদদলিত করে ৫০ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিরব ভূমিকা পালন করে, যা মানবতার কলঙ্ক হয়ে জ¦লছে। মুরসীর এ মৃত্যু আদালত ও শাসনের কলংকজনক অধ্যায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলছে এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। সরকার ও পুলিশী হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।

আশংকা জাগছে মনে, মিসরের মত বাংলাদেশও কি আর একটি শহীদী মৃত্যুর অপেক্ষায় সময় পার করছে? মুরসী নবী মুসার কয়েক হাজার বছর পরে জন্মেও ঐদেশে এক নিরব প্রতিবাদী মৃত্যু দিয়ে অপরাধীদের কপালে কলঙ্ক তিলক এঁকে গেলেন। কায়রোর এক ভাড়া বাসাতে নিতান্ত সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন এ সাধু পুরুষ। খাশোগী হত্যাকান্ডের নায়ক ও মূল কারিগর সৌদি যুবরাজ সালমান প্রকাশ্য দাগে চিহ্নিত হয়ে আছেন। অপরাধীকে চিনতে হাজার হাজার দাগের কি দরকার পড়ে? কুরআন তো প্রকাশ্যভাবে এদের স্বরুপ স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে। এরা কারা, এদের সহজ পরিচয় এরা সবদিন সাধুদের প্রকাশ্য শত্রু। কারাগারে মুরসি একটি কুরআন শরিফ চাইলে তারা দিতে বাধা দেয়। তখন মুরসীর জবাব ছিল তারা কি জানে না আমি ৩০ বছর আগে পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেছি। কুরআন মুরসীর অন্তরে খোদাই করেই রাখা। একটি ইচ্ছে ছিল আল্লাহর কালামটি একটু ছুঁয়ে দেখা। মুসলিম নামধারী অনেক শাসক আছে যারা ধর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা জ্ঞানের চরম অজ্ঞতা ও ঘাটতি নিয়েই দেশ চালায়, গুম খুনের রাজত্ব চালায়, হারাম হালালের তোয়াক্কা না করে জাহান্নামের রসদ ঢক ঢক করে গিলে। মুরসী এদের থেকে অনেক অনেক উপরে অবস্থান করতেন। প্রধাণত এ আত্মত্যাগী মানুষটির অন্তরে সত্যের উপলব্ধি আঁচ করতে পেরেই বিরোধীরা তাকে জব্দ করে। কিন্তু সত্যকে কি এত সহজে মুছে দেয়া সম্ভব? এক মুরসী গত হলে লক্ষ মুরসীরা জেগে উঠতে কতক্ষণ? কারণ সত্যকে চিরদিন দাবিয়ে রাখা যায় না। সত্যের জন্ম হয় এক অদেখা সূত্র থেকে।

রোমানরা যখন ঈসা নবীকে শূলে চড়াতে চায় তখন সাধু নবী ঈসার প্রতি দরদী রোমান গভর্নর পিলেট তাকে জনরোষ থেকে বাঁচাতে রোমান চক্রান্তকারীদের কাছে একটি অপশন ছুড়ে দেন। একটি চিহ্নিত ডাকাতকে এনে হাজির করেন এই বলে যে, তোমরা চাইলে এই ডাকাত বারাব্বাসকে শূলে চড়াতে পার আর বিনিময়ে এই ব্যক্তিকে ছাড় দিতে পারি। রোমান ধর্মযাজকসহ জনতা ঐ সাধুরই শুলে বিদ্ধ মরণ চাইলো আর এমন সুযোগে ঐ ডাকাত মুক্ত হয়ে গেল। এটি হচ্ছে দু হাজার বছর আগের মধ্যযুগীয় সমাজের বিচারব্যবস্থা। আজকের যুগে বাংলাদেশও ঐ সব অপরাধের মাঝে ভয়ংকরভাবে আটকে আছে। সেখানে দেখা যায় কয় বারের খুনী অপরাধীরা যামাই আদর পায় জামিন পায়, অপরাধী মন্ত্রীরা সংসদে রাজা উজির মারে। কিন্তু খালেদা জিয়ার মত একজন শ্রদ্ধেয়া মহিলা যার বাচনিক অর্জন থেকে প্রতিটি সংযত আচরণ ও মর্যাদায় তিনি সব দিনই সাধারণের উপরে এক অনন্য উদাহরণ। এতিমের টাকা মারার তার কোন চিহ্নও নেই, বরং তা বেড়ে কয় গুণ হয়েছে।

সব যুগেই চক্রান্তকারীদের স্বরুপ কিন্তু এক। অপরাধীরা সব সময় এক লাইনে থাকে, একজন আরেকজনকে প্রশ্রয় দেয়। কারণ একজন আরেকজনের দোসর। সৌদি কি স্বার্থে সিসি আল ফাত্তাহএর সাথে গাটছড়া বাঁধে, শক্তিমানরা কেন সেখানে কারণ এদের স্বার্থ এক। পাকা রাধুনীর মত হাড়ির ভাত একটি টিপেই বুঝে নিন বাস্তবতা। কি কারণে কেন এবং কারা সোহেল তাজের ভাগনাকে তারাকান্দার বটতলা এলাকায় চোখ বাধা সৌরভকে গাড়ী থেকে ছুড়ে পালালো। এদের সৎ সাহস নেই বলেই এরা রাতের আঁধারে ভোট চুরি করে, মানুষ গুম খুন করে জঙ্গিগীত গেয়ে সব সাধুর নামে মিথ্যাচার করে, পেট্রোল বোমা ছুড়ে সাধুর নামে অপবাদ ছড়ায়। কিছুই লুকানো নেই। কে বা কারা পেট্রোল বোমা ছুড়ছে সব প্রমান ময়দানে, শুধু মিডিয়াকে চাপের মুখে রেখে মধ্যযুগের মতই বাংলার মুসাদেরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ক্ষমতান্ধ ফেরাউন।

সুসংগ্রহ: “তাদের অন্তরে ব্যারাম, তাই আল্লাহ তাদের জন্য ব্যারাম বাড়িয়ে দিয়েছেন; আর তাদের জন্য ব্যথাদায়ক শাস্তি, যেহেতু তারা মিথ্যা বলে চলেছে” (সুরা বাক্কারাহ এর ১০ আয়াত)। “ওহে যারা ঈমান এনেছ! সম্পূর্ণরুপে আত্মসমর্পণে দাখিল হও। আর শয়তানের পদচিহ্ন অনুসরণ করোনা। নিঃসন্দেহে সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু” (সুরা বাক্কারাহ ২০৮ আয়াত)।

লেখার তারিখ ২০ জুন ২০১৯সাল।

এ লেখাটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা “দি রানার নিউজ” ২৮ জুন, ২০১৯ এ ছাপা হয়েছে।

নাজমা মোস্তফা

শিরোনামের নামটি কঠিন শুনালেও এটি বাস্তবতা। এ নামটি ছিল তাদের নিজের অর্জন। মুসলিমদের বিশ^াসকে বলা হয়  ঈমান, এর উপর ভর করে তাদের জীবন চলে। তাদের ধর্মের নাম হচ্ছে ইসলাম, অর্থ শান্তির ধর্ম, আত্মসমর্পণের ধর্ম, তারা এক আল্লাহতে ঈমান জমা রাখে। এ আত্মসমর্পণ কোন নকল শক্তির কাছে নয় বরং অদেখা আল্লাহর কাছে সমর্পণ। কোনদিন তাকে তারা দেখেও নাই, তারপরও ঐ জমা আত্মায় অন্তরে বাধা। দেখা যায় যখনই কেউ মিথ্যা কথা বলে, তাদের বলা হয় বে-ঈমান। দেশীয় বাংলাভাষীরা মিথ্যুকদেরে এ নামে ডাকে। যদিও এ ধর্মের শুরু থেকেই এদের পিছু নেয় শত্রু পক্ষ। ওরাই এদের নতুন নামকরণ করতে চায় টেররিষ্ট অর্থে সন্ত্রাসী হিসাবে, এটিও আর একটি পরাশক্তির গভীর মিথ্যাচারের ষড়যন্ত্রী নমুনা। এ ধারা চলে আসছে প্রথম থেকেই যুগে যুগে প্রতিপক্ষ ফেরাউন নমরুদ সাদ্দাদ কুরাইশ ও দেশী বিদেশী সত্য বিরোধী অপশক্তি। এরা কোন যুগেই সত্যের শক্তিকে নীতিকে সইতে পারেনি। যুগে যুগে এ সত্য ধর্মকে কোনঠাসা করতেই এ অপকর্ম চলছে সেই চৌদ্দশত বছর বা তারো বহু আগে থেকেই। দূর্বল ও নড়বড়ে ঈমানের মানুষরা অকপটে মিথ্যাচার করে চলে, এত বড় অনাচারেও কোন শংকা বা পাপবোধ তাদের জাগে না। এর কারণ এরা বিতাড়িত এরা সত্যের শত্রু। এদের আরেক নাম মোনাফেক। কুরআনে ঐ নামে একটি সুরাও আছে, এরা এই ধর্মের ভিতরেই বসবাস করেও পরিশুদ্ধ নয়। তাদের কৃতকর্মই স্পষ্ট করে এরা কারা। এরা প্রকৃত অর্থে স্বভাবে শুদ্ধ, মুমিন ও সৎ মানুষ নয়। নীচের এ মিছিলটিতে ক্লিক করে দেখে নিন। এটি ১৯৬৯এর আন্দোলনের ছবি নয়, এটি হচ্ছে ২০১৮ সালের জনতার গণজোয়ারের চিত্র।

                           এই মিছিলটি দেখুন আপনার চোখ জোড়ায়ে যাবে

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করলেও ঐ যুদ্ধে শরিক ছিলেন না শেষ মুজিব নিজে বা তার মেয়ে। কিন্তু কিছু সময় গড়ালে তিনি এমন সব কর্মের পরিচয় রাখেন যাতে জাতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে, গণতন্ত্রকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করে স্বৈরতন্ত্রের দিকেই ঝুকে পড়েন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুবকে সরিয়ে তিনিই যেন আইয়ুবের দোসর হয়ে উঠেন। এক সাধুকে বলতে শুনতাম তিনি বলতেন শেখ মুজিব নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তার কর্ম তার চাটুকারদের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি তাকে ঐ পরিণতির দিকে ছুড়ে দেয়। যার জন্য আওয়ামী লীগের সদস্যরাই তাকে ঐ শাস্তি দেয়, তারাই তাকে ফেরাউন বলে ডাকে। মুজিব ও জিয়া দুজনাই ছিল এ জাতির অনেক সম্মানীত জন। শেখ মুজিবের মৃত্যুর বেশ পর বিএনপির জন্ম হয়। মানুষ মরলেই বলা হয় একজনের আমলনামা তার সামনে এসে দাড়ায়। প্রায়শই মরার দিনই অন্য সাধারণ মানুষ বলে দেয় লোকটি কেমন ছিল।

 লালখান বাজার সুষ্ঠ নির্বাচনের নমুনা দেখুন জনগনের আহাজারি

 

২০১৮এর ভোটের দুটি কথা: নির্বাচনের প্রশ্নবিদ্ধ ফল নিয়ে উদ্বেগ টিআইবির, বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবী। বিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করেছে। ডয়চে ভেলে  ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮ তারিখের বক্তব্যে প্রকাশ ভোটে বাক্স ভরেছে, কিন্তু ভোটারকে ভোট দিতে হয়নি। সত্য দেখব না, শুধু বলব সব ঠিক – চমৎকার সুষ্ঠু। খুলনা ১ আসনের মোট ভোটার থেকে ২২ হাজার ৪১৯ ভোট বেশী পড়ে গেছে (তড়িঘড়ির বেখেয়ালে ডাকাতির দাগ)। বিবিসি বাংলার প্রমাণ ব্যালট বাক্স অর্ধেক ভরে ধরা খাওয়া। প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগকে অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশন বলেন এসব অসত্য। ভোটাররা গোপনকক্ষ পায়নি। নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের পেটানো, গাড়ী ভাংচুর দৈবক্রমে সেটিও টিভিতে ধরা খেয়ে যায়, পত্রিকায়ও আসে। নির্বাচনের দিন তাদের এটি নেই সেটি নেই বাহানার আড়ালে ভোটকে জনতার কাছ থেকে ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকদের থেকেও দূরে সরিয়ে রাখা হয়। তারা নাজেহাল হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের হাতে অপকর্মে ধরা না খাওয়ার তৎপরতায় ছিলেন। বিদেশী পর্যবেক্ষকদের সহযোগিতার বদলে নানান প্রতিবন্ধকতার যোগান দিতেই তিনি ব্যস্ত ছিলেন। ভিসা বাতিল করে আগেই তাদের রুদ্ধ করা হয়। যারা এসেছিলেন মোবাইল জটিলতায় ইন্টারনেট হীনতায় তারাও বেকায়দায়,  সম্প্রতি স্পষ্ট হয়েছে যে ওসবও সরকারের সাজানো পর্যবেক্ষক দল,  মিডিয়ার মুখ সিল করে রাখা হয়েছে বিরাট অঙ্কে।   যাক হাসিনা ও তার পরিবারের লোকজন খুব খুশী। বিজয়ের মাসে বাড়তি বিজয় দেখছেন। এত কিছুর পরও অদেখা বিধাতাকে সরকার বা তার দলবল হিসাবে নেয়নি। সুরা ক্বাফের ১৮ আয়াতে বলা হয়েছে “সে কোন কথাই উচ্চারণ করে না যার জন্য তার নিকটেই এক তৎপর প্রখর প্রহরী নেই” (সুরা ক্বাফ এর ১৮ আয়াত)। সরকার নকল ভোটে বিজয় জিতে নেয়াতে মহাখুশী, কিন্তু মদীনার সনদে এসব অনাচার স্বীকার করে না। জনতার ভোট ডাকাতী করে গদির লোভ ইসলামের গন্ডিতে স্বীকৃত নয়।

দক্ষ চোরের সাথে সাধুদের এক পাল্লাতে মাপা যায় না। তাই বলে একজন তার সাধুতা ছেড়ে দিয়ে চোরের বা ডাকাতের দলে মিশে যেতে পারে না। ইসলাম কখনোই ডাকাতের সাথে হেরে যায় নি। এবারও বাংলাদেশের জনতারা হারে নাই, হেরেছে শয়তানি শক্তি, সরকার সমস্ত জাতির সামনে একদম উলংগ হয়ে পড়েছে। নীতি হচ্ছে কেউ চোরের সাথে হেরে গেলে, তাকে আরো কঠিন মনোবলে মনকে শক্ত করতে হবে। সম্প্রতি ইলেকশন হয়ে গেল, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার বিচার ব্যবস্থা, সাংবাদিকতা, শিক্ষা ব্যবস্থা, মিডিয়া সবই ভয়ংকরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও শৃংখলিত। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও আজো ভারতের ইন্ধনে দেশটি বিধ্বংস অবস্থানের দিকে ছুটেছে। ভারতের অতি নাচানাচি স্পষ্ট দেখা যায়। এদেশের কোন খানেই ন্যায়বিচার বা সুষ্ঠ অবস্থানের উপায় নেই। জাতিকে সাইরেন ধ্বনি বাজিয়ে শুনিয়েছেন অনেকেই, এর একজন হচ্ছে মতিয়ুর রহমান রেন্টু, বিগত শতকে তিনি তার জীবন্ত লাশের উপরে বুকে বল নিয়ে অকপটে এ সত্য বিলি করে নিজের ফাঁসি চেয়ে বই লিখেছেন “আমার ফাঁসি চাই”। এত জানার পরও সজ্ঞানে নিরবতার শাস্তি স্বরুপ তিনি তার নিজের ফাঁসি প্রথমে চান, পরে মুজিব ও তার কন্যার ফাঁসি জোর গলাতে চেয়েছেন। ঐ সময় বিগত শতকেই তার এ হুকুমনামা তিনি জারি করেছেন আর এবার ২০১৮ পর্যন্ত অপরাধির ফাঁসি হাজার বার কার্যকর করলেও কম হবে মনে হয়।

রেন্টুর মতই বিদগ্ধ জন এদের একজন হচ্ছেন সিলেটের একজন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি তার ফেসবুকে এভাবে বেশ কিছু কষ্টের কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, কি লাভ হলো আমি সারা জীবন অপকর্ম করেছি ঐ দলবাজী করতে গিয়ে নিজের নীতিকে বিসর্জন দিয়েছি। জীবনে নিজের জন্য তেমন কিছুই করলাম না, কিন্তু এর ফাঁকে তিনি তার সততাকে যে ভয়ংকরভাবে কবর দিয়ে গেছেন ঐ আক্ষেপ ফুটে উঠেছে তার কথাতে, তারিখটি এ বছরের জুলাই ৩১, ২০১৮। কিভাবে তারা অপকর্ম করতেন আর ভুলভাবে মানুষকে বেশী ভোট পাইয়ে দিতেন তা স্পষ্ট করেন। তিনি স্বীকার করেন এভাবে তিনি জীবনে অনেক খারাপ করেছেন। এবার ভাবছেন কি লাভ করেছেন এসব করে। বাঘ যখন ক্ষুধা পায় তখন তার বাচ্চা সে খেয়ে ফেলে। এটি আওয়ামী লীগও করে সময়ে সময়ে আমরা জানি, এটি আওয়ামী বাঘের স্বভাব। হয়তো এরকম কোন কষ্ট থেকেই তিনি এ আক্ষেপ করেছেন। আল্লাহকে হাজির নাজির জেনেই আমি এ কলামটি লিখছি। তাই আমার যুক্তিতে প্রতিটি দেশবাসীকে সাক্ষী রেখেই সত্যের স্বপক্ষে থাকতে অনুরোধ করছি। আপনারা যে দলই করেন মিথ্যার বেসাতি করে বাঁচতে পারবেন না। যদিও মনে করছেন আজ দন্ডের জোরে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদের কন্ঠ শিরার আরো নিকটে রয়েছি (সুরা ক্বাফএর ৫০: ১৬ আয়াত)। আপনার প্রতিটি কৃতকর্মই সিসিটিভির আওতায় আছে। অতি বাড়াবাড়ির সুযোগ বড় অল্প দিনের। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারও ধর্মের খানাখন্দক চষে বেড়ায় নাই, নইলে তারাও শংকিত হত তাদের এ নিকট জনের এতসব আস্ফালন দেখে। নাহলে তারা নিজেরাও বাঁচতেন তাকেও বাঁচাতেন।

রেন্টুর বই থেকে আমরা জানি জাফর ও জয়নাল দুজন ছাত্র শেখ হাসিনার বহু আকাঙ্খিত লাশ। সেলিম ও দেলোয়ার রায়ট পুলিশের লরির চাকার নীচের লাশের জমা। ছাত্রলীগের এসব নেতার মৃত্যুতে পুলকিত নেত্রী বলে উঠেন “সাবাস”! নেত্রীর কথা জিয়া তো শেষ! এরশাদ নয় বিএনপিকে চিরতরে শেষ করে দেয়া আমাদের কাজ। কারণ জাতি বিধ্বংসী ঐ প্লেন নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন, অন্যদের দাবার গুটি হয়ে। এবারের মাঠেও সম্ভবত ভোটের দিনেই কিছু আওয়ামী লীগের মানুষ মারা যায়, আমার কেন জানি মনে হয়েছে এদেরে মেরে ফেলার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছে যার জন্য আগে থেকেই বলা হচ্ছিল যে হাসপাতালগুলি রেডি করে রাখা হয়েছে। আর ঐক্যফ্রন্টের যারা মারা যাচ্ছে এদের মারা যাওয়াটা তাদের বহুদিনের এ খুনীদের ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ। আর আওয়ামীরা কিছু মারা না গেলে অন্যদেরে দেখানো যায় না বিরোধী জোট খারাপ, আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। তবে কোন সময়ই মনে হয়না ঐক্যফ্রন্টের কোন ছেলেপেলে ইচ্ছাকৃত এসব করবে। কারণ এদের নেতারা খুবই পরিশীলিত আচরণের অধিকারী, তারা একজনও তাদের শিষ্যদেরে এসব ট্রেনিং দিবেন না, বরং বারে বারেই তাদের দলের সদস্যদের শান্ত থাকার কথাই বলতে শুনেছি। বরং বলা যায় এরা আগাগোড়া যে কঠিন সংযমের পরিচয় দিল, তার জন্য তারা আল্লাহর কাছে অবশ্যই বহুগুণে পুরষ্কৃত হবে। এরা মরলেও মহা সম্মানের ভাগিদার হবে। তবে সরকারী দলের সদস্যদের ভাগে সে সিকে ছিড়ার কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। বিবেককে প্রশ্ন করলেই সঠিক উত্তরটি পেয়ে যাবেন।

কিন্তু হাসিনা যে তার দলবলকে খুনের হত্যার এসব ট্রেনিং দেন, এটি স্পষ্ট। লগি বৈঠার তান্ডব নৃত্যের প্রকাশ্য মার সবই আল্লাহর সিসিটিভিতে জমা আছে, আর এসব প্রচার মিডিয়াও লুকাতে পারে নাই। এমন কি এই ভোটেও তিনি প্রকাশ্যে বলে বেড়ান যে টাকা নিবে ধানের শীষ থেকে আর ভোট দিবে নৌকায়। একজন নেতার মুখে এমন কথাই স্পষ্ট নির্দেশ করে তাকে কোন দলে ফেলা যায়, এবং তার অপরাধ থেকে সরে যাওয়ার আর কোন অবকাশ নেই। ওটি লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে সাথে সাথে তিনি যাই তার মুখ দিয়ে বের করেছেন সাথে সাথে তা আল্লাহর স্পষ্ট নজরদারীতে এসে গেছে।  রেন্টুর মত হাসিনার আর এক দোসর সিনহা বাবুও অকপটে ঐ সত্য স্বীকার করেছেন তার “দ্যা ব্রকেন ড্রিম” ভাঙ্গা স্বপ্নের বইটিতে। এখানেও অনেক অপরাধের সহযোগী হলেও সরকারের বিরুদ্ধে অনেক বিতর্কীত অপকর্মী কথাই তিনি বলার চেষ্টা করেছেন।

এভাবে আওয়ামী লীগের অনেক বিদগ্ধ জন আছেন যারা অপকর্মের সাথে নিজেকে বড় সময় মেলাতে পারেন নাই। এদের একজন হচ্ছেন রেজা কিবরিয়া, গোলাম মওলা রনি, সুলতান মনসুর আর অতীতে ঐ দলকে গুড বাই জানিয়েছেন প্রায় প্রতিটি বিএনপির সদস্যরাই। কারণ প্রাজ্ঞ অভিজ্ঞরা একদিন সবাই আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় রাজনীতি করলেও স্বাধীনতার শুরুর সময় থেকেই ওদের অনাচার দেখে দেখে অতিষ্ট হয়ে ওখান থেকে ছিটকে দূরে সরে যান। প্রথম মুজিবকে মালা দিলেও শেষের মুজিবকে দেখে মানুষ কষ্ট পেয়েছে। কারণ ওদের আদর্শের সাথে নীতির সাথে অনুসারীদের মেলে নাই। ঐ কারণেই তারা ছিটকে বের হয়ে যায়। আর যারা কোন আদর্শের তোয়াক্কা করে না তারা কিছু বেতালরা আজও ওখানে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। তবে কেন জানি মনে হয় এই থেকে যাওয়া মানুষরা সংখ্যায় বড় অল্প। সারা দেশে তাদের এবারের ভোট ডাকাতী এর একটি বড় প্রমাণ। ঐ পশ্চাৎপদ দলের সদস্যরা খুব বেশী নেই। দেশের জনতারা বেশীর ভাগ বিবেকসম্পন্ন মানুষ, সুস্থ মানুষ। কথাটি আমার যুক্তিতে নয়, আমি কুরআনের যুক্তিতে বলার চেষ্টা করেছি। বিবেচনা আপনাদের আপনারাই এটি ঠিক করে নিবেন। কারণ তাদের আচরণই তাদের ঠিকানা বাতলে দিয়েছে। এটি নির্ধারণ করার সাধ্য আপনার আমার কারো নেই। প্রত্যেকের আমলনামাই নির্ধারণ করবে তিনি কোন দলে যাবেন।

মাশরাফি একজন স্বনামধন্য খেলোয়াড়। তিনি খেলোয়ার হলেও তার মানবিক সচেতনতা কম না হলে তিনি এরকম একটি অপকর্মী দলে ভিড়তেন না। এতে তিনি জাতিকে আরো পেছনের দিকে টেনে নিতে অবদান রাখলেন। তিনিও আশরাফুল মখলুকাত থেকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হওয়ার কারণেই তার বিবেকও জড়িত। তাই স্বভাবতই সঠিক অর্জন জমা করতে হলে তাকেও সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সেটি করতে তিনি ব্যর্থ হলে এর খেসারতও তাকে মাপতে হবে। এ দলের অপকর্মের ভারও তার ঘাড়ে কমবেশী বর্তাবে, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। আমি জানি না কিভাবে তিনি এত দানব নৃত্যের মাঝে বিজয় উল্লাস করছেন? তিনি বুঝতেও পারছেন না কি খেলাতে তিনি নেমেছেন, তাকে তার নেত্রীর জাতি বিরোধী সকল অপকর্মের জন্য সকল অপরাধ স্বীকার করার উদ্যোগ নিতে হবে। অতীতে প্রাইভেট সেক্রেটারী (কর্মচারী) রেন্টু বারে বারে এটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন, প্রথম যুগে নিশ্চয় তিনি বড় করে প্রতিবাদ করতে পারেন নাই বলে তিনিও ঐ সব অপকর্মের সহযোগী থেকেছেন এবং ১৯ বছর পার করতে পেরেছেন সহযোগী হিসাবে। শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে এসে অন্তত নিজেকে একজন মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। যদিও আল্লাহর বিচার খুবই সুক্ষ্ম হবে, এখানে কারো প্রতি কোন অবিচার করা হবে না। সবার প্রতিফল সঠিকভাবে পাওনা হবে।

মতিয়ুর রহমান অনেক অদেখা স্পষ্ট করে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তার বইতে। সবচেয়ে বড় কথা একদিন সবাইকে তাদের প্রতিটি কর্মের ও অপকর্মের জবাব দিতে হবে। আজও যদি ঐ অপকর্মীরা ফিরেও আসে তবু একজন নির্মল মানুষের ভালো মানুষের মত তারা বিবেচিত হবে না কোনদিনও। তারপরও ফিরে আসলে অন্তত তারা হয়তো মানুষের দলে নাম লেখাতে পারবে। ঐদিন কোন লীগের সার্টিফিকেট তাকে পথ দেখাবে না। মেয়েরা শত ব্যস্ততার মাঝেও ভোট দিতে গিয়েও ভোট দিতে পারে নাই। হাসিনাকে গালি দিতে দিতে ভোটের সেন্টার থেকে ফিরে গেছে।  দেখলাম আনসার অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জানা গেল কিছু বেকারকে দুদিনের জন্য ভাড়া করা হয়েছে এ কাজটি করার জন্য। একটি সেন্টারে দেখলাম তিনজন মহিলা অবিরামভাবে সিল মারছেন। ভোটের শুরুতেই চট্টগ্রামের লালখানবাজারে ভোটে ভরা একাধিক বাক্স নিয়ে ছুটাছুটি করার সময় ধড়া পড়ে মানুষের দৃষ্টির মাঝে, ইনি ছিলেন বিবিসির এক সংবাদদাতা, তারা মনে করেছে তিনি তাদের গুন্ডা দলের নেতা। তাই ভোটের আগেই নিশ্চিন্তে সকাল সাড়ে সাতটাতে সব কিছু ঠিকঠাক করছিল ঐ অবস্থায় ধরা খায়, নয়তো তারা তাকে কোনসময়ই ভিতরে ঢুকতে দিত না। এসব হচ্ছে নিরব দ্রষ্টা আল্লাহর কাজ। কোন কিছুই লুকানো যায় না। যেটি দৈবাৎ এক দুর্ঘটনার মতই অনেক না বলা কথা স্পষ্ট করেই বলে দেয়। ডাঃ কামালসহ সবাই বলছিলেন আগের রাত থেকেই তারা সারা দেশ থেকে এসব খবর পাচ্ছিলেন অসংখ্য জায়গা থেকে। কারণ বহুল অধ্যুষিত মানুষের দেশ কোন অপকর্মই লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। এভাবে সবই ওপেন হয়ে পড়ে। কিন্তু এরকম যে হতে পারে অত গভীরে এসব সাধুরা প্রবেশ করেন নাই। এখন দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি সেন্টারে একই আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। অনেক সেন্টারে দেখা যায় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ঠিক কিন্তু লাইন হাটছে না। এরা মূর্তির মত নকল লাইন হয়ে আছে।

নির্বাচন কমিশনের কথা ছিল সেনাবাহিনী মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকবে। যদিও সবাই মনে করেছে এরা কিছুটা হলেও কাজ করবে কিন্তু না, দেখা গেল ওরা ঠিকই মূর্তির মতই অকর্মা হয়ে রইলো, চিরদিনের কলঙ্ক কাঁধে নিয়ে এরা জাতির নপুংসক প্রজাতি নামক এক কলঙ্ক দাগ হয়ে চিহ্নিত হয়ে রইলো। ষড়যন্ত্রকারী সরকারের কোন বাসনাই কিন্তু লুকানো থাকে নাই, সব খোলাসা হয়ে পড়েছে তাদের নেতাদের অতিকথনের সুযোগে। এমনকি কিভাবে বিশৃংখলা তৈরী করা হবে কিভাবে বিএনপি এখানে টিকে থাকতে পারবে না, ভোট বর্জন করবে এটি শুধু নেতারা নয়, প্রধানমন্ত্রীও সমান সুরে গানা গেয়েছেন সারা সময় তার স্বভাব সুলভ পরনিন্দায় ভরা চিকন সুরে।  এমন সব অপকর্ম তারা করবে সবই তাদের ছক আঁকাই ছিল। এটা নাই ওটা নাই বলে তাদের ভোট দিতে দেয়া হয় নাই। কোনভাবে কেউ ভোট দিতে চাইলে তাদের আগে বলতে হয় কাকে ভোট দিবে। আর ধানের শীষ জানলেই তাদের বের করে দেয়া হয়, বলা হয় তোমার ভোট দেয়ার দরকার নেই, আমরাই দিয়ে দেব। প্রায় সব কেন্দ্রেই এই অভিযোগ ছিল যে, ধানের শীষের কোন এজেন্টকে টিকে থাকতে দেয়া হয়না। এরা বেশীর ভাগই মুসলিম ঘরের সন্তান। হতে পারে কিছুরা অন্য ধর্মাবলম্বীও। কিন্তু কথা হচ্ছে এরা ধর্মটি মোটেও শিখে নাই বলেই এমন পশুবৎ আচরণ করতে পেরেছে। আজ তারা যা করলো তাতে তারা দেখিয়ে দিল তারাই হচ্ছে সমাজের শয়তান শক্তি, জিন শক্তি ও ইবলিস শক্তি। আমার বিগত কলামের নামটি ছিল কুরআনের দৃষ্টিতে এদের খুঁজে দেখা। ঐশী গ্রন্থ কুরআন থেকে মানব ও দানব চেনা সময়ের বড় দাবী  তবে আশার কথা হচ্ছে এরা সমাজের অতি ক্ষুদ্র একটি দল যারা ঐ অপনামে নাম লিখিয়েছে। এবং কুরআনের হিসাবে দেখা যায় এরা প্রত্যেকেই হবে জাহান্নামের বাসিন্দা। দুনিয়াতে যদি এদের পরিচিতি এভাবে স্পষ্ট হয়ে যায় তবে আক্ষেপ ওদের জন্য যারা ঐ দলে নাম উঠালো।

মক্কা বিজয় পূর্ব হুদায়বিয়ার সন্ধির পর মুসলিমরা অনেকেই নাখোশ ছিলেন পাছে তারা কি দূর্বলতার ছাপ রাখলেন কিনা? কারণ তাদের ঐ বৎসর হজ¦ করতে দেয়া হলো না। বলা হলো এবার চলে যাও, এই হজ¦ করতে না পেরে ফিরে আসাতে তারা নিজেদের অপমান মনে করেন কিন্তু আল্লাহ তাদের স্পষ্ট করিয়ে দেন যে, এটি হচ্ছে তোমাদের ফাৎহুল মুবিন। মানে মহান বিজয়। আপনারা আজ যদি নিজেরা শুদ্ধ থাকেন ও ঐ শয়তান দলকে চিহ্ণিতও করতে পারেন তবে এটিও আপনাদের জন্য অনেক বড় বিজয়, নিজেকে ইহ ও পরকালে জয় করার বিজয়। এই ভোট চুরির খবর সবার মুখে মুখে মনে হচ্ছে ১৭ কোটি মানুষই এটি স্বীকার করতে বাধ্য, এমন কি যারা এসব কর্মে হাত দাগিয়েছে ঐসব আওয়ামীরাও অকপটে এ সত্য স্বীকার করছে। কারণ তারাও ময়দানের বিবেক, তারাও যখন রেন্টুদের ও বাকীদের মত ক্ষুব্ধ হবে তখন অকপটে সব সত্য প্রকাশ করে দিবে তাদের সঠিক বিবেকের তাড়নায়। আমি আশা করবো আওয়ামী লীগের ঐসব নষ্ট আদর্শের লোকগুলি যেন আমার ঐ কলামটি পড়ার সুযোগ পায়। তাহলে অন্তত তারা বুঝতে পারবে তাদের পরিচয় আল্লাহ কুরআন শরিফে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কিন্তু তারা ঘুমের ঘোরে আছে আর নাটক করে বেড়াচ্ছে কিন্তু হাতে সময় বড় অল্প।

অতি অল্প সময়ের মাঝেই আমাদের ফিরে যেতে হবে আমাদের অন্য এক ঠিকানায়। ইত্যবসরে সময় অনেক পার হয়েছে, ভোটের দিনও ১৬/১৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ দেখতে মানুষ কিন্তু আচরণে মানুষ নয়, মানুষ বলার কোন উপায় নেই।  এবারের নির্বাচন প্রমাণ করে দিল ২০১৪ সালের বিএনপির ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত ছিল কত সঠিক সিদ্ধান্ত, এ ক্ষেত্রেও খালেদা জিয়া গোটা বিশে^র কাছে এগিয়ে গেলেন আর আল্লাহর আদালতে সত্য পথের পথিকরা সবদিনই সম্মানের। শাস্ত্র মতেও দুই জাহানে এদের হারাবার কিছু নেই। আপনারা নিশ্চয় জানেন প্রাক ইসলামিক যুগে একজন শাসকও অকপটে গিয়ে কাজির বিচারে হাজির হতেন এবং কাজির বিচারের শাস্তি সাদরে মাথা পেতে নিতেন এর কারণ হচ্ছে তারা ভয় পেতেন যে সামনের আসল বিচারটি হবে আরো বহুগুণ ভয়ংকর সুক্ষ্ম বস্তুনিষ্ট এবং কারচুপিমুক্ত। তাই তারা সজ্ঞানে কখনোই অপকর্ম করতেন না, তারপরও সামান্য অপকর্ম চোখে পড়লেই তা শুধরে নেয়ার চেষ্টা করতেন। এটি হচ্ছে তাদের সঠিক সাধুতার প্রমাণ। এটিই একমাত্র ধর্ম যে ধর্মের প্রথম বাণীটি ছিল “পড়”। যে কাজটি মুসলিমরা সঠিকভাবে চর্চা করে নাই বলেই আজও জানে না ধর্মের বাণীতে কি লিপিবদ্ধ রয়েছে। সুক্ষ্মভাবে এটি জানলে পরিবার পরিজনসহ দেশের কোন সদস্যই পুলিশ, সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, খেলোয়াড়, রাজনেতা, শ্রমিক, কৃষক কেউই পথ হারাবার শংকায় পড়তেন না। অন্তত নিজেরাই নিজেদের সঠিক পথটি বেছে নিতে পারতেন। এর জন্য পিইএচডি ডিগ্রি নেয়ার দরকার ছিল না। দরকার ছিল মাত্র একটি সুশিক্ষিত সৎ বিবেকের। তাই বলা চলে ময়দানে যারা দৃশ্যত হেরেছে তারাই প্রকৃত বিজয় লাভ করেছে, দুই জাহানে তারা সুকর্মী ও সম্মানের ভাগিদার হওয়ার দাবী রাখে।

আজ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, বছরের শেষ দিন।

 

 

 

নাজমা মোস্তফা

জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে তারেক রহমানকে নিয়ে একের পর এক নাটক বহাল রেখেছে বিগত অবৈধ সরকার। সম্প্রতি ভারতের দৈনিক যুগশঙ্খ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখের বরাতে জানা যায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব প্রেপাগান্ডা ছিল বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক। পত্রিকার প্রথম পাতাতে বড় হরফে লেখা “উলফা নেতাদের আশ্রয়ের অভিযোগ – খালেদা পুত্র তারেক জিয়াকে ক্লিনচিট পরেশ ও অনুপের।” তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তা ছিল মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসুত। এসব উল্লেখ করে উলফার কমান্ডার ইন চিফ পরেশ বড়–য়া ও সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া বক্তব্য দেন। দেখা যায় এ যাবত যত অপরাধে তারেক রহমানকে আসামী করা হয়েছে সবই বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক সরকারের নীলনকশা। চারদিকে গনজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে জনতার, যদিও তারা নির্বাচনী কাজে কোনভাবেই অংশ গ্রহণ করতে পারছে না। পুলিশ ও হলুদ সাংবাদিকরা দাসের মতই সংঘবদ্ধ প্রচারণার অংশ হয়ে বিরোধী পিটুনী ও মামলাতে ভোটের কাজ সারছে। অনেকেই আশংকা প্রকাশ করছেন ডঃ কামালকে মেরে ফেলতেও পারে। ২০ ডিসেম্বরে  নীতিহীন প্রধানমন্ত্রীর অভিনব ভোট ভিক্ষার প্রচার এভাবে ‘বিএনপি জামায়াতের টাকা নিবেন আর ভোট দিবেন নৌকাকে, এটি এখনকার আওয়ামী স্লোগান।’ ঐ প্রচারে তিনি বলেন, বিএনপির দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, অস্ত্র চোরাচালান, অর্থ আত্মস্মাৎ মনোনয়ন বানিজ্য ও এতিমের টাকা চুরি। অবৈধ এ সরকারের পুরো অস্তিত্বই অবৈধ, এ কয়টি মিথ্যাচারী গীবত ছাড়া তার হাতে আর কোন উপাদান নেই বিরোধীর বিপক্ষে খরচ করার। যদিও সর্বোপরি এদের অপরাধের চলমান ধারাবাহিকতার সীমা পরিসীমা নেই। এমন কি সিইসির কর্মকান্ড তাই স্পষ্ট করছে, কোন পরিবর্তন ব্যতীত। ভয়ংকর এসপি হারুণ এখন নারায়নগঞ্জে। ইউটিউবে পাওয়া যায় তার অপকর্মের ধারাবাহিক রোজনামচা। আপত্তি উঠলেও তার পদোন্নতি হয়, গাজীপুর ও খুলনা ভোটের ডাকাতী, কুপিয়ে হত্যা ও অনেক অপকর্মের পরও পূনর্বহাল ও সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চয়ই ভয়ংকর ম্যাসেজ বিলি করছে। গনজাগরণের মঞ্চ নায়ক নুরুল হুদাকে রিক্রুট করার যুক্তি নিশ্চয় এখন জাতির কাছে সুস্পষ্ট হচ্ছে! এ দেশে সবাই আইন মানলেও দুঃখের বিষয় হচ্ছে বিগত সরকার ও তার দল কোন অংশেই আইন মানে না, না অতীতে না বর্তমানে। ভবিষ্যতে মানার কোন অবকাশও নেই। এর মাঝে সরকার বড় অংকের টাকাতে কিনে রেখেছে পুলিশসহ দলদাস সংবাদিকদের। ওদিকে ক্যাডারদের দিয়ে বিরোধী নেতাকমীদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

শত নির্যাতনে আক্রান্ত আকন্ঠ জাতির মাঝ থেকে অসীম সাহসী নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন লেবেল প্লেইং ফিল্ড বলে কিছু নেই। ঠিক তখন জবাবে আওয়ামী লীগের এককালীন দলদাস রাতকানা দিনকানা নুরুল হুদা হাসিনার আদলে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াই মিথ্যাচার করছেন। সমস্ত জাতি একবাক্যে মাহবুব তালুকদারকে সমর্থন করছে। মনে হচ্ছে বিরোধীদের এমন কেউ নেই যে হামলা থেকে বেঁচে আছেন। শামিম ওসমান সময়ে সময়ে দুই হাতে অপকর্ম করে আবার আল্লাহর নাম নেন। তারা মনে করে এতে সাত খুন মাফ হয়ে যাবে। ডাকাতও নিশ্চয় ডাকাতির আগে আল্লাহর নাম নেয়। এসব কিসের লক্ষণ? মুখের কথার সাথে আচরণের মিল না থাকলে তার সঠিক পরিচয় আপনাদের খুঁজে নিতে হবে। সিনহা বাবু সম্প্রতি একটি ম্যাসেজে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন গত বিগত, অস্তিত্ব সংকট, বাংলাদেশের মানচিত্র সংকট, হাসিনা সরকারকে ভোট দিলে হিন্দু নির্যাতন বাড়বে, আমেরিকার অবরোধ আশংকার প্রতি সিনহা আহবান জানিয়েছেন। এদিকে খবরে প্রকাশ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারত থেকে অস্ত্র আসছে। হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সএর মাধ্যমে গণ ভবন থেকে ভোটের প্রচার করাটা কি ধারার কৌশল সেটি আপনারা বুঝছেন নিশ্চয়? শেষ পর্যায়েও দৃষ্টিগোচর হচ্ছে আদালত, গণভবন ও ভারতীয় অস্ত্র আসার পরও বাড়তি সাহায্য সহযোগিতাও চাওয়া হচ্ছে।

পুলিশের গুলিতে অন্ধ হওয়া বিএনপির নেত্রীর আহাজারি আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তুলছে। ব্যারিষ্টার খোকনকে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভে বলেছিলেন আমার মানুষকে গুলি করছেন কেন, বরং আমাকে করেন। ঠিক তখনই তাকে সামনে পেছনে পর পর সাতটি গুলি করে দেয়। তিনি বলছিলেন সোনাইমুড়িতে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আওয়ামীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে আর হুমকি ধমকি দিচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার কেউ নেই। সারা দেশে বিচারহীন এক তরফা হুমকি ধমকি চলছে সরকারের পক্ষে। একই অবস্থা সারা দেশে। ধূর্ত অবৈধ প্রধানমন্ত্রী অতীতের মতই আজও আগেভাগে যা তিনি অপকর্ম করবেন তা আগাম বলে বেড়ান অন্যের নামে। তার এসব হাস্যরসাত্মক কয়টি আচরণ সম্প্রতি তিনি প্রকাশ করেছেন, এর একটি হচ্ছে বিরাধীরা নাকি কালো কোট পরে ঐ দিন অপকর্ম করবে, ফল্স বেলট পেপারও তারা ছাপাবে, এ দুটি খবর তিনি জেনেছেন। ২০০৪এর ২১ শে আগষ্টে তার নিজের সাজানো হামলার আগেই তিনি বোমা হামলার বিরুদ্ধে এভাবে হুমকি ধমকির অভিনয় বহাল রাখেন। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া গায়িকা কনক চাঁপা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অপকর্মের কারণে তিনি যদি লাশ হয়ে পড়েন তবে ঐ নিরাপত্তা নিয়ে তিনি কি করবেন? হুমকি ধমকির কোন প্রমান নেই বলে প্রতিপক্ষের সিইসি দলদাসরা তা উড়িয়ে দিচ্ছে। কনক চাঁপাকে অনুসরণ করা হচ্ছে, তাকে কি গুম করা হবে, এ ভয়ে তিনি শংকা প্রকাশ করছেন। নালিশ দিলে বলা হচ্ছে ঘটলে পরে জানাতে হবে, তার মানে ঘটনা ঘটানোর জন্য অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। সমানেই ঘটছে, কিন্তু কেউ তাতে কানও দিচ্ছে না, নিদেন পক্ষে বলা হচ্ছে তদন্ত চলছে, যদিও ব্যবস্থা নিতে কখনোই দেখা যাচ্ছে না। তাহসিনা রুশদি লুনার মনোনয়ন তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অপরদিকে বেশ কিছু সিলেব্রেটিরা তাদের কেরিয়ার টিকিয়ে রাখতে ছলের নৌকায় পা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বলেই পর্যবেক্ষকরা পরিসংখ্যান দিচ্ছেন। নয়তো কনক চাঁপার মত জীবন বিধ্বংসী ষড়যন্ত্র তাদের মোকাবেলা করতে হবে। ছলে বলে কলে কৌশলে এসব সারা দেশে চলছে। সারা জাতি এসব চাক্ষুষ দেখলেও দিনকানা সিইসি নুরুল হুদা তা এড়িয়ে চলেন। আমাদের সময় প্রতিনিধির বরাতে ২০ ডিসেম্বর পাওয়া খবরে প্রকাশ বরিশাল ৪ আসনে সরকারী দল ছাড়া বাকীরা অনিরাপদ। প্রশাসনের সহায়তায় সন্ত্রাসের রাজত্ব বহাল রয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন তার পা ভেঙ্গে দিয়েছে। জীবনের নিরাপত্তা চাইতে তিনি ষ্ট্রেচারে করে ভাঙ্গা পা নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের কাছে নিরাপত্তা চাইতে যান। তখন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। দৃশ্যত প্রশাসন শক্তভাবে বিগত অবৈধ সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। এখন বিরোধীর বিরুদ্ধে লীগের সাথে পুলিশও জাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি আইন শৃংখলা বাহিনী অগ্রিম নির্বাচনের আগে টাকা পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন থেকে। তথ্য প্রমাণসহ মিডিয়ায় প্রকাশ বিএনপির ৮৪ নির্বাচনী এলাকায় ভাংচুর আগুন, ৪৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা। কামাল রব মেজর হাফিজ, রেজা কিবরিয়াসহ সবাই আক্রমন ও হুমকির শিকার।

উপরের এসব ভয়ংকর অবস্থান জাতির জন্য চিন্তার জমা। এর কারণ কি “আশরাফুল মকলুকাত” অর্থাৎ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব নামধারী দলের মাঝে কারা এটি করতে পারে সেটি আপনারা নিজ বিবেচনায় খুঁজে নিন। এদেশে বিচার ব্যবস্থা এত দুর্বল হয়ে পড়লো কেন? এত নির্দোষ কেমন করে কারাগারে ঢোকে, আর যারা অন্যায় করে সাধুদের বিরুদ্ধে মামলা করছে, ঐ অপরাধেই তো প্রকৃত আসামীদের একযোগে ফাঁসি হওয়া উচিত। সব ধরণের অনাচার তারা বহাল রেখেছে, লেভেল প্লেইং ফিল্ডও যেখানে তৈরী হয় নাই, তারপরও এসব ভাড়ামিতে তারা সক্রিয়। তারা সমানেই মশকরা করা বক্তব্য ছাড়ছে, তাদের মিছিলও নেই মানুষও নেই। তবে বিরোধীকে ধড়পাকড় বহাল রেখেছে শুধু। আজকের ২০ ডিসেম্বরে কাদেরের মন্তব্য হচ্ছে “সরে দাঁড়ানোর অজুহাত খুঁজছে বিএনপি”। যেখানে একই দিনের খবর হচ্ছে ‘হামলা মামলার ভয়ে ঘরছাড়া ধানের শীষের নেতাকর্মীরা’। যে দলটি গণতন্ত্র ফিরাতে অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ভোটের জন্য জীবন পাত করে চলছে, আর তারা বিরোধীকে হামলা ও মামলা দিয়ে মিথ্যাচারে ঠেসে দিয়ে গোটা দেশটিকে কারাগার বানিয়ে তুলছে। বছরের ৩৬০ দিন এরা এতই মিথ্যাচারে অভ্যস্ত, তার অনুগত নেত্রীর আদলে তাদের অপকর্ম সব সময় দৃষ্টিগোচর হয়। এর উদাহরণ হিসাবে কুরআনে আল্লাহ বলেন, “সে কোন কথাই উচ্চারণ করে না যার জন্য তার নিকটেই এক তৎপর প্রখর প্রহরী নেই” (সুরা ক্বাফ এর ১৮ আয়াত)। প্রতিটি মানুষের প্রতিটি কাজ কথা যে রেকর্ড হয় ঐ খবর তার জানা নেই। মনে রাখা উচিত দুনিয়া কোন মজার খেলা নয়, বিবেকসম্পন্ন মানুষের জন্য এটি একটি কঠিন অগ্নি পরীক্ষার ময়দান। “প্রতীক্ষা কর, অচীরেই তোমরা জানতে পারবে কারা সঠিক পথের লোক এবং কারা প্রেরণাপ্রাপ্ত” (সুরা ত্বাহা ১৩৫ আয়াত)। এটি ভোটের রিজাল্ট নয়, এটি হচ্ছে দুনিয়ার বিচারে প্রকৃত ন্যায় বিচার পরবর্তী রিজাল্টের হিসাব।

অবৈধ পথে আসা ক্ষমতা ধরে রাখা প্রধানমন্ত্রী হাসিনা হুমকির পর হুমকি দিয়েও আজো নানান কুমন্তব্য ছুঁড়ে মারছেন। তিনি বিশিষ্টজনদের দিকে তীর ছুড়ে বলছেন এরা সুশাসন দিতে পারবে কি? তিনি নিজে কি সুশাসন দিতে পেরেছেন, সে চিন্তা তার মাথাতে নেই। এদের আচরণে ত্যক্ত বিরক্ত অশীতিপর ময়দানে যোদ্ধরত ডঃ কামাল হোসেন কেন ‘খামোশ’ বললেন, তা তিনি সইতে পারছেন না, তার অল্প দামে কেনা সাংবাদিক চেলারাই ছিল ‘খামোশ’ জমার প্রশ্নকারী! এরা তাদের দ্বিমুখী বিতর্কীত আচরণে দুই জাহানেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে আল্লাহর ময়দানে। মানুষ যাদের চোখ কান খোলা, তারা ভালো করেই জানে হাসিনার সুশাসনের নমুনা! মতিয়ুর রহমান রেন্টু তার দেড় যুগ খুব কাছ থেকে পরখ করা প্রাইভেট সেক্রেটারী সব অকপটে হড়হড় করে বলে দিয়েছেন, যদিও ঐ সময়ে ক্ষমতায় থাকা সরকার কৌশলে সেটিও চেপে রেখেছে, জনতার চোখ থেকে সরিয়ে রেখে। হয় জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে সব মুদ্রিত কপি, যদিও অসীম সাহসী রেন্টু ভয় পান নাই, সততার ভরসাতে তিনি অকপটে ঐ দাম্ভিক অপকর্মী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীনই তা প্রকাশ করেন। জাতির দুর্যোগ সামনে দেখতে পেয়ে তিনি সত্য প্রকাশে যে সৎ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য, আল্লাহর আদালতেও তিনি পুরষ্কৃত হবেন। মাহবুব তালুকদার সত্য বলেছেন, ওদিকে নিকৃষ্ঠ আচরণধন্য একজন নুরুল হুদা মানব থেকে সাক্ষাৎ দানবে পরিণত হয়েছেন। ওদের মানুষের বিবেক মরে গেছে, আছে শুধু দানবের স্বভাবটুকু ধিকি ধিকি জ¦লছে, অপেক্ষারত ইহ ও পরকালের শেষ ফলের অপেক্ষায়।

বর্তমান সিইসির কথার সাথে কাজের কোন মিল নেই। সাম্প্রতিক সময়ে হাসিনার ফাঁস হওয়া ফোনালাপ কি প্রকাশ করছে, বিগত শতকে ফাঁস হওয়া ঐ রেন্টুর কথাকেই স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর করে চলেছে। দেখা যায় উন্নয়নের বারোটা বাজিয়েছে হাসিনা সরকার, পৃথিবীর ব্যয়বহুল সেতু আর রাস্তা যা বানানোর আগেই ধ্বসে পড়ছে, সুযোগে সব টাকা ঢুকছে, দেশে বিদেশে দাগ চিহ্নিত চোরের খনিতে। কোট কাছারি কানায় কানায় বিরোধীর হামলা মামলাতে টইটম্বুর। ময়দান থেকে পোস্টার ছিড়ে ফেলছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, মানুষ মন্তব্য করছে পোষ্টারের দরকার নেই, সবার অন্তরে ধানের শীষ সাটা আছে । সিইসি হচ্ছে সরকারী গোলাম, মন্তব্য কলামে গা ছমছম করা জবাব, কারণ তার আচরণ হচ্ছে চরম দলদাসসম। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)র পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের মতে নির্বাচন কমিশনার পাথরের মূর্তিতে পরিণত হয়েছে। মুখে বলছেন মর্মাহত ও বিব্রত। এতেই কি এ বিতর্কীত মানুষটির সব দায় শোধ হয়ে যাবে? জাতি জানে উনার অতীত কর্ম ও অপকর্ম। মেয়র প্রার্থীরা বলছেন, এসব হচ্ছে নির্বাচনের নামে ছেলেখেলা। জোনায়েদ সাকী বলছেন মানুষ এখন কথা বলতেও ভয় পায়। ওবায়দুল কাদের বলছেন আমি ভোট ছিনতাই করবো না। বাহ! একদম সত্য যুগ এসে পড়লো যেন। এতকাল তিনি ঠাকুর ঘরের কলা ছিনতাই করেছেন। অতীতের ছিনতাইকারী কিভাবে স্বভাব পাল্টাবে, যদিও তাদের আচরণে সুবোধ হওয়ার কোন লক্ষন নেই।  পিলখানা হত্যাকান্ডে তিন প্রধানকে যমুনার একটি কক্ষে আটকে রেখে বিডিআর বিদ্রোহকে কার্যকর করেছিলেন শেখ হাসিনা, বিডি পলিটিকো এ সংবাদ বিলি করেছে (১৫ ডিসেম্বর ২০১৮)। উল্লেখ্য ৫৭জন অসাধারণ মেধা সম্পন্ন চৌকশ সেনা অফিসারদের মেরে এ সরকার তার হাত রঞ্জিত করেছে। সর্বোমোট ৭৪ জন সেনাঅফিসার ও এর সাথে পরবর্তীতে অসংখ্য ব্যক্তিকে ঠান্ডা মাথায় শত্রু নির্মুলের নামে বিচারের ওছিলায় হত্যা করে। পরবর্তীতে বিচারের নামে ৮০০জনকে দন্ডিত, ১৫৩ জনকে ফাঁসি ও ৫০ জনকে হত্যা করা হয়। এটি ছিল বিগত সময়ে সরকারের শুরুটা আর পরবর্তী বড় সময় থেকেই চলে দেশ বিধ্বংসী নাটকীয় খেলার মহঢ়া । সরকার কোনভাবেই ক্ষমতা ছাড়তে চাচ্ছে না, এর বড় কারণ অন্যেরা কম জানলেও অপরাধী তার অপকর্ম নিজেরা জানে সবচেয়ে বেশী, ঐটি স্মরণ করেই ভয়ে চুপসে যাচ্ছে। পোলাও কোর্মা খেতে তো ভালোই লাগে কিন্তু অতি ভোজনে বদহজম হলে সেটি হয় বেশ পরে। ঐ বদ হজমের সময়টি বিগত সময়ের অবৈধ এ সরকার বড় সময় থেকে পার করছে।

পাঠক, মনে রাখবেন ধর্ম নিরপেক্ষতার সাথে মুক্তিযুদ্ধের কোন সম্পর্ক নেই। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের জীবনে ভারতীয় স্বার্থের আওয়ামী সংযোজন। ২০১৮ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয় দিবসে শহিদ মিনারেও হামলা, আওয়ামী লীগের বেপরোয়া হামলাতে দেড় শতাধিক আহত, ৩০ যানবাহন ভাংচুর, এসব কাজে চাপাতি রামদা তাদের হাতের পাঁচ। আওয়ামী তরুণরা দালাল হয়ে ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আজো তৎপর। তারা চায় বাংলাদেশের বিনিময়ে দেশ থেকে নীতিকে সত্যকে ধর্মকে বাতিল করতে। গত মাত্র আট দিনে ২২৪১ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয় (১৭ই ডিসেম্বরেরর খবর)। তারা নিজেরাই হামলা করে আবার হামলাকারীদের উপর পরে মামলাও করে, দুটোই তাদের দখলে। ৩০০ আসনেই হামলা হয়েছে, বলেছেন রিজভী। দশ কেলেঙ্কারীতে লোপাট দেশের ২২,৫০২ কোটি টাকা (০৯ ডিসেম্বর ২০১৮) মিডিয়ার খবর। সম্প্রতি অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর ষড়যন্ত্র ফাঁস দেখা যাচ্ছে ইউটিউবে। মইনুল হোসেনকে একটা মামলা খসে গেলে ভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর তাগাদাও এসেছিল, অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে। প্রচারণার সময় কর্ণেল ওলির ছেলের আঙ্গুল কর্তন করা হয়। বিরোধীদের উপর হামলা ক্রমিক গতিতে বেড়েই চলেছে, ছিল আছে থাকছে, ইসি মাঝে মাঝে লজ্জিত ও মর্মাহত মাত্র, এ পর্যন্তই, কোন পদক্ষেপ নিতে সক্ষম নন। কামাল হোসেন বেঁচে থাকা নিয়ে শংকা প্রকাশ  করে বলছেন, যদি মরেও যান তার লাশটা রেখে আঙ্গুল নিয়ে হলেও যেন ভোটটি দেয়া হয়। এ কথার মাঝেই একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষের কঠিন বাস্তবতা ও পরিবেশ পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট ফুটে উঠছে। পোষ্টার থাকবে শুধু একদলের আর কারো নয়। ইবলিসের আচরণের সাথে এদের আচরণের মিল কি জাতি পাচ্ছেন না? আল্লাহ কুরআনে এটি ষ্পষ্ট করেছেন এরা কোন লুক্কায়িত শক্তি নয়, এরা প্রকাশিত শক্তি। তোমাদের ধারে কাছে এরা বিচরণ করবে এদের আচরণ দেখে এদের চিনে নিতে হবে। সবার উপর এটিও বলা হয় যে, শয়তানের চাল বড়ই দুর্বল (সুরা নিসার ৭৬ আয়াত)।

ডিসেম্বরের ৮ তারিখ ২০১৮ সাল।

 

 

 

 

নাজমা মোস্তফা

বেশী কথা বলার অবকাশ নেই। অল্প কথায় অনেক বেশী বলতে চাই, মানুষের হাতে সময় কম, পড়ার সময় যেমন নেই, আমার হাতে লেখার সময়ও অল্প। ধর্মের মানদন্ডে সংক্ষেপে অদেখা সমাজে প্রচলিত অশরীরি শয়তানের একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ করছি এ কলামটিতে। ইসলামের যুক্তি হচ্ছে প্রতিটি বিষয় নিয়ে সচেতনকে গবেষনা করতে হবে, আরবীতে তাকে বলা হয় ইজতেহাদ। যদি কেউ সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছতে পারে তবে সে বহুবিধ অর্জন জমা করবে, আর যদি সঠিক সিদ্ধান্তে নাও পৌছায়, তারপরও তার সৎ প্রচেষ্ঠার জন্য সে অন্তত কিছু সুফল জমা করবেই। এজন্য প্রতিটি জটিলকে নিয়ে গবেষনা করা আবশ্যক। কিন্তু মনে হয় মানুষ এ খুঁজে দেখার কাজে যথেষ্ট গাফেলতি দেখিয়েছে বলে আজো সেটি স্পষ্ট হয়নি। সবাই একটি অনিশ্চয়তার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। “আশরাফুল মকলুকাত” নামের সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষকে সবাই চিনছেন কিন্তু এদেরই পাশে থাকা আর এক প্রজাতিকে মানুষ একদমই চিনতে পারছে না। আমি ছোটকাল থেকে অতি উৎসাহে ওদের খুঁজে বেড়াচ্ছি। হতে পারে আমার খুঁজে পাওয়াটা ভুল অথবা সঠিক। কিন্তু আমার বিশ্লেষণ ও খুঁজে দেখা বস্তুনিষ্ট চোখে পরখ করে দেখা যুক্তি বিজ্ঞান ও সঠিক গ্রন্থের আলোকে শ্রেষ্ঠ ঐশীগ্রন্থ কুরআন থেকে আহরণ করা যুক্তি থেকে নেয়া। জিন সম্পর্কে এমন সব গালগল্প সমাজে প্রচলিত আছে যার কোন ভিত্তি কুরআনে খুঁজে পাইনি।

জিন শব্দটির অর্থ হচ্ছে অদৃশ্য, গুপ্ত, লুক্কায়িত, আবৃত ইত্যাদি। বাংলা একাডেমী অভিধানে বলা হয়েছে ইসলামী বিশ^াসমত এক ধরণের অদৃশ্য দেহধারী জীব। দৃশ্যতঃ ধর্মটি সচেতন যুক্তি বুদ্ধিসম্পন্ন সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ চক্ষুষ্মানদের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। সে হিসাবে সাধারণের দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে আজও অদেখা, গুপ্ত, আবৃত জিন নামের জীবটি। একজন অনুসন্ধানী হিসাবে কুরআনে খুঁজে পাওয়া উপসর্গটির আচরণ থেকে পরখ করলে মনে হয় ঠিকই এদের খুঁজে পেয়েছি। অনেককে প্রশ্ন করেও জানতে পেরেছি তারা মনে করেন শয়তান বা জিন এরা গাছে গাছে উড়ে বেড়ায়। কুরআন হিসাবে কথাটি একদম আগাগোড়া মিথ্যা কথা। বেশীর ভাগ মানুষ না বুঝেই কুরআন মুখস্ত করেন। এর সুর লহরি এতই মুগ্ধকর যে তার তুলনা পাওয়া ভার। তবে ভাবা যায় না এর ভেতরের রসসুধা যে কত অমৃতে ভরা, সেটি যারা এটি প্রতিনিয়ত চষে বেড়ান শুধু তারাই জানেন ভালো। এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে আছে জ্ঞানের অফুরাণ ভান্ডার। এর উপর সুক্ষ্ম গবেষনা বা পর্যালোচনা সীমিত আকারে হয়েছে বলেই আমাদের দুর্ভোগ কোনভাবেই কাটছে না। কুরআন বলে, “আর প্রতিরক্ষা প্রত্যেক বিরুদ্ধাচারী শয়তানকে। তারা কান পাততে পারে না উর্ধ্ব এলাকার দিকে, আর তাদের দিকে নিক্ষেপ করা হয় সবদিক থেকে- বিতাড়িত, তাদের জন্য রয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন শাস্তি” (সুরা সাফফাত ৭/৮/৯ আয়াত)। এরকম একটি আয়াত থাকার পরও সাপ কুকুরের স্বরুপ নেয়া, গাছে গাছে,  আকাশে উড়ে বেড়ানোর মিথ্যাচারী অর্জনে মানুষ বিশ^াসী হয়েছে। যদি সত্যি তাই হতো তবে অন্তত একটি লাইনও এদের এ স্বভাবের  উপর কুরআনে থাকতো। আর একটি আয়াতে দেখা যায় আল্লাহ বলেছেন “তারা আল্লাহর সাথে শরিক করে জিনকে, যদিও আল্লাহ এসবের অনেক উর্ধ্বে, তিনিই তাদের সৃষ্টি করেছেন কিন্তু তারা আল্লাহর সাথে পুত্র কন্যা সম্পর্ক দাঁড় করিয়েছে” (সুরা আল আনআম:১০১ আয়াত)। আর স্মরণ করো! আমরা তোমার কাছে জিনদের একদলকে ঝুঁকিয়ে দিয়েছিলাম (কুটবুদ্ধিসম্পন্ন ভিনদেশীয় ইহুদীদের, ৭২:১) একদলকে ঝুকিয়ে দিয়েছিলাম যারা কুরআন শুনেছিল; তারপর তারা যখন (একে অন্যে) এর সামনে হাজির হল, তারা বললে: “চুপ করো”। তারপর যখন তা (পড়া) শেষ করা হলো, তারা তাদের স্বজাতির কাছে ফিরে গেল সতর্ককারীরূপে (মুসলিম হিসাবে)(সুরা আহকাফএর ২৯আয়াত)। এর পরের আয়াত – তারা বললে: “হে আমার স্বজাতি! নিঃসন্দেহ আমরা এমন এক গ্রন্থ শুনছি যা মুসার পরে অবতীর্ণ হয়েছে, সমর্থণ করছে এর আগে যেটি রয়েছে, আর পরিচালনা করছে সত্যের দিকে ও সহজ সঠিক পন্থার দিকে (সুরা আহকাফ এর ৩০ আয়াত)। বলো (হে মুহাম্মদ!) “আমার কাছে প্রত্যাদেশ করা হয়েছে যে জিনদের একটি দল শুনেছিল (এদের শ্রবনশক্তি বর্তমান) এবং বলেছিল ‘আমরা নিশ্চয় এক আশ্চর্যজনক কুরআন শুনেছি। যা (মানুষকে) সুষ্ঠুপথের দিকে চালনা করে, তাই আমরা তাতে ঈমান এনেছি আর আমরা কখনো আমাদের প্রভুর সাথে কাউকেও শরিক করবো না (সুরা জ্বিনএর ১,২ আয়াত)। “হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রসুলগণ আসেননি যারা তোমাদের কাছে আমার নির্দেশাবলী বর্ণনা করতেন আর তোমাদের সতর্ক করতেন এই দিনটির একত্রিত হওয়া সম্বন্ধে (সুরা আল-আনআমের ১৩১ আয়াত)।” ঐ ধারাবাহিকতায় এখানে আর একটি আয়াত আনছি, “আমরা তোমাকে (মোহাম্মদকে) সমগ্র মানব সমাজ বৈ অন্য কাহারো নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী ছাড়া প্রেরণ করি নাই কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না যে তুমি সমস্ত বিশ^ জগতের জন্য আল্লাহর করুণারুপে আবির্ভূত হয়েছ (সুরা সাবা ২৮ আয়াত)।” উল্লেখ্য আল্লাহ বেশীর ভাগ সময় আমি না বলে বলেছেন আমরা (আরবী ষ্টাইলের সম্মানজনক ব্যবহার), এই শেষের আয়াতই স্পষ্ট করছে এই মানব সমাজের বাসিন্দারাই হচ্ছে মানব সমাজ ও জিন সম্প্রদায়। উপরের আয়াত নির্দেশ করে অনেক জিনেরা অতপর মানুষ হয়েছে তাদের স্বভাবের জিনত্ব পরিত্যাগ করেছে (সুরা আহকাফএর ২৯আয়াত/ সুরা জিনের ১,২ আয়াত দ্রষ্টব্য)। আল্লাহ চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন “যদি মানুষ ও জিন সম্মিলিত হতো এই কুরআনের সমতূল্য কিছু নিয়ে আসতে, তারা এরকম  কিছুই আনতে পারত না যদিও বা তাদের কেউ কেউ অন্যদের পৃষ্ঠপোষক হতো” (সুরা ইসরার ৮৮ আয়াত)। এ আয়াতেও স্পষ্ট যে এ দু’ দল একসাথেই সকল কর্ম অপকর্ম করে, তারপরও তারা এক হয়েও আল্লাহর চ্যালাঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে না। এরপরও আমরা ঐ জিনকে খুঁজে দেখি নি। এরা সব সময়ই আমাদের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়াচ্ছে।

উপরের আয়াতগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এদের যেমন কোন অশরীরি দেহ নেই ঠিক তেমনি ঔদ্ধত্য উগ্রতা নষ্টামী ব্যতীত কোন অসাধারণ ক্ষমতা বলেও কিছু তাদের নেই, এদের পরিচয় হচ্ছে এরা বিতাড়িত ও শাস্তিপ্রাপ্ত সদস্য। সাপ কুকুরে পরিণত হবার কোন ক্ষমতাই এরা রাখে না। চিন্তার প্রকাশ থেকে আমরা বলতে পারি পৃথিবীতে বড় মাপে একটি সম্প্রদায় আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রাখার দাবী করে। এরা হচ্ছে খৃষ্টান সম্প্রদায় যদিও নবী ঈসা নিজের সম্বন্ধে এ ধারণা বিলি করেন নাই, সেন্ট পোল এ ধারণার জনক। তা ছাড়া আরবের কুরাইশরা তাদের লাত উজ্জাহ ও মানাহ এই তিনকে মনে করতো আল্লাহর কন্যা। তফসিরকারকরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্য আয়াতে একদল জিনকে খুঁজে পাওয়া যায় যারা ছিলেন ইহুদী তারা স্বীকার করছে তারা মুসার পরে ঠিক ঐরকম অসাধারণ বানী সমূহ আবারো দ্বিতীয় বারের মত শুনতে পেল। কারণ তারা ইহুদী হওয়াতে তারা জানতোই মুসার গ্রন্থে কি ছিল। এবার নবী মোহাম্মদের কুরআনের বাণী শুনে এটি ছিল তাদের স্বতস্ফুর্ত বহিঃপ্রকাশ। তার মানে দেখা যায় এখানে খৃষ্টান ও ইহুদীদের তথাকথিত অমানবিক উগ্র স্বভাবের, অগ্নিমূর্তি স্বভাবের কারণে তাদেরে জিন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যতটুকু আমরা গ্রন্থে ও ধারে কাছে এদের খোঁজ পাই তাদের খুব চেনা চেনা মনে হয়। মনে হয় এরা আমাদেরই বন্ধু স্বজন। মানুষ তৈরীতে আওয়াজদায়ক মাটি লেগেছে। মানে এর মাঝ থেকে আওয়াজ হবে, ধারণা হয় এরা স্বভাবে নরম মাটির মতই, আওয়াজকারী হবে (সুরা আল হিজর ২৬ আয়াত)। তারো আগে জিন সম্প্রদায় সৃষ্টি করা হয়েছে যাদের স্বভাবটা আগুণের মতই হবে, তাই বলা হয়েছে এরা হবে আগুণের তৈরী (সুরা আল হিজর ২৭ আয়াত)। এরা অবাধ্য, বিতাড়িত, জাহান্নামী, পথহারা, অনাচারি। এই উভয় সম্প্রদায়ের উপর অনেক আয়াত খুঁজে পাওয়া যায়। সুরা আর রহমানে দেখা যায় বার বার এ দু’ সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে যা দিয়ে এদের খুব সহজে চেনার যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদের ফলফসল, গোছাবিশিষ্ট খেজুর, খোসা ও সুগন্ধিদানাযুক্ত শস্য, ফল ফসলের জোড়ায় জোড়ায় উৎপাদন, ফলমূল, ডালিম এসব অফুরান দিয়েছি। সে সুরাতেই চরিত্রগঠনমূলক উপদেশ হিসাবে ওজনে কম না দিতেও বলা হয়েছে, আর পরক্ষনেই দু’ জনকে উদ্দেশ্য করে উপরের ও পরের কথাগুলো বারে বারে বলা হয়েছে। তার মানে এখানে যারা জিন সম্প্রদায়ের তারাও মানুষকে ওজনে কম দিচ্ছে এবং আল্লাহকে অস্বীকার করে চলেছে অন্য আর সব সাধারণ বিস্মৃত মানুষের মতই। “ফাবিআইয়্যিআলা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান” (সুরা আর রহমানের ৭৭ আয়াত)। এর অর্থ হচ্ছে সুতরাং তোমাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে?

অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খাঁর অনুবাদ করা ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘আরব জাতির ইতিহাস’ মূল লেখক ঐতিহাসিক পি,কে, হিট্টি থেকে জানা যায় আইয়ামে জাহেলিয়াতির যুগে বেদুঈনদের কবিতা দিয়ে বিচার করা হতো। তারা ঐতিহ্যকে লালন করতো এবং আচার অনুষ্ঠানাদিই ছিল তাদের ধর্মের মূল উৎস। তারপরও কখনোই কোন দেব দেবীর প্রতি তাদের প্রকৃত ভক্তির পরিচয় পাওয়া যায় না। তবে বেদুঈনরা বিশ^াস করতো মরুভূমিতে পশু প্রকৃতির কিছু জীব বাস করতো। তাদের মনোজগতের সৃষ্ট দেবদেবী আর জিনের মাঝে পার্থক্য শুধু এটিই ছিল যে দেবদেবীরা মানুষের হিতৈষী আর জিনেরা মানুষের অনিষ্ঠকারী, দুশমন। মরুভূমির অজানা বিভিষিকা ও জীবজন্তুর আতঙ্কেই তারা কল্পনায় এ অশরীরি জীবের ধারণা লালন করতো। দেখা যায় ইসলাম আগমনের পরও এ ধারণা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি, বরং এদের সংখ্যা বেড়ে যায়। কারণ ঐ সময় সমাজ থেকে পৌত্তলিকতাকে সম্পূর্ণ মুছে দেয়া হয় বলে মানুষ ঐ দেবদেবীর স্থানে খুব সহজে জিনদেরে স্থান করে দেয়। ধারণা হয় আজও জনতার অবচেতন মনে ঐ ধারণা সুপ্ত অবস্থায় হলেও থেকে যায়। একইভাবে গ্রামের ঝোপঝাড় যেমন গ্রামের মানুষের মাঝে জিনাতংক বাড়িয়েছে ঠিক ঐভাবেই মরুভূমির বিভিষিকাও মানুষকে এভাবেই আতঙ্কিত করে তুলতো। ইসলাম একটি ঐশ^রিক ধর্ম যেখানে অযৌক্তিক কোন মিথ্যাচারের সুযোগ নেই, থাকা সম্ভব নয়। আর সেখানে এ জিন উপসর্গটি কুরআনেও বারে বারে আলোচিত হওয়াতে সেটি এ ময়দানেও জায়গা খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে কুরআনের ধারণাতে মানুষ একে লালন করছে না বরং মনে হচ্ছে কুরআনকে এড়িয়ে মানুষ আজো তাদের ধারণাকে ১৪০০ বছর আগের জাহেলিয়াতি ধারণার মাঝেই বিবেককে জমা রেখেছে। বিশেষ করে কিছু সংখ্যক যুক্তিবিহীন ওয়ায়েজকারীরা, মিথ্যে ঝাড়ফুঁকের সংকীর্ণ ভন্ড ব্যবসা তাবিজ বিক্রির কপট স্বার্থে। এদের অপকর্ম নির্দেশ করে এরা নিজেরাই হচ্ছে আল্লাহর বিশ্লেষিত কুরআনের জিন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত।

শয়তানের কাজ হচ্ছে বিভেদ তৈরী করা। পাঠক চিন্তা করুন! গল্পের ইবলিস কি করেছিল? আদমের কাছে বিভেদের মন্ত্র বিলি করেছিল। ধারণা হয় ঐ জরুরী শুরুর সংবাদটি এ গল্পের মাধ্যমে মানব জাতির কাছে বিলি করা হয়। এ গল্পটি ধর্মীয় জীবনের একটি বড় মাইল ফলক, মানুষকে মনে প্রাণে এর শিক্ষাকে গ্রহণ করতে হবে। এ গল্পটি একটি রুপক গল্প, মানুষের অনাগত জীবনের এক সুক্ষ্ম সতর্ক সংকেত লুকিয়ে ছিল এখানে। সারা জীবনই তাকে ঐ অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠিন সংগ্রামরত থেকে সময় পার করতে হবে, আর ঐ অপশক্তি কিয়ামত অবদি মানুষকে ধ্বংস করার সব অপকাজ করে যাবে। এ ম্যাসেজটি বিলি করার উদ্দেশ্যেই ছিল, প্রথমত আল্লাহ কখনোই মানুষের শত্রু নন, শত্রু হচ্ছে ঐ অপশক্তি যে তার স্বরুপে মানব প্রজাতির ধারে কাছে সারা জীবন থেকেছে, থাকছে ও থাকবে এবং সব ধ্বংসে তৎপর থাকবে। সুরা আর রহমানে এটি শুধু স্পষ্ট করা নয়, বরং জীবন্ত উদাহরণ দিয়ে সুষ্পষ্ট করেই বলা হয়েছে মানুষ যা খাবে সে একই ভোগ্যপন্য ঐ পাশের চরিত্রের এরাও খাবে। সে জাহান্নামি হবে কারণ সে সবসময় অপকর্ম করবে, তার জন্য ঐ স্থান নির্ধারণ করে রাখা। তবে মানুষের জন্য দুটি স্থান নির্ধারণ করে রাখা আছে সেটি জান্নাত ও জাহান্নাম। বিবেচক মানুষরা গবেষনার পাঠ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করাতে জিন বা শয়তানের সাথে বসবাস করেও তাকে চিনতে আজো সক্ষম হয়নি। কিন্তু এদের চিনে নেয়াটা জরুরী ছিল, প্রতিটি মানুষের অবশ্য কর্তব্য ছিল, ফরজ কাজ ছিল, কারণ এটি কুরআনের সাক্ষাৎ নির্দেশ। এদের থেকে বহুহাত দূরে থাকাই হচ্ছে ঈমানদারী। দেশ সমাজ জীবন রাষ্ট্র দুনিয়া ও আখেরাতের সবকটি অধ্যায়কে পার হওয়ার জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম ছিল, এদের চিনতে পারলে মানুষ সকল বিড়ম্বনা থেকে সহজে উতরে যেতে পারতো। ধর্ম নিজে নিজেই বিভক্ত হয়নি, একে বিভক্ত করেছে শয়তান। কিন্তু আজো আমরা সেই চিহ্নিত শয়তানকে খুঁজে বের করিনি যে কিনা ইসলাম ধর্মকে বিভক্ত করে শিয়া সুন্নী নামে দু’ টুকরো করেছে। অবশ্যই এটি আমাদেরকেই করতে হবে। “আর তাদের মত হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল এবং মতভেদ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী আসার পরেও। আর এরা – এদের জন্য আছে কঠোর যন্ত্রণা” (সুরা আল ইমরানের ১০৪ আয়াত)। পরন্তু আমরা যেটা করার সেটি না করে আজো বিভক্তকারীকে স্যালুট দিয়ে একে অন্যকে হত্যা করে চলেছি। কারণ আমরা শয়তানের তালিতে তাল দিয়ে আজো নেচে বেড়াচ্ছি। এর প্রধান কারণ আমরা গাফেল হয়ে চেতনহীন অবয়ব নিয়ে অমানুষের মত টিকে আছি।

মানব সম্প্রদায়কে মনে রাখতে হবে আমরাই হচ্ছি আল্লাহর খলিফা, আশরাফুল মকলুকাত, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আমাদের মাধ্যমেই আল্লাহর কাজ হবে। আল্লাহ নিজে প্রকাশ্য ময়দানে নামবেন না। তার নামার কোন সুযোগ নেই। কারণ আমরাই তার প্রতিনিধি। এটি শুধু ভোটের কথাই নয়, রাজনীতির কথা নয়, এটি ধর্মের কথাও। তাই ধর্ম থেকে রাজনীতিকে বিচ্ছিন্ন করাটাও শয়তানের চাল। ধর্মনিরপেক্ষতাকে আপনাদের উপর চাপিয়ে দেয়াটাও শয়তানের আর একটি চাল। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ ঐ সব নীতির উপর করে নাই। ওটি পরবর্তীতে ভারত তাদের নিজের সংবিধানে সংযোজনের আগেই বাংলাদেশের সংবিধানে জবরদখলে চাপিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের উপর ভিত্তি করে। উপরের এ তিনের একটিও বর্তমান বাংলাদেশে নেই, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও মানুষ এভাবে ধূর্ত পরাধীনতার অক্টোপাসে বাধা পড়ে গেছে। আপনার জীবনের কোন অধ্যায়েই আপনি নীতিকে পরিহার করতে পারেন না। এই নীতিটাই হচ্ছে মানবতার ধর্ম, তাকে ইসলাম বলেন মানবতা বলেন, সবটাই আল্লাহর প্রেরিত। তিনি পরখ করছেন সবকিছুই, আপনি তাকে দেখছেন না একবারও, কিন্তু তিনি আপনাকে সারাক্ষণ পর্যবেক্ষণ করছেন। আপামর জনসাধারণ দয়া করে এই একটি কথার উপর প্রচন্ড শক্তিতে বিশ^াস রাখবেন দেখবেন আপনারাই হতে পারবেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব সম্প্রদায়। আমরা যদি আল্লাহর কথা না বলি তবে তার কথা বলার আর কেউ থাকলো না। তার প্রতিপক্ষ বিরোধীপক্ষ হচ্ছে শয়তান বা জিন সম্প্রদায়ভুক্ত যাদের বিচার করার সব ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হয়ে আছে গোটা বিশ^ জুড়ে কারণ এরা আল্লাহর চরম অবাধ্য ও বিতাড়িত। ওর প্রতিরোধে প্রকৃত উৎকৃষ্ট মানব সম্প্রদায়কেই সচেষ্ট থাকতে হবে। আল্লাহ বলেন, “তোমরা কি আমাকে বাদ দিয়ে শয়তানের প্রজন্মকেই অভিভাবক মনে করবে? অথচ তারা তোমাদের দুশমন, আর অন্যায়কারীদের জন্য এ বিনিময় কত নিকৃষ্ট” (সুরা আল কাহাফ ৫০ আয়াত)। “যারা কঠিনভাবে ঈমানদার নয়, তারাই শুধু শয়তানের কোপে পড়ে, শয়তানকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করে” (সুরা আরাফ ২৭ আয়াত)

 শয়তানের স্বরুপ (নীচে এগারোটি সুরার অনেকগুলি আয়াত দেয়া হলো) : “নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের দুশমন” (সুরা ফাতির আয়াত ৬)। “মানুষের জন্য শয়তান বিশ^াসঘাতক” (সুরা ফুরকান ২৫-২৯ আয়াত)। “শয়তান ওয়াদা করায় ও আশা দিয়ে ভুলায়, ঐ ওয়াদা ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। এদের ঠিকানা দোজখ, সেখান থেকে মুক্তির কোন উপায় পাবে না” (সুরা নিসার ১১৬-১২২ আয়াত)। “শয়তান তোমাদের চিরশত্রু, তাকে শত্রু হিসাবে গ্রহণ করো। সে মানুষকে জাহান্নামের দিকে প্ররোচিত করে” (সুরা ফাতির ৬-৭ আয়াত)। “বিপথগামীদের যারা শয়তানের পথ অনুসরণ করবে, জাহান্নামই তাদের প্রতিশ্রুত আবাস” (সুরা আল হিজর ৩৯-৪৩ আয়াত)।  “যারা সত্যের উপর বিশ^াস রাখে,  সৎ জীবন যাপন করে তাদের উপর শয়তানের কোন প্রভাব পড়েনা ও শয়তানের কর্তৃত্বও কার্যকর হয়না” (সুরা নহলএর ৯৯ আয়াত)। “(হে মুহাম্মদ!) কর্ণধার হিসাবে আল্লাহই তোমার জন্য যথেষ্ট” (সুরা ইসরা ৬৫ আয়াত)। “শয়তানদের দ্বারাই জাহান্নাম ভর্তি করা হবে” (সুরা আরাফের ১৮ আয়াত)। “শয়তান তার চক্রান্ত দিয়ে মানুষকে সামনে পেছনে ডানে বামে সবদিক থেকে আক্রমণ করবে” (সুরা আল আরাফের ১৭ আয়াত)। “অপব্যয়ীরা হচ্ছে শয়তানগোষ্ঠীর ভাই। আর শয়তান হচ্ছে তার প্রভুর প্রতি বড় অকৃতজ্ঞ” (সুরা বনি-ইসরাইলএর ২৭ আয়াত)। “শয়তান হচ্ছে অধমদের মধ্যেকার” (সুরা আরাফের ১৫ আয়াত)।

উপরে সংক্ষেপে বিতাড়িত শয়তানের কিছু স্বরুপ দেবার চেষ্টা করলাম। এবার মেধা সম্পন্ন মানুষকে নিজেদের জানার ও প্রতিপক্ষ শয়তানকে চেনার জন্য স্পষ্ট করছি কারা এবং কিভাবে শয়তানের কুমন্ত্রণাতে সাক্ষাৎ আক্রান্ত । এদেরেই আল্লাহ শয়তান, জিন, ইবলিস নামে আখ্যায়িত করেছেন। অনেক আগে একবার চোখে পড়েছিল কোন এক হাদিসে যে ইবলিস ছিল ঐ সময়ের একজন কৃষকের নাম। রং চড়িয়ে প্রচার করা হয় শয়তান নাকি বড় ফেরেশতা ছিল, সবই বানোয়াট প্রচার, আল্লাহ কুরআনে বলেন, “ইবলিস শয়তান জিনদের মধ্যেকার” (সুরা কাহফ ৫০ আয়াত)। যারা মিথ্যাবাদী, প্রতারক, সব অপকর্মে সিদ্ধহস্ত, পাপাসক্ত, গোপন কথায় রং চড়ায় ও মিথ্যা প্রচার করে, আল্লাহ বিরোধী কর্মকান্ডে দক্ষ, দুনিয়া ও আখেরাতের পরোয়া করে না, পাপের ও লোভের পথে হাটে, কামনা বাসনার দাসত্ব করে, খারাপ কর্মকান্ডের তাবেদারী করে, শিরক বিদআত করে, যাদের অন্তর কুমন্ত্রণা দেয়, কুধারণায় চলে, মিথ্যা অহংকারী, সৎ কাজে গাফিল, কাজে কর্মে আল্লাহতে অবিশ^াসী, কুপথকেই সৎ পথ মনে করে, কাজেকর্মে বধিরের ভূমিকা পালন করে, চোখ থাকতেও যারা অন্ধ, পথহারাদেরে বন্ধু মনে করে, মিথ্যা শপথ করে, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি করে চলে। এ হচ্ছে এদের চেনার মোক্ষম উপায়। “নিঃসন্দেহ আমি- আমি হচ্ছি একজন প্রত্যক্ষ সতর্ককারী (সুরা আল-হিজরএর ৮৯ আয়াত)।”  আর এর ব্যাখ্যা আর কেউ জানে না আল্লাহ ছাড়া। আর যারা জ্ঞানে দৃঢ় প্রতিষ্ঠত তারা বলে —“আমরা এতে বিশ্বাস করি, এসবই আমাদের প্রভুর কাছ থেকে” আর কেউ মনোযোগ দেয় না কেবল জ্ঞানবান ছাড়া” (সুরা আল-ইমরানের ৬ আয়াত)। সবার শেষে আমি আল্লাহর এই সাবধানী সংকেতগুলোকে সাবধানী ম্যাসেজ মনে করে আজকের এ জটিল কলামের ইতি এখানেই টানছি। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

বি দ্রষ্টব্য: উপরের এ বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ আমার নিজের। বেশ কয় যুগ থেকে এ নিয়ে অনেক গভীর চিন্তার পর বিশ্লেষনে এটিই আমার মনে হয়েছে। সর্বোপরি আল কুরআনের এ বিশ্লেষণ নির্ধারণ করবে এর প্রকৃত গভীরতা, সাথে চিন্তাশীলদের বাড়তি জমা ও পাঠকের মতামত গুরুত্বপূর্ণ । এখানে আমি খুব সংক্ষেপে কুরআনের আলোকে একটি কলামের মাঝেই বিশাল এ ব্যাপারটি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করে গেলাম।  ডিসেম্বর ২০১৮ সাল।

এ লেখাটি ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক  “দি রানার” পত্রিকাতে লেখাটি ছেপেছে।

এখানে মোট ১০০ + + + (১২২) লেখার লিংক দেয়া হলো। যে লেখাগুলি রাজনৈতিক পটে লেখা হয়েছে। বাংলাদেশ বড় সংকট সময় পার করছে। বাস্তব ঘটনার আলোকে এগুলি লিখা হয়েছে ময়দানের দাগ চিহ্ন দেখে। স্বাধীনতা পরবর্তী জাতি এত বিপর্যস্ত অবস্থান মোকাবেলা করে নি যা বর্তমানে একটি বড় সময় থেকে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। লেখাগুলি বাংলাদেশীদের জীবনের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। লেখাগুলি প্রতিটি সচেতন বাংলাদেশীর পড়া অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়াও কিছু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাস্তব নির্যাতনের কিছু চিত্রও এখানে এসেছে। শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসাবে ইসলাম একটি জরূরী অধ্যায়, অস্বীকার করার উপায় নেই। তাতে কোন ভুল জড়িত থাকুক সেটি এখানের কোন সৎ নেতৃত্বই চাইবেন না। সঙ্গত কারণে সেটির মূল্যায়নও দরকার। 

ভোটের আগেই ভোট ডাকাতী ছায়া সরকারের নড়াচড়া / বিচারের নামে অদেখা বিচারককে দয়া করে ভুলে যাবেন না / ধর্ম ও রাজনীতিতে প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশ ও সৌদি / ইমাম যখন ঈমান হারান / আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস /  বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম /  মানুষের রক্তে নদীরা লাল /  শিকড়হারা (?) রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ  /  ফরহাদ মজহার, খালেদা জিয়ার বোতল, পুলিশ ও সরকার / পলাশির পতনের মূলে হিন্দু পরাশক্তি অতঃপর মীরজাফর /

বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন, ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব? , নিষিদ্ধ বৃক্ষ / ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা /  বাংলাদেশের কলিজাতে কামড়: লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞ্জুর / মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। মাদ্রাসার বই ও হিন্দু লেখক , ভুল শুধরে ফের ভুল / সত্য বলা ছাড়া আর কোন বিকল্প দেখছি না /  হাওর গিলছে ভারত পানি মাঙ্গা লালপানি মিলা / জাতীয় সংগীত মূর্তিবন্দনা থেকে মাতৃবন্দনা অদক্ষ হাতে দেশবন্দনা (conspiracy / politics) বাংলাদেশ কি আকবরের দীন-ই-এলাহীর উত্তরসুরি? / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার / স্বাধীনতা হারাবার শংকা কেন জাগছে? / মাওলানা সাঈদীর বিচারে “গভমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়” /  ষড়যন্ত্রের ভূমিকম্প : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / মধ্যযুগীয় উপনিবেশ: রুখে দাও বাংলাদেশ  / প্রতিরক্ষা চুক্তির ফাঁদে লেজেগোবরে জঙ্গিবাংলাদেশ ভাসুরের নাম মুছতে ব্যাংকে আগুন সাথে জঙ্গি হামলা /  ২০০১ সালের ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ জানান দেয় বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ / বিগত শতকের গুণ্ডামি আজ চলচ্চিত্রের ‘গুণ্ডে’ / ঢিলের বদলে পাটকেল আসে কখনও খোদায়ি কখনও মানবিক /  ১৯৮৩ সালে ভারতে বাংলাভাষীদের ওপর আরোপিত নেলীর ধ্বংসযজ্ঞ /  এরশাদ চিহ্নিত জোড়া প্রতারকের একজন / ওড়না বিতর্ক: / মুক্তমনা ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক্যবাদের নামে পাঠ্যবই এ গভীর ষড়যন্ত্র /  কয়লার ময়লাতে সুন্দরবন গভীর শংকায়  / আটশ’ বছরপূর্ব ওলির বাণীতে মানচিত্রের অতীত ও ভবিষ্যত্ +সিইসি বিতর্ক পিপিলিকার পাখা /   ছবি যখন ডিজিটাল ভোটের কথা কয়! /  ইসলাম বাতিলের ধ্বনি / জাতি জাগো  / ধর্মনিরপেক্ষতা ষড়যন্ত্রীদের ধর্ম বটিকা ! / গোলামী বড়? / প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা ধর্ম চাকরী / ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ / পড়শির মনমত  / পথ খুঁজছে নাগরিকত্ব হারানো / হিন্দু প্রলয়াম / কুরআন পুড়ানো, প্রতিমা ভাঙ্গা / আনন্দবাজার ও “র”সুন্দরবন শংকায় “ক্রুসেডার ১০০”সংকটে জেগে উঠ / রাজনীতির অগ্নুৎপাত / গণতন্ত্র কি / শহীদের প্রশ্নবিদ্ধ সংখ্যা  / জাতীয় সংগীত বিডিআর বিদ্রোহ / মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) এম এ জলিল: অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা / আলামত সৃষ্টির না ধ্বংসের? ব্যাংক লুটে ৭২ – ৭৪, ২০১৬ / প্রস্থান হোক প্রধান দাবী /  চিন্তার বলিরেখা কপালে / দুজন সম্পাদক / জিহাদ জঙ্গি, জয়, লাশের দেশ / গুলশানের জমা / সরকারই জঙ্গী ওপেন সিক্রেট / কল্যানপুরের জঙ্গি / সার্বভৌমত্ব মাপুন / দুর্গা পূজা পলাশীর কলঙ্ক / সুরঞ্জিতনামা / সংকটে বাংলাদেশ / কণ্ঠে কাঁটার মালা লতার বেদনায় হালকা মলম / দুই বিদেশী হত্যা: সরকার ও ভারত /  অন্ধ আলোটা নিভিয়ে দাও / বিরোধীরা আন্দোলনে সরকার গণহত্যায় / সরকার অপকর্ম দেখে না /  বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে একুশে আগষ্ট ২০০৪, সন্দেহ সন্ত্রাসীকে / ভারত সরকারের নির্বাচনী ব্যাঙ্ক ২০১৪ ডিসেম্বরের রাজনৈতিক হালখাতা / লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞজুর / স্বৈরাচাররা দুর্গন্ধ ঢাকতে ব্যস্ত ভালবাসার নাস্তিক সংকট / বৈশাখ পূজা শবেবরাত ইলিশ মঙ্গলপ্রদীপ সমকামিতা মানবাধিকার / ২০১৬এর রমজানে সংযম সংকট /  আকবরের দীন-ই-এলাহী কি ? ষড়যন্ত্রে : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / গুজরাটের রক্ত: ভারতবর্ষের গর্ব না কলঙ্ক? / অযোধ্যার আগুনের সলতেটা কার /

ধর্ম গবেষনা মূলক লেখা: অনেক ক্ষেত্রে ভুল ভাবে ধর্মের  বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সেটি স্পষ্ট করতে ১৮ + লেখা সংযোজন করছি যে গুলি এর মাঝে ছাপা হয়েছে এই সাইটে। 

ঐশী গ্রন্থ কুরআন থেকে মানব ও দানব চেনা সময়ের বড় দাবীবিবি আয়েশার বিয়ে / ইমাম যখন ঈমান হারান / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ /  বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন,  ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব?, নিষিদ্ধ বৃক্ষ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা / ইসলামে যুদ্ধ: ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা / ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:মুতার যুদ্ধ ময়দানের কঠিন যুদ্ধ: ধর্ম ব্যবসা নয় / দোররা / বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম: /  কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা  / সেক্যুলার বাংগালি মুসলিমের ধর্মহীনতা / ২০১৫ এর লাশের মিছিলে হজ বিপর্যয় / “মুতাহ” বিবাহ “আইএসআইএস”এক বিষ ফোঁড়ার নাম / মাকড়শার ঠুনকো বাসাখুতবা, তবলিগ জামাত, ইজতেমা ও কিছু কথা / জাকির নায়েক ও সৌদির এক ধর্ম প্রচারকের পুরষ্কার / ধর্মহারা লালনের জন্য ডেরা তৈরী করে কে বা কারা? / যুগের সত্য মোকাবেলায় হিন্দু সংস্কৃতির প্রস্তুতি / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার। / তুরষ্কের অভ্যুত্থানে আযান ছিল বিপদের সাইরেন ধ্বনি / ইহুদীরা না ইসরাইলীয় না সেমেটিক, জায়নবাদী ইহুদীরা নবী ইব্রাহিমের নয়, হিটলারের অনুসারী / মধ্যযুগ বাংলাদেশে, ধর্মের নামে রাজ প্রতারণা / ইসলামের নারী

তাছাড়া কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক বিষয়ে বা সাহিত্যে ইতিহাসে যে নির্যাতনের অপকর্ম করা হয়েছে তারও কিছু ছোঁয়া থাকবে। এবারের লেখাগুলোতে ডজনখানেক লেখা সংযোজন করছি।  

মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। শিকড়হারা রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সময়ের দাবী কাশ্মীর বাংলাদেশ থেকে ভারত হটাও কষ্টের যাতাকলে কাশ্মীর, শুনছি যুদ্ধের ধ্বনি / প্যালেস্টাইনীরা বিপন্ন বিধ্বস্ত জঙ্গী আক্রান্ত / গাজাতে অবরোধ, বিপন্ন মানবতা, সভ্যতার নিরবতা! / মীর মশাররফ হোসেনের “গাজী মিঁয়ার বস্তানী”কবিতার অংশ:প্রসঙ্গ গুজরাটের ধর্মান্ধতা: উচ্চবর্ণের হিংস্রতা / প্রসঙ্গ রবীন্দ্র: কবি জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিতে শান্তিনিকেতন / সাহিত্যে সতিত্বহানীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বাংলাদেশে এইডসএর প্রকৃত অবস্থান অতংকজনক /  ফেলানী /

এখানে স্মৃতিচারণমূলক একটি লেখা সংযোজন করছি।

গণিভাই ও আমরা

১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

 

নাজমা মোস্তফা

কুরআন এমন একটি গ্রন্থ ও পথ নির্দেশিকা যে, ওখান থেকে যে যতই গবেষনা করবে ততই অমৃত বের হয়ে আসবে। মনের মাঝে কথাটি ঘুরপাক খাচ্ছিল, সারা বিশে^ কেন মুসলিমরা এত মার খাচ্ছে। সেদিন একজনের সাথে কথা বলছি, তখন তার যুক্তি হচ্ছে মুসলিমরা ঠিক মতন নামাজ কালাম করছে না, নিজে মানছে না, শিখছে না বাচ্চাদেরেও শিখাচ্ছে না, যার কারণে সারা বিশে^ মুসলিমরা মার খাচ্ছে। কিন্তু আজো শুক্রবারে দেখা যায় মানুষের ভিড়ে মসজিদে জায়গা পাওয়া দায়। তার মানে মানুষরা ঠিকই নামাজ পড়ছে অন্তত এটি বলার অবকাশ নেই যে, চার্চ গুলির মত মসজিদের এত দৈন্যদশা এখনো হয়নি। মনে হচ্ছে মুসলিমরা অংকে ভুল করছে বলেই ভুল রিডিং জমা করছে। ঈমান আনার পরও একজন মুসলিম অনায়াসে মিথ্যাচার করছে, অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। কিছু মানুষ মনে করে শত অপরাধ করেও নামাজ কালাম তপজপ করলেই চলবে। তপজপে পাওয়া পূণ্যের ঠেলাতে সব পাপ ধুয়ে যাবে। এমন কি কিছু সংকীর্ণ ধর্মব্যবসায়ী আলেমরা ধর্মের নামেও এসব প্রচারে উদ্বুদ্ধ করেন। তারা প্রচার করেন কুরআন বুঝা অনেক কঠিন, আমাদের কাছে আসেন। তুলনামূলক ধর্মের গবেষক ও বক্তা জাকির নায়েকের ব্যতিক্রমী যুক্তিপূর্ণ কথাবার্তার পরও এসব সংকীর্ণরা বিজ্ঞের ভূমিকায় খেলো কথাবার্তা বলে নিজেকে অনেক অভিজ্ঞ জানান দিতে চায়। তাদের দৃষ্টিতে তিনি হচ্ছেন ইহুদী খৃষ্টানের দালাল, কারণ তিনি আলখেল্লা না পরে কোট টাই পরেন। এরা ধর্মকে কখনো তাবিজ কবজের ভিতরে কখনো আলখেল্লার ভেতরে জায়গা করে দিয়েছে। আল্লাহর কম্পিউটার ও অংকীয় বিন্যাসে কাঠমোল্লারা খুব সহজে ধরা খাবে। তাদের ধ্যান ধারণায় যেমনি কুরআন রচিত হয়নি। ঠিক সেভাবে শেষ বিচারের হিসাবটাও মাজার তাবিজ দ্বারা বিন্যাস করা যাবে না। সেখানে তাদের ধর্মজ্ঞানের এই দৈন্যদশা দেখলে বাস্তবিকই কষ্ট হয়। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠরা মুসলিম কিন্তু প্রতারণা, শঠতা, মিথ্যাচারেও তারা গরিষ্ঠ সংখ্যক। এটি কেন হবে? মুসলিম নামধারী সরকার ও তার দলবল এমন সব মিথ্যাচার করছে তখন মনে হয় না এরা বিশ^াসে মুসলিম!

জালেম ও অত্যাচারী শাসকের মোকাবেলাতে সত্য প্রচার, সত্য কথন হচ্ছে সেরা ধর্মধারীর লক্ষণ।  আপনারা হয়তো শুনেছেন সাম্প্রতিক একটি সংবাদ সৌদির বর্তমান যুবরাজ সালমান কিলিং মিশনে জড়িত থেকে ফেঁসে যাচ্ছেন। কারণ কিলিং মিশনে জড়িত তার ঘনিষ্ঠদের ছবিসহ সবকিছুই ওপেন হয়ে পড়েছে। বলা চলে অনেকটা সত্য যুগের মতই অবস্থা, চারপাশে কোন অপকর্মই আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। সিসেম ফাঁকের মত সবকিছুই ওপেন হয়ে পড়ে খুব তাড়াতাড়ি। সালমান যুবরাজ হলেও আমাদের নবী মোহাম্মদ (সঃ) কোনদিনও যুবরাজ ছিলেন না। তিনি ছিলেন আব্দুল্লাহর বেটা মা আমিনার গর্ভে জন্ম নেয়া আহমদ, মোহাম্মদ নামের একজন সাধারণ আরব। তার জীবনের ব্রত ছিল সততা, নীতি নৈতিকতা। যেখানে এসব যুবরাজদের কৃতকর্ম এসবের ধারেকাছেও নেই। নৈতিকতার প্রতিটি পাটকে কবর দিয়ে সেই দীনহীন নবীর পদটিই এরা ধরে রেখেছে স্বৈরতন্ত্রের আদলে। এখানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জবাবদিহিতার বালাই নেই, স্বেচ্ছাচারিতার দোহাই দিয়ে তারা স্বৈরশাসক হয়ে যা ইচ্ছে তাই করছে। ইসলাম হচ্ছে কঠিন নিয়মের সততার নীতির ডোরে বাধা শান্তির ধর্ম। তাদের নিজেদের গদির সুবিধার জন্য তারা সব সময়ই একটি কৃত্রিম বিভেদকে জিইয়ে রাখার পক্ষপাতি। বিভেদের নাম হচ্ছে শিয়া ও সুন্নী। তারপর শিয়া আর সুন্নী হওয়ার যে বিভেদ তাও মূল গ্রন্থ কুরআনে স্বীকৃত নয়। কারণ আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন যারা আমার ধর্মকে ভাগ করবে তাদের ফয়সালা আমার কাছে। তাদের জন্য নির্ধারিত আছে কঠোর যন্ত্রণা। ইসলামই গণতন্ত্রের পথিকৃত, কিন্তু গণতন্ত্রকে সেখান থেকে খুব কৌশলে মুছে দেয়া হয়েছে। সেটি আজকালের কথা নয়, ইতিহাসের তলানীতে পড়ে আছে ঐসব বেদনা। আজ ওসব নাড়ছি না। বলছি একজন জার্নালিস্ট খাশোগী হত্যার করুণ গল্প।

চারপাশে মানুষের আচার আচরণ  লক্ষ্য করলে মনে হয় মানুষের চেয়ে ভয়ংকর আর কোন জীব নেই। ৩৩ বছর বয়সের যুবরাজের বিলাস বৈভব আর ধরাকে সরাজ্ঞান করার যে পায়তারা তা দেখলে আত্মা শিউরে উঠে। আরব সাংবাদিক খাশোগীকে হত্যার কারণ হচ্ছে তার অনুসন্ধানী সত্য প্রচারে যুবরাজ ধরা খেয়েছেন। এতে কথিত যুবরাজের খপ্পর থেকে জান বাঁচাতে দেশত্যাগ করেও তার শেষ রক্ষা হয়নি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর খাশোগীর শেষ কলামেও বক্তব্যটি উঠে এসেছে। বক্তব্যে ছিল যে আরব বিশে^র জনগণের সামনে একটি লোহার পর্দা লাগানো আছে। এটি বাইরের কেউ লাগায়নি বরং ক্ষমতার জন্য দ্বন্ধে¦ লিপ্ত আরব নেতারাই লাগিয়েছেন। জনতার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবী জানান খাশোগী। তিনি ছিলেন মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের নিয়মিত লেখক, তার শেষ কলামে এসব গভীর কথা উঠে এসেছে (বিবিসি)। এতে খাশোগী বলেন আরব বিশে^র মানুষ হয় খবর পায় না অথবা ভুল খবর পায়। অনেক ধানাই পানাইএর পর সম্প্রতি সৌদি স্বীকার করছে তাদের এ অপকর্মের কথা। বাংলাদেশেও বেশ বড় সময় থেকে মানুষের মুখে কুলুপ সেটে দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিক সাগর-রূণি হত্যা, মাহমুদুর রহমান নির্যাতন, শফিক রেহমান, শহিদুল আলমসহ অসংখ্য সাংবাদিক, রাজনেতারা মিডিয়াসহ আক্রান্ত হয়েছেন, হচ্ছেন। তবে পার্থক্য হচ্ছে বাংলাদেশে করছে গণতন্ত্রের তকমা লাগিয়ে আর সৌদিরা করছে রাজতন্ত্রের তকমা লাগিয়ে।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র বস্তাবন্দী, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাকে কোটি জনতার পক্ষে জনগণ এক হয়েছে। সরকার এ ঐক্য দেখে ভীতিকর আচরণ স্পষ্ট করছে। ধড়পাকড়, রিমান্ড, গুম জোরদার করা হয়েছে। যা দেখে ঐক্যের নেতা ডঃ কামাল বলছেন সরকার এমন আচরণ করছে জানোয়ারও এমন আচরণ করে না।  রাস্তায় রাস্তায় প্রতিরোধ, ব্যারিকেড, যান চলাচল বন্ধ ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করার পরও লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছে। নেতাদের দাবী স্বৈরাচার থেকে মুক্তি, গনতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবী, অবাধ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, ডাকাতের হাত থেকে দেশ রক্ষার দাবী, স্বাধীনভাবে কথা বলার দাবী, জোর করে ক্ষমতা আকড়ে থাকা সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর কসরত চালিয়ে যাওয়ার দাবী। কি ভয়ংকর আর লজ্জাস্কর অবস্থান দেশে বিরাজমান তা বলতেও জাতির জন্য লজ্জার কারণ। উন্নয়নের নামে মেগা প্রজেক্ট আর মেগা দূর্নীতি চলছে তার নিজ দলের মাঝেই সীমাবদ্ধ এ উন্নয়ন। বিরোধী নেতৃকে আগেই কারাগারে মিথ্যা মামলায় ছলে বলে ঢোকানো হয়েছে। এবার জনসভা শেষে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোক্তাদিরকে গ্রেফতার করা হয়।  এ সরকারের সৃষ্ট মহা মহা সংকটের পরও তারা চায় আর একটি অবৈধ নির্বাচন। বিনাভোটের একতরফা নির্বাচন। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে জনগণ তাদেরে ভোট দেয় না। তাই জোর করে সিলমারা ছাড়া ভোটে যাওয়ার আর দ্বিতীয় রাস্তা তাদের জানা নাই। তাই খুজে বের করেছে ইভিএম পদ্ধতি হলে তাদের সুবিধা হয়। নিজেদের অপকর্ম ঢেকে নিরাপদ রাখতে করা হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যাতে কোন সাংবাদিক ভুলেও তাদের অপকর্ম ফাঁস করে না দেয়। তথ্যমন্ত্রী গলা ছেড়ে বলছেন হলুদ সাংবাদিকতা রোধ করতে এসব করা হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই তারা বড় সময় থেকেই ইবলিসের দোসর সেজেছে। বিশেষজ্ঞরা কলাম  লিখছেন, সরকার ছাড়া দেশে আর কেউ স্বাধীন নেই। সাংবাদিকরা কথা বললে মামলা হচ্ছে, একের পর এক ধড়পাকড় করেই এ যাবৎ সরকার টিকে আছে। বিপন্ন মানুষরা ভয়ংকর সময় পার করছে। সরকারের আস্থাভাজন ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিও তার গোপন ষড়যন্ত্রের সব খবর উজার করে বই লিখছেন। এ সরকারের অপকর্ম এভাবে আগেও উন্মোচিত হয়েছে, আজো হচ্ছে, তাই মানুষ আজ ১০০%ই সচেতন।

গত ২২ অক্টোবরের চট্টগ্রাম ব্যুরোর খবরে প্রকাশ ডেঙ্গুতে গত বছরে নিহত বিরোধী পক্ষের বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন পুলিশের উপর ককটেল ছুড়েছেন। অন্যজন আবুধাবিতে অবস্থান করা সত্ত্বেও নগরীর পাঁচলাইশে গোপন বৈঠক করেছেন। অন্য আরেকজন রাত চারটায় এডভোকেট রেললাইনে বসে পুলিশকে গুলি ছুঁড়েছেন। এমন কি ৯০ বছরের বৃদ্ধাও বাদ নাই, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিও পুলিশের আসামী। এসব হচ্ছে সরকারের পক্ষে সাজানো লিস্ট ধরে করা গায়েবী মামলা। সামনে নির্বাচন তাই হাজার হাজার আসামী আর শত শত গ্রেফতার, বাকীরা পলাতক থেকে ভয়ংকর সময় পার করছেন। এটি শুধু আজই প্রথম নয়, এসব এদেশবাসীর ভাগের জমা বহুদিন থেকে। বলা হচ্ছে সাম্প্রতিক তারেক জিয়ার রায় ঠেকাতে এসব নাশকতা করছে সব বিরোধী পক্ষের লোক। গায়েবী ভৌতিক মামলায় দেশ সয়লাব। মরা লাশ হয়েও রক্ষা মিলছে না। ভুক্তভোগীরা বলছে ওখানে কোন ঘটনাই ঘটে নাই কিন্তু থানার ওসি প্রণব কুমার চৌধুরী দাবী করছেন সেখানে এসব ঘটনা ঘটেছে। ঐ মামলাতে ৫৮ জন বয়োবৃদ্ধ আসামী, গভীর রাতে শুধু তরুণই নয়, বয়ষ্করাও লিস্টবদ্ধ, যেন দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করতো। ঘটনাটির উল্লেখ করলাম এ কারণে যে, এ হচ্ছে মুসলিম অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দুর্দশার বিবরণ। ২০১৪ সালে অবৈধ সরকারের সেরা ভোট ডাকাতীর পর সম্প্রতি পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নামে যে রসরঙ্গ চলছে, তা দেশবাসীর জানা। গায়ে মানে না আপনি মোড়ল সেজেই সরকার এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। বৈধ পথে হেটে সংবিধান নির্বাচন কমিশনারের উপর যে অধিকার ও দায়িত্ব অর্পন করেছে সেটি যদি তারা স্বাধীনভাবে করতে পারতো, তবে দেশকে এত রাজনৈতিক জটিলতায় পড়তে হতো না।

এ উভয় মুসলিম অধ্যুষিত দেশের এসব কি কখনো ইনসানের কাজ হতে পারে, এসব হচ্ছে ইবলিসের কাজ। পাঠক  লক্ষ্য করবেন আদম আর ইবলিসের গল্পটি বাইবেলে কুরআনে এসেছে। পৃথিবীতে খলিফা সৃষ্টির শুরুর সময়কার ধারণার উপর গল্পটি সাজানো। বিধাতার উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীতে খলিফা প্রেরণ আর সে উদ্দেশ্যেই এর অবতারণা। এ গল্পটির উপর গবেষনা করার বৃহৎ অপশন থাকার পরও অনেকেই গল্পের সঠিক বিশ্লেষনে না গিয়ে ভুল পথে রাস্তা মাপেন। এর থেকে জিন ভুতের গল্পে জড়িয়ে বিশাল মিথ্যার সরস গল্প সাজিয়ে কুসংস্কারের লালন করা হয়। কিয়ামত পর্যন্ত আদম জাতি আর ইবলিস জাতি এ দুটি সত্ত্বার প্রয়োজন অত্যন্ত বেশী, এ দুটি সত্ত্বা ব্যতীত মানব প্রকৃতি বিচার অসম্ভব। কুরআন বার বার এটি স্পষ্ট করেছে এদের উভয়ের দুটি স্বরুপ, উভয়কে কঠিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। একজন মাটির মত নরম স্বভাবের, একজন আগুনের মত উগ্র স্বভাবের। এখানেই এ দুয়ের পার্থক্য। উভয়েই এক জিনিসই খায় উভয়ের নবীও এক। তারপরও মানুষ এদের সঠিকভাবে চিনতে ব্যর্থ হয়েছে। এরা আরবের ময়দানে যেমন আছে এরা আমেরিকার ময়দানেও আছে আর বাংলাদেশে তো বিশাল আস্তানা গেড়ে মাদুর পেতে মজলিস গরম করছে। এদের স্বরুপ দেখে এদেরে চিনে নিন। তবে আশার কথা হচ্ছে কিছু তফসিরকারকরা এর উপর গবেষনার ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করে গেছেন এদের একজনের নাম মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ। তিনি অসংখ্য যুক্তি তর্কের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করেছেন যে এসব মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। “যারা ইমান এনেছে তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর পথে আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা তাগুতের পথে যুদ্ধ করে; অতএব শয়তানের সাঙ্গোপাঙ্গদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। নিঃসন্দেহ শয়তানের চক্রান্ত চির দুর্বল ”(সুরা নিসার ৭৬ আয়াত)। আপনাদের চিন্তার দরজাকে খুলে দিন, প্রতিটি জটিল আপনাদের সামনে দিবালোকের মত স্পষ্ট হবে। আল্লাহ আমাদের  ইবলিসের পথে নয়, বরং মানুষের পথে চলার তওফিক দান করুন।   

২৫ অক্টোবর ২০১৮ সাল।

বি দ্র: লেখাটি নিউইয়র্ক ভিত্তিক সাপ্তাহিক রানার পত্রিকাতে এসেছে ০২ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে।

 

 

নাজমা মোস্তফা

আল্লাহ ছাড়া সব কিছুরই শেষ ও শুরু আছে। একটি কথা সংকটে একটু বেশী শোনা যায়, বলা হয় রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কোন কথা নেই। এটি কোন শাস্ত্রবাণী নয়, এটি সুবিধাভোগী মানুষের কপট স্বার্থে রচিত একটি অপকাজ বহাল রাখার হাতিয়ার মাত্র। শুনতে শুনতে অনেকে মনে করেন এটি মনে হয় কোন বিরাট বাণী। আসলে যে বা যারা এসব কথা ছড়ায় এরা মূলত কুপথে হাটা নীতিহীন মানুষ। এরা সমাজের শৃংখলায় বিশ^াসী নয়। রাজনীতিকে সংনীতিতে, সত্যকে মিথ্যাতে রুপান্তরিত করতেই এসব যুক্তি সবদিনই দেখায় দুর্বৃত্ত। বছরের পর বছর অবৈধ ও ডাকাত সরকার বলছে বিএনপির সাথে সংলাপ কখনোই নয়। ঐ নীতির অজুহাতেই এবার সংলাপে বসেছে, তাই এত দুর্বৃত্তায়নের পরও এরকম একটি কথা না বললে আর ইজ্জত টিকে না। এভাবেই শেষ কথা নেই বলে দুর্বৃত্তায়নের ক্ষেত্রকে অনুমোদন দেয়া হয়। ধর্মেই হোক আর রাজনীতিতেই হোক দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই। দুর্বৃত্তের নিজের গড়া নষ্ট ফলমুলাতে সেটি কখনোই শুদ্ধ হবার কথা নয়। আওয়ামী লীগের এককালের নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীই স্পষ্ট করছেন ধড়পাকড়রত সাম্প্রতিক সময়ের প্রতিটি পুলিশ গড়ে ১০ লাখ টাকা ঘোষের বিনিময়ে চাকরী পেয়েছে। এসবই শর্তসাপেক্ষ অবৈধ পথের জমা।

এরপরও বলা হয় আলোচনা অব্যাহত থাকবে। যারা কখনোই সংলাপে যাবে না তারা অবার বলে সংলাপ নামের সং+আলাপ অব্যাহত থাকবে। যদিও সংক্ষেপে বলা যায় ফলাফল শূণ্য। গরীবের ঘোড়ারোগ হিসাবে খ্যাত খাবারের ম্যানুতে চিজকেক আর গরম লোভনীয় বাহারী প্রচারেই তারা ব্যস্ত। পরোক্ষ এসবও ছিল প্রতারণার প্রচারনার ভিন্ন কৌশল মাত্র। গণভবনের ঐ খাবারের মেনু ভাইরাল হয়ে যায়, কি কারণে, উদ্দেশ্যমূলকই এসব ছড়ানো হয়। মোটা মাথার রাজনেতারা মনে করেছেন গালাগাল করলেই এতিমরা তেড়ে আসবে, খাবারের ম্যানু দেখে বুভুক্ষ জাতি হাততালি দিবে। সংলাপ অর্থ আলাপ, কথোপকথন, নাটকের চরিত্রসমূহের পরষ্পরের সাথে কথোপকথন। দর্শককে আনন্দ দিতে এভাবে নাটক রচিত হয় মঞ্চে ম্যুভিতে, কিন্তু ভুয়া সংলাপে কষ্ট জমা হয় মাত্র – নাটকও রচিত হয় না। সেদিনের সংলাপ কি ছিল সং করার আলাপ? এরা স্বৈরাচারী পূর্বসুরী পাকিস্তান সময়কালীন ইয়াহইয়া সরকারের মত সময় ক্ষ্যাপন নাটক করেছে মাত্র।

ধর্মে অপকর্ম করার সুযোগ তৈরী করতে কিছু মিথ্যা হাদিস তৈরী করেছে ধর্মের নামে ষড়যন্ত্রী সংরা। যদিও নিবেদিতরা সবদিনই এর বিরুদ্ধে খড়গ হাতে ছিল সারাক্ষণ। তখনও একই পদ্ধতিতে তাদেরে জেলে ঢুকিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করা হয়, কখনো খুন করা হয় কখনো বিষ পান করানো হয়, ইতিহাস এসবের নীরব সাক্ষী। বর্তমানে গোটা দেশ অপকর্মে সয়লাব। উন্নয়নের নামে অপকর্ম করছে আর সারা দেশে ব্যাঙ্ক লুপাট হচ্ছে। এত জনঅধ্যুষিত একটি দেশের চালিকা শক্তি মূলত দেশের মানুষ। সরকার সারাক্ষণ বিরোধীর বিপক্ষে নিজেই তার সাজানো রায়ের নির্দেশের পক্ষে প্রকাশ্য বক্তব্য রাখে। এমন অবস্থায়ও আদালত থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কোন আপত্তি জানানো হয়না। ধারণা সবার অদালতেরও হাতপা বান্ধা, বাংলাদেশের মেরুদন্ডহারা বিচারকদের এ অসহায় অবস্থান নিয়ে মানুষের মাঝে শংকা শতভাগ! কেউ সাহস দেখালে তাকে দেশছাড়া করা হয় এমন উদাহরণ ময়দানে বহু। সরকার নিজে বৈধ নয় বলেই সব অনাচার করতে পারছে, কোন মানবিক বিবেকের দংশনও তাদের নেই। মানুষ বুঝে এভাবে সরকার নিজের শঠতা দিয়ে আদালতকে প্রভাবিত করছে।

অজ্ঞদের ধর্ম বোঝাতে হরিণের গল্প অজ্ঞরাই সাজায়। হরিণ একটি বান্ধা ছিল গাছের তলায়, কথা বলে নবীর সাথে। হরিণের জন্য কোন ধর্ম আসে নাই। নবী হরিণের নবী ছিলেন না, ছিলেন মানুষের নবী, মানুষের পথপ্রদর্শক, বানীবাহক। প্রকাশ্য ময়দানে দিনে দিবালোকে তিনি সংগ্রাম করে জীবনকে কষ্টিপাথরে যাচাই করে ধর্মটিকে মানুষের সামনে তুলে ধরেন। মূল গ্রন্থ কুরআন এমনভাবে সিল করা সেখানে এঁটো মিশানোর কোন উপায় নেই দেখে ইবলিস বসে থাকে নাই, সে কৌশলে দ্বিতীয় গ্রন্থের নামে জ¦াল হাদিস তৈরী করে সময় সুযোগে ওখানে ঢুকিয়ে দেয়। তাই কোন যুগেই ইবলিসকে তার বাহ্যিক লেবাস দেখে মানুষ চিনতে পারে নাই। বরং বোঝা যায় হয়তো বড় হুজুর বলে বড় আসনটি পেতে দিয়েছে। সে যে এভাবে ময়দানে ঢুকে কাজ করবে এর ইঙ্গিত কুরআনে আজো আছে, অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই বিবেক সম্পন্ন মানুষকে এদের পরখ করতে হবে জানতে হবে চিনতে হবে। সঙ্গত কারণেই তার বাইরের স্বরুপের সাথে ভেতরের আসল স্বরুপকে মেলাতে হবে মন ও মগজ দিয়ে।

রাজনীতিতে খালেদা ও হাছিনা উভয়ে স্বভাবে আচরণে, দেখতে, মানসিকতায় দুজন এতই দু রকমের যে সেটি আর স্পষ্ট করার দরকার নেই। মনে হচ্ছে দেশের জনগণ সে বিশ্লেষণটি পার্থক্যটি করতে সক্ষম হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রিজভী হাওলাদার তার রাজনৈতিক মাএর বেদনায় কাফনের কাপড় গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের জনসভাতে বুকে তার লেখা ছিল, “জেলে নিলে আমায় নে আমার মাকে ছেড়ে দে” মাথায় লেখা ছিল, “দাবি একটাই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই”। এভাবে লুঙ্গি পরে মায়ের বন্দনা গাইছে বাংলাদেশের এতিমরা। সরকারের হিসাব ছিল এতিমরা মারমুখি হয়ে খালেদার দিকে তেড়ে আসবে, ওদিকে খোদ সরকার মুখে ফেনা তুলছে এতিমের টাকা খেয়েছে। যতই সরকার এতিমের টাকার দোহাই দিচ্ছে, ততই জাতির এতিমরা সংঘবদ্ধ হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে নিরব বিদ্রোহ করছে, কঠিন জবাব দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন রাস্তাঘাট যানবাহন সব বন্ধ করেও কোন দিশা পাচ্ছে না সরকার। সব বাধা অতিক্রম করে ক্ষুধার্থ এতিমরা পায়ে হেটে ময়দানে ঝাপিয়ে পড়ছে। আজ যারা মুক্তিযুদ্ধের নামে নষ্ট ব্যবসা করছে ক্ষুধার্থ এতিমরা তার জবাব দিচ্ছে। ৭১এর দিনগুলোর মতই তারা চায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার। ভোটের অধিকার হারা জনতারা আজ ঐ ঘটনার ৪৭ বছর পর আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ধর্ম বা ধর্মনিরপেক্ষতা তাদের দাবী নয়। তারা চায় মানুষের মর্যাদা নিয়ে মানবিক মর্যাদায় বাঁচার অধিকার। যে অধিকারের লক্ষ্যে তারা খালেদার কাছে ভরসা রাখতে পারলেও বর্তমান সরকারের অপকর্মে তারা বাক্যহারা। সত্যনিষ্ট ক্ষুধার্থ মানুষ আজ এক হয়েছে। তড়িঘড়ি জনগণকে বিদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তফসিল ঘোষনা করে সরকার তার স্বরুপকে আরো সুষ্পষ্ট করছে। অবৈধ পথই তার একমাত্র পথ, বাঁচুক বা মরুক।

জনসভাতে অনুমতিও সহজে মেলে না, চট্টগ্রামে দেয় মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে তাও লালদিঘির বড় চত্বরে নয়, বিএনপির অফিসের সামনে ২৫ শর্তে ২৭ অক্টোবর, সাথে চলে ধড়পাকড়ক। ঐ দিন রাত ১২টা পর্যন্তও মঞ্চ তৈরীতে হুমকি ধমকি দিয়ে, নেতাদের হোটেল বুকিং বাতিল করা হয়েছে। ২৫ শর্ত যেন কিয়ামতের ময়দানের পুলসিরাত পার হওয়া। সরু রাস্তায় একপাশে তারা হাটতে পারে কিন্তু বাকী অংশে স্বাভাবিক যানবাহন চলতে দিতে হবে। তারপরও এরা ঐ ফুলসিরাত পার হয়েও সংঘবদ্ধ হয়েছে কাজির দেউড়িতে। আবার বিকেল ৫টার মাঝেই সব শেষ করতে হবে। রাজশাহীতেও শর্তের বেড়াজাল। এমন আচরণ করছে অবৈধ এ সরকার যেন এ দেশের একমাত্র মালিক তারা, যারা নষ্ট পথে এখানে এসে শক্তির দন্ডটি হাতে তুলে নিয়েছে। অন্ধকারই আলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। অন্ধকার থাকাতেই মানুষ ভালো করে আলোকে বুঝতে পারছে, হজম করতে পারছে। সবচেয়ে স্পষ্ট কথাটি হচ্ছে ময়দানের এতিমরাই এ রায় দিচ্ছে উচ্ছস্বিত উল্লসিত হয়ে কি ঢাকাতে, কি চট্টগ্রামে কি রাজশাহীতে, দেশের প্রতিটি আনাচে কানাচে তাদের ক্ষুধার্থ মন প্রতিবাদী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

ডাঃ কামালরা প্রধানমন্ত্রীকে জাগানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু তার কুম্ভকর্নের ঘুম ভাংগে নাই, হয়তো আমরণ ভাংবে না। ভাংলেই তো সব শেষ হয়ে যাবে। তাই সে জেগে ঘুমানোর ভান করে আছে। একদিন যারা দলে দলে আওয়ামী লীগ করেছেন তারাই শেষে ঐ অপকর্মের আদর্শ সংকট যোগান দিতে না পেরে পরবর্তীতে বিএনপির আদর্শে ঝাপিয়ে পড়েন। এদেশের বিএনপির প্রায় সবাই একদিন আওয়ামী লীগে ছিলেন। এসব হচ্ছে ইতিহাসে এ দুটি দলের গোড়ার কথা। লীগের আদর্শে বড় আকারে তাদের সৃষ্ট নষ্ট ফাঁক ধরা পড়ে। এদের আদর্শে সংকট ছিল, মুক্তিযুদ্ধের মূল তিন আদর্শ সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারে তারা প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে নাই। এরা ক্রমে হয়ে পড়ে ক্ষমতালোভী আদর্শহীনতার অনুসারী। তখন সঙ্গত কারণেই দলে দলে সচেতন মানুষরা ওখান থেকে ছিটকে বের হয়ে বিএনপিতে যোগদান করে। জিয়া হত্যার মাধ্যমে নতুন স্বৈরাচারের সাথে হাত লাগায়  হাছিনার  লীগের রাজনীতি। সমাজে ভুল ফরমুলা চালু করা হয় বলা হয় রাজনীতির কোন শেষ কথা নেই, ঐ নামে যখন যা ইচ্ছে তাই বলা যায়, করা যায়। এ হচ্ছে মগের মুল্লুক। নীতি নৈতিকতাকে ধ্বংস করতে স্বৈরাচারও বন্ধু হয়, নিজেও স্বৈরাচার হওয়া যায় কারণ রাজনীতির কোন শেষ নেই। সংলাপ করবোনা বলেও সংলাপ করা যায়। স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলালে হবে বেঈমান বলেই সে ঐ বেঈমানীতে অংশ গ্রহণ করতে পারে। এমন সব খেলা দেখে দেখে বুভুক্ষের প্রতিনিধি রিজভী হাওলাদাররা জীবন বাজি রেখে সত্যকে পরখ করে নেয়। ছলবাজদের জন্যই এসব প্রতারণার কৌশল রাজনীতিতে কোন শেষ কথা নেই। কারণ তাদের অপকর্মের কোন সীমাসরহদ নেই, তাই তাদের নীতিরও শেষ কথা বলে কিছু নেই।

৯ নভেম্বর ২০১৮।

বি দ্র: লেখাটি ১৪ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত “দি রানার নিউজ” এ ছাপা হয়েছে।

নাজমা মোস্তফা

২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী তারিখে আমার ব্লগে একটি লেখা লিখেছিলাম “সিইসি বিতর্কে মনে পড়ছে পিপিলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে” এই বর্তমানের সিইসির উত্থান ও কৃতকর্মের উপর। লেখাটি পড়লে পুরানো অনেক খানা খন্দকের ইতিহাস স্পষ্ট হবে। ৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ডাকে জনতার মঞ্চ ছিল একটি দেশ বিধ্বংসী জটিল মঞ্চনাটক, সরকারী চাকুরীরা শৃংখলা ভেঙ্গে ঐ অনাচারে হাত লাগায়। ওদের ২০৮ জনের মাঝে মাত্র ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরে ছলে বলে তারা ঐ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়ে জাতি ধ্বংসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে মোটাদাগে নাম খোদাই করে আজো রাজনীতিতে সচল আছে। ৯৬ সালে এই নুরুল হুদা কুমিল্লার ডিসি ছিলেন। কুমিল্লা কালেকটরেট থেকে তিনি তখন প্রধানমন্ত্রী খালেদার ছবি সরিয়ে দেন। সেখান থেকে ছিটকে জনতার মঞ্চে এসে তিনি দেশবিধ্বংসী অপকর্মে শরিক হোন (৩০ মার্চ ৯৬ সালে দৈনিকগুলোতে এসব খবর ছাপে)। ঐ সময়ে ১২ জুনের নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিটের ১৬৩৫ নম্বর রিটে তার অপকর্মের উল্লেখ বর্তমান। তার রাজনৈতিক আচরণে এখন পর্যন্ত কোন ওদলবদল লক্ষ্য করা যায়নি। বিএনপি সরকারের মাধ্যমে ৯১-৯৬ সালে যেসব আওয়ামীপন্থীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে বসানো হয়েছিল এরাই পরবর্তীতে জনতার মঞ্চের অপকর্মে হাত লাগায়। ৮০ সালে জিয়াউর রহমানও তাকে বিজেএমসির এসিস্টেন্ট ম্যানেজার থেকে বঙ্গভবনে সেকশন অফিসার নিয়োগ দিলে তিনি আড়াই বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন।

কিন্তু তার আচরণের কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। এরা থাকাতে জাতির ধ্বংস দ্রুত ত্বরান্বিত হয়। শৃংখলা ভংগের সব দলিল মাড়িয়ে ২০০৯এ এসে হাছিনা সরকার তার চাকরি ফেরতসহ দুটি উপঢৌকনসহ সব দায় দেনা দিয়ে আরো ধন্য করে রাখেন। তখন তাকে দুটি পদোন্নতি দেয়া হয় অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হিসাবে। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনুসের বিরুদ্ধে বয়স বিপদজনক হলেও ২০০৫এ অবসরের বয়সে হুদার বয়স বিপদজনক হয়নি। এখানে হাছিনা সরকার নিজের কপট স্বার্থে সব অপকর্মে যেমন যোগান দিতে পারেন একইভাবে সেটি ছাড় দিতেও পারেন। এর বদৌলতে সরকার হুদার জন্য ডাবল প্রমোশনের দাওমারা রেকর্ড আগেই জমা করে  রেখেছে। এসবের কারণ তিনি আগাগোড়াই একজন প্রাক্তন ছাত্রলীগ ও ভারতের প্রশিক্ষিত মুজিব বাহিনীর সদস্য, জনতার মঞ্চ নায়ক, জটিল দেশ বিধ্বংসী অংকের নাটকীয় সদস্য।

সারাদেশ থেকে গুন্ডাবাহিনীর পেছনে নিয়োগ বানিজ্য হচ্ছে আওয়ামী হাছিনা লীগের এক বড় প্রজেক্ট। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভোটের দিন যেন চুরি ডাকাতীর একটি দিনে পর্যবসিত হয়। তফসিল ঘোষনার পর থেকেও তেমন কোন নিরপেক্ষতার ছাপ চোখে পড়ার মত পালিত হচ্ছে না। পল্টনের ঘটনাতে যা ঘটানো হলো সেটি অবশ্যই বিতর্কীত। আওয়ামীরা যখন মহড়া প্রদর্শন করে তখন তারা নীরবতা পালন করতে পারলেও বিএনপির মহড়া সইবার মত সহনশীলতা তারা দেখাতে পারে নাই। ঐ দিন পুলিশকে লেলিয়ে দেয়া হয় সরকারকে তুষ্ট করতে। বিরোধীর জন্য অন্য হিসাব। ওদের উপর গাড়ী তোলে দেয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা করতে দেরী করা হয় না। যেখানে আওয়ামী লীগে মানুষ খুন হলেও তারা নীরব থাকে। প্রশাসন নিরব ভূমিকায় থাকে, অতীতেও আজো। তারপর শুরু হবে ধড়পাকড়ের আসল মহড়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এরা একজনকে হাতপা বেধে আর একজনকে হাত পা খোলা রেখে পুকুরে নামিয়েছে সাঁতার কাটতে। বেশ কয় বছর থেকেই রাজনৈতিক ইনুরা বেফাঁস মুখে বার বার বলে চলেছেন যে খালেদাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা হবে, জেলে পুরা হবে। যার সূত্র ধরে রাজনেতাদের হাজার হাজার ছলের মামলা আর প্রতি সপ্তাহে হাজিরা নাটক। হাছিনা নিজে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কিন্তু আচরণ গত স্বচ্ছতা তার কাজেকর্মে নেই। তার ডকুমেন্টারী প্রচারও সরকারী ছত্রচ্ছায়ায় এসব প্রচার ভোটের আগে নিজ হাতে করা অপকর্মের আর এক নমুনা মাত্র। 

ওদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে করা তারেক রহমানের ভোটের আগে নেতাকর্মীদের সাথে করা স্কাইপি যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। পারলে যেন তার হাতপা গুড়ো করে দেয়। অতীতে ১/১১এর সময় ঐ কাজ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে করিয়েছে তারা, তারপরও শান্তি নেই। তারেক রহমানকে সরকারের এতই ভয় যে নির্বাচন কমিশনও দেখা যাচ্ছে ঐ আওয়ামী পথেই হাটছে। বিএনপি অভিযোগ করছে পুরো বিএনপি অফিসেই ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। সরকার যদি জড়িত না থাকে তবে সরকারের মনমত কাজ কেমন করে হয়? সরকার অতীতের মতই তার অনৈতিক আচরণ বহাল রেখেছে। সবচেয়ে বড় কথা নির্বাচন কমিশন একটি চিহ্নিত দালাল, কোন কার্যকরী পদক্ষেপই তারা নিচ্ছে না। এমন ভাবে আচরণ করছে যেন তারা ছাত্রলীগেরই নেতা হিসাবে কাজ করছে। সাদা পোশাকে পুলিশ যা ইচ্ছে তাই করছে আবার ধড়পাকড়ের পর সেটি স্বীকারও করছে না। যদিও হাইকোর্টে নির্দেশ আছে এভাবে কোন মানুষকে অন্যায়ভাবে আটক করা যাবে না। কিন্তু তারা সাদা পোশাকে অনাচারের নামে এসব করে চলেছে। বলা চলে সবকিছু আগের মতই আছে। পরিস্থিতির তেমন কোন পরিবর্তন নেই। আজকের খবরে প্রকাশ ভোটের দিনে সেনাবাহিনী বৃটিশ পার্লামেন্টের সেনাদের মত মূর্তিমান দাড়িয়ে থাকবে। নড়বে না, কোন ছবি তুলবে না কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে না। এসব আচরণে কি মনে হয়? সরকার কি তার আচরণ থেকে সরে এসেছে? মোটেও না, বারে বারে মনে হচ্ছে মাহমুদুর রহমানের কথা, তিনি ময়দান থেকে হাতে কলমে শিক্ষাপ্রাপ্ত মানুষ। অনেক দিন থেকেই বারে বারে বলে চলেছেন যে আন্দোলনের বিকল্প কিছু নেই। এ সরকারকে বিশ^াস করার মত কিছু অবশিষ্ট নেই। যদিও ওবায়দুল কাদেররা শেষ বারের মত আর একবার চেষ্টা করতে বলছেন।

আর একটি পাতানো নির্বাচনের পক্ষে হাটছে নির্বাচন কমিশন” শিরোনামে খবর ছেপেছে (অনলাইন বিডিডটনেট, ২১ নভেম্বর)। সারা দেশে ৪১ হাজার প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও চার লাখ পোলিং অফিসারের তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশন এসব লিক হওয়া ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতিতে নীরবতা বা অস্বীকার করছে। পুলিশ বাহিনীতে কোন রদবদল এখনো হয়নি। পুলিশের মনমত যা করা হবে তার ছক আঁকতে গত সোমবার পুলিশ বাহিণীর একদল সরকারী অনুগত কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করে এসেছেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বসে ভোট কারচুপির ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলছেন বিএনপির নেতা ফখরুল (২০ নভেম্বর)। এরকম একটি কথায় অনেক চিন্তার জমা লুকানো আছে। এমপি মন্ত্রীদের দুর্নীতি ঢাকতেই আয়কর রিটার্ণ দাখিলের বিধান রদ, চারপাশে অনেক যুক্তি আসছে একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, বিএনপির নেতা রিজভীও সেটি স্পষ্ট করছেন অনেক যুক্তি প্রমানসহ। এভাবে বিরোধীপক্ষকে এখনো কোনঠাসা করার পায়তারা চলছে, সাথে চলছে পুলিশের একতরফা কোনঠাসা আচরণ। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে লেবেল প্লেইং এর কি দশা! এর জবাবে অপকর্মী হাছান মাহমুদদের কাছে কোন সদুত্তর নেই বলেই পাগলের প্রলাপ ছেড়ে বলছেন, রিজভী অদ্ভুত এক প্রাণীতে রুপান্তরিত হয়েছেন। সরকার এতই পঁচে গেছে যে, এই সেদিনও মাহমুদুর রহমানকে কিভাবে আহত করলো যেন নেকড়ের কবলে পড়েছিলেন গভীর জঙ্গলে (আদালত চত্বরে)। একইভাবে মইনুল হোসেনকে কিভাবে আদালতে হামলা করা হয়, এসব নিয়ে কোন সময়ই হাছান মাহমুদরা বলেন না যে এরা নেকড়ে নামের প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। এ সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠ নির্বাচন হতেই পারে না। ওদিকে বদরুদ্দোজা এরশাদের সাথে মিশে ভিন্ন নাটক চলছে, ভারতের শ্রীংলার সাথে বৈঠক হচ্ছে। সত্য যুগ সবার স্বরুপ স্পষ্ট করছে দিবালোকের মত। কারো সুবাস কুবাস লুকিয়ে রাখার ফুরসত নেই। নারায়নগঞ্জের জেলা বিএনপির সেক্রেটারি জেলগেট থেকে গ্রেফতার হচ্ছেন (২১ নভেম্বর ২০১৮)। ভারত বাংলাদেশের সব দুর্ভোগের জন্য বড়দাগে দায়ী। শ্রীংলারা তাদের আচরণকে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধেই ইন্ধন দিয়েছেন এর প্রমাণ সবার হাতে হাতে। আজও তারা নড়াচাড়া বহাল রেখেছে।

দূর আমেরিকা থেকে হাছিনাপুত্র জয় হুঙ্কার ছাড়ছেন প্রতিটি বিএনপিকে জেলে পুরতে হবে। অতি কথায় পারদর্শী ওবায়দুল কাদের এবারের মত অবৈধ নেতার পক্ষে ওকালতি করে গেছেন এবার নাকি নেত্রী বাজিমাত করে সততা দেখাবেন। এ কথার আড়ালে তিনি বলতে চাইছেন এতদিন যে সততা তিনি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন, এবার দেখাবেন। বদিরা দুর্গন্ধে ময়দান এতই বিনষ্ট করে দিয়েছে এখন বলা হচ্ছে তাদের বউদেরে আনা হবে। তাহলে বিষয়টি কি হবে। বদি নিজে নষ্ট এবার তার বউও ঐ নষ্টের দলে দলিলদস্তাবেজসহ শরিক। বদিদের দুর্গন্ধে বউরা কিভাবে নির্মল থাকবেন, এক হাড়ির ভাত তারা খাচ্ছেন, সেটি হারাম হলে দুজনাই সেটি ভক্ষণ করছেন। এ শুদ্ধিতে কি জাতি উপকার জমা করতে পারবে বলে মনে হয়?  গোটাদেশ এসব চেয়ে চেয়ে দেখছে, রিজভীদের চিৎকার, নির্বাচন সামনে রেখে নেতাদের ধড়পাকড় চালু আছে, বলা হচ্ছে সরকার সচল নয়, কিন্তু সরকারের চেলাচামুন্ডরা বসে নেই, লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করবে কি, অনাচার বহাল রেখে চলেছে। নাহলে তফসিল ঘোষণার পর কেমন করে ধড়পাকড় চলে। সরকারী বাজেটে চারটি প্রেক্ষাপটে তার এত অপকর্মের পরও তার নামে ডকুমেন্টারী প্রচার করা হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার কি এসব নয়?

(২১ নভেম্বর ২০১৮, অ্যানালাইসিস বিডি) মারফতে একটি খবর জানা যায় “ভোট ডাকাতীর ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ফাঁস!” ইতিমধ্যে দুটি গোপন ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেছে প্রিসাইডিং অফিসারের তালিকা পাঠানো হয়েছে যার মধ্যে ৮৫% থেকে ৯০% হচ্ছে আওয়ামী লীগের অনুসারী। এসবের মানে কি? জানা গেছে, গত ১৩ নভেম্বর রিটার্নিং অফিসারদেরকে ঢাকাতে এনে ব্রিফ করেছে দালাল নির্বাচন কমিশন। ব্রিফিং শেষে রিটার্নিং অফিসাররা গোপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার কার্যালয়ে চলে যান। বিএনপি এর উপর অভিযোগ দায়ের করেছে। সেখানে গোপন বৈঠক হয় ঠিক বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার আগে ও পরে যেভাবে বৈঠকের পর বৈঠকের খোঁজ পাওয়া যায়। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের গোপন তালিকার তথ্য প্রকাশ হয়ে গেছে খুলনার হরিণটানা থানায়।  সেখানে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৪ জন শিক্ষকের নাম। এদের ভিতরে ৬৩জনই অর্থাৎ ৮৫%ই আওয়ামী লীগ সমর্থক। ছয়জন বা ৮ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। একজন শিক্ষক কোন দল করেন না বলে পুলিশের ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত রোববার খুলনার হরিণটানা থানা পুলিশ থেকে এক মেইল বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এতসব আলামতে আসন্ন কিয়ামতের খবর স্পষ্ট হচ্ছে। তবে মনে রাখার বিষয় বাস্তবে কিয়ামত কাউকে ছাড়বে না, যদিও সময়ে সদস্যদের সেটি মনেই থাকে না। বলা হচ্ছে সরকার কার্যকর নয়, তফসিল ঘোষণা হয়েছে সব করছে নির্বাচন কমিশন। এসব কি নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা জবাব দিন জনগণসহ সচেতনরা। নির্বাচন কমিশনের পেছনে বসে কলকাঠি নাড়ছে একটি ভৌতিক ছায়া সরকার।

২১ নভেম্বর ২০১৮ সাল।

নাজমা মোস্তফা

(এ লেখাটি ২০০৫ সালে পাঠকদের জন্য লিখেছিলাম কিছু নাস্তিকদের সাথে বিতন্ডা করতে গিয়ে এটি ছিল আমার ঐ সময়ের জমা। ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইটে সেটি ঐ সময় ছাপাও হয়েছে। আজ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারীর ৩ তারিখে কেন যেন মনে হলো আমার ব্লগে এটি দেয়া জরুরী ছিল, দুঃখিত এজন্য যে কোনভাবে এটি দেয়া হয়নি। অনেককে এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক করতে দেখি এবং অনেক ইসলামের সেবকরাও অনেক জটিলকে সত্য মনে করে মিথ্যার মাঝে ঝুলে আছেন, হয়তো এতে অনেকের বিষয়টিও স্পষ্ট হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশে একজন ইমাম ধর্ম ত্যাগ করেছেন। তিনি ধরে নিয়েছেন এ ধর্মটি মিথ্যাধর্ম ও মিথ্যার মাঝে এটি টিকে আছে। ইমাম হলেও উনার চিন্তার প্রসার খুব অল্প হওয়াতেই ধারণা হয় তিনি পথ হারিয়েছেন।)

বিবি আয়েশার বিয়ের এই জটিলতার ব্যাপারে সাধারণ পাঠকের জন্য জরুরী মনে করেই বিষয়টির উপর আলোকপাত করে আমি একটু বিসতৃত ব্যাখ্যা দিচ্ছি। হাদিস আমাদের দ্বিতীয় ধর্মীয় সূত্রগ্রন্থ। কিছু সংখ্যক জটিলতা আমাদের ধর্মে গজিয়েছে যার বেশীর ভাগ সৃষ্ট হয়েছে এই দ্বিতীয় সূত্রের সুবাদে। দেখা যায় প্রকৃত সত্য থেকে এর বক্তব্যের মাঝে একটু দূরত্ব সৃষ্ট হয়ে গেছে। উদাহরণ দিতে গেলে অনেক উদাহরণ দেয়া সম্ভব। উদাহরণ হিসাবে এখানে এরকম একটি দেয়া হলো। এ কথাটিতেই প্রকৃত একটি সত্য তথ্য লুকিয়ে আছে যে এটি বেশ কিছু উদাহরনের একটি উদাহরণ মাত্র। নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর বিয়ে ছিল বিরুদ্ধবাদীদের এক চরম মুখরোচক অধ্যায়। এসব বিয়ে ঘটিত অনেক জটিলতার একটি হচ্ছে বিবি আয়েশার বিয়ে নিয়ে বিরুদ্ধবাদীরা নানান মন্তব্য করে বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। আমাদের নিজেদের অনেকে প্রকৃত সত্য না জানার কারণে এসবের পিছনেই বিরুদ্ধবাদীদের সাথে ইন্ধন দিয়ে যান বোকার মত। এরা হচ্ছেন একদল অতিভক্ত আস্তিক নামধারী ব্যক্তি যারা না বুঝে ধর্মটিকে পালন করতেই বেশী উৎসাহী। এরা অনেক সময় যুক্তি দেখালেও সেটি গ্রহণ করতে ইতস্তত বোধ করেন। কারণ এদের অনেকেই আবার অন্ধকারে থাকতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সত্যে তাদের যথেষ্ট অনীহা। আরেকদল হলো যারা আল্লাহকে দেখে না বলে বিশ্বাস করে না, এরা নাস্তিক। অনেক সময় দেখা  যায় এদের এ দু’দলের কাজে কর্মে যথেষ্ট মিলও বর্তমান। এদের দু’দলেরই সত্য গ্রহণে দারুন অনীহা। কারণ তাদের একমাত্র কাজই হলো সত্যের বিরুদ্ধাচারণ করা, শত যুক্তি দেখালেও তারা সহজে যুক্তি মেনে নিবে না। আমার কাজটি শুধু তাদের জন্য যারা যুক্তিকে, নীতিকে সমাদর করেন, পছন্দ করেন। যাদের উদ্দেশ্য শুধু সত্য জানা, ঘোলা জলে মাছ শিকার নয়, তাদের জন্য আমার এ নিবেদন।

হাদিসের সূত্রে অনেকেই বিবি আয়েশার বিয়ের বয়স নিয়ে এক জটিল ধারণার জন্ম দিয়েছেন। যুক্তি ও বিজ্ঞান সব দিনই জটিলতা কমিয়ে দিয়েছে, এটিই সত্য প্রচারের সহজ সূত্র। আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, হাদিস যে রকম অনেক সময় জটিলতা সৃষ্ট করেছে আবার অনেক সময় এ হাদিসই আবার এই জটিলতা খোলাসা করেও দিয়েছে। এটি প্রায় প্রতিটি কঠিন জটিল বিষয়ের বেলায় প্রজোয্য বলেই আমি মনে করি। কিছু হাদিস ঘাটলে দেখা যায় আয়েশার বিয়ে একদম শিশু বয়সে হয়েছে আবার কিছু হাদিসে দেখা যায় এ তথ্য আর ধোপে টেকে না। প্লাসে মাইনাসে মাইনাস হয়ে যায়, যুক্তিগুলি আমি নিচে দিচ্ছি। পাঠকের অবগতির জন্য বলছি আমি ধরে নিচ্ছি যুক্তির হিসাবে একটি ভ্রান্ত হাদিসকে অপসারণ করতে একটি কুরআনীয় যুক্তিই যথেষ্ট। তার উপরও আমি অনেকগুলি যুক্তিই প্রদর্শন করবো সেই শক্তিশালী শ্রেষ্ঠ অস্ত্র কুরআনসহ তফসিরের সূত্রও বর্ননাতে আসছে। তবু একজন ছিটগ্রস্ত ব্যক্তি হয়তো হাদিসকেই বড় করে দেখতে চাইবে। তার মানে এটিও নয় যে সে খুব হাদিসের ভক্ত। সে মূলত সত্যের শত্রু। সে লড়তে লড়তে আজ এক ক্লান্ত পথিক। আমাদের বিভ্রান্ত করার জন্য ইবলিসের শর্তই ছিল যে, সব ধরণের কৌশল সে অবলম্বন করবে শেষ ঘন্টা বাজার আগ পর্যন্ত। তাই ইবলিসের কর্ম কান্ড দেখে কারোরই বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।

যুক্তি দিয়ে, তথ্য দিয়ে যে কোন গবেষক অনেক ভুলের উপর কাজ করতে পারেন, ইসলামে এটি অত্যন্ত সমাদৃত। এটিই ইজতেহাদ। কথা ছিল এ ইজতেহাদের উপর কঠোর কাজ করে যাওয়া কিন্তু আমরা কালে আমাদের এই ঐহিহ্যটুকু হারিয়ে ফেলি। ইজতেহাদের আড়ালে জ্ঞানের এক বিশাল পাওনা লুকিয়ে আছে। জ্ঞান বা যুক্তি দ্বারা আমরা এ শ্রেণীর হাদিসগুলি আবার বাছাই করে ফেলতে পারি (ফওজুল কবির, মোহাম্মদী প্রেস, ৪১ পৃষ্ঠা)। সত্যি কথা বলতে কি, কালে এ ইজতেহাদের উপর উৎসাহ কমিয়ে দেয়াতে এরি ফাঁকে এখানে জমা হয়েছে অনেক অনাচার। নিচে বিবি আয়েশার বিয়ের উপর ভিত্তি করে আমি কিছু যুক্তি পেশ করছি, আশা করি এটি আমাদের অনেক ভ্রান্তি ঘোচাতে সাহায্য করবে। শুরুতেই এটি আমাদের জানার বিষয় যে অদভুত এই ফিকশন গল্পের মূল উদ্যোক্তা একজন হাদিসবেত্তা হিসাম-ইবন-উরওয়া, একই সাথে তার বিশ্বস্ততার ও অবিশ্বস্ততার প্রমাণ দুই বর্তমান। তার প্রধান কারণ বয়সের জটিলতা। জীবনের প্রথম সময়ে তার কাজে বিশ্বস্ততার ছাপ উৎকৃষ্ট মাপেই ছিল যার প্রমাণ বর্তমান কিন্তু পরবর্তী জীবনে তার জটিলতার উদাহরণও বর্তমান।

(১)        প্র্রথমেই একটি উদাহরণ দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছি। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, “কিন্তু অধিকাংশ লোকই ভ্রম প্রমাদ হতে মুক্তি পেতে পারে না। সাহাবীদের মধ্যে এরুপ লোকও ছিলেন, যারা সময় সময় ভ্রম করতেন, তাদের পরবর্তী সময়েও একই অবস্থা। সেজন্য সহি আখ্যায় যে সব হাদিস সংকলিত হয়েছে তার মধ্যেও এরুপ হাদিসেরও সন্ধান পাওয়া যায় যা ভ্রম বলেই মনে হয়” (কেতাবুল তাওয়াচ্ছোল – ৯৬ পৃষ্ঠা)। স্মরণযোগ্য একটি কথা সাহাবীরা নবী নন। ইতিহাসে অনেক সাহাবীর অনেক ভ্রান্তির কথা আমরা অবগত হয়েছি। এখানে একটি হাদিসের উদাহরণ দিব যা অনেকের জানার মাঝেই পড়বে। হাদিস কিভাবে গোজামিল তৈরী করতে পারে সেটিই এ উদাহরণ দেয়ার উদ্দেশ্য। আনাছ, আয়েশা ও এবন আব্বাস বলছেন, “হযরত ৪০ বৎসর বয়সে নবী হয়ে, ১০ বৎসর মক্কায় অবস্থান করে হিজরত করেন। এবং মদীনায় আরো দশ বৎসর অবস্থান করার পর নবুয়তের ২০ সনে, ৬০ বৎসর বয়সে পরলোক গমন করেন। (বোখারী ১৮-১০৯, মোসলেম ২-২৬০ পৃষ্ঠা)। হযরতের ২০ বৎসর নবুয়ত, মক্কায় ১০ বৎসর অবস্থান এবং ৬০ বৎসর বয়সে পরলোক গমন এ তিন কথাই ভুল। তিনি মক্কায় ১৩ বৎসর অবস্থান করে হিজরত করেন। এবং ২৩ বৎসর নবী জীবন কাটানোর পর ৬৩ বৎসর বয়সে পরলোক গমন করেন। এটি ঐতিহাসিক সত্য। বোখারী ও মুসলিমের কথিত রাবিগণ কর্তৃকই এটি বর্ণিত হয়েছে। এ সম্বন্ধে অধিক প্রমাণের আবশ্যক নেই। কারণ বোখারী ও মোসলিমের বর্ণিত এ দুটি পরষ্পর বিরোধী উভয় বিবরণই যে সত্য হতে পারে না, এ বিবরণ যে ভুল এটি সবাই এক বাক্যে স্বীকার করবেন। এখানেও দেখা যাচ্ছে হাদিসের সনদ সঠিক থাকলেও মূল হাদিসটি ভুল (মোস্তফা চরিত, মোহাম্মদ আকরম খাঁ, পৃষ্ঠা ৩০)।

(২)       আয়েশার হাদিসটি ব্যক্ত করেন হিসাম ইবন উরওয়া নামের একজন হাদিসবক্তা যিনি তার বাবার সূত্রে হাদিসটির উপর বক্তব্য রাখেন। সর্বোপরি একজন, দুইজন বা তিনজন এ ধরনের তথ্য দিতে পারতেন এটিই ছিল স্বাভাবিক। সব চেয়ে আশ্চর্য হলো এরকম তথ্য কেন সমসাময়িক মদীনায় বসবাসকারী আর কারো কাছ থেকে জানা গেল না বা আর কারো এ বিষয়টি জ্ঞাত ছিল না কেন? যেখানে হিসাম তার জীবনের প্রথম ৭১ টি বছর ঐ মদীনাতেই কাটান। মূল সূত্র আসে ইরাকের এক ব্যক্তির সূত্র হিসাবে যখন তিনি পরবর্তী জীবনে মদীনার পর ওখানে বসবাস করেন। মদীনার জনতাদের একজন সর্বজন সম্মানিত মালেক ইবন আনাস স্বয়ং এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য দিলেন না। মালিক ইবন আনাস তেহজিবুল তেহজিব নামের নবী জীবনের উপর লেখা সেই সুবিখ্যাত বইতে হিসামের অনেক কাজের ঘোর বিরোধীতা করেন। যা পরবর্তী অনেক কাজের এটি একটি, তিনি ওখানের ইরাকীদের সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে প্রচার করেন। “তিনি (হিসাম) তার কাজে খুবই বিশ্বস্ত ছিলেন, তার বর্ণনা বিশ্বস্ততার দাবী রাখে, “সে সব কাজ তিনি ইরাক যাবার আগে বর্ণনা করেছেন” (তেহজিব উল তেহজিব, ইবন হাজার আল আসকালানি, দ্বার-আহইয়া-আল-তুরাথ-আল-ইসলামি, ১৫ শতাব্দী, ভল্যু. ১১, পৃষ্ঠা ৫০)। মালিক ইবন আনাস হিসামের ঐ সব কাজের বিরোধীতা করেন যা তিনি ইরাকীদের সূত্রে ব্যক্ত করেন (তেহজিব-উল-তেহজিব, ইবন হাজার আসকালানি, দ্বার-ইয়াহইয়া-আল-তুরাথ-আল-ইসলামী, ভল্যু. ১১, পৃষ্ঠা ৫০)। “মিজানুল আইতিদাল” নামের অন্য আরেকটি বই যেখানে নবী মুহাম্মদের জীবন চরিত চিত্রিত হয়েছে, বলা হয়, যখন তিনি বৃদ্ধ হন, হিসামের স্মরণ শক্তি খুব খারাপভাবে মোড় নেয়। তিনি স্মরণ শক্তি জনিত ত্রুটিতে ভোগেন (মিজানুল-আইতিদাল, আল-জাহবি, আল-মাকতাবাতু-আল-আতরিয়াহ, শেখুপুরা, পাকিস্তান, ভল্যু. ৪, পৃষ্ঠা ৩০১)। ইরাকে বসবাসরত হিসামের স্মরণশক্তি ত্রুটিযুক্ত হওয়ার প্রমাণ থাকায় এ ক্ষেত্রে হিসামের ভাষ্যটি ত্রুটিযুক্ত হওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ এখানেই বর্তমান।

(৩)       পরবর্তীতে আমরা পাই তাবারীর মতে, হিসাম ইবন উরওয়া, ইবন হাম্বল, ও ইবনে সাদের মতে আয়েশার ৭ বছরে বাগদান হয় এবং ৯ বছরে তিনি স্বামীগৃহে যান। তাবারীর অন্য হাদিসে লক্ষ্য করা যায় “আবুবকরের চারটি সন্তানই দুই স্ত্রীর সূত্রে প্রাক-ইসলামিক পিরিয়ডে জন্মলাভ করেন” (তারিকুলুমাম ওয়াল মামলুক, আল তাবারী (মৃত্যু ৯২২), ভল্যু. ৪ পৃষ্ঠা ৫০, এরাবিক, দারাল-ফিকর, বাইরুত, ১৯৭৯)। যদি তাবারীর মত অনুসরণ করা হয় তবে এটিও টিকে না কারণ তার হিসাবে আয়েশার জন্ম প্রাক ইসলামী পিরিয়ডে হলে তার এক বয়স হয় আবার তার অন্য হাদিসে দেখা যায় ভিন্ন কথা। সে মতে আয়েশা ৬২০ সালে তার বাগদান হয় এবং ৬২৪সালে তার সাংসারিক জীবন শুরু হয় যাতে এটি প্রমাণিত হয় যে তিনি ৬১৩ সালে জন্ম নেন। ৬১০ সালে কোরআন নাজেল হয় এবং এর মাত্র তিন বছর পর ৬১৩ সালে তিনি জন্ম নেন। এক মুখে দু কথা হওয়াতে এক বিরাট গোজামিল এখানেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

(৪)       ইবন হাজারের মতে, “ফাতেমা কাবা শরিফে জন্ম নেন ঐ সময় কাবা পুননির্মান করা হচ্ছিল, যখন নবী মুহাম্মদ ছিলেন ৩৫ বছরের। ফাতেমা আয়েশার থেকে ৫ বছরের বড় ছিলেন (আল-ইসাবাহ-ফি-তামিজিলসাহাবা, ইবন-হাজার-আল-আসকালানি, ভল্যু. ৪, পৃষ্ঠা ৩৭৭, মাকতাবাতুল-রিয়াদা-আল-হাদিসা, আল-রিয়াদ ১৯৭৮)। হাজারের মতে আয়েশার জন্ম হয় যখন নবীর বয়স হয় ৪০ বছর। যদি আয়েশার বিয়ে হয় নবীর ৫২ বছরে, তাহলে আয়েশার বিয়ে হয় ১২ বছরে। এখানেও দেখা যায় হাজার, তাবাদ-আন-ইবন হিসাম ও ইবনে হাম্বলের বক্তব্য পরষ্পর বিরোধী। এভাবে দেখা যায় হাজার, ইবনে কাসির, আব্দাল রাহমান ইবন আবি জোন্নাদ এর মতে আয়েশার বয়স হওয়া উচিত ছিল ১৯ বা ২০ বছর। ইবন হাজার একবার উল্লেখ করেন তার বয়স ১২ বছর কিন্তু পরবর্তীতে অন্যত্র তিনি ব্যাখ্যা দেন তার বয়স ১৭ বা ১৮ বছরের। তাহলে কোনটি সঠিক ১২ না ১৮? তার চেয়ে বরং এটি বলাই যুক্তিযুক্ত যে ইবন হাজারও এ বক্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্বস্ততা হারিয়েছেন।

(৫)       আরবী মাসের হিসাব চাঁদের হিসাবে নেয়া হয় যেখানে অন্য সব মাসের হিসাব নেয়া হয় সূর্যের হিসাবে। এতেও অনেক সময় হিসাবের মাঝে একটি পার্থক্য এসে থাকে। একদল কখনো বলছেন সে সময়ে আয়েশার বয়স ছিল সাত, আরেকদল বলছেন এ সময় তার বয়স ছিল সতেরো। কেউবা বলছেন ওটি ছিল ১৯ বা ২০।

(৬)      যেখানে পরষ্পর বিরোধী এত হাদিস কোন ঐশী গ্রন্থ নয়, এটি মানুষের রচিত গ্রন্থ। এতে কিছু ভুল ত্রুটি থাকতেই পারে। তবে হ্যাঁ, আমাদের সচেতনদের জন্য এটি একটি নিয়ম থাকা উচিত যে আমরা এসবের একটি সঠিক জবাব চাইবো। যারা অহেতুক একটি বিশৃঙ্খলা তৈরী করতেই চায় তারা কখনোই কোন যুক্তি মানবে না। কারণ যুক্তি মেনে নেয়া মানেই তাদের হেরে যাওয়া এবং আঘাত করার জন্য তাদের হাতের এই একমাত্র মোক্ষম অস্ত্রটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়া। এ যাবত এই একটি শক্ত গ্যাপ ধরে নিয়ে বিরুদ্ধবাদীরা তাদের আক্রোশ ঝেড়েছে  সাধ্য মতন। তাই স্বভাবতই এ যুক্তি তাদের সইবে না, সময়ে সময়ে বিতন্ডা করার এই মহা সুযোগ তারা কখনোই হাতছাড়া করতে চাইবে না। প্রতিটি হাদিস যাচাই করতে আমাদের পরিবেশ পরিস্থিতির উপরও নজর দেয়া জরুরী। প্রমাণ আছে অনেক খারাপ উদ্দেশ্যেও অনেকেই হাদিস সংকলন করেছেন। “এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর সে সব পরহেজগার দল, যারা নিজেদের খেয়াল অনুসারে সদ্দুদ্দেশ্যে মিথ্যা হাদিস জাল করে নিয়েছে” (এবনুছ-ছালাহ, ৪৪)। ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায় ইমাম আবু হানিফা এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেন এবং এ সবের বিরুদ্ধে অনেক সচেতনমূলক কাজ করে গেছেন যার কারণেও তাকে অনেক নির্যাতন পোহাতে হয়।

(৭)       তফসির-ইবনে-কাসির এবং আরো কিছু বক্তার মতে, আসমা, আয়েশার চেয়ে দশ বছরে বড় ছিলেন (আল-বিদায়া-ওয়াল-নিহায়া, ইবন কাসির, ভল্যু ৮, পৃষ্ঠা ৩৭১, দ্বার-আল-ফিকর-আল-আরাবি, আল-জিজআ ১৯৩৩)। আল্লামা-ইবনে-হাজার আসকালানী এবং আরো সব ঐতিহাসিকদের মতে আসমা মারা যান ৭৩/৭৪ হিজরী সালে তার ১০০ বছর বয়সে (আল-বিদায়া-ওয়াল নিহায়া, ইবন কাসির, ভল্যু. ৮, পৃষ্ঠা ৩৭২, দ্বার-আল-ফিকর-আল-আরাবি, আল-জিজআ ১৯৩৩)। ইবন-হাজার-আল-আসকালানির মতে “তিনি (আসমা) ১০০ বছর বেঁচেছিলেন এবং ৭৩ অথবা ৭৪ হিজরীতে মারা যান। সে হিসাবে হিজরতে বা মদীনায় যাবার সময়কার হিসাবে আসমার বয়স হবে (১০০-৭৩) = ২৭ বছর। প্রায় ঐতিহাসিকদের মতে আসমা, আয়েশার থেকে ১০ বছরের বড়, এ হিসাবেও দেখা যায় হিজরতের সময় আয়েশার বয়স ছিল (২৭-১০)=১৭ বছর অথবা ১৮ বছর। তার বৈবাহিক জীবন শুরু হয় তার দুই বছর পর তার মানে (১৭+২) (১৮=২) =১৯ অথবা ২০ বছরে।

(৮)       মুসলিমের এক হাদিসে আমরা পাই আয়েশা বদর যুদ্ধে যোগদান করেন (তথ্যসূত্রঃ কিতাবুল জিহাদ-ওয়াল-সিয়ার,বাব-কারাহিয়াতিল-ইসতিআনা-ফিল-খাজওই-বিকাফির)। আয়েশা যখন বদর যাত্রার কথা বর্ণনা করেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে সে যাত্রায়, “যখন আমরা সাজারাহতে পৌছাই” উক্ত বক্তব্যেই প্রমাণ আয়েশা ঐ দলের মাঝে ছিলেন। অন্যত্র বোখারীতে পাওয়া যায় বদর ও ওহুদের যুদ্ধে (কিতাবুল জিহাদ ওয়াল সিয়ার, বাব খাজউইল-নিসাওয়া ক্কিতালিহিন্না মাআল রিজাল) যোগদানের প্রমাণ পাওয়া যায়। আনাস রিপোর্ট করেন যে, ওহুদের যুদ্ধের দিন আমি দেখেছি আয়েশা এবং উম্মি সুলাইম, তারা তাদের কাপড় তুলে ধরেন চলার সুবিধার জন্য।” এ ঘটনাতেও প্রমাণিত হয় যে আয়েশা ওহুদের যুদ্ধে যোগদান করেন (কিতাবুল মাগাজি, বাবা খাজওয়াতিল খান্দাক ওয়া হিয়াল আহজাব)। এখানে ইবনে ওমর বলেন যে, নবী কখনোই ওহুদ যুদ্ধে যোগদান করতে আমাকে দেননি কারণ সে সময় আমার চৌদ্দ বছর বয়স ছিল। কিন্তু খন্দকের যুদ্ধে যখন আমি ১৫ বছরে পৌছাই নবী আমাকে যুদ্ধে যোগদানের অনুমতি দেন। এতেও বোঝা যাচ্ছে যে ১৫ বছরের নীচের কারো যুদ্ধে যোগদানের অনুমতি ছিল না। উপরের সব কটি হিসাবে এটি সুস্পষ্ট যে, এ সময় আয়েশার বয়স ছিল ১৫ বছরের বেশী। যদি বদরের সময় তার বয়স হয় ৬ অথবা ৭ অথবা ৯ তাহলে কিভাবে তিনি বদরের যুদ্ধে যোগদান করেন। তারপরও আমরা পাই ওহুদ যুদ্ধের বর্ণনাতে “একদিকে মোসলেম কুল-জননী বিবি আয়েশা প্রমূখ মহিলাগণ, আদর ভালোবাসা ও করূণার সাক্ষাৎ প্রতিমূর্তিরূপে আহত ও মৃত্যুর সাথে লড়াইরত সৈনিকগণের নিকট উপস্থিত হয়ে তাদের সেবা করছিলেন, তাদের শুষ্ক কন্ঠে পানি দিচ্ছিলেন (বোখারী – মাগাজী)। অন্যত্র আমরা পাই বিবি আয়েশা প্রভৃতি মুসলিম মহিলাগণের সহিত ওম্মে-আমারা শুশ্রƒষাকারিণীরুপে সমরক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে, আহত সৈনিকগণকে পানি সরবরাহ এবং তাদেরে অন্যান্য প্রকার সেবা শুশ্রুষা করছিলেন” (মোস্তফা চরিত, মোহাম্মদ আকরম খাঁ, পৃষ্ঠা ৪৪৩ ও ৪৪১)। উল্লেখিত যুদ্ধাবস্থায় তিনি এত দ্রুত কেমন করে তার বালিকাত্ব ঘোচাতে পারলেন সেটি কি চিন্তার বিষয় নয়? হিজরত সংঘটিত হয় ৬২২, বদর ৬২৪ এবং ৬২৫ হিজরীতে  ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

(৯)       সাধারণ হিসাবে আমরা জানি আয়েশা হিজরতের ৮ বছর আগে জন্ম নেন। এ জানাও এই সব হাদিস থেকেই। কিন্তু বোখারীর অন্য তথ্যে কিতাবুল তাফসিরের রিপোর্টে দেখা যায় আয়েশা বলছেন, “আমি একজন বালিকা ছিলাম” যখন সুরা আল-ক্কামার রচিত হয় (সহি বোখারী, কিতাবুল তাফসির, বাবা-ক্কাউলিহি-বালআল-সাআতু-মাওইদুহুম-ওয়াল-সাআতু-আদহা-ওয়া-আমার)। সুরা ক্কামার ৫৪ নম্বর সুরাটি নাজেল হয় হিজরতের কয়েক বছর আগে (দি বাউনটিজ কুরআন, এম. এম. খাতিব, ১৯৮৫)। তার মতানুসারে এটি নাজেল হয় ৬১৪ হিজরীতে। যদি আয়েশা ৯ বছরে সংসারে ঢোকেন তবে তিনি সে সময় কোলের বাচ্চা। যখন আল-ক্কামার নাজেল হয়, আয়েশা সে সময় যে কোলের বাচ্চা ছিলেন না বরং তিনি একটি ভাল মাপের বালিকাই ছিলেন যাকে আরবীতে বলা হতো “জারিয়াহ”। এর অর্থ বুঝায় খেলার বয়সের বালিকা (লেইনস আরবী ইংরেজী অভিধান হিসাবে)। “সাবিয়াহ” মানে শিশু তিনি সাবিয়াহ ছিলেন না, তিনি ছিলেন “জারিয়াহ”। হিসাব মতে এটি হবার কথা সম্ভবতঃ ৬-১৩ বছরের বয়সের যখন সুরা ক্কামার নাজেল হয়। এখানের হিসাবেও দেখা যায় যে তার বিবাহের বয়স ১৪-২১ বছরের মাঝেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশী কারণ এ ঘটনাটি তার বিয়ের আগের, পরের নয়।

(১০) আরবী ভাষার ব্যবহার হিসাবেও আমরা কিছু যুক্তি পেয়ে যাই। আহমদ ইবন হাম্বলের মতে, খাদিজার মৃত্যুর পর যখন খাওলাহ নামের এক মহিলা নবী মুহাম্মদের কাছে আয়েশার বিয়ের প্রস্তাব পাড়ছিলেন। সে সময় খাওলাহ বিনত হাকিম নবীর একজন মহিলা অনুসারী তার পছন্দ মতো পাত্রীর প্রস্তাবই পাড়েন ঠিক এভাবে, “আপনি একজন পাত্রীকে পছন্দ করতে পারেন যে বিবাহযোগ্যা হয়েছে”। যখন নবী ঐ পাত্রীর নাম জানতে চান তখন খাওলাহ আয়েশার নাম ব্যক্ত করেন। এসব ক্ষেত্রে যে বা যারা আরবী ভাষাটি জানেন তারা ভাল করেই জানেন “বিকর” এ শব্দটি কখনোই কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর জন্য বা নয় বছরের বাচ্চার জন্য ব্যবহার হয় না। এটি একমাত্র তার জন্যই ব্যবহার হয়েছে যে এরি মাঝে বিবাহযোগ্যা (তাইয়্যিবা) হয়ে উঠেছে। তা হলে তিনি বলতেন “জারিয়াহ” খেলার বয়সী শিশু মেয়ে। “বিকর” শুধু ব্যবহার হয় একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক অবিবাহিত মেয়ের বেলায়, যার এখনও বিয়ে হয় নি, সদ্য বিবাহযোগ্যা ঠিক যেমন করে ইংরেজীতে ব্যবহার হয়ে থাকে “ভার্জিন” (মুসনাদ আহমদ ইবন হাম্বল, ভল্যু. ৬, পৃষ্ঠা ২১০, আরবী-দার-আহইয়া-আল-তুরাথ-আল-আরাবি, বেইমো)। এখান থেকেও এটি প্রমাণিত হচ্ছে যে, তিনি এ সময়ে ছিলেন বিবাহযোগ্যা একজন মহিলা।

(১১) যে ভাবে পুতুল খেলার মেয়েকে কনে সাজানো হয়েছে কিন্তু ইতিহাসের বাস্তবতা হচ্ছে ঐ সময় মুসলিম আবু বকরের মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েই ছিল। কিন্তু উভয় পক্ষ গড়িমসিতে কারণ তাদের ধর্ম বদল হয়েছে। বর্তমান সময়ের একজন আইনজ্ঞ, ভ্রমণ লেখক, লেখক ও সাংবাদিক গবেষক শাহাদাত কাদরী এ বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন এবং এসব গালগল্প সাজানো হয় নবী মারা যাবার কয়েক শতাব্দী পর (উইকিপিডিয়া, কাদরী, শাহাদাত (২০১২) হেভেন অন আর্থ , Farrar Straus,  Giroux, p-30, ফেরার স্ট্রাউস, জিরাউক্স, পৃষ্ঠা ৩০)। রাজনৈতিক জটিলতাকে অবলম্বন করে এ বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো হয়। আয়েশা অনেক গুণসম্পন্ন মেয়ে ছিলেন, তার বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা, সাহিত্যিক মূল্যবোধে গড়া, ঘোড়া ও উট পরিচালনার দক্ষতায় তৎকালীন আরব সমাজে গর্ব করার মত বৈশিষ্ঠ্য তার ছিল।

(১২) আমরা জানি যে বিবি আয়েশা একজন হাদিসবেত্তা। এখানেও একজন চিন্তাশীলের জন্য বেশ কিছু খোরাক বর্তমান, এ রকম একটি শিশু বাচ্চাকে কিভাবে হাদিসবেত্তা হিসাবে গ্রহণ করা যায়? পরবর্তী বিতন্ডার ইতিহাস ঘাটলে আয়েশাকে বালিকা প্রমাণ করাতে একদলের অতি উৎসাহ সন্দেহ করার মতো। উপরের সব তথ্যই এটির সমাধানে পৌছতে আমাদেরে সাহায্য করবে। সাথে সাথে বিরূদ্ধ চিন্তার অনুসারীরা এর নিচে তা দিয়ে গেছেন যার প্রমাণ আজো বর্তমান।

(১৩) যখন বিবি আয়েশাকে বিয়ে করা হয় তখন নবী মুহাম্মদের জীবনে এক কঠিন সঙ্গীন মুহূর্ত  উপস্থিত। খাদিজা বিগত, ঘরে তার সমোত্ত মেয়েরা, এমন অবস্থায় এসব মেয়েদের দেখা শোনা করার জন্য অন্তত এমন একজনের দরকার যে অন্তত এদের সঙ্গ দিতে পারে। সে দিন নবীর সোমত্ত মেয়েদের সামলাবার জন্য নিশ্চয় তিনি একটি পুতুল খেলার শিশু নিয়ে আসেন নি, যে নিজেই সমস্যা সৃষ্টি করবে, সমাধান নয়। আর আশেয়াকে পছন্দ করার পিছনে কি কোনই যুক্তি ছিল না? আয়েশা বুদ্ধিমতি ছিলেন, ধী শক্তির অধিকারী ছিলেন যা তার এই গুরুত্বপূর্ণ পদটির জন্য ইতিবাচক ছিল। এসব গুণাবলির বিকাশ লাভ একদম শিশুকালে সম্ভব নয়। এর জন্য একটি ভালো মাপের সময়েরও দরকার।

(১৪) যুদ্ধই হোক, সন্ধিই হোক, বিবাহই হোক, নবী মুহাম্মদের জীবনের প্রতিটি ঘটনা খুবই বাস্তব যুক্তিসম্মত অঙ্কীয় ধারণার মাঝে বিকাশ লাভ করেছে, সেখানে এমন এক বেখাপ্পা ঘটনা কখনোই ঘটতে পারে না।

(১৫) আরেকটি তথ্য আয়েশার ৬ বছর বয়সে বিয়ে যেটি ৯ বছর বয়সে মাত্র বাস্তবতা পায়। এটি আমরা সহি বোখারীতে পাই। এই হাদিসটির ব্যাপারে একটি বিশেষ কারণে সন্দেহ উদ্রেকের সুযোগও আছে কারণ এখানে একজন বক্তা কুফার অধিবাসী, ঐ সময়টিকে শিয়া-সুন্নী জটিলতাও ধর্মে এসে জমা হতে থাকে। একদল কুফাবাসী ছিল হুসেনের কারবালার শক্ত চক্রান্তকারী। শিয়া মতবাদ অবলম্বনে কিছু চক্রান্তকারীরা সব সময়ই আয়েশা থেকে ফাতেমার বিষয়াদিকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে গেছেন। এটিও একটি রাজনৈতিক জটিলতা যেটি কৌশলবাজদের এক চাল। সত্য ধর্মটির মাঝে বিভেদ তৈরীতে বিরুদ্ধবাদীদের ইন্ধনে সৃষ্ট কোন শয়তানি চাল এটি ছিল না, তা মনে করার কোনই কারণ নেই। অনেকের কাছে আয়েশার হাদিসকে অবজ্ঞা করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যাদের দৃষ্টিতে এই পুঁচকে মেয়ে আবার হাদিস ব্যক্ত করবে কি? তার উপর তো মেয়ে মানুষ! ইসলাম নারীকে পূর্ণ মর্যাদা দিলেও অনেক পুরুষের এটি মানতে অনেক সময় কষ্ট হয়। এটি অবশ্যই একটি কঠিন সত্য কথা। আমরা এ খবরও প্রাপ্ত হয়েছি যে, এই মাত্র কিছু আগেও আমাদের পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু জনতা বিবি আয়েশার হাদিসকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেবার দরকার মনে করতেন না। তবে ইদানিং অনেকেই সেটি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। হিসাম ইবনে উরওয়ার বিরুদ্ধে অবিশ্বস্ত হাদিসের প্রমাণ আমরা পেয়েছি।

(১৬) এবার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থের আলোকে আমরা পাই সুরা নিসার ৫ ও ৬ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে কিভাবে এতিমের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। একজন ধর্মানুরাগীর কি করা উচিত একজন এতিমের জন্য। তার অধিকার সংরক্ষণে অপর পক্ষের কি কর্তব্য হতে পারে এবং কিভাবে সেটি হবে? “আর অবোধদেরে দিয়ে দিও না তোমাদের সম্পত্তি যা আল্লাহ তোমাদের জন্য অবলম্বন স্বরূপ করেছেন। আর তা থেকে তাদের খাওয়াও ও তাদের পরাও; আর তাদের বলো ভালোভালো কথা (অর্থাৎ সদুপদেশ, সুপরামর্শ ও সুশিক্ষা দাও)” (সুরা নিসার ৫ আয়াত)। আবার “আর এতিমদের পরীক্ষা করে দেখবে যে পর্যন্ত না তারা বিবাহ বয়সে উপনীত হয়; তারপর যদি তাদের মধ্যে বিচার বুদ্ধি দেখতে পাও তবে তাদের ধন সম্পত্তি তাদের হস্তে অর্পণ করো…” (সুরা নিসার ৬ আয়াত)। উপরের আয়াতে একজন এতিম শিশুর প্রতি একজন সচেতনের উপর কি নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেটি লক্ষ্য করবার মতো। কখনোই বলা নেই ছলে বলে একটি বিয়ের ব্যবস্থা করে আপদ বালাই বিদায় করতে। বরং বলা যে তাদের বিবাহের বয়স পর্যন্ত তাদের সুষ্ঠভাবে দেখাশোনা করো। যেখানে একজন এতিমের উপর স্রষ্টা এমন বিধান রাখলেন সেখানে একজন আবু বকরের মেয়ের উপর আল্লাহ জগতের ভিন্ন এক নিয়ম জারি করেছিলেন এটি কি কোন যুক্তিপূর্ণ কথা বলে মনে হয়? তার উপর বিবি আয়েশা মোটেও এতিম ছিলেন না, দরিদ্র ঘরের মেয়েও ছিলেন না। পিতামাতা হারালেও একজন এতিমের উপর বাকীদের নির্দেশ হলো তার দিকে নজর রাখা, তার সম্পত্তির দেখা শোনা করা, তাকে খাওয়ানো, পরানো, তাকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা এবং সেটি আজীবনের জন্য নয়, তার বিয়ের বয়স পর্যন্ত এটি করতে বলা হয়েছে, ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। আবু বকর এবং নবী মুহাম্মদ এ রকম একটি কুরআন বিরূদ্ধ কাজ করেছেন বলে কি মনে হয়? শুধু মাত্র কুরআনের সম্মানেই তারা এটি করতে পারেন না। ইবনে হাম্বল (মোসনাদ আহমদ ইবন হাম্বল, ভল্যু ৬, পৃষ্ঠা ৩৩ এবং ৯৯) দাবী করেন যে নয় বছরের আয়েশা ঘোড়া নিয়ে খেলতে পারেন কিন্তু একজন দ্বায়িত্বশীল স্ত্রীর ভূমিকা পালন করা অসম্ভব। এ সব ভ্রান্তি থেকে আমাদের সরে আসা উচিত অবশ্যই। যদিও কিছু নাস্তিকেরা, ও কিছু অতিভক্ত অসচেতন আস্তিকেরা এ ভ্রান্তির মাঝে জড়িয়ে এক বিতিকিচ্ছিরি কান্ড ঘটাতে চাইছেন। কুরআনের নির্দেশ হলো একজন ছেলে মেয়েকে সুশিক্ষিত করে গেড়ে তোলা। আবুবকর তখনকার সময়ের একজন সচেতন বাবা সন্দেহ নেই। যার বিবেক সমাজকে ঘোর দুর্দিনে পথ দেখিয়েছে তার সে সচেতন বিবেক তার মেয়ের জন্য এরকম একটি অনাচার করতে পারেই না। এসব অনাচার করেছে তারাই যারা এসব পরবর্তীতে সাজিয়েছে। যদি খাওলাহ নামের সেই মহিলা এরকম কোন অবিবেচক প্রস্তাব রাখতেন তাহলে তারা দুজনাই এটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে উঠতেন, সেটিই স্বাভাবিক। কারণ তারা দুজনাই ছিলেন কুরআন, ইসলাম প্রতিষ্ঠায় নিবেদিতপ্রাণ।

(১৭) ইসলামী বিবাহে কিছু শর্ত জরুরী। একজন মেয়ের বা ছেলের বিয়েতে তার সম্মতি থাকতে হবে (মিসকাত, মাসাবিআহ, অনুবাদে জেমস রবিনসন, ভল্যু ১, পৃষ্ঠা ৬৬৫)। একজন মহিলার বিবাহের স্বীকৃতি বিবাহের একটি পূর্বশর্ত। সাত বছরের মেয়ের স্বীকৃতির কোন আইনগত ভিত্তি নেই। উদাহরণ হিসাবে মিশরের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯২৩ সালে মুসলিম মিশরের বিবাহ মতে ১৬ বছরের নীচে কোন মেয়ে এবং ১৮ বছরের নীচে কোন ছেলে বিয়ে করতে পারতো না। মুসলিম প্রধান একটি দেশেও বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ। ৮ বছর পর ১৯৩১ সালে শরিয়া কোর্ট এই নীতি অনুসরণ করে (উইম্যান ইন মুসলিম ফ্যামিলি ল’, জন এসপোসিটো, ১৯৮২) তারপরও আমরা পাই কিছু হাদিসে এসব জিনিস এসে ঢোকেছে। কুরআনের সাথে অসামঞ্জস্য হাদিস বাতিলযোগ্য, এটি হাদিসের একটি প্রধান সূত্র। আরবী রীতি অনুসারেও এটি ধোপে টিকে না। হিসাম ইবন উরওয়া তার উপরোক্ত বক্তব্যে যথাযোগ্য বিশ্বস্ততা টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যান্য সব বিশেষজ্ঞরা যেমন মালিক ইবন আনাস তার লেখাতে ফুটিয়ে তোলেন হিসামের হাদিসের অগ্রহণযোগ্যতার যুক্তি। (উল্লেখ্য, “আয়েশা কি ছয় বছরের একজন কনে ছিলেন? পুরোনো উপকথার উন্মোচন” নামে টি. ও. শানাভাস নামের একজন লেখক একটি আর্টিক্যাল ছাপেন, মিনারাত, মার্চ ১৯৯৯, আবার দ্বিতীয় সংস্করণ- ভল্যু ২৪, ইস্যু ৭, জুলাই / আগষ্ট ২০০২, পৃষ্ঠা ৩৫-৩৮)। লেখক শানাভাসের সাথে আমিও এক বাক্যে স্বীকার করছি আয়েশার বিয়ে একটি গল্প, উপকথা, এক মুখরোচক আলোচনা বিরূদ্ধবাদীদের জন্য আশার খড়কুটো। প্রকৃত মুসলমানদের এ ধরণের চিন্তা ভাবনা থেকে যথেষ্ট দূরে সরে থাকাই উচিত।

লক্ষ্য করবেন পাঠকেরা আমি আমার লেখাতে বোখারী, মুসলিমসহ যথেষ্ট তথ্য, যুক্তি অবশ্যই দিয়েছি, সর্ব্বোপরি এর স্বপক্ষে কুরআনের যুক্তিও বর্তমান। কারণ সেটিই আমাদের প্রধান অবলম্বন।  যারা ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চাইছে তারা তাদের কাজ করবেই। শত যুক্তি দেখালেও তারা এটি করবে। কারণ এটিই তাদের জীবনের একমাত্র সাধনা। যখন তারা এ মহান পুরুষটিকে, ইসলামকে কোন ভাবেই কাবু করতে পারেনি তখন এ রকম দু একটি বিষয় নিয়ে তারা তাদের সারা জীবনের সব ক্রোধ, ক্ষোভ, আক্রোশ জমা রেখেছে। বিবি আয়েশার বিয়ে, বিবি জয়নবের বিয়ে বিরুদ্ধবাদীদের বেঁচে থাকার অনেক বড় অবলম্বন। এসব তথ্যকে অবলম্বন করে তারা বাঁচবার আশায় খড়কুটোর মতো তুলে ধরে যদিও তাদের সে আশা ইহকালেও সফল হবার নয়। ধর্মের ভিতরে লুক্কায়িত সব উপকথা যে সব কালের ধারায় এখানে এসে মহীরুহের মতো আস্তানা গেড়েছে। তার সব জটিলতা আমাদেরকেই দূর করতে হবে। যদি ধর্মটি মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত হতো তবে সেটি আমরা চাইলেও করতে পারতাম না। এসবই প্রমাণ করে সত্য ধর্মের মূল যে কত শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। সত্যের জয় সুনিশ্চয়। মিথ্যার ঠাই এখানে হবার কথা নয়। যদিও বা কালের ধারায় এখানে অনেক মিথ্যা এসে আসন পেতে বসেছে, এসব ভ্রান্ত চিন্তা চেতনাকে এখান থেকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে। এ থেকে যত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসতে পারবো আমরা ততোই আমাদের মঙ্গল। আল্লাহ আমাদের সহায় হোক।

 

মূল লেখা: ১লা সেপ্টেম্বর ২০০৫।

নাজমা মোস্তফা

লেখালেখি করি কারো বাহবা পাওয়ার জন্য নয়। তবে সত্যকে উন্মোচন করার বাসনা থেকেই কলম ধরেছিলাম, তাই আজো মনে করি সত্যের উন্মোচনই একজন লেখকের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। দেখা যায় সবাই নামে মুসলিম কিন্তু কাজে অনেকেই মিথ্যার আশ্রয় নেন খেয়ালে বেখেয়ালে। যখনই এ ধারার কাজ একজন মুসলিম করবেন বুঝে নিতে হবে তার ঈমানের মাঝে গলতি আছে। ধর্মীয় কথা বলতে এক শ্রেণীর মানুষ প্রচার করেন যে ক্রমাগত অপরাধের জন্য কাঁদতে থাক আর মাপ চাইতে থাক। তাহলে এক সময় সব পাপ থেকে তুমি মুক্তি পেয়ে যাবে। এসব হচ্ছে গোজামেলে বানোয়াট ধর্ম চিন্তা। একজন মুমিন মুসলিমকে সাধনা করতে হবে আমি মিথ্যাচারে যাব না। পাপের পথে হাটবো না, সে চেষ্টাই যদি তার না থাকে তবে সে কেমন মুমিন মুসলিম? ঈমানদারের কাঁদার দরকার কম, কারণ সে ঈমানে বলিয়ান একজন, অপরাধ থেকে থাকবে শত যোজন দূরে। তার জন্য এসব নাটকের ভনিতার দরকার বা গরজ কম।  এসব কাজ হচ্ছে অপরাধির, যে সারাক্ষণ দেশ জাতির অপরাধের মানসে গুটি চালান দেয়। এ কাজটি তাকেই করতে হবে, তবে তার মেকী কান্নায় কোন ফল বয়ে আনবে না। কুরআনের যুক্তির সুক্ষ বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হয়। ইবলিসদের সব দোয়ারে সিল পড়ে থাকবে কারণ তারা  অপকর্ম করা চিহ্নিত দলের সদস্য। বাংলাদেশে যা হচ্ছে বছরের পর বছর এসবকে অপকর্ম ছাড়া আর কিছু বলার ফুরসত নেই। একজন মুসলিম হিসাবে কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলা ঈমানের অংশ জেনেই প্রতিটি কাজ করেছি। আমার ব্লগে জটিল বিষয়ের উপর শতেরও উপরে লেখা জমে আছে, ধর্ম ও রাজনীতির জটিলকে সহজ করা ও সত্য প্রকাশ করাই আমার কাজের অংশ। সজ্ঞানে আমি যদি কখনো মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেই, সে মিথ্যার ভার আমার কাঁধেই বর্তাবে। ধর্মের জটিলতার কষ্ট যেমন আমাকে কষ্ট দেয় একইভাবে রাজনীতির কষ্টও আমাকে ভয়ংকরভাবে পীড়া দেয়। তসলিমাকে জবাব দিব বলে কলমটি তুলে নিয়েছিলাম, এখন দেখি সারা দুনিয়া জোড়া অনাচারের বিচরণ, তবে অতিরিক্ত ধর্ম ও রাজনীতিতে। এ দুটি ক্ষেত্রেই খুব কৌশলে এঁটো মিশিয়ে দেয়া হয়েছে । যখন ছোট ছিলাম আমার দাদীর কাছে শুনেছিলাম তাদের গ্রামে নাকি এক লোক তার মেয়েকে মেরে ফেলে, পাশের বাড়ীর লোকটিকে ফাঁসাবে বলে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সে প্রমাণ করতে পারে নি যে, মেয়েটিকে প্রতিবেশী মেরেছে। সম্ভবত ঐ সময় দেশে বিচার ব্যবস্থা ইতিবাচক ছিল বলেই অনাচার প্রমাণ করা সহজ হয়নি। বাংলাদেশে আজকাল সবাই একযোগে বলছে এখানে ধারে কাছের সময়ে বিচারের উপর ভরসা করার কোন যুক্তি নেই। তারপরও মানুষের সঠিক ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর। আদম যখন গন্দুম খেয়েছিলেন শয়তানের প্ররোচনাতে, আল্লাহ মাফ করেছেন আদমকে কিন্তু ইবলিসকে কখনোই মাপ করেন নি বরং বিতাড়িত করেছেন এবং তাকে জাহান্নামি চিহ্নিত করেছেন, সে হচ্ছে পথহারা, শয়তানের দোসর, সে অধঃপাতেই যাবে। তারপরও কথা থেমে নেই, তারও শক্ত বিচার বরাদ্দ আছে।

কমবেশী অনেকেই জানেন ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টের মূল ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে এবং কিভাবে পরে সাজানো হয়েছে। এসবের উপর অসংখ্য যুক্তি, তথ্য, কথা চারপাশে ছড়িয়ে আছে। আমার নিজেরই এর উপর লেখা আছে, শত শত মানুষ এসব পড়েছে, আমি  চাইলেও তা সংক্ষেপ করতে পারি না। কারণ জটিল বিষয় স্পষ্ট করতে হলে কিছু ব্যাখ্যার দরকার পড়ে। কথা হচ্ছে পৃথিবীতে এমন কি কেউ আছে যে বা যারা তাদের অপকর্ম ঢেকে রাখতে পারবেন? না, ঐ স্বপ্ন না দেখাও ভালো। একমাত্র নাস্তিক যে সে এটি ভাবতে পারে, কারণ সে বোকার স্বর্গেই অন্ধকারে বসবাস করে। এখানে কয়টি কথা আজকের পত্রিকাগুলো থেকে নিয়েছি বাংলাদেশে অনৈতিক মন্ত্রীদের নীতিহীন কথা। ক্ষমতাধর বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল বলেন, নির্বাচনকালীন বর্তমান সরকারই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। কাদের হানিফ, নাসিম এসব মন্ত্রীদের কথা হচ্ছে  বিএনপি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য ছড়ানোর পায়তারা করছে। নাশকতা করে নির্বাচন ঠেকানো যাবে না। বিএনপির কোন সমর্থণ নেই। পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। দেশের পরিস্থিতি জানেন দেশবাসী ভালোই, তারপরও দেশবাসীকে প্রতারণা করতে এসব আবোলতাবোল বকছে সরকারসহ তাদের মন্ত্রীরা। লাখ লাখ কোটি কোটি সমর্থণের ঠেলাতে সরকার ও তার মন্ত্রীরা ভয়ের চোটে একমাত্র পুলিশী রাষ্ট্র বানিয়ে উল্টাসিধা বুলি আওড়াচ্ছেন।

চলমান সময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া শত শত ঘটনার মতই ২০০৪ সালের ঐ ঘটনাতে ২৪টি জ্যান্ত মানুষ যখন মরলো তাদের আত্মার আহাজারিতে কর্মকর্তাদের গোষ্ঠী শুদ্ধ যে একদিন  ধ্বসে পড়বে, সেটি কি একবারও মাথাতে খেলে না? কারবালার প্রান্তরে যে নবী বংশ ইমাম হুসেনকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলো আসামীরা কি পার পেয়ে যাবে বলে মনে হয়?  হোক সেটি চৌদ্দশত বছরেরও আগেকার কথা। না, ঐ ইবলিসরা কখনোই পার পাবে না, পার পেতে পারে না। সূত্র মতে আমরা জানি ২০০৪ সালের ঘটনাটির পর পরই বিএনপি সরকারই এর সুষ্ঠ বিচারের জন্য মামলা করেছিল। দেশীয় স্থানীয় তদন্তের পাশাপাশি এফবিআই এবং ইন্টারপোলকে সম্পৃক্ত করেছে যেন প্রকৃত দোষীকে আইনের সামনে মোকাবেলা করা হয়। তখন কিন্তু বিদেশী সংস্থাকে উপাত্ত বিলি করে নি বিরোধীদল আওয়ামী লীগ, এটি সবার জানা। বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ গাড়ীটি পর্যন্ত তারা ধ্বংস করে দিয়েছে বলে ওটিও ঢাকা পড়ে যায়। ঐ সময়ে বিএনপি সরকার ছিল মাত্র দুই বছর আর পরবর্তী সাত বছরে ছয়বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানের রায়ে প্রথম দিকের বিএনপি জামাতের জোট সরকারের কোন প্রতিবেদন দাখিল হয়নি এবং পরবর্তীতে মামলাকে প্রভাবিত করার অভিযোগ এসেছে বার বার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন (অনেক পরে হলেও) তারেক রহমানকে জড়ানোর কারণে মামলার রায়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কারণ তারেকের বিরুদ্ধে কোন সাক্ষ্য প্রমাণ নেই। তারপরও সাজা বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে এফবিআই এবং ইন্টারপোলের তদন্তেও তারেক রহমানের নাম আসে নি, এমনকি সম্পূরক চার্জশিটেও নেই। ঐ সময় আমরাও ময়দানে দেশটিতে হাজির ছিলাম। খুব গুরুত্ব দিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে বিভৎস এ ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেছি। এটি ঠিক নয় যে, বিএনপি এর তদন্তে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। অনেকে বলেন বিএনপি জজ মিয়া নাটক করেছে আজকে এর জবাব দিয়েছেন তাদের এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী (১২ অক্টোবর)। তিনি এর ব্যাখ্যা দেন তৎকালীন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এটি করেছে। রাজকাহন অনুষ্ঠানে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন। তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে, এ ন্যাক্কারজনক মামলার সুষ্ঠ তদন্ত বিএনপিও চেয়েছে কিন্তু ঐ অনেক পথ পাড়ি দিয়ে ১৪ বছর পর এর এমন এক বিচার হয়েছে যে চারদিক থেকেই এর বিরুদ্ধে শোরগোল উঠেছে। ৫০১জন চিকিৎসক বলেছেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত রায়।  কারাগার থেকেও মামলার আসামী হওয়ার নজির আজকের পত্রিকাতেও দেখলাম। ১৯ জনের ফাঁসি, ১৯ জনের যাবজ্জীবন, এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। অসংখ্য অব্যক্ত প্রশ্নের জবাব ছাড়াই বিচার হল একদম খালেদা জিয়ার এতিমের টাকা চুরির মামলার আদলে। তারেক যদি সব পরিকল্পনা করেই থাকেন তবে তাকে কেন ফাঁসি দেয়া হচ্ছে না? যাবৎজীবন দিচ্ছেন, তার মানে তাকে মিথ্যা মামলাতে ফাঁসানো হচ্ছে কাদের মোল্লার মতই, সবাইকে মনে রাখতে হবে সবাইকেই মরতে হবে। তবে কোন নির্দোষ যাতে শাস্তি না পায় সেটি হচ্ছে প্রকৃত সুবিচারের শর্ত।

মৃত প্রয়াত সুরঞ্জীতও বলে গেছেন এসব হচ্ছে রাজনৈতিক মামলা। কালে ভদ্রে দু একজনের মুখ দিয়ে আসল কথা বের হয়ে যায়। আজ সংবাদপত্রের সূত্রে প্রকাশ ১২ অক্টোবর ২০১৮ জাফরউল্লাহ চৌধুরীর হাসপাতালের পাশে আইন শৃংখলা বাহিনী চারপাশ ঘিরে রাখে এমনভাবে যে তিনি তার হাসপাতাল থেকে বের হতে পারেন নাই। ঐ দিন বিকালে তাদের একটি বৈঠক করার কথা ছিল সেটি রুধবার জন্যই কি সরকার এ কাজটি করলো? যার জন্য বাধ্য হয়ে আয়োজকরা ঐ দিনের বৈঠক বাতিল করেন। অনেক পরে ওরা সরে গেলে তিনি হাসপাতাল থেকে তার বাসাতে ফিরে যান। আজকেরই খবর আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে একজন আসামী ছাত্রদল নেতা যার বিরুদ্ধে দেড়শতাধিক মামলা রয়েছে রবিউল ইসলাম নয়ন ছাড়া পেয়ে গেট থেকেই ধৃত হন সাদা পোশাকে কারিগররা তাকে মটরসাইকেল থেকে মাইক্রোবাসে তোলে নিয়ে যায় এবং যোগাযোগ করলে তারা এসব অস্বীকার করে। এসব হচ্ছে আইনের দেশ উন্নয়নের দেশ নীতির দেশ বাংলাদেশের কর্মকান্ড। ঐ দেশে নিশ্চয়ই বিধাতা আল্লাহ অবসরে যান নাই, সবই পরখ করছেন। যার যত ইচ্ছে মারেন মামলা দেন, তবে নির্ঘাৎ মনে রাখবেন সময় কথা বলবে। অদেখা বিধাতা ঠিক সময়েই নড়েচড়ে বসে। তার অংক বড়ই জটিল। এটি সব কর্মকর্তাদের মাথায় রাখা উচিত।  আমার কয় বছর আগের লেখাতে এসব স্পষ্ট করেছি, তাই বার বার এককথা বলে লাভ নেই। আমার ব্লগে আছে লেখাটির নাম হচ্ছে “বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে একুশে আগষ্ট ২০০৪, সচেতনের সন্দেহ প্রতিষ্ঠিত সন্ত্রাসীর দিকে!”। বিশাল ঘটনা, বিশাল লেখা, বিশাল সব যুক্তিরা। লেখাটি পড়লে সম্ভবত অনেকের মগজ ঝালাই হয়ে যাবে। মানুষ যে দুনিয়াতে কি করতে পারে, সেটি বুঝতে সহজ হবে।

এফবিআইকে গাড়ী চেক করতে কেন দেয়া হলো না? / মুক্তাঙ্গন থেকে সরে গিয়ে ১ ঘন্টার নোটিশে কেন স্থান বদল করা হলো? তারেক রহমানের মেধা কি এতই তুখোড় যে রেকি ছাড়াই ২৪ জনকে খতম করে তারা পালালো, কেউ ধরা পড়লো না?  তারেকের নাম আগে কেন আসে নাই? আজ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিজের দলেরসহ সব মানুষ মেরে তক্তা করে দেয়, তারা সেদিন কেন এত সুবোধ বালকের পার্ট নিল? মুফতি হান্নান যেসব আওয়ামী নেতাদের কথা বলে গেলেন তারা কেন বিচারের মুখোমুখি হন না? হাছিনা কি যুক্তিতে আইভিকে বার বার ট্রাকে উঠতে বলছিলেন?  তিনি কি জানতেন যে, ট্রাকটি নিরাপদ থাকবে। আইভিসহ যে ২৪জন নিহত হলো, আহত হলো আরো শত শত। যে এসব সাজিয়েছে রাজনৈতিকভাবে হলেও সে বুকে হাত দিয়ে বলুক সে উৎরে যাবার কথা কি ভাবছে। আর যারা এর ইন্ধনে তালিয়া বাজাবেন তারাও কি পার পেয়ে যাবেন?  সিনহাবাবুসহ বিচারকরা যুদ্ধপরাধীদের নামে যে উদ্ভট বিচার করেছেন তার নামে যতটুকু অবিচার হয়েছে তার থেকে প্রতিটি মানুষকে নিজের বিচারের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা মনে করে দিতে চাই। কারণ সবার উপরে আর একজন নিরপেক্ষ বিচারক যিনি বুঝেন না আওয়ামী লীগ, বিএনপি অথবা জামায়াতে ইসলাম, তিনি বুঝেন শুধু নীতি নৈতিকতা। আমি তার কথাই বলছি। আপনারা মুসলিমরা তার উপরই ঈমান এনেছেন।  তাকে শক্ত করে ধরে রাখুন। ঈমানটা মরার আগে এভাবে হারাবেন না প্লিজ। আমার এ লেখাটি সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি মানুষকে উপলক্ষ করেই বলছি। আসল আদালতকে এড়িয়ে যাবার কোনই ফুরসত হবে না। বেশী দিন তো লাগলো না, সিনহা বাবু এর মাঝেই ধরা খেলেন। একদিন যাদের ইন্ধনে মানুষ নাচে তারাও খুব শীঘ্রই ধরাও খায়। এসবই কি প্রমাণ করে না একজন নিরপেক্ষ বিচারকের নিরব উপস্থিতি?

গড়ে একজন মানুষ বাঁচে মাত্র ১০০ বছর, তার বেশী নয়। তারপরও তাদের এত আস্ফালন এত অনাচার মনে হয় তারা যেন জীবনেও মরবে না। এ রকম অনাচার অদেখা বিধাতা করলে মানা যেত। কিন্তু মানুষরা কেমন করে এসব অনাচার করে, বুঝি না। দৃষ্টির আড়ালে বিধাতা কথা বলে না কিন্তু সময়ে নড়েচড়ে, ঘটমান ঘটনা ঠিকই ঘটায়। এটাই তার কথা বলা। একক ¯্রষ্টা বিধাতা আল্লাহ দৃষ্টিহারা নন, নির্বিকার নন। তার প্রকাশ ভঙ্গি স্বতন্ত্র, আমাদের মত নয়। তাকে স্মরণ করে মনে রাখার নামই হচ্ছে ঈমান। একজন ঈমানদার কখনোই মিথ্যার বেসাতি করতে পারেন না। যদি করেন তবে আপনি ফেল ব্যর্থ ঈমানহারা একজন। আপনার ইহজীবন পরজীবনের লাইসেন্স পাবার সম্ভাবনা কম। নয়তো আপনিই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আপনার নামটি খোদাই করা চিরস্থায়ী খাতাতে উঠাতে পারেন। তবে শর্ত হচ্ছে আপনাকে প্রকৃত সত্যের গোলামী করতে হবে জন্ম থেকে মৃত্যু আজীবন। সত্য সত্য তার পরও সত্য, যেখানে মিথ্যার কোন বেসাতি চলবে না।

১২ই অক্টোবর ২০১৮।

পুনশ্চ: এ লেখাটি সাজিয়েছি ১২ অক্টোবর ২০১৮। কিন্তু হয়তো ব্লগে দিতে হলে আমাকে সাজানোর সুবিধার জন্য অন্য আগের একটি তারিখ ব্যবহার করতে হবে যাতে লেখাটি আমার লেখার লিংকসমূহের মোট ডাটা কলামের নীচের দিকে থাকে। এ লেখাটি নিউইয়র্ক ভিত্তিক সাপ্তাহিক পত্রিকা রানারে ২০১৮ সালের ১৮ই অক্টোবরে ছাপা হয়েছে।

নাজমা মোস্তফা

মিয়ানমারের অমানবিকতার পর বৌদ্ধদের স্বরুপ উন্মোচন দরকার হয়ে পড়েছে। সোয়া দুই হাজার বৎসর আগের মহাপুরুষ গৌতমবুদ্ধের অনুসারীরুপে পরিচিত বৌদ্ধরা আজ দু’ভাগে বিভক্ত, হীনযান ও মহাযান। প্রথম দল নাস্তিক আর দ্বিতীয় দল আস্তিক। খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দীর শেষ দিকে চীনেও বৌদ্ধ প্রভাব বিস্তার লাভ করে। এর মাঝে শত বর্ষ পার হওয়া বৌদ্ধধর্ম এক অদভুত আকার ধারণ করে বসে। ভারতবাসীর মন ও মগজে তখন শত শত ভূত প্রেত দেও দানব ঠাকুর দেবতা পিশাচ পিশাচিনী ঘেরা সমাজ ৩৩ কোটি দেবতার পাপে টলটলায়মান ছিল। এর কুপ্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করতেই গৌতম বুদ্ধ কঠোর হাতে এসব অনাচার থেকে বের হওয়ার জন্য তাদের সে সময়ের প্রতিষ্ঠিত প্রচারিত ঈশ্বরবাদ ও তাদের নীতিবাদের প্রতিবাদ করেছিলেন। যার স্বাভাবিক ফলশ্রুতিতে তিনি পরিবর্তিত হলেন একজন নাস্তিক হিসাবে এবং কখনো পরবর্তীতে তিনি পূজিত হন স্বয়ং ঈশ্বর হিসাবেও। একই ফলাফল যুগে যুগে তার পরবর্তী বিভ্রান্ত অনুসারীরা জমা করে ঠিক একই ভাবে যারা এককালে ঈসা নবী ও ইব্রাহিম নবীকেও পূজা দিয়েছিল। অশ্বস্থ বৃক্ষের নিচে তিনি কি করতে গিয়েছিলেন? ধারণা করা হয় এই মেডিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরা অসীমের কাছে পৌছতে পেরেছিলেন , অসীম তার সন্ধানে একাত্মতা ঘোষনা করেছে। এভাবে এরা বিশেষভাবে জ্ঞান অর্জন করেন। যে বা যারা এ জ্ঞান অর্জন করেন নাই, তারা অনেক সময় এসব অস্বীকার করেন। কিন্তু সাধুরা যখন সত্যের সন্ধান পান তারা কোনভাবেই সত্যকে অস্বীকার করতে পারেন না। প্রচারিত ধর্মশাস্ত্রে এসব জ্ঞানের অর্জনকে স্বীকার করার অজস্র যুক্তি বর্তমান। ঐ সময় ভারবর্ষ তার যোগ বিয়োগের সবকিছুর একত্রিকরণ করে ফেলে। এবার শুরু হল ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’ বলতে তাদের সামান্যতম কুন্ঠিত হতে হয়নি, চলতে থাকে জোরে সোরে স্বয়ং বুদ্ধের পূজা অর্চনা।

ভারতবর্ষের চরম দুর্দিনে দুঃসময়ে তার জন্ম হয়েছিল এটি সুস্পষ্ট। চারপাশে অনাচার দেখে ক্লান্ত বুদ্ধ গৃহত্যাগী হন। আজকে একবিংশ শতকে ভারতের গুরুরা ধর্মের নামে নারী নির্যাতন করছে অপকর্মের এমন কিছু নেই যা তারা করে না, তারা নাম নিয়েছে ঈশ^র। সাম্প্রতিক ধর্মগুরু রাম রহিম সিং ছলবাজ সাধক এ ধারায় প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে ধর্ম ব্যবসা চালায়। তাদের গোপন সুড়ঙ্গ মহিলা হোস্টেল সাধ্বী নিবাস অবধি ছোঁয়। অন্য সুড়ঙ্গ পাঁচ কিলোমিটার লম্বা। সেখানে খোঁজ মিলে বিস্ফোরক কারখানাও। অবিশ^াস্য দামে বিক্রি হয় ঈশ^রের প্রসাদ যা তারা নিজেরাই ফলায়। একটি কাঁচা মরিচের দাম পড়ে এক হাজার রুপি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এসব কেনে বিবেকহারা মাথাবিক্রি করা সদস্যরা। এ ধারাতে সারা ভারতে নানা ভঙ্গির সাধুরা সচল। কুসংস্কার জীবন্ত ও দুরন্ত গতিতে বহমান, মন্দিরের সামনে গলায় মালা পরা কাপড়হীন নেংটিপরা গুরু, মাটিতে শুয়ে পড়া নারীদের পিঠে হাটলেই নারীরা গর্ভবতী হচ্ছেন, সন্তানহীন মায়েরা এসব ‘একাদশী’ নামের উৎসবে শরিক হন। সন্তান জন্ম দিতে না পারলেও বিশ^াস কমে না, এসব হচ্ছে ধান্ধাবাজ সাধুর বাস্তব অবস্থা (জুলাই ১৫, ২০১৭)। নিজেদের বানানো মন্দির প্রাঙ্গনেই এসব সাধুদের দেহ ব্যবসা চলে। দারিদ্রতা, অশিক্ষা কুশিক্ষা ও কুসংস্কারের কারণে সবদিনই ভারত ভন্ড ধর্ম গুরুদের বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে ছিল আজো আছে। বিচারকরা বলছেন ধর্ম গুরু রাম রহিমের আচরণ জঙ্গলের জানোয়ারের মত। ভক্তরা নিজের বাপ মা থেকেও তাকে বড় বলে মানে। ভক্তদের মুখে জানা যায় তিনি তাদেরে সুবাক্য শোনান কিন্তু নিজে এমন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন যে তারা বিশ^াস করতে পারছে না। এটি সবদিনই প্রতারকের বড় কৌশল, যার জন্য বলা হয় অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।

প্রতিবাদী ধর্ষিতার পক্ষ থেকে এসব জানার পর আজ সাধুবাবা কারাগারে। তবে শোনা যায় তার আদর সোহাগের কমতি সেখানেও নেই। তবে অপকর্ম করার পক্ষে তার কিছু সুযুক্তি ছিল। তার যুক্তিগুলো প্রতিটি বিবেচক মূর্তি পূজকের ভাববার কথা!  শ্রীকৃষ্ণও ঈশ^র, তার ৩৬০ জন প্রেমলীলার গোপী থাকলে তার বেলায় আপত্তি কেন? তার যুক্তি তার ক্ষমতা অনেক, পিস্তল দিয়ে খুন করতে পারেন, ভক্ত পরিবারের সবাই তার অনুগত, কেউ প্রতিবাদও করবে না, সরকারেও তার প্রভাব প্রকট, তারাও ঈশ^রকে স্যালুট দিয়ে চলে, মূখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রের মন্ত্রীরাও তার প্রতি ভক্তি দেখান। খুনের হুমকি দেন একবিংশ শতকের এসব ভারতীয় ঈশ^ররা। ডেরা ম্যানেজার ফকিরচাঁদকে খুন করলেও এখন পর্যন্ত কেউ কোন কুল কিনারা করতে পারে নাই, ঈশ^রের এতই ক্ষমতা!  

উপরের এসব কথার ভিত্তিতেই ধারণা করা যায় যে তিনি গৌতম বৌদ্ধ যখন জন্ম নেন, তখন সেখানের অবস্থা কেমন ছিল?  সাধক বুদ্ধ প্রকৃত জগতের মালিক সম্বন্ধে ভাল ধারণা লাভ করেন। এবং সাধক নামধারী সেই যুগের সব প্রতারক ব্রাহ্মণেরা যা প্রচার করতো তা ছিল খাদযুক্ত, ভুলেভরা যার কারণেই তার বিবেক নড়েচড়ে উঠে। তাই খাটি সোনার যুক্তি দেখাতে গিয়ে তিনি তাদেরে যুক্তি দিয়ে বুঝাতেন। এতে তারা একদল মনে করলো তিনি নাস্তিক, অন্যরা এটি প্রচার করতে লাগলো তিনি হিন্দুর অবতার, কেউ বা প্রচার করলো তাকে ধান্ধাবাজ তস্কর। বৌদ্ধরা প্রার্থণার প্রারম্ভে তিনবার পাঠ করে –“নমো তস্সো ভগবতো অহরতো সম্মা সাম্বুদ্ধস্সো” অর্থাৎ পবিত্র মহাজ্ঞানী প্রভুর প্রশংসা হোক। হিন্দু ধর্মের অশ্বমেদ, গোমেদ এমনকি নরমেদ যজ্ঞের ভয়াবহ রীতির পর মহাত্মা গৌতম আনলেন অহিংসার মূল মন্ত্র। অহেতুক প্রাণী হত্যা মহাপাপ বলে তিনি ঘোষনা করলেন। স্বভাবতই সে সমাজের এই ভয়ানক কুৎসিত রুপ দর্শনে তার মহান হৃদয় ব্যথিত হয়ে উঠে। তিনি প্রচার করতে লাগলেন অহিংসার নীতি, তথাকথিত ধর্মের নামে ভারতের ভয়ংকর হিংসা ধারার নীতিসকল তাকে এসব নীতি গ্রহণে উজ্জীবিত করে সন্দেহ নেই। বিকৃত বিবর্তনের তালে পড়ে পরবর্তীদের কারসাজিতে যীশু যেমন তিন ঈশ্বরের অন্যতম হয়েছেন, তেমনি বিকৃত শিক্ষার পরিণতিতে গৌতম হয়েছেন নাস্তিক। প্রকৃতপক্ষে যীশুও যেমন ঈশ্বরত্বের দাবী করেননি তেমনি মহাত্মা গৌতমও নাস্তিক ছিলেননা, ঈশ^রত্বের দাবীও করেন নাই। ভারতীয়রা ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাসকারী হিসাবে নয় বরং বেদে অবিশ্বাসকারীকে নাস্তিক আখ্যা দিয়েছে। প্রমাণ দেখুন যথা নাস্তিকো বেদ নিন্দক (মনু ২/১১) যেহেতু গৌতমবুদ্ধ বর্তমান দুর্বোধ্য বেদকে প্রকৃত বেদ বলে স্বীকার করতেন না তাই বিরুদ্ধবাদী নিন্দুকেরা তাকে নাস্তিক আখ্যায় ভূষিত করেছে। সম্রাট অশোকের শিলালিপিগুলির মধ্যে এখনও ঈশানার (ঈশ্বরের) উল্লেখ রয়েছে (জগন্নাথ থেকে বিশ মাইল দূরে ধাওলীতে প্রাপ্ত অশোকলিপি)। ঈশানা অর্থ যে ঈশ্বর তা পন্ডিতেরাও স্বীকার করেছেন (Sanskrit-English Dictionary by Shivram Apte) । সমাজ থেকে পুতুল পূজা, নর পূজা, প্রেতপূজা দূর করতেই যুগে যুগে এসব সাধকরা আজীবন সাধনা করে যান। তাদের এত অবদানের পরও লক্ষ্য করা যায় এদের অবর্তমানে পরবর্তীরা ঐ নিষিদ্ধ অনাচারের উপরই জীবন পাত করেন। বুদ্ধ দেবের প্রতিষ্ঠিত প্রধান নীতি ছিল ‘অহিংসা’ আহারের জন্য বা ঠাকুর দেবতার জন্য কোন প্রাণ হত্যা না করার নির্দেশ থাকলেও পরবর্তী তার অনুসারী বৌদ্ধরা সর্বভুকের প্রতিযোগিতায় জগতকে ছাড়িয়ে যায়। পশু পাখি সরিসৃপের মাঝে বৌদ্ধদের অভক্ষ্য কি কিছু আছে? ‘তাও’ মতবাদের সাথে মিশে সেটি এক অদভুত রুপলাভ করে যা প্রকৃতই সাধক বৌদ্ধের কবর রচনা করে। তাই শুধু মায়ানমারই বুদ্ধকে আজ  নতুন কবর দিচ্ছে না, তার কবর বারে বারেই অতীতে এভাবে রচিত হয়েছে।

জানা যায় আজকাল বৌদ্ধরা মাংস খাওয়া অবৈধ জ্ঞান করেন। অথচ গৌতম বুদ্ধ স্বয়ং এবং তার শিষ্যরা সবাই মাংস খেতেন। (প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস, ৭৭ পৃষ্ঠা)। জাতকের ভূমিকায় স্বীকার করা হয়েছে, বৌদ্ধরা অহিংসা পরায়ণ হলেও মৎস্য ও মাংস গ্রহণ করতেন। (ঐ, ৩১১ পৃষ্ঠা) শুধু তাই নয়, বুদ্ধদেব চুন্দের দেয়া বিষ মিশ্রিত মাংস খেয়েই মৃত্যু বরণ করেছিলেন (উদ্বোধন, জৈষ্ঠ, ১৩৭৮)। এখানেই প্রমান তিনি যদি ঈশ^রই হতেন তবে এরকম মৃত্যু কেন হবে তার? ভারতের ঈশ^র ধর্মগুরু রাম রহিম সিংই বা কেন কারাগারে? মোদির ভারত মানুষ হত্যা করতে ইতস্তত করে না কিন্তু গরু হত্যাকে অপরাধ মানে। বিশ^ জোড়া তাদের গরুর মাংসের ব্যবসা তারপরও মুসলিমদের তটস্থ করতে ভিন্ন ব্যবস্থা তাদের। পশুরও অধম এসব কর্মকান্ড তাদের হীনমন্যতাকে বিশে^র কাছে স্পষ্ট করছে। বুদ্ধ আমিষ খেতেন, নিরামিষ আহারের প্রবর্তন করেছিলেন সম্রাট অশোক (উদ্বোধন, পৌষ ১৩৭৮)। ভারতে কখনো বৌদ্ধকে চোর ও বৌদ্ধগণ নাস্তিক দুটোই প্রচার করা হয়েছে। হিন্দুদের প্রচার মাধ্যমে এখানের নেতিবাচক ঊভয় অর্জনকেও হাতিয়ার হিসাবে নেয়া হয়েছে। জওহরলাল নেহরু তার ডিসকভারী অব ইন্ডিয়াতে বলেন, “ভারতে নিচুস্তরের দলিত মার্কা অল্প সংখ্যক বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী বিদ্যমান”। তারা কৌশলে গৌতম বুদ্ধকে অবতার বানায় এবং তার অনুসারীরা দলিত শ্রেণীর বলেও পরিগণিত করা হয় ঠিক এভাবে। অস্পৃশ্য সম্প্রদায়ের যে সাধারণ নিয়ম ছিল সেটি এখানেও তারা প্রয়োগ করে যে, “যারা বৌদ্ধগণকে স্পর্শ করবে তাদের ¯œান (সর্বাঙ্গ ধৌত) করতে হবে”। একই নিয়ম তারা মুসলমানদের বেলায়ও প্রয়োগ করতে আমরা দেখেছি। এরা সবাই তাদের কাছে ‘মালেচা’ বা অসূচি। পূর্ববর্তী ধর্মধারীদের জটিল এসব কান্ডজ্ঞানহীন অধার্মিকতার ফলস্বরুপ পরবর্তী কিছু নতুন ধর্মের সুত্রপাত হয়। যার প্রেক্ষিতে এদের জবাব হিসাবে ক্রমে বৌদ্ধধর্ম, শিখধর্ম ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠা পায়। খোদ মুসলমানরা মূর্তি গড়ার ব্যাপারে সবদিনই কড়া প্রহরায় থেকেছে তারপরও তাদের শিরক করায় তারা শত পার্সেন্ট শুদ্ধতা বজায় রাখতে পারেনি। তাদের একদল শিরকের নামে মূর্তি দূরে রাখলেও পীর পুরোহিতকে পূজা দেবার নামে এক ঘৃণ্য শিরকী প্রথা সমাজে চালু করেছে। পার্শ্ববর্তী সমাজের ছোয়াতে তারাও এ ক্ষেত্রে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিন্দু সমাজের সাধু নামের কিছু ব্যক্তিরা এবং মুসলমান সমাজের পীর নামে কিছু ব্যক্তিরা ধর্মের নামে এ কু-প্রথা সমাজে চালু করেছে। প্রকৃত একেশ^রবাদী ইসলাম এসব অস্বীকার করে।

কুরআন এমন একটি ফরমুলা গ্রন্থ যেখানে গবেষনার উপাত্ত লুকিয়ে আছে চক্ষুষ্মানদের জন্য। সেই কুরআন’ নামের ফরমুলা গ্রন্থ থেকে দু’টি আয়াত এনে এই মহাপুরুষ সম্মন্ধে বক্তব্য আনছি। । কিছু তফসিরকারকেরা তাকে ওখানে খুঁজে পেয়েছেন, লক্ষ্য করুন আয়াত দু’টি। “আর স্মরণ করো ইসমাইল ও ইয়াসাআ ও যুল কিফলকে কারণ তারা সবাই ছিলেন সজ্জনদের অন্যতম। (সুরা স্বাদ ৪৮ আয়াত)। “আর ইসমাইল ও ইদরীস ও যুল কিফল – সবাই ছিলেন অধ্যবসায়ীদের মধ্যকার। আর তাদের আমরা প্রবেশ করিয়েছিলাম আমাদের করুণাভান্ডারে। নিঃসন্দেহ তারা ছিলেন সৎকর্মীদের অন্তর্ভূক্ত” (সুরা আম্বিয়া ৮৫/৮৬ আয়াত)। আম্বিয়া অর্থাৎ “নবীগণ” উভয় সুরাতেই জুল কিফল নামে এক সজ্জনের কথা উচ্চারিত হয়েছে। স্মরণ করার বিষয় হচ্ছে গৌতম বুদ্ধ কিন্তু কপিলাবস্তুর বাসিন্দা ছিলেন। তফসিরকারক  তাকে কপিলাবস্তুর বাসিন্দা বুদ্ধ বলেই গ্রহণ করেছেন।  (অনুবাদে আলহাজ ডাঃ জহুরুল হক)। এ ধর্মটি খৃষ্টধর্মেরও কয়েকশ বছর আগের ধর্ম। যৌবনে নবী ঈসা(আঃ)ও এ সাধকের সন্ধানে ভারতবর্ষ পর্যন্ত গিয়েছেন এর সন্ধান ইতিহাসে পাওয়া যায়। ইসলাম ধর্মের যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র পাওয়া যায় সেখানে দেখা যায় ইহুদী, খৃষ্টান, ইসলাম, বৌদ্ধ, এ চার ধর্মের সূত্র সন্ধান এক সূত্রে গাঁথা। শিখ ধর্মও ইসলামের সাথে একাত্বতায় অসংখ্য যুক্তিতে ভরা। আমি আমার “একই ধর্ম একই ধারা” গ্রন্থটিতে দেখিয়েছি কি ভাবে ধর্মগুলি ইসলামের সাথে একাত্বতা দেখিয়ে গেছে। কিন্তু কান্ডজ্ঞানহীন ধর্মধারীরা সারা জীবনই মুসলিম বিদ্বেষে আকন্ঠ ডুবে নরকের দিকেই ছুটে চলেছে যুগ যুগ অবধি। সূচী আজ মুসলিম নিধনকে কল্যাণের কাজ মনে করছেন কিন্তু তার গবেষনাহীন জীবন ধারাতে এ মহৎ চিন্তার কি কোনই সূযোগ নেই যে এরাই এ জাতি গোষ্ঠীই তাদের প্রকৃত মানুষের পথ দেখাতে সক্ষম। তারা আজ যে পশুর স্বরুপে উদ্ভট রুপ ধারণ করে জাহান্নামের নরকের ব্যবসা করছে, এর সুক্ষ্ম বিচার তাদের সামনেই কয় কদম এগুলেই অবশ্যই অপেক্ষা করছে একজন নিরপেক্ষ বিচারকের প্রকৃত আদালতে! রোহিঙ্গারা এ পৃথিবীর সন্তান, কোন মনুষ্য সন্তানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার অধিকার কারো নেই। এর দায় থেকে কেউ মুক্তি পাবে না, পেতে পারেন না। কুরআন থেকে আরো কয়টি আয়াত এনে লেখাটি এখানেই শেষ করবো। আল্লাহ সবার সুমতি দিন।

বস্তুতঃ ‘আদ-এর ক্ষেত্রে (৭ঃ৬৫) তারা তখন পৃথিবীতে যুক্তি ব্যতিরেকে অহঙ্কার করতো, আর বলতোঃ “আমাদের চেয়ে বলবিক্রমে বেশী শক্তিশালী কে আছে?” তারা কি তবে দেখতে পায় নি যে, আল্লাহ যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের চেয়ে বলবিক্রমে অধিক বলীয়ান? আর তারা আমাদের নির্দেশাবলী সম্বন্ধে বাদ-প্রতিবাদ করতো। সেজন্য আমরা তাদের উপরে পাঠিয়েছিলাম এক ভয়ঙ্কর ঝড়তুফান” (সুরা হামীম-সাজদাহএর১৫,১৬ আয়াত)। অনেক পরে হলেও অত্যাচারীদের ধ্বংস অনিবার্য। উদাহরণ হিসাবে কুরআন থেকে অতীত যুগের আ’দ জাতির উদাহরণ আনলাম। “বস্তুতঃ চোখ তো অন্ধ নয়, কিন্তু অন্ধ হচ্ছে হৃদয় যা রয়েছে বুকের ভেতরে” (সুরা হজ্বএর ৪৬ আয়াত)। “নিঃসন্দেহ ক্বারূণ ছিল মুসার স্বজাতির মধ্যেকার, কিন্তু সে তাদের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করলো। আর আমরা তাকে ধনভান্ডারের এতসব দিয়েছিলাম যে তার চাবিগুলো একদল বলবান লোকের বোঝা হয়ে যেত। দেখো! তার লোকেরা তাকে বললে; গর্ব করো না, নিঃসন্দেহ আল্লাহ দাম্ভিকদের ভালবাসেন না” (সুরা আল-ক্বাসাসএর ৭৬ আয়াত)। “দুনিয়াতে ফ্যাসাদ বাধাতে চেয়ো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ ফেসাদে লোকদের ভালবাসেন না” (সুরা আল-ক্বাসাসএর ৭৭ আয়াত)।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সাল।

নাজমা মোস্তফা

বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতা পরবর্তী চরম সংকট সময় পার করছে। গণতন্ত্রের নাম খাতায় থাকলেও শাসককুলের আচরণে অনুপস্থিত। গণতন্ত্রের মিথ্যাচারে চরম অবৈধ পথেই তাদের থাকা, বেঁচে থাকা, আর চলা। মিথ্যাচার হচ্ছে সব কুশাসকের শ্রেষ্ঠ ঢাল। মনে হয় কথায় কথায় শাসককুলের মুখে মিথ্যাচারী বুলি শুনতে শুনতে মানুষ বাস্তব সত্য ইতিহাস ভুলতে বসেছে। জাতির সচেতনরা মাঝে মাঝে শত মিথ্যাচারকে দূরে ঠেলে সত্যকে নেড়ে চেড়ে দেখান। বাংলাদেশের ইতিহাসে মোট তিনবার সামরিক আইন জারি হয়েছিল। প্রথমবার একজন রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক সেনাপ্রধান ছিলেন কে এম শফিউল্লাহ দ্বিতীয়বার একজন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আর সেনাপ্রধান ছিলেন ৩ নভেম্বরে অভ্যুত্থান করা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ। আর তৃতীয়বার হচ্ছেন স্বৈরশাসক লেজে হোমো এরশাদ। অনেককে অনেক সময় বলতে শোনা যায় এরশাদ তুলনামূলক সাধু,  জোড়া প্রতারকের একজন শক্ত সাগরেদ এরশাদ, চরম ধূর্ত ও আদর্শহীন নেতৃত্ব। দেশের সর্বনাশের জন্য তার অবদান কোন অংশে কম নয়। আমরণ তিনি শয়তানিতেই তালিয়া বাজিয়েছেন, এখনো বাজাচ্ছেন ভবিষ্যতেও বাজাবেন। এতে কোন ব্যত্যয় নেই, জাতি সাবধান! তার সময়ে তিনি নিজেই ছিলেন সেনাপ্রধান, জবরদখল করে ক্ষমতা হাতিয়ে নেন। গণতন্ত্রের নাম পাল্টিয়ে বর্তমান হাসিনা শাসক উন্নয়নের অপকৌশলে দেশটির মজ্জা বের করে দিয়েছেন বললে ভুল হবে না। বাংলাদেশের মানুষ বাকহারা, সবচেয়ে বেশী জীবনের নিরাপত্তাহীনতার শিকার। দৃশ্যত এরশাদ সবচেয়ে বড় স্বৈরশাসক আর শত অপকর্মের যোগানদাতা হাসিনা সরকার তার অনুসারী বড় সাগরেদ। তারা দুজনা মিলে দেশটির চরম অবক্ষয়ের ইতিহাস গড়তে কার্পণ্য করেন নাই। দুজনাই ভারতের শক্ত বন্ধু, বাংলাদেশের বৈরীতায় প্রশ্নবিদ্ধ তাদের দালালী কর্মকান্ড। শুরুতে ভারতীয় স্টাইলেই সরকার রোহিঙ্গাদের পুশবেক করা শুরু করেছিল।বলতে দ্বিধা নেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরুতে অবহেলা দেখালেও বাংলাদেশের শাসককুলের সাহস যুগিয়েছে তুরষ্ক সরকারের মানবতার আশ্রয়ের ডাক। দেরী না করেই তারা ছুটে এসেছেন সাহায্যার্থে, যদিও ভেংচি কেটে কিছু বেয়াড়া ধরা খাওয়া দালালরা নিজের অপকর্ম ঢাকার ব্যর্থ চেষ্ঠা করেছে।

রোহিঙ্গা একদল মানুষের নাম, আজ তাদের মানুষ বলে স্বীকার করছে না এককালের সাধক বুদ্ধের অনুসারীরা। একবিংশ শতকে এসে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। শান্তির উপর নোবেল বিজয়ের অসার বাস্তবতাকে টিটকারী মারছে ২০১৭এর বার্মা ও তার নেত্রী সূচী। সম্ভবত সাধক বুদ্ধের উপর কোন চর্চা নেই এদের, বাবা মা হারিয়ে ১১০০ রোহিঙ্গা শিশু এসে ভিড়েছে বাংলাদেশে। সূচী মায়ের জাত হলেও মানবতা ও মাতৃত্ব তার মাঝে আছে বলে কোন প্রমান তিনি দাঁড় করাতে পরেন নাই। এটি স্পষ্ট নোবেলের মুখে চুনকালি লেপে দিলেন তিনি। খোপাতে ফুল গোজা সূচী মানুষ নন, দৈত্য দানব, জিন, ভুত এরকম কিছু প্রমান করতেই কি তার এত তৎপরতা? একটি দেশের এক তৃতীয়াংশ ৩,৮০০০০ পলাতক এদের অপকর্মে। এরা আকারেই মানুষ কিন্তু আচরণে অশিক্ষিত বর্বর! ১৯৪৮এর আগের পৃথিবী তারা চেনে না, এর অস্তিত্ব তারা স্বীকার করছে না। পৃথিবীর মানুষদেরে জাগতে হবে এবং দুনিয়াতেই এ রকম অপকর্মীদের কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একজন অপরাধীকে একবার ফাঁসি দেয়া যায় কিন্তু এর উপযুক্ত বিচারে তাকে কয়বার ফাঁসি দিলে সুবিচার হবে সেটি সভ্য পৃথিবীর মানুষকে ভাবতে হবে। ২০০০ সালে টুইন টাওয়ার ধ্বসানো হয় খুব কৌশলে যাতে মুসলমানকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়। মাইকেল মূরের “ফারেনহাইট নাইন ইলেভেন” থেকে শুরু করে অসংখ্য গবেষনাতে, ম্যূভিতে আজ এটি অপেন সিক্রেট যে এটি ঘটানো হয়েছে একদল নির্দোষকে আসামী করতে। প্যালেস্টাইনের মুসলিম নিধন, কাশ্মীরের মুসলিম নিধন, ভারতের মুসলিম নিধন একের পর এক অদভুত খেলার শিরোনাম ‘মুসলিম নিধন করা’, কেউ বলছেন এদের পাঠিয়ে দাও মঙ্গলে। ভারত বাংলাদেশের বন্ধু এটি প্রমান করা খুব কষ্ট, প্রায় অসম্ভব। মোদিজি খুব মজাসে হাত মেলালেন সূচীর সাথে। বাংলাদেশের হিন্দু প্রভাবিত অনেকের ফেসবুক স্টেটাসে জানলাম তারাও বেজায় খুশী রোহিঙ্গা নিধনে। এরা তো মোদিরই জাত ভাই, তাই এটি তারা প্রমাণ করে দেখালেন। এসব ধর্মধারীদের উচিত ধর্ম নিয়ে ব্যবসা নয়, বরং মানবতার চাষ করলে তারা ইহ ও পরকালে উপকার জমা করতে পারতো। মানুষের জন্য বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গড়তে পারতো। 

প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে নিষ্ঠাবান মুসলিম ছাড়া গোটা বিশ^ মদ ও মাদকে আকন্ঠ থেকেছে আজীবন। এবার খুব কৌশলে ঐ হারাম খাদ্যকে মুসলিমদের জন্য ভোগ্যপন্য করা হচ্ছে। যাতে এরা আত্মায় ও অন্তরে ধ্বসে পড়ে। প্রতিটি জাতিতে গোষ্ঠীতে মুসলিমদেরে জাগতে হবে, নিজেদের আমলনামা নিয়ে, আদর্শ নিয়ে, মানবিকতা নিয়ে নৈতিকতা নিয়ে শক্ত হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ঠিক তখনই বিধাতার অপরিসীম সাহায্য সহযোগিতার দাবিদার হবে মুসলিমরা। ভারতের স্বার্থে আর মায়ানমারের স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবার ব্যবসার গোমর ফাঁক করে ঘরে ঘরে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যেখানে সমস্ত জাতি আজ ইয়াবার নেশাতে বুঁদ হয়ে আছে আর প্রতিটি ষড়যন্ত্রী সরকারের সাগরেদরা আঙ্গুল ফুলে কালাগাছ হতে চুটিয়ে ব্যবসা করছে। বাংলাদেশের সরকার ও তার চামুন্ডারা ব্যস্ত টাকা গড়ার কাজে,  এদের রশিতে খুব ঢিল করে রাখা, অবৈধ রোজগারই অসৎ পথে আসা সরকারের বড় ভরসা। কুপথে যারা হাটে এদের কোন ধর্ম থাকে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে ৩০ লাখ, যদিও বেসরকারী হিসাবে আরো বেশী বাংলাদেশীরা এসব মাদকে আসক্ত। সরকার ও তার সাগরেদরা নিজেদের সাজানো নাটকে জঙ্গিনামার প্রচার করছে ধার্মিকরা খারাপ, তারাই জঙ্গি। তার মানে যারা ইয়াবা সেবী ফেনসিডিল সেবী তারাই সোনার বরপুত্র। সরকারী নটবরদের টাকার গরম বেড়েই চলেছে। এরা আসামী হলেও কারাগার আটকায় না, কারণ রশিতে ঢিল দিয়ে রাখা। বরং দেখা যায় এরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রমোদভ্রমনে সাগর পারে ফুরফুরে হাওয়া খেয়ে বেড়ায় ইয়াবাখোর বদিরা। জাতির জন্য কি লজ্জার কথা এসব! 

সাম্প্রতিক হিসাবে গড়ে প্রতিদিন ২০ কোটি ব্যয় হলে মাসে খরচ হয় ৬০০, কোটি টাকার ইয়াবা (আমাদের সময়)। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মনের সুখে এসব গিলছে। অসৎ পথের অর্জনের হিসাব দুনিয়াতেই হয়ে যায়, যদিও অসচেতন মা বাবা গুরুজনরা সেটি চিন্তা করেন কম। মরার পরের বিচার অবশ্য বরাদ্দ আছেই, দুনিয়ার বিচারই কি কম হয়? পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে ঐশী বাংলাদেশের একটি মাইল ফলক এঁকে রেখেছে। মা বাবাকে খুন করে কতদূর অধঃপাতে সে যেতে পেরেছে। প্রতিটি ইয়াবাসেবীকে এক একজন ঐশী ভাবলে জাতির পরিণতি কি ভয়ঙ্কর পর্যায় পার করছে, সেটি বুঝতে বেশী সময় লাগে না। এ থেকে নিস্তারের সবচেয়ে সহজ সমাধান হচ্ছে নৈতিকতার চাষ করা। সূচীর মায়ানমারের চলমান পাশবিক রাস্তা মানুষের রাস্তা নয়। যুগে যুগে সূচীরা যেভাবে সমাজে নেতিবাচক ধ্বস নামাতে পেরেছেন অপরদিক সাধক বুদ্ধ, জগতের সাধু নামের এক একজন ব্যক্তির অর্জনেই জগতের চেহারা বদলে গেছে, ইতিবাচক অর্জনে জগত ধন্য হয়েছে শতাব্দী শতাব্দী অবদি।

বাংলাদেশ এসব ইয়াবা মাদক উৎপাদন করছে না। ভারত মিয়ানমারসহ আরো বহু দেশ এসব উৎপাদন করে, আর বর্ডার দিয়ে এসব আবর্জনা বাংলাদেশে ঢুকে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদী থেকে সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে ইয়াবা পাচারের সবচেয়ে বড় রমরমা ব্যবসা। দেশের ৩২ টি জেলা ও ১৩২টি উপজেলার সাথে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের বরাতে মিয়ানমারের আটটি সংগঠন সীমান্তে ৩৭টি  ইয়াবা কারখানায় মালিকানায় নাসাকা। তারা ১৩ ধরনের ইয়াবা মরণবড়ি তৈরী করে। ডিলার সাবডিলার সব রেডী করা আছে। ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পৌছে যায় প্রতিদিন মুখোশধারী ইয়াবা সিন্ডিকেটের মিয়ানমারের ১৭চোরাচালানি ডিলারদের কাছে। এরপর আছে সাবডিলাররা। ১৯৯০ সালে এসব ব্যবসার শুরু থাইল্যান্ডে। মায়ানমারের প্রশাসনের মদদে থাইল্যান্ড থেকে কাঁচামাল এনে সে দেশের অভ্যন্তরে কারখানা স্থাপন করা হয়। এখানে টেকনাফের দুটি ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চিহ্নিত ১৭ জন দিয়ে চলে ব্যবসা। দুটির একটি টেকনাফের স্থানীয় সংসদ সদস্যের পাঁচভাই, এপিএস, ভাগ্নে ও তালতো ভাইয়ের খবর গোয়েন্দাদের হাতে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। অন্যটির খবর এখনও ঢেকে রাখা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাদের তথ্য ফাঁস হয়েছে তারা হচ্ছেন আওয়ামী সংসদ সদস্য আব্দুর রহামন বদি, তার পাঁচভাই যথাক্রমে আবদুস শুক্কুর/আব্দুল আমিন/ মজিবুর রহমান/ শফিক/ ফয়সাল, শাহেদুর রহমান নিপু বদির ভাগনা, কামরুল হাসান রাসেল বদির ফুপাতো ভাই। এসব হচ্ছে বাংলাদেশের অবৈধ পথে আসা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বদিময় বদ খবর। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে এরকম একজন আসামীকে কারাগার থেকে কিভাবে বরণ করা হয় ২০০ তোরণ দিয়ে, সে সব ছবি জনতার ভুলার কথা নয়, ছবিতে দেখা যায় বেহায়া লোকটি হাসিমুখে গলাতে মালা নিয়ে ময়দানে এসেছে। দুদকের মামলায় মাত্র তিন মাসের কারাদন্ড হলেও মাত্র ১৮দিনে বের হয়ে আসে বদিরাজ। নয়ন বাবুর চিকন দৃষ্টিতে ধরা পড়া বদির আসল খবর হচ্ছে ঐ সময় বদি এসব ম্যানেজ করে অতি কম পরিশ্রমে, মাত্র ১১০০ কোটি টাকা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে বদির সমঝোতা হয়। যার স্বাভাবিক পরিণতিতেই খোলা পায়ে প্রধানমন্ত্রীর সাগর সঙ্গমে প্রমোদ ভ্রমনে বদিকেও তালিয়া বাজাতে দেখা যায়। ফেসবুকের বদৌলতে মিডিয়ার প্রচারে অনেকেই এসব দেখেছেন নিশ্চয়।

দেশে তো আছেন অনেক ভাড়, বিদেশেও কিছু ভাড় সাংবাদিকরা অনেক ভাড়ামির উদাহরণ রাখছেন তাদের লেখনীতে। প্রধানমন্ত্রী হাসিনাই একমাত্র নেতা যিনি রোহিঙ্গা সমাধানে কাজ করতে পারেন। তার রক্তেই নাকি সমাধান জোড়া। তাদের কর্নকুহরে এসব বদিনামা ঢোকে না। তাদের চোখে সব সময় নকল চশমা; দেখেন শুধু জামায়াত আর পাকি, জামায়াত নির্ভর রবীন্দ্রসঙ্গিত ভক্তদের কথা বলে জামায়াত পাকিকে ঘৃণা করলেও রবীন্দ্র প্রীতিকে স্পষ্ট করতে এরা ভুলেন না।  ২০১৪ সালে প্রথম আলোতে এক খবরে প্রকাশ ৬ বছরে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ করেছে ৭৭ গুণ। এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মুসলিম প্রধান একটি দেশে এসব কেন? কি কারণে বাবা মারা অভিভাবকেরা, কর্তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন? বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভ লুটের কথা মনেই নেই প্রধানমন্ত্রীর কিন্তু সিনহা সংকটের সমসাময়িক সময়ে জুড়ে দেন বিএনপির সম্পদের হিসাব নিয়ে তিনি সংসদে মুখর আর ছবিতে তার তালিয়াখোর বদিরা বত্রিশ দাঁত বের করে হেসে কুটিকুটি। সবকটাই লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে এক খোরে মাথা মোড়ানোর দল। সাগর চুরির সব খবর জাতি কমবেশী জানেই। তদন্ত হয়েছে কিন্তু চোররা এতই শক্তিমান যে তাদের নাম নাকি প্রকাশ করা যাবে না, আপত্তি আছে, তাদের অর্থমন্ত্রীই বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাক দিয়ে কত আর মাছ ঢাকবেন। বেহায়াপনার সীমা অতীতে তার দলের প্রয়াত সুরঞ্জিতবাবুরা দেখিয়ে গেছেন, তারা আর বাদ যাবেন কেন? সখ করেই মানুষের মুখে বারে বারেই কথা তুলে দিচ্ছেন। মানুষ তাদেরে ভালোই চিনে গেছে।

ট্রাম্পএর মত বাংলাদেশের হিন্দুরাও প্রকাশ্যে ফেসবুকে মুসলিম পছন্দ করছেন না, অনেকে চাইছেন ভারতের জন্য একটি এপ্রিল ফুল। ভারতকে কাছের মনে করেন। কলেজে পড়াকালীন একদিন আমাদের ইংরেজী শিক্ষক জিতেন স্যার কুরআনের বিরুদ্ধে কটি কড়া কথা বলেছিলেন যে, এর মাঝে ঘাপলা আছে। সদ্য স্বাধীন দেশে কথাটি শুনে খুশীতে দেখি হোষ্টেলে আমাদের সবকটি হিন্দু বান্ধবীরা একজোট হয়ে কানাঘুষা করছে আর আমরা গুটিকয় মুসলিম বান্ধবীরা মনমরা হয়ে সে আঘাতটিকে বুকে চেপে ধরে এ ওর মুখপানে তাকাচ্ছিলাম মাত্র। আশ্চর্য মনে হলেও এটি বাস্তবতা, মোদি সূচীর সমর্থণে বাংলাদেশের হিন্দুরাও প্রতিনিধি পাঠিয়েছে সেইসাথে ফেরত প্রতিনিধিকে ফুলের মালায় বরণও করেছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদেরে পড়তে দেয়া হয় না। মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়ার সব কাজে তাদের সরকারের হাত শক্ত, ভারতের ক্ষেত্রের সাথে এসব আচরণে তাদের মিল অনেক। রোহিঙ্গা ছেলেমেয়ে পড়তে পারে না। এনটিভির অনলাইন সাক্ষাৎকারে এসব স্পষ্ট হয়েছে উচ্চশিক্ষার প্রশ্নই আসে না। মুসলিমদের এভাবে শিকল পরানোর এসব অভিনব কৌশল মাত্র। ইরাক কোন হুমকি ছিল না বরং ভুল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা রিপোর্ট, ইরাক ধ্বংসের জন্য এ মিথ্যাটি তখন জরুরী ছিল। খারাপ হোক ভালো হোক তাদের শাসককে ফাঁসি দেয়ার জন্য এসব মিথ্যা যুক্তি তৈরী করা হয় এভাবে। সূচীও ঐ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন বলছেন ওরা মিথ্যা উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। মায়ানমারে এসব কিছুই হচ্ছে না। সূচীর কাছে রোহিঙ্গারা টেররিস্ট, মোদিও দৌড়ে গিয়ে একাত্বতা জানিয়েছেন। মোদির রাজ্যে গরুর চেয়ে অল্প দামে মুসলিমরা বিকায়। হিন্দুরাও মিয়ানমারে নির্যাতীত হচ্ছে এবার শুনি সেটি আর এক বড় চাল। এরা মিয়ানমারের পক্ষে বন্দনা সঙ্গিতে ষড়যন্ত্রী হয়ে একত্রে জড়িত। নিজেরাই মুসলিম বেশ ধরে আগুন দিচ্ছে আর সরকারী সহযোগিতায় প্রচার করছে এসব রোহিঙ্গাদের ষড়যন্ত্র। সব শিয়ালের এক রা। 

মোদির দেশে ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে স্কুলপাঠ্যে ভারতের একটি বড় অংশে সচল থাকা তিনশ বছরের মোগল ইতিহাসকে বাদ দেয়া হচ্ছে (৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। এর কারণ মোগলরা মুসলিম। শূণ্যস্থানকে পূরণ করা হচ্ছে মারাঠা দস্যু শিবাজীকে দিয়ে। মূর্তিহীন হিন্দু ধর্ম ক্রমে মূল সত্য থেকে সরে এসে আগাগোড়া মূর্তিনির্ভর মিথ্যা জগাখিচুড়ী আচারধর্মী কর্মকান্ডে জড়িয়ে যায়। খবরে প্রকাশ ভারতে হিন্দুত্ববাদকে নিয়ে কোন প্রশ্ন করলেই সাংবাদিকরা হত্যার শিকার হন (বিবিসি, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অসাম্প্রদায়িক বামপন্থী বুদ্ধিজীবি সাহিত্যিক গোলাম সামদানী কোরায়শী ময়মনসিংহে ব্যাপক ইসলাম প্রচার সম্পর্কে বলেন,  “এগার সিন্ধুর দুর্গের সম্মুখে মানসিংহের সঙ্গে ঈসা খাঁর ইতিহাসখ্যাত বিখ্যাত সেই যুদ্ধ ও সন্ধি স্থাপিত হয়। ভগ্ন তরবারীর প্রতি বীরোচিত সৌজন্যের যে পরিচয় ঈসা খাঁ রেখে গেছেন তা ময়মনসিংহবাসীর সম্মুখে এক অত্যুজ্জল আদর্শ হিসাবে বিরাজ করছে। — হত্যার বৈধ সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও বাঙ্গালী বীর হত্যা করেন নি, তাই বিশ্বের বীরশ্রেষ্ঠদের অন্যতম তিনি। মোগল সেনাপতি আফজাল খাঁর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধের সাহস না থাকায় কাপুরুষ শিবাজী আপস আলোচনার নাম করে তাঁবুতে ডেকে এনে নিরস্ত্র আসহায় অবস্থায় আতর্কিত আক্রমণ করে আফজাল খাঁকে হত্যা করেছিলেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “সোনার বাংলা” রচয়িতা বাঙ্গালী বীর ঈসা খাঁকে ফেলে মারাঠা দস্যু শিবাজীকে নিয়ে কবিতা লিখলেন এবং প্রমাণ করলেন বিশ্বকবি হলেও মূলত তিনি হিন্দুদেরই কবি” (ময়মনসিংহের সাহিত্য ও সংস্কৃতি: গোলাম সাদমানী কোরায়শী : জেলা বোর্ড ময়মনসিংহ ১৯৭৮, পৃষ্ঠা ৯)। ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতির স্ত্রী সালমা আনসারীর মাদ্রাসার পানির ট্যাঙ্কে বিষ প্রয়োগ করার সময় এক ছাত্রের চোখে পড়ে যাওয়াতে বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। মানুষ কতদূর ভয়ংকর হলে এসব করতে পারে, এটি তার নমুনা মাত্র (উৎস: পরিবর্তন সেপ্টেম্বর ১৮,২০১৭,)। গরু পূজকের দেশে মানুষের এই মর্যাদা। মিয়ানমারের সেনা প্রধান রোহিঙ্গা নিধনে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে চলেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্টে প্রকাশ বিজেপি নেত্রী বেনজির আরফান রোহিঙ্গাদের জন্য দোয়া কামনায় তাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আগামী তিনদিনের মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর জন্য দল থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশী জেলেরা বলছে, বিদেশী ট্রলারের দৌরাত্ম্যে দেখে মনে হয় ইলিশের মালিক ভারত ও মিয়ানমার। তারা একসাথে ৩০/৪০ টি ট্রলার নিয়ে সীমানা লংঘন করে বাংলাদেশ জলসীমায় ঢুকে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। অত্যাধুনিক যন্ত্র দ্বারা সাগরের তলদেশের মাছ দেখে জাল ফেলে নিয়ে যায় তারা। ধরা পড়লেও দ্রুত পালাবার সব রাস্তা তারা রপ্ত করেই কাজ সমাধা করে (আগষ্ট ১৫, ২০১৭)। পশ্চিমবঙ্গে মৌরলার চেয়ে কম দামে মিলছে অঢেল ইলিশ কলকাতা প্রতিনিধি (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭)।  ২৫ আগষ্টের পর থেকে কয়েকবার ড্রোন বাংলাদেশের আকাশসীমা লংঘন করে, এবার ১০,১২, ও ১৪ সেপ্টেম্বর আবারও আকাশসীমা লংঘন করাতে আবারও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। মোদির হিন্দুত্ববাদের সাথে সাম্প্রতিক বৌদ্ধ মায়ানমারের আদর্শ একদম একাত্ম হয়ে মিলে গেছে।

মিয়ানমারের বৌদ্ধরা সাধক বৌদ্ধের কবর রচনা করে দিয়েছে। কি পরিমান যে ভয়ংকর তারা হয়েছে মনে হচ্ছে তারা পশুকেও হার মানাবে। ওদের নির্যাতনের ভয়ংকর কতকথা আমি তেমন নাড়ছি না। সর্বত্র এর প্রমান জীবন্ত হয়ে আছে। আশি^ন ভিরাথু (ওয়ারাথু) নামে এক ভিক্ষু “নাইন সিক্স নাইন” নামে একটি আন্দোলন শুরু করেছেন, রাষ্ট্রীয় ইন্ধনে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতার নজির তৈরী করে চলেছে। বৃটিশ পরবর্তী বার্মাতে আগাম চ্যালেঞ্জের আশংকাতে রোহিঙ্গাদের একদল জিন্নাহর সাথে পূর্ব পাকিস্তানের সাথে নিয়ে নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু তখনকার শাসক সূচীর বাবা অং সান জিন্নাহকে সমতার কথা বলে ও পথে আগাতে বাধা দেন। কিন্তু পরের ইতিহাস বলে তারা তাদের কথা থেকে ক্রমে সরে আসে। মুসলিমরা একেশ^রবাদী অনুসারী সব সময় এক আল্লাহকে স্মরণ করে সব কাজে আগানো তাদের নীতি। অনেকে “বিসমিল্লাহ” এর অর্থ ‘আল্লাহর নামে শুরু করলাম’ না বলে এ সংখ্যাটি ব্যবহার করেন। সে হিসাবে অনেকে দেখা যায় সেভেন এইট সিক্স অর্থাৎ ৭৮৬ এ সংখ্যাটি বিসমিল্লাহর পরিবর্তে ব্যবহার করেন। কেন ব্যবহার করেন তার কোন উপযুক্ত ব্যাখ্যা নেই। এসব কোন ধর্মের নির্দেশও নয়। কুরআনের আয়াতকে এভাবে সংক্ষেপ করার কোন বিধানও কারো জানা নেই। কুরআন হাদিসেও এর উপর কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নি। এসব কালের অবগাহনে বেড়ে উঠা মনগড়া আচার বলা যেতে পারে। আশি^ন ওয়ারাথু ঐ ৭৮৬ সংখ্যার বিপক্ষে তার “নাইন সিক্স নাইন” যুদ্ধ চালু করেছেন। তিনি মনে করছেন এ দিয়ে তিনি মুসলিম নিধন চালু করে অভিনব কৃত্তিমান অবদান রাখছেন।

এক রাখাইন বালকের বাণী “আমি রাখাইনে সুখী ছিলাম না, আমাদের কোন স্বাধীনতা ছিল না, আমার দোকান থেকে অন্য কোথাও আমি পণ্য সরবরাহ করতে পারতাম না। নিষেধাজ্ঞার মাঝে জীবন কঠিন ছিল, সেনাবাহিনী গ্রামে ঢুকে গুলি করে হত্যা শুরু করে। বিক্ষুব্ধ এক প্রতিবেশী ছুরি হাতে প্রতিবাদী হয়ে আমার সামনে গুলি খেয়ে মরে। অনেক বছর ধরে এসব মারধর চলছে। বাঁচতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি। শুধু একটি লুঙ্গি নিয়ে গ্রাম ছেড়েছি। যারা ওখানে রয়েছে তাদের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে আছি।” স্যাটেলাইটের ছবি থেকে নিউইয়র্ক ভিত্তিক হিউম্যান রাইটসওয়াচ বলছে রোহিঙ্গাদের ২১৪টি গ্রাম ধ্বংস করা হয়েছে, এবং এ ধ্বংসের ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। তারা যাতে বাড়ীতে না ফিরতে পারে তার সব ব্যবস্থা করছে সৈন্যরা। স্থানে স্থানে মাইন পুতে রাখছে, রোহিঙ্গারা এসব মাইনে পড়েও মরছে সমানেই। আর ঠিক এরকম সময়ে সূচী বলে চলেছেন তার জানা নেই কেন রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়ছে।  কয়টি ছবির ভুল ব্যাখ্যা পেয়ে কিছু দেশ বিরোধী দালাল জনেরা মিয়ানমারের হয়ে গানা গাইতে তৎপর, এটি দুঃখজনক। বাংলাদেশের বর্ডারে চলছে বর্মি নারী শিশু পুরুষের মৃত্যুর মহোৎসব আর দেশটির ভিতরে চলছে সরকারী তান্ডবে গুম হত্যার মহোৎসব।

বাংলাদেশে টিআইবি রিপোর্টে বলা হচ্ছে দুর্নীতিবাজদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে। দুই বছরে বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড ৩৮৭টি (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। ভিতরের মানুষরা বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে কোথায় আছে বা কোথায় মিলাচ্ছে কেউ বলতে পারে না। সম্প্রতি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানও গায়েব বেশ দিন থেকে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনার জাইদ রা’দ আল হুসেইন রোহিঙ্গাদের এ নিপীড়নকে জাতিগত নির্মূলের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ বলে অভিহিত করেছেন। দশকের পর দশক থেকে এ নির্যাতন চালানো হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের সময়ও এ ইস্যু নিয়ে তৎপরতা শুরু হলে তখন এর জবাবে শক্ত অবস্থান নেয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। খালেদা জিয়ার সময়ও এ ইস্যুকে অতীতে উসকে দেয়া হয়, তবে বেশী আগানো যায় নি। এখন অবৈধ পথে আসা সরকার নিজেই নড়বড়ে, তার শক্ত অবস্থান সব সময়ই প্রশ্নবিদ্ধ! ১৯৭৭ সাল থেকে ৭৮ সালের মধ্যে এক অতিভৌতিকতা মায়ানমার সরকারের মাঝে জন্মলাভ করে ক্রমে এ সহিংসতার বিকাশ ঘটে। ৮২ সালে তাদের দেশের রাখাইন সম্প্রদায়ের সব নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। ৯৪ সাল থেকে নবজাতকরাও আর স্বীকৃত হয় না। ২০১৪এর আদমশুমারী থেকে রোহিঙ্গদের বাদ রাখা হয়। মানবাধিকারকর্মী ও বার্মিজ রোহিঙ্গা অরগেনাইজেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট তুন খিন জানান, তারা তাদের নিজ দেশে শান্তিতে বসবাস করতে চায়। অন্য দেশে থাকার ইচ্ছ তাদের নেই, তবে জান বাঁচাতে আজ তারা পরবাসী (রয়টার্স অবলম্বনে)।

বাংলাদেশের প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের কর্মকান্ড চরম দুর্যোগেও চরম প্রশ্নবিদ্ধ। ইংলান্ডে, ইন্দোনেশিয়া, তুরষ্কসহ সব দেশ থেকে ত্রাণ সামগ্রি পাঠানো হচ্ছে, ইত্যবসরে এক গোষ্ঠী তাদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বানাতে তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশের ভিতরে যে কাজটি বেশ দিন থেকে সরকার সদলবলে করছে সেটি কৌশলে রোহিঙ্গাময় ছড়িয়ে দেয়াও হয়তো সহজ হবে। কিন্তু জনগণ তৎপর থাকলে কোন ষড়যন্ত্রই টিকবে না। সরকারের আচরণে নিজ জনগণের জন্য মানবতাবোধের পরিচয় নেই বলেই বারে বারে প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে রোহিঙ্গা প্রশ্নে সরকার কতটুকু মানবিক হবে সেটিতেও সরকার কেন যেন ধরা পড়ে যাচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে ২২ ট্রাক ত্রাণ নেয়া হলে সেটি সরকার কবজা করে নেয়, এর চেয়ে হীনমণ্য কাজ আর কি হতে পারে? সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় এসব তাদের গামলায় ঢালতে হবে। এরা পারে না এমন কোন কাজ নেই। এসব অপকর্ম করেই তারা ইতিহাসে শক্ত দাগ রাখছে। মৃতবৎ গণতন্ত্রের মাঝে এর বেশী আশা করাই বৃথা। লুটপাটের বাইরে এ সরকার বুঝে না কিছুই। সম্প্রতি মাহমুদুর রহমানের এক বক্তব্যে এটি স্পষ্ট করেই বলা হয়, তিন দেশেই হত্যাকারীরা ক্ষমতার দন্ড ধরে দাঁড়িয়ে আছে। এরা যথাক্রমে ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তিনজনের হাতেই টকটকে রক্তের দাগ জমাট বেধে আছে। সত্যকে খুন করে এরা দন্ড ধরে আছে। আচরণে এক হওয়াতে তিনজনাই কিন্তু কমবেশী এক পথে হাটে। এর সন্ধানে যুক্তি সবার চোখেই পড়বে। সবার উদ্যেশ্য এক, পৃথিবীর মানুষকে ইসলাম বিরোধী মুসলিম বিরোধী করা। ভারতে বেশ বড় সময় থেকে চালানো হচ্ছে মিথ্যাচার যে মোগল আমলে বৌদ্ধদের উপর অন্যায় অত্যাচার চালানো হয়, যার সবটাই মিথ্যাচার। যারা সঠিক ইতিহাসের উপর গবেষণা করেছেন তাদেরে তারা চেপে রেখেছে যুগ যুগ অবধি। মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে বৌদ্ধদেরেও উস্কানী দেয়া হয়েছে। ভারতের এরকম প্রচারযন্ত্রের কর্মকান্ড বার্মাতেও সক্রিয় আছে। ৭৭, ৯১ ও ২০১২ তে তাদের রোহিঙ্গা বিতাড়ন অপকর্ম সাক্ষী হয়ে আছে। মিয়ানমারের  উগ্র নেতাকে “বুদ্ধিষ্ট টেররিষ্ট” আখ্যা দিয়ে কলাম বের করেছে টাইম ম্যাগাজিন ২০১৩ সালে।

এদিকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে সরকার যা করছে মুসলিম নিধনে ও ইসলাম ধ্বংসে মনে হচ্ছে বড় সোল এজেন্ট হয়েই কাজ করছে। মুসলিম নিধনের এ কৌশল ছড়িয়ে দেয়ার পিছনে অনেকেই সক্রিয়। শ্রীলংকাতেও এর তৎপরতা বাড়ানোর কসরত চলছে। আর এর যোগসাজসে রাখঢাক না রেখেই স্বয়ং মোদিজি তার কর্মকান্ড নিয়ে ময়দানে হাজির, এতে আর বিভ্রান্ত হবার কিছু নেই। যতই ভনিতা করেন মূল সত্য এখানেই প্রকাশিত হয়ে আছে। দেখা যায় অসহায় মুসলিম নিধনে তারা কাছের দূরের সবাই এক। ইনসান আর শয়তান সব সময়ই দুটি পক্ষ। এটি নিশ্চয় সবার জানা হয়ে গেছে যে এদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরমর্শ দিচ্ছে ইসরাইল। ফিলিস্তিন কাশ্মীর সব খানেই শত্রুপক্ষ একটি জায়গায় এসে আটকে যায়। সরকার এতই বিতর্কীত যে রোহিঙ্গাদের ত্রাণও তাদের দিতে হচ্ছে বিএনপির ত্রাণ লুট করে। বাংলাদেশেই তার সাগরেদদের অতি অসৎ কর্মকান্ডে, ভারতের পানিতে আসা বন্যার খেসারতে দুর্ভিক্ষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এত সংকটেও চাল নিয়ে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের সাথে বন্ধুত্বের চাল চালছে। একদিকে তারা বর্ডারে হুমকি দিচ্ছে আর দুর্বল পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দেশ বন্দুত্বের সুরে মেরুদন্ডহীন চালবাজি তেল মারছে। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হয়, তারা যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে আর বিনিময়ে বাংলাদেশ তাদের পিঠে তেল মালিশ করবে এ কেমন কুটনীতি? এখানে কুটনীতিও নেই সততাও নেই, নীতি নৈতিকতাও নেই। এ বছরের মে মাসে বাংলাদেশকে সৌদি সরকার রমজানে ৫০ টন খেজুর উপহার দেয়। এতে অনেকেই বলছেন খেজুর তো দূরে থাকুক আমরা নামগন্ধও পাই নাই। সবই নিশ্চয়ই সাবাড় করে দিয়েছে সরকারী কোষাগারের গামলার মালিকেরা। এই খেজুরের হিসাব নিয়েই সরকারের প্রতিটি সদস্য শেষ ময়দানে ছ্যারাবেরা অবস্থাতে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই গেল। সেতু মন্ত্রী বলেন, ১২ লক্ষকে হাসিনা নাকি ত্রাণ দিয়ে আসলেন। জনতারা প্রশ্ন রাখছে ৩ লক্ষের পরের বাকী ৯ লক্ষ ত্রাণও কি তারা সরকারী কোষাগার থেকে লুট করে নিল এই সুযোগে? প্রধানমন্ত্রী বলেন তিনি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়ান। ত্রাণের টাকা গিলেও তোফায়েল আহমদ বলছেন, খালেদা জিয়া মানবিক হলে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতেন।  বিচার বিবেচনা আপনাদের জনতার কাছে রইলো। এরা নাকি দেশ চালাচ্ছে, লাগামহীন এক দঙ্গল লুটেরার হাতে দেশ বেসামাল।

২৫ আগষ্ট থেকে রোহিঙ্গা নিধন খেলা শুরু করে খুব দ্রুততার সাথে ২৭, ২৮ ও সেপ্টেম্বরের ১, ১০, ১১,১৫ তারিখে কয়েক দফা বাংলাদেশের আকাশ সীমা লংঘন করে মিয়ানমার, কিন্তু জবাবে দুর্বল পররাষ্ট নীতির কারণে বাংলাদেশ নিকৃষ্ট মানের পররাষ্টনীতির আচরণ করছে। তার মানে বলছি না যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে, তবে আত্মসম্মান বজায় রাখার মত আচরণ আশা করে দেশবাসী। উদাহরণ হিসাবে ২০১৪ সালে বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান নিহত হন মিয়ানমারের বর্ডার গার্ডের গুলিতে। এরপরই একজন জেলে তাদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। সবারই মনে থাকার কথা, তাদের ট্রলার দিয়ে বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে জোর করে তুলে নেয়। ভুলে যাবার কথা নয়, ফেসবুকে, অনলাইনে বন্দী অবস্থার ঐ অপমানের ছবি জাতি দেখেছে। ২০১৩ তে নাফ নদী থেকে ২১ জেলেকে তারা ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনী, এর পর মুক্তিপণও দাবী করে। ২০১৩ সালের মার্চে ৩ পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমার। যদিও ২০০০ সালে নাফ যুদ্ধে বাংলাদেশ বাহিনী জয়লাভ করে মাত্র আড়াই হাজার সেনা দিয়ে। যেখানে মায়ানমারের সৈন্য ছিল প্রায় ২০-৩০ হাজার, তারা নিহত হয় ৬০০, জয় লাভ করে বাংলাদেশ, বার্মার প্রেসিডেন্ট ক্ষমা চেয়ে রণে ভঙ্গ দেন (সূত্র নয়নচ্যাটার্জিডটকম)। তবে বর্তমানে অবৈধ হয়ে টিকে থাকা সরকার সেদিন করেছে ভাসি, তার সার্বিক দুর্বল চিত্ত আচরণে সে রণতেজ তার নেই।

এবার একজন ওজনদার মানুষের কথা আমরা কিছু শুনি। যার ছত্রচ্ছায়ায় ২০০১এ ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল সেদিনও বিজয় জমেছিল বাংলাদেশের ভাগে। যদিও জাতির করুণ কষ্ট লেপ্টে গেছে দুষ্ট চক্রের মিলিত প্রচেষ্ঠাতে জাতির কলিজাতে বিডিআর বিদ্রোহ নামে ২০০৯ সালে; ওটি ছিল বিডিআর ধ্বংসের নামে জাতি ধ্বংসের নষ্ট মরণ খেলা। আজকের সংকটেও ঐ রিটায়ার্ড মেজর জেনারেল কিছু বুদ্ধি বাতলে দিয়েছেন, দুর্জন কি সুজনের বুদ্ধি নিবে? তারপরও দেশ ও বিশ^বাসীর কাছে এটি তুলে ধরতেই তার বক্তব্যটি খুব সংক্ষেপে আনছি। তার নাম (অবঃ) আ.ল.ম ফজলুর রহমান (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। পাকিস্তানের পশ্চিম পাশে আফগানিস্তানকে নিয়ে যে ধ্বংস যজ্ঞ চালু হয়েছিল, এখানেও এরকম কিছু হতে কতক্ষণ? একইভাবে বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে রোহিঙ্গা মিয়ানমার। ভারত ও চীনের টানাপোড়ান চলছে। মিয়ানমার সামরিক শাসকেরা সূচীকে অকার্যকর করতেই রোহিঙ্গাকে দাবার গুটির মতই ব্যবহার করছে। রোহিঙ্গা ঠেলাঠেলিতে সেনাবাহিনী বেশ প্রসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে মায়ানমারের কাছে। আর সে দেশের সেনাবাহিনী চায় রোহিঙ্গা সমস্যার জঙ্গিকরণ হোক। (শোনা যাচ্ছে ভারতীয় তৎপরতায় বাংলাদেশের ভারত নির্ভর মিডিয়া শুরু করে দিয়েছে রোহিঙ্গা নিয়ে জঙ্গিগীতি )। হয়তো বলা যায় না, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগেনাইজেশনকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীও পৃষ্টপোষকতায় বিদেশী কোন শক্তির মদদে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে তারা দেশের ভিতরে সীমিত আকারে সেনাবাহিনী ও সীমান্ত পুলিশের উপর আক্রমণ করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের জঙ্গিকরণ করতে পারে।  এতে একটি মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশকে টেনে এনে আর একটি আফগানিস্তানের সৃষ্টি করে ভারতীয় কৌশলগত লাভ জমা করার কসরত হতে পারে। তখন ঐ অস্থিতিশীল মিয়ানমার চীনের জন্য আর এক আফগানিস্তান হয়ে আভির্ভূত হবে। রোহিঙ্গা সমস্যাতে বাংলাদেশকে জড়াতে পারলে এর অবস্থান হবে আফগানিস্তানের পাশের পাকিস্তানের মত। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের গান ইত্যবসরে সরকার শুরু করে দিয়েছে তার বেঁচে থাকার ঢাল হিসাবে এর ব্যবহার করছে তার ইচ্ছামত, এবার শুরু হবে পুরোদমে বহুগুণ তেজে। বাংলাদেশ তার অনেক অঙ্কেই গোজামিলের সম্মুক্ষীণ হবে। এমতাবস্তায় সমাধান হিসাবে তিনি বলছেন, (১) যত শীঘ্র সম্ভব বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মাঝে একটি কার্যকরী ব্যবস্থাতে গিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌছাতে হবে যে আরাকানে যাতে কোনভাবেই জঙ্গীবাদের উত্থান না ঘটে, এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। (২) এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে মিয়ানমারের সাথে একটি চুক্তিতে উপনিত হওয়া দরকার। (৩) এরা লক্ষ লক্ষ জনতারা যাতে তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মিয়ানমারের নাগরিক হিসাবে জীবন ধারণ করতে পারে, এ ব্যাপারে মিয়ানমারের সরকারের সাথে কার্যকরী ব্যবস্থা করা বাংলাদেশের জন্য জরুরী। (৪) যত শীঘ্র সম্ভব শান্তিই সমাধান, যুদ্ধ কখনোই কোন সমাধান নয়। মিয়ানমার চাইছে বাংলাদেশ যুদ্ধে জড়াক। কারণ এটি করতে পারলে বাকী রোহিঙ্গাদেরেও বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া সহজ হবে। বাংলাদেশকে দুর্বল করতে পারলে তারা আর রোহিঙ্গা নিয়ে কোন ইতিবাচক কাজ করতে পারবে না। ইতিমধ্যে চীন রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ রিজ্যুলেশনে ভেটো দিয়েছে, মনে হচ্ছে এটি করেছে চীন এ জন্য যে তারা আমেরিকা ও ভারতকে মিয়ানমার ইস্যু থেকে বিরত রাখতে চায়। বাংলাদেশকে মনে রাখতে হবে তার সাথে চীনের ২৪ বিলিয়নের বিনিয়োগ আছে। এ হিসাবে চীনের সাথে তৎপরতা বাড়ানো জরুরী। যদি চীন এর সমাধানে কোন ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গা মুসলিমদেরে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়াও দরকার। প্রয়োজনে এদের সামরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, সামরিক সহায়তা দিয়ে রাখাইন প্রদেশ স্বাধীন করতে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশ একটি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। চীনমুখী কুটনীতিই একমাত্র উপযুক্ত সমাধান বলেই মনে হচ্ছে। তবে এটিও ঠিক প্রয়োজনে সমর প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। সে সামর্থ ও সাহস মাথায় রাখতে হবে। যাতে মিয়ানমার সংযত অচরণ করতে বাধ্য থাকে। (লেখক, সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ রাইফেলস বিডিআর (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি)। চাল দিয়ে চালেসমাতির বদলে নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে সম্মানজনক রাস্তার বাস্তব ভিত্তিক কুটনৈতিক তৎপরতা বহাল রাখতে হবে।

এ সমস্যার সমাধান না করলে অচিরেই মায়ানমারকে ইরাক ও আফগানিস্তানের ভাগ্য বরণ করতে হবে বলে মনে করেন তুরষ্কের রাজনীতিবিদ হাসান বিতমেজ (১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিএনএন)। তিনি বলেন রোহিঙ্গা সমস্যায় মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মদদ থাকতে পারে এবং মায়ানমার এর সমাধান না করলে ফের ২০০০ এর পুনরাবির্ভাব হবার আশংকা থেকে যাবে। নিজ দেশের সমস্যার সমাধানে মায়ানমারের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। আন্তর্জাতিক শক্তি সম্পদ ও অর্থনৈতিক করিডোর হওয়ার কারণে এখানে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র সবার হস্তক্ষেপ ও স্বার্থসিদ্ধির অঞ্চল হয়ে উঠেছে। ২০০৪ সালে রাখাইনে বিশাল শক্তি সম্পদ উন্মোচিত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই বেইজিং মায়ানমার থেকে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ করে নেয় যার বদৌলতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে ও আফ্রিকাতে তেল সরবরাহ করে। ভারতের সঙ্গেও তাদের বিনিয়োগ সীমান্ত ইস্যু ও অর্থনৈতিক চুক্তি রয়েছে। ২০০০ সালে ইরাকের যে করুণ পরিণতি হয় সেটি সবার সামনেই উদাহরণ হয়ে আছে। এটি ভুলে যাওয়া কারো উচিত নয়। সহজ কথায় বলা যায় এদের ব্যক্তি স্বার্থের কাছে বারে বারেই মুসলিমদের জিম্মী করা হয়েছে। হাসান বিতমেজ আশা প্রকাশ করেন, ২৫ আগষ্ট থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে শুরু হওয়া নতুন জাতিগত নিধনের বিষয়ে মায়ানমার আলোচনা ও কুটনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও তুরষ্কের নেতৃত্বে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতায় এর সমাধান সম্ভব। তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তায়েফ এরদোগান মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে এর স্বপক্ষে ইতিবাচক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

সচেতন পর্যবেক্ষকরা বলছেন কাঁচা টাকার লোভে রোহিঙ্গাদের প্রতি সরকারী দরদ। খবরে প্রকাশ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশীদের হিসাবে এক হাজার কোটি টাকার বেশী অর্থ জমা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। বেশ কিছু কার্যকারণও তার স্বপক্ষে যুক্তি বিলি করছে। রোহিঙ্গা বিলি বন্টনে, এখানেও ইয়াবা এমপি বদিরাজ হাজির, টাকার গন্ধে এমন দুর্যোগেও তাদের মন ভরপুর। চারদিকে শোনা যাচ্ছে রিলিফ চুরি, শরণার্থিদের স্বর্ণালংকার, গরুছাগল, শূণ্য হাতে আসার পরও যা কিছু পাচ্ছে সম্পদ লুটপাটে হাত বাড়াচ্ছে যুবতীদের ইজ্জত একটি বাড়তি পাওনা, এসব জমছে সরকারী অবৈধ সরকারী পাষন্ডদের তান্ডবের অংশ হয়ে। মিডিয়াতে সরকারী কান্নার ছবিতে আবেগ প্রবণ প্রচারও আছে, কোনটারই কমতি নেই। রিলিফ বিতরণে সেনাবাহিনীকে দেয়ার আবেদন উঠেছে কিন্তু এখনো সরকারের ঐ দিকে মন নেই। স্বার্থপর এ সরকারের চোখ থাকে সব সময় তার নিজের পকেটের দিকে। নিজেরটা সংরক্ষনই বড় কথা, যেখানে রিজার্ভ চুরি কোন বিষয়ই নয় তাদের কাছে, সেই তারা রোহিঙ্গার প্রতি দায়িত্বশীল হবার যুক্তি কতটুকু মর্যাদা পাবে সেটিই বড় প্রশ্ন? দেশে দুর্ভিক্ষের মর্মর ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। প্রতিটি মেগা সাইজ লুটপাটের পরই এমন ভয়ংকর বিপদ নেমে আসে জাতিতে গোষ্ঠীতে, অতীতে ৭৪ এর ভয়াল দুর্ভিক্ষ নামের উদাহরণীয় বিপদ সংকেত জমা আছেই।

একটি সত্যকে স্পষ্ট করে তুলেছেন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। জাতিসংঘ অকার্যকর করে রেখেছে তার নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘ একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে মানুষ আশায় বুক বেধে ফরিয়াদ জানাবার জায়গা মনে করে। যদিও এর কিছু নেতিবাচক অর্জন থাকার কারণে এর কার্যকারীতা কম, জাতিসংঘ সঠিক কাজটি সঠিক সময়ে করতে পারে না। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ হচ্ছে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র, এরা ভেটো দিয়ে যে কোন কাজকে স্তব্ধ করে দেয়, যার জন্য জাতিসংঘ ইতিবাচক কাজ তেমন কিছুই করতে পারে না। এরদোয়ান এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসাবে সিরিয়া যুদ্ধের উদাহরণ তুলে ধরেন। এ যুদ্ধ হাজার হাজার মানুষের প্রাণ হরণ করেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘরছাড়া করেছে, তারপরও রাশিয়ার সহযোগিতায় সিরিয়ার দানব ধরা খায় না। এসব গোজামেল থেকে দুনিয়াকে বাঁচাতে হলে এসব মানুষের তৈরী নকল ভেজালকে প্রকৃত মানবিক, সত্য সুন্দরের আলোকে গড়ে তুলা ছাড়া বিকল্প আর কিছু নেই। শক্তির দন্ড হাতে যারা মিথ্যাচারে রত তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা উচিত। দুনিয়াতে এসব অনাচারকে জিইয়ে রাখার বড় মোজেজাই এসব। 

সব কথার সার কথা হচ্ছে ঈমানদার হওয়া ও পৃথিবীর অদেখা মালিককে ভয় করা। সে সব খুটিনাটি ফাইলবদ্ধ করছে, ঐ খাতায় উঠানো নাম মিটিয়ে দেয়ার কোন রাবার, ইরেজার আবিষ্কার হয়নি যা দিয়ে ওটি মুছা যাবে। আপনি বিধাতাকে দেখেন না, তার মানে এটি নয় যে বিধাতা আপনাকে দেখছে না। আপনার চুলচেরা বিশ্লেষন পর্যবেক্ষণ সব লিপিবদ্ধ হচ্ছে বিধাতার কম্পিউটারে। সবার স্মরণ রাখলে ভালো হয়, অন্তত মুসলিমদের এটি স্মরণ রেখে চলা সব সময়ের দাবী। কয়টি আয়াত দিয়েই লেখাটি শেষ করবো। “স্মরণ রেখো, দুইজন গ্রহণকারী গ্রহণ করে চলেছেন ডাইনে ও বাঁয়ে” (সুরা ক্বাফএর ১৭ আয়াত)। “সে কোন কথাই উচ্চারণ করে না যার জন্য তার নিকটেই এক তৎপর প্রখর প্রহরী নেই” (সুরা ক্বাফএর ১৮ আয়াত)। “তিনি জানেন চোখগুলোর চুপিসারে চাওয়া আর যা বুকগুলো লুকিয়ে রাখে” (সুরা আল-মুমিনএর ১৯ আয়াত)। “ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহর জন্য দৃঢ় প্রতিষ্ঠাতা হও, ন্যায় বিচারে সাক্ষ্যদাতা হও, আর কোনো লোকদলের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেনো ন্যায়াচরণ করতে বাধা না দেয়, প্ররোচিত না করে। ন্যায়াচরণ করো, এটিই হচ্ছে ধর্মভীরূতার নিকটতর। আর আল্লাহকে ভয়শ্রদ্ধা করো। নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছো, আল্লাহ তার পূর্ণ-ওয়াকিবহাল”(সুরা আল-মাইদাহ ৮ আয়াত)।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সাল।

এখানে মোট ১০০ + + + লেখার লিংক দেয়া হলো। যে লেখাগুলি রাজনৈতিক পটে লেখা হয়েছে। বাংলাদেশ বড় সংকট সময় পার করছে। বাস্তব ঘটনার আলোকে এগুলি লিখা হয়েছে ময়দানের দাগ চিহ্ন দেখে। স্বাধীনতা পরবর্তী জাতি এত বিপর্যস্ত অবস্থান মোকাবেলা করে নি যা বর্তমানে একটি বড় সময় থেকে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। লেখাগুলি বাংলাদেশীদের জীবনের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। লেখাগুলি প্রতিটি সচেতন বাংলাদেশীর পড়া অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়াও কিছু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাস্তব নির্যাতনের কিছু চিত্রও এখানে এসেছে। শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসাবে ইসলাম একটি জরূরী অধ্যায়, অস্বীকার করার উপায় নেই। তাতে কোন ভুল জড়িত থাকুক সেটি এখানের কোন সৎ নেতৃত্বই চাইবেন না। সঙ্গত কারণে সেটির মূল্যায়নও দরকার। 

ইমাম যখন ঈমান হারান / আলখাল্লার ভিতরে ইবলিসের বসবাস /  বৌদ্ধ ধর্মের শিকড়েও ইসলাম /  মানুষের রক্তে নদীরা লাল /  শিকড়হারা (?) রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ  /  ফরহাদ মজহার, খালেদা জিয়ার বোতল, পুলিশ ও সরকার / পলাশির পতনের মূলে হিন্দু পরাশক্তি অতঃপর মীরজাফর /

বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন, ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব? , নিষিদ্ধ বৃক্ষ / ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা /  বাংলাদেশের কলিজাতে কামড়: লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞ্জুর / মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। মাদ্রাসার বই ও হিন্দু লেখক , ভুল শুধরে ফের ভুল / সত্য বলা ছাড়া আর কোন বিকল্প দেখছি না /  হাওর গিলছে ভারত পানি মাঙ্গা লালপানি মিলা / জাতীয় সংগীত মূর্তিবন্দনা থেকে মাতৃবন্দনা অদক্ষ হাতে দেশবন্দনা (conspiracy / politics) বাংলাদেশ কি আকবরের দীন-ই-এলাহীর উত্তরসুরি? / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার / স্বাধীনতা হারাবার শংকা কেন জাগছে? / মাওলানা সাঈদীর বিচারে “গভমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়” /  ষড়যন্ত্রের ভূমিকম্প : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / মধ্যযুগীয় উপনিবেশ: রুখে দাও বাংলাদেশ  / প্রতিরক্ষা চুক্তির ফাঁদে লেজেগোবরে জঙ্গিবাংলাদেশ ভাসুরের নাম মুছতে ব্যাংকে আগুন সাথে জঙ্গি হামলা /  ২০০১ সালের ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ জানান দেয় বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ / বিগত শতকের গুণ্ডামি আজ চলচ্চিত্রের ‘গুণ্ডে’ / ঢিলের বদলে পাটকেল আসে কখনও খোদায়ি কখনও মানবিক /  ১৯৮৩ সালে ভারতে বাংলাভাষীদের ওপর আরোপিত নেলীর ধ্বংসযজ্ঞ /  এরশাদ চিহ্নিত জোড়া প্রতারকের একজন / ওড়না বিতর্ক: / মুক্তমনা ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক্যবাদের নামে পাঠ্যবই এ গভীর ষড়যন্ত্র /  কয়লার ময়লাতে সুন্দরবন গভীর শংকায়  / আটশ’ বছরপূর্ব ওলির বাণীতে মানচিত্রের অতীত ও ভবিষ্যত্ +সিইসি বিতর্ক পিপিলিকার পাখা /   ছবি যখন ডিজিটাল ভোটের কথা কয়! /  ইসলাম বাতিলের ধ্বনি / জাতি জাগো  / ধর্মনিরপেক্ষতা ষড়যন্ত্রীদের ধর্ম বটিকা ! / গোলামী বড়? / প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা ধর্ম চাকরী / ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ / পড়শির মনমত  / পথ খুঁজছে নাগরিকত্ব হারানো / হিন্দু প্রলয়াম / কুরআন পুড়ানো, প্রতিমা ভাঙ্গা / আনন্দবাজার ও “র”সুন্দরবন শংকায় “ক্রুসেডার ১০০”সংকটে জেগে উঠ / রাজনীতির অগ্নুৎপাত / গণতন্ত্র কি / শহীদের প্রশ্নবিদ্ধ সংখ্যা  / জাতীয় সংগীত বিডিআর বিদ্রোহ / মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) এম এ জলিল: অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা / আলামত সৃষ্টির না ধ্বংসের? ব্যাংক লুটে ৭২ – ৭৪, ২০১৬ / প্রস্থান হোক প্রধান দাবী /  চিন্তার বলিরেখা কপালে / দুজন সম্পাদক / জিহাদ জঙ্গি, জয়, লাশের দেশ / গুলশানের জমা / সরকারই জঙ্গী ওপেন সিক্রেট / কল্যানপুরের জঙ্গি / সার্বভৌমত্ব মাপুন / দুর্গা পূজা পলাশীর কলঙ্ক / সুরঞ্জিতনামা / সংকটে বাংলাদেশ / কণ্ঠে কাঁটার মালা লতার বেদনায় হালকা মলম / দুই বিদেশী হত্যা: সরকার ও ভারত /  অন্ধ আলোটা নিভিয়ে দাও / বিরোধীরা আন্দোলনে সরকার গণহত্যায় / সরকার অপকর্ম দেখে না /  বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে একুশে আগষ্ট ২০০৪, সন্দেহ সন্ত্রাসীকে / ভারত সরকারের নির্বাচনী ব্যাঙ্ক ২০১৪ ডিসেম্বরের রাজনৈতিক হালখাতা / লাশের মিছিলে জিয়া ও মঞজুর / স্বৈরাচাররা দুর্গন্ধ ঢাকতে ব্যস্ত ভালবাসার নাস্তিক সংকট / বৈশাখ পূজা শবেবরাত ইলিশ মঙ্গলপ্রদীপ সমকামিতা মানবাধিকার / ২০১৬এর রমজানে সংযম সংকট /  আকবরের দীন-ই-এলাহী কি ? ষড়যন্ত্রে : সিকিম মানচিত্রের পরিবর্তন / গুজরাটের রক্ত: ভারতবর্ষের গর্ব না কলঙ্ক? / অযোধ্যার আগুনের সলতেটা কার /

ধর্ম ও গবেষনা মূলক লেখা: অনেক ক্ষেত্রে ভুল ভাবে ধর্মের  বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সেটি স্পষ্ট করতে ১৮ + লেখা সংযোজন করছি যে গুলি এর মাঝে ছাপা হয়েছে এই সাইটে। 

ইমাম যখন ঈমান হারান / সৌদি, কাতার, গণতন্ত্র, আরববসন্ত, ইসলাম – সন্ধানী বিশ্লেষণ /  বাংলাদেশে তামাক-বিরোধী আন্দোলন,  ধূমপান বর্জন করা কি সম্ভব?, নিষিদ্ধ বৃক্ষ২০১১ সালের ৩১ মে (বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস) উপলক্ষে লেখা / ইসলামে যুদ্ধ: ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা / ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:মুতার যুদ্ধ ময়দানের কঠিন যুদ্ধ: ধর্ম ব্যবসা নয় / দোররা / কার্টুন এক হাস্যকর তামাশা  / সেক্যুলার বাংগালি মুসলিমের ধর্মহীনতা / ২০১৫ এর লাশের মিছিলে হজ বিপর্যয় / “মুতাহ” বিবাহ “আইএসআইএস”এক বিষ ফোঁড়ার নাম / মাকড়শার ঠুনকো বাসাখুতবা, তবলিগ জামাত, ইজতেমা ও কিছু কথা / জাকির নায়েক ও সৌদির এক ধর্ম প্রচারকের পুরষ্কার / ধর্মহারা লালনের জন্য ডেরা তৈরী করে কে বা কারা? / যুগের সত্য মোকাবেলায় হিন্দু সংস্কৃতির প্রস্তুতি / পহেলা বৈশাখ, পূজা, শবেবরাত, ইলিশ, মঙ্গলপ্রদীপ, সমকামিতা, মানবাধিকার সব একাকার। / তুরষ্কের অভ্যুত্থানে আযান ছিল বিপদের সাইরেন ধ্বনি / ইহুদীরা না ইসরাইলীয় না সেমেটিক, জায়নবাদী ইহুদীরা নবী ইব্রাহিমের নয়, হিটলারের অনুসারী / মধ্যযুগ বাংলাদেশে, ধর্মের নামে রাজ প্রতারণা / ইসলামের নারী

তাছাড়া কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক বিষয়ে বা সাহিত্যে ইতিহাসে যে নির্যাতনের অপকর্ম করা হয়েছে তারও কিছু ছোঁয়া থাকবে। এবারের লেখাগুলোতে ডজনখানেক লেখা সংযোজন করছি।  

মালালা ও নাবিলা: পশ্চিমা বিশে^র নাবলা কথা। শিকড়হারা রোহিঙ্গাদের ইতিহাস / সময়ের দাবী কাশ্মীর বাংলাদেশ থেকে ভারত হটাও কষ্টের যাতাকলে কাশ্মীর, শুনছি যুদ্ধের ধ্বনি / প্যালেস্টাইনীরা বিপন্ন বিধ্বস্ত জঙ্গী আক্রান্ত / গাজাতে অবরোধ, বিপন্ন মানবতা, সভ্যতার নিরবতা! / মীর মশাররফ হোসেনের “গাজী মিঁয়ার বস্তানী”কবিতার অংশ:প্রসঙ্গ গুজরাটের ধর্মান্ধতা: উচ্চবর্ণের হিংস্রতা / প্রসঙ্গ রবীন্দ্র: কবি জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিতে শান্তিনিকেতন / সাহিত্যে সতিত্বহানীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বাংলাদেশে এইডসএর প্রকৃত অবস্থান অতংকজনক /  ফেলানী /

এখানে স্মৃতিচারণমূলক একটি লেখা সংযোজন করছি।

গণিভাই ও আমরা

১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭।

Tag Cloud